Tag: Bengali news

Bengali news

  • I-Pac: আইপ্যাকের অভিযানে দিল্লির সদর দফতরে রিপোর্ট পাঠাল ইডি, মমতার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    I-Pac: আইপ্যাকের অভিযানে দিল্লির সদর দফতরে রিপোর্ট পাঠাল ইডি, মমতার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপ্যাক (I-Pac) অভিযানে বিস্তারিত রিপোর্ট দিল্লির সদর দফতরে পাঠাল ইডি (Enforcement Directorate)। তাতে সাফ জানানো হয়েছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তদন্তের নথি, ল্যাপটপ এবং হার্ডডিক্স ছিনতাই করে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বাহিনী, কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা ঠিক কেমন ছিল বিশদে জানতে চেয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে। আর তার ভিত্তিতেই প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, বিবরণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে ইডি।

    কপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে (I-Pac)

    রাজ্যে কয়লা পাচার এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এবং লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের (I-Pac) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। এই ঘটনার বিস্তৃত বিবরণ দিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপর দিল্লির ইডির (Enforcement Directorate) সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরেও রিপোর্ট পাঠানো হতে পারে।

    ১২ টা ০৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে যান মমতা

    ঘটনার দিনের বিবরণ ইতিমধ্যেই একটি প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে ইডি। কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা করা হয়েছে তা মামলার নথিতে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে। তবে ইডির দাবি, তল্লাশি চলাকালীন জোর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি কেড়ে নিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বেআইনি আর্থিক মামলায় পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির ১০টি জায়গায় তদন্তে বাধার অভিযোগ তুলেছে। সাংবিধানিক ক্ষমতাকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে তাল্লাশি অভিযান চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনতাই করে নিয়ে যান তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। ইতিমধ্যেই তারা আদালতে জানিয়েছে, প্রতীকের (I-Pac) বাড়িতে তল্লাশির সময় একাধিক ডিজিটাল নথি উদ্ধার করা হয়েছে। বেলা ১১ টা নাগাদ কলকাতা পুলিশের সাউথ ডিসি প্রিয়ব্রত রায় লাউডন ষ্ট্রিটের ওই বাড়িতে যান। পুলিশ কর্তার অবশ্য দাবি, ওই বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। পরে অবশ্য ইডির অফিসাররা সকলের পরিচয় এবং তল্লাশির কাগজপত্র দেখান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মনোজ বর্মাও। দুপুর ১২ টা ৫ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। নিজের অধিকার প্রয়োগ করে তদন্তের কাজে বাধা দেন। জোর করে ডিজিটাল নথি তুলে নিয়ে যান। ১২ টা ১৫ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মামলা করা হয়। পৃথকভাবে মামলা করা হয়েছে ইডির (Enforcement Directorate) তরফেও। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন ইডির

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রিপোর্টে ইডির কাছে জানতে চেয়েছে, তল্লাশির (I-Pac) সময় কোন কোন সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছিল তদন্তকারীদের। রাজ্য পুলিশের ভূমিকাই কি ছিল? পুলিশ কতটা সক্রিয় ছিল? কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই সময় কোন দায়িত্ব পালন করেছে। তাল্লাশির পর রাজ্যের শাসকদল কি ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে? এই সব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আইপ্যাক অভিযানের পরের দিনই আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “এই তল্লাশি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল জানার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থা অভিযান চালিয়েছে এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।” অন্য দিকে, তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। ইডি জানিয়েছে, “বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের কোনও যোগ নেই।”

    দুর্নীতির তদন্ত চান না মুখ্যমন্ত্রী?

    তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (Enforcement Directorate) পক্ষ থেকে বলা হয়, “সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জোর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।” ফলে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এবার পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। উল্লেখ্য আগেও তৃণমূলের নেতাদের দুর্নীতি ঢাকতে বিভিন্ন সময়ে ইডি-সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, কাজে বাধা দিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি তদন্তে বাধা দেন তাহলে এই রাজ্যে দুর্নীতিগ্রস্থদের পাশে সরকার এই কথা বলতেই হয়। অন্তত এমনই অভিমত বিজেপির।

  • IPAC: “পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের পরিকল্পিত”, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

    IPAC: “পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের পরিকল্পিত”, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৯ জানুয়ারি কোর্টরুমে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার জেরে ভেস্তে গিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে আইপ্যাক (IPAC) অভিযান হানা নিয়ে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি। হট্টগোল না থামায় এজলাস থেকে বেরিয়ে যান বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এই মমলার পরবর্তী শুনানি হবে দিন সাতেক পরে। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূলকেই নিশানা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের পরিকল্পিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া তৃণমূলের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাটের স্ক্রিনশট তুলে ধরে এই দাবি করা হয়েছে। যদিও সেই স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। শুভেন্দুর দাবি, এটা পরিকল্পনা করেই করেছে তৃণমূল। এই পরিপ্রেক্ষিতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাট ভাইরাল হয়েছে। তাতে লেখা, কোর্ট নম্বর ৫-এ সবাই চলে আসবেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কক্ষে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা।

