Tag: bangla news

bangla news

  • Assembly Elections 2026: এবার বুথের দায়িত্বে এনবিসিসি, কলকাতা হাইকোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন

    Assembly Elections 2026: এবার বুথের দায়িত্বে এনবিসিসি, কলকাতা হাইকোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন নির্বিঘ্নে শেষ করতে বুথ নিরাপত্তা নিয়ে বড় পদক্ষেপ  জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Assembly Elections 2026)। জানা গিয়েছে, এবার বুথগুলির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এনবিসিসিকে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে এটাই জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, বুথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেই মামলার শুনানিতেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বুথগুলির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের কাজ করবে এনবিসিসি। এর আগে যে সংস্থা এই দায়িত্বে ছিল, তাদের সরিয়েই এনবিসিসিকে দেওয়া হচ্ছে বুথের দায়িত্ব।

    ফাঁক-ফোকর রুখতে নয়া ব্যবস্থা (Assembly Elections 2026)

    কমিশনের দাবি, রাজ্যের বুথগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাতে কোনও ফাঁক-ফোকর না থাকে, তাই এই সিদ্ধান্ত। আদালতে জানানো হয়েছে, বুথ নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিংয়ের দায়িত্বও থাকবে ওই সংস্থার ওপর।দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠেছিল বুথ নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে। সেই প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলেই ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানি এখনও চলছে। গত ১৩ জানুয়ারি শমীক ভট্টাচার্য সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের প্রায় ৮৩ হাজার বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আবেদন জানান। শমীক জানান, বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে নির্বাচনের আগেই সুরক্ষা ব্যবস্থা সার্ভে করা জরুরি।

    শমীকের বক্তব্য

    তিনি জানান, এতদিন বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল ম্যাকিনটোশ বার্ন। তারা প্রায় ছ’মাস আগেই সেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে। তাই বর্তমানে রাজ্যের বুথ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হন শমীক (Assembly Elections 2026)। আবেদনে তিনি জানান, রাজ্য সরকার যদি ৮৩ হাজার বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অপারগ হয়, তবে প্রয়োজনে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়। এর পরেই জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন জানায় বুথের দায়িত্ব দেওয়া হবে এনবিসির হাতে। উল্লেখ্য যে, এনবিসিসির পুরো রূপটি হল ন্যাশনাল বিল্ডিংস কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন লিমিটেড। বর্তমানে এর সরকারি নাম এনবিসিসি ইন্ডিয়া লিমিটেড। এটি ভারত সরকারের একটি নবরত্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, যা ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয় এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শ ও রিয়েল এস্টেট প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে (Assembly Elections 2026)।

     

  • T20 World Cup 2026: আলোচনা শুরু, পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা! টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট নিয়ে জলঘোলা পাকিস্তানের

    T20 World Cup 2026: আলোচনা শুরু, পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা! টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট নিয়ে জলঘোলা পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে না নামার হুমকি দিলেও এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। খোলা রেখেছে সিদ্ধান্ত বদলের পথ। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) ঘিরে পাকিস্তানের নাটকীয়তা থেমে নেই। সূত্রের খবর, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আবারও তার সরকারের কাছ থেকে পরামর্শ চাইছে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

    শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট কেন চিন্তিত

    ভারত বনাম পাকিস্তান (India vs Pakistan) দ্বৈরথ। ক্রিকেটীয় উন্মাদনা তো থাকেই, এই লড়াই ঘিরে কোষাগারও ভরে ওঠে আইসিসি-র। সে টিকিটের চাহিদা হোক বা সম্প্রচারকারী চ্যানেল মারফত মুনাফা। অথচ টি-২০ বিশ্বকাপে নাকি ভারতের বিরুদ্ধেই ম্য়াচ বয়কট করতে চলেছে পাকিস্তান? পাকিস্তান সরকার পিসিবিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে বাধা দিয়েছে, এই ম্যাচটি আইসিসি এবং এর সম্প্রচারকদের জন্য সর্বোচ্চ আয়ের ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। ১৫ ফেব্রুয়ারির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি না হলে টিকিট বিক্রিতে (গেটের টাকা) বিরাট ক্ষতি হবে, আতিথেয়তা এবং স্পনসরশিপের রাজস্ব হ্রাস পাবে,
    শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনই মেল করে পিসিবি-কে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট।

    নকভির সঙ্গে কথা শ্রীলঙ্কার

    সূত্রের খবর, “পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে সরকার এবং ক্রিকেট উভয় স্তরেই সবসময়ই ভালো এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের সম্পৃক্ততা উপেক্ষা করা যায় না।” সূত্রটি আরও জানিয়েছে যে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সাথে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি শাম্মি সিলভা সরাসরি যোগাযোগ করেছেন। সিলভা নকভিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে শ্রীলঙ্কার এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সমর্থন প্রয়োজন, কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি না হলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট অতিরিক্ত রাজস্ব হারাবে। সূত্রটি জানায়, মহসিন নকভি শাম্মি সিলভাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের কাছে উত্থাপন করবেন এবং তারপর প্রতিক্রিয়া জানাবেন। সোমবারের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    টিকিট বিক্রি আপাতত বন্ধ

