Tag: Bengali news

Bengali news

  • Sukanta Majumdar: “তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে”, বললেন সুকান্ত

    Sukanta Majumdar: “তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে”, বললেন সুকান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ছাব্বিশ সালের নির্বাচন তৃণমূলের বিসর্জন বলে জানিয়েছেন আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে (Sukanta Majumdar) কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে। মনে রাখবেন (Amit Shah), কোচবিহার থেকে শুরু করে কাকদ্বীপ পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি এবং পদ্মফুল প্রার্থী। তাই পদ্মফুলকে জেতাতে হবে। অন্য কিছু দেখলে হবে না।” বুধবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে নাগাড়ে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

    কুরুক্ষেত্র (Sukanta Majumdar)

    এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে ছাব্বিশের নির্বাচনকে তিনি কুরুক্ষেত্র বলেও অভিহিত করেন। মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে সুকান্ত বলেন, “আমরা মহাভারতে গল্প শুনেছি, অর্জুন-সহ সবাইকে দ্রোণাচার্য জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কী দেখতে পাচ্ছ। কেউ বলেছিল, আমি গাছে পাতা দেখতে পাচ্ছি। কেউ বলেছিল, পাখির ঠোঁট দেখতে পাচ্ছি। অর্জুনই একমাত্র বলেছিলেন, আমি পাখির চোখ দেখতে পাচ্ছি। বন্ধুগণ, আপনারা কী দেখতে পাচ্ছেন, সেটা আমি বলতে পারব না। কিন্তু, প্রায় ৪ বছর ধরে রাজ্য সভাপতির কাজ করার পর আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে শপথ নিচ্ছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। আপনাদের দিকে তাকিয়ে আমি তা দেখতে পাচ্ছি। কলকাতার চারটি জেলার শক্তিকেন্দ্র ও মণ্ডলের লোককে ডাকা হয়েছে। তার বিশ্বরূপ যদি (Sukanta Majumdar) এটা হতে পারে, তাহলে মনে রাখবেন, এই কুরুক্ষেত্রে আমাদের জয় অর্থাৎ পাণ্ডবদের জয় হবেই।”

    বিজেপি আদর্শভিত্তিক দল

    তিনি বলেন, “বিজেপি আদর্শভিত্তিক দল। আমাদের কার্যকর্তা ও কর্মীরাই মূলধন। একুশের নির্বাচনের পর বিজেপি যখন কিছু ছন্নছাড়া হয়ে যায়, তখন কার্যকর্তারা পিঠে কুলো বেঁধে পার্টির কাজকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।” তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, “অমিত শাহের নাম শুনলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পুরো পার্টি থরথর করে কাঁপে।” এদিন সুকান্তের পরে ভাষণ দিতে ওঠেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলকে আবারও ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। দলের (Amit Shah) সবাই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেন, তাহলে যে এ রাজ্যে বিজেপি আসবেই, তাও স্পষ্ট করে দেন শাহ (Sukanta Majumdar)।

  • Amit Shah: ২০০ আসনের লক্ষ্যেই অটল বিজেপি, কর্মী সম্মেলন থেকে বার্তা অমিত শাহের

    Amit Shah: ২০০ আসনের লক্ষ্যেই অটল বিজেপি, কর্মী সম্মেলন থেকে বার্তা অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গ সফরে এসে ফের একবার ‘২০০ আসন’-এর লক্ষ্যে দলকে নির্বাচনী ময়দানে নামার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত বিজেপির কলকাতা জোনের কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানিয়ে দেন, বাংলায় বিজেপি কোনও ভাবেই থামার দল নয়। মঞ্চ থেকে কর্মী ও নেতৃত্বকে উদ্বুদ্ধ করে শাহ বলেন, “আমরা যদি ৩টি আসন থেকে ৭৭টি আসনে পৌঁছতে পারি, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০টি আসনে পৌঁছনো অসম্ভব কেন হবে?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার বার্তা দেন।

    চার সাংগঠনিক জেলায় ২০ আসনের লক্ষ্য (Amit Shah)

    এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কলকাতা উত্তর শহরতলি (দমদম লোকসভা এলাকার অন্তর্গত বিধানসভাগুলি) এবং যাদবপুর – এই চারটি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মী ও নেতানেত্রীরা। এই চার জেলায় মোট ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকেই শাহ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ২০টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন। দলীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে অমিত শাহ বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও করেন। সেই বৈঠকে বিশেষভাবে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্র ঘিরে দলের কৌশল নিয়েও কথা হয়।

    দলীয় পুনর্গঠনের ইঙ্গিত

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সায়েন্স সিটির এই কর্মী সম্মেলনে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত একাধিক প্রাক্তন বিধায়ককেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি রাজ্যে বিজেপির সংগঠন পুনর্গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে, রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতি যে নতুন করে গতি পাচ্ছে, তা স্পষ্ট শাহের এই সফর ও তাঁর বক্তব্যে।

     ‘সবচেয়ে বড় বিপদ’

    এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে দু’টি বিষয় যে সব চেয়ে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে, এদিন তাও জানিয়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই রাজ্যে দু’টো জিনিস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, একটা অনুপ্রবেশ, আর একটা দুর্নীতি।” শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নয়, কলকাতার নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাহ। তিনি বলেন, “কলকাতা আর আগের মতো নিরাপদ নয়। অনুপ্রবেশের দাপট ক্রমেই বাড়বে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই বিপদের মুখে পড়বেন।” এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে বর্তমান সরকারকে সমূলে উৎপাটিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বিজেপি কর্মীদের শাহি নির্দেশ

    ভাষণ দেওয়ার সময়ই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে একাধিক সাংগঠনিক নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলের প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে আর এক কর্মীর যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে। “সবাইকে আরও সক্রিয় হতে হবে। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছনো এখন সবচেয়ে জরুরি”।

    ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান নিয়ে কটাক্ষ

    তৃণমূল সরকারের জনপ্রিয় স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’কে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, “মা আজ বিপন্ন, মাটিতে অনুপ্রবেশের দাপাদাপি চলছে। তাই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছনো এখন বিজেপির দায়িত্ব।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। দলীয় কর্মীদের চাঙা করতে আত্মবিশ্বাসের সুরে শাহ বলেন, “কোনও কিছুর সঙ্গে আপোস করা যাবে না। এবারের লক্ষ্য একটাই, বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন।” তিনি বলেন, প্রার্থী যেই হোক না কেন, সবাইকে জেতাতে হবে। লিখে রাখুন, পশ্চিমবঙ্গে আমাদেরই সরকার হবে।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতায় নির্দিষ্ট আসনভিত্তিক লক্ষ্য স্থির করে দিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে নতুন করে সাজানোই এখন দলের পাখির চোখ। রাজ্যের শহর ও গ্রাম, দুই জায়গায়ই সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কৌশলেই এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের সঙ্গে যে কোনও সমঝোতা নেই, এদিন তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে শাহ। এদিকে, এদিন বঙ্গ বিজেপির চার মুখ শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষকে নিয়ে আলাদা করে বৈঠকে বসেন শাহ। সঙ্গে ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনসল এবং বিপ্লব দেব।

  • PM Modi: অযোধ্যায় রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: অযোধ্যায় রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যায় রাম লালার (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বার্ষিকীকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এক ঐশ্বরিক উদযাপন রূপে বর্ণনা করেছেন। কোটি কোটি ভক্তের শত শত বছরের ভক্তি ও আকাঙ্ক্ষা সফল রূপ পেয়েছে রামমন্দিরে। রামা লালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা ছিল একটি ভব্য এবং দিব্য উৎসব। ৫০০ বছরের আন্দোলন এবং রামভক্তদের স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে। শ্রী রামই ভারতীয় সংস্কৃতির আসল প্রতীক।

    শত শত বছরের আকাঙ্ক্ষার সফল পরিণতি (PM Modi)

    দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ৩১ ডিসেম্বর অযোধ্যায় রাম লালার (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভারত এবং বিশ্বজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এই দিন সম্পর্কে বলেন, “আমাদের আস্থা এবং ঐতিহ্যের এক দিব্য উৎসব। শত শত বছরের হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত গৌরবের মাহেন্দ্রক্ষণ। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ভগবান শ্রী রামের চরণে প্রণাম জানান। সেই সঙ্গে লিখেছেন, “অযোধ্যায় প্রাণপ্রতিষ্ঠার দিনটির অত্যন্ত গৌরবের এবং আধ্যাত্মিক ভক্তি ভাবুকতায় পরিপূর্ণ। রাম ভক্তদের শত শত বছরের আকাঙ্ক্ষার সফল পরিণতি পেয়েছে। ঐতিহাসিক ভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। আজ অযোধ্যার পবিত্র ভূমিতে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এই বার্ষিকী আমাদের আস্থা এবং ঐতিহ্যের এক দিব্য উৎসব। এই পবিত্র ও পুণ্য তিথিতে দেশে-বিদেশে থাকা সকল রাম ভক্তের পক্ষ থেকে প্রভু শ্রী রামের চরণে আমার কোটি কোটি নমস্কার।”

    রাম আমাদের অনুপ্রেরণা

    প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) এই বছরেই আরেকটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন যা হল অযোধ্যার ধর্ম ধ্বজার উত্তোলন। ফলে এই বছরই আবার প্রথমবার নব উত্তোলিত ধর্ম ধ্বজ রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সাক্ষী থাকছে। রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) এই ধ্বজ ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রতীক। তাই মোদি বলেছেন, “আমার সৌভাগ্য যে গত মাসে আমি এই পবিত্র ধ্বজ স্থাপনায় অংশ নেওয়ার শুভ সুযোগ পেয়েছিলাম। শ্রীরামের মর্যাদা পূর্ণ প্রতীকের অনুপ্রেরণা প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে সেবা, নিষ্ঠা এবং সহানুভূতির অনুভূতিকে আরও গভীর ভাগে জাগিয়ে তুলবে। সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভর ভারত গড়তে শ্রী রাম আমাদের অনুপ্রেরণা।”

    ধর্ম ধ্বজার আনুষ্ঠানিক উত্তোলনকে ধর্মীয় তাৎপর্যের বাইরে গিয়ে ভারতের বৃহত্তর জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত করেছেন মোদি। একই ভাবে দেশবাসীর কাছে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভগবান রাম সবসময় মর্যাদা পুরুষোত্তম হিসেবে পূজিত হন। তাঁর আদর্শগুলি নাগরিকদের মধ্যে সেবা, নিষ্ঠা এবং সহানুভূতির মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

  • Sambit Patra: ‘‘আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন, রক্ষা করছেন অনুপ্রবেশকারীদের’’, মমতাকে তোপ বিজেপির

    Sambit Patra: ‘‘আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন, রক্ষা করছেন অনুপ্রবেশকারীদের’’, মমতাকে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি কেবল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই নয়, গোটা দেশকেই হুমকি দিচ্ছেন।” বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ভাষাতেই আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। অনুপ্রবেশকারী ইস্যু ও এসআইআর (SIR) নিয়ে অমিত শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বাক্‌যুদ্ধের পর সাংবাদিক সম্মেলনে সম্বিত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনি হোটেলের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। আমরা চাইলে আপনাকে হোটেল থেকে বেরোতেই দিতাম না। আমরা আপনাকে বেরোতে দিয়েছি, এটাই আপনার সৌভাগ্য।’ এটাই প্রথম নয়, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।” তিনি বলেন, “আপনি অমিত শাহকে হুমকি দিচ্ছেন না, আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে।”

    বিজেপি কর্মী খুন ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে তোপ

    সম্বিতের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের দ্বারা পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-এরও বেশি বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-এর বেশি বিজেপি কর্মীকে হত্যা করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াতেই তাঁর সমস্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছেন।

    সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে তোপ

    সম্বিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগকেও সমর্থন করেন। তিনি বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিচ্ছে না।” এদিন সে প্রসঙ্গ টেনেই সম্বিত বলেন, “অমিত শাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি, অবিচার ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে রাজনীতি চলছে। মমতা সরকার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিচ্ছে না। ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ পড়ছে বলেই তৃণমূল নেতৃত্ব অস্বস্তিতে।” ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে এ রাজ্যে। মঙ্গলবার শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র বাক্যবাণ ছোড়েন।

    ভয় ও দুর্নীতি তত্ত্বে তৃণমূলকে শাহি আক্রমণ

    শাহের অভিযোগ, গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গের পরিচয় হয়ে উঠেছে ভয় ও দুর্নীতি। রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি না দেওয়ার বিষয়েও তিনি কাঠগড়ায় তোলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারকে। সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন থমকে গিয়েছে। মোদি সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এখানে কাটমানি সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে ভয় ও দুর্নীতিই পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়।” তিনি এও বলেছিলেন, “২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে আমরা বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন শুরু করব। এই বঙ্গভূমি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই মাটি থেকেই বিজেপির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।”

    মমতার জবাব

    শাহের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি নেতাদের মহাভারতের দুর্যোধন ও দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা করেন। মমতা বলেন, “বাংলায় দুঃশাসন এসেছে। ভোট এলেই দুর্যোধন-দুঃশাসনের আবির্ভাব হয়। শকুনির শিষ্য দুঃশাসন এসেছে তথ্য সংগ্রহ করতে। আজ বলছে, আমি নাকি জমি দিইনি। আমি যদি জমি না দিতাম, তাহলে পেট্রাপোল বা আন্দালে জমি এল কোথা থেকে?” তাঁর দাবি, পেট্রাপোল ও আন্দাল, দুই জায়গায়ই সীমান্তে বেড়ার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এসআইআর এবং অনুপ্রবেশই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মূল ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে।

  • Hindu Man Killed: বাংলাদেশে ফের হিন্দু নিধন, ময়মনসিংহে গুলিতে হত নিরাপত্তারক্ষী

    Hindu Man Killed: বাংলাদেশে ফের হিন্দু নিধন, ময়মনসিংহে গুলিতে হত নিরাপত্তারক্ষী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছিল বাংলাদেশের (Bangladesh) দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দুকে (Hindu Man Killed)। সেই ঘটনার রেশ পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ফের হিন্দু নিধন পদ্মাপারের দেশে। নিহত ব্যক্তির নাম বজেন্দ্র বিশ্বাস। বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার একটি পোশাক কারখানায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ মেহরাবাড়ি এলাকার সুলতানা সুইটার্স লিমিটেড কারখানার ভেতরেই সহকর্মীর গুলিতে গুরুতর জখম হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে।

    আনসার বাহিনীর সদস্য খুন (Hindu Man Killed)

    জানা গিয়েছে, বজেন্দ্র বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন আধাসামরিক বাহিনী আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীরই আর এক সদস্য নোমান মিঞা তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় কারখানায় মোট প্রায় ২০ জন আনসার সদস্য কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বজেন্দ্র ও নোমান পাশাপাশি বসেছিলেন। হঠাৎই নোমান একটি শটগান বের করে বজেন্দ্রর বাঁ দিকের উরুতে গুলি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ব্রজেন্দ্র। সহকর্মীরা (Bangladesh)দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন (Hindu Man Killed)।

    প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আনসার সদস্য এপিসি আজহার আলি বলেন, “ঘটনার সময় নোমান মিঞা ও বজেন্দ্র বিশ্বাস আমার ঘরেই বসেছিলেন। হঠাৎ নোমান বজেন্দ্রের দিকে বন্দুক তাক করে বলে, ‘গুলি করব?’ কথাটা শেষ করেই সে গুলি চালায়। তার পরেই গা ঢাকা দেয় নোমান।” প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ঘটনার আগে দু’জনের মধ্যে কোনও ধরনের ঝগড়া বা তর্কাতর্কি হয়নি। ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নোমান মিঞাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত (Bangladesh)। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    অব্যাহত হিন্দু নিধন যজ্ঞ

