Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Fast Breeder Reactor: ব্যর্থ হয় আমেরিকা, ডাহা ফেল ফ্রান্স-জাপানও! পরমাণু প্রযুক্তিতে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন ভারতের

    Fast Breeder Reactor: ব্যর্থ হয় আমেরিকা, ডাহা ফেল ফ্রান্স-জাপানও! পরমাণু প্রযুক্তিতে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বে পরমাণু শক্তি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড়সড় সাফল্য অর্জন করল ভারত। তামিলনাড়ুর কালপাক্কমে (KNPP) ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) প্রথম বারের মতো ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। যার অর্থ রিঅ্যাক্টরে স্বনির্ভর পারমাণবিক চেন বিক্রিয়া সফলভাবে শুরু হয়েছে।

    এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ…

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই অর্জনের ফলে ভারত এমন একটি সক্ষমতা অর্জন করল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং জাপানের মতো উন্নত দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারেনি। বর্তমানে বাণিজ্যিক স্তরে শুধুমাত্র রাশিয়াই এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করছে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) জানিয়েছে, “সম্পূর্ণরূপে চালু হলে ভারত রাশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হবে, যারা বাণিজ্যিকভাবে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর পরিচালনা করবে।”

    কী এই ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর?

    সাধারণ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর যেখানে ইউরেনিয়াম জ্বালানি ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে, সেখানে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (Fast Breeder Reactor) ব্যবহার করা জ্বালানির থেকেও বেশি পরিমাণে নতুন জ্বালানি উৎপাদন করতে সক্ষম। এই ‘ফিসাইল’ জ্বালানি ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগে। এই রিঅ্যাক্টরে মিশ্র অক্সাইড (MOX) জ্বালানি ব্যবহার করা হয় এবং তরল সোডিয়াম কুল্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এখন এটি নিম্ন-ক্ষমতার বিভিন্ন পরীক্ষা পর্যায় অতিক্রম করবে, এরপর পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

    ভারতের জন্য কেন তা তাৎপর্যপূর্ণ?

    ভারতের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশে ইউরেনিয়ামের মজুত সীমিত হলেও থোরিয়ামের ভাণ্ডার বিপুল। ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর উপকূলে এই থোরিয়াম মজুত রয়েছে। কালপাক্কমের এই রিঅ্যাক্টরটি সীমিত ইউরেনিয়াম ও বিপুল থোরিয়ামের বাস্তবতাকে একত্রে কাজে লাগায়। প্রথম পর্যায়ে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে শুরু হলেও, পরবর্তী পর্যায়ে থোরিয়াম-ভিত্তিক জ্বালানিতে এটি চালানো সম্ভব হবে। এর ফলে ইউরেনিয়াম আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে। এই রিঅ্যাক্টর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই করবে না, বরং যতটা জ্বালানি ব্যবহার করবে তার থেকেও বেশি জ্বালানি তৈরি করতে পারবে। ফলে ভবিষ্যতে থোরিয়াম ব্যবহার করে শতাব্দীর পর শতাব্দী বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ খুলে যাবে। এটি যেমন বৈজ্ঞানিক সাফল্য, তেমনই একটি কৌশলগত জয়।

    তিন-পর্যায়ের পরমাণু কর্মসূচিতে বড় অগ্রগতি

    এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারত তার তিন-পর্যায়ের পরমাণু কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল। এই কর্মসূচির ধারণা প্রথম দেন ভারতের পরমাণু কর্মসূচির জনক ডক্টর হোমি জেহাঙ্গির ভাবা।

    • ● প্রথম পর্যায়: প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্লুটোনিয়াম তৈরি
    • ● দ্বিতীয় পর্যায়: ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরে সেই প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করে আরও জ্বালানি উৎপাদন
    • ● তৃতীয় পর্যায়: থোরিয়াম ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম-২৩৩ তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন

    কেন ব্যর্থ হয় আমেরিকা ও ফ্রান্স?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬০-এর দশকে ‘ফার্মি-১’ রিঅ্যাক্টর তৈরি করলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও দুর্ঘটনার কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়। পরে ‘ক্লিঞ্চ রিভার’ প্রকল্পও ব্যয়বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা সমস্যার জন্য বাতিল করা হয়। ফ্রান্সের ‘সুপারফেনিক্স’ রিঅ্যাক্টরও সোডিয়াম লিক, আগুন ও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে দীর্ঘদিন টেকেনি এবং ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। জাপানের ‘মনজু’ রিঅ্যাক্টরও একাধিক দুর্ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা

    বর্তমানে ভারত প্রায় ৮ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সরকারের লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ১০০ গিগাওয়াটে পৌঁছানো। ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর এই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কারণ এটি আমদানিকৃত ইউরেনিয়াম ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে। এটি স্থিতিশীল ও পরিষ্কার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা থেকেও ভারতকে সুরক্ষা দেবে। কালপাক্কমের এই রিঅ্যাক্টর প্রায় ৩০ লক্ষ পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কালপাক্কমের ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি স্বনির্ভরতা এবং কৌশলগত স্বাধীনতার ভিত্তি মজবুত করবে। দশকের পর দশক গবেষণা, বিনিয়োগ এবং ধৈর্যের ফল এই সাফল্য এসেছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য গর্বের মুহূর্ত।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সাফল্যকে ভারতের অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির “একটি নির্ধারক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি ভারতের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার প্রতিফলন এবং থোরিয়াম ব্যবহারের পথে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ভারত, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ভারতীয় বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের এই সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা বলেছে, “এই রিঅ্যাক্টর কম জ্বালানি ব্যবহার করে এবং একটি ক্লোজড ফুয়েল সাইকেলের পথে দিশা দেখাবে।”