    বিচারপতির বক্তব্য (IPAC)

    বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানান, আদালতের পরিবেশ শুনানির (Suvendu Adhikari) উপযোগী ছিল না। বিচারপতির বক্তব্য (IPAC), “এজলাসে আইনজীবী থেকে শুরু করে উপস্থিত অন্যরা গোলযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁদের বারবার অনুরোধ করা হয় আদালতের মর্যাদা ও শিষ্টাচার রক্ষা করার জন্য। কিন্তু সেই অনুরোধ কারও কানে পৌঁছয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আদালত মুলতুবি করা হল। আগামী ১৪ জানুয়ারি নতুন করে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হল।” কথাগুলি বলেই এজলাস ছেড়ে চলে যান বিচারপতি।

    কবুল কল্যাণের

    এদিন তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করার কথা ছিল আইনজীবী তথা তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনিও বলেন, “খুব হইচই হচ্ছিল। বিচারপতি বলেছেন, ওই পরিবেশে তিনি শুনানি করেন না।” যদিও রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দাবি, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এজলাসে ভিড় করে রাখা হয়েছিল। আর সেটা করেছিল তৃণমূল। শাসক দল অবশ্য সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে যে অর্ডার কপি সামনে এসেছে, তাতে বিচারপতি নিজে জানিয়েছেন শুক্রবার কোর্টরুমের ভেতরে ঠিক কী হয়েছিল।

    প্রসঙ্গত, হাইকোর্টে শুনানি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় (Suvendu Adhikari) শনিবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আবেদন করেছে ইডি। যদিও তার আগেই রাজ্যের তরফে ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে (IPAC)।

  • Pakistan: “অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানে সাংবিধানিক বদল, ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি”, বললেন অনিল চৌহান

    Pakistan: “অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানে সাংবিধানিক বদল, ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি”, বললেন অনিল চৌহান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পাকিস্তানে (Pakistan) সম্প্রতি যে পরিবর্তনগুলি আনা হয়েছে, বিশেষ করে তড়িঘড়ি করে করা সংবিধান সংশোধন, তা আসলে অপারেশন সিঁদুরে (Operatin Sindoor) তাদের ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি।” কথাগুলি বললেন ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান। পুনে পাবলিক পলিসি ফেস্টিভ্যালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “পাকিস্তানে যে পরিবর্তনগুলি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে তড়িঘড়ি করে সংবিধান সংশোধন। এসবই স্পষ্ট করে দেয় যে এই অভিযানে তাদের সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। তারা বহু ঘাটতি ও ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে।”

    কী বললেন সিডিএস? (Pakistan)

    সিডিএস আরও বলেন, “‘অপারেশন সিঁদুর’ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়নি, আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।” পাকিস্তানের সংবিধানের ২৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে সে দেশের উচ্চস্তরের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও জানান জেনারেল চৌহান। তিনি বলেন, “এই পরিবর্তন ভারতের জন্য, বিশেষ করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি পরিবর্তনগুলিকে সংক্ষেপে বলা যায়, তবে প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, ‘চেয়ারম্যান, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ পদটি তুলে দেওয়া হয়েছে।” এই পদটি মূলত তৈরি করা হয়েছিল তিনটি সেনা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে (Pakistan)। কিন্তু এখন (Operatin Sindoor) সেই পদটি বাতিল করে তার পরিবর্তে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (CDF)’ নামে একটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে সিডিএস বলেন, “এই পরিবর্তনগুলি আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।”

    অপারেশন সিঁদুর

    অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিডিএস। বিশেষ করে হায়ার ডিফেন্স অর্গানাইজেশনের ক্ষেত্রে এই শিক্ষাগুলি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি (Operatin Sindoor)। সম্প্রতি হওয়া একাধিক সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সিডিএস বলেন, “উরি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ডোকলাম ও গালওয়ান সংঘর্ষ, বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক এবং অপারেশন সিঁদুর, এই সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় সেনাবাহিনী পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন ও উদ্ভাবনী কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করেছে।” সংবাদ মাধ্যমে (Pakistan) দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিডিএস বলেন, “এখন আমাদের লক্ষ্য হল এমন একটি মান্যতাপ্রাপ্ত ও মানসম্মত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা সব ধরনের পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক যে সংশোধনীগুলি আনা হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য হল ফেডারেল কাস্টমস কোর্ট গঠন, যা সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়।

