Tag: India

India

  • India Canada: ভারত-কানাডার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা, আগামী তিন মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বললেন পীযূষ গোয়েল

    India Canada: ভারত-কানাডার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা, আগামী তিন মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বললেন পীযূষ গোয়েল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের গতি পেতে চলেছে ভারত ও কানাডার (India Canada) মধ্যে প্রস্তাবিত ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা। ৫ অক্টোবর থেকে এই চুক্তির পঞ্চম দফার আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। দুই দেশই আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্যও রয়েছে।

    সাংবাদিক বৈঠকে গোয়েল ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগামী তিন মাসকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “আগামী ৯০ দিন ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে চলেছে।”

    আলোচনার গতি বাড়ানোয় জোর (India Canada)

    সম্প্রতি মুম্বইয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধুর সঙ্গে গোয়েলের বৈঠকে চতুর্থ দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। দুই পক্ষই আলোচনার গতি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের পরেই ৫ অক্টোবর থেকে পঞ্চম দফার আলোচনা শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।

    প্রস্তাবিত চুক্তির মূল লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ আরও বাড়ানো। পাশাপাশি একে অপরের বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং রফতানিকারী ও আমদানিকারীদের জন্য আরও নিশ্চয়তা তৈরির বিষয়েও চুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আলোচনায় দুই দেশের স্বার্থ ও উদ্বেগকে বিবেচনায় রেখে পারস্পরিক সুবিধাজনক সমঝোতায় পৌঁছনোর চেষ্টা করা হবে।

    ভারত ও কানাডার মধ্যে ওষুধ, প্রকৌশলজাত পণ্য, বস্ত্র, কৃষি, জ্বালানি এবং পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে সেই বাণিজ্য ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

    চুক্তির প্রক্রিয়া

    প্রস্তাবিত ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৩ সালে মোট নয় দফা আলোচনা হয়েছিল। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে ২০২৩ সালের আগস্টে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। পরে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালে নতুন করে চুক্তির প্রক্রিয়া এগোয়। মার্চ ২০২৬-এ দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কাঠামো সংক্রান্ত শর্তাবলিতেও সম্মতি হয় (India Canada)।

    কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মন্ত্রকও ২১ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, দুই দেশ ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং চলতি বছরের মধ্যে পারস্পরিকভাবে লাভজনক একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর বিষয়ে কানাডার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

    পরবর্তী দফার আলোচনা

    ফলে ৫ অক্টোবর শুরু হতে চলা পরবর্তী দফার আলোচনায় এখনও অমীমাংসিত বিষয়গুলিতে কতটা অগ্রগতি হয় এবং দুই দেশ চুক্তির দিকে কতটা এগোতে পারে, এখন সেটাই দেখার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাম্প্রতিক আলোচনার গতি এবং দুই দেশের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস ভারত-কানাডার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে (India Canada)।

     

  • Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার আহ্বান জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar)। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক কূটনৈতিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বিশ্বব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ, জ্বালানি-খাদ্য-সার-অর্থের ‘চার এফ’ সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন (India)। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন, শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদার’ শীর্ষ বৈঠকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন জয়শঙ্কর। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এই প্রথম শীর্ষ বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও কার্যকর, প্রতিনিধিত্বমূলক ও স্বচ্ছ করে তোলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

    ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, বললেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)

    বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, কয়েক দশক ধরে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক কাঠামোগত বিবর্তনের অংশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরাসরি সংঘাত সেই পরিবর্তনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।তাঁর কথায়, “বিশ্বব্যবস্থা এখন যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে।”

    জয়শঙ্কর সতর্ক করেন, এই চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, বিশ্বব্যাপী সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য বহুপাক্ষিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচার, নীতি প্রয়োগের কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম ও বিধি যাতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভিত্তি হয়ে থাকে, সেই বিষয়েও জোর দেন তিনি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)। তাঁর মতে, এর ফলে রাষ্ট্রসংঘের ব্যবস্থার উপর দেশগুলির আস্থা আরও দৃঢ় হতে পারে।

