Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Indian Men’s Cricket Team: নতুন বছরে ঠাসা সূচি, জেনে নিন ২০২৬ সালে কোথায় কাদের বিরুদ্ধে খেলবে টিম ইন্ডিয়া?

    Indian Men’s Cricket Team: নতুন বছরে ঠাসা সূচি, জেনে নিন ২০২৬ সালে কোথায় কাদের বিরুদ্ধে খেলবে টিম ইন্ডিয়া?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরে টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেট মরশুম শুরু হচ্ছে আগামী ১১ জানুয়ারি। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। নতুন বছরে টিম ইন্ডিয়া ঘরোয়া সিরিজ, বিদেশ সফর এবং আইসিসির বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। ২০২৭ একদিনের বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মাদের কাছে।

    জানুয়ারি থেকে জুনের লড়াই

    ২০২৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। ১১, ১৪ ও ১৮ জানুয়ারি খেলা তিনটি হবে বরোদা, রাজকোট ও ইন্দোরে। এরপর রয়েছে কিউয়িদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। ২১, ২৩, ২৫, ২৮ ও ৩১ জানুয়ারি খেলাগুলি হবে নাগপুর, রায়পুর, গুয়াহাটি, বিশাখাপত্তনম ও তিরুঅনন্তপুরমে। এরপর রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে হবে টুর্নামেন্ট। খেলা শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি। ফাইনাল ৮ মার্চ। এরপর মার্চের শেষে শুরু হয়ে যাবে আইপিএল। চলবে মে মাস অবধি। আইপিএলের পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে টিম ইন্ডিয়া। জুনে আফগানিস্তান আসবে ভারতে। খেলবে একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে। দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    জুলাই-আগস্টে ইংল্যান্ড সফর

    জুলাইয়ে ভারত যাবে ইংল্যান্ড সফরে। খেলবে পাঁচটি টি–টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে। ১, ৪, ৭, ৯, ১১ জুলাই টি–টোয়েন্টি ম্যাচগুলি হবে চেস্টার লি স্ট্রিট, ম্যাঞ্চেস্টার, নটিংহ্যাম, ব্রিস্টল ও সাউদাম্পটনে। আর ১৪, ১৬ ও ১৯ জুলাই একদিনের ম্যাচগুলি হবে বার্মিংহাম, কার্ডিফ ও লর্ডসে। আগস্টে ভারত যাবে শ্রীলঙ্কা সফরে। খেলবে দুই টেস্টের সিরিজ। এই সিরিজের দিনও এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২২ গজের লড়াই

    সেপ্টেম্বরে ভারত যাবে বাংলাদেশ সফরে। খেলবে তিনটি ওয়ানডে ও সমসংখ্যক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ। এরপর ১৯ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর চলবে এশিয়ান গেমসে। জাপানে এই টুর্নামেন্টে আবার ক্রিকেট ফিরছে। এরপর আবার আফগানিস্তান আসবে ভারতে। খেলবে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর দেশের মাটিতে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ওয়ানডে ও পাঁচ টি–টোয়েন্টির সিরিজ। অক্টোবর–নভেম্বরে ভারত যাবে নিউজিল্যান্ড সফরে। খেলবে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি–টোয়েন্টি। এই সিরিজের দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কা আসবে ভারত সফরে। রয়েছে তিনটি ওয়ানডে ও সমসংখ্যক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ।

    টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দখলে রাখার লড়াই

    এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই দেশের মাটিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। তাই বিশ্বকাপ রক্ষার দায়িত্ব এবার সূর্যদের। দলও ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। সূর্যকুমার যাদবের অধিনায়কত্বে এই টুর্নামেন্টে খেলতে নামবে ভারত। কিউয়িদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে নিজেদের একবার যাচাই করে নেবেন সূর্যরা।

     

  • Weather Update: ১৮ বছরে শীতলতম বর্ষবরণ শহর কলকাতার! ভিড় চিড়িয়াখানা থেকে ইকো পার্কে

    Weather Update: ১৮ বছরে শীতলতম বর্ষবরণ শহর কলকাতার! ভিড় চিড়িয়াখানা থেকে ইকো পার্কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরেও জাঁকিয়ে শীত (Weather Update)। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার (Winter in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৬ ডিগ্রি কম। গত ১৮ বছরে ১ জানুয়ারিতে কখনও এতটা পারদ পতন হয়নি কলকাতায়। ২০০৮ সালে বছরের প্রথম দিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৪। তার পর ২০২৬-এমন হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। গত বছরের শেষ দিনে শহর কলকাতার তারপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি। জাঁকিয়ে শীতকে সঙ্গে নিয়ে এবার ভরা পৌষে চলছে কল্পতরু উৎসবও। বছরের প্রথম দিনে উৎসবের মেজাজে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন চিড়িয়াখানা, ইকো পার্ক, ভিক্টোরিয়ায়। কল্পতরু উপলক্ষে ভিড় দক্ষিণেশ্বর, জয়রামবাটী-কামারপুকুরে।

    ফের পারদ পতনের সম্ভাবনা

    বুধবার মরসুমের শীতলতম দিন কাটিয়ে ফেলেছে কলকাতা। বুধবার ভোরে কলকাতার (Winter in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ভোরে তা সামান্য বেড়ে ১১.৬ ডিগ্রি হয়েছে। আজ শহর কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘুরপাক খেতে পারে। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল, যা স্বাভাবিকের থেকে ৫.৩ ডিগ্রি কম ছিল। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী তিন দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমবে। তার পরের চার দিন তাপমাত্রায় হেরফের হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ, আগামী সাত দিন শীতের কনকনানি থেকে খানিক রেহাই মিলতে পারে। তার পর ফের পারদ পতনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিশেষ পরিবর্তন হবে না। তবে এর পরের চার দিন ধীরে ধীরে কমতে পারে শীত।

