Tag: Dengue

Dengue

  • West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অগাস্ট মাসেই বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এলাকার অবস্থা বিশ্লেষণ করে, রোগ মোকাবিলা করতে না পারলে, বিপদ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট অব্যাহত। বিশেষত কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বাড়তি সক্রিয়তা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যবাসীকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুত করাও হচ্ছে।

    কোথায় বাড়তি বিপদ?

    স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।
    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও ডেঙ্গি ক্রমশ বাড়ছে।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলা হল মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় গত বারো দিনে এক হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের পরেই ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা হিসাবে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। কলকাতায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৬০০ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। এই জেলায় চলতি মাসে প্রায় ৫৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নদিয়া। এই জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাসে নদিয়া জেলায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
    বিপদ বাড়ছে মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই এই চার জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার জেরে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন।

    পরিস্থিতি কখন বাড়তি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

    ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে রাজ্য জুড়ে বিপদ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
    তাঁরা জানাচ্ছেন, জ্বর কমার পরেই ডেঙ্গি বাড়তি বিপদ তৈরি করে। ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম সবচেয়ে বেশি গুরুতর হয়ে যায় ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরের তাপ স্বাভাবিক হওয়ার পরে। তাই ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি নজরদারি না রাখলেই, মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে সব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হচ্ছে, সেখানে জনসচেতনতা আরও বেশি জরুরি। মশাবাহিত রোগ রুখতে সমস্ত রকমের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আশপাশ পরিষ্কার রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সামান্য জ্বর হলেও দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে, রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।
    দ্বিতীয় বার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাঁর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথমের তুলনায় দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গি বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই যাদের একবার ডেঙ্গি সংক্রমণ হয়েছে, এই মরশুমে, তাদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। সংক্রমণ হলে, জ্বর কমলে তারপরে পেটে ব্যথা করছে কিনা, মল-মূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক হচ্ছে কিনা, বমি পাচ্ছে কিনা, এই দিনগুলোতে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করে। এই উপসর্গগুলো জানান দেয়, শরীরে ডেঙ্গি কতখানি প্রভাব ফেলেছে। আগাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, প্রাণ সংশয়ও তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই সচেতনতা জরুরি। মশার বংশবিস্তার আটকাতে পারলে, তবেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই জমা জল পরিষ্কার করতেই হবে। চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। বাড়ির ছাদ এবং বাগানে আবর্জনা রাখা চলবে না। টবে জল জমেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। নিয়মিত বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে নজর দিতে হবে। এর পাশপাশি এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়লে, প্রশাসনকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। তথ্য জানাতে হবে। যাতে প্রশাসনের কাজে সুবিধা হয়।
    তবে একাধিকবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে পরিস্থিতি কখনওই বিপজ্জনক হয়ে না‌ ওঠে। সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের জন্য বাড়তি সচেতনতা জরুরি। কারণ স্কুল থেকে অধিকাংশ সময়ে শিশুরা ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকেও ডেঙ্গি নিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

  • Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আক্রান্ত বাড়ছে। প্রশাসন সক্রিয়। স্বচ্ছ ভাবেই ডেঙ্গি মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে, প্রশাসনের পাশাপাশি ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ রুখতে সাধারণ মানুষের সাহায্য সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে কয়েকটি অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরের ডেঙ্গি আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট, সেপ্টেম্বর মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়। তবে অক্টোবরেও ডেঙ্গি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তবে, ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে মৃত্যু মিছিল কমাতে হলে, সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বর্ষার মরশুমে জল জমে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বছরের এই সময়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সব মিলিয়ে মশার বংশবিস্তার এই সময়ে সবচেয়ে বেশি‌ হয়। তাই মশাবাহিত রোগের দাপট বছরের এই সময়ে বাড়ে। সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে, তার প্রকোপ বাড়ে। তাই সেপ্টেম্বরে বাড়তি গুরুত্ব।

    সেপ্টেম্বরে মশার বংশবিস্তার কমাতে পারলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি সংক্রমণ আটকানোর দিকেও নজর দিতে হবে। ডেঙ্গি মোকাবিলার দুই অস্ত্র জরুরি। একদিকে মশার বংশবিস্তার কমাতে হবে, আরেকদিকে, রোগের সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ, এই দুই করতে পারলেই ডেঙ্গি প্রতিরোধ সহজ হবে। এই মাসে সেই দুই দিকেই প্রশাসন সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তাহলে, রোগ ছড়াতে পারবে না। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা কমবে এবং মৃত্যু মিছিল আটকানো‌ যাবে।

    কোন পাঁচ অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জল জমা কিংবা এলাকার অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে যেমন সচেতনতা জরুরি, তেমনি আরও কয়েকটি অভ্যাসে নজর দিতে হবে।

    পোশাকে বাড়তি নজরদারি!

    ডেঙ্গি রুখতে পোশাক খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মশার কামড়ের জেরেই ডেঙ্গির ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তাই হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক এই সময়ে পরে থাকা জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, ডেঙ্গি রুখতে শিশুদের পোশাক নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুরা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়। তাই শিশুরা যাতে, ডেঙ্গির কবল থেকে বাঁচে, সেদিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। বিশেষত বিকেলে পার্কে বা বাগানে খেলতে যাওয়ার সময় হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরাতে হবে। যাতে মশা কামড়ানোর সুযোগ কমে। রাতে ঘুমোনোর সময়েও হাত-পা ঢাকা‌ পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    মশারি টাঙানোর অভ্যাস!

