Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Amit Shah: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতির হিসেব নিলেন শাহ, আজ সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক

    Amit Shah: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতির হিসেব নিলেন শাহ, আজ সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় এখনও পর্যন্ত মরসুমের শীতলতম দিন। ১২ ডিগ্রিতে নেমেছে তাপমাত্রা। তবে ভোটের পারদ ক্রমশ চড়ছে বাংলায়। তিনদিনের সফরে সোমবারই শহরে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। পাশাপাশি মঙ্গলবার দুপুরেই সাংবাদিক বৈঠক করার কথাও আছে তাঁর। সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সব রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো ঘুঁটি সাজাচ্ছে। সেই আবহে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে এ রাজ্যের বিজেপির প্রথম সারির নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক সারলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রে খবর, ভোটের আগে রাজ্য জুড়ে পথসভা, জনসভা বা রথযাত্রার যে পরিকল্পনা রয়েছে পদ্মশিবিরের, তার প্রস্তুতি বা ভাবনা সম্পর্কে শাহ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনেছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে।

    তিন দিনের সফরে কলকাতায় শাহ

    বছরশেষে তিন দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন শাহ। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর বিমান পৌঁছোয় দমদম বিমানবন্দরে। সেখান থেকে তিনি সোজা পৌঁছে যান সল্টলেকে বিজেপির দফতরে। রাতেই সেখানে রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে একটি সাংগঠনিক বৈঠক সারেন তিনি। রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতারা ছাড়াও ওই বৈঠকে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারাও। প্রায় ঘণ্টাখানেক রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। বিজেপি সূত্রে খবর, এই বৈঠকে মূলত জনসংযোগের বিষয় আলোচনা হয়েছে। জনসংযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব কী কী পরিকল্পনা করেছেন, সেই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে— সেই সব সম্পর্কে জানতে চান শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সেই হিসেবই তুলে ধরেন তুলে ধরেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবারের বৈঠক মূলত ছিল রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বিষয়ে। এ ছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জেনেছেন শাহ।

    রথযাত্রার পরিকল্পনা রাজ্যে

    রাজ্যে ভোটের দামামা বাজার অনেক আগে থেকেই জনসংযোগের দিকে মনোনিবেশ করেছে রাজ্য বিজেপি। সদস্য সংগ্রহ থেকে মণ্ডলে মণ্ডলে পথসভা করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির কাজ করছে তারা। সূত্রের খবর, সেই সব বিষয়ে খোঁজখবর নেন শাহ। কোন কোন মণ্ডলে পথসভা হয়েছে, কাদের ডাকা হয়েছে, কারা এসেছিলেন, কেমন প্রতিক্রিয়া— এমন নানা প্রশ্নের উত্তর রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের থেকে জেনে নিতে চান শাহ। জনসংযোগ হিসেবে এ রাজ্যে রথযাত্রারও আয়োজন করবে বিজেপি। পাঁচ দিক থেকে রথ এসে জড়ো হবে এক জায়গায়। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পর্কেও শাহ জেনেছেন।

    মঙ্গলবার দলের কোর গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক

    মঙ্গলবার দলের কোর গ্রুপের বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক ও কলকাতার দলের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর মত বিনিময় হবে বলেও এক্স হ্যান্ডলে লেখেন শাহ। শাহর নেতৃত্বে রাতের বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদাররা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও। রাজ্য নেতারা দলের সংগঠনিক প্রস্তুতি, প্রচার ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন শাহকে। সরকার গঠন হচ্ছেই, বৈঠকে জানান প্রত্যয়ী শাহ। প্রচারে কোন বিষয় জোর দিতে হবে সেটা ঠিক করে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশ, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি যেমন রয়েছে তেমনই শিল্প কৃষি, সড়ক পরিবহন, মহিলাদের ক্ষমতায়নের মতো বিকল্প উন্নয়নের মডেল প্রচারে আনার কথা বলেছেন বলে খবর। আজ মধ্যাহ্নভোজনের পর হোটেলে নির্দিষ্ট কয়েকজন শীর্ষনেতার সঙ্গেও বৈঠক করার কথা।

    সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে

    মঙ্গলবার বিকেলে সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন অমিত শাহ। কেশব ভবনে হবে সেই বৈঠক। এর আগেও একাধিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে এবং প্রচারের অভিমুখ নির্ধারণে নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জন‍্য আলাদা করে সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক আগে কখনও করেননি তিনি। এবার নির্বাচনী প্রচারে সর্বাত্মক ভাবে ঝাঁপানোর আগে সংঘের সঙ্গে সমন্বয় সেরে নিতে চাইছেন তিনি। শাহের কর্মসূচিতে সংঘের সঙ্গে এই বিশেষ বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। কাল বুধবার সায়েন্স সিটিতে কলকাতা মহানগরীর মণ্ডল, জোন, জেলা এবং রাজ্যস্তরের নেতৃত্বদের নিয়ে সভা করবেন শাহ। তার আগে যাবেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে।

     

     

     

     

     

  • Khaleda Zia: প্রয়াত খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেমন ছিল ভারতের সম্পর্ক?