    জেলায় জেলায় কুয়াশার দাপট

    নদিয়া, সিউড়ি, শ্রীনিকেতন, আসানসোলের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ৯ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে তাপমাত্রা। কোথাও তা ১২ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। উপকূলের জেলাতে ১৩ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৩ দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একটু বাড়তে পারে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী চার-পাঁচ দিনই কুয়াশা থাকবে। বৃহস্পতিবার ঘন কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানে। শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় সকালের দিকে ঘন কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্রই হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত নামতে পারে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও সকালের দিকে কুয়াশার দাপট থাকবে। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পং জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দার্জিলিঙের পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতও হতে পারে। থাকবে কুয়াশাও।

  • PM Modi: সমৃদ্ধ ভারত গঠনের আহ্বান, দেশবাসীর সুস্থ জীবন প্রার্থনা করলেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি

    PM Modi: সমৃদ্ধ ভারত গঠনের আহ্বান, দেশবাসীর সুস্থ জীবন প্রার্থনা করলেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাগত ২০২৬! নতুন বছরে পা রাখল বিশ্ব। পৃথিবীর নানা প্রান্তে যখন নতুন বর্ষবরণের আনন্দ, সেই সময়ে দেশের মানুষকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Wishing New Year) ও রাষ্ট্রপতি (President of India) দ্রৌপদী মুর্মু। দেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার বার্তা দিলেন। দেশবাসীর উন্নতিতে প্রার্থনা করলেন। আহ্বান জানালেন সমৃদ্ধ ভারত গঠনের।

    প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতির বার্তা

    নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu) ভারতে এবং ভারতের বাইরে বসবাসকারী সকল ভারতীয়কে (Indian) শুভেচ্ছা জানান। তিনি জানান, “নতুন বছর শক্তির পুণর্নবীকরণ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি আত্ম দর্শনের এবং নতুন সংকল্পেরও সুযোগ এনে দেয়। এই অবসরে জাতির উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং প্রকৃতির রক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আমরা আরও শক্তিশালী করি।” নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর জন্য প্রার্থনা করেন, যেন আগামী বছর প্রত্যেকের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে সকল প্রচেষ্টায় সফলতা ও সকল কার্যপূরণ হয়। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজের শান্তি এবং সুখ প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করি। আশা রাখি ২০২৬ আমাদের জীবনে শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক এবং আমাদের মধ্যে নতুন শক্তি সঞ্চারিত করুক যাতে আমরা আরও শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তুলতে পারি। “

    বিশ্বজুড়ে বর্ষবরণ

    নববর্ষের আগের রাত শুরু হতেই বিশ্বজুড়ে মানুষ আতশবাজি, পারিবারিক জমায়েত এবং নতুন বছরের সংকল্পের মাধ্যমে আগামী বছরকে স্বাগত জানানো শুরু করেছিলেন সকলে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে সবাই উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন। এই বিশ্বব্যাপী উদযাপনের সূচনা করে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতি, যা ক্রিসমাস আইল্যান্ড নামেও পরিচিত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানানো হয়েছে। মধ্যরাত যত এগিয়ে আসছে, ততই উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠছে ভারতের নানা শহরও। বড় শহর থেকে শুরু করে ছোট শহর—সর্বত্রই পার্টি, আলোর সাজ, আতশবাজি এবং পারিবারিক ও বন্ধুমহলের জমায়েতে উচ্ছ্বাসের আবহ। হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব ও খোলা প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অনেকেই আবার বাড়িতেই প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা করছেন। মন্দিরে প্রার্থনা, বাড়িতে বিশেষ রান্না এবং শুভেচ্ছা বার্তা আদানপ্রদানের মধ্য দিয়ে অনেক পরিবার নতুন বছরের সূচনা করতে চান।

  • Kalpataru Utsav: আজ ‘কল্পতরু উৎসব’, আজকের দিনেই ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’

    Kalpataru Utsav: আজ ‘কল্পতরু উৎসব’, আজকের দিনেই ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নতুন বছরের পয়লা দিন বলে কথা। বাঙালি মেতেছে বর্ষবরণের আনন্দে। এ আর নতুন কী! তবে ফি বছর ১ জানুয়ারির গুরুত্ব বাঙালির কাছে অন্যভাবেও রয়েছে, এদিন কল্পতর উৎসব (Kalpataru Utsav)। এদিনই বিশ্ববন্দিত হিন্দু ধর্মের প্রচারক স্বামী বিবেকানন্দের গুরু, ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’। সকাল থেকেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির থেকে শুরু করে রাজ্যের সর্বত্র ভক্তরা পালন করছেন কল্পতরু দিবস। ভোর থেকেই ভক্তদের ঢল দক্ষিণেশ্বর-কাশীপুর উদ্যানবাটিতে। এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের (Sri Ramakrishna) স্মৃতি। ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি কল্পতরু রূপে ভক্তদের আশীর্বাদ করেছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ।

    ঠাকুরের সংক্ষিপ্ত জীবনী

    পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার কামারপুকুর গ্রামে ১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এক দরিদ্র বৈষ্ণব ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং চন্দ্রমণি দেবীর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কথিত আছে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে গয়া তীর্থ ভ্রমণে গিয়ে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়, গদাধর বিষ্ণুকে স্বপ্নে দর্শন করেন। তাই নিজের চতুর্থ সন্তানের নাম তিনি রাখলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়। দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে ১৮৫৫ সালে গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের কলকাতায় আগমন ঘটে। কারণ মাহিষ্য সমাজের জমিদার পত্নী রানি রাসমণি দক্ষিণেশ্বরে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন। রানিমা প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন কামারপুকুরের রামকুমারের হাতে। তরুণ গদাধর দাদাকে পুজোতে সাহায্য করবেন। ১ বছরের মধ্যে ছন্দপতন। আকস্মিকভাবেই ১৮৫৬ সালে মৃত্যু হল রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়।

    দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি। মন্দিরের ঠিক উত্তর-পশ্চিম কোনে তরুণ পুরোহিতের জন্য একটি ছোট্ট ঘর বরাদ্দ করা হল। শোনা যায়, এরপরেই রানি রাসমনির জামাতা মথুরামোহন গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের নামকরণ রামকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna) করেন, তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে, কেউ কেউ বলেন যে তাঁর এই নামকরণ করেন ঠাকুরের অন্যতম গুরু তোতাপুরী। প্রথাগত শিক্ষা তাঁর কিছুই ছিল না সেভাবে। কিন্তু মুখে মুখে বলে দিতেন হিন্দু শাস্ত্রের সমস্ত গূঢ়তত্ত্ব, অতি সরলভাষায়, একেবারে গল্পের ছলে। এজন্য তাঁকে গল্পের রাজাও বলা হয়। পরবর্তীকালে তাঁর এই বাণী সংকলিত হয় কথামৃত নামক গ্রন্থে। এরমধ্যে ঠাকুরের (Kalpataru Utsav) বিবাহ সম্পন্ন হয় কামারপুকুরের তিন মাইল উত্তর-পশ্চিমে জয়রামবাটী গ্রামের রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কন্যা সারদাদেবীর সঙ্গে। সেটা ১৮৫৯ সালে। এতদিনে বঙ্গীয় শিক্ষিত সমাজ তাঁকে গুরুর আসনে বসিয়ে ফেলেছে। শিষ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন কেশবচন্দ্র সেন সমেত অন্যান্য গন্যমান্যরা।

    ১ জানুয়ারী ১৮৮৬

    শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধলে, ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের নির্দেশে তিনি নিজেকে গৃহবন্দি রাখেন প্রায় এক মাস। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি কাশীপুর উদ্যানবাটিতে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ৩০জন মতো গৃহী ভক্ত। সকলে হাতে ফুল নিয়ে উপস্থিত। আজ ঠাকুরের দর্শন পাওয়া যাবে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর তিনটে। দোতলা ঘর থেকে তিনি নেমে এলেন বাগানে। পরনে সেই চিরাচরিত পোশাক। লাল পেড়ে ধুতি। উপস্থিত গৃহী ভক্তরা তাঁদের হাতে রাখা ফুল ঠাকুরের চরণে অঞ্জলি দিতে থাকেন। কথিত আছে, ঠাকুর তখন নাট্যকার গিরিশ ঘোষকে বলেন, ‘‘হ্যাঁ গো, তুমি যে আমার নামে এত কিছু চারিদিকে বলো, তো আমি আসলে কী?’’ গিরিশ ঘোষ উত্তর দিলেন, ‘‘তুমিই নররূপ ধারী পূর্ণব্রহ্ম ভগবান, আমার মত পাপী-তাপীদের মুক্তির জন্যই তোমার মর্ত্যে আগমন।’’ সবাই তখন ঠাকুরের চরণ স্পর্শ করলেন এবং ঠাকুর (Sri Ramakrishna) বললেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’।

    এদিনের উৎসবকে কল্পতরু (Kalpataru Utsav) কেন বলা হয়?

    হরিবংশ ইত্যাদি পুরাণে ‘কল্পতরু’র উল্লেখ রয়েছে। দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে সমুদ্র মন্থন হয়েছিল, পুরাণ অনুযায়ী সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত, লক্ষ্মীদেবী, ঐরাবত ইত্যাদির সঙ্গে উঠে আসে একটি বৃক্ষ-ও। যাকে পারিজাত বৃক্ষ বলা হত। পরবর্তীতে দেবরাজ ইন্দ্রের বিখ্যাত নন্দনকাননের স্থান পায় এই পারিজাত বৃক্ষ এবং সেখান থেকে স্ত্রী সত্যভামার আবদারে শ্রীকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna) পৃথিবীতে নিয়ে আসেন এই বৃক্ষ। এই পারিজাত বৃক্ষকে-ই ‘কল্পতরু’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ সেই বৃক্ষ, যার কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। কল্পতরু উৎসবের (Kalpataru Utsav) দিন ঠাকুরের ভক্তরা তাঁকে অবতার রূপে মেনে নেন। কথিত আছে, সেদিন উপস্থিত সকল ভক্তের মনোবাঞ্ছা ঠাকুরের কৃপায় পূরণ হয়েছিল। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, এই দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব সকলের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

  • RailOne: নববর্ষের উপহার! রেলওয়ান অ্যাপে অসংরক্ষিত টিকিট কেনায় ৩ শতাংশ ছাড়, ঘোষণা রেলের

    RailOne: নববর্ষের উপহার! রেলওয়ান অ্যাপে অসংরক্ষিত টিকিট কেনায় ৩ শতাংশ ছাড়, ঘোষণা রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশ্যে ভারতীয় রেলের মন্ত্রক একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে। এখন থেকে রেলওয়ান (RailOne) মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে যে কোনও ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে অসংরক্ষিত টিকিট (Unreserved Tickets) কিনলে, যাত্রীরা টিকিটের মূল্যের উপর ৩ শতাংশ ছাড় পাবেন। এই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হল যাত্রীদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে আরও বেশি উৎসাহিত করা। তবে এই ছাড়টি রেলওয়ান অ্যাপের (Indian Rail) সমস্ত ডিজিটাল পেমেন্ট মোডে প্রযোজ্য হবে।

    কবে থেকে কবে ছাড় (RailOne)?

    ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখের এক সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাটি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ১৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ছয় মাস জুড়ে কার্যকর থাকবে। বর্তমানে রেলওয়ান অ্যাপ ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র অ্যাপের নিজস্ব ওয়ালেট পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে লেনদেন (Indian Rail) করলে ৩ শতাংশ ক্যাশব্যাকের সুবিধাও পাবেন। তবে রেল মন্ত্রক (RailOne) এখন এই উৎসাহমূলক সুবিধাটিকে ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তৃত পরিসরে প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ডিজিটাল বুকিংকে আরও জনপ্রিয়

    রেলে মন্ত্রক (Indian Rail) সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম (CRIS)-কে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, ডিজিটাল বুকিংকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশ্যে রেলওয়ান (RailOne) অ্যাপে সমস্ত ডিজিটাল পেমেন্ট মোডের মাধ্যমে অসংরক্ষিত টিকিট বুকিংয়ের উপর ৩ শতাংশ ছাড়-এর পরিষেবা দেবে। একই ভাবে রেলের প্রযুক্তিগত বিভাগ সিআরআইএ (CRIS)-কে এই নতুন সুবিধাটি চালু করার আগে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়াও হয়েছে।

    রেলের (Indian Rail) এক আধিকারিক এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিদ্যমান ৩ শতাংশ ক্যাশব্যাক অফারটি নতুন ছাড়ের প্রকল্পের পাশাপাশি চলতে থাকবে। তবে ৩ শতাংশ ছাড়ের এই নতুন সুবিধাটি শুধুমাত্র রেলওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে করা সমস্ত ডিজিটাল পেমেন্টের জন্য প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে টিকিট কাটলে এই ছাড় পাওয়া যাবে না।

  • India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা বিশ্ব যখন বর্ষবরণ উৎসবের প্রস্তুতিতে মগ্ন, তখনই দেশের সুরক্ষায় কঠোর ভারত। বছরের শেষ দিনে শত্রুদের নিজের শক্তির কথা জানিয়ে সতর্ক করল ভারত। তবে কোনও হামলা নয়, নিজের আত্মরক্ষার প্রস্তুতিতে মগ্ন দিল্লি। ওড়িশার চাঁদিপুরে গর্জে উঠল ভারত। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও ডিআরডিও পরপর একই লঞ্চার থেকে দু’টি ‘প্রলয়’ মিসাইল (India’s Pralay Missile) উৎক্ষেপণ করল। এই প্রথম ব্যাক-টু-ব্যাক টেস্ট। আর দুই ক্ষেত্রেই সফল ভারত। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলের ‘ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ’ থেকে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। বুধবারের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ডিআরডিও, ভারতীয় সেনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

    পিনাকারের পরে প্রলয়

    পিনাকার পরে প্রলয়- এক সপ্তাহের মধ্যেই পরপর দুটি মিসাইল পরীক্ষায় সাফল্য পেল ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট নাগাদ ওড়িশা উপকূল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি প্রলয় মিসাইলের উৎক্ষেপণ করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। রুটিন পরীক্ষার অংশ হিসেবে সেই মিসাইল লঞ্চ করা হয়েছে। আর চাঁদিপুরে থাকা ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের ট্র্যাকিং সেনসর এবং জাহাজ থেকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে দুটি মিসাইলই নির্দিষ্ট পথ ধরেই এগিয়ে গিয়েছে। পূরণ করেছে যাবতীয় মাপকাঠি।

    প্রলয় মিসাইলের রেঞ্জ

    প্রলয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। ‘ভূমি থেকে ভূমি’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উড়ন্ত অবস্থায় অভিমুখ বদলাতেও পারে। ২০২২ সালে ভারতীয় সেনার অস্ত্রাগারে প্রথম শামিল হয়েছিল প্রলয়। তার পর থেকে সেটি উন্নত করার কাজ করছে ডিআরডিও। ৩৫০ থেকে ৭০০ এবং ৫০০ থেকে হাজার কেজির উচ্চ শক্তির বিস্ফোরক ব্যবহার করে প্রলয়। শত্রুপক্ষের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে প্রলয়। ভারতীয় সেনার পাশাপাশি বায়ুসেনাও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।

    সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি প্রলয়

    সম্পূর্ণ দেশীয় সরঞ্জাম এবং পদ্ধতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনা ফৌজের আগ্রাসন এবং গালওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সংঘর্ষের পরে এলএসি-তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে সক্রিয় হয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২২ সালে পূর্ব লাদাখে মোতায়েন করা হয়েছে প্রলয়।

    প্রলয় কেন আলাদা

    প্রলয় কেবল কোনও সাধারণ মিসাইল নয়, এটি একটি আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো এটি নির্দিষ্ট পথে চলে না। ওড়ার সময় এটি নিজের গতিপথ বদলে ফেলতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স একে ট্র্যাক করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলবে। ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি মোবাইল লঞ্চার থেকে যে কোনও সময় ছোড়া সম্ভব।