    আধুনিক শহুরে বাঙালির অনেকেই মশারি টাঙানোর অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো রোগ থেকে বাঁচতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস থাকা জরুরি। ঘুমের মধ্যে যাতে মশা না কামড়ায়, সেই জন্য নিয়মিত রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশপাশি বাড়িতে সদ্যোজাত থাকলে, নবজাতক শিশুকে দিনের অধিকাংশ সময় মশারির‌ ভিতরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মশা দিনের বেলায় দাপট বেশি দেখায়। তাই নবজাতক শিশুদের দিনের বেলাতেও মশারির ভিতরে রাখতে পারলে ভালো হয়।

    জানলা খোলা ও বন্ধের সময়ে নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি রুখতে ঘরের জানলা কখন খোলা আর বন্ধ করা হবে, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। বাড়ির আশপাশে পুকুর বা বাগান থাকলে জানলা খোলা নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। দিনের বেলা, সূর্যের আলোয় ঘরের জানলা খোলা রাখা যেতেই পারে। কিন্তু বিকেলের পরে জানলা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাহলে ঘরের ভিতরে মশার দাপট কমবে।

    বাড়ির শৌচলায় এবং ছাদ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা!

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রশাসন বাড়ির ভিতরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে পারবে না। সে নিয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। তাই নিজের বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং শৌচালয় নিয়ে সজাগ থাকতে হবে। অনেকেই বাড়ির চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখেন। এই মাসে সেই কাজ করলে বিপদ বাড়বে। মশার বংশবিস্তার কমাতে নিয়মিত চৌবাচ্চা পরিষ্কার করতে হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির পরে ছাদে জল জমে থাকছে কিনা, সে দিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রত্যেক সপ্তাহে ছাদ পরিষ্কার করতে হবে। অনেকেই বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় বাগান করেন। আবার কলকাতা সহ একাধিক শহরে ছাদে বাগান করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই বাগানের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়তি সক্রিয় থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, টবে জমা জল থাকছে কিনা দেখতে হবে। আগাছার জন্য মশার বংশবিস্তার হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। বাগানে নিয়মিত মশানিধন তেল ও স্প্রে দিতে হবে।

    আক্রান্তের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ!

    ডেঙ্গি সংক্রমণ রুখতে সবচেয়ে জরুরি আক্রান্তকে চিহ্নিত করা এবং তাঁর আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা। পাশপাশি তাঁর পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা সেটা দ্রুত নিশ্চিত করা। আর এই সব কিছুতেই সাধারণ নাগরিকদের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা জরুরি। তবেই কোথায় ডেঙ্গি সংক্রমণ কতখানি গুরুতর, সেটা স্পষ্ট হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ টানা তিন দিন জ্বরে আক্রান্ত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা জরুরি। আবার রোগ নিশ্চিত হলে তাঁকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গি আক্রান্তকে আলাদা ঘরে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে। যাতে তাঁর থেকে অন্যদের শরীরে সহজে সংক্রমণ না ছড়াতে পারে। ডেঙ্গি আক্রান্তের তথ্য প্রশাসনকেও জানানো জরুরি। যাতে এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও মশানিধন নিয়ে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয় হতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Kolkata Dengue Malaria: রাজ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জোড়া হানা! কলকাতা-সহ ৬ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ, বড় পদক্ষেপের পথে সরকার

    Kolkata Dengue Malaria: রাজ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জোড়া হানা! কলকাতা-সহ ৬ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ, বড় পদক্ষেপের পথে সরকার

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি! তবে একা ডেঙ্গি নয়! কলকাতা ও তার আশপাশের জেলায় মশাবাহিত জোড়া রোগ, ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রমণে প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে। তাই বাড়তি সক্রিয়তার পথে হাঁটছে প্রশাসন। আজ, মঙ্গলবার, প্রশাসনের শীর্ষ মহলের জরুরি বৈঠক হতে চলেছে! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পরামর্শ করে এবার ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে কয়েকটি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য দফতর।

    কেন প্রশাসনের উদ্বেগ?

    বছরের এই মরশুমে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসেই রাজ্যে ভেক্টর বোর্ন ডিজিজের প্রকোপ বাড়ে। অর্থাৎ, বিভিন্ন পতঙ্গ বাহিত রোগের দাপট বাড়ে। বিশেষত মশাবাহিত রোগের প্রকোপে জেরবার হয় বঙ্গবাসী। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম নয়। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, কলকাতা, হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়া। তাই সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই প্রশাসন কড়া হাতে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। অক্টোবর মাসে ডেঙ্গির দাপট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমাতে তাই সবরকম প্রশাসনিক পরিকল্পনা জরুরি। সেটা আগাম না করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই ডেঙ্গি রুখতে বিশেষ বৈঠক হবে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, অগাস্ট মাসে রাজ্যে নতুন করে ১০০০ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা গিয়েছে কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ এবং দুই চব্বিশ পরগনায়। ইতিমধ্যে ৭ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু তালিকায় রয়েছে ১১ বছরের স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়! আর এই মৃত্যু মিছিল রুখতেই প্রশাসনের বাড়তি সক্রিয়তা। ডেঙ্গির পাশপাশি কলকাতার কসবা, যাদবপুর, শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, কলেজ স্ট্রিট সহ একাধিক এলাকায় ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনক। আবার হাওড়াতেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা জানান, কলকাতায় একসঙ্গে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত একাধিক কেস পাওয়া যাচ্ছে। এক ব্যক্তি একসঙ্গে এই দুই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তখন পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে যায়।

    ডেঙ্গি রুখতে কী নয়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার?

