Tag: India

India

  • India: মলদ্বীপের জন্য ৩০ বিলিয়ন টাকা তোলার অনুমোদন দিল ভারত

    India: মলদ্বীপের জন্য ৩০ বিলিয়ন টাকা তোলার অনুমোদন দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সার্ক (SAARC Currency) কারেন্সি সোয়াপ ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় প্রথমবারের মতো মলদ্বীপের জন্য ৩০ বিলিয়ন টাকা তোলার অনুমোদন দিল ভারত (India)। এর জেরে দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রতি ভারতের আর্থিক সহায়তা আরও জোরদার হল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    ভারতীয় হাইকমিশনের বক্তব্য (India)

    মালের ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এই অর্থ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং মলদ্বীপ সরকারের মধ্যে হওয়া চুক্তির প্রথম কিস্তি হিসেবে ছাড়া হচ্ছে। এই চুক্তিটি হয়েছিল মলদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুইজুর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে, নয়াদিল্লি সফরের সময়। উল্লেখ্য, এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে মলদ্বীপের নেওয়া পূর্ববর্তী ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসুবিধার মেয়াদপূর্তির পর। এটি নেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরেই। মলদ্বীপের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই ঋণ শোধ সরকারের আর্থিক দায়বদ্ধতা পালনের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে (India)।

    ‘নেবারহুড ফার্স্ট’

    ২০১২ সালে এই ফ্রেমওয়ার্ক চালু হওয়ার পর থেকে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মলদ্বীপকে মোট ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও (SAARC Currency) বেশি সোয়াপ সাহায্য দিয়েছে। হাইকমিশন আরও জানিয়েছে, এই সুবিধাটি মলদ্বীপের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে (India)। এছাড়া, ভারত তার ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ (Neighbourhood First) নীতি এবং ‘ভিশন মহাসাগর’ (Vision MAHASAGAR) -এর আওতায় মলদ্বীপকে সাহায্য দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এটি প্রয়োজনে একটি বিশ্বস্ত অংশীদার ও প্রথম সাহায্যকারী হিসেবে ফের একবার নিশ্চিত করল ভারতের ভূমিকা (SAARC Currency)।

     

  • Mohan Bhagwat: ‘‘জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য বলতে বাগাড়ম্বর বোঝায় না, প্রকৃত জ্ঞান হল উপলব্ধি”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: ‘‘জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য বলতে বাগাড়ম্বর বোঝায় না, প্রকৃত জ্ঞান হল উপলব্ধি”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ এপ্রিল ছিল আদি শঙ্করাচার্য জয়ন্তী। এই শুভ দিনে ত্রিপুরার মোহনপুর মহকুমার ফকিরমুরা গ্রামে মা ত্রিপুরেশ্বরীর উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত মা সৌন্দর্য চিন্ময়ী মন্দিরের উদ্বোধন করা হল (Mohan Bhagwat)। চিন্ময় মিশন দ্বারা নির্মিত এই মন্দিরের উদ্বোধন সংস্থাটির ৭৫তম বার্ষিকীর সঙ্গে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় (RSS)। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, ছিলেন আধ্যাত্মিক নেতারাও।

    উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা (Mohan Bhagwat)

    আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল তথা ত্রিপুরা রাজবংশের জিষ্ণু দেববর্মণ এবং রাজমাতা বিভু কুমারী দেবী। অনুষ্ঠানের পর মন্দির প্রাঙ্গণে একটি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে ভক্তি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক অংশগ্রহণের এক অপূর্ব মিশ্রণ প্রতিফলিত হয়। এই সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে সরসঙ্ঘচালক আরএসএসের মোহন ভগবত, সমাজের দুর্বল অংশের জন্য চিন্ময় হরিহর বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্য-সহ সমাজের প্রতি চিন্ময় মিশনের সেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    জ্ঞান বা পাণ্ডিত্যের সংজ্ঞা

    প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর ভাষণে  ভগবত জ্ঞান এবং প্রকৃত উপলব্ধির মধ্যে গভীর পার্থক্যের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য বলতে কেবল বাগাড়ম্বর বোঝায় না, প্রকৃত জ্ঞান হল উপলব্ধি। গত দু’হাজার বছরে, বিশ্ব বিজ্ঞান থেকে সমাজতন্ত্র পর্যন্ত সব কিছু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। তবুও আজ, তামাম বিশ্ব উপলব্ধি করছে যে সমগ্র বিশ্বের প্রয়োজন ভারতের বিশ্বদৃষ্টি এবং সনাতন ধর্মের পথনির্দেশনা।” তাঁর মতে, সনাতন ধর্ম বর্তমানে সমগ্র বিশ্বকে সঠিক পথ দেখাচ্ছে। মন্দিরের সামাজিক ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে সরসংঘচালক বলেন, “মন্দির শুধু উপাসনার স্থান নয়, এটি ভারতীয় সামাজিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুও। বর্তমান যুগে শক্তির পাশাপাশি ভক্তিও প্রয়োজন (Mohan Bhagwat)।”