    রণক্ষেত্রের গেম-চেঞ্জার

    প্রলয়ের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর ওয়ারহেডে। পিএফ ওয়ারহেড: একটি ৭০০ কেজির ওয়ারহেডে থাকে ৮৩ হাজার ৫০০টি টাংস্টেনের টুকরো। বিস্ফোরণের পর ১০০ মিটার এলাকা কার্যত গুঁড়িয়ে দেয় এই মিসাইল। রানওয়ে ধ্বংস: এর আরডিপিএস প্রযুক্তি মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শত্রু বিমানঘাঁটির রানওয়েতে বড় বড় গর্ত তৈরি করে দিতে পারে। ফলে যুদ্ধবিমান সেখানে থাকলেও তা ওড়ার সুযোগই পাবে না।

    সতর্ক পাকিস্তান-বাংলাদেশ

    প্রলয় মিসাইলের সেই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দিনদুয়েক আগেই ওড়িশার উপকূল থেকে পিনাকা দূরপাল্লার মিসাইলের পরীক্ষা করা হয়। এই মিসাইলের এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ছিল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই মিসাইল। এই পিনাকা গাইডেড রকেটটির সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্ত থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের মতো শহর অনায়াসে সেই মিসাইলের রেঞ্জে চলে আসতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশের খুলনা, রাজশাহির মতো যে কোনও বড় শহরই এই মিসাইলের রেঞ্জে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর প্রলয়ের রেঞ্জেও বাংলাদেশ থাকবে। যেমন কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব মেরেকেটে ৩৫০ কিমি। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভারতের এমন অনেক মিসাইল আছে, যেগুলির রেঞ্জে আছে বাংলাদেশ। ব্রহ্মোস মিসাইলের তো রেঞ্জে আছে পাকিস্তানও। গত অক্টোবরেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তো বলেছিলেন, ‘দেশ আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের প্রতিপক্ষরা আর কোনওভাবেই ব্রহ্মোসের গ্রাস থেকে পালাতে পারবে না। পাকিস্তানের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি এখন আমাদের ব্রহ্মোসের নাগালের মধ্যে আছে।’ সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোড়া উৎক্ষেপণ নিছক পরীক্ষা নয়। পূর্ব এবং পশ্চিম—দুই সীমান্তের প্রতিবেশীদের জন্যই এটি কড়া বার্তা। ভারতের কৌশলগত লক্ষ্য এখন পরিষ্কার, যুদ্ধের শুরুতেই শত্রুর তেল ভাণ্ডার এবং সেনা ছাউনি ধ্বংস করে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

  • US Corn Imports: শুকরের বিষ্ঠার সার দেওয়া ভুট্টা বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে আমেরিকা! সমাজমাধ্যমে ট্রোলের বন্যা

    US Corn Imports: শুকরের বিষ্ঠার সার দেওয়া ভুট্টা বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে আমেরিকা! সমাজমাধ্যমে ট্রোলের বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সম্প্রতি একটি টুইটে জানায় যে আমেরিকা থেকে ভুট্টা (US Corn Imports) এই মাসেই বাংলাদেশে আসছে। ভুট্টার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যশিল্পে ব্যবহারের কথা তুলে ধরে দেওয়া ওই পোস্টটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। কারণ হিসেবে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা চাষে শূকরের সার ব্যবহারের বিষয়টি—যা মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল বলে বিবেচিত। দূতাবাসের টুইটে বলা হয়, “মার্কিন ভুট্টা এই মাসে বাংলাদেশে আসছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই শস্য কর্নব্রেড ও ব্রেকফাস্ট-সহ নানা খাদ্যে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি এটি পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে মাংস, দুধ ও ডিমের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।” তবে পোস্টটির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা শূকর সার ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেন।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া

    বিভিন্ন ব্যবহারকারী মন্তব্যে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন। কেউ কেউ ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন তোলেন, আবার কেউ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। একাধিক পোস্টে মার্কিন নীতির সমালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশকে ‘চাপের মুখে’ আমদানিতে বাধ্য করা হয়েছে—এমন দাবিও করা হয়। এ নিয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশে আমদানিকৃত মিট অ্যান্ড বোন মিল (এমবিএম) পাউডারে শূকরজাত উপাদান শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় দেশটি ওই পণ্যের আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল। ফলে খাদ্য ও পশুখাদ্যে ব্যবহৃত উপকরণ নিয়ে সতর্কতা নতুন নয়।

    কেন মার্কিন ভুট্টা?

    ভুট্টা চাষে ব্যাপক সার প্রয়োজন হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরনের জৈব সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার বাম্পার ফলন হওয়ায় দেশটি বাংলাদেশ ও ভারতের মতো বাজারে রফতানি বাড়াতে আগ্রহী। কিছু প্রতিবেদনে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ভুট্টা মজুতের চাপের কথাও উঠে এসেছে। ভারত বড় পরিসরে মার্কিন ভুট্টা আমদানিতে এখনও অনাগ্রহী থাকলেও বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, ভুট্টা ও সয়াবিন আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পেছনে রয়েছে দু’দেশের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করলেও পরে তা কমানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মার্কিন গম কেনার অনুমোদনও দিয়েছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভুট্টা সংক্রান্ত পোস্টটি বাণিজ্যিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইলেও, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার কারণে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

  • PM Modi: অযোধ্যায় রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: অযোধ্যায় রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যায় রাম লালার (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বার্ষিকীকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এক ঐশ্বরিক উদযাপন রূপে বর্ণনা করেছেন। কোটি কোটি ভক্তের শত শত বছরের ভক্তি ও আকাঙ্ক্ষা সফল রূপ পেয়েছে রামমন্দিরে। রামা লালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা ছিল একটি ভব্য এবং দিব্য উৎসব। ৫০০ বছরের আন্দোলন এবং রামভক্তদের স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে। শ্রী রামই ভারতীয় সংস্কৃতির আসল প্রতীক।

