Tag: Bengali news

Bengali news

  • Railways: শতাব্দী এক্সপ্রেসের ভোলবদল, পুরনো চেয়ার কার কোচের জায়গায় বন্দে ভারতের রেক! বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    Railways: শতাব্দী এক্সপ্রেসের ভোলবদল, পুরনো চেয়ার কার কোচের জায়গায় বন্দে ভারতের রেক! বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দে ভারত (Vande Bharat) চেয়ার কার ট্রেন উৎপাদন বন্ধ করার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল ভারতীয় রেল (Railways)। রেল বোর্ডের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ – এই চার বছরের মধ্যে মোট ১,৫০০টি বন্দে ভারত চেয়ার কার কোচ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে মোট ৮৮টি ট্রেন রেক প্রস্তুত হবে।

    কোথায় হবে তৈরি (Railways)

    রেল সূত্রে খবর, এই ১,৫০০ কোচের মধ্যে ৭২০টি কোচ চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা হবে। বাকি কোচগুলি অন্যান্য উৎপাদন ইউনিটে নির্মিত হবে। রেলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ইন্টার সিটি রুটে চলাচলকারী সমস্ত শতাব্দী এক্সপ্রেস ট্রেন, যেগুলির রেক উৎপাদন ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেগুলিকে ধাপে ধাপে বন্দে ভারত রেকে রূপান্তরিত করা হবে। সে ৮৮টি রেক তৈরি হবে, তার মধ্যে ৬৮টি রেক হবে ১৬ কোচের আর বাকি ২০টি রেক হবে ২০ কোচের ট্রেন সেট। বন্দে ভারত চেয়ার কার ট্রেনগুলির সর্বোচ্চ গতি ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এগুলি মূলত ব্যবহার করা হবে দিনের বেলায় চলা ইন্টারসিটি পরিষেবার জন্যই। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত, চেন্নাইয়ের আইসিএফ, কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরি এবং রায়বেরেলির মডার্ন কোচ ফ্যাক্টরি – এই তিনটি উৎপাদন কেন্দ্রে মোট ৯৬টি বন্দে ভারত চেয়ার কার রেক তৈরি হয়েছে।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    এর মধ্যে বর্তমানে ৮২টি রেক পরিষেবায় রয়েছে, আর কয়েকটি কোচ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়াও, দক্ষিণ রেল, উত্তর রেল সহ কয়েকটি জোনে আরও কিছু বন্দে ভারত রেক বরাদ্দ করা হয়েছে, যদিও সেগুলি এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। রেলের এই সিদ্ধান্তে আগামী দিনে দেশের ইন্টারসিটি যাত্রী পরিষেবা আরও আধুনিক ও গতিশীল হবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। রেল বোর্ডের প্রোডাকশন ইউনিট বিভাগের ডিরেক্টরের জারি করা ২ জানুয়ারির এক নির্দেশিকা অনুযায়ী, নয়া উৎপাদন পরিকল্পনায় ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি, রায়বেরেলি কোচ ফ্যাক্টরি, এবং মারাঠওয়াড়া কোচ ফ্যাক্টরি মিলিয়ে মোট ১,৫০০টি কোচ তৈরি করা হবে। এর মধ্যে আইসিএফ তৈরি করবে ৭২০টি, আরসিএফ তৈরি করবে ৩৩৬টি এবং এমসিএফ তৈরি করবে (Vande Bharat) ৪৪৪টি কোচ।

    কোথায়, কত ট্রেনসেট তৈরি হবে

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই (Railways) তিনটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ১৬-কোচ বিশিষ্ট ২৩টি ট্রেনসেট তৈরি করা হবে। তবে ২০২৭-২৮ সালে কোনও বন্দে ভারত ট্রেনসেট তৈরির পরিকল্পনা নেই। ২০২৮-২৯ সালে আইসিএফ ২০-কোচ বিশিষ্ট ২০টি ট্রেনসেট তৈরি করবে। এমসিএফ তৈরি করবে ১৬-কোচের ১২টি ট্রেনসেট। ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষে আইসিএফ, আরসিএফ এবং এমসিএফ – এই তিনটি ইউনিট মিলিয়ে ১৬-কোচ বিশিষ্ট মোট ৩৩টি বন্দে ভারত ট্রেনসেট তৈরি করা হবে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আইসিএফ একাই ৮৮টির বেশি বন্দে ভারত ট্রেনসেট তৈরি করেছে। বর্তমানে ভারতীয় রেল বন্দে ভারতের স্লিপার সংস্করণের উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই কারণে ২০২৫-২৬ সালে ইন্টারসিটি পরিষেবার জন্য আইসিএফকে মাত্র ১১টি বন্দে ভারত চেয়ার কার ট্রেনসেট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে অন্যান্য ইউনিটে আরও ২০টি ট্রেনসেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে চেয়ার কার বন্দে ভারত ট্রেনের জন্য আর কোনও নতুন পরিকল্পনা না থাকলেও, সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের ফলে আবারও এই ট্রেনগুলির উৎপাদন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলের এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, “বন্দে ভারত চেয়ার কার কোচগুলিই আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে শতাব্দী এক্সপ্রেসের পুরানো রেকগুলির জায়গা নেবে। এই (Vande Bharat) সিদ্ধান্ত যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও আধুনিকীকরণের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Railways)।”

  • CBSC: পরীক্ষার চাপ কমাতে দশম, দ্বাদশের পড়ুয়াদের জন্য মানসিক কাউন্সেলিং চালু করবে সিবিএসই

    CBSC: পরীক্ষার চাপ কমাতে দশম, দ্বাদশের পড়ুয়াদের জন্য মানসিক কাউন্সেলিং চালু করবে সিবিএসই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) ২০২৬ সালের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। ঠিক তার আগে পড়ুয়াদের পরীক্ষার উদ্বেগ ও চাপ মোকাবিলার জন্য তাদের মনো-সামাজিক কাউন্সেলিং কর্মসূচির প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ আগামী ১ জুন পর্যন্ত চলবে, পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরের সময় পর্যন্তও এই পরিষেবা চলবে।