    ভাগবতের সতর্কবার্তা

    দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরসঙ্ঘচালক একটি সতর্কবার্তাও দেন। তিনি বলেন, “ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের শক্তি নিহিত। কিন্তু ভারতের এই উত্থান থামাতে বহিরাগত শক্তিগুলি ক্রমাগত আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে আমাদের সকলকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।” অনুষ্ঠানের শুরুতে ত্রিপুরার রাজমাতা বিভু কুমারী দেবী ভারতের শাশ্বত ঐক্যের বার্তা দেন (RSS)। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের সকলের মাতৃভূমি হল আমাদের ভারতবর্ষ।” তিনি প্রত্যেক নাগরিকের হৃদয়ে ভারতমাতার প্রতি আত্মসমর্পণের চেতনা জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানান। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা তাঁর ভাষণে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভগবতের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন (Mohan Bhagwat)।

    মন্দিরের স্থাপত্যের প্রশংসা

    মন্দিরের সুন্দর স্থাপত্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই মন্দিরটি শুধু ত্রিপুরার জন্যই নয়, সমগ্র ভারতের মানুষের জন্য আধ্যাত্মিকতা ও শ্রদ্ধার আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখাবে।” মুখ্যমন্ত্রী চিন্ময় মিশনের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের এই মহান উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দাসেনা রেড্ডি বর্তমান ভোগবাদী সামাজিক ব্যবস্থায় চিন্ময় মিশনের ভূমিকার গভীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ত্রিপুরার মতো একটি সীমান্ত রাজ্যে এই (RSS) বিদ্যালয় ও মন্দির স্থাপন করা কেবল একটি ধর্মীয় কাজ নয়, এটি একটি অনন্য সামাজিক সংস্কার প্রচেষ্টা (Mohan Bhagwat)।”

     

  • Mohan Bhagwat: “সংস্কৃত ভাষা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “সংস্কৃত ভাষা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সংস্কৃত (Sanskrit) ভাষা জানা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন আরএসএসের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। আজ, ২০ এপ্রিল ২০২৬-এ ডিডিইউ মার্গে সংস্কৃত ভারতীর কার্যালয় ‘প্রণবে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথাগুলি বলেন তিনি। ভাগবত বলেন, “‘প্রণব’ নামে নতুন কার্যালয়ের এই উদ্বোধন একটি শুভ মুহূর্তে হচ্ছে। এটি আমাদের সবার জন্য আনন্দ ও উৎসাহের বিষয়। বিশ্বাস করা হয় যে অক্ষয় তৃতীয়ায় শুরু করা যে কোনও কাজ স্থায়ী ও সফল হয়।”

    সংস্কৃত ভারতের প্রাণশক্তি (Mohan Bhagwat)

    তিনি বলেন, “সংস্কৃত ভারতের প্রাণশক্তি, কারণ চিন্তা, জীবন ও সংস্কৃতির প্রাচীনতম জীবন্ত ঐতিহ্য এখনও এর মাধ্যমে বিদ্যমান। ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এমন এক ধারার প্রতিনিধিত্ব করে যা জীবিত ও জড়—সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করে। এই কর্তব্য পালন করতে হলে ভারতকে জানতে, গ্রহণ করতে এবং নিজেকে ভারতের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” সমবেত শ্রোতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “সংস্কৃত একটি ভাষা হলেও, এটি শুধু ভাষা নয়। আপনি যদি সংস্কৃত জানেন, তবে যে কোনও ভারতীয় ভাষা বোঝা সম্ভব। ভারতে সংস্কৃত জাতির আত্মা, কারণ এটি চিন্তা, জীবন ও সংস্কৃতির প্রাচীনতম ঐতিহ্য, যা আজও জীবন্ত (Sanskrit)।”

    ভারত একটি জীবন্ত ঐতিহ্য

    তিনি ভারতের দার্শনিক ধারণা ব্যাখ্যা করে বলেন, “ভারতের অস্তিত্ব শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি কেবল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সত্তাও নয়। ভারত একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যার ওপর জীবনের ধারাবাহিকতা নির্ভর করে।” সরসংঘচালক বলেন, “শৈশবে স্কুলে সংস্কৃত শেখা কঠিন মনে হত। পাঠ্যক্রমে ‘শ্লোক’ মুখস্থ করতে হত, যা ভাষাটিকে কঠিন বলেই মনে করাত। কিন্তু বাড়িতে যখন সেই একই শ্লোক শুনতাম, তখন তা আর কঠিন বলে মনে হত না।” আরএসএস কর্তা বলেন, “আজও এই সমস্যাটি রয়ে গিয়েছে। শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতকে কঠিন মনে করে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন? বাস্তবে ভাষা শেখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হল কথোপকথন, বই নয় (Sanskrit)।”

