Tag: Bengali news

Bengali news

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশ উভয় জায়গায়ই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নিপীড়ন আমাদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। বহু দশক ধরে বিশ্বের দৃষ্টি এই ধরনের আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তির দিকে যায়নি, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—সব মিলিয়ে হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন (Roundup Week)। ২১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়কালের এই সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত বিবরণে এই ধরনের অপরাধের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হল। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে মানুষকে এই মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতন করা যাবে বলেও ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায় (Hindus Under Attack)

    প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। একটি প্রাচীন মন্দিরের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ ‘অরুলমিগু কন্যাকুমারী ভাগবতী আম্মান তিরুকোভিলে’র ‘কন্নিয়াম্বালম’ কল মণ্ডপম থেকে অবিলম্বে সব দখলদারি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে এবং কাঠামোটি সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জি জয়চন্দ্রন ও বিচারপতি কেকে রামকৃষ্ণনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ হিন্দু রিলিজিয়াস অ্যান্ড চ্যারিটেবল এন্ডাওমেন্টস (HR&CE) দফতরকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করে মন্তব্য করে যে ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি “আর্থিক লাভের জন্য” ব্যবহার করা হয়েছে এবং মণ্ডপমের ভেতরে নির্মাণসামগ্রী ও ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

    শিবাজি জয়ন্তীর শোভাযাত্রায় পাথর

    ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে কর্নাটকের বাগালকোট শহরে কিলা ওনি এলাকায় শিবাজি জয়ন্তীর শোভাযাত্রায় পাথর ও জুতো ছোড়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের স্মরণে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি উদ্‌যাপনের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল, এমন সময় এই ঘটনা ঘটে, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পুলিশ তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে (Roundup Week)। ‘দ্য নিউজ মিনিটে’ সম্প্রতি বিনু করুণাকরণের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিরুনাভায়ার মহা মাঘ মহোৎসবকে “গেরুয়া চিত্রনাট্য” এবং “হিন্দুত্বের রাজনৈতিক নাটক” বলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এটি ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে কেরলকে মেরুকরণ করতে পূর্ণাঙ্গ কুম্ভমেলার রূপ নেবে। সমালোচকদের মতে, অন্য ধর্মের বৃহৎ জনসমাবেশের ক্ষেত্রে নীরব থেকে এই ধরনের মন্তব্য ভণ্ড-ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচায়ক (Hindus Under Attack)।

    ধর্মীয় স্বাধীনতা দমনের অভিযোগ

    এদিকে, ওয়ারাঙ্গলের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (NIT)-এ ছাত্রদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দমনের অভিযোগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে (NHRC) একটি পিটিশন দাখিল হয়েছে। অভিযোগ, এনআইটি ওয়ারাঙ্গলের ১.৮কে হস্টেলে থাকা ছাত্ররা প্রায় এক বছর ধরে প্রতি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পনেরো মিনিট ধরে হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তারা হস্টেলে গিয়ে প্রার্থনা সভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং যাঁরা সাংবিধানিক ধর্মীয় অধিকারের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, এমনকি বহিষ্কারের হুমকিও দেওয়া হয় (Roundup Week)। কর্নাটকের শিবমোগ্গা জেলার উর্গাদুর এলাকায় নাবালক ইসলামপন্থী যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে ১৬ বছর বয়সী সংকেত নামে এক হিন্দু কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি তাঁর বন্ধু গিরিশকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারান (Hindus Under Attack)।

    মোবাইল স্ক্রিন গার্ড কেনা নিয়ে তর্কের জের

    কর্নাটকের চিত্রদুর্গ শহরের সন্থে ময়দানের কাছে মোবাইল দোকান মালিক বিক্রম চৌধুরীকে মোবাইল স্ক্রিন গার্ড কেনা নিয়ে তর্কের জেরে এক ইসলামপন্থী যুবক ছুরিকাঘাত করে। দেশের পাশাপাশি বিদেশের ছবিটাও এক ঝলক দেখে নেওয়া যাক। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত এবং তা ধীরে ধীরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না (Roundup Week)। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, ভুয়ো ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণআক্রমণ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবই হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)।

    গণধর্ষণের অভিযোগ

    বরিশাল জেলায় এক বিবাহিত হিন্দু মহিলাকে অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগে একটি গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, তিনি কীর্তনের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল হামলাকারীর কবলে পড়েন এবং তাঁকে অপহরণ করে শারীরিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রাম গ্রামে নিশান্ত বৈদ্য নামে এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁর মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    প্রসঙ্গত, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ কাজ করে, যা কিছু ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত বলে অভিযোগ। ইসলামি দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ প্রকাশ্যে এলেও ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্মভাবে হিন্দু-বিরোধী মনোভাব কাজ করে বলে দাবি করা হয়। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না, যদি না প্রচলিত আইন ও নীতির ধরণ বিশ্লেষণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়। আপাতভাবে (Roundup Week) এটি দূষণ-সংক্রান্ত মনে হলেও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবের ওপর বিধিনিষেধ এবং যুক্তির অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় (Hindus Under Attack)।

     

  • Pradhan Mantri Ujjwala Yojana: উত্তরপ্রদেশের ১.৮৬ কোটি পরিবারের জন্য ১৫০০ কোটি টাকার এলপিজি ভর্তুকি ঘোষণা আদিত্যনাথের

    Pradhan Mantri Ujjwala Yojana: উত্তরপ্রদেশের ১.৮৬ কোটি পরিবারের জন্য ১৫০০ কোটি টাকার এলপিজি ভর্তুকি ঘোষণা আদিত্যনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) হোলি উৎসবের প্রাক্কালে রাজ্যের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির জন্য একটি বড় উপহার ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (Pradhan Mantri Ujjwala Yojana) আওতায় থাকা ১.৮৬ কোটিরও বেশি সুবিধাভোগী পরিবারকে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ১৫০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় রাজ্যের মহিলা মহলে খুশির জোয়ার।