  • BJP Manifesto: ‘‘ভয়রহিত আর ভরসাযুক্ত বাংলা গড়া’’-র ডাক, বিজেপির নির্বাচনী “সংকল্প পত্র” প্রকাশ অমিত শাহের

    BJP Manifesto: ‘‘ভয়রহিত আর ভরসাযুক্ত বাংলা গড়া’’-র ডাক, বিজেপির নির্বাচনী “সংকল্প পত্র” প্রকাশ অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় আসন্ন বিধানসভা ভোট উপলক্ষে বিজেপির নির্বাচনী “সংকল্প পত্র” (BJP Manifesto) প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার নিউটাউনের একটি হোটেল থেকে বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করলেন শাহ (Amit Shah)। ইস্তাহারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভয় নয় ভরসা’। শাহ বলেন, এই সংকল্প পত্র বাংলার সমাজের “প্রতিটি অংশের” প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ও জনবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনকে “অন্ধকারের যুগ” আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ এখন ভীত ও পরিবর্তন চাইছে।

    কারা কারা প্রকাশ করলেন সংকল্প পত্র

    ভোটের মুখে ফের রাজ্য সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ‘অপশাসন’-এর চার্জশিট প্রকাশ করতে এসেছিলেন। পরে এসেছিলেন ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার রোড শো-তেও। এবার প্রকাশ করলেন নির্বাচনী সংকল্প পত্র। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, দুই বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর, বিজেপি নেতা তাপস রায়, বিজেপি মহিলা মোর্চা সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, প্রমুখ। ইস্তাহার তৈরির জন্য বিজেপি যে কমিটি গড়েছিল, তার সভাপতিত্ব করেন তাপস রায়।

    প্রত্যাশা পূরণ হয়নি

    সভামঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এদিন অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, গত ১৫ বছর বাংলার মানুষের জন্য ‘কালরাত্রি’ হিসেবে কেটেছে। দীর্ঘ দিনের বাম শাসনের পর পরিবর্তনের আশায় মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুযোগ দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “গত ১৫ বছর বাংলার মানুষের জন্য কালরাত্রি হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ কমিউনিস্ট অপশাসনের পর মানুষ পরিবর্তনের আশায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং রাজ্যে অপশাসন, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক হিংসা বেড়েছে। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ এখন নতুন পরিবর্তন চাইছে এবং বিজেপি গত ১০ বছরে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে।”

    ভরসাযুক্ত বাংলা গড়ার ডাক

    অনুষ্ঠানে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন—‘‘ভয়রহিত বাংলা গড়া আর ভরসাযুক্ত বাংলা গড়া— আমাদের সঙ্কল্পপত্রের মূল ভাব এটাই। গত প্রায় পাঁচ দশক বাংলাকে শুধু নীচে নামানো হয়েছে। আমরা বাংলায় আবার সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ আনব। দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য বানাব। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অনুপ্রবেশ মুক্তি, শিল্পোন্নয়ন, কৃষকের উন্নয়নে জোর দেবে নতুন সরকার।’’ তাঁর কথায়, ‘‘এই ইস্তাহার পশ্চিমবঙ্গের ভীত মহিলা, যুবদের আস্থা জোগাবে। নরেন্দ্র মোদির বিকশিত ভারতের ‘রোড ম্যাপ’ রাজ্যের জনগণের সামনে রাখবে।’’

    নববর্ষের দিনে প্রচার যাত্রা শুরু

    ‘‘বাঙালি নববর্ষের দিন সঙ্কল্পের সঙ্গে আমাদের প্রচারের যাত্রা শুরু হবে। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের দুঃস্বপ্ন ঘুচবে। আগামী পাঁচ বছরে বিজেপি সরকার এ রাজ্যের বিকাশের রাস্তা খুলবে। মমতা দিদি ভয়, ভ্রষ্টাচার প্রতিস্থাপিত করেছেন। এটা আইনের শাসনের ভরসা। রোজগারের ভরসা। সোনার বাংলা তৈরি করব আমরা। আমার বিশ্বাস, বাংলার জনতা আমাদের এখানে পাঁচ বছরের জন্য সরকার তৈরির সুযোগ দেবেন। আমরা সেই ভরসার ভিত্তিতে রাজ্যের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করব।’’

    রাজ্যে এ দফায় শাহের কর্মসূচি

    সংকল্পপত্র প্রকাশের (BJP Manifesto) পর জেলায় নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিম মেদিনীপুরে যাবেন শাহ। সেখানে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। এদিন ডেবরায় একটি জনসভা এবং খড়্গপুরে একটি রোড শো করার কথা রয়েছে। শনিবার শাহের কর্মসূচি রয়েছে বাঁকুড়ার ছাতনা এবং পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে। যেখানে ভোট প্রচারের বার্তা তুলে ধরবেন অমিত শাহ। পাশাপাশি, সাংগঠনিক বৈঠকও করার কথা তাঁর। অন্যদিকে, শনিবার ফের পশ্চিমবঙ্গে আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওইদিন কৃষ্ণনগর, জিয়াগঞ্জ ও কুশমণ্ডিতে সভা করবেন তিনি।

