Tag: Bengali news

Bengali news

  • Delhi Blast: ‘বিরিয়ানি’, ‘দাওয়াত’, ‘ম্যাডাম এক্স’, জঙ্গিদের ব্যবহার করা এসব শব্দের মানে জানেন?

    Delhi Blast: ‘বিরিয়ানি’, ‘দাওয়াত’, ‘ম্যাডাম এক্স’, জঙ্গিদের ব্যবহার করা এসব শব্দের মানে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিরিয়ানি প্রস্তুত, দাওয়াতের জন্য তৈরি থাকুন।” এই আপাত নিরীহ বাক্যটির নেপথেই ছিল বড়সড় অঘটনের সংকেত (Terror Module)। আজ্ঞে, হ্যাঁ। দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের অদূরে বিস্ফোরণের (Delhi Blast) আগে আগে এহেন সাংকেতিক ভাষাই ব্যবহার করত জঙ্গিরা।

    আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা (Delhi Blast)

    ১০ নভেম্বর, সোমবার সন্ধ্যায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ১৩ জন। ওই ঘটনার তদন্তে নেমেই জঙ্গিদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। বিস্ফোরণের পর ভারতে ‘হোয়াইট কলার মডেলে’র নানা কাজকর্মের কথা প্রকাশ্যে আসে। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল, দেশ-বিদেশের জঙ্গি সংগঠন, মায় নিজেদের মধ্যেই বা কীভাবে যোগাযোগ রাখত এই জঙ্গি মডিউলের সদস্যরা? জানা গিয়েছিল, ‘সিগন্যাল’ নামের একটি অ্যাপের কথা।

    সিগন্যাল অ্যাপে চলত কথাবার্তা

    দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে তিন চিকিৎসককে। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সিগন্যাল অ্যাপে তৈরি একটি গ্রুপের মাধ্যমে চলত জইশ-ই-মহম্মদের ফিদায়েঁ মডিউলের সঙ্গে যোগাযোগ। ওই গ্রুপে যুক্ত ছিল বিস্ফোরণের অন্যতম চক্রী উমর-সহ ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল আহমেদ, আদিল আহমেদ রাথর এবং শাহিন শাহিদ। এই গ্রুপের অ্যাডমিন ছিল আদিলের ভাই তথা জঙ্গি মডিউলের চাঁই মুজাফ্ফর রাথের। জানা গিয়েছে, এই গ্রুপেই উমর জানাত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারোক্সাইড-সহ (TATP) অন্যান্য রাসায়নিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। কোন রাসায়নিক কোথা থেকে কেনা হয়েছে, পরিমাণই বা কত, এর পর কী করা হবে, সেসব ব্যাপারেই কথাবার্তা উমরের সঙ্গে চলত এই গ্রুপের মাধ্যমেই (Terror Module)।

    বিরিয়ানি, দাওয়াত…

    তদন্তকারীরা জেনেছেন, হোয়াইট কলার জঙ্গি মডিউলটি সাধারণ খাবারের নাম ব্যবহার করে নিরাপদ মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম ব্যবহার করে জঙ্গি কাজ-কারবার চালাত (Delhi Blast)। সূত্রের খবর, মুজামিল শাকিল, উমা উন নবি, শাহিন শাহিদ এবং আদিল আহমেদ রাথেরের সমন্বয়ে গঠিত জঙ্গি মডিউলটি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড অ্যাপ টেলিগ্রামে যোগাযাগের জন্য বিরিয়ানি, দাওয়াতের মতো সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করত। সূত্রের খবর, ‘বিরিয়ানি’ বলতে বোঝানো হত ‘বিস্ফোরক পদার্থ’, ‘দাওয়াত’ বলতে বোঝানো হয়েছিল ‘একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে’। তদন্তকারীরা জানান, জঙ্গি হামলার বিস্ফোরক প্রস্তুত করার পর তারা টেলিগ্রামে যে বার্তাটি শেয়ার করেছিল, সেটি হল, “বিরিয়ানি প্রস্তুত, দাওয়াতের জন্য তৈরি থাকুন।”

    সূত্রের খবর, এই হোয়াইট কলার জঙ্গি মডিউলের মূল পরিকল্পনাকারী ইমাম ইরফান আহমেদ জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানের বাসিন্দা। সূত্রের খবর, সে-ই চিকিৎসকদের মৌলবাদী করে ঠেলে দিয়েছিল সন্ত্রাসের পথে। ২০২০ সালে সে ছেলের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে। সেখানেই তার সঙ্গে আলাপ হয় উমা উন নবির। এই নবি-ই পরবর্তীকালে লালকেল্লা বিস্ফোরণের ‘সুইসাইড বম্বার’ হিসেবে চিহ্নিত হয় (Delhi Blast)। এই গ্রুপে শাহিন পরিচিত ছিল ‘ম্যাডাম সার্জন’ নামে। তদন্তকারীরা এর পাশাপাশি ‘ম্যাডাম এক্স’ এবং ‘ম্যাডাম জেড’ নামে অজ্ঞাতপরিচয় দুই মহিলার নামও পেয়েছেন (Terror Module)। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল শাহিনের (Delhi Blast)।

  • SIR: ২৮ বছর পর ‘মৃত’ ব্যক্তিকে পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দিল এসআইআর

    SIR: ২৮ বছর পর ‘মৃত’ ব্যক্তিকে পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দিল এসআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-এর (SIR) ফলে পরিবারের মৃত ভাবা এক ব্যক্তি তিন দশক পর বাড়িতে ফিরলেন। জানা গিয়েছে ২৮ বছর ধরে তাঁর বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না। পশ্চিমবঙ্গ নিবিড় তালিকা সংশোধনের কাজ চলার মধ্যে অবশেষে বাড়ি ফিরে এলেন। ভোটার তালিকায় তাহলে কেন জীবিত ব্যক্তিকে মৃত বলা হয়েছে, নির্বাচনী ভোটার তালিকায় এমন রেকর্ড কীভাবে বা এসেছে। এই রকম নানা প্রশ্নে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় (North 24 Parganas)।

