Tag: bangla news

bangla news

  • Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির (Nirav Modi) ভারতে প্রত্যর্পণের (Extradition) পথ কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে করা তাঁর শেষ আইনি আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারতে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা নেই বলেই কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

    শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল নীরবের (Nirav Modi)

    প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নীরব মোদি তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে যে সব আইনি সুযোগ ছিল, তার সবকটিই ব্যবহার করেছেন। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বহুল আলোচিত মামলায় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের দ্বারস্থ হন নীরব। ব্রিটেনের আদালতগুলিতে সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি এই আবেদন করেছিলেন। এর আগে ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট আদালত ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তার জেরে প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্রের দাবি, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নীরবের আবেদনটি গোপনীয়তার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারাধীন অবস্থায় এই ধরনের মামলার কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আদালত তাঁকে কোনও ধরনের (Extradition) অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত স্বস্তি দেয়নি। তাই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল।

    পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা

    এর আগে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত নীরবকে (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করার অনুমতি দেয়নি। আদালত জানায়, ভারত সরকার যে কারাগারের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানবিক ব্যবহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে, তা যথেষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য। সেই কারণে প্রত্যর্পণ স্থগিত রাখার কোনও ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। বর্তমানে নীরব লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে। সিবিআই এবং প্রয়োগ অধিদফতর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। বহু হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে ভারতীয় একাধিক তদন্তকারী সংস্থা। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আইনি জটিলতা কাটায় এখন ব্রিটেনের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই নীরবকে ভারতে পাঠানো হতে পারে। প্রত্যর্পণের দিনক্ষণ যে কোনও সময় চূড়ান্ত হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    ব্রিটেনের হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    চলতি বছরের মার্চ মাসেও নীরব নতুন করে প্রত্যর্পণ মামলার শুনানি শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলেন। লন্ডনের হাইকোর্টের কিংস বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে (Nirav Modi) দেয়। তাঁর আইনজীবীরা সঞ্জয় ভান্ডারি মামলার একটি রায়কে ভিত্তি করে নতুন করে শুনানির দাবি (Extradition) তুলেছিলেন। সঞ্জয় ভান্ডারি মামলায় ব্রিটেনের আদালত মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ নাকচ করেছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর ওপর নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে। নীরবও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নীরবের পরিস্থিতি ওই মামলার সঙ্গে তুলনীয় নয়, এবং তাঁর আশঙ্কার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও নেই। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, নীরবের আবেদন কোনও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না। তাই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত পুরনো মামলাটি ফের খোলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। সেই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও স্বস্তি না পাওয়ায় নীরবের সামনে আর কোনও কার্যকর আইনি পথ খোলা রইল না। তাই বহু (Extradition) প্রতীক্ষিত এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে (Nirav Modi) পৌঁছে গিয়েছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মূল চক্রী পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed)। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের (Pahalgam Attack) তদন্তে সোমবার অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জম্মুতে এনআইয়ের বিশেষ আদালতে পেশ করা অতিরিক্ত চার্জশিটে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা পাকিস্তানের জঙ্গি নেতা তথা লস্কর-ই তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের নাম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যুক্ত করেছে। এনআইএ-র তরফে হাফিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ২০২৩ এবং ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বলা হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছেন সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের প্রতিষ্ঠাতা।

    সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এনআইএ-র দাবি

    এর আগেও একাধিক সংঘঠিত অপরাধে এই পাক জঙ্গি নেতার যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে প্রতিবারই পাকিস্তান ভারতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে পাকবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে আসছে। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে গত বছর মে মাসে দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়েও পাকিস্তান বিশ্বব্যাপী ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা প্রচার করে। এর আগে গত ডিসেম্বরে এনআইএ’র প্রথম চার্জশিটে পাকিস্তান এবং জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গিদের নাম থাকলেও মূল ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছিল। সোমবার জমা করা অতিরিক্ত চার্জশিটে এনআইএ বলেছে, পাকিস্তানে বসে লস্কর-ই তইবা নেতা পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। তার পরিকল্পনা মত হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়। এই ব্যাপারে তদন্তকারীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে এনআইএ।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত হাফিজ