    শত উস্কানিতেও টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরাতে পারেনি পাকিস্তান। আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে ভোটাভুটিতে জঘন্য হার হজম করতে হয়েছিল। অনেকে ভেবেছিলেন, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে না সরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। তা করেনি পিসিবি। বরং সাত পাঁচ না ভেবে ভারতের বিরুদ্ধে টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এখনও আইসিসি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পাকিস্তান। তবে এই পরিস্থিতিতে ওই ম্যাচের টিকিট বিক্রি আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে আইসিসি।

  • BJP Sankalpa Patra: বিধানসভা নির্বাচনে অভিনব পদক্ষেপ, আমজনতার পরামর্শে বাংলায় বিজেপির সংকল্পপত্র

    BJP Sankalpa Patra: বিধানসভা নির্বাচনে অভিনব পদক্ষেপ, আমজনতার পরামর্শে বাংলায় বিজেপির সংকল্পপত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। এই আবহে নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্র’ বা ইস্তাহার (Sankalp Patra) তৈরিতে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ করল রাজ্য বিজেপি। গতানুগতিকভাবে দলের গুটি কয়েক নেতার ঘরে বসে ইস্তাহার তৈরির প্রথা ভেঙে, এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পরামর্শ নিয়ে ইস্তাহার গড়ার সিদ্ধান্ত নিল পদ্ম শিবির। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    মানুষের কথা শুনে সংকল্প পত্র

    এবার নির্বাচনী সংকল্পপত্রে (BJP Sankalpa Patra) মানুষের সমস্যা ও চাহিদার কথাই তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য বিজেপি। সেজন্য বড় পদক্ষেপ করল গেরুয়া শিবির। রাজ্যের কোণায় কোণায় মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের সমস্যার কথা শোনার উদ্যোগ নেওয়া হল। একইসঙ্গে একটি নম্বরও জানানো হল রাজ্য বিজেপির তরফে। যে নম্বরে ফোন করে যে কেউ নিজের পরামর্শ জানাতে পারবেন। মানুষের সেই সব পরামর্শ গ্রহণ করেই নির্বাচনী সংকল্পপত্র তৈরি করা হবে বলে শনিবার জানালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি (Shamik Bhattacharya) এদিন জানান, ‘এই সরকারের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসীর মুক্তি যখন নিশ্চিত, তখন আপনারাও আপনাদের পরামর্শ দিন।’ মানুষের দাবি ও সমস্যাগুলি সরাসরি শোনার জন্য রাজ্যজুড়ে ১০০০টি জায়গায় ড্রপ বক্স বসানো হচ্ছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ড্রপ বক্সে সাধারণ মানুষ তাঁদের মতামত জমা দিতে পারবেন।

    কেন এই অভিনব পদক্ষেপ

    পাশাপাশি, প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েও মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছে বিজেপি। মতামত জানানোর জন্য একটি বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর চালু (Toll Free Number) করা হয়েছে, নম্বরটি হল— ৯৭২৭২৯৪২৯৪। এছাড়াও কিউআর কোড স্ক্যান করে বিজেপির ওয়েবসাইটে গিয়ে অথবা ইমেল মারফতও যে কেউ তাঁদের পরামর্শ পাঠাতে পারবেন। বিজেপির লক্ষ্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো। রাজ্যে ভারী শিল্প আনতে এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে শিল্পপতিদের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রায় ১০ হাজার চিঠি লিখছে দল। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোনও দলের সরকার না হয়ে যাতে মানুষের সরকার হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ফেব্রুয়ারির মাসের শেষেই আমরা এই সংকল্পপত্র নিয়ে মানুষের কাছে যাব।’ তিনি আরও বলেন, “অতীতে বাংলায় দেখা গিয়েছে, ইস্তাহার নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত প্রকাশ হত। দলের কয়েকজন মুষ্টিমেয় এই ইস্তাহার করে।” কোনও দলের সরকার না হয়ে, যাতে মানুষের সরকার হয়, সেজন্য সংকল্প পত্রে মানুষের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে মত শমীকের।

  • India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করার পর, ট্রাম্প প্রশাসনের শেয়ার করা ভারতের একটি মানচিত্র (India Map) চলে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরালও (Trade Deal) হয়েছে এই মানচিত্রটি। বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (USTR) যে ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করে, তাতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অঞ্চল এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে (POK) ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই মানচিত্রে আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও চিন এই অঞ্চলকে নিজের ভূখণ্ড বলেই দাবি করে।

    নয়া মানচিত্র (India Map)

    অবশ্য ভারতের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। ভারত বরাবরই বলে আসছে যে কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবু এই মানচিত্র আমেরিকার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি নির্দেশ করে। এটি ইচ্ছাকৃতই হোক বা অনিচ্ছাকৃত, পাকিস্তানের উদ্দেশে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ভারতের মানচিত্রের সঙ্গেই সাযুজ্য রাখছে। এর আগে আমেরিকা বা তাদের বিদেশ দফতর যে মানচিত্রগুলি প্রকাশ করত, তাতে সাধারণত পাকিস্তানের আপত্তির কথা মাথায় রেখে পিওকে-কে স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ প্রকাশিত মানচিত্র পাকিস্তানের দাবিকে কার্যত উপেক্ষাই করেছে। এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্থির ও অনিশ্চিত অবস্থায় ট্রাম্প নেতৃত্ব এক টালমাটাল সময় পার করার পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার তাদের সম্পর্ক নতুন করে সাজাচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় সেই শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এশীয় দেশগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন (India Map)।

    ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত

    এছাড়া ট্রাম্প আবারও ভারত ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে দেখার (re-hyphenation) নীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেন, যা জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শুরু করা ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও তা অনুসরণ করে এসেছিলেন। মানচিত্রে লাদাখের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত বিতর্কিত আকসাই চিন অঞ্চলকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও চিন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে এই অঞ্চলের ওপর দাবি জানিয়ে আসছে (Trade Deal)। প্রসঙ্গত, ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) বারবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর এবং অরুণাচল প্রদেশের ভুল উপস্থাপনার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অবশেষে ভারতের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা দ্রুত এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর গৌরব আর্য টুইট করে লেখেন, “মানচিত্রের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো নম্বর। খুব ভালো কাজ (India Map)।”

    পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    আর এক ইউজার লেখেন, “পাকিস্তান, (আসিম) মুনির এবং ওয়াশিংটন সফর নিয়ে প্রচারের পক্ষে এটা একটা বড় ধাক্কা”, যা ইসলামাবাদের ট্রাম্পকে তোষামোদ করার প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে (Trade Deal)। গত ছ’মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তিনবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে জুন মাসের একটি বহুল আলোচিত মধ্যাহ্নভোজও রয়েছে। এটি ছিল প্রথমবার, যখন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন, কোনও বেসামরিক নেতৃত্ব ছাড়াই। এক সাংবাদিক টুইট-বার্তায় লেখেন, “বাণিজ্য গৌণ বিষয়। আসল বিষয় হল, এই মানচিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন, যেখানে পিওকে-কে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হত।”

    অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি

    তবে মধ্য-মার্চে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে, বিশেষত ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পরে। ভারত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ওষুধ, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজের ‘রেড লাইন’ অটুট রেখেছে (India Map)। এখন প্রশ্ন হল, এই মানচিত্র কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সূক্ষ্ম কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা ভারতের দিকে ঝুঁকছে? এটি কি ট্রাম্পের সঙ্গে এক বছরের টানাপোড়েনের পর ভারতকে তুষ্ট করার কৌশল, নাকি নিছকই আমলাতান্ত্রিক অসাবধানতা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই (Trade Deal) মানচিত্র ভারতকে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সুবিধা দিয়েছে এবং ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূখণ্ডগত দাবিকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে (India Map)।

     

  • T-20 World Cup 2026: আহত হর্ষিতের জায়গায় দেড় বছর জাতীয় টি২০ দলে ব্রাত্য সিরাজ! বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্যে নামছে ভারত

    T-20 World Cup 2026: আহত হর্ষিতের জায়গায় দেড় বছর জাতীয় টি২০ দলে ব্রাত্য সিরাজ! বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্যে নামছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগেই বড় বিপত্তি ভারতীয় শিবিরে। হাঁটুর চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন তরুণ জোরে বোলার হর্ষিত রানা (Harshit Rana Injury)। শুক্রবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হর্ষিতের পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ মহম্মদ সিরাজকে (Mohammed Siraj)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ভারতীয় দলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে জসপ্রীত বুমরাকে ঘিরে।

    বুমরাকে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনা

    জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হওয়ায় শনিবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা উদ্বোধনী ম্যাচে বুমরাকে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এই পরিস্থিতিতে ভারতের হাতে কার্যত থাকছে মাত্র ১৩ জন সম্পূর্ণ ফিট ক্রিকেটার। চোটের কারণে অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর এখনও দলে যোগ দিতে পারেননি। ফলে এদিন প্রথম একাদশে মহম্মদ সিরাজের খেলার সম্ভাবনাই প্রবল। শেষ মুহূর্তে ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সিরাজ। ব্যাটিং বিভাগেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইনিংস ওপেন করবেন ঈশান কিষাণ ও অভিষেক শর্মা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে ওপেনার হিসেবে ৫৩ রান করেছিলেন ঈশান।

    দেড় বছর পর দসে সিরাজ

    গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে বল করার সময় ডান পায়ের হাঁটুতে চোট পান হর্ষিত। হর্ষিতের চোটের পর বিকল্প হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম ভাবা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখল অজিত আগরকরের নির্বাচক কমিটি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পরিষ্কার করে দেন, “আমাদের এমন একজনকে প্রয়োজন ছিল যে বোলিংয়ে ধার বাড়াতে পারে। রান করার জন্য আটজন ব্যাটারই যথেষ্ট।” মজার বিষয় হলো, কোচ গৌতম গম্ভীরের পরিকল্পনায় সাদা বলের ক্রিকেটে সিরাজ অনেকটা ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন। গত বছরের জুলাইয়ের পর তিনি আর কোনও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেননি। প্রায় দেড় বছর পর সরাসরি বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে হায়দরাবাদের এই ‘মিঁয়াভাই’-এর। ১৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৬টি উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে সিরাজের ঝুলিতে।

    দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে

    শনিবার ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নামবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্রের দলে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা থেকে উঠে আসা একঝাঁক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মার্কিন দলে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে রয়েছেন অধিনায়ক মৌনক প্যাটেল, স্পিনার হারমিত সিং, ব্যাটার শুভম রঞ্জনে, যশদীপ সিং, সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি, মিলিন্দ কুমার, সাইতেজা মুক্কামাল্লা এবং অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার সৌরভ নেত্রাভালকর। হারমিত, শুভম ও নেত্রাভালকর এই তিনজনই উঠে এসেছেন মুম্বই থেকে। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতীয় দলের কাছে এবার বড় চ্যালেঞ্জ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখা এবং তৃতীয়বার ট্রফি জেতা। ন’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি, কিংবা আয়োজক হিসেবে ট্রফি জিততে পারেনি। তবে এই ভারতীয় দল বর্তমানে অন্যরকম ফর্মে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের জুনে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারত ৪১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ৩৩টি জিতেছে।

