Tag: India

India

  • Taslima Nasreen: ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, ফিরল ২০০৭-এর সেই বিতর্কিত স্মৃতি

    Taslima Nasreen: ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, ফিরল ২০০৭-এর সেই বিতর্কিত স্মৃতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩৪ বছরের বাম সূর্য অস্ত গিয়েছে। পাটে বসেছে ১৫ বছরের তৃণমূল-ভাস্করও। চলতি বছরই রাজ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রথম বিজেপি সরকারের। তার পরেই এক এক করে খুলে পড়ছে বাম এবং তৃণমূল সরকারের মুখোশ (Taslima Nasreen)। স্রেফ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে হাতিয়ার করেই কেউ ৩৪, কেউ আবার দিব্যি আরাম-আয়েশ করে ১৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছে মহাকরণ এবং তারই পোর্টেবল সংস্করণ নবান্নে (Left Front Govt)। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দাবার বোড়ে করে আদতে আখের গুছিয়ে গিয়েছেন বাম এবং তৃণমূলের ভোট কারবারিরা।

    পদ্ম জমানায় কলকাতায় ‘মুক্তমনা’ তসলিমা (Taslima Nasreen)  

    রাজ্যে পালাবদলের পর সরকার গড়েছে বিজেপি। এই পদ্ম জমানায়ই বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছেন ‘মুক্তমনা’রা। ২০০৭ সালে বাম জমানায় প্রবল আন্দোলনের জেরে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। ‘দ্বিখণ্ডিত’র জননী বড় দুঃখে ছেড়েছিলেন তাঁর ‘সেকেন্ড হোম’ কলকাতা। ১৯ বছর পর সেই তিনিই ফিরলেন আবারও কলকাতায়। যখন শহর ছেড়েছিলেন, চাক্ষুষ করেছিলেন মৌলবাদীদের দাপাদাপি। আর যখন ফিরলেন, তখন দেখলেন আক্ষরিক অর্থেই একটু একটু করে গড়ে উঠছে সোনার বাংলা। প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে তসলিমা নিজেই বলেছেন, এই শহরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর। তাঁর প্রত্যাবর্তনের আবহে ফের আলোচনায় এসেছে—কেন ২০০৭ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হয়েছিল, কীভাবে কলকাতার রাজপথে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের ভূমিকা কী ছিল।

     ‘লজ্জা’ থেকে নির্বাসন, শুরুটা বাংলাদেশে

    তসলিমার নির্বাসনের ইতিহাস অবশ্য কলকাতায় শুরু হয়নি। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার আগে থেকেই তাঁর লেখা নিয়ে মৌলবাদী সংগঠনগুলির তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছিল। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রেক্ষাপট উঠে আসে তাঁর বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘লজ্জা’-য়। বইটি প্রকাশের পর তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিম। পরবর্তী সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থেকেছেন। কিন্তু মাতৃভাষা ও বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি।

    কলকাতায় আশ্রয়, তারপর নতুন সংঘাত

    ২০০৪ সালে ভারতে থাকার অনুমতি পাওয়ার পর কলকাতায় আসেন তসলিমা। শহরের সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিল। কলকাতাকেই তিনি নিজের নতুন ঠিকানা হিসেবে দেখতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর লেখা ও বক্তব্যকে ঘিরে বিরোধ থামেনি। ২০০৩ সালে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করেছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। পরে কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে বইটি নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে (Taslima Nasreen)।

    কলকাতার রাজপথে অশান্তি

    ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর তসলিমাকে ঘিরে কলকাতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি ফোরামের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা তসলিমার ভারতে থাকার অনুমতি বাতিল এবং তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলে। বিক্ষোভ দ্রুত হিংসার রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি, যানবাহনে আগুন এবং পথ অবরোধে স্তব্ধ হয়ে যায় কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা (Left Front Govt)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত সেনা নামাতে হয়। সে দিন প্রায় ৪০ জন আহত হন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন পুলিশকর্মী। বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছিল। অর্থাৎ, তসলিমাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিক্ষোভ শুধু একটি সাহিত্যিক বা ধর্মীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, বামফ্রন্ট সরকার মৌলবাদী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বদলে তসলিমাকেই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁদের যুক্তি, একজন লেখিকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার বদলে সরকার বিক্ষোভকারীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। অগত্যা বাংলা ছাড়তে হয় তসলিমাকে।

    নিরাপদ আশ্রয় থেকে জয়পুরে, দিল্লিতে

    কলকাতার নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে তসলিমাকে চলে যেতে হয় জয়পুরে। সেখানেও প্রতিবাদ-আন্দোলন শুরু হয় বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকাকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লিতেও তাঁর চলাফেরায় ছিল নানা বিধিনিষেধের বেড়ি। ২০০৮ সালে পরিস্থিতির চাপে তিনি সাময়িকভাবে ভারত ছেড়ে সুইডেনে চলে যান। পরে আবার ভারতে ফিরে এসে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন (Taslima Nasreen)।

    বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    ২০০৭ সালের ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভূমিকা আজও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। সমালোচকদের বক্তব্য, নিজেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এবং মুক্তচিন্তার সমর্থক হিসেবে তুলে ধরা এক মুখ্যমন্ত্রীর সরকারের কাছ থেকে আরও দৃঢ় অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল। তাঁদের প্রশ্ন—রাজপথে হিংসা ছড়ানো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে কেন একজন লেখিকাকেই শেষ পর্যন্ত রাজ্য ছাড়তে হল?