    এই মামলার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। সোমবার এই মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয় এনআইএ-র তরফে। যেখানে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ, সেখানে হাফিজ সইদের ভূমিকা-সহ অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্য প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেখানে পাক হ্যান্ডেলার সাজিদ জাট, অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন সন্ত্রাসী এবং গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে। একইসঙ্গে লস্কর ও তার শাখা টিআরএফ-এর ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করে। ওই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় এনআইএ-র হাতে। নানা দেশি-বিদেশি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ নিশ্চিত হয়েছে, মুম্বই হামলার মত পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডও সরাসরি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়েছিল। বিশদ তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানতে পারে ওই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল হাফিজ সইদ। ‌পাক জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সহিংতা ছাড়াও ইউএপিএ-র একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

  • RG Kar Incident: আরও ১২০ দিন! আরজি করকাণ্ডে ৩ আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি

    RG Kar Incident: আরও ১২০ দিন! আরজি করকাণ্ডে ৩ আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরই খুলেছে ‘আরজি কর ফাইলস’ (RG Kar Incident)। সাসপেন্ড করা হয়েছিল তদন্তে যুক্ত থাকা তিন আইপিএস আধিকারিককে। এবার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তার সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হল। আরও ১২০ দিন ওই তিন আধিকারিককে সাসপেন্ড অবস্থায় থাকতে হবে। আরজি করের ঘটনার সময় তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত গোয়েল। এ ছাড়া ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত (ডিসি নর্থ) এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (ডিসি সেন্ট্রাল)।

    কী ঘটেছিল , নতুন করে তদন্ত শুরু

    গত ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফট করতে যান। ওই রাতেই সব শেষ। সেমিনার হলে তাঁকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে আর কাউকে পাকড়াও করেনি। শেষমেশ শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন অভয়ার বাবা-মা। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ফের নতুন করে আর জি কর ফাইলস খোলেন। বিজেপি সরকার তিন আইপিএস আধিকারিককেই সাসপেন্ড করে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরজি কর পর্বে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। নতুন করে তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন তিন জন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও মন্ত্রী তাঁদের মেসেজে কিংবা ফোনে কোনও নির্দেশিকা জারি করেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিন অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন 

    অপরাধের পর তথ্য আড়াল করা, নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ্যে আনা এবং হাসপাতালে গড়ে ওঠা ‘অসাধু চক্র’-কে আড়ালের চেষ্টার অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ তুঙ্গে উঠেছিল। এই তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে আনা মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল তদন্তে গাফিলতি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার। বিশেষ করে সেমিনার হলের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্যাতিতার দেহ উদ্ধারের জায়গাটি সুরক্ষিত ছিল কি না, তা নিয়ে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একইভাবে অপরাধের পরবর্তী সময়ে সেমিনার হলের ‘চরিত্র বদল’ এবং রাতদখলের রাতে ভাঙচুরের ঘটনায় ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আন্দোলনকারীরা।

  • Netanyahu: ‘ভারত থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে ইজরায়েল’, ভান্সের মন্তব্যের জবাবে মোদির দেশের প্রশংসায় নেতানিয়াহু

    Netanyahu: ‘ভারত থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে ইজরায়েল’, ভান্সের মন্তব্যের জবাবে মোদির দেশের প্রশংসায় নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের কাছ থেকে ইজরায়েল অভূতপূর্ব সমর্থন পায়।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্সের (JD Vance Ally Claim) ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’’ মন্তব্যের জবাবে এমনই দাবি করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, আমেরিকা ছাড়াও ইজরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার রয়েছে। ভারতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের আরও কিছু বন্ধু রয়েছে। যেমন, ভারত নামে একটি ছোট দেশ, যার জনসংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি। আর সেখান থেকে আমরা বিপুল সমর্থন পাই।’’

    নেতানিয়াহুর ভারত-প্রশস্তি (Netanyahu)

    তিনি জানান, ফেসবুকে ভারতীয় ইউজারদের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সমর্থন দেখতে পান। তিনি জানান, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, উদ্ভাবন এবং বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘‘ব্যক্তিগত বন্ধু’’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, এবং ভারতকে ‘‘বিশ্বশক্তি’’ আখ্যা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের একদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্স বলেছিলেন, ‘ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’।