  • Assembly Election 2026: ৯১ শতাংশ ভোট পুদুচেরিতে! গণতন্ত্রের উৎসবে পিছিয়ে নেই অসম ও কেরলও

    Assembly Election 2026: ৯১ শতাংশ ভোট পুদুচেরিতে! গণতন্ত্রের উৎসবে পিছিয়ে নেই অসম ও কেরলও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল অসম, কেরল ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) ভোটপর্ব। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটের উপর ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে সমাপ্ত হল ভোটপর্ব। উৎসবের আবহেই ভোট (Assembly Election) হল এই রাজ্যগুলিতে। ধরা পড়ছে তার খণ্ড খণ্ড চিত্র। কোথাও দেখা গেল, বিয়ের সাজেই ভোট দিতে চলে এসেছেন কনে। আবার কোথাও স্টার প্রার্থীকে ঘিরে সেলফি তোলার ভিড়। অসমে ভোট দিলেন প্রয়াত গায়ক জুবিন গর্গের স্ত্রী গরিমা গর্গও। দুই রাজ্য অসম ও কেরল এবং কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতে ব্যাপক ভোটদানের হার নজর কেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ভোটারদের অংশগ্রহণ আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের “অটুট আস্থা”-র প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কোথায় কত শতাংশ ভোট

    পুদুচেরিতে সর্বোচ্চ ৯১.২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা এর আগে ২০১১ সালের ৮৬.২ শতাংশের রেকর্ড ভেঙেছে। অসমে ভোটদান হয়েছে ৮৫.৮ শতাংশ—২০১৬ সালের ৮৪.৭ শতাংশের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে কেরলে ৭৮.২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ১৯৮৭ সালের পর সর্বোচ্চ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই ভোটদানকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, “এটি শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।” নির্বাচন কমিশনের একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision) এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের ফলে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট নাম বাদ পড়ায় মোট ভোটার সংখ্যা কিছুটা কমলেও ভোটদানের হার বেড়েছে।

    অসমে সংখ্যালঘু এলাকায় ভোটের জোয়ার

    অসমে ভোটদানের চিত্র সমান নয়। মুসলিম অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। দরং জেলার দলগাঁও কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৯৪.৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরকম প্রায় ১৫টি কেন্দ্রে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদান হয়েছে। অন্যদিকে, আপার অসমের হিন্দু প্রধান এলাকায় ভোটের হার ছিল প্রায় ৮২ শতাংশ, যা রাজ্যের গড়ের নিচে। বোধো অঞ্চলে ৮৫ শতাংশ, বরাক উপত্যকায় ৮২.৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে কার্বি আংলং ও দিমা হাসাও পাহাড়ি জেলায়—৭৪.২ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ভোটদানকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করে ১২৬ আসনের মধ্যে ৯০টির বেশি আসনে জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন।

    রেকর্ড পরিমাণ ভোট

    বুধবার রাত থেকেই দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে অসমের বিভিন্ন প্রান্তে। বৃহস্পতিবার সকালেও ছিল আকাশের মুখ ভার। ছিল বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতও। তবে সেসব উপেক্ষা করেই এদিন গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হয়েছিলেন সেরাজ্যের মানুষ। অসমের আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) অখিলেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, বুধবরা রাতে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল তমুলপুর ও শিবসাগর বিধানসভা কেন্দ্র। পাথারকান্দি, মেরাপানি, রাহার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে অশান্তি হয়েছে। অন্যদিকে শ্রীভূমি, গোলাঘাট ও নগাঁও জেলায় বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে।

    সরকার গড়বে বিজেপি-ই!

    কামরূপ শহরের গরাল বুনিয়াদি এলপি স্কুলের বুথে সপরিবারে ভোট দেন অসমের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। উল্লেখ্য, অসমে পরপর দু’বার সরকারে বিজেপি। প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় অসমে বিজেপিকে এগিয়ে রাখছে। যদিও কংগ্রেসের দাবি, অসমে পরিবর্তনের চোরাস্রোত বইছে। যেভাবে অহমের মূল নিবাসীরা বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে, তাতে রাজ্যে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। যদিও বিজেপি ১০০ আসন জয়ের টার্গেট বেঁধে রেখেছে।

    কেরলে উৎসাহ, তাপদাহ উপেক্ষা করেও লম্বা লাইন

    কেরলেও তাপদাহ উপেক্ষা করে ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বহু জেলায় ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়েও ভোটকেন্দ্রে লাইন ছিল। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, বিরোধী নেতা ভি ডি সতীশান এবং বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ভোট দেন। চলচ্চিত্র জগতের মম্মুট্টি, মোহনলাল, সুরজ ভেঙ্কারামুডু ও আসিফ আলিও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিরুবনন্তপুরমে প্রথমবার ভোটদাতাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়—তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় হালুয়ার বাক্স ও ধন্যবাদ কার্ড, যা ভোটে অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে সাহায্য করেছে।

    কেরলে শান্তিপূর্ণ ভোট

    দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই মিটল কেরলের ভোটগ্রহণ পর্বও। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এলডিএফ ও ইউডিএফ-উভয় শিবিরই। ভোটদানের পর মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, ‘কেরল উন্নত রাজ্য হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ভোটেও যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’ অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেন, ‘ভোটদানের হার বেশি। এর থেকেই প্রমাণ হয় মানুষ সরকার বদল চায়।’ পাশাপাশি কেরলে বিজেপি কোনো ফ্যাক্টর নয় বলেও জানান তিনি। ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের ভোটারদের জন্য এর্নাকুলামে ভোটকেন্দ্র গুলিতে ছিল বিশেষ ব্যবস্থা। ভোটদানে উৎসাহ দিতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় হালুয়ার প্যাকেট। অন্যদিকে বিয়ের মণ্ডপ থেকে এদিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে চলে আসেন সদ্য বিবাহিত দম্পতি দিব্যশ্রী ও অশ্বনাথ লম্বোদরণ। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই বিপুল ভোটদান প্রমাণ করে যে মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখছেন এবং সচেতনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

  • Election Commission: সুপ্রতিমকে তামিলনাড়ু যেতেই হবে! ভোটের আগে আরও ১৪৯ পুলিশ আধিকারিককে সরাল নির্বাচন কমিশন

    Election Commission: সুপ্রতিমকে তামিলনাড়ু যেতেই হবে! ভোটের আগে আরও ১৪৯ পুলিশ আধিকারিককে সরাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (WB Assembly Polls 2026) আগে রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ৮১ জন পুলিশ ইনস্পেক্টরকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। সরানো হল ৬৮ জন সাব-ইনস্পেক্টরকেও। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, এই আধিকারিকেরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কোনও কাজের সঙ্গেই আর যুক্ত থাকতে পারবেন না। কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে ভোটের দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যবেক্ষক হিসেবে তামিলনাড়ুতেই যেতে হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    তামিলনাড়ুতেই যেতে হবে সুপ্রতিম সরকারকে

    শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তামিলনাড়ুর পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। কিন্তু কমিশন তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, তাঁকে তামিলনাড়ুতেই ভোটের দায়িত্ব পালন করতে যেতে হবে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েকটি জনসভা থেকে সুপ্রতিম সরকারের এই বদলি ও দায়িত্ব প্রদান নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।

    শুক্রবারই দায়িত্ব নিতে হবে

    কমিশনের (Election Commission) বৃহস্পতিবার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অপসারিত ৮১ জন ইনস্পেক্টরকে আজ, শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁদের নতুন পদে দায়িত্ব নিতে হবে। কমিশনের নির্দেশে এঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারেরা। কমিশন জানিয়েছে, এই পুলিশ অফিসারেরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভোটের (WB Assembly Polls 2026) কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না, এই মর্মে পুলিশ সুপারদের মুচলেকা দিতে হবে। সাব-ইনস্পেক্টরদের বদলি সংক্রান্ত পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কমিশন। তাতে বলা হয়েছে, গত ২৯ মার্চ ১৫০ জন ইনস্পেক্টর এবং সাব-ইন্সপেক্টরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ৪৯ জন এসআই বিভিন্ন থানায় কাজ করছেন। সেই ৪৯ জন যে জেলায় কর্মরত, সেখান থেকে তাঁদের অন্য জেলায় সরিয়ে দিতে হবে। তাঁরা ভোটের কাজে কোনও ভাবেই যুক্ত থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া আর একটি বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে ১৯ জন সাব-ইনস্পেক্টরকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কোন জেলায় কতজনকে সানো হল

    কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে সমস্ত ইনস্পেক্টরকে ভোটের (WB Assembly Polls 2026) কাজ থেকে সরানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কোচবিহারের দু’জন, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার চার জন, ইসলামপুর পুলিশ জেলার চার জন, আলিপুরদুয়ারের এক জন, দক্ষিণ দিনাজপুরের তিন জন, শিলিগুড়ির দু’জন, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তিন জন, বারুইপুর পুলিশ জেলার দু’জন, বারাসত পুলিশ জেলার তিন জন, বসিরহাট পুলিশ জেলার এক জন, বনগাঁ পুলিশ জেলার এক জন, ব্যারাকপুরের চার জন, বিধাননগরের ছ’জন, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার চার জন, রানাঘাট পুলিশ জেলার চার জন, আসানসোল দুর্গাপুরের এক জন, পশ্চিম মেদিনীপুরের তিন জন, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁচ জন, পুরুলিয়ার দু’জন, বীরভূমের দু’জন, জলপাইগুড়ির এক জন, মালদহের তিন জন, বাঁকুড়ার এক জন ইনস্পেক্টর রয়েছেন।

  • Superfood Poha: নিয়মিত পাতে থাকুক চিড়ে! কীভাবে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    Superfood Poha: নিয়মিত পাতে থাকুক চিড়ে! কীভাবে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের স্বাস্থ্যকর জলখাবারের মেনুতে হোক কিংবা সন্ধ্যার মুখোরোচক খাবারের তালিকায়, সবজায়গাতেই তার অবাধ যাতায়াত। বাঙালির চির পরিচিত চিড়ে! শুকনো খাবার হিসাবে কয়েক হাজার বছর ধরেই তার কদর। বহুদূরে যাতায়াতের সময় এক কালে চিড়ে সঙ্গে রাখাই ছিলো দস্তুর। এখন অবশ্য পদের রকমফের বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাঙালির অতি পরিচিত চিড়ে কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি। এমনকি একাধিক রোগ মোকাবিলাতেও বাড়তি সাহায্য করে এই চিড়ে!