    তুষ্টিকরণের রাজনীতি

    ২০০৭ সালের ঘটনার পর থেকেই বামেদের বিরুদ্ধে ‘তোষণের রাজনীতি’র অভিযোগ উঠেছে (Left Front Govt)। সমালোচকদের বক্তব্য, মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও, সরকার সেদিন শেষ পর্যন্ত মৌলবাদী চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। পরবর্তী সময়ে তসলিমা নাসরিনকে ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। বিজেপির সমর্থকেরা দাবি করেন, মৌলবাদী হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করে তসলিমাকে ভারতে থাকার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে তসলিমার ভারতে থাকা মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রশাসনিক বিষয়। একে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত ও সময়কাল আলাদা করে বিচার করা প্রয়োজন (Taslima Nasreen)।

    ১৯ বছর পর ফের কলকাতায়

    দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে কলকাতায় ফিরেছেন তসলিমা। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন অনুরাগীরা। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই কলকাতায় প্রত্যাবর্তন হয় তাঁর। বিমানবন্দরে পা দিয়েই তসলিমা জানান, কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনও গভীর। তিনি বলেন, এই প্রত্যাবর্তন তাঁর কাছে আবেগের। এমনকি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকলে কলকাতায় আরও বেশি সময় থাকার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একজন নির্বাসিত লেখিকার শহরে ফেরার ঘটনা নয়। ২০০৭ সালের সেই রাত, রাজপথের হিংসা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় মৌলবাদ, প্রশাসনের ভূমিকা (Left Front Govt) এবং অবশ্যই তোষণ-তুষ্টিকরণের রাজনীতি—সব কিছুই আবারও জাগরুক বঙ্গবাসীর স্মৃতিতে (Taslima Nasreen)।

     

  • India: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষায় আমেরিকা-সহ ১১ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

    India: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষায় আমেরিকা-সহ ১১ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ খনিজের (Critical Minerals) নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ও কৌশলগত তৎপরতা আরও জোরদার করেছে ভারত (India)। অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, পেরু, জাপান, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে নয়াদিল্লি। ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে এ কথা জানান বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করতে ভারত ধারাবাহিকভাবে দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও বিভিন্ন দেশের যৌথ উদ্যোগে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    কী বললেন মন্ত্রী (India)

    মন্ত্রীর কথায়, “পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি, অর্ধপরিবাহী উৎপাদন, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলিতে নির্ভরযোগ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ক্রমাগত দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও বিভিন্ন দেশের সমন্বিত সহযোগিতা জোরদার করার কাজ করছে।” তিনি জানান, খনিজ পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি, উচ্চমানের খনিজের দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বজায় রাখতে টেকসই পদ্ধতির প্রসারের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য ভারত অংশীদার দেশ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলির সঙ্গে কাজ করছে। মার্ঘেরিটা বলেন, “নির্ভরযোগ্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, পেরু, জাপান, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।”

    জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন

    বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন খনিজ নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের উত্তরসূরি হিসেবে গঠিত দায়িত্বশীল ভূ-কৌশলগত সম্পৃক্ততা মঞ্চ এবং চতুর্দেশীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাঠামোর উদ্যোগগুলিতে ভারত অংশ নিচ্ছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও সুসংহত করা। ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে স্থিতিস্থাপক ও বহুমুখী খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সম্পূর্ণ সরবরাহ-শৃঙ্খল জুড়ে গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে। দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন চালু করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় খনিজ অনুসন্ধান, উত্তোলন, আকরিক থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান পৃথকীকরণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া পণ্য থেকে খনিজ পুনরুদ্ধার—পুরো প্রক্রিয়াটিকেই শক্তিশালী করার (India) লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ

    মন্ত্রী আরও জানান, “বর্জ্য থেকে খনিজ পুনর্ব্যবহার, প্রযুক্তি বিনিময় এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত সহযোগিতামূলক গবেষণার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।” জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশনের অধীনে বর্জ্য ও বাতিল ধাতব সামগ্রীর মতো দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎস থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আহরণের জন্য পুনর্ব্যবহার ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও আর্থিক উৎসাহমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর (Critical Minerals) ফলে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র (India)।

     

  • PM Modi: যন্তর মন্তরে গালিগালাজ করা পড়ুয়াদের ক্ষমা করলেন প্রধানমন্ত্রী, শাস্তির বদলে ‘পথ দেখানোর’ বার্তা

    PM Modi: যন্তর মন্তরে গালিগালাজ করা পড়ুয়াদের ক্ষমা করলেন প্রধানমন্ত্রী, শাস্তির বদলে ‘পথ দেখানোর’ বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠা (PM Modi) পড়ুয়াদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত (Bharat) এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি জানান, ভুলের জন্য পড়ুয়াদের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ঠেলে না দিয়ে তাঁদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। শাস্তির পরিবর্তে তাঁদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য সমাজের কাছে আবেদন জানান তিনি।

    অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী জানান, যন্তর মন্তরের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েকজন পড়ুয়া অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছিল, তা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে… দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কিছু পড়ুয়া অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছে। তারা আমাকে গালিগালাজ করেছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল।” তবে একই সঙ্গে পড়ুয়াদের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। তাঁর কথায়, “শিশুরা ভুল করে। আর শৈশব এমন একটি সময়, যখন তাদের সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত।”

    ‘শাস্তি নয়, পথ দেখান’

    অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যারা আমাকে গালিগালাজ করেছে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। আমার এই সিদ্ধান্ত সমাজ মেনে নিক—এটাই আমার আবেদন।” নিজের বক্তব্য বোঝাতে একটি উদাহরণও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কখনও কখনও আমরা নিজের দাঁত দিয়ে অসাবধানতাবশত নিজের জিভ কামড়ে ফেলি এবং রক্ত বের হয়। কিন্তু আমরা দাঁত ভেঙে ফেলি না। কারণ দাঁত এবং জিভ—দু’টিই আমাদের নিজের।” অভিযুক্ত পড়ুয়াদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁদের আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছিল। তাদের সঠিক পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতের চক্করে ঘোরানো বা সামাজিকভাবে হেনস্থা করা—কোনও কিছুতেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।”

    জিরো এফআইআর

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্যেই ঘটনাটি ঘিরে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নয়ডার এক মহিলার বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে (PM Modi)। গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে “অশালীন ও আপত্তিকর” ভাষা ব্যবহার করেছেন। এর ফলে জনমনে বিরোধ তৈরি করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্য ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ নম্বর ধারা—শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান, ৩৫৩(১) নম্বর ধারা—জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন বক্তব্য এবং ৩৫৬(১) নম্বর ধারা—মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের জন্য মামলাটি সংসদ মার্গ থানায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। অভিযোগের ঘটনাস্থল যে থানার আওতায়ই পড়ুক না কেন, দেশের যে কোনও থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করা যায়। পরে সেটি সংশ্লিষ্ট এলাকার এক্তিয়ারভুক্ত থানায় তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এই ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করে মামলাটি সংসদ মার্গ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    ‘ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ো’

    পড়ুয়াদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দেশের অগ্রগতির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, “আসুন, দেশের জন্য আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই। নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিই এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলি (Bharat)। ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আমি চাই, আপনাদের প্রত্যেকেও একইভাবে এগিয়ে যান।”  ভিডিয়োর শেষে তিনি বলেন, “গালিগালাজ কখনও কোনও সমস্যার সমাধান করে না। যারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে, তাদের সঠিক পথ দেখাই। একসঙ্গে কাজ করি। ভারতের জন্য কাজ করি।”

    নিট বিক্ষোভের অবসান

    দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা বিক্ষোভ ২৫ জুলাই শেষ হয়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে হাজার হাজার পড়ুয়া অংশ নেন। উদ্ভাবক-সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও ২৬ দিনের অনশনের সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদেই এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল (PM Modi)। আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছিল। পরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো-সহ একাধিক (Bharat) গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে কেন্দ্র সরকার সম্মতি জানালে আন্দোলন প্রত্যাহার করে (PM Modi) নেয় ককরোচ জনতা পার্টি।

     

  • Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ছ’বছর পরে ভারতে আসতে পারেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে (BRICS Summit) যোগ দিতে আসতে পারেন তিনি। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনা। সফর চূড়ান্ত হলে ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর এটাই হবে জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ওই সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছিল।

    জিনপিংয়ের ভারত সফর (Xi Jinping)

    ২০১৩ সাল থেকে চিনের প্রেসিডেন্টে পদে রয়েছেন জিনপিং। এর আগে তিনবার ভারত সফরে এসেছেন তিনি। তাঁর শেষ ভারত সফর হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে। এর কয়েক মাস পরেই এলওসি (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আনে। জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চিন সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেখানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর বৈঠকও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে। এরপর সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ

    বিশেষ প্রতিনিধিদের আসন্ন বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর কাঠামোর অধীনে নতুন বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী এবং একটি কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে ভারত ও চিন সম্মত হওয়ার পর এই প্রথম বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে চলেছে। এই আলোচনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি ও কূটনৈতিক স্তরে অগ্রগতি ঘটানোর পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের গতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষই যৌথভাবে কাজ করছে। এলওসি বরাবর অমীমাংসিত সমস্যাগুলির সমাধানের পাশাপাশি কৌশলগত আস্থা পুনর্গঠন, নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা এড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোই এই কূটনৈতিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য।

    গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম

    জিনপিংয়ের সফর চূড়ান্ত হলে ব্রিকস সম্মেলনের বাইরেও এর তাৎপর্য থাকবে। প্রায় ছ’বছর পর ভারতে তাঁর উপস্থিতি এবং গলওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম সফর হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়বে। সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের (Xi Jinping) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে তামাম বিশ্বের। সম্ভাব্য বৈঠকে সীমান্ত বিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই সম্ভাব্য বৈঠকের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর বেড়ে চলা অস্থিরতার মধ্যে ভারত ও চিন উভয়কেই নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে (BRICS Summit)। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লি বা বেজিং (Xi Jinping)—কোনও পক্ষেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে সরকারিভাবে ঘোষণা করার সময় পর্যন্ত।

     

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত এআই ভিডিও ঘিরে মামলা, মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের নামে এফআইআর

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত এআই ভিডিও ঘিরে মামলা, মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের নামে এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)-এর সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) বিকৃত ভিডিও।ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাস-সহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর (Meta) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিডিওগুলির উৎস কোথায়, কারা সেগুলি তৈরি করেছে এবং কীভাবে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, মেটার নিজস্ব নজরদারি ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওই ভিডিওগুলির প্রচার ঠেকাতে কতটা কার্যকর ছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।ঘটনাটি এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হয়ে যাওয়ার পৃথক ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মেটার টানাপোড়েন চলছে। ওই পোস্ট পরে ফের দেখা যায়। মেটা ঘটনাটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল বলে ব্যাখ্যা করলেও, কেন্দ্র সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়, এবং সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    কে এই অরুণ শ্রীনিবাস? (PM Modi)