    ১৯৯৭ সাল থেকেই নিখোঁজ

    সোমবার বিকেলে সুপ্রিয়া মণ্ডল নিজের বাড়িতেই দরজা খুলে দেখেন, যে পুরুষের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিলেন, সেই তাঁর স্বামী জগদ্বন্ধু মণ্ডল সশরীরে উপস্থিত। তাঁর বয়স এখন ৫৫, তাঁর বাবা বিজয় মণ্ডল দেখেই তাৎক্ষণিক ভাবে দেখেই চিনতে পেরেছেন ছেলেকে। তবে নির্বাচনী ভোটার তালিকায় জগদ্বন্ধু মণ্ডলের নাম মৃত ঘোষণা করে বাদ দিয়ে দিয়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শীতকালে জগদ্বন্ধু নিজের স্ত্রী এবং ছোট দুই সন্তানকে রেখে নিখোঁজ হয়েছিলেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ডায়েরি, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে আবেদন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদও চলেছিল লাগাতার। পরে প্রশাসনের তরফে তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করলে অসহায় পরিবারটি অবশেষে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়। প্রায় তিন দশক ধরে পরিবারের তরফে মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে জগদ্বন্ধু আর কোনও দিন বাড়ি ফিরবেন না।

    জগদ্বন্ধুকে নিয়ে নানা মহলে গুঞ্জন

    এলাকার (North 24 Parganas) বুথ কমিটির সদস্য সমীর গুহ (SIR) বলেন, “বুথ লেভেল অফিসারের কাছে গত ২৮ বছর ধরে জগদ্বন্ধু সম্পর্কে কোনও নথিপত্র এবং তথ্য ছিল না। ২০০২ সালের পর থেকে তাঁর নাম উধাও হয়ে যায়। এইবার এসআইআর আবহে তিনি আবার ফিরে এসেছেন।” তবে এসআইআর-এর জন্য যখন প্রত্যেকে ভোটার আইডি, জমির কাগজপত্র এবং বসবাসের প্রমাণপত্র দেখানোর বিষয় উঠে এসেছে তখনই জগদ্বন্ধুকে পুনরায় বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য করেছে।

    তবে এলাকাবাসীদের (North 24 Parganas) জগদ্বন্ধুকে নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন বাঁকুড়ার ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। তবে সেখানে সুলেখা মণ্ডল নামক এক মহিলার সঙ্গে বসবাস করেন। সুলেখার স্বামীর নাম জগদ্বন্ধু মণ্ডল নামেই নথিবদ্ধ। আবার অপর আরেক মহলের মত, জগদ্বন্ধু নিজে সঠিক তথ্য দেননি। গুজরাট, মুম্বই, বাঁকুড়া এবং ছত্তিশগড়ে কাজ করেছেন। তবে সম্প্রতি কাজ হারিয়েছেন তাই ফিরে এসেছেন। এদিকে জগদ্বন্ধুর পুরনো ভোটার লিস্টে (SIR) নাম বাদ গেলেও এইবার সঠিক কাগজ বা উপযুক্ত নথি দিয়ে আবার নিজের নাম তালিকায় তুলতে পারবেন। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যে বিরাট শোরগোল পড়েছে।

  • Sheikh Hasina: ‘‘ভারত আমার মায়ের প্রাণ বাঁচিয়েছে’’, মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন হাসিনা-পুত্র সজীব

    Sheikh Hasina: ‘‘ভারত আমার মায়ের প্রাণ বাঁচিয়েছে’’, মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন হাসিনা-পুত্র সজীব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) ধন্যবাদ জানালেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ছেলে সজীব ওয়াজেদ। তিনি বলেন, “গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে আমার মায়ের ওপর চালানো হত্যার চেষ্টা প্রতিরোধে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।” এর পাশাপাশি তিনি ঢাকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং যে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর মায়ের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তারও তীব্র সমালোচনা করেন। ওয়াজেদ থাকেন আমেরিকায়।

    ওয়াজেদের অভিযোগ (Sheikh Hasina)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীনরা আইনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে, বিচারকদের বরখাস্ত করছে এবং শেখ হাসিনাকে তাঁর সাংবিধানিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করেছে।” হাসিনা-পুত্র বলেন, “ভারত সব সময়ই আমাদের ভালো বন্ধু। সঙ্কটের সময়ে ভারত আমার মায়ের প্রাণ বাঁচিয়েছে। তিনি যদি বাংলাদেশ না ছাড়তেন, জঙ্গিরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।” তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের কাছে চির কৃতজ্ঞ। কারণ তারা আমার মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে।”

    হাসিনার প্রত্যর্পণ

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের দেশান্তরী প্রধানমন্ত্রীর ছেলের এহেন বার্তা এমন একটা সময়ে এল, যখন ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে। আদালতের এই রায়ে বাংলাদেশে যেমন খুশির হাওয়া দেখা গিয়েছে, তেমনি সঞ্চার করেছে ব্যাপক ক্ষোভেরও। বাংলাদেশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনার প্রত্যর্পণ চাওয়ার পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওয়াজেদের অভিযোগ, নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিটি ধাপে আইনি প্রক্রিয়াকে বঞ্চিত করেছে। তিনি বলেন, “প্রত্যর্পণ ঘটতে হলে বিচার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা উচিত। বাংলাদেশে বর্তমানে যে সরকার রয়েছে, তা অনির্বাচিত, অসাংবিধানিক এবং বেআইনি (PM Modi)। আমার মাকে দোষী সাব্যস্ত করতে তারা আইন সংশোধন করেছে, যাতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা যায়। তাই এই আইনগুলিও বেআইনিভাবে সংশোধন করা হয়েছে। আমার মাকে তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের (Sheikh Hasina) আইনজীবী নিয়োগ করার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তাঁর আইনজীবীদের আদালতেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”

    হাসিনা-পুত্রের দাবি

    হাসিনা-পুত্রের দাবি, ট্রাইব্যুনালের গঠনই এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে পূর্বনির্ধারিত রায় নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “বিচারের আগে আদালত থেকে সতেরোজন বিচারককে বরখাস্ত করা হয়েছিল। নিয়োগ করা হয়েছিল নতুন বিচারকদের। এঁদের মধ্যে আবার কয়েকজনের বিচারকের আসনে বসে কাজ করার কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না। এঁরা ছিলেন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তাই সেখানে কোনওরকম যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অথচ কাউকে প্রত্যর্পণ করতে যথাযথ প্রক্রিয়া থাকা বাধ্যতামূলক।”