    ‘চার এফ’ সঙ্কট

    জয়শঙ্করের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘চার এফ’ সঙ্কট। জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ক্ষেত্রে সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার সমস্যা কীভাবে এক দেশ বা অঞ্চলের সীমানা পেরিয়ে বৃহত্তর বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারে, তা তুলে ধরেন তিনি। জয়শঙ্কর বলেন, “জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ‘এফ’ সঙ্কটকে নিজের মতো করে চলতে দেওয়া যায় না।” তাঁর মতে, এই সঙ্কটের সঙ্গে শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের প্রশ্ন সরাসরি যুক্ত। তাই কেবল কূটনৈতিক ঘোষণার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার, নতুন প্রযুক্তি, উন্নয়নমূলক অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, স্থিতিস্থাপক সরবরাহ ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং মহামারি মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এখানে যে বিষয়গুলি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেগুলি অত্যন্ত বাস্তব সমস্যা—শুধু শব্দ বা অভিব্যক্তি নয়।” তাঁর মতে, এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শেষ পর্যন্ত নির্ভরতা রয়েছে দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার সদিচ্ছার উপর (India)।

    ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্যের আহ্বান

    বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যে (Jaishankar) নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কথাও বলেন বিদেশমন্ত্রী। নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতার সঙ্গে নতুন উদ্বেগ তৈরি হলে তার জন্য উপযুক্ত কাঠামো এবং নিরাপত্তাবিধি থাকা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

    জয়শঙ্করের বক্তব্য, “যেখানে নতুন সক্ষমতা ও নতুন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, সেখানে উপযুক্ত কাঠামো ও নিরাপত্তাবিধির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত স্পষ্ট।”

    একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস ও পথ তৈরি করার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথে বাধা, কোনও একটি পক্ষের আধিপত্য অথবা আকস্মিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি থাকলে সেই ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।

    চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রেও বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সমস্যাগুলির পৃথক সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অর্জিত সাফল্যগুলি সংরক্ষণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়া উচিত।

    ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বৈঠক

    রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্কট এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত ও ফ্রান্সের বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ আলোচনা করে। ফরাসি বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশ আন্তর্জাতিক আইন এবং সংস্কারকৃত ও কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ইকুয়েডরের বিদেশমন্ত্রী রবার্তো কুরির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও ওষুধশিল্প, মানুষের যাতায়াত, কর্মী প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং রাষ্ট্রসংঘ-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়।

    স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী ইউরাজ ব্লানারের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও (Jaishankar) গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। হাঙ্গেরির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী অনিতা অরবানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সুইজারল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ভারত-সুইজারল্যান্ড অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী নাউরুর রাষ্ট্রপতি ডেভিড আদেয়াংয়ের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় (India)।

    সংস্কার ও সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে ভারতের কূটনীতি

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে কৌশলগত চাপ বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের মূল ভাবনা—বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনকে সামলে এমন একটি রাষ্ট্রসংঘে গড়ে তোলা, যা সকলের জন্য কার্যকর।

    এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৃহত্তর অংশগ্রহণ এবং আরও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছে। জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায়ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ বিতর্কে ২৬ সেপ্টেম্বর জয়শঙ্করের (Jaishankar) বক্তব্য রাখার কথা। সেখানে বিশ্ব পরিচালনা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে ভারতের অগ্রাধিকার আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • UNSC Seat: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবিতে সমর্থন ইউরোপের চার দেশের

    UNSC Seat: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবিতে সমর্থন ইউরোপের চার দেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের (India) দীর্ঘদিনের দাবিতে মিলল নতুন কূটনৈতিক সমর্থন। মধ্য ইউরোপের চার দেশ—হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র—ভারতের দাবির প্রতি সমর্থন (UNSC Seat) জানিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে প্রথম ভারত ও ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠীর বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সমর্থন সামনে আসে।

    ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠী (ভি-৪)-র সদস্য চার দেশই ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। বৈঠকের পর স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী ইউরাজ ব্লানার বলেন, “আমরা ভি-৪-এর চার দেশই একমত যে, গ্লোবাল সাউথের অংশ এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতের উচিত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে সেই টেবিলে থাকা।”

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই বৈঠককে “একটি নতুন ঐতিহাসিক উপলক্ষ” বলে উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে শুধু নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার নয়, ভারত ও ভি-৪ দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    কেন নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ চায় ভারত (India)

    ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হওয়ার সময় বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা আজকের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। বর্তমানে পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য—আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন। বাকি ১০টি সদস্য দেশ সাধারণ পরিষদে নির্বাচিত হয় এবং তাদের মেয়াদ দু’বছর।

    ভারতের যুক্তি, বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যা, অর্থনীতি, কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন দেশের ভূমিকা নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোয় যথেষ্ট প্রতিফলিত হয় না। ভারত বহুবার নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হয়েছে; সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে দুই বছরের মেয়াদে পরিষদে ছিল।

    জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ভারতের অবদান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তি নিয়ে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা—স্থায়ী সদস্যপদের দাবির অন্যতম ভিত্তি।

    একা নয় ভারত, পাশে একাধিক দেশ

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবির সমর্থন করেছে বিশ্বের একাধিক দেশ। ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের দাবিকে সমর্থন করে আসছে। ব্রিটেনও সম্প্রসারিত নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে। আমেরিকা নীতিগতভাবে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদকে সমর্থন করেছে বলে বিভিন্ন সরকারি ও কূটনৈতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে। রাশিয়াও ভারতের দাবিকে সমর্থন করেছে।

    ভারত ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের সঙ্গে জি-৪ গোষ্ঠীর সদস্য। এই চার দেশ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে পরস্পরের প্রার্থিতাকে সমর্থন করে এবং সংস্কার নিয়ে আলোচনায় নিজেদের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় রাখে (UNSC Seat)।

    জি-৪-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বর্তমান ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ অথবা ২৬ করা যেতে পারে। এর মধ্যে ছ’টি নতুন স্থায়ী সদস্যপদ এবং চার অথবা পাঁচটি নতুন অস্থায়ী সদস্যপদ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। জি-৪-এর নথিতে নতুন স্থায়ী সদস্যদের ক্ষেত্রে আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হয়েছে (India)।

    স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে ঘিরেই বড় জটিলতা

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে সংস্কারের কাঠামো নিয়ে মতপার্থক্য। কতগুলি দেশকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, কোন কোন অঞ্চল নতুন সদস্যপদ পাবে এবং নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না—এই প্রশ্নগুলিতে এখনও ঐকমত্য নেই।

    বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের হাতে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্তত ন’টি সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কেউ ভেটো প্রয়োগ না করলে তবেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।

    ভারতের দাবির ক্ষেত্রে চিনের অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বেজিং ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে স্পষ্টভাবে সমর্থন করেনি। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে বৃহত্তর ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তার কথা চিন বলে আসছে।

    ফলে কোনও দেশ ভারতের স্থায়ী সদস্যপদকে সমর্থন করলেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রতিটি বিষয়, বিশেষ করে ভেটো ক্ষমতা নিয়ে তার সঙ্গে ভারতের মত এক হবে—এমন নয়।

    ভেটো ক্ষমতা নিয়েও ভারতের অবস্থান

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আলোচনায় ভেটো ক্ষমতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বর্তমানে পাঁচ স্থায়ী সদস্য এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে (India)। নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্যদের এই ক্ষমতা নেই।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, নতুন স্থায়ী সদস্য তৈরি হলে তাদের অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে পুরনো স্থায়ী সদস্যদের থেকে আলাদা শ্রেণি তৈরি করা উচিত নয়। জি-৪-এর সাম্প্রতিক প্রস্তাবেও নতুন স্থায়ী সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তমান স্থায়ী সদস্যদের সমতুল্য করার কথা বলা হয়েছে। তবে ভেটো ক্ষমতা নিয়ে সংস্কারের পরবর্তী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে (UNSC Seat)।

    ভারত-ভি-৪ সম্পর্কে নতুন অধ্যায়

    নিরাপত্তা পরিষদ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভারত ও ভি-৪ দেশগুলি নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি বছর বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং একটি বার্ষিক বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক যেমন গভীর হচ্ছে, তেমনই ভি-৪ দেশগুলির সঙ্গেও আমরা কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেব। একটি বার্ষিক বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজন করা হবে এবং বিদেশমন্ত্রীরা প্রতি বছর বৈঠকে বসবেন। এই বিষয়ে আমাদের ঐকমত্য হয়েছে।”

    প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির মতো আন্তর্জাতিক সংকট নিয়েও মতবিনিময় করেন মন্ত্রীরা (UNSC Seat)।

    কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই সমর্থন?

    ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠীর চার দেশের সমর্থন ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে নতুন কূটনৈতিক সমর্থন দিলেও এর ফলে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে না। রাষ্ট্রসংঘের সনদ সংশোধনের জন্য সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদনের পাশাপাশি সব স্থায়ী সদস্যের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অনুমোদন প্রয়োজন।

    তবে ভারতের জন্য এই সমর্থনের গুরুত্ব রয়েছে। ইউরোপের মধ্যাঞ্চলের চারটি দেশ একই সঙ্গে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে (UNSC Seat) ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আরও একটি সম্মিলিত সমর্থন যুক্ত হল (India)।

     

  • Asian Games: এশিয়ান গেমসে দ্বিতীয় দিনেও ভারতের দাপট, শুটিংয়ে জোড়া পদক-সহ ঝুলিতে একাধিক সাফল্য

    Asian Games: এশিয়ান গেমসে দ্বিতীয় দিনেও ভারতের দাপট, শুটিংয়ে জোড়া পদক-সহ ঝুলিতে একাধিক সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানে চলতি ২০২৬ এশিয়ান গেমসে (Asian Games) দ্বিতীয় দিনেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাল ভারত। শুটিংয়ে এল তিনটি পদক। মিক্সড মার্শাল আর্টস থেকেও মিলল আরও একটি ব্রোঞ্জ। মহিলা হকি, কবাডি, টেবিল টেনিস-সহ একাধিক খেলায়ও জয় পেল ভারতীয় দল (India)।

    দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এল পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে। ব্যক্তিগত ফাইনালে জোড়া পদক জিতল ভারত। হিমাংশু ধিলোঁ রুপোর পদক দখল করেন, আর রুদ্রাংশ পাটিল জেতেন ব্রোঞ্জ। এর আগে ধিলোঁ ও পাটিল পার্থ মানের সঙ্গে মিলে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল দলগত বিভাগেও রুপোর পদক জিতেছিলেন।

    মার্শাল আর্টস বিভাগেও মেডেল (Asian Games)

    মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী ৬০ কেজি মিক্সড মার্শাল আর্টস বিভাগেও ব্রোঞ্জ এল ভারতের ঘরে। সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের হুই হুন তেও-র কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হারেন সুচিকা তারিয়াল। ম্যাচের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল আবেদন জানালেও সেই সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ফলে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সুচিকাকে।

    হকিতে অবশ্য ভারতের জয়ের ধারা অব্যাহত। পুল বি-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ১৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের মহিলা দল। প্রতিযোগিতায় এটি ভারতের টানা দ্বিতীয় জয়। শুরু থেকেই দুরন্ত পারফরম্যান্স করে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত।

    কবাডিতেও জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল ভারতের পুরুষ দল। গ্রুপ এ-র ম্যাচে জাপানকে ৪৯-২৪ পয়েন্টে হারায় ভারত। ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নেয় ভারতীয় দল।

    মহিলাদের টেবিল টেনিসেও সাফল্য এসেছে। পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ এফ-এর শীর্ষে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ভারত। ব্যাডমিন্টনে পুরুষদের শেষ ষোলো পর্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শুরুতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।

    জয় সাঁতারেও

    সাঁতারে পুরুষদের ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন শ্রীহরি নটরাজ। ঋষভ দাস রিজার্ভ হিসেবে শেষ করেন। অন্যদিকে, পুরুষদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলের ফাইনালে উঠতে পারেননি আকাশ মণি ও গীতেশ শাহ। ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের ফাইনালেও জায়গা হয়নি ধনুষ সুরেশের (Asian Games)।

    সফট টেনিসের মিক্সড ডাবলসে গ্রুপ বি-র ম্যাচে কম্বোডিয়ার ভিভা চাও ও চানরোসেকা খুনকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুরু করেছিলেন আধ্যা তিওয়ারি ও জয় মীনা। তবে পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম ইয়ন-হোয়া ও জ্যাকিউ পার্কের কাছে ১-৫ ব্যবধানে হারেন তাঁরা। সেপাকটাকরোতেও জয় পেল জাপান। গ্রুপ বি-র ম্যাচে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারায় আয়োজক দেশ।

    উশুতে মহিলাদের চাংছুয়ান ফাইনালে ১৫তম স্থানে শেষ করেন নিয়েমান ওয়াংসু। সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় দিনটি (India) একাধিক খেলায় সাফল্যে ভরা ছিল ভারতের। শুটিংয়ে পদক জয়ের পাশাপাশি দলগত খেলাগুলিতেও একের পর এক জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে (Asian Games) ভারতীয় শিবিরে।

     

  • India New Zealand FTA: ২০ অক্টোবর থেকে কার্যকর ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, শুল্কমুক্ত হবে ভারতের ১০০ শতাংশ পণ্য