    ভান্সের দাবি

    সাংবাদিক সম্মেলনে ভান্স দাবি করেছিলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই বর্তমানে এমন বিশ্বনেতা, যিনি ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন।’’ তিনি এও জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইজরায়েলের ব্যবহৃত অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, করেছে অর্থায়নও। ভান্সের প্রতি সম্মান জানিয়েই নেতানিয়াহু (Netanyahu) বলেন, ‘‘আমি তাঁকে সম্মান করি, কিন্তু তাঁর মূল্যায়নের প্রতিটি বিষয়ে আমি একমত নই।’’

    ইজরায়েলের বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর 

    নেতানিয়াহুর দাবি, বিশ্বের বহু দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআইয়ের মতো ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। তাঁর কথায়, “সামরিক উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতারা নিয়মিত ইজরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।” নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন ইরান-ইস্যু এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। যদিও বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে সময়ে সময়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়, তবুও প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (JD Vance Ally Claim) এখনও ইজরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদার। এর পাশাপাশি ভারত-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে নেতানিয়াহুর (Netanyahu) ইজরায়েল।

     

  • Election Commission: রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে ২৪ জুলাই উপনির্বাচন, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে জল্পনা

    Election Commission: রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে ২৪ জুলাই উপনির্বাচন, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে উপনির্বাচন (Rajya Sabha Bypolls) হবে আগামী ২৪ জুলাই। এমনই ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইকের পদত্যাগের জেরে এই আসনগুলি খালি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই তিন আসনে কারা প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। কমিশনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

    নির্বাচনী নির্ঘণ্ট (Election Commission)

    নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ জুলাই। ১৫ জুলাই যাচাই করা হবে মনোনয়নপত্র, ১৭ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট নেওয়া। ওই দিনই বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গোহারা হারতেই দলে ভাঙন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভাঙনের গতি। পরিষদীয় দল এবং সংসদীয় দলের একাংশ আলাদা পথ বেছে নেয়। পরবর্তী কালে একাধিক নেতা নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেন। এই ডামাডোলের বাজারে ৮ জুন রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। আর তার ঠিক পরের দিনই ইস্তফা দেন প্রকাশচিক বরাইক।

    পদত্যাগীরা কী পদ্মশিবিরে?

    পদত্যাগের পর বরাইক প্রকাশ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। আর, সুস্মিতা অসমে গিয়ে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠক করেন। সুখেন্দুশেখরকেও লোকসভায় তৃণমূল ছেড়ে আসা বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দেখা যায়। এসব নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা (Election Commission) জল্পনা। এদিকে, বর্তমান বিধানসভায় বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে বিজেপির অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী। ২০৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে দলটি যদি তিনটি আসনেই প্রার্থী দেয় এবং নিজেদের ভোট অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে, তাহলে তিন প্রার্থীর ঝুলিতে যথাক্রমে ৭০, ৬৯ এবং ৬৯টি করে ভোট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ক্রস ভোটিং হলে বিজেপির পালে জয়ের হাওয়া আরও জোরালো হতে পারে বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    তিন আসনেই ফুটতে পারে পদ্ম

    এদিকে, বিজেপির কোনও প্রার্থীকে হারাতে হলে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীকে অন্তত ৭০টি ভোট নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৮০ জন বিধায়ক থাকলেও, দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন সেই সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। দুই শিবির একজোট হয়ে প্রার্থী (Rajya Sabha Bypolls) দিলে একটি আসনে লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনাকে খুব একটা জোরালো বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশই (Election Commission)।

     

  • Weather Update: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতায় কত দিন চলবে বৃষ্টি?

