Tag: India

India

  • BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার থেকে ভারতে শুরু হতে চলেছে দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit)। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং একের পর এক আঞ্চলিক সংকটের আবহে এবারের সম্মেলনে সমষ্টিগত স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর (Food Energy Resilience) উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চলেছে ভারত। খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল—এই ক্ষেত্রগুলিতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করাই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    বিশ্ব অর্থনীতির নয়া চাপ (BRICS Summit)

    নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলন এমন একটা সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত এখনও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরোধ, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসকে একটি কার্যকর সমন্বয়কারী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই ভারতের এবারের সভাপতিত্বে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিত থাকার কথা। ফলে এবারের বৈঠককে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    যৌথ ঘোষণাপত্র

    তবে সম্মেলনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি কি যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে? পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে মতপার্থক্য এখনও রয়েছে। ফলে সম্মেলনের শেষে সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    ব্রিকসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সাধারণত ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই জোট ২০২৪ সালে সম্প্রসারিত হয়। সেই সময় মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব এই গোষ্ঠীতে যোগ দেয়। ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়।

    গত বছর বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনামকে অংশীদার দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতিগুলিকে নিয়ে গঠিত এই জোটের আন্তর্জাতিক প্রভাব আরও বেড়েছে।

    বর্তমানে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশে মিলিয়ে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ বসবাস করে। বিশ্ব মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এই গোষ্ঠী। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্রিকসের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি

    ভারতের এবারের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি চারটি—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব। এই চারটি স্তম্ভকে সামনে রেখেই সারা বছর ধরে একাধিক বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। ভারতের মূল ভাবনা হল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এমন একটি জনকেন্দ্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, যার ভিত্তি হবে “মানবতা সর্বাগ্রে”—এই ধারণা (Food Energy Resilience)।

    ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থিতিস্থাপকতার স্তম্ভের অধীনে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলিও আলোচনা করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থ এবং উদ্বেগের জায়গাগুলি নিয়েও রাষ্ট্রনেতারা মতবিনিময় করবেন।

    ব্রিকসের লক্ষ্য

    ভারতের সভাপতিত্বে চলতি বছরে দেশের ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টির বেশি বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা। এই অংশীদারিত্বের তিনটি মূল স্তম্ভ হল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (BRICS Summit)।

    ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভারত এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে এই গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারত চতুর্থবারের জন্য ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

    বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে সম্মেলনের সূচনা হবে সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে। বৈঠকের বিষয় “অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব পরিচালনব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিকতার শক্তিশালীকরণ”। এরপর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রনেতারা “ভারত উদ্ভাবন প্রদর্শনী” পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপমের প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে হবে আনুষ্ঠানিক আলোকচিত্র গ্রহণ এবং তার পর যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

    শনিবারের কর্মসূচির শেষ পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে (BRICS Summit)।

    রবিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে ব্রিকসের সদস্য দেশ, অংশীদার দেশ এবং আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে হবে আনুষ্ঠানিক দলগত আলোকচিত্র গ্রহণ। এরপর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে মূল উন্মুক্ত অধিবেশন (BRICS Summit)। এর বিষয় “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যৎ নির্মাণ” (Food Energy Resilience)।

    শেষ পর্বের কর্মসূচি

    দু’দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের শেষ পর্বে প্রকাশ করা হবে নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র। তবে তার আগে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য কতটা তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের। বর্তমান বিশ্বে যখন যুদ্ধ, বাণিজ্যিক সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তখন ব্রিকস সেই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এবারের সম্মেলনেই তার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশ পাওয়া যেতে পারে (BRICS Summit) বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • BJP Seva Sankalp Abhiyan: মোদির ২৫ বছরের জনসেবা পূর্তি, দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ বিজেপির

    BJP Seva Sankalp Abhiyan: মোদির ২৫ বছরের জনসেবা পূর্তি, দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের জনসেবা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের সময়কাল পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ (BJP Seva Sankalp Abhiyan) শুরু করতে চলেছে বিজেপি। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। এক মাস ধরে সামাজিক সেবা, জনসংযোগ, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে যুক্ত করে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    জন্মদিনে ‘সেবা দিবস’ (BJP Seva Sankalp Abhiyan)

    ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) জন্মদিন। ওই দিনটিকে ‘সেবা দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। সারা দেশে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে। ওই দিনই সন্ধ্যা ৭টায় দেশের প্রতিটি বুথে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচি পালন করবে বিজেপি। মোদির ২৫ বছরের জনসেবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রদীপ জ্বালাবেন মানুষ ।

    অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য তরুণ প্রজন্ম ও শিশুদের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুলগুলিতে ‘আমার স্বপ্নের ভারত’ বিষয়ের উপর ছবি আঁকা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা ছবি ও বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

    ‘নমো সেবা—অকথিত কাহিনি’ কর্মসূচির আওতায় সংগীত ও নাট্য পরিবেশনেরও আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘আঙন মিলন সেবা’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং আশা কর্মীদের সম্মানিত করা হবে।

    উন্নত ভারতের লক্ষ্যে শপথ

    ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা উন্নত ভারতের লক্ষ্যে শপথ নেবেন। অভিযানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে মোট ২৫টি পৃথক সেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    এছাড়াও ব্লক স্তরে ‘সেবা সেতু অভিযান’ পরিচালনা করা হবে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে সাধারণ মানুষ সহজে পেতে পারেন, সে জন্য শিবিরের আয়োজন করা হবে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষকে সহায়তা করা হবে।

