Tag: bangla news

bangla news

  • INS Anjadip: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন সদস্য, উপকূল রক্ষায় নামল ‘ডলফিন হান্টার’, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    INS Anjadip: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন সদস্য, উপকূল রক্ষায় নামল ‘ডলফিন হান্টার’, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ আইএনএস অঞ্জদীপ (INS Anjadip)। এটি উপকূলবর্তী এলাকায় অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধক্ষমতা জোরদার করতে নেওয়া ১৬টি দেশীয় জাহাজ নির্মাণ কর্মসূচির অংশ। জাহাজটি ভারতের পূর্ব নৌ-কমান্ডের অধীনে চেন্নাইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এদিন কমিশনিং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী। এই অন্তর্ভুক্তি শুধু একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ সংযোজন নয়, বরং উপকূলীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট

    নৌবাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, আইএনএস অঞ্জদীপ-এর (INS Anjadip) গুরুত্ব বেড়েছে বিশেষ করে পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক পরিস্থিতির নিরিখে। পাকিস্তানের নৌবহরে সারফেস যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা সীমিত এবং তাদের নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ অ্যান্টি-সাবমেরিন প্ল্যাটফর্মের অভাব রয়েছে। ফলে, ভবিষ্যৎ সংঘাতে তারা সাবমেরিনের উপর বেশি নির্ভর করতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা। এই বাস্তবতায় ভারতের উপকূলবর্তী জলসীমা নিরাপদ রাখতে আইএনএস আর্নালা (INS Arnala)-শ্রেণির জাহাজগুলো একটি প্রতিরক্ষামূলক বলয় তৈরি করবে, যাতে বড় ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ারগুলো গভীর সমুদ্রে কৌশলগত অভিযানে বেশি মনোযোগ দিতে পারে। উপকূলীয় অ্যান্টি-সাবমেরিন অভিযানে এই জাহাজের বিশেষ ভূমিকাকে মাথায় রেখে করে ভারতীয় নৌবাহিনী একে “ডলফিন হান্টার” বলে আখ্যা দিয়েছে।

    উপকূলজুড়ে অ্যান্টি-সাবমেরিন প্রতিরক্ষা বলয়

    আইএনএস অঞ্জদীপকে (INS Anjadip) এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে অগভীর উপকূলীয় এলাকায় (৫০–৬০ মিটার গভীরতা) শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করা যায়। এটি অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটারক্রাফট প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আটটি জাহাজের মধ্যে তৃতীয়। ‘লিটোরাল ওয়াটার্স’ বা উপকূলীয় ও অগভীর জলে যুদ্ধপরিবেশে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য এই জাহাজের নকশা করা হয়েছে। আইএনএস অঞ্জদীপ-এর (INS Anjadip) আগে গত বছরের জুনে আইএনএস আর্নালা (INS Arnala) এবং অক্টোবরে আইএনএস আনদ্রোথ (INS Androth) কমিশন করা হয়েছিল। নৌবাহিনী পরিকল্পনা করেছে, উপকূলজুড়ে একটি স্তরভিত্তিক অ্যান্টি-সাবমেরিন প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে এই ১৬টি জাহাজকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে মোতায়েন করা হবে।

    আইএনএস অঞ্জদীপের মূল বৈশিষ্ট্য

    সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলগুলি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৭৭ মিটার দীর্ঘ এই যুদ্ধজাহাজটিতে উচ্চগতির ওয়াটার-জেট প্রোপালশন ব্যবস্থা রয়েছে, যার ফলে এটি সর্বোচ্চ ২৫ নট গতিতে চলতে সক্ষম। এর ফলে উপকূলের কাছাকাছি দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো সম্ভব হবে। জাহাজটির মূল কাজ উপকূলীয় এলাকায় শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত করা, ট্র্যাক করা ও ধ্বংস করা।

    এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    • ● দেশীয় হাল-মাউন্টেড সোনার ‘অভয়’
    • ● হালকা টর্পেডো ও সাবমেরিন-বিধ্বংসী রকেট
    • ● সর্বোচ্চ ২৫ নট গতিসম্পন্ন ওয়াটার-জেট প্রপালশন ব্যবস্থা
    • ● উচ্চ ম্যানুভারেবিলিটি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা

    পূর্ণসময়ের জন্য নিবেদিত সাবমেরিন-শিকারি

    এতদিন পর্যন্ত ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজগুলো অ্যান্টি-সাবমেরিন ভূমিকা পালন করলেও তাদের মূল কাজ ছিল আক্রমণাত্মক। অর্থাৎ, বিমান ও সারফেস লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আইএনএস অঞ্জদ্বীপ-এর (INS Anjadip) মতো পূর্ণসময়ের জন্য নিবেদিত প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ায় নৌবাহিনী এখন দায়িত্ব বণ্টনে আরও স্পষ্টতা আনতে পারছে। এর ফলে—

    • ● বড় যুদ্ধজাহাজগুলো কৌশলগত অভিযানে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
    • ● উপকূলীয় এলাকায় সাবমেরিন হুমকি আলাদাভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
    • ● স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে উঠবে।
    • ● দেশীয় নির্মাণ ও শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

    লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ আইএনএস অঞ্জদীপ (INS Anjadip) এবং আর্নালা-শ্রেণির অন্যান্য জাহাজ তৈরি করেছে কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, কারণ এর আগে নৌবাহিনী নিজেই যুদ্ধজাহাজের নকশা দিত। এই প্রকল্প ভারত সরকারের ‘আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে রপ্তানিযোগ্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    পুরনো প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে নতুন যুগ

    এই যুদ্ধজাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে অঞ্জদীপ দ্বীপের নামে, যা উত্তর কর্নাটকের কারওয়ার উপকূলের কাছে আরবসাগরে অবস্থিত। এর অন্তর্ভুক্তি বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূল বরাবর ভারতের বিস্তৃত সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন আর্নালা-শ্রেণির জাহাজগুলো ধীরে ধীরে অবসরপ্রাপ্ত অভয় (Abhay)-শ্রেণির করভেটগুলোর জায়গা নেবে, যেগুলি সোভিয়েত-ঘরানার ওপর নির্মিত পেটয়া (Petya)-শ্রেণির প্ল্যাটফর্ম ছিল। নতুন জাহাজগুলো আকার, টিকে থাকার ক্ষমতা এবং আধুনিক সেন্সর ও অস্ত্রব্যবস্থার দিক থেকে অনেক বেশি উন্নত। আইএনএস অঞ্জদ্বীপ-এর (INS Anjadip) কমিশনিং ভারতের উপকূলীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে গেল। এটি শুধু একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং ভারতের নৌকৌশলে বিশেষায়িত প্রতিরক্ষার সূচনার প্রতীক। পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক নৌশক্তির পরিবর্তিত কৌশলের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