    শত শত বছরের আকাঙ্ক্ষার সফল পরিণতি (PM Modi)

    দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ৩১ ডিসেম্বর অযোধ্যায় রাম লালার (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভারত এবং বিশ্বজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এই দিন সম্পর্কে বলেন, “আমাদের আস্থা এবং ঐতিহ্যের এক দিব্য উৎসব। শত শত বছরের হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত গৌরবের মাহেন্দ্রক্ষণ। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ভগবান শ্রী রামের চরণে প্রণাম জানান। সেই সঙ্গে লিখেছেন, “অযোধ্যায় প্রাণপ্রতিষ্ঠার দিনটির অত্যন্ত গৌরবের এবং আধ্যাত্মিক ভক্তি ভাবুকতায় পরিপূর্ণ। রাম ভক্তদের শত শত বছরের আকাঙ্ক্ষার সফল পরিণতি পেয়েছে। ঐতিহাসিক ভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। আজ অযোধ্যার পবিত্র ভূমিতে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এই বার্ষিকী আমাদের আস্থা এবং ঐতিহ্যের এক দিব্য উৎসব। এই পবিত্র ও পুণ্য তিথিতে দেশে-বিদেশে থাকা সকল রাম ভক্তের পক্ষ থেকে প্রভু শ্রী রামের চরণে আমার কোটি কোটি নমস্কার।”

    রাম আমাদের অনুপ্রেরণা

    প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) এই বছরেই আরেকটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন যা হল অযোধ্যার ধর্ম ধ্বজার উত্তোলন। ফলে এই বছরই আবার প্রথমবার নব উত্তোলিত ধর্ম ধ্বজ রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সাক্ষী থাকছে। রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) এই ধ্বজ ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রতীক। তাই মোদি বলেছেন, “আমার সৌভাগ্য যে গত মাসে আমি এই পবিত্র ধ্বজ স্থাপনায় অংশ নেওয়ার শুভ সুযোগ পেয়েছিলাম। শ্রীরামের মর্যাদা পূর্ণ প্রতীকের অনুপ্রেরণা প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে সেবা, নিষ্ঠা এবং সহানুভূতির অনুভূতিকে আরও গভীর ভাগে জাগিয়ে তুলবে। সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভর ভারত গড়তে শ্রী রাম আমাদের অনুপ্রেরণা।”

    ধর্ম ধ্বজার আনুষ্ঠানিক উত্তোলনকে ধর্মীয় তাৎপর্যের বাইরে গিয়ে ভারতের বৃহত্তর জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত করেছেন মোদি। একই ভাবে দেশবাসীর কাছে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভগবান রাম সবসময় মর্যাদা পুরুষোত্তম হিসেবে পূজিত হন। তাঁর আদর্শগুলি নাগরিকদের মধ্যে সেবা, নিষ্ঠা এবং সহানুভূতির মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

  • Ayodhya Ram Mandir: কীভাবে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার শক্তি একটি সনাতন সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করে তার প্রমাণ অযোধ্যার রামমন্দির

    Ayodhya Ram Mandir: কীভাবে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার শক্তি একটি সনাতন সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করে তার প্রমাণ অযোধ্যার রামমন্দির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যায় রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা (Pran Pratishtha Anniversary) বার্ষিকী ভারতের আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম সুদূরপ্রসারী বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। পৌষ শুক্ল পক্ষের দ্বাদশী, ৩১ ডিসেম্বর পালিত হয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হিসেবে। ফলে এই মাহেন্দ্রক্ষণ কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা, যা বিশ্বাস-আস্থা- ইতিহাস-সংস্কৃতি এবং জাতীয় চেতনাকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে। রামমন্দির ভারতীয় সংস্কৃতির প্রধান পরিচয়।

    অযোধ্যা নগরী ত্রেতা যুগের রাজধানী (Ayodhya Ram Mandir)

    রাম মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) অযোধ্যায় দণ্ডায়মান, যা ভগবান শ্রী রামের (Pran Pratishtha Anniversary) জন্মস্থান হিসেবে পূজিত হয়। শ্রী রাম হিন্দু সভ্যতার এক কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। প্রভু রাম হলেন ধর্ম, ন্যায় ও আদর্শ শাসনের মূর্ত প্রতীক। শতাব্দী ধরে, অযোধ্যা ভারতের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে এক পবিত্র স্থান অধিকার করে আছে। রাম ভক্ত, সাধুসন্ত, তীর্থযাত্রী, পণ্ডিতদের আকর্ষণীয় কেন্দ্র। রাম লালা নিজের মহান মানব গুণে ভগবানের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছেন। তিনি মর্যাদা পুরুষোত্তম রাম। অযোধ্যানগরী ত্রেতা যুগের রাজধানী। তাই অযোধ্যা ধামকে সনাতন ঐতিহ্যের সাতটি পবিত্র স্থানের মধ্যে অন্যতম হিসেবে ধরা হয়।

    সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদার প্রতীক

    রাম মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) নির্মাণ কয়েক দশক ধরে চলা এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও আইনি প্রক্রিয়ার ফল। ভক্তরা কয়েক প্রজন্ম ধরে এই বিশ্বাসে ছিলেন রাম জন্মভূমিতে (Pran Pratishtha Anniversary) এক বিশাল মন্দির একদিন গড়ে উঠবে। এই মন্দির বা রাম লালার বিগ্রহ কেবল ভক্তি নয়, সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদারও প্রতীক। সাংবিধানিক উপায়ে এই মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনায় ভারতের গণতান্ত্রিক ও বিচার ব্যবস্থার উপর বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। তাই মন্দিরটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, সভ্যতার অবিচলতার আরও এক প্রতীক।