    ডেঙ্গি রিভিউ মিটিংয়ে সমন্বয়ে জোর দেওয়া হতে পারে!

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের সঙ্গে ডেঙ্গি নিয়ে রিভিউ মিটিং করবেন। বিশেষত কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার এলাকাগুলো নিয়ে বাড়তি জোর দেওয়া হবে। কারণ এই দুই এলাকাতেই গত এক মাসে ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় জোড়া দাপট বেশি দেখা গিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তাদের পাশপাশি বৈঠকে অন্যান্য বিভাগের কর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। যাতে ডেঙ্গি রুখতে সমস্ত বিভাগের মধ্যে ঠিকঠাক সমন্বয় থাকে। কোনো রকম জটিলতা তৈরি না হয়‌।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই পরিকল্পনা!

    চলতি বছরে ডেঙ্গি কতখানি ভয়ানক হতে পারে সে নিয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানাচ্ছেন প্রশাসনের একাংশ। এক কর্তা জানান, ২০২৩ সালে এই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ডেঙ্গি পরিস্থিতি হয়েছিল। চলতি বছরে এই মশাবাহিত রোগ কতটা দাপট বাড়াতে পারে, সে সম্পর্কে আগাম ধারনা করা জরুরি। তাই এই বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন। তাঁরা রোগ ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্রশাসনকে রোগের দাপট সম্পর্কে একটা ধারনা দেবেন। তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হবে।

    বাড়ি-বাড়ি নজরদারিতে বাড়তি গুরুত্ব!

    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে বাড়ি বাড়ি নজরদারির উপরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এলাকার কোথায় জল জমেছে, কোথায় মশাবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে, সে সম্পর্কে সমস্ত তথ্য থাকা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
    এলাকায় ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগে কে কে আক্রান্ত হচ্ছেন, সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য থাকা প্রয়োজন। সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই পুর কর্মীরা নিজেদের এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করবেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। যাতে জ্বর হলে তাঁদের কাছে তথ্য থাকে। ডেঙ্গি সংক্রমণের খবর থাকলে, সেই এলাকায় বাড়তি নজর দেওয়া হবে। যাতে রোগ ছড়িয়ে না পড়ে। সংক্রমণ দ্রুত আটকানো সম্ভব হয়।
    স্বাস্থ্য ভবনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, ডেঙ্গি টিকা এলেও চলতি বছরে নানান আইনি জটিলতার জন্য সেই টিকা করণ সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রচলিত পদ্ধতিতেই ডেঙ্গি মোকাবিলা হবে। প্রশাসন সক্রিয় থাকবে। এলাকার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া হবে আবার জনসচেতনতাতেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

  • Dengue: নিপা ভাইরাসের মাঝেই রাজ্যে দাপট ডেঙ্গির! তীব্র শীতেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    Dengue: নিপা ভাইরাসের মাঝেই রাজ্যে দাপট ডেঙ্গির! তীব্র শীতেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নিপা সংক্রমণ (Nipah Virus) নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।‌ রাজ্যের একাধিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীদের শারীরিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নিপা ভাইরাস আক্রান্ত নার্সের শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।‌ তারমধ্যেই বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে ডেঙ্গি (Dengue)। এমনটাই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, জানুয়ারি মাসে রাজ্য জুড়ে শীতের দাপট অব্যহত ছিল। কিন্তু এই আবহাওয়াতেও ডেঙ্গি তার উপস্থিতি জানান দিয়েছে। মশাবাহিত এই রোগ থেকে রাজ্যবাসীর রেহাই নেই। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    নতুন বছরে ডেঙ্গি পরিস্থিতি কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হয়েছে। শুধুমাত্র কলকাতাতেই ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩১৬ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতাতে ১ হাজার ৭৩৮ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, হুগলি এবং হাওড়াতেও এক রকম ভাবে ডেঙ্গি সংক্রমণ বেড়েছিলো। নতুন বছরে অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গোটা রাজ্যে প্রায় শতাধিক মানুষ নতুন করে ডেঙ্গি আক্রান্ত (West Bengal Dengue Cases) হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে ডেঙ্গি থেকে রেহাই পাওয়ার আশা করা যায়। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি অন্যরকম। জানুয়ারি মাসে রাজ্যে শীতের ঝড়ো ব্যাটিং চললেও ডেঙ্গির দাপট কমেনি। কারণ রাজ্যের একাধিক জায়গায় ঠিকমতো মশানিধন প্রক্রিয়া হয়নি। তাই শীতের মরশুমেও রাজ্যবাসী মশাবাহিত রোগে কাবু হচ্ছেন।

    নিপা ভাইরাসের আবহে কেন ডেঙ্গি বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রাজ্যে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। নিপা ভাইরাসের আক্রান্তের মৃত্যু হার অনেক বেশি। সুস্থ হলেও আক্রান্তের শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি বাড়তি বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি আক্রান্ত নিপা ভাইরাসে সংক্রামিত হলে তাঁর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আবার ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরে নিপা ভাইরাস সংক্রামিত হলে, ভাইরাসের প্রকৃতি পরিবর্তনও ঘটতে পারে। সেই পরিবর্তন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মহল একেবারেই ওয়াকিবহাল নন। ফলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা কিংবা ডেঙ্গি, এই দুই সংক্রমণের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। ফলে চিকিৎসা খুবই জটিল। মৃত্যু আটকানোও কঠিন। তাই এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে যাতে সংক্রামক রোগ দাপট বাড়াতে না পারে‌ সেই নিয়ে সব মহলের তৎপরতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কী বলছেন স্বাস্থ্য কর্তারা?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি মোকাবিলায় জানুয়ারি মাস থেকেই নানান পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা নজরদারি করবেন। এলাকায় জল জমছে কিনা, অপরিচ্ছন্ন আছে কিনা সেদিকে নজরদারি চালানো‌ হবে। আবার, নিপা নিয়েও সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার করা হয়েছে, যাতে খেজুর রস না খাওয়া হয়। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা কিংবা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। আবার ডেঙ্গি হচ্ছে কিনা সে নিয়েও খোঁজ রাখা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি প্রচার করা হচ্ছে।