    Khaleda Zia: প্রয়াত খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেমন ছিল ভারতের সম্পর্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি-এর চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮০। অশীতিপর বিএনপি নেত্রীর শারীরিক পরিস্থিতি গত কয়েক দিন ধরেই সঙ্কটজনক ছিল। রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে সিসিইউ-তে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলাদেশে।

    বাংলাদেশ প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী

    শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসাবে যেমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন হাসিনা, তেমনই খালেদার পরিচিতি ছিল জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসাবে। স্বামীর মৃত্যুর পর অবশ্য নিজেই নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন খালেদা। হাল ধরেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি)-র। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা। তাঁর কিডনির সমস্যা অনেক পুরনো। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্টের কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরীক্ষার পর ফুসফুসে সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। সূত্রের খবর, বয়সজনিত কারণে পরিস্থিতি অনেক জটিল হয়ে উঠেছিল। কারণ, তাঁর শরীরে আগে থেকেই একাধিক সমস্যা ছিল। একটির চিকিৎসা করতে গেলে অন্য রোগের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। কিডনির কার্যকারিতাও অনেকটা কমে গিয়েছিল খালেদার।

    ছোটবেলায় খালেদা

    ১৯৪৫ সালের ১৫ অগাস্ট দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন খালেদা। নাম ছিল খালেদা খানম পুতুল। তাঁর বাবা জনাব ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। তাঁরা তিন বোন এবং দুই ভাই। জনাব ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। খালেদা একদম ছোট বয়সে মিশন স্কুলে পড়াশোনা করেন। ৫ বছরেই সেখানে ভর্তি হন। এরপর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করেন ১৯৬০ সালে। সেই বছরই তাঁর বিয়ে হয় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। তখনই তাঁর নাম হয় খালেদা জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। পরবর্তী সময় তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।

    স্বামীর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ

    ১৯৮১ সালে খালেদার জীবন এক কঠিন সময় আসে। সেই বছর ৩০ মে সামরিক অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান জিয়াউর রহমান। এরপরই খালেদার রাজনীতিতে প্রবেশ। তিনি ১৯৮২ সালে বিএনপি-তে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। এরপরই তাঁর জীবন নতুন মোড় নেয়। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনের জেরে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নেন তিনি।

    ১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী

    সালটা ছিল ১৯৯১। সেই বছরই প্রথমবারের জন্য নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। তারপর আবার ১৯৯৬ সালে তাঁর মাথায় চাপে একই দায়িত্ব। তবে সেই দফায় রাজনৈতিক চাপে তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এরপর আবার তিনি ২০০১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব সামলেছেন। তবে ২০০৭ সাল থেকে খালেদা জিয়ার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। এই সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ১ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তাঁকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এই সময় তিনি এক বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জিয়াকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী এবং বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্ব খালেদা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হাত ধরেই জমি শক্ত করেছিল তাঁর দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)। তাঁর আমলেই মহাশক্তিশালী হয়ে ওঠে জামাত-ই-ইসলামি-সহ অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠন। ভারতের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক যে খুব একটা মধুর ছিল না তা সবার জানা। মুজিব হত্যার পর রাজাকারদের আশ্রয় দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান। তাঁর মৃত্যুর পর একই কাজ করে গিয়েছেন খালেদা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের আমলে আরও অশান্ত হয়ে উঠেছিল ভারতের ‘সেভেন সিস্টারস’ বা ‘সাত বোন’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অশান্তির মূল কারিগর ছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জানা যায়, উত্তর–পূর্ব ভারতে আলফা, এনডিএফবি, এনএলএফটি, এটিটিএফ–এর মতো সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি সেই সময়ে অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। অভিযোগ ওঠে, ওই সংগঠনগুলির নেতাদের বেশিরভাগই আশ্রয়স্থল ছিল বাংলাদেশ। সেদেশের মাটি ব্যবহার করেই ভারতে একের পর এক হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল তারা।

    দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় খালেদার দল বিএনপি। প্রথমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন জিয়াউর পত্নি খালেদা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে এসেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে খালেদা নজর দেন কিন্তু বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। তাঁর শাসনে বাংলাদেশে মৌলবাদ চরম আকার নেয়। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, হিংসা মাত্রাছাড়া হয়ে ওঠে। যার ফলস্বরূপ পরের নির্বাচনে আওয়ামি লিগের কাছে হারের মুখ দেখতে হয় মুজিব চেতনাকে দুরমুশ করা পাকপন্থী বিএনপিকে। ক্ষমতা হারালেও বিরোধী নেত্রী হিসেবে দাপটের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ২০০১ সালে ফের ক্ষমতায় আসে তার দল। আবারও প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি। সমস্ত ক্ষমতার রাশ নিজের হাতে নিয়ে ফের শুরু হয় খালেদার দাপট। গণআন্দোলন, জনমত এবং জনপ্রিয়তাকে ভিত্তি করে ক্ষমতায় এলেও অচিরেই তাঁর শাসনে অরাজকতা ও দুর্নীতি ভয়াবহ আকার নেয়। সাম্প্রদায়িক হিংসা ব্যাপক বাড়ে বাংলাদেশে। মৌলবাদ ও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাও লাগামছাড়া আকার নেয়। তার মেয়াদকালে দুর্নীতির সূচকে (২০০১-২০০৫) বাংলাদেশ টানা পাঁচ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে উঠে আসে।

     

     

     

     

     

  • Daily Horoscope 29 December 2025: শত্রুভয় কাটাতে পারবেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 29 December 2025: শত্রুভয় কাটাতে পারবেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) যে কোনও কাজে সুনাম পেতে পারেন।

    ২) ব্যবসায় সহকর্মীর দ্বারা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) দিনটি ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে।

    বৃষ

    ১) স্ত্রীর কারণে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে।

    ২) কোনও ঝুঁকিপ্রবণ কাজ করতে হতে পরে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মিথুন

    ১) প্রিয়জনের সঙ্গে বিবাদ নিয়ে চিন্তা হতে পারে।

    ২) গরিব মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন।

    ৩) ধর্মস্থানে যেতে পারেন।

    কর্কট

    ১) শত্রুভয় কাটাতে পারবেন।

    ২) ব্যবসায় ফল নিয়ে চিন্তা থাকবে।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে আরও বেশি।

    সিংহ

    ১) কাজের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা থাকবে।

    ২) ব্যবসার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকুন, বুদ্ধিভ্রংশ ঘটতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    কন্যা

    ১) বাড়িতে অশান্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

    ২) আপনার বক্তব্য সকলের মন জয় করতে পারবে না।

    ৩) বিবাদে জড়াবেন না।

    তুলা

    ১) আর্থিক টানাটানির যোগ।

    ২) কর্মস্থলে পদন্নোতির যোগ রয়েছে।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    বৃশ্চিক