    চিড়ে খেলে শরীরে কী উপকার হয়?

    এনার্জি‌ জোগাতে সাহায্য করে!

    চিড়ে থেকে শরীর সহজেই এনার্জি জোগান করতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। শরীরের এনার্জি জোগায় কার্বোহাইড্রেট। তাই চিড়ে খেলে ক্লান্তিবোধ কমে। শরীর সহজেই এনার্জি পায়।

    হজম শক্তি ঠিক রাখে!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে হজম শক্তি বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করে। চিড়ে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই নিয়মিত চিড়ে খেলে হজম শক্তি বাড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে‌।

    দূর্বলতা কমাতে সাহায্য করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে সহজ পাচ্য খাবার। আবার চিড়ে বাড়তি এনার্জির জোগান দেয়। তাই শিশু হোক বা বয়স্ক, সকলের জন্য চিড়ে উপকারি। বিশেষত অসুস্থ অবস্থায় চিড়ে খুব উপকারি খাবার। কারণ এই খাবার সহজে হজম হয়। আবার এই খাবার খেলে শরীরের দূর্বলতা কমে।

    চিড়ে খেলে কোন রোগের ঝুঁকি কমে?

    • বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত চিড়ে খেলে একাধিক রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্থূলতা এখন অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, কমবেশি সকলেই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন। বাড়তি ওজন সুস্থ জীবন যাপনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। খাওয়া নিয়ে তাই সচেতনতা জরুরি। তাই চিড়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়েতে কার্বোহাইড্রেট থাকলেও ফ্যাট নেই। তাই শরীরে মেদ জমে না। কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় এনার্জি জোগান দিতে সক্ষম হয়। চিড়ে খেলে সহজেই পেট ভরে থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে চিড়ে খাওয়া উপকারি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
    • চিড়ে কম ফ্যাটযুক্ত এবং হালকা খাবার। তাই চিড়ে হৃদরোগ রুখতেও বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত মশলা জাতীয় ভাজা খাবারে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। যা হৃদরোগের ঝুঁকিও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু চিড়ে সেটা নয়। চিড়ে খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
    • চিড়ে রক্তাল্পতার সমস্যা সমাধানেও বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়ে খেলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ে। কারণ চিড়ে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। অধিকাংশ ভারতীয় মেয়েরা রক্তাল্পতার সমস্যায় ভোগেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১২ বছরের পর থেকেই অধিকাংশ মেয়েদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে। যার ফলে নানান রোগের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত চিড়ে খেলে এই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা সহজ হয়।

    কীভাবে চিড়ে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফল‌ এবং দইয়ের সঙ্গে চিড়ে খেলে শরীরে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কলা, আপেল, আঙুর কিংবা আমের মতো ফলের সঙ্গে টক দই এবং চিড়ে খেলে শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন এবং কার্বোহাইড্রেটের ঠিকমতো জোগান পাওয়া যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, এটি সুষম খাবার। তাই হজমের পক্ষেও ভালো। তবে শিশুদের জন্য বাদাম বা পেস্তার সঙ্গে দুধ চিড়ে দিলে খুব উপকার পাওয়া যাবে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের শরীরে এই খাবার থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট এবং খনিজ পদার্থের জোগান সহজেই পাওয়া যাবে।

    মুখোরোচক খাবার হিসাবেও চিড়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মটরশুঁটি, গাজর, ক্যাপসিকাম, বিনসের মতো নানান সব্জি সামান্য মাখনে ভেজে সেদ্ধ চিড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এমনকি শিশুদেরও এই খাবার দেওয়া যেতে পারে। এই খাবার সুস্বাদু। আবার পুষ্টিগুণ ভরপুর। নানান সব্জি থাকায় শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সহজেই পাবে। এই খাবারে সামান্য পরিমাণ মাখন দেওয়া থাকে। তাই এই খাবার থেকে প্রয়োজনীয় ফ্যাট সংগ্রহ সহজ। আবার চিড়ে কার্বোহাইড্রেটের জোগান দেবে। তাই এই খাবার শরীরের জন্য উপকারি।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • India-Iran Relations: দাম কমার আশা, জোগান স্থিতিশীল! যুদ্ধবিরতি হতেই ৭ বছর পর ভারতে আসছে ইরানের তেল

    India-Iran Relations: দাম কমার আশা, জোগান স্থিতিশীল! যুদ্ধবিরতি হতেই ৭ বছর পর ভারতে আসছে ইরানের তেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় সাত বছর পর আবারও ইরান (India-Iran Relations) থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে চলেছে ভারত। চলতি সপ্তাহেই একটি তেলবাহী জাহাজ ভারতের পূর্ব উপকূলে পৌঁছনোর কথা, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (LSEG) এবং কেপলার (Kpler)-এর শিপিং ডেটা অনুযায়ী, “জয়া” নামে একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাঙ্কার (Iranian Oil Heads to India) প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে, সম্ভবত চীন-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। তবে পরে তার গন্তব্য বদলে ভারতের দিকে আসে। ভারতের পূর্ব উপকূলে নোঙর করবে তেলভর্তি জাহাজটি। জানা গিয়েছে, এই তেল কিনেছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC)। তবে তাদের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    ইরানের দিকে ঝুঁকছে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি

    যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই ইরানের তেল (Iranian Oil Heads to India) হাতে পাচ্ছে ভারত (India-Iran Relations)। আপাতত ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর নেই। আর তাতেই ভারতের অভিমুখে রওনা দিয়েছে ইরান থেকে আসা তেলভর্তি জাহাজ। তবে শুধু ‘জয়া’ই নয়, জর্ডন থেকে আরও একটি তেলের ট্যাঙ্কার রওনা দিয়েছে। সেটিও ভারতে নোঙর করতে চলেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের মে মাসে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে ভারত মূলত পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী-তে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের জোগান চাপে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক শিথিলতা আনা হয়েছে, যার ফলে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি আবার ইরানের দিকে ঝুঁকছে।

    ভারতের জন্য স্বস্তির খবর

    কেপলার-এর তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসে রেকর্ড হারে ইরানের (India-Iran Relations) তেল বিক্রি হচ্ছে। এই মুহূর্তে জলপথে ইরান থেকে আসা ১৮৯ মিলিয়ন বা ১৮ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে। কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, দেশীয় রিফাইনারিগুলি ইরান থেকে তেল (Iranian Oil Heads to India) সংগ্রহ শুরু করেছে এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রেও এখন কোনও বড় বাধা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানি তেলের ফেরত আসা ভারতের জন্য স্বস্তির খবর, কারণ এতে দামের অস্থিরতা কিছুটা কমবে এবং জোগানও স্থিতিশীল হতে পারে।

  • BCB: বিসিসিআই-এর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতির উদ্যোগ! বিসিবি-র দায়িত্বে তামিম ইকবাল, অপসারিত বুলবুল

    BCB: বিসিসিআই-এর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতির উদ্যোগ! বিসিবি-র দায়িত্বে তামিম ইকবাল, অপসারিত বুলবুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় পরিবর্তন। প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal)-কে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করল সরকার। একই সঙ্গে অপসারিত হলেন বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam Bulbul)। ভেঙে দেওয়া হয়েছে বিসিবি-র পরিচালন পর্ষদও। বাংলাদেশের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (NSC) একটি ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন তামিম। এই কমিটির মূল দায়িত্ব আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিসিবি-র নির্বাচন সম্পন্ন করা।

    কেন এই বড় সিদ্ধান্ত?

    এনএসসির ডিরেক্টর আমিনুল এহসান বলেছেন, ‘‘তামিমের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে বিসিবির নির্বাচন হবে। আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালন পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাকে (আইসিসি) জানানো হয়েছে।’’ সূত্রের খবর, টি-২০ বিশ্বকাপ ঘিরে বিতর্কই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। সেই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (Asif Nazrul) ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ম্যাচ খেলতে অনুমতি দেননি। তাঁর দাবি ছিল, আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman)-কে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানো হোক। এই পরিস্থিতিতে বুলবুলের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ে বোর্ডের ভেতরে। ইতিমধ্যেই বিসিবি-র ছয়জন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, তামিম ইকবালের হাতে বিসিবি-র দায়িত্ব তুলে দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। যার অন্যতম লক্ষ্য ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক আরও মজবুত করা।

    বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত

    এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে হল, যখন বিসিবি ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যোগাযোগ করেছে। নতুন সভাপতি হিসেবে তামিমের নিয়োগ সেই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট মহল। তামিমের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন (Minhajul Abedin)এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহর আলি খান (Athar Ali Khan)-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-কে জানানো হয়েছে। যদিও আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়, তবুও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন করার আশ্বাস থাকায় কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • Jammu Kashmir: বানচাল নাশকতার ছক! আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাসের পর্দা ফাঁস, কাশ্মীরে গ্রেফতার দুই পাক মদতপুষ্ট-সহ ৫ জঙ্গি

    Jammu Kashmir: বানচাল নাশকতার ছক! আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাসের পর্দা ফাঁস, কাশ্মীরে গ্রেফতার দুই পাক মদতপুষ্ট-সহ ৫ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক ধ্বংসের অভিযানে বড় সাফল্য পেল জম্মু কাশ্মীরের পুলিশ (Jammu and Kashmir Police)। মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করল জম্মু কাশ্মীরের পুলিশ। তাদের মধ্যে আছে দু’জন পাকিস্তানি জঙ্গিও। ধৃতদের মধ্যে আছে আবদুল্লা ওরফে আবু হুরেইরা। গত ১৬ বছর ধরে তার খোঁজ করছিল পুলিশ। জম্মু-কাশ্মীরের বাইরে থেকেই সেখানে হামলার ছক করত সে। তাকে পাঞ্জাব রাজ্যের এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য তিনজন শ্রীনগরের। পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণের পর এই চক্রটির হদিস মেলে। তদন্তে উঠে এসেছে, লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত এই মডিউলটি একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত ছিল এবং সুসংগঠিত ভাবে কাজ করছিল।

    পহেলগাঁও হামলার মতোই পরিকল্পনা!