    প্রসঙ্গত, শুধু ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনও সদস্যকে হত্যার এটি তৃতীয় ঘটনা। একই সঙ্গে এটি ময়মনসিংহ জেলায় রিপোর্ট হওয়া দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড (Hindu Man Killed)। গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙা এলাকায় বছর ঊনত্রিশের অমৃত মণ্ডলকে জনতা পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। তার আগে, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি কারখানায় মিথ্যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বছর পঁচিশের দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ, কারখানার এক মুসলমান সহকর্মী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলে। পিটিয়ে খুনের পর উন্মত্ত জনতা তাঁর দেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

    মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীর, বিশেষ করে হিন্দুদের, ওপর হিংসার ঘটনা বেড়েছে বলেই অভিযোগ। এ নিয়ে দেশটির নাগরিক সমাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে (Hindu Man Killed)। এদিকে, গত সপ্তাহে ভারত সরকার বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা (Bangladesh) নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লি এও জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিবেশী দেশটির পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে।

  • Ayodhya Ram Mandir: কীভাবে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার শক্তি একটি সনাতন সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করে তার প্রমাণ অযোধ্যার রামমন্দির

    Ayodhya Ram Mandir: কীভাবে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার শক্তি একটি সনাতন সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করে তার প্রমাণ অযোধ্যার রামমন্দির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যায় রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা (Pran Pratishtha Anniversary) বার্ষিকী ভারতের আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম সুদূরপ্রসারী বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। পৌষ শুক্ল পক্ষের দ্বাদশী, ৩১ ডিসেম্বর পালিত হয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হিসেবে। ফলে এই মাহেন্দ্রক্ষণ কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা, যা বিশ্বাস-আস্থা- ইতিহাস-সংস্কৃতি এবং জাতীয় চেতনাকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে। রামমন্দির ভারতীয় সংস্কৃতির প্রধান পরিচয়।

    অযোধ্যা নগরী ত্রেতা যুগের রাজধানী (Ayodhya Ram Mandir)

    রাম মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) অযোধ্যায় দণ্ডায়মান, যা ভগবান শ্রী রামের (Pran Pratishtha Anniversary) জন্মস্থান হিসেবে পূজিত হয়। শ্রী রাম হিন্দু সভ্যতার এক কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। প্রভু রাম হলেন ধর্ম, ন্যায় ও আদর্শ শাসনের মূর্ত প্রতীক। শতাব্দী ধরে, অযোধ্যা ভারতের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে এক পবিত্র স্থান অধিকার করে আছে। রাম ভক্ত, সাধুসন্ত, তীর্থযাত্রী, পণ্ডিতদের আকর্ষণীয় কেন্দ্র। রাম লালা নিজের মহান মানব গুণে ভগবানের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছেন। তিনি মর্যাদা পুরুষোত্তম রাম। অযোধ্যানগরী ত্রেতা যুগের রাজধানী। তাই অযোধ্যা ধামকে সনাতন ঐতিহ্যের সাতটি পবিত্র স্থানের মধ্যে অন্যতম হিসেবে ধরা হয়।

    সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদার প্রতীক

    রাম মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) নির্মাণ কয়েক দশক ধরে চলা এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও আইনি প্রক্রিয়ার ফল। ভক্তরা কয়েক প্রজন্ম ধরে এই বিশ্বাসে ছিলেন রাম জন্মভূমিতে (Pran Pratishtha Anniversary) এক বিশাল মন্দির একদিন গড়ে উঠবে। এই মন্দির বা রাম লালার বিগ্রহ কেবল ভক্তি নয়, সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদারও প্রতীক। সাংবিধানিক উপায়ে এই মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনায় ভারতের গণতান্ত্রিক ও বিচার ব্যবস্থার উপর বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। তাই মন্দিরটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, সভ্যতার অবিচলতার আরও এক প্রতীক।

    রাম আশ্রয়স্থল

    সনাতন ধর্মে, প্রাণ প্রতিষ্ঠা মন্দির পূজার অন্যতম পবিত্র আচার। শব্দটি আক্ষরিক অর্থে বোঝায় জীবনের সঞ্চার। প্রভু রাম আগে এখানেই ছিলেন। মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠায় রামলালাকে আরেকবার গর্ভগৃহে স্থাপনা করা হয়েছে। সেই মুহূর্তটিকে নির্দেশ করে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে দেবতার ঐশ্বরিক উপস্থিতি মূর্তিতে আহ্বান করা হয়, এটিকে একটি নির্মিত রূপ থেকে পূজার যোগ্য এক জীবন্ত মূর্তিতে রূপান্তরিত করেছে। সমস্ত সনাতন হিন্দু ধর্মের (Pran Pratishtha Anniversary) মানুষের কাছে এই মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) সকল আস্থার ভর কেন্দ্র।

    প্রাণ প্রতিষ্ঠা ছিল অনুষ্ঠানটির ছিল বহুমাত্রিক

    ২০২৪ সালে শ্রী রাম মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান প্রাচীন শাস্ত্র এবং বৈদিক নির্দেশাবলী কঠোরভাবে পালন করে সম্পন্ন হয়েছিল। ভগবান শ্রী রামকে (Ayodhya Ram Mandir) আনুষ্ঠানিকভাবে গর্ভগৃহে অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল। ভক্তদেরকে শ্রী রাম লালার সঙ্গে সরাসরি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করে দেয়। প্রাণ প্রতিষ্ঠার হিন্দুধর্মে গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে এই আচারের মাধ্যমে মূর্তির মধ্যে ঐশ্বরিক চেতনা জাগ্রত হয়, যা ভক্তদের (Pran Pratishtha Anniversary) আধ্যাত্মিক সংযোগ এবং ঐশ্বরিক কৃপা অনুভব করতে সক্ষম করে।