    প্রসঙ্গত, ট্রাইবুনালকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (Sheikh Hasina) একটি প্রক্রিয়া বলে খারিজ করে দিয়েছেন হাসিনা স্বয়ং-ও। তিনি বাংলাদেশছাড়া হওয়ার পর ক্ষমতার রশি যায় ইউনূসের হাতে। তারপর থেকে হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে একের পর এক মামলা। সেই সব মামলার বিচার হয় ট্রাইব্যুনালে। হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত (PM Modi)।

  • Bangladesh: ডোভালের আমন্ত্রণে বুধে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

    Bangladesh: ডোভালের আমন্ত্রণে বুধে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির সাজা নিয়ে উত্তাল বাংলাদেশ (Bangladesh)। ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি মোতাবেক হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া কথা মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের। এহেন ডামাডোলের বাজারে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের আমন্ত্রণে নয়াদিল্লিতে আসছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA)। ১৯ নভেম্বর, বুধবার ভারতে আসছেন সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে ভারতীয় হাইকমিশনের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে খলিলুরের ভারত সফরের বিষয়টি জানানো হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্তও বাংলাদেশের তরফে কিছু জানানো হয়নি আনুষ্ঠানিকভাবে।

    কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের সম্মেলন (Bangladesh)

    ২০ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে হবে ভারত মহাসাগরীয় এলাকার পাঁচটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের সম্মেলন। এই সম্মেলনে যোগ দিতেই অক্টোবর মাসে খলিলুরকে নয়াদিল্লিতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ডোভাল। সেই আমন্ত্রণেই সাড়া দিয়ে দু’দিনের ভারত সফরে আসছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। দুই দেশের দুই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনার সীমা নেই। তবে, বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কিছুক্ষণের জন্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে পারেন ডোভাল ও খলিলুর। ওই বৈঠকে সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    হাসিনা সরকারের পতন

    গত বছরের ৫ অগাস্ট ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ান আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা। তার পর থেকে তিনি রয়েছেন ভারতেই। হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাশ যায় অন্তর্বর্তী সরকারের (NSA) হাতে। তার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ নয়। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পড়শি বাংলাদেশের সঙ্গে কোনও টানাপোড়েন চায় না ভারত। তবে একই সঙ্গে সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকেও নিজের কথাবার্তার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন রাজনাথ। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওই মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ (Bangladesh)। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে দাবি করা হয়, রাজনাথের ওই মন্তব্য শিষ্টাচার ও কূটনৈতিক সৌজন্যের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্মানজনক নয়। ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হচ্ছে, তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ। এহেন আবহেই ভারতে আসতে চলেছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূ্র্ণ।

    শ্যেন দৃষ্টি খলিলুরের ভারত সফরে

    বাংলাদেশের পাশাপাশি এই কনক্লেভে যোগ দেবেন মলদ্বীপ, মরিশাস এবং শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরাও। সূত্রের খবর, এই কনক্লেভে সমুদ্র, সীমান্ত, সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও ভারত তো বটেই, বাংলাদেশবাসীরও শ্যেন দৃষ্টি খলিলুরের ভারত সফরের দিকে (NSA)। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে দুই দেশের আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আবেদন ভারতের কাছে করতে পারে বাংলাদেশ। অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর, ডোভাল-খলিলুরের মুখোমুখি বৈঠকে আলোচনা হতে পারে দুই দেশের সীমান্ত নিয়ে। ভারতে এসআইআর শুরু হতেই বাংলাদেশে পালাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। সেই (Bangladesh) বিষয়টি নিয়েও হতে পারে আলোচনা। বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যকলাপও বাড়ছে বলে অভিযোগ। এমতাবস্থায় হতে চলেছে দুই দেশের দুই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক।

    ‘বিমসটেক’ সম্মেলন

    প্রসঙ্গত, এর আগে তাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে ‘বিমসটেক’ সম্মেলনের ফাঁকে খলিলুরের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে। সেই সময় অবশ্য খলিলুর ছিলেন ইউনূসের প্রতিনিধি। তখনও বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়নি তাঁকে (NSA)। উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই ক্রমাগত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ধরে ধরে পুশব্যাক করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে প্রথম দিকে ব্যাপক আপত্তি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এখন আর সেরকম কোনও আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না। চোরাচালান নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বাংলাদেশি পাচারকারীদের যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা গুলি করে, তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে ঢাকার।

    ডামাডোলের বাজার

    এসবের মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তের কাছেই ভারত তিনটি সামরিক ছাউনি স্থাপন করেছে। চিকেনস নেকের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ করেছে ভারতীয় সেনা। আবার আগামী কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকদিন উত্তরপূর্ণ ভারতজুড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার মহড়া চলবে। যার জেরে জারি করা হয়েছে নোটাম। এই সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। এই আবহে দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (NSA) বৈঠক যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য (Bangladesh)।

  • Nitish Kumar Oath Ceremony: ১০ বার! বৃহস্পতির শুভক্ষণেই শপথ নেবেন নীতীশ, থাকবেন প্রধানমন্ত্রীও

    Nitish Kumar Oath Ceremony: ১০ বার! বৃহস্পতির শুভক্ষণেই শপথ নেবেন নীতীশ, থাকবেন প্রধানমন্ত্রীও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দশমবারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার (Nitish Kumars Oath Ceremony)। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন একাধিক বিশিষ্ট নেতা। বিহার বিধানসভা আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হবে ১৯ নভেম্বর। তার পরের দিনই পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে হবে নীতীশের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

    উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী (Nitish Kumar Oath Ceremony)

    নীতীশের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেই কারণে আঁটসাঁট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে ওই ময়দানে। জোর কদমে শুরু হয়ে গিয়েছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও। সোমবার থেকেই ওই ময়দানে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ। হাই-প্রোফাইল এই অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ময়দান। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি শপথ গ্রহণের এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বিজেপির কয়েকজন শীর্ষ স্তরের নেতা। এঁদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জেপি নাড্ডা। তাঁদের উপস্থিতি বিহারে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থানই স্পষ্ট করে। প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজেপি। রাজ্য বিধানসভার ২৪৩টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে ৮৯ কেন্দ্রের রাশ। তার পরেই রয়েছে নীতীশের দল। তারা পেয়েছে ৮৫টি আসন। যদিও বিজেপি এবং নীতীশের দল জেডিইউ প্রার্থী দিয়েছিল ১০১টি করে আসনে।

