Tag: Bengali news

Bengali news

  • Benjamin Netanyahu: ‘মোদি-জ্যাকেট’ পরে নৈশভোজে হাজির নেতানিয়াহু, “চমৎকার” বললেন মোদি

    Benjamin Netanyahu: ‘মোদি-জ্যাকেট’ পরে নৈশভোজে হাজির নেতানিয়াহু, “চমৎকার” বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরে নৈশভোজের আসরে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চমকে দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। বুধবার জেরুজালেমে আয়োজন করা হয়েছিল ওই নৈশভোজের (Traditional Indian Attire)। সেখানেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পাথর-রঙের একটি নেহরু জ্যাকেট বেছে নেন, যা জনপ্রিয়ভাবে ‘মোদি জ্যাকেট’ নামেও পরিচিত। এতে ছিল ব্যান্ড কলার ও নিখুঁত কাটছাঁটের ফিটিং। এর সঙ্গে তিনি পরেছিলেন সাদা, লম্বা হাতাওয়ালা সাধারণ রংয়ের কুর্তা-ধাঁচের একটি শার্ট। গাঢ় নীল রঙের ফরমাল ট্রাউজার এবং পালিশ করা কালো চামড়ার জুতোয় তাঁকে আদ্যোপান্ত ভারতীয় বলেই মনে হচ্ছিল।

    ভারতীয় পোশাকে নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)

    এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে নেতানিয়াহু মোদির প্রতিক্রিয়ার ঝলক শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, “আমাদের যৌথ নৈশভোজের আগে আমি আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরে চমকে দিয়েছি।” কূটনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত একটি দিনের মধ্যেই এই পোশাক-নির্বাচনের বার্তা আসে। এর আগে মোদি নেসেটের বিশেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন, যা তাঁকে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণদানকারী প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করে। নেতানিয়াহুর পোস্টের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদি সেটি ফের শেয়ার করে লেখেন, “চমৎকার! ভারতীয় পোশাকের প্রতি আপনার অনুরাগ আমাদের দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আপনার শ্রদ্ধারই প্রতিফলন।”

    একাধিক মউ সই হওয়ার কথা

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও নেতানিয়াহু আজ, বৃহস্পতিবার যৌথভাবে ইয়াদ ভাশেম পরিদর্শন করবেন এবং পরে কিং ডেভিড হোটেলে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন (Benjamin Netanyahu)। আলোচনায় ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বের সামগ্রিক পর্যালোচনা হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব পাবে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করা। পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও দুই নেতা মতামত বিনিময় করবেন (Traditional Indian Attire)। এই সফরকালে অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রজুড়ে একাধিক মউ সই হওয়ার কথা, যা দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যৌথভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিবৃতি দেবেন এবং আলোচনার নির্যাস তুলে ধরবেন। বর্তমানে ভারত ইজরায়েলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করার পথে এগোচ্ছে, যার লক্ষ্য আয়রন ডোম প্রযুক্তি অধিগ্রহণ। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা কেবল সরাসরি ক্রয় নয়, বরং এটি ভারতের নিজস্ব ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ (প্রজেক্ট কুশা নামেও পরিচিত)-এর একটি মূল উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে (Benjamin Netanyahu)।

     

  • Sukma: স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো সুকমার গোগুন্ডা গ্রাম

    Sukma: স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো সুকমার গোগুন্ডা গ্রাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের মাওবাদী-অধ্যুষিত সুকমা জেলায় (Sukma) এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সাত দশক পর অবশেষে বিদ্যুতের (Electricity) আলোয় আলোকিত হলো দুর্গম গোগুন্ডা গ্রাম। জেলা প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় এই অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছে।

    ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা (Sukma)

    গোগুন্ডা গ্রামটি (Sukma) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৫০ মিটার উচ্চতায় একটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং মাওবাদী দাপটের কারণে দশকের পর দশক ধরে এই গ্রামটি উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এর আগে বিদ্যুৎ সংযোগের (Electricity) জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাহাড়ের ওপরে নিয়ে যাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। সুকমার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার এই সাফল্যকে স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “গোগুন্ডা গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো কেবল একটি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের মানুষের মনে সরকারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ।”

    নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা

    এই গ্রামটিতে (Sukma) বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অবদান রয়েছে। সিআরপিএফ (CRPF)-এর ৭৪তম ব্যাটালিয়নের একটি ক্যাম্প এবং একটি ‘ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেস’ (FOB) স্থাপন করার পরই ওই অঞ্চলে সরকারি উন্নয়নের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়। জওয়ানদের কড়া পাহারায় বিদ্যুৎ (Electricity) দফতরের কর্মীরা পাহাড়ি পথে বিদ্যুতের খুঁটি ও বসানোর কাজ সম্পন্ন করেন।

    উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

    শুধুমাত্র বিদ্যুৎ (Electricity) নয়, গ্রামটিতে এখন আধুনিক সভ্যতার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ এখনও পর্যন্ত যা যা কাজ চলছে তা হল-

    • ● গ্রামটিতে পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে।
    • ● একটি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।
    • ● গ্রামবাসীদের জন্য রেশন দোকান (PDS) এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়া

    গ্রামের (Sukma) বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে শিশুরা—সবাই ঘরে আলোর বাল্ব জ্বলতে দেখে উচ্ছ্বসিত। গ্রামবাসীরা বলেন, “এতদিন আমরা অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করতাম এবং রান্নাবান্না বা যাতায়াতের জন্য কেরোসিন তেলের বাতির ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন বিদ্যুৎ (Electricity) আসায় আমাদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হবে এবং শিশুদের পড়াশোনায় অনেক সুবিধা হবে।”

  • PM Modi: “ভারত দৃঢ়ভাবে ও পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে ইজরায়েলের পাশে রয়েছে”, নেসেটে দাঁড়িয়ে বললেন মোদি

    PM Modi: “ভারত দৃঢ়ভাবে ও পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে ইজরায়েলের পাশে রয়েছে”, নেসেটে দাঁড়িয়ে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কোনও কারণই সাধারণ নাগরিকদের হত্যাকে (Terrorism) মান্যতা দিতে পারে না এবং কোনও কিছুই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করতে পারে না।” বুধবার ইজরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দিতে গিয়ে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি বলেন, “ভারত গাজা শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং মনে করে এটি এই অঞ্চলে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা বয়ে আনে। শান্তির পথ সব সময় সহজ নয়, কিন্তু ভারত এই অঞ্চলে আলাপ-আলোচনা, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আপনাদের এবং বিশ্বের সঙ্গে একযোগে রয়েছে।”

    হামাসের বর্বর জঙ্গি হামলা (PM Modi)

    তিনি বলেন, “৭ অক্টোবর হামাসের বর্বর জঙ্গি হামলায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং যেসব পরিবারের পৃথিবী ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে, তাঁদের জন্য ভারতের জনগণের গভীর সমবেদনা আমি সঙ্গে করে এনেছি। আমরা আপনাদের যন্ত্রণা অনুভব করি, আমরা আপনাদের শোক ভাগ করে নিই। এই মুহূর্তে এবং ভবিষ্যতেও ভারত দৃঢ়ভাবে ও পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে ইজরায়েলের পাশে রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের যন্ত্রণা সহ্য করেছে। আমরা ২৬/১১ মুম্বই হামলা এবং সেখানে নিহত নিরপরাধ প্রাণগুলিকে স্মরণ করি, যাঁদের মধ্যে ইজরায়েলি নাগরিকও ছিলেন। আপনাদের মতোই, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্সের, কোনও দ্বিমুখী মানদণ্ড নয়। সন্ত্রাসবাদ সমাজকে অস্থিতিশীল করতে, উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বিশ্বাস নষ্ট করতে চায়। সন্ত্রাস দমনে টেকসই ও সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন, কারণ বিশ্বের যে কোনও জায়গায় সন্ত্রাস সর্বত্র শান্তির পক্ষে হুমকি স্বরূপ। সেই কারণেই ভারত স্থায়ী শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সবরকম প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।”

    ইজরায়েলের মহান বন্ধু

    এর আগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নেসেটে ভাষণের আগে মোদিকে স্বাগত জানিয়ে তাঁকে ইজরায়েলের মহান বন্ধু, ভারত-ইজরায়েল জোটের শক্তিশালী সমর্থক এবং বিশ্বমঞ্চের এক মহান নেতা বলে অভিহিত করেন। নেতানিয়াহু মোদিকে “প্রিয় বন্ধু” বলে উল্লেখ করে জানান, তিনি এই সফরে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। তিনি বলেন, “নরেন্দ্র, আমার প্রিয় বন্ধু, আজ এখানে আপনার আগমনে আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। ইজরায়েলের এক মহান বন্ধু, ভারত-ইজরায়েল জোটের এক শক্তিশালী সমর্থক এবং বিশ্বমঞ্চের এক মহান নেতাকে স্বাগত। জেরুজালেমে স্বাগতম, আমার প্রিয় বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আপনার বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলকে (PM Modi)।” ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসলে আমি বলতে চাই, মোদি আমার বন্ধুর চেয়েও বেশি (Terrorism), একজন ভাই। যখন আপনি আগেরবার এখানে এসেছিলেন, আমরা দু’জনে ভূমধ্যসাগরের উপকূলে দাঁড়িয়েছিলাম, এবং আমি বলেছিলাম, চলুন জুতো খুলে জলে নামি। ওটা শুধু জলের ওপর হাঁটা ছিল না, আমরা যেন অলৌকিক কাজ করেছি। আমরা আমাদের বাণিজ্য দ্বিগুণ করেছি, সহযোগিতা তিনগুণ করেছি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া চারগুণ করেছি।”

