Tag: India

India

  • India EU Relation: ইইউ-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা মোদির, “সব চুক্তির জননী” বললেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট

    India EU Relation: ইইউ-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা মোদির, “সব চুক্তির জননী” বললেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে (India EU Relation) চূড়ান্ত হল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি (Trade Deal)। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একথা জানান। অনিশ্চিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই উভয় পক্ষ এই চুক্তিতে এগিয়েছে। প্রায় দু’দশক ধরে দফায় দফায় আলোচনা চলার পর এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ধীরে ধীরে তার বৃহৎ ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বাজারকে ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করবে। ইইউ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

    বাণিজ্য সচিবের বক্তব্য (India EU Relation)

    বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল সোমবার জানান, ভারত এবং ইইউয়ের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা সফল হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ভারতে ইইউয়ের রফতানি প্রায় দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভারতের পরিষেবা খাতে, বিশেষ করে আর্থিক পরিষেবা, সামুদ্রিক পরিষেবা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাবে ইউরোপীয় সংস্থাগুলি। এতে নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে (India EU Relation)।

    শুল্ক বাতিল বা হ্রাস পাবে

    জানা গিয়েছে, ইইউর পণ্য রফতানির ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণ বাতিল বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হবে, ইউরোপীয় পণ্যের ওপর বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে, ভারতের পক্ষ থেকে কোনও বাণিজ্যিক অংশীদারকে দেওয়া সবচেয়ে বড় বাজার-উন্মুক্তকরণ, ফলে ইইউ রফতানিকারীদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হবে, আর্থিক ও সামুদ্রিক পরিষেবা-সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইইউ পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার, রফতানি আরও দ্রুত ও সহজ করতে শুল্ক প্রক্রিয়া সরলীকরণ, ইউরোপীয় বৌদ্ধিক সম্পত্তি, যেমন ট্রেডমার্ক সুরক্ষা এবং ছোট ও মাঝারি ইউরোপীয় ব্যবসার জন্য আলাদা অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা (Trade Deal)।

    মোদি থেকে উরসুলা— কে কী বললেন?

    ভারত এবং ইইউ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মানুষ একে সব চুক্তির জননী (মাদার অফ অল ডিলস্) বলে অভিহিত করছে। এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপের জনগণের জন্য বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এটি বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ। এই চুক্তিটি বিশ্ব জিডিপির (GDP) ২৫ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,  “এই চুক্তি উৎপাদন এবং পরিষেবা—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের গতি আনবে।” ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “আজ ইউরোপ ও ভারত ইতিহাস সৃষ্টি করছে। আমরা সব চুক্তির জননী স্বাক্ষর করেছি। দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি হল, যেখানে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে। এটি কেবল শুরু। আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে (India EU Relation)।” ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে আয়োজিত প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথিদের একজন ছিলেন উরসুলা ফন ডার লায়েন। তিনি অনুষ্ঠান থেকে একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে লিখেছিলেন, “একটি সফল ভারত বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করে তোলে। আর এতে আমরা সবাই উপকৃত হই (Trade Deal)।”

    কবে কার্যকর হবে চুক্তি

    যদিও ভারত এবং ইইউ আলোচনা চূড়ান্ত করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তবে এটি কার্যকর হবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে। এর আগে চুক্তির আইনি দিকটি খতিয়ে দেখতে পাঁচ থেকে ছ’মাস সময় লাগবে। এরপর আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল (India EU Relation)। ভারত এবং ইইউ যখন এই বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে, তখনও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সংবাদ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ইউরোপীয় দেশগুলি ভারত থেকে পরিশোধিত রুশ তেলজাত পণ্য কিনে কার্যত নিজেদের বিরুদ্ধেই একটি যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে।”

     

  • India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে চলে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল (India US Trade Deal)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে মার্কিন সেনেটর টেড ক্রুজের একটি অডিও রেকর্ডিং। ওই রেকর্ডিংয়ে টেক্সাসের রিপাবলিকান এই সেনেটর বাণিজ্যনীতি ও থমকে থাকা ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance), হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো এবং কখনও কখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ মিনিটের ওই অডিওটি এক রিপাবলিকান সূত্র শেয়ার করেছে। এটির সময়কাল ২০২৫ সালের শুরু ও মধ্যভাগ। এতে ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে ক্রুজ নিজেকে ঐতিহ্যবাহী, মুক্তবাণিজ্যপন্থী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতিতে বিশ্বাসী রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানের বিরোধিতা করেন, যা সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রাইমারির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা (India US Trade Deal)

    অডিওতে ক্রুজ ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা করে সতর্ক করেন যে, এই নীতি মার্কিন অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে শুল্ক আরোপের পর তিনি ও কয়েকজন সেনেটর গভীর রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি ফোনালাপে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে সেই আলোচনা ভালোভাবে শেষ হয়নি (India US Trade Deal)। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রুজ দাতাদের জানান মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়া ওই ফোনালাপে ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। ক্রুজ বলেন, “ট্রাম্প সেদিন খুব খারাপ মেজাজে ছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে এমন কথোপকথনেও ছিলাম, যখন তিনি খুব খুশি ছিলেন। কিন্তু এটি সেরকম ছিল না।”