    Weather Update: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতায় কত দিন চলবে বৃষ্টি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলছে বৃষ্টির দাপট (Rain Forecast)। রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ সোমবারও কলকাতাসহ একাধিক জেলায় স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে। অফিস টাইমে জলজট ও যানজটের জেরে নাজেহাল হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে (Weather Update)। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হবে অতি ভারী বর্ষণও। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনিয়েছে। ধীরে ধীরে তা উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে।

    দক্ষিণবঙ্গে চলবে বৃষ্টিপাত

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ অঞ্চলটি ঘৃনীভূত হয়ে রবিবার নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সেই সময় ওড়িশার বালেশ্বর থেকে তার অবস্থান ছিল ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব, পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম। এটি ক্রমশ আরও পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সরবে। সোমবারের মধ্যে বালেশ্বরের কাছে ওড়িশার চান্দবালি এবং দিঘার অন্তর্বর্তী অংশ দিয়ে তা স্থলভাগে প্রবেশ করতে চলেছে। তার পরেও নিম্নচাপ আরও উত্তরে সরবে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ মঙ্গলবারের মধ্যে ওড়িশা, ছত্তীসগঢ় সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারে নিম্নচাপ। রাজ্যে বর্ষা সক্রিয়। বর্ষাকালীন অক্ষরেখা দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থান থেকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ওড়িশা হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে দক্ষিবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তা চলবে সোমবার পর্যন্ত। সোমবারের পর থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে উত্তরবঙ্গে।

    মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ

    নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইছে। হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার, কখনও কখনও দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যাচ্ছে ৬৫ কিলোমিটারেও। মঙ্গলবার পর্যন্ত তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সোমবার। তালিকায় রয়েছে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া। এ ছাড়া, সারা সপ্তাহ ধরেই দক্ষিণের জেলাগুলিতে কমবেশি বৃষ্টি চলবে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বর্ষণের কমলা সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।

    জলমগ্ন শহরের বেশ কিছু জায়গা

    রবিবার রাত থেকে অনবরত বৃষ্টির প্রভাবে শহরের কিছু রাস্তা জলমগ্নও হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় ভেঙে পড়েছে গাছ। যার জেরে সকাল থেকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। জল জমে থাকায় ট্র্যাফিকের গতিও বেশ কিছুটা ধীর। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ দিনভর বৃষ্টি চলবে শহর কলকাতায়। আপাতত আবহাওয়ায় বিশেষ কোনও পরিবর্তন নেই। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। উত্তরবঙ্গে মঙ্গলবারের পর থেকে ফের ভারী বৃষ্টি শুরু হবে। তবে উত্তরবঙ্গে গোটা সপ্তাহ জুড়েই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মালদা এবং দুই দিনাজপুর-সহ প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

  • Baruipur Minor Murder: বারুইপুরে নাবালিকা-হত্যা, তদন্তে গতি, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, একের পর এক পদক্ষেপ পুলিশের

    Baruipur Minor Murder: বারুইপুরে নাবালিকা-হত্যা, তদন্তে গতি, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, একের পর এক পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় তদন্তে আরও গতি আনল পুলিশ। ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ধারাবাহিক তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করেছে তদন্তকারী দল। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে সিট।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে গঠিত সিট ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি নতুন করে আটক হওয়া তিনজনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ঘটনাস্থলে তাঁদের উপস্থিতি ছিল কি না, অপরাধ সংঘটনে তাঁরা কোনওভাবে সহযোগিতা করেছিলেন কি না অথবা গোটা ঘটনার নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন কি না। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    তিনটি পৃথক মামলা দায়ের

    বারুইপুর থানার পুলিশ এই ঘটনায় মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু করেছে। প্রথম মামলাটি নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। এছাড়া আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, পুলিশের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পথ ও রেল অবরোধ এবং গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে আরও দুটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের মোবাইলে তোলা ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে অশান্তি ও ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

    এলাকায় জারি বিএনএসের ১৬৩ ধারা

    রবিবারের উত্তেজনার পর সোমবারও বারুইপুরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। কার্যত থমথমে পরিস্থিতি গোটা এলাকায়। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং রাস্তায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও খুবই কম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন। নতুন করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

    ভবানী ভবনেরও নজরে তদন্ত

    শুধু জেলা পুলিশ নয়, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরাও ঘটনার উপর নজর রাখছেন। রবিবারই ভবানী ভবন থেকে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। অশান্তি ছড়ানো, পুলিশের উপর হামলা এবং পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা তৈরির অভিযোগগুলিও পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রেফতার ও আটক ব্যক্তিদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা চলছে।

    নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা মুখ্যমন্ত্রীর

    ঘটনার পর প্রশাসনিক তৎপরতাও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে গভীর শোকপ্রকাশ করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে কলকাতার ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তদন্তের অগ্রগতি এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    কী ঘটেছিল বারুইপুরে?