    অরুণ শ্রীনিবাস বর্তমানে ভারতে মেটার পরিচালক এবং প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ১ জুলাই তিনি এই দায়িত্ব নেন। তার আগে তিনি ভারতে মেটার বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিচালক ও প্রধান ছিলেন। মেটার পক্ষ থেকেই ২০২৫ সালের জুনে তাঁর নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মেটায় যোগ দেওয়ার আগে শ্রীনিবাস হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, রিবক এবং ওলার মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন (PM Modi)। মেটার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুরু হয় ২০২০ সালে। প্রথমে তিনি ভারতে সংস্থাটির গ্লোবাল বিজনেস গ্রুপের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২২ সালে তাঁকে ভারতে বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিচালক ও প্রধান করা হয়। নতুন দায়িত্বে তিনি ভারতে মেটার ব্যবসা, উদ্ভাবন ও আয়সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পান। কলকাতার ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বিপণনে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা করেছেন শ্রীনিবাস। তার আগে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হন। প্রায় তিন দশকের বিক্রয় ও বিপণন-অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    কেন মামলা দায়ের?

    পুলিশ সূত্রে খবর, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এআই ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই দুই সোশ্যাল মিডিয়াই মেটার মালিকানাধীন। তদন্তকারীরা প্রথমে জানতে চাইছেন, ভিডিওগুলি কোথা থেকে তৈরি বা প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে কীভাবে সেগুলি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। শুধু ভিডিও নির্মাতাদের ভূমিকা নয়, যারা ওই ভিডিও আপলোড, ফের প্রকাশ বা ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের ভূমিকাও তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেটার নিজস্ব বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওই ধরনের বিকৃত ভিডিও শনাক্ত করে দ্রুত সরাতে পেরেছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্তে পুলিশ এখনও পৌঁছয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়ও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন (Meta)।

    মেটা কী বলেছে?

    এফআইআর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, মেটার এক প্রতিনিধি তদন্তকারীদের সামনে হাজির হয়ে সংস্থার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং আইন মেনে চলার বিষয়টি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেছেন।হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ পুলিশের পক্ষ থেকে মেটার প্রতিনিধিদের ডেকে এআই ব্যবহার করে তৈরি প্রতারণামূলক বিষয়বস্তু, ভুয়ো বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য বিকৃত বিষয়বস্তু শনাক্ত ও সরানোর পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি সূত্রের। তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট নিয়ে আলাদা চাপের মুখে মেটা

    শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরটি প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনার থেকে আলাদা। তবে দু’টি ঘটনাই মেটার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও পোস্ট ফেসবুকে সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে যায়। ভিডিওটিতে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল। পরে সেটি পুনরুদ্ধার করা হয়। মেটার তরফে ঘটনাটিকে এআই-নির্ভর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং দুঃখপ্রকাশ করা হয় সংস্থার তরফে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ওই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট বলে মনে করেনি। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণণ বলেন, “তারা ক্ষমা চেয়েছে এবং স্বীকার করেছে যে যা ঘটেছে তা ভুল ছিল—এটি ভালো। কিন্তু আমরা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নই… এটি যথেষ্ট নয় এবং আমরা আরও বিস্তারিত তথ্য চাইছি (PM Modi)।” এর পরেই মেটার শীর্ষ কর্তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ফলে একদিকে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট  সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে তাঁর কৃত্রিমভাবে তৈরি বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ—দু’টি ঘটনাই ভারতে মেটার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কেন বাড়ছে নজরদারি?

    ভারতে বড় সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর সরকারি নজরদারি সম্প্রতি আরও বেড়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন, পরিচয় জাল করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের দ্রুত বিস্তার নিয়ে সরকারের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এর পাশাপাশি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সক্রিয় হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলির ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—কোন বিষয়বস্তু দ্রুত শনাক্ত করা হবে, কোনটি সরানো হবে এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Meta)। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে এফআইআর শুধু একটি নির্দিষ্ট ভিডিওকে ঘিরে তদন্ত নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া -নির্ভর বিকৃত বিষয়বস্তুর দায় কার—সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায় কতটা?

    এআইয়ের সাহায্যে তৈরি ভিডিও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হওয়ায় সাধারণ ইউজারদের পক্ষে আসল ও নকল ভিডিও আলাদা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের নামে বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণেই তদন্তে শুধু ভিডিওটি কে তৈরি করেছে, তা জানাই যথেষ্ট নয়। সেটি কোন মাধ্যমে প্রথম ছড়াল, কত দ্রুত ছড়াল, কারা তা ফের প্রকাশ করল এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম সেটি শনাক্ত করতে বা সরাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছিল—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। হায়দরাবাদ পুলিশের বর্তমান তদন্ত সেই বৃহত্তর প্রশ্নগুলিই সামনে নিয়ে আসছে। তবে তদন্ত যেহেতু এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তাই শ্রীনিবাস বা অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এই মামলা ভারতে এআই-নির্ভর ভুয়ো বিষয়বস্তু এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র ও মেটার মধ্যে যে ব্যাখ্যা-পর্ব চলছে, তার সঙ্গে এই (Meta) নতুন তদন্ত যুক্ত হওয়ায় ভারতের ডিজিটাল পরিসরে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