    আর কারা থাকবেন

    এর আগে ন’বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নীতীশ। টানা ক্ষমতায় রয়েছেন তিনি। এবার তিনি শপথ নিতে চলেছেন দশমবারের জন্য। এটি হবে বিহারের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ও নজিরবিহীন মাইলফলক (Nitish Kumar Oath Ceremony)। ওই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিজেপি এবং এনডিএ পরিচালিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীদের একটি প্রতিনিধিদলও। এঁদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশেরও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে (PM Modi) পারেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুও।

    বম্ব স্কোয়াডের লোকজন

    সোমবার গান্ধী ময়দান ঘুরে দেখেন বম্ব স্কোয়াডের লোকজন। ২০ নভেম্বর পর্যন্ত মাঠ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সর্বসাধারণের জন্য। প্রচুর নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি মাঠে বিছানো হয়েছে সবুজ কার্পেট। অতিথিদের বসার জন্য ১ হাজার ৫০০টি সোফার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। মাঠ সাজানোর জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে লরি লরি ফুল (Nitish Kumar Oath Ceremony)। এদিকে, মঙ্গলবারই বিদায়ী মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন নীতীশ। বৈঠক শেষে তাঁরা চলে যান রাজভবনে। সেখানেই ১৯ নভেম্বর বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে।

    রাজ্যপালের কাছে প্রস্তাব পেশ

    এদিন নীতীশের সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন বিদায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরিও। রাজ্যের বিদায়ী জলসম্পদ মন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরি বলেন, “মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৯ নভেম্বর থেকে বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে সেই প্রস্তাব অনুযায়ী সুপারিশও করেছেন।” তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী এদিন পদত্যাগ করেননি। পদত্যাগ করবেন ১৯ নভেম্বর। সেদিনই রাজ্যপালের কাছে নয়া সরকার গঠনের দাবিও জানাবেন (Nitish Kumar Oath Ceremony)।

    জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন

    অতীতে বহু রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে পাটনার এই গান্ধী ময়দান। তবে এনডিএ শিবিরের দাবি, অতীতের সেই সব ঘটনাকেই ছাপিয়ে যাবে নীতীশের এবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে ময়দানে প্রস্তুত করা হচ্ছে একটি জার্মান হ্যাঙ্গার। এই বিশাল হ্যাঙ্গারে এক সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার দর্শক বসতে পারবেন। হাজার তিরিশেক চেয়ারও রাখা হচ্ছে। পাটনার জেলাশাসক এসএম ত্যাগরাজন বলেন, “এটা স্পষ্ট যে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এখানেই হবে। সেজন্য নেওয়া হচ্ছে যাবতীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি। অনুষ্ঠানটিকে ঐতিহাসিক করে তোলার জন্য প্রস্তুতি প্রায় সারা (PM Modi)।”

    কী বলছে নীতীশের দল

    সরকার গড়ার লক্ষ্যে জেডিইউয়ের কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় কুমার ঝা প্রথমে বৈঠক করেছিলেন বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে। রবিবার তিনি দেখা করেছিলেন নীতীশের সঙ্গে। পরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “কয়েক দিনের মধ্যেই নয়া সরকার গঠন করা হবে। এনডিএর ইস্তেহারে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা পূরণ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Nitish Kumar Oath Ceremony)।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নীতীশের দলের এক নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসবেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। এটি একটি জমকালো অনুষ্ঠান হবে। সমাগম হতে পারে (PM Modi) বিপুল দর্শকের। আমাদের দল নয়া মন্ত্রিসভায় আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা করছে। বিদায়ী মন্ত্রিসভায় আমাদের দলের মন্ত্রী ছিলেন মাত্র ১২ জন।”

  • India Russia Relation: ভারতে আসছেন পুতিন, হবে ভারত-রাশিয়া গুচ্ছের চুক্তি সই! তার আগে গুরুদায়িত্বে জয়শঙ্কর-ডোভাল

    India Russia Relation: ভারতে আসছেন পুতিন, হবে ভারত-রাশিয়া গুচ্ছের চুক্তি সই! তার আগে গুরুদায়িত্বে জয়শঙ্কর-ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (India Russia Relation) সঙ্গে নয়া চুক্তি চূড়ান্ত করতে চলেছে নয়াদিল্লি। ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে ভারত সফরে আসার কথা রুশ প্রেসিডেন্টের। সেই সফরেই নয়াদিল্লি একগুচ্ছ নয়া চুক্তি ও উদ্যোগ চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)।

    পুতিনের সফর (India Russia Relation)

    তিনি পুতিনের সফরকে কেন্দ্র করে ২৩তম বার্ষিক ভারত–রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মস্কোয় রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করেন। জয়শঙ্কর বলেন, “এই বিশেষ উপলক্ষটি আমার কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা ২৩তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিনের ভারত সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।” তিনি জানান, উভয় পক্ষই বহু ক্ষেত্রে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, উদ্যোগ এবং প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা এগুলি আগামী দিনগুলিতে চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছি। এই সব পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে আমাদের বিশেষ এবং সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ় করবে।” জানা গিয়েছে, ৫ ডিসেম্বরের আশপাশে ভারতে আসার কথা পুতিনের। এই সফরে তিনি বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও। গত বছর মোদি মস্কো সফর করেছিলেন বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে।

    বৃহত্তর বিশ্বের স্বার্থ পূরণ

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত শান্তি প্রতিষ্ঠার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাগুলিকে সমর্থন করে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এই লক্ষ্যকে গঠনমূলকভাবে নেবে। সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং একটি স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থেই।” তিনি বলেন, “ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীলতার একটি উপাদান হিসেবে কাজ করেছে এবং এই অংশীদারিত্বের বিকাশ দুই দেশ এবং বৃহত্তর বিশ্বের স্বার্থ পূরণ করে (India Russia Relation)।” দুই মন্ত্রী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করব। এই খোলামেলা আলোচনা বরাবরই আমাদের সম্পর্ককে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেন সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফগানিস্তানের ঘটনাবলিও।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মস্কোয় জয়শঙ্করের এই সফরটি আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক একটি পদক্ষেপ, যেখানে কৌশলগত সহযোগিতা আরও মজবুত করতে উল্লেখযোগ্য ফলের সম্ভাবনা রয়েছে (S Jaishankar)।প্রসঙ্গত, ভারত ও রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনার জন্য ফি বছর একটি করে বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে। এখন পর্যন্ত এই ধরনের ২২টি সম্মেলন হয়েছে। রাশিয়া ভারতের দীর্ঘদিনের অংশীদার। এটি নয়াদিল্লির বিদেশনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