    ১) কোনও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করাই ভাল হবে।

    ২) ভ্রমণে গেলে সমস্যা হতে পারে।

    ৩) সতর্কতা অবলম্বন করুন সব কাজে।

    ধনু

    ১) অতিরিক্ত বিলাসিতার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ২) গুরুজনদের উপদেশে কর্মে উন্নতি।

    ৩) অলসতা ত্যাগ করুন।

    মকর

    ১) নিজের ভুল সংশোধন করার ফলে ব্যবসায় উন্নতি ও দারুণ অর্থপ্রাপ্তির যোগ।

    ২) গুরুজনের শরীর নিয়ে চিন্তা থাকবে।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

    কুম্ভ

    ১) কাজের চাপ বাড়তে পারে।

    ২) ব্যবসায় শুভ ইঙ্গিত।

    ৩) বড়দের কথা মেনে চলুন।

    মীন

    ১) সহকর্মীরা ক্ষোভপ্রকাশ করায় মানসিক চাপ বাড়বে।

    ২) প্রেমে একটু কষ্ট বাড়তে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Bangladesh: পাঁচটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ! সংখ্যালঘুদের ওপর ফের আক্রমণ বাংলাদেশে

    Bangladesh: পাঁচটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ! সংখ্যালঘুদের ওপর ফের আক্রমণ বাংলাদেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) মুসলিম-প্রধান এলাকা পিরোজপুর জেলার দুমড়িতলা গ্রামে একটি হিন্দু গ্রামে অন্তত পাঁচটি বাড়ি অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটিকে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনা ঘটেছে গত ২৮ ডিসেম্বর। উল্লেখ্য এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে ২৯ বছর বয়সী গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার কারণে মিথ্যা অভিযোগে একদল মুসলিম উন্মত্ত জনতা প্রথমে পিটিয়ে হত্যা করেছিল এবং এরপর তাঁর মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এই হিন্দু নির্যাতনের (Attacks On Minorities Hindu) ঘটনায় ভারতেও ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় একাধিক হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে।

    কাপড় গুঁজে আগুন লাগিয়ে দেয় (Bangladesh)

    স্থানীয় (Bangladesh) প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। কট্টরপন্থী হামলাকারীরা (Attacks On Minorities Hindu) ঘরের একটি ঘরে কাপড় গুঁজে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং এরপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত সাহা পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা। পরিবারের সদস্যরা বলেন, এই ঘটনা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তবে তাঁরা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হন নি। আগুন পরিকল্পনা করেই লাগানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করছে।

    পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, ভোরের দিকে আগুন দেখতে পেয়ে বুঝতে পারা যায় বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলযার ফলে তারা ঘরের ভেতর আটকে পড়েন। পরে দুটি পরিবারের মোট আটজন সদস্য টিনের চাল ও বাঁশের বেড়া কেটে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ঘরবাড়ি ও সমস্ত আসবাবপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এমনকি আগুনে বাড়ির পোষা প্রাণীরাও মারা গেছে।

    এই ঘটনাস্থলটি রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ইতোমধ্যে পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় লোকজন একাধিক ঘরে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

    আন্তর্জাতিক সংস্থার দাবি

    হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ (Bangladesh) মাইনরিটিজ (HRCBM) জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে হিন্দু সংখ্যালঘুদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অন্তত ৭১টি ঘটনার তথ্য তারা সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনা চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ, খুলনা, কুমিল্লা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিলেটসহ ৩০টিরও বেশি জেলায় নথিভুক্ত হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এসব ঘটনার বিস্তার ও পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ধর্মীয় অভিযোগকে ব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।  

    পাকিস্তানের সঙ্গে মিত্রতা ইউনূসের

    প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার এই দক্ষিণ এশীয় দেশটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ক্রমশ ধর্মীয় রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Bangladesh) ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশটি একটি অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে উগ্র ইসলামপন্থীদের উত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার মুছে ফেলার প্রচেষ্টা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে পাকিস্তানের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অথচ এই পাকিস্তানই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যাপক নির্যাতন (Attacks On Minorities Hindu) ও হত্যালীলা চালিয়েছিল।

    চরম হিন্দু নির্যাতন!

    বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক পরিসরে নিয়মিত ভারতবিরোধী বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, যার মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পর্কিত উসকানিমূলক মন্তব্যও রয়েছে। এসব বক্তব্যের সূত্রপাত হয় মুহাম্মদ ইউনূসের ওই অঞ্চল নিয়ে করা এক মন্তব্য থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন উগ্র গোষ্ঠী এই ভারতবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আড়ালে কট্টর মৌলবাদীরা রাজত্ব করছে।

    বাংলাদেশ যখন ইউনূস সরকারের অধীনে নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন বিচ্ছিন্ন হলেও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে, যা মানবাধিকার সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ী শহরে আরেক হিন্দু ব্যক্তি অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাটকে উন্মত্ত জনতা হত্যা করে। তবে বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক গুরুতর মামলা ছিল এবং ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। আসলে বাংলাদেশে এখন হিংস্রতা (Attacks On Minorities Hindu) চরম সীমায়।

  • Bihar: বিহারের মুঙ্গেরে পুলিশের সামনে অস্ত্রসহ ৩ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণ

    Bihar: বিহারের মুঙ্গেরে পুলিশের সামনে অস্ত্রসহ ৩ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের মুঙ্গের (Bihar) জেলায় ২৮ ডিসেম্বর, রবিবার তিনজন কট্টর মাওবাদী (Hardcore Maoists) সদস্য পুলিশের সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। মুঙ্গের জেলার খড়াগপুরে একটি কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বিহার পুলিশের ডিজিপি বিনয় কুমার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হয়।

    মাথার দাম ছিল ৩ লক্ষ টাকা (Bihar)

