Tag: Bengali news

Bengali news

  • Mohan Bhagwat: মুম্বইয়ে জেন জি-জেন আলফার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: মুম্বইয়ে জেন জি-জেন আলফার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট, জেন জি (Gen Z) এবং জেন আলফা (Gen Alpha)-র তরুণদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় বসবেন আরএসএসের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের তরফে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ইন্ডিয়া’স ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (IIMUN)-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপ কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেই ভাগবতের এই অধিবেশন হবে। অনুষ্ঠানে ভারতের ১০০টিরও বেশি শহর থেকে ২,০০০-এর বেশি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়া অংশ নেবেন।

    নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কাজ (RSS)

    অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের বয়স ১৫ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই পড়ুয়ারা। এঁরাই ভারতের অন্যতম বৃহৎ যুব-নেতৃত্বাধীন সমাবেশে অংশ নেবেন বলে দাবি আয়োজকদের। অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে আইআইএমইউএন-এর প্রতিষ্ঠাতা ঋষভ শাহ বলেন, ‘‘নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুধু পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখানো নয়, তাদের কথা শোনাও। ভারতের যাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই আলোচনা আগের চেয়েও ঢের বেশি প্রয়োজন। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখার আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় আমি মোহন ভাগবতজির কাছে কৃতজ্ঞ।’’ ভাগবতের বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই আইআইএমইউএন-এর বার্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপ কনফারেন্সের সূচনা হবে। এই সম্মেলনে পড়ুয়ারা স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক ও মতবিনিময় করবেন। আইআইএমইউএন-এর তরফে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর ১০৮টি সম্মেলন এবং হাজার হাজার নাগরিক ও সামাজিক উদ্যোগের আয়োজন করা হয়। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণরাই মূলত এই কর্মসূচিগুলির নেতৃত্ব দেন, অংশ নেন ১১ থেকে ১৯ বছর বয়সি (RSS) পড়ুয়ারা। এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল থিম হল, ‘‘বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা—ভারতীয় পথে।’’

    ‘ভারত’-এর ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়াই লক্ষ্য

    ২০১১ সালে ঋষভ শাহ আইআইএমইউএন প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য ভারত বা ‘ভারত’-এর ভাবনা ছড়িয়ে দিয়ে আগামী দিনের নেতৃত্বকে সচেতন করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া। গত ১৫ বছর ধরে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণদের পরিচালনায় সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। আইআইএমইউএন-এর বহু অংশগ্রহণকারী ও সংগঠক পরবর্তী কালে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, আমলা, লেখক, আইনজীবী, অভিনেতা এবং ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আইআইএমইউএন-এর উপদেষ্টা পর্ষদেও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অজয় পিরামল, দীপক পারেখ, নাদির গোদরেজ, শশী তারুর, প্রাক্তন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, করণ জোহর, প্রাক্তন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা এবং পিটি ঊষা-সহ আরও অনেকে। প্রতিষ্ঠার ১৫তম বছরে আইআইএমইউএন-এর কর্মসূচি ভারতের ২৭৫টি শহর এবং বিশ্বের ৪০টি দেশে বিস্তৃত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ৭.৫ কোটিরও বেশি তরুণের কাছে (Mohan Bhagwat) পৌঁছনো সম্ভব (RSS) হয়েছে। পাশাপাশি ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি স্কুল-কলেজের সঙ্গেও কাজ করছে আইআইএমইউএন।

     

  • Bengal Missionary Activities: আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তর করছেন মিশনারিরা! অভিযোগে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনা

    Bengal Missionary Activities: আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তর করছেন মিশনারিরা! অভিযোগে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদিবাসী ও আর্থিকভাবে দুর্বল হিন্দু পরিবারগুলির ধর্মান্তরকরণ ঘিরে অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টান মিশনারি কার্যকলাপ (Bengal Missionary Activities)। উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট এলাকায় ধর্মান্তরকরণ এবং বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সঙ্গে ক্ল্যারেটিয়ান মিশনারিদের বচসা ও উত্তেজনার অভিযোগ সামনে এসেছে (Foreign Funding Row)। পাল্টা মিশনারিদের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো ও হুমকির অভিযোগ জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

    অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ (Bengal Missionary Activities)

    ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুর ডাওসিসের অধীনস্থ ন্যাজাটের ক্ল্যারেট প্রেমালয় মিশন কেন্দ্রে। মিশন কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নথিভুক্ত করে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখার আশ্বাস দেয়। অভিযোগ দায়েরের সময় পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় মিশনারি কার্যকলাপ, ধর্মান্তর এবং বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের একাধিক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং হিন্দু সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ করা হলেও মিশনারি সংগঠনগুলি বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে। তাদের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ধর্মীয় সেবা এবং মানবিক সহায়তার মধ্যেই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ।

    মিশন কেন্দ্রে গিয়ে কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন

    মিশনারিদের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই প্রায় আটজন স্থানীয় ব্যক্তি ন্যজটের ওই মিশন চত্বরে যান। সেখানে তাঁরা মিশনের সঙ্গে যুক্ত ধর্মযাজকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকায় তাঁদের কার্যকলাপ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে চান, ওই এলাকায় কতগুলি ক্যাথলিক পরিবার বসবাস করে, মিশনের মূল কাজ কী এবং কী ধরনের কার্যকলাপ সেখানে পরিচালিত হয়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে মিশনের বিরুদ্ধে দরিদ্র আদিবাসী ও হিন্দু পরিবারগুলিকে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগও তোলা হয়। মিশনের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ মিশনারি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও মেলেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ধর্মপ্রচার ও ধর্মান্তরকরণ নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, এই ঘটনায় তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও মিশনারি সংগঠনগুলির মধ্যে বিরোধের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