    গত বছর এই এপ্রিল মাসেই পহেলগাঁওয়ে নিরীহ হিন্দু পর্যটকদের উপর গুলি চালিয়েছিল জঙ্গিরা। চলতি বছরেও পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তি হিসেবে উপত্যকায় বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল জঙ্গিরা। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে ফের সাফল্য পেল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে লস্কর-ই-তৈবার পাঁচ সদস্যকে। ধৃতরা সেখানে বড় ধরনের হামলার ছক কষেছিল। তার আগেই আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাসের ( terror module) পর্দা ফাঁস করল পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই পাকিস্তানি-সহ লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba)-র পাঁচ সদস্যকে। যাদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ পাক অপারেটিভ আবদুল্লা ওরফে আবু হুরেইরা।

    আবু হুরেইরা কে?

    পুলিশ সূত্রে খবর, জম্মু-কাশ্মীর এলাকার বাইরে ঘাঁটি গেড়েছিল আবদুল্লা ওরফে আবু হুরেইরা। সেখান থেকেই এত দিন বিভিন্ন সন্ত্রাসমূলক কাজ পরিচালনা করত সে। আড়ালে থেকেই সেখানে বিভিন্ন সন্ত্রাসমুলক কাজের নির্দেশ দিত পাকিস্তানি এই লস্কর-ই-তৈবা সদস্য। আবদুল্লার সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছে আরও এক পাকিস্তানি জঙ্গি ( Pakistani terrorist) উসমান ওরফে খুবাইব-কে। পুলিশের দাবি, জম্মু কাশ্মীরে পুলিশ এবং সেনার উপর হামলার বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে এই দু’জন জড়িত। পাঞ্জাবের মালেরকোটলা এলাকা থেকে ধরা হয়েছে দু’জনকে। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের খবর, খুবাইব প্রায় ১৬ বছর আগে ভারতে অনুপ্রবেশে করেছিল। তখন থেকেই সে গোয়ান্দাদের নজরে ছিল। বারবার সে তদন্তকারীদের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছে। সূত্রের খবর, পহেলগাঁও বর্ষপূর্তির আগে ভারতকে ফের রক্তাক্ত করার ছক করছিল এই জঙ্গিদলটি। গ্রেফতার হওয়া বাকি তিনজন শ্রীনগরের বাসিন্দা—মহম্মদ নাকিব ভাট, আদিল রশিদ ভাট এবং গুলাম মহম্মদ মীর ওরফে ‘মামা’। অভিযোগ, তারা জঙ্গিদের আশ্রয়, খাবার এবং অন্যান্য সহায়তা দিত।

    আবু হুরেইরার ভূমিকা

    পুলিশ সূত্রে খবর, আবু হুরেইরা ২০১১ সাল থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ছিল এবং ধীরে ধীরে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। তদন্তে উঠে এসেছে, আবু হুরেইরা লস্করের অর্থায়ন ও অপারেশনাল কার্যকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। সে মূলত বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করত এবং শ্রীনগর অঞ্চলে ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (OGWs) সঙ্গে সমন্বয় রাখত। পুলিশের দাবি, সে প্রায় ৪০ জন বিদেশি জঙ্গিকে পরিচালনা করেছে, যাদের অধিকাংশই পরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। এছাড়া পরিবহন, অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থ জোগাড়ের ক্ষেত্রেও সে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করত। জানা গিয়েছে, শ্রীনগরের হারওয়ান এলাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে সে কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ। তদন্ত এখনও চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    লস্কর-ই-তৈবা-র এক গভীর নেটওয়ার্কের সন্ধান

    সম্প্রতি গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। তাদের কাছে খবর ছিল, উপত্যকায় লুকিয়ে রয়েছে একটি জঙ্গি দল। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে যোগ রয়েছে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান (Rajasthan) এবং হরিয়ানা (Haryana)-সহ ১৯টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। ওই তল্লাশিতেই উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন আপত্তিকর সামগ্রী। এই তদন্তে লস্কর-ই-তৈবা-র একটি গভীর শিকড়যুক্ত নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তাদের রসদ ও আর্থিক সাহায্য করা করত তার খোঁজও পাওয়া গিয়েছে এই তল্লাশি অভিযানে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সাহায্যে এক বিদেশি জঙ্গি ভুয়ো নথি ও পরিচয় ব্যবহার করে বিদেশে যাতায়াত করেছিল। এছাড়াও, ধৃত জঙ্গিরা প্রায় ১৫–১৬ বছর আগে ভারতে অনুপ্রবেশ করে কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় ছিল। এই নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। ওই জঙ্গিদের আর কী ছক ছিল এবং অন্য সদস্যরা কোথায় গা-ঢাকা দিয়ে আছে তার খোঁজ চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

     

  • India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার দিকে নজর দিলে পাকিস্তানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। পাকিস্তানের তরফে কলকাতায় হামলার হুমকির জবাবে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif) মন্তব্য করেছিলেন, ভবিষ্যতে কোনও সংঘাত হলে ইসলামাবাদ কলকাতায় হামলা চালাতে পারে। সেই মন্তব্যেরই জবাবে ব্যারাকপুরে এক জনসভা থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করা উচিত হয়নি। ৫৫ বছর আগে তারা এর ফল ভুগেছে, যখন পাকিস্তান দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। এবার যদি বাংলার দিকে নজর দেয়, তবে কত ভাগে ভাঙবে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন।”