    কী বললেন নেসেটের স্পিকার

    নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাতে পারা তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, “আজ নেসেটের স্পিকার হিসেবে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে নেসেটে ভাষণ দিতে স্বাগত জানাতে পেরে আমি গর্বিত। ধন্যবাদ, প্রধানমন্ত্রী মোদি।” এদিন পার্লামেন্টে পৌঁছলে ‘মোদি, মোদি’ ধ্বনিতে স্বাগত জানানো হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি অভিবাদন গ্রহণ করেন (Terrorism)। ভারত-ইজরায়েল ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “যে দিন ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেই দিনই তার জন্ম।” তিনি জানান, এমন এক ভূখণ্ডে ফিরে এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত, যার প্রতি তিনি সব সময় আকর্ষণ অনুভব করেছেন (PM Modi)।

    প্রসঙ্গত, এর আগে, তেল আভিভ বিমানবন্দরে নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান। মোদির পকেট রুমাল ও সারা নেতানিয়াহুর পোশাকে গেরুয়া রঙের মিল দেখা যায়। লাল গালিচা সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে মোদি ও নেতানিয়াহুর আলিঙ্গন তাঁদের আন্তরিক বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটায়। দু’দিনের সরকারি সফরে তেল আভিভে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মোদি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। উষ্ণ অভ্যর্থনায় নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে (Terrorism) বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান এবং বিশেষ গার্ড অব অনার দেন (PM Modi)।

     

  • PM Modi: “ইহুদি সম্প্রদায় ভারতীয় সমাজে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করেছে”, ইজরায়েলের সংসদে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “ইহুদি সম্প্রদায় ভারতীয় সমাজে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করেছে”, ইজরায়েলের সংসদে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতে নির্যাতন বা বৈষম্যের ভয় ছাড়াই বসবাস করেছে ইহুদি সম্প্রদায়।” বুধবার এমনই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায়, নিজেদের ধর্মবিশ্বাস সংরক্ষণ করেছে এবং সমাজে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করেছে, এবং এই ইতিহাস আমাদের গর্বের উৎস।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    ইজরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ভাষণ দিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতে ইজরায়েলের দৃঢ়তা, সাহস এবং সাফল্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।” তিনি বলেন, “আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে আমরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বহু আগেই, দু হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো বন্ধনে আমরা যুক্ত ছিলাম। ‘বুক অফ এসথার’-এ (বাইবেলের ‘এস্থার পুস্তক’। হিব্রু বাইবেল এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ বই)  ভারতের উল্লেখ রয়েছে ‘হোদু’ নামে। তালমুদে প্রাচীনকালে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের বিবরণ আছে। ইহুদি বণিকেরা ভূমধ্যসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা সমুদ্রপথে যাতায়াত করতেন। তাঁরা সুযোগ ও মর্যাদার সন্ধানে এসেছিলেন। আর ভারতে এসে তাঁরা আমাদেরই একজন হয়ে গিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায় ভারতে নির্যাতন বা বৈষম্যের ভয় ছাড়াই বসবাস করেছে। তারা নিজেদের ধর্মবিশ্বাস রক্ষা করেছে এবং সমাজ গঠনে পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করেছে। এই ইতিহাস আমাদের গর্বের বিষয় (PM Modi)।”

    ইহুদিদের অবদান

    প্রধানমন্ত্রী জানান, মহারাষ্ট্রের বেনে ইজরায়েল, কেরলের কোচিনি ইহুদি, কলকাতা ও মুম্বইয়ের বাগদাদি ইহুদি এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বনে মেনাশে—এঁরা সবাই ভারতের সমৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন (India Israel Link)। তিনি বলেন, “আমার নিজ রাজ্য গুজরাটে বেনে ইজরায়েলি এক পরিবার—মিস্টার ও মিসেস বেস্ট—একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি একটি চমৎকার বিদ্যালয়, এবং অবশ্যই এর নাম ‘বেস্ট স্কুল’!” প্রধানমন্ত্রী জানান, এডউইন মায়ার্স ভারতের ফিল্মস ডিভিশনকে রূপ দিয়েছিলেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক বিশাল ব্যক্তিত্ব। ডক্টর রিউবেন ডেভিড ছিলেন আহমেদাবাদের কঙ্কারিয়া চিড়িয়াখানার প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা ডেভিড আব্রাহাম চেউলকর, যিনি ‘আঙ্কল ডেভিড’ নামে পরিচিত, সারা দেশে এক পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন। ওয়াল্টার কাউফম্যান অল ইন্ডিয়া রেডিওর স্বাক্ষর সুর রচনা করেন। ডেভিড সাসুন বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা আজও ভারতীয় সমাজকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে (PM Modi)।