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের ওই নাবালিকা। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। রবিবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় তার দেহ। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশ কুলপি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধের পাশাপাশি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। এই উত্তেজনার মধ্যেই এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    তদন্তের দিকে নজর

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা, নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করতে পারবে কি না এবং প্রকৃত দোষীরা কত দ্রুত আইনের আওতায় আসবে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

  • PM Modi: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্লগ লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেখানে তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syamaprasad Mukherjee) ভারতের ঐক্য ও অগ্রগতির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবন আজও সাহস, আদর্শ এবং মাতৃভূমির প্রতি অটল নিষ্ঠার এক চিরন্তন উদাহরণ। ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘তিনি সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগ ও জনসেবার পথই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ঔপনিবেশিক শাসন, সাম্প্রদায়িকতা কিংবা মানবিক সঙ্কট— কোনও ক্ষেত্রেই তিনি নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেন না।’

    ব্লগে শ্যামাপ্রসাদ স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    ব্লগে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জনজীবনের অন্যতম প্রধান আদর্শ ছিল ভারতের অখণ্ডতা। তাঁর কথায়, “দেশভাগের অস্থির সময়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন যাতে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যায়। কয়েক বছর পর সেই একই বিশ্বাস তাঁকে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ে যায়। কারাবাস তাঁকে দমাতে পারেনি, বিচ্ছিন্নতাও তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। অসংখ্য মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়েই বন্দি অবস্থায় তাঁর জীবনের আকস্মিক অবসান ঘটে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি সবচেয়ে উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি ছিল তাঁর সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(ক) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয় এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় (PM Modi)।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গ্রন্থাগারের পরিকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং প্রত্নবস্তুর অধ্যয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের উন্নয়নের জন্য একটি বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে দেশের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সঙ্গেও তিনি দৃঢ়ভাবে যুক্ত ছিলেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পকে দেশের মর্যাদা, কর্মসংস্থান এবং আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন এবং সিন্দ্রি সার কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শিতা

    ব্লগে প্রধানমন্ত্রী নেহরু সরকারের আনা প্রথম সংবিধান সংশোধনীর বিরোধিতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syamaprasad Mukherjee) অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের নীতির বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদ যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে তা (PM Modi) পরবর্তীকালে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

  • Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা, পশ্চিমবঙ্গের জন্ম, স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের ভিত্তি নির্মাণ কিংবা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই—এই প্রতিটি অধ্যায়ে বারবার ফিরে আসে একটি নাম। তিনি ‘ভারত কেশরী’ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ, ৬ জুলাই, তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তিনি ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিত্ব, সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর জীবন, দর্শন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে।

    কলকাতার এক মেধাবী ছাত্র থেকে জাতীয় নেতা

    ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাবা ছিলেন ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং মা যোগমায়া দেবী। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর অসামান্য মেধার পরিচয় মিলেছিল। মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মেধাবৃত্তিসহ ম্যাট্রিক, প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ-তেও প্রথম স্থান—প্রতিটি ধাপেই তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হওয়া ছিল সেই সময়ের এক বিরল নজির।

    শিক্ষাক্ষেত্রে যে সংস্কার আজও স্মরণীয়

    আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে তিনি কেবল আইনজীবী হয়ে থেমে থাকেননি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮—এই চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিবর্তনগুলি তিনি আনেন, তা সময়ের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ছিল। কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স, চীনা ও তিব্বতি ভাষা শিক্ষা, আধুনিক কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের সূচনা—সবই তাঁর উদ্যোগে। তাঁর আমলেই প্রথমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তৃতা দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শিক্ষাকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখতেন তিনি।

    বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের ভারত ছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়। এই সময়েই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৪১ সালে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন শ্যামা-হক মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির দাঙ্গার সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা সেই সময়ের নানা বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। দেশভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে তিনি অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের ঐতিহাসিক ভোটাভুটি পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আজও আলোচিত।