    ইসলামাবাদকে জবাব

    ৫৫ বছর আগে কী হয়েছিল মনে আছে তো? ভোটপ্রচারে ব্যারাকপুরে এসে পাকিস্তানকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করান ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বললেন, ‘৫৫ বছর আগের কথা মনে রাখা উচিত পাকিস্তানের। কী করে দু’টুকরো হয়েছিল! আবার কিছু করার চেষ্টা করলে পরিণতি কী হবে, সেটা ওরাই বুঝতে পারবে।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী এখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যখন ভারতের সামরিক পদক্ষেপের পর পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে ওঠে। এদিন তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত সর্বদা প্রস্তুত। পাকিস্তান যদি কোনও রকম ‘মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ করে, তবে ভারত নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না।

    কী বলেছিল পাকিস্তান

    গত বৃহস্পতিবার ভোটমুখী কেরালায় দলের প্রচারে গিয়ে পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছিলেন রাজনাথ। বলেছিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তান আবার কিছু করলে তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হবে। রাজনাথের এই মন্তব্যের পরেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ দাবি করেন, ভারত ফের সাজানো হামলার ছক কষছে। তাতে ভারতীয়দের পাশাপাশি ভারতের জেলে বন্দি পাকিস্তানিদেরও ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রসঙ্গেই খোয়াজা কলকাতাকে টেনেছেন। সেই সূত্রে তাঁর দাবি, ‘এর পর কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাবে পাকিস্তান!’ এ বার তার জবাব দিলেন রাজনাথ। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক মন্তব্য ও পাল্টা হুঁশিয়ারিতে ভারত-পাক সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

  • US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের (US Iran War) সাময়িক বিরতি। খুলছে হরমুজ প্রণালী। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আমেরিকা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ স্যোশালের পোস্টে যুদ্ধবিরতির কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’ দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আজ রাতের মধ্যেই গোটা সভ্যতা শেষ হবে।’’ মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি

    মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের মাঝে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা স্থগিত রাখবে। তেহরানও শর্তসাপেক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং সীমিতভাবে প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তবে তারাও সামরিক প্রতিরোধ থামাবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাশাপাশি নিজেদের ১০ ও ১৫ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক চাপের ফলেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান এটিকে নিজেদের কূটনৈতিক জয় বলে দাবি করেছে।

    ইরানের হাত ট্রিগারেই

    দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি মানেই যুদ্ধে ইতি নয়! আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। তবে এ-ও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনীকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের এক সরকারি বিবৃতিতে মোজতবার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের শেষ নয়। আমেরিকা বা ইজরায়েল— শত্রুপক্ষ যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করে, তবে আমাদের হাত ট্রিগারেই থাকবে।’’ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি কোনও রকম ‘ভুল’ করে, তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও।

    ইরানের ‘ঐতিহাসিক জয়’!

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপদ পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধের প্রায় সকল উদ্দেশ্যই অর্জিত। শত্রুপক্ষ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।’’ তেহরান এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে। তারা বুঝিয়েছে, আমেরিকার সামনে কখনওই মাথা নত করেনি ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বার বার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই সব বিষয়কে পাত্তা দিতে রাজি ছিল না। আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হলে তবেই ইরান যুদ্ধের অবসান মেনে নেবে।’’ তারা জোর দিয়েছে, আলোচনায় তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার কথা কঠোর ভাবে উপস্থাপিত করা হবে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

    ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ দফা প্রস্তাব হল হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র শক্তির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় বিষয়—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার (Highly Enriched Uranium Stockpile) বন্ধ করা। সূত্র বলছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে ইরান কিছু সীমিত পদক্ষেপ করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই দুটো ইস্যুই তেহরানের সবচেয়ে বড় দরকষাকষির হাতিয়ার, তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়া পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন বাহিনীর জয়!

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন, যা একটি অত্যন্ত কার্যকর সূচনা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী, ‘‘ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’’ আসন্ন দু’সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সম্ভব। ইরানের মতো আমেরিকাও ‘জয়’ দেখছে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনীর জয়।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব, বাজারে প্রভাব

    হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১৩% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমেছে, এবং মার্কিন ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজার ও মার্কিন ফিউচার মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    এখনও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য!

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব থাকবেই। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে। এতে বড় আঞ্চলিক সংকট (Regional Crisis) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর ইতিমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Esmaeil Baghaei) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে হামলা হলে সমান জবাব (Retaliation) দেওয়া হবে। বলেন, ‘প্রয়োজনে আমেরিকা-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকেও (US-linked Targets) নিশানা করা হতে পারে।’ ইরান জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত সংঘাত চলবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সৌদি আরব, বাহারাইন এবং কুয়েতে শোনা গিয়েছে মিসাইল অ্যালার্ট অ্যালার্ম। সতর্ক রয়েছে ইজরায়েলও। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি শান্ত হলেও ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে উপসাগরীয় এলাকায়।

LinkedIn
Share