  • Assembly Election 2026: সংবিধান মেনেই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ, আদালতে জানাতে চলেছে সিইও দফতর

    Assembly Election 2026: সংবিধান মেনেই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ, আদালতে জানাতে চলেছে সিইও দফতর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের জেরে ঘোর বিপাকে পড়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Assembly Election 2026)। সেদিক থেকে বঙ্গবাসীর দৃষ্টি ঘোরাতে কালো গাউন পরে সটান সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে একপ্রস্ত ‘নাটক’ করেন (অন্তত বিরোধীদের দাবি এমনই) তৃণমূল সুপ্রিমো। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দেশের শীর্ষ আদালতে মমতার এই সওয়াল রাজ্যের শাসকদলের কাছে (Micro Observer) এখন সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

    মাথাব্যথার কারণ (Assembly Election 2026)

    আর লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সির পাশাপাশি মূল মাথাব্যথার কারণ ভিনরাজ্যের রোল অবজার্ভার ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারি মাইক্রো অবজার্ভাররা। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় রোল অবজার্ভার থেকে মাইক্রো অবজার্ভারদের নিযুক্তি নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী ও অসাংবিধানিক বলে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেছেন মমতা ও তাঁর দল। যদিও পরিস্থিতির বিচারে সংবিধানের বিশেষ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে রোল অবজার্ভার,  মাইক্রো অবজার্ভার নিযুক্তির সিদ্ধান্ত বলে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন এবং  সিইও দফতর। রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, “সাংবিধানিক ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে থেকেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতে যথাযথ উত্তর দেওয়া হবে।”

    মাইক্রো অবজার্ভারদের উল্লেখ

    বস্তুত, ১৯৫১ সালের ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচনী মাইক্রো অবজার্ভারদের উল্লেখ থাকলেও ১৯৫০ এবং ১৯৫১ ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে কোথাও ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে মাইক্রো অবজার্ভার এবং রোল অবজার্ভারের উল্লেখ নেই। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র বঙ্গের এসআইআরে মাইক্রো অবজার্ভারদের নিযুক্ত করল কেন? ভোটার তালিকা তৈরিতে ইআরও সর্বোচ্চ ক্ষমতার আধিকারি হলেও তাঁদের কাজ যাচাইয়ের নামে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ কেন?  কমিশনের ব্যাখ্যা, ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ ও ১৯৫১ কোথাও ভোটার তালিকার কাজে মাইক্রো অবজার্ভারদের (Micro Observer) কথা উল্লেখ না থাকলেও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪ (৬) অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরির জন্য যে কোনও ধরণের ব্যক্তিকে নিযুক্ত করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে (Assembly Election 2026) নির্বাচন কমিশন তথা সিইও-কে। সেই ক্ষমতা কজে লাগিয়েই ইআরও-এইআরওরা যে শুনানি তথ্য বা নথি আপলোড করছেন সেগুলির বিশেষ নিরীক্ষার জন্য রোল অবজার্ভার ও মাইক্রো অবজার্ভাদের নিযুক্ত করা হয়েছে।

    এসআইআরের কাজ

    এসআইআরের কাজে রাজ্য সরকার যদি প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত কর্মী দিত তাহলে তামিলনাড়ু বা অন্য রাজ্যের মতো এরাজ্যেও মাইক্রো অবজার্ভারের প্রয়োজন পড়ত না বলেও জানিয়েছে কমিশন। এমনকি ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য সরকার অসহযোগিতা করায় ডেটা রেকর্ড ও আপলোড করার জন্য বাড়তি চাপ পড়েছে বিএলওদের বলেও যুক্তি আধিকারিকদের (Micro Observer)। উল্লেখ্য যে, এসআইআর শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে ডেপুটেশনে ২৯৪ জন ইআরও এবং প্রথম দফায় ৩,০৬৮ জন এবং তারও পরে আরও দুই দফায় প্রায় ৫ হাজার এইআরও পদমর্যাদার রাজ্য সরকারি কর্মীর অনুমোদন দেয়। এছাড়াও প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও অন্যান্য মিলিয়ে ৮০ হাজারের বেশি বিএলও এবং বিএলও সুপারভাইজার কমিশনকে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। তাছাড়া পদাধিকারবলে জেলশাসকরা তো জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের ভুমিকা পালন করছেন। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ইআরও হিসেবে (Assembly Election 2026) এসডিও এবং এইআরও হিসেবে রাজ্য সরকারের ক্লাস ওয়ান অফিসার পদমর্যাদার কর্মী চাওয়া হলেও রাজ্য বহুক্ষেত্রে গ্রুপ বি আধিকারিক অথবা জুনিয়রদের দেওয়ায় বিপত্তি বেড়েছে। যদিও রাজ্যের বক্তব্য, প্রশাসনিক কাজ চালানোর স্বার্থে সব ক্ষেত্রে এসডিওদের না দেওয়া গেলেও সমতুল পদমর্যাদার অফিসারদের অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সিইওর বক্তব্য