  • Earthquake in Kolkata: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও আশপাশের জেলা, উৎসস্থল বাংলাদেশ

    Earthquake in Kolkata: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও আশপাশের জেলা, উৎসস্থল বাংলাদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: থরথরিয়ে কেঁপে উঠল খাট। দুলে উঠল সিলিংয়ের পাখা। টেবিল-চেয়ার থেকে শুরু করে এক নিমেষে কেঁপে উঠল গোটা বাড়ি। জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা থেকে জেলা।

    শুক্র দুপুরে কাঁপল কলকাতা

    শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিট এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কম্পনটি স্থায়ী ছিল ৭-১০ সেকেন্ডের মতো। জানা যাচ্ছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশ। বিভিন্ন এলাকার বহুতলে জোর ঝটকা অনুভূত হয়। কলকাতার বিভিন্ন অংশে আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। নবান্ন খালি করে দেন কর্মীরা। বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে আসেন বিধায়ক ও অন্য কর্মীরা। এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৯টার সময় কলকাতাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মায়ানমার এবং কম্পনের মাত্রা ছিল ৬।

    কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা

    সূত্র অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এদিনের ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল প্রায় ৫.৪। কম্পনের কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। সাতক্ষীরা থেকে কলকাতার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটারেরও কম হওয়ায় কলকাতায় এই ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে।

    কেঁপে উঠল গোটা দক্ষিণবঙ্গ

    কলকাতার আশপাশের বেশ কিছু জেলাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, সুন্দরবনেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শহরেও ভূমিকম্পের জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জেলা শাসকের কার্যালয়ের কর্মীরা কম্পন অনুভব করেই নিরাপত্তার জন্য বাইরে বেরিয়ে আসেন। এলাকার একাধিক বাড়ি ও আবাসনে স্পষ্টভাবে কম্পন অনুভূত হয়। বন্ধ অবস্থায় থাকা সিলিং ফ্যান কিছুক্ষণ ধরে দুলতে থাকে। একইভাবে ঝাড়গ্রাম জেলাতেও বহু মানুষ ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি টের পান। হাওড়া ও হুগলি জেলাতেও অনুরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ সিকিমে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার তীব্রতা ছিল ২.৪। তবে এই কম্পনে সেখানে কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

     

  • Pakistan Afghanistan War: ডুরান্ড লাইনে বিস্ফোরণ-এয়ারস্ট্রাইক! রাতভর হামলা, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ পাকিস্তানের

    Pakistan Afghanistan War: ডুরান্ড লাইনে বিস্ফোরণ-এয়ারস্ট্রাইক! রাতভর হামলা, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি যুদ্ধে’ নামল পাকিস্তান (Pakistan Afghanistan War)। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দহার, পাকতিকায় পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কাবুল। পাল্টা হানায় পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। যদিও এই পরিসংখ্যান মানতে রাজি নয় ইসলামাবাদ। তাদের পাল্টা দাবি, দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। উল্টো দিকে মারা গিয়েছেন ৩৬ জন আফগান সেনা। শুক্রবার ভোর থেকেই কাবুলে বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তালিবান সরকার জানায়, তারা বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং পোস্ট দখল করে ফেলেছে। তবে পাকিস্তান এসব দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, আফগান যোদ্ধাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    পাকিস্তানের অপারেশন ঘাজাব লিল হক

    ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ঘাজাব লিল হক’ নামের সামরিক অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “যে কোনও আগ্রাসী বাসনাকে ধ্বংস করতে সক্ষম আমাদের সামরিক বাহিনী।” ইসলামাবাদের দাবি, পাক-আফগান সীমান্ত বরাবর আফগানিস্তানের আগ্রাসী আচরণের মোকাবিলা করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ডুরান্ড লাইন (পাক-আফগান আন্তর্জাতিক সীমান্ত) বরাবর ইসলামাবাদ হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তালিবানের। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ্ তারারের পাল্টা দাবি, আফগান হানায় দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তিন জন। পাকিস্তানের হানায় ৩৬ জন তালিব যোদ্ধা মারা গিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    পাক সেনার এফ-১৬ ভেঙে পড়ার ভিডিও ভাইরাল

    যুদ্ধ ঘোষণার পরেই পাক সেনার এফ ১৬ ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। আফগান প্রশাসনের দাবি, তারাই গুলি করে নামিয়েছে ওই যুদ্ধবিমান। সেই দাবি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। তবে, একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, ভিডিওটি ভুয়ো। এআই-এর সহায়তায় তৈরি। ভিডিওতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি। তবে, সীমান্তে রক্তক্ষয়ী  সংঘাতের জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে আফগানিস্তান। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ্ মুজাহিদ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “ভীরু পাক সেনা কাবুল, কান্দাহার, পাকতিকার কিছু এলাকায় বিমানহানা চালিয়েছে। ভাগ্যক্রমে কোনও মৃত্যুর খবর নেই।” কাবুলের দাবি, পাকিস্তানই প্রথমে আফগান সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানো শুরু করে। একাধিক আফগান শহরে এয়ারস্ট্রাইক করে পাকিস্তান। এরপরই দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    পাক সামরিক ঘাঁটি দখল, দাবি আফগানিস্তানের

    আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ৪ ঘণ্টা ধরে পাল্টা অভিযানে পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত, নানগারহার, কুমার ও নুরিস্তান সীমান্ত এলাকায় অভিযান চলেছে। তাদের দাবি, ২টি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে এবং ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া কিছু সেনাকে জীবিত আটক এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আফগান কর্তৃপক্ষ এ-ও স্বীকার করেছে, তাদের ৮ জন তালেব যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। নানগারহারের একটি শরণার্থী শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী ও শিশু সহ ১৩ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

    টোরখাম সীমান্ত এলাকাতেও সংঘর্ষ

    প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মশাররফ আলি জাইদি বলেন, ‘‘কোনও পাকিস্তানি সেনাকে আটক করা হয়নি।’’ পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রকের দাবি, আফগান তালিবান বাহিনী খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ইচ্ছাকৃত এবং উস্কানিমূলক হামলা চালায়। যার জবাবে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেন, ‘‘পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে কোনও আপস করবে না।’’ সংঘর্ষ টোরখাম সীমান্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে, যা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারাপার পয়েন্ট।