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী নকশালনেতাদের (Hardcore Maoists) মধ্যে নারায়ণ কোদা ও বাহাদুর কোদা—উভয়েই নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের সাব-জোনাল (Bihar) কমান্ডার। রাজ্য সরকার তাদের প্রত্যেকের মাথার দাম হিসেবে আলাদাভাবে ৩ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। তৃতীয় আত্মসমর্পণকারী হলেন বিনোদ কোদা। নারায়ণ ও বাহাদুর মঙ্গের জেলার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। বিনোদ কোদা লখিসরাই জেলার বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা রয়েছে। আত্মসমর্পণের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সরঞ্জাম জমা করেছে। এর মধ্যে ছিল দুটি ইনসাস রাইফেল, চারটি এসএলআর, ১০টি ওয়াকিটকি এবং প্রায় ৫০০ রাউন্ড জীবিত কার্তুজ।

    সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপে সাড়া

    বিহার পুলিশ (Bihar) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর যৌথ অভিযান এবং বিহার সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির ইতিবাচক প্রভাবেই এই আত্মসমর্পণ সম্ভব হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা মাওবাদীদের হিংসতার (Hardcore Maoists) পথ পরিত্যাগ করে মূলধারার সমাজে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি নীতি অনুযায়ী আত্মসমর্পণকারীদের ২.৫ লক্ষ টাকা অনুদান, আগামী তিন বছরের জন্য প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে প্রশিক্ষণ সহায়তা এবং অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১.১১ লক্ষ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।

    বর্তমানে বিহার সরকার মাওবাদী বিদ্রোহ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নক্সাল কার্যকলাপ এখন শুধুমাত্র কয়েকটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সীমাবদ্ধ, যা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • National Security Cess Bill 2025: আসছে জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল! ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

    National Security Cess Bill 2025: আসছে জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল! ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল ২০২৫, যা ‘হেলথ সিকিউরিটি সেস’ নামেও পরিচিত, ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নের কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বিলের মাধ্যমে স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা ও শাসনগত সীমাবদ্ধতা সামনে আসার পর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নীতি বিশেষজ্ঞরা। এই বিলে পান মসলা, তামাকজাত দ্রব্য-সহ ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদনের উপর বিশেষ সেস আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরও স্বাস্থ্য-ক্ষতিকর পণ্যকে এর আওতায় আনতে পারবে। এই সেস থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, রোগ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হবে।

    উৎপাদন ক্ষমতা নির্ভর কর: একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ

    এই বিলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কর আরোপের ক্ষেত্রে বিক্রয় নয়, বরং উৎপাদন ক্ষমতাকে ভিত্তি ধরা। সাধারণ পরোক্ষ কর যেখানে বিক্রয়ের উপর নির্ভরশীল, সেখানে এই সেস ধার্য হবে উৎপাদন যন্ত্রের সক্ষমতার উপর। এর ফলে আয় লুকোনো, আংশিক রিপোর্টিং এবং খণ্ডিত বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকির প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে বলে সরকারের দাবি। যন্ত্রচালিত উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে উৎপাদিত পাউচ বা টিনের সংখ্যা এবং প্রতিটির ওজন অনুযায়ী সেস নির্ধারিত হবে। বিল অনুযায়ী, যন্ত্রচালিত প্রক্রিয়ার জন্য মাসিক সেসের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০১ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, ম্যানুয়াল উৎপাদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্ষমতার জন্য মাসিক প্রায় ১১ লক্ষ টাকা সেস ধার্য হবে।

    রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্থায়িত্ব

    এই সেস থেকে প্রাপ্ত অর্থ তহবিলে জমা হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ বাধ্যতামূলক নয়, তবুও নীতিগতভাবে ক্ষতিকর ভোগের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করার কথাই বলা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎপাদন ক্ষমতা নির্ভর কর ব্যবস্থা বিক্রয় বা চাহিদার ওঠানামার উপর কম নির্ভরশীল হওয়ায় রাজস্ব প্রবাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ধরনের পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন বিশেষভাবে কার্যকর।

    নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা

    বিলে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। উৎপাদন যন্ত্রের নিবন্ধন, ক্ষমতার ঘোষণা, নিয়মিত রিটার্ন দাখিল এবং পরিদর্শনের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা হবে। অনিয়মের ক্ষেত্রে জরিমানা, পণ্য ও যন্ত্র বাজেয়াপ্তকরণ, এমনকি গ্রেফতার ও কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আপিল ও বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ থাকায় প্রক্রিয়াগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার সংযোগ

    এই বিলের মূল দর্শন হলো—স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আর জাতীয় নিরাপত্তা আলাদা বিষয় নয়। উচ্চ রোগপ্রবণতা, জীবনধারা-জনিত অসুস্থতা এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার দেশের স্বাস্থ্য ব্যয় ও জরুরি প্রস্তুতির উপর দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করে আসছে। ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর আদায়ের মাধ্যমে সরকার সামাজিক খরচকে আংশিকভাবে অভ্যন্তরীণ করার চেষ্টা করছে। এটি একদিকে ভোক্তা আচরণের সামাজিক প্রভাবের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সেই উৎস থেকেই জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির জন্য অর্থ সংগ্রহের পথ খুলে দিচ্ছে।

    চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন

    তবে এই বিল কার্যকর হলে একাধিক প্রশ্নও উঠছে। ভবিষ্যতে কোন কোন পণ্য এর আওতায় আসবে, সংগৃহীত অর্থের ব্যবহারে কতটা স্বচ্ছতা থাকবে, এবং কঠোর নিয়ম ছোট ও ম্যানুয়াল উৎপাদকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে কি না—এসব বিষয় বাস্তবায়নের সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল ২০২৫ কেবল একটি কর নীতি নয়, বরং ভারতের নিরাপত্তা ভাবনায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্যকে জাতীয় নিরাপত্তার কেন্দ্রে আনার এই উদ্যোগের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে—এই সেস থেকে সংগৃহীত অর্থ দেশের স্বাস্থ্য সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতায় কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে তার উপর।