    আর্মি রকেট ফোর্সেস কমান্ড

    পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সিডিএস বলেন, “এর আগেও তারা একটি আর্মি রকেট ফোর্সেস কমান্ড গঠন করেছে। প্রচলিত ও কৌশলগত—দু’দিক থেকেই এটি তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে (Operatin Sindoor)। মূলত নতুন এই কাঠামোগুলির মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “বর্তমানে পাকিস্তানে সেনাপ্রধান স্থলভিত্তিক অভিযান, নৌ ও বায়ুসেনার সঙ্গে যৌথ অভিযানের পাশাপাশি কৌশলগত ও পরমাণু সংক্রান্ত বিষয়গুলির দায়িত্বে থাকবেন। তার সঙ্গে রকেট ফোর্সেস কমান্ড গঠনের ফলে (Operatin Sindoor) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর যুক্ত হয়েছে। এটি অনেকাংশে স্থলভিত্তিক চিন্তাধারার প্রতিফলন (Pakistan)।”

  • Afghanistan: তালিবান ক্ষমতা দখলের পর প্রথম কূটনৈতিক নিয়োগ, ভারতে নয়া আফগান রাষ্ট্রদূত নূর আহমেদ নূর

    Afghanistan: তালিবান ক্ষমতা দখলের পর প্রথম কূটনৈতিক নিয়োগ, ভারতে নয়া আফগান রাষ্ট্রদূত নূর আহমেদ নূর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তালিবান ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম ভারতে কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগ করল আফগানিস্তান (Afghanistan)। নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাসে কূটনীতিক নূর আহমেদ নূরকে নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছে গিয়ে গ্রহণ করেছেন নয়া দায়িত্ব (Taliban)। নূর আহমেদ নূর এর আগে আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রকে প্রথম রাজনৈতিক পরিচালক পদে ছিলেন।

    ভারত – আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক (Afghanistan)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়োগের মাধ্যমে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করার ইঙ্গিত মিলছে, বিশেষ করে মানবিক সহায়তা ও স্বাস্থ্য খাতে। গত ২০ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী মাওলভি নূর জালাল জালালি বলেছিলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় আফগানিস্তান এখন ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল চাহিদা পূরণে ভারতের দিকে বিকল্প অংশীদার হিসেবে তাকাচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ক্রমশ আফগানিস্তানের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উঠে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল (Afghanistan)।

    জালালির বক্তব্য

    আফগানিস্তান ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার একটি নয়া অধ্যায়ের সূচনা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ প্রতিনিধি জালালি। তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে ভারত আফগানিস্তানের একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে অবদান রেখে চলেছে (Taliban)। জালালির কথায়, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। আমরা সহযোগিতা ও পারস্পরিক কাজের ভিত্তিতে একটি নয়া অধ্যায় খুলতে এখানে এসেছি। তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে ভারত ও আফগানিস্তানের ঘনিষ্ঠতা আরও জোরদার হতে চলেছে, পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে কাবুলের সম্পর্ক এখনও রয়েছে টানাপোড়েনের মধ্যেই (Afghanistan)।

    নয়াদিল্লিতে হু

    নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) গ্লোবাল সামিট অন ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন উপলক্ষে ভারতে এসে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন আফগানিস্তানের এক শীর্ষ প্রতিনিধি। এই সফরের সময় ভারত আফগানিস্তানের প্রতি তাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয় (Taliban)। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ভারত-আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম ভারত সফরে আসেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেই সময় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত সফরটি অত্যন্ত ভালো হয়েছে। শুধু দারুল উলুমের মানুষই নন, গোটা এলাকার মানুষ এখানে উপস্থিত হয়েছেন। আমাকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ (Afghanistan)।”

    আলহাজ নূরউদ্দিন আজিজির ঘোষণা

    গত ২৪ নভেম্বর আফগানিস্তানের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আলহাজ নূরউদ্দিন আজিজি ঘোষণা করেন যে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে (Taliban) দীর্ঘদিনের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হয়েছে। এর ফলে আফগান নাগরিকরা চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভারতীয় ভিসা পেতে পারবেন। পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আজিজি জানান, এই পরিষেবা সহজ করতে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আফগান দূতাবাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি, কাবুলে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও আফগান নাগরিকদের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে (Afghanistan)। এই প্রেক্ষাপটে, নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাসে নূর আহমেদ নূরের নিয়োগ দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন গতি আনতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। মানবিক সহায়তা ও সরকারি স্তরের যোগাযোগের মধ্যে (Taliban) দিয়েই ভারত ও আফগানিস্তান তাদের সম্পর্ক আরও মজবুত করার পথে এগোচ্ছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞমহলের (Afghanistan)।

  • Russia: ইরান হয়ে রেলপথে ভারতকে জুড়ছে রাশিয়া! আমেরিকাকে ‘রামধাক্কা’ দিতেই কি ক্রেমলিনের হাতিয়ার ইস্পাত?