    সাত দিনের মধ্যে মিশন ছাড়ার হুমকির অভিযোগ

    মিশনারিদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দলের এক সদস্য নিজেকে স্থানীয় কাউন্সিলর পরিচয় দিয়ে মিশন কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে জায়গা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিশনারিরা সেখান থেকে চলে না গেলে বাইরে থেকে মিশনের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। যদিও ঘটনাস্থলে কোনও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি, মিশনারিদের দাবি, চলে যাওয়ার আগে ওই ব্যক্তিরা মিশন চত্বরের ভবন এবং সেখানে থাকা যানবাহনের ছবি তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ে বারুইপুরের বিশপ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর ক্ল্যারেটিয়ান মিশনারিদের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে মিশনে যায় পুলিশ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। নজর রাখা হচ্ছে পরিস্থিতির ওপর। গ্রেফতারির কোনও খবর এখনও নেই। অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    সন্দেশখালিতেও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ

    ন্যাজাটের ঘটনার এক দিন আগে সন্দেশখালিতেও এক খ্রিস্টান ধর্মযাজককে ঘিরে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছে বিভিন্ন খ্রিস্টান সংগঠন। তাদের বক্তব্য, সেখানেও এক স্থানীয় মিশনারিকে বিদেশি অর্থে পরিচালিত কার্যকলাপ এবং ধর্মপ্রচারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। খ্রিস্টান সংগঠনগুলির দাবি, দুই ঘটনায়ই একই ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রকাশ করা কয়েকটি ভিডিয়োয় এক ব্যক্তিকে এক ধর্মযাজকের সঙ্গে বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করতে এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলতে দেখা গিয়েছে বলে সংগঠনগুলির দাবি। যদিও ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি। ফলে ভিডিয়োয় দেখা ব্যক্তি বা উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে (Bengal Missionary Activities) নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।

    ধর্মান্তর নিয়ে পুরনো বিতর্ক ফের সামনে

    ন্যাজাটের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কিছু মিশনারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে আদিবাসী ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির মধ্যে ধর্মান্তরকরণের কাজ চালাচ্ছে। যদিও মিশনারি সংগঠনগুলি এই অভিযোগ প্রথম থেকেই অস্বীকার করে এসেছে। তাদের বক্তব্য, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া, ধর্মীয় দায়িত্ব পালন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানই তাদের মূল উদ্দেশ্য। ধর্মান্তরকরণের অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন বলেই এবারও দাবি করেছে। ফলে ধর্মান্তর নিয়ে অভিযোগ এবং মিশনারি সংগঠনগুলির পাল্টা বক্তব্য—দু’পক্ষের দাবির মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে আদিবাসী ও গ্রামীণ এলাকায় এই প্রশ্নটি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে (Bengal Missionary Activities)।

    বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন

    ধর্মান্তরের পাশাপাশি বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে, তা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবেদনশীল আদিবাসী ও গ্রামীণ এলাকায় কাজ করা মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক লেনদেন এবং কার্যকলাপে আরও স্বচ্ছতার দাবি জানানো হয়েছে। ন্যাজাটের ঘটনায়ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের অন্যতম বিষয় ছিল বিদেশি অর্থের ব্যবহার। তবে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, কিংবা বিদেশি অর্থ আদৌ ধর্মান্তরকরণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ অভিযোগের অন্যান্য দিকের পাশাপাশি এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Foreign Funding Row)।

    তদন্তের দিকেই নজর

    ন্যাজাটের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মিশনারিদের অভিযোগ নিয়েছে, এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হয়েছে। এখন তদন্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং মিশনারিদের পাল্টা অভিযোগ—দুই দিকই কতটা সত্য, তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা। ধর্মান্তরকরণের অভিযোগের আদৌ বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না, বিদেশি অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশনারিদের বিরোধের প্রকৃত কারণ কী এবং মিশন খালি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না—এই বিষয়গুলিই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রসঙ্গত, ঘটনাটি এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন ধর্মান্তর এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই চলছে (Foreign Funding Row) বিতর্ক। ফলে উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাটের এই ঘটনা আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি (Bengal Missionary Activities) করে কি না, সেটাই দেখার।

     

  • POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (POJK Protests) নীলম উপত্যকার আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনায় এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। রাজা এহসান নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। ব্যাপক হিংসা, কম ভোট পড়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই শেষ হয়েছে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের তথাকথিত বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা (News Portals Banned)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনার সময় এহসানের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ভোটপর্ব চলাকালীন ওই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

    নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি (POJK Protests)

    রবিবার শেষ হওয়া দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, তীব্র অশান্তি এবং ভোটারদের কম অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। মোট ২১টি আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে মুজফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসনের পাশাপাশি ছিল ১২টি উদ্বাস্তু আসনও। এই উদ্বাস্তু আসনের মানদণ্ডের বিরুদ্ধে ভোটের দিনও তীব্র বিক্ষোভ চলে। অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে একাধিক এলাকা কার্যত উত্তেজনার মধ্যেই ছিল। পরিস্থিতির বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অশান্তির আঁচ এখন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতেও পৌঁছে গিয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও।

    একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিক্ষোভের আবহেই নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় প্রতিরোধের তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে একাধিক নির্বাচনী এলাকায়। রাস্তা অবরোধ এবং ব্যাপক বিক্ষোভের কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। সূত্রের খবর, এলএ-২৭ কোটলিতে বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করায় নির্বাচনী কর্মী ও ভোটগ্রহণ সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেনি। ফলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় এলএ-২৮ মুজফফরাবাদ-২ অর্থাৎ লেচরাট এলাকায়। সেখানে ৭১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী আধিকারিক ও ভোটগ্রহণের সামগ্রী পৌঁছতে পারেনি। অন্যান্য কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায়ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে ব্যর্থ হন বলে খবর। এর ফলে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী গোষ্ঠী এবং বিক্ষোভকারী বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    দিনভর বিক্ষোভ, দীর্ঘ মিছিলের ডাক