    প্রাণবন্ত ইহুদি সম্প্রদায়

    তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর জেকবের বীরত্বপূর্ণ অবদান সুপরিচিত। অবসর গ্রহণের পর তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বহু কাপ চায়ের আড্ডায় আমরা ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক-সহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আরও অগণিত ব্যক্তি আছেন, যাঁদের অবদান ভারতের (PM Modi) সমৃদ্ধ জীবনবুননে গাঁথা রয়েছে (India Israel Link)।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বহু ভারতীয় ইহুদি ইজরায়েলে পাড়ি জমান। তিনি বলেন, “আজ এখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক প্রাণবন্ত ইহুদি সম্প্রদায় বাস করছে। তাঁরা আধুনিক ইজরায়েল গঠনে—গবেষণাগার ও হাসপাতাল, শ্রেণিকক্ষ এবং যুদ্ধক্ষেত্র—সব জায়গায় অবদান রেখেছেন। তাঁরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ইজরায়েল তাঁদের পিতৃভূমি, ভারত তাদের মাতৃভূমি। আমরা তাঁদের নিয়ে গর্বিত।”

    ইজরায়েল-ভারত সম্পর্ক

    তিনি (PM Modi) বলেন, “এই ভূমির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রক্ত ও আত্মত্যাগেও লেখা আছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলে চার হাজারেরও বেশি ভারতীয় সৈনিক প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাইফায় অশ্বারোহী বাহিনীর আক্রমণ সামরিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় (India Israel Link)।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মেজর ঠাকুর দলপত সিং, যিনি ‘হাইফার নায়ক’ হিসেবে স্মরণীয়, এই যৌথ ইতিহাসের প্রতীক।” তিনি এও বলেন, “আমার শেষ সফরে ভারতীয় সৈনিকদের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম।”

    হলোকাস্ট

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত মাসে আন্তর্জাতিক হলোকাস্ট স্মরণ দিবস পালন করেছে বিশ্ব। তিনি বলেন, “হলোকাস্ট মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলির একটি। তবু সেই অস্থির সময়েও মানবতার কিছু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা গিয়েছিল। গুজরাটের নওয়ানগড়ের মহারাজা, যিনি জাম সাহেব নামেও পরিচিত, পোলিশ শিশুদের, যাদের মধ্যে ইহুদি শিশুরাও ছিল, আশ্রয় দিয়েছিলেন, যখন তাদের যাওয়ার আর কোথাও ছিল না। আমি জেনেছি, সম্প্রতি মোশাভ নেভাতিমে জাম সাহেবের একটি মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে (India Israel Link)। এই সম্মান ও স্মরণার্থে আপনাদের ধন্যবাদ (PM Modi)।”

  • Ramakrishna 591: “বিশ্বাস যত বাড়বে, জ্ঞানও তত বাড়বে, যে গরু বেছে বেছে খায় সে ছিড়িক ছিড়িক করে দুধ দেয়”

    Ramakrishna 591: “বিশ্বাস যত বাড়বে, জ্ঞানও তত বাড়বে, যে গরু বেছে বেছে খায় সে ছিড়িক ছিড়িক করে দুধ দেয়”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    অষ্টম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২২শে অক্টোবর

    অবতারকথাপ্রসঙ্গে—অবতার ও জীব

    সায়েন্স—না মহাপুরুষের বাক্য? 

    ঈশান (ডাক্তারের প্রতি)—আপনি অবতার মানছেন না কেন? এই বললেন, যিনি আকার করেছেন তিনি সাকার, যিনি মন করেছেন তিনি নিরাকার। এই আপনি বললেন (Kathamrita), ঈশ্বরের কাণ্ড হতে পারে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) হাসিতে হাসিতে—ঈশ্বর অবতার হতে পারেন, এ-কথা যে ওঁর সায়েন্স-এ (ইংরাজী বিজ্ঞানশাস্ত্রে) নাই! তবে কেমন করে বিশ্বাস হয়? (সকলের হাস্য)