    যদিও চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি রুখতে বছরভর প্রচার কর্মসূচির কথা ঘোষণা করলেও রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণে নেই, তা জানান দিচ্ছে পরিসংখ্যান। তাই ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা অধিকাংশ জেলায় বেড়েছে। নতুন বছরে জানুয়ারি মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শুধু সচেতনতা প্রসার নয়। সংক্রামক রোগ রুখতে প্রশাসনিক সক্রিয়তাও সমানভাবে জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

  • Dengue in Bengal: বর্ষা আসতে না আসতেই রাজ্যে ডেঙ্গির চোখরাঙানি! কোথায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    Dengue in Bengal: বর্ষা আসতে না আসতেই রাজ্যে ডেঙ্গির চোখরাঙানি! কোথায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ চড়লেও আকাশে মেঘ জমেছে! মাঝেমধ্যেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। বর্ষা (Monsoon) আসছে! আবহাওয়া দফতর জানান দিয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গেই ডেঙ্গির চোখরাঙানি (Dengue) শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে ফের ডেঙ্গির দাপট (Dengue in Bengal) শুরু হতে পারে। তাই আগাম বাড়তি সতর্কতা জরুরি। রাজ্যবাসীর ভোগান্তি কমাতে এখন থেকেই বাড়তি তৎপরতা (Dengue Precautions) প্রয়োজন। না হলে বিপদ মারাত্মক হতে পারে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতর?

    রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর (West Bengal Health Department) সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের একাধিক জেলায় বর্ষা (Monsoon Season) শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা গিয়েছে। বৃষ্টি বাড়লে প্রকোপ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে রাজ্যে অগাস্ট-সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এই তিন মাসে ডেঙ্গি সবচেয়ে বেশি দাপট দেখিয়েছে। বিশেষত সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে ব্যাপকভাবে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তাই অন্তত জুন-জুলাই থেকেই বাড়তি সতর্কতা জরুরি (Dengue Precautions)। বর্ষার শুরু থেকেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় সক্রিয় হলে, বিপদ মোকাবিলা সহজ হবে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    রাজ্যের কী পরিস্থিতি?

    স্বাস্থ্য দফতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের (Dengue in Bengal) সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বর্ষা শুরুর আগেই হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, হুগলি এবং মুর্শিদাবাদের ডেঙ্গি পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত হাওড়ায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৯০ জন। উত্তর চব্বিশ পরগনায় কমবেশি ১৬০ জন। হুগলিতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ১৩৫ জন। মুর্শিদাবাদে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ১২০ জন। ডেঙ্গির চোখরাঙানি থেকে বাদ নেই কলকাতাও। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলকাতাতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯ জন। এছাড়াও, বর্ধমান, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া জেলার পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশ।

    কীভাবে ডেঙ্গি মোকাবিলা করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সরকারের তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের সতর্কতা ডেঙ্গি মোকাবিলা সহজ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গি মোকাবিলায় এলাকা (Dengue in Bengal) পরিষ্কার সবচেয়ে জরুরি। মশার আঁতুরঘর ভাঙতে না পারলে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়বে। তাই এলাকার পার্ক, রাস্তা এমনকি আবর্জনা ফেলার জায়গাও পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জল জমতে দেওয়া চলবে না। বাড়ির ছাদে, বাগানে কিংবা এলাকার পার্কে আগাছা জন্মালে পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষত যারা ছাদে বা বারন্দায় বাগান করেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ, টবে যাতে জল না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্থির জলে ডেঙ্গি মশা বেশি জন্মায়। তাই টব কিংবা ফুলদানির মতো জায়গায় জল জমলে ডেঙ্গির মশার প্রকোপ বাড়ার ঝুঁকিও (Dengue Risks) বেশি। বাড়িতে চৌবাচ্চা থাকলে সেখানেও সাত দিনের বেশি জল যাতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গি মোকাবিলায় নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সংক্রমণ রুখতে ডেঙ্গির উপসর্গ সম্পর্কেও সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, তিন দিন লাগাতার জ্বর-সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি (Dengue in Bengal)। ডেঙ্গি হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তাহলেই সংক্রমণ রুখতে সহজ হবে। রোগীর দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে বড় বিপদ এড়ানোও সহজ হবে। পরিবারের কোনো সদস্য ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাকে অবশ্যই আলাদা ঘরে রাখতে হবে। মশারি টাঙিয়ে রাখা জরুরি। বাড়ির অন্য সদস্যদের যাতে ডেঙ্গি (Dengue Precautions) না হয়, সেটা খেয়াল রাখতে বাড়তি তৎপরতা প্রয়োজন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Dengue: শীতেও দাপট কমেনি ডেঙ্গির! কাদের ঝুঁকি বেশি? কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    Dengue: শীতেও দাপট কমেনি ডেঙ্গির! কাদের ঝুঁকি বেশি? কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বর্ষায় প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু তাপমাত্রার পারদ নামলে শক্তি ক্ষয় হয়, দাপটও কমে। এমনটাই গত কয়েক বছর হয়ে এসেছে। কিন্তু এই বছরের ছবি বেশ ব্যতিক্রম। রাজ্যে শীত জাঁকিয়ে বসছে। কিন্তু তারপরেও কমছে না ডেঙ্গির (Dengue) প্রকোপ। বরং ডেঙ্গি সংক্রমণের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে শুধু কলকাতাতেই প্রায় ৩৫০ জনের ডেঙ্গি রিপোর্ট পজিটিভ হয়েছে। নদীয়া, মুর্শিদাবাদের মতো জেলার পরিস্থিতি আরও ভয়ানক। চলতি বছরে রাজ্যের সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলা মুর্শিদাবাদ। ওই জেলার সর্বশেষ রিপোর্ট উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে শুধু মুর্শিদাবাদ জেলাতেই প্রায় পাঁচশোর বেশি মানুষ ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরে মুর্শিদাবাদ জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। নদীয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলির পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সূত্রের খবর, শীতেও রাজ্যের সর্বত্র ডেঙ্গির মারাত্মক প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। চলতি বছরে রাজ্যে কয়েক লাখ মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। চলছে মৃত্যু মিছিল। অন্যান্য বছরে শীতে ডেঙ্গির দাপট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু চলতি বছরে ডেঙ্গির দাপট অব্যাহত।