    এদিকে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ডি-চকে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। মুজফফরাবাদের দিকে বিরাট মিছিল করার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। রাওয়ালাকোট থেকেও বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষিপ্ত গুলিচালনার খবর মিলেছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্ষোভস্থল ড্রেক ইদগাহে প্রায় ৫০ দিন ধরে অবস্থান চলছে। সেখানেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। নারী ও শিশুরাও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা। ফলে ভোটের দিনও সেই অশান্তির প্রভাব স্পষ্ট ছিল (POJK Protests)।

    ভারতের অবস্থান

    এই অস্থিরতার মধ্যেই ভারত ফের জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। ভারতের বক্তব্য, ওই অঞ্চলগুলির যে অংশ বর্তমানে পাকিস্তানের “অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে” রয়েছে, সেটিও ভারতেরই অংশ। ২৮ জুলাই নয়াদিল্লি ওই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পাকিস্তানের অবৈধ দখল আড়াল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলা “গুরুতর” মানবাধিকার লঙ্ঘন আড়াল করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভারত।

    ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে ছড়াল বিক্ষোভ

    ২ আগস্ট, রবিবার বিকেল ৫টা থেকে রাওয়ালপিন্ডি প্রেস ক্লাবের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল পড়ুয়ারা। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পড়ুয়াদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পুলিশ সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জও করা হয় এবং বহু মানুষকে আটক করা হয়। তবে ওই ঘটনায় গুলিচালনার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। করাচি, ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও বড় জমায়েতের খবর এসেছে। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান। সূত্রের খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ।

    ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

    পাকিস্তানে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার অভিযোগ উঠেছে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান অশান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রতিবেদন সম্প্রচারের পর দেশটির বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস রেস্ট্রিকটেড করা বলে জানা গিয়েছে (News Portals Banned)। স্থানীয় ও আঞ্চলিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলিকে আটকে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কিছু অংশে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের পরিষেবায়ও অ্যাক্সেস বন্ধ করা হয়েছে বলে খবর (POJK Protests)। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের বাড়তে থাকা ক্ষোভ নিয়ে যে সংবাদমাধ্যমগুলি প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, মূলত তাদের উপরই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল, তার নেতা তথা জেলে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সরকারের সমালোচক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে খবর। এদিকে ২৭ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ইউটিউব জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে না চললে তাঁদের চ্যানেল সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি মুজফফরাবাদে চলা হিংসা নিয়ে জরুরি তথ্য প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এক নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিককে রাস্তায় টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।কমিটির দাবি, সাধারণ পোশাকে থাকা এক ব্যক্তিও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র চালাচ্ছিলেন। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিষদের ২ অগাস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জুলাইয়ের আগে ৩৩ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু এবং ২৭ জুলাইয়ের পর রাওয়ালাকোট, মিরপুর ও মুজফফরাবাদে আরও ৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। এই পরিস্থিতিতে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসংঘ, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, প্রকাশিত ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হোক এবং অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছেও পরিস্থিতির অবনতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের আবেদন জানানো (News Portals Banned) হয়েছে। আহত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি (POJK Protests)।

     

  • UP Terror Probe: বোমা তৈরির নোটকাণ্ডে ধৃত সরফরাজের ঘরে ‘জয় শ্রী রাম’ কুর্তা, হলুদ ধুতি! যোগী-রাজ্যে বড় চক্রান্তের হদিস

    UP Terror Probe: বোমা তৈরির নোটকাণ্ডে ধৃত সরফরাজের ঘরে ‘জয় শ্রী রাম’ কুর্তা, হলুদ ধুতি! যোগী-রাজ্যে বড় চক্রান্তের হদিস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাজর্ষি দশরথ মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগে বোমা তৈরির তথ্য-সম্বলিত হাতে লেখা একটি নোট উদ্ধারের ঘটনায় আরও বাড়ানো হয়েছে তদন্তের পরিসর (Jai Shri Ram Kurta)। তদন্তের সূত্র এবার পৌঁছেছে বলরামপুরে। অযোধ্যা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া সরফরাজের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। ঘটনার পর প্রথম বর্ষের প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অযোধ্যার রাজর্ষি দশরথ স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগে নাইট শিফট শেষ হওয়ার পর হাতে লেখা ওই নোটটি পাওয়া যায়। কর্মীরা নোটটি কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

    বলরামপুরে সরফরাজের বাড়িতে পুলিশ (Jai Shri Ram Kurta)

    ৩১ জুলাই, শুক্রবার গভীর রাতে অযোধ্যা পুলিশের একটি দল বলরামপুরের সিটি কোতয়ালি এলাকার পুরাইনিয়া তালাবে সরফরাজের পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও সরফরাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে পুলিশ। পরের দিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ওই বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তালা ঝুলছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সরফরাজ মিশুকে স্বভাবের ছিল। এলাকায় কোনও বিবাদ বা ঝামেলায় তাঁকে কখনও জড়াতে দেখা যায়নি।

    বাড়িওয়ালার বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    তদন্তের সময় সরফরাজ গত ছ’মাস ধরে যে ভাড়া বাড়িতে থাকছিল, সেখানেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যান। ঘর থেকে গেরুয়া রঙের একটি কুর্তা উদ্ধার হয়েছে, যাতে “জয় শ্রী রাম” লেখা ছিল। হলুদ রংয়ের একটি ধুতিও পাওয়া যায়। বাড়িওয়ালার দাবি, সরফরাজ ওই গেরুয়া কুর্তা ও হলুদ ধুতি পরে একাধিকবার অযোধ্যায় গিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, কয়েকজনের সঙ্গে সরফরাজ সরযূ নদীতে স্নানও করেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা বা কোথা থেকে এসেছিলেন, তা জানেন না বলে জানান বাড়িওয়ালা। এরপরেই তদন্তকারীদের সামনে নতুন প্রশ্ন উঠেছে—সরফরাজ কেন হিন্দু ধর্মীয় পোশাক পরে অযোধ্যায় যাতায়াত করতেন? তাঁর ওই সফরের সঙ্গে কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনার যোগ ছিল কি না, নাকি সেগুলি ছিল নিছকই ব্যক্তিগত সফর—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া হলুদ ধুতিটি পরীক্ষার জন্য নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ঘর থেকে হাতে লেখা একটি কবিতাও উদ্ধার হয়েছে। সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (Jai Shri Ram Kurta)।

    কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা?

    ১ অগাস্ট সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। মর্নিং শিফটে কর্মরত পড়ুয়ারা রাজর্ষি দশরথ মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে রুমের ভেতরে হাতে লেখা একটি কাগজ দেখতে পান। ওই কাগজে বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নির্দেশনা লেখা ছিল বলে খবর। পড়ুয়ারা সঙ্গে সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেন।অনলাইনে প্রকাশিত নোটটির একটি অনুলিপি অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা কাগজে ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা। সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট, অ্যালুমিনিয়াম কার্বোনেট, লাল ফসফরাস, সালফার, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং কার্বলিক অ্যাসিডের মতো একাধিক রাসায়নিকের উল্লেখ রয়েছে। আগুন ধরানো, তাপ ও বিস্ফোরণের বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপাদান চিহ্নিত করা হাতে আঁকা কিছু চিত্রও রয়েছে, যেগুলি বিস্ফোরক যন্ত্রের নকশার মতো দেখতে।নথিতে ব্যাখ্যামূলক টীকা এবং একটি মোটামুটি আঁকা রেখাচিত্রও রয়েছে। এর থেকে তদন্তকারীদের ধারণা, যন্ত্রটি কীভাবে কাজ করতে পারে তা বোঝানোর উদ্দেশ্যেই নোটটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নোটটি অনলাইনে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়ে থাকতে পারে।

    সরফরাজের দাবি

    দর্শন নগর থানার পুলিশ সরফরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তাঁর সঙ্গে নাইট শিফটে কাজ করছিলেন অভিষেক। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সুলতানপুরের বাসিন্দা আর এক সহকর্মী সুভাষ অবশ্য ওই দিন সকালেই নিজের গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে সরফরাজ দাবি করেন, নাইট শিফটে তাঁর ঘুম আসছিল না। সেই সময় তিনি তাঁর ল্যাপটপে ভগত সিংকে নিয়ে একটি সিনেমা দেখতে শুরু করেন। তাঁর দাবি, সেই সিনেমায় বোমা তৈরির কিছু পদ্ধতি দেখানো হয়েছিল। তিনি সেগুলি একটি কাগজে লিখে রেখেছিলেন, এবং পরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, পরে সাফাইকর্মী ও সকালের শিফটে কর্মরত কর্মীদের হাতে কাগজটি আসে (Jai Shri Ram Kurta)। সরফরাজের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা বোমা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ইন্টারনেট অনুসন্ধানের তথ্য পান। তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণ সংক্রান্ত একাধিক ছোট ভিডিওর সন্ধান মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এসব অনুসন্ধান নিছকই কৌতূহলবশে করা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    সরফরাজের বন্ধুদেরও খোঁজ

    সরফরাজের রুমমেটের খোঁজও শুরু করেছে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি বস্তিতে নিজের বাড়িতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সরফরাজ যখন অযোধ্যায় যেতেন, তখন তাঁর সঙ্গে যে বন্ধুরা থাকতেন বলে জানা যাচ্ছে, তাঁদের পরিচয়ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সরফরাজ সবার ছোট। তাঁর দাদা বলরামপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। আর এক ভাই শ্রাবস্তীতে একটি দাঁতের চিকিৎসাকেন্দ্র চালান। অন্য এক ভাই সৌদি আরবে কাজ করেন, এবং পরিবারে আর্থিক সাহায্য করেন। প্রায় দেড় বছর আগে সরফরাজের বাবা মারা যান। তাঁর মা ও অবিবাহিত বোন বলরামপুরে থাকেন। বিবাহিত এক বোন মুম্বইয়ে থাকেন। প্রতিবেশীদের দাবি, সরফরাজ প্রায় প্রতি শনিবার বাড়িতে ফিরতেন, সোমবার ফিরতেন অযোধ্যায়।

    পুলিশের বক্তব্য

    ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল, এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও করছেন তদন্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। প্রতিটি তথ্য যাচাই করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে অনুমান বা গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছে পুলিশ (Jai Shri Ram Kurta)।

     

  • Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তরাঁয় ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় বক্সার লভলিনা বরগোহাঁই বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ (Glasgow Restaurant) ক্ষমা চেয়ে মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফলে সেটি বন্ধ করা হয়েছে (Incomplete India Map), নাকি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফর (Glasgow Restaurant)

    ঘটনার সূত্রপাত ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফরকে ঘিরে। ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দুর্দান্ত সাফল্যের পর ভারতীয় বক্সিং দল মোট ১০টি পদক—সাতটি সোনা ও তিনটি রুপো—জিতে দেশে গৌরব এনে দেয়। সেই সাফল্য উদ্‌যাপন করতেই দলের সদস্যরা গ্লাসগোর ‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া, দ্য হোম অব কারি’ রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন। উৎসবের সেই আয়োজনই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর দেখা যায়, লভলিনা রেস্তরাঁর ছাপানো একটি ন্যাপকিন হাতে নিয়ে তাতে থাকা ভারতের মানচিত্রের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

