Tag: bangla news

bangla news

  • Bangladesh: জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ, স্কুল-কলেজে দেওয়া হল ছুটি

    Bangladesh: জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ, স্কুল-কলেজে দেওয়া হল ছুটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধোপে টিকল না ভারত দখলের হম্বিতম্বি! শেষমেশ সেই ভারতের কাছেই হাত পাততে হল বাংলাদেশকে। জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছেও সাহায্য চেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL) এবং অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (NRL) থেকে চার মাসের মধ্যে ৫০,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।

    জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা (Bangladesh)

    এদিকে, নিদারুণ জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা করতে আজ, সোমবার থেকে  জেরে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত চলছে, তার জেরে দেশে জ্বালানি সঙ্কট আরও তীব্র হয়ে ওঠায় ঈদের ছুটি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এই পদক্ষেপের ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার কমবে এবং যানজটও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার জেরে সাশ্রয় হবে জ্বালানি। বাংলাদেশ সরকারের কর্তাদের মতে, আবাসিক হল, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। তাই ঈদের ছুটি আগেই ঘোষণা করলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।

    স্কুল-কলেজে তালা

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলি ইতিমধ্যেই পুরো রমজান মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে প্রতিদিনের সীমা নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি বেসরকারি কোচিং সেন্টার এবং বিদেশি পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুলগুলিকে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সঙ্কটের দরুন বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত চারটি সার কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এ বিষয়ে এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং আমদানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ব্যবহার কমাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

     

  • BJP Fact Checks: তৃণমূলকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে কটাক্ষ, মুখের মতো জবাব দিল বিজেপি

    BJP Fact Checks: তৃণমূলকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে কটাক্ষ, মুখের মতো জবাব দিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের একটি দাবিকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে উল্লেখ করে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখা সেটির সত্যতা যাচাই করে পাল্টা জবাব দেয়।

    তৃণমূলের দাবি (BJP Fact Checks)

    রাষ্ট্রপতির সফরের সময় প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তৃণমূল একটি ভিডিও-সহ পোস্টে দাবি করে, “প্রধানমন্ত্রী বারবার রাষ্ট্রপতির পদকে সম্মান করার বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু এই ছবিটি ভালো করে দেখুন। দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, আর প্রধানমন্ত্রী আরামে চেয়ারে বসে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মানের সব দাবি তখনই ফাঁপা মনে হয়, যখন এমন দৃশ্য তাঁর পদকে অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।” ভিডিওতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটা আপনার জন্য। আপনি কি রাষ্ট্রপতিকে—যিনি একজন নারী এবং একজন আদিবাসী নেতা—সম্মান করেন? তাহলে রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আর আপনি বসে আছেন কেন? আমি আপনাদের সবাইকে দেখালাম, আমরা রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করি, কিন্তু তারা করে না। এই ছবিই প্রমাণ করে কে সম্মান করে, আর কে করে না।”

    বিজেপির জবাব

    এর জবাবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “টিএমসির ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি আবার সক্রিয়। টিএমসির তৈরি করা ক্ষোভের আসল সত্য হল, ভারতরত্ন প্রদান অনুষ্ঠানের সময় সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী, পুরস্কার প্রদান চলাকালীন উপস্থিত অন্যরা বসে থাকেন। এখানে শিষ্টাচার ভঙ্গের কোনও ঘটনা ঘটেনি।” তারা আরও বলে, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতরত্ন এলকে আডবাণীকে ঘিরে একটি মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তকে তুচ্ছ রাজনৈতিক লাভের জন্য বিকৃত করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা রক্ষা করুন এবং ভুয়ো তথ্য ছড়াবেন না।” এ কথা বলার সময় বিজেপি প্রায় দু’বছরের পুরানো একটি ভিডিও-ও শেয়ার করে। ঘটনাটি ঘটে ৩১ মার্চ ২০২৪-এ, যখন রাষ্ট্রপতি মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী মোদি এলকে আডবাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করেন।

    রাষ্ট্রপতির উষ্মা

    শনিবার রাষ্ট্রপতি দার্জিলিংয়ে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলে শুরু হয় বিতর্ক। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন না? তিনি বলেন, “সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত উপস্থিত থেকে স্বাগত জানানো, এবং অন্য মন্ত্রীরাও থাকেন। কিন্তু তিনি আসেননি। রাজ্যপাল বদল হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। তবে তারিখ নির্ধারিত থাকায় আমি এসেছি।” তিনি আরও বলেন, “মমতা আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে। তিনি কেন অসন্তুষ্ট, তা আমি জানি না।” অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি এও বলেন, “আমি জানি না কেন রাজ্য প্রশাসন সেখানে সভা করার অনুমতি দেয়নি। আজকের অনুষ্ঠান এমন জায়গায় হচ্ছে যেখানে মানুষের আসা কঠিন। হয়তো রাজ্য সরকার আদিবাসীদের কল্যাণ চায় না!”