    “একটা গল্প শোন—একজন এসে বললে, ওহে! ও-পাড়ায় দেখে এলুম অমুকের বাড়ি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে গেছে। যাকে ও-কথা বললে, সে ইংরাজী লেখা-পড়া জানে। সে বললে দাঁড়াও, একবার খপরের কাগজখানা দেখি। খপরের কাগজ পড়ে দেখে যে, বাড়ি ভাঙার কথা কিছুই নাই। তখন সে ব্যক্তি বললে, ওহে তোমার কথায় আমি বিশ্বাস করি না। কই, বাড়ি ভাঙার কথা তো খপরের কাগজে লেখা নাই। ও-সব মিছে কথা।” (সকলের হাস্য)

    গিরিশ (ডাক্তারের প্রতি)—আপনার শ্রীকৃষ্ণকে ঈশ্বর মানতে হবে। আপনাকে মানুষ মানতে দেব না। বলতে হবে Demon or God (হয় শয়তান, নয় ঈশ্বর)।

    সরলতা ও ঈশ্বরে বিশ্বাস

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) সরল না হলে ঈশ্বরে চট করে বিশ্বাস হয় না। বিষয়বুদ্ধি থেকে ঈশ্বর অনেক দূর। বিষয়বুদ্ধি থাকলে নানা সংশয় উপস্থিত হয়, আর নানারকম অহংকার এসে পড়ে — পাণ্ডিত্যের অহংকার, ধনের অহংকার — এই সব। ইনি (ডাক্তার) কিন্তু সরল।

    গিরিশ (ডাক্তারের প্রতি) — মহাশয়! কি বলেন (Kathamrita)? কুরুটের কি জ্ঞান হয়?

    ডাক্তার — রাম বলো! তাও কখন হয়!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—কেশব সেন কি সরল ছিল! একদিন ওখানে (রাসমণির কালীবাড়িতে) গিছিল। অতিথিশালা দেখে বেলা চারটের সময় বলে, হাঁগা অতিথি-কাঙালদের কখন খাওয়া হবে?

    “বিশ্বাস যত বাড়বে, জ্ঞানও তত বাড়বে। যে গরু বেছে বেছে (Kathamrita) খায় সে ছিড়িক ছিড়িক করে দুধ দেয়। যে গরু শাকপাতা, খোসা, ভুষি, যা দাও, গবগব করে খায়, সে গরু হুড়হুড় করে দুধ দেয়। (সকলের হাস্য)

    “বালকের মতো বিশ্বাস না হলে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না। মা বলেছেন, ‘ও তোর দাদা’ বালকের অমনি বিশ্বাস যে, ও আমার ষোল আনা দাদা। মা বলেছেন, ‘জুজু আছে।’ ষোল আনা বিশ্বাস যে, ও-ঘরে জুজু আছে। এইরূপ বালকের ন্যায় বিশ্বাস দেখলে ঈশ্বরের দয়া হয়। সংসার বুদ্ধিতে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না।”

  • Election Commission: মনোনয়ন পর্ব থেকেই বিধানসভা ভিত্তিক অবজারভার নজরদারি করবে, জানাল কমিশন

    Election Commission: মনোনয়ন পর্ব থেকেই বিধানসভা ভিত্তিক অবজারভার নজরদারি করবে, জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রত্যেক বিধানসভার জন্য অবজারভার নিয়োগ করা হবে। ভোটের বিজ্ঞপ্তির দিন থেকেই বেশ কিছু কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক (Central Observers) এই রাজ্যে আসবেন। প্রত্যকে বিধানসভায় চূড়ান্ত নজরদারিতে অন্ততপক্ষে একজন করে পর্যবেক্ষক থাকতে চলেছে। বিধানসভা ভোটে মনোনয়ন প্রক্রিয়াও চলবে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নজরদারিতেই। বাংলা-সহ ৫ রাজ্যেই ফর্মুলা নির্বাচন কমিশনের। দেশে মোট ১ হাজার ৪৪৪ জন অফিসারকে ট্রেনিং দিচ্ছে কমিশন (Election Commission)।

    ২৯৪ টি কেন্দ্রেই বিধানসভা ভিত্তিক পর্যবেক্ষক

    পুরনো অভিজ্ঞার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) দেখেছে, মনোনয়ন পর্ব থেকে বাংলার একাধিক জায়গা থেকে অভিযোগ, অশান্তি, বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। শাসকদলের বিরুদ্ধে জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যহার করা শুরু থেকে রাজনৈতিক হিংসারও অভিযোগ ওঠে। গত বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পর্ব থেকেই বিরোধীদের ব্যাপক ভাবে টার্গেট করেছিল দুষ্কৃতীরা। মনোনয়ন জমা, ভোট গ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত  হিংসা-সন্ত্রাসের বাতাবরণ পর্যন্ত ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিজ্ঞপ্তি যেদিন জারি করা হবে, সেদিন থেকেই প্রায় ২৯৪ টি কেন্দ্রেই বিধানসভা ভিত্তিক আলাদা আলাদা করে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা (Central Observers)  থাকবেন। নির্বাচনকে হিংসা মুক্ত করাই নির্বাচন কমিশনের প্রধান কাজ বলে জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

    তামিলনাড়ু, কেরল,  অসম, পুদুচেরিতেও পর্যবেক্ষক

    কামিশনের (Election Commission) সাফ কথা, সিদ্ধান্ত যে কেবল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে, তেমনটা নয়। মোট ১৪৪৪ জন আইপিএস, আইএএস,  আইআরএস অফিসারদের গত কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের তামিলনাড়ু, কেরল,  অসম, পুদুচেরিতে নিয়োগ করা হবে। এই আধিকারিকদের মধ্যে আইপিএস অফিসারদের পুলিশ অবজারভার হিসাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে। আইএএস পর্যমর্যাদার আধিকারিকদের (Central Observers) জেনারেল অফিসার হিসাবে ব্যবহার করা হবে। কমিশন আরও জানিয়েছে, রেভিনিউ অর্থাৎ আর্থিক ক্ষেত্রে নজরদারির জন্য আইআরএস অফিসারদের ব্যবহার করা হবে। মনোনয়ন পর্ব থেকে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়ায় নজরদারি রাখবেন বলে জানা গিয়েছে।

  • PM Modi: ইজরায়েলে পৌঁছলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিমানবন্দরেই বৈঠক নেতানিয়াহুর সঙ্গে

    PM Modi: ইজরায়েলে পৌঁছলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিমানবন্দরেই বৈঠক নেতানিয়াহুর সঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইজরায়েলের তেল আভিভে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে এই সফর মোদির। সফরের লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা (Israel)।

    গার্ড অব অনার (PM Modi)

    বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন, যা দুই নেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। বিমানবন্দরে পৌঁছেই দুই প্রধানমন্ত্রী উষ্ণ আলিঙ্গন বিনিময় করেন। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজারও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই সফরকে দুই দেশের দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন (PM Modi)।

    বিমানবন্দরেই বৈঠক

    বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ও গতিশীলতার সাক্ষী হয়েছে।” এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, “বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষায় আছি (PM Modi)।” এদিন, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোদিকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান শেষে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জেরুজালেমে মোদির কেনেসেট ভাষণের আগে বিমানবন্দরেই একটি বৈঠকে বসেন (Israel)।

    প্রকৃত বন্ধুত্ব

    নেতানিয়াহু হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, “এটি একটি বন্ধন, একটি প্রকৃত বন্ধুত্ব।” দফতরের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি মোদিকে “আমার মহান বন্ধু” বলে সম্বোধন করেন, যার জবাবে মোদি হেসে প্রতিক্রিয়া জানান (PM Modi)। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ইসরায়েলে পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও মিসেস নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে আমাকে অভ্যর্থনা জানানোয় আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও ফলপ্রসূ ফলাফলের মাধ্যমে ভারত-ইসরায়েল বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আমি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।”

     

  • Israels: ভারতকে সঙ্গে নিয়ে হেক্সাগন প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, প্রমাদ গুণছে পাকিস্তান!

    Israels: ভারতকে সঙ্গে নিয়ে হেক্সাগন প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, প্রমাদ গুণছে পাকিস্তান!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্যালেস্তাইন প্রশ্নে ইসলামাবাদের আপসহীন অবস্থান এবং ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ প্রস্তাবের (Israels) বিরোধিতাকে আরও উসকে দিল। ইজরায়েল প্রস্তাবিত নতুন কৌশলগত কাঠামো ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেসে’ ভারতকে প্রকাশ্যে একটি (Pakistan) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এতে পশ্চিম এশিয়া এবং তার বাইরেও পরিবর্তিত শক্তির সমীকরণ নিয়ে ইসলামাবাদের গভীর অস্বস্তি স্পষ্ট হয়েছে।

    ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া (Israels)

    ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অস্বাভাবিক দ্রুত এবং কঠোর ভাষায়। মঙ্গলবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সেনেট ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ প্রত্যাখ্যান করে একটি প্রস্তাব পাস করেছে বলে পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। সেনেট এই পরিকল্পনাকে অভিহিত করেছে “ইজরায়েলি দখলদার শক্তির নেতৃত্বের এক নিকৃষ্ট প্রবণতা, যা রাজনৈতিক ও আদর্শের ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করতে চায়।” প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) পালওয়াশা মোহাম্মদ জাই খান। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়, যা এই উদ্যোগের নিন্দায় বিরল রাজনৈতিক ঐক্যের ইঙ্গিত দেয়। প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পিপিপির এক নেতা বলেন, “ইসলামাবাদ ইজরায়েলি নেতৃত্বের অব্যাহত উসকানিমূলক পদক্ষেপ ও বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানায়, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলির বিরুদ্ধে জোট গঠনের সাম্প্রতিক বক্তব্য (Israels)।”

    পাকিস্তানের সেনেটে নিন্দা

    পাকিস্তানের সেনেট শুধু জোট কাঠামোর নিন্দাতেই থেমে থাকেনি। ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা “ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামি দেশগুলির সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা খর্ব করার যে কোনও ইজরায়েলি প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে (Pakistan)।” প্রস্তাবে ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ—সোমালিল্যান্ডকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত—নিয়েও তীব্র সমালোচনা করা হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইজরায়েল বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়। এর পর পাকিস্তান অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এবং আরও ২০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে একযোগে এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে, একে “আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রকাশ্য ও স্পষ্ট অবজ্ঞা” বলে অভিহিত করে। সেনেট প্যালেস্তাইনের “অবিচ্ছেদ্য” আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি ইসলামাবাদের “অটল” সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি “স্বাধীন, কার্যকর ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত” প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি “অধিকৃত অঞ্চল” থেকে পূর্ণ ইজরায়েলি প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয় (Israels)।

    ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের কৌশলগত ভিশনের অংশ হিসেবে ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ ধারণা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এটি এমন দেশগুলিকে একত্রিত করবে যারা পশ্চিম এশিয়া ও তার আশপাশে উগ্রবাদী শক্তি ও অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে একই মনোভাব পোষণ করে (Pakistan)। প্রস্তাবিত জোটে ইজরায়েল, ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের পাশাপাশি কয়েকটি আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বলেন, “আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা পশ্চিম এশিয়ার ভেতরে বা চারপাশে এক ধরনের ‘হেক্সাগন’ জোটব্যবস্থা গড়ে তুলব।” তিনি আরও বলেন, “উদ্দেশ্য হল এমন একটি দেশসমূহের অক্ষ তৈরি করা, যারা বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য নিয়ে একমত—উগ্র শিয়া অক্ষ, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, এবং উদীয়মান উগ্র সুন্নি অক্ষের বিরুদ্ধে।”

    জোটের কাজ

    এই জোট তিনটি মূল ক্ষেত্রে কাজ করবে—অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের মতো উদ্যোগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক। ইজরায়েলি নেতৃত্ব এটিকে ইরান ও তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক—যেমন হিজবুল্লাহ ও হুথি, যাদের সম্মিলিতভাবে “অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স” বলা হয়—এর প্রভাব মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো হিসেবে দেখছে। ইসলামাবাদের উদ্বেগের মূল কারণ হল ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেসে’ ভারতকে একটি কৌশলগত স্তম্ভ হিসেবে প্রকাশ্যে উল্লেখ করা। পাকিস্তান মনে করে, ইসরায়েল-সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের বাড়তে থাকা নিরাপত্তা (Israels) সহযোগিতা পশ্চিম এশিয়ায় তাদের নিজস্ব প্রভাবের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ এবং ইসলামাবাদের দৃষ্টিতে মুসলিম ঐক্যের ধারণা থেকে সরে যাওয়া (Pakistan)।

    কূটনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণ

    পাকিস্তানের শাসক জোট এই জোট কাঠামোকে সৌদি আরব ও তুরস্ককে ঘিরে আঞ্চলিক সমীকরণের পরিবর্তনের সঙ্গেও যুক্ত করছে। নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা আসে ইজরায়েল–ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবং যখন পাকিস্তান ও সৌদি আরব নিজেদের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। পাকিস্তানে জাতীয় প্রতিক্রিয়াগুলি প্যালেস্তাইনি সার্বভৌমত্বের প্রতি দীর্ঘদিনের দৃঢ় সমর্থন এবং অধিকৃত অঞ্চলে ইজরায়েলি পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার যে কোনও উদ্যোগের বিরোধিতার ধারাবাহিকতাই প্রতিফলিত করে। প্যালেস্তাইন ইস্যুতে ইসলামাবাদের আপসহীন অবস্থান এবং ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের সমালোচনা ‘হেক্সাগন’ প্রস্তাবের বিরোধিতাকে আরও জোরদার করেছে (Israels)। ইজরায়েলের কাছে ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ হল বৈরী শক্তির বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষাকারী কাঠামো এবং অস্থির অঞ্চলে কূটনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণের অংশ। ভারতের জন্য এই কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বহুপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত বহন করে।