    রাম আশ্রয়স্থল

    সনাতন ধর্মে, প্রাণ প্রতিষ্ঠা মন্দির পূজার অন্যতম পবিত্র আচার। শব্দটি আক্ষরিক অর্থে বোঝায় জীবনের সঞ্চার। প্রভু রাম আগে এখানেই ছিলেন। মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠায় রামলালাকে আরেকবার গর্ভগৃহে স্থাপনা করা হয়েছে। সেই মুহূর্তটিকে নির্দেশ করে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে দেবতার ঐশ্বরিক উপস্থিতি মূর্তিতে আহ্বান করা হয়, এটিকে একটি নির্মিত রূপ থেকে পূজার যোগ্য এক জীবন্ত মূর্তিতে রূপান্তরিত করেছে। সমস্ত সনাতন হিন্দু ধর্মের (Pran Pratishtha Anniversary) মানুষের কাছে এই মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) সকল আস্থার ভর কেন্দ্র।

    প্রাণ প্রতিষ্ঠা ছিল অনুষ্ঠানটির ছিল বহুমাত্রিক

    ২০২৪ সালে শ্রী রাম মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান প্রাচীন শাস্ত্র এবং বৈদিক নির্দেশাবলী কঠোরভাবে পালন করে সম্পন্ন হয়েছিল। ভগবান শ্রী রামকে (Ayodhya Ram Mandir) আনুষ্ঠানিকভাবে গর্ভগৃহে অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল। ভক্তদেরকে শ্রী রাম লালার সঙ্গে সরাসরি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করে দেয়। প্রাণ প্রতিষ্ঠার হিন্দুধর্মে গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে এই আচারের মাধ্যমে মূর্তির মধ্যে ঐশ্বরিক চেতনা জাগ্রত হয়, যা ভক্তদের (Pran Pratishtha Anniversary) আধ্যাত্মিক সংযোগ এবং ঐশ্বরিক কৃপা অনুভব করতে সক্ষম করে।

    শ্রী রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা ছিল অনুষ্ঠানটির ছিল বহুমাত্রিক তাৎপর্য:

    • ধর্মীয় তাৎপর্য: এটি মন্দিরের আধ্যাত্মিক ভিত্তি সম্পূর্ণ হয়েছে, সনাতন ঐতিহ্য অনুসারে পূর্ণাঙ্গ পূজা পরিচালনার পথ খুলে দিয়েছে।
    • সাংস্কৃতিক তাৎপর্য: এটি ভারতের প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানগুলিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সহস্রাব্দ-প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
    • সভ্যতার তাৎপর্য: এটি ভারতীয় সভ্যতার সহনশীলতার প্রতীক, যা ঐতিহাসিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার বিশ্বাস এবং পরিচয়কে ধরে রেখেছিল।

    ভক্তদের জন্য, প্রাণ প্রতিষ্ঠা প্রতীকী অভিনয় নয়; এটি মানব ও ঐশ্বরিকতার মধ্যে মিলনের এক গভীর মুহূর্ত।

    শুদ্ধিকরণ, অভিষেক, মন্ত্রপাঠ

    রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানটি আচারের এক সুচিন্তিতভাবে কাঠামোগত ক্রম অনুসরণ করা হয়েছিল।

    বিগ্রহের শুদ্ধিকরণ: ভগবান শ্রী রামের বিগ্রহকে পবিত্র জল, পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু এবং চিনির মিশ্রণ) এবং বৈদিক মন্ত্র ব্যবহার করে আনুষ্ঠানিকভাবে শুদ্ধ করা হয়েছিল। এই পদক্ষেপটি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি নির্দেশ করে।

    অভিষেক: দেবতাকে গঙ্গা জল এবং অন্যান্য পবিত্র পদার্থ দিয়ে স্নান করানো হয়েছিল, যা ঐশ্বরিক পবিত্রতা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের (Pran Pratishtha Anniversary) প্রতীক।

    মন্ত্র পাঠ এবং যজ্ঞ: বৈদিক পণ্ডিতরা বিস্তৃত যজ্ঞ সম্পাদন করেছিলেন, ঐশ্বরিক শক্তি এবং আশীর্বাদ আহ্বান করার জন্য শক্তিশালী মন্ত্র জপ করার সময় পবিত্র অগ্নিতে নৈবেদ্য প্রদান করেছিলেন।

    মূল প্রাণ প্রতিষ্ঠা: এই কেন্দ্রীয় আচারটিতে শাস্ত্রীয় পদ্ধতি অনুসারে বিদ্বান পুরোহিত এবং সাধুদের দ্বারা কঠোরভাবে পরিচালিত মূর্তির মধ্যে প্রতীকীভাবে প্রাণ শক্তি সঞ্চালন জড়িত ছিল।

    গর্ভগৃহে স্থাপন: প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর, আরতি, ভজন এবং ভক্তিমূলক স্তোত্রের মাধ্যমে বিগ্রহকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ীভাবে গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল।

    প্রতিটি পদক্ষেপই নিয়ম, পবিত্রতা এবং শ্রদ্ধার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এগুলি আচারের গভীরতা এবং তাৎপর্যকে প্রতিফলিত করে।

    শ্রী রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠার (Pran Pratishtha Anniversary) প্রভাব সুদূরপ্রসারী