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “যাঁরা গণতন্ত্র ও আদিবাসী সমাজের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন, তাঁরা সবাই হতাশ। নিজে আদিবাসী সমাজ থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশ করা বেদনা ও ক্ষোভ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সৃষ্টি করেছে।” ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাষ্ট্রপতির সফরে কোনও প্রোটোকল লঙ্ঘন হয়নি। বিজেপি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।” তিনি আরও দাবি করেন, অনুষ্ঠানস্থলের দুর্বল প্রস্তুতি সম্পর্কে রাজ্য সরকার আগেই জানিয়েছিল রাষ্ট্রপতির দফতরকে।

     

  • Maharashtra Radicalisation: জইশের সক্রিয় “স্লিপার সেল”! মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার ২১ বছরের ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র

    Maharashtra Radicalisation: জইশের সক্রিয় “স্লিপার সেল”! মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার ২১ বছরের ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ের রাস্তায় সাধারণ ছেলেদের মতোই কলেজ যাওয়া-আসা করছিল ২১ বছরের আয়ান শেখ (Ayan Sheikh)। কেউ ভাবেনি যে এই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের পিছনে লুকিয়ে আছে জঙ্গি সংগঠনের ছায়া। মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) কয়েকদিন আগে তাকে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (জেএম) এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে।

    কীভাবে জঙ্গিদের জালে

    এটিএস-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর আসে যে মুম্বইয়ের কুর্লা, গোভান্ডি এবং শিবাজী নগর এলাকায় কয়েকজন যুবক অনলাইনে জইশ এবং ইসলামিক স্টেট-এর প্রচারমূলক উপাদান ছড়াচ্ছে। গত ২ মার্চ রাতে এই তিন জায়গায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আয়ান শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ডিভাইসগুলোয় জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ রয়েছে। এছাড়া টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে জইশ এবং আইএসআইএস-এর প্রোপাগান্ডা শেয়ার করা হয়েছে।

    “স্লিপার সেল”-এর সক্রিয় সদস্য

    তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে সে মুম্বইয়ে জইশ-ই-মহম্মদের একটি “স্লিপার সেল” হিসেবে সক্রিয় ছিল। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যুবসমাজকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য নতুন সদস্য নিয়োগ করা। এটিএস সূত্রে জানা যায়, আয়ান তার দুই সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করেছিল। এমনকি তাদের ওপর এতটাই চাপ সৃষ্টি করেছিল যে তারা বিদেশে গিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। ওই দুই ছাত্রের বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছে এটিএস, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। অভিযানের সময় আয়ান ও অন্য দুই ছাত্রের একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-সমর্থকদের সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রমাণ এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের ভিডিও উদ্ধার হয়েছে।

    পাকিস্তান ও সৌদি আরবে থাকা হ্যান্ডলারদের থেকে সাহায্য

    এছাড়াও তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তাও পেত আয়ান। এই অর্থ ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের প্রচার ও নিয়োগ কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এটিএস-এর দাবি, আয়ান টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জইশ ও আইএসআইএসের প্রচারমূলক কনটেন্ট ছড়াত এবং বন্ধুদের বিভিন্ন উগ্রপন্থী গ্রুপে যুক্ত করত। এসব গ্রুপে বিদেশি নাগরিক এবং সম্ভাব্য জঙ্গি হ্যান্ডলাররাও উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও জানা গেছে, জইশ-ই-মহম্মদ ভবিষ্যতে মুম্বইয়ে সম্ভাব্য জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য আয়ানকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল। আয়ান শেখের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA)-এর ধারা ৩৮ (জঙ্গি সংগঠনের সদস্যপদ) এবং ৩৯ (জঙ্গি সংগঠনকে সহায়তা) সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৫২, ১৯৬ ও ১৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র

    দুই যুবকের ভূমিকা এখনও তদন্তাধীন। এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে অনলাইন জগত কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যুবকরা সহজেই জঙ্গি প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। আয়ান একজন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র যার জীবনের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। কিন্তু কোনও অজানা কারণে সে জঙ্গি আদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এটিএস জানিয়েছে, তাঁর ডিভাইসে মাসুদ আজহারের বক্তৃতা, জেএম-এর প্রশিক্ষণ ভিডিও এবং আইএসআইএস-এর ক্যালিফেটের প্রচার ছিল। এগুলো দেখে তিনি অন্যদেরও প্রভাবিত করতে চেয়েছিল। মুম্বইয়ের এই গ্রেফতারি দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। অনেকে বলছেন, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে র‌্যাডিকালাইজেশনের প্রবণতা বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং মেসেজিং অ্যাপগুলো এখন জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র। এটিএস-এর এই অভিযান সময়মতো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি না ধরা পড়ত, তাহলে হয়তো আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র জন্ম নিত।

  • India T20 World Cup 2026 Champions: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত, রেকর্ডের বন্যা মেন ইন ব্লু-র