    স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের প্রথম রূপরেখা

    স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়েই ভারতের প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কারখানা, সিন্ধ্রি সার কারখানা এবং একাধিক শিল্পপ্রকল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়। খড়্গপুরে দেশের প্রথম আইআইটি প্রতিষ্ঠার ভাবনা এবং কলকাতায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তাঁর দূরদর্শিতার পরিচায়ক। আজ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির যে আলোচনা হয়, তার প্রাথমিক শিল্পভিত্তি নির্মাণের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    মতাদর্শের প্রশ্নে মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসা

    ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি নেহরু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এটি ছিল কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; তাঁর আদর্শগত অবস্থানেরও প্রকাশ। এরপরই তিনি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ: যে বীজ থেকে বিজেপির উত্থান

    ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসঙ্ঘ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সমর্থনে গড়ে ওঠা এই দলেই পরবর্তীকালে যুক্ত হন দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী-সহ বহু নেতা। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এই জনসঙ্ঘই পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টির ভিত্তি হয়ে ওঠে। ফলে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্ব কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়, একটি রাজনৈতিক ধারার স্থপতি হিসেবেও মূল্যায়িত হয়।

    ৩৭০ ধারা নিয়ে যে আন্দোলন ইতিহাস হয়ে রয়েছে

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার বিরোধিতা। ‘এক দেশে দুই বিধান, দুই নিশান, দুই প্রধান চলবে না’— এই স্লোগান তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হয়ে ওঠে। পারমিট ব্যবস্থা অমান্য করে কাশ্মীরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ১৯৫৩ সালের ১১ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২৩ জুন বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, যা আজও নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের বিষয়। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর তাঁর এই আন্দোলন নতুন করে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় ফিরে আসে।

    ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক?

    সময়ের সঙ্গে রাজনীতি বদলেছে, দল বদলেছে, কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে আলোচনা থামেনি। কারণ, তাঁর জীবনকে একমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ শিক্ষাবিদ, সফল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, স্বাধীন ভারতের শিল্পনীতির অন্যতম স্থপতি, সংসদীয় রাজনীতির প্রভাবশালী বক্তা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম সংগঠক। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন নেতা, যাঁর রাজনৈতিক দর্শন আজও ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের আদর্শগত ভিত্তির অংশ।

    ইতিহাসের মূল্যায়ন কখনও একরৈখিক নয়

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে একটি বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে— স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের রাজনীতি, পশ্চিমবঙ্গের গঠন, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা এবং কাশ্মীর প্রশ্নের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সম্ভব নয়। ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাই তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন নেতাকে স্মরণ করা নয়; বরং স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রগঠন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে ফিরে দেখা।

  • FIFA World Cup 2026: অবসর নেইমারের! হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের, শেষ আটে ইংল্যান্ড

    FIFA World Cup 2026: অবসর নেইমারের! হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের, শেষ আটে ইংল্যান্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) এখনও পর্যন্ত সেরা ম্যাচ খেলল ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো। গোটা ম্যাচ জুড়ে টান টান লড়াই। ৫ গোল। দুই পেনাল্টি। লাল কার্ড। শেষ পর্যন্ত ১০ জনে খেলেই মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। আরও এক বার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হল মেক্সিকোকে। কানাডার পর বিদায় নিল আরও এক আয়োজক দেশ। এর আগেই এদিন চলতি বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গিয়েছিল ব্রাজিলের। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল নরওয়ে। আগের দু’টি বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিটকে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। এবার তার থেকে এক রাউন্ড আগেই ছিটকে গেল তারা। ২০০৬ থেকে ২০২৬ দীর্ঘ ২০ বছর সাম্বার তালে নাচতে পারেনি বিশ্ব-ফুটবল। এবারও তার অন্যথা হল না। বরং আরও জঘন্য-দিশাহীন ফুটবল খেললেন সেলেকাওরা। আর নয় তাই, চোখের জলেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ব্রাজিলের ব্যর্থ নায়ক নেইমার।