    ডোভাল-নিকোলাই বৈঠক

    এদিকে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল সোমবার পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং রাশিয়ার মেরিটাইম বোর্ডের চেয়ারম্যান নিকোলাই পাত্রুশেভের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল সামুদ্রিক নিরাপত্তা। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত রুশ দূতাবাস বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ভারতের জাতীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা সমন্বয়ক ভাইস অ্যাডমিরাল বিশ্বজিৎ দাসগুপ্তও আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন (India Russia Relation)। দূতাবাসের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে জানানো হয়, “রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সহকারী ও রাশিয়ার মেরিটাইম বোর্ডের চেয়ারম্যান নিকোলাই পাত্রুশেভ ভারতে পৌঁছেছেন। তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (S Jaishankar) অজিত ডোভাল এবং ভারতের জাতীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা সমন্বয়ক ভাইস অ্যাডমিরাল বিশ্বজিৎ দাসগুপ্তের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।” উল্লেখ্য যে, পাত্রুশেভের এই সফরটি এমন একটি দিনে হল, যেদিন ভারতের বিদেশমন্ত্রী রুশ বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন করে বৈঠক করতে মস্কো পৌঁছেছেন।

    ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক

    প্রসঙ্গত, আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করছে ভারত। গত অগাস্ট মাসেই রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। গিয়েছিলেন ডোভালও। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে উদ্যোগী হয়েছেন নয়াদিল্লির মোদি এবং মস্কোর পুতিন সরকার (India Russia Relation)। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কো থেকে অপরিশোধিত তেল কেনায় ভারতের ওপর রুষ্ট ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করেই রাশিয়ার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে রাজি হয়নি ভারত। ডোভাল, জয়শঙ্করের রাশিয়া সফর এবং (S Jaishankar) নরেন্দ্র মোদি-পুতিনের ফোনে কথা, ভারতের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের সমালোচনা, পুতিনের ভারতে আসার সম্ভাবনা, এমন নানা বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সেই সময় যে আলাপ-আলোচনা হয়েছিল, তা ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক আরও মজবুত করার ইঙ্গিত ছিল। সেই সম্পর্কই আরও মজবুত হবে পুতিনের আসন্ন ভারত সফরে (India Russia Relation)।

  • Sheikh Hasina: হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, মুজিব-কন্যাকে কি বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে বাধ্য ভারত?

    Sheikh Hasina: হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, মুজিব-কন্যাকে কি বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে বাধ্য ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশের (Bangladesh) পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) ফাঁসির সাজা দিয়েছে সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। হিংসায় উসকানি দেওয়া, হত্যার নির্দেশ এবং দমনপীড়ন আটকানোর ক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা – এই তিন অভিযোগে হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতেই রয়েছেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, হাসিনাকে দেশে ফেরাতে চেয়ে ভারতের কাছে ফের চিঠি দেবেন তাঁরা। তবে ভারত তাঁকে আদৌ বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

    বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি (Sheikh Hasina)

    ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি। সেই চুক্তি মোতাবেক, আদালতের রায়ে প্রত্যর্পণ করানোর মতো অপরাধ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক দেশ অন্য দেশের হাতে তুলে দেবে। ২০১৩ সালে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কেন্দ্রে তখন মনমোহন সিংয়ের নেতৃ্ত্বাধীন ইউপিএ সরকার, ঢাকার মসনদে হাসিনা স্বয়ং। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, যে অপরাধের ভিত্তিতে প্রত্যর্পণ করা হবে, তা দুই দেশেই শাস্তিযোগ্য হতে হবে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সহজতর করতে চুক্তি সংশোধন করা হয় ২০১৬ সালে। সংশোধিত চুক্তিতে বলা হয়, কারও নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেই তাঁকে প্রত্যর্পণ করা যাবে। সংশোধিত এই চুক্তি অনুসারেই হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করার আর্জি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

    চুক্তির সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক

    ওই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে (Bangladesh) বলা হয়েছে, অপরাধটির যদি রাজনৈতিক চরিত্র থাকে, তাহলে প্রত্যর্পণ করা হবে না। খুন, গুম করা ও অত্যাচার রাজনৈতিক অপরাধের তালিকায় রাখা হবে না বলেও চুক্তিতে বলা হয়েছে। ওই চুক্তির সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিচারের নেপথ্যে যদি সৎ কোনও উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে ভারত বা বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ করবে না। হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করার জন্য এই যুক্তিগুলি খাড়া করতে পারে ভারত। হাসিনা নিজেও বারংবার তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ তুলেছেন বিচারের নামে প্রহসনেরও।

    ভারতকে চিঠি ইউনূসের

    ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন হাসিনা। ওই বছরেরই ডিসেম্বর মাসে পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে (Sheikh Hasina) ফেরত চেয়ে নয়াদিল্লিকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। মহম্মদ ইউনূস সরকারের ওই চিঠির প্রাপ্তি স্বীকারও করেছিল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের একটি চিঠি পেয়েছেন তাঁরা (Bangladesh)। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য এখনই করা যাবে না বলে জানিয়েছিলেন তিনি। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছিল, আগে ওই চিঠির বৈধতা যাচাই করতে চায় নয়াদিল্লি। কোনও দেশের অন্তর্বর্তী সরকার, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, অন্য রাষ্ট্রের নির্বাচিত সরকারের কাছে কোনও রাজনৈতিক নেতার প্রত্যর্পণ চাইলে, আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির মধ্যে থাকা বেশ কয়েকটি শর্তের জন্যই ভারত হাসিনাকে ফেরাতে বাধ্য নয় বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক অনিন্দ্যজ্যোতি মজুমদার বলেন, “ভারত হাসিনাকে ফেরাতে বাধ্য নয়। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত চুক্তি থাকলেও, সেখানে এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যার জন্য নয়াদিল্লি সেটি মানতে বাধ্য নয়।” প্রত্যর্পণ চুক্তির ওই শর্তের জেরে হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণে ভারত বাধ্য নয় বলেই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমনকল্যাণ লাহিড়িও। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ নিয়ে চুক্তি রয়েছে ঠিকই (Sheikh Hasina)। তবে সোমবারের ওই রায়ের পর বাংলাদেশে প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে হাসিনার। তাই ওই চুক্তিতে থাকা নিয়ম অনুসারেই ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য নয় (Bangladesh)।”

    কী বলছেন আইনজীবী

    কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অরিন্দম দাস বলেন, “হাসিনা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন। কিন্তু দেশে না থাকার জন্য হাসিনাকে যদি তা করতে বাধা দেওয়া হয়, তবে তা হবে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।” ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রতিলিপি পাঠানো হলেও, ভারত তা মানতে বাধ্য নয় বলেও জানান তিনি। বলেন, “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী যদি কোনও দেশে কারও জীবনের ঝুঁকি থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া দেশ তাঁকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য নয়। হাসিনার ক্ষেত্রেও এই আইনের কথা তুলে ধরতে পারে ভারত (Sheikh Hasina)।”

  • Sheikh Hasina: হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের আদালতের, কী বললেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী?

