Tag: bangla news

bangla news

  • U-19 World Cup 2026: ‘‘ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে’’, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বজয়ী ছোটদের বড় প্রশংসা আপ্লুত মোদির

    U-19 World Cup 2026: ‘‘ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে’’, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বজয়ী ছোটদের বড় প্রশংসা আপ্লুত মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব-ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য কেন? তা ফের একবার বুঝিয়ে দিলেন বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ মাত্রেরা। এই নিয়ে ছ’বার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ (U-19 World Cup 2026) জিতল ভারত। শুধু তাই নয়, গত তিন বছরে পাঁচটি বিশ্বকাপ জিতল তারা। এর আগে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল দু’বার বিশ্বকাপ জিতেছে। মেয়েদের দল গত বছর এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছে। ছেলেরা ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। এ বার ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলও বিশ্বকাপ জিতল।

    আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী মোদি

    আনন্দ হোক বা দুঃখ সবসময় রোহিত শর্মাদের পাশে থেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রেরণা দিয়েছেন হরমনপ্রীতদের। এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর বৈভব সূর্যবংশী এবং তাঁর সতীর্থদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড করেন সূর্যবংশী। তাঁর এই পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে। বিশ্বকাপ দেশে নিয়ে ফেরার জন্য অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলকে নিয়ে গর্বিত। গোটা টুর্নামেন্টে দল দারুণ খেলেছে। দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছে। এই জয় তরুণ ক্রীড়াবিদদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। ভবিষ্যতের জন্য প্লেয়ারদের শুভেচ্ছা রইল।” জয় হোক বা পরাজয় পাশে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। অস্ট্রেলিয়ার কাছে একদিনের বিশ্বকাপ হারার পরও রোহিত, কোহলি, শামি, সিরাজদের চোখের জল মুছিয়ে আগামীর স্বপ্ন দেখতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তারই ফল একবছর পর বিশ্বচ্যম্পিয়ন রোহিত-কোহলিরা।

    কেন বিসিসিআই সেরা

    পাকিস্তান হোক বা বাংলাদেশ, পিসিবি বা বিসিবি বারবার বলে বিসিসিআই-এর দাপটের কথা। আবার তারা বুঝল এর পিছনের আসল ইউএসপি-হল ভারতীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স আর প্রশাসকদের পরিকল্পনা। এক সময় ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলটা বেশ খারাপ খেলছিল। কিছুতেই সব ঠিকঠাক হচ্ছিল না। তখনই বোর্ডের কর্তা এবং বিশেষজ্ঞেরা খতিয়ে দেখে বুঝতে পারেন, এই দলটা শুধুই আইসিসি-র প্রতিযোগিতা খেলছে। সে ভাবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগই পাচ্ছে না। তার পরেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনে তৎপর হয় বোর্ড। গত বছর এশিয়া কাপের আগে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টেস্ট এবং এক দিনের সিরিজ খেলেছে এই দল। তার পর এশিয়া কাপ জিতেছে। বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ খেলেছে। ফলে তৈরি হয়ে নেওয়ার যাবতীয় সুযোগ পেয়েছে তারা। এতে লাভ হয়েছে দু’টি। ক্রিকেটবিশ্বের বাকি দলগুলিকে চিনে নেওয়া ছাড়াও, দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে একটি বন্ধন তৈরি হয়ে গিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন ম্যাচে। কোনও ক্রিকেটার ব্যর্থ হলে বাকিরা চাপ সামলে দিয়েছেন। ব্যাটিং থেকে বোলিং, সব বিভাগেই একই চিত্র।

    ভারতের নয়া সূর্য-উদয়

    যুবরাজ সিং থেকে মহম্মদ কাইফ, বিরাট কোহলি থেকে শুভমান গিল— অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটে একাধিক তারকার উত্থান হয়েছে। ভারতের নয়া সূর্য হল বৈভব সূর্যবংশী। তার ব্যাটে ভর করেই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জিতল ভারত। ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসটাই ফারাক গড়ে দিল ইংল্যান্ডের সঙ্গে। ৪১১ তুলেছিল ভারতীয় দল। ১০০ রানে ইংলিশ টিমকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হাতে তুললেন আয়ুষ মাত্রে। শুক্রবারের নজর একাই কেড়ে নিয়েছে বৈভব। ফাইনালের মতো মঞ্চে যে কোনও দল, যে কোনও ক্রিকেটার চাপে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হারারেতে বৈভবের খেলা দেখে মনে হল, চাপ শব্দটাই তার অভিধানে নেই। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, বোলার যিনিই হোন, তার ব্যাট চলতে শুরু করলে বিপক্ষের ক্রিকেটারদের কপালে দুঃখ রয়েছে। শুক্রবার সেটাই টের পেলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারেরা। বৈভব ফর্মে থাকলে কী হতে পারে, সেটা বুঝে গেলেন তাঁরা। ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রান! ১৫টি চার এবং ১৫টি ছয়। যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই এমন পারফরম্যান্স স্বপ্ন। বৈভব সেটাই বাস্তবে করে দেখিয়েছে। চলতি প্রতিযোগিতা আমেরিকা বাদে প্রতিটি ম্যাচেই ভাল রান পেয়েছে সে। তিনটি অর্ধশতরান রয়েছে। তবে ফাইনালের পারফরম্যান্স বাকি সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈভব সূর্যবংশীই ভারতের পরবর্তী বড় তারকা। আইপিএল ও সিনিয়র টিম ইন্ডিয়ার দরজা তাঁর জন্য আর খুব দূরে নয়। মাত্র ১৫ বছরেই বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন দাপট ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা দিল ভারতীয় ক্রিকেটকে।