  • Operation Sindoor: ‘সিঁদুরে’ মেঘ!‘ভারত আমাদের বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল’, মানলেন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী

    Operation Sindoor: ‘সিঁদুরে’ মেঘ!‘ভারত আমাদের বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল’, মানলেন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) ফলে অসহায় বোধ করেছিল পাকিস্তান। আট মাস নীরবতার পর অবশেষে একথা মানল ইসলামাবাদ। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় চালানো নির্ভুল ও কৌশলগত হামলার প্রভাব স্বীকার করলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। দিলেন পরিসংখ্যানও। দাবি, সিঁদুর অভিযানের সময় টানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে ৮০টি ড্রোন হামলা করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেসে আঘাত লেগেছিল, ক্ষতি হয়েছিল পরিকাঠামোর, আহত হয়েছিলেন পাক বায়ুসেনার একাধিক জওয়ান, এ কথা প্রথমবার সরকারি ভাবে মেনে নিলেন ইশাক।

    ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮০টি ড্রোন হামলা

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, মে মাসের শুরুতে ভারত পাকিস্তানের ভিতরে একাধিক ড্রোন পাঠিয়েছিল। তাঁর দাবি, ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮০টি ড্রোন ঢুকেছিল পাকিস্তানের আকাশসীমায়। তার মধ্যে ৭৯টি তারা ভূপাতিত করতে পেরেছে বলে দাবি করলেও, একটি ড্রোন নূর খান এয়ারবেসে আছড়ে পড়ে। তাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাকিস্তান বায়ুসেনার এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। দারের কথায়, ওই ঘটনায় কয়েক জন পাক সেনা জওয়ান আহতও হন। মে মাসে ভারতের হামলায় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা এত দিন কার্যত অস্বীকারই করে এসেছে ইসলামাবাদ। কিন্তু হঠাৎ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল পাকিস্তান। প্রকাশ্যেই পুরোটা স্বীকার করল পাকিস্তান সরকার।

    ভারতের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি কার্যত স্বীকার

    উল্লেখ্য, ভারত ২০২৫ সালের ৭ মে ভোররাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এর পেছনে ছিল ২৬ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাওঁ-এ সন্ত্রাসীদের হাতে ২৬ জন নিরীহ নাগরিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ওই হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইশাক দারের এই বক্তব্য পাকিস্তানের পূর্ববর্তী অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী। এতদিন ইসলামাবাদ ভারতের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি কার্যত অস্বীকার বা খাটো করে দেখিয়ে এসেছে। কিন্তু এবার নূর খান বিমানঘাঁটিতে ক্ষতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল। তবে এই স্বীকারোক্তির মধ্যেও দার বিতর্কিত দাবি তুলতে ভোলেননি। তিনি আবারও বলেন যে, ৭ মে’র আকাশযুদ্ধে পাকিস্তান সাতটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে যার পক্ষে কোনও প্রমাণ তিনি দেননি। পাশাপাশি তিনি পুনরায় পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি আসতে পারে কেবল জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের মাধ্যমেই।

    নূর খান বিমানঘাঁটিতে পুনর্গঠনের কাজ চলছে

    সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নূর খান বিমানঘাঁটিতে পুনর্গঠনের কাজ চলছে। যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ঘাঁটিটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ মজুত থাকে। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করেনি। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নূর খান ঘাঁটিতে আঘাত হানতে ভারত সম্ভবত ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, ফরাসি তৈরি স্কাল্প (SCALP) এয়ার-লঞ্চড ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল, অথবা উভয়ই ব্যবহার করেছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ব্রহ্মোস নিক্ষেপ করা হয় ভারতীয় বায়ুসেনার সু-৩০ যুদ্ধবিমান থেকে এবং স্কাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে। সব মিলিয়ে, ইশাক দারের স্বীকারোক্তি শুধু পাকিস্তানের সরকারি অবস্থানের বড় পরিবর্তনই নয়, বরং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব যে ইসলামাবাদ গভীরভাবে অনুভব করেছে, তারও স্পষ্ট প্রমাণ।

    ভয় পেয়েছে পাকিস্তান

    ইশাক দার আরও দাবি করেন, এই সংঘর্ষ থামাতে আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও তাঁর সংযোজন, ‘আমরা কখনও যুদ্ধ চাইনি।’ নূর খান এয়ারবেস পাকিস্তান বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। রাওয়ালপিন্ডির চাকলালা এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটি কার্যত ইসলামাবাদের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই ঘাঁটির পাশাপাশি সরগোধার মুশাফ, জ্যাকবাবাদের শাহবাজ, করাচির ভোলারি, মুরিদকে ও রফিকি এয়ারবেসও ভারতীয় হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি।

    পাল্টা প্রতিক্রিয়া ভারতের

    পাকিস্তানের এই স্বীকারোক্তির পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে ভারত থেকেও। সেনাবাহিনীর প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল কনওয়ালজিৎ সিং ধিলোঁ ইশাক দারের বক্তব্যকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ইশাক দার মিথ্যা বলতেই অভ্যস্ত। তবে শেষ পর্যন্ত সত্যটাই বেরিয়ে আসে।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভি নিজেই ১৪ অগস্ট, পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে, ১৩৮ জন সেনাকে মরণোত্তর বীরত্ব পদক দেওয়ার খবর প্রকাশ করেছিল। ধিলোঁর দাবি, এই সংখ্যা থেকেই বোঝা যায়, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০-র মধ্যে। এর আগেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বীকার করেছিলেন, ৯-১০ মে রাত আড়াইটে নাগাদ সেনাপ্রধান আসিম মুনির তাঁকে ফোন করে নূর খান এয়ারবেসে হামলার কথা জানিয়েছিলেন। জুলাই মাসে তাঁর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ আরও এক ধাপ এগিয়ে জানান, ভারতের ছোড়া ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল নূর খান এয়ারবেসের দিকেই আসছিল। ইসলামাবাদের হাতে তখন মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড ছিল বোঝার জন্য, ওই ক্ষেপণাস্ত্রে কোনও নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড রয়েছে কি না।