    এক মাসব্যাপী এই অভিযানের সমাপ্তি হবে ১৭ অক্টোবর ‘সুশাসন সেবা সংবাদ’ কর্মসূচির মাধ্যমে। শেষ দিনের অনুষ্ঠানে সুশাসন ও জনসেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।

    বুধবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ৭ অক্টোবর মোদির ২৫ বছরের জনসেবা যাত্রা পূর্ণ হবে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্যে দিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল।

    ‘সেবা সংকল্প অভিযান’

    নিতিন নবীন বলেন, “আজ আমরা এখানে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ (BJP Seva Sankalp Abhiyan) নিয়ে আলোচনা করতে একত্রিত হয়েছি। ৭ অক্টোবর, ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনসেবায় ২৫ বছর পূর্ণ করবেন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। গত ২৫ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে এই সেবার যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। জনসেবা থেকে দেশসেবায় উত্তরণের মন্ত্রকে সামনে রেখে তিনি কাজ করে চলেছেন।”

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দাবি, মোদির নেতৃত্বে ভারত “হতাশা ও অন্ধকার” থেকে বেরিয়ে বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

    সারা দেশের এই মাসব্যাপী কর্মসূচিতে সামাজিক সেবা, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া, জনসম্পৃক্ততা এবং সমাজের (PM Modi) বিভিন্ন অংশের মানুষের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোদির ২৫ বছরের জনসেবার যাত্রাকে (BJP Seva Sankalp Abhiyan) সামনে রেখে সেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হবে।

     

  • NIA: পিএনবির কারেন্সি চেস্টে ১৭ কোটির জালনোট! গ্রেফতার ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নেপাল-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    NIA: পিএনবির কারেন্সি চেস্টে ১৭ কোটির জালনোট! গ্রেফতার ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নেপাল-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (PNB) এক কর্তাকে গ্রেফতার করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। তার জেরে উত্তরপ্রদেশে জাল নোট উদ্ধারের অন্যতম বড় ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার এনআইএর শীর্ষ আধিকারিকরা জানান, ব্যাঙ্কের একটি কারেন্সি চেস্টের ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া ১৭.২৯ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট (Fake Currency Case) বৃহত্তর কোনও চক্রের অংশ কি না, এবং সেই চক্র আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কাজ করছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এনআইএর হাতে গ্রেফতার পিএনবির ম্যানেজার (NIA)

    সোমবার জগাধরি কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমারকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এই মামলায় নাম থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত তিনি। সাহারানপুরের সোফিয়া মার্কেট এলাকার ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টে ভারতীয় জাল নোট শনাক্ত হওয়ার পর পিএনবির যে তিন আধিকারিক তদন্তকারীদের নজরে আসেন, অমিত তাঁদের অন্যতম।

    পিএনবি কর্তার এই গ্রেফতারি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সন্দেহভাজন জাল নোট কোনও ব্যক্তিগত বাহক, গোপন আস্তানা বা সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়নি; বরং তা উদ্ধার হয়েছে ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টের ভিতর থেকেই। তাই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে জাল নোটগুলি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ঢুকল এবং তার কোনও অংশ পরবর্তী কালে বৈধ ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল কি না।

    এনআইএ জানিয়েছে, মামলাটি পিএনবির কারেন্সি চেস্টে জাল নোট সংক্রান্ত একটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তের মাধ্যমে পুরো “ষড়যন্ত্রের সম্পূর্ণ চিত্র” উদঘাটন এবং অন্যান্য অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    তদন্তে তিন পিএনবি আধিকারিক

    তদন্তে চিহ্নিত তিন পিএনবি আধিকারিক হলেন— সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার কানসে, সোফিয়া মার্কেট কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার সুশীল কুমার এবং জগাধরি কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমার। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের তথাকথিত যোগসূত্র সামনে আসার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সাসপেন্ড করেন তিনজনকেই।

    পরবর্তী কালে এসআইটি (SIT) এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ তিন আধিকারিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করে। তাঁদের যোগাযোগ, গতিবিধি এবং অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করতে ওই সব সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    এনআইএর হাতে তদন্তভার

    ৩ সেপ্টেম্বর তদন্তভার নেওয়ার পর এনআইএ মামলাটি নতুন করে নথিভুক্ত করেছে। এর আগে ২৯ অগাস্ট সদর বাজার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ধারা ১৭৮-এর অধীনে মূল এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। জাল নোট উদ্ধারের আগে মুদ্রাগুলি কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়েছিল, সেই গোটা গতিপথ পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন (Fake Currency Case) তদন্তকারীরা।

    কীভাবে জাল নোট ঢুকল মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থায়?