    বেলিংহ্যামের ঝড়, হ্যারিকেন-এর দাপট

    এই ম্যাচে নামার আগে আজতেকায় পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল। মেক্সিকোয় তারা কোনও দিন মেক্সিকোকে হারাতে পারেনি। শেষ বার ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলের স্মৃতি এখনও টাটকা ইংরেজ সমর্থকদের মনে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৫০০ ফুটের বেশি উচ্চতা। তার উপর ৮০,০০০ দর্শকের সিংহ ভাগই মেক্সিকোর। ইংল্যান্ড জানত, তাদের সামনে কী আসতে চলেছে। ম্যাচের আগে থেকে মেক্সিকোর সমর্থকদের উগ্র আচরণ বা কোচের হুমকি হালকা ভাবে নেননি টমাস টুখেল। তিনি জানতেন, এই ম্যাচে কেনকে নড়তে দেবেন না মেক্সিকোর ডিফেন্ডারেরা। সেই কারণে কেনের বদলে তিনি গোল করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন জুড বেলিহ্যামকে। নিজের কাজ ভাল ভাবে পালন করলেন বেলিংহ্যাম। প্রথম ৩০ মিনিট মেক্সিকো দাপট দেখায়। ঘরের মাঠে সেটাই স্বাভাবিক। ইংল্যান্ডকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, চাপ সামলে প্রতি আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা করেছেন। বেলিংহ্যামকে শুরু থেকেই ছটফটে লাগছিল। ৩৬ মিনিটের মাথায় খেলার গতির বিপরীতে গোল ইংল্যান্ডের। বল জালে জড়ান বেলিংহ্যাম। সেই গোলের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আবার গোল বেলিংহ্যামের। ৯৮ সেকেন্ডের মধ্যে। মেক্সিকোর ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে কেনকে পাস দেন গর্ডন। কেনের মাইনাস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন বেলিংহ্যাম। মেক্সিকোর সমর্থকদের দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বাস করতে পারছেন না। বিশ্বাস হচ্ছিল না টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখা দর্শকদেরও।

    অ্যান্থনি গর্ডন-পিকফোর্ডও দুরন্ত

    এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের তিন ফুটবলার সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেন। বেলিংহ্যামের পাশাপাশি অ্যান্থনি গর্ডন দুর্দান্ত খেললেন। আগের ম্যাচে পরিবর্ত হিসাবে নেমে ইংল্যান্ডের দু’টি গোলেই তাঁর অবদান ছিল। ফলে এই ম্যাচে শুরু থেকে তাঁকে খেলান টুখেল। কোচের ভরসা রাখলেন তিনি। তৃতীয় নাম গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড। তিনি না থাকলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ত ইংল্যান্ড। রাউল হিমেনেজের হেড দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। গোটা ম্যাচে বেশ কয়েক বার ইংল্যান্ডের পতন রোধ করেন তিনি। বিরতির আগে ফ্রি কিক থেকে ফিরতি বলে এক গোল শোধ করেন জুলিয়ান কিনোনেস। মেক্সিকো প্রাণ ফিরে পায়। পরের কয়েক মিনিট ইংল্যান্ডের রক্ষণে ত্রাহিরব তোলে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আবার টান টান ফুটবল। কেউ কাউকে জমি ছাড়ছিল না। কিন্তু ৫৪ মিনিটের মাথায় বড় সিদ্ধান্ত নিলেন রেফারি আলি রেজা ফাঘানি। ভার রিপ্লে দেখে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালেন তিনি। এই মাঠে আধ ঘণ্টার বেশি সময় এক জন কম খেলে মেক্সিকোকে আটকে রাখা কঠিন ছিল। বাধ্য হয়ে পরিকল্পনা বদলালেন টুখেল। রাইসকে নীচে নামালেন। সাকাকে তুলে নামিয়ে দিলেন জন স্টোন্সকে। দুই অভিজ্ঞ ফুটবলার ইংল্যান্ডের রক্ষণ সামলালেন। ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও আক্রমণ থামায়নি ইংল্যান্ড। তার ফলও পায় তারা। বক্সের মধ্যে গর্ডনের গতি বুঝতে পারেননি মেক্সিকোর গোলরক্ষক। ফাউল করে বসেন। পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। গোল করতে ভুল করেননি কেন।