    কোন দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি

    ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইন, যা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। গত কয়েক মাস ধরেই সীমান্তে সংঘর্ষ চলছে। যদিও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি শান্ত রেখেছিল। বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন নিয়ে এবার সরাসরি যুদ্ধে নামল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ৷ গত কয়েক মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষে দু’পক্ষের ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেনা জওয়ানদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে। ফের দুই দেশের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি (Iran’s Foreign Minister Seyed Abbas Araghchi) জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে সাহায্য করতে তৈরি ইরান।

    ভারতকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার পাকিস্তানের

    অন্যদিকে, নিজেদের স্বভাববশত যে কোনও বিষয়ে ভারতকে টেনে আনার পুরনো রীতি ছাড়েনি পাকিস্তান। পাক-আফগান দ্বন্দ্ব নিয়েও পাকিস্কতান প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘‘ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর, আফগানিস্তানে শান্তির প্রত্যাশা ছিল ৷ তালিবানরা আফগান জনগণের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর মনোযোগ দিচ্ছে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তালিবানরা আফগানিস্তানকে কার্যত ভারতের উপনিবেশে পরিণত করেছে। তারা সারা বিশ্ব থেকে সন্ত্রাসবাদীদের আফগানিস্তানে জড়ো করছে ৷ সন্ত্রাসবাদকে রফতানি করাও শুরু করেছিল ৷’’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধু দেশগুলির মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল । তবে, তালিবানরা ভারতের মতো প্রতিশোধের মানসিকতাই দেখিয়েছে বলে দাবি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ৷

    নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা কেন, প্রশ্ন কাবুলের

    অন্যদিকে, কাবুলের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দুই দেশের মধ্যে ২৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে আফগানিস্তান কখনওই সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এক বিবৃতিতে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রমজানের মধ্যেই রাত আটটায় এই অভিযান শুরু হয়েছিল ৷ কয়েকদিন আগে পাকিস্তান বাহিনী আফগান ভূখণ্ড দখলের প্রতিক্রিয়ায় শুরু করেছিল তার বিরুদ্ধেই এই অভিযান বলে দাবি তালিবানের। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘কয়েক দিন আগে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগান ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ৷ আমাদের সীমান্ত লঙ্ঘন করে এসে নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করেছে ৷ তাই পাক হামলার প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছে।’’

  • T20 World Cup 2026: শেষ চারের ভাগ্য নির্ধারণ ইডেনে! এবার চিন্তা বোলিং, জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে কী বললেন ভারত অধিনায়ক?

    T20 World Cup 2026: শেষ চারের ভাগ্য নির্ধারণ ইডেনে! এবার চিন্তা বোলিং, জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে কী বললেন ভারত অধিনায়ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইডেনে ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামাতে পারলেই টি-২০ বিশ্বকাপের (2026 ICC Men’s T20 World Cup) শেষ চারে পৌঁছে যাবে ভারত। চিপকে জিম্বাবোয়েকে ৭২ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখল টিম ইন্ডিয়া (India vs Zimbabwe)। ভারতের সামনে সেমিফাইনালে ওঠার একটাই রাস্তা। কলকাতায় ম্যাচ জিততে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। পয়েন্টের বিচারেই উঠে যাবে শেষ চারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জিতে প্রথম দল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা বৃহস্পতিবার দুপুরেই নিজেদের জায়গা পাকা করেছে। ভারতের সামনে এবার সুযোগ। তবে, বৃষ্টি হলে বা কোনও কারণে ম্যাচ ভেস্তে গেলে নেট রান রেটের বিচারে ওয়াংখেড়েতে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

    সেমির পথে সূর্যরা, কারা প্রতিপক্ষ

    চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার ৮-এর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিরাট ব্যবধানে হারের ফলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেমিফাইনালে ওঠার পথ বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৭৬ রানের এই পরাজয় তাদের নেট রান রেটে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছিল। অঙ্ক ছিল, টিম ইন্ডিয়াকে তাদের দুটি ম্যাচই জিততে হবে, এবং তাও বড় ব্যবধানে। গ্রুপ – ১ পয়েন্ট টেবিলে ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, ছিটকে গিয়েছে জিম্বাবোয়ে। দুটো দলই ২টো করে ম্য়াচ খেলেছে। এবার তৃতীয় ম্য়াচটা নিজেদের মধ্যেই খেলতে হবে। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণ করতে কোনও সমস্যা হবে না। গ্রুপের বাকি ২ দল অর্থাৎ ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজও ২টো ম্য়াচ খেলেছে। তৃতীয় ম্য়াচে এই ২ দলকে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। আপাতত দুটো দলের কাছেই ২-২ পয়েন্ট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে জিততে চাইবে। যে দলই জিতুক না কেন, ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা সেমিফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে। কিন্তু এই ম্যাচ কোনও কারণে ভেস্তে গেলে রান রেট ভালো থাকায় সেমিফাইনালে চলে যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেমিফাইনালে পৌঁছলে মুম্বই-এর ওয়াংখেড়েতে মুখোমুখি হবে ভারত ও ইংল্যান্ড। কারণ, নিয়ম অনুসারে গ্রুপ-এ-র শীর্ষে থাকা দল খেলবে গ্রুপ ২-এর দুই নম্বরে থাকা দল। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এক নম্বর ধরে রাখার সম্ভাবনা দক্ষিণ আফ্রিকার। সেক্ষেত্রে গ্রুপ-২-এর দুই নম্বরে থাকা দলের মুখোমুখি হবে তারা।