    কথোপকথনই ভাষা শেখার সেরা উপায়

    তিনি বলেন, “কথোপকথনই ভাষা শেখার সেরা উপায়, ব্যাকরণ নয়। আমি যখন ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করি, স্থানীয় ভাষার সব শব্দ না জানলেও মূল ভাব বুঝতে পারি। নিয়মিত শোনা ও বলার মাধ্যমে ভাষা স্বাভাবিকভাবে শেখা যায়। তাই ভাষা শেখার সর্বোত্তম উপায় হল সেই ভাষাভাষীদের মধ্যে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং নিজেও বলা (Mohan Bhagwat)।” সংস্কৃত ভারতীর প্রশংসা করে ভাগবত বলেন, “এই সংগঠন অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে সংস্কৃতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং কথোপকথন পদ্ধতিতে ভাষাটিকে জনপ্রিয় করেছে।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে সমাজে সংস্কৃতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি মানুষকে তাদের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সঙ্গে ফের যুক্ত করছে, ফলে সংস্কৃত শেখা ও বোঝার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।” তিনি বলেন, “নতুন কার্যালয় নির্মাণ অবশ্যই আনন্দের বিষয়। তবে মনে রাখতে হবে, কার্যালয় কাজের কারণ নয়, বরং কাজের বিস্তারের ফল।”

    সংস্কৃত সংরক্ষণ

    এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “অক্ষয় তৃতীয়ার পবিত্র দিবসে ‘প্রণব’ নামে সংস্কৃত ভারতীর নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনের খবর জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি ভারতের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ (Mohan Bhagwat)।” তিনি এও বলেন, “সংস্কৃত আমাদের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের বাহক। এর মধ্যে বিজ্ঞান, দর্শন-সহ নানা জ্ঞানের ধারাবাহিক প্রবাহ রয়েছে, যা মানবতার পক্ষে আশীর্বাদস্বরূপ। সংস্কৃতের (Sanskrit) মহিমা অসীম।” প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, গত ১১ বছরে সংস্কৃত সংরক্ষণ ও প্রচারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন শিক্ষা নীতিতে ভারতীয় ভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সংস্কৃত ভবিষ্যতেরও ভাষা

    তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমি ‘সুভাষিত’ শেয়ার করে শাস্ত্রের জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সংস্কৃত শুধু অতীতের ভাষা নয়, বর্তমান এবং ভবিষ্যতেরও ভাষা।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভাষার শিক্ষা ও প্রসারের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক (Sanskrit) আত্মা নতুন শক্তি লাভ করবে। সংস্কৃত ভারতীর সকল কর্মীদের নিষ্ঠা এবং সংস্কৃত ভাষার উন্নয়নে তাঁদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় (Mohan Bhagwat)।” তাঁর আশা, ‘প্রণব’ কার্যালয়ের উদ্বোধন এই যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

     

  • School Jihad: মুম্বইয়ে এবার ‘স্কুল জেহাদ’, পরিচালনায় মুসলিম ‘ল্যান্ড মাফিয়া’

    School Jihad: মুম্বইয়ে এবার ‘স্কুল জেহাদ’, পরিচালনায় মুসলিম ‘ল্যান্ড মাফিয়া’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ে কথিত ‘স্কুল জেহাদ’ (School Jihad) নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, সেটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বৃহন্মুবই মিউসিপাল কর্পোরেশন (BMC)-এর প্রস্তুত করা একটি তালিকার (Muslim Land Mafia) উল্লেখ করে কিরীট সোমাইয়ার দাবি, বর্তমানে শহরে ১৬৪টি অবৈধ স্কুল চালু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি স্কুল এক মুসলিম ‘ল্যান্ড মাফিয়া’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুমান। এই স্কুলগুলি সরকারি স্বীকৃতি বা অনুমতি ছাড়াই চলছে। আরও অভিযোগ, এগুলির উদ্দেশ্য দ্বিমুখী—একদিকে জমি দখল, অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রচার।

    সোমাইয়ার বক্তব্য (School Jihad)

    পরিসংখ্যান দেখিয়ে সোমাইয়া বলেন, “মুম্বইয়ে আগে ‘ল্যান্ড জেহাদ’, ‘কর্পোরেট জেহাদ’, ‘লাভ জেহাদ’ এবং ‘কোচিং জেহাদ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই তালিকায় নবতম সংযোজন ‘স্কুল জেহাদ’। সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এই কার্যকলাপ চলছে এবং গোবিন্দি, মালাড ও কুর্লা এলাকার বহু স্কুল এতে জড়িত। সাধারণত প্রথমে একটি জমি দখল করা হয়। তারপর রাতারাতি সেখানে স্কুল বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান তৈরি করে অবৈধ দখলকে স্থায়ী করা হয়। সোমাইয়ার মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ। তাঁর অভিযোগ, ল্যান্ড মাফিয়া প্রথমে বেআইনিভাবে জমি দখল করে এবং পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ধীরে ধীরে নির্মাণকাজ শুরু করে। এতে একদিকে যেমন অবৈধ দখলকে বৈধতার ছাপ দেওয়া হয়, অন্যদিকে তেমনি কঠিন হয়ে পড়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া। তাঁর আরও অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে এই স্কুলগুলির ভেতরে বা আশপাশে মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছে (School Jihad)।

    এই ঘটনা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গেও যুক্ত!