    Russia: ইরান হয়ে রেলপথে ভারতকে জুড়ছে রাশিয়া! আমেরিকাকে ‘রামধাক্কা’ দিতেই কি ক্রেমলিনের হাতিয়ার ইস্পাত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ যেন মেঘ না চাইতেই জল! আমেরিকার দাদাগিরি রুখতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে রাশিয়া (Russia)। সেই কারণেই ইন্টারন্যাশনাল নর্থ–সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর (INSTC)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাশত–আস্তারা রেলপথের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিল ইরান ও রাশিয়া। সংবাদ মাধ্যম সূত্রেই এই খবর মিলেছে।

    ইরান-রাশিয়া বৈঠক (Russia)

    সম্প্রতি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি এবং রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিতালি সাভেলিয়েভের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষই আইএনএসটিসি করিডরকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরান স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে, তারা করিডরটি সক্রিয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আলি লারিজানি বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা সমস্ত বাধা দ্রুত দূর করা হবে।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনি ও পরিচালন সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি কার্যকর করা যায়।

    জমি অধিগ্রহণ

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সরকার চলতি (Russia) ইরানি অর্থবর্ষের শেষ নাগাদ রাশত–আস্তারা রেলপথের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে, যাতে প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে না যায়। এদিকে, রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিতালি সাভেলিয়েভ ইরানের এই দৃঢ় অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “রাশিয়া দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে এবং রেল প্রকল্প শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে, আইএনএসটিসি করিডরের আওতায় সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাশিয়া, ইরান ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আন্তঃসরকারি চুক্তির মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল নর্থ–সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডরের ভিত্তি স্থাপন হয়। বর্তমানে আজারবাইজান, ভারত, ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক-সহ মোট ১৩টি দেশ এই চুক্তি অনুমোদন করেছে (Russia)।

    করিডরের মূল লক্ষ্য

    এই করিডরের মূল লক্ষ্য হল, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে, পাশাপাশি উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপে পণ্য পরিবহণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে এই রুটে ভারতে পণ্য পৌঁছতে সময় লাগে ছ’সপ্তাহের মতো। তবে করিডরটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে এই সময়সীমা কমে মাত্র তিন সপ্তাহে দাঁড়াবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। প্রসঙ্গত, নর্থ–সাউথ আন্তর্জাতিক পরিবহণ করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজভিন–রাশত রেলপথ চালু হয় ২০১৯ সালের ৬ মার্চ। এই রেলপথের মাধ্যমে আজারবাইজানের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরানের রেল যোগাযোগ সুগম হয়েছে। করিডরের পরবর্তী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইরানের ভূখণ্ডে রাশত–আস্তারা রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    নর্থ–সাউথ করিডর

    ইরানের ভেতরে নর্থ–সাউথ করিডরের তিনটি প্রধান দিক রয়েছে। পূর্ব দিকটি তুর্কমেনিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সংযুক্ত। মধ্য দিকটি কাস্পিয়ান সাগর অতিক্রম করে রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। আর পশ্চিম দিকটি আজারবাইজান, জর্জিয়া, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে (Russia)। এই প্রেক্ষাপটে, ২০২৩ সালের ১৭ মে রাশিয়া ও ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশে রাশত–আস্তারা রেলপথ নির্মাণ করা হবে। প্রায় ১৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনে মোট ৯টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাশত–আস্তারা রেলপথ সম্পন্ন হলে নর্থ–সাউথ আন্তর্জাতিক করিডরের সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে ইরানের রেল নেটওয়ার্ক ককেশাস অঞ্চলের দেশ, রাশিয়া এবং উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।

    রেলপথ নির্মাণে রাশিয়ার লগ্নি

    চুক্তি অনুযায়ী, এই রেলপথ নির্মাণে রাশিয়া প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি ৪৮ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ এবং ইউরেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমি দুনিয়ার চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে রাশিয়া এবং ইরান। এর জেরে দিন দিন পঙ্গু হচ্ছে মস্কো ও তেহরানের অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা প্রত্যাঘাতে ওয়াশিংটনের যাবতীয় ছক ভেস্তে দিতে পূর্বতন পারস্য দেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ১৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণে নেমেছে পুতিন সরকার। এই রেলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে নয়া রূপ দিতে পারে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের (Russia)।

  • Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহে এখনও যারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে চলেছে, সেই সব দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংবলিত একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপনের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত (Tariff Threat)। শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (US)।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (Tariff Threat)

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “আমরা প্রস্তাবিত বিলটির বিষয়ে অবগত। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। ভারতের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের বাস্তবতার ভিত্তিতে। জয়সওয়াল বলেন, “জ্বালানি উৎস সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্নে ভারতের অবস্থান সুপরিচিত। বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সাশ্রয়ী জ্বালানি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাই আমাদের পথনির্দেশ করে, যাতে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় (Tariff Threat)।”