    ইডেনের লড়াই নিয়ে কী ভাবছেন সূর্য

    রবিবার, ১ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে টিম ইন্ডিয়া। তাও আবার ইডেন গার্ডেন্সে। সেই ম্যাচ নিয়ে ইতিমধ্যেই কথাবার্তা, আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। টিম ইন্ডিয়া অধিনায়ক সূর্যকুমার কি ইতিমধ্যেই ক্যারিবিয়ান দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছেন? সূর্য জানাচ্ছেন, ‘‘দেখুন আমাদের ইতিবাচক হওয়া ছাড়া তো আর কোনও বিকল্প নেই। আমরা কলকাতায় পৌঁছাই, তারপরেই সেখানে বসে ওই ম্যাচ নিয়ে ঠিকঠাকভাবে পরিকল্পনা তৈরি করব। আপাতত একদিনের ছুটি, আর সফরও করতে হবে আমাদের, সেই সঙ্গে বিশ্রামও নেওয়াটা জরুরি।’’ চিপকে খেলার শেষে সূর্যকুমার বলেন, ‘‘আমার মনে হয় আমরা সবকিছু পিছনে ফেলেই আসতে চেয়েছিলাম। লিগ পর্বে বা অমদাবাদে শেষ ম্যাচে আমরা কী করেছি, তা নিয়ে আমরা খুব বেশি ভাবিনি। আমাদের ভিডিও বিশ্লেষক সমস্ত ব্যাটার এবং বোলারদের জন্য একটি স্লাইড তৈরি করেছিলেন। সেখানে বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা কী করেছি তা তুলে ধরেছিলেন। আমরা সেটি দেখেছি, এখান থেকে অনেক পজিটিভিটি পেয়েছি এবং স্পষ্টতা নিয়ে এখানে এসেছি। তার ফল মিলেছে।’’

    চিন্তায় ভারতীয় বোলিং

    জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ভারতের ব্যাটাররা ভালো করলেও ইডেনে নামার আগে ভারতের বোলিং কিন্তু রীতিমতো চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াল। যা স্বীকারও করে নিলেন সূর্যকুমার, তিনি বলেন, ‘‘সত্যি বলতে, আমরা বলের সঙ্গে আরও কিছুটা ক্লিনিকাল হতে পারতাম। কিন্তু দিনের শেষে, জয় মানে জয়। আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি গ্রহণ করব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের সঙ্গে খেলতে গেলে আমরা বেশ কিছু স্ক্রু টাইট করেই যাব। আমি জিম্বাবোয়ের ব্যাটারদের কাছ থেকে কোনও কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না। আমার মনে হয় তারা সুন্দর ব্যাট করেছে। হ্যাঁ, উইকেট ভালো ছিল, পাওয়ারপ্লেতে সময় নিয়ে, তাঁরা যেভাবে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তাতে করে স্মার্টলি খেলার গতি বাড়িয়েছিল – তা চিত্তাকর্ষক ছিল। কৃতিত্ব তাঁদেরও। বোলিংয়ের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কিছু বিকল্প নিয়ে আমরা আরও একটু বুদ্ধিমান হতে পারতাম। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহসী হতে হবে।’’ সূর্য বুঝিয়েই দিলেন যে তিনি ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে নামার আগে বোলিং নিয়ে সামান্য হলেও চিন্তিত।

    টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের সর্বোচ্চ

    জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এদিন রানের পাহাড় গড়ে ভারত। টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন সিকন্দর রাজা। প্রথমে ফিল্ডিং করে নিতে চেয়েছিল জিম্বাবোয়ে। যাতে রাতের শিশিরের সমস্যা এড়াতে পারেন বোলাররা। তবে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবোয়ে বোলিংকে দুরমুশ করলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। বৃহস্পতিবার অভিষেক শর্মার সঙ্গে ইনিংস ওপেন করেন সঞ্জু স্যামসন। ভারতকে শুরুতেই চালকের আসনে বসিয়ে দেন দুই ওপেনার। সঞ্জু বড় রান পাননি। তবে ১৫ বলে ২৪ রান করে ইনিংসের গতিটা শুরুতেই ফিফথ গিয়ারে বেঁধে দেন। মাত্র ২২ বলে ৪৮ রান যোগ করেন দুই ওপেনার। এরপর সঞ্জু ফিরলেও অভিষেক ও ঈশান কিষাণ মিলে ধ্বংসলীলা চালান। টি-২০ ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার অভিষেক শর্মার টুর্নামেন্ট কাটছিল দুঃস্বপ্নের মতো। টানা তিন ম্যাচে শূন্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৫। অবশেষে সুপার এইটের দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দে ফিরলেন বাঁহাতি ব্যাটার। ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি। ৩০ বলে ৫৫ রান করলেন। ২৪ বলে ৩৮ ঈশান কিষাণের। দ্বিতীয় উইকেটে ৪২ বলে ৭২ রান যোগ করলেন দুজনে। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তাণ্ডব চালালেন তিলক বর্মা (১৬ বলে অপরাজিত ৪৪ রান), হার্দিক পান্ডিয়া (২৩ বলে অপরাজিত ৫০ রান), সূর্যকুমার যাদবরা (১৩ বলে ৩৩ রান)। ২০ ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ২৫৬/৪। টি-২০ বিশ্বকাপে যা ভারতের রেকর্ড। ২০০৭ সালে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে ডারবানে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১৮/৪ তুলেছিল ভারত।

    প্রয়াত রিঙ্কু সিং-এর পিতা

    শেষরক্ষা হল না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝেই প্রয়াত হলেন রিঙ্কু সিং-এর বাবা খাচান্দ্র সিং। ভারতীয় শিবির থেকে ছুটি নিয়ে গত মঙ্গলবার হাসপাতাল ভর্তি বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন রিঙ্কু। পর দিনই ফিরে আসেন। গ্রেটার নয়ডার হাসপাতালে রিঙ্কুর বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। গত কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। খাচান্দ্র মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ও ‘কন্টিনিউয়াস রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’-তে ছিলেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চেন্নাইয়ের জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে রিঙ্কু হঠাৎ শিবির ছেড়ে চলে যান। বাবাকে দেখে রিঙ্কু দ্রুত চেন্নাই ফিরে আসেন। যদিও বৃহস্পতিবারের ম‍্যাচে তিনি প্রথম একাদশে ছিলেন না। শুধু পরিবর্ত হিসেবে ফিল্ডিং করেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলিতে রিঙ্কুকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।

  • Early Puberty: বদলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময়! কখন থেকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    Early Puberty: বদলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময়! কখন থেকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে সময়! জীবন যাপনের অভ্যাস। আর বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকটাই বদলে গিয়েছে আমাদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তাই এগিয়ে এসেছে বয়ঃসন্ধিকাল। কয়েক দশক আগেও বয়ঃসন্ধিকাল বলতে ১৪-১৫ বছরের সময় বোঝানো হতো। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বয়ঃসন্ধিকালের সমস্ত লক্ষণ এখন এগিয়ে আসছে। এখন ১১-১২ বছর বয়স থেকেই ছেলেমেয়েরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে বয়ঃসন্ধিকালে পোঁছে যাচ্ছে। তাই অভিভাবদের ও আলাদা ভাবে প্রস্তুতি প্রয়োজন। সন্তানের সুস্থ দীর্ঘ জীবনের জন্য এই সন্ধিক্ষণের সময়ে সবরকম বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি।

    বয়ঃসন্ধিকালের সময় এগিয়ে যাওয়া কাকে বলে?