    সতর্ক করেছিলেন প্রেসিডেন্টকে

    ক্রুজ আরও জানান, তিনি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে যদি অবসরভিত্তিক বিনিয়োগ হিসেব ৩০ শতাংশ কমে যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসবে। ক্রুজের ভাষায়, তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, “আপনি প্রতিনিধি পরিষদ হারাবেন, সেনেট হারাবেন, আর পরবর্তী দু’বছর প্রতি সপ্তাহে একবার করে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হবেন (JD Vance)।” এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্প খুবই খারাপ কথা বলেছিলেন। ক্রুজ প্রশাসনের শুল্ক আরোপকে ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘মুক্তির দিন’ নামে ব্র্যান্ডিং করার বিষয়টিও ব্যঙ্গ করেন। এক দাতা ওই শব্দবন্ধ ব্যবহার করলে ক্রুজ মন্তব্য করেন, তাঁর দলে কেউ এই শব্দটি ব্যবহার করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করা হত।

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ

    ক্রুজের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ। তিনি দাতাদের বলেন, চুক্তিটি এগিয়ে নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং যারা এই ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তাঁদের নামও উল্লেখ করেন (India US Trade Deal)। আমেরিকার অগ্রগতি কে আটকে দিচ্ছে, এই প্রশ্নে ক্রুজ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারো, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং কখনও কখনও স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামও নেন। রেকর্ডিংয়ে ক্রুজ বারবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে রক্ষণশীল পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কার্লসন বিদেশনীতি বিতর্কে হস্তক্ষেপবিরোধী ও ইহুদিবিদ্বেষী অবস্থানকে উসকে দিচ্ছেন এবং ভ্যান্স মূলত কার্লসনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ক্রুজ বলেন, “টাকারই জেডিকে তৈরি করেছে। জেডি টাকারের শিষ্য, আর তারা দু’জন একই (JD Vance)।”

    যদিও ক্রুজ গত কয়েক মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে কার্লসনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন, এবং অডিও রেকর্ডিংটি দেখায় যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি কার্লসন ও ভ্যান্সের মধ্যে আরও স্পষ্ট ও কঠোর সীমারেখা টেনেছেন, যা প্রকাশ্যে তিনি এতটা স্পষ্ট করেননি, যদিও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই পডকাস্টারের বন্ধুত্ব সুপরিচিত (India US Trade Deal)।

  • Abu Dhabi: শেখ নাহিয়ানের ৩-ঘণ্টার ভারত সফরের পরই  ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে পরিচালনার পরিকল্পনা বাতিল আবু ধাবির

    Abu Dhabi: শেখ নাহিয়ানের ৩-ঘণ্টার ভারত সফরের পরই ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে পরিচালনার পরিকল্পনা বাতিল আবু ধাবির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)-র প্রেসিডেন্ট শেখ মহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের আকস্মিক ভারত সফর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে আলোড়ন ফেলেছে (Abu Dhabi)। এর পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের ওপর (Pakistan)। শেখ নাহিয়ানের তিন ঘণ্টার সফরের অল্প সময়ের মধ্যেই আবু ধাবি ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনার পরিকল্পনা বাতিল করে দেয়। অথচ এই চুক্তিটি নিয়ে ২০২৫ সালের অগাস্ট মাস থেকে আলোচনা চলছিল দুই দেশের মধ্যে।

    প্রকল্পটিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে ইউএই (Abu Dhabi)

    পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইউএই প্রকল্পটিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলার পাশাপাশি পরিচালনার জন্য কোনও স্থানীয় অংশীদার না পাওয়ায় এই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের এই সংবাদমাধ্যম চুক্তি বাতিলের পেছনে কোনও রাজনৈতিক কারণের সরাসরি উল্লেখ করেনি, তবে এই ঘটনা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন ইউএই এবং সৌদি আরবের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। একসময় উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এই দুই দেশ বর্তমানে ইয়েমেনে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন করা নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। ইসলামাবাদ যেখানে রিয়াধের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং সৌদি আরব ও তুরস্ককে নিয়ে তথাকথিত একটি “ইসলামিক ন্যাটো” গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে, সেখানে ইউএই ভারতের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব পাকিস্তানের সামরিক দক্ষতার ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে, আর ইউএই কৌশলগতভাবে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করছে।

    রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস

    প্রায় চার দশক আগে ইউএই ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস। বিভিন্ন খাতে কর্মরত হাজার হাজার পাকিস্তানি ইউএইতে কাজ করতেন। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বিনিয়োগ প্রকল্পেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, লাইসেন্স সংক্রান্ত বিতর্ক এবং পাকিস্তানের পুরনো পরিকাঠামোর কারণে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে (Abu Dhabi)। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে দুর্বল প্রশাসন ও অব্যবস্থাপনার কারণে পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ছে। পরে সেগুলি নামমাত্র দামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। গত বছর ইসলামাবাদ পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) বেসরকারিকরণ করেছে (Pakistan)। চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে, এমনকি আফগানিস্তানেও, বিমানবন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ইসলামাবাদ বিমানবন্দর পরিচলনা থেকে সরে দাঁড়ানোর ইউএইর সিদ্ধান্ত দেশটির ওপর অনাস্থার ছবিটাই তুলে ধরেছে। গত সপ্তাহে দিল্লি সফরের পর ইউএই নেতা ৯০০ ভারতীয় বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন, যা নয়াদিল্লির প্রতি সদিচ্ছার এক বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কৌশলগত অংশীদারিত্ব