    হাফডজন সাফল্য ভারতের

    এর আগে পাঁচবার যুব বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। এ বারেরটা ধরলে হাফডজন সাফল্য। ট্রফি জেতার পর কোচ ঋষিকেশ কানিতকর বলেছেন, “অসাধারণ অনুভূতি। জিম্বাবোয়েতে এর আগে খেলেছি। কিন্তু এ বারের আসাটা অন্যরকম। ছেলেগুলোর জন্য গর্ব হচ্ছে। ইংল্যান্ড লড়াই করেছিল। কিন্তু আমাদের টিম শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। অবশ্যই ট্রফির জন্য খেলেছি। তবে একঝাঁক ছেলের উন্নতিটা সব কিছুর আগে।” ভারতীয় দলের একমাত্র বাঙালি ক্রিকেটার অভিজ্ঞান কুন্ডু বলেছেন, “একটা সময় চাপ অনুভব করছিলাম। তবে ধৈর্য রেখেছিলাম। বোলারদের পাশে থেকেছি আমরা। বোলাররা কিন্তু দারুণ বোলিং করেছে। এই নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ জিতলাম। আমরা সেলিব্রেট করব। গত দুটো বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম করেছি। তার ফল হাতেনাতে মিলল। শেষবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিলাম। সে দিক থেকে বলতে পারেন, আমরা বদলা নিলাম। আবার ট্রফি জিতলাম। সূর্যবংশী শুরুতেই দারুণ ব্যাটিং করে ইংল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল। ও নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছে।”

    গুরুদক্ষিণা বৈভবের

    ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলার পর বৈভব সূর্যবংশী যে ছোটদের বিশ্বকাপ ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার হবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল না। ১৪ বছরের ব্যাটার বিশ্বকাপেরও সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেল। ছোটদের বিশ্বমঞ্চে সেরার পুরস্কার বৈভব উৎসর্গ করল দলের কোচদের। দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পর বৈভব জানিয়ে দিল, রান না পেলেও নিজের দক্ষতার উপর আস্থা হারায়নি। ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার নেওয়ার পর বৈভব বলল, ‘‘এই আনন্দ, অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না। আমরা সকলে গত সাত-আট মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমাদের কোচেরা এই দীর্ঘ সময় আমাদের পাশে ছিলেন। সব সময় আমাদের খেয়াল রেখেছেন। কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চেয়েছেন। আমার এই পুরস্কারটা দলের কোচদেরই উৎসর্গ করছি।’’ বিশ্বজয়ের মাঠে দাঁড়িয়েই গুরুদক্ষিণা দিল বৈভব।

  • Agni-3 Missile Test: সফল অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা, চিন-পাকিস্তানকে কোন বার্তা দিল ভারত?

    Agni-3 Missile Test: সফল অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা, চিন-পাকিস্তানকে কোন বার্তা দিল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) থেকে মাঝারি-পাল্লার অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা (Agni-3 Missile Test) চালিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত অপারেশনাল প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে।

    যাচাই হলো সব প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও অপারেশনাল প্রস্তুতি

    এই পরীক্ষা পরিচালিত হয় স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড (SFC)-এর তত্ত্বাবধানে, যা দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের দায়িত্বে রয়েছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের দ্বারা পরিচালিত এই উৎক্ষেপণে সব অপারেশনাল ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই পরীক্ষা ভারতের প্রতিরোধমূলক কৌশলের (India Nuclear Deterrence) বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অংশ

    অগ্নি-৩ একটি মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (IRBM), যার আঘাত হানার ক্ষমতা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার। এর ফলে প্রতিপক্ষ দেশের গভীরে অবস্থিত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ভারতের রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অগ্নি সিরিজের অন্যান্য উন্নত ও অধিক পাল্লার সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা হয়েছে, তবুও অগ্নি-৩ এখনও ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অংশ হিসেবে বিবেচিত। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০১১ সাল থেকে স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের পরিষেবায় রয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত।

    রমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য নকশা

    অগ্নি-৩ (Agni-3 Missile Test) একটি দুই-ধাপের, কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যা সর্বোচ্চ ১,৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের পেলোড (বিস্ফোরক) বহনে সক্ষম। এটি মূলত পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য নকশা করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোটন ক্ষমতার ওয়ারহেড বহন করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৭ মিটার এবং ব্যাস ২ মিটার। এর উৎক্ষেপণ ওজন প্রায় ৪৮,৩০০ কিলোগ্রাম। প্রথম ধাপের জ্বালানি শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপ সক্রিয় হয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নির্ধারিত পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, যা উড়ানের সময় স্থিতিশীলতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করে।

    “বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” বজায় রাখা

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রে স্ট্র্যাপডাউন ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছে, যা জিপিএস-এর সহায়তায় প্রায় ৪০ মিটার সার্কুলার এরর প্রোবাব্যেল (CEP) নির্ভুলতা প্রদান করে। এর প্রথম ধাপটি মারেজিং স্টিল দিয়ে তৈরি মোটর কেস এবং দ্বিতীয় ধাপে কার্বন-ফাইবার মোটর কেস ব্যবহার করা হয়েছে। উভয় ধাপেই থ্রাস্ট ভেক্টর কন্ট্রোল সিস্টেম সংযুক্ত থাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা আরও বৃদ্ধি পায়। প্রতিরক্ষা কর্তারা জানিয়েছেন, এদিনের পরীক্ষা (Agni-3 Missile Test) ভারতের যাচাইকৃত কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার তালিকাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং জটিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে দেশের “বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” (India Nuclear Deterrence) বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরেছে।

  • Bird Flu Alert: দেশে এভিয়ান ফ্লু-র হানা! কয়েক’শো কাকের মৃত্যুর পরেই সতর্কতা জারি, কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?

    Bird Flu Alert: দেশে এভিয়ান ফ্লু-র হানা! কয়েক’শো কাকের মৃত্যুর পরেই সতর্কতা জারি, কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কোথাও রাস্তার পাশে, আবার কোথাও আবর্জনার স্তূপের মাঝেই পড়ে রয়েছে নিথর দেহ! চেন্নাই শহর জুড়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় কয়েক’শো কাকের মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কাকের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলেই জানা গিয়েছে। বিপদ বাড়াচ্ছে মানব দেহের সংক্রমণের (Bird Flu Alert)। তাই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    কাকের মৃত্যু কোন বিপদের ইঙ্গিত করছে?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এইচ৫এন১ ভাইরাসের (H5N1 Virus) জেরেই কাকের মৃত্যু হচ্ছে। আর এই ভাইরাস ক্ষতিকারক। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাকের মৃত্যু নতুন সংক্রমণের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ভাইরাস পাখির শরীরে সংক্রামিত হয়। আর মৃত পাখির দেহ থেকেই এই রোগ সংক্রমণ অন্য প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে‌ পড়ে। কাকের শরীরেই এই রোগ আটকে থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এই ভাইরাস অন্যান্য পাখিদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষত পায়রা, হাঁস, মুরগির শরীরে এই ভাইরাস সহজেই সংক্রামিত হয়।

    মানব দেহে কি এই রোগ ছড়াতে পারে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানব দেহেও এইচ৫এন১ ভাইরাস (H5N1 Virus) সংক্রমণ ঘটতে পারে। মৃত পাখির দেহ স্পর্শ করলে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলট্রিতে কর্মরত ব্যক্তিদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া যারা বর্জ্য পরিষ্কার করেন, তাঁদের ও সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আক্রান্ত পাখির শরীরের লালা ও রস থেকেই মূলত এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়। তাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থ কিংবা মৃত পাখি স্পর্শ করলে এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত (Bird Flu Alert) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে‌ যায়।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে কোন সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যে কোনও সংক্রামক রোগ আটকানোর প্রধান উপায় হলো আগাম সতর্কতা। তাই এই ভাইরাস রুখতেও সতর্কতা জরুরি।‌ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলট্রি ফার্মে কর্মরত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা (Bird Flu Alert) অবলম্বন করতে হবে। হাতে গ্লাভস পরা এবং মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করেই কোনও ফার্মে একাধিক পাখির মৃত্যু হলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া মৃত পাখিকে স্পর্শ করার আগে মাস্ক ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক। তারপরে সেই কর্মীর হাত ও পা ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচ্ছন্ন করা জরুরি। যাতে ভাইরাস সংক্রমণ না হতে পারে।

    আক্রান্ত হলে কি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রথম পর্বেই রোগ নির্ণয় (Bird Flu Alert) হলে দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই রোগী দেরিতে আসেন। রোগ নির্ণয় করতে অনেকটা সময় চলে যায়। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। তারজন্য প্রথম পর্বেই রোগ নির্ণয় জরুরি। এলাকায় পাখির মৃত্যু হচ্ছে কিনা সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সঠিক তথ্য থাকা জরুরি। জ্বর, গলা ব্যথা, মাথার যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই উপসর্গ সহ একাধিক রোগী দেখা দিলে প্রশাসনের আগাম সতর্কতা প্রয়োজন। রোগীদের দ্রুত শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ সম্পর্কে দ্রুত নিশ্চিত হতে হবে। তবেই সংক্রামিত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।

    রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা নয়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও ভাইরাসঘটিত অসুখ (Avian Flu Alert) সম্পর্কে নানান ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। যা সংক্রমণ আটকানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা যাতে না ছড়ায় প্রশাসনকে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এইচ৫এন১ ভাইরাস (H5N1 Virus) সংক্রমিত হলেই চিকেন খাওয়া যাবে না। এমন ধারণা ভুল। যেকোনও প্রাণীজ প্রোটিন সব সময় ভালোভাবে পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ রান্না করে খাওয়া উচিত। তাই হাঁস কিংবা মুরগীর মাংস খাওয়ার সময় ঠিকমতো সম্পূর্ণ রান্না করা জরুরি।‌ রান্না মাংস থেকে রোগ ছড়ায় না। ফার্মে কাজ করলেই এই রোগে আক্রান্ত হবে, এমন ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মানলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

  • Daily Horoscope 07 February 2026: প্রেমের ক্ষেত্রে দিনটি শুভ এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 07 February 2026: প্রেমের ক্ষেত্রে দিনটি শুভ এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) সন্তানদের নিয়ে সংসারে কলহ সৃষ্টি হতে পারে।

    ২) আইনি সমস্যা থেকে মুক্তিলাভ।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃষ

    ১) প্রেমে মাত্রাছাড়া আবেগ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

    ২) কর্মক্ষেত্রে জটিলতা কাটতে পারে।

    ৩) সতর্ক থাকবেন সব বিষয়ে।

    মিথুন

    ১) যানবাহন খুব সাবধানে চালাতে হবে, বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

    ২) প্রেমের ক্ষেত্রে দিনটি শুভ।

    ৩) বাণীতে সংযম জরুরি।

    কর্কট

    ১) আগুপিছু না ভেবে উপার্জনের রাস্তায় পা দেবেন না।

    ২) অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতার যোগ।

    ৩) সবাইকে ভালোভাবে কথা বলুন।

    সিংহ

    ১) কর্মচারীদের জন্য ব্যবসায় বিবাদ হতে পারে।

    ২) ভ্রমণের পক্ষে দিনটি শুভ নয়।

    ৩) প্রতিকূল কাটবে দিনটি।

    কন্যা

    ১) প্রেমের ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ।

    ২) কুটিরশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অগ্রগতি হতে পারে।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    তুলা

    ১) ভালো কথার দ্বারা অন্যকে প্রভাবিত করতে পারবেন।

    ২) দুপুর নাগাদ ব্যবসা ভাল হবে।

    ৩) দিনটি মোটামুটি কাটবে।

    বৃশ্চিক

    ১) প্রিয়জনের কুকর্মের জন্য বাড়িতে বিবাদ।

    ২) ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) আশাহত।

    ধনু

    ১) চাকরিতে সুখবর আসতে পারে।

    ২) রক্তচাপ নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে।

    মকর

    ১) শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় কর্মে ক্ষতির আশঙ্কা।

    ২) আপনার সহিষ্ণু স্বভাবের জন্য সংসারে শান্তি রক্ষা পাবে।

    ৩) গুরুজনের পরামর্শ মেনে চলুন।

    কুম্ভ

    ১) কাজের চাপে সংসারে সময় না দেওয়ায় বিবাদ হতে পারে।

    ২) ব্যবসায় কিছু পাওনা আদায় হতে পারে।

    ৩) আশা পূরণ।

    মীন

    ১) সন্তান-স্থান শুভ।

    ২) আজ কোনও সুসংবাদ পাওয়ার জন্য মন চঞ্চল থাকবে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 575: “যতক্ষণ কাঁচা ঘি, ততক্ষণই কলকলানি শোনা যায়, পাকা হলে আর শব্দ থাকে না”

    Ramakrishna 575: “যতক্ষণ কাঁচা ঘি, ততক্ষণই কলকলানি শোনা যায়, পাকা হলে আর শব্দ থাকে না”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    চতুর্থ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর
    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও অবতারবাদ
    Reconciliation of Free will and Predestination

    ডাক্তার বলছেন, ঈশ্বর (Ramakrishna) আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আর আমাদের সকলের আত্মা (Soul) অনন্ত উন্নতি করবে। একজন আর একজনের চেয়ে বড়, একথা তিনি মানতে চাহিতেছেন না। তাই অবতার মানছেন না।

    ডাক্তার—‘Infinite Progress’ তা যদি না হল তাহলে পাঁচ বছর সাত বছর আর বেঁচেই বা কি হবে! গলায় দড়ি দেব!

    “অবতার আবার কি! যে মানুষ হাগে মোতে তার পদানত হব! হাঁ, তবে Reflection of God’s light (ঈশ্বরের জ্যোতি) মানুষে প্রকাশ হয়ে থাকে তা মানি।”

    গিরিশ (সহাস্যে) — আপনি God’s Light দেখেন নি —

    ডাক্তার উত্তর দিবার পূর্বে একটু ইতস্ততঃ করিতেছেন। কাছে একজন বন্ধু বসিয়াছেলেন — আস্তে আস্তে কি বলিলেন (Kathamrita)।

    ডাক্তার—আপনিও তো প্রত্বিম্ব বই কিছু দেখেন নাই।

    গিরিশ—I see it, I see the Light! শ্রীকৃষ্ণ (Ramakrishna) যে অবতার Prove (প্রমাণ) করব—তা নাহলে জিব কেটে ফেলব।

    বিকারী রোগীরই বিচার—পূর্ণজ্ঞানে বিচার বন্ধ হয়

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— এ-সব যা কথা হচ্ছে, এ কিছুই নয়।

    “এ-সব বিকারের রোগীর খেয়াল। বিকারের রোগী বলেছিল, — এক জালা জল খাব। এক হাঁড়ি ভাত খাব! বদ্যি বললে, আচ্ছা আচ্ছা খাবি। পথ্য পেয়ে যা বলবি তখন করা যাবে।

    “যতক্ষণ কাঁচা ঘি, ততক্ষণই কলকলানি শোনা যায় (Kathamrita)। পাকা হলে আর শব্দ থাকে না। যার যেমন মন, ঈশ্বরকে সেইরূপ দেখে। আমি দেখেছি, বড় মানুষের বাড়ির ছবি — কুইন-এর ছবি আছে। আবার ভক্তের বাড়ি—ঠাকুরদের ছবি!

  • Islamabad Bomb Blast: ইসলামাবাদের ইমামবাড়ায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩১, আহত শতাধিক

    Islamabad Bomb Blast: ইসলামাবাদের ইমামবাড়ায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩১, আহত শতাধিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকার তারলাই ইমামবাড়ায় শুক্রবার ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। পাক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জুম্মার নামাজের জন্য স্থানীয় মুসলিমরা ইমামবাড়ায় সমবেত হয়েছিলেন। সেই সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে।

    আত্মঘাতী বিস্ফোরণ…

    ইমামবাড়া হল শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় শোকানুষ্ঠানের স্থান, যেখানে কারবালার ঘটনার স্মরণে তারা সমবেত হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিকেলের সময় উপাসনালয়ের প্রধান ফটকে এক আত্মঘাতী জঙ্গী বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রবেশপথে দায়িত্বরত প্রহরীরা হামলাকারীকে আটকাতে সক্ষম হন এবং তাকে মূল হলের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেন, যেখানে উপাসকেরা সমবেত ছিলেন। তা সত্ত্বেও বিস্ফোরণের তীব্রতায় ফটকের কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আশপাশের ভবনের জানালা ভেঙে যায় এবং রাস্তার ওপর চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। এবং উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

    শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা…

    বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ঘটনার পর ইসলামাবাদের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয় এবং আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিস্ফোরণের ফলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এক পুলিশ কর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে কতজন নিহত হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।” পাকিস্তানের সংবাদপত্র দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের পিআইএমএস ও পলিক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক আহত রোগী সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    দায় স্বীকার করেনি কোনও গোষ্ঠী…

    এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং হতাহতের সরকারি সংখ্যা প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই বোমা হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী বালুচিস্তান প্রদেশে এক সপ্তাহব্যাপী অভিযান শেষ করেছে। ওই অভিযানে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (BLA) সঙ্গে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ নিহত হয় বলে জানা গেছে। এই গোষ্ঠীটি একযোগে একাধিক জেলায় সমন্বিত হামলা চালায়, সাময়িকভাবে কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেয় এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালায়।

    ছয় মাসে দ্বিতীয় বড় বিস্ফোরণ…

    গত ছয় মাসের মধ্যে ইসলামাবাদে এটি দ্বিতীয় বড় বিস্ফোরণের ঘটনা। এর আগে গত নভেম্বরে ইসলামাবাদ জেলা আদালত চত্বরে একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৫ জনের বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনাকেও আত্মঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গত বছরের ওই বিস্ফোরণটি জেলা আদালতের প্রবেশপথের কাছে একটি পার্ক করা গাড়িতে ঘটে, যখন সেখানে কর্মব্যস্ত সময় চলছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে এর প্রভাব ছয় কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়। এতে আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    আগেরবার আফগানিস্তানকে দায়ী করেছিল পাকিস্তান

    সে সময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ হামলার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করে বলেন, দেশটি কার্যত “যুদ্ধাবস্থায়” রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, “আমরা যুদ্ধাবস্থায় রয়েছি। যারা মনে করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুধু আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত বা বেলুচিস্তানে লড়াই করছে, তাদের জন্য ইসলামাবাদ জেলা আদালতের আত্মঘাতী হামলাই সতর্কবার্তা। এটি পুরো পাকিস্তানের জন্য যুদ্ধ, যেখানে সেনাবাহিনী প্রতিদিন জনগণের নিরাপত্তার জন্য আত্মত্যাগ করছে।” উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় এক মাস পরই ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

  • Gadchiroli Encounter: গড়চিরোলিতে মাওদমন অভিযানে খতম ৩ মাওবাদী, নিহত এক ‘সি-৬০’ জওয়ান

    Gadchiroli Encounter: গড়চিরোলিতে মাওদমন অভিযানে খতম ৩ মাওবাদী, নিহত এক ‘সি-৬০’ জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছত্তিশগড় সফরের ঠিক আগে মহারাষ্ট্র–ছত্তিশগড় সীমান্তের গড়চিরোলি (Gadchiroli Encounter) জেলায় চলমান নকশাল-বিরোধী অভিযানে (Anti-Naxal Operation) তিন মাওবাদী খতম হয়েছে। ওই অভিযানে আহত এক সি-৬০ জওয়ানও মারা গেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এলাকা থেকে এক পুরুষ মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল ও একটি এসএলআর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আরও এক পুরুষ ও এক মহিলা মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়। তবে তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

    নিহত এক জওয়ান, আহত আরও এক

    আহত জওয়ান দীপক চিন্না মাদাভি (৩৮), যিনি আহেরির বাসিন্দা, তাঁকে শুক্রবার ভোরে অবুঝমাড় জঙ্গলের ভেতর থেকে এয়ারলিফট করে ভামরাগড়ের নিকটবর্তী সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অন্যদিকে, আরেক জওয়ান জোগা মাদাভি, যিনি কিষ্ট্যাপল্লির বাসিন্দা, বৃহস্পতিবার রাতে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকেও উদ্ধার করে এয়ারলিফটের মাধ্যমে ভামরাগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং শীঘ্রই তাকে গড়চিরোলিতে স্থানান্তর করা হবে।

    গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান

    এ বিষয়ে গড়চিরোলির পুলিশ সুপার নীলোৎপল বলেন, “নারায়ণপুর সীমান্তবর্তী অবুঝমাড় এলাকায় গত তিন দিন ধরে অবশিষ্ট মাওবাদী ক্যাডারদের ধরতে অভিযান চলছে। এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।” পুলিশ জানিয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়ার পর এই নকশাল-বিরোধী অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় ১০ নম্বর কোম্পানির মাও-ক্যাডারের সঙ্গে ছত্তিশগড়ের একটি অজ্ঞাত মাওবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের উপস্থিতির কথা পুলিশ জানতে পারে। এর পরেই অভিযান শুরু হয় নারায়ণপুর–গড়চিরোলি জেলা সীমান্তের কাছে, ফোদেওয়াদা গ্রামের কয়েক কিলোমিটার দূরে। এতে ভামরাগড়ের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে ১৪টি সি-৬০ ইউনিট অংশ নেয়।

    মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য গুলির লড়াই হয়। তল্লাশি অভিযানে দুটি মাওবাদী ক্যাম্প ধ্বংস করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ মাওবাদ-সম্পর্কিত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে মাওবাদীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার সকালে অভিযান আরও জোরদার করতে চারটি অতিরিক্ত সি-৬০ ইউনিট এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) একটি কুইক অ্যাকশন টিম মোতায়েন করা হয়। এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে।

    ছত্তিশগড়ে তিনদিনের সফরে শাহ

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের সফরে ছত্তিশগড় যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি রাজ্যে বিদ্যমান মাওবাদ-পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ বা বামপন্থী চরমপন্থা (LWE) সম্পূর্ণ নির্মূল করার কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী অমিত শাহ ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রায়পুরে পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    মাও-গড়ে শাহি বৈঠক

    ছত্তিশগড় বিশেষ করে বস্তার অঞ্চল মাওবাদ হিংসায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত রাজ্যগুলির অন্যতম হওয়ায়, কেন্দ্রের জোরদার মাওদমন অভিযান প্রেক্ষিতে এই সফরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রায়পুরে বামপন্থী চরমপন্থা (LWE) সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে চলমান মাও-বিরোধী অভিযানের অগ্রগতি, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রভাবিত জেলাগুলিতে উন্নয়নমূলক উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

  • Repo Rate Unchanged: রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত

    Repo Rate Unchanged: রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাজেট-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত (Repo Rate Unchanged) রাখার সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তিনদিন ধরে চলা মুদ্রানীতি কমিটির (RBI MPC Meet) বৈঠকের শেষে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখে ৫.২৫ শতাংশে স্থির রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদ কমানোর ধারায় আপাতত বিরতি পড়ল। তিন দিনের মুদ্রানীতি বৈঠক শেষে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কমিটি তাদের ‘নিউট্রাল’ বা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে সর্বসম্মতভাবে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    গত এক বছরে চার বার রেট কমেছে

    ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে ধারাবাহিক চার দফায় মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছে আরবিআই। এর ফলে রেপো রেট ৬.৫ শতাংশ থেকে নেমে বর্তমান ৫.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ডিসেম্বর বৈঠকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানো হয়েছিল। তার আগে বছরের প্রথমার্ধে টানা তিন দফা কাটের ফলে জুনের মধ্যে রেপো রেট ৫.৫ শতাংশে নেমে আসে। এই নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবৃদ্ধিমুখী কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এবং সদ্য ঘোষিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে। ওই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে।

    মিলে গেল অর্থনীতিবিদদের পূ্র্বাভাস

    বৈঠকের আগে অর্থনীতিবিদদের একাধিক সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছিল যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই দফায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আপাতত সুদ কমানোর চক্র শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই পূর্বাভাসই প্রতিফলিত হল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় আকারে শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ও বন্ড বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরবিআই প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার থেকে বিক্রি করে। এর ফলে টাকার মূল্যে পতন দেখা যায় এবং রেকর্ড পরিমাণে সরকারি ঋণগ্রহণের ফলে চাপের মুখে থাকা বন্ড বাজার আরও চাপে পড়ে।

    মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসে সংশোধন

    মুদ্রানীতি কমিটি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে। উপভোক্তা মূল্য সূচক বা কাস্টোমার প্রাইস ইন্ডেক্স (CPI) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতির অনুমান ২.০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.১ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস যথাক্রমে ৪.০ শতাংশ এবং ৪.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করে যথাক্রমে ৬.৯ শতাংশ এবং ৭.০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF) ৫ শতাংশ হারে অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (MSF) রেট এবং ব্যাঙ্ক রেটও আগের মতোই ৫.৫ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে।

  • Fight Against Cancer: ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্য! কেন এই বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    Fight Against Cancer: ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্য! কেন এই বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্যান্সার (Cancer) রোগ নির্ণয় আর তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া জুড়ে শুধুই রোগী থাকেন না। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া জুড়ে থাকেন তাঁর পরিবার। ক্যান্সার শুধুই একজন ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে না। বরং ক্যান্সারের প্রকোপ সমাজ জুড়ে। তাই ক্যান্সার রুখতেও সামাজিক ঐক্য (Social Unity in Cancer Prevention) জরুরি। একা নয়। ক্যান্সার রুখতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা প্রয়োজন। বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে (World Cancer Day) এই কথাই জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)। ভারত সহ বিশ্বের একধিক দেশে ক্যান্সারের দাপট বাড়ছে। বয়সের সীমারেখায় এই রোগ আটকে নেই। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফুসফুস, লিভার কিংবা অগ্নাশয়ের ক্যান্সার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সমস্ত ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে তরুণ প্রজন্মের হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পুরুষদের মধ্যে যেমন ফুসফুস, গলার ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে, মহিলাদের মধ্যে স্তন এবং জরায়ুর ক্যান্সারের প্রকোপ মারাত্মক। বিশেষত খুব কম বয়সি মহিলারা অর্থাৎ তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই বহু মহিলা স্তন ক্যান্সার কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। যা খুবই উদ্বেগজনক। তাই ক্যান্সার রুখতে (Fight Against Cancer) সার্বিক সক্রিয়তা জরুরি। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্যের প্রয়োজনে বাড়তি গুরুত্ব কেন?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হচ্ছে, ক্যান্সার রুখতে হলে শুধুই আক্রান্তের চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সামাজিক পরিবর্তন (Social Action)। বিশ্ব জুড়ে বাড়তে থাকা ক্যান্সারের দাপট রুখতে তাই দুই দিকে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, একদিকে যেমন আক্রান্তের চিকিৎসা জরুরি। তাঁর পরিবারের পাশে থাকা প্রয়োজন। তেমনি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। গত কয়েক দশকে বিশ্ব জুড়ে স্থূলতার সমস্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ওজন ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। লিভার, কিডনি, অগ্নাশয় কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারের কারণ হয়ে উঠছে এই স্থূলতা। দেহের ওজন অতিরিক্ত হয়ে গেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। আবার লিভার, পাকস্থলী, অগ্নাশয়ের ওপরেও খারাপ প্রভাব পড়ে‌। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে। তাই ওজন নিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতনতা জরুরি (Fight Against Cancer)। স্কুল স্তর থেকেই ওজন নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত শারীরিক কসরত করা দরকার। খাদ্যাভ্যাসেও নজরদারি প্রয়োজন। এগুলো সামাজিক শিক্ষা। অর্থাৎ, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া খারাপ অভ্যাস, অনিয়মিতভাবে খাওয়া উচিত নয়, নিয়মিত শারীরিক কসরত করার অভ্যাস থাকা জরুরি, এই সবগুলোই সব সময় আলোচনায় থাকা প্রয়োজন। যাতে মানুষ‌ এই সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়। তাহলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি (Fight Against Cancer) অনেকটা কমবে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকে ‘উদযাপন’ কিংবা ‘প্রমোশন’-র পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকেই উদযাপনের মাপকাঠি করার কথাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কু-অভ্যাস ত্যাগ