    মার্কিন সেনেটরের প্রতিক্রিয়া

    বিদেশমন্ত্রকের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে মার্কিন সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই। গ্রাহামের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিদলীয় ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে’ সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে (US)। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে গ্রাহাম বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তিনি রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটি অনুমোদন করেন। ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন শুধু কথার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেবে, যারা সস্তায় রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধাস্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে (Tariff Threat)।” গ্রাহামের ইঙ্গিত, আগামী সপ্তাহেই বিলটি দ্বিদলীয় ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে।

    ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’

    এ প্রসঙ্গে এক মার্কিন সেনেটর বলেন, “এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর বিপুল প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করে। ওই তেল থেকেই পুতিন ইউক্রেনে গণহত্যার অর্থ জোগাচ্ছেন। আমি আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই বিলের পক্ষে শক্তিশালী দ্বিদলীয় সমর্থন মিলবে (US)।” মার্কিন কংগ্রেসের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বিলটির নাম ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’। এই আইনের আওতায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার ওপর শুল্কের হার কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই বিল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই অনুমান কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের (Tariff Threat)।

  • India-US Trade Deal: মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের মন্তব্যকে প্রত্যাখান ভারতের, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবিচল ভারত

    India-US Trade Deal: মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের মন্তব্যকে প্রত্যাখান ভারতের, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবিচল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের মন্তব্যকে ভারত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, দুই দেশের (India-US Trade Deal) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেননি। আর এই ফোন করার তথ্য ভিত্তিহীন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আলোচনার বিষয়ে লুটনিকের বর্ণনাকে সঠিক নয় বলে বর্ণনা করেছেন। তবে জয়সওয়াল জোর দিয়ে বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও আমেরিকা একাধিক দফায় আলোচনা চালিয়ে আসছে এবং বেশ কয়েকবার একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছে। সবটাই একটা আলোচনার স্তরে রয়েছে। ভারত পারস্পরিক দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী।

    আলোচনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল ভারত (India-US Trade Deal)

    সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে, বিদেশ মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল বলেন, “গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকার (India-US Trade Deal) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। তখন থেকেই উভয় পক্ষ দেশের একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক উপকারী বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একাধিক দফা আলোচনাও হয়েছে। বেশ কয়েকবার, আমরা একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছি। তবে আমেরিকার এক পক্ষের দাবি ঠিক নয়।”

    বিস্তৃত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে

    জয়সওয়াল উল্লেখ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)  এবং ট্রাম্প (India-US Trade Deal) ২০২৫ সালেই আটবার ফোনে কথা বলেছেন। দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধান। তিনি জোর দিয়ে আরও বলেন, “দুই নেতা কূটনৈতিক রীতিনীতি মেনে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। প্রসঙ্গক্রমে, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ২০২৫ ফোনে কথা বলার সময় আমাদের বিস্তৃত কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। ভারত তার নিজের বিস্তৃত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মত স্পষ্ট জানিয়েছে।” বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “আমরা দুটি পরিপূরক অর্থনীতির মধ্যে পারস্পরিকভাবে উপকারী বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী। তাই এই বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”

    গত ৮ জানুয়ারী অল-ইন পডকাস্টে উপস্থিত থাকার সময় লুটনিকের (India-US Trade Deal) মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। যেখানে তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্রথম বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমেরিকা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi)  রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে ফোন করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তা করা হয়নি। সেই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, মোদি ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন করে চুক্তিটি সম্পন্ন করার জন্য নিজে থেকেই অনুরোধ করেছিলেন। তবে ভারত এই অনুরোধের এই কলটি অস্বস্তিকর ছিল।

    ভারত নিজের অবস্থান নিয়ে এখনও অনড়

    লুটনিকের মতে, আমেরিকা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনাম সহ অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য এগিয়ে এসেছে। তবে এই আলোচনা হল বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আব সিঁড়ি। পদ্ধতিগত ভাবে দেশের প্রগতির জন্য এই কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেছিলেন ভারত যাতে আরও ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেছে। তাই চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। অর্থনীতিকে ভেঙে পড়েতে দেওয়া উচিত নয়।

    তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মতামত ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, আমেরিকা (India-US Trade Deal) সারা বিশ্বে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ করতে পরোক্ষ চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতকে নানা ভাবে বাণিজ্য চুক্তি করতে চাপ দেওয়ার কৌশল করছে। তবে ভারত নিজের অবস্থান নিয়ে এখনও অনড়। নিজেদের সার্বভৌমকে রক্ষার ক্ষেত্রে কোনও শক্তির সামনে যে মাথানত করবে না তাও সকলের কাছে স্পষ্ট।