    India T20 World Cup 2026 Champions: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত, রেকর্ডের বন্যা মেন ইন ব্লু-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল ভারত। আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নিল ভারতীয় দল। এর ফলে টি-২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করল ভারত। এই জয়ের নেপথ্যে ছিল ভারতের টপ অর্ডারের বিস্ফোরক ব্যাটিং এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা এবং ইশান কিশানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় ভারত। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ দলগত সংগ্রহ।

    টপ অর্ডারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড়

    ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দ্রুত রান তুলে নিউ জিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলে দেন তাঁরা। পরে ইশান কিশান দ্রুতগতির ইনিংস খেলে স্কোরবোর্ডকে বিশাল উচ্চতায় পৌঁছে দেন। তিন ব্যাটারের সম্মিলিত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ফলে ফাইনালে ভারত রেকর্ড গড়া রান তোলে।

    বুমরার আগুনে বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং

    ২৫৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ভারতের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেন জসপ্রীত বুমরা। তাঁর বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। বুমরার ধারালো বোলিং এবং অন্যান্য বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে নিউ জিল্যান্ড কখনও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে এবং ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত।

    ফাইনালে ভারতের একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড

    এই ম্যাচে একাধিক নজির গড়েছে ভারতীয় দল। ফাইনালে ভারতের গড়া উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলির তালিকা নিচে দেওয়া হল—

    • ● ১ – নিজেদের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম দল হল ভারত।
    • ● ১ – টি২০ বিশ্বকাপের শিরোপা সফলভাবে রক্ষা করার নজিরও প্রথমবার গড়ল একটি দল।
    • ● ২ – ২০২১ সালের পর দ্বিতীয়বার টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারল নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তান (২০০৭, ২০২২) ও শ্রীলঙ্কার (২০০৯, ২০১২) সঙ্গে যৌথভাবে এটি সর্বাধিক ফাইনাল হারার রেকর্ড।
    • ● ৩ – টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনটি শিরোপা জিতল ভারত। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রয়েছে দুটি করে।
    • ● ৩ – টি২০ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া তৃতীয় ভারতীয় হলেন সঞ্জু স্যামসন। এর আগে এই সম্মান পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি (২০১৪, ২০১৬) ও জসপ্রীত বুমরাহ (২০২৪)।
    • ● ৪ – জসপ্রীত বুমরার ৪/১৫ টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো পেসারের সেরা বোলিং এবং সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় সেরা।
    • ● ৭ – টি২০ বিশ্বকাপে টানা তিনটি ম্যাচে ৫০ বা তার বেশি রান করা সপ্তম ব্যাটার হলেন সঞ্জু স্যামসন।
    • ● ১৪ – ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন জসপ্রীত বুমরা ও বরুণ চক্রবর্তী।
    • ● ৮৯ – ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সঞ্জু স্যামসনের ৮৯ রান টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনও ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোর।
    • ● ৯২ – পাওয়ারপ্লেতে ভারতের ৯২ রান টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের সর্বোচ্চ।
    • ● ৯৬ – নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯৬ রানের জয় টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়।
    • ● ৯৮ – সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষানের ৯৮ রানের ওপেনিং জুটি টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ।
    • ● ২৫৫ – টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ৫ উইকেটে ভারতের ২৫৫ রান সর্বোচ্চ দলগত স্কোর এবং পুরো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
    • ● ৩২১ – মাত্র পাঁচ ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের ৩২১ রান টি২০ বিশ্বকাপের এক সংস্করণে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বাধিক রান।

    ভারতের আধিপত্যের নতুন যুগ

    ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক আধিপত্যের প্রতীক। তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে তৈরি এই দল ভবিষ্যতের বিশ্ব ক্রিকেটেও বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক জয় ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল।

  • Pakistan: শ্যাম রাখি না কুল! তেহরান-রিয়াধের উত্তেজনার মাঝে পড়ে ‘চিঁড়েচ্যাপ্টা’ হওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের

    Pakistan: শ্যাম রাখি না কুল! তেহরান-রিয়াধের উত্তেজনার মাঝে পড়ে ‘চিঁড়েচ্যাপ্টা’ হওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান (Pakistan)। তেহরান ও রিয়াধের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইসলামাবাদ একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য (West Asia Test) বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কেন? কারণ একদিকে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ ও সংবেদনশীল সীমান্ত রয়েছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে রয়েছে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও আর্থিক সম্পর্ক। ইরানকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত এই যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়া এবং এর বাইরেও প্রভাব ফেলেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা বিস্ফোরণের ধাক্কায় প্রায় সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হতাহত, গুরুত্বপূর্ণ দূতাবাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান তার দুই মিত্র—সৌদি আরব ও ইরানের—মাঝে আটকে পড়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার ছ’টি দেশ ইতিমধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে, যা ইসলামাবাদের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    গুরুত্বপূর্ণ ৩ চ্যালেঞ্জ (Pakistan)