    India New Zealand FTA: ২০ অক্টোবর থেকে কার্যকর ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, শুল্কমুক্ত হবে ভারতের ১০০ শতাংশ পণ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India New Zealand FTA)। দুই দেশই চুক্তিটি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছে। সোমবার নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে এবং নিউজিল্যান্ডে ভারতের হাইকমিশনার মুআনপুই সাইয়াওই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের নথি বিনিময় করেন। এর ফলে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পথে শেষ প্রক্রিয়াটিও সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “দুই দেশের জন্যই বিজয়। ২০ অক্টোবর ২০২৬, বিজয়া দশমীর দিন থেকে ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হচ্ছে (Vijay Dashami)।”

    চুক্তি সই হয়েছিল এপ্রিলে (India New Zealand FTA)

    গত ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির আওতায় নিউজিল্যান্ড ভারত থেকে আমদানি করা ১০০ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক তুলে নেবে। ফলে ভারতীয় রফতানিকারীরা নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন। বস্ত্র ও পোশাক, ওষুধ, যন্ত্রপাতি, গাড়ি, রত্ন ও গয়না, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চা, কফি এবং মশলার মতো একাধিক ভারতীয় পণ্য এর আওতায় আসবে।

    অন্যদিকে, ভারত নিউজিল্যান্ড থেকে বর্তমান আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশের উপর শুল্ক তুলে নেবে অথবা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৫৭ শতাংশ রফতানি ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এর মধ্যে রয়েছে ভেড়ার মাংস, উল, কয়লা এবং বনজ ও কাঠজাত পণ্য।

    ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে আরও এক দফা শুল্ক হ্রাসের কথা রয়েছে। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের জন্য ভারতের বাজারে নির্বাচিত কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক কোটা ব্যবস্থাও থাকবে। আপেল, কিউই এবং অ্যালবুমিনের মতো পণ্য এই সুবিধার আওতায় আসবে। তবে ভারতের দুগ্ধশিল্পের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা বজায় রাখা হয়েছে।

    বাড়বে সুবিধার পরিসর

    শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, চুক্তিতে পরিষেবা, বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মানুষের যাতায়াত সংক্রান্ত ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে রফতানিকারী, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়ম ও বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরও বেশি নিশ্চয়তা তৈরি হবে (India New Zealand FTA)।

    দুই দেশের সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং দুই দেশের বাজারে পারস্পরিক প্রবেশাধিকার আরও সহজ করা। নিউজিল্যান্ডের ব্যবসাগুলি এর মাধ্যমে ভারতের বিরাট বাজারে আরও বেশি সুযোগ পাবে। একইভাবে ভারতীয় রফতানিকারীরা নিউজিল্যান্ডের বাজারে বিস্তৃত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন (Vijay Dashami)।

    সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালে

    ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ২০২৫ সালের মার্চে নতুন করে শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ হয় এবং ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর নিউজিল্যান্ডের সংসদ চুক্তিটি কার্যকর করার প্রয়োজনীয় আইন অনুমোদন করে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের নথি বিনিময় করে (India New Zealand FTA) দুই দেশ।

     

  • India: লোহিত সাগরে হুথি হামলা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের, মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায়ও উদ্বেগ

    India: লোহিত সাগরে হুথি হামলা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের, মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায়ও উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোহিত সাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুথিদের হামলার (Houthi Attacks) তীব্র নিন্দা করে নয়াদিল্লি (India) জানিয়েছে, এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ বাব আল-মান্দাব দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাও এর ফলে হুমকির মুখে পড়ছে।

    ১৮ সেপ্টেম্বর বিদেশমন্ত্রকের তরফে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, লোহিত সাগর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা, বিশেষ করে সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে নিশানা করার ঘটনায় ভারতের নিন্দার কথাও জানান তিনি।

    উদ্বেগ প্রকাশ জয়সওয়ালের (India)

    জয়সওয়াল বলেন, “লোহিত সাগর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামো-সহ সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলার আমরা নিন্দা জানিয়েছি। পবিত্র শহর মক্কায় হামলার চেষ্টার পরে আমরা যে বিবৃতি দিয়েছিলাম, সেটিও আপনারা দেখেছেন।”

    তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে বা দুর্বল করে এবং বাব আল-মান্দাব দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার জন্যও হুমকি তৈরি করে। বিভিন্ন কারণেই বিষয়টি আমাদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”

    মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায় উদ্বেগ

    লাল সাগর অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যেই ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানান, ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন মক্কার দক্ষিণে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ড্রোনটি পবিত্র শহরের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি ঘটনাটিকে “শত্রুতামূলক ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড” বলে অভিহিত করেন এবং দুই পবিত্র মসজিদ ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তাকে “লাল রেখা” বলে উল্লেখ করেন।