    শিক্ষার প্রতি একটি সামগ্রিক দায়িত্ববোধ কেমন তা সিবিএসই কাউন্সিলিং কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছে। ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যকেও শিক্ষাগত সাফল্যের মতোই অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। আর তাই পরীক্ষা সংক্রান্ত মানসিক অবসাদকে দূরকরতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    এই কাউন্সেলিং কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি (CBSC):

    ২৪×৭ টেলি-কাউন্সেলিং: টোল-ফ্রি নম্বর 1800-11-8004 এর মাধ্যমে দিনরাত এই সহায়তা পাওয়া যাবে। ইন্টারেক্টিভ ভয়েস রেসপন্স সিস্টেম (IVRS)-এর মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা, অনুপ্রেরণা এবং অধ্যয়নের সময় ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে পূর্ব-রেকর্ড করা তথ্য হিন্দি ও ইংরেজিতে উপলব্ধ। এছাড়া, প্রশিক্ষিত পেশাদারদের সাথে সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে ব্যক্তিগত সহায়তাও পাওয়া যাবে।

    বিশ্বব্যাপী সহায়তা: মোট ৭৩ জন প্রশিক্ষিত অধ্যক্ষ, কাউন্সেলর (Psycho Social Counselling), মনোবিজ্ঞানী এবং বিশেষ শিক্ষাবিদরা রয়েছেন। যাঁদের মাধ্যমে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া হবে। তার মধ্যে ৬১ জন ভারতে এবং ১২ জন নেপাল, জাপান, কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)-সহ বিদেশে রয়েছেন, যা বিশ্বব্যাপী সিবিএসই শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহায়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করবে।

    অনলাইন সম্পদ: স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, কার্যকর অধ্যয়নের কৌশল এবং মানসিক সুস্থতার উপর ডিজিটাল উপাদান সিবিএসই-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.cbse.gov.in) পাওয়া যাবে। সকলে ব্যবহার করতে পারবেন।

    কাউন্সেলিংয়ের বিষয়: কাউন্সিলিং পর্বে (Psycho Social Counselling) বিশেষজ্ঞরা শুধুমাত্র পরীক্ষার চাপ নয়, বরং ব্যর্থতার ভয়, বাবা-মায়ের চাপ এবং পারফরম্যান্স সংক্রান্ত উদ্বেগ-এর মতো মানসিক চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করতেও শিক্ষার্থীদের পথনির্দেশ দেবেন। এছাড়াও পরীক্ষার সময় স্বাস্থ্যকর রুটিন, পুষ্টি এবং রিল্যাক্সেশন বা আরামের অভ্যাস বজায় রাখার বিষয়ে পরামর্শও পেয়ে থাকবেন।

  • Ramakrishna 552: “সাপ এঁকে বেঁকে চললেও সাপ; আবার চুপ করে কুণ্ডলি পাকিয়ে থাকলেও সাপ”

    Ramakrishna 552: “সাপ এঁকে বেঁকে চললেও সাপ; আবার চুপ করে কুণ্ডলি পাকিয়ে থাকলেও সাপ”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৬ই অগস্ট

     শ্রীরামকৃষ্ণ, গিরিশ, শশধর পণ্ডিত প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে

    ঠাকুরের অসুখ সংবাদ কলিকাতার ভক্তেরা জানিতে পারিলেন। আলজিভে অসুখ হইয়াছে সকলে বলিতেছেন।

    রবিবার, ১৬ই অগস্ট, ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দ; (১লা ভাদ্র, ১২৯২)। শুক্লা ষষ্ঠী। অনেক ভক্ত তাঁহাকে দর্শন করিতে আসিয়াছেন—গিরিশ, রাম, নিত্যগোপাল, মহিমা চক্রবর্তী, কিশোরী (গুপ্ত), পণ্ডিত শশধর তর্কচুড়ামণি প্রভৃতি।

    ঠাকুর পূর্বের ন্যায় আনন্দময়, ভক্তদের সঙ্গে কথা কহিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—রোগের কথা মাকে বলতে পারি না। বলতে লজ্জা হয়।

    গিরিশ—আমার নারায়ণ ভাল করবেন।

    রাম—ভাল হয়ে যাবে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—(সহাস্যে)—হাঁ, ওই আশীর্বাদ কর। (সকলের হাস্য)

    গিরিশ নূতন নূতন আসিতেছেন, ঠাকুর তাঁহাকে বলিতেছেন, “তোমার অনেক গোলের ভিতর থাকতে হয়, অনেক কাজ; তুমি আর তিনবার এসো।” এইবার শশধরের সঙ্গে কথা কহিতেছেন।

    শশধর পণ্ডিতকে উপোদেশ — ব্রহ্ম ও আদ্যাশক্তি অভেদ 

    শ্রীরামকৃষ্ণ (শশধরের প্রতি) — তুমি আদ্যাশক্তির কথা কিছু বল।

    শশধর (Kathamrita)— আমি কি জানি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — একজনকে একটি লোক খুব ভক্তি করে। সেই ভক্তকে তামাক সাজার আগুন আনতে বললে; তা সে বললে, আমি কি আপনার আগুন আনবার যোগ্য? আর আগুন আনলেও না! (সকলের হাস্য)

    শশধর—আজ্ঞা, তিনিই নিমিত্ত কারণ, তিনিই উপাদান কারণ। তিনিই জীব জগৎ সৃষ্টি করেছেন, আবার তিনিই জীবজগৎ হয়ে রয়েছেন; যেমন মাকড়সা, নিজে জাল তৈয়ার করলে (নিমিত্ত কারণ); আর সেই জাল নিজের ভিতর থেকে বার করলে (উপাদান কারণ)।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—আর আছে যিনিই পুরুষ তিনিই প্রকৃতি, যিনিই ব্রহ্ম তিনিই শক্তি। যখন নিষ্ক্রিয়, সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় করছেন না, তখন তাঁকে ব্রহ্ম বলি, পুরুষ বলি; আর যখন ওই সব কাজ করেন তখন তাঁকে শক্তি বলি, প্রকৃতি বলি। কিন্তু যিনিই ব্রহ্ম তিনিই শক্তি, যিনিই পুরুষ তিনিই প্রকৃতি হয়ে রয়েছেন। জল স্থির থাকলেও জল, আর হেললে দুললেও জল। সাপ এঁকে বেঁকে চললেও সাপ; আবার চুপ করে কুণ্ডলি পাকিয়ে থাকলেও সাপ।

    শ্রীরামকৃষ্ণ ব্রহ্মজ্ঞানের কথায় সমাধি — ভোগ ও কর্ম 

    “ব্রহ্ম কি তা মুখে বলা যায় না, মুখ বন্ধ হয়ে যায়। নিতাই আমার মাতা হাতি! নিতাই আমার মাতা হাতি! এই কথা বলতে বলতে শেষে আর কিছুই বলতে পারে না; কেবল বলে হাতি! আবার হাতি হাতি বলতে বলতে ‘হা’। শেষে তাও বলতে পারে না! বাহ্যশূন্য।”

    এই কথা বলিতে (Kathamrita) বলিতে ঠাকুর সমাধিস্থ! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই সমাধিস্থ।

    সমাধিভঙ্গের পর কিয়ৎকাল পরে বলিতেছেন, ‘ক্ষর’ ‘অক্ষরের’ পারে কি আছে মুখে বলা যায় না। সকলে চুপ করিয়া আছেন, ঠাকুর আবার বলিতেছেন, “যতক্ষণ কিছু ভোগ বাকি থাকে কি কর্ম বাকি থাকে, ততক্ষণ সমাধি হয় না।

    (শশধরের প্রতি)—“এখন ঈশ্বর (Ramakrishna) তোমায় কর্ম করাচ্ছেন, লেকচার দেওয়া ইত্যাদি; এখন তোমায় ওই সব করতে হবে।

    “কর্মটুকু শেষ হয় গেলে আর না। গৃহিণী বাড়ির কাজকর্ম সব সেরে নাইতে গেলে ডাকাডাকি করলেও আর ফেরে না।”

  • I-PAC: অবৈধ কয়লা খনন  ও আর্থিক দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে কীভাবে ইডির নজরে আই-প্যাক?

    I-PAC: অবৈধ কয়লা খনন ও আর্থিক দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে কীভাবে ইডির নজরে আই-প্যাক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা ও দিল্লিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে, তা নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। এই অভিযানের কেন্দ্রে নাম উঠে এসেছে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (I-PAC) এবং সংস্থার অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের নাম।

    ইডির বক্তব্য

    ইডি তাদের একটি প্রেস রিলিজে পরিষ্কার জানিয়েছে, এই তল্লাশি কোনও রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং অবৈধ কয়লা খনন ও অর্থপাচার (Coal Mining Corruption Cases) সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের অংশ হিসেবেই চালানো হয়েছে। মামলাটি আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুযায়ী তদন্ত চলছিল। সকাল থেকেই শুরু হওয়া এই অভিযানে কলকাতা ও দিল্লির একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। আই প্যাক (I-PAC) এর অফিস, প্রতীক জৈনের বাসভবন – সব মিলিয়ে প্রায় ন’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ইডির এই অভিযান।

    অবৈধ কয়লা খননের সূত্রপাত (Coal Mining Corruption Cases)

    এই মামলার সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলা এবং তার সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (Coal Mining Corruption Cases)-এর খনন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন ও চোরাচালান চলছিল। এই চক্রে রেলওয়ে, সিআইএসএফ-সহ বিভিন্ন দফতরের কিছু অসাধু কর্মীর যোগসাজশ ছিল। অবৈধভাবে উত্তোলিত কয়লা পরে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বিক্রি করার চক্র চলত। হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ২,৭৪২ কোটি টাকার কয়লা এভাবে পাচার হয়েছে বলে অনুমান।

    এই সিন্ডিকেটের মূল মাথা হিসেবে একাধিকবার উঠে আসে অনুপ মজির নাম। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ২০০০ সাল থেকে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে সিবিআই এই মামলায় হস্তক্ষেপ করে এবং তদন্ত আরও জোরদার হয়।

    অর্থপাচারের পথে আই প্যাক (I-PAC)-এর নাম

    তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্ক। ইডির দাবি, অবৈধ কয়লা বিক্রির টাকা বিভিন্ন হাওলা অপারেটরের মাধ্যমে ঘুরে বেড়িয়েছে এবং সেই লেনদেনের একটি বড় অংশ আই প্যাক (I-PAC)-এর কাছেও আসে। এই অবৈধ আর্থিক লেনদেনের কারণেই ইডির নজরে আসে। ইডির দাবি, এই অর্থ কীভাবে, কোন পরিষেবার বিনিময়ে এবং কোন চুক্তির আওতায়  প্রতীক জৈনের কাছে এসেছে – তা যাচাই করতেই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

    ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী, রাজনৈতিক বিতর্ক

    তল্লাশি চলাকালীন পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এবং তিনি প্রকাশ্যে এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রীয় সংস্থা রাজ্যের শাসক দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ও নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে। প্রতীক জৈন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত কাজ দেখতেন, ফলে ইডির তল্লাশি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই প্রতিফলন।”

    ইডির পাল্টা অবস্থান

    ইডি অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ।  স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও প্রমাণনির্ভর। কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে না। তল্লাশির সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল তথ্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে।

    রাজনীতি ও তদন্ত – দুটোর মাঝখানে  আই প্যাক

    অবৈধ কয়লা খনন ও অর্থপাচার মামলার (Coal Mining Corruption Cases) তদন্ত থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনা এখন স্পষ্টভাবেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার আর্থিক তদন্ত, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া-সব মিলিয়ে  আই প্যাক-এর নাম জড়িয়ে পড়ায় এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং এই অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রকৃত ছবি কতটা স্পষ্ট হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

  • JP Nadda: নতুন কমিটি ঘোষণার পর রাজ্যে দলীয় নেতাদের উজ্জীবিত করতে কলকাতায় সর্ব ভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা

    JP Nadda: নতুন কমিটি ঘোষণার পর রাজ্যে দলীয় নেতাদের উজ্জীবিত করতে কলকাতায় সর্ব ভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেছেন। হাতে গোনা কয়েকমাস পরেই নির্বাচন। তাই দলকে সম্পূর্ণ ভাবে লড়াইয়ের ময়দানে নামাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত তৎপর। বিজেপির সর্বভারতীয় রাষ্ট্রীয় সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা (JP Nadda) বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি, কলকাতায় রাজ্য বিজেপির দলীয় নেতাদের উজ্জীবিত করতে শহরে এসেছেন। দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে পরাজিত করতে দলের প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করতে তিনি দুদিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন।

    স্বাগত জানান শুভেন্দু-শমীক (JP Nadda)

    বিজেপি বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal BJP) বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সাভপতি শমীক ভট্টাচার্য বিমানবন্দরে নাড্ডা স্বাগত জানান। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গতিশীল নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য নাড্ডাজীর দূরদর্শিতা আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করবে।” উল্লেখ্য গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতা সফরে এসেছিলেন। তিনি বিজেপির নেতাদের ২০০ টি আসন জয়ের লক্ষ্য মাত্রা ঠিক করে দিয়েছেন।

    তাঁর সফরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে

    • দলের (West Bengal BJP) পশ্চিমবঙ্গ ইউনিটের কোর কমিটির বৈঠক।
    • বিভিন্ন জেলা-স্তরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়।
    • বিজেপির ডক্টরস সেলের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
    • নির্বাচনের আগে দলের মাঠ-স্তরের কর্মীদের কাছ থেকে মতামত (ফিডব্যাক) গ্রহণ এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা।

    দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ৯ই জানুয়ারি নাড্ডা (JP Nadda) তাঁর কেন্দ্রীয় মন্ত্রক-সম্পর্কিত সরকারি দফতরের বেশ কিছু বৈঠকগুলিতে যোগ দেবেন। এই দিন তিনি যে যে জায়গা পরিদর্শন করবেন তার মধ্যে হল–

    • কলকাতার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট (CNCI) পরিদর্শন করবেন।
    • নদিয়া জেলার কল্যাণী এইমস-এ (AIIMS Kalyani) ডিপার্টমেন্ট অফ রেডিয়েশন অনকোলজি, ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রমা অ্যান্ড এমার্জেন্সি মেডিসিন, এবং নিউম্যাটিক টিউব সিস্টেমের উদ্বোধন করবেন।
  • Election Commission: ভিন্‌রাজ্যে থাকা ভোটারদের আসতে হবে না শুনানিতে, নতুন পরিকল্পনা কমিশনের

    Election Commission: ভিন্‌রাজ্যে থাকা ভোটারদের আসতে হবে না শুনানিতে, নতুন পরিকল্পনা কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের এসআইআর-এর (SIR) কাজে শুনানি পর্বে এখন নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক ভোটারকে শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত নথি নিয়ে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও, বাইরের রাজ্য বা বিদেশে থাকা ভোটার এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শুনানিতে পরিযায়ী শ্রমিক-সহ রাজ্যের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের আসতে হবে না। এমনটাই জানালো নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নথি পাঠালেও তা গৃহীত হবে (Election Commission)

    কমিশনের তরফে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বাইরে থাকা শুনানিতে (SIR) নোটিশ দেওয়া ব্যক্তিদের আর আসতে হবে না। তাঁদের জন্য পোর্টাল বা হোয়াট্‌সঅ্যাপ নম্বর চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর পর্বের দ্বিতীয় ধাপে কমিশন সূত্রে এমনটাই পরিকল্পনার কথা জানা গিয়েছে। পোর্টালে লগইন করে নথি আপলোড করলেই হবে। বিএলও-র হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নথি পাঠালেও তা গৃহীত হবে। পরের ধাপে প্রাপ্ত নথি খতিয়ে দেখা হবে। তারপর চূড়ান্ত তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম তোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এফআইআর-ও করা হতে পারে

    একইভাবে রাজ্যের বাইরে থাকা ব্যক্তিরা অনলাইনে নাম তুলতে চাইলে ওই ব্যবহার করা হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোথায় কাজ করেন, কী কাজ করেন সেই তালিকাও দিতে হবে। তবে কাদের কাদের শুনানি হবে তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুথ লেভেল অফিসাররা এই সব ভোটারকে শুনানি কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করতে যেতে পারবেন না। এমনকি ভুল বার্তা দিলে পরে এফআইআর-ও করা হতে পারে।

    তবে এসআইআরের (SIR) শুনানি পর্বে বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। শুনানি পর্বের ক্ষেত্রে অনাবাসী কোনও ভারতীয়কে নোটিস পাঠানো হলে তিনি সেই দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে নিজের পাসপোর্ট ভিসা সংক্রান্ত তথ্য জমা দিলেই সমস্যার সমাধান হবে।

  • Suvendu Adhikari: “ইডির উচিত আইন মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ নেওয়া”, তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “ইডির উচিত আইন মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ নেওয়া”, তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের আই প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযানকে আটকাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই অভিযানের সময় একই ভাবে বাড়িতে যান সিপি মনোজ ভর্মা। এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন সবুজ ফাইল হাতে মমতা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। কিন্তু পাল্টা মমতার বিরুদ্ধ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

    আগেও হস্তক্ষেপ করেছেন মমতা (Suvendu Adhikari)!

    দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলায় আই প্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি করতে যান। এমন সময়ে আচমকা তদন্তকে আটকাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) উপস্থিত হন। এরপর সোজা ঢুকে সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বেড়িয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অমিত শাহকে তোপ দেগে বলেন, “দলের রণনীতি, পরিকল্পনা, প্রার্থী তালিকা, হার্ডডিস্ক সব কিছুকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিজেপি।” এরপর পাল্টা মমতাকে আক্রমণ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “ইডির উচিত আইন মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ নেওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে এর আগেও হস্তক্ষেপ করেছে। ২০২১ সালে তিনি নিজাম প্যালেসে ধরনা দিয়েছিলেন। ফিরাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্রদের গ্রেফতারির প্রতিবাদে। তারও আগে সারদা মামলায় রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। সিপিকে নিয়ে ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছিলেন।”

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ!

    আর্থিক দুর্নীতি মামলা বিষয়ে মমতার সরাসরি হস্তক্ষেপর বিষয়ে তোপ দেগে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের কাজ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ ও তদন্তে বাধা দেন। একজন মুখ্যমন্ত্রী কেবল রাজনৈতিক নেতানেত্রী নন, তিনি একজন প্রশাসনিক প্রধান। ইডির উচিত নিজের আইনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলা। মুখ্যমন্ত্রী এবং সিপির এই যাওয়াটা সম্পূর্ণ ভাবে অসাংবিধানিক, অনৈতিক এবং তদন্তে বাঁধা প্রধান করা।” তবে এদিনের তদন্তে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে।

  • ED: আইপ্যাক কর্তার বাড়িতে ইডির হানা, সেখান থেকে ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে বেরোলেন মমতা! কী রয়েছে তাতে?

    ED: আইপ্যাক কর্তার বাড়িতে ইডির হানা, সেখান থেকে ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে বেরোলেন মমতা! কী রয়েছে তাতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘লাল ডায়েরি’র পর এবার ‘সবুজ ফাইল’! ঘটনাচক্রে দু’টি ঘটনায়ই ঘটেছে তৃণমূল জমানায় (Mamata Banerjee)। দুই চিটফান্ড সংস্থা রোজভ্যালি এবং সারদার শীর্ষ কর্তাদের কাছ থেকে ইডি (ED) বাজেয়াপ্ত করেছিল লাল রংয়ের দুটি ডায়েরি। সেগুলিতে ঠিক কী ছিল, তা জানা না গেলেও, এটা জানা গিয়েছে ডায়েরি দু’টিতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন, রাজনৈতিক সংযোগ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম লেখা ছিল।

    চর্চায় সবুজ ফাইল (ED)

    সময়ের শ্যাওলা লাগায় লাল ডায়েরির রং যখন ফিকে হয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই চর্চায় চলে এল সবুজ ফাইল। এবং সেই ফাইল সরিয়ে নিয়ে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেরা যাক, মূল খবরে। বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাকের অফিসে হানা দেয় ইডি। দিল্লির আর্থিক প্রতারণা মামলায় ওই সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। ইডির অভিযান শুরু হতেই দ্রুত প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। হনহনিয়ে ঢুকে যান বাড়ির ভেতরে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি যখন ওই বাড়ি থেকে বের হন, তখন তাঁর হাতে ধরা একটি সবুজ ফাইল। সেই ফাইলে কী রয়েছে, তা জানাজানি হওয়ার আগেই সেটি চলে যায় তৃণমূল সুপ্রিমোর জিম্মায়। পরে, সেক্টর ফাইভেও পৌঁছে যান মমতা। সেখানে আইপ্যাকের দফতরে ইডি হানার মাঝেই তিনি ফাইল বের করেন বলে খবর।

    কেন সবুজ ফাইল নিয়ে চলে গেলেন মমতা

    কেন তিনি বেছে বেছে সবুজ ফাইলটিই সরিয়ে নিয়ে তড়িঘড়ি এলাকা (ED) ছেড়ে চলে গেলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। মমতা বলেন, “প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা। আইটি ইনচার্জের বাড়িতে সব হার্ডডিস্ক সংগ্রহ করতে এসেছিল। সব প্রার্থীর তালিকা, পার্টির প্ল্যান, স্ট্র্যাটেজি সংগ্রহ করতে এসেছিল।” তাঁর প্রশ্ন, “এটাই কি অমিত শাহের কাজ যে আমার দলের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এসেছে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন (Mamata Banerjee), “দেশকেই রক্ষা করতে পারে না! আমার আইনি অফিসে ইডি হানা।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক দিকে এসআইআর করে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে, প্রায় দেড় কোটি মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আর একদিকে এভাবে তল্লাশির মাধ্যমে দলের প্ল্যান হাতিয়ে নিচ্ছে।” ফাইল ‘সরানো’র সাফাই গাইতে গিয়ে মমতা বলেন, “দেখুন, আমি সব এই ফাইলে করে নিয়ে এসেছি। কারণ প্রতীক আমার পার্টির ইনচার্জ। সব হার্ড ডিস্ক আমি গুছিয়ে নিয়ে এসেছি।” কেন্দ্রীয় একটি তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি অভিযানের সময় কেন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গেলেন, কেনই বা তড়িঘড়ি করে সবুজ ফাইল বেছে নিয়ে চলে গেলেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। নজিরবিহীন এই ঘটনায় তাজ্জব তামাম রাজ্যবাসী (ED)।

    রাজীবের বাড়ির সামনে ধরনা

    যদিও তৃণমূলের আমলে এমনতর ঘটনা আগেও ঘটেছে (Mamata Banerjee)। একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখন রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন, তখন তার প্রতিবাদে রাজীবের বাড়ির সামনে ধরনায় বসে পড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একজন প্রশাসনিক প্রধান কীভাবে একাজ করতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল সেই সময়। এদিন, মমতা যখন সবুজ ফাইলটি নিয়ে বেরিয়ে আসছেন, তার পিছু পিছু আরও বেশ কিছু ফাইলের গোছা নিয়ে বেরিয়ে আসেন পুলিশ কর্মীরা। সেগুলি রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে।

    আইপ্যাকের দফতরে মমতা পৌঁছনো

    এদিন সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে মমতা পৌঁছনোর ঢের আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীরা। এঁদের মধ্যে ছিলেন, বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুও। ভিআইপি লিফট না ধরে মুখ্যমন্ত্রী বেসমেন্টে গিয়ে লিফট ধরে সোজা চলে যান সেক্টর ফাইভের একটি বহুতলের ১১ তলায়। এই বেসমেন্টের সামনেই রাখা ছিল মমতার গাড়ি। সেই গাড়িতেই তোলা হল সমস্ত ফাইল। সল্টলেকে যখন মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন, তখন দেখা যায়, গোটা এলাকাটি ঘিরে রেখেছেন বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পদস্থ কর্তারা। এই পুরো পর্বটি চলার সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে চলে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও (ED)।

    আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চালানোর সময় বহুতলটির প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ সিল করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী যখন সেখানে পৌঁছন, তখন দেখা যায় দু’টি দরজাই বন্ধ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কথা না বাড়িয়ে বেসমেন্ট দিয়ে লিফটে চড়ে মুখ্যমন্ত্রী সটান চলে যান ১১ তলায়, আইপ্যাকের দফতরে। ইডির দল আইপ্যাকের দফতরে যখন থেকে তল্লাশি শুরু করে তখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছিল। তার পরেই সেখানে বাহিনী বাড়াতে শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারটেও। মমতা যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যাও আরও বাড়ে (Mamata Banerjee)। পাল্লা দিয়ে বাহিনী বাড়ায় বিধাননগর পুলিশ (ED)।

  • US Russia Cold War: আটলান্টিকে রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার আটক মার্কিন সেনার, ফের কি ঠান্ডাযুদ্ধের পর্বে ফিরছে আমেরিকা-রাশিয়া?

    US Russia Cold War: আটলান্টিকে রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার আটক মার্কিন সেনার, ফের কি ঠান্ডাযুদ্ধের পর্বে ফিরছে আমেরিকা-রাশিয়া?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের কি ঠান্ডাযুদ্ধের পর্বে ফিরছে আমেরিকা-রাশিয়া? আপাতত এমনই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে বিশ্ব রাজনৈতিক মহলে। রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে জ্বালানি ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত চলছে, তার জেরে এবার সমুদ্রে এক নয়া এবং বিস্ফোরক মাত্রা যোগ হল (US Russia Cold War)।

    রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া

    রুশ (Putin) পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ মারিনেরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করার সময় মার্কিন কোস্ট গার্ড তাতে উঠে অভিযান চালায় (Oil Tanker Seizure)। বুধবার মস্কো (রাশিয়ার রাজধানী) এই ঘটনার নিন্দে করেছে কড়া ভাষায়। ঘটনাটিকে তারা অবৈধভাবে আটক বলে বর্ণনা করেছে। রুশ সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়া সরকারের বক্তব্য, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এই অভিযান চালানো হয়। টানা দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ধাওয়া করার পর আটক করা হয় জাহাজটিকে।

    বেলা ১

    জাহাজটির আগের নাম ছিল বেলা ১। আমেরিকার দাবি, জাহাজটি ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহণের একটি নেটওয়ার্কের অংশ। এই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘শত্রুভাবাপন্ন’ সরকারগুলির তৈলক্ষেত্র থেকে আয় বন্ধ করার কৌশলের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে অনুমান (US Russia Cold War)। এক্ষেত্রে মস্কোর প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত ও কঠোর। রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মারিনেরা জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে খোলা সমুদ্রে, কোনও দেশের আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে, যা ১৯৮২ সালে স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন (UNCLOS)-এর সরাসরি লঙ্ঘন। বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ মস্কোর সময় বিকেল প্রায় ৩টায়, মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটিতে ওঠে (Tensions Rise)। এরপর জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”

    রাশিয়ার বক্তব্য

    মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাহাজটিকে রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রীয় পতাকার অধীনে চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা রাশিয়ার জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড মেনেই দেওয়া হয়েছিল (Putin)।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নৌচলাচলের স্বাধীনতা, নিষেধাজ্ঞা রাজনীতি এবং সমুদ্রপথে শক্তি প্রদর্শন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাশিয়া সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অন্য কোনও দেশের অধিক্ষেত্রে আইনগতভাবে নিবন্ধিত কোনও জাহাজের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করার অধিকার কোনও রাষ্ট্রের নেই। মার্কিন অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রক। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেমারিনেরা  জাহাজকে ঘিরে তৈরি পরিস্থিতি “অস্বাভাবিক”। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনেই রুশ পতাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করছিল জাহাজটি (Tensions Rise)।

    জাহাজটি আটক করার চেষ্টা হয়েছে আগেও

    রুশ কূটনৈতিক মহলের অভিযোগ, “আমরা জানি না কী কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনাবাহিনী একটি অসামরিক জাহাজকে ঘিরে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন কোস্ট গার্ড ওই জাহাজটির পিছু নিয়েছিল। এটি পশ্চিমি দেশগুলির ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা’র দাবির সম্পূর্ণ পরিপন্থী (Putin)। রুশ বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, “যে পশ্চিমি দেশগুলি উচ্চ সমুদ্রে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার কথা জোর দিয়ে বলে, তাদেরই আগে এই নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।” মারিনেরা জাহাজের গল্প শুধু পতাকা বদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিষয়টি তার চেয়েও অনেক জটিল (Tensions Rise)। এই তেল ট্যাঙ্কারটি ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অপরিশোধিত তেল পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রথমবার জাহাজটিকে আটকানোর চেষ্টা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

    জাহাজ ধরতে কৌশলী পদক্ষেপ

    পিছু ধাওয়া করার সময় জাহাজের ক্রু একাধিক কৌশলী পদক্ষেপ নেন। তাঁরা জাহাজটির গায়ে রুশ পতাকা আঁকেন, জাহাজের নাম বদলে ফেলেন এবং রুশ রেজিস্ট্রিতে নিজেদের নিবন্ধিত দেখানোর জন্য নথিপত্রও বদলায় (Putin)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ চলাচলের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন কর্তারা জানান, পুরো অভিযানটি কোনও ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। অভিযানের সময় জাহাজের ক্রুরা কোনও শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করেননি এবং আশপাশে কোনও রুশ নৌযানও দেখা যায়নি। তবে মারিনেরা  জাহাজটির পেছনে পর্দার আড়ালে এক নীরব সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মস্কো। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রুশ নৌবাহিনী অন্তত একটি পারমাণবিক সাবমেরিন ও একাধিক যুদ্ধজাহাজ দিয়ে ওই তেলবাহী ট্যাঙ্কারটিকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে এই অভিযান বন্ধ করার আহ্বানও জানানো হয় (Tensions Rise)।

    আর্জেন্টিনার সাংবাদিকের দাবি

    আর্জেন্টিনার সাংবাদিক নাচো মন্তেস দে ওকার দাবি, রুশ সাবমেরিনটি মারিনেরা জাহাজকে আইসল্যান্ডের দক্ষিণ দিক দিয়ে নর্থ সি-তে পৌঁছে দেয়। এক্স হ্যান্ডেলে মন্তেস দে ওকা লেখেন, “সংবেদনশীল কোনও পণ্য ছাড়াই চলাচল করছিল জাহাজটি। তবুও এটি মার্কিন অবরোধের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধের এক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।” মারিনেরা অভিযানের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। এটি মূলত নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলির অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য নিষ্ক্রিয় করতে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা বৈশ্বিক সামুদ্রিক অভিযানের অংশ। ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, গত ডিসেম্বরের পর থেকে মার্কিন সাদার্ন কমান্ড এই ধরনের তৃতীয় অভিযান চালাল।

    চাপ আরও বাড়িয়েছে হোয়াইট হাউস

    মারিনেরা আটক হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে আর একটি জাহাজ আটকের কথা ঘোষণা করে। ওই জাহাজটিও তথাকথিত “ঘোস্ট ফ্লিট”-এর সঙ্গে যুক্ত, যেগুলি ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণ করে এবং পতাকা পরিবর্তন ও ভুয়া নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করে (Putin)। এই সব অভিযান এমন একটা সময়ে ঘটছে, যখন ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে হোয়াইট হাউস। নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কে আটক রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে নার্কো-সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে (Tensions Rise)।কারাকাস সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলির ওপর নিষেধাজ্ঞাকে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক অবরোধ বা ‘ইকোনমিক স্ট্র্যাঙ্গুলেশন’ কৌশল হিসেবে তুলে ধরছে। তবে রাশিয়া-সহ একাধিক দেশ এই পদক্ষেপকে আধুনিক জলদস্যুদের কাজকর্মের সঙ্গে তুলনা করছে।

    আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সীমা

    ‘মারিনেরা’ জাহাজকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই ঘটনা শুধু আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সীমা পরীক্ষা করছে না, বরং স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিশ্বশক্তিগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ এখন সমুদ্রপথেও বিস্তৃত হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, মার্কিন অভিযানের মধ্যেই আটলান্টিক মহাসাগরে একটি রুশ পারমাণবিক সাবমেরিনের উপস্থিতি ন্যাটো জোটের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও ন্যাটো সরাসরি কোনও পদক্ষেপ করেনি। যদিও মস্কোর স্পষ্ট বার্তা, নিজেদের জ্বালানি ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথও তারা খোলা রাখছে (Tensions Rise)। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে, ‘মারিনেরা’ জাহাজ আটক করা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতিরই অংশ। এর পাশাপাশি, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলিকে সাহায্য করা অবৈধ তৈল বাণিজ্য নেটওয়ার্ক ভাঙাও এই অভিযানের লক্ষ্য (Putin)।

    শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ

    এদিকে, রাশিয়ার মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন ও সামুদ্রিক শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব আটলান্টিক অঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত একাধিক ভূ-রাজনৈতিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার ওই জাহাজটিকে ২০২৪ সালেই ওয়াশিংটনের কালো তালিকাভুক্ত হয়। মার্কিন আধিকারিকরা জানান, গত ডিসেম্বরে জাহাজটি মার্কিন কোস্ট গার্ডের তল্লাশিতে বাধা দেয়। এরপর আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এটি নিজের নাম পরিবর্তন করে, রাশিয়ার নিবন্ধনে যায় এবং জাহাজের গায়ে রুশ পতাকা আঁকে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চল ছাড়ার পর দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনা বাহিনী জাহাজটিকে অনুসরণ করে। জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করার কিছু আগে জাহাজটি স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি জায়গায় ছিল (Tensions Rise)।

    পূর্বপরিকল্পিত অপারেশনাল সহায়তা

    অন্যদিকে, ব্রিটেনের তরফে জানানো হয়েছে, জাহাজটি আটক অভিযানে তারা আমেরিকাকে পূর্বপরিকল্পিত অপারেশনাল সহায়তা, ঘাঁটি ব্যবহারের সুবিধা-সহ বিভিন্ন সাহায্য দিয়েছে। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণকের বিবৃতিতে বলা হয়, একদিকে ব্রিটিশ নৌযান অভিযানে সাহায্য করার পাশাপাশি রয়্যাল এয়ার ফোর্স আকাশপথে নজরদারি চালিয়েছে। মন্ত্রকের দাবি, পুরো অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। জানা গিয়েছে, অভিযানের সময় রাশিয়া একটি সাবমেরিন ও একাধিক নৌযান জাহাজটির কাছে মোতায়েন করে। এতে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, জাহাজটি রুশ পতাকা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলাচল করছিল এবং মার্কিন জলসীমা থেকে অনেক দূরে থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর অতিরিক্ত নজরদারির মুখে পড়ে।

    রাশিয়ার সাফ কথা

    মস্কোর দাবি, এই জাহাজ আটক অভিযান রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। রাশিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে, “উন্মুক্ত সমুদ্রে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা প্রযোজ্য।” রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটিতে ওঠার পরেই ‘মারিনেরা’ নামের ওই জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় (Putin)। মার্কিন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিকে এই অভিযানের পর ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ভেনেজুয়েলা-যোগাযোগ থাকা আরও একটি তেলবাহী জাহাজ ‘সোফিয়া’কে আটক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তেল নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর রাখার বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন (Tensions Rise)।

  • GDP Growth Rate: মার্কিন শুল্ক-চাপের মধ্যেও আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল থাকবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি

    GDP Growth Rate: মার্কিন শুল্ক-চাপের মধ্যেও আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল থাকবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্য যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চড়া শুল্ক নীতির কারণে চাপে রয়েছে, ঠিক সেই সময়েও ভারতের (India) অর্থনীতি আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল গতিতে (GDP Growth Rate) এগিয়ে যাবে বলেই আশা কেন্দ্রীয় সরকারের। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.৪ শতাংশ। এই পূর্বাভাস ভারতের অর্থনীতির দৃঢ়তা ও বহিঃবিশ্বের চাপ মোকাবিলার ক্ষমতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি (GDP Growth Rate)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি না করলেও, তার নেতিবাচক প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারবে না বলেই কেন্দ্রের ধারণা। সরকারের মতে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা এবং আর্থিক সংস্কারের ফলে ভারত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে ভারত (India)। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারতের এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি অ্যাডভান্স অনুমান। এই হার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) পূর্বাভাস ৭.৩ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে নথিভুক্ত ৭.৩ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে ২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষে দেখা ৯.২ শতাংশের শক্তিশালী বৃদ্ধির তুলনায় এটি এখনও কম (GDP Growth Rate)।

    অ্যাডভান্স জিডিপি অনুমান

    পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) বুধবার প্রকাশ করেছে প্রথম অ্যাডভান্স জিডিপি অনুমান। এই পরিসংখ্যান বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্লুমবার্গের অর্থনীতিবিদদের সমীক্ষায় গড় পূর্বাভাস ছিল ৭.৫ শতাংশ, যা সরকারি অনুমানের খুব কাছাকাছি (India)। সরকারি আধিকারিকরা জানান, ভবিষ্যতে এই সংখ্যাগুলি সংশোধিত হতে পারে। কারণ, জিডিপি গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এই পরিবর্তনের প্রভাব ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে এবং চূড়ান্ত জিডিপি তথ্য অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে।

    বিনিয়োগেও গতি আসার সম্ভাবনা

    নমিনাল বা নামমাত্র হিসেবে ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ হতে পারে, যেখানে তার আগের অর্থবর্ষে এই হার ছিল ৯.৭ শতাংশ। রিয়েল গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড বা জিভিএ (GVA) বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৩ শতাংশ, যা আগের বছরের ৬.৪ শতাংশের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে, নমিনাল জিভিএ বৃদ্ধির হার অনুমান করা হয়েছে ৭.৭ শতাংশ (India)। ভারতের মোট জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে থাকা ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে ৭ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য ধীরগতির। সরকারি ব্যয় ৫.২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এটি গত অর্থবর্ষের ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি (GDP Growth Rate)। বেসরকারি বিনিয়োগেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে এই খাতে বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ হতে পারে।

    ম্যানুফ্যাকচারিং খাত

    উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত, যা জিডিপির ক্ষেত্রে প্রায় ১৩ শতাংশ অবদান রাখে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে বাড়তে পারে  ৭ শতাংশ হারে। এটি আগের বছরের ৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় বড়সড় উন্নতি। নির্মাণ খাতের বৃদ্ধি ৭ শতাংশে নামতে পারে, যেখানে আগের বছর এই হার ছিল ৯.৪ শতাংশ (India)। কৃষি খাতে বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৩.১ শতাংশ। এই খাত ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান জোগায় এবং ইঙ্গিত দিচ্ছে স্থিতিশীল উৎপাদনের। দেশীয় অর্থনীতির জোরালো বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের রফতানি ক্ষেত্রেও দেখা গেল অপ্রত্যাশিত শক্তি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের পণ্য রফতানি বছরে বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম বৃদ্ধি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চলতি বছরের শুরুতেই প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা (GDP Growth Rate)।

    ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ

    বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা অক্টোবরের তীব্র পতন থেকে বড়সড় ঘুরে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে আমদানি প্রায় ২ শতাংশ কমেছে, মূলত সোনা, তেল ও কয়লার আমদানি হ্রাস পাওয়ায়। এর ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি নেমে এসেছে প্রায় ২৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা জুনের পর সর্বনিম্ন (India)। চড়া শুল্ক সত্ত্বেও ভারতের সবচেয়ে বড় একক রফতানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির নেতৃত্ব দিয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, রত্ন ও গয়না এবং ওষুধ শিল্প (GDP Growth Rate)। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানান, শুল্ক বাধা সত্ত্বেও মার্কিন বাজারে ভারতের রফতানি গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

    চিনে রফতানি

    এদিকে, চিনেও ভারতের রফতানি নজরকাড়াভাবে বেড়েছে। নভেম্বরে চিনে রফতানি ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যার প্রধান চালক ইলেকট্রনিক্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী। স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও তানজানিয়ার মতো দেশেও রফতানি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে ভারতের। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের রফতানির এই স্থিতিস্থাপকতার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস ও কিছু খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় রফতানিকে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি দুর্বল রুপির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্য আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে (GDP Growth Rate)। এছাড়া, গত বছর লোহিত সাগর সংকটের জেরে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধাক্কা লাগায় তুলনামূলক কম ভিত্তির ওপর এবছর বৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে (India)।

    রফতানি বাজার বৈচিত্র্যের ওপর জোর

    ভারত সরকারও রফতানি বাজার বৈচিত্র্যের ওপর জোর দিচ্ছে। ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (EFTA) দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি মেক্সিকো এবং ওমানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। ইউরেশিয়া ও মধ্য এশিয়ার বাজারেও নতুন সুযোগ খুঁজছে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে জিডিপি পূর্বাভাস ও রফতানি তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুল্ক চাপ, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বদলে যাওয়া বাণিজ্য বাস্তবতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল বৃদ্ধির পথে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দিকে (India) এগোতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বৈদেশিক বাণিজ্য – দুই-ই অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে ভরসা জোগাচ্ছে (GDP Growth Rate)।

LinkedIn
Share