    জনকল্যাণকর পদক্ষেপ

    উত্তরপ্রদেশ সরকার ঘোষণা করেছে, রাজ্যের ১.৮৬ কোটি উজ্জ্বলা যোজনার কার্ডধারী পরিবার এই হোলিতে একটি করে বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার (Pradhan Mantri Ujjwala Yojana) পাবে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ১৫৪৭.৪৮ কোটি টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের (DBT) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় ভারতজুড়ে ১০ কোটিরও বেশি পরিবার গ্যাস সংযোগ পেয়েছে, যার মধ্যে কেবল উত্তর প্রদেশের ১.৮৬ কোটি পরিবার রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) বলেন, “মহামারী বহু বছর আগে শেষ হয়ে গেলেও, দেশব্যাপী ৮০ কোটি নাগরিক বিনামূল্যে রেশন সহায়তা পাচ্ছেন, যার মধ্যে উত্তরপ্রদেশে ১৫ কোটি সুবিধাভোগীও রয়েছেন। একইভাবে, আয়ুষ্মান ভারত যোজনার আওতায় যোগ্য পরিবারগুলি বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কভারেজ পায়। ৭০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক এবং শিক্ষা খাতের কর্মীদের জন্য বর্ধিত সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ

    ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ইশতেহারে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, প্রতি বছর হোলি এবং দীপাবলিতে উজ্জ্বলা যোজনার (Pradhan Mantri Ujjwala Yojana) সুবিধাভোগীদের দুটি করে বিনামূল্যে সিলিন্ডার দেওয়া হবে। যোগী (Yogi Adityanath) সরকার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

    সরাসরি সুবিধা প্রদান (DBT)

    সুবিধাভোগীরা প্রথমে সিলিন্ডারটি কিনবেন এবং পরবর্তীতে সেই সিলিন্ডারের সম্পূর্ণ অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হবে। এর ফলে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং মাঝপথে কোনও দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। অন্যদিকে, উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য রাজ্যব্যাপী জরায়ুমুখ ক্যান্সার টিকাকরণ অভিযান শুরু করেছেন, যার লক্ষ্য প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কভারেজ সম্প্রসারণ করা। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে টিকার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং সুবিধাভোগীদের জন্য বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

    বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, মাতৃ বন্দনা যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী কন্যা সুমঙ্গলা যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক বিবাহ যোজনার মতো স্কিমগুলি বিবাহের মাধ্যমে জন্ম থেকে মেয়ে ও মহিলাদের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা দিয়ে চলেছে৷

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) বলেন, “আমাদের সরকার দরিদ্র মানুষের জীবনের মান উন্নত করতে এবং উৎসবের আনন্দ সবার ঘরে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ভর্তুকি (Pradhan Mantri Ujjwala Yojana) কোটি কোটি মায়ের চোখে রান্নার ধোঁয়া থেকে মুক্তি দেবে এবং তাঁদের আর্থিক বোঝা কমাবে।”

    আগের রেকর্ড

    গত বছর দীপাবলির সময়ও যোগী সরকার একইভাবে ১.৭৫ কোটির বেশি পরিবারকে বিনামূল্যে সিলিন্ডার (Pradhan Mantri Ujjwala Yojana) সরবরাহ করেছিল। চলতি বছরে সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় বরাদ্দের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। যোগী আদিত্যনাথের এই সিদ্ধান্তে উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ এবং পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মানুষের মধ্যে খুশির জোয়ার দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনও যোগ্য পরিবার এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং দ্রুত যেন টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়।

  • Iran: ইজরায়েলের পাশে আমেরিকা, ইরানে হামলার নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

    Iran: ইজরায়েলের পাশে আমেরিকা, ইরানে হামলার নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৭৯ সালের আগে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির রাজত্বে ইরান (Iran) মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। ইজরায়েলের সঙ্গে (US Israel Axis) সাইলেন্ট সম্পর্কও বজায় রাখত তারা। দুই দেশই নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সহযোগিতা করত, যা ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পশ্চিমি শক্তির সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অবস্থানকে প্রতিফলিত করত।

    ইরানের রাজনৈতিক পরিচয় (Iran)

    রুহোল্লাহ খোমেইনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের পর সেই অবস্থানের আকস্মিক অবসান ঘটে। নয়া শাসনব্যবস্থা ইরানের রাজনৈতিক পরিচয়কে তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর পুনর্নির্ধারণ করে। এগুলি হল,  পশ্চিমি আধিপত্যের বিরোধিতা,  ইজরায়েলের বৈধতা প্রত্যাখ্যান এবং
    শিয়া ইসলামি রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বভিত্তিক শাসন। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের প্রতি বৈরিতা কেবল বিদেশনীতির পছন্দের বিষয় হয়ে থাকেনি। বরং তা রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানই বৃহত্তম শিয়া-অধ্যুষিত রাষ্ট্র, যেখানে অধিকাংশ আরব দেশ সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ। সুন্নি-শিয়া বিভাজনের সূচনা ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে, মহানবী হজরত মহম্মদের মৃত্যুর পর। প্রথমদিকে বিরোধের কেন্দ্র ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব। সুন্নিরা নবীর ঘনিষ্ঠ সাহাবি আবু বকরকে নেতা নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন। দ্বিতীয়ত, শিয়ারা বিশ্বাস করতেন নেতৃত্ব নবীর পরিবারভুক্ত আলির প্রাপ্য (Iran)।

    ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্যের রূপ

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রাজনৈতিক মতভেদ গভীর ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্যের রূপ নেয় (US Israel Axis)। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৮৫-৯০ শতাংশ মুসলিম সুন্নি এবং ১০-১৫ শতাংশ শিয়া সম্প্রদায়ের। ইরানের জনসংখ্যার প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ শিয়া। এদিকে, সৌদি আরব, মিশর ও জর্ডন-সহ অধিকাংশ আরব দেশেই সুন্নিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। বারো ইমামপন্থী শিয়া ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হল “গায়েব ইমামে”  বিশ্বাস। শিয়ারা মনে করেন দ্বাদশ ইমাম গায়েব হয়েছেন এবং একদিন মাহদি হিসেবে ফিরে আসবেন। এই বিশ্বাস ঐতিহাসিকভাবে একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। সেটি হল, ইমামের অনুপস্থিতিতে শাসন করবেন কে? বহু শতাব্দী ধরে শিয়া আলেমরা সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ থেকে বিরত থেকেছেন। তাঁরা সমাজে নৈতিক ও আইনি দিশারি হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৭৯ সালে এই অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে (Iran)।