    Sheikh Hasina: হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের আদালতের, কী বললেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) মৃত্যুদণ্ড দিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সেই রায় সরাসরি সম্প্রচারিতও হয়েছে। হাসিনার পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও। রাজসাক্ষী হওয়ায় শাস্তি ছোট করা হয়েছে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা আল মামুনের। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রদর্শন করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁকে। হাসিনাকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এক, উসকানি দেওয়া, দুই হত্যার নির্দেশ এবং তিন, দমনপীড়ন আটকানোর ক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা। ঢাকা আদালতের ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হাসিনা। সোমবার রায় ঘোষণার পরেই তিনি আদালতের এই রায়কে কারচুপিপূর্ণ, আগে থেকেই ঠিক করে রাখা এবং গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটহীন, অনির্বাচিত সরকারের সৃষ্টি বলে অভিহিত করেন।

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি (Sheikh Hasina)

    রায় ঘোষণার পর রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলির স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। বরং তাঁর আমলে মানবাধিকার এবং উন্নয়নমূলক অনেক কাজ হয়েছে। সেজন্য তিনি গর্বিতও। আওয়ামি লিগ সুপ্রিমোর দাবি, এই রায় দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, তাও আবার একটি অনির্বাচিত সরকারের অধীনস্থ অবৈধ ট্রাইব্যুনাল সেই রায় দিয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান করে হাসিনা বলেন, “এই রায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকা চরমপন্থী ব্যক্তিদের নির্লজ্জতা ও খুনি মনোভাবের প্রতিফল মাত্র। বাংলাদেশের শেষ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণ করতে এবং আওয়ামি লিগকে রাজনৈতিকভাবে ভেঙে দিতে এই কাজ করা হয়েছে (Bangladesh)।”

    অভিযোগ অস্বীকার

    হাসিনা লিখেছেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা ট্রাইব্যুনালের সব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি। গত বছরের জুলাই-অগাস্টে যত জনের মৃত্যু হয়েছে, সেজন্য আমি শোকাহত। কিন্তু আমি কিংবা কোনও রাজনৈতিক নেতা কখনওই কোনও আন্দোলনকারীকে হত্যা করার নির্দেশ দিইনি। আমাকে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, আমাকে নিজের পছন্দ মতো আইনজীবীও বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই ট্রাইব্যুনাল পক্ষপাতদুষ্ট।” বঙ্গবন্ধুর কন্যা হাসিনা (Sheikh Hasina) বলেন, “মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে হাতিয়ার করেছে দেশের বিচার বিভাগকে। এভাবে তারা একজোট হয়েছে আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে। বিশ্বের কোনও প্রকৃত পেশাদার আইনজীবী বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের এই রায় সমর্থন করবেন না।”

    ইউনূসের আমল

    বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “ইউনূসের আমলে বাংলাদেশ আরও বিশৃঙ্খল, সহিংস এবং সামাজিকভাবে পশ্চাদগামী একটি শাসন ব্যবস্থায় পরিণ হয়েছে, যেখানে পদে পদে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, ভিন্নমতের দমনপীড়ন চলছে। অর্থনীতিও ভেঙে পড়েছে। অথচ ক্ষমতায় থাকার জন্য এতদিন ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনে দেরি করেছেন ইউনূস। নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন আওয়ামি লিগকে।” বিবৃতিতে হাসিনা লিখেছেন, “বৈধ ট্রাইব্যুনালে উপযুক্ত প্রমাণ-সহ বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে আমি ভয় পাই না। তবে আমি জানি, অন্তর্বর্তী সরকার এই চ্যালেঞ্জ মানবে না। কারণ তারা জানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা গেলে তারা আমায় অব্যাহতি দেবে (Bangladesh)।”

    এই আদালত অবৈধ

    বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালত এবং থানায় এখনও পর্যন্ত হাসিনার বিরুদ্ধে ৫৮৬টি মামলা দায়ের হয়েছে (Sheikh Hasina)। ৩৯৭ দিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলার পর সোমবার সাজা ঘোষণা হয়েছে ওই মামলায়। ট্রাইব্যুনালের রায় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গির কবীর নানক বলেন, “এই আদালত অবৈধ। বাংলাদেশের জনগণ এই রায় প্রত্যাখ্যান করছে। আগামিকাল সারা বাংলাদেশে সকাল-সন্ধ্যা শাটডাউন হবে। যতক্ষণ না অবৈধ ইউনূস সরকার পদত্যাগ করবে, আমাদের সংগ্রাম ততই তীব্র হবে। একদিন হাসিনা বীরের বেশে বাংলার জনগণের প্রিয় দল হিসেবে ফিরবেন। আমাদের জয় অবশ্যম্ভাবী।”

    প্রতিক্রিয়া হাসিনা পুত্রের

    ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদও। তিনি থাকেন আমেরিকার ওয়াশিংটনে। তিনি বলেন, “আমার মা ভারতে নিরাপদ আছেন। ভারত তাঁকে পুরো নিরাপত্তা দিচ্ছে।” ওয়াজেদ বলেন, “আমরা আওয়ামি লিগ ছাড়া নির্বাচন হতে দেব না। আমাদের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে, আরও বিস্তৃত হবে এবং আমরা যে কোনও কিছু করতে প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক সংস্থা কিছু না করলে, নির্বাচনের আগে হিংসা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অনিবার্য হয়ে উঠবে মুখোমুখি সংঘর্ষ।‘’ তিনি (Sheikh Hasina) বলেন, “দলীয় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আরও আন্দোলন হবে।” যদিও সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, আওয়ামি লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই (Bangladesh)।