    আমেরিকার হুমকি

    কিছুদিন আগে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে তিনি এমন একটি আইন খসড়া করেছেন যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরনের প্রস্তাবকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের বাণিজ্য নীতিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আর একটি উদাহরণ।

  • Ramakrishna 553: “মাস্টার ঠাকুরকে বলিতেছেন, ‘উনি বহুদর্শী লোক, উনি রোজ দেখলে ভাল হয়”

    Ramakrishna 553: “মাস্টার ঠাকুরকে বলিতেছেন, ‘উনি বহুদর্শী লোক, উনি রোজ দেখলে ভাল হয়”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    সপ্তম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৭শে অগস্ট
    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে রাখাল, মাস্টার, পণ্ডিত শ্যামাপদ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    সমাধিমন্দিরে—পণ্ডিত শ্যামাপদের প্রতি কৃপা

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) দু-একটি ভক্তসঙ্গে ঘরে বসিয়া আছেন। অপরাহ্ন, পাঁচটা; বৃসস্পতিবার, ২৭শে অগস্ট ১৮৮৫; ১২ই ভাদ্র, শ্রাবণ কৃষ্ণা দ্বিতীয়া।

    ঠাকুরের অসুখের সূত্রপাত হইয়াছে। তথাপি ভক্তেরা কেহ আসিলে শরীরকে শরীর জ্ঞান করেন না। হয়তো সমস্ত দিন তাঁহাদের লইয়া কথা কহিতেছেন—কখনও বা গান করিতেছেন।

    শ্রীযুক্ত মধু ডাক্তার প্রায় নৌকা করিয়া আসেন—ঠাকুরের চিকিৎসার জন্য ভক্তেরা বড়ই চিন্তিত হইয়াছেন। মধু ডাক্তার যাহাতে প্রত্যহ আসিয়া দেখেন (Kathamrita), এই তাঁহাদের ইচ্ছা। মাস্টার ঠাকুরকে বলিতেছেন, ‘উনি বহুদর্শী লোক, উনি রোজ দেখলে ভাল হয়।’

    পণ্ডিত শ্যামাপদ ভট্টাচার্য আসিয়া ঠাকুরকে দর্শন করিলেন। ইঁহার নিবাস আঁটপুর গ্রামে। সন্ধ্যা আগতপ্রায় দেখিয়া পণ্ডিত ‘সন্ধ্যা করিতে যাই’, বলিয়া গঙ্গাতীরে চাঁদনীর ঘাটে গমন করিলেন।

    সন্ধ্যা করিতে করিতে পণ্ডিত কি আশ্চর্য দর্শন করিলেন। সন্ধ্যা সমাপ্ত হইলে ঠাকুরের ঘরে আসিয়া মেঝেতে বসিলেন। ঠাকুর মার নাম ও চিন্তার পর নিজের আসনেই বসিয়া আছেন। পাপোশের উপর মাস্টার। রাখাল, লাটু প্রভৃতি ঘরে যাতায়াত করিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) মাস্টারের প্রতি, পণ্ডিতকে দেখাইয়া— ইনি একজন বেশ লোক। (পণ্ডিতের প্রতি) ‘নেতি’ ‘নেতি’ করে যেখানে মনের শান্তি হয়, সেইখানেই তিনি।

    ঈশ্বরদর্শনের লক্ষণ ও পণ্ডিত শ্যামাপদ—‘সমাধিমন্দিরে’

    “সাত দেউড়ির পর রাজা আছেন (Kathamrita)। প্রথম দেউড়িতে গিয়ে দেখে যে একজন ঐশ্বর্যবান পুরুষ অনেক লোকজন নিয়ে বসে আছেন; খুব জাঁকজমক। রাজাকে যে দেখতে গিয়েছে, সে সঙ্গীকে জিজ্ঞাসা করলে, ‘এই কি রাজা?’ সঙ্গী ঈষৎ হেসে বললে, ‘না’।

    “দ্বিতীয় দেউড়ি আর অন্যান্য দেউড়িতেও ওইরূপ বললে। দেখে, যত এগিয়ে যায়, ততই ঐশ্বর্য! আর জাঁকজমক! সাত দেউড়ি পার হয়ে যখন দেখলে তখন আর সঙ্গীকে জিজ্ঞাসা করলে না! রাজার অতুল ঐশ্বর্য দর্শন করে অবাক্‌ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।—বুঝলে এই রাজা। — এ-বিষয়ে আর কোন সন্দেহ নাই।”