    যদিও সিইওর বক্তব্য, একনাগাড়ে ২৭-২৮ বছর কাজ করার পর একজন রাজ্য ক্যাডারের সিভিল সার্ভিস আধিকারিক তাঁর কাজের বিচারে আইএএস ক্যাডারে উন্নীত হতে পারেন। নির্বাচনের কাজে তো প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাও দরকার। সেক্ষেত্রে রাজ্যের কর্মী তালিকায় পর্যাপ্ত উপযুক্ত কর্মীই মেলেনি। তাই নথি যাচাইয়ের জন্য কমিশনের কাছে অতিরিক্ত কর্মীর আবেদন জানায় সিইও দফতর (Micro Observer)। কমিশনের অনুমতিতেই কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর বা সংস্থা থেকে উপযুক্ত কর্মী নেওয়া হয় যাদের পোশাকি নাম মাইক্রো অবজার্ভার অথবা রোল অবজার্ভার (Assembly Election 2026)। যদিও এদের প্রশিক্ষণ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের। ইআরওদের ওপর আস্থা না রেখে মাথার উপর মাইক্রো অবজার্ভারদের যুক্ত করার যুক্তি কি? উঠেছে পাল্টা প্রশ্ন। সিইও’র যুক্তি, “যখন ইআরও সংবিধানিক দায়দায়িত্ব লঙ্ঘন করে লগ ইন আইডি অন্যকে শেয়ার করেন, যখন অস্তিত্বহীন ভোটারদের ভোটার তালিকায় নাম ঢোকানো হয়, ইআরও-এইআরও যখন নিজের ক্ষমতার উর্ধ্বে উঠে বেআইনিভাবে আরও একাধিক ব্যক্তিকে এইআরও বানিয়ে দেন তখন আস্থার মর্যাদা কোথায় থাকে? ”  সব মিলিয়ে আস্থা-অনাস্থার দোলাচলে রাজ্যের সাধারণ ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় কমিশন-রাজ্য এই ধর্মযুদ্ধ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে চিন্তায় নির্বাচনী আধিকারিকরাই (Assembly Election 2026)।

     

  • India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং আমেরিকার অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির (India-US Trade Deal) ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য আগের থেকে অনেকাংশেই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। হবে নতুন কর্মসংস্থান। এমনকী কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বিরাট লাভ করবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি ডলারের মার্কিন বাজার উন্মুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। শনিবারই ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তি দু’দেশের সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    যৌথ বিবৃতিতে কী বলা হল

    ভারত ও আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘পারস্পরিক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য’ ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারত সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বৃহত্তর ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা বিটিএ (BTA) নিয়ে চলা আলোচনায় দু’দেশের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হল। এই চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার মিলবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে। ভারতের পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্কে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, ভবিষ্যতে আরও ছাড় বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি । ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি আমাদের অংশীদারিত্বে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠবে। পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রতি উভয় দেশের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাবে এই চুক্তি।” দু’দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে এই অন্তবর্তী চুক্তি ভারসাম্য রক্ষা করবে বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে এই চুক্তির সূত্রপাত করবেন, তাও এই বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চুক্তি কাঠামো অনুযায়ী ভারত আমেরিকার বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিলোপ করবে। ভারতের উপর চাপানো বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কও আমেরিকার বিলোপ করবে, তা নেমে আসবে ১৮ শতাংশে। যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে, ভারত আমেরিকা থেকে পশুখাদ্য আমদানি করবে। পশুখাদ্যের মধ্যে সয়াবিন, ভুট্টা, গম, বার্লি, মাছের মতো বহু উপাদান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

    দেশবাসীর কত লাভ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোক্তা, এমএসএমই, স্টার্টআপ ইনোভেটর এবং মৎস্যজীবীদের নতুন সুযোগ এনে দেবে। শুধু তাই নয়, এই চুক্তির জন্য প্রচুর চাকরি হবে। তার ফলে যুব সমাজ-মহিলারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও আমেরিকার জন্য দারুণ খবর! আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মতি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের পরিশ্রমী কৃষক, উদ্যোগপতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), স্টার্টআপ উদ্ভাবক, মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।

    বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ

    মোদি বলেন, ভারত ও আমেরিকা উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এই বাণিজ্য কাঠামো দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। পাশাপাশি, এটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, “একটি বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পথে, আমরা ভবিষ্যতমুখী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা আমাদের জনগণকে ক্ষমতায়িত করবে এবং যৌথ সমৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার জানিয়েছেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোগপতি ও নতুন স্টার্টআপগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং নারী ও যুবসমাজের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

    ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার

    এই চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার। তাঁর আরও বিশ্বাস এই রফতানি বৃদ্ধির ফলে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প এবং কৃষকদের বেশি লাভ হবে। যার ফলে সারা দেশে কোটি কোটি চাকরি তৈরি হতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমেরিকার সঙ্গে অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্কও তৈরি করে ফেলেছে ভারত। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে মহিলা ও যুবকদের জন্য। তাঁর দাবি, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত পালটা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাবে। এর ফলে টেক্সটাইল ও পোশাক, চামড়া ও জুতো, প্লাস্টিক ও রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে বড় সুযোগ তৈরি হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন

    যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তি-কেন্দ্রিক উদ্যোগের ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দরজা মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকদের জন্য খুলে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, এতে সমস্ত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমবে। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীরতর সম্পর্কেরই প্রতিফলন, যার মাধ্যমে উভয় দেশের কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল-কে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের লক্ষ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    চুক্তির মূল শর্তগুলি