    ১৬ সেপ্টেম্বর ভারত ওই ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। জয়সওয়াল বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও পরিকাঠামোকে বিপন্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা করে ভারত। মক্কার বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    সৌদি আরবের দাবি অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকারীরা। তাঁদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগকে “মনগড়া কথা ও মিথ্যা” বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, হুথিদের সামরিক অভিযান সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেগুলি পবিত্র স্থানগুলি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।

    পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে সংঘাত

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনে হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত পক্ষগুলির মধ্যে লড়াই বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা রেড সি উপকূলের কৌশলগতভাবে (India) গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও সৌদি আরবের তেল রফতানি নিয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ বাব আল-মান্দাব। রেড সি ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আঞ্চলিক সংঘাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যও প্রভাবিত হতে পারে।

    সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করল আমেরিকা

    এদিকে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে আমেরিকাও সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আমেরিকার বিদেশ দফতর সৌদি আরবের জন্য তৃতীয় স্তরের “ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করুন” সতর্কতা জারি করে। একই সঙ্গে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ চতুর্থ স্তরের “ভ্রমণ করবেন না” সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে (India)।

    আমেরিকার সতর্কবার্তায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সোশ্যাল মিডিয়া-সংক্রান্ত স্থানীয় আইনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে (Houthi Attacks)।

    সব মিলিয়ে লোহিত সাগর, ইয়েমেন ও সৌদি আরবকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভারত দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে, একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলের গুরুত্বের কথা (India)।

     

  • India vs Brazil: ঢেলে সাজছে স্টেডিয়াম, টিকিটে সিট নম্বর! ব্রাজিল ম্যাচের আগে যুবভারতীতে আমূল পরিবর্তন

    India vs Brazil: ঢেলে সাজছে স্টেডিয়াম, টিকিটে সিট নম্বর! ব্রাজিল ম্যাচের আগে যুবভারতীতে আমূল পরিবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাশক্তিকে বরণ করে নিতে তৈরি হচ্ছে শহর কলকাতা। নতুন সাজে সেজে উঠছে তিলোত্তমা। ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর প্রীতি ম্যাচে ভারতীয় ফুটবল দলের মুখোমুখি হতে শহরে পা রাখছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (India vs Brazil)। দুর্গাপুজোর আগে এও এক যেন পুজো ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে। আগামী ৩ অক্টোবর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হবে এই ম্যাচ। শুধু ব্রাজিলই নয়, এরপরের ৬ তারিখ এই একই ময়দানে খেলবে উরুগুয়েও। তবে মহারণের বাঁশি বাজার আগেই গ্যালারি ও দর্শক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানালেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)-এর সভাপতি কল্যাণ চৌবে।

    ফুটবল ম্যাচের টিকিটে ‘সিট নম্বর’

    ফেডারেশন সভাপতি জানিয়েছেন, যুবভারতীর সুবিশাল ইতিহাসের পাতায় এই প্রথমবার কোনও ফুটবল ম্যাচের টিকিটে নির্দিষ্ট আসন বা ‘সিট নম্বর’ উল্লেখ করা থাকবে। এর আগে স্টেডিয়ামে সর্বসাধারণের জন্য মুক্ত বা ‘ফ্রি সিটিং’ ব্যবস্থা থাকত, অর্থাৎ দর্শকেরা নিজেদের পছন্দ মতো ফাঁকা আসনে গিয়ে বসতে পারতেন। তবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেই নিয়মে আসছে আমূল বদল। ইতিমধ্যেই এই ম্যাচের সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমর্থকদের মাঠে আসার সময় ই-টিকিট সঙ্গে রাখতে হবে এবং গেটে তা স্ক্যান করিয়ে ভিতরে ঢুকতে হবে। এরপর টিকিটে বরাদ্দ থাকা নম্বর দেখেই নির্ধারিত চেয়ারটিতে বসতে হবে, অন্য কোথাও বসা যাবে না। প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে মেসি কলকাতায় আসার পর গ্যালারিতে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে ভেঙে গিয়েছিল একাধিক বাকেট চেয়ার। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আইএফএ-র (IFA) মাধ্যমে ভাঙা চেয়ারগুলি মেরামতির পাশাপাশি প্রতিটিতে নিখুঁত নম্বর বসানোর কাজ দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।