    ঈশ্বর, মায়া, জীবজগৎ—অধ্যাত্ম রামায়ণ—যমলার্জ্জুনের স্তব

    পণ্ডিত—মায়ার রাজ্য ছাড়িয়ে গেলে তাঁকে দেখা যায়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—তাঁর সাক্ষাৎকারের পর আবার দেখে, এই মায়া-জীবজগৎ তিনিই হয়েছেন। এই সংসার ধোকার টাটি—স্বপ্নবৎ,—এই বোধ হয়, যখন ‘নেতি’, ‘নেতি’ বিচার করে। তাঁর দর্শনের পর আবার ‘এই সংসার মজার কুটি।’

  • Suvendu Adhikari: আইপ্যাকের ১৬ কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস করলেন শুভেন্দু, মমতাকে ‘গুন্ডি’ তকমা

    Suvendu Adhikari: আইপ্যাকের ১৬ কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস করলেন শুভেন্দু, মমতাকে ‘গুন্ডি’ তকমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় কেন্দ্রীয় তল্লাশি অভিযানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং পরবর্তী আইনি জটিলতা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। কয়লাপাচার এবং আর্থিক দুর্নীতি প্রসঙ্গে কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বাধা দিয়েছেন। কেন তাল্লাশি অভিযানস্থল থেকে নথি উদ্ধার করে নিয়ে যান? কাকে বাঁচাতে চান? এইরকম নানা প্রশ্ন তুলে শুক্রবার বিধানসভার বাইরে তৃণমূল নেত্রীকে তোপ দাগেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি অভিযোগ করেন, জনস্বাস্থ্য দফতরের টেন্ডার পাওয়া এক ঠিকাদারের সংস্থার কাছ থেকে আইপ্যাকের কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনও হয়েছে।

    দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তর পাশে তৃণমূল (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী এই ভাবে সাংবিধানিক পদে থেকে কীভাবে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারেন? এই প্রশ্ন তুলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “ইডির কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে ক্রিমিনাল অফেন্স বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শেখ শাহজানের মতো কাজ করেছেন। শাহজাহান যা করেছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাই করেছেন। এই তৃণমূল নেতাকে যদি গুন্ডা বলি তাহলে মমতাকে (Mamata Banerjee) গুন্ডি বলতেই পারি। রাজীব কুমার থেকে শুরু করে শেখ শাহজাহান যাঁরাই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত তাঁদের বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী ঢাল হয়ে দাঁড়ান। এই ঘটনা পুলিশ এবং প্রশাসনের সহায়তায় সংবিধান বিরোধী ঘটনা।”

    তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা

    ইডির কাজের মমতার হস্তক্ষেপের বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। এই মামলার প্রসঙ্গে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সঠিক পথেই এগিয়েছে। ইডির তরফে কলকাতা হাইকোর্টে যে লিভ চাওয়া হয়েছিল তা মঞ্জুর হয়েছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ইডি-র পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেসপন্ডেন্ট নম্বর ওয়ান। তদন্তে বাধা দেওয়া এবং তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার সহযোগে মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ। ইডি আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছে যাতে সিবিআইকে দিয়ে এই তদন্ত করানো যায়।”

    চেক নম্বর ০০১৭৩৯

    বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি প্রসঙ্গে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “জল জীবন মিশনে দুর্নীতির টাকা সরাসরি ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে।” সাংবাদিকদের সামনে প্রশ্ন করে আরও বলেন, “২০২১ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ জেপি কনস্ট্রকশন নামে এক সংস্থা পিএইচই থেকে প্রায় ১৭৮ কোটি টাকার বরাত পেয়ছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ওই সংস্থা ১৬ কোটি টাকা সরাসরি আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে। চেক নম্বর ০০১৭৩৯। ব্যাথাটা কোথায় বুঝেছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী? কেন তিনি তড়িঘড়ি ছুটে গেলেন? কারণ এই ১৬ কোটি টাকার লেনদেন তথ্য ইডির হাতে চলে আসতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী চোরদের বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছেন। জনগণ চোরদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে। দিল্লি বা গোয়া নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে হাওয়ালার টাকা ব্যবহার করেছে আইপ্যাক।”

    বিনাশকালে বুদ্ধি নাশ

    রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের মন্তব্য নিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “রাজ্যপাল যথার্থ বলেছেন বিনাশ কালে বুদ্ধিনাশ। গতকাল পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) বাধার মুখে ইডি আধিকারিকারা যে সংযম দেখিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। তবে ইডি বল প্রয়োগ করলে সন্দেশখালির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। ইডির আধিকারিক আক্রান্ত হতে পারতেন।”

  • Samik Bhattacharya: “তৃণমূল ও দুর্নীতি পরস্পরের সমর্থক”, মমতাকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

    Samik Bhattacharya: “তৃণমূল ও দুর্নীতি পরস্পরের সমর্থক”, মমতাকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কলকাতায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে নথি উদ্ধারের বাধা দিয়ে দেশজুড়ে যখন শোরগোল ফেলেছেন। সাংবিধানিক পদে বসে নথি ছিনতাই করেছেন বলে অভিযোগ বিজেপির। অপরদিকে আবার এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সাংসদরা। এযেন উলট পুরাণ। একদিকে কয়লা পাচার তদন্তের বাধা দলনেত্রীর, অপর দিকে দলের সাংসদরা দুর্নীতির তদন্ত চাইছেন। দলের সাংসদ এবং দলনেত্রীর কর্মকাণ্ড পরস্পর বিপরীত মুখী। এই ইস্যুতে তীব্র তোপ দেগেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “রাজ্যের মানুষ বুঝে গিয়েছেন কয়লা কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল নেতার জড়িত।”

    তৃণমূলের প্রতিবাদে মানুষ হাসবে (Samik Bhattacharya)

    শুক্রবার দিল্লিতে অমিত শাহের দফতরের বাইরে তৃণমূল সদাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ এবং অন্যান্য নেতার বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। পুলিশ, শতাব্দী, মহুয়া এবং ডেরেককে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় দুর্নীতির সমর্থক তৃণমূল নেত্রী এবং সাংসদদের তোপ দেগে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “তৃণমূল নেতারা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে পারে না, জনতা টিএমসিপিকে বুঝে গিয়েছে। তৃণমূলের নেতারা দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে মানুষ হাসবে। ইডি যখন তদন্ত করছে সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ফাইল ছিনতাই করে নিচ্ছেন। কোনও রাজনৈতিক অভিযান নয়। তৃণমূলের নেতারা কয়লা কেলেঙ্কারিতে যুক্ত। তৃণমূল এবং দুর্নীতি পরস্পরের সমর্থক।”

    অপ্রত্যাশিত আচরণ

    আইপ্যাক কাণ্ডে ইডির তল্লাশি অভিযানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিজেক খুন করেছেন। ঠিক এই ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিনি বলেন, “গতকাল ইডির অভিযানকে ঘিরে গোটা দেশ তথা রাজ্য দেখেছে যে একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কোথায় নেমে যেতে পারেন। সংবিধানের শপথ নেওয়া কোনও মুখ্যমন্ত্রীর থেকে কোনও সমাজ কোনও সংবিধান কোনও দেশ এই আচরণ প্রত্যশা করে না। তৃণমূল কংগ্রেস দুর্নীতির সমর্থক।” রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘আজ উনি (মমতা) যে কাজ করলেন, তাতে তিনি নিজের ভাবমূর্তির কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিলেন। নিজেই নিজেক খুন করেছেন।’

    দুর্নীতিকে সমর্থন করেন তা মুখ্যমন্ত্রী

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের কর্নধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের বিরুদ্ধে সরাসরি ইডির বিরুদ্ধে ময়দানে নামেন। শুধু তাই নয় সেখান থেকে অভিযানকে প্রভাবিত করতে সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ এবং হার্ডডিস্ক তুলে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বিজপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “এইট-বি থেকে শ্যামবাজার, টালা থেকে টালিগঞ্জ মুখ্যমন্ত্রী মিছিল করতেই পারেন। তবে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তকে বন্ধ করতে কখনই পারেন না। তৃণমূল কংগ্রেস যে দুর্নীতিগ্রস্থ এবং দুর্নীতিকে সমর্থন করেন তা মুখ্যমন্ত্রী আরও একবার প্রমাণ করলেন। ইডির তাল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কার্যত ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজের সাংবাদিক পদের প্রভাব খাটিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সরিয়ে নিয়েছেন। এইকাজ কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার অধিকার নেই।”

    আগেও মমতা তদন্তে বাধা দিয়েছেন

    ইডির ব্যাখ্যা ও বিবৃতি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। তবে মমতা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে এই প্রথম বাধা নয়। আগেও সারদা মামলায় রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশি করতে গেলে মমতা ধর্মতলায় ধরনায় বসেছলেন। একই ভাবে নারদ মামলায় ববি হাকিম, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের করা আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। তবে বিজেপির বক্তব্য, তারা শুরু থেকেই তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আইন ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার পক্ষে রয়েছে। এই ঘটনা এবং শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    ইডির বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তাদের একটি প্রেস রিলিজে স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, এই তল্লাশি কোনও রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং অবৈধ কয়লা খনন ও অর্থপাচার সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের অংশ হিসেবেই চালানো হয়েছে। মামলাটি আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছিল। সকাল থেকেই শুরু হওয়া এই অভিযানে কলকাতা ও দিল্লির একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। আই প্যাক এর অফিস, প্রতীক জৈনের বাসভবন-সব মিলিয়ে প্রায় ন’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ইডির এই অভিযান। তবে এই অভিযানকে কোনও রকম ভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় যেন না ভাবা হয়।

LinkedIn
Share