    বর্তমানে পাকিস্তানের সামনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলি হল— পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, দেশের সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভ সামাল দেওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামাবাদের কাছে তেহরান ও রিয়াধ—দু’টিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শ্যাম রাখি না কুল দশা হয়েছে পাকিস্তানের। সৌদি আরব পাকিস্তানের মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় সৌদি আরব পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা, বিলম্বিত অর্থপ্রদানের ভিত্তিতে তেল এবং লগ্নির ব্যবস্থা করে দেয়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও ঐতিহাসিকভাবে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া লাখ লাখ পাকিস্তানি শ্রমিক ও নাগরিক সৌদি আরবে বসবাস করেন এবং সেখানেই জীবিকা নির্বাহ করেন।

    পাকিস্তানের পড়শি ইরান

    এদিকে, ইরান পাকিস্তানের পড়শি। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইরানের সঙ্গে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ (Pakistan)। ২০২৫ সালের অগাস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সফর করেন। অব্যাহত রয়েছে এই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ (West Asia Test)। পাকিস্তানের প্রধান চ্যালেঞ্জ হল, কোনও পক্ষ না নিয়ে তার কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা। কিন্তু গত বছর স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন। সেনাপ্রধান আসিম মুনির পর্যন্ত সৌদি আরবে উড়ে গিয়ে দেশটির শীর্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ আলি খামেনেই নিহত হন, তখন পাকিস্তান ওই হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির ওপর ইরানের পাল্টা হামলাকে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ বলে নিন্দে করে।

    পাক বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানান, তিনি ইরানকে পাকিস্তানের সৌদি আরবের প্রতি প্রতিরক্ষা দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন (Pakistan)। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানতে চান, সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা করা হবে না, এ বিষয়ে কি নিশ্চয়তা আছে। দার জানান, তিনি রিয়াধ থেকে সেই নিশ্চয়তা পেয়েছেন (West Asia Test)। এর পরপরই ইরানি ড্রোন সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, যার মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে, টার্গেট করে হামলা চালায়। টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আরসালান খান সংবাদমাধ্যমে বলেন, “পাকিস্তান একদিকে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কারণে যুদ্ধের ঘূর্ণিতে টেনে নেওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।” ইরানের পর পাকিস্তানেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া সম্প্রদায় রয়েছে। খামেনেইর মৃত্যুর পর করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভের ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হওয়ায় শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে (Pakistan)।

    মার্কিন মেরিনরা গুলি চালায়

    বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে মার্কিন মেরিনরা গুলি চালায় বলে সংবাদ সংস্থার খবর। এতে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন (West Asia Test)। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাদিহা তাহির বলেন, “এই প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও।” আটের দশকে জেনারেল জিয়া-উল-হক সুন্নি ইসলামীকরণের নীতি চালু করেন। একই সময়ে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব পাকিস্তানের শিয়াদের জন্য নতুন সমর্থনের উৎস হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশের কাছাকাছি শিয়া মুসলিম, বাকি অংশের অধিকাংশই সুন্নি। এদিকে, ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের কালো তালিকায় থাকা এক দশকের বেশি সময়ের অধ্যায়ের অবসান ঘটে (Pakistan)।

    আসিম মুনির

    ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে (West Asia Test)। ট্রাম্পের রাজত্বকালে পাকিস্তান ‘গাজা বোর্ড অফ পিস’ নামের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জায়গা পেয়েছে, সেখানে রয়েছে ইজরায়েলও। অবশ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্ক কৌশলগত স্বার্থের চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ দ্বারা বেশি প্রভাবিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ, জ্বালানি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে (Pakistan)। এ বছর পাকিস্তান ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়ালের সঙ্গে একটি চুক্তি করে, যাতে তাদের ইউএসডি১ স্টেবলকয়েন আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয় (West Asia Test)। এরকম হাইভোল্টেজ পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের পক্ষে এমন কোনও পক্ষ নেওয়া কঠিন, যা ট্রাম্প ও আমেরিকার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় (Pakistan)।

  • T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভুবনজয়ী ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে একপেশে ম্যাচে গুঁড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়া। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সেলিব্রেশন। আসলে এই বিশ্বকাপ জয় (T20 World Cup 2026) বিশ্বক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য আবারও শক্তপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে দিল। একই সঙ্গে আর্থিকভাবেও লাভবান করল টিম ইন্ডিয়াকে। বিজয়ী দল হিসেবে ভারত পেয়েছে ২.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সমান। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মোট আর্থিক পুরস্কারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঢুকেছে টিম ইন্ডিয়ার পকেটে।

    কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি। যারা অংশ নিয়েছে, তারা প্রত্যেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। যে দল যতটা এগোতে পেরেছে, তার পুরস্কারের অঙ্ক তত বেড়েছে। রবিবার আমেদাবাদের মাঠে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। ফলে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদবেরা। কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনিএ বারের বিশ্বকাপের জন্য ১২০ কোটি টাকার পুরস্কার ধার্য করেছিল আইসিসি। প্রতিটি ধাপে টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট ছিল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যাওয়া দলগুলি পেয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। যে দলগুলি সুপার এইট পর্বে বাদ গিয়েছে তারা পেয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, পাকিস্তান সাড়ে ৩ কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার

    এ বছর টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার দিল আইসিসি। ২০২৪ বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আইসিসি। এবার সেটা ২০ শতাংশ বেড়ে ১২০ কোটি করা হয়েছে। পুরস্কার মূল্য বেড়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে চ্যাম্পিয়ন, সব দলেরই। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। তারা পেয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। ফাইনালে রানার্স দল নিউজিল্যান্ড পেয়েছে ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। আর বিশ্বকাপ জিতে ভারত পেয়েছে ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা।

    বিশ্বকাপের পুরস্কার মূল্য (ICC Prize Money)

    চ্যাম্পিয়ন (ভারত)
    ২৭.৪৮ কোটি

    রানার্স আপ (নিউজিল্যান্ড)
    ১৪.৬৫ কোটি

    সেমিফাইনাল
    ৭.২৪ কোটি

    সুপার এইট
    ৩.৪৮ কোটি

    গ্রুপ পর্ব
    ২.২৯ কোটি

  • T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাহুল দ্রাবিড়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যখন তাঁকে কোচ করে আনা হয়েছিল, দ্রাবিড়ের সঙ্গে গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক নিয়ে মুচমুচে খবর ছড়িয়েছিল। যেভাবে দ্রাবিড়কে সরে যেতে হয়েছিল ভারতীয় দলের কোচের পদ থেকে, গম্ভীরকে যেভাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মেন্টর পদ থেকে ভাঙিয়ে এনে বসানো হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার কোচের চেয়ারে, অনেকে যার নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগ দেখেছিলেন। কোচ হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ জেতার পর গম্ভীর সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন সেই দ্রাবিড়কেই! ২০২৬ টি–২০ বিশ্বকাপ জয়ের (T20 World Cup 2026) পর যেন একরকম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন গুরু গম্ভীর (Gautam Gambhir)। গত দু’বছর ধরে তাঁর কোচিং নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। জয় শাহের ঘনিষ্ঠ তাই কোচের পদে এমন কথাও শুনতে হয়েছিল। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার, সমালোচনা, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে সময়টা সহজ ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপ জিতে টিম ইন্ডিয়ার হেডস্যার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কারুর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন তিনি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারা।

    জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে

    এই বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে দিতে চান গম্ভীর। তবে তাঁরা কেউ দলের খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফ নন। গম্ভীর নাম নিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, অজিত আগরকর ও জয় শাহের। ভারতীয় কোচ বলেন, “এই ট্রফি আমি উৎসর্গ করতে চাই রাহুল ভাই আর লক্ষ্মণ ভাইকে। ভারতীয় ক্রিকেটকে এই জায়গায় নিয়ে আসার নেপথ্যে রাহুল ভাই কি না করেছে। পাশাপাশি লক্ষ্মণ ভাইও চুপচাপ নিজের দায়িত্ব সামলেছে। সিওএ আছে বলেই ভারতের ক্রিকেট এত উন্নত। অজিতের কথাও বলব। এত সমালোচনার পরেও ও নিজের কাজ করে গিয়েছে।”

    জয় ভাই ফোন করেছিলেন

    তাঁর জীবনে জয় শাহের কতটা ভূমিকা রয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “জয় ভাই আমাকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল। এর আগে তো কোথাও কোচিং করাইনি। তার পরেও জয় ভাই ভরসা রেখেছিল। সেই ভরসা আজও আছে। নিউজিল্যান্ডের ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে চুনকামের পর একমাত্র জয় ভাই ফোন করেছে। আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাই এই সাফল্যের কৃতিত্ব ওদের।” ভারতীয় ক্রিকেটের দর্শন বদলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমরা আর ১৬০ বা ১৭০ রান করার জন্য খেলি না। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। ঝুঁকি নিতে হবে। ঝুঁকি না নিলে সফল হওয়া যাবে না। তাতে ১০০ রানে অল আউটও হয়ে যেতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সেটাই হয়েছে। তাতে ভয়ের কিছু নেই। চেষ্টা করতে হবে ২০০-র বেশি রান করার। সেই চেষ্টাই আমরা করছি।”