    গেরুয়া রঙে সাজছে গ্যালারি

    রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুবভারতীর পরিচিত নীল-সাদা রঙ বদলে এই প্রথমবার রূপ পাচ্ছে গৈরিকিকরণে। পুরো স্টেডিয়ামকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি ড্রেসিংরুম ও শৌচাগারগুলিকেও ঢেলে সাজিয়ে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা হচ্ছে। ম্যাচের আনন্দে সামিল করা হচ্ছে কলকাতার তিন প্রথাগত ফুটবল শক্তিকেও। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিং – এই তিন প্রধানের সমর্থকদের জন্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে টিকিটের ওপর বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের ‘B2’ এবং ‘D2’ – এই নির্দিষ্ট দুটি গ্যালারির নির্ধারিত সংখ্যক টিকিটে দেওয়া হবে ১০ শতাংশ (10%) ছাড়। উদাহরণস্বরূপ, ওই টিকিটের দর যদি ১০ টাকা হয়ে থাকে, তবে ১০% ছাড়ের সুবিধায় তা কেনা যাবে। এই ছাড়ের টিকিটগুলি উপলব্ধ থাকবে তিন প্রধানের নিজস্ব ক্লাব টেন্ট এবং আইএফএ-র অফিস থেকে।

  • Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) ভারত সরকার দু’বার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। একটি আমন্ত্রণ ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য। অন্যটি ছিল বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন।

    নয়াদিল্লিতে (India) গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমান যোগ দেননি। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এখনও ভারত সফরে যাননি তিনি। তাঁর প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে এখনও কোনও নিশ্চিত বার্তাও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভারত।

    রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ, তিনি দু’টি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন—একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।” তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আমরা এখনও কিছু শুনিনি।”

    ব্রিকসের আমন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য (Tarique Rahman)

    ভারতের এই বক্তব্যের আগে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, আমন্ত্রণটি দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে।

    হুমায়ুন কবিরের কথায়, “আমরা কীভাবে যাব? বাংলাদেশের সরকারের কাউকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কে আপনাদের বলেছে যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।”

    ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ব্রিকসের সম্প্রসারিত অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান বাংলাদেশ।

    এর আগে জুলাই মাসেও বাংলাদেশের (Tarique Rahman) বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    দ্বিপাক্ষিক সফরেই জোর ঢাকার

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা হয়েছে, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপাক্ষিক কোনও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে না হয়ে দ্বিপাক্ষিক সফর হওয়াই প্রত্যাশিত। হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা।

    আগস্টের শেষ দিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দুই দেশ পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সময়সূচিতে একমত হলেই সফরটি হবে।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তারেক রহমান

    ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তারেক রহমানের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচি হতে চলেছে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা তাঁর। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

    সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। এই অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য, “আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর একটি রাষ্ট্রসংঘ”।

    নিউইয়র্ক সফরে তারেক রহমান বাংলাদেশের (Tarique Rahman) দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করার কথা (India) রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এ বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশেষ আলোচনা হবে বলেও বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

     

  • India new Zealand Trade Deal: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ, আইন পাস নিউজিল্যান্ডের সংসদে

    India new Zealand Trade Deal: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ, আইন পাস নিউজিল্যান্ডের সংসদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস করেছে নিউজিল্যান্ডের (India new Zealand Trade Deal) সংসদ। বুধবার ৯৩-২৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধী লেবার পার্টিও বিলটির পক্ষে (Tariff Relief) ভোট দিয়েছে।

    চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে ভারতে রফতানি করা নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক হয় তুলে দেওয়া হবে, নয়তো তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই নিউজিল্যান্ডের মোট রফতানির ৫৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। পরবর্তী সময়ে এই সুবিধার ক্ষেত্র আরও বাড়বে।

    নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকলে বলেন, “রফতানিকারীদের জন্য এর সুফল তাৎক্ষণিক এবং উল্লেখযোগ্য। আমরা আশা করছি, এই উচ্চমানের চুক্তি চলতি বছরেই কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে এই মেয়াদে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।”

    শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা (India new Zealand Trade Deal)

    চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে নিউজিল্যান্ডে আমদানি করা পণ্যের উপরও চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

    চুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও রয়েছে। নিউজিল্যান্ড আগামী ১৫ বছরে ভারতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে। এই বিনিয়োগ বাড়াতে ভারত নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থাও গড়ে তুলবে (India new Zealand Trade Deal)।

    ভারত ও নিউজিল্যান্ড চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। চুক্তিটি কার্যকর করার আগে দুই দেশকেই নিজেদের আইনি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ

    দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৯৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার, যা ভারতকে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ও পরিষেবার নবম বৃহত্তম রফতানি বাজারে পরিণত করেছে।