    ভারতের পাশপাশি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধিকালের লক্ষণ প্রকট হয়েছে। অর্থাৎ, গত কয়েক দশক আগেও যে সময়ে শিশু কৈশোরে পা দিতো, সম্প্রতি কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে, সেই নির্দিষ্ট বয়সের আগেই সে শারীরিক ও মানসিক ভাবে কৈশোর জীবনে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশের ১৭ শতাংশ মেয়েদের ১২ বছরের আগে ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। ২০ শতাংশ ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ৮-১০ বছরের মধ্যেই গোপনীয়তা বোধ, জোরালো মতামত এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ে। এই লক্ষণগুলো মানসিকভাবে বয়ঃসন্ধিক্ষণে থাকার ইঙ্গিত দেয়।
    এই সমীক্ষার তথ্য জানান দিচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময় এগিয়ে এসেছে। অর্থাৎ ১৪-১৫ বছর বয়সের পরিবর্তন এখন ১০-১২ বছর বয়সেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    কেন এগিয়ে আসছে বয়ঃসন্ধিকাল?

    এই পরিবর্তনের মূলত তিনটি কারণ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ মহল। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল এগিয়ে আসার মূলত কারণ খাদ্যাভ্যাস। ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে শিশুদের অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। প্রয়োজনের বেশি প্রাণীজ প্রোটিন তারা নিয়মিত খায়। এর ফলে শরীরে স্থুলতা দেখা দেয়। এই জন্য দ্রুত শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন শুরু হয়‌। তাছাড়া অধিকাংশ শিশু প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত। এই খাবারগুলোতে ব্যবহৃত রাসায়নিক শরীরের হরমোন পরিবর্তন ঘটায়। তাই বয়ঃসন্ধিকাল এগিয়ে আসছে।

    শরীরের পাশাপাশি বয়ঃসন্ধিকালে মনের পরিবর্তন হয়। এই মানসিক পরিবর্তন দ্রুত হওয়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। ইন্টারনেট ও মোবাইল শিশুর জানার পৃথিবী পরিবর্তন করেছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এখন অনেক কিছুই শিশুর কাছে সহজলভ্য। বড়দের অনেক বিষয় তারা সহজেই জানতে পারছে‌। এর ফলে তাদের মানসিক পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে। সময়ের আগেই গোপনীয়তা বোধ তৈরি হচ্ছে।

    পরিবারের ধরন বদলে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশু এখন আর যৌথ পরিবারে থাকে না। বাবা-মা এবং সন্তান। অধিকাংশ পরিবারে এখন তিন সদস্য। পরিবারের ছোট্ট সদস‌্য বাবা-মায়ের আলোচনা, কথা শুনেই বড় হচ্ছে। অনেক সময়েই বাবা-মায়ের আলোচনার বিষয় অনেক পরিণত হয়। সেগুলো সন্তানের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। সময়ের আগেই তারা এমন অনেক বিষয় জানতে পারে, যেগুলো পরিণত বয়সে জানা উচিত। পরিবারে একাধিক সদস্য থাকলে ছোটোদের নিজের আলাদা মেলামেশার সুযোগ বাড়ে। কিন্তু ছোটো পরিবারে সেটা সম্ভব নয়। এর ফলেও তাদের মধ্যে দ্রুত মানসিক পরিবর্তন হচ্ছে।

    কীভাবে সন্তানের যত্ন নেবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আর্লি টিনএজ বা সময়ের আগেই দ্রুত বয়ঃসন্ধিকালে দাঁড়ানো, এখন বিশ্বজনীন সমস্যা। তাই এই সঙ্কট মোকাবিলার জন্য অভিভাবকদের আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন। শিশুর ৮-১০ বছর বয়স থেকেই তাকে শরীর ও মনের পরিবর্তন সম্পর্কে জানানো জরুরি। বিশেষত মেয়েদের সেই পাঠ বাড়তি যত্নের সঙ্গে শেখানো জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ বড়‌ কোনো শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে, সন্তান ঘাবড়ে যেতে পারে। তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। জীবনের যে পরিবর্তনগুলো খুবই স্বাভাবিক সে সম্পর্কে জানানো জরুরি। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা প্রয়োজন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা বহু প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়েই জানতে পারে। কিন্তু সেই জানার মধ্যে অনেক ভ্রান্ত ধারণা মিশে থাকে। অভিভাবকদের কথা বলে সেগুলো স্পষ্ট করা জরুরি। তবেই মানসিক গঠন ঠিক মতো হবে। তাছাড়া তাদের মতামত শোনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে তারা আত্মবিশ্বাস পাবে। অকারণ গোপনীয়তা তৈরি হবে না। তবে সন্তান কী ধরনের কন্টেন্ট দেখছে, সেগুলো তার জন্য উপযুক্ত কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। কৈশোরে এমন অনেক বিষয়েই আগ্রহ জন্মায়, যা সময়োপযোগী নয়। কথা বলেই সে সম্পর্কে সজাগ করতে হবে।

    মানসিক চাপ কমানো এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তার পাশপাশি কৈশোরে পা দেওয়ার সময় শরীরের একাধিক পরিবর্তন হয়। তাই শরীর সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত খনিজ পদার্থ খাওয়া জরুরি। খনিজ পদার্থ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। তাই ১০ বছরের পরে ছেলেমেয়েদের নিয়মিত বাদাম, কিসমিস, কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোট জাতীয় খাবার দেওয়া উচিত। যাতে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাহলে শরীর ও মন সুস্থ থাকবে‌।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Daily Horoscope 27 February 2026: চোখের ব্যাপারে একটু সাবধান থাকুন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 27 February 2026: চোখের ব্যাপারে একটু সাবধান থাকুন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

     

     

    মেষ

    ১) প্রিয়জনের সঙ্গে বিবাদ বাধতে পারে।

    ২) পেটের ব্যাপারে একটু সাবধান থাকুন।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    বৃষ

    ১) অতিরিক্ত বিলাসিতার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ২) ব্যবসার জন্য বাড়তি অর্থ দরকার হতে পারে।

    ৩) সতর্ক থাকবেন সব বিষয়ে।

    মিথুন

    ১) ভালো কোনও সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষোভ।

    ২) কারও কাছ থেকে বড় কোনও উপকার পেতে পারেন।

    ৩) বাণীতে সংযম জরুরি।

    কর্কট

    ১) মহিলা বন্ধুদের ব্যাপারে একটু সাবধান থাকা দরকার।

    ২) প্রতিবেশীর সঙ্গে বিবাদ।

    ৩) সবাইকে ভালোভাবে কথা বলুন।

    সিংহ

    ১) আয় ভালো থাকলেও দারিদ্র সহজে দূর হবে না।

    ২) কর্মক্ষেত্রে সুবিবেচক ব্যক্তি হিসাবে উন্নতির যোগ।

    ৩) মোটামুটি কাটবে দিনটি।

     

     

    কন্যা

    ১) মিথ্যা বদনাম রটতে পারে।

    ২) ব্যবসায় পরিশ্রম বৃদ্ধি পেলেও লাভ ভালো হবে।

    ৩) দিনটি ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে।

    তুলা

    ১) পিতামাতার সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে।

    ২) চোখের ব্যাপারে একটু সাবধান থাকুন।

    ৩) দিনটি মোটামুটি কাটবে।

    বৃশ্চিক

    ১) নিজের বাকপটুতায় সকলের মন জয় করতে সক্ষম হবেন।

    ২) জনহিতকর কাজে সুনাম পাবেন।

    ৩) আশাপূরণ।

    ধনু

    ১) সন্তানের জন্য স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ হতে পারে।

    ২) কোনও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে ধর্ম নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে।

    মকর

    ১) শত্রুদের থেকে সাবধান থাকা দরকার।

    ২) বাড়তি খরচ হতে পারে।

    ৩) গুরুজনের পরামর্শ মেনে চলুন।

    কুম্ভ

    ১) একটু বিপদের সম্ভাবনা আছে।

    ২) মানসিক অস্থিরতার জন্য কোনও ভালো কাজ হাতছাড়া হতে পারে।

    ৩) আশা পূরণ।

    মীন

    ১) সারা দিন ব্যবসা গতানুগতিক ভাবেই চলবে।

    ২) ভাই-বোনের কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারেন।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

  • Ramakrishna 592: “বালকের ন্যায় বিশ্বাস দেখলে ঈশ্বরের দয়া হয়, সংসার বুদ্ধিতে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না”

    Ramakrishna 592: “বালকের ন্যায় বিশ্বাস দেখলে ঈশ্বরের দয়া হয়, সংসার বুদ্ধিতে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    অষ্টম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২২শে অক্টোবর

    অবতারকথাপ্রসঙ্গে—অবতার ও জীব

    সায়েন্স—না মহাপুরুষের বাক্য? 

    “বালকের মতো বিশ্বাস না হলে ঈশ্বরকে (Ramakrishna) পাওয়া যায় না। মা বলেছেন, ‘ও তোর দাদা’ বালকের অমনি বিশ্বাস যে, ও আমার ষোল আনা দাদা। মা বলেছেন, ‘জুজু আছে।’ ষোল আনা বিশ্বাস যে, ও-ঘরে জুজু আছে। এইরূপ বালকের ন্যায় বিশ্বাস দেখলে ঈশ্বরের দয়া হয়। সংসার বুদ্ধিতে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না (Kathamrita)।”

    ডাক্তার (ভক্তদের প্রতি)—গরুর কিন্তু যা তা খেয়ে দুধ হওয়া ভাল নয়। আমার একটা গরুকে ওইরকম যা তা খেতে দিত। শেষে আমার ভারী ব্যারাম। তখন ভাবলুম, এর কারণ কি? অনেক অনুসন্ধান করে টের পেলুম, গরু খুদ ও আরও কি কি খেয়েছিল। তখন মহা মুশকিল! লখনউ যেতে হল। শেষে বার হাজার টাকা খরচ! (সকলের হো-হো করিয়া হাস্য)

    “কিসে কি হয় বলা যায় না। পাকপাড়ার বাবুদের বাড়িতে সাত মাসের মেয়ের অসুখ করেছিল —ঘুঙরী কাশি (Whooping Cough) — আমি দেখতে গিছিলাম। কিছুতেই অসুখের কারণ ঠিক করতে পারি নাই। শেষে জানতে পারলুম, গাধা ভিজেছিল, যে গাধার দুধ সে মেয়েটি খেত।” (সকলের হাস্য)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— কি বল গো! তেঁতুলতলায় আমার গাড়ি গিছিল, তাই আমার অম্বল হয়েছে! (ডাক্তার ও সকলের হাস্য)

    ডাক্তার (হাসিতে হাসিতে)—জাহাজের ক্যাপ্তেনের বড় মাথা ধরেছিল। তা ডাক্তারেরা পরামর্শ করে জাহজের গায়ে বেলেস্তারা (blister) লাগিয়ে দিল। (সকলের হাস্য)

    সাধুসঙ্গ ও ভোগবিলাস ত্যাগ

    শ্রীরামকৃষ্ণ (ডাক্তারের প্রতি)—সাধুসঙ্গ সর্বদাই দরকার (Kathamrita)। রোগ লেগেই আছে। সাধুরা যা বলেন, সেইরূপ করতে হয়। শুধু শুনলে কি হবে? ঔষধ খেতে হবে, আবার আহারের কটকেনা করতে হবে। পথ্যের দরকার।

    ডাক্তার — পথ্যতেই সারে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— বৈদ্য তিনপ্রকার — উত্তম বৈদ্য, মধ্যম বৈদ্য, অধম বৈদ্য। যে বৈদ্য এসে নাড়ী টিপে ‘ঔষধ খেও হে’ এই কথা বলে চলে যায়, সে অধম বৈদ্য — রোগী খেলে কিনা, এ-খবর সে লয় না। আর যে বৈদ্য রোগীকে ঔষধ খেতে অনেক করে বুঝায়, মিষ্ট কথাতে বলে। ‘ওহে ঔষধ না খেলে কেমন করে ভাল হবে? লক্ষ্মীটি খাও, আমি নিজে ঔষধ মেড়ে দিচ্ছি খাও’, সে মধ্যম বৈদ্য। আর যে বৈদ্য রোগী কোন মতে খেলে না দেখে, বুকে হাঁটু দিয়ে জোর করে ঔষধ খাইয়ে দেয়, সে উত্তম বৈদ্য (Kathamrita)।

    ডাক্তার — আবার এমন ঔষধ আছে, যাতে বুকে হাঁটু দিতে হয় না। যেমন হোমিওপ্যাথিক।

  • Trinamool Criminal Nexus: কাঁকুলিয়া থেকে গোলাবাড়ি— তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রাজ্যে চরমে সমাজবিরোধী-দুষ্কৃতীরাজ, নিস্তার কবে?