    কাদের ঝুঁকি বাড়ছে? (Dengue)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই ডেঙ্গি আক্রান্ত উপসর্গহীন হচ্ছেন‌। আর তার ফলেই বিপদ বাড়ছে। প্রথম থেকেই জ্বর কিংবা গায়ে-হাতে-পায়ে ব্যথা বা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে না। সামান্য সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। কিন্তু তারপরেই হঠাৎ বমি বা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। তাই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষত শিশুদের জন্য এই ধরনের উপসর্গহীন ডেঙ্গি আরও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    শীতেও (Winter) মশার দাপট চলছে। তাই ডেঙ্গির প্রকোপ অব্যাহত। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মশা নিধনে সক্রিয়তা না থাকলে ডেঙ্গির প্রকোপ কমানো যাবে না। তাই দরকার সচেতনতা।‌ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাই ডেঙ্গি (Dengue) মোকাবিলার প্রথম ও প্রধান অস্ত্র। নিজের বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। জমা জল একেবারেই রাখা চলবে না। আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। এলাকার বাগান কিংবা পার্ক থাকলে, সেগুলো পরিষ্কারে বাড়তি নজর দিতে হবে‌। পাশপাশি স্কুল কিংবা অফিস চত্বর পরিষ্কার রাখার দিকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় হতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত মশা নিধন স্প্রে দেওয়া জরুরি। নিকাশি ব্যবস্থাও পরিষ্কার থাকা দরকার। মশা বাহিত রোগ মোকাবিলার জন্য দরকার সতর্কতা। তবে সাধারণ সর্দিকাশির উপসর্গের আড়ালেও হানা দিচ্ছে ডেঙ্গি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা দ্রুত করা দরকার বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ রোগ প্রথমেই চিহ্নিত করতে পারলে বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে। পাশপাশি সংক্রমণ রুখতেও সুবিধা হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Dengue: রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গি, ২ দিনে মৃত্যু তিনজনের, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১ হাজার!

    Dengue: রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গি, ২ দিনে মৃত্যু তিনজনের, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১ হাজার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নভেম্বরের শেষেও ভয় ধরাচ্ছে ডেঙ্গি (Dengue)। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজ্যে বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ। সূত্রের খবর, গত দু’দিনে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ডেঙ্গির সংক্রমণে এক স্বাস্থ্য কর্মী-সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, বেসরকারি সূত্রের খবর, চলতি মাসে অন্তত পাঁচ-ছ’জনের ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। সূত্রের খবর, ডেঙ্গির সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে গড়িয়ার এক বাসিন্দার। তিনি স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী। এছাড়াও বেলেঘাটা আইডিতে ডেঙ্গির সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি থাকা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দুই রোগীরও মৃত্যু হয়েছে। জেলায় জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। যা চরম আতঙ্কের।

    রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কত?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সপ্তাহে রাজ্যে ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। এর আগে গত ৯ নভেম্বর কলকাতার জোড়াবাগান থানা এলাকায় ডেঙ্গির সংক্রমণে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গির। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরেও। যেহারে মশার উপদ্রব বাড়ছে তাতে সংক্রমণের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে চলতি বছরে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এর মধ্যে গত ১৯ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর- এক সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যের প্রায় এক হাজার মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। 

    ২ সপ্তাহে আক্রান্ত ২ হাজার!

    রাজ্যে শেষ ২ সপ্তাহে নতুন করে ডেঙ্গিতে (Dengue) আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় চার হাজার জন। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন ২৩ হাজার ২২৭ জন। উদ্বেগের বিষয়, তারপর ৪ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত, মাত্র ১৪ দিনে সেই সংখ্যাটাই বেড়ে হয়েছে ২৭ হাজার ১৪২। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে টেস্ট করানোর পর ডেঙ্গি পজিটিভ হয়েছেন ২১ হাজার ২০৯ জন। বেসরকারি হাসপাতাল এবং ল্যাব থেকে ডেঙ্গি টেস্টের পর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে ৫ হাজার ৯৩৩ জনের।

    গত চার মাসের আক্রান্তের পরিসংখ্যান

    স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, গত জুলাই মাসে রাজ্যে ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্ত হন ১ হাজার ৮৮৮ জন। অগাস্টে আক্রান্ত হন ৪ হাজার ৫১৬ জন। সেপ্টেম্বরে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ১৯৯। অন্যদিকে, অক্টোবরে নতুন করে আক্রান্ত হন ৭ হাজার ৫১ জন এবং নভেম্বরের ১৮ তারিখ পর্যন্ত ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ২২৩ জন।

    সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত মুর্শিদাবাদে

    এর মধ্যে সব থেকে বেশি ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্ত হয়েছে মুর্শিদাবাদে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ১৪৭। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালদা, এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৩৩৩। পাশাপাশি, ২ হাজার ২৭৮ জন আক্রান্ত হওয়ায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এই তালিকাতে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে কলকাতা। এখানে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৭৩ জন। শীত বাড়লে কমতে পারে ডেঙ্গির প্রকোপ, এমন মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আরও পড়ুন: দক্ষিণ ভারতে ধেয়ে আসছে ‘ফেনজল’, ল্যান্ডফল বিকেলেই, কলকাতায় মেঘলা আকাশ

    ম্যালেরিয়ার উপদ্রবও

    ডেঙ্গির (Dengue) পাশাপাশি ম্যালেরিয়ার উপদ্রবও দেখা দিয়েছে রাজ্যের ৮টি জেলায়। এর মধ্যে রয়েছে আলিপুরদয়ার, মালদা, দিনাজপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বিষ্ণপুর স্বাস্থ্য জেলা। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর আগে পুজোর সময় ডেঙ্গির পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া নিয়েও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, পুজোর আগে থেকেই মালদা, মুর্শিদাবাদের একাংশে অজানা জ্বরের উপদ্রব দেখা দিয়েছিল। জ্বরের সঙ্গে মাথা ধরা, অসহ্য হাতে পায়ে ব্যথা। তবে প্রথমের দিকে অনেকেই এটিকে সাধারণ জ্বর ভেবেছিলেন। কিন্তু কারও কারও দু’সপ্তাহ পরেও জ্বর বা মাথা ব্যথার প্রকোপ না কমায় নতুন করে ব্লক স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে আক্রান্তদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তখনই জানা যায়, সাধারণ কোনও জ্বর নয়, গ্রামের অনেকেই চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। ফলে মশাবাহিত মারণ রোগের মোকাবিলায় শুরু হয়েছে মশা নিধন পর্ব। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জোর দেওয়া হয়েছে সচেতনতা প্রচারেও।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Dengue: পুজো কাটতেই জেলায় জেলায় চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি-চিকুনগুনিয়া! উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মালদা-মুর্শিদাবাদ

    Dengue: পুজো কাটতেই জেলায় জেলায় চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি-চিকুনগুনিয়া! উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মালদা-মুর্শিদাবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজো মিটতেই রাজ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গির প্রকোপ। ফলে বাড়ছে চিন্তা। জেলায় জেলায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি (Dengue) পরিস্থিতি। গত বছরের তুলনায় এবার রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও, এমন কয়েকটি জায়গায় সংক্রমণ বেড়েছে, যেখানে আগে এই হারে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়েনি। সবথেকে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদে। তালিকার ৭ নম্বরে রয়েছে কলকাতা। তবে একা ডেঙ্গি নয়, দোসর হিসেবে উপস্থিত চিকুনগুনিয়াও। ভয় ধরানো খবর এল মালদা থেকে।

    কোন জেলায় কত আক্রান্ত? (Dengue)

    স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৩। সবথেকে বেশি সংক্রমণ মুর্শিদাবাদে। আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৩২১। এরপরই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই জেলায় ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৬৩ জন। সংক্রমণের নিরিখে তিন নম্বরে মালদা। আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৯০৪। অক্টোবর পর্যন্ত তালিকায় সাত নম্বরে থাকা কলকাতায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩১।

    আরও পড়ুন: ভোটে কারচুপি মার্কিন মুলুকে! ট্রাম্পের অভিযোগে শোরগোল আমেরিকায়

    কোন কোন এলাকায় মৃত্যু?

    গত বছরের তুলনায় এবার রাজ্যে আক্রান্তের (Dengue) সংখ্যা কম হলেও, এমন কয়েকটি জায়গায় সংক্রমণ বেড়েছে, যেখানে আগে এই হারে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়েনি। বিশেষজ্ঞদের কপালে ভাঁজ ফেলছে বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পরিসংখ্যান। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, গত শনিবার রাজারহাট গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা ডেঙ্গি আক্রান্ত ৭০ বছরের এক মহিলার মৃত্যু হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গি আক্রান্ত ১১ বছরের এক বালকের মৃত্যু হয় বাগুইআটিতে।

    কোন কোন ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, উপসর্গ কী?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন জ্বর যেগুলি হচ্ছে, প্রথমে ডেঙ্গি (Dengue) আছে কিনা, দেখে নিতে হবে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কম হলেও, হচ্ছে কিছুটা। সতর্কবার্তা এটাই, জ্বর হলে কিন্তু রক্ত পরীক্ষা করে অবশ্যই দেখতে হবে। ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়া রুটিন পরীক্ষা অনুযায়ী করতে হবে। হলে তখন কী করা উচিত? বিশেষজ্ঞরা জানান, এই সময়ে শিরার মধ্যে থেকে জল বাইরে চলে আসে। তাই প্রচুর পরিমাণে জল এবং ওআরএস খেতে হবে।

    ডেঙ্গির দোসর চিকুনগুনিয়া!