    এই জাতীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমাইয়া কর্পোরেশনের কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, গত দুই দশকে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হল দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অবহেলা। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে এত অবৈধ স্কুল গড়ে উঠত না (Muslim Land Mafia)। সোমাইয়া এই ঘটনাকে অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই স্কুলগুলির মাধ্যমে মুম্বইয়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও কর্পোরেশনের কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। তাঁর দাবি, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে এবং খুব শিগগিরই তা কার্যকর হবে।

    ‘জেহাদ’ শব্দের ব্যাখ্যা

    এই বিতর্কের আবহে ‘জেহাদ’ শব্দটির ব্যাখ্যা নিয়েও জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, ‘জেহাদ’ মূলত সংগ্রাম বা আত্মসংযমের প্রতীক—নিজেকে উন্নত করা এবং নিজের দোষত্রুটির বিরুদ্ধে লড়াই করা। এটি সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত: ‘জেহাদ-আল-আকবর’ (অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম) এবং ‘জেহাদ-আল-আসগর’ (বাহ্যিক সংগ্রাম)। অধিকাংশ পণ্ডিত অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং শব্দটির সঙ্গে হিংসার সম্পর্ককে ভুল ব্যাখ্যা বলে মনে করেন। তবে কিছু লেখক এবং গবেষক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন (School Jihad)। কিছু লেখকের মতে, ইতিহাসে জেহাদ শুধু আধ্যাত্মিক ধারণা হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্প্রসারণের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁদের দাবি, ইসলামের বিস্তারের জন্য বিভিন্ন উপায় (হিংসা-সহ) ব্যবহৃত হয়েছে (Muslim Land Mafia)।

    জেহাদের ইতিহাস

    অ্যানড্রিউ জি বস্টম তাঁর বই ‘দ্য লিগেসি অফ জেহাদে’ লিখেছেন, জেহাদের ইতিহাস কেবল আধ্যাত্মিক সংগ্রামে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ও সামরিক সম্প্রসারণের একটি সংগঠিত প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। রবার্ট স্পেনসার তাঁর বই ‘দ্য পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট গাইড টু ইসলামে’ বলেন, ইসলামের প্রাথমিক বিস্তার অনেকাংশে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ঘটেছিল। এমএ খান তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে জেহাদ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যাট ইয়র তাঁর বই ‘দ্য ধিম্মি’তে লিখেছেন, অ-মুসলিমদের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের ফলে অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন (School Jihad)। ভারতীয় ইতিহাসের ক্ষেত্রেও কিছু গবেষণার উল্লেখ করা হয়। সীতারাম গোয়েল তাঁর গ্রন্থে মধ্যযুগে মন্দির ধ্বংসের পেছনে ধর্মীয় উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। কেএস লালের মতে, মধ্যযুগীয় যুদ্ধে বন্দিদের দাসে পরিণত করে ধর্মান্তরিত করা হত। মাইকেল বোনের জেহাদকে একটি সামাজিক-রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মাজিদ খাদুরি ইসলামি আইনে জেহাদকে রাষ্ট্র বিস্তারের একটি উপায় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন (Muslim Land Mafia)। সব মিলিয়ে, মুম্বইয়ে ‘স্কুল জেহাদ’ নিয়ে ওঠা অভিযোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ, এই স্কুলগুলি অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসতি স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রশাসন কী করে, এখন সেটাই (School Jihad) দেখার।

     

  • India South Korea: ভারতের সঙ্গে এআই-সহ ১৫টি ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করল দক্ষিণ কোরিয়া

    India South Korea: ভারতের সঙ্গে এআই-সহ ১৫টি ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করল দক্ষিণ কোরিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জেই মাইয়াং (India South Korea)। সোমবার তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য একটি রূপরেখাও তুলে ধরেন।

    ১৫টি চুক্তিতে স্বাক্ষর (India South Korea)

    ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া মোট ১৫টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জাহাজ নির্মাণ এবং এআই (AI)-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে এই চুক্তিগুলি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য মন্ত্রিস্তরের একটি শিল্প সহযোগিতা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “বর্তমানে বার্ষিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যকে আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে চাই।” দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “এখন এই বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন এক দশকে প্রবেশ করছে।” দুই নেতা বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন।

    ভারত ‘গ্লোবাল সাউথে’র নেতা

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ভারতকে ‘গ্লোবাল সাউথে’র নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন (India South Korea)। “বিকশিত ভারত ২০৪৭” ভিশনের অধীনে দেশের দ্রুত উন্নয়নের প্রশংসাও করেন তিনি। অভ্যর্থনার জন্য ভারতকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমায় এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই (India South Korea)।” প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি দেশ। আট বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”

    প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

    তিনি বলেন, “আমরা একটি শিল্প সহযোগিতা কমিটি গঠন করব, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রথম মন্ত্রিস্তরের প্ল্যাটফর্ম হবে।” এই কমিটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সম্পর্ক শক্তিশালী করার ওপর জোর দেবে (India South Korea)। প্রেসিডেন্ট লি এও বলেন, “আমরা গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন— গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পারমাণবিক শক্তি এবং ক্লিয়ার এনার্জিতে সহযোগিতা বাড়াব।” এই খাতগুলি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মজবুত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জ্বালানি নিরাপত্তাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জ্বালানি সম্পদ ও ন্যাফথার মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”