    শ্রী রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা ছিল অনুষ্ঠানটির ছিল বহুমাত্রিক তাৎপর্য:

    • ধর্মীয় তাৎপর্য: এটি মন্দিরের আধ্যাত্মিক ভিত্তি সম্পূর্ণ হয়েছে, সনাতন ঐতিহ্য অনুসারে পূর্ণাঙ্গ পূজা পরিচালনার পথ খুলে দিয়েছে।
    • সাংস্কৃতিক তাৎপর্য: এটি ভারতের প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানগুলিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সহস্রাব্দ-প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
    • সভ্যতার তাৎপর্য: এটি ভারতীয় সভ্যতার সহনশীলতার প্রতীক, যা ঐতিহাসিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার বিশ্বাস এবং পরিচয়কে ধরে রেখেছিল।

    ভক্তদের জন্য, প্রাণ প্রতিষ্ঠা প্রতীকী অভিনয় নয়; এটি মানব ও ঐশ্বরিকতার মধ্যে মিলনের এক গভীর মুহূর্ত।

    শুদ্ধিকরণ, অভিষেক, মন্ত্রপাঠ

    রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানটি আচারের এক সুচিন্তিতভাবে কাঠামোগত ক্রম অনুসরণ করা হয়েছিল।

    বিগ্রহের শুদ্ধিকরণ: ভগবান শ্রী রামের বিগ্রহকে পবিত্র জল, পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু এবং চিনির মিশ্রণ) এবং বৈদিক মন্ত্র ব্যবহার করে আনুষ্ঠানিকভাবে শুদ্ধ করা হয়েছিল। এই পদক্ষেপটি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি নির্দেশ করে।

    অভিষেক: দেবতাকে গঙ্গা জল এবং অন্যান্য পবিত্র পদার্থ দিয়ে স্নান করানো হয়েছিল, যা ঐশ্বরিক পবিত্রতা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের (Pran Pratishtha Anniversary) প্রতীক।

    মন্ত্র পাঠ এবং যজ্ঞ: বৈদিক পণ্ডিতরা বিস্তৃত যজ্ঞ সম্পাদন করেছিলেন, ঐশ্বরিক শক্তি এবং আশীর্বাদ আহ্বান করার জন্য শক্তিশালী মন্ত্র জপ করার সময় পবিত্র অগ্নিতে নৈবেদ্য প্রদান করেছিলেন।

    মূল প্রাণ প্রতিষ্ঠা: এই কেন্দ্রীয় আচারটিতে শাস্ত্রীয় পদ্ধতি অনুসারে বিদ্বান পুরোহিত এবং সাধুদের দ্বারা কঠোরভাবে পরিচালিত মূর্তির মধ্যে প্রতীকীভাবে প্রাণ শক্তি সঞ্চালন জড়িত ছিল।

    গর্ভগৃহে স্থাপন: প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর, আরতি, ভজন এবং ভক্তিমূলক স্তোত্রের মাধ্যমে বিগ্রহকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ীভাবে গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল।

    প্রতিটি পদক্ষেপই নিয়ম, পবিত্রতা এবং শ্রদ্ধার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এগুলি আচারের গভীরতা এবং তাৎপর্যকে প্রতিফলিত করে।

    শ্রী রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠার (Pran Pratishtha Anniversary) প্রভাব সুদূরপ্রসারী

    • ধর্মীয় প্রভাব: বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের জন্য, অনুষ্ঠানটি সম্মিলিত বিশ্বাস এবং ভক্তিকে শক্তিশালী করেছে, ধর্ম এবং আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলার উপর আস্থা জোরদার করেছে।
    • সাংস্কৃতিক প্রভাব: এই ঘটনাটি ভারতের জীবন্ত ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে, তরুণ প্রজন্মকে রামায়ণ-ভিত্তিক আচার, মূল্যবোধ এবং সভ্যতার আখ্যানগুলির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
    • সামাজিক ঐক্য: মন্দিরটি একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা অঞ্চল, জাতি এবং ভাষাগত পটভূমি নির্বিশেষে ভক্তদের আকর্ষণ করছে, একীভূত আধ্যাত্মিক পরিচয়কে উৎসাহিত করছে।

    এছাড়াও, অযোধ্যা ধর্মীয় পর্যটন (Ayodhya Ram Mandir), অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পুনর্জাগরণ দেখছে, যা আঞ্চলিক বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক দৃশ্যমানতায় অবদান রাখছে।

    রামরাজ্যের মূল নীতি

    রাম রাজ্যের ধারণা ভারতীয় দার্শনিক চিন্তাধারায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। রামায়ণে ন্যায়বিচার, নৈতিক শাসন এবং সম্মিলিত কল্যাণের যুগ হিসাবে বর্ণিত, রাম রাজ্য কোনো ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্র না হয়ে একটি আদর্শ সামাজিক শৃঙ্খলাকে প্রতিনিধিত্ব করে। রাম রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত মূল নীতিগুলির মধ্যে রয়েছে:

    • ন্যায়বিচার এবং সমতা: সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সাথে ন্যায্য আচরণ।
    • ধর্মের প্রাধান্য: নৈতিক এবং নীতিগত মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত শাসন।
    • সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ: সামাজিক ঐক্যের সাথে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।
    • পরিবেশগত ভারসাম্য: প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সুস্থির জীবনযাপন।
    • মানবিক মর্যাদা: ভয়, ক্ষুধা এবং শোষণের অনুপস্থিতি।

    তুলসীদাস, রামচরিতমানসে, এই আদর্শ সমাজকে দুঃখ, ভয়, রোগ এবং বৈষম্যমুক্ত হিসাবে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন—যা একটি ঐতিহাসিক দাবি না হয়ে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

    আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষাকে সামাজিক রূপ

    পরিশেষে, শ্রী রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করে। প্রাচীন বিশ্বাসকে আধুনিক শাসনের সঙ্গে আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষাকে সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। মূল ভাব ভক্তির মধ্যে নিহিত হলেও, এর বৃহত্তর বার্তাটি নৈতিক জীবনযাপন, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে।

    অযোধ্যার গর্ভগৃহে ভক্তরা প্রার্থনা করার সময়, মন্দিরের কেবল উপাসনার স্থান হিসাবেই নয়, ভারতীয় সভ্যতার একটি জীবন্ত প্রতীক হিসাবেও কাজ করে। এই যাত্রা ঐতিহ্য এবং আধুনিকতা, বিশ্বাস এবং যুক্তি, ব্যক্তিগত ভক্তি এবং সম্মিলিত কল্যাণের মধ্যে সমন্বয়ের আদর্শে পরিপূর্ণ।

  • India Surpasses Japan: জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হল ভারত

    India Surpasses Japan: জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ভারত (India Surpasses Japan)। বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার ৪.১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আগামী ২.৫ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই, অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে, জার্মানিকে ছাড়িয়ে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠতে চলেছে (Largest Economy)। সরকারের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতির দেশ।

    ভারতের প্রকৃত জিডিপি (India Surpasses Japan)

    চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.২ শতাংশ, যা প্রথম ত্রৈমাসিকের ৭.৮ শতাংশ এবং আগের অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের ৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সরকার প্রকাশিত ২০২৫ সালের সংস্কার-সংক্রান্ত এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, “৪.১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, ২০৩০ সালের মধ্যেই ভারতের জিডিপি ৭.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে এবং তখন জার্মানিকে পিছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে আসবে।” বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন।

    প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি

    বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক গতি আরও চমকপ্রদ হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পৌঁছেছে গত ছয় ত্রৈমাসিকের সর্বোচ্চ স্তরে, যা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক দৃঢ়তার প্রতিফলন বলে মনে করছে সরকার (India Surpasses Japan)। এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে দেশীয় চাহিদা, বিশেষ করে শক্তিশালী বেসরকারি ভোগব্যয় (Largest Economy)। সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। বিশ্বব্যাঙ্ক ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এদিকে মুডিজ জানিয়েছে, ভারত ২০২৬ সালে ৬.৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে জি-২০ দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবেই থাকবে।

    আইএমএফের বক্তব্য

    আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) ২০২৫ সালের জন্য ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জন্য ৬.২ শতাংশ করেছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা ২০২৫ সালে ৬.৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ৬.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এছাড়াও, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস চলতি অর্থবর্ষে ৬.৫ শতাংশ এবং আগামী অর্থবর্ষে ৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB) ২০২৫ সালের জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.২ শতাংশ করেছে। শক্তিশালী ভোক্তা চাহিদার কারণে ফিচ (Fitch) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.৪ শতাংশ করেছে।

    সরকারি বিবৃতি

    সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলির অন্যতম এবং এই গতি বজায় রাখার জন্য দেশটি যথেষ্ট শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২০৪৭ সালে, স্বাধীনতার শতবর্ষে, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ভারত অর্থনৈতিক (Largest Economy) প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত সংস্কার এবং সামাজিক উন্নয়নের শক্ত ভিত্তির ওপর এগিয়ে চলেছে ((India Surpasses Japan))।” বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি বর্তমানে সহনশীলতার নিম্ন সীমার নীচে রয়েছে, বেকারত্ব ক্রমহ্রাসমান ধারায় রয়েছে এবং রফতানি খাতে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া, অনুকূল রয়েছে আর্থিক পরিস্থিতি। বাণিজ্যিক খাতে ঋণপ্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে এবং শহুরে ভোগব্যয় আরও জোরদার হওয়ায় সামগ্রিক চাহিদাও রয়েছে স্থিতিশীল।

  • Ramakrishna 545: “সমাধি পাঁচপ্রকার—তা তোমার সবই হয় দেখছি, পিপীলিকাবৎ, মীনবৎ, কপিবৎ, পক্ষীবৎ, তির্যগ্‌বৎ”

    Ramakrishna 545: “সমাধি পাঁচপ্রকার—তা তোমার সবই হয় দেখছি, পিপীলিকাবৎ, মীনবৎ, কপিবৎ, পক্ষীবৎ, তির্যগ্‌বৎ”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—শ্রীরামকৃষ্ণ কি সিদ্ধপুরুষ না অবতার?

    রাত্রি আটটা হইয়াছে। ঠাকুর (Ramakrishna) মহিমাচরণের সহিত কথা কহিতেছেন। ঘরে রাখাল, মাস্টার, মহিমাচরনের দু-একটি সঙ্গী,—আছেন।

    মহিমাচরণ আজ রাত্রে থাকিবেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আচ্ছা, কেদারকে কেমন দেখছো? — দুধ দেখেছে না খেয়েছে?