    লভলিনার অভিযোগ

    তাঁর অভিযোগ, মানচিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। লভলিনা বলেন, “দয়া করে বিষয়টি অন্যভাবে নেবেন না। এতে আমি কিছুটা কষ্ট পেয়েছি। ভারতের মানচিত্রে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নেই। হ্যাঁ, বাইরেও যে মানচিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে, সেখানেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাদ দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বের একজন মানুষ হিসেবে বিষয়টি আমাদের সত্যিই কষ্ট দেয়। আমি শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম। পরের বার দয়া করে বিষয়টি মনে রাখবেন। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।” অসমের এই বক্সারের বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাদ দেওয়া বা উপেক্ষা করার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যে অভিযোগ রয়েছে, লভলিনার বক্তব্য সেই বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে আসে (Glasgow Restaurant)।

    প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের

    সমালোচনার পর দ্রুত বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চান রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩২ বছর ধরে ভারতীয় সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁরা ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “সবার আগে আমরা ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি। এটি সংশোধনের জন্য আমরা অবিলম্বে পদক্ষেপ করব। আবারও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমরা কাউকে আঘাত করতে চাইনি। বরং ভারতীয় দলের জন্য গর্বের সঙ্গে পরিষেবা দিতে চেয়েছিলাম।” ভারতীয় দলের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানান, বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের আতিথেয়তা করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। বিবৃতিতে বলা হয়, “সঠিক মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তন করা হবে। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় দলের অসাধারণ সাফল্যের পর তাঁদের পরিষেবা দিতে পারা আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। সমস্ত ক্রীড়াবিদ এবং অতিথিরা তাঁদের সন্ধ্যাটি উপভোগ করেছেন। এই স্মৃতি আমাদের কাছে ভারতের সঙ্গে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

    অদৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট

    ক্ষমা চাওয়ার পরেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনলাইনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অ্যাকাউন্টটি কি কর্তৃপক্ষ নিজেই নিষ্ক্রিয় করেছেন, নাকি সম্পূর্ণ মুছে (Incomplete India Map) দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে তাঁরা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হবেন কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয় (Glasgow Restaurant)।

     

  • PM Surya Sarovar Yojana: জলের উপর ভাসবে সৌরবিদ্যুৎ! ৫,০৭০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের

    PM Surya Sarovar Yojana: জলের উপর ভাসবে সৌরবিদ্যুৎ! ৫,০৭০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাবুন তো, যে জলাশয় এতদিন শুধু জল সংরক্ষণ বা সেচের কাজে ব্যবহৃত হতো, সেই জলাশয়ই এবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠবে! নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে ৫,০৭০ কোটি টাকার ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা’ (PM Surya Sarovar Yojana)-র। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জলাধার, বাঁধ, হ্রদ ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের উপর গড়ে তোলা হবে ৫,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ফ্লোটিং সোলার প্রকল্প (Floating Solar Project) এবং ১০,০০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা (MWh) ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা। যা বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদন বাড়াবে, তেমনই কমাবে কার্বন নিঃসরণ এবং কৃষিজমির উপর চাপ।

    কী এই ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা’ (PM Surya Sarovar Yojana)?

    ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা’ (PM Surya Sarovar Yojana) জমির বদলে জলাশয়ের উপর বিশেষ ভাসমান প্ল্যাটফর্ম বসিয়ে সৌর প্যানেল (Floating Solar Project) স্থাপন করা হবে। ফলে কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না। একই সঙ্গে জলাশয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যাবে।

    কেন ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ (Floating Solar Project)?

    ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের (Floating Solar Project) একাধিক সুবিধা রয়েছে-

    • ● কৃষিজমি বা বনভূমি ব্যবহার করতে হয় না
    • ● জল প্যানেলকে ঠান্ডা রাখায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ে
    • ● জলাশয় থেকে বাষ্পীভবনের পরিমাণ কমে
    • ● সূর্যালোক আংশিক আটকানোর ফলে শৈবালের বৃদ্ধি কম হয়
    • ● বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জল সংরক্ষণ- দুই উদ্দেশ্যই পূরণ হয়

    ভারতে সম্ভাবনা কতটা?

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সোলার এনার্জি (NISE)-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে প্রায় ১০২.১৮ গিগাওয়াট ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ বর্তমানে স্থাপিত ক্ষমতা মাত্র প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। নতুন প্রকল্পের লক্ষ্য সেই ব্যবধান দ্রুত কমানো।

    কীভাবে মিলবে আর্থিক সহায়তা?

    প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন্দ্র একাধিক আর্থিক সুবিধা দেবে। সফলভাবে প্রকল্প চালু হলে প্রতি মেগাওয়াটে ১ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা (CFA)। প্রকল্প শুরুর আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, জলাশয়ের গভীরতা নির্ণয়, পরিবেশগত মূল্যায়ন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরীক্ষার জন্য প্রতি প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান।

    কবে বাস্তবায়ন ?

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রকল্প অনুমোদন করা হবে। কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা চলবে ২০৩২-৩৩ অর্থবর্ষ পর্যন্ত। রাজ্য সরকার, সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি সংস্থার যৌথ অংশগ্রহণে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে।

    ব্যাটারি স্টোরেজ কেন বাধ্যতামূলক?

    এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ১০,০০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা। অন্তত দুই ঘণ্টার বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ক্ষমতা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে দিনের বেলা উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা রেখে সন্ধ্যা বা মেঘলা আবহাওয়ায় ব্যবহার করা যাবে। এতে বিদ্যুৎ গ্রিড আরও স্থিতিশীল হবে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়বে।

    পরিবেশ ও কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব

    সরকারের দাবি, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি টন (১০ মিলিয়ন টন) কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমবে। একই সঙ্গে উৎপাদন, প্রকৌশল, নির্মাণ, পরিবহণ, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে ১৬ থেকে ১৭ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। এছাড়া সৌর প্যানেল, ভাসমান প্ল্যাটফর্ম, ব্যাটারি, অ্যাঙ্করিং সিস্টেম-সহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দেশীয় উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করছে কেন্দ্র।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা (PM Surya Sarovar Yojana) দেশের পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। জলাধার ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের অভিনব ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই প্রকল্পের সুফল পাবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই উদ্যোগ।” ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন বাড়ানো, কৃষিজমির উপর চাপ কমানো, জলসম্পদের কার্যকর ব্যবহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-জিরো নির্গমন লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা’ (PM Surya Sarovar Yojana) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে কেন্দ্র। ভাসমান সৌরবিদ্যুতের (Floating Solar Project) মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন শক্তির নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে এই প্রকল্প।

  • STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের বছর বাইশের এক তরুণীকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। ধৃতের নাম অর্পিতা সরকার। এসটিএফের দাবি, সোশাল মিডিয়ায় পরিচয়ের সূত্রে প্রেমিক মহম্মদ হামিম মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। পরে হামিমের মাধ্যমেই পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের হ্যান্ডলারদের সংস্পর্শে এসে নাশকতার ছকের শরিক হয়ে ওঠেন অর্পিতা।

    ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার (Jharkhand Arrest) অর্পিতা

    প্রায় চার বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় হামিম ও অর্পিতার। শনিবার ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand Arrest) সাহেবগঞ্জ জেলার বরহারওয়া এলাকা থেকে অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়। তার একদিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে ধরা পড়েছিল তাঁর প্রেমিক হামিম। এসটিএফের (STF) অভিযোগ, হামিম পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। সেই কাজে অর্পিতাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছিল। হামিমের মাধ্যমেই অর্পিতা ওই চক্রে যুক্ত হয় এবং পরে সরাসরি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশ মতো কাজ করতে শুরু করে।

    ডিজিটাল তথ্য থেকেই সূত্র!

    এসটিএফ (STF) সূত্রে খবর, হামিম ও অর্পিতার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে হওয়া কথোপকথন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হন অর্পিতা। তদন্তকারীদের নজরে তাঁর মোবাইল, সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং এনক্রিপ্টেড চ্যাট।

    ‘হানি ট্র্যাপে’র অভিযোগ

    এসটিএফের (STF) আইজি গৌরব শর্মার দাবি, হামিমের নির্দেশে অর্পিতা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীর ছেলেকে টার্গেট করা হয়েছিল। বিদেশ থেকে কোনও অর্থ এসেছে কি না? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর?

    তদন্তকারীদের দাবি, হামিম নিজেকে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির ওপর নজর রাখারও অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে। এসটিএফের (STF) দাবি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে হামিমকে পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে সম্প্রতি হওয়া ছাত্র বিক্ষোভে একটি দল নিয়ে গিয়ে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনাও করেছিল। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    বড় নেটওয়ার্কের জাল?

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, হামিম একটি বড় ISI-সমর্থিত নেটওয়ার্কের অংশ। লক্ষ্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ আধিকারিক এবং ভিআইপিদের ওপর নজরদারি চালানো। হামিমকে কয়েক মাস আগে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেয় বলে অভিযোগ। অর্পিতা ছিলেন তাঁর প্রথম দিকের সহযোগীদের একজন।

    একাধিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার

    STF জানিয়েছে, যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, এলিমেন্ট এক্স এবং সেশনের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করা হত। তদন্তে চারটি পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলের নাম উঠে এসেছে- আবির জাট৩৩৩, উজাইর, রানা এবং হামাদ। পুলিশের দাবি, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কট্টরপন্থী প্রচার চালিয়ে যুবকদের মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা করা হত। কথপোকথনের সময় ব্রিটেন ও মেক্সিকোর সিম কার্ডও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

    ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজত

    তদন্তকারীরা অর্পিতার কলেজ জীবনে কলকাতায় তাঁর মামারবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। সেই সময় হামিমের সঙ্গে তাঁর সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ হত কি না, তাও জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারির পর অর্পিতাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে এবং আগামী দিনে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও রয়েছে।

  • Indian Embassy Open House: চিনে ভারতবিদ্বেষী পোস্ট ও অপমানের অভিযোগ! বেজিংয়ে প্রথম ‘ওপেন হাউস’ ভারতীয় দূতাবাসের

    Indian Embassy Open House: চিনে ভারতবিদ্বেষী পোস্ট ও অপমানের অভিযোগ! বেজিংয়ে প্রথম ‘ওপেন হাউস’ ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian diaspora in China) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সম্প্রতি বেজিংয়ে প্রথমবারের মতো ‘ওপেন হাউস’ (Indian Embassy Open House) কর্মসূচির আয়োজন করে ভারতীয় দূতাবাস। সেখানে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ভারতীয় নাগরিক, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সোশাল মিডিয়ায় ভারত ও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিদ্বেষমূলক পোস্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপমানজনক মন্তব্যের বিষয়টি।

    অনলাইনে ভারতবিরোধী প্রচার নিয়ে উদ্বেগ

    প্রবাসীদের অভিযোগ, চিনের একাধিক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে নিয়ে ভুল তথ্য, নেতিবাচক প্রচার এবং ভারতীয়দের লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য ক্রমশ বাড়ছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের কনটেন্ট শুধু ভারতীয়দের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল ধারণা তৈরি করছে। তাই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা।

    আলোচনায় ভিসা, চাকরি ও পারিবারিক সমস্যাও

    শুধু অনলাইন বিদ্বেষ নয়, বৈঠকে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাও জোরালোভাবে উঠে আসে। চিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian diaspora in China) একাংশ জানান, ভারতীয় পেশাদারদের জন্য কাজের ভিসা পাওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনেকের স্বামী বা স্ত্রীর চাকরির ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ থাকায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে চিনে বসবাস করাও চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে। এসব সমস্যা নিয়ে দূতাবাসের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।

    কী জানাল ভারতীয় দূতাবাস?