  • SIR: গর্তে ঢালা হয়েছে কার্বলিক অ্যাসিড! স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে ভিড় অনুপ্রবেশকারীদের

    SIR: গর্তে ঢালা হয়েছে কার্বলিক অ্যাসিড! স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে ভিড় অনুপ্রবেশকারীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ইলেকশন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে নেমেছে৷ দামি ব্লিচিং পাউডার ও ফিনাইল ব্যবহার করা হচ্ছে৷ আর গর্তে দেওয়া হচ্ছে কার্বলিক অ্যাসিড৷ ফলে যেমন সাপ বেরোয়, তেমন এরা রাস্তায় বের হচ্ছে৷” সপ্তাহখানেক আগে ঠিক এই ভাষায়ই এসআইআরের (SIR) প্রতিবাদে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে করা মিছিলকে কটাক্ষ করেছিলেন রাজ্যের (Bangladesh) বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী।

    কাগজ নেই, কবুল করলেন অনুপ্রবেশকারীরা (SIR)

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কথা যে নেহাত অমূলক নয়, সেটা মালুম হয় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায়। এই যেমন হাকিমপুর চেকপোস্ট। এখানে লোটা-কম্বল নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শ’য়ে শ’য়ে মানুষ। কারণ মাথায় বোঁচকা, কেউ আবার দাঁড়িয়ে রয়েছেন বড় বড় ট্রলি ব্যাগ নিয়ে। মাথায়-হাতে-কাঁধে থাকা ব্যাগে ভর্তি গেরস্থালির জিনিসপত্র। সেই সব বোঝা নিয়েই ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন, কখন সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছবেন তাঁরা, সেই অপেক্ষায়। সীমান্তে অপেক্ষারত এই অনুপ্রবেশকারীদের কাছ থেকেই জানা গিয়েছে, এসআইআরের ভয়ে ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন তাঁরা। এঁদের অনেকেই কবুল করলেন, কোনও কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে বসবাস করছিলেন তাঁরা। রুটি-রুজির জন্যই স্বদেশ ছেড়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পড়শি দেশে ঠাঁই নিয়েছিলেন। সেখানেও এসআইআর শুরু হওয়ায় ভয়ে ফের প্রাণ হাতে করে বাংলাদেশে ফিরতে প্রতীক্ষার প্রহর গুণছেন তাঁরা।

    এসআইআর জুজু!

    দেশজুড়ে চালু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার লিস্ট ঝাড়াই-বাছাই করার পর হয়েছে বিহার বিধানসভার নির্বাচন। বস্তুত, বিহারেই প্রথম শুরু হয় এসআইআর। এই এসআইআর চালু হতেই ঝুলি থেকে বেরিয়ে এসেছে বিড়াল। বাদ গিয়েছে বহু ভুয়ো এবং মৃত ভোটারের নাম। বিহারের পর এসআইআর চালু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে। তার পরেই দলে দলে ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন অনুপ্রবেশকারীরা। হাকিমপুর চেকপোস্টেই সীমান্ত পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন ৩০০-এরও বেশি অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের আটকেছেন ১৪৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। তাঁদের কাছে কী কী বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। নিজের দেশেই যে এত অনুপ্রবেশকারী এসে তাঁদের রুটি-রুজিতে ভাগ বসিয়েছিলেন, তা দেখে অবাক স্বরূপনগরের বাসিন্দারাও (SIR)।

    কী বলছেন অনুপ্রবেশকারীরা

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন সাবিনা পারভিনও। পোঁটলা-পুঁটলি নিয়ে তিনিও ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন সীমান্তে, বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায়। সাবিনা যে ভারতে বেআইনিভাবে বসবাস করছিলেন (Bangladesh), মুক্ত কণ্ঠে তা কবুলও করলেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বাড়ি। থাকতাম বিরাটিতে। আমার কাছে কাগজপত্র নেই, অবৈধভাবেই থাকতাম।” এই লাইনেই দাঁড়িয়ে থাকা আরও এক মহিলা বলেন, “চিনারপার্কে থাকতাম। আমার কাছে আধার কার্ড নেই। পেটের দায়ে এসেছিলাম এদেশে। লোকের বাড়ি বাড়ি কাজ করে কিছু রোজগার হত।” অবশ্য এই প্রথম নয়, এসআইআর ঘোষণা হয়েছে গত মাসের একেবারে শেষের দিকে। তারপর থেকে কার্যত হিড়িক পড়েছে বাংলাদেশে ফেরার। ২ নভেম্বর ধরা পড়েছিলেন ১১ জন অনুপ্রবেশকারী। তার পরের দিনই ৪৫ জনকে ধরে ফেলে বিএসএফ। ৪ নভেম্বর ধরা হয় আরও ৩৮ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে। ১০ তারিখে গ্রেফতার করা হয় ১০ জন অনুপ্রবেশকারীকে (SIR)।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এগুলি নমুনা মাত্র। প্রায় প্রতিদিনই সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে পালানোর চেষ্টা করার সময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আটক করা হচ্ছে ভারতে বসবাস করা অবৈধ বাংলাদেশিদের। এসআইআর চালু হতেই তাঁরা সকলে তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশে পালানোর চেষ্টা করছে। কেউ কেউ সীমান্তে প্রহরারত জওয়ানদের (Bangladesh) চোখ ফাঁকি দিয়ে পদ্মা পার হয়ে গেলেও, অনেকেই ধরা পড়ছে বিএসএফের জালে (SIR)।

    আসলে গর্তে যে ঢালা হয়েছে কার্বলিক অ্যাসিড!