    প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা সিইপিএ (CEPA) চুক্তি আপগ্রেড করার আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজি হয়েছি, যাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয় (India South Korea)।” ছোট ও মাঝারি ব্যবসার সহায়তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ (India South Korea) দিক। তিনি বলেন, “আমরা এসএমই খাতে সহযোগিতার জন্য এমওইউ সংশোধন করব।” বক্তৃতার একেবারে শেষে তিনি আবারও বলেন, “এই সব প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে চাই (India South Korea)।”

     

  • India-UK Trade Deal: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মে মাসে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ বিকিকিনি

    India-UK Trade Deal: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মে মাসে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ বিকিকিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আগামী মে মাসে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল। তিনি জানান, গত বছরের জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত এই বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (CETA)-র অধীনে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানি পণ্যে ব্রিটিশ বাজারে (India-UK Trade Deal) শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার মিলবে। এর বদলে ভারত ব্রিটিশ কিছু পণ্যের উপর, যেমন গাড়ি ও হুইস্কি, শুল্ক কমাবে। আগরওয়াল বলেন, “আমরা আশা করছি মে মাসের মধ্যেই এই চুক্তি কার্যকর হবে। নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি, কারণ যুক্তরাজ্যের পক্ষেও কিছু আলোচনা বাকি রয়েছে।”

    চুক্তির ফলে ভারতের লাভ

    দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বেশ কিছু কৃষিজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য আমদানির জন্য কোনও শুল্ক লাগবে না। নতুন চুক্তি অনুসারে, হলুদ, গোলমরিচ, এলাচের মতো কৃষিপণ্য এবং আমের শাঁস, আচার, ডালের মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যগুলি ব্রিটিশ বাজারে বিনা শুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি ভারতীয় মৎস্যজীবীরাও উপকৃত হবেন। ভারতের চিংড়ি, টুনা মাছ-সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য বিনা শুল্কে ব্রিটেনের বাজারে আমদানি করা যাবে। এই চুক্তির ফলে ভারত থেকে রফতানি হওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্যই ব্রিটেনের বাজারে বিনাশুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে। তবে স্থানীয়দের স্বার্থের কথা ভেবে আপেল, চিজ, দুগ্ধজাত পণ্য চুক্তির আওতায় আনেনি ভারত। এগুলি আমদানির ক্ষেত্রে কর ছাড় থাকছে না।

    ব্রিটেনের লাভ

    অন্য দিকে ব্রিটেন থেকে ভারতে রফতানি করা বিভিন্ন পণ্যের উপর দফায় দফায় শুল্ক কমিয়ে আনা হবে। এতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে ব্রিটেনের খাদ্য এবং পানীয় প্রস্তুতকারী ক্ষেত্র। এর মধ্যে রয়েছে রয়েছে ব্রিটেনের স্কচ হুইস্কি। বর্তমানে ব্রিটেনের স্কচ হুইস্কির উপর ভারতীয় বাজারে ১৫০ শতাংশ হারে শুল্ক নেওয়া হয়। নতুন চুক্তিতে এই শুল্ক প্রথম ধাপে কমিয়ে ৭৫ শতাংশ করা হবে। তার পরে এক দশকের মধ্যে শুল্ক আরও কমিয়ে ৪০ শতাংশ করে দেওয়া হবে।ব্রিটেন থেকে আমদানি করা স্কচ হুইস্কির এবং জিনের পাশাপাশি জাগুয়ার, ল্যান্ডরোভারের মতো গাড়ি, মেডিক্যাল যন্ত্র, প্রসাধনী, চকোলেট, নরম পানীয়ও সস্তা হবে। ব্রিটেন থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিন গাড়ির উপর বর্তমানে ১১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সেটি কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে নতুন চুক্তিতে। ফলে বৈদ্যুতিন গাড়ির দামও কমতে পারে ভারতে।

    ভারতের বাণিজ্য চুক্তি সমূহ

    এছাড়াও তিনি জানান, ওমান-এর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি আগামী ১ জুনের মধ্যে কার্যকর হতে পারে। গত ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও চামড়াজাত দ্রব্যসহ ভারতের ৯৮ শতাংশ রফতানি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে ভারত ওমানের খেজুর, মার্বেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে। আগরওয়াল আরও বলেন, নিউজিল্যান্ড-এর সঙ্গে ভারতের এফটিএ আগামী ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই চুক্তির লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ভারতীয় পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, আগামী ১৫ বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি চলতি বছরেই সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। সরকারের লক্ষ্য, এই চুক্তি আগামী অর্থবছরের শেষের আগেই কার্যকর করা। অন্যদিকে কানাডা-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। মে মাসে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান বাণিজ্য সচিব।

  • Russian LNG Cargo: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মাঝেই রাশিয়া থেকে ভারতের উদ্দেশে পাড়ি দিল এলএনজি ভর্তি ট্যাঙ্কার

    Russian LNG Cargo: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মাঝেই রাশিয়া থেকে ভারতের উদ্দেশে পাড়ি দিল এলএনজি ভর্তি ট্যাঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির পথে এগোচ্ছে ভারত। এলএসইজি (LSEG) শিপিং ডেটা অনুযায়ী, রাশিয়ার পোর্টোভায়া প্ল্যান্ট থেকে একটি এলএনজি কার্গো ইতিমধ্যেই ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই প্ল্যান্টটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। যদি এই কার্গো সফলভাবে ভারতে পৌঁছায়, তবে এটি হবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম রুশ এলএনজি সরবরাহ।

    ভারতের পশ্চিম উপকূলের দিকে ‘কুনপেং’

    ‘কুনপেং’ নামের একটি এলএনজি ট্যাঙ্কার,বর্তমানে ভারতের পশ্চিম উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। এই ট্যাঙ্কারের ধারণক্ষমতা ১,৩৮,২০০ কিউবিক মিটার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডেলিভারি সফল হলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রুশ এলএনজি-র জন্য নতুন বাজার খুলে যাবে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা বন্ধ করবে। তবে ভারত সরকার কখনও এই ধরনের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। বরং তাদের অবস্থান স্পষ্ট—জ্বালানি কেনা হবে মূল্য, সরবরাহের নিরাপত্তা এবং দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতও এই পরিস্থিতিতে চাপে রয়েছে।

    ভারতের কৌশলগত পদক্ষেপ

    রাশিয়ার পোর্টোভায়া এলএনজি প্ল্যান্টটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চালু হয়। এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১.৫ মিলিয়ন টন। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় এই প্ল্যান্ট থেকে রফতানি ব্যাহত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চিনে এলএনজি সরবরাহ করেছে রাশিয়া। এবার ভারতে এলএনজি পাঠাল রাশিয়া। ভারত যদি এই সরবরাহ গ্রহণ করে, তবে চিনের পাশাপাশি এটি হবে রাশিয়ার জন্য দ্বিতীয় বড় বাজার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০২৭ সালের আমদানি নিষেধাজ্ঞার আগে বিকল্প বাজার খুঁজছেন। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সম্ভাব্য এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • Strait of Hormuz: আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি! হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান, শান্তির দিকে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল ভারত

    Strait of Hormuz: আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি! হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান, শান্তির দিকে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দিল ইরান। বৃহস্পতিবার ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দশদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তারপরই শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। তবে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তেহরানের ওপর সবরকম নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। শান্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকেই তারা স্বাগত বার্তা নয়াদিল্লির।

    ইরানের ঘোষণা

    শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) বলেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল। যা ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক পূর্ব ঘোষিত পথ ধরেই চালিত হবে।” এর ফলে সব বাণিজ্যিক জাহাজ এখন আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত জানায় তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে মাসাধিক কাল যাবৎ অবরুদ্ধ ছিল হরমুজ প্রণালী। জ্বালানি সংকটে ভুগেছে গোটা পৃথিবী। তবে ‘বন্ধু’ ভারতকে আলাদা ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে তেহরান। এখনও পর্যন্ত ভারতের পতাকাবাহী মোট ৮টি জাহাজ হরমুজ পেরিয়েছে।

    ট্রাম্পের বার্তা

    ইরানের এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সোশ্যাল মিডিয়ায় তেহরানকে ধন্যবাদ জানান। ট্রাম্প তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখে জানান,“ইরান এই মুহূর্তে ঘোষণা করল যে, হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। এবার জাহাজ পারাপার করতে পারবে। ধন্যবাদ।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ আপাতত বহাল থাকবে। ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও ইরানের ক্ষেত্রে মার্কিন নৌ অবরোধ “পূর্ণ শক্তিতে” চালু থাকবে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চুক্তি সম্পূর্ণ হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন অবরোধ জারি থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    ট্রাম্পের এই শর্ত শুনেই ক্ষুব্ধ ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ তাঁরা ফের বন্ধ করে দিতে পারেন। কালিবাফ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘মার্কিন অবরোধ চললে হরমুজ প্রণালীও খোলা হবে না।’’ শান্তির আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প একের পর এক ভুয়ো দাবি করে চলেছেন বলেও অভিযোগ করেন কালিবাফ। অন্য দিকে, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলিকে তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং সহযোগিতা করতে হবে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও জানিয়েছে, ‘শত্রু দেশের’ রণতরী বা অন্য কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তাদের জন্য জলপথ বন্ধই রাখা হয়েছে।

    শান্তির পথে সকলকে স্বাগত ভারতের

    যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিশ্বে বারবারই শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছে ভারত। এবারও একই পথে হাঁটল নয়াদিল্লি। শুক্রবার সাপ্তাহিক সংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাই। শান্তির পথে প্রতিটি পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।” হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ইজরায়েলের অনুরোধ এবং হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে ভারতের নীতি সম্পর্কে একটি প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার অধীনেই এই বিষয়গুলো সমাধান করা হয়।” উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের মাঝেই ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি বৈঠকের ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৪ বছর পর হতে চলেছে দু’দেশের ঐতিহাসিক এই বৈঠক। তার আগেই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এই পদক্ষেপকে শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। যদিও এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত ইজরায়েল বা হেজবোল্লার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও বিবৃতি আসেনি।

    জ্বালানি সংকট রুখতে সাহায্য ভারতের

    জ্বালানি সংকট নিয়ে এদিন দিল্লির তরফে বলা হয়, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধ অনুযায়ী তাদের জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও সহায়তা প্রদান করছে। রণধীর বলেন, “আমাদের বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে জ্বালানি সম্পদ সরবরাহের অনুরোধ এসেছে। আমরা ইতোমধ্যেই অনেক দেশকে জ্বালানি সম্পদ সরবরাহ করছি। তবে, এটি আমাদের নিজেদের প্রয়োজন এবং এখানে আমাদের সম্পদের প্রাপ্যতা মাথায় রেখেই করা হচ্ছে।” জয়সওয়াল জানান, “আমরা মার্চ মাসে বাংলাদেশকে ২২,০০০ মেট্রিক টন হাই-স্পিড ডিজেল সরবরাহ করেছি। শ্রীলঙ্কার বিষয়ে বলতে গেলে, আমরা গত মাসে তাদের কাছে ৩৮,০০০ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম পণ্য পাঠিয়েছি। এক সপ্তাহ আগে আমাদের বিদেশমন্ত্রী মরিশাস সফর করেছেন। সে সময় এই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা বর্তমানে মরিশাসের জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি, তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি সরকারি-পর্যায়ের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি।” বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, নেপাল ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং নেপালের মধ্যে। এই চুক্তিগুলোর অধীনে নেপালকে পেট্রোলিয়াম পণ্য তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “প্রতিবেশী প্রথম নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে একইভাবে, ভুটানের সঙ্গেও আমাদের একটি বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। আমরা তাদের জ্বালানি পণ্যও সরবরাহ করছি।”

  • PM Modi: প্রথম বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ, প্রধানমন্ত্রীর মোদির ভারত সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন

    PM Modi: প্রথম বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ, প্রধানমন্ত্রীর মোদির ভারত সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র বালেন শাহ (Nepal PM Balendra) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) ভারত সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। একদিকে যখন তিনি নেপালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে ভিআইপি সংস্কৃতি, আমলাতন্ত্র ও শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে ১০০ দফার এক আমূল পরিবর্তনকারী কর্মসূচি শুরু করেছেন, ঠিক তখনই এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা সামনে এল।

    বালেন শাহের প্রথম বড় সফর (PM Modi)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, “নেপাল সরকার এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রক এখন এই সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।” দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে বালেন শাহের প্রথম বড় কোনো বৈদেশিক বা কূটনৈতিক সফর। এর আগে ২০২৩ সালের জুন মাসে নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল “প্রচণ্ড” ভারত সফর করেছিলেন।

    নেপালে আমূল সংস্কারের উদ্যোগ

    ভারত সফরের (PM Modi) প্রস্তুতির পাশাপাশি কাঠমাণ্ডুতে নতুন সরকার বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন থাকতে পারবে না। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সমস্ত দলীয় ছাত্রসংগঠন ভেঙে দিয়ে সেগুলোর পরিবর্তে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ বা ‘ভয়েস অফ স্টুডেন্টস’ প্ল্যাটফর্ম গঠন করতে হবে।

    ভিআইপি সংস্কৃতি নির্মূল

    সরকারি অফিস থেকে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি সরিয়ে ফেলা এবং ব্যক্তিগত সংবাদমাধ্যমে সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় হ্রাস

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে ১৭টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও মন্ত্রীদের সন্তানদের বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি স্কুলে পাঠাতে হবে।

    স্বাস্থ্য ও পরিষেবা

    গরিবদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে ‘জিরো পেন্ডিং ফাইল’ অভিযান শুরু হয়েছে।

    বালেন শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “স্কুল ও কলেজগুলো আর রাজনীতির আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত হবে না, বরং সেগুলো শুধুমাত্র শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে।”

    ভারতের সাথে সম্পর্ক

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) গত মাসে বালেন শাহকে (Nepal PM Balendra) সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং ভারত-নেপাল বন্ধুত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন। নেপাল সরকারের এই সফরের সিদ্ধান্তকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • Hybrid Terror Modules: একটি সাধারণ মতাদর্শ, একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত! প্রকাশ্যে হাইব্রিড টেরর মডিউল

    Hybrid Terror Modules: একটি সাধারণ মতাদর্শ, একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত! প্রকাশ্যে হাইব্রিড টেরর মডিউল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধরা পড়েছে একাধিক জঙ্গি মডিউল (Hybrid Terror Modules)। তার জেরে প্রকাশ্যে এসেছে চরমপন্থী কার্যকলাপের একটি উদ্বেগজনক ও পরিবর্তিত ধারা (India)। আগে যেখানে জঙ্গিরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকত, এখন তদন্তকারীরা দেখছেন, এদের অনেকেই একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হলেও, তাদের মূল চালিকা শক্তি একটি সাধারণ মতাদর্শ।

    ফরিদাবাদ মডিউল (Hybrid Terror Modules)

    ফরিদাবাদ মডিউলের কথাই ধরা যাক। এই মডিউলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জইশ-ই-মোহাম্মদের। তদন্তকারীরা জানান, তাদের মূল মতাদর্শগত ঝোঁক ছিল ইসলামিক স্টেটের দিকে। এই ধরনের বহু-সংগঠনভিত্তিক সংযোগ জঙ্গি নেটওয়ার্কের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে দিল্লি পুলিশ ও মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনায়ও। আটক দুই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ইসলামিক স্টেট এবং জইশ-ই-মোহাম্মদের। তদন্তকারীদের মতে, এই ধরনের ওভারল্যাপ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর ও পরিকল্পিত কৌশলেরই অংশ।

    কী বলছেন আইবি আধিকারিক

    আইবি-র (ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো) এক আধিকারিকের মতে, এই নয়া প্রবণতা একটি সুপরিকল্পিত পরিবর্তনের ফল। এখন জঙ্গিরা আর কোনও একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে টিকি বেঁধে রাখে না। বরং তারা বিভিন্ন চরমপন্থী মতাদর্শ ও গোষ্ঠী দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করছে (Hybrid Terror Modules)। তাঁর মতে, এটি একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। কারণ ওই ব্যক্তিরা সরাসরি কোনও কমান্ড কাঠামো ছাড়া নিজেরাই জঙ্গি মডিউল তৈরি করছে। এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি স্বাধীনভাবে কাজ করে। তাই নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষে তাদের শনাক্ত করা ও দমন করা ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠছে।

    নয়া মডেলে মদত পাকিস্তানের

    জানা গিয়েছে, এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)। আধিকারিকরা  জানিয়েছেন, আইএসআই এখন এমন একটি মডেলকে উৎসাহিত করছে, যেখানে নিয়োগপ্রাপ্তরা কোনও একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত থাকে না। বরং তারা নিজেরাই তাদের মতাদর্শ ও কার্যপদ্ধতি বেছে নিতে পারে (India)। এই পদ্ধতির বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে। এগুলি হল, দায় অস্বীকার করা সহজ, ঝুঁকি কম, খরচ কম এবং বিদেশে সরাসরি জঙ্গি সংগঠন গড়ার প্রয়োজন নেই। দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি নেয়। তার ফলে দেশের ভেতরে সংগঠিত জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। এই জন্যই পাকিস্তান কৌশল বদলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো শুরু করেছে (Hybrid Terror Modules)।

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার

    অপারেশন সিঁদুরের পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলি লক্ষ্য করেছে পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাপক প্রচার করা হচ্ছে। এই কৌশল ইসলামিক স্টেটের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত পদ্ধতির মতো, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিয়োগ ও উগ্রপন্থায় প্ররোচিত করা হয় (India)। এই প্রোপাগান্ডা ব্যবস্থাটি মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল এবং সহজেই প্রভাবিত হয়, সেই সব তরুণদের টার্গেট করে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লাগাতার তাদের জেহাদি সাহিত্য ও চরমপন্থীমূলক কনটেন্ট দেখানো হয়। এরপর তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে একই ধরণের ইউজারদের একত্রিত করা হয়। তার পরেই ধীরে ধীরে গঠন করা হয় একটি জঙ্গি মডিউল।

    মতাদর্শগত প্রভাব

    জম্মু-কাশ্মীরের বাইরে সাম্প্রতিক বেশ কিছু জঙ্গি হামলার তদন্তেও দেখা গিয়েছে, অধিকাংশই স্ব-প্রণোদিত মডিউল দ্বারা পরিচালিত, যাদের কোনও সরাসরি সংগঠনগত যোগ নেই। তাদের একমাত্র মিল হল, মতাদর্শগত প্রভাব, বিশেষত ইসলামিক স্টেট (Hybrid Terror Modules)। কোয়েম্বাটোরে একটি মন্দির উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় জড়িত জেমশা রুবিন নিজেই উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়েছিল। একইভাবে, বেঙ্গালুরুর রামেশ্বরম ক্যাফে বিস্ফোরণ এবং ম্যাঙ্গালুরু বিস্ফোরণ চেষ্টার ঘটনাগুলিও একই ধরনের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিদের মধ্যে কোনও সরাসরি যোগাযোগ বা সংগঠনগত সম্পর্ক ছিল না। প্রতিটি ঘটনাই ছিল আলাদা, স্বনির্ভর এবং স্ব-প্রণোদিত।

    এই নয়া কৌশল অনুযায়ী, আইএসআই নিয়োগপ্রাপ্তদের কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছে না। বরং ব্যাপকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যাতে লোকজন নিজেরাই মতাদর্শ বেছে নিয়ে নেমে পড়ে সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মে (India)। আধিকারিকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের বিকেন্দ্রীভূত জঙ্গি মডেল আরও বাড়বে। সংগঠিত নেটওয়ার্কের পরিবর্তে মতাদর্শভিত্তিক এই কাঠামো নিরাপত্তার জন্য আরও জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করবে। যার খেসারত দিতে হবে ভারতবাসীকে (Hybrid Terror Modules)।

    অতএব, সাধু সাবধান!

     

LinkedIn
Share