    তদন্ত থেকে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই সাহারানপুর থেকে ১১১ কোটি টাকা মূল্যের মুদ্রা কারেন্সি-হ্যান্ডলিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) জয়পুর দফতরে পাঠানো হয়েছিল। ওই চালানে লেখা ছিল— ৫০০ টাকার নোটের ১,৯০০ বান্ডিল এবং ২০০-এর ৮০০ বান্ডিল।

    চালানটির প্যাকিং ও পাঠানোর প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এক গৃহপরিচারকের হাতে। তবে ঠিক কোন পর্যায়ে সন্দেহের তালিকায় থাকা জাল নোটগুলি মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকেছিল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    জাল নোটের অনিয়ম ধরা পড়ার আগে কারেন্সি চেস্ট থেকে ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখা এবং এটিএম-এ ওই নোটগুলির কিছু অংশ পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (NIA)। এই তদন্তের অন্যতম বড় প্রশ্ন হল—সন্দেহমূলক জাল নোটের কতটা ইতিমধ্যেই বাজারে ঢুকে পড়েছে। কারেন্সি চেস্টের বাইরে কত পরিমাণ নোট গিয়েছিল, আদৌ গিয়েছিল কি না—তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    নেপালের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের তদন্ত

    তদন্তে সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্রের দিকটিও সামনে এসেছে। তিন অভিযুক্তের যোগাযোগ ও গতিবিধি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি বা সীমান্তের ওপারে সক্রিয় (Fake Currency Case) কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এই আশঙ্কার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

    তবে নেপালের সঙ্গে কোনও নিশ্চিত যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকারীরা আপাতত একে তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক হিসেবেই দেখছেন। সাহারানপুরের এসএসপি অভিনন্দন এর আগে তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারির কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের আশঙ্কা ছিল, অভিযুক্তরা নেপালে পালিয়ে যেতে পারেন। সেই (NIA) কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়।

     

  • India: ইউরোপের ডিজেল ঘাটতি মেটাচ্ছে ভারত, অগাস্টে ৬০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি গেল দিল্লির শোধনাগার থেকে

    India: ইউরোপের ডিজেল ঘাটতি মেটাচ্ছে ভারত, অগাস্টে ৬০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি গেল দিল্লির শোধনাগার থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে ভারতের (India) গুরুত্ব আরও বেড়েছে। চলতি বছরের অগাস্টে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর মধ্যে দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাওয়া ডিজেল ও গ্যাসঅয়েলের ৬০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ভারতের শোধনাগারগুলি থেকে (Diesel Supplier)। রাশিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সেই ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে ভারত।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগাস্টে লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ব্যারেলেরও বেশি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল পরিবহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ ছিল ভারতীয় জ্বালানি। ফলে ইউরোপের পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    রাশিয়ার রফতানি কমতেই বাড়ল ভারতের গুরুত্ব (India)

    ভারত থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ রাশিয়ার রফতানিতে বড়সড় পতন। অগাস্টের প্রথম ২৫ দিনে রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে ডিজেল রফতানি নেমে এসেছে দৈনিক গড়ে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। এক বছর আগে একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় রফতানি প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে এবং পাঁচ বছরের ঋতুভিত্তিক গড়ের তুলনায় পতন হয়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ।

    এদিকে, ইউরোপের বাইরে থেকে ইউরোপে মার্কিন সমুদ্রপথে ডিজেল রফতানি অগাস্টে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় ইউরোপের মোট আমদানিতে এর অংশও বেড়েছে। তবে মাসের প্রথমার্ধে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলের শীর্ষে পৌঁছনোর পর দ্বিতীয়ার্ধে তা কমে নেমে আসে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে।

    ভারতের শোধনাগারগুলির সুবিধা

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল পরিশোধনকারী দেশ। দেশে বছরে প্রায় ২৫ কোটি ৮১ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করেছে।

    দেশের জটিল এবং রফতানিমুখী শোধনাগারগুলির অন্যতম সুবিধা হল, তারা বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের শোধনাগারের মতো বড় পরিশোধনাগারগুলিতে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। ফলে যে বাজারে দাম বেশি, সেখানে দ্রুত পরিশোধিত জ্বালানি পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে ভারত (India)।

    তবে পরিসংখ্যান বলছে, অগাস্টে ভারতের অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত তরল হাইড্রোকার্বন আমদানি কমেছে। এক বছর আগে যেখানে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮ লাখ ব্যারেল, অগাস্টে তা কমে প্রায় দাঁড়িয়েছে ৩৮ লক্ষ ব্যারেলে। লোহিত সাগরের পথ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ

    বাব-এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে ভারতীয় ডিজেল ইউরোপে পৌঁছনোর বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ইউরোপের দিকে জ্বালানি পরিবহণের প্রচলিত পথগুলির উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী জ্বালানি পরিবহণে লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেবের গুরুত্ব বেড়েছে।

    তবে এই পথ পুরোপুরি নিরাপদ নয়। অতীতে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে একাধিক বাধা তৈরি হয়েছিল। ফলে এই জলপথ ব্যবহার করে ইউরোপে জ্বালানি পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় ও নিরাপত্তা—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    ইউক্রেনের হামলায় চাপে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামো

    রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি কমে যাওয়ার পিছনে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলাও বড় কারণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার শোধনাগার এবং জ্বালানি রফতানির পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে মস্কোর অর্থনৈতিক আয় এবং যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতার উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে কিয়েভ (ইউক্রেনের রাজধানী)।

    অগাস্টের ২১ তারিখে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পাম তেল শোধনাগারের প্রযুক্তিগত ইউনিটগুলির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। এর পর শোধনাগারটির কার্যক্ষমতা কমে প্রায় ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। মে মাসে হামলার পর থেকে তুয়াপসে বন্দর থেকেও কোনও ডিজেলবাহী জাহাজ ছাড়েনি।

    ফলে রাশিয়ার সরবরাহ কমার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ পাচ্ছে (Diesel Supplier) ভারত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং রাশিয়ার রফতানি সংকট যতদিন চলবে, ইউরোপের পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে (India)।

     

  • World Map: বদলে যাচ্ছে বিশ্বের মানচিত্র! আফ্রিকা যে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়, দেখাবে নয়া মানচিত্র

    World Map: বদলে যাচ্ছে বিশ্বের মানচিত্র! আফ্রিকা যে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়, দেখাবে নয়া মানচিত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমরা ছোটবেলা থেকে যে বিশ্বমানচিত্র দেখে অভ্যস্ত, বাস্তব পৃথিবীর সঙ্গে তার অনেকটাই পার্থক্য রয়েছে (World Map)। বিশেষ করে দেশ ও মহাদেশের প্রকৃত আয়তন সম্পর্কে প্রচলিত মানচিত্র অনেক সময় বিভ্রান্তিকর ছবি তুলে ধরে (India)। সেই সমস্যা কাটাতেই বহুল ব্যবহৃত মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে ‘ইক্যুয়াল আর্থ’ অভিক্ষেপ ব্যবহারের উদ্যোগকে সমর্থন করেছে রাষ্ট্রসংঘ।

    পৃথিবী গোলাকার, কিন্তু মানচিত্র সমতল। ফলে গোল পৃথিবীকে সমতল কাগজে তুলে ধরতে গেলে কোনও না কোনও ক্ষেত্রে বিকৃতি ঘটবেই। ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর তৈরি করেছিলেন তাঁর বিখ্যাত মানচিত্র-অভিক্ষেপ। মূলত সমুদ্রপথে নৌচলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এটি তৈরি হয়েছিল। নির্দিষ্ট কম্পাস-দিক বরাবর যাত্রাপথকে সরলরেখায় দেখানো যেত বলে নাবিকদের কাছে এই মানচিত্র বিশেষ কার্যকর ছিল (India)।

    কিন্তু এর একটি বড় সমস্যা হল, উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে যেতে যেতে ভূখণ্ডের আকার অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে দেখা যায়। ফলে উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থিত দেশ ও অঞ্চল বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি বড় বলে মনে হয়।

    আফ্রিকা কি সত্যিই গ্রিনল্যান্ডের মতো ছোট? (World Map)

    প্রচলিত মারকেটর মানচিত্রের সবচেয়ে পরিচিত বিভ্রান্তিগুলির একটি হল আফ্রিকা ও গ্রিনল্যান্ডের তুলনা। মানচিত্রে দুটিকে প্রায় একই আকারের বলে মনে হতে পারে। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।

    একই ধরনের বিকৃতি রাশিয়া, কানাডা, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলগুলিকে বাস্তবের তুলনায় বড় দেখায়। অন্যদিকে বিষুবরেখার কাছাকাছি থাকা আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো অঞ্চল তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়।

    ভারতের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। ইক্যুয়াল আর্থ মানচিত্রে ভারতকে প্রচলিত মানচিত্রের তুলনায় সামান্য বড় দেখা যায়।

    কেনিয়ার ভূগোলবিদ কিয়োকো মুয়েন্দো বিবিসিকে বলেন, “মানচিত্র শুধু স্থান খুঁজে বের করার উপকরণ নয়। এগুলি কোনও অঞ্চলকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কীভাবে দেখা হবে, সেই ধারণাকেও প্রভাবিত করে।”

    কী এই ইক্যুয়াল আর্থ মানচিত্র?

    ২০১৮ সালে একদল মানচিত্রবিদ ইক্যুয়াল আর্থ অভিক্ষেপ তৈরি করেন। মারকেটর মানচিত্রের মূল উদ্দেশ্য যেখানে নৌচলাচলের পথ সহজ করে দেখানো, সেখানে ইক্যুয়াল আর্থের লক্ষ্য হল পৃথিবীর বিভিন্ন ভূখণ্ডের আপেক্ষিক আয়তনকে আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরা।

    দুটি মানচিত্র পাশাপাশি রাখলে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইক্যুয়াল আর্থ মানচিত্রে আফ্রিকাকে অনেক বড় দেখায়। অন্যদিকে মারকেটর মানচিত্রের তুলনায় উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপকে কিছুটা ছোট দেখা যায়। দক্ষিণ আমেরিকাও তার প্রকৃত আয়তনের কাছাকাছি আকার পায়। মেরু অঞ্চলের অতিরঞ্জিত আকারও অনেকটাই কমে আসে। ভারতকেও তুলনামূলকভাবে সামান্য বড় দেখা যায়।

    এই নতুন অভিক্ষেপের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ বাস্তবে কতটা ভূখণ্ড দখল করে রয়েছে, সে সম্পর্কে আরও বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া যায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলিও ইক্যুয়াল আর্থ অভিক্ষেপ গ্রহণ করেছে (World Map)।

    ইক্যুয়াল আর্থও কি নিখুঁত?

    তবে ইক্যুয়াল আর্থ মানচিত্রও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। আয়তনকে বেশি নির্ভুলভাবে দেখাতে গিয়ে এটি মারকেটর মানচিত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হারিয়েছে।

    পৃথিবীর পৃষ্ঠের সরলরেখাগুলি এখানে মারকেটর মানচিত্রের মতো একইভাবে কাজ করে না। বিভিন্ন স্থানের প্রকৃত দূরত্বও এই মানচিত্রে সব ক্ষেত্রে নিখুঁতভাবে মাপা সম্ভব নয়। কারণ গোল পৃথিবীকে সমতল মানচিত্রে রূপান্তর করার সময় আয়তন, আকার, দূরত্ব এবং দিক—সবকিছুকে একসঙ্গে সম্পূর্ণ নির্ভুল রাখা সম্ভব নয়।

    ইউসিএল-এর মানচিত্রবিদ্যার অধ্যাপক জেমস চেশায়ার বলেন, “একটি মানচিত্র আয়তন, আকার, দূরত্ব ও দিক—প্রতিটিকে বিভিন্ন মাত্রায় সঠিক রাখতে পারে, কিন্তু সবকিছুকে একই সঙ্গে নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করতে পারে না।”

    পিটার্স মানচিত্রের ভূমিকা কী?

    দেশ ও মহাদেশের প্রকৃত আয়তন সম্পর্কে বিভ্রান্তি দূর করার আরেকটি প্রচেষ্টা হল পিটার্স অভিক্ষেপ। জার্মান ইতিহাসবিদ আরনো পিটার্স ১৯৭০-এর দশকের গোড়ায় এটি তৈরি করেন। তবে এর ভিত্তি ছিল স্কটিশ মানচিত্রবিদ জেমস গ্যাল ১৮৫৫ সালে বর্ণিত একটি অভিক্ষেপ (World Map)।

    ইক্যুয়াল আর্থের মতো পিটার্স মানচিত্রও বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশের প্রকৃত আয়তন সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে ন্যায্য ধারণা দেয়। তবে এর জন্য ভূখণ্ডের আকারে কিছু পরিবর্তন ঘটে। মেরু অঞ্চলের ভূখণ্ডকে চেপে দেখানো হয় এবং বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলকে অপেক্ষাকৃত প্রসারিত দেখানো হয়। ফলে, উদাহরণ হিসেবে, রাশিয়াকে প্রচলিত মানচিত্রের তুলনায় অনেক ছোট দেখায়।

    তাহলে কি নিখুঁত বিশ্বমানচিত্র বলে কিছু নেই?

    আসলে পৃথিবীর কোনও একটিমাত্র নিখুঁত সমতল মানচিত্র সম্ভব নয়। গোল পৃথিবীকে পুরোপুরি সমতল করে দেখাতে গেলে কোনও না কোনও ধরনের বিকৃতি ঘটবেই।

    মারকেটর মানচিত্র দিকনির্দেশ ও নৌচলাচলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর, কিন্তু ভূখণ্ডের আয়তনকে বিকৃত করে। পিটার্স মানচিত্র আয়তনকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে আসে, কিন্তু ভূখণ্ডের আকৃতি বিকৃত করে। আর ইক্যুয়াল আর্থের লক্ষ্য হল বিভিন্ন ভূখণ্ডের আয়তনের আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরা (India)।

    অর্থাৎ, পৃথিবীকে মানচিত্রে তুলে ধরার ক্ষেত্রে কোনও একটি পদ্ধতিই সব দিক থেকে নিখুঁত নয়। কোন মানচিত্র ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করে সেটি কোন উদ্দেশ্যে তৈরি বা ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর (World Map)।

     

  • Warmest Year: ২০২৬-এর অগাস্টে বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই উষ্ণতার নতুন রেকর্ড

    Warmest Year: ২০২৬-এর অগাস্টে বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই উষ্ণতার নতুন রেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে বিশ্ব ও ভারত—দুই ক্ষেত্রেই তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিবেদন এবং ভারতের আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগাস্ট ছিল বিশ্বের উষ্ণতম অগাস্ট (Warmest Year)। একই সঙ্গে চলতি বছরই পৃথিবীর উষ্ণতম বছর হিসেবে নয়া রেকর্ড গড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে (India)।

    জলবায়ুবিজ্ঞান বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘ক্লাইমেট ব্রিঙ্কে’র তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত কোপার্নিকাস-ইসিএমডব্লিউএফ-এর ইআরএ৫ তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগাস্টে প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ২০২৪ সালের অগাস্টে তৈরি আগের রেকর্ডের তুলনায় এই বৃদ্ধি যথেষ্ট বেশি।

    মানবসৃষ্ট কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সূচনা হওয়ার আগের সময়কে প্রাক্-শিল্প যুগের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, চলতি বছরের আট মাসের তথ্য হাতে আসায় এবং বছরের বাকি সময়ের এল নিনো পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাস আরও নির্ভরযোগ্য হওয়ায় ২০২৬ সালের এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম বছর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৫ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কমবেশি ০.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বেশি থাকার পথে রয়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্বে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার ছিল ১.৫৫ থেকে ১.৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ফলে চলতি বছরের সম্ভাব্য বৃদ্ধি সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।

    কলকাতায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি (Warmest Year)

    বৈশ্বিক প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, গত বছর ভারতের মহানগরগুলির মধ্যে কলকাতায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ছিল সর্বাধিক। প্রাক্-শিল্প যুগের বৈশ্বিক মানদণ্ডের তুলনায় কলকাতার তাপমাত্রা ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেঙ্গালুরু, সেখানে বৃদ্ধির হার ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এক প্রবীণ অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ৫০ বছরের প্রবণতার সঙ্গেই এই তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, সর্বশেষ রাষ্ট্রসংঘের বিশ্লেষণ ব্যবহার করে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৮৫৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিশ্বে এই বৃদ্ধির হার কলকাতাতেই সবচেয়ে বেশি ছিল। এরপর ছিল তেহরান ও মস্কো।

    ১৯০১ সালের পর ভারতে উষ্ণতম অগাস্ট

    ভারতের আবহাওয়া দফতরও জানিয়েছে, দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্বের সামগ্রিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ভারতের আবহাওয়া দফতরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, ১৯০১ সালে দেশজুড়ে তাপমাত্রার নথি সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের অগাস্টই ভারতে উষ্ণতম অগাস্ট (Warmest Year)।

    আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, অগাস্টে ভারতের জাতীয় গড় তাপমাত্রা ২৮.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। দীর্ঘমেয়াদি স্বাভাবিক গড় ২৭.৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তুলনায় তা ০.৬৭ ডিগ্রি বেশি। শুধু দিনের তাপমাত্রাই নয়, রাতের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রাতেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। তা ২৪.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যেখানে স্বাভাবিক গড় ২৩.৬৮ ডিগ্রি। ১২৫ বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ রাতের গড় তাপমাত্রা।

    ভারতের আবহাওয়া দফতরের প্রাক্তন মহাপরিচালক কেজে রমেশ বলেন, ভারতের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্বব্যাপী প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, বিশ্ব এবং ভারত—উভয় জায়গাতেই এ বছরের আগস্ট ছিল উষ্ণতম।

    ১.৫ ডিগ্রির সীমা পেরিয়ে বিপদের আশঙ্কা

    ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে দেশগুলি সর্বসম্মতভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যে সম্মত হয়েছিল। কারণ, এই সীমা অতিক্রম করলে পাহাড়ি অঞ্চল, সমুদ্রসংলগ্ন এলাকা এবং নিচু ভূমিতে বসবাসকারী মানুষের উপর অত্যন্ত ভয়াবহ জলবায়ুগত প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে জলজ বাস্তুতন্ত্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবী স্থায়ীভাবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। সর্বোত্তম পরিস্থিতিতেও গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থিত হতে পারে। আবার কয়েকটি জলবায়ু মডেল অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হতে পারে।

    ‘ক্লাইমেট ট্রেন্ডসে’র জলবায়ু প্রভাব বিভাগের প্রধান কার্তিকী নেগি বলেন, বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই অগাস্টকে এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম অগাস্ট হিসেবে ঘোষণা করা ভবিষ্যতের উষ্ণ পৃথিবী কেমন হতে পারে, তার একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর সৃষ্টি করে (India) না। তবে এটি পৃথিবীর স্বাভাবিক উষ্ণতার ভিত্তি আরও বাড়িয়ে দেয় এবং শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে (Warmest Year)।

     

  • SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করল সুপ্রিম কোর্ট (SC)। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত তার সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে একই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যত্র দায়ের হওয়া একই ধরনের এফআইআরগুলির ক্ষেত্রেও সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে (NEET Protest)। তবে এই নির্দেশকে নিঃশর্তভাবে “সব এফআইআর বাতিল” হিসেবে দেখলে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বোঝা যাবে না।

    ‘সুপ্রিম’ শুনানি (SC)

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার তিন সদস্যের বেঞ্চ জুলাইয়ের ২০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি করছিল।আদালত মনে করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া এবং অন্যান্য তরুণ-তরুণীদের শুধুমাত্র একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে বছরের পর বছর ফৌজদারি মামলার বোঝা বহন করা উচিত নয়। সেই কারণেই আদালতের সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য জায়গায় দায়ের হওয়া একই ধরনের মামলাতেও এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে।

    তবে এই নির্দেশের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রেখেছে শীর্ষ আদালত।

    কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ ২,৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করে পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অতীতের তথ্য রয়েছে এবং তাঁরা প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন (SC)।

    এই ২,৮৭৩ জনকে নিয়ে দিল্লি পুলিশকে একটি নতুন এফআইআর দায়ের করে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে সেই তদন্তের বিষয় হবে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁদের কেউ শারীরিক ক্ষতি বা সম্পত্তি ধ্বংসের মতো নির্দিষ্ট অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না।

    আদালতের অবস্থান

    বিষয়টি নিয়ে আদালতের অবস্থানও স্পষ্ট। ২,৮৭৩ জনকেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেনি সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বলছি না যে তাঁরা অপরাধী। অভিযোগ রয়েছে, এই পর্যন্ত।”

    অর্থাৎ, শুধু ওই ব্যক্তিরা বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে না। নতুন করে যে তদন্ত হবে, তার কেন্দ্রে থাকতে হবে হিংসা, শারীরিক ক্ষতি অথবা সম্পত্তি নষ্ট করার মতো নির্দিষ্ট অপরাধমূলক কাজ।

    ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও বলা যায় না, আবার সব ধরনের অভিযোগ থেকে নিঃশর্ত অব্যাহতি দেওয়াও বলা যায় না।

    আদালতের অবস্থানের মূল বিষয় হল, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং সেই জমায়েতকে আড়াল করে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে দীর্ঘদিন ধরে ফৌজদারি মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করেছে আদালত। একই সঙ্গে হিংসা বা সম্পত্তি নষ্টের মতো নির্দিষ্ট অপরাধের তদন্তের সুযোগও রাষ্ট্রের হাতে রাখা হয়েছে।

    আরও একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত জানিয়েছে, ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্তটি এই মামলার সামনে থাকা বিশেষ পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এটিকে ভবিষ্যতের মামলায় অনুসরণযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ফলে গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সব এফআইআর ভবিষ্যতে একইভাবে বাতিল করা যাবে—এমন সাধারণ নিয়ম এই রায় থেকে তৈরি হচ্ছে না।

    নিট বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আত্মহত্যা করে মারা যাওয়া পড়ুয়াদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন মাসের মধ্যে গোটা দেশের জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    ‘সুপ্রিম’ সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক

    সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে (NEET Protest)। তবে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত হতে পারে এমন নির্দিষ্ট হিংসাত্মক অপরাধ বা সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা তদন্তের বাইরে রাখা হয়নি। অর্থাৎ, আদালত (SC) যে সীমারেখা টেনেছে, তা হল গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ একদিকে এবং সেই প্রতিবাদের সময় সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আর একদিকে।

     

  • PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে সব ধরনের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানই বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব এই (Ukraine War) যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ‘যুদ্ধের অবসান হোক’ (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই বৈঠকের পরেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। মোদির বক্তব্যকে কয়েক বছর আগে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া তাঁর ‘‘এটি যুদ্ধের যুগ নয়’’ বার্তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও সেই বক্তব্য যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, “আমাদের ‘অন্তহীন যুদ্ধে’র পরিস্থিতি থেকে ‘যুদ্ধের অবসানে’র দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের অবসান হোক।” ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করি। আমরা যখন শেষবার দেখা করেছিলাম, তখনও আপনি পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। আপনারা জানেন, এই অচলাবস্থা নিরসনে ভারত সব ধরনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে সমর্থন করে।” ভারতের অবস্থান যে কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট করে মোদি বলেন, “ভারত সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মানবতার স্বার্থে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় (PM Modi)।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় ভারত বারবার জানিয়েছে, যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। ২০২২ সালে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও মোদি একই ধরনের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—এটি যুদ্ধের যুগ নয়। মানবতার সামনে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির মোকাবিলায় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসার সময় এসেছে। তাই ভারত কূটনীতি ও আলোচনায় বিশ্বাস করে।”

    মোদির মুখে শান্তির ললিত বাণী

    সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ভারত বুদ্ধের ভূমি। সহমর্মিতা ভারতীয়দের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বিশ্বের কোনও দেশে যখনই সংকট দেখা দেয়, ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে। বুদ্ধের ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ভারত যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পক্ষেই অবস্থান করে (Ukraine War)। এবারও মোদির বক্তব্যে মানবতার প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয় এবং আমাদের অবশ্যই শত্রুতা ও সংঘাতের অবসানের জন্য কাজ করতে হবে (PM Modi)।” ভারতের শান্তির বার্তার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের আদর্শের সম্পর্কও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গান্ধীর ভূমি এবং বুদ্ধের ভূমি একই বার্তা বহন করে—শান্তির পথ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপ এবং পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে ভারত সরাসরি কোনও পক্ষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না করে শান্তিপূর্ণ সমাধান, আলোচনা এবং কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থানই আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর বার্তার মূল লক্ষ্য যে যুদ্ধের সমর্থন নয়, বরং সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং শান্তির পরিবেশ তৈরি করা—তা তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি অংশেই স্পষ্ট হয়েছে।

    শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারত বরাবরই জানিয়েছে, যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সংঘাতের অবসান সম্ভব (PM Modi)। এদিকে পুতিনের সঙ্গে মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ এর এক সপ্তাহ পরেই রুশ প্রেসিডেন্টের নয়াদিল্লি সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরে তিনি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশকেকে মোদি-পুতিন বৈঠককে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (Ukraine War)।

    নয়াদিল্লির অবস্থান

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে ভারতের এই বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নয়াদিল্লির অবস্থানকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। যুদ্ধের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনা, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে শান্তির পথ—এই নীতিকেই ভারত সামনে রেখে এগোতে চাইছে বলেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট (PM Modi)।

  • SCO Summit: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আর কী?

    SCO Summit: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের (SCO Summit) ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতার সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক হল। বৈঠকে ভারত ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী (PM Modi) ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

    দুই ‘হুজুরের গপ্পো’ (SCO Summit)

    ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি-সহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

    মধ্যপ্রাচ্যে যখন একের পর এক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের অন্যতম। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নানা বাধার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও।

    এর আগে জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছিল। সেই সময় ইরানি প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অবহিত করেন এবং সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে যে সমঝোতা তৈরি হয়েছিল, তাকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছিলেন (SCO Summit) তিনি।

    আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে সওয়াল

    পেজেশকিয়ান বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বৈঠকের আগেই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। একই সঙ্গে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দেশের অবস্থানও স্পষ্ট করে দেন। তাঁর কথায়, “ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেবে।”

    এক মাসের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকা ইরানের একটি ছোট দ্বীপে হামলা চালানোর পর পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলা অস্থিরতা নিয়ে ইরানের উদ্বেগও স্পষ্ট হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের মতে, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা কোনও দেশের জন্যই ভালো নয়। বরং এর প্রভাব গোটা অঞ্চলের দেশগুলির ওপর পড়ে। তাই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত লক্ষ্য পূরণে দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো জরুরি (PM Modi)।

    বৈঠকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই অঞ্চলের অধিকাংশ নেতাই এতে উপস্থিত থাকবেন। এমন একটি পরিস্থিতিতে, যখন কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বে একটি অভিন্ন পরিসর তৈরি করার চেষ্টা করছে, তখন এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরের অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

    মোদির আঞ্চলিক কূটনীতিতে আর্মেনিয়াও গুরুত্বপূর্ণ

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা ভারত ও আর্মেনিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ওষুধশিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা—সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত আর্মেনিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে দিল্লি সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে চায় বলেও জানান তিনি। এর ফলে মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সক্রিয় হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে (SCO Summit)।

    পুতিনের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন মোদি

    এদিনই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবে বলেই খবর।

    রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে দুই নেতা পর্যালোচনা করতে পারেন। এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাশিয়ায় দু’দিনের সফরে গিয়ে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই আলোচনার পর এবার দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে (PM Modi)।

    মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। সেই সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন। আসন্ন বৈঠকটি চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই নেতার প্রথম বৈঠক হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে (SCO Summit)।

    ইরান, আর্মেনিয়া ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একই সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠক ভারতের বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলের দিকটিও সামনে আনছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত একদিকে যেমন নিজের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে চাইছে, তেমনই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও কৌশলগত সহযোগিতাও বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সংঘাতের সময়েও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া ভারতের বিদেশনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উঠে আসছে (SCO Summit)।

     

  • PM Modi: বিশকেকে গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা মোদির, এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সহযোগিতায় জোর

    PM Modi: বিশকেকে গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা মোদির, এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সহযোগিতায় জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে (SCO Summit 2026) যোগ দিতে কিরগিজস্তানে সরকারি সফরে গিয়ে বিশকেকে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ৩০ অগাস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে পৌঁছন তিনি। এই সফরে ২৬তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

    বিশকেকে মোদি (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। বিশকেকে পৌঁছনোর পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রিসভার চেয়ারম্যান আদিলবেক কাসিমালিয়েভ। বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। ঐতিহ্যবাহী কিরগিজ নৃত্যের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। স্থানীয় সংস্কৃতির এই উপস্থাপনা দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগের দিকটিও তুলে ধরে।বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছনোর পরেও মোদিকে ঘিরে ছিল উষ্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন। সেখানে উপস্থিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী ভারতীয়রা “বন্দে মাতরম” ধ্বনি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি মোদি একটি যোগ প্রদর্শনীও দেখেন। দেশাত্মবোধক গান “মা তুঝে সালামে”র সঙ্গে পরিবেশিত হয় সেই যোগ প্রদর্শনী। পরে ভগবান শিবকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক নৃত্যও দেখেন তিনি। এর মাধ্যমে ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

    ২৫ বছর পূর্ণ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার

    এবারের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, চলতি বছর এই আঞ্চলিক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনে প্রথম দিকে ছিল চিন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। পরবর্তীতে সংগঠনের পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। এরপর ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ পূর্ণ সদস্য হওয়ায় সংগঠনটির পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।

    সম্মেলনের আগে সফর শুরুর সময় দেওয়া বিবৃতিতে মোদি এই অঞ্চলের জন্য ভারতের ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আঞ্চলিক অগ্রগতির ভিত্তি হওয়া উচিত নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও সুযোগ। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং উগ্রবাদের মতো চ্যালেঞ্জমুক্ত একটি অঞ্চল গড়ে তুলতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন তিনি।

    মোদির এই বক্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরেশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ফলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে সদস্য (SCO Summit 2026) দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (PM Modi)।

    নিরাপত্তা থেকে বাণিজ্য, আলোচনায় একাধিক বিষয়

    সম্মেলনে সদস্য দেশগুলির নেতারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা ওয়াকিবহাল মহলের। বিশেষ করে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

    এই সম্মেলনে মোদির উপস্থিতি ভারতের বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। সদস্য দেশগুলির সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে অভিন্ন সমস্যাগুলির সমাধান খোঁজার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ রয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি।

    উজবেকিস্তান সফরের পর কিরগিজস্তানে মোদি

    কিরগিজস্তানে পৌঁছনোর আগে মোদি শেষ করেন দু’দিনের উজবেকিস্তান সফর। সেখানে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করে সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মত হয় (PM Modi)।

    দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ভারত ও উজবেকিস্তান যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী, তা স্পষ্ট হয়েছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

    উজবেকিস্তানের পর কিরগিজস্তান সফরও সেই একই কৌশলগত ধারার অংশ। কিরগিজস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং জনসম্পর্কের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও মোদির আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে (SCO Summit 2026)।

    প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ

    মোদির বিদেশ সফরে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিরগিজস্তানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশকেকে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। প্রবাসীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সফরের আবেগঘন দিকটিও সামনে এনেছে।

    যোগ প্রদর্শনী এবং শিবকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক নৃত্যের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। একদিকে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ, অন্যদিকে স্থানীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে কিরগিজস্তানের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা—দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (PM Modi)।

    মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি

    মোদির এই সফরকে শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রয়াসের অংশ হিসেবেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে শক্তির ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সময়ে মধ্য এশিয়া ভারতের কাছে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মঞ্চ সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করে। ফলে বিশকেক সম্মেলনে মোদির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একদিকে যেমন ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সদস্য দেশগুলির সঙ্গে নতুন সমঝোতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে (SCO Summit 2026)।

    সম্মেলন শেষে বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা এবং সহযোগিতামূলক উদ্যোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও অনুমান। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারত যেমন লাভবান হবে, তেমনই সম্ভাবনা রয়েছে বৃহত্তর সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলির মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share