    Trinamool Criminal Nexus: কাঁকুলিয়া থেকে গোলাবাড়ি— তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রাজ্যে চরমে সমাজবিরোধী-দুষ্কৃতীরাজ, নিস্তার কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার গোলপার্ক-কাঁকুলিয়ার পর হাওড়ার গোলাবাড়ি-পিলখানা। ফের শাসক-আশ্রিত দুষ্কৃতী তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল রাজ্যের দুই সিস্টার-সিটি। আর এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— সমাজ-বিরোধী, খুনে অভিযুক্তের সঙ্গে কীসের এত সখ্যতা তৃণমূল নেতাদের? ভোট যত এগিয়ে আসছে, কেন বাড়ছে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য?

    প্রধান অভিযুক্ত তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ

    হাওড়ার গোলাবাড়ি-পিলখানা এলাকায় বুধবার ভোরে চায়ের দোকানের সামনে খুব কাছ থেকে গুলি করে এক প্রোমোটার শফিক খানকে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় এই গুলিচালনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজে যে দু’জনকে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে, তাঁরা হলেন হারুন খান ও রোহিত। এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হারুন খানের সঙ্গে হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর একাধিক ভিডিও সামনে এনেছে বিজেপি। এমনকী, তৃণমূলের স্থানীয় বিধায়ক গৌতম চৌধুরীকে হারুনের বাইকে চেপে প্রচারেও দেখা গিয়েছে। ঘটনার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, হারুন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ।

    চলছে ‘মহাজঙ্গল রাজ’, রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ

    বিজেপির তরফে এক্স হ্যান্ডেলে এক ভিডিও পোস্ট করে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর নবান্নও হাওড়াতেই অবস্থিত। তার পরেও এ ধরনের দুঃসাহসিক অপরাধ ঘটছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার একাধিক জায়গা থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি গতকালই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার আদালতে বোমা হামলার হুমকিতে আতঙ্ক ছড়ায়। এই পরিস্থিতিকে ‘মহাজঙ্গল রাজ’ আখ্যা দিয়ে বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্তি চান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে বিজেপির তরফে।

    ভয়ে, আতঙ্কে সিঁটিয়ে স্থানীয়রা

    কাঁকুলিয়ায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যে অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর সঙ্গে ছবিতে দেখা গেছে তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। সেই ঘটনার পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সোনা পাপ্পুর নাগাল পায়নি পুলিশ। আর বুধবার ভোরে হাওড়ার পিলখানায় গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হল প্রোমোটারকে। ৪৮ ঘণ্টা পার করতে চললেও, মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত অধরা। কাঁকুলিয়া থেকে হাওড়া, ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর সব ঘটনার নেপথ্যে বারবার উঠে আসছে শাসক-যোগ। যদিও, হারুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা অস্বীকার করেছেন তৃণমূল বিধায়ক।

    হামলা সংবাদমাধ্যমের ওপরও

    যে বিধানসভা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে, সেই হাওড়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লর সঙ্গেও অভিযুক্ত হারুন খানের ভাইরাল ছবি সামনে এসেছে। লক্ষ্মীরতন শুক্ল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না। এদিকে, প্রোমোটার খুনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হন সাংবাদিকরা। রক্তাক্ত হন এবিপি আনন্দের প্রতিনিধি ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী। বেধড়ক মারধরে নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে তাঁর। এবিপি আনন্দের চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষকেও হেনস্থা করে কয়েক জন দুষ্কৃতী।

    হাওড়ার মূল অভিযুক্ত যুব তৃণমূল নেতা!

    প্রশ্ন উঠছে, খুনে অভিযুক্ত থেকে শুরু করে দুষ্কৃতী বা সমাজবিরোধীদের সঙ্গে কীসের এত সখ্যতা তৃণমূল বিধায়কদের? বিজেপির অভিযোগ, হারুন খান হাওড়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা। বিজেপি-র রাজ্য নেতা উমেশ রাইয়ের দাবি, ‘হারুন খান উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। বাইকে চেপে তাঁকে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবি ভাইরাল। অন্য অভিযুক্ত রোহিত আর্মস ডিলার। জেলখাটা আসামি। যাঁকে খুন করা হয়েছে সেই সফিক একটা ক্রিমিনাল গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত।’ বিধায়কের মদতে এলাকায় সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    ‘‘তৃণমূলের ভোট টিকে আছে দুষ্কৃতী ভোটব্যাঙ্কে’’

    এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অভ্যন্তরেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “বাহুবলীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, না করলে কপালে দুঃখ আছে, আমি বাহুবলীদের উপর ভরসা করি না। এটাকে যে কোন মূল্যে বন্ধ করতে হবে। কড়া ব্যাবস্থা নিতে হবে। বাহুবলীরা যে দিকে যায়, মানুষ তার বিপরীত দিকে যায়। এদের নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে নাগরিক সমাজ পাশ থেকে সরে যাবে।” তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের এহেন মন্তব্যের পালটা প্রতিক্রিয়া জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। প্রাক্তন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘‘এটা ওনার বিলম্বিত বোধদয়, তৃণমূলের ভোট টিকে আছে দুষ্কৃতী ভোটব্যাঙ্কে। উনি জানেন উনি আর ভোটে লড়তে পারবেন না ওনার দল থেকে আর কিছু পাওয়ার নেই তাই এইসব মন্তব্য করছেন।’’

    ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে হিংসা!

    দোষীদের গ্রেফতার না করলে ভোট বয়কট করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে দু’জন জিন্সের প্যান্টের ব্যবসা করত। টাকা নিয়ে বিবাদ ছিল। অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসার সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি সেই পরিকল্পনা বদলে ভোটের আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে হিংসা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন উঠছে, এভাবেই কি সাধারণ মানুষকে সন্ত্রস্ত করে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে?