    “ইসলামি ফকিহের অভিভাবকত্ব”

    বিপ্লবের পর খোমেইনি “ভেলায়াত-এ ফকিহ” বা “ইসলামি ফকিহের অভিভাবকত্ব” মতবাদ প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থায় গায়েব ইমামের প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত ইসলামি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন প্রবীণ শিয়া ফকিহ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। এই ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হয়, সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সর্বোচ্চ নেতা, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের ওপর আলেমদের তত্ত্বাবধান এবং শিয়া ফিকহভিত্তিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো (US Israel Axis)। মুসলিম বিশ্বে এই কাঠামো অনন্য। কোনও সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই আলেমশাসনের এমন সমতুল্য ব্যবস্থা নেই।ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা তার আঞ্চলিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তেহরান নিজেকে শিয়া সম্প্রদায়ের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে শিয়া-ঘনিষ্ঠ আন্দোলনগুলিকে সমর্থন করে। তারা এই নীতিকে অবিচার ও বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে তুলে ধরে।

    কৌশলগত চ্যালেঞ্জ

    সুন্নি রাজতন্ত্রগুলি, বিশেষত সৌদি আরব, এই সক্রিয়তাকে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। তাদের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক প্রভাব কমে যাওয়া এবং নিজ নিজ দেশে শিয়া সংখ্যালঘুদের মধ্যে অস্থিরতার সম্ভাবনা (Iran)। একে প্রায়ই সাম্প্রদায়িক সংঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আসলে এটি ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক বৈধতা ও আঞ্চলিক প্রভাবের প্রতিযোগিতার এক জটিল সমন্বয়। ইরানের স্বতন্ত্র পরিচয় আরও একটি মাত্রা যোগ করে। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ রাষ্ট্রের বিপরীতে ইরান আরব নয়, বরং বহন করে পারস্যজাতীয় সংস্কৃতি। তাদের ভাষা ফার্সি এবং তাদের সাম্রাজ্যের ইতিহাস ইসলামেরও পূর্ববর্তী (US Israel Axis)। জাতিগত, ভাষাগত, ঐতিহাসিক স্মৃতি ও ধর্মীয় পার্থক্য তেহরানের স্বাতন্ত্র্যবোধকে জোরদার করে এবং আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও গভীর করে।

    কৌশলগত হিসেব-নিকেশের ফল

    অনেক সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ধর্মীয় কারণে নয়, বরং কৌশলগত হিসেব-নিকেশের ফল (Iran)। সৌদি আরব ১৯৪৫ সাল থেকে “তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তা” অংশীদারত্ব বজায় রেখেছে এবং শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সম্পদ-স্বল্প জর্ডন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পর মিশর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলে এবং এখনও উল্লেখযোগ্য সামরিক সহায়তা পায়। এই সরকারগুলি আদর্শগতভাবে ইজরায়েলের সঙ্গে একাত্ম নয়, বরং তারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং শাসনব্যবস্থার টিকে থাকাকে অগ্রাধিকার দেয় (US Israel Axis)। ধর্মতত্ত্ব ও বৈদেশিক জোটের বাইরে রয়েছে প্রভাব বিস্তারের বৃহত্তর লড়াই। সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি ইসলামের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে, আর ইরান নিজেকে পশ্চিমি ও ইজরায়েলি প্রভাববিরোধী প্রতিরোধ অক্ষের সামনে রাখে।

    এই প্রেক্ষাপটে ইরানের বিচ্ছিন্নতা হল বিপ্লবী আদর্শ, শিয়া রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব, পারস্য পরিচয় এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার (Iran) সমন্বিত ফল—যা তাকে অধিকাংশ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র থেকে আলাদা অবস্থানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

     

  • Ayatollah Khameneis: ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ঘোষণা করল ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ খামেইনি

    Ayatollah Khameneis: ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি ঘোষণা করল ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ খামেইনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি (Ayatollah Khameneis) তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আজ রবিবার সকালে খবরটি নিশ্চিত করেছে। খামেইনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবারের হামলায় খামেইনির পাশাপাশি তাঁর মেয়ে, জামাই এবং নাতিরও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।

    এরই মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, খামেইনি নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প খামেইনিকে “ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনাটি ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ।”

    হামলার বিবরণ (Ayatollah Khameneis)

    শনিবার ভোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল তেহরানে খামেইনির সুরক্ষিত বাসভবন কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায়। স্যাটেলাইট চিত্রে খামেইনির দফতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গিয়েছে। ইরানের (Iran) সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, খামেইনি (Ayatollah Khameneis) নিজের দফতরে থাকা অবস্থায়ই হামলার শিকার হন।

    ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরান শাসন করে আসছেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি শিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারের সকল শাখা, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন। কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের করিম সাদ্দাদপুর সংবাদমাধ্যমে বলেন, খামেইনি ছিলেন ইতিহাসের এক দুর্ঘটনা। যিনি একজন দুর্বল রাষ্ট্রপতি থেকে প্রাথমিকভাবে দুর্বল সর্বোচ্চ নেতা হয়ে গত ১০০ বছরের পাঁচজন শক্তিশালী ইরানির একজন হয়ে উঠেছিলেন।

    ইরানের প্রতিক্রিয়া

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ মাধ্যম ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেইনি (Ayatollah Khameneis) শনিবার সকালে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসকদের যৌথ হামলায় শহিদ হয়েছেন। ইরান (Iran) এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইজরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলির দিকে একের পর এক মিসাইল নিক্ষেপ শুরু করেছে।

    অন্যান্য নেতার মৃত্যু

    ইরানি (Iran) সংবাদ মধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেইনির (Ayatollah Khameneis) পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির নাসিরজাদে এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরও এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া খামেইনির কয়েকজন নিকটাত্মীয়ও মারা গিয়েছেন বলে খবর।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লেখেন, “খামেইনি (Ayatollah Khameneis) এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য নেতারা আমেরিকার উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। এটিই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। ইতিহাসের পাতায় অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেইনি। তাঁর বাহিনীর হাতে যাঁদের অঙ্গহানি বা মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার হল। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আরও অন্তত এক সপ্তাহ ইরানে (Iran) বোমাবর্ষণ চলবে!”