    নতুন চুক্তির ফলে ফল, মধু, কাঠ, উল, মৎস্যজাত পণ্য, মদ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ভারতে আরও সুবিধাজনক বাজার-প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ভারতীয় পণ্যও নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে।

    উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের সংসদে চুক্তি কার্যকরের জন্য আইন পাস হলেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি। দুই দেশের নিজ (Tariff Relief) নিজ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই তা কার্যকর হবে (India new Zealand Trade Deal)।

     

  • Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ইলিশ (Hilsa) বাণিজ্যের চেনা ছবিটাই যেন বদলে যাচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারত যে পরিমাণ ইলিশ আমদানি করেছিল, তার চার গুণেরও বেশি ইলিশ এবার বাংলাদেশে রফতানি করতে চলেছে ভারত। চলতি বছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৬৫০ থেকে ৭০০ টন পর্যন্ত ইলিশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    গত দু’মাসে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে ঢুকেছে। চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকেই এই রফতানি শুরু হয়েছে।

    অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে (Hilsa)

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে। সেগুলি ভারুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু ইলিশ আবার হাওড়ার পাইকারি মাছের বাজার হয়ে বাংলাদেশে গিয়েছে। প্রায় সমস্ত রফতানিই করেছেন হাওড়ার ব্যবসায়ীরা।

    হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সম্পাদক সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার বলেন, “আমরা সাধারণত বাংলাদেশে বোয়াল, রুই, পার্শে ও ট্যাংরা-সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ রফতানি করি। সেখানে ইলিশের জোগান কম থাকায় এই প্রথম ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছি। গুজরাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আসার পর তার কিছুটা বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। বাংলাদেশের বাজারে সেই ইলিশ ভালো সাড়া পায়। পরে আরও ইলিশ রফতানি শুরু করি। এখনও পর্যন্ত ৫০০ টন ইলিশ রফতানি করেছি। দু’দিন আগে গুজরাটে আরও ৫০০ টন ইলিশের বড়সড় জোগান এসেছে। তার মধ্যে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টন বাংলাদেশে পাঠাব আশা করছি।”

    গুজরাটের ইলিশে ডিম বা মাছের ডিমের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কলকাতায় এই ইলিশের চাহিদা সীমিত। তবে এই বৈশিষ্ট্যই বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছে গুজরাতের ইলিশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মাছ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিতে এই ইলিশের ডিম সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে তা ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রফতানি করা হয়। ওই দেশগুলিতে প্রচুর বাংলাদেশি বসবাস করেন।

    কী বলছেন বাংলাদেশের আমদানিকারী 

    বাংলাদেশের এক আমদানিকারী বলেন, “ইলিশের ডিম বের করে নেওয়ার পর মাছের মাংস শুকিয়ে নুন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। তাজা ইলিশের মতো করে এই মাছ খাওয়া হয় না।”

    পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে দেড় কিলোগ্রামের মধ্যে। গুণমানের উপর নির্ভর করে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে রয়েছে (Hilsa)।

    পেট্রাপোল ছাড়পত্রকর্মী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, “মাছগুলির প্রয়োজনীয় খাদ্যমান পরীক্ষা করা হয়। প্রাণী কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শংসাপত্র নেওয়া হয়। পণ্য পাঠানোর আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়।”

    ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় অভ্যন্তরীণ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা প্রদীপ দে-র মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের ইলিশের উৎপাদন, প্রাপ্যতা এবং ক্রেতাদের চাহিদার ধরনে পরিবর্তনের প্রতিফলন এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে।

    প্রদীপ বলেন, “ইলিশের বিপরীতমুখী বাণিজ্যপ্রবাহ দেখাচ্ছে যে, দেশের অভ্যন্তরে মাছের পর্যাপ্ত জোগান, গুণমান এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যদি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা হলে ভারত প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসতে পারে।”

    পদ্মা-মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবি

    এদিকে বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশের রফতানি চললেও বাংলাদেশ থেকে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মাছ আমদানিকারী সমিতির সম্পাদক ও সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান এবং ভারতীয় হাইকমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে রফতানির বিষয়টি তুলে ধরেন তাঁরা।

    মকসুদ বলেন, “আমরা রফতানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তবে (Bangladesh) কোনও সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানাইনি। কারণ নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে বরাদ্দ করা ইলিশের (Hilsa) সামান্য অংশই ভারতে পৌঁছতে পারে।”

     

LinkedIn
Share