    এই চুক্তি-কাঠামোর আওতায় ভারত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং একাধিক কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে নেবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিডিজি, পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার, বিভিন্ন বাদাম, ফল, সয়াবিন তেল, মদ ও স্পিরিট। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ পালটা শুল্ক আরোপ করবে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, প্লাস্টিক, রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং কিছু যন্ত্রাংশ।চুক্তি চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরে এবং বিমান যন্ত্রাংশের মতো একাধিক ভারতীয় রফতানির উপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে। পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে আরোপিত কিছু বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত বিশেষ শুল্ক কোটার সুবিধা পাবে। জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান নিয়েও আলোচনা চলবে।

    ‘রুলস অব অরিজিন’- যৌথ বাণিজ্যের নানা নিয়ম

    ভারত-আমেরিকা যৌথ বাণিজ্যে দু’দেশ একে অপরকে অগ্রাধিকারমূলক বাজারে প্রবেশাধিকার দেবে। ‘রুলস অব অরিজিন’-এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে সব নিয়ম। ভারত মার্কিন চিকিৎসা যন্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া এবং কৃষিপণ্য সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি মান ও সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হবে, যাতে নিয়ম মেনে চলা সহজ হয়। ভবিষ্যতে যদি কোনও পক্ষ শুল্ক পরিবর্তন করে, তবে অন্য পক্ষও তার প্রতিশ্রুতি সমন্বয় করতে পারবে। বৃহত্তর বিটিএ-র আওতায় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াতে আলোচনা চলবে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ আলোচনায় ভারতীয় রফতানির উপর শুল্ক কমানোর অনুরোধও বিবেচনা করবে। বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার অংশ হিসেবে দু’দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করবে। বিনিয়োগ পর্যালোচনা ও রফতানি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা বাড়াবে দুই দেশ। ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের শক্তি, বিমান, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য ও কোকিং কয়লা কেনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি জিপিইউ ও ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম-সহ প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক নীতি তুলে নেওয়া এবং বিটিএ-র আওতায় পারস্পরিকভাবে লাভজনক ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ম তৈরির বিষয়ে দু’দেশ একমত হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই কাঠামো শীঘ্রই কার্যকর করা হবে এবং একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও চলতে থাকবে।

     

     

     

     

  • Donald Trump: বাণিজ্য চুক্তির জের! ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের

    Donald Trump: বাণিজ্য চুক্তির জের! ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ ভারতের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিল আমেরিকা। রাশিয়ার তেল (Russian Oil) কেনার কারণে এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করেন, যেখানে বলা হয়েছে, “ভারত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।”

    অতিরিক্ত শুল্ক কমাল আমেরিকা (Donald Trump)

    এক্সিকিউটিভ অর্ডার অনুযায়ী, রাশিয়ান তেল কেনার কারণে আরোপিত এই অতিরিক্ত শুল্ক শনিবার ভোর ১২টা ০১ মিনিট থেকে প্রত্যাহার করা হবে। ওই অর্ডারে আরও বলা হয়েছে, ভারত মার্কিন জ্বালানি পণ্যের ক্রয় বাড়াতে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে রাজি হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারত সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগামী ১০ বছরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি কাঠামো চুক্তিতে অঙ্গীকারও করেছে (Donald Trump)। এই এক্সিকিউটিভ পদক্ষেপটি আসে কয়েক দিন পর, যখন ট্রাম্প ভারতীয় রফতানির ওপর শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেন। সেই সময় তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    হোয়াইট হাউসের তরফে যৌথ বিবৃতি

    এই চুক্তির আওতায় আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর তথাকথিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার পরিকল্পনা করেছে। তবে এই কম শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা (Russian Oil)।শুক্রবার হোয়াইট হাউসের তরফে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়া হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরে ভারত আমেরিকা থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের জ্বালানি পণ্য, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কোকিং কয়লা কিনতে চায় (Donald Trump)। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের শেষ দিকে এই শুল্কের হার ছিল ৫০ শতাংশ।

    শুল্ক শিথিল করার কারণ

    রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে যে টানাপোড়েন চলছিল, তারই প্রেক্ষাপটে শুল্ক শিথিল করা হল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এই তেল কেনা পরোক্ষভাবে এমন একটি সংঘাতকে সমর্থন করছে, যার অবসান চায় আমেরিকা (Donald Trump)। এই চুক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পুনরুজ্জীবনেরও ইঙ্গিত দেয় বলেই দাবি আন্তার্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সম্পর্ককে একবার “আমার অন্যতম সেরা বন্ধুত্ব” বলে বর্ণনা করেছিলেন।এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলারের মতে, সংশোধিত ১৮ শতাংশ শুল্ক হার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারীদের সামান্য হলেও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে। কারণ, একই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক প্রায় ১৯ থেকে ২০ শতাংশ বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। প্রশ্ন হল, কেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করলেন (Russian Oil)? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন কারণ ভারত রাশিয়ান তেল সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির অংশ (Donald Trump)।

  • India Rejects Pakistan Claim: “অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান”, ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    India Rejects Pakistan Claim: “অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান”, ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার ইসলামাবাদের এক শিয়া মসজিদে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের সঙ্গে নয়াদিল্লির যোগ নিয়ে পাকিস্তানের তোলা অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” ও “অর্থহীন” বলে খারিজ করল ভারত।

    কী বলেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক?