    পরবর্তী পরিস্থিতি

    খামেইনির (Ayatollah Khameneis) মৃত্যুর পর ইরানে (Iran) ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা খামেইনির কোনও নির্দিষ্ট উত্তরাধিকারী না থাকায় দেশটিতে এখন এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এহেন আবহে ইরান এই হামলার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে।

  • PM Modi: “ভারতে ১০টি নয়া সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প উৎপাদনে এসেছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “ভারতে ১০টি নয়া সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প উৎপাদনে এসেছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতে ১০টি নতুন সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প উৎপাদনে আসার ফলে এর বহুগুণ প্রভাব ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, স্টার্টআপ এবং ইলেকট্রনিক শিল্পের পুরো ভ্যালু চেইনে পৌঁছে যাবে (Micron Plant Inauguration)।” মাইক্রনের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশ্বের কাছে বার্তা পৌঁছে গিয়েছে—ভারত সক্ষম, প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারী ও ভারতের অংশীদারদের আশ্বস্ত করছি যে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার—উভয়ই আপনাদের পাশে রয়েছে।”

    দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব (PM Modi)

    বর্তমান প্রযুক্তিগত দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই দশক ভারতের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জন্য এক মোড় পরিবর্তনের সময় হিসেবে প্রমাণিত হবে।” বিশ্ব প্রযুক্তি শক্তির পরিবর্তন প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিপ্লবের শতাব্দী। সেমিকন্ডাক্টর এই বিপ্লবের একটি প্রধান সেতুবন্ধন। গত শতাব্দীতে যেমন তেল ছিল নিয়ন্ত্রক শক্তি, এই শতাব্দীতে মাইক্রোচিপ হবে নিয়ন্ত্রক।” তিনি আরও বলেন, “যখন বিশ্ব কোভিড মহামারির সঙ্গে লড়াই করছিল, তখনই ভারত সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প ঘোষণা করেছিল। মহামারির সময় সবকিছু ভেঙে পড়ছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু আমরা যে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বীজ বপন করেছিলাম, তা এখন অঙ্কুরিত হয়ে ফল দিচ্ছে (PM Modi)।” দেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা ও উৎপাদন বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারতের বিশাল জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন (Micron Plant Inauguration) গ্যাজেটের বড় ভোক্তা হয়ে উঠছে এবং দেশে চাহিদা বাড়ছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে। গত ১১ বছরে ইলেকট্রনিক উৎপাদন ও রফতানি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।”

    বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের সেবা

    সানন্দে নির্মিত এই উৎপাদন কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে প্রায় ৫ লাখ বর্গফুট ক্লিনরুম স্পেস থাকবে, যা বিশ্বের বৃহত্তম রেইজড-ফ্লোর ক্লিনরুমগুলোর একটি হবে। এই কেন্দ্রটি বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের সেবা দেবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের দ্রুত অগ্রগতির ফলে মেমোরি ও স্টোরেজ সমাধানের যে বাড়তি বৈশ্বিক চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে সহায়তা করবে (PM Modi)। মোট ২২,৫০০ কোটিরও বেশি রুপি বিনিয়োগে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ অনুমোদনের পরপরই শুরু হয়, যা দেশে কৌশলগত সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই উৎপাদন কেন্দ্রের স্থাপন ও কার্যক্রম শুরু হওয়া প্রমাণ করে যে ভারত এখন সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি (Micron Plant Inauguration) দেশে একটি স্থিতিশীল ও আত্মনির্ভর প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রধানমন্ত্রীর ভিশনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ (PM Modi)।

     

  • Canada: ‘কানাডা-ইন্ডিয়া ট্যালেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন স্ট্র্যাটেজি’র সূচনা, কী বললেন কানাডার প্রতিনিধি?

    Canada: ‘কানাডা-ইন্ডিয়া ট্যালেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন স্ট্র্যাটেজি’র সূচনা, কী বললেন কানাডার প্রতিনিধি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই উন্নত হচ্ছে ভারত-কানাডা (Canada) সম্পর্ক। শনিবার সূচনা হয় ‘কানাডা-ইন্ডিয়া ট্যালেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন স্ট্র্যাটেজি’র। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজেস অ্যান্ড ইনস্টিটিউটস কানাডার (Canada India Talent) প্রেসিডেন্ট তথা সিইও প্যারি জনস্টন। তিনি একে ভারতের দক্ষতা ও উদ্যোগ মন্ত্রকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক প্রথম পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।

    জাতীয় স্কিল সেন্টার (Canada)

    জনস্টন জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় স্কিল সেন্টারগুলির উন্নয়নে সহায়তা করা হবে। প্রয়োগমুখী শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষানবিশ বিষয়ে কানাডার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া হবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কৃষি-খাদ্য খাত-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। তিনি বলেন, “এই উদ্যোগ আমাদের ক্ষেত্রে ভারতের দক্ষতা ও উদ্যোগ মন্ত্রকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় প্রথম পদক্ষেপ। আমরা জাতীয় স্কিল সেন্টারগুলির উন্নয়নে সহায়তা করব এবং প্রয়োগমুখী শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানবিশ কর্মসূচির ক্ষেত্রে কানাডার দক্ষতা ভাগ করে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, এআই এবং কৃষি-খাদ্য ক্ষেত্রের ভারতীয় দক্ষতা পরিকল্পনাকে সমর্থন করব।” জনস্টন বলেন, “দু’সপ্তাহের মধ্যে আমরা ভারতে আসছি। কলেজ ও পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানের কর্তারা আইটিআই, বেসরকারি খাত ও সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যাতে যৌথভাবে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা যায় (Canada)।”