    ইউএই নেতার সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্পূর্ণ ক্ষেত্র পর্যালোচনা করেন এবং একমত হন যে ভারত-ইউএই সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব কেবল পরিপক্বই নয়, বরং এখন আরও উচ্চাভিলাষী ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিটি দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক সমন্বয়ের একটি রূপরেখার মতো। রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের দিকে অগ্রসর হওয়া। সফরের সময় একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়, যা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য (Pakistan) একটি কাঠামোগত চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে (Abu Dhabi)।

  • India: নজরে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক ব্যাপক কমানোর পথে ভারত?

    India: নজরে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক ব্যাপক কমানোর পথে ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) (EU) থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে শুল্ক কমাতে পারে ভারত (India)। প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে তা ৪০ শতাংশে নামানো হতে পারে। একাধিক সূত্রের খবর, এই চুক্তি মঙ্গলবারের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে। সূত্র অনুযায়ী, সরকার অবিলম্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ থেকে সীমিত সংখ্যক গাড়ির ওপর শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে, তবে শর্ত হল, গাড়িগুলির আমদানি মূল্য প্রায় ১৬.৩ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে হবে। পর্যায়ক্রমে এই গাড়িগুলির ওপর শুল্ক আরও কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সবচেয়ে বড় উদারীকরণ (India)

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈশ্বিক উদ্বেগের আবহে এই সিদ্ধান্তকে ভারতের কড়া সুরক্ষিত অটোমোবাইল বাজারে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদারীকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত–ইইউ বাণিজ্য আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে শুল্ক হ্রাসের ফলে ফোক্সভাগেন, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউর মতো ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে। উল্লেখ্য, এই সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রক বা ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

    ভারতের উদ্দেশ্য

    বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে নির্মিত গাড়ির ওপর বিশ্বের সর্বোচ্চ আমদানি শুল্কগুলির মধ্যে পড়ে ভারতও। এর উদ্দেশ্য, দেশীয় গাড়ি নির্মাতাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং দেশে উৎপাদনকে উৎসাহিত করা। ফলে শুল্কে বড় ধরনের কাটছাঁট হলে অটোমোবাইল শিল্প, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবাহে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের (India)। এই ঘটনাপ্রবাহ এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন চার দিনের সফরে ভারতে রয়েছেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ভারত–ইইউ সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণে একাধিক বড় উদ্যোগ চূড়ান্ত করা। ভন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এবং বাণিজ্য আলোচনার জন্য ভারতে এসেছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁদের শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা।

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই বৈঠকেই বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করবে বলেই আশা। পাশাপাশি একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব এবং ভারতীয় পেশাদারদের চলাচল সহজ (EU) করতে একটি কাঠামোও ঘোষণা করা হতে পারে (India)।

  • India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্যস্ত। ব্যস্ত তার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্যপূরণে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধকে আরও মজবুত করার ভাবনায় মজে (India)। বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি, শুল্কযুদ্ধের ‘বাজুকা’ ছোড়া এবং লেনদেনভিত্তিক চুক্তিতে ঝোঁক, এ সবই তার বহিঃপ্রকাশ। ফলস্বরূপ, বিশ্বে স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রভাব এখন আটলান্টিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত স্পষ্ট।

    নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন (India)

    দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার শক্তিগুলি নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দুটি আলগা কিন্তু ক্রমশ আলোচিত কৌশলগত অক্ষ মাথা তুলতে শুরু করেছে। একটি গড়ে উঠছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে। অন্যটি গড়ে উঠছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে, যার কৌশলগত প্রান্তে রয়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস। এগুলির কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিক জোট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে হওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ চুক্তি, কূটনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পুরানো জোটব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও কার্যকর সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এসবই হচ্ছে সরকারি ঘোষণার তুলনায় অনেক দ্রুত।

    স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট

    এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SMDA)। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি রিয়াধের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন, কারণ এতদিন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দ্বিপাক্ষিক ও মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর (India)। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং ট্রাম্প আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থেকেই এই চুক্তির জন্ম। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিত এই কাঠামোয় তুরস্কের আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্লুমবার্গ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এই জোটে যোগ দিতে ‘উন্নত পর্যায়ের আলোচনা’ চালাচ্ছে (UAE)।

    বাস্তব চিত্র

    যদিও রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা বলছে এই কাঠামো আদর্শগত নয়, প্রতিরক্ষামূলক, তবুও বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা কঠিন। সম্ভাব্য এই ত্রিপাক্ষিক জোটে এক ছাতার নীচে মিলিত হচ্ছে সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি। আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক টেপাভের বিশ্লেষক নিহাত আলি ওজচান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন দেশগুলিকে তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করছে (India)।” পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, এই চুক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সীমিত যুদ্ধের পর জোট মজবুত করার প্রয়াস। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের পক্ষে তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রকাশ্যে এসেছিল এবং নয়াদিল্লি তা লক্ষ্যও করেছিল। বহুদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে সৌদি আরবের জন্য এটি ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা, বিশেষত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ‘ভাই’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের শীতলতার প্রেক্ষাপটে। আর তুরস্কের ক্ষেত্রে, এই ‘মুসলিম ন্যাটো’ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর মধ্যেই রয়েছে (UAE)।

    ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’

    যদি সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক অক্ষ এক দিক হয়, তবে অন্য দিকে রয়েছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (India)। ১৯ জানুয়ারি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রায় দু’ঘণ্টার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি ও আবুধাবি একটি ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’ সই করে। ভাষাগতভাবে এটি সংযত হলেও সময়টি মোটেই কাকতালীয় নয়। সৌদি–পাক অক্ষ নিয়ে আলোচনা ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই চুক্তি প্রকাশ্যে আসে। আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল ভাটিকিওটিস এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তুরস্ক–সৌদি আরব–পাকিস্তান অক্ষের মোকাবিলায় ভারত ইউএই এবং পরোক্ষভাবে ইজরায়েলকে নিয়ে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক অক্ষ গড়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “এই নতুন অক্ষগুলির জন্ম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তির সঙ্কোচনের ফল হিসেবে।”

    আব্রাহাম চুক্তি

    এই অংশীদারিত্ব আব্রাহাম চুক্তির পর আরও শক্তিশালী হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউএই ও ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এটি ভারত–ইজরায়েল–ইউএই– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে পূর্বে গঠিত (I2U2) জোট কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত ইতিমধ্যেই ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে এবং যৌথ উৎপাদনেও যুক্ত। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চালায়। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ইজরায়েল প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়ায়। ইউএইর (UAE) কাছে ভারত ইয়েমেন, আফ্রিকা ও কৌশলগত লোহিত সাগর অঞ্চলে সৌদি প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি (India)। এই পাল্টা জোট কেবল পশ্চিম ভারত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে তুরস্কের আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াচ্ছে  গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইজরায়েল। ২০২৪ সালে ব্রিটেনভিত্তিক ইউরোপিনিয়নের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত ৩+১ ত্রিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (ইজরায়েল–গ্রিস–সাইপ্রাস) ভারতকে আমন্ত্রণ জানায় ইজরায়েল।

    জোট গড়ছে আঞ্চলিক শক্তিগুলি

    এয়ার মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত অনিল চোপড়া ‘ইউরেশিয়ান টাইমসে’ লেখেন, এই গোষ্ঠীটি ভবিষ্যতে ইউএইকেও (UAE) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অ্যাজেন্ডায় রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, যা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী (India)। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক–পাকিস্তান–সৌদি অক্ষ শুধু ভারতের জন্য নয়, ইজরায়েল, আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসের জন্যও চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোট গড়ে ওঠেনি। আমেরিকা ভেতরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, ইউরোপ বিভক্ত। ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলি আর দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে না, তারা নিজেদের মতো করে জোট গড়ছে, হিসাব কষছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে (UAE)। এই অক্ষগুলি এখনও তরল এবং অনানুষ্ঠানিক হলেও, ভবিষ্যতের কৌশলগত রূপরেখা যে নতুন করে লেখা হচ্ছে, তা স্পষ্ট (India)।

     

  • PM Modi: ট্রাম্প-ফাঁদে পা দেননি মোদি, ইউরোপীয়রা এখনও ‘শিখছেন’ খামখেয়ালি ডোনাল্ডের কাছে!

    PM Modi: ট্রাম্প-ফাঁদে পা দেননি মোদি, ইউরোপীয়রা এখনও ‘শিখছেন’ খামখেয়ালি ডোনাল্ডের কাছে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যদি আপনার ওপর ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও রেহাই পান না। মঙ্গলবার সেটাই কঠিনভাবে বুঝে নিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এবং ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট (PM Modi)। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ট্রাম্প এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন প্রেমিকের মতো তাঁদের ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ্যে এনে ফেলেন। এমনকি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্বের ঢাক পেটানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চাগোস দ্বীপ চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের কাছে ‘ভয়ঙ্কর বোকামি’র জন্য তীব্র ভর্ৎসিত হন।

    ট্রাম্পের কাছে আনুগত্য (PM Modi)

    এই ঘটনাগুলি এক নির্মম সত্য সামনে এনে দিয়েছে। সেটি হল ট্রাম্পের কাছে আনুগত্য মানেই সম্মান নয়। ঠিক এখানেই ট্রাম্পের অস্থির বাণিজ্য-কূটনীতির মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কৌশলগত নীরবতা ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ ভারতকে ‘ট্রাম্প-ফাঁদ’ এড়াতে সাহায্য করেছে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। নতুন বছর শুরু হতেই ট্রাম্পের দৃষ্টি পড়ে গ্রিনল্যান্ডের ওপর। ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের পদক্ষেপে উৎসাহিত হয়ে তিনি আরও আগ্রাসী হন। নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতা দখলের ঘটনায় বিশ্ব যখন বিস্ময়ে তাকিয়ে, তখন ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল নরম (PM Modi)। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প যখন ইউরোপেরই এক সদস্য রাষ্ট্রকে নিশানা করে এবং ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর হুমকি দেন, তখন ইউরোপ বুঝে যায় এক কঠিন বাস্তবতা, ট্রাম্প বন্ধুত্বে বিশ্বাস করেন না, তিনি আদতেই একজন ব্যবসায়ী।

    সাতটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর শুল্ক চাপানো

    ব্রিটেন এবং আরও সাতটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর শুল্ক চাপানো হয়েছে, যদিও ট্রাম্প গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। অর্থাৎ, বাণিজ্য চুক্তি বা মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার খুলে (Donald Trump) দিলেও ভবিষ্যতের শুল্ক থেকে রেহাই নিশ্চিত নয় (PM Modi)। এহেন প্রেক্ষাপটে ভারত অনেক আগেই সেই বাস্তবতা বুঝে ফেলেছিল, যা ইউরোপ এখন অনুভব করছে। অনিশ্চিত ‘ট্রাম্প ২.০’-এর যুগে শুল্ক শুধু বাণিজ্যিক অস্ত্র নয়, বরং ব্যক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সব সময়ের হাতিয়ার। এই কারণেই মার্কিন চাপ সত্ত্বেও এবং ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের মুখে পড়েও, ভারত তড়িঘড়ি করে কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেনি।

    ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ

    ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্কের হুমকি দিয়ে তিনি ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামিয়েছেন। ভারত দ্রুত বুঝতে পারে, এটি ছিল ট্রাম্পের ভূরাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন এবং নিজের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল (PM Modi)। ভারত স্পষ্ট জানায়, সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। পাকিস্তান যেখানে ট্রাম্পের তথাকথিত ‘মধ্যস্থতা’কে স্বাগত জানিয়েছিল, ভারত সেখানে সংযত কিন্তু দৃঢ় অবস্থান নেয়। সরাসরি ট্রাম্পকে আক্রমণ না করেও ভারত তার অবস্থান বজায় রাখে। গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়। তার পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট জানান, যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকার কোনও ভূমিকা ছিল না এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়েও আলোচনায় যাননি, পাকিস্তানের মতো অতিরিক্ত তোষামোদ না করেই।

    ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ

    এরই পরিণতি দ্রুত আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপান, যার মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও ছিল। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই শুল্কের হার মাত্র ১৯ শতাংশ। চিনের মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, যা আগের মার্কিন প্রশাসনগুলি সযত্নে গড়ে তুলেছিল, তা-ও টলমল করতে শুরু করে (PM Modi)।তারপরেও ভারত ধৈর্য ধরেছে। শুল্ক আরোপের (Donald Trump) পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা তাঁর মন্ত্রীরা ট্রাম্পের সঙ্গে বাকযুদ্ধে নামেননি। যদিও ট্রাম্পের সহযোগীরা প্রতিদিন নতুন অপমানসূচক মন্তব্য করছিল। ভারতকে ‘ক্রেমলিনের মানি লন্ড্রোম্যাট’ বলা থেকে শুরু করে ‘রক্তের টাকা’র অভিযোগ পর্যন্ত নানা ‘সম্ভাষণে’ ভূষিত করেছিল তাঁকে। এদিকে ট্রাম্প নিজে মোদির প্রশংসা চালিয়ে যান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ‘প্রিয়’, ‘সত্যিকারের’, ‘মহান’ বন্ধু বলে উল্লেখ করেন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    ভারত এই ভালো পুলিশ–খারাপ পুলিশ খেলায় পা দেয়নি। শুল্কের চাপ সত্ত্বেও কৃষি ও দুগ্ধ খাত খুলে দেওয়ার মতো একতরফা চুক্তিতে সই করেনি। বন্ধ করেনি রাশিয়া থেকে তেল আমদানিও। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগও ছিন্ন করেনি। পীযূষ গোয়েল এবং এস জয়শঙ্করের মতো মন্ত্রীরা নেপথ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যান। দেশে বিরোধীদের আক্রমণের মধ্যেই মোদি ‘স্বদেশি’র ডাক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার মোকাবিলা করেন (PM Modi)। তবে ভারত নিজেকে দুর্বলও হতে দেয়নি। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে মোদির চিন সফর ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একান্তে একই গাড়িতে সফর ছিল একটি স্পষ্ট বার্তা -ভারতের সামনে রয়েছে বিকল্প কৌশলগত পথ। এটাই ভারতের বহু দশকের অ-সংযুক্ত বিদেশনীতির ভিত্তি।

    আংশিক বাণিজ্য

    একই সময়ে ভারত ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি বড় চুক্তিও শীঘ্রই আসছে। নিঃশব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালশস্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ভারত, যদিও এনিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বয়ান নিয়ন্ত্রণ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৭ জুনের পর মোদি চারবার ট্রাম্পের ফোন এড়িয়ে যান। কারণ, আংশিক বাণিজ্য চুক্তির ফল যে ট্রাম্প অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করতে পারেন, এ বিষয়ে ভারত সচেতন ছিলই (Donald Trump)। শেষ পর্যন্ত ১৭ সেপ্টেম্বর, মোদির জন্মদিনে ফোনালাপ হলে, ভারতই প্রথম নিজের বক্তব্য প্রকাশ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠকারী পোস্টের জন্য পরিচিত ট্রাম্পকে তাঁর নিজের খেলায় হারানোর এটিই ছিল কৌশল।

    ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁসের অপমান

    মাক্রোঁ যদি মোদির পথ অনুসরণ করতেন, তবে হয়তো ট্রাম্পের হাতে ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁসের অপমান এড়াতে পারতেন। সব মধুর কথাবার্তা ও চুক্তির পরেও পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিত তালিকা থেকে বাদ পড়েনি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযম ও দৃঢ়তার ভারসাম্যই ভারতকে ট্রাম্প-ফাঁদ এড়াতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকও স্বীকার করেছেন, মোদি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে না চাওয়ায় চুক্তি হয়নি (PM Modi)। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফারিদ জাকারিয়াও ভারতের কৌশলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্প অস্থির ও খামখেয়ালি। তাই তাঁকে সামলাতে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ইউরোপ-আমেরিকার বর্তমান টানাপোড়েন প্রমাণ করেছে যে ভারতের সতর্ক কৌশল সময়োপযোগী। প্রকাশ্য আক্রমণ নয়, বরং স্বার্থ রক্ষা ও নেপথ্য কূটনীতি, এটাই ছিল ভারতের পথ। ট্রাম্পের কোনও স্থায়ী ব্যক্তিগত আনুগত্য নেই। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য, পরবর্তী লাভজনক চুক্তি। ভারত সেটা অনেক আগেই বুঝেছিল (Donald Trump)। ইউরোপ এবং অন্যরা এখনও নিত্য তাঁর কৌশল শিখে চলেছে। এই কারণেই এগিয়ে ভারত (PM Modi)।

  • Canadian University: কমেছে ভারতীয় পড়ুয়া-সংখ্যা, বিপাকে পড়ে ভারতে আসছেন কানাডার শিক্ষাকর্তারা

    Canadian University: কমেছে ভারতীয় পড়ুয়া-সংখ্যা, বিপাকে পড়ে ভারতে আসছেন কানাডার শিক্ষাকর্তারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বুদ্ধিতার (!) খেসারত দিতে ঢোঁক গিলতে হল কানাডাকে। কঠোর ভিসা নীতি এবং দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ২০২৩ সালের তুলনায় কানাডার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (Canadian University) ভারতীয় (India) শিক্ষার্থীদের ভর্তি কমে গিয়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ। এই প্রবণতা উল্টে দিতে এবং অ্যাকাডেমিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কানাডার ২১ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী মাসেই আসতে চলেছে ভারত সফরে।

    ইউনিভার্সিটিজ কানাডা আয়োজিত সফর (Canadian University)

    ইউনিভার্সিটিজ কানাডা আয়োজিত এই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে ২ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। প্রতিনিধিদলটি গোয়া, নয়াদিল্লি এবং গুজরাট ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স টেক-সিটি সফর করবে। এই সফরের লক্ষ্য হল গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় বৃদ্ধি করা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে নতুন ও উদ্ভাবনী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে নতুন করে কানাডা–ভারত সম্পর্কের একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। এই উদ্যোগটি এসেছে অক্টোবর ২০২৫-এ ঘোষিত কানাডা–ভারত রোডম্যাপের পরপরই। ওই রোডম্যাপে শিক্ষা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতায় সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে।

    ভারতে কানাডার হাইকমিশনার

    ভারতে কানাডার হাইকমিশনার ক্রিস্টোফার কুটার এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি “বড় পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন। তিনি টেকসই উন্নয়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে যৌথ উদ্ভাবনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। এদিকে, কানাডায় ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ পটনায়েক বলেন, “এই প্রতিনিধিদল দীর্ঘমেয়াদি অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, বিশেষত গবেষণা ও প্রতিভা উন্নয়নে কানাডার ১.৭ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ফেডারেল বিনিয়োগের প্রেক্ষাপটে (India)।” এই উদ্যোগটি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন কানাডার শিক্ষা খাত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ধাক্কায় বিপর্যস্ত। একসময় কানাডার মোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রায় ৪০ শতাংশই ছিলেন ভারতীয়। কিন্তু ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে নতুন স্টাডি পারমিট অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ৫২,৭৬৫-এ, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম এবং ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার সংখ্যার তুলনায় আনুমানিক ৬৭ শতাংশ কম (Canadian University)।

    ভারত–কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি

    সামগ্রিকভাবে, ২০২৫ সালে কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর আগমন প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে। কয়েক মাসে ভারতীয় আবেদনের হার কমেছে ৮০ শতাংশ, আর প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশে, যা ২০২৩ সালের ৩২ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে নতুন স্টাডি পারমিটের ওপর কানাডার ৩,১৬,২৭৬টি সীমা, জালিয়াতি শনাক্তে কড়াকড়ি, আর্থিক সামর্থ্যের কঠোর প্রমাণের শর্ত এবং পড়াশোনা-পরবর্তী কাজের সুযোগে বিধিনিষেধ। এছাড়াও, ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কর্তৃক খালিস্তানি সন্ত্রাসী হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগকে ঘিরে ভারত–কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং তার জেরে ভারতীয় পরিবারগুলির মধ্যে কানাডায় পড়াশোনার আগ্রহ কমেছে।

    ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে

    এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে আন্তর্জাতিক টিউশন ফি-নির্ভর কানাডার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর। ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, গত তিন বছরে তাদের ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে আনুমানিক ১০.৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার আয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অন্টারিওর মতো প্রদেশে, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয়দের অংশ ৬০ শতাংশেরও বেশি, সেখানে ছোট কলেজগুলি ক্ষতি সামাল দিতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বৃত্তি ও অনলাইন প্রোগ্রাম চালু করেছে (India)।

    এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিনিধিদলটি মজবুত ট্রান্সন্যাশনাল শিক্ষা মডেল— যেমন, ভারতেই থেকে কানাডিয়ান ডিগ্রি অর্জনের “স্টাডি ইন ইন্ডিয়া” সুযোগের ওপর জোর দেবে, যাতে শিক্ষার মান বজায় রেখেই চলাচলের বাধা এড়ানো যায়। ইউনিভার্সিটিজ কানাডার সভাপতি জয় জনসন এক বিবৃতিতে বলেন, “এই মিশনের উদ্দেশ্য চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করা। ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা এমন সমাধান তৈরি করতে পারি, যা উভয় দেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির জন্য লাভজনক (Canadian University)।” এদিকে, ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ক্রমশ ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। ২০২৫ সালে ভারত থেকে বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামগ্রিকভাবে ৫.৭ শতাংশ কমেছে (India)।

     

  • EU Chief: “আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে”, বললেন ইইউ প্রধান

    EU Chief: “আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে”, বললেন ইইউ প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।” মঙ্গলবার দাভোসে এ কথাই বললেন ইইউয়ের প্রধান (EU Chief) উরসুলা ফন ডার লায়েন। তিনি বলেন, “এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তবে আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির (FTA) দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি। কেউ কেউ একে সব চুক্তির জননী বলছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বাজার গড়ে উঠবে, যা বৈশ্বিক মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” ইইউর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    ফন ডার লায়েনের বক্তব্য (EU Chief)

    ফন ডার লায়েন জানান, এই বাণিজ্য উদ্যোগের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগও যুক্ত রয়েছে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠক শেষে আগামী সপ্তাহান্তে তিনি ভারত সফরে যাবেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্যই হল, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, “ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং সহযোগিতা গভীর করার জন্য এখনও উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে।” উরসুলা ফন ডার লায়েন (EU Chief) ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান অতিথি। ভারত সফরকালে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তার সঙ্গে তিনি যৌথভাবে ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্বও করবেন।

    প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি

    ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে ইউরোপের বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ফন ডার লায়েন বলেন, “ইউরোপ বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসা করতে উন্মুক্ত এবং সক্রিয় সম্পৃক্ততা বজায় রাখবে।”
    তিনি বলেন, “ইউরোপ সব সময় বিশ্বকেই বেছে নেবে, এবং বিশ্বও ইউরোপকে বেছে নিতে প্রস্তুত”। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইইউর দৃঢ় সংকল্পের কথাও বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও জানিয়েছিলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যার আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তা হবে ভারতের স্বাক্ষরিত সবচেয়ে বড় চুক্তি। তিনি বলেন, “আমি এখন পর্যন্ত সাতটি চুক্তি সম্পন্ন করেছি, সবই উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে। কিন্তু এটি হবে সব চুক্তির জননী।”

    গোয়েল এও বলেন, “আমরা একটি অত্যন্ত ভালো চুক্তি পাচ্ছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রহের ক্ষেত্রগুলিতেও আমরা তাদের জন্য আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিচ্ছি। এটি অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হতে হবে। সবচেয়ে ভালো দিক হল, আমরা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করি না, আমাদের স্বার্থ ভিন্ন।” গোয়েলের আগে, বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, উভয় পক্ষ ২৪টি অধ্যায়ের মধ্যে ২০টির আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং ২৬ জানুয়ারির (FTA) মধ্যে আলোচনার বাকি অংশ শেষ করার চেষ্টা চলছে (EU Chief)।

  • India: “ভারত আজ নিজের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি করতে পারছে”, বললেন ডব্লুইএফ প্রধান

    India: “ভারত আজ নিজের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি করতে পারছে”, বললেন ডব্লুইএফ প্রধান

     মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের (India) ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি দেশটিকে এমন জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে যে, যেখানে আজ তারা সম্পূর্ণ নিজেদের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারছে।” এমনই মন্তব্য করলেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লুইএফ) সভাপতি বোরগে ব্রেন্ডে (Borge Brende)। দাভোসে অনুষ্ঠিত ফোরামের ৫৬তম বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    কী বললেন ডব্লুইএফ প্রধান?