    পাকিস্তানের উদ্বেগ

    পাকিস্তানের উদ্বিগ্ন প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে ইসলামাবাদ শুধু বিরক্তই নয়, বরং এটিকে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবেই দেখছে—যা মুসলিম দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। এই কাঠামো ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা জোটে রূপ নিক বা কেবল সহযোগিতার ধারণাগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকুক—এর রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে (Pakistan) ইসলামাবাদের মতো রাজধানীগুলিতে, যেখানে একে মুসলিম ঐক্য ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে (Israels)।

     

  • PM Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ মোদির, তেরঙায় সেজে উঠেছে ‘নেসেট’

    PM Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ মোদির, তেরঙায় সেজে উঠেছে ‘নেসেট’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইজরায়েলে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের পর এটি তাঁর দ্বিতীয় ইজরায়েল সফর। বুধবার বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ও তাঁর স্ত্রী সারা। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বরণ করতে গোটা ইজরায়েল জুড়ে প্রস্তুতি চলছে। এই সফরে মোদি ইজরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেবেন। ইজরায়েলের আইনসভায় ভাষণ দেওয়া তিনিই হবেন প্রথম ভারতীয় নেতা। ইজরায়েলের সংসদ ভবন ত্রিবর্ণ পতাকার রঙে সজ্জিত করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি মোদি ইয়াদ ভাশেমে—ইজরায়েলের হলোকস্ট স্মৃতিসৌধে—গিয়ে অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি জমানায় নিহত ৬০ লক্ষ ইহুদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর তিনি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠক করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন।

    মোদি জমানায় ভারত-ইজরায়েল নৈকট্য (PM Modi)

    ১৯৫০ সালে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় ভারত। যদিও তার পরেও কয়েক দশক ধরে সম্পর্ক ছিল সতর্ক ও সীমিত। মোদির আমলে সেই অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে (Benjamin Netanyahu)। ২০১৭ সালে তাঁর সফর ছিল প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর, যা লো-প্রোফাইল সম্পর্ক থেকে প্রকাশ্য কৌশলগত অংশীদারিত্বে উত্তরণের সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, উদ্ভাবন, কৃষি ও উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৭ সালের সফর ছিল একটি মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত (PM Modi)।

    “দুই বৈশ্বিক নেতার শক্তিশালী জোট”

    নেতানিয়াহু একাধিকবার মোদিকে “প্রিয় বন্ধু” এবং ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে “দুই বৈশ্বিক নেতার শক্তিশালী জোট” বলে বর্ণনা করেছেন—যা ইজরায়েলে দলীয় বিভাজন পেরিয়ে সাড়া ফেলেছে। প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সফর আগামী দশকের জন্য ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। নেসেটে ভাষণ এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য আলোচনার ফল পশ্চিম এশিয়া এবং তার বাইরেও ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে (Benjamin Netanyahu)।

    মোদির বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় ইজরায়েলের বিরোধী দলও

    ইজরায়েলের বিরোধী শিবির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট মেটানোর আহ্বান জানায় যাতে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেসেট ভাষণে উপস্থিত থাকতে পারে। আজকের মেরুকৃত বিশ্বে এটি একটি বিরল ঘটনা। বিরোধী দলনেতা নেতানিয়াহুকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেন, যেন মোদির সংসদীয় ভাষণে বিরোধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয় এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা যেন জাতীয় গুরুত্বের মুহূর্তকে ক্ষুণ্ণ না করে। চিঠিতে বলা হয়, “এমন এক ঐতিহাসিক ভাষণে নেসেট যেন বিরোধী দলের উপস্থিতি থেকে বঞ্চিত না হয় (PM Modi)।”

    অস্থির অঞ্চলে ধারাবাহিকতার প্রতীক মোদি

    এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, ইজরায়েলে মোদিকে কেবল দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয় না, তাঁকে কৌশলগত ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিসর জুড়ে মোদি এমন এক নেতা হিসেবে সম্মান পান, যিনি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, সংকটের সময় ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন, আবার একইসঙ্গে প্যালেস্তাইন ইস্যু ও গাজায় মানবিক উদ্বেগের ক্ষেত্রে ভারতের নীতিগত অবস্থানও বজায় রেখেছেন। এই ভারসাম্য তাঁকে একক কোনও ইজরায়েলি সরকারের গণ্ডির বাইরে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে (Benjamin Netanyahu)। নেতানিয়াহুর কাছে মোদি একটি অস্থির অঞ্চলে ধারাবাহিকতার প্রতীক, বিরোধী শিবিরের কাছে তিনি সরকার-নিরপেক্ষ এক দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতীক। তাই মোদির নেসেট ভাষণের সময় বিরোধী নেতারাও উপস্থিত থাকতে চান। তাঁর ভাষণকে দলীয় রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে নয়, বরং ইজরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের দিকনির্দেশক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share