    ইন্দো-কানাডিয়ান বিজনেস চেম্বার

    এদিকে, ইন্দো-কানাডিয়ান বিজনেস চেম্বারের সিইও নাদিরা হামিদ দুই দেশের সম্পর্কের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “এখানে এসে এই সুন্দর সম্পর্ককে বিকশিত হতে দেখা সত্যিই আনন্দের। কিছু বছর চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, কিন্তু এখন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীই সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী। আমরা অত্যন্ত অনুপ্রাণিত এবং আরও কাজ করতে চাই (Canada India Talent)।” বাণিজ্য সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারত ও কানাডার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। হামিদ বলেন, “সিইপিএ পুনরায় আলোচনায় আনা হয়েছে এবং আমরা আশাবাদী যে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে সমাধান হবে। দুই দেশের হাইকমিশনার ও কূটনীতিকরা পুনর্বহাল হয়েছেন, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করবে। নীতিগুলি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে এবং বিনিয়োগ, সম্প্রসারণ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে সংস্থাগুলির মধ্যে আস্থা বেড়েছে। এই আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বার্তা স্পষ্ট—কানাডা এখানে দীর্ঘমেয়াদে থাকতে আগ্রহী এবং প্রধানমন্ত্রী সম্পর্ক পুনর্গঠনে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।”

    প্রযুক্তিগত সহযোগিতা

    অন্যদিকে, রেসপিরার লিভিং সায়েন্সেসের প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও রোনাক সুতারিয়া প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা মূলত বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও প্রশমন নিয়ে কাজ করি। টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমরা মডেলিং টুল তৈরি করছি। আইআইটি বম্বে এবং টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবেও কাজ করেছি। একটি (Canada) দিক হল দূষণ ও নির্গমন পর্যবেক্ষণ—এই প্রযুক্তি কানাডার জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমরা কানাডায় বায়ুগুণমান, দূষণ ও নির্গমন পর্যবেক্ষণে এই প্রযুক্তি প্রয়োগে সহায়তা করতে পারি। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলছে (Canada India Talent)।” শনিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মুম্বইয়ে একটি উদ্ভাবনী প্রদর্শনীতে অংশ নেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    ভারত সফরে কার্নি

    চার দিনের ভারত সফরে আসা কার্নি ২ মার্চ নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁর সফরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভারত ও কানাডা ‘ট্যালেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন স্ট্র্যাটেজি’ চালু করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী (রাষ্ট্রমন্ত্রী) জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, “ভারত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, গবেষণা সহযোগিতা গভীর করা এবং দক্ষতার চলাচল শক্তিশালী করতে কানাডার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত (Canada)।” তিনি বলেন, “ইন্ডিয়া-কানাডা ট্যালেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন স্ট্র্যাটেজি সময়োপযোগী এবং তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এর চারটি স্তম্ভ—ভারতের অগ্রাধিকার খাতে কানাডীয় সক্ষমতা সংযোজন, জ্ঞান ও দক্ষতাকে অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপান্তর, দুইমুখী চলাচল গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণ করা, এবং দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রদর্শন—আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ (Canada India Talent)।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এই অংশীদারিত্বকে শুধু শিক্ষা উদ্যোগ হিসেবে নয়, আমাদের যৌথ ভবিষ্যতে একটি যৌথ বিনিয়োগ হিসেবে দেখি।”

    কার্নির প্রথম সরকারি সফর

    ২৭ ফেব্রুয়ারি কার্নি তাঁর প্রথম সরকারি সফরে মুম্বই পৌঁছান। ১ মার্চ তিনি নয়াদিল্লি পৌঁছাবেন এবং ২ মার্চ হায়দরাবাদ হাউসে প্রতিনিধি-স্তরের বৈঠকে অংশ নেবেন। দুই নেতা কানানাস্কিস ও জোহানেসবার্গে তাঁদের আগের বৈঠকের ভিত্তিতে ভারত-কানাডা কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন (Canada)। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে পর্যালোচনা চলছে, তা নিয়েও আলোচনা হবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হবে। দুই প্রধানমন্ত্রী ইন্ডিয়া-কানাডা সিইও ফোরামেও যোগ দেবেন। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে (Canada India Talent)।

    এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা, জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক পরিপূরকতার ভিত্তিতে গঠনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন (Canada)। বিদেশমন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন বৈঠক দুই দেশের ইতিবাচক গতি ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্বের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিকে পুনরায় নিশ্চিত করার সুযোগ দেবে।

     

  • BJP: ১ মার্চ থেকেই বঙ্গে শুরু পরিবর্তন যাত্রা, তৃণমূলকে মাত দিতে পুরানো অস্ত্রেই শান বিজেপির!

    BJP: ১ মার্চ থেকেই বঙ্গে শুরু পরিবর্তন যাত্রা, তৃণমূলকে মাত দিতে পুরানো অস্ত্রেই শান বিজেপির!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পয়লা মার্চেই এ রাজ্যে শুরু হয়ে যাচ্ছে বিজেপির (BJP) পরিবর্তন যাত্রা (Parivartan Yatra)। চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এভাবেই হাইভোল্টেজ জনসংযোগ অভিযান শুরু করতে চলেছে গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আলাদা আলাদা জায়গা থেকে এই যাত্রা পরিচালিত হবে। যাত্রা ছুঁয়ে যাবে ২৩০টির বেশি বিধানসভা কেন্দ্রকে। এহেন আবহে ৬৪টি বড় জনসভারও পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। ছোট জনসভা হবে ২৮০টির বেশি। পরিবর্তন যাত্রা হবে ৫০০০ কিলোমিটারজুড়ে। বিজেপি সূত্রে খবর, এই যাত্রার মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে ১ কোটিরও বেশি মানুষের সঙ্গে।

    রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন (BJP)

    এই রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজনই বলে দিচ্ছে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কোনও সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি সরাসরি মাঠে নেমে মসনদ দখলের এক হাই-ভোল্টেজ অভিযান। এর লক্ষ্য জনসংযোগ, কর্মীদের চাঙা করা এবং রাজ্যজুড়ে অপরাজেয় সাংগঠনিক একটি শক্তি গড়ে তোলা। যাত্রার শেষে মেগা জনসভা হবে ব্রিগেডে। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সিংহভাগের মতে, পরিবর্তন অনিবার্য করবে পরিবর্তন যাত্রা। এই যাত্রার মাস্টারস্ট্রোক একদিকে যেমন শাসকদলকে চাপে ফেলবে, অন্যদিকে তেমনি বিরোধী ভোটকে একছাতার তলায় আনবে। পরিবর্তন যাত্রার এই ১০ দিনে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সংবাদমাধ্যমের নজর বিজেপির দিকে থাকবে, যা গেরুয়া শিবিরকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে টিভির পর্দার মাধ্যমে (BJP)।