    দিশাহীন ফুটবল ব্রাজিলের

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধেই দুর্বলতা বোঝা গিয়েছিল। শেষ ৩২-এ জাপান দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। তা থেকে শিক্ষাই নিল না ব্রাজিল। সঙ্গত কারণেই বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গেল ব্রাজিলের। ছুটি করে দিলেন আর্লিং হালান্ড, যিনি সাত গোল করে বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। বিশ্বকাপের নকআউটে কোনও না কোনও দলকে হারতেই হবে। সেটাই নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় সেই হারেও থাকে গর্ব। যেমন কিছু দিন আগে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কাবো ভার্দে হারলেও মন জয় করে নিয়েছিল। কিন্তু এ দিন ব্রাজিল যে ফুটবলটা খেলল, তাকে জঘন্য, দিশাহীন, লজ্জাজনক বললেও কম বলা হয়। গোটা ম্যাচে এক বারও দেখে মনে হয়নি তারা জিততে পারে। পেনাল্টি নষ্ট করেন ব্রুনো গিমারায়েস। এই কি সেই ব্রাজিল, যেখানে খেলে গিয়েছেন রোনাল্ডো, রিভাল্ডো, রোনাল্ডিনহোর মতো ফুটবলার? তিন জনেই এ দিন নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। অবসর ভেঙে তারা ফিরে এলে বোধহয় কাসেমিরো, ব্রুনোদের চেয়ে ভাল খেলতেন। অন্তত এ ভাবে মাথা নিচু করে, লজ্জা নিয়ে ফিরতে হত না। নরওয়ের কাছে আগেই নিজেদের সমর্পণ করে দিয়েছিল ব্রা‌জিল। শুরু থেকেই ভয় নিয়ে ফুটবল খেলেছে তারা। ভাবটা এমন, যেন সামনে ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার মতো দল খেলছে। এত রক্ষণাত্মক ফুটবল ব্রাজ়িল কবে খেলেছে তা মনে পড়া দুষ্কর।

    লম্বা রেসের ঘোড়া হালান্ড

    বিশ্বকাপ তাঁকেই মনে রাখে, যিনি বড় ম্যাচে কাজের কাজ করে দেখাতে পারেন। ঠিক সেটাই করে দেখালেন হালান্ড। প্রথম গোলটি করলেন হেডে। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতায় হওয়ায় এমনিই বাড়তি সুবিধা পান। ব্রাজ়‌িলের দুই ডিফেন্ডারের মাঝে লাফিয়ে হেড করতে অসুবিধাই হয়নি। দ্বিতীয় গোলটি ব্রাজ়‌িলকে আরও লজ্জায় ফেলার মতো। অন্তত তিন জন ডিফেন্ডার দাঁড়িয়েছিলেন সামনে। তাঁদের পিছনে ছিলেন ব্রাজিলের গোলকিপার। বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাঁ পায়ে মাটি ঘেষা শট মারলেন তিনি। সকলকে টপকে বল জালে জড়িয়ে গেল। ম্যাচের শেষে সমর্থক এবং সতীর্থদের সঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ করতেও দেখা গেল তাঁকে। হালান্ড বোঝালেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।

    বিশ্বকাপ স্পর্শের স্বপ্ন অধরা নেইমারের

    ১৬ বছর আগে মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর। ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল এই মাঠেই। রবিবার রাতে যেন সম্পূর্ণ হলো একটা বৃত্ত। যেখান থেকে শুরু হয়েছিল পথচলা, সেখানেই ইতি টানলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার (Neymar)। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে হেরে ব্রাজিল ছিটকে যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে ঘোষণা করেন অবসরের। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরে নেইমারের এই ঘোষণায় আরও ভেঙে পড়েছেন ব্রাজিল ভক্তরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এ বার সব শেষ। এখানেই যাত্রা শুরু করেছিলাম আমি। এখানেই শেষ করলাম।’ ১৬ বছরের কেরিয়ার শেষ হলো হার দিয়ে। ছিটকে যাওয়ার যন্ত্রণা দিয়ে। চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে একটা যুগের যেন অবসান ঘটল রবিবার। চোটসমস্যা, ফর্মের ওঠাপড়া, মাঠের বাইরের একাধিক বিতর্ক পেরিয়েও নেইমার স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বকাপে খেলার। তবে শেষটা হলো বেদনাদায়ক। জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের পরিসংখ্যান অসাধারণ। ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০টি গোল করেছেন নেইমার। রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিকও। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ২০১০ সালে অভিষেক হয় জাতীয় দলের জার্সিতে। খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ। তবুও ব্যর্থ নায়ক নেইমার।

LinkedIn
Share