    ব্রেন্ডে বলেন, “গত কয়েক বছরে ভারতের উত্থান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেশের দরকষাকষির ক্ষমতাকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। এর ফলে নয়াদিল্লি এখন অনেক বেশি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে, কখন এবং কার সঙ্গে সে বাণিজ্য চুক্তি করবে।” তাঁর কথায়, “এই আত্মবিশ্বাস কোনও কথার কথা নয়, বরং পরিসংখ্যান দ্বারা সমর্থিত।” তিনি বলেন, “ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বে বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতই সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং বৈশ্বিক মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ২০ শতাংশ অবদান রাখছে। এটা সত্যিই অসাধারণ।” এই মাত্রা ও গতি থাকায় ভারতের আর তাড়াহুড়ো করে চুক্তি করার বা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন তিনি। ব্রেন্ডের ভাষায়, “ভারত আজ নিজের স্বার্থ দেখে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে যখন প্রয়োজন হবে, তখনই ভারত সেই চুক্তি করবে।” তিনি এও বলেন, “ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি অনেক বৈশ্বিক পর্যবেক্ষককে বিস্মিত করেছে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এত ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার হয়েছে, যেটা অবিশ্বাস্য।”

    মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি

    ব্রেন্ডে মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা এবং অর্থনৈতিক পরিপূরকতা সেই পথেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে (India)। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখনই দু’পক্ষের এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময়। অতীতে কিছু জটিলতা থাকলেও, বর্তমানে ভারত ও ইউরোপ, উভয়েই এই চুক্তি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে।” ব্রেন্ডে বলেন, “আমি মনে করি, এখনই ভারত ও ইউরোপের সময়। ঐতিহাসিকভাবে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু এই চুক্তি কার্যকর হলে দু’পক্ষই উপকৃত হবে।” তিনি এও বলেন, ইউরোপ আগের তুলনায় এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনেক বেশি সক্রিয়। তাঁর ভাষায়, “লাতিন আমেরিকার বহু দেশ এখন ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছে, যা আগে কল্পনাও করা যেত না, বিশেষ করে কৃষির মতো জটিল ইস্যুর কারণে (Borge Brende)।”

    বিশ্ব বাণিজ্য ভেঙে পড়ছে না

    শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভাজনের কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা থাকলেও, ব্রেন্ডে সাফ জানিয়ে দেন, “বিশ্ব বাণিজ্য ভেঙে পড়ছে না। বরং আগের তুলনায় ধীরগতিতে বাড়ছে।” তিনি বলেন, “বৈশ্বিক বাণিজ্যে যে রদবদল চলছে, তার পরেও এ বছর বাণিজ্যে প্রায় ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে আমরা আশা করছি। অর্থাৎ বাণিজ্য সংকুচিত হচ্ছে না, কেবল আগের মতো দ্রুত বাড়ছে না। বাণিজ্য জলের মতো, যে নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেয়।” ব্রেন্ডের মতে, ভারতের উত্থান বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক বাণিজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির একটি। যখন বড় বড় অর্থনীতি অস্থিরতার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন ভারতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, ধারাবাহিক সংস্কার এবং বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক প্রভাব দেশটিকে শক্ত অবস্থানে থেকে দরকষাকষির ক্ষমতা দিয়েছে। তাঁর দৃষ্টিতে, ভারত এখন আর শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবণতার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না, বরং (Borge Brende) সেই প্রবণতাগুলি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে (India)।

  • T20 World Cup 2026: টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ! টাইগার্সদের খেলতে হবে ভারতেই, জানাল আইসিসি

    T20 World Cup 2026: টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ! টাইগার্সদের খেলতে হবে ভারতেই, জানাল আইসিসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতেই খেলতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বাংলাদেশকে (Bangladesh) চুড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বাংলাদেশকে শেষবার সতর্ক করল আইসিসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করে আইসিসি বলেছে, হয় ভারতে খেলুন না হলে অন্য দলকে সুযোগ করে দেওয়া হবে। আইসিসি বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এর মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত না নিলে অন্য কোনও দলকে বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হবে।

    বাংলাদেশকে বার্তা

    গত শনিবার ঢাকায় বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইসিসি’র দুই শীর্ষ কর্তা। বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল, বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় (Srilanka) স্থানান্তর করা হোক। কেন তারা ভারতে (India) খেলতে আসতে চায় না, তা নিয়ে বাংলাদেশে বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের ক্রিকেটার, সমর্থক সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলদেশ সরকার। তা আইসিসি-র প্রতিনিধিদের জানিয়েছে বিসিবি। এই বৈঠকে বাংলাদেশকে অন্য গ্রুপে স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের কোনও প্রস্তাবে সায় নেই আইসিসি-র। ফলে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ যদি টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে বিকল্প দেশকে নেওয়া হতে পারে তাদের জায়গায়।

    বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড!

    ২০২৬ আইপিএল টুর্নামেন্ট থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই বিসিসিআই (BCCI) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। ইতিমধ্যে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের মাটিতে তারা আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না। ব্যাপারটা নিয়ে ইতিমধ্যে আইসিসি-র সঙ্গে যথেষ্ট টানাপোড়েন চলছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ (ICC T20I World Cup 2026)। আইসিসি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা স্বল্প সময়ের নোটিসে টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে আগ্রহী নয়। সূত্রের খবর, আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো স্থানান্তরের কোনও কারণ দেখছে না। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের কোনও বিপদ নেই। আর সেকারণে ভেন্যু বদলের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখনও পর্যন্ত সেই পুরনো কাসুন্দিই ঘেঁটে যাচ্ছে। যদি বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই তাদের বিদায় নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে ব়্যাঙ্কিং অনুসারে, স্কটল্যান্ড ক্রিকেট দল ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

LinkedIn
Share