    পরিবর্তন যাত্রা

    পশ্চিমবঙ্গে এই পরিবর্তন যাত্রা আরও একটি বিশেষ কাজ করবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। বর্তমানে বাংলার রাজনীতির মেরুকরণ হয়ে গিয়েছে। একদিকে রয়েছে তৃণমূল এবং অন্যদিকে বিজেপি। এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমে তৃণমূল-বিরোধী ভোট এককাট্টা হবে এবং তা পদ্ম ঝুলিতে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ মানুষের মনে এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে পারে একমাত্র বিজেপি-ই। অন্যদিকে কংগ্রেস বা সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানে ভোট কেটে তৃণমূলের সুবিধা করা। তাই বিরোধী ভোট এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমে আসবে বলেই মনে করছেন অনেকে (Parivartan Yatra)।

    পটপরিবর্তনে বিজেপির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাত্রা

    আসুন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিজেপির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাত্রাগুলি সম্পর্কে ফের একবার জেনে নিই। রাম জন্মভূমি আন্দোলন নয়ের দশকের শুরুতে বিজেপির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। একাধিক পরিবর্তন যাত্রায় বিজেপির সংগঠন মজবুত হয়। একটা প্রান্তিক সংসদীয় দল থেকে বিজেপি জাতীয় শক্তিতে পরিণত হয়। এই আন্দোলন উত্তর ও পশ্চিম ভারতে দলের সংগঠন ও সমর্থক বাড়াতে সাহায্য করে। অযোধ্যা মামলা দীর্ঘদিন আদালতে চললেও, শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের পথ খুলে যায়। বিজেপির মতে, এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ফল (BJP)।

    ‘গুজরাট গৌরব যাত্রা’

    ২০২২ সালে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘গুজরাট গৌরব যাত্রা’ শুরু করেছিল। এটা ছিল বড় ধরনের প্রাক-নির্বাচনী প্রচার। মাত্র ১০ দিনে ১৮২টি কেন্দ্র ও প্রায় ৫,৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল সেই যাত্রা। এর ফলে বিজেপির আসন সংখ্যা ৯৯ থেকে বেড়ে ১৫৬ হয়। ভোটের হার ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৫২.৫ শতাংশ। গুজরাটের ইতিহাসে সেই প্রথম কোনও দল ৫০ শতাংশের গণ্ডি অতিক্রম করে (Parivartan Yatra)।

    ‘বিকাশ যাত্রা’

    ২০২৩ সালের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘বিকাশ যাত্রা’ এবং সেপ্টেম্বরে ‘জন আশীর্বাদ যাত্রা’ করেছিল। সব মিলিয়ে এই দুই যাত্রা অতিক্রম করেছিল ১০,৬৪৩ কিমি পথ। যাত্রা পৌঁছেছিল ২৩০টির মধ্যে ২১০টি আসনে। এর ফলে নির্বাচনে বিজেপির আসন ১০৯ থেকে বেড়ে ১৬৩ হয়। ভোটের হার ৪১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৪৮.৬ শতাংশ। মহিলাদের ভোট বাড়ে ৭–৮ শতাংশ। আদিবাসী আসন ১৬ থেকে ২৪ হয়। মালওয়া-নিমার অঞ্চলে আসন ২৭ থেকে বেড়ে হয় ৪৭টি (BJP)।

    ‘পরিবর্তন যাত্রা’

    ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ছত্তিশগড়ে পরাজয়ের পর বিজেপি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করে। দলের দাবি, এটি ছিল সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তৃণমূলস্তরের কর্মীদের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ। ১৬ দিনে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা হয়। নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ৫৪ হয় এবং ভোটের হার ৩৩ শতাংশ থেকে ৪৬.৩ শতাংশে গিয়ে পৌঁছয়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি।

    ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’

    ২০১৮ সালের পরাজয়ের পর বিজেপি রাজস্থানে ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ আয়োজন করেছিল। চার দফায় ২০ দিনে প্রায় ৯০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা হয়েছিল সেবার (Parivartan Yatra)। নির্বাচনে বিজেপির আসন ৭৩ থেকে বেড়ে হয়েছিল ১১৫টি। ভোটের হার ৩৯.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৪১.৬ শতাংশ। ক্ষমতায় আসে বিজেপি (BJP)।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং বাংলা দখলের চূড়ান্ত রণকৌশল। রাম জন্মভূমি আন্দোলন থেকে শুরু করে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ বা ছত্তিশগড়ের ঐতিহাসিক বিভিন্ন নজির প্রমাণ করে যে, যখনই বিজেপি এই ধরনের বৃহৎ আকারের যাত্রা করেছে, তখনই তা সফল হয়েছে। অতীতের রেকর্ড বলছে, বিজেপির এই যাত্রাই (Parivartan Yatra) বদলে দিয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের ভাগ্য। বঙ্গে বিজেপির ভাগ্যের চাকা ঘোরে কিনা, এখন সেটাই দেখার (BJP)।

     

  • Iran: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! ইরানে একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, পাল্টা তেহরানের

    Iran: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! ইরানে একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, পাল্টা তেহরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়ে গেল পূর্ণমাত্রার সংঘাত। শনিবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল (US Israel) একযোগে হামলা চালাল ইরানে (Iran)। ইরানজুড়ে একযোগে ৩০টিরও বেশি টার্গেটে আঘাত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের বাসভবন, সর্বোচ্চ নেতার দফতর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়। জবাবে তেল আভিভের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান।

    আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই কোথায় (Iran)

    ইরান জানিয়েছে, তেহরানের পূর্ব ও উত্তরাংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেই বসবাস করেন। যদিও সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, খামেনেইকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরান ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাবে’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হামলার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য হুমকি হতে পারে। ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, “অস্ত্র নামিয়ে রাখো, নইলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হবে।” এই নতুন হামলা ঘটল কয়েক মাস পর, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কাঠামোয় আঘাত হেনেছিল এবং গত বছরের জুনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেশজুড়ে ডজনখানেক টার্গেটে হামলা চালিয়েছিল।

    ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’

    ইজরায়েল জানায়, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামে একটি ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা শুরু করেছে। এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কয়েক মাস ধরে। হামলার তারিখও নির্ধারিত হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। ইরানে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, সর্বোচ্চ নেতার দফতর, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এবং পারচিন—যা ইরানের অন্যতম সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটি। প্রাথমিক চিত্রে তিন ধরনের টার্গেটের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমত, পশ্চিম ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি—বিশেষ করে কেরমানশাহ, কারাজ এবং খোররামাবাদ অঞ্চলে। এই এলাকাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। দ্বিতীয়ত, তেহরানের সরকারি ভবনগুলি। তৃতীয়ত, সন্দেহভাজন পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান—যেমন কোম ও বুশেহর (US Israel)।

    কী বলল আমেরিকা

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা আকাশ ও সমুদ্রপথে পরিচালিত হচ্ছে। আমেরিকা জানিয়েছে, হামলা কেবল ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেই কেন্দ্র করে হচ্ছে। হামলার খবর স্বীকার করে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেব। ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না (Iran)।” এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইজরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং জানায়, তাদের জবাব হবে “চূর্ণকারী”। তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কোম, কারাজ ও কেরমানশাহ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর (US Israel)। হামলার পর ইজরায়েল ও ইরান উভয়ই অসামরিক উড়ানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ইরান থেকে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

    ইরানে শহর ছাড়ার ধুম

    আধিকারিকরা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক দিনব্যাপী অভিযান চালাতে পারে। এদিকে তেহরানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীতে পেট্রোল পাম্পগুলিতে লম্বা লাইন পড়েছে। কারণ বহু মানুষ শহর ছাড়ার চেষ্টা করছেন (US Israel)। সর্বশেষ হামলার ঢেউ আগের টার্গেটভিত্তিক হামলার তুলনায় আরও বড় হতে পারে। এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “ইরানের অভ্যন্তরে তার সামরিক অভিযানের ফলে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটতে পারে (Iran)।” মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যেই ভারত ইজরায়েলে থাকা নাগরিকদের “সর্বোচ্চ সতর্কতা” অবলম্বন এবং নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই হামলা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন (US Israel)। পাশাপাশি তেহরানে খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন অভিযানে হাজার হাজার প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন (Iran)।

    একাধিক মার্কিন বেসে পাল্টা হামলা ইরানের

    আমেরিকার হামলার পাল্টা হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতার, কুয়েত ও জর্ডানের একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্যবস্তু ঘাঁটিগুলি হল— কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেস, কুয়েতের আল সালেম এয়ার বেস এবং জর্ডানের মুওয়াফাক আল-সালতি ঘাঁটি। এছাড়া, ইরান বাহরাইনে একটি মার্কিন নৌঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)-র আল-ধাফরা এয়ারবেসেও হামলা চালিয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানের পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের এই হামলার পর বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী আবু ধাবিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে।

  • কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের (Congress) ভোট চুরির অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শুক্রবার তিনি বলেন, “গত কয়েক দশক ধরে দলটি মানুষের সমর্থন হারাচ্ছে এবং মিলেনিয়ালরা বিরোধী দলকে শিক্ষা দিয়েছে, এবার জেন জেডও প্রস্তুত”। ‘রাইজিং ভারত সামিটে’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সরকারকেও নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, এই রাজ্য সরকারগুলি কেন্দ্রের কিছু কল্যাণমূলক প্রকল্প আটকে দিয়েছে।

    “শার্টলেস প্রতিবাদ” নিয়ে তোপ (PM Modi)

    এআই সামিট চলাকালীন ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের ‘শার্টলেস’ প্রতিবাদ নিয়ে তিনি কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “বিরোধী দল বিদেশি অতিথিদের সামনে শুধু পোশাকই খোলেনি, নিজেদের মতাদর্শগত দেউলিয়াপনাও প্রকাশ করেছে।” তাঁর অভিযোগ, আদর্শের নামে কংগ্রেস এখন শুধু বিরোধিতার টুলকিটে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেস ও তার মিত্ররা কখনও সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করেনি। গরিব মানুষের কষ্ট নিয়ে তাদের কোনও উদ্বেগ নেই (PM Modi)। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আজ পর্যন্ত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় সারা দেশে দরিদ্রদের জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। তামিলনাড়ুতে প্রায় ৯.৫ লক্ষ বাড়ি বরাদ্দ হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে ৩ লক্ষ বাড়ির নির্মাণ আটকে রয়েছে। “কেন? ডিএমকে সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না কেন?”

    ইন্ডি জোট

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে নির্বাচন হবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে কংগ্রেসের সঙ্গে ইন্ডি জোটের অংশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের প্রতিবাদে মানুষের ক্ষোভ বাড়ায় কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীকে সামনে আনার চেষ্টা করেছে। এআই সামিট ছিল দেশের গর্বের মুহূর্ত। কিন্তু দেশের প্রাচীনতম দল সেই অনুষ্ঠান কলঙ্কিত করতে চেয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, “পাপ ঢাকতে হলে কংগ্রেস (Congress) বাপুকে সামনে আনে, আর কৃতিত্ব নিতে হলে একটি পরিবারের নাম করে।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “কংগ্রেসের ভোট কেউ চুরি করছে না, বরং মানুষ আর তাদের যোগ্য মনে করছে না। ১৯৮৪-র পর থেকেই কংগ্রেসের ভোট কমতে শুরু করেছে। এখন মাত্র চারটি রাজ্যে তাদের ৫০-এর বেশি বিধায়ক রয়েছে।” এর পরেই তিনি বলেন, “প্রথমে মিলেনিয়ালরা শিক্ষা দিয়েছে, এখন জেন জেডও প্রস্তুত।” ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জাতি গঠন স্বল্পমেয়াদি চিন্তায় হয় না, এর জন্য প্রয়োজন বড় দৃষ্টি, ধৈর্য ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