    • ধর্মীয় প্রভাব: বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের জন্য, অনুষ্ঠানটি সম্মিলিত বিশ্বাস এবং ভক্তিকে শক্তিশালী করেছে, ধর্ম এবং আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলার উপর আস্থা জোরদার করেছে।
    • সাংস্কৃতিক প্রভাব: এই ঘটনাটি ভারতের জীবন্ত ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে, তরুণ প্রজন্মকে রামায়ণ-ভিত্তিক আচার, মূল্যবোধ এবং সভ্যতার আখ্যানগুলির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
    • সামাজিক ঐক্য: মন্দিরটি একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা অঞ্চল, জাতি এবং ভাষাগত পটভূমি নির্বিশেষে ভক্তদের আকর্ষণ করছে, একীভূত আধ্যাত্মিক পরিচয়কে উৎসাহিত করছে।

    এছাড়াও, অযোধ্যা ধর্মীয় পর্যটন (Ayodhya Ram Mandir), অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পুনর্জাগরণ দেখছে, যা আঞ্চলিক বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক দৃশ্যমানতায় অবদান রাখছে।

    রামরাজ্যের মূল নীতি

    রাম রাজ্যের ধারণা ভারতীয় দার্শনিক চিন্তাধারায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। রামায়ণে ন্যায়বিচার, নৈতিক শাসন এবং সম্মিলিত কল্যাণের যুগ হিসাবে বর্ণিত, রাম রাজ্য কোনো ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্র না হয়ে একটি আদর্শ সামাজিক শৃঙ্খলাকে প্রতিনিধিত্ব করে। রাম রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত মূল নীতিগুলির মধ্যে রয়েছে:

    • ন্যায়বিচার এবং সমতা: সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সাথে ন্যায্য আচরণ।
    • ধর্মের প্রাধান্য: নৈতিক এবং নীতিগত মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত শাসন।
    • সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ: সামাজিক ঐক্যের সাথে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।
    • পরিবেশগত ভারসাম্য: প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সুস্থির জীবনযাপন।
    • মানবিক মর্যাদা: ভয়, ক্ষুধা এবং শোষণের অনুপস্থিতি।

    তুলসীদাস, রামচরিতমানসে, এই আদর্শ সমাজকে দুঃখ, ভয়, রোগ এবং বৈষম্যমুক্ত হিসাবে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন—যা একটি ঐতিহাসিক দাবি না হয়ে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

    আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষাকে সামাজিক রূপ

    পরিশেষে, শ্রী রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করে। প্রাচীন বিশ্বাসকে আধুনিক শাসনের সঙ্গে আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষাকে সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। মূল ভাব ভক্তির মধ্যে নিহিত হলেও, এর বৃহত্তর বার্তাটি নৈতিক জীবনযাপন, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে।

    অযোধ্যার গর্ভগৃহে ভক্তরা প্রার্থনা করার সময়, মন্দিরের কেবল উপাসনার স্থান হিসাবেই নয়, ভারতীয় সভ্যতার একটি জীবন্ত প্রতীক হিসাবেও কাজ করে। এই যাত্রা ঐতিহ্য এবং আধুনিকতা, বিশ্বাস এবং যুক্তি, ব্যক্তিগত ভক্তি এবং সম্মিলিত কল্যাণের মধ্যে সমন্বয়ের আদর্শে পরিপূর্ণ।

  • Amit Shah: ‘‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে’’, আশ্বাস অমিত শাহর

    Amit Shah: ‘‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে’’, আশ্বাস অমিত শাহর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় এলে রাজ্যের কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে। রাজ্যে এসে স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government) এখন অনেকগুলি জনকল্যাণমূলক (WB Scheme) প্রকল্প চালায়। আর বাংলায় বিজেপি সরকার (BJP) এলেই নাকি সেই সব স্কিম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। যদিও তৃণমূলের এই দাবি উড়িয়ে শাহ জানালেন, “এটা ভুল ধারণা। আমি এখানে বলতে চাই, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরির পর একটাও স্কিম বন্ধ হবে না। শুধু তাই নয়, আমাদের ঘোষণাপত্রে যা যা স্কিম থাকবে, সেটাও বাস্তব হবে। এটা আমাদের রেকর্ড (Lakshmir Bhander)।”

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাংলায়

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর অভিযোগ, দেশের প্রায় সব রাজ্যেই আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে তার বদলে চালু রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী— যা তাঁর মতে আরও দুর্বল একটি প্রকল্প। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে শাহ বলেন, “বাংলার মানুষ কি ভিনরাজ্যে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর (Swasthya Sathi) সুবিধা পাবেন?” শুধু তাই নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দেশের অন্যান্য রাজ্য আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজের সঙ্গে নিজেদের তহবিল থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধাও যোগ করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই রকম কোনও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অর্থনীতিবিদরা মেয়েদের হাতে সরকারের এই টাকা দেওয়াকে ‘অপচয়’ বলতে রাজি নন। শাহ জানান মেয়েদের, বিশেষত দরিদ্র, প্রান্তিক মেয়েদের হাতে নগদ টাকা থাকলে তা সংসার ও সন্তানের কাজেই লাগে। বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারও নগদ পাওয়ার এই প্রকল্পে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তিকে সক্ষমতার একটি সূচক বলেই দেখে।

    আজ শহরে শাহের সফর

    দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। চড়ছে রাজনীতির পারদ। আর নতুন বছর শুরুর আগেই রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনদিনের সফরে আজ, বুধবারই শেষ দিন। আজ একাধিক কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। বিজেপি সূত্রে খবর, হোটেলে দলীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এর পাশাপাশি দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সায়েন্স সিটিতে বৈঠক রয়েছে অমিত শাহের। কলকাতার সমস্ত বুথ কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন অমিত শাহ। ইতিমধ্যেই শাহ জানিয়েছেন, আগামী বছর দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি।

LinkedIn
Share