    মর্মান্তিক বিস্ফোরণে প্রাণহানির জন্য শোক প্রকাশ করলেও, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) পাকিস্তানের “ঘরে তৈরি সমস্যাগুলি” নিয়ে সমালোচনা করে। প্রকাশিত বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “আজ ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া বোমা হামলা নিন্দনীয় এবং এতে যে প্রাণহানি হয়েছে, ভারত তার জন্য শোক প্রকাশ করছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “দুঃখজনক যে, নিজেদের ঘরে বিদ্যমান সমস্যাগুলির গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করার বদলে পাকিস্তান অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে।” পাকিস্তানের এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “ভারত এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে, যা যেমন ভিত্তিহীন, তেমনই অর্থহীন।”

    ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে পাকিস্তানের দাবি

    ভারতের এই প্রতিক্রিয়া আসে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের বক্তব্যের পর, যিনি কোনও প্রমাণ না দিয়েই দাবি করেন যে এই হামলার সঙ্গে ভারত ও আফগানিস্তানের যোগ রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে আসিফ বলেন, হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী আফগানিস্তানে যাতায়াত করেছে—এটি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে আঁতাত প্রকাশ পাচ্ছে।” সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার ইসলামাবাদে শুক্রবারের নামাজ চলাকালীন এক শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় অবস্থিত খাদিজা আল-কুবরা মসজিদ তথা ইমামবারগাহে (ইমামবাড়া) ঘটে।

    আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া

    ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে আফগানিস্তানের যোগ থাকার পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কাবুলও। তারা এই অভিযোগকে আগাম সিদ্ধান্তমূলক এবং প্রমাণবিহীন বলে উল্লেখ করেছে বলে আফগান সংবাদসংস্থা খামা প্রেস নিউজ এজেন্সি শুক্রবার জানিয়েছে। তালিবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র এনায়াতুল্লাহ খোয়ারাজমি বলেন, “পাকিস্তানি কর্মকর্তারা অতীতেও বালোচিস্তানে হামলাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঘটনার জন্য কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই আফগানিস্তানকে দায়ী করেছেন।”

    খোয়ারাজমি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর এত দ্রুত কীভাবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বাহ্যিক যোগসূত্রের কথা বলতে পারে, অথচ আগেভাগে এই ধরনের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যাকে আড়াল করতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে জানান, আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলাকে সমর্থন করে না এবং নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ইসলামিক ও মানবিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করে। আফগান মুখপাত্র পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দোষ চাপানোর রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং এর পরিবর্তে গঠনমূলক আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

  • U-19 World Cup 2026: ‘‘ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে’’, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বজয়ী ছোটদের বড় প্রশংসা আপ্লুত মোদির

    U-19 World Cup 2026: ‘‘ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে’’, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বজয়ী ছোটদের বড় প্রশংসা আপ্লুত মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব-ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য কেন? তা ফের একবার বুঝিয়ে দিলেন বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ মাত্রেরা। এই নিয়ে ছ’বার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ (U-19 World Cup 2026) জিতল ভারত। শুধু তাই নয়, গত তিন বছরে পাঁচটি বিশ্বকাপ জিতল তারা। এর আগে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল দু’বার বিশ্বকাপ জিতেছে। মেয়েদের দল গত বছর এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছে। ছেলেরা ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। এ বার ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলও বিশ্বকাপ জিতল।

    আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী মোদি

    আনন্দ হোক বা দুঃখ সবসময় রোহিত শর্মাদের পাশে থেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রেরণা দিয়েছেন হরমনপ্রীতদের। এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর বৈভব সূর্যবংশী এবং তাঁর সতীর্থদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড করেন সূর্যবংশী। তাঁর এই পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে। বিশ্বকাপ দেশে নিয়ে ফেরার জন্য অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলকে নিয়ে গর্বিত। গোটা টুর্নামেন্টে দল দারুণ খেলেছে। দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছে। এই জয় তরুণ ক্রীড়াবিদদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। ভবিষ্যতের জন্য প্লেয়ারদের শুভেচ্ছা রইল।” জয় হোক বা পরাজয় পাশে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। অস্ট্রেলিয়ার কাছে একদিনের বিশ্বকাপ হারার পরও রোহিত, কোহলি, শামি, সিরাজদের চোখের জল মুছিয়ে আগামীর স্বপ্ন দেখতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তারই ফল একবছর পর বিশ্বচ্যম্পিয়ন রোহিত-কোহলিরা।

    কেন বিসিসিআই সেরা

    পাকিস্তান হোক বা বাংলাদেশ, পিসিবি বা বিসিবি বারবার বলে বিসিসিআই-এর দাপটের কথা। আবার তারা বুঝল এর পিছনের আসল ইউএসপি-হল ভারতীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স আর প্রশাসকদের পরিকল্পনা। এক সময় ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলটা বেশ খারাপ খেলছিল। কিছুতেই সব ঠিকঠাক হচ্ছিল না। তখনই বোর্ডের কর্তা এবং বিশেষজ্ঞেরা খতিয়ে দেখে বুঝতে পারেন, এই দলটা শুধুই আইসিসি-র প্রতিযোগিতা খেলছে। সে ভাবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগই পাচ্ছে না। তার পরেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনে তৎপর হয় বোর্ড। গত বছর এশিয়া কাপের আগে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টেস্ট এবং এক দিনের সিরিজ খেলেছে এই দল। তার পর এশিয়া কাপ জিতেছে। বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ খেলেছে। ফলে তৈরি হয়ে নেওয়ার যাবতীয় সুযোগ পেয়েছে তারা। এতে লাভ হয়েছে দু’টি। ক্রিকেটবিশ্বের বাকি দলগুলিকে চিনে নেওয়া ছাড়াও, দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে একটি বন্ধন তৈরি হয়ে গিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন ম্যাচে। কোনও ক্রিকেটার ব্যর্থ হলে বাকিরা চাপ সামলে দিয়েছেন। ব্যাটিং থেকে বোলিং, সব বিভাগেই একই চিত্র।