    ওজনের পাশপাশি ধুমপানের মতো খারাপ অভ্যাস নিয়েও সামাজিক সচেতনতা (Fight Against Cancer) জরুরি। মদ্যপান, ধুমপানের অভ্যাস কখনোই কোনো আনন্দ উদযাপনের অংশ নয়। বরং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। ফুসফুস, গলা রং, মুখ , লিভার সহ একাধিক ক্যান্সারের কারণ। এই সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা (Cancer Awareness) জরুরি। তাই আক্রান্তের পাশে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার রুখতে সামাজিক জোটবদ্ধ সচেতনতাকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    ভারতে কোন কোন ক্যান্সার বিপজ্জনক? কোন ক্যান্সার আটকানো সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে গত কয়েক বছরে অগ্নাশয়, লিভার রং, ফুসফুসের ক্যান্সার মারাত্মকভাবে বেড়েছে। তবে সতর্কতাকে হাতিয়ার করে এই ক্যান্সার আক্রান্তের পরিসংখ্যান পরিবর্তন সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ক্যান্সার চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, লিভার, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপান। এই দুই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকখানি কমবে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশ ধূমপান ও মদ্যপানে আসক্ত। এই আসক্তি অত্যন্ত বিপজ্জনক। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গলা ও মুখের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ ধূমপানে অভ্যস্ত। লিভারের ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীরা মদ্যপানে আসক্ত। তাই এই দুই অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ক্যান্সারের বোঝা (Fight Against Cancer) কমবে।

    সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার

    এছাড়া পরিবেশ দূষণ নিয়েও সচেতনতা জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে কলকাতা, দিল্লি সহ দেশের একাধিক বড়‌ শহরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বায়ুদূষণ বেড়েছে। এই নিয়ে প্রশাসনের তরফেও আরও বেশি সক্রিয়তা জরুরি। সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশপাশি প্রশাসনের সক্রিয়তা থাকলে তবেই দূষণ রোধ সম্ভব। বায়ুদূষণ ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই দিকেও নজরদারি জরুরি। তাছাড়া ঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হলে ক্যান্সারের জটিলতা এড়ানো সহজ হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্তন ক্যান্সার এবং জরায়ুর ক্যান্সার অনেক সময়েই দেরিতে নির্ণয় হয়। তাই জটিলতা বাড়ে। তাঁদের পরামর্শ, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা (Cancer Awareness) থাকা প্রয়োজন। তাহলে এই দেশে এই রোগ আটকানো (Fight Against Cancer) আরও সহজ হবে।

     

  • PM Modi in Assam: বিমানবন্দর নয়, হাইওয়ের ওপর অবতরণ করবে প্রধানমন্ত্রীর বিমান, সঙ্গী রাফাল-সুখোই! মোদির অসম সফরে চমক

    PM Modi in Assam: বিমানবন্দর নয়, হাইওয়ের ওপর অবতরণ করবে প্রধানমন্ত্রীর বিমান, সঙ্গী রাফাল-সুখোই! মোদির অসম সফরে চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অসম সফর হতে চলেছে একেবারেই ব্যতিক্রমী। এই সফরে তিনি ডিব্রুগড়–মোরান জাতীয় সড়কের উপর নির্মিত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম হাইওয়ে-ভিত্তিক জরুরি বিমান অবতরণ স্ট্রিপে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। আজারায় বিজেপির ‘বুথ বিজয় অভিযান’ কর্মসূচির সূচনায় উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ কথা জানান। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ডিব্রুগড় বিমানবন্দরে নামবেন না। তিনি মোরানের হাইওয়ের উপর অবতরণ করবেন এবং সেখানে কিছু সময় কাটাবেন।” গত ১১ বছরে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অসমে ৩৮তম সফর।

    বিশেষ বিমান প্রদর্শনীর আয়োজন

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি বিশেষ বিমান প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “গুয়াহাটি এয়ার শোতে দেখা রাফাল ও সুখোই যুদ্ধবিমানগুলি সড়কের উপর অবতরণ করবে। এই প্রদর্শনী প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট চলবে।” বর্তমানে ডিব্রুগড়–মোরান সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও, নির্ধারিত রানওয়ে অংশটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিমান চলাচলের সুবিধার্থে সড়কের মাঝের ডিভাইডার সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং মানুষ ও পশুর প্রবেশ ঠেকাতে দু’পাশে বেড়া দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অস্থায়ী রাস্তার দোকানও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরের একাধিক উদ্দেশ্য

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উন্নয়নমূলক ও সাংগঠনিক একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ব্রহ্মপুত্রের উপর গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটিকে সংযুক্তকারী বহু প্রতীক্ষিত কুমার ভাস্কর বর্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন। এই সেতু যানজট কমাতে ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এছাড়াও তিনি পালাশবাড়ি ক্যাম্পাসে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (IIM)-এর অ্যাকাডেমিক ক্লাসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। গুয়াহাটির গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ১০০টি ইলেকট্রিক বাসের সূচনা করবেন এবং জাতীয় তথ্যকেন্দ্র (NIC)-এর তৈরি একটি নতুন ডেটা সেন্টারের উদ্বোধন করবেন, যা অঞ্চলের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী খানাপাড়ায় বিজেপির বুথ সম্মেলনে যোগ দেবেন, যেখানে তিনি দলীয় কর্মী ও তৃণমূল স্তরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী আবার অসম সফরে এসে একাধিক পরিকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

LinkedIn
Share