    আগে দল, পরে প্লেয়ার

    তিনি নিজে খেলোয়াড় জীবনে সবসময় দলের স্বার্থের কথা আগে ভেবেছেন। কোচ হিসাবেও সেই দর্শনেই বিশ্বাস করেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আগে দল। পরে নিজের সাফল্য। আপনি যদি ৯৬ রান থেকে ১০০ করতে চার বল খেলেন, তা হলে আপনি দলের ২০ রানের ক্ষতি করলেন। ওই চার বলে চারটে ছক্কা হতে পারত। তাই যদি কেউ ৯৬ রান থেকে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয় তাতে আমার কোনও দুঃখ নেই। ওই ৯৬ আমার কাছে শতরানের সমান। এই দর্শন দলের সকলকে দিয়েছি। আমি ভাগ্যবান, দলের সকলে সেটা মেনেছে। আমরা সে ভাবেই খেলি। সকলেই দলকে আগে রাখে।”

    সমাজমাধ্যমে কাউকে জবাব দেব না

    বিশ্বকাপ জেতার পর সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর দলের সাজঘরের পরিবেশ কেমন। জবাবে গম্ভীর বলেন, “আশা করছি, এ বার সাজঘর নিয়ে জল্পনা বন্ধ হবে। দেখুন, সাজঘরের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বার বার সাজঘর নিয়ে কথা হয়েছে। আমাকে নিয়ে কথা হয়েছে। লেখালিখি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। আমি অবশ্য কাউকে জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাজঘরের ওই ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই।”

    খেলোয়ার ও কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ের নজির

    গৌতম গম্ভীর ইতিহাসের পাতায় নাম লিখে ফেললেন। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ডাবল জিতলেন। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন গম্ভীর। আবার এই ২০২৬ সালে গম্ভীর ভারতীয় দলের হেড কোচ। কোচ ও প্লেয়ার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী আর নেই ভূভারতে। হেড কোচ হওয়ার আগে গৌতম গম্ভীর ছিলেন আইসিসি টুর্নামেন্টের সবথেকে সফল পারফরমার। ২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে গম্ভীর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৪ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনালে গম্ভীর ৯৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন। কোচ হয়ে আসার পরই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার পরে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রায় এক যুগের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খরা কাটিয়েছিল ভারতীয় দল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গম্ভীরের ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরের এক কক্ষপথে পৌঁছে গিয়েছে।

    ‘‘কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে’’

    ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে দলকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিন পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। তিনি ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর মুখের হাসি এই জয়ের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি। ধোনি তাঁর বার্তায় বলেন, ‘‘আমেদাবাদে ভারতীয় দল ইতিহাস তৈরি করেছে।’’ তিনি দল, কোচিং স্টাফ এবং সব সমর্থকদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নেতৃত্বে দল যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা দেখতে খুবই আনন্দের। ধোনি লেখেন,“আমেদাবাদে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। দল, সহকারী কর্মী এবং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব সমর্থককে অনেক অভিনন্দন। তোমাদের সবাইকে খেলতে দেখা সত্যিই দারুণ আনন্দের। কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে। হাসির সঙ্গে সেই তীব্র মনোভাব—দুটো মিলে অসাধারণ এক সমন্বয়। দারুণ কাজ করেছেন। সবাই এই সাফল্য উপভোগ করো।”

    সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা

    তাঁকে নিয়ে কত কথা। কত আলোচনা। দেশজুড়ে তাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। রবি-রাতের পরে বলাই যায় ভারতের হেডস্যর গৌতম গম্ভীর একই সঙ্গে নিন্দিত ও নন্দিত ব্যক্তি। এবার তাঁর জবাব দেওয়ার পালা। গম্ভীর কোচ বা ক্রিকেটার হিসেবে কোনও ফাইনাল হারেননি । আইপিএল হোক বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ওয়ান ডে বিশ্বকাপ, টি-২০ বিশ্বকাপ – কখনও হারেননি গম্ভীর। সে ক্রিকেট কেরিয়ারে হোক বা কোচ হিসেবে। লাল বলের ক্রিকেটে না হলেও সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা তিনি।

  • S Jaishankar: “ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায়”, বললেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: “ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায়”, বললেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।” সোমবার রাজ্যসভায় সাফ জানিয়ে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। সতর্ক করে (Iran War) দিয়ে তিনি বলেন, “এই সঙ্কটের কারণে বিঘ্ন ঘটতে পারে সরবরাহ শৃঙ্খলে।”

    জয়শঙ্করের বক্তব্য (S Jaishankar)

    বিরোধী সাংসদদের স্লোগানের মধ্যেই সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সম্প্রতী ওই অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ, নৌ-পথ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কী  হতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।” জয়শঙ্কর এও বলেন, “উত্তেজনা কমাতে আলোচনা ও কূটনীতির পথই অনুসরণ করা উচিত বলে আমরা এখনও বিশ্বাস করি।” মন্ত্রী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়াকে অবশ্যই স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে।” তিনি জানান, ভারত তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

    জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার

    জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের জাতীয় স্বার্থ—বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভারতীয় উপভোক্তাদের কল্যাণ—সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ও কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।” সংসদে তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রায় ৬৭,০০০ ভারতীয় নাগরিক ইতিমধ্যেই দেশে ফিরে এসেছেন। ইরানের অনুরোধে ওই অঞ্চলে তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ভারত আইআরআইএস লাভান নামের একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে কোচি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়। ১ মার্চ এই অনুমোদন দেওয়া হয়, জাহাজটি বন্দরে পৌঁছয় ৪ মার্চ (S Jaishankar)।

    ইরানি নৌ-জাহাজ

    এর আগে শনিবার রাইসিনা ডায়ালগে ভাষণ দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, “ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মানবিকতার খাতিরে, কোনও ভূরাজনৈতিক বিবেচনা থেকে নয়। জাহাজটিতে ১৮৩ জন নাবিক ছিলেন, যাঁদের বেশিরভাগই তরুণ ক্যাডেট, এবং যাত্রাপথে জাহাজটির প্রযুক্তিগত একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল (Iran War)।” এই ঘটনার কয়েক দিন পরে ৪ মার্চ ভারত মহাসাগরে আর একটি ইরানি নৌ-জাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে যায় একটি মার্কিন সাবমেরিনের হামলায়। এতে ৮০ জনেরও বেশি নাবিক নিহত হন। পরে শ্রীলঙ্কা নেভি প্রায় ৩২ জনকে উদ্ধার করে (S Jaishankar)।

    বিপদের সংকেত

    এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, জাহাজটি বিপদের সংকেত পাঠিয়েছিল। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ভারত সেখানে আগেই মোতায়েন করেছিল সামুদ্রিক বিভিন্ন সরঞ্জাম, যার মধ্যে ছিল টহলদারি বিমান এবং নৌবাহিনীর জাহাজও। মন্ত্রী বলেন, “লাভান জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।” তিনি ফের মনে করিয়ে দেন, “পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে ভারত সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক (Iran War) আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়ে যাচ্ছে (S Jaishankar)।”

     

  • Bangladesh Blast: বাংলাদেশের মন্দিরে আইইডি বিস্ফোরণ, জখম পুরোহিত

    Bangladesh Blast: বাংলাদেশের মন্দিরে আইইডি বিস্ফোরণ, জখম পুরোহিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের হামলা হিন্দু মন্দিরে (Bangladesh Blast)। শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরে এক মুখোশধারী ব্যক্তি একটি মন্দিরে (Shani Puja) বোমা মারে। কালী গাছতলা শিব মন্দিরে তাজা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জখম হন মন্দিরের পুরোহিত। হামলার সময় মন্দিরে পুজো চলছিল। মন্দিরের কাছাকাছি সড়কে একই ধরনের আরও দুটি বিস্ফোরণেও জখম হন আরও তিনজন।

    ব্যাগ হাতে মুখোশধারী (Bangladesh Blast)

    প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। সন্দেহজনক ব্যাগ হাতে মুখোশ পরা এক ব্যক্তি দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া (বাগানবাড়ি) এলাকার মন্দির চত্বরে প্রবেশ করে। তখন সেখানে পুজো উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু-সহ বেশ কয়েকজন ভক্ত। এই সময়ই মন্দিরের বেদির কাছে ব্যাগটি রেখে পালিয়ে যায় মুখোশধারী ওই ব্যক্তি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে ব্যাগটিতে। আইইডি বিস্ফোরণের জেরে ভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন ভক্তরা। গুরুতর জখম হন মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী। বিস্ফোরণের সময় পুজো করছিলেন তিনি। মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজেও দেখা যায়, বিস্ফোরণের আগে ওই মুখোশধারী ব্যক্তি ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। এরই কিছুক্ষণ পরেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

    ককটেল বোমা

    এর খানিক পরেই দুষ্কৃতীরা আরও দুটি ককটেল বোমা ছোড়ে। সেগুলি ফাটে মন্দিরের কাছাকাছি সড়কে। ওই জায়গায় রয়েছে একটি বৌদ্ধ মন্দির ও একটি ব্র্যাক (BRAC) অফিস। এই দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ঘটনায় জখম হন ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুজাত আলির ছেলে এ বারেক এবং নজরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ। আহতদের দ্রুত কুমিল্লা জেনারেল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় (Bangladesh Blast)। পুরোহিতের অবস্থা গুরুতর হলেও, স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল জানিয়েছে। সড়কে হওয়া বিস্ফোরণে জখম দুই ব্যক্তিকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। রবিবার সকাল পর্যন্তও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মো তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড় করেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। এখনই বলা সম্ভব নয় কেন বা কারা এই বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তবে জড়িতদের গ্রেফতার করতে চলছে তল্লাশি অভিযান (Bangladesh Blast)।” ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুমিল্লার এসপি মো আনিসুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে (Shani Puja) এবং দোষীদের ধরতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

  • T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

    T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সূর্যকুমার যাদব। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম বার বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) নেমেই চ্যাম্পিয়ন। তবে এখনই থামতে রাজি নন তিনি। এবার লক্ষ্য অলিম্পিক ক্রিকেটে প্রথম সোনাজয়। বিশ্বজয়ের রাতেই নিজের পরের দুই লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিলেন সূর্য। বিশ্বকাপ জিতে সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতই চমক দেন সূর্য (Surya Kumar Yadav)। মহিলা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁকে আন্তর্জাতিক নারীদিবসের শুভেচ্ছা জানান। তার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত অধিনায়ক হিসেবে তাঁর পরের লক্ষ্য কী। তিনি বলেন, “সবে তো শুরু। এর পরের লক্ষ্য হল ২০২৮ সালের অলিম্পিক্সে সোনা জেতা। সেই বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেটাও জিততে নামব।” একইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানালেন ঈশ্বরের প্রতি। মাঠ থেকেই সোজা গুরু গম্ভীর ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ-র সঙ্গে গেলেন স্থানীয় বজরংবলীর মন্দিরে পুজো দিতে।

    প্রথম বারই অলিম্পিকে সোনা জয়

    ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রথম বারই সোনা জেতার লক্ষ্যে নামবেন সূর্য। পাশাপাশি দু’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কও হতে চান তিনি। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ২০২৮-এ। ততদিন নিজেকে ধরে রাখতে চান সূর্য। আমেদাবাদের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে সূর্য বলেন, “এই গল্পটা ২০২৪ সালে শুরু হয়েছিল। জয় ভাই তখন সচিব ছিলেন। উনি আমার উপর ভরসা দেখিয়েছিলেন। রোহিত ভাইও আমার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। তার পর থেকে অনেক পরিকল্পনা করেছি। অনেক পরিশ্রম করেছি। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের অভ্যাস এবারও ধরে রেখেছি।”

    গুরু গম্ভীরে আস্থা, বুমরা জাতীয় সম্পদ

    সূর্য জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক খুব ভালো। ভারত অধিনায়ক বলেন, “গৌতি ভাইয়ের অধীনে আমি চার বছর খেলেছি। ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমাদের ভাবনা মেলে। আমরা দু’জনেই দলের ভালোর কথাই ভাবি। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। গৌতি ভাইকে আমি চোখ বন্ধ করে ভরসা করি।” বিশ্বকাপ জিতে বুমরার কথা শোনা গিয়েছে সূর্যের মুখে। আগের দিন সঞ্জু স্যামসন জানিয়েছিলেন, এক প্রজন্মে বুমরার মতো ক্রিকেটার একজনই আসে। আরও খানিকটা এগিয়ে গেলেন সূর্য। তিনি বললেন, “সঞ্জু আগের দিন বলেছিল, বুমরার মতো বোলার এক প্রজন্মে একজনই আসে। আমি বলব, বুমরা জাতীয় সম্পদ। ও জানে ওকে কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে। আমাকে কিছু বলতে হয় না।”

    সাজঘরে বাক্‌স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ

    সূর্যের মতে, দলের প্রত্যেকে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেকের কথা আলাদা ভাবে শোনেন তিনি। অধিনায়ক বলেন, “গত দু’বছর ধরে এই কাজটাই করছি। একটা ভালো সাজঘর তৈরি করেছি। কারও কোনও সমস্যা থাকলে তাকে নৈশভোজে নিয়ে যাই। কথা শুনি। আমি প্রত্যেকের কথা শুনি। কারণ আমার মতে, প্রত্যেকের যদি বাক্‌স্বাধীনতা না থাকে, তা হলে সেই দল সফল হতে পারে না। তাই সকলের কথা শোনাটা জরুরি। সেই কারণেই ওরা আমার কথাও শোনে।” ক্রিকেটারের জীবনে সাফল্যের চেয়েও ব্যর্থতা বেশি আসে বলে মনে করেন সূর্য। তবে তার মধ্যেই এগিয়ে যেতে হয়। সূর্য বলেন, “জীবনে উত্থান-পতন হবেই। গত বছর একটাও অর্ধশতরান করতে পারিনি। আমারও কঠিন সময় গিয়েছে। কিন্তু নিজের উপর ভরসা রেখেছি। পরিশ্রম করেছি। সকলকেই সেটা করতে হবে। এটাই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র।”

    ট্রফি হাতে হনুমান মন্দিরে আরাধনা

    আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে হনুমান টেকরি মন্দির। সাংবাদিক বৈঠকের পর মাঠ থেকেই মন্দিরে বজরংবলীর আশীর্বাদ নিতে যান সূর্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুরু গৌতম গম্ভীর। সঙ্গে ছিলেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তিন জন মিলে পুজো দেন। সূর্যের গলায় ছিল গাঁদা ফুলের মালা। পুজো দেওয়ার পর আবার স্টেডিয়ামে ফেরেন তাঁরা। সেখান থেকে দলের সঙ্গে হোটেল যান কোচ ও অধিনায়ক। ঈশ্বরের আশীষ নিয়েই আগামী লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে চান ভারতীয় ক্রিকেটের নয়া সূর্য।

LinkedIn
Share