    ভারতের নয়া সূর্য-উদয়

    যুবরাজ সিং থেকে মহম্মদ কাইফ, বিরাট কোহলি থেকে শুভমান গিল— অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটে একাধিক তারকার উত্থান হয়েছে। ভারতের নয়া সূর্য হল বৈভব সূর্যবংশী। তার ব্যাটে ভর করেই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জিতল ভারত। ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসটাই ফারাক গড়ে দিল ইংল্যান্ডের সঙ্গে। ৪১১ তুলেছিল ভারতীয় দল। ১০০ রানে ইংলিশ টিমকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হাতে তুললেন আয়ুষ মাত্রে। শুক্রবারের নজর একাই কেড়ে নিয়েছে বৈভব। ফাইনালের মতো মঞ্চে যে কোনও দল, যে কোনও ক্রিকেটার চাপে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হারারেতে বৈভবের খেলা দেখে মনে হল, চাপ শব্দটাই তার অভিধানে নেই। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, বোলার যিনিই হোন, তার ব্যাট চলতে শুরু করলে বিপক্ষের ক্রিকেটারদের কপালে দুঃখ রয়েছে। শুক্রবার সেটাই টের পেলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারেরা। বৈভব ফর্মে থাকলে কী হতে পারে, সেটা বুঝে গেলেন তাঁরা। ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রান! ১৫টি চার এবং ১৫টি ছয়। যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই এমন পারফরম্যান্স স্বপ্ন। বৈভব সেটাই বাস্তবে করে দেখিয়েছে। চলতি প্রতিযোগিতা আমেরিকা বাদে প্রতিটি ম্যাচেই ভাল রান পেয়েছে সে। তিনটি অর্ধশতরান রয়েছে। তবে ফাইনালের পারফরম্যান্স বাকি সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈভব সূর্যবংশীই ভারতের পরবর্তী বড় তারকা। আইপিএল ও সিনিয়র টিম ইন্ডিয়ার দরজা তাঁর জন্য আর খুব দূরে নয়। মাত্র ১৫ বছরেই বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন দাপট ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা দিল ভারতীয় ক্রিকেটকে।

    হাফডজন সাফল্য ভারতের

    এর আগে পাঁচবার যুব বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। এ বারেরটা ধরলে হাফডজন সাফল্য। ট্রফি জেতার পর কোচ ঋষিকেশ কানিতকর বলেছেন, “অসাধারণ অনুভূতি। জিম্বাবোয়েতে এর আগে খেলেছি। কিন্তু এ বারের আসাটা অন্যরকম। ছেলেগুলোর জন্য গর্ব হচ্ছে। ইংল্যান্ড লড়াই করেছিল। কিন্তু আমাদের টিম শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। অবশ্যই ট্রফির জন্য খেলেছি। তবে একঝাঁক ছেলের উন্নতিটা সব কিছুর আগে।” ভারতীয় দলের একমাত্র বাঙালি ক্রিকেটার অভিজ্ঞান কুন্ডু বলেছেন, “একটা সময় চাপ অনুভব করছিলাম। তবে ধৈর্য রেখেছিলাম। বোলারদের পাশে থেকেছি আমরা। বোলাররা কিন্তু দারুণ বোলিং করেছে। এই নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ জিতলাম। আমরা সেলিব্রেট করব। গত দুটো বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম করেছি। তার ফল হাতেনাতে মিলল। শেষবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিলাম। সে দিক থেকে বলতে পারেন, আমরা বদলা নিলাম। আবার ট্রফি জিতলাম। সূর্যবংশী শুরুতেই দারুণ ব্যাটিং করে ইংল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল। ও নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছে।”

    গুরুদক্ষিণা বৈভবের

    ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলার পর বৈভব সূর্যবংশী যে ছোটদের বিশ্বকাপ ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার হবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল না। ১৪ বছরের ব্যাটার বিশ্বকাপেরও সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেল। ছোটদের বিশ্বমঞ্চে সেরার পুরস্কার বৈভব উৎসর্গ করল দলের কোচদের। দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পর বৈভব জানিয়ে দিল, রান না পেলেও নিজের দক্ষতার উপর আস্থা হারায়নি। ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার নেওয়ার পর বৈভব বলল, ‘‘এই আনন্দ, অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না। আমরা সকলে গত সাত-আট মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমাদের কোচেরা এই দীর্ঘ সময় আমাদের পাশে ছিলেন। সব সময় আমাদের খেয়াল রেখেছেন। কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চেয়েছেন। আমার এই পুরস্কারটা দলের কোচদেরই উৎসর্গ করছি।’’ বিশ্বজয়ের মাঠে দাঁড়িয়েই গুরুদক্ষিণা দিল বৈভব।

LinkedIn
Share