    কংগ্রেসকে তোপ

    গণতন্ত্রে বিরোধিতা মানে অন্ধ বিরোধিতা নয়, বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস সব ভালো কাজেরই বিরোধিতা করে, যেমন নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ বা অশোক স্তম্ভের সিংহ প্রতীক (PM Modi)।” তিনি জানান, বিদেশি জাহাজে পণ্য পরিবহণে বছরে ৬ লাখ কোটি টাকা, সার আমদানিতে ২.২৫ লাখ কোটি টাকা এবং পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ১১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই অর্থ আত্মনির্ভরতার পথে আগে বিনিয়োগ করা হলে দেশ আরও শক্তিশালী হত। তিনি বলেন, “দেশীয় জাহাজ ও বন্দর পরিকাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে, সারের উৎপাদন বাড়াতে নয়া কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে, ন্যানো ইউরিয়া, ইথানল মিশ্রণ, গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন, সৌর শক্তি ও ইলেকট্রিক মোবিলিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে (Congress)।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারতে উৎপাদন বাড়ালে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমদানি নয়, রফতানির কথা বলবে। দূরদর্শিতার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমই ২০৪৭ সালের আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ ভারতের ভিত্তি।”

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্ক

    তিনি জানান, তাঁর সরকার ভারতকে বিশ্বের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনে পরিণত করছে এবং উন্নত দেশগুলি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী।ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে জনধন-আধার-মোবাইল ‘ত্রয়ী’ এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ২৪ লাখ কোটি টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারত এখন সৌর শক্তিতে অগ্রণী, রেলব্যবস্থা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ভারত শুধু অনুসারী নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণেও অংশীদার। দেশের নিজস্ব এআই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।” তিনি জানান, কৃষিখাতে ২৮ লাখ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং পিএম-কিষান প্রকল্পে ৪ লাখ কোটিরও বেশি টাকা সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটাই সঠিক সময়। আমাদের রুটিন কাজ নয়, বিশ্বমানের কাজ করতে হবে (Congress)।”

     

  • India US Trade Deal: সময়ের ফের! ভারতকে কটাক্ষ করা ট্রাম্প সহযোগী লুটনিক ‘লুকিয়ে’ এলেন নয়াদিল্লিতে, কেন জানেন?

    India US Trade Deal: সময়ের ফের! ভারতকে কটাক্ষ করা ট্রাম্প সহযোগী লুটনিক ‘লুকিয়ে’ এলেন নয়াদিল্লিতে, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে সময়ের ফের! শুল্ক-যুদ্ধের সময় ভারতকে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই সহযোগী হাওয়ার্ড লুটনিক চুপিসারে এসেছেন ভারত সফরে। অথচ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সচিব বড় মুখে দাবি করেছিলেন— “শেষ পর্যন্ত ভারত শুল্কের চাপে নতি স্বীকার করবে, দুঃখপ্রকাশ করবে এবং একটি চুক্তি করার চেষ্টা করবে।” সেই ছবিটাই বদলে গেল ২৬ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার লুটনিকই দিল্লিতে এসে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেন, ঠিক সেই সময় যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দেয় (India US Trade Deal)।

    লুটনিকের সফর (India US Trade Deal)

    এই গোপন বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত—কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি। আদালতের রায়ের পর প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি, যা আগামী মাসে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়েল টুইট না করা পর্যন্ত ভারতে লুটনিকের সফরের খবর জানা যায়নি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কিন দূত সার্জিও গোর। গোয়েল টুইট করেন, “মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক ও সার্জিও গোরকে আতিথ্য জানালাম। আমাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।” তবে বৈঠকের বিস্তারিত তিনি জানাননি। কিন্তু “বাণিজ্য” ও “অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব” শব্দের উল্লেখ থেকেই স্পষ্ট যে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি। তিন নেতাই ছবির জন্য পোজ দেওয়ার সময় হাসিমুখে ছিলেন। গয়ালের হাসি যেন একটু বেশিই চওড়া ছিল। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে আলোচনা শান্ত পরিবেশেই হয়েছে। গোরও বেশি কিছু জানাননি। তিনি টুইট করেন, “আমাদের দুই দেশের জন্য বহু সহযোগিতার ক্ষেত্র রয়েছে। হাওয়ার্ড লুটনিক ও পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ মধ্যাহ্নভোজ।”

    পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলেছে

    লুটনিকের সফরের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। খুব বেশিদিন আগে নয়, এক পডকাস্টে তিনি দাবি করেছিলেন যে— ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি গত বছর বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ প্রধানমন্ত্রী মোদি সরাসরি ট্রাম্পকে ফোন করতে অস্বীকার করেছিলেন। এখন পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলেছে, কারণ ট্রাম্পের প্রভাব কমেছে। শুল্ক সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা বেশ কয়েকটি দেশ নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। কারণ ট্রাম্প এই পারস্পরিক শুল্ককে চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতও ওয়াশিংটনে নির্ধারিত তার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর স্থগিত করেছে, যা চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ছিল। ভারতের জন্য আদালতের এই আদেশ কার্যত নতুন করে দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি করেছে এবং সম্ভবত আরও অনুকূল শর্ত আদায়ের পথ খুলে দিয়েছে (India US Trade Deal)।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। বুধবার তিনি ভারত-সহ অন্যান্য দেশকে “খেলা” না করার এবং বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে না আসার সতর্কবার্তা দেন। ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “যে কোনও দেশ যদি এই সুপ্রিম কোর্টের হাস্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলা করতে চায়—বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর, এমনকি দশকের পর দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়েছে—তাহলে তারা সম্প্রতি যে শুল্কে সম্মত হয়েছে তার চেয়েও অনেক বেশি শুল্ক এবং তার চেয়েও খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে।” বর্তমানে ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে। প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ  করেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণভাবে, রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও তিনি তুলে নিয়েছিলেন (India US Trade Deal)। তবে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসবে না, বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এই প্রেক্ষাপটেই লুটনিকের নীরব সফর। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কি ফের আলোচনা হবে? উত্তর দেবে সময়ই।

     

LinkedIn
Share