    ডেঙ্গির (Dengue) পাশাপাশি এবার দোসর হল চিকুনগুনিয়া। মশাবাহিত এই অসুখের থাবা এবার মালদায়। স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, হবিবপুর ব্লকের শ্রীরামপুর পঞ্চায়েতের কলাইবাড়ি গ্রামে ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে এই মুহূর্তে ডেঙ্গি আক্রান্তের নিরিখেও ৩ নম্বরে রয়েছে মালদা জেলা। আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১ হাজার ৯০৪ জন। মশাবাহিত এই রোগের পরিসংখ্যান উদ্বেগ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের। মাসখানেক ধরেই কলাইবাড়ি অজানা জ্বরের আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল। হাতে-পায়ে অসহ্য ব্যথা হচ্ছিল জ্বরে আক্রান্তদের। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে তড়িঘড়ি রক্তের নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। রিপোর্ট আসার পর কলাইবাড়ি গ্রামে খোলা হয়েছে স্বাস্থ্য শিবির। চিকুনগুনিয়ার (Chikungunya) সংক্রমণ রুখতে শুরু হয়েছে মশা-নিধনের কাজ।

    কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?

    মূলত মশা থেকে এই রোগ ছড়ায়। তাই মশা নিধনের জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করা উচিত। এছাড়াও জমা জল কোথাও যেন না থাকে সে বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। এই সময় উচিত হাত-পা ঢাকা দেওয়া জামা পরা। রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা উচিত।  আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে। স্বাস্থ্য দফতর থেকে গ্রামবাসীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রায় তিন মাস ধরে অজানা জ্বর নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে মালদার কলাইবাড়ি গ্রামে। জ্বরের সঙ্গে অসহ্য হাতে পায়ে ব্যাথা অনুভব করছেন এখানকার চিকুনগুনিয়া আক্রান্তরা। প্রথমদিকে, এই রোগ নির্ণয় করা যায়নি বলেই জানা গিয়েছে। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের রিপোর্টের পর জ্বরে আক্রান্ত ৫০ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাতেই জানা যায় সাধারণ জ্বর নয়, এই গ্রামে বহু মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Dengue: উৎসবের মরশুমে বাড়তে পারে ডেঙ্গি! কেন বাড়ছে উদ্বেগ? কীভাবে সতর্ক থাকবেন? 

    Dengue: উৎসবের মরশুমে বাড়তে পারে ডেঙ্গি! কেন বাড়ছে উদ্বেগ? কীভাবে সতর্ক থাকবেন? 

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দুর্গাপুজো শেষ। শেষ লক্ষ্মীপুজো। সামনেই কালীপুজো ও দীপাবলি। উৎসব চলছে। কিন্তু এই মরশুমে নতুন উদ্বেগ রাজ্য জুড়ে! একদিকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বন্যার জেরে জীবন বিপর্যস্ত। দেখা দিচ্ছে নানান স্বাস্থ্য সমস্যা। ডায়ারিয়া থেকে জ্বর, রোগের কবলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আরেকদিকে নতুন রোগের ভ্রুকুটি দেখছেন চিকিৎসক মহল। তাঁদের আশঙ্কা, উৎসবের মরশুমে নতুন ভাবে বিপদ (Dengue) জাঁকিয়ে বসতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি।

    কোন বিপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্য জুড়ে ফের বাড়তে পারে ডেঙ্গির (Dengue) দাপট। তাঁদের আশঙ্কা, উৎসবের মরশুমে এই রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। বিশেষত, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলাগুলিতে এই মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সেপ্টেম্বর মাস থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ডেঙ্গি সংক্রমণ হচ্ছে। অক্টোবরে সেই সংক্রমণ কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলেই তাঁদের আশঙ্কা।

    কেন উৎসবের মরশুমে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে পারে? (Dengue)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছিল। কিন্তু গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে রাজ্য জুড়ে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। যার জেরে মশাবাহিত রোগের দাপট কিছুটা কমে। তাঁরা জানাচ্ছেন, লাগাতার বৃষ্টি পড়লে মশা কম জন্মায়। তার জেরেই ডেঙ্গির মতো রোগের প্রকোপ কিছুটা কমে। তবে, অক্টোবরে (Festive season ডেঙ্গির দাপট বৃদ্ধির প্রধান কারণ জমা জল হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন‌ বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, আপাতত বৃষ্টি একনাগাড়ে হচ্ছে না। কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জল জমেছে। নিকাশি ব্যবস্থা অধিকাংশ জায়গায় খুব খারাপ। আর এই জমা জল মশাবাহিত রোগের মূল কারণ। তাই উৎসবের মরশুমে মশার দাপট বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে‌ বাড়তে পারে ডেঙ্গি। বছরের এই মরশুমে ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হয়।

    বাড়তি বিপদ কেন? (Festive season)

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, উৎসবের মরশুমে একাধিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঠিকমতো কাজ হয় না। অধিকাংশ পুরকর্মী ছুটিতে থাকেন। এর ফলে জ্বর হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ‌ মতো সময়ের মধ্যে ডেঙ্গি (Dengue) পরীক্ষা হয় না। এর জেরে রোগ নির্ণয়ে অনেক সময়েই দেরি হয়ে যায়। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। আবার পরিস্থিতি জটিল হলে হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা চালানো নিয়ে নানান‌ সঙ্কট তৈরি হয়। প্রত্যেক বছর রক্তের আকালের একাধিক অভিযোগ ওঠে। ব্লাড ব্যাঙ্কেও উৎসবের মরশুমে প্লেটলেটের জোগান পাওয়া যায় না। সব মিলিয়ে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরিজনদের হয়রানিও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা একাংশের।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা? (Dengue)