     

  • Sukanta Majumdar: “তৃণমূল এখন লক্ষ্মীদের নারায়ণছাড়া করে দিয়েছে, আমরা তাঁদের ফেরাব”, বললেন সুকান্ত

    Sukanta Majumdar: “তৃণমূল এখন লক্ষ্মীদের নারায়ণছাড়া করে দিয়েছে, আমরা তাঁদের ফেরাব”, বললেন সুকান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ক্ষমতায় এলে বিজেপি (BJP) শুধু লক্ষ্মীদের কথাই ভাববে না, নারায়ণদের জন্যও ব্যবস্থা করবে।” মালদায় এমন মন্তব্যই করেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। তিনি বলেন, “বিহার নির্বাচনে সংখ্যালঘু মহিলাদের ভোট গিয়েছে বিজেপির দিকে। এই রাজ্যেও তার ব্যতিক্রম হবে না।”

    অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে মিলবে বেশি টাকা (Sukanta Majumdar)

    সুকান্ত বলেন, “বাংলার মা-বোনেদের আমরা আশ্বস্ত করছি, বিজেপির ভয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অর্থ সচিবকে বলেছেন, তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে হাজার টাকা করে বাড়াতে চান। আমার কাছে খবর, রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্য ভালো নয়। ২০২৫ সালে প্রায় আট লাখ কোটি টাকা ঋণ হয়ে যাবে। যার মানে হল, প্রত্যেকের মাথার ওপর এখন ৭০ হাজার টাকার করে দেনা রয়েছে। এত ঋণ নিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অত টাকা বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে কিছু টাকা বাড়ানো হবে।” তিনি বলেন, “বিজেপির একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে আমি রাজ্যের মহিলাদের আশ্বস্ত করছি যে তৃণমূল যা ঘোষণা করবে, আমরা তার থেকে অন্তত ৫০ টাকা বেশি দেব অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে। শুধু তাই নয়, লক্ষ্মীর সঙ্গে আমরা নারায়ণদের জন্যও ব্যবস্থা করব। তৃণমূল এখন লক্ষ্মীদের নারায়ণছাড়া করে দিয়েছে। লক্ষ্মী এখন গ্রামে, আর নারায়ণদের কেউ গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, বেঙ্গালুরুতে।” সুকান্ত বলেন, “বিহারে যেভাবে জীবিকা দিদি করা হয়েছে, মহিলাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, এখানেও সেটা করা হবে। যাতে তাঁর পরিবারকে তাঁকে ছেড়ে যেতে না হয়।”

    উগ্রপন্থীদের মদতদাতা তৃণমূল!

    এদিন পুরাতন মালদার একটি হোটেলে চারটি সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সাংগঠনিক বৈঠক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা সুনীল বনসল। সুকান্ত (Sukanta Majumdar) ছাড়াও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন মালদা উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু-সহ দলীয় বিধায়করা। অংশ নিয়েছিলেন উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের দলীয় নেতৃত্বও। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলের রূপরেখা তৈরি করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল বলে বিজেপি সূত্রে খবর। এই বৈঠকের আগেই সাংবাদিক সম্মেলন (BJP) করেন সুকান্ত। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শুক্রবারই (বিহার নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন) বলে দিয়েছেন, যেভাবে মা গঙ্গা বিহার হয়ে বাংলায় এসেছেন, ঠিক সেভাবেই বিজেপির জয়যাত্রাও বিহার হয়ে বাংলায় ঢুকবে। তার জন্য ইতিমধ্যেই দলের নেতা-কর্মীরা প্রত্যেকে ময়দানে নেমে পড়ছেন। উগ্রপন্থীদের মদতদাতা তৃণমূলকে উপড়ে ফেলতে কোমর বেঁধে তৈরি হয়ে রয়েছেন তাঁরা।”

    ওরা বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে

    বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, “রাজ্যের দিকে দিকে বিজেপির ওপর হামলা চালাচ্ছে তৃণমূল। ডায়মন্ড হারবারের মতো জায়গায় বিজেপির লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে। এ থেকেই প্রমাণিত, এরা বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে। ডায়মন্ড হারবারের মতো লোকসভা কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চুরি করে ৭ লাখ ভোটে জিতেছিলেন, সেখানে যদি বিজেপি কর্মীদের মারতে হয়, তাহলে বোঝাই যায় বিজেপির দম আছে (Sukanta Majumdar)।” তিনি বলেন, “আমরা প্রতিটি রক্তবিন্দুর হিসেব নিয়ে নেব। বাংলায় ইতিমধ্যেই হিন্দুরা এককাট্টা হয়ে গিয়েছে। গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে তার প্রমাণ মিলেছে। হিন্দুরা বুঝতে পেরেছে, যদি বিজেপি ক্ষমতায় না আসে, তবে তাদের জন্য এই বঙ্গভূমি আগামীতে বধ্যভূমিতে পরিণত হবে।”

    সর্বধর্ম সমভাবের নীতি

    সুকান্ত (BJP) বলেন, “আমরা সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরুর তত্ত্বে বিশ্বাস করি না। আমাদের চোখে প্রত্যেকে বাঙালি। প্রত্যেকে ভারতবর্ষের নাগরিক, ভারত মায়ের সন্তান। আমরা সর্বধর্ম সমভাবে নীতি নিয়ে চলি। এটা আমাদের পঞ্চনিষ্ঠা।” তিনি বলেন, “বিজেপি উন্নয়নে বিশ্বাস করে। বিহারে সংখ্যালঘু মহিলারাও বিজেপি এবং এনডিএ জোটকে ভোট দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, আগামীতে মুসলিম সমাজও বুঝতে পারবে, তাদের কেন বছরের পর বছর কোনও উন্নয়ন হয়নি। কেন তাঁদের মধ্যে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়র আতশকাচ দিয়ে খুঁজতে হয়? তাঁরাও তো বাঙালি! আমাদের যা বুদ্ধিমত্তা, তাঁদেরও তো তাই। শিক্ষার কেন অভাব? স্বাস্থ্যের কেন অভাব? কেন মেয়েদের ওপর অত্যাচার হয়, হিংসার ঘটনা ঘটে (Sukanta Majumdar)? এর মূল কারণ স্বাধীনতার পর থেকে তাঁদের প্রত্যেকে মুসলমান হিসেবেই দেখে এসেছে, কেউ মানুষ হিসেবে দেখেনি। বিজেপি তাঁদের মানুষ হিসেবে দেখতে চায়।”

    উগ্রপন্থীদের আখড়া

    দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণকাণ্ডে উত্তর দিনাজপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এক চিকিৎসককে। সে প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, “মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়ার বেশ কিছু অংশ এবং বীরভূম এখন উগ্রপন্থীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখনই পাড়ায় পাড়ায় উগ্রপন্থী তৈরি হয়ে গিয়েছে। এরাজ্যে এখন দুয়ারে উগ্রপন্থী প্রকল্প চালু হয়েছে (BJP)। এখন দিল্লিতে ফাটাচ্ছে, দু’দিন পরে রাজ্যবাসীর বাড়ির সামনে বোমা ফাটবে (Sukanta Majumdar)।”

LinkedIn
Share