  • PM Modi: ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, শ্রদ্ধা জানালেন হলোকাস্ট মেমোরিয়ালেও

    PM Modi: ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, শ্রদ্ধা জানালেন হলোকাস্ট মেমোরিয়ালেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের সফরে ইজরায়েলে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বৃহস্পতিবার তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন (Holocaust Memorial)। দুই নেতার বৈঠকে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা, কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi)

    জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমি আনন্দিত যে বিভিন্ন জায়গায় আগেও আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছি। আজ আপনাকে এখানে দেখতে পেয়ে আমি সম্মানিত। ভারতের মানুষ আপনাকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী। তাই আমি বিশেষভাবে আপনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। শুধু দিল্লি নয়, ভারতের অন্যান্য স্থানেও সময় বের করে যান, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আপনাকে স্বাগত জানানোর সুযোগ পান।” বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    ইজরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

    বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট হারজগ এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি লেখেন,
    “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইজরায়েলের জনগণ আপনাকে উন্মুক্ত হৃদয়ে স্বাগত জানাচ্ছে। আজ জেরুজালেমে আপনাকে আতিথ্য দেওয়ার অপেক্ষায় আছি!” ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ইজরায়েলে রাজনৈতিক ও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে (Holocaust Memorial)। দুই নেতা প্রেসিডেন্ট ভবনে একটি চারা গাছ রোপণ করেন, যা তাঁদের কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণ ও ব্যক্তিগত দিককে প্রতিফলিত করে (PM Modi)।

    ‘হল অব রিমেমব্র্যান্স’

    ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি জেরুজালেমে অবস্থিত ইজরায়েলের সরকারি হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ ‘ইয়াদ ভাশেমে’ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও। দুই নেতা ‘হল অব রিমেমব্র্যান্সে’ নীরবতা পালন করেন, যখন ‘কাদ্দিশ’ প্রার্থনা পাঠ করা হচ্ছিল। হলোকাস্টের শিকারদের স্মরণে এটি ছিল সম্মান, স্মৃতি ও শান্তির বার্তা (Holocaust Memorial)। প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানায়, “হলোকাস্টের শিকারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং শান্তি ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইয়াদ ভাশেম, বিশ্ব হলোকাস্ট স্মরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সফর (PM Modi)। তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ‘বুক অফ নেমস্ হল’ পরিদর্শন করেন, যেখানে হলোকস্টে নিহত লাখ লাখ মানুষের স্মৃতি সংরক্ষিত রয়েছে। এই স্মৃতিসৌধ অতীতের নিষ্ঠুরতার একটি গম্ভীর স্মারক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি উন্নত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক (Holocaust Memorial)।”

    ইয়াদ ভাশেম কী?

    ইয়াদ ভাশেম জেরুজালেমে অবস্থিত ইজরায়েলের সরকারি হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি ও তাদের সহযোগীদের হাতে নিহত ৬০ লক্ষ ইহুদির স্মৃতি সংরক্ষণে নিবেদিত। এখানে রয়েছে হলোকাস্ট ইতিহাস জাদুঘর, হল অব নেমস্ এবং শিশু স্মৃতিসৌধ। এছাড়া ‘রাইটিয়াস অ্যামং দ্য নেশনস্’—অর্থাৎ যেসব অ-ইহুদি নিজেদের জীবন বিপন্ন করে (Holocaust Memorial) ইহুদিদের রক্ষা করেছিলেন—তাঁদেরও সম্মান জানানো হয় (PM Modi)।

  • Benjamin Netanyahu: ‘মোদি-জ্যাকেট’ পরে নৈশভোজে হাজির নেতানিয়াহু, “চমৎকার” বললেন মোদি

    Benjamin Netanyahu: ‘মোদি-জ্যাকেট’ পরে নৈশভোজে হাজির নেতানিয়াহু, “চমৎকার” বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরে নৈশভোজের আসরে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চমকে দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। বুধবার জেরুজালেমে আয়োজন করা হয়েছিল ওই নৈশভোজের (Traditional Indian Attire)। সেখানেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পাথর-রঙের একটি নেহরু জ্যাকেট বেছে নেন, যা জনপ্রিয়ভাবে ‘মোদি জ্যাকেট’ নামেও পরিচিত। এতে ছিল ব্যান্ড কলার ও নিখুঁত কাটছাঁটের ফিটিং। এর সঙ্গে তিনি পরেছিলেন সাদা, লম্বা হাতাওয়ালা সাধারণ রংয়ের কুর্তা-ধাঁচের একটি শার্ট। গাঢ় নীল রঙের ফরমাল ট্রাউজার এবং পালিশ করা কালো চামড়ার জুতোয় তাঁকে আদ্যোপান্ত ভারতীয় বলেই মনে হচ্ছিল।

    ভারতীয় পোশাকে নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)

    এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে নেতানিয়াহু মোদির প্রতিক্রিয়ার ঝলক শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, “আমাদের যৌথ নৈশভোজের আগে আমি আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরে চমকে দিয়েছি।” কূটনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত একটি দিনের মধ্যেই এই পোশাক-নির্বাচনের বার্তা আসে। এর আগে মোদি নেসেটের বিশেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন, যা তাঁকে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণদানকারী প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করে। নেতানিয়াহুর পোস্টের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদি সেটি ফের শেয়ার করে লেখেন, “চমৎকার! ভারতীয় পোশাকের প্রতি আপনার অনুরাগ আমাদের দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আপনার শ্রদ্ধারই প্রতিফলন।”

    একাধিক মউ সই হওয়ার কথা

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও নেতানিয়াহু আজ, বৃহস্পতিবার যৌথভাবে ইয়াদ ভাশেম পরিদর্শন করবেন এবং পরে কিং ডেভিড হোটেলে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন (Benjamin Netanyahu)। আলোচনায় ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বের সামগ্রিক পর্যালোচনা হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব পাবে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করা। পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও দুই নেতা মতামত বিনিময় করবেন (Traditional Indian Attire)। এই সফরকালে অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রজুড়ে একাধিক মউ সই হওয়ার কথা, যা দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যৌথভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিবৃতি দেবেন এবং আলোচনার নির্যাস তুলে ধরবেন। বর্তমানে ভারত ইজরায়েলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করার পথে এগোচ্ছে, যার লক্ষ্য আয়রন ডোম প্রযুক্তি অধিগ্রহণ। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা কেবল সরাসরি ক্রয় নয়, বরং এটি ভারতের নিজস্ব ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ (প্রজেক্ট কুশা নামেও পরিচিত)-এর একটি মূল উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে (Benjamin Netanyahu)।

     

LinkedIn
Share