    স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের

    এই সব দাবির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে স্যাটেলাইট ছবিও। মার্কিন সংস্থা ম্যাক্সার টেকনোলজির ১৩ মে তোলা ছবিতে নূর খান, মুশাফ, ভোলারি ও শাহবাজ; এই চারটি পাকিস্তানি এয়ারবেসে স্পষ্ট ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়। হামলার আগে ২৫ এপ্রিল এবং হামলার পরে ১০ মে তোলা ছবির তুলনায় ধ্বংসের মাত্রা চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে, ইশাক দারের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের এত দিনের বয়ানকে কার্যত উল্টে দিল বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

     

     

     

     

     

  • Magh Mela 2026: প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার প্রস্তুতি শুরু, কবে কবে অমৃত স্নান জানেন?

    Magh Mela 2026: প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার প্রস্তুতি শুরু, কবে কবে অমৃত স্নান জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের ৩-জানুয়ারি থেকে প্রয়াগরাজে (Prayagraj) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী মাঘ মেলা (Magh Mela 2026)। এই মাঘ মেলা ৩ জানুয়ারি (পৌষ পূর্ণিমা) থেকে শুরু হবে আর চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মহাশিবরাত্রি) পর্যন্ত। এক মাসব্যাপী এই ধর্মীয় সমাবেশকে ঘিরে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। মাঘ মেলার মূল আকর্ষণ পবিত্র অমৃত স্নান। গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থল ত্রিবেণী সঙ্গমে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই সময় পুণ্যস্নানে ডুব দেন। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিশ্বাস, এই স্নানের মাধ্যমে পাপমোচন ও আত্মিক শুদ্ধি লাভ হয়।

    শাহী স্নানের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলি (Magh Mela 2026)

    প্রয়াগরাজের (Prayagraj) প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মাঘ মেলা ২০২৬-এ মোট ছ’টি প্রধান স্নান তিথি রয়েছে—

    • ৩ জানুয়ারি ২০২৬ (পৌষ পূর্ণিমা): মাঘ মেলার সূচনা ও কল্পবাসের শুরু
    • ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ (মকর সংক্রান্তি): দ্বিতীয় অমৃত স্নান
    • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ (মৌনী অমাবস্যা): তৃতীয় অমৃত স্নান
    • ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ (বসন্ত পঞ্চমী): চতুর্থ অমৃত স্নান
    • ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মাঘী পূর্ণিমা): কল্পবাসীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্নান
    • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মহাশিবরাত্রি): শেষ অমৃত স্নান ও মেলার সমাপ্তি

    এই দিনগুলিতে বিপুল ভিড়ের সম্ভাবনা থাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় উত্তর প্রদেশ প্রশাসন।

    কল্পবাসের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

    মাঘ মেলার (Magh Mela 2026) অন্যতম প্রধান দিক হল কল্পবাস। পৌষ পূর্ণিমা থেকে মাঘী পূর্ণিমা পর্যন্ত একমাস ধরে বহু ভক্ত ত্রিবেণী (Prayagraj) সঙ্গমতটে অস্থায়ী কুটির বা তাঁবুতে বসবাস করেন। এই সময় তাঁরা কঠোর নিয়ম মেনে জীবনযাপন করেন – প্রতিদিন ভোরে পুণ্যস্নান, উপবাস, প্রার্থনা, বেদপাঠ ও ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নেন। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, কল্পবাস আত্মসংযম, শুদ্ধাচার এবং আত্মশুদ্ধির পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক কল্পবাসী মকর সংক্রান্তির দিন থেকে এই ব্রত শুরু করেন।

    প্রশাসনের প্রস্তুতি

    মাঘ মেলা (Magh Mela 2026) ২০২৬ ঘিরে উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের (Prayagraj) তরফে পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উল্লেখ্য, মাঘ মেলা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

  • Bangladesh Polls 2025: জামায়েতের সঙ্গে এনসিপির জোট! একাধিক বিক্ষুদ্ধ নেতার রোষ প্রকাশ্যে

    Bangladesh Polls 2025: জামায়েতের সঙ্গে এনসিপির জোট! একাধিক বিক্ষুদ্ধ নেতার রোষ প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh Polls 2025) নির্বাচনের আগে এনসিপির সঙ্গে জামায়েত ইসলামীর আসনে সমোঝতা এবং আসন ভাগাভাগি জোট চূড়ান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য গত ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে প্রতিবাদী ছাত্র জনতার বিরাট ভূমিকা ছিল। জামায়েত (Jamaat-E-Islami-NCP) এবং এনসিপির চুক্তির মাঝেই ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে দুই দলের নীতিগত কিছু বিষয়ে আবার মতান্তরও দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনায়।

    ৩০০ টি সংসদীয় আসনে জোট (Bangladesh Polls 2025)

    বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতারিত করার পর এটি প্রধান প্রথম সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Polls 2025)। এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলাম বিশেষ ভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এই দলের মধ্যে আটটি দলের জোট রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, কর্নেল আলি আহমেদের নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি। নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপি। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মলেন করে জামায়েত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ঘোষণা করে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “৩০০ টি সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থী নির্বাচনের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বাকি প্রক্রিয়া সুষ্ঠ ভাবে চূড়ান্ত করার কাজ করা হবে।” আবার অনুষ্ঠানে এনসিপি নেতাদের অনুপস্থিতি সম্পর্কে রহমান বলেন, “এনসিপির (Jamaat-E-Islami-NCP) তরফে তারা তাদের দলের কথা আমাদের স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে। নিজেরা নিজেদের সিদ্ধান্ত সংবাদ মাধ্যমে দ্রুত জানিয়ে দেবেন।”