    মহিমা — হাঁ, আনন্দ ভোগ করছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— নিত্যগোপাল?

    মহিমা — খুব! — বেশ অবস্থা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — হাঁ। আচ্ছা, গিরিশ ঘোষ কেমন হয়েছে?

    মহিমা (Kathamrita)— বেশ হয়েছে। কিন্তু ওদের থাক আলাদা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — নরেন্দ্র?

    মহিমা — আমি পনর বৎসর আগে যা ছিলুম এ তাই।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — ছোট নরেন? কেমন সরল?

    মহিমা — হাঁ, খুব সরল।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — ঠিক বলেছ। (চিন্তা করতে করতে) আর কে আছে?

    “যে সব ছোকরা এখানে আসছে, তাদের—দুটি জিনিস জানলেই হল। তাহলে আর বেশি সাধন-ভজন করতে হবে না। প্রথম, আমি কে—তারপর, ওরা কে। ছোকরারা অনেকেই অন্তরঙ্গ।

    “যারা অন্তরঙ্গ, তাদের মুক্তি হবে না। বায়ুকোণে আর-একবার (আমার) দেহ হবে।

    “ছোকরাদের দেখে আমার প্রাণ শীতল হয়। আর যারা ছেলে করেছে, মামলা মোকদ্দমা করে বেড়াচ্ছে—কামিনী-কাঞ্চন নিয়ে রয়েছে—তাদের দেখলে কেমন করে আনন্দ হবে? শুদ্ধ-আত্মা না দেখলে কেমন করে থাকি!”

    মহিমাচরণ শাস্ত্র হইতে শ্লোক আবৃত্তি করিয়া শুনাইতেছেন — আর তন্ত্রোক্ত ভূচরী খেচরী শাম্ভবী প্রভৃতি নানা মুদ্রার কথা বলিতেছেন।

    ঠাকুরের পাঁচপ্রকার সমাধি-ষট্‌চক্রভেদ—যোগতত্ত্ব—কুণ্ডলিনী

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আচ্ছা, আমার আত্মা সমাধির পর মহাকাশে পাখির মতো উড়ে বেড়ায়, এইরকম কেউ কেউ বলে।

    “হৃষীকেশ সাধু এসেছিল। সে বললে যে, সমাধি পাঁচপ্রকার—তা তোমার সবই হয় দেখছি। পিপীলিকাবৎ, মীনবৎ, কপিবৎ, পক্ষীবৎ, তির্যগ্‌বৎ।

    “কখনও বায়ু উঠে পিঁপড়ের মতো শিড়শিড় করে কখনও সমাধি অবস্থায় ভাব-সমুদ্রের ভিতর আত্মা-মীন আনন্দে খেলা করে!

    “কখনও পাশ ফিরে রয়েছি, মহাবায়ু, বানরের ন্যায় আমায় ঠেলে—আমোদ করে। আমি চুপ করে থাকি। সেই বায়ু হঠাৎ বানরের ন্যায় লাখ দিয়ে সহস্রারে উঠে যায়! তাই তো তিড়িং করে লাফিয়ে উঠি (Kathamrita)।

  • Filmmakers: ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নিয়ে বিতর্ক, কী বলল ভারত?

    Filmmakers: ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নিয়ে বিতর্ক, কী বলল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনা সংবাদমাধ্যমের তরফে সালমান খান অভিনীত (Filmmakers) চলচ্চিত্র ব্যাটল অব গালওয়ান’কে (Galwan Film) “তথ্য বিকৃতি”র অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার পরেই ভারত সাফ জানিয়ে দিল, দেশে শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা রয়েছে এবং সেই স্বাধীনতা প্রয়োগ করেই চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ছবি বানানোর অধিকার আছে। উল্লেখ্য, ছবিটির পটভূমি ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় প্রথমে বোলা সংসা নেল সংঘর্ষ। সেই ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৬ বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানদের সঙ্গে চিনা সেনার ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ছবিটি সাংবাদিক শিব অরুর ও রাহুল সিংহের লেখা ‘ইন্ডিয়াজ মোস্ট ফিয়ারলেস ৩’  বইয়ের একটি গল্প অবলম্বনে নির্মিত।

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন দেশ (Filmmakers)

    এই ছবিতে সালমান খান অভিনয় করেছেন কর্নেল বিক্কুমল্লা সন্তোষ বাবুর ভূমিকায়। তিনি ছিলেন ১৬ বিহার রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার। গালওয়ান সংঘর্ষে অনুপ্রবেশকারী পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হন। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, ওই নৃশংস সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, চিন প্রথমে কোনও প্রাণহানির কথা অস্বীকার করলেও, পরে দাবি করে যে, তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন – যা প্রকৃত সংখ্যাকে গুরুতরভাবে খাটো করে দেখানোর অভিযোগ রয়েছে (Filmmakers)। ভারত একটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন দেশ এবং সেই স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে (Galwan Film) শিল্পীসত্তার প্রকাশ। ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাঁদের শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা অনুযায়ী ছবি নির্মাণে সম্পূর্ণ স্বাধীন – এমনটাই জানিয়েছে একটি সূত্র।

    শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা

    ওই সূত্র জানিয়েছে, “ভারত এমন একটি দেশ যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এবং সিনেমার মাধ্যমে প্রকাশ সেই স্বাধীনতারই অঙ্গ। ভারতীয় নির্মাতারা এই শিল্পীসত্তার স্বাধীনতার ভিত্তিতেই চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারেন।” সূত্রটি আরও জানিয়েছে, “এই নির্দিষ্ট ছবিটি নিয়ে কারও যদি কোনও আপত্তি বা প্রশ্ন থাকে, তবে তাঁরা ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। এই ছবির সঙ্গে সরকারের কোনও ভূমিকা নেই (Filmmakers)।” এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনার পর ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। লাদাখের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC) বরাবর গালওয়ান উপত্যকার কাছে সেনা মোতায়েন করে ভারতীয় সেনাবাহিনী (Galwan Film)। পাশাপাশি সম্ভাব্য চিনা আগ্রাসন ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও সমীক্ষামূলক কার্যকলাপও জোরদার করা হয়।

    গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন

    চিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান সংঘর্ষের যে চিত্র চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে, তা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বলিউডের ছবিগুলি মূলত বিনোদননির্ভর এবং আবেগপ্রবণ উপস্থাপনা করে। কিন্তু কোনও মাত্রার সিনেম্যাটিক অতিরঞ্জন ইতিহাসকে বদলাতে পারে না, কিংবা চিনের সার্বভৌম ভূখণ্ড রক্ষায় পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-এর দৃঢ় সংকল্পকে টলাতে পারে না।”তবে গ্লোবাল টাইমসের ওই প্রতিবেদনে ভুলভাবে দাবি করা হয়েছে যে গালওয়ান উপত্যকা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের চিনা অংশে অবস্থিত (Galwan Film)। পাশাপাশি, ২০২০ সালের জুনের সংঘর্ষের জন্য ভারতের ওপর দায় চাপিয়ে বলা হয়েছে যে ভারতীয় সেনারাই এলএসি অতিক্রম করে সংঘর্ষে উসকানি দেয়—যা ভারত বারবার অস্বীকার করে এসেছে (Filmmakers)।

  • Saudi Aramco: দক্ষিণ ভারতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি সৌদি আরামকোর

    Saudi Aramco: দক্ষিণ ভারতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি সৌদি আরামকোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ভারতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি সৌদি আরামকোর। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা সৌদি আরামকো (Saudi Aramco) দক্ষিণ ভারতে একটি বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারতের বাজারে (BPCL) দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নিতে চলেছে সংস্থাটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-এর একটি নতুন রিফাইনারি প্রকল্পে ২০ শতাংশ অংশীদারি কিনতে চলেছে সৌদি আরামকো। এই বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও, অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং একাধিক ব্যাঙ্কের একটি কনসোর্টিয়ামও এই প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    বিপিসিএল (Saudi Aramco)

    বিপিসিএল অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর জেলার রামায়্যাপত্তনম বন্দরের কাছে একটি বৃহৎ রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স গড়ে তুলছে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ধরা হয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যদিও মোট নির্মাণ ব্যয় ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনুমান। যদিও সৌদি আরামকো বা বিপিসিএল – কেউই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই প্রায় ৬,০০০ একর জমি প্রকল্পটির জন্য হস্তান্তর করেছে (BPCL)।

    জ্বালানির চাহিদা পূরণ

    এই রিফাইনারি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ভারতের ক্রমবর্ধমান দেশীয় জ্বালানির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি করা। প্রস্তাবিত এই রিফাইনারিটির বার্ষিক (Saudi Aramco) প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা হবে ৯ থেকে ১২ মিলিয়ন টন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অয়েল ইন্ডিয়া এই প্রকল্পে ১০ শতাংশ অংশীদারি রাখবে, আর ব্যাঙ্কগুলির সম্মিলিত অংশীদারি হতে পারে ৪ থেকে ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, বিপিসিএল কৌশলগত ও আর্থিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মোট ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করছে বলে সূত্রের খবর।

    সৌদি আরামকো

    জানা গিয়েছে, সৌদি আরামকো গুজরাটে অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ONGC)-এর উদ্যোগে গড়ে উঠতে চলা একটি নতুন রিফাইনারি প্রকল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। এই উদ্যোগটি ভারতে সৌদি আরামকোর দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত বিনিয়োগ পরিকল্পনারই একটি অংশ (BPCL)। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা সৌদি আরামকো ঘোষণা করেছিল, তারা ধাপে ধাপে ভারতে সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার  বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এই নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল (Saudi Aramco)।

    জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করা

    প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিল মাসে সৌদি আরব সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছিলেন। বহু দশক ধরে সৌদি আরামকো ভারতের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। সংস্থাটির অত্যাধুনিক পরিশোধন প্রযুক্তি ভারতের অংশীদারদের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত সুবিধা এনে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (BPCL)।

    অন্যদিকে, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল বিপণন সংস্থা। গত অর্থবর্ষের হিসেব অনুযায়ী সংস্থাটির দখলে রয়েছে ২৭.৪৪ শতাংশ বাজার। চলতি অর্থবর্ষের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হওয়া দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে বিপিসিএল ৬,৪৪৩ কোটি টাকা মুনাফা লুটেছে। সংস্থাটি কেরলের কোচি, মহারাষ্ট্রের মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশের বিনা – এই তিনটি বড় পরিশোধনাগার পরিচালনা করে (Saudi Aramco)।

LinkedIn
Share