    প্রবাসীদের বক্তব্য শোনার পর ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন, ভারতবিরোধী বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপপ্রচারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং প্রবাসীদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যাও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের সংলাপ চালিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দেয় দূতাবাস।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

    কূটনৈতিক মহলের মতে, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনা যে কোনও দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দিক থেকে বেজিংয়ের এই ওপেন হাউস (Indian Embassy Open House) কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মঞ্চ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নজরে ভবিষ্যতের পদক্ষেপ

    এই বৈঠকের পর প্রবাসী ভারতীয়দের প্রত্যাশা, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, কর্মসংস্থানের প্রতিবন্ধকতা এবং অনলাইনে ভারতবিদ্বেষী প্রচারের মতো বিষয়গুলিতে ভারতীয় দূতাবাস আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে নিয়মিত এই ধরনের ওপেন হাউস (Indian Embassy Open House) কর্মসূচি হলে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান আরও দ্রুত সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

  • RTI Activist Amit Tiwari: সিজেপি-র অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে পড়ার খরচ নিয়েও প্রশ্ন আরটিআই কর্মীর

    RTI Activist Amit Tiwari: সিজেপি-র অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে পড়ার খরচ নিয়েও প্রশ্ন আরটিআই কর্মীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে (Abhijeet Dipke) এবং দলের অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন সুরাটের এক আরটিআই কর্মী (RTI Activist Amit Tiwari)। একই সঙ্গে অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে বহন করা হয়েছিল? তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, দলের আইনি অবস্থান এবং সম্প্রতি ঘোষিত ১ কোটি টাকার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    বিদেশে পড়াশোনার খরচ নিয়ে প্রশ্ন

    সুরাটের আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারির (RTI Activist Amit Tiwari) দাবি, “অভিজিৎ ডিপকের (Abhijeet Dipke) বাবা ভগবানরাও ডিপকে মহারাষ্ট্র সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। পরিবারের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।পরিবারের ঘোষিত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে বিদেশে পড়াশোনার খরচের উৎস মিলিয়ে দেখা হোক।”

    সিজেপি-র আইনি মর্যাদা যাচাইয়ের দাবি

    অমিত তিওয়ারি (RTI Activist Amit Tiwari) নির্বাচন কমিশনের কাছেও একটি আবেদন করেছেন। EC-র কাছে তাঁর দাবি, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) আদৌ নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত বা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কি না? যদি দলটি নিবন্ধিত না হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কার্যকলাপ চালানো এবং অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২৯এ ধারার উল্লেখ করে কমিশনের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি (RTI Activist Amit Tiwari)। পাশাপাশি, শুধু দল বা প্রতিষ্ঠাতার আর্থিক বিষয় নয়, সম্প্রতি ঘোষিত ১ কোটি টাকার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অমিত তিওয়ারি (RTI Activist Amit Tiwari)। আয়কর দফতর এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস (CBIC)-এর কাছে তাঁর আবেদন, এই তহবিলের অর্থের উৎস এবং এর উপর পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) প্রযোজ্য কি না? তা খতিয়ে দেখা হোক। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে প্রবীণ আইনজীবী ও রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল সিজেপি-র গঠিত একটি লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডে ১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন। এই তহবিলের উদ্দেশ্য, দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনকারী বিক্ষোভকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়া।

    এখনও চুপ সিজেপি

    আরটিআই কর্মীর (RTI Activist Amit Tiwari) আবেদনে সিজেপি-র অর্থের উৎস, দলের আইনি বৈধতা, লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড এবং প্রতিষ্ঠাতার বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হলেও, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, আয়কর দফতর, সিবিআইসি বা অন্য কোনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইভাবে, অভিজিৎ ডিপকে (Abhijeet Dipke), তাঁর পরিবার বা ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পক্ষ থেকেও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও প্রকাশ্য বক্তব্য সামনে আসেনি।

  • Nirmal Purja: ব্রড পিকেই অভিযান শেষ, আর ফেরা হল না! তুষারধসে মৃত্যু কিংবদন্তি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার

    Nirmal Purja: ব্রড পিকেই অভিযান শেষ, আর ফেরা হল না! তুষারধসে মৃত্যু কিংবদন্তি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক পর্বতারোহণের জগতে এক যুগের অবসান। ব্রড পিক অভিযানে তুষারধসে প্রাণ হারালেন কিংবদন্তি ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজা (Nirmal Purja)। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) ব্রড পিকের (Broad Peak Avalanche) ওয়েস্ট রিজ রুটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার তাঁর সংস্থা এলিট এক্সপেড এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী ও গাইড- পুর বাহাদুর গুরুং (যুক্তা) এবং নিমা শেরপাও।

    কীভাবে দুর্ঘটনা?

    ব্রড পিক অভিযানে (Broad Peak Avalanche) নির্মল পুরজার নেতৃত্বে নেপাল, আমেরিকা, পাকিস্তান, ওমান, চিন-সহ একাধিক দেশের পর্বতারোহীরা অংশ নিয়েছিলেন। অভিযান চলাকালীন প্রায় ৬,৫৮০ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প-২ ও ক্যাম্প-৩-এর মাঝামাঝি ভয়াবহ তুষারধস নামে। দলের জিপিএস ট্র্যাকার থেকে আচমকা উচ্চতা দ্রুত কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে। পরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারী দল একাধিক দেহ উদ্ধার করে।

    হিমালয়ের গ্রাম থেকে ব্রিটেনের এলিট বাহিনী

    নেপালের মিয়াগদি জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নির্মলের (Nirmal Purja)। গোর্খা পরিবারে বেড়ে ওঠা নির্মল ২০০৩ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেড অব গোর্খাস-এ যোগ দেন। এরপর কঠিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া পেরিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিটেনের অভিজাত স্পেশাল বোট সার্ভিস (এসবিএস)-এর সদস্য হন। ১৬ বছরের সামরিক জীবনে অর্জিত মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা এবং সহনশীলতাই পরবর্তীতে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্বতারোহী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

    একটি ট্রেকই বদলে দিয়েছিল জীবন

    মজার বিষয় হল, নির্মল (Nirmal Purja) প্রথমে পেশাদার পর্বতারোহী হতে চাননি। ২০১২ সালে পর্যটক হিসেবে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই পাহাড়ের প্রতি গভীর টান তৈরি হয়। দেশে ফিরে না গিয়ে তিনি পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর প্রথম সফল শৃঙ্গজয় ছিল ৬,১১৯ মিটার উচ্চতার লোবুচে ইস্ট। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিশ্বের অন্যতম সফল উচ্চতাজয়ী পর্বতারোহী হয়ে ওঠেন।

    প্রজেক্ট পসিবল-এই ইতিহাস সৃষ্টি

    ২০১৯ সালে শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অভিযান প্রজেক্ট পসিবল। সেই সময় বিশ্বের ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি শৃঙ্গ জয়ের দ্রুততম রেকর্ড ছিল প্রায় আট বছর। নির্মল বিশ্বাস করতেন, এটি কয়েক মাসেও সম্ভব। অর্থের অভাবে স্পনসর না পেয়ে তিনি নিজের বাড়ি ফের বন্ধক রাখেন। স্ত্রী সুচির সমর্থনেই শুরু হয় অভিযান। অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৬ মাস ৬ দিনে বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ জয় করে তিনি ইতিহাস গড়েন। পরে এই রেকর্ড ভাঙলেও, অসম্ভবকে সম্ভব করার ধারণাই বদলে দিয়েছিল নির্মলের (Nirmal Purja) এই সাফল্য।

    এভারেস্টের সেই ভাইরাল ছবি

    ২০১৯ সালে এভারেস্ট অভিযানের সময় শৃঙ্গের ঠিক নীচে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পর্বতারোহীদের একটি ছবি তুলেছিলেন নির্মল। সেই ছবি সারা বিশ্বে ভাইরাল হয়। এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড়, বাণিজ্যিক অভিযান এবং নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল ওই ছবিকে কেন্দ্র করেই।

    রেকর্ডের পাশাপাশি মানবিকতার নজির

    শুধু রেকর্ড গড়াই নয়, বিপদে পড়া বহু পর্বতারোহীর জীবন বাঁচাতেও নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন নির্মল (Nirmal Purja)। অন্নপূর্ণা থেকে নামার সময় প্রায় ৪০ ঘণ্টা খাবার, জল ও অক্সিজেন ছাড়া আটকে থাকা এক পর্বতারোহীকে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পরে আরও দু’জন আটকে পড়া পর্বতারোহীকে বাঁচাতে নিজের অক্সিজেনও দিয়ে দেন।

    শেরপাদের প্রাপ্য সম্মানের দাবিতে সোচ্চার

    আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়ার পর নির্মল (Nirmal Purja) এলিট এক্সপেড, নিমসদাই ফাউন্ডেশন এবং একটি পর্বতারোহণ সরঞ্জাম সংস্থা গড়ে তোলেন। পাশাপাশি তিনি সবসময় দাবি করেছেন, নেপালি শেরপা ও পর্বত গাইডদের অবদানকে বিশ্বের সামনে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত। ২০১৮ সালে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (MBE) সম্মানে ভূষিত করেন।

    শেষ অভিযানের আগে কী লিখেছিলেন?

    সম্প্রতি গাশেরব্রুম-২ জয় করেছিলেন নির্মল (Nirmal Purja)। এরপর ব্রড পিকে ওঠার সিদ্ধান্ত নেন। এই শৃঙ্গ জয় করতে পারলে অক্সিজেন ছাড়া দ্বিতীয়বার বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ সম্পূর্ণ করা প্রথম পর্বতারোহী হওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। শেষবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, ব্রড পিক (Broad Peak Avalanche) তাঁর মূল পরিকল্পনায় ছিল না। তবে সুযোগ যখন এসেছে, তখন সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের কাছে নিরাপদ যাত্রার প্রার্থনাও করেছিলেন। তাঁর শেষ বার্তায় ছিল- “সমর্থক হোক বা সমালোচক, সকলের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের দু’পক্ষই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।”

    শোকে পর্বতারোহণ বিশ্ব

    তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকবার্তা আসতে শুরু করে। ব্রিটিশ অভিযাত্রী বেয়ার গ্রিলস নির্মল পুরজাকে (Nirmal Purja) অসাধারণ এবং অনন্য মানুষ বলে শ্রদ্ধা জানান। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই থেমে গেল নির্মল নিমসদাই পুরজার জীবনযাত্রা। কিন্তু তাঁর সাহস, আত্মবিশ্বাস, মানবিকতা এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার অদম্য মানসিকতা ভবিষ্যতের প্রজন্মকে দীর্ঘদিন অনুপ্রাণিত করে যাবে।

LinkedIn
Share