    জামায়েত ইসলামি নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়

    তবে জামাতের এই ঘোষণা ন্যাশনাল সিটিজেট পার্টির ভেতরে গভীর বিভাজনের কথাও উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রথমে কোটা বিরোধী আন্দোলন এবং এরপর দফা এক দাবি এক হাসিনার পদত্যাগে এই এনসিপি ছাত্র নেতাদের বিরাট ভূমিকা ছিল। ফলে জামাতের সঙ্গে কিসের ভিত্তিত্বে জোট? কোন রাজনৈতিক স্বার্থকে ঠিক রাখতে রাজনৈতিক লড়াইতে জোটের (Bangladesh Polls 2025) ইঙ্গিত? এই সব একাধিক প্রশ্নের কারণে এনসিপির নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ লক্ষ করা গিয়েছে।

    এনসিপির একজন বিশিষ্ট নেত্রী তাসনিম ঘোষণা করেছেন, দলের মনোনয়ন প্রত্যাখান করবেন। আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। তিনি বলেন, “আমার ইচ্ছে ছিল আমি একটি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সংসদে প্রবেশ করবো। বর্তমান বাস্তবতার কারণে আমি কোনও নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” আরেক সিনিয়র এনসিপি নেতা সামন্ত শারমিন জোটের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামি নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়। আমি বিশ্বাস করি যে জামায়েতে ইসলামির রাজনৈতিক অবস্থান এবং আদর্শের বিবেচনায়, যেকোন সহযোগিতা এবং সমঝোতায় প্রবেশ করলে এনসিপিকে চরম মূল্য দিতে হবে। রাষ্ট্রের মূল নীতি এবং দৃষ্টিভঙ্গী জামায়েতের চিন্তার ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত। এনসিপি (Jamaat-E-Islami-NCP) ন্যায়বিচার, সংস্কার, এবং একটি গণপরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে গঠিত দল। তাই ভালো করে ভাবার সময় এসেছে।”

    আরেক মুখ তারেখ রহমান

    ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Polls 2025)। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামি লিগকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিল করেছে।

    অপর দিকে বাংলাদেশ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিএনপি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার বলেছিলেন, “১৭ বছর পর নিজের দেশে ফিরে দেশকে একটি উন্নত এবং নিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন আমরা আমাদের বুকে রাখি। গত বৃহস্পতিবার দিন ছিল আমার কাছে চিরস্মরণীয় দিন। আমাকে যে ভাবে আমার দেশবাসীরা অভ্যর্থনা জানিয়েছেন তার জন্য আমি সকলের কাছে ঋণী। দেশের জন্য একটি উজ্জ্বল রোডম্যাপ নিয়ে আমি ফিরে এসেছি। আমি ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় কাজ করবো। এটা আমার কাছে কেবল স্বপ্ন নয়, এমন একটি দেশ যেখানে শান্তি, মর্যাদাকে বিকশিত করবে মাত্র।”

  • Mohan Bhagwat: ‘বিশ্বের প্রয়োজনেই ভারত বিশ্বগুরু’, হিন্দু জীবনধারা-র আদর্শ স্থাপনের আহ্বান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘বিশ্বের প্রয়োজনেই ভারত বিশ্বগুরু’, হিন্দু জীবনধারা-র আদর্শ স্থাপনের আহ্বান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে হিন্দু সমাজকে তাঁদের আচরণ, মূল্যবোধ ও জীবনযাপনের মাধ্যমে আদর্শ স্থাপনের আহ্বান জানালেন আরএসএস প্রধান (সরসংঘচালক) ড. মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, শক্তি বা সম্পদের মাধ্যমে নয়, বরং ধর্ম, করুণা ও নিঃস্বার্থ সেবার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ‘হিন্দু জীবনধারা’-র অনুপ্রেরণাই আজ বিশ্বের প্রয়োজন। তাঁর দাবি, ভারতকে অবশ্যই আবার ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার জন্য কাজ করতে হবে, কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং এটি বিশ্বের প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সনাতন ধর্মের পুনরুত্থানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এখন এসেছে। হায়দ্রাবাদে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময়, মোহন ভাগবত এক শতাব্দী আগের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন যে প্রায় ১০০ বছর আগে, যোগী অরবিন্দ ঘোষণা করেছিলেন যে সনাতন ধর্মের পুনরুত্থান ঈশ্বরের ইচ্ছা এবং সেই পুনরুত্থানের জন্য হিন্দু রাষ্ট্রের উত্থান অপরিহার্য।

    ধর্ম থেকে বিচ্যুতি বিশ্ব সংকটের মূল কারণ

    হায়দ্রাবাদের নিকটবর্তী ভাগ্যনগরের কানহা শান্তি বনমে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সংঘ শিবির (VSS) ২০২৫-এর মঞ্চে মূল বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। পাঁচদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্তির সঙ্গে মিলিত হওয়ায় বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। ভাগবত তাঁর ভাষণে বলেন, বর্তমান বিশ্বের বহু সংকটের মূল কারণ হলো ধর্ম থেকে বিচ্যুতি। তিনি বলেন, “ধর্মকে উপেক্ষা করার ফলেই ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, চরমপন্থা বেড়েছে, ইতিহাস ভুল পথে গিয়েছে এবং করুণা হারিয়েছে।” যদিও বিশ্বজুড়ে ভারসাম্য ফেরানোর আলোচনা চলছে, তবুও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কে শুরু করবে এবং কীভাবে। কলম্বাসের ‘ডিম দাঁড় করানো’ গল্প এবং ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধা’ উপকথার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ভাবনা নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগই পরিবর্তনের সূচনা করে।

    ভারত বিশ্বগুরু, সারা বিশ্বের প্রয়োজনেই

    আরএসএস প্রধান বলেন, “সেই সময় এখন এসেছে, ১০০ বছর আগে, যখন যোগী অরবিন্দ ঘোষণা করেছিলেন যে সনাতন ধর্মের পুনরুত্থান ঈশ্বরের ইচ্ছা, এবং সনাতন ধর্মের পুনরুত্থানের জন্যই হিন্দু রাষ্ট্রের উত্থান।” ভাগবত আরও জোর দিয়ে বলেন যে ভারত, হিন্দু রাষ্ট্র, সনাতন ধর্ম এবং হিন্দুত্ব সমার্থক। “ভারত বা হিন্দু রাষ্ট্র, এবং সনাতন ধর্ম, হিন্দুত্ব সমার্থক। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমাদের এখন সেই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে… আমরা দেখছি যে ভারতে সংঘের প্রচেষ্টা এবং নিজ নিজ দেশে হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচেষ্টা একই: হিন্দু সম্প্রদায়কে সংগঠিত করা। সমগ্র বিশ্বে ধার্মিক জীবনযাপনকারী একটি সমাজের উদাহরণ স্থাপন করা, ধার্মিক জীবনযাপনকারী মানুষের উদাহরণ স্থাপন করা…” এরপর, আরএসএস প্রধান বলেন যে ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার জন্য সংঘের প্রচেষ্টা সহ বিভিন্ন ধারায় ক্রমাগত কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমাদের আবার ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার কাজ করতে হবে। ‘বিশ্বগুরু’ হওয়া আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। এটা বিশ্বের প্রয়োজন যে আমরা ‘বিশ্বগুরু’ হই। কিন্তু এটা এভাবে হয় না। এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এই কঠোর পরিশ্রম অনেক ধারা থেকে চলছে। তার মধ্যে একটি হলো সংঘ।”

    ব্যক্তি থেকেই জাতি গঠনের ভাবনা

    আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের দর্শনের কথা স্মরণ করে মোহন ভাগবত বলেন, জাতির কাজ শুরু হয় ব্যক্তিগত আত্মপরিবর্তন থেকে। তাঁর কথায়, “যাঁরা নিজের থেকে কাজ শুরু করেন, তাঁদের গড়েই তোলা হয়—তাঁরাই স্বয়ংসেবক। যাঁদের কাছে সেবাই চূড়ান্ত লক্ষ্য, তাঁরাই প্রকৃত স্বয়ংসেবক।” তিনি সেবার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেন, ভয়, বাধ্যবাধকতা, পুরস্কারের প্রত্যাশা বা স্বীকৃতির লোভ থেকে করা কাজ প্রকৃত সেবা নয়। আরএসএস-এর বিস্তার বিশ্বজুড়ে হলেও স্বয়ংসেবকেরা হিন্দু সমাজের কল্যাণ ও হিন্দু ধর্ম রক্ষার প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভাগবত জোর দিয়ে বলেন, ভারত বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে সামরিক বা অর্থনৈতিক আধিপত্যের মাধ্যমে নয়, বরং জীবনধারার উদাহরণের মাধ্যমে। তাঁর কথায়, “আমরা অন্যদের দমন করতে চাই না। আমরা আমাদের জীবনযাপনের আদর্শ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই।”

    প্রযুক্তি মানবতার প্রভু নয়, বিশ্ব কল্যাণের জন্য বিজ্ঞান

    ব্যক্তিত্ব বিকাশের ভূমিকার উপর আলোকপাত করে ভাগবত বলেন, সংঘ ব্যক্তিদের বিকাশ এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য তাদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে স্থাপন করার উপর মনোযোগ দেয়। তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপর মনোযোগ দিয়ে, আমরা মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ করি এবং সমাজে পরিবর্তন আনার জন্য তাদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে পাঠাই। আজ সর্বত্র তাদের কাজের প্রশংসা করা হয়। তারা সমাজের বিশ্বাস অর্জন করে।” প্রযুক্তির প্রভাব তুলে ধরে আরএসএস প্রধান জোর দিয়ে বলেন যে সোশ্যাল মিডিয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অগ্রগতি অনিবার্য হলেও, মানবতাকে নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। তিনি বলেন, “আজ আমাদের বিশ্বকে দেখাতে হবে যে প্রযুক্তি আসবে, সোশ্যাল মিডিয়া থাকবে, এআই আসবে, সবকিছু আসবে। কিন্তু প্রযুক্তির কোনো নেতিবাচক পরিণতি হবে না। প্রযুক্তি মানবতার প্রভু হয়ে উঠবে না। মানবতা প্রযুক্তির প্রভু থাকবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব কল্যাণের জন্য প্রযুক্তিকে পথ দেখাবে এবং এর অপব্যবহার রোধ করবে। তিনি আরও বলেন, “মানুষের বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশ্বের কল্যাণের দিকে পরিচালিত করবে। এটি আসুরিক প্রবৃত্তির দিকে যাবে না। এটি দৈব প্রবৃত্তির দিকে যাবে। এটা কীভাবে হবে? আমরা এটা কীভাবে করব? আমাদের কাজের মাধ্যমে এটা প্রমাণ করতে হবে। আমাদের জীবনযাপনের মাধ্যমে এটা দেখাতে হবে।”

    কৃষ্ণা এল্লার বক্তব্য

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ভারত বায়োটেক-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষ্ণা এল্লা ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। মোহন ভাগবতকে “সত্যের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের গণতন্ত্র কেবল প্রতিষ্ঠান নির্ভর নয়। তিনি বলেন, “ভারত গণতন্ত্রের চেয়েও বড়। এখানে মুক্তভাবে কথা বলা যায়, বিতর্ক করা যায়, তবুও ধর্মের ভিত্তিতে স্থির থাকা যায়।” ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের ইতিহাস অন্য দেশ আক্রমণ করতে শেখায় না। ভারতের ইতিহাস সাংস্কৃতিক গভীরতা ও সভ্যতার বিকাশকে ধরে রাখে।

LinkedIn
Share