Tag: India

India

  • Mirabai Chanu: মীরাবাঈ ম্যাজিক! কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক, পদক-লাভে মণিপুরের মেয়ে ও ছেলেকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Mirabai Chanu: মীরাবাঈ ম্যাজিক! কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক, পদক-লাভে মণিপুরের মেয়ে ও ছেলেকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতকে প্রথম সোনা এনে দিলেন সোনার মেয়ে মীরাবাঈ চানু (Mirabai Chanu)। ফের দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন ভারতের ভারোত্তোলন তারকা। রবিবার গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ম্যাজিক দেখালেন মণিপুরের মেয়ে। এই নিয়ে পরপর তিনবার কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026 Glasgow) সোনা জেতার অনন্য নজির গড়লেন ৩১ বছর বয়সি মীরাবাঈ (India first gold CWG 2026)। অন্যদিকে, মণিপুর থেকে সেনাছাউনি হয়ে গ্লাসগো, ভারতের হয়ে রুপো জিতে আবেগে ভাসলেন ঋষিকান্ত সিং চানামবাম (Rishikant Singh)। নিজের ঐতিহাসিক সাফল্য তিনি উৎসর্গ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং গোটা দেশকে। একইসঙ্গে ভারতীয় ক্রীড়ার উন্নয়নে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই ভারতীয় ভারোত্তোলক।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা-বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের হয়ে পদকজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু ও ঋষিকান্ত সিংকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “ভারতীয় ভারোত্তোলনের ইতিহাসে আরও একটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ হল। প্রতিভাবান মীরাবাই চানু আবারও কমনওয়েলথ গেমসে নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ৪৮ কেজি বিভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি সোনার পদক জিতেছেন। টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা এবং মোট চতুর্থ কমনওয়েলথ পদক জিতে তিনি প্রতিটি ভারতীয়র কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন। ভবিষ্যতের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।” প্রধানমন্ত্রী ঋষিকান্ত সিংয়ের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অভিষেক কমনওয়েলথ গেমসেই রুপোর পদক জিতে ঋষিকান্ত ভারতীয় ভারোত্তোলনের ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশা জাগিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের আরও অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

    মীরাবাঈ ম্যাজিকে মাত গ্লাসগো

    সোনা জেতার পাশাপাশি রবিবার নিজের পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন কমনওয়েলথ ও গেমস রেকর্ড গড়লেন মীরাবাঈ চানু। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে মোট ১৯০ কেজি ওজন তুলে তিনি শীর্ষে। যার মধ্যে স্ন্যাচ বিভাগে ছিল ৮৫ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক বিভাগে ১০৫ কেজি। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিলেন মীরাবাঈ। তবে সতর্কতার সঙ্গে প্রতি পদক্ষেপে এগিয়েছেন তিনি। স্ন্যাচ রাউন্ডের প্রথম চেষ্টা নিখুঁত না হলেও, দ্বিতীয় চেষ্টায় ৮২ কেজি তুলে গেমস রেকর্ড তৈরি করেন। এর পর নিজেরই গড়া গত বছরের ৮৪ কেজির রেকর্ড ভেঙে ৮৫ কেজি ওজন তুলে গড়ে তোলেন নতুন কমনওয়েলথ রেকর্ড। ক্লিন অ্যান্ড জার্ক রাউন্ডেও খানিকটা নাটকীয়তা ছিল। মীরাবাঈয়ের প্রথম প্রচেষ্টাটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু মানসিকভাবে শক্ত থেকে দ্বিতীয়বার যখন তিনি মঞ্চে আসেন, তখন তাঁর চোখে ছিল শুধুই জয়ের জেদ। গর্জন করে নিখুঁত ছন্দ বজায় রেখে ১০৫ কেজি ওজন মাথার উপর তুলে ধরেন তিনি। বিচারকদের সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো স্টেডিয়াম হাততালিতে ফেটে পড়ে এবং মীরাবাঈয়ের মুখে ফিরে আসে তাঁর সেই পরিচিত হাসি।

    পরবর্তী লক্ষ্য এশিয়ান গেমস

    এই সাফল্যের পরও পা মাটিতেই রাখছেন মণিপুরের এই ভারোত্তোলক। মীরাবাঈ জানান, তাঁর মূল লক্ষ্য এখন আগামী সেপ্টেম্বর মাসের এশিয়ান গেমস। এশিয়ান গেমসে পদক জয়ই তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বপ্ন। গ্লাসগো গেমসে নিজেকে খুব একটা চাপ না দিয়ে, এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে মীরাবাঈয়ের রবিবারের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে ক্রীড়াপ্রেমীদের বিশ্বাস, আসন্ন এশিয়ান গেমসেও তাঁর গলায় সোনার পদক দেখা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এদিন সোনা জয়ের পরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ৩১ বছরের তারকা। মা এবং কোচকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেঁদে ফেলেন মণিপুরের মেয়ে। ২০১৪ সালে ২০ বছরের এক তরুণী প্রতিভা গ্লাসগো থেকে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন, সেই মেয়েই ১২ বছর পরে ওই শহর ছাড়লেন কমনওয়েলথ গেমসের টানা চতুর্থ পদক নিয়ে। তার মধ্যে তিনটিই সোনার পদক। আর সেই রেকর্ড সোনা জয়ের পরে নিজের প্রজন্মের ভারতের সেরা ভারোত্তোলক বলেন, ‘গত তিনদিন ধরে আমি খাইনি। আমার ওজন বজায় রাখার কাজটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। আমি পরিবারকে এই সোনার পদককে উৎসর্গ করতে চাই।’

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে পদক উৎসর্গ

    মীরাবাঈ চানুর পদক জয়ের ঠিক আগে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ৬০ কেজি ভারোত্তোলনে রুপোর পদক জেতেন মণিপুরেরই ছেলে ঋষিকান্ত। জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রুপোর পদক শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি গোটা দেশের। তিনি বলেন, “আমি এই রুপোর পদক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সমগ্র দেশকে উৎসর্গ করছি। আজকের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে আমার কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ভারত সরকার, ইন্ডিয়ান ওয়েটলিফটিং ফেডারেশন, সাপোর্ট স্টাফ এবং আমার বন্ধুদের অবদান।” ২০২২ সালে বার্মিংহাম গেমসে প্রথমবার কমনওয়েলথ মঞ্চে অভিষেক হয় ঋষিকান্তের। সে বার ৫৫ কেজি বিভাগে নেমেছিলেন। কিন্তু পদক আসেনি। খালি হাতেই ফিরতে হয়। এরপর হতাশায় না ভুগে নিজেকে আরও ধারালো করেন। ওজন বাড়িয়ে লুফে নেন নতুন চ্যালেঞ্জ। ৫৫ কেজি থেকে উঠে আসেন সদ্য চালু হওয়া ৬০ কেজি বিভাগে। আর এখানেই লুকিয়ে সাফল্যের আসল চাবিকাঠি। ২০২৫ সালে আমেদাবাদে আয়োজিত কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে (Commonwealth Weightlifting Championships) অনায়াসে সোনা জয়।

    সরকারের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা

    ঋষিকান্তের মতে, ভারতীয় ক্রীড়ার বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক সমর্থন বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি জানান, খেলাধুলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের উদ্যোগই তাঁকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাই নিজের এই সাফল্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উৎসর্গ করাই তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মণিপুরের ইম্ফলের ছেলে ঋষিকান্ত। তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান ভারতীয় সেনার (Indian Army)। স্পোর্টস সিস্টেম বা নির্দিষ্ট ক্রীড়া কর্মসূচির হাত ধরেই আসল প্রতিভার বিকাশ। সঠিক প্রশিক্ষণ, নিখুঁত গাইডেন্স এবং লাগাতার সমর্থন—সবটাই পেয়েছিলেন সেনাশিবির থেকে। বর্তমানে তিনি ভারতীয় সেনার হয়েই প্রতিনিধিত্ব করেন। হালকা ওজনের ক্যাটেগরিতে দেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক হিসেবে নিজেকে ইতিমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন (Indian Weightlifter)।

    গেমসে পদক তালিকায় ভারত

    চানুর সোনা এবং ঋষিকান্তের রুপো জয়ের সুবাদে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের পদক তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে ভারত। একটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে। ১২টি সোনা, পাঁচটি রুপো এবং সাতটি ব্রোঞ্জ নিয়ে শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া।

     

     

     

  • India Pakistan: আসিয়ান মঞ্চে কাশ্মীর ও সিন্ধু জলচুক্তি ইস্যু তোলায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব ভারতের

    India Pakistan: আসিয়ান মঞ্চে কাশ্মীর ও সিন্ধু জলচুক্তি ইস্যু তোলায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসিয়ান (ASEAN) আঞ্চলিক ফোরামের (ARF) বৈঠকে কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) স্থগিতের প্রসঙ্গ তোলায় পাকিস্তানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে পাকিস্তান মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসে তাদের ভূমিকা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান-সম্পর্কিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। ওই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ

    পাকিস্তানের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক মন্তব্য ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।” তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান বারবার বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র-সমর্থিত ভুয়ো তথ্য প্রচার করছে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে নিজেদের ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করছে। জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার পাকিস্তানের নেই।”

    সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান

    সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন জয়সওয়াল। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের ধারাবাহিক সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদতের জবাব হিসেবেই ভারত এই চুক্তি স্থগিত রেখেছে। বিশেষ করে গত বছরের এপ্রিল মাসে পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর পর একাধিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জয়সওয়াল জানান, পারস্পরিক আস্থা, সদিচ্ছা এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্ভব। কিন্তু যখন একটি দেশ নিয়মিতভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করে, তখন সেই পরিবেশে স্বাভাবিক সহযোগিতা বজায় রাখা কঠিন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যতদিন না বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে সমর্থন বন্ধ করছে, ততদিন সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে।”

    নিজেদের সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করুক পাকিস্তান

    এছাড়াও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তোলে ভারত। বিশেষ করে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ (Fitna al-Hindustan) শব্দবন্ধ ব্যবহার করে পাকিস্তান যে প্রচার চালাচ্ছে, তাকে “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার” বলে অভিহিত করেন জয়সওয়াল। তাঁর দাবি, এই ধরনের প্রচারের উদ্দেশ্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তাদের ভূমিকা থেকে নজর ঘোরানো। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মঞ্চের অপব্যবহার বা প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার বদলে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের মাটিতে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা এবং নিজেদের সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করা।” উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে দাবি করে আসছেন যে, ভারতের সমর্থনে কিছু জঙ্গি সংগঠন পাকিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। ভারত এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

    ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ কী

    বেশ কিছুদিন  ধরে পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিকে ভারত সমর্থিত প্রক্সি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে আসছে ইসলামাবাদ। এর গালভরা একটি নামও দিয়েছে শাহবাজ সরকার। তা হল, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের তরফে আগেই বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। পাকিস্তানের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চকে বিভ্রান্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যে ছড়ানো হচ্ছে। কোনও প্রমাণ ছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। আসলে পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে না পেরে এইসব ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত সমস্যা চরম আকার নিয়েছে। সন্ত্রাস দমনের নামে আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। শুরু থেকেই এই নৃশংসতার তীব্র প্রতিবাদ করে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে বিভ্রান্ত করতে ও ভুয়ো তথ্য প্রচার করতে নানা চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। তবে, বারবারই পাকিস্তানের দাবিকে যুক্তি খণ্ডন করেছে ভারত।

    সন্ত্রাসী হামলার পরিণতি ভোগ করতে হবে

    এআরএফ বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে ইসহাক দার দাবি করেন, দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিরতার মূল কারণ কাশ্মীর সমস্যা। রাষ্ট্রসংঘ সনদ, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরের মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে সিন্ধু জলচুক্তিকে ‘জলের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও তোলেন এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। এই বৈঠকেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উপর জোর দেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করতেই হবে।

  • Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তর প্রতিবাদে সামিল ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি সোশাল হ্যান্ডল চিহ্নিত, সক্রিয় ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও!

    Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তর প্রতিবাদে সামিল ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি সোশাল হ্যান্ডল চিহ্নিত, সক্রিয় ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনকে (Jantar Mantar Protest) কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য, গুজব এবং সম্পাদিত ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ তুলল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পুলিশের দাবি, এ কাজে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত ৪৮০টিরও বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (Pakistan Social Media Accounts) সক্রিয় ছিল। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই একই অ্যাকাউন্টগুলি সক্রিয় ছিল বলেও দাবি দিল্লি পুলিশের (Delhi Police)।

    ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি অ্যাকাউন্ট 

    বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে চলা আন্দোলনের (Jantar Mantar Protest) সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একাধিক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট গুজব, ভুয়ো পোস্ট এবং সম্পাদিত ভিডিও ছড়াচ্ছে।  পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত ৪৮০টিরও বেশি পাকিস্তান-ভিত্তিক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (Pakistan Social Media Accounts) চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও ছিল সক্রিয়

    দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) দাবি, এই একই সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীনও সক্রিয় ছিল। পুলিশের অভিযোগ, ওই সময়ের মতো এবারও উদ্দেশ্য একটাই- ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলা।

    ছাত্রদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা!

    পুলিশের দাবি, ভুয়ো পোস্ট, সম্পাদিত ভিডিও এবং নাম-পরিচয়হীন সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের তথ্য বা ভিডিও দেখে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য ছাত্রদের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)।

    গুজব ছড়াবেন না, তথ্য যাচাই

    সাধারণ মানুষের উদ্দেশে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) আবেদন, সামাজিক মাধ্যমে কোনও তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। পুলিশের বার্তা, ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়াবেন না এবং সমাজবিরোধী শক্তিকে মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর সুযোগ দেবেন না।

    শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে

    দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) স্পষ্ট করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বা আন্দোলন করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, এবং সেই অধিকারকে তারা সম্মান করে। তবে একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বক্তব্য, শান্তি বজায় রাখা এবং যাচাই করা তথ্যের উপর ভরসা করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি।

  • India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে (India) চলেছে ভারত। বলা ভালো, রুশ তেল (Russian Oil) কেনার ক্ষেত্রে ভারত আরও সক্রিয় হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশ এখনও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখলেও, ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি রেকর্ড পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাশিয়া তার তেলের জন্য একটি বড় ও নির্ভরযোগ্য বাজার পাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে ভারত তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি জোগাড় করে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত করছে।

    জুন মাসের খতিয়ান (India)

    জানা গিয়েছে, জুন মাসে ২৩ লাখেরও বেশি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ভারতের বিভিন্ন বন্দরে এসে পৌঁছেছে। যার আর্থিক মূল্য ৫১৪ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জুলাই মাসেও এই আমদানির পরিমাণ প্রায় একই স্তরে থাকতে পারে। ইউরোপের বড় অংশের বাজার হারানোর পর রাশিয়া এখন মূলত এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর করছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের ধারাবাহিক চাহিদা রাশিয়ার তেল রফতানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত কেন এত বেশি পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনছে, তার সবচেয়ে বড় কারণ হল তুলনামূলক কম দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মানের অপরিশোধিত তেলের তুলনায় রুশ তেল এখনও উল্লেখযোগ্য ছাড়ে মিলছে। ফলে ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি কম খরচে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছে। এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমছে, লাভের পরিমাণ বাড়ছে এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।

    তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত

    তাছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাত ভারতের আমদানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেই কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে এবং সরবরাহের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু রাশিয়া থেকেই নয়, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি জোগাড় নিশ্চিত করা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তার পরিবর্তে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। জুন মাসে ভারতে মোট যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই এসেছে রাশিয়া থেকে। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে রুশ তেলের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে কতটা বেড়েছে (Russian Oil)।

    অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে ব্রেন্ট মানের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল পাওয়া ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়ে, তাহলে রাশিয়া থেকে আমদানির প্রবণতাও বজায় থাকতে পারে (India)। রাশিয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইউরোপে রুশ তেলের বাজার অনেকটাই ছোট হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমী দেশগুলির নানা বিধিনিষেধের কারণে জাহাজ পরিবহণ, বিমা এবং আর্থিক লেনদেনেও রাশিয়া নানা সমস্যায় জর্জরিত। সেই সময় থেকেই এশিয়ার দেশগুলির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ।

    নয়াদিল্লির সাফ কথা

    ২০২২ সালের আগে পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে খুব সীমিত পরিমাণে তেল আমদানি করত। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতায়। বর্তমানে চিন ও ভারতের মতো দেশগুলির চাহিদাই রাশিয়ার তেল রফতানিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India)। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বারবার উঠেছে প্রশ্ন। যদিও নয়াদিল্লি বরাবরই জানিয়ে এসেছে, তাদের তেল কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই বাণিজ্যিক বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয় (Russian Oil)। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তুলনামূলক কম দামে তেল সংগ্রহ করা এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখাই সরকারের পাখির চোখ। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন অস্থায়ীভাবে কিছু রুশ তেলবাহী চালানের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। পরে সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, তাদের আমদানি নীতির মূল ভিত্তি থাকবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা কূটনৈতিক চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত (India)।

    ভারতের বহুমুখী আমদানি কৌশল

    শিল্পমহলের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে ভারত একাধিক দেশ থেকে তেল আমদানি করছে এবং প্রয়োজনীয় মজুতও বজায় রেখেছে। ফলে কোনও একটি অঞ্চলে সংঘাত বা সরবরাহ ব্যাহত হলেও, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। এই বহুমুখী আমদানি কৌশল ভবিষ্যতেও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি এখন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, কৌশলগত ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট—যেখানে সুলভ মূল্যে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি মিলবে, সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করবে এবং বিকল্প উৎসগুলিতে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে, ততদিন (Russian Oil) ভারত মস্কো থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে চলবে বলেই ধারণা (India) সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • India vs Bangladesh: ক্রীড়া কূটনীতিতে ভরসা! ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট-সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, আশায় বাংলাদেশ

    India vs Bangladesh: ক্রীড়া কূটনীতিতে ভরসা! ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট-সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, আশায় বাংলাদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দূরত্ব কাটিয়ে উঠতে আশাবাদী বাংলাদেশ। সে দেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক (Aminul Haque)মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে বাংলাদেশে স্বাগত জানানোর জন্য সরকার অপেক্ষা করছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা ভারত সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি না মিললেও, মনে করা হচ্ছে নতুন করে কোনও সমস্যা তৈরি না হলে এ বছরের সেপ্টেম্বের বাংলাদেশ সফরে যাবে ভারতীয় দল (India vs Bangladesh)।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফাটল!

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চলতি বছরের শুরুতেই ঘোষণা করেছিল, ২০২৫ সালে স্থগিত হওয়া ভারত সফরের পরিবর্তে ২০২৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারত তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ও তিনটি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে। ২০২৫ সালের নির্ধারিত সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাতিল হয়েছিল। একই পরিস্থিতির জেরে তৎকালীন মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন ঢাকার সরকার নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর থেকেই ভারত সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

    সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু

    তবে চলতি মাসের শুরুতে ভারত সিরিজের টেলিভিশন ও মিডিয়া সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করায় সফরটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা জোরালো হয়। পাশাপাশি আগস্টে ভারতের শ্রীলঙ্কা সফরের সূচিতে টি-২০ ম্যাচ না থাকায় বাংলাদেশ সফরের জন্য সময় বের হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ভারতের সিরিজে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। যদিও মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির দরপত্র আহ্বান করার পরও ভারত সেই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

    ক্রীড়া কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

    এ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, “বর্তমান সরকার ক্রীড়া কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রিকেট আমাদের জন্য গর্বের বিষয় এবং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। সবাই সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত বাংলাদেশে এলে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি ছোট ঘটনার কারণে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করছি। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।”

    ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ধাক্কা

    এমনিতে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার সুর বেচে তথাকথিত নেতারা নিজেদের কেরিয়ারের গ্রাফ উপরে তোলার চেষ্টা করতেন। যার প্রভাব পড়ে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও। সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। তারইমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে ২০২৬ সালের আইপিএল (IPL 2026) থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) ছেড়ে দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders)। সামনেই ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন। ভোটের ময়দানে ফায়দা লুটতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। তবে তাতেও নির্বাচনে ফায়দা লুটতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মহল। বরং ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। যে সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট-তিক্ততা

    ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট তিক্ততা দূর করতে এবার ভারতীয় দল বাংলাদেশ সফরে যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশের ক্রীড়ামহল। এর আগে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ক্রীড়া মন্ত্রক। পাশাপাশি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেও পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ

    আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত যদি বাংলাদেশে খেলতে যায় সে ক্ষেত্রে চার বছর পর ঢাকা সফরে যাবেন গিলরা। এই সফরে দুই দল তিনটি করে ওডিআই ও টি-২০ ম্যাচ খেলবে। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য বিসিবি হঠাৎ সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির তোড়জোড় শুরু করার পরই আশার আলো দেখছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিসিবির এক কর্তা সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আমরা সিরিজ নিয়ে আশাবাদী। যদিও এখনও বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত আসেনি। দল পাঠাবে না, এমন কথাও বলেনি ভারতীয় বোর্ড। আশা করছি, খুব দ্রুত বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়া পাব।’’ বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল স্কটল্যান্ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) বৈঠকে গিয়েছিলেন। তিনি ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ় আয়োজনের ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন। উল্লেখ্য, তামিম বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর জানিয়েছিলেন ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সুসম্পর্ক রক্ষা করতে চান।

     

     

     

     

  • India: ড্রাগনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে হাতি! চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩, সেখানে ভারতের ৭.৮ শতাংশ, চিন্তায় বেজিং

    India: ড্রাগনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে হাতি! চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩, সেখানে ভারতের ৭.৮ শতাংশ, চিন্তায় বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করা সত্ত্বেও, মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হারে চিনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে ভারত (India)। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, চিনের প্রবৃদ্ধি কমেছে, অন্যদিকে ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে (China Economy)।

    কী বলছে প্রতিবেদন? (India)

    সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ভারত এখনও চিনা পণ্যের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারী দেশ। তবে এর বিপরীতে ভারতে তৈরি পণ্যের রফতানি চিনে তুলনামূলকভাবে অনেকখানি কম। বুধবার প্রকাশিত চিনের জিডিপি বৃদ্ধির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশটির অর্থনীতি ৪.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এই হার ছিল ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক প্রান্তিকের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম চিনের অর্থনীতিতে এতটা ধীরগতি দেখা গেল, যা অর্থনীতিবিদদের অনেকেরই প্রত্যাশার বাইরে ছিল। অন্যদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ, যা চিনের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী দিনে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে।

    কেন কমছে চিনের জিডিপি?

    কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউবিএস চিনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউ সং চিনের অর্থনীতি মন্থর হওয়ার তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চিনের অর্থনীতির দুর্বলতার জন্য দায়ী নয়। বরং এই প্রযুক্তি চিনের উপকারই করেছে (China Economy)।” ইউ সংয়ের মতে, দীর্ঘদিনের আবাসন খাতের সঙ্কটই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। তাঁর দাবি, চিনের সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ সময় ধরে মন্দার মধ্যে রয়েছে। ফলে মানুষ সম্পত্তিতে বিনিয়োগের বদলে সঞ্চয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছেন (India)। তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের ব্যয়ও কমে গিয়েছে। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় চিনের সাধারণ মানুষ দামি ব্র্যান্ডের পণ্যের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। এ ছাড়াও কর্মসংস্থান কমে যাওয়াকেও অর্থনীতির দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ইউ সং। তাঁর কথায়, “এআই যেমন চিনকে সুবিধা দিয়েছে, তেমনই এটি (China Economy) বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলেছে এবং শ্রমিকের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে (India)।”

     

  • India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের (UN Security Council Reform) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ও বিস্তৃত সংস্কারের দাবি ফের জোরালোভাবে তুলল ভারত (India)। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, সাধারণ পরিষদকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ভারত বলেছে, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

    গোলটেবিল বৈঠকে সোচ্চার ভারত (India)

    স্থানীয় সময় ১৪ জুলাই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ‘ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি। তিনি বলেন, “ভারতের কাছে ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অর্থ হল, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম করা। সেই কারণেই নিরাপত্তা পরিষদের সর্বাত্মক সংস্কার, সাধারণ পরিষদের পুনরুজ্জীবন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের আরও শক্তিশালী ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত— টেকসই উন্নয়নের এই তিনটি ক্ষেত্রেই তাদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।”

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে

    রাষ্ট্রসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা সংঘাত থামাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার যে মূল লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তা আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে (India)।” নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোকেই এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন হরিশ। তিনি বলেন, “আশি বছর আগের বাস্তবতা মাথায় রেখে তৈরি করা কাঠামো বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আর যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রসংঘ এখনও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি। আন্তঃসরকারি আলোচনার কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রস্তুত বক্তব্যই দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ৩৯ থেকে ৪১ নম্বর পদক্ষেপও মূলত কাগজেই রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।”

    আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

    তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় আন্তঃসরকারি আলোচনার বিষয়ে যে সুপারিশগুলি রয়েছে, সেগুলি ওই আলোচনার সহ-সভাপতিরা তৈরি করেছিলেন, পরিকল্পনার সহ-সমন্বয়কারীরা নন। ওই অংশ নিয়ে ভারতের গুরুতর আপত্তি থাকলেও, গঠনমূলক মনোভাব থেকেই ভারত এই কর্মপরিকল্পনা সমর্থন করেছে (UN Security Council Reform)।” আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি। বলেন, “টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে গেলে পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী এবং নিশ্চিত অর্থায়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম এবং উন্নয়নমুখী হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের মূল দায়িত্বও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।” বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার সংস্কারে ভারতের অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর সংস্কারের লক্ষ্যে সব আন্তরিক উদ্যোগকে ভারত (India) সমর্থন করে যাবে। বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্ষম ও কার্যকর করে তোলাই আমাদের যৌথ লক্ষ্য হওয়া উচিত (UN Security Council Reform)।”

     

  • Rath Yatra: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    Rath Yatra: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সকল ভক্ত এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    রাষ্ট্রপতি কী বললেন?

    শুভেচ্ছাবার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “জনবিশ্বাস অনুযায়ী মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ, চক্ররাজ সুদর্শন, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রা রথে চড়ে ভক্তদের দর্শন দিতে বেরিয়ে আসেন।” তিনি প্রার্থনা করেন, মহাপ্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদে দেশ ও দেশের মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নেমে আসুক।উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন বলেন, “রথযাত্রা বিশ্বাস, ভক্তি, সমতা এবং সম্প্রীতির প্রতীক। এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।”

    প্রধানমন্ত্রী যা বললেন (Rath Yatra)

    রথযাত্রাকে ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “রথযাত্রা ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রকাশ।” তাঁর কথায়, “এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারত এবং বিশ্বের অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। এই উৎসব বিনয়, সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ ধারণ করে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “মহাপ্রভু জগন্নাথ সকলকে সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং সমৃদ্ধির আশীর্বাদ দিন। আমাদের সমস্ত প্রয়াসে তিনি শক্তি দিন এবং সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা আরও দৃঢ় করুন। জয় জগন্নাথ।”

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

    অন্য একটি শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহাপ্রভু জগন্নাথের পবিত্র রথযাত্রার শুভক্ষণে আমি প্রার্থনা করি, তাঁর আশীর্বাদ যেন সকলের ওপর চিরকাল অটুট থাকে। তাঁর ঐশ্বরিক কৃপা দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে নতুন শক্তি ও উদ্দীপনা সঞ্চার করুক।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “বিশ্বখ্যাত জগন্নাথ রথযাত্রা বিশ্বাস, আস্থা ও ভক্তির এক অনন্য প্রতীক। একই সঙ্গে এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।” তিনি সকলের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রতি বছর রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ ভক্তের সমাগম হয়। শুধু ওড়িশার পুরীতেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও একই উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয় রথযাত্রা।

     

  • India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল ভারত ও ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia)। দুই দেশ নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য দ্রুত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং (Local Currency Settlement Framework) গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বে’র পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। ৬ ও ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাকার্তা সফরের সময় এই উদ্যোগ নতুন করে গতি পায়। ওই সফরেই দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তারের রূপরেখা তৈরি করে।

    স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন (India Indonesia)

    এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের রফতানিকারী ও আমদানিকারীরা সরাসরি ভারতীয় টাকা (রুপি) এবং ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবেন। ফলে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে লেনদেনের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। এই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউয়ের (MoU) মাধ্যমে। সেটাই গতি পেল প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাকার্তা সফরের পর। এর লক্ষ্য, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ীরা ডলারে অর্থ রূপান্তরের অতিরিক্ত খরচ এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকিও কমবে, যার ফলে সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্য আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে (Local Currency Settlement Framework)।

    মোদির জাকার্তা সফর

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দু’মাসে ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৬৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৮৪৫ কোটি মার্কিন ডলারে। এতে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থার প্রতি ব্যবসায়িক আস্থারও প্রতিফলন ঘটেছে। এই উদ্যোগের উল্লেখ প্রথম করা হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ভারত সফরের সময় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে। ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ কমিশনের বৈঠকেও বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। সেই বৈঠক থেকেই মোদির জাকার্তা সফর, এবং আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি হয় (India Indonesia)। ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের ডেপুটি চিফ ইউধো সাসোংকো জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সংহতি, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সহযোগিতাই বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকেও একসূত্রে বাঁধার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দ্রুত প্রতিক্রিয়া কোডভিত্তিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করার কাজ এগোচ্ছে।

    কী সুবিধে হবে

    এই সংযোগ চালু হলে দুই দেশের পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ভারতীয় টাকা বা ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় খুচরো লেনদেন করতে পারবেন। এতে ডলারের ওপর নির্ভরতা আরও কমবে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ব্যবহার বাড়বে (India Indonesia)। একই সঙ্গে দুই দেশই নিজেদের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ই-রুপি চালু করেছে, অন্যদিকে ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়া তাদের ডিজিটাল রুপিয়া প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ালেও ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ডলারকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার পথে হাঁটছে না। বরং লেনদেনের খরচ কমানো, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করা এবং আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দুই দেশই আমেরিকার সঙ্গে তাদের কৌশলগত ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখছে (Local Currency Settlement Framework)।

    ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি

    ভারত যেমন বেসরকারি ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি অনুসরণ করছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রার ওপর জোর দিচ্ছে, তেমনই ইন্দোনেশিয়াও বিকেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টোকারেন্সির বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতীয় টাকা-ইন্দোনেশীয় রুপিয়া ভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং আর্থিক সংযোগকে কেন্দ্র করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া চাইছে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে (India Indonesia)।

     

  • India: আমদানিকারী থেকে জ্বালানি রফতানিকারী—পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশ্ববাজারে উত্থান ভারতের

    India: আমদানিকারী থেকে জ্বালানি রফতানিকারী—পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশ্ববাজারে উত্থান ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় ভারতকে (India) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত খনিজ তেল আমদানিকারী দেশ হিসেবেই চিহ্নিত করা হত। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিদেশের ওপর (Global Energy Leader) নির্ভরশীলতাই ছিল ভারতের ভবিতব্য। সেই বাস্তবতা এখনও পুরোপুরি বদলায়নি। তবে গত কয়েক দশকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকার আমূল বদল হয়েছে। এখন শুধু অপরিশোধিত তেল আমদানি নয়, সেই তেল পরিশোধন করে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করছে ভারত। বর্তমানে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারী দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা-সহ বিশ্বের বহু দেশে ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই দেশের অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে নয়া মূল্য সংযোজন।

    পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি খাতে ভারতের আয় (India)

    বর্তমানে পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি থেকে ভারতের বছরে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রোজগার হয়। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ রফতানি খাত। আগামী কয়েক বছরে এই রফতানি আয় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৫৫ থেকে ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে বলেই আশা। এই প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি হল দেশের পরিশোধন পরিকাঠামো সম্প্রসারণ। দেশের বৃহত্তম তেল পরিশোধন ও বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড হরিয়ানার পানিপথ, গুজরাতের ভদোদরা এবং বিহারের বরৌনি শোধনাগার সম্প্রসারণে ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত ১৭.৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধন ক্ষমতা যুক্ত হবে। ফলে দেশের মোট পরিশোধন ক্ষমতা বছরে হবে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানির পরিমাণও আরও বাড়বে (Global Energy Leader)।

    ভারতে রয়েছে অত্যাধুনিক তেল শোধনাগার

    ভারত এখন অপরিশোধিত তেল নয়, বরং উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি করছে। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোল, উচ্চগতির ডিজেল, বিমান জ্বালানি, সামুদ্রিক জ্বালানি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, ন্যাফথা, পেট্রোরসায়ন শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত পেট্রোলিয়াম পণ্য। অপরিশোধিত তেলকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে পরিশোধিত জ্বালানিতে রূপান্তর করে ভারত (India) একদিকে যেমন রফতানি আয় বাড়িয়েছে, অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশের পরিবহণ, শিল্প, বিমান চলাচল ও জ্বালানি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তেল শোধনাগার ভারতের রয়েছে। এই শোধনাগারগুলিতে রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা নানা ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধনের ক্ষমতা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা ও দামের ভিত্তিতে উৎপাদন পরিকল্পনা বদলানো সম্ভব হয়, যা ভারতীয় সংস্থাগুলিকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে।

    পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধি

    কম পরিচালন ব্যয়, দক্ষ শ্রমশক্তি, আধুনিক পরিকাঠামো এবং ভারত মহাসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারত ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে (India)। বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের সময় ভারতের এই সক্ষমতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। যখন বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, তখনও ভারতীয় শোধনাগারগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে (Global Energy Leader)। এর ফলে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানির চাহিদা বজায় থাকায় আগামী দিনে ভারতের সম্প্রসারিত পরিশোধন নেটওয়ার্ক বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতিতেও বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ছে, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, উৎপাদনভিত্তিক শিল্প আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্রমেই হচ্ছে মজবুত। পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তাও (India)।

    বাড়ছে বিনিয়োগও

    এছাড়া, বৃহৎ পরিসরে শোধনাগার সম্প্রসারণের ফলে পরিবহণ ব্যবস্থা, পেট্রোরসায়ন শিল্প, সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন এবং বন্দর পরিকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্পোন্নয়নকে আরও গতি দিচ্ছে। ভারতের জ্বালানি খাতের গল্প এখন আর শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিশোধন দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত এখন মূল্য সংযোজন, রফতানি বৃদ্ধি এবং বিশ্ব পেট্রোলিয়াম বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্রতি বছরে পৌঁছনোর পথে, বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যে ভারত ধীরে ধীরে শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল আমদানিকারী দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানিকারী দেশে পরিণত হচ্ছে।

    এই পরিবর্তন শুধু শিল্পোন্নয়নের প্রতিফলন নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান অবস্থানেরও পরিচয় বহন করে। আগামী দিনে পরিশোধন ক্ষমতা ও রফতানি আরও বাড়লে (Global Energy Leader) বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের গুরুত্ব যে আরও বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য (India)।

     

LinkedIn
Share