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, পরিবেশ-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এলাকায় জল জমলে, অপরিচ্ছন্ন‌ বাগান‌ কিংবা পার্ক থাকলে সংশ্লিষ্ট পুর কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মশার বংশবিস্তার রুখতে পারলেই বিপদ কিছুটা আটকানো যাবে। তবে জ্বর, কাশি, মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। প্রথম থেকেই রোগীকে মশারি টাঙিয়ে, তার ভিতরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। পাশাপাশি জ্বর হলেই বেশি পরিমাণে জল খাওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ শরীরের ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমলে‌ ডেঙ্গির বড় বিপদ আটকানো‌ সহজ হবে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Children Diseases: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে শিশুদের! কাহিল করে দিচ্ছে কোন কোন রোগ? 

    Children Diseases: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে শিশুদের! কাহিল করে দিচ্ছে কোন কোন রোগ? 

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দিন কয়েক ধরে গরমে জেরবার হচ্ছিল উত্তর থেকে দক্ষিণ! শরতের রোদে প্রায় পুড়েছে সকলে! আবার চলতি সপ্তাহে শুরু প্রবল বৃষ্টি! হাওয়া অফিসের অনুমান, আগামী ছ’দিন একনাগাড়ে চলবে বৃষ্টি! আগামী সপ্তাহে আবার রোদের দেখা মিলবে! তাপমাত্রার পারদ বাড়ছে-কমছে! আর আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা স্বাস্থ্যের বিপদ (Children Diseases) বাড়াচ্ছে! বিশেষত শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। তাই সতর্কতা জারি না রাখলে আরও সমস্যা বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছে চিকিৎসকদের একাংশ।

    গলাব্যথা, কাশি-সর্দি এবং জ্বর (Children Diseases)

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, আবহাওয়ার এই রকমফের বাতাসে একাধিক ভাইরাসের দাপট বাড়াচ্ছে। সক্রিয় হচ্ছে একাধিক রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু। আর তার জেরেই নানান রোগের প্রকোপ বাড়ছে। গত দু’সপ্তাহে শিশুদের ভাইরাসঘটিত জ্বরের প্রকোপ কয়েক গুণ বেড়েছে। গলাব্যথা, কাশি-সর্দি এবং জ্বর! এই উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ গরম আবার তারপরেই লাগাতার বৃষ্টি-সব মিলিয়েই এই ধরনের সমস্যা বাড়ছে বলে জানাচ্ছে চিকিৎসকদের একাংশ। 
    আবার দিন কয়েক আগে তাপমাত্রা হঠাৎ অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় (Strange weather) বহু শিশু ‘হিট বার্ন’-এর মতো সমস্যায় ভুগছে বলেও জানাচ্ছে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনও ভাইরাসঘটিত রোগের কবলে না পড়লেও বহু শিশুর দেহের তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। থার্মোমিটারে মাপলে মনে হবে শিশুর জ্বর হয়েছে। দূর্বলতাও দেখা দিচ্ছে। কিন্তু আবহাওয়া হঠাৎ গরম হয়ে যাওয়ার জেরে শিশুর দেহ এই হঠাৎ বদলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো তাদের দেহ পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেকে ঠান্ডা রাখতে পারে না। তাই শরীর গরম হয়ে যাচ্ছে।

    পেটের অসুখ

    জ্বরের পাশপাশি পেটের অসুখের সমস্যাও বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, রাজ্যের একাধিক জেলায় জল জমে রয়েছে। বন্যা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুরা মারাত্মক পেটের অসুখে ভুগছে। অনেক জায়গায় পরিশ্রুত জল নেই। ফলে সমস্যা (Children Diseases) আরও বাড়ছে‌। এই আবহাওয়ায় আরেকটি সমস্যা হচ্ছে ছত্রাক সংক্রমণ। ত্বক বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, শুষ্ক আর ভিজে আবহাওয়ার এই ঘনঘন পরিবর্তনের জেরে শিশুদের ত্বকে নানান ছত্রাক সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে! ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া আবার হালকা একটা আস্তরণ দেখা দিচ্ছে!

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা? (Children Diseases)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, বর্ষায় রাজ্যে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার প্রকোপ মারাত্মক। তাই জ্বর হলে কোনও ভাবেই অবহেলা করা চলবে না।‌ দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। তবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনায় ভাইরাস ঘটিত অসুখ থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। পাশপাশি নিয়মিত লেবু জাতীয় ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যে কোনও লেবু জাতীয় ফলে থাকে ভিটামিন সি। সর্দি-কাশি কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে এই ধরনের ফল বিশেষ সাহায্য করে। স্কুল পড়ুয়াদের টিফিনে নিয়মিত কিউই জাতীয় ফল দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এতে ভাইরাস ঘটিত অসুখের (Children Diseases) প্রকোপ কমবে‌। 
    ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে শিশুকে নিয়মিত স্নান করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এই ধরনের অসুখের ঝুঁকি কমে। 
    জলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষার জেরে বহু জায়গায় জলের পাইপ ফেটে গিয়েছে‌। পরিশ্রুত পানীয় জল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই জলঘটিত অসুখ যেমন কলেরা, ডায়ারিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধ করতে শিশুদের জল ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share