Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Chhattisgarh Naxalism: মাওবাদীদের বড় নাশকতার ছক বানচাল! আত্মসমর্পণকারীদের তথ্যে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র-সোনা

    Chhattisgarh Naxalism: মাওবাদীদের বড় নাশকতার ছক বানচাল! আত্মসমর্পণকারীদের তথ্যে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র-সোনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের মাওবাদী (Chhattisgarh Naxalism) দমনে ফের বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ ও যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। দক্ষিণ বস্তার দান্তেওয়াড়া এবং কাঙ্কের জেলায় দুটি পৃথক অভিযানে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, সোনা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সময়মতো মাওবাদীদের এই গোপন আস্তানা বা ‘ডাম্প’গুলির হদিশ মেলায় বড়সড় নাশকতার ছক ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

    আত্মসমর্পণকারীদের তথ্যে তোলপাড় দান্তেওয়াড়া

    পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি মাওবাদী মতাদর্শ এবং হিংসার পথ ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছে বেশ কিছু মাওবাদী। তাদেরই দেওয়া সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে দান্তেওয়াড়া জেলার বারসুর থানার অন্তর্গত তোড়মা গ্রামের ঘন জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় একটি বিশাল তল্লাশি অভিযান (Dantewada Operation) চালানো হয়। সেখানেই মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি বিশাল গোপন ডাম্পের সন্ধান পায় বাহিনী। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মোট বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। পুলিশের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বড়সড় হামলা চালানো এবং এলাকায় নাশকতামূলক কাজের উদ্দেশ্যেই মাওবাদীরা এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিল।

    দান্তেওয়াড়া থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী (Maoist Arms Recovery)

    ১১৬ গ্রাম ওজনের সোনার বিস্কুট, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৬ লক্ষ টাকা। নগদ ২ লক্ষ টাকা। ১টি ইনসাস (INSAS) রাইফেল এবং ১৬টি ইনসাস ম্যাগাজিন। ৪টি একে-৪৭ ম্যাগাজিন এবং ৬৮ রাউন্ড গুলি। ২৩টি এসএলআর (SLR) ম্যাগাজিন এবং ৩৪ রাউন্ড গুলি। ৫টি ১২-বোর বন্দুক এবং ৭ রাউন্ড গুলি। ৩টি বিজিএল (BGL) লঞ্চার এবং ১টি বিজিএল সেল। ২টি কারবাইন ম্যাগাজিন। ৮টি .৩০৩ রাউন্ড গুলি এবং ৪৫টি .৩০৩ চার্জার। ১০টি ভাঙা ভরমার বন্দুক, ১টি রিভলভার এবং ১টি এয়ারগান। ৬টি টিফিন বোমা, ৪টি পাইপ বোমা, ১২২টি তির বোমা, ১টি প্যারা বোমা, ২টি দেশি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২টি দেশি মর্টার, ১ স্টিল বক্স জিলেটিন, ২০টি ডেটোনেটর, ১ বান্ডিল কোডেক্স ওয়্যার এবং ১৪টি কুকার। এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে, মাওবাদী ইউনিফর্ম, ওষুধ, লিফলেট-প্যামফলেট এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

    মাওবাদীদের বার্তা পুলিশের 

    বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও রসদ উদ্ধারকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন। বস্তার রেঞ্জের পুলিশ আইজি বদ্রী নারায়ণ মিনা, সিআরপিএফ ডিআইজি (অপারেশনস) রাকেশ চৌধুরী এবং দান্তেওয়াড়ার পুলিশ সুপার গৌরব রাইয়ের যৌথ নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে এই অভিযানটি সফল হয়। দান্তেওয়াড়া পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত পথভ্রষ্ট মাওবাদীদের স্পষ্ট বার্তা,  হিংসার পথ ও মাওবাদী মতাদর্শ পুরোপুরি ত্যাগ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসে। অস্ত্র ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে শান্তি, অহিংসা ও এলাকার উন্নয়নের পথে শামিল হওয়ার জন্যও বার্তা জেলা পুলিশের।

    কাঙ্কের-নারায়ণপুর সীমান্তেও উদ্ধার ‘মাওবাদী ডাম্প’

    অন্যদিকে, দান্তেওয়াড়ার পাশাপাশি ছত্তীসগঢ়ের কাঙ্কের ও নারায়ণপুর জেলার সীমান্তবর্তী কোয়লিবোড়া থানা এলাকাতেও মাওবাদীদের আরও একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়েছে বাহিনী। আলপরাস ও গুমচুর গ্রামের মধ্যবর্তী পাহাড়ি জঙ্গলে রুটিন টহলদারির সময় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) এবং ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (DRG)-এর একটি যৌথ দল মাটির নিচে কিছু লুকানো রয়েছে বলে সন্দেহ করে। এরপর সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করতেই উদ্ধার হয় আধুনিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র। কাঙ্কেরের পুলিশ সুপার নিখিল রাখেচা, বিএসএফ-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কুশ কুমার এবং কোয়লিবোড়ার থানা ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক নির্মল জংড়ের নেতৃত্বে এই যৌথ অভিযানটি সফল হয়।

    কাঙ্কের থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী 

    ২টি .৩০৩ রাইফেল এবং ৩২ রাউন্ড তাজা গুলি। ১টি ল্যাপটপ এবং ১টি ট্যাবলেট। ১টি রেডিও সেট এবং ৩টি ওয়্যারলেস ব্যাটারি। ২টি মাওবাদী ইউনিফর্ম এবং ৫টি পাউচ। ২টি চার্জার এবং ১টি সাধারণ ব্যাটারি। বিপুল পরিমাণ মাওবাদী সাহিত্য ও বইপত্র।

    উল্লেখ্য, বস্তার বা দান্তেওয়াড়ার এই জঙ্গলগুলোতে মাওবাদীদের অস্ত্রভাণ্ডার বা ‘ডাম্প’ উদ্ধারের ঘটনা এটা প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মাটির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ মরণাস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। তবে এবারের ঘটনাটি বাকি সময়ের চেয়ে অনেকটাই আলাদা এবং তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে মূলত গোয়েন্দা সূত্রে বা তল্লাশি চালাতে গিয়ে আচমকা এই ধরনের ডাম্পের সন্ধান মিলত। কিন্তু এবার খোদ আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরাই স্বেচ্ছায় পুলিশকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাদের গোপন আস্তানা চিনিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, লাল সন্ত্রাসবাদীদের পায়ের তলা থেকে মাটি কেবল সরছেই না, বরং খোদ সংগঠনের অন্দরেই মাওবাদী মতাদর্শের মৃত্যু ঘটেছে। বারবার অস্ত্র উদ্ধার এবং প্রথম সারির ক্যাডারদের এই আত্মসমর্পণ বলাই বাহুল্য ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদী সাম্রাজ্যের পতনের কাউন্টডাউন আরও ত্বরান্বিত করল।

  • India’s Defence Sector: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বড় সংস্কার! এবার বেসরকারি সংস্থার হাতেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন

    India’s Defence Sector: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বড় সংস্কার! এবার বেসরকারি সংস্থার হাতেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন (India’s Defence Sector) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার (Modi Govt Missile Manufacture)। প্রথমবারের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি ভারতীয় সংস্থাগুলিকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, সরকারি কারখানার উপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা রফতানির বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বন্ধু দেশগুলির কাছ থেকে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহের কথা মাথায় রেখেই এই নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    অ্যাস্ট্রা এমকে-২ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে বেসরকারি সংস্থাকে সুযোগ

    সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই অ্যাস্ট্রা এমকে-২ (Astra Mk-2) বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল উৎপাদনের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করতে পারে। ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। ভবিষ্যতে এটি তেজস এমকে-১এ, মিগ-২৯, সুখোই সু-৩০ এমকেআই এবং রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি একাধিক বন্ধু দেশ ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শুধু সরকারি উৎপাদন সংস্থার উপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিল্পকে যুক্ত করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য।

    কোন কোন সংস্থা লাভবান হতে পারে?

    যদিও এখনও কোনও সংস্থাকে চূড়ান্তভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, তবুও প্রতিরক্ষা শিল্পের বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি বড় ভারতীয় সংস্থা এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার জন্য সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সম্ভাব্য সংস্থাগুলি হল—

    টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম (Tata Advanced Systems)
    আদানি ডিফেন্ল অ্যান্ড অ্যারো স্পেস (Adani Defence & Aerospace)
    লারসেন অ্যান্ড টোব্রো (Larsen & Toubro-L&T)
    ভারত ফোর্জ (Bharat Forge)
    কল্যানী স্ট্র্যটেজিক সিস্টেম (Kalyani Strategic Systems)

    ইতিমধ্যেই এই সংস্থাগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, মহাকাশ প্রযুক্তি, আর্টিলারি, ড্রোন, সাঁজোয়া যান এবং ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন উপাদান তৈরি করছে।

    প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পেও বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভাবনা

    অ্যাস্ট্রা এমকে-২ প্রকল্পের পর সরকার ‘প্রলয়’ (Pralay) ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনেও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র উচ্চ গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে এই নীতি কার্যকর হলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে বেসরকারি শিল্পের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও প্রতিরক্ষা রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন গতি আসতে পারে।

  • Palakkad To Space: ‘গডস ওন কান্ট্রি’ থেকে মহাকাশ জয়! কেরালার এক জেলা থেকেই বিশ্ব কাঁপানো ৩ নভোচারী

    Palakkad To Space: ‘গডস ওন কান্ট্রি’ থেকে মহাকাশ জয়! কেরালার এক জেলা থেকেই বিশ্ব কাঁপানো ৩ নভোচারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের মহাকাশ মানচিত্রে আজ অনন্য উচ্চতায় ভারত। তবে এবারের গৌরবগাথা কোনও একক রকেটের উৎক্ষেপণ বা উপগ্রহের কক্ষপথ জয়ের নয়; এবারের ইতিহাস তৈরি হয়েছে মানুষের মেধা, গভীর পারিবারিক ও আঞ্চলিক শিকড়ের মেলবন্ধনে। কেরালার ‘গডস ওন কান্ট্রি’ খ্যাত পালাক্কাদ (Palakkad) জেলা আজ বিশ্বমঞ্চে এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। একটিমাত্র জেলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তিনজন বিখ্যাত মহাকাশচারীর নাম, যা আমেরিকা বা রাশিয়ার মতো পরাশক্তি বাদ দিলে পৃথিবীর আর কোনও অঞ্চলের ক্ষেত্রে ভাবাই যায় না। পাশাপাশি, আগামী ১৫ জুলাই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসা (NASA) নভোচারী ড. অনিল মেনন রাশিয়ার ‘সয়ূজ এমএস-২৯’ (Soyuz MS-29) মহাকাশযানে চেপে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম মহাকাশ যাত্রা শুরু করতে চলেছেন।

    পালাক্কাদের সেই তিন ‘মহাকাশ বীর’ (Palakkad To Space)

    ড. অনিল মেনন (নাসা নভোচারী ও গবেষক)- আমেরিকায় বেড়ে উঠলেও ড. অনিল মেননের শিকড় কেরালার পালাক্কাদেই (Palakkad)। তাঁর বাবা ভারতীয় এবং মা ইউক্রেনীয়। অনিল একাধারে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং মার্কিন স্পেস ফোর্সের কর্নেল। মহাকাশে যাওয়ার আগে তিনি ভারতের পোলিও নির্মূল অভিযানেও মাঠপর্যায়ে কাজ করেছিলেন। আগামী ১৫ জুলাই কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে দীর্ঘ ৮ মাসের এক বৈজ্ঞানিক মিশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন।

    আন্না মেনন (ইতিহাস সৃষ্টিকারী বাণিজ্যিক মহাকাশচারী)- ড. অনিল মেননের স্ত্রী আন্না মেনন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্পেসএক্সের (SpaceX) ঐতিহাসিক ‘পোলারিস ডাউন’ মিশনের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক স্পেসওয়াক (spacewalk) এবং পৃথিবী থেকে রেকর্ড দূরত্বে পাড়ি দেওয়া নারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বর্তমানে তিনি নাসার মহাকাশচারী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অনিল ও আন্না বর্তমান বিশ্বের অন্যতম এক বিরল এবং সফল ‘মহাকাশচারী দম্পতি’।

    এয়ার কমোডোর প্রশান্ত বালকৃষ্ণ নায়ার (ভারতের গগনযান বীর)- গৌরবের মুকুটে সবচেয়ে বড় পালকটি হলেন ভারতের নিজস্ব ‘গগনযান’ মিশনের অন্যতম প্রধান মহাকাশচারী এয়ার কমোডোর প্রশান্ত বালকৃষ্ণ নায়ার। তিনিও পালাক্কাদেরই সন্তান। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর স্বপ্নের অন্যতম প্রধান মুখ তিনি।

    হিউস্টন থেকে পালাক্কাদ

    আমেরিকার হিউস্টনে প্রশিক্ষণের সময় অনিল মেনন এবং প্রশান্ত নায়ারের মধ্যে এক চমৎকার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। অনিলের এই ঐতিহাসিক যাত্রার প্রাক্কালে প্রশান্ত নায়ার ও তাঁর স্ত্রী (অভিনেত্রী লেনা) একটি অত্যন্ত আবেগঘন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। প্রশান্ত লিখেছেন, “ভাই অনিল এবং প্রিয় আন্না… এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারা অত্যন্ত আবেগপূর্ণ একটি বিষয়। ভারত এবং কেরালার মাটির সঙ্গে তোমাদের এই টান আমরা সবসময় মনে রাখব। তোমরা দুজনে মিলে সত্যিই একটি সম্পূর্ণ মহাকাশচারী পরিবার”।

    ভারতের মহাকাশ যাত্রার এক প্রতীকী বৃত্ত পূরণ

    মালয়ালি তথা সমগ্র ভারতবাসীর জন্য এই উদযাপনের আনন্দ আরও দ্বিগুণ। কারণ, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’ (ISRO)-এর জন্ম হয়েছিল কেরালারই এক প্রত্যন্ত মাছ ধরার গ্রাম ‘থুম্বা’ (Thumba)-তে। আর আজ কেরালারই এক জেলা থেকে উঠে আসা তিন ব্যক্তিত্ব বৈশ্বিক মহাকাশ গবেষণার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন। আমেরিকার নাসা, রাশিয়ার রশকমস কিংবা ভারতের ইসরো- সংস্থা যাই হোক না কেন, পালাক্কাদের এই তিন নক্ষত্র প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ রূপায়ণে ভারতের ভূমিকা এখন আর শুধু প্রযুক্তি সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানব অভিযানের নেতৃত্বেও ভারত আজ প্রথম সারিতে।

  • Lindsey Graham: ভারতের উপর শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রয়াত

    Lindsey Graham: ভারতের উপর শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রয়াত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত মার্কিন সেনেটের দীর্ঘ দিনের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম (Lindsey Graham)। বারাক ওবামার আমল থেকেই ইরান-বিরোধী নেতা হিসেবেই পরিচিত তিনি। সেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘর্ষের আবহেই প্রয়াত হলেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। বয়স হয়েছিল ৭১। বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন গ্রাহাম। রবিবার গ্রাহামের কার্যালয়ের তরফে এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় প্রবীণ নেতার মৃত্যু হয়েছে। প্রবীণ এই সেনেটর আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গ্রাহামের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘‘লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকৃত আমেরিকাপ্রেমী ছিলেন।’’ তাঁর মৃত্যু ‘বড় ক্ষতি’ বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর পরামর্শ

    গ্রাহাম (US Senator Death) তাঁর কর্মজীবনে নানা সময়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাঁর করা নানা মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে সর্বস্তরে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘উল্লেখযোগ্য ভাবে’ রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে ভারত। আর ভারতের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের শুল্কনীতি। গ্রাহামের দাবি, কী ভাবে একটা নীতিগত পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে, তার ‘ভাল উদাহরণ’ দিল্লির উপর আরোপিত ট্রাম্পের শুল্ক। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বলেছিলেন গ্রাহাম। তিনি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প এমন একটি বিলে (গ্রাহাম-ব্লুমেন্থাল নিষেধাজ্ঞা বিল) অনুমোদন দিয়েছেন, যা নিয়ে তিনি কয়েক দিন ধরে কাজ করছিলেন। এই বিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেবে, যার বলে তিনি রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়কারী ভারত-সহ দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। এই শুল্ককে ‘শাস্তি’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর গ্রাহাম।

    ইরান-বিরোধী বলে পরিচিত

    ইরানের আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন গ্রাহাম। ইরানে হামলার প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি যদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জায়গায় থাকতাম, তবে যাঁরা গণহত্যা করছেন, তাঁদের খুন করতাম।’’ গ্রাহাম এ-ও দাবি করেছিলেন, ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে। গ্রাহাম পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান অত্যন্ত সমস্যাজনক। ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের শত্রুতা অনেক দিনের। এটা স্বীকার করতেই হবে পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখা হচ্ছে।’’ প্রসঙ্গত, জুন মাসেই সেনেটে পঞ্চম বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গ্রাহাম। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘উনি আমার দেখা অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব এবং সেনেটর ছিলেন। লিন্ডসে একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ছিলেন, যিনি দেশের জন্য সবসময় কাজ করে গিয়েছেন। ওঁর কথা আমাদের সব সময়ে মনে পড়বে।’

  • Baruipur Incident: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পর হিংসায় উসকানির অভিযোগ, ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলি

    Baruipur Incident: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পর হিংসায় উসকানির অভিযোগ, ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুর কাণ্ডে (Baruipur Incident) অশান্তিতে উস্কানির অভিযোগে গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি। সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম থেকে প্রার্থীও হয়েছিলেন তিনি। রবিবার ১২ জুলাই রাতে বারুইপুরে বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয় লাহেক আলিকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। সেই ঘটনার জেরে হওয়া বিক্ষোভে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে এবার গ্রেফতার হলেন স্থানীয় সিপিএম নেতা। এই ঘটনায় এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত বাম নেতাকে আজ, সোমবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।

    তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার

    পুলিশ সূত্রে খবর, সূর্যপুরের ঘটনার পর গত রবিবার এলাকায় তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করেন এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর চড়াও হন। দফায় দফায় ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়িতে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও এই হামলায় জখম হন। অভিযোগ, ঘটনার দিন আন্দোলনের নামে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানো এবং পুলিশের ওপর হামলায় সরাসরি উস্কানি দিয়েছিলেন সিপিএম নেতা লাহেক আলি। ঘটনার সময় তিনি সশরীরে সেখানে উপস্থিতও ছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার দিনের বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং প্রাথমিক তদন্তে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার (Baruipur violence) দিন আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কঙ্করপ্রসাদ বারুইের পাশেও দেখা যায় এই লাহেক আলিকে। ঘটনার পর পুলিশ একটি এফআইআর করে। যেখানে সুজন চক্রবর্তী ও লাহেক আলি-লহ চারজনের নাম ছিল।

    কোন কোন ধারায় মামলা রুজু

    ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলির বিরুদ্ধে বিএনএস- এর ২০টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। উস্কানি, প্ররোচনা, গন্ডগোল পাকানো, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ধারায় মামলা হয়েছে লাহেক আলির বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, লাহেক আলির বিরুদ্ধে রেলওয়ে অ্যাক্টেও মামলা দায়ের হয়েছে। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, গণপিটুনিতে খুন, প্ররোচনা দেওয়া, বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে আসা, উস্কানি দেওয়া, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা-বিদ্বেষ ছড়ানো, জনসাধারণের সম্পত্তি নষ্ট করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীর উপর হামলা, অপরাধমূলক ভয় দেখানো, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, সংরক্ষিত সম্পত্তি নষ্ট করা, অবৈধ কাজ করা, রেলের সম্পত্তির ক্ষতি করা, রেলকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত – এই ধারাগুলিতে মামলা রুজু হয়েছে ধৃত লাহেক আলির বিরুদ্ধে।

  • FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ফিফা (FIFA) র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারটি দল একসঙ্গে সেমিফাইনালে উঠল। ৪৮ দলের লড়াই, একাধিক আনকোরা দলের সঙ্গে ছিল রাউন্ড অফ ৩২-এর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে কোনও অঘটন ঘটল না বিশ্বকাপে। সেমি ফাইনালে প্রবেশ করল ফিফা (FIFA World Cup 2026) র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড। সেমি ফাইনালে ওঠা চার দলই অতীতে অন্তত একবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। অর্থাৎ, এ বারও কোনও নতুন দল চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না। চারটি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবার শেষ চারে লড়বে শিরোপার জন্য। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারটি বিশ্বকাপজয়ী দেশ। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

    সেমিফাইনালের সূচি (ভারতীয় সময়)

    প্রথম সেমিফাইনাল:

    ফ্রান্স বনাম স্পেন

    তারিখ : ১৫ জুলাই (বুধবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: ডালাস স্টেডিয়াম

    দ্বিতীয় সেমিফাইনাল:

    ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

    তারিখ : ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম

    বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

    ৬০ বছর পর কেন, বেলিংহ্যামদের পায়ে আবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, সুইৎজারল্যান্ডকে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন লিয়োনেল মেসিরা। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের কথায়, “জয়ের পর সত্যিই খুব ভাল লাগছে। পরিশ্রম করে জিততে হয়েছে। আমরা জানতাম খুব কঠিন ম্যাচ হবে। কিন্তু এই ম্যাচ জেতার দরকার ছিল। আরও এক বার আমাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু এই দলটা কখনও বিশ্বাস করা থামায় না। আরও এক বার আমরা বিশ্বের সেরা চার দলের একজন।” মেসির সংযোজন, “জানি না আবার বিশ্বকাপ জিতব কি না। হওয়ার থাকলে নিশ্চয়ই হবে। গত বার জেতার আগে অনেক দিন বিশ্বকাপ পাইনি। তাই এখনকার প্রতিটা মুহূর্তকে উপভোগ করা দরকার।”

    বিশেষ নজরে কারা

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। দুই দেশের নকআউট ম্যাচের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ম্যাচেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার। পরবর্তী প্রতিপক্ষকে নিয়ে মেসি বলেছেন, “ওই গোলের (মারাদোনা) সম্পর্ক যা কিছু জেনেছি তা সবই ভিডিয়ো বা ছবি দেখে। আর্জেন্টিনীয়রা নিয়মিত সেই ছবি দেখেন। তবে এই দলটা প্রতিপক্ষের কথা না ভেবেই ফুটবল খেলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। কারণ ওরা ফুটবলের মহাশক্তি। সেই রকম দলের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। প্রথম বার ওদের বিরুদ্ধে খেলব। ইংল্যান্ড ছাড়া সব দেশের বিরুদ্ধে খেলেছি। সেরা ছন্দে থেকে খেলার চেষ্টা করব।” বিশেষ নজর থাকবে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম এবং লামিনে ইয়ামাল-এর মতো তারকাদের ওপর। বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চার দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।

  • Dhamrai Rath: পাক বাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছিল ৫০০ বছরের ইতিহাস, তবু আজও স্বমহিমায় বর্তমান ধামরাই-এর রথযাত্রা

    Dhamrai Rath: পাক বাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছিল ৫০০ বছরের ইতিহাস, তবু আজও স্বমহিমায় বর্তমান ধামরাই-এর রথযাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগুনে পুড়েও, ফুরিয়ে যায়নি ৫০০ বছরের ঐতিহ্য। প্রতি বছর রথযাত্রার সময় প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ টানার উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তরা। পুরী বা আমেদাবাদের রথযাত্রার কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, একসময় পৃথিবীর অন্যতম সেরা ও বিশাল রথযাত্রা হত বাংলাদেশের ঢাকার কাছে ধামরাইয়ে (Dhamrai Rath Yatra)। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই রথযাত্রার ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনই কষ্টেরও। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এর ওপর নির্মম আঘাত হেনেছিল। তার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল রথ, যদিও মুছে ফেলা যায়নি ভক্তদের মনের বিশ্বাসকে।

    ৫০০ বছরের পুরানো উৎসব

    ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ধামরাই জনপদ। এখানকার রথযাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় ৫০০ বছর আগে (500 Year Old Rath Yatra Bangladesh)। পুরানো ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৬৭২ সালেও এই রথযাত্রা উৎসব হত খুব ধুমধাম করে। উৎসব দেখতে একসময় শুধু বাংলা নয়, ওড়িশা, অসম, মায় নেপাল থেকেও হাজার হাজার মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতেন। টানা এক মাস ধরে চলত মেলা। হত নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ধামরাইয়ের বিখ্যাত যশোমাধব মন্দির থেকে যাত্রা শুরু করত রথ। শেষ হত আধ কিলোমিটার দূরের গোপীনগর মন্দিরে গিয়ে।

    পুরীর রথের চেয়েও বড় ধামরাইয়ের রথ (Dhamrai Rath Yatra)!

    উনিশ শতকের শুরুর দিকে ধামরাইয়ের জমিদাররা মিলে একটি বিশাল কাঠের রথ তৈরি করেন। এলাকার সেরা কাঠমিস্ত্রিরা প্রায় এক বছর ধরে এই রথটি বানিয়েছিলেন। রথটি ছিল প্রায় ৬০ ফুট উঁচু (60 feet tall Dhamrai Rath)। পুরীর বর্তমান রথটি ৪৪ ফুট উঁচু, অর্থাৎ ধামরাইয়ের রথটি ছিল তার চেয়েও ঢের বড়। রথে ছিল ৩২টি বিশাল কাঠের চাকা। রথটি টানার জন্য প্রায় ১,০০০ কেজি ওজনের মোটা দড়ি ব্যবহার করা হত।

    দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা ও ১৯৭১-এর কালো অধ্যায়

    ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পর জমিদারি প্রথা লোপ পেলে রথযাত্রার আয়োজকরা পড়েন ঘোর সঙ্কটে। তখন গর্বের এই ঐতিহ্য বাঁচাতে এগিয়ে আসেন টাঙ্গাইলের বিখ্যাত দানবীর তথা সমাজসেবক রণদাপ্রসাদ সাহা (আরপি সাহা)। তিনি নিজের খরচে এই রথ ও উৎসবের সব দায়িত্ব নেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের (Bangladesh) মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সব ওলটপালট হয়ে যায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রণদাপ্রসাদ ও তাঁর ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর আর খোঁজ মেলেনি তাঁদের।

    রথ পুড়িয়ে দিল পাক বাহিনী

    পাক হানাদারদের অত্যাচারের জেরে যে কেবল রণদাপ্রসাদ ও তাঁর জওয়ান ছেলে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তা নয়, দুষ্কৃতীরা ইতিহাসখ্যাত এই রথে আগুন লাগিয়ে দেয়। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১০ জুন। রোষের আগুনে সপ্তাহখানেক ধরে ধিকধিক করে পুড়ে গিয়েছিল ধামরাই তথা তামাম বাংলার এই গর্ব। রথ পুড়ে যাওয়ায় ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে ধামরাইয়ে রথযাত্রা হয়নি। বাংলাদেশের ৫০০ বছরের এই রথযাত্রার ইতিহাসে (500 Year Old Rath Yatra Bangladesh) এটি ছিল একটি বড় আঘাত।

    নতুন করে পথ চলা ও ভারতের সাহায্য

    স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর ১৯৭৩ সালে একটি ছোট রথ বানিয়ে ফের শুরু হয় উৎসব। যদিও আগের সেই জাঁকজমক আর ছিল না। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের আসাও অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এরপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। ২০০৯ সালে ভারত সরকার (Indian govt) ধামরাইয়ের এই ঐতিহ্য বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় ২০১০ সালে একটি নতুন রথ নির্মাণ করে শুরু হয় উৎসব। এই নতুন রথটি ৪০ ফুট উঁচু, চাকা রয়েছে ১৬টি। সেই থেকে ফি বছর উৎসবে টানা হয় এই রথটিই। আজও ধামরাইয়ে প্রতি বছর রথযাত্রা হয়। বসে মেলাও। রথের রশি ছুঁয়ে পুণ্য অর্জন করে হাজারো ভক্ত। আগের সেই অতিকায় রথ আর নেই, ফুরিয়ে গিয়েছে সেদিনের সেই জাঁকও। তবে ধামরাইয়ের বাসিন্দাদের মন থেকে মুছে ফেলা যায়নি সেই ৬০ ফুটের কাঠের রথ এবং তাকে কেন্দ্র করে সপ্তাহভর উৎসবের ছবি। বস্তুত, এটাই ধামরাইয়ের রথযাত্রার আসল শক্তি।

  • Ram Mandir: ‘মন্দিরের টাকায় মসজিদের পাঁচিল!’, রাম মন্দির বিতর্কে সপা-কে নজিরবিহীন তোপ যোগী আদিত্যনাথের

    Ram Mandir: ‘মন্দিরের টাকায় মসজিদের পাঁচিল!’, রাম মন্দির বিতর্কে সপা-কে নজিরবিহীন তোপ যোগী আদিত্যনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরি বিতর্ককে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তুমুল পারদ চড়ল। দানবাক্স থেকে টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিজেপি সরকারকে যখন সমাজবাদী পার্টি (SP) ও কংগ্রেস কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই অযোধ্যার মাটি থেকে বিরোধীদের অতীত মনে করিয়ে দিয়ে পাল্টা নজিরবিহীন আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের।

    যোগীর বিস্ফোরক অভিযোগ (Ram Mandir)

    অযোধ্যার এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) বলেন, “সমাজবাদী পার্টির নেতারা একসময় মন্দিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের টাকা পকেটে পুরতেন। এরপর সেই মন্দিরের অনুদানের টাকা ডাইভার্ট করে মসজিদের পাঁচিল তৈরিতে ব্যবহার হত।”

    বিরোধীদের গিরগিটির সাথে তুলনাও করলেন ইউপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য়নাথ। “কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি এখন অযোধ্যার প্রতি ভক্তির কথা বলছে! অথচ এই কংগ্রেসই একসময় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে বলেছিল ভগবান রামের কোনও অস্তিত্ব নেই। আর সমাজবাদী পার্টি তো রামভক্ত কারসেবকদের উপর গুলি চালিয়েছিল। আজ হঠাৎ তাদের রামভক্তি জেগে উঠল কী করে?” প্রশ্ন যোগীর।

    ‘সনাতন ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত!’ সুর চড়াল সমাজবাদী পার্টি

    অন্যদিকে, রাম মন্দিরের (Ram Mandir) দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকার অনুদান এবং সোনা-রুপোর গয়না গায়েব হওয়ার ঘটনাকে  ‘বিরাট কেলেঙ্কারি’ বলে উল্লেখ সমাজবাদী পার্টির (SP)। সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের কাঠগড়ায় যোগী সরকার। অভিযোগ,”সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগের দান ও কোটি কোটি টাকার অনুদান ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেনি মন্দির ট্রাস্ট। দানবাক্স থেকে টাকা গায়েব হয়ে যাওয়া আসলে কোটি কোটি সনাতনীদের ভাবাবেগে বড় আঘাত। রাজ্যের বিজেপি সরকার বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলার মতো আসল সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিরোধীদের উপর উল্টে আক্রমণ করছে। মেরুকরণের রাজনীতি করছে।”

    চুরির ঘটনায় যোগীর কঠোর অবস্থান

    রাম মন্দিরের (Ram Mandir) অনুদান চুরি নিয়ে নিজের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। তাঁর সাফ বার্তা, “কাউকেই রেয়াত করা হবে না। মন্দিরের ট্রাস্ট নিজেই চুরির ঘটনাটি সরকারের নজরে এনে তদন্ত চেয়েছিল। সরকার অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে শনাক্ত করে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে ও তাদের গ্রেফতারও করা হয়েছে।” উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “অপরাধীদের যখন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তখন গুটি কয়েক মানুষের পাপের জন্য পুরো রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে বদনাম করার এবং অযোধ্যাকে অপমান করার কোনও অধিকার বিরোধীদের নেই।”

    এদিকে, ২০২৭-এই রয়েছে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে তপ্ত রাজনীতি। উত্তরপ্রদেশে নিজেদের ঘাঁটি শক্ত করতে মরিয়া বিরোধীরা, বারাবার সরকারের দিকেই আঙুল তুলছে। যদিও বিরোধীদের চক্রান্তে একেবারেই কান দিতে নারাজ যোগী সরকার। বিরোধীদের বারবার নিজেদের জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেন ‘বুলডোজার বাবা’। এখন দেখার কোন দিকে মোড় নেয় এই বিতর্ক?

  • Puri Rath Yatra: পুরীর রথযাত্রