Tag: Jadavpur University

Jadavpur University

  • University Staff Teacher Transfer Bill: তীব্র বাকযুদ্ধ-হট্টগোলের মধ্যেই বিধানসভায় পাস শিক্ষা বদলি বিল, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    University Staff Teacher Transfer Bill: তীব্র বাকযুদ্ধ-হট্টগোলের মধ্যেই বিধানসভায় পাস শিক্ষা বদলি বিল, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তীব্র বিতর্ক, শাসক-বিরোধী বাকযুদ্ধ এবং হট্টগোলের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পাস হয়ে গেল বহুচর্চিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ (University Staff Teacher Transfer Bill)। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়েছে ১৭১টি ভোট। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৫ জন বিধায়ক। এই ১৫ জনের মধ্যে (West Bengal) কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরের ১১ জন বিধায়ক ছাড়াও রয়েছেন নওসাদ সিদ্দিকী, মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিধানসভার দুই কংগ্রেস বিধায়ক।

    বিল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি এই বিল রাজ্য সরকার কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্রতিহিংসামূলকভাবে ব্যবহার না করে, তবে আমরা একে নীতিগতভাবে সমর্থন জানাব। তবে কোনওভাবেই যেন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়। মুখ্যমন্ত্রী অতীতে সিপিএমের ‘অনিলায়ন’ এবং পরবর্তীতে ‘মমতায়নে’র কথা বলেছেন। আমাদের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন খর্ব করে এই বিলের আড়ালে এখন নতুন করে ‘গৈরিকীকরণ’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” এর পরেই ক্ষোভে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধী বিধায়করা।

    শুভেন্দুর সাফ কথা (University Staff Teacher Transfer Bill)

    বিল নিয়ে আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, “অতীতে সিপিএম উচ্চশিক্ষায় অনিলায়ন করেছিল। আর আপনাদের পার্টি এখন তিন না চার টুকরো, জানি না, আপনারা করেছিলেন মমতায়ন! আমরা তার কোনওটাই করব না। আমাদের লক্ষ্য দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা।”

    এদিকে, বিলের মূল উদ্দেশ্য ও প্রস্তাবিত আইনের রূপরেখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “স্বশাসনের নামে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় যদি কুশাসন বা স্বেচ্ছাচারিতা চালায়, তবে এই বিলই হবে রাজ্য সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজের অধ্যাপকরা এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে বদলির সুযোগ পেলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হত না। এই বৈষম্য দূর করতে এবং রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা আনতেই বিলটি পাস করা হল।”

    জুটার ‘ইতিহাস’ সরকারের কাছে রয়েছে: শুভেন্দু

    বিল নিয়ে আলোচনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে একাধিকবার। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করে বলেন, জুটার সদস্যরা অতীতে কোথায়, কখন কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তার সমস্ত ইতিহাস সরকারের কাছে রয়েছে।

    বামপন্থী শিক্ষকদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এত জ্ঞান, এত আন্তর্জাতিক বুদ্ধি যাঁদের, তাঁদের আমরা রাজ্যের নতুন ও পিছিয়ে পড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠাব, যাতে সেই সব কেন্দ্রগুলিও সবল হয়ে ওঠে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রস্তাবিত বিলের গুরুত্ব প্রথম দিকে বিরোধী দল এবং অধ্যাপক সংগঠনগুলি বুঝতে পারেনি। এখন সরকারের অবস্থান এবং বিলের সম্ভাব্য প্রয়োগের বিষয়টি আঁচ করেই বিভিন্ন মহলে আপত্তি ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

    যাদবপুরে ১৩০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক স্লোগান এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও বিধানসভায় সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “অনুমতি নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে বসে ‘কিষেনজি’ বা দেশবিরোধী কোনও নাম লেখা কিংবা লাল সেলাম জানানো বরদাস্ত করা হবে না (University Staff Teacher Transfer Bill)।”

    তিনি আরও বলেন, “সনাতন ধর্মকে যারা কেবল সাংস্কৃতিক মনে করেন আর ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র স্লোগান তোলেন, তাঁদের জবাব নেতাজির ভাষাতেই দেওয়া হবে, গান্ধীর ভাষায় নয়।”

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৩০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় তিনি বলেন, “রাজ্য ও কেন্দ্র মিলিয়ে ১৩০০ কোটি টাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হবে।”

    অনুদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে যেন একটি পৃথক রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। সেখানে দেশ ভাঙার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ‘কিষেনজি লাল সেলাম’, ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ কিংবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো স্লোগান লেখা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে লিখলে, আমরাই টুকরো করে দেব। কিষেনজির নাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখতে দেব না। বেছে বেছে গেরুয়াধারীদের তথাকথিত বামপন্থী অধ্যাপকরা টার্গেট করেছেন, এটা চলবে না।”

    সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

    শিক্ষা বিল সংশোধনীর পক্ষে বক্তব্য রাখতে মুখ্যমন্ত্রী উঠতেই বিরোধীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা সুর চড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই জন্যই আপনারা হেরেছেন। সামনের ভোটে আপনাদের কী অবস্থা গেরুয়া করবে, তা দেখবেন। আপনাদের বিরোধিতায় আমাদের সুবিধাই হচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “নতুন তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত পণ্ডিতদের পাঠাব। প্রতিষ্ঠিত আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মী আছেন, তাঁদের অন্যত্র পাঠানো হবে। অন্যান্য রাজ্যেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলির সংস্থান রয়েছে। কোন লাইনে যাচ্ছি, বোঝা যেতেই বিল নিয়ে চিড়বিড় করা শুরু হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভায় আইন প্রণয়নের এবং নিজস্ব শিক্ষা আইন আনার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। সরকারের আইনের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের উপরে।”

    স্বায়ত্তশাসন থাকবে, সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে’

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বামেদেরও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা হবে, পাশাপাশি সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কি দেশের বাইরে? আইনের ফাঁকের সুযোগ নিয়ে মূলত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যা চলেছে, তার উত্তরে শৃঙ্খলা আনার জন্য এই আইন জরুরি। সিপিএম অনিলায়ন করেছিল, তৃণমূলের টুকরোরা মমতায়ন করেছিল, আমরা অবশ্য গৈরিকীকরণ করব না।”

    বদলি প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “বদলি চাকরির অন্তর্নিহিত শর্ত। অসুবিধা হলে চাকরি ছেড়ে দিন, ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান।”

    নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই আইন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, বিলের কোনও অপপ্রয়োগ হবে না। বিলের মাধ্যমে রাজ্যের আটটি প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অপেক্ষাকৃত নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়ুয়ারাও অভিজ্ঞ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন (West Bengal)। ব্যঙ্গের সুরে শুভেন্দু বলেন, “তথাকথিত সমাজবাদ যাঁরা প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাঁদের বিরাট মেধাকে আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কাজে লাগাতে চাই। এতে আপত্তির কী আছে (University Staff Teacher Transfer Bill)?” বিল নিয়ে বিতর্কের গোটা পর্বে বার বার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

     

  • Jadavpur University: মেয়াদ শেষের আগেই সরানো হল যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে

    Jadavpur University: মেয়াদ শেষের আগেই সরানো হল যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার পদে বড়সড় বদল। রাজ্যপাল তথা আচার্যের নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারের দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে। তার জায়গায় নিয়োগ করা হয় দুই আধিকারিককে ৷ ছ’মাসের জন্য অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁদের। যাদবপুরের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের জায়গায় নয়া রেজিস্ট্রার (JU Registrar Removed) হলেন দেবজিৎ দত্ত। তিনি ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক। একই ভাবে সরানো হল ফাইন্যান্স অফিসারকেও। তাঁর জায়গায় এসেছেন কলা বিভাগের সচিব ইন্দ্রজিৎ দত্ত। ৮ সেপ্টেম্বর উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

    আচার্যের নির্দেশ মতো কাজ

    নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর দেবজিৎ দত্তকে রেজিস্ট্রার এবং ফ্যাকাল্টি অফ আর্টসের সচিব ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফাইন্যান্স অফিসার হিসেবে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দু’জনকেই তাঁদের স্বাভাবিক দায়িত্বের পাশাপাশি ছ’মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করতে বলা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই এই মেয়াদ কার্যকর হবে, অথবা পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত-যেটি আগে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে শোনা যাচ্ছে, বুধবারই তাঁরা দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, রাজ্যপাল তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আরএন রবির ২৬ অগাস্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিমবক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে । নির্দেশে বলা হয়েছে, তাঁদের দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ হবে। আচার্যের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার পদে স্থায়ী নিয়োগের জন্য যে বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা শুরু করা যেতে পারে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের কার্যকালের মেয়াদ ছিল আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত পদের মেয়াদ ছ’মাসের বেশি দীর্ঘায়িত করা যায় না। কিন্তু কর্মসমিতি (ইসি) স্থায়ী আধিকারিক নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া চালুর বদলে অস্থায়ী আধিকারিকের মেয়াদ বৃদ্ধি করে যাচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল মনে করেছেন, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়মানুবর্তিতার পরিপন্থী। সেই কারণেই ১৯৮১ সালের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১৭(৩) ধারায় নিজের পর্যালোচনা ক্ষমতা প্রয়োগ করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সরিয়ে নতুন নিয়োগের নির্দেশ জারি করেছেন তিনি।

    আচার্যের পর্যবেক্ষণ

    আচার্যের পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিল স্থায়ী রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া শুরু করেনি। পাশাপাশি, ‘অ্যাক্টিং’ বা ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাও আইনে নির্ধারিত সময়সীমার বেশি চালু রাখা হয়েছিল বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্ম, অ্যাকাডেমিক গভর্ন্যান্স এবং আর্থিক শৃঙ্খলার স্বার্থের পরিপন্থী। সেই কারণেই এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ বা নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি পর্যালোচনা করে আচার্য নতুন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থায়ী পদাধিকারী নিয়োগের আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ছ’মাসের জন্য অথবা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নতুন দুই আধিকারিককে এই দায়িত্ব সামলাতে হবে। মূল কাজের অতিরিক্ত হিসেবেই তাঁরা এই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে নির্দেশ

    নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে পুরনো রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে সমস্ত সরকারি নথি, ফাইল, ডকুমেন্ট, রেজিস্টার, আর্থিক রেকর্ড, ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল, সরকারি সিল, চাবি, সম্পত্তি-সহ তাঁদের কাছে থাকা যাবতীয় দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য পৃথক হ্যান্ডওভার-টেকওভার স্টেটমেন্ট তৈরি করে তা রেকর্ডে রাখার কথাও বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও অর্থের নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্যকে বলা হয়েছে, সমস্ত বিধিবদ্ধ নথি, গোপনীয় কাগজপত্র, আর্থিক ও ব্যাংক সংক্রান্ত নথি, ডিজিটাল সিস্টেম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সম্পত্তি নিরাপদ রাখতে হবে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত আধিকারিকদেরই সেগুলিতে প্রবেশাধিকার থাকবে। প্রসঙ্গত, একাধিকবার দক্ষিণপন্থী অধ্যাপক সংগঠনের তরফে এই দাবি তোলা হয়েছিল। তাদের প্রশ্ম ছিল, এই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিমবক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাহলে কীভাবে তাঁরা এখন সেই পদে রয়েছেন।

    উত্তপ্ত যাদবপুর

    এ দিকে, বুধবার অর্থাৎ আজ গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ রয়েছে। এই আবহের মধ্যেই এমন পরিবর্তন। বস্তুত, বিগত কয়েকদিন ধরেই তপ্ত রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, এখানে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়বেন। সম্প্রতি তিনি যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ার কর্মসূচিও নিয়েছিলেন। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে আবার দেশবিরোধী স্লোগান মুছে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই তা করা হয়েছে পুরসভার তরফে। এবার বদল করা হল রেজিস্ট্রারকে।

  • Suvendu Adhikari: ৯ সেপ্টেম্বর গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ৯ সেপ্টেম্বর গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে যাদবপুর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার, গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ৮বি পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক দেওয়া হয়েছে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    রাখি পূর্ণিমার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কিত ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু।

    ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Suvendu Adhikari)

    এবার দ্বিতীয় দফায় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র (Gerua Samman Yatra) ডাক দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে ঢাকুরিয়া হয়ে যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছবে মিছিল। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা দিতেই এই কর্মসূচি বলে দাবি আয়োজকদের।

    রাখির দিনের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি পূর্বতন বাম শাসনকেও নিশানা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কমিউনিস্টদের আমলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি স্থান পেত না। তাঁর দাবি, সেই সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘তোজোর কুকুর’ এবং রবীন্দ্রনাথকে ‘বুর্জোয়া কবি’ বলা হয়েছিল।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “এখানকার ৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী রাষ্ট্রবাদী ও দেশপ্রেমিক। অথচ চে গেভারার গেঞ্জি পরা কিছু গোষ্ঠী রানাঘাটের পড়ুয়ার মতো পরিণতি করার হুমকি দিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যায়। তৃণমূলের ২৬ হাজার চাকরি চুরি কিংবা পিএসসি-এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে তাদের মুখে স্লোগান নেই, তাদের মুখে একটাই স্লোগান— ‘আজাদি’!”

    ফায়দা লোটার ধান্ধা!

    তৃণমূল জমানার সমালোচনা করতে গিয়ে যাদবপুরের বহুচর্চিত স্বপ্নদীপের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “র‌্যাগিংয়ের প্রতিবাদে আমি যখন এখানে এসেছিলাম, আমার গাড়ির ওপর লাফিয়ে পড়ে মাওবাদী পরিচয় দিয়ে আমাকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী ফোন করে গ্রেফতার হওয়া দুই মাওবাদীকে ছাড়িয়ে দেন। তৃণমূল ও বামেদের এই গোপন বোঝাপড়ার উদ্দেশ্য ছিল একটাই— নির্বাচনে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ স্লোগান তুলে তার ফায়দা লোটা।”

    গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত মিছিলে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রবিবার ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ্যে আসে। সেখানে জানানো হয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেল ৩টেয় মিছিল শুরু হবে। গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হবে যাদবপুরে গিয়ে।

    আয়োজকদের বক্তব্য, গেরুয়া শুধুমাত্র একটি রং নয়, এটি ত্যাগ, আত্মনিবেদন এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রতীক। সেই গেরুয়া রঙের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং তার তাৎপর্য নতুন করে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। এর আগে একাধিকবার শুভেন্দু জানিয়েছেন, গেরুয়া রংকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। কয়েক দিন আগে একটি সংবাদপত্রে ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ শব্দবন্ধের ব্যবহার নিয়েও তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর মতে, গেরুয়ার সঙ্গে ‘তাণ্ডব’ শব্দ জুড়ে দেওয়া হলে গেরুয়ার মাহাত্ম্যই খাটো করা হয়।

    তবে ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র পিছনে আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু করে যাদবপুরে শেষ করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে তাদের মত।

    ‘প্রতিষ্ঠিত’ হচ্ছে রাষ্ট্রবাদ

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশবিরোধিতা’র সুরের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সেখানে ‘রাষ্ট্রবাদ’ প্রতিষ্ঠার কথা আগেই বলেছিলেন শুভেন্দু। সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। শনিবার ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির একাধিক স্লোগান মুছে তার জায়গায় রাষ্ট্রবাদী স্লোগান লিখেছেন গেরুয়াপন্থী ছাত্ররা।

    ফলে আগামী সপ্তাহে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Gerua Samman Yatra) শুধুমাত্র একটি মিছিল নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবাদী রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরে মুছল ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরে মুছল ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari on Jadavpur) নির্দেশ মতো যাদবপুর ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) থাকা একাধিক ‘দেশবিরোধী’ ও ‘আপত্তিকর’ দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি (Jadavpur University Graffiti) মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের সেই কাজ শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার তড়িঘড়ি বিতর্কিত কিছু দেওয়াল লিখন নিজেদের উদ্যোগে মুছে দিল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল (আর্টস হস্টেল) চত্বরে থাকা এই ধরনের বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কড়া আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    রাখিবন্ধন উৎসবে যাদবপুরে মুখ্যমন্ত্রী!

    সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই অভিযান পুরোদমে শুরু হতে পারে। কিন্তু সেই সরকারি কাজ শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার অলক্ষ্যে বেশ কিছু বিতর্কিত দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি ঢেকে ফেলা হল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাবিত সাফাই অভিযানে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও হস্টেল চত্বরে স্থান পাওয়া যাবতীয় ‘আপত্তিকর’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও গ্রাফিতি একে একে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংকট ও তর্কের মাঝে নতুন জল্পনা ছড়িয়েছে যে, আসন্ন রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সশরীরে পরিদর্শনে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    আপত্তিকর গ্রাফিতি

    সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল ও আশেপাশের দেওয়ালে চরম বিতর্কিত একাধিক স্লোগান রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ব্রেক ফ্যাসিস্ট উইথ রেড’, ‘নক্সালবাড়ি’, এবং ‘ফ্যাসিস্ট ডু নট ডিসার্ভ ডেমোক্রেসি, দে ডিসার্ভ আ বুলেট ইন দ্য হেড’ (অর্থাৎ ফ্যাসিস্টরা মাথায় গুলি খাওয়ার যোগ্য)। এই সমস্ত বিতর্কিত বার্তা ও লেখা নিয়ে সর্বস্তরে তীব্র আপত্তি উঠতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় জরুরি বৈঠক ডাকে। সেই বৈঠকেই প্রাথমিক পর্যায়ে সব আপত্তিকর গ্রাফিতি ও স্লোগান মুছে ফেলার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যাদবপুর ক্যাম্পাসে কোনওভাবেই দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার। স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Jadavpur)। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল চত্বরে দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন বা ছবি রয়েছে! শুভেন্দু অধিকারী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সেলে এমনই কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগগুলি এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিছু আপত্তিকর ভিডিয়ো এবং ছবি পেয়েছেন তিনি। যদি তা সত্যি হয় অবিলম্বে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ক্যাম্পাস চত্বরে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও

    সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের ‘আপত্তিকর’ ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্টস ডিভিশন বয়েজ হস্টেল’-এর চত্বরে আপত্তিকর, দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন এবং ছবি আঁকার অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে ওই হস্টেল চত্বরে গিয়ে বিষয়টা যাচাই করতে হবে। যদি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ এবং মর্যাদার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে সকলকে। তার পরেই যাদবপুরের হস্টেল চত্বরের এই সব দেওয়াল লিখনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘যদি এমন দেশবিরোধী বার্তা এবং বিকৃত মানসিকতার ছবির উপস্থিতি প্রমাণিত হয়, তবে অবিলম্বে সেই দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।’’ কারা এ ধরনের দেওয়াল লিখন বা ছবি আঁকার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপে ‘জিরো টলারেন্স’

    শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, ‘‘কোনও অবস্থাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের যে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে চলে। সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবশ্যই সেই কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাঁর বার্তা, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবশ্যই মেধা এবং শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বজায় রাখতে হবে। নজর রাখতে হবে যাতে কখনওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি অসামাজিক কার্যকলাপের ক্ষেত্র হয়ে না-ওঠে।’’

    যাদবপুরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা

    যাদবপুরের অশান্তি নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা করবেনই। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না সেখানে। শিক্ষা দফতরকে ঢুকতে দেয়নি। সিসিক্যামেরা লাগাতে দেয় না। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যাঁরা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তুলছেন, তাঁদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে চুপ থাকেন। অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। কিন্তু এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে তা চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার রাখির দিন দেশপ্রেম দিবসের ঘোষণা করেছে সরকার। গোটা পশ্চিমবঙ্গে চার হাজার অনুষ্ঠান হবে। এমনকী সেদিন যাদবপুরে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়া হবে বলেও জানান ।

    ‘‘কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না”

    গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের নামী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে থাকে। এনিয়ে আরও একবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘যাদবপুরে কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না। সব ডকুমেন্ট আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই যাদবপুর ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে কিছু হয়নি। সব স্বাভাবিক রয়েছে। আজও ক্লাস হয়েছে। কোনও সমস্যা নেই।”

    যাদবপুর নিয়ে মিথ্যা প্রচার

    মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, যাদবপুরে নতুন করে কিছুই ঘটেনি। একটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘যাদবপুরে কী হয়েছে? কিছুই তো হয়নি। একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল এবং তাদের প্রিন্ট মিডিয়ার নিজেদের স্বার্থ আছে। আমাদের কোনও স্বার্থ নেই।” ওই সংবাদ মাধ্যমের নির্বাচনী সমীক্ষা যে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, তাও মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই সংবাদ মাধ্যমের টক শো-তে যারা যায়, তারা বলছিল যে বিজেপি কীভাবে লড়বে! এরা তো হিন্দুদের দল, দেড়শো আসনে লড়ছে, ১১০-১২০টি আসন পেতে পারে। ওই বড় মিডিয়া গ্রুপের সব প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা ডাহা ফেল করেছে। তাই ওরা এখন এসব হজম করতে পারছে না। আমি এসব নিয়ে কথা বলতে একেবারেই আগ্রহী নই। আমাকে দেশভক্ত নাগরিকরাই মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন, ওরা বানায়নি।”

  • Jadavpur Incident: যাদবপুরে দেশবিরোধী কাজ! এনআইএ তদন্তের দাবি এবিভিপির, অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

    Jadavpur Incident: যাদবপুরে দেশবিরোধী কাজ! এনআইএ তদন্তের দাবি এবিভিপির, অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসের ভেতরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছে অভিযোগ এবিভিপির। ঠিক কীভাবে এবং কার মদতে এই কাজ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা ‘এনআইএ’ (NIA)-কে দিয়ে তদন্তের দাবি তুলল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি- ABVP)। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ‘জুটা’ (JUTA)-র সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম বা প্রতীকচিহ্ন ভাঙার নেপথ্যে হাত রয়েছে ওই অধ্যাপকেরই, আর সেই অপরাধে রাজ্যের থানায় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে।

    সাংবাদিক বৈঠকে এবিভিপি

    ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রাতে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ‘ফেটসু’ (FETSU)-র জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে আচমকাই তেতে ওঠে যাদবপুর ক্যাম্পাস। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে এবিভিপি সমর্থকদের তুমুল হাতাহাতি ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ঘটনার জেরে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে নামলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ভেঙে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমব্লেম। সাংবাদিক বৈঠক ডাকে এসএফআই। ঘটনার ৩৭ ঘণ্টা পর সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন উপাচার্য। সেই বিক্ষোভের ঘটনার রেশ টেনেই রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দেয় এবিভিপি নেতৃত্ব।

    এনআইএ-কে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    সাংবাদিক বৈঠকে এবিভিপির নেতা-নেত্রীরা অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে আস্তানা বানিয়ে এক শ্রেণির সমাজবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি কাজ করছে। তাই বিষয়টি কেবল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে না রেখে সরাসরি উচ্চ শিক্ষা দফতর এবং এনআইএ-কে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করানো প্রয়োজন। এবিভিপির দাবি, সংঘর্ষের দিন তাঁদের একাধিক ছাত্রকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষ চলাকালীন ক্যাম্পাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক এমব্লেমটির একটি অংশ ভেঙে পড়ে। উল্লেখ্য, এই ঐতিহ্যবাহী এমব্লেমের নকশা তৈরি করেছিলেন স্বয়ং নন্দলাল বসু। দুই পক্ষের মারামারির মধ্যেই শিল্পাচার্যের আঁকা সেই এমব্লেমের পদ্মের পাপড়ির বলয়টি ভেঙে টুকরো হয়ে যায়।

    মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ

    এবিভিপির দাবি, এমব্লেম ভাঙার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনও কর্মী জড়িত নন। বরং এর পেছনে রয়েছেন জুটার সম্পাদক তথা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা। এবিভিপি নেতৃত্ব জানান, এবিভিপির কেউ যে প্রতীকচিহ্ন ভেঙেছে, তার কোনও ছবি বা ভিডিও প্রমাণ নেই। তাই মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার অভিযোগে ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তবে সংগঠনের কোনও সদস্য যদি নিরপেক্ষ তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হন, তবে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • Jadavpur Chaos: বুধবার রাতে কী ঘটেছিল? যাদবপুরের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

    Jadavpur Chaos: বুধবার রাতে কী ঘটেছিল? যাদবপুরের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুরে (Jadavpur University) ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। গঠন করা হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আজ, ২১ অগাস্ট কমিটির ঘোষণা করা হবে। বুধবার রাত থেকেই উত্তপ্ত যাদবপুর। বৃহস্পতিবার সকালেও এবিভিপি (ABVP) ও বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অশান্তির রেশ পড়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ফলকেও। ফলক ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন একাধিক প্রাক্তনী এবং প্রাক্তন অধ্যাপক। গত দুই দিন ধরে চলা এই অশান্তির ঘটনারই তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির কী কী কাজ হবে, কোন কোন বিষয়ে তদন্ত করা হবে, সেই সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (Chiranjib Bhattacharya)।

    কী কী জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য?

    • ১. উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ২১ অগাস্টের মধ্যে এই কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
    • ২. ১৯ অগাস্ট রাতে এবং ২০ অগাস্টের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে যাদবপুর থানায় পুলিশ অভিযোগ দায়ের করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
    • ৩. ক্যাম্পাসে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী সোমবার বিকেল ৩টায় সমস্ত স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে বৈঠক করা হবে।
    • ৪. ১৯ অগাস্ট রাতের ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে। তদন্ত কমিটির হাতে সেই ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বেআইনিভাবে প্রবেশ করা বাইরের ব্যক্তি-সহ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
    • ৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেটাও তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ঘটেছিল

    বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur Chaos) একাধিক ছাত্র সংগঠন সূত্রে খবর, ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই প্রাথমিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বাম ও দক্ষিণপন্থী ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষ চলে প্রায় সারা রাত। মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতেরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বুধবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি। দক্ষিণপন্থী ছাত্রদের দেখতে রাতেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন যাদবপুর এলাকার বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। রাতে যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। এবিভিপি-র কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী দাবি করেন, “অতিবাম ও দিমাগি নকশালেরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে আক্রমণ চালিয়েছে।” তাঁদের অভিযোগ, এবিভিপি-র ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।

  • Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেনারেল বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University)। বুধবার রাতের ওই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা। বৈঠক চলাকালীন এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ফেটসু-ঘনিষ্ঠ পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি হয়। তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাতাহাতি রূপ নেয় সংঘর্ষের। ঘটনায় দু’পক্ষেরই একাধিক পড়ুয়া জখম হয়েছেন বলে (Left Student) দাবি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে বলে খবর। যদিও ঠিক কী কারণে আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।

    এবিভিপির অভিযোগ (Jadavpur University)

    আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির অভিযোগ, জেনারেল বডির বৈঠক চলাকালীন তাঁদের কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে সেই ঘটনা হাতাহাতির আকার নেয়। সংগঠনের দাবি, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সংগঠনের আরও অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে পরিকল্পিতভাবে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। আক্রমণ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল রায়ের উপরেও। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। এদিকে, ফেটসুর অভিযোগ, এবিভিপি-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পড়ুয়া বৈঠকে এসে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। তাঁদের আচরণের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার পরেই তা আকার নেয় সংঘর্ষের।

    জখম এবিভিপির ছাত্র নেতা

    বামপন্থী পড়ুয়াদের মারে জখম হয়েছেন এবিভিপির অর্ণব দাস। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের দাবি, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা ওই জেনারেল বডির বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। তাঁর কথায়, “আজকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা জেনারেল বডি বৈঠকে তাঁরা ঠিক করেন কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত মানবেন না। আমরা বলেছি, নির্বাচন ছাড়া এমন কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। সর্বোপরি, আমাদের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে কোনও রাজনীতি চলবে না। আমি বলেছিলাম, ইউনিয়ন রুমে (Jadavpur University) এরকম স্লোগান লেখা থাকবে না, কারণ ইউনিয়ন হয়নি। তার পরেই ওরা আচমকা এসে আমাকে ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। আমার চশমা ছিটকে পড়ে। আমাকে সিনিয়ররা বাঁচাতে এলে তাঁরাও জখম হন।”

    বিরোধীদের অভিযোগ

    অর্ণবের আরও দাবি, ঘটনার প্রথম দিকে ৭০ থেকে ৮০ জনের জমায়েত হয়েছিল। পরে যখন মারধর শুরু হয়, তখন সেখানে প্রায় ২০ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে এবিভিপি। ঘটনাস্থলে বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আরএসএসের এই ছাত্র সংগঠন। অন্যদিকে, ফেটসুর সদস্য বৈদিক সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের একটা সাংগঠনিক বৈঠক চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরকারী ঠিক করার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠী বারবার উসকানিমূলক মন্তব্য করতে থাকে। তারপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং মারধর শুরু হয়।” বৈদিকের পাল্টা অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকেও মারধর করা হয়েছে। বাঁশ এবং গাছের মোটা ডাল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। তিনি জানান, কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছে তাঁর সংগঠন ফেটসু-ও (Left Student)।

    জেনারেল বডির বৈঠক কীভাবে?

    এই ঘটনার পাশাপাশি জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবিভিপির বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন থাকার কথা নয়। তাহলে কীভাবে জেনারেল বডির বৈঠক ডাকা হল, সেই প্রশ্ন তুলেছে তারা। সংগঠনের প্রশ্ন, নির্বাচন না হলে ছাত্র ইউনিয়নের নামে কোনও বৈঠক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা থাকে কি (Jadavpur University)? ফেটসুর পাল্টা বক্তব্য, নির্বাচন না হলেও ছাত্রদের সাংগঠনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। তাদের বক্তব্য, ছাত্রদের সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনার পর বুধবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী চক্রবর্তী। জেনারেল বডির বৈঠকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান এবং নকশাল-মাওবাদী রাজনীতির অভিযোগও তোলেন তিনি।

    বিধায়কের বক্তব্য

    শর্বরী বলেন, “কোনও ইউনিয়ন নেই। তারপরেও কী করে জিবির বৈঠক ডাকা হয়েছে? কে ডেকেছে বৈঠক? আমি সৃজন ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞেস করছি, কে ডেকেছে জিবির বৈঠক (Left Student)?” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “যাদবপুরকে নকশাল এবং দেশবিরোধী শক্তি, মাওবাদী দিয়ে আপনারা ভর্তি করে রাখবেন? কী ভেবেছেন, কী? এমনটা চলবে না। যাদবপুরে তো নয়ই।” ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করে তাঁদের পুলিশের কাছে হাজির করার দাবিও জানান শর্বরী। তাঁর বক্তব্য, “এক ঘণ্টার মধ্যে যদি যাদবপুর থানায় সারেন্ডার না করান… আমি কিন্তু যেখানে লুকিয়ে আছে, সেখান থেকে টেনে বের করব (Jadavpur University)।”

    থানায় বিক্ষোভ এবিভিপির

    এরপর ওই এলাকার বিজেপি কর্মী এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সদস্যরা মিলে রাতে স্থানীয় থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। এবিভিপির দাবি, তাঁদের বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। একইসঙ্গে তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভিতরে হামলা বা আগুন লাগানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘‘দলিত প্রেমের কথা বলা বাম, অতিবাম ও দিমাগি নকশালরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁদের বলে দলিতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই।’’ তাঁর দাবি, এবিভিপির ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। শুভব্রত জানান, বেশ কয়েকজনের নামে এফআইআর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে গণতান্ত্রিকভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।’’ যদিও শর্বরীর অভিযোগ এবং এবিভিপির বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে এসএফআই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআইয়ের শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজকের জিবি মিটিংয়ে এসএফআইয়ের কোনও ছাত্র উপস্থিত ছিলেন না। এই জিবি মিটিংটি ফেটসুর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এএফএসইউ এবং ডিএসএফের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।”

    ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ

    জেনারেল বডি বৈঠককে কেন্দ্র করে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও এবিভিপিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শুভদীপ। তিনি বলেন, “কেউ যদি দেশবিরোধী স্লোগান দিয়ে থাকে, তাহলে এবিভিপিকে বলব অভিযোগ না করে পুরো বিষয়টি উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে। তাঁরা নিজেরা কেন ব্যবস্থা নেবেন? পুরো বিষয়টি দেখার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের (Jadavpur University)।” অন্যদিকে, ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, বুধবার রাতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশ, ছাত্র সংগঠনের কার্যকলাপ এবং জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    সব মিলিয়ে, জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে বুধবার রাতের সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে বৈঠকের বৈধতা এবং ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে হামলা এবং পাল্টা হামলা এবং উসকানির অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন, তা স্পষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই (Left Student) পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বৃহস্পতিবারের প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে (Jadavpur University)।

     

  • ABVP: সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে এবিভিপি, দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ডাক

    ABVP: সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে এবিভিপি, দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে পদ্ম ফুটতেই (BJP Bengal Victory) রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) প্রদেশ কার্যালয়ে ঢল নেমেছে জেন জিদের। স্বদেশ মাতার বন্দনা, দেশের সুরক্ষা এবং দুর্নীতি মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিকে ছাড়ার হিড়িক দেখা দিয়েছে ছাত্র সমাজের মধ্যে। রাজনৈতিক পালা পরিবর্তনের পর এবিভিপির পক্ষ থেকে লিংড কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার জোরালো দাবি উঠেছে। সেই সঙ্গে সংগঠনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে বিদ্যার্থী পরিষদ। বাংলার ভেঙে পড়া শিক্ষা পরিকাঠামকে পুনঃনির্মাণের দাবি তোলা হয় এই হিন্দুত্ববাদী ছাত্র সংগঠনের তরফে।

    ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ (ABVP)

    অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) পর অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) তরফে সাফ দাবি করা হয়, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সমস্ত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচন করতে হবে। ছাত্র অধিকারের দাবিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং ক্যাম্পাসকে রাজনীতি মুক্ত করে এবিভিপি সকল ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থকে সুরক্ষিত করার কথা জোর দিয়ে জানিয়েছে। ভর্তিতে কাটমানি, তোলাবাজি, নেশামুক্ত ক্যাম্পাস এবং কাম্পাসে নারী সুরক্ষার বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিরাপদ করার দাবিও তুলেছে এবিভিপি। বঙ্গের কৃষ্টি-সংস্কৃতির জাগরণের আরেকবার পুনঃজাগরণের কথায় জোর দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৬ সালের পর থেকে কোনও নির্বাচন হয়নি

    ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই জেলা ভিত্তিক সংগঠনের কাজ সম্পন্ন করেছে এবিভিপি। ইতিমধ্যে কলকাতা, শহরতলী, উত্তর ২৪ পরগনা, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি, শিলিগুড়ি, মালদা, কোচবিহারে এবিভিপির শক্ত সংগঠন রয়েছে। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলে গত ৮ বছর আগে ২০১৯ সালে শেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল কেবলমাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যায় এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে। একক ভাবে এবিভিপি (ABVP) বিশেষ ভাবে নিজেদের ভোট অঙ্কে বিরাট প্রতিফলন হয়েছিল। তবে রাজ্যের বাকি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাম্পাসগুলিতে ২০১৬ সালের পর থেকে কোনও নির্বাচন হয়নি। একক ভাবে তৃণমূল ছাত্রপরিষদ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের একাধিপত্য জোরপূর্বক দখল করে রেখে ছিল। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির (BJP Bengal Victory) ফলে ক্যাম্পাসকে ভয় মুক্ত করতে এগিয়ে আসছে বঙ্গের জেন জি সমাজ।

    রাজনীতির আখড়া গড়ে তুলেছে

    এবিভিপির দাবি, তৃণমূলের রাজত্বে গত আট বছর এ রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রসংসদ গঠন করা যায়নি। স্বচ্ছ ভাবে করা হয়নি ছাত্র সংসদের ভোট। বারবার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রসংসদ নিষ্ক্রিয় করে রেখছে শাসকদল তৃণমূল। ইউনিয়ন রুমে ক্যাম্পাসের তৃণমূল নেতারা ছাত্রীদের ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেছে।  সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে এমন ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছিল সর্বত্র। অকারণে শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষকদের সঙ্গে অভব্য আচরণ, মারধর এবং রাজনীতির আখড়া গড়ে তুলেছে। কলজেগুলিকে লোকাল রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের প্রভাব বন্ধ করতে হবে। যাদবপুরের মতো জায়গায় স্বপ্নদীপের মতো একজন প্রথম বর্ষের ছাত্রকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ক্যাম্পাসে নামাজ, ইফতারের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কাজ করেছে তৃণমূল। তাই সার্বিক ভাবে অপসংস্কৃতির সমাপ্তি ঘটিয়ে একটি শিক্ষার পরিমণ্ডল চায় এবিভিপি।

    দুর্নীতিগ্রস্তদের সংগঠনে না

    এবিভিপি-র (ABVP) রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সেলের সহ-আহ্বায়ক দেবাঞ্জন পাল জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্য থেকে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এবিভিপি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যেরা সব থেকে বেশি যোগ দিতে চাইছেন আমাদের সংগঠনে। কিন্তু নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ক্যাম্পাসের পরিবেশ যাঁরা এত দিন নষ্ট করে এসেছেন, ভাবমূর্তি খারাপ তাঁদের কোনও ভাবেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। ২০১৭-র পর থেকে কোথাও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। এই ন’বছরে যাঁরা পড়াশোনা করেছেন, তাঁরা বুঝতেই পারলেন না ছাত্র রাজনীতি কী। তৃণমূল স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধ্বংস করেছে আমরা সেটা ফিরিয়ে আনব।”

    ছাত্র সমাজের বিরাট পরিবর্তন

    রাজ্যে গত ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনের (West Bengal Election 2026) অবসান হয়েছে। পদ্মশিবির উত্তর থেকে দক্ষিণে দিকে দিকে জয়যুক্ত হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের ঢেউ (BJP Bengal Victory) আছড়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের অলিগলিতে। লাগাম ছাড়া নারীধর্ষণ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে একক ভাবে সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে জয়যুক্ত হয়েছে। মমতার মা মাটি সরকারের লাগাম ছাড়া তোষণনীতির বিরুদ্ধে এবং হিন্দু সুরক্ষার পক্ষে জনাদেশ এসেছে। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র-যুব সমাজের মধ্যেও বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদ্যার্থী পরিষদ রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে হিংসা মুক্ত পরিবেশ চায় এবিভিপি। এমনটাই জানানো হয়েছে সংগঠনের তরফে।

  • Bengal Assembly Election 2026: অশান্তি পাকানো হতে পারে! যাদবপুর, কলকাতা, আলিয়ার ছাত্রাবাসে কড়া নজর কমিশনের

    Bengal Assembly Election 2026: অশান্তি পাকানো হতে পারে! যাদবপুর, কলকাতা, আলিয়ার ছাত্রাবাসে কড়া নজর কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে (Bengal Assembly Election 2026) বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলোতে কড়া নজরদারি ও বিশেষ তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিশেষ নজরে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যে বহিরাগত এবং নানা কর্মকাণ্ডের গোপন সূত্রে খবর মেলায় সক্রিয় ভূমিকায় নেমেছে নির্বাচন কমিশ।

    অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা (Election Commission India)!

    কমিশন (Election Commission India) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনওভাবেই যাতে বহিরাগতরা হস্টেলগুলোতে আশ্রয় নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। বিশেষ করে যে জেলাগুলোতে ভোট রয়েছে, সেই সংলগ্ন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাসগুলোর ওপর বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

    বুধবার ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন (Bengal Assembly Election 2026)। সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া। তাই এই জেলাগুলির একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছে বলে খবর।

    নজরে কোন কোন ক্যাম্পাসের হোস্টেল?

    একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হস্টেলে বহিরাগতদের জামায়েতের ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Bengal Assembly Election 2026)। তাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, বেলগাছিয়ার ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণীর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে নজরে রাখা হয়েছে। এছাড়াও তেঘরিয়ায় হজ টাওয়ার, নিউটাউনে হজ হাউস, পার্ক সার্কাসে হজ হাউস, রাজারহাট নিউটাউনে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, পার্ক সার্কাসে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, তালতলার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকেও সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। সল্টলেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের যুব আবাস সহ ৫৬টি বিভিন্ন‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে, যেখানে থাকবে কমিশনের (Election Commission India) কড়া নজরদারি

    বহিরাগত ব্যক্তিদের উপর নজর

    ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। হস্টেলগুলোতে কারা অবস্থান করছেন, কোনও বহিরাগত ব্যক্তি সেখানে আছেন কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের (Bengal Assembly Election 2026) আগে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

LinkedIn
Share