  • India Embassy Slams NYT: ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলায় ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র কড়া সমালোচনা ভারতের

    India Embassy Slams NYT: ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলায় ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র কড়া সমালোচনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ হিসেবে উল্লেখ করায় মার্কিন সংবাদপত্র ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র তীব্র সমালোচনা করল আমেরিকার ভারতীয় দূতাবাস (India Embassy Slams NYT)। সংবাদপত্রটির ব্যবহৃত শিরোনামকে “বিভ্রান্তিকর ও ভুল” বলে অভিহিত করেছে দূতাবাস। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের বিষয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানও ফের একবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে (POK)। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে যে অস্থিরতা চলছে, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই পাকিস্তানি কাশ্মীরে সংঘর্ষ।” ওই প্রতিবেদনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় ছড়িয়ে পড়া হিংসার ঘটনাগুলি তুলে ধরা হয়।

    শিরোনাম বিভ্রান্তিকর ও ভুল

    এর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতীয় দূতাবাস সংবাদপত্রটির ব্যবহৃত পরিভাষা প্রত্যাখ্যান করে। দূতাবাস বলেছে, “নিউইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম বিভ্রান্তিকর ও ভুল। ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলে কিছু নেই, রয়েছে শুধুই পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর।” দূতাবাস আরও জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অতীতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বেআইনিভাবে পাকিস্তানের দখলে থাকা ভূখণ্ডগুলিও ভারতের অংশ বলে দাবি করেছে তারা। ভারতীয় দূতাবাসের অভিযোগ, পাকিস্তান এখনও ওই অঞ্চলের কিছু অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করছে। দূতাবাসের বক্তব্য, “পাকিস্তান এই ভূখণ্ডগুলির কিছু অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে এবং এখন আবার দখল করা এলাকার মানুষের বিরুদ্ধেই হিংসা ব্যবহার করছে।” পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সেখানে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি সূত্রের দাবি, বিক্ষোভকারীদের দমন করতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। এতে ৩০ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষ নিহত এবং অন্তত ৩৩ জন জখম হয়েছেন (India Embassy Slams NYT)।

    আছড়ে পড়ল বিক্ষোভের ঢেউ

    এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক অব্যবস্থা, কথিত রাজনৈতিক বৈষম্য এবং ওই অঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাওয়ালাকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, সেই পদযাত্রার সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেন। ওই অঞ্চলে পাকিস্তান সরকারের  আয়োজিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভারত বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। ভারতের অবস্থান, পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের কোনও আইনি বৈধতাই নেই (POK)। চলতি সপ্তাহের গোড়ায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকও পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনকে “লোকদেখানো নির্বাচনী প্রক্রিয়া” বলে অভিহিত করে। ভারতের দাবি, বেআইনি দখলকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছে ভারত (India Embassy Slams NYT)। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে একাধিক স্থানীয় সংগঠন। তাদের মধ্যে রয়েছে জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশনও (India Embassy Slams NYT)।

    প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ বন্ধের দাবি

    এদিকে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছেও আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, তথাকথিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত করতে হবে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের জবাবদিহি করতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে রাওয়ালাকোট, মুজাফফরাবাদ-সহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে বিপুল সংখ্যায় পাক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে (India Embassy Slams NYT)। সূত্রের আরও দাবি, একাধিক সংগঠনের স্থানীয় নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের প্রশাসন নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষেরই প্রতিফলন (POK)। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্রমশ কমছে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

     

  • India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন (India Slams China)। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠককে ঘিরে বেজিং যে (Sovereignty Row) ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ভারতের, চিনের নয়। কারণ, ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ডের একটি অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে চিন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলগুলিতে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

    জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক (India Slams China)

    সম্প্রতি ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়া বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দাবি করে, তাইওয়ান ও তিব্বত-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত তার আগের অবস্থানই বজায় রেখেছে এবং চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার কথা জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই দাবির বিরোধিতা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, চিনের জারি করা বিবৃতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্য প্রসঙ্গ-বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বরং জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করার অধিকার ভারতেরই রয়েছে, কারণ ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতাই দীর্ঘদিন ধরে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “ভারত সবসময় চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেছে এবং কখনও এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, যা চিনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে সেই কথা বলা যায় না। ১৯৬৩ সাল থেকে তারা জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ড বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির ওপর ভারতের আইনগত অধিকার সম্পর্কে চিনও অবগত। সেই অবস্থায় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বেজিংয়ের দাবি পরস্পরবিরোধী। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধেও আবারও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ভারত। ভারত আবারও স্পষ্ট করেছে, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে না। ২২ জুলাইয়ের বৈঠকে জয়শঙ্কর ওয়াং ই-কে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত (India Slams China)।” তিনি জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই লক্ষ্যেই দুই দেশ কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বর্তমান ব্যবস্থাগুলিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং উভয় পক্ষকেই ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    ভারতের সাফ কথা

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হওয়া ভারত-চিন সেনা অপসারণ চুক্তির প্রসঙ্গেই। পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ চার বছরের সামরিক অচলাবস্থার পর ওই চুক্তি হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সেনা অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। ওই চুক্তির আওতায় দেপসাং ও দেমচকের মতো শেষ দু’টি স্পর্শকাতর এলাকায়ও সেনা অপসারণের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। এর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানো সম্ভব হয় এবং দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয় (Sovereignty Row)। তবে ভারত জানিয়ে দিয়েছে, কেবল সেনা অপসারণ যথেষ্ট নয়। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গত ছ’বছর ধরে এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে নয়াদিল্লি (India Slams China)। এই ঘটনার মাধ্যমে ভারত ও চিনের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও আবার সামনে এসেছে। ম্যানিলার বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ও চিন দু’টি বৃহৎ, প্রভাবশালী এবং প্রতিবেশী দেশ। ফলে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে মতভেদ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়, সেটাই কূটনীতির দায়িত্ব। এই অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিরই পুনরাবৃত্তি। ২০১৭ সালে ব্রিকস সম্মেলনের সময়ও দুই দেশ একমত হয়েছিল যে, মতপার্থক্যকে সংঘাতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

    ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকায় জোর

    এদিকে, চিনের বিদেশমন্ত্রক বৈঠককে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে। সিনহুয়ার প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াং ই বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলি বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বেজিং। অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংবাদমাধ্যম, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বিষয়গুলি যথাযথভাবে পরিচালনার ওপরও জোর দেন তিনি (India Slams China)। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুমেরুকরণ ও আরও গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ভারত বরাবরই ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। চিনের ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়ে ভারত আবারও জানিয়ে দিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের বেআইনি দখল (Sovereignty Row) এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা প্রকল্পের বিরোধিতাই ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে থাকবে (India Slams China)।

     

  • India: ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

    India: ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় (India) নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। সোমবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সান্দর পলিশচুককে (Ukraine Ambassador) তলব করে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজকে টার্গেট করে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিরীহ অসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করে এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

    ভারতের বিবৃতি (India)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ওমোরফি’তে হামলার জেরে এক ভারতীয় নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে সাউথ ব্লকে তলব করা হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ-পরিবহণের নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এই ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ধরনের আক্রমণ সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌ-পরিবহণ, অবাধ নৌ-চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।” ভারত আরও জানায়, ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তিনি ভারতের এই উদ্বেগ এবং কড়া বার্তা দ্রুত ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন। বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং নিরীহ অসামরিক নাবিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়েও জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

    এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে আগেও

    ঘটনাটি ঘটেছে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে। সেখানে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ওমোরফি’তে মোট চার জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, চার জনের মধ্যে দু’জন নিরাপদে রয়েছেন। তবে বাকি দু’জনের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে (Ukraine Ambassador)। এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছে না নয়াদিল্লি। কারণ চলতি মাসেই একই ধরনের আর একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল (India)। গত ১৯ জুলাই ওডেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ নামে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছিল। সেই ঘটনায় চার ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, গুরুতর জখম হয়েছিলেন একজন। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের ওপর ঘটে যাওয়া পরপর দু’টি প্রাণঘাতী ঘটনায় উদ্বেগ অনেকটাই বেড়েছে।

    ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া

    পরপর এই হামলার জেরে ভারত সরকার কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত অসংখ্য অসামরিক জাহাজ যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে কোনও পরিস্থিতিতেই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনের দূতাবাসও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দূতাবাসের তরফে জারি করা বিবৃতিতে নিহত ভারতীয়দের পরিবারের প্রতি “গভীর সমবেদনা” জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। যদিও হামলার দায় বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিকেই এই ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।

    ইউক্রেনের বক্তব্য

    ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব একটি বৈঠক বা টেলিফোনে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে খুব শীঘ্রই আলোচনা হবে বলে আমরা আশা করছি। সেই আলোচনায় কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।” কূটনৈতিকমহলের মতে, এই ঘটনা ভারত-ইউক্রেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেছে। যদিও ভারত শুরু থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছে, তবুও ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে নয়াদিল্লি কোনও আপস করতে রাজি নয়। বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই এই তলবের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর সামুদ্রিক অঞ্চল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ওপরই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, খাদ্যশস্য পরিবহণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাকি ভারতীয় নাবিকদের খোঁজ (Ukraine Ambassador) নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিহত ভারতীয় নাবিকের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি (India) সূত্রের খবর।

     

  • Jan Aushadhi Kendras: জন ঔষধি প্রকল্পে এক যুগে ওষুধের খরচে বেঁচেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, কেন্দ্রের সংখ্যা ছাড়াল ২০ হাজার

    Jan Aushadhi Kendras: জন ঔষধি প্রকল্পে এক যুগে ওষুধের খরচে বেঁচেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, কেন্দ্রের সংখ্যা ছাড়াল ২০ হাজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্পের (Jan Aushadhi Kendras) মাধ্যমে দেশের মানুষের ওষুধ কেনার খরচে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। লোকসভায় লিখিত জবাবে এই তথ্য জানান (India) কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সারমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ১৪৯। দেশের ৭৮৪টি জেলার মধ্যে ৭৭৬টিতে ইতিমধ্যেই এই কেন্দ্রগুলির পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। ২০০৮ সালে স্বল্পমূল্যে মান-নিয়ন্ত্রিত জেনেরিক ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পের সূচনা হলেও, প্রথম দিকে এর অগ্রগতি ছিল ধীর। পরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প হিসেবে নতুনভাবে চালু হওয়ার পর দ্রুত সম্প্রসারণ শুরু হয়। ২০২১ সালের জুন মাসে কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৩৬। ২০২৪ সালে তা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়। একই বছরে বার্ষিক ওষুধ বিক্রি এক হাজার কোটি টাকার গণ্ডিও অতিক্রম করে। ২০২৫ সালের জুনে কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার, ৯১২ এবং তখন পর্যন্ত নাগরিকদের মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এক বছরেরও কম সময়ে আরও তিন হাজারের বেশি নতুন কেন্দ্র চালু হওয়ায় কেন্দ্রের সংখ্যা ২০ হাজার পেরিয়েছে এবং মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকায়।

    সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ে বড় স্বস্তি (Jan Aushadhi Kendras)

    সরকারের দাবি, জন ঔষধি কেন্দ্রগুলিতে বিক্রি হওয়া ওষুধের দাম বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ-সহ নানা রোগের চিকিৎসায় মানুষের ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে ব্র্যান্ডেড ওষুধের দোকান তুলনামূলক কম এবং চিকিৎসার খরচ পারিবারিক বাজেটের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে, সেখানে এই প্রকল্প উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে দাবি সরকারের (Jan Aushadhi Kendras)।

    ওষুধের পাশাপাশি দাম কম অস্ত্রোপচার সামগ্রীরও

    বর্তমানে জন ঔষধি প্রকল্পে ২ হাজার ১১০ ধরনের ওষুধ এবং ৩১৫ ধরনের অস্ত্রোপচার-সরঞ্জাম, চিকিৎসা উপকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া যায়। হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, সংক্রমণ, অ্যালার্জি, পরিপাকতন্ত্রের রোগ থেকে শুরু করে পুষ্টি-সম্পূরক—প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় জেনেরিক ওষুধই এখন এই প্রকল্পের আওতায় মেলে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় পরিচালকদের ২০০টি সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন ওষুধ সবসময় মজুত রাখার জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদানও চালু করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের ১০০টি সর্বাধিক বিক্রিত ও বাজারে সর্বাধিক ব্যবহৃত আরও ১০০টি ওষুধও।

    মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি

    কম দামের ওষুধের গুণগত মান নিয়ে মানুষের মধ্যে যে (India) সংশয় রয়েছে, তা দূর করতে সরকার একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উত্তম উৎপাদন পদ্ধতির শংসাপত্রপ্রাপ্ত সংস্থার কাছ থেকেই ওষুধ সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি ব্যাচ বাজারে আসার আগে জাতীয় পরীক্ষাগার স্বীকৃতি বোর্ড অনুমোদিত পরীক্ষাগারে মান যাচাই করা হয়। প্রকল্প পরিচালনাকারী ভারতীয় ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যুরো নিয়মিতভাবে কেন্দ্রগুলির কার্যকারিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুণমান পর্যবেক্ষণ করে এবং কোথাও ঘাটতি ধরা পড়লে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় (Jan Aushadhi Kendras)।

    নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ

    জন ঔষধি কেন্দ্রগুলি সরাসরি সরকার পরিচালনা করে না। ব্যক্তি উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সমিতি, ট্রাস্ট এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি অনলাইনে আবেদন করে এই কেন্দ্র পরিচালনার সুযোগ পায়। কেন্দ্রীয় পরিচালকরা বিক্রির ওপর নির্ধারিত কমিশনের পাশাপাশি কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে মাসিক প্রণোদনাও পান। উত্তর-পূর্বাঞ্চল, হিমালয় অঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল, প্রাক্তন সেনাকর্মী, মহিলা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতির উদ্যোক্তাদের জন্য আসবাবপত্র ও কম্পিউটার কেনার উদ্দেশ্যে এককালীন ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমবায় সমিতির সঙ্গেও এই প্রকল্প যুক্ত হয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে (Jan Aushadhi Kendras)। এ ছাড়া, মাত্র ১ টাকা দামে বিক্রি হওয়া জন ঔষধি সুবিধা স্যানিটারি ন্যাপকিন ইতিমধ্যেই ১০০ কোটিরও বেশি বিক্রি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন মহিলাদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী সহজলভ্য হয়েছে, অন্যদিকে ওষুধ বিক্রির কেন্দ্রগুলির আয়ও বেড়েছে।

    সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন

    দেশের প্রতিটি প্রান্তে ওষুধ পৌঁছে দিতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। একটি কেন্দ্রীয় গুদাম এবং চারটি আঞ্চলিক গুদাম থেকে দেশের বিভিন্ন পরিবেশকের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। প্রায় ৪০০টি সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন ওষুধের মজুত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। চাহিদার পূর্বাভাস নির্ধারণেও এখন ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে জন ঔষধি সুগম মোবাইল অ্যাপ। ৩৮ লাখেরও বেশি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে নিকটতম কেন্দ্রের অবস্থান, ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক ওষুধের দামের তুলনা এবং ওষুধের তাৎক্ষণিক প্রাপ্যতার খবর জানা যায় (Jan Aushadhi Kendras)।

    সচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে প্রচার

    শুধু ওষুধ বিক্রিই নয়, জেনেরিক ওষুধ সম্পর্কে মানুষের আস্থা বাড়াতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যুরো, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো, মাইগভ এবং মাই ভারত-এর সহযোগিতায় সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বেতার, সামাজিক মাধ্যম, প্রচারফলক ও বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে (India)। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট এবং টেলিফোনের মাধ্যমেও নাগরিকদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ ‘জন ঔষধি সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়। এই উপলক্ষে স্বাস্থ্য শিবির, সচেতনতা র‍্যালি, ফার্মেসি কলেজে সেমিনার এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ৭ মার্চ পালিত হয় ‘জন ঔষধি দিবস’।

    রাজ্যভিত্তিক বিস্তার

    জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যায় দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে ২ হাজার ৬০০-রও বেশি কেন্দ্র রয়েছে। এর পরে রয়েছে বিহার, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্র। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের মতো প্রত্যন্ত এলাকায়ও এখন জন ঔষধি কেন্দ্র চালু হয়েছে। ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়ও মানুষ এখন ক্রমশ অনিয়ন্ত্রিত উৎসের পরিবর্তে এই কেন্দ্রগুলির ওপর নির্ভর করছেন। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে দেশে ২৫ হাজার জন ঔষধি কেন্দ্র চালু করা। বর্তমানে মাত্র আটটি জেলায় এখনও কেন্দ্র খোলা বাকি রয়েছে। সেখানেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে জায়গা চিহ্নিত করে দ্রুত কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (Jan Aushadhi Kendras)। কেন্দ্রের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প একটি সীমিত পরিসরের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বল্পমূল্যের ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন ওষুধ মানুষের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই (India) দাবি সরকারের।

     

  • Pakistan: গোপন বৈঠকে ভারত-বিরোধী প্রচারের নির্দেশ! পাক সেনার প্রচারযন্ত্রের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

    Pakistan: গোপন বৈঠকে ভারত-বিরোধী প্রচারের নির্দেশ! পাক সেনার প্রচারযন্ত্রের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাবাহিনীর প্রচারযন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন সে দেশের সাংবাদিক ইমরান রিয়াজ (Imran Riaz)। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের ডিজি আইএসপিআর সম্প্রতি দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের কর্তা এবং প্রভাবশালী সাংবাদিকদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমগুলিকে ভারত-বিরোধী জোরদার প্রচার চালানোর স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পাক সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবি (Pakistan)

    রিয়াজের দাবি, বৈঠকে সংবাদমাধ্যমগুলিকে বারবার এমন একটি বয়ান প্রচার করতে বলা হয়, যাতে মনে হয় ভারত খুব শীঘ্রই ভেঙে পড়তে চলেছে। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মনগড়া প্রচারের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্র-সমর্থিত তথ্যযুদ্ধকে আরও তীব্র করার চেষ্টা করছে। রিয়াজের বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিকতার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের সামরিক প্রচার বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অভ্যন্তরে এমন এক জনমত গড়ে তুলতে সচেষ্ট, যেখানে ভারতকে দুর্বল ও অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রচারমাধ্যমকে ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ভারতকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন রিয়াজ।

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    তাঁর বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের ডিজি আইএসপিআরের দফতর বর্তমানে শুধু সেনাবাহিনীর সরকারি তথ্য প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা সঙ্কট কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের বয়ান নির্ধারণেও এই দফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রবল প্রভাব রয়েছে। সরকারি বয়ান থেকে সরে গেলে সংবাদমাধ্যমকে সেন্সরশিপ, প্রশাসনিক চাপ এমনকি ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখেও পড়তে হয়। রিয়াজের দাবি, ওই বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের চেয়ে ভারতবিরোধী প্রচারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, এই (Pakistan) ব্যবস্থার ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা কার্যত দমিয়ে রাখা হচ্ছে এবং রাষ্ট্র-অনুমোদিত প্রচারই টেলিভিশন, ডিজিটাল মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

    ভারতে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্য

    ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের প্রচারকে পুরনো ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার বলেই মনে করা হয়। গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন মহল বারবার ভারতের ভেঙে পড়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। কিন্তু ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নির্বাচন সেই সমস্ত দাবিকে বারবার ভুল প্রমাণ করেছে (Imran Riaz)। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈচিত্র্যের মধ্যেও ভারতের ঐক্য পাকিস্তানের প্রচারিত বয়ানকে কার্যত অস্বীকার করে। বর্তমানে তথ্যযুদ্ধকে আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে ভারত। সেই কারণে টেলিভিশন, ডিজিটাল মিডিয়া, এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিদেশি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের মোকাবিলায় ভারত সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে বলেও অভিমত বিশ্লেষকদের।

    শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা!

    এদিকে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে (Pakistan), ভারতের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা।বালুচিস্তানে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এখনও অব্যাহত। সেখানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সংঘাত দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে (Imran Riaz)। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরেও অর্থনৈতিক দুরবস্থা, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু এই অভ্যন্তরীণ সঙ্কটগুলির পরিবর্তে ভারতের তথাকথিত অস্থিরতা নিয়ে প্রচার চালাতেই পাকিস্তানের সামরিক প্রচারযন্ত্র বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ।

    সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়

    রিয়াজের দাবি, দেশের প্রকৃত সমস্যার সমাধানের বদলে বিদেশবিরোধী প্রচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র বাস্তব পরিস্থিতি থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত যখন অর্থনীতি ও গণতন্ত্র—উভয় ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী করছে, তখন পাকিস্তানের সামরিক প্রচারযন্ত্র এখনও ভারতবিরোধী প্রচারের পুরনো কৌশলেই আটকে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল শুধু ভারতবিরোধী প্রচার নয়, বরং রাষ্ট্রের তরফে সংবাদমাধ্যমকে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ (Imran Riaz) পরিবেশনের পরিবর্তে বিদেশবিরোধী প্রচারকে () অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করার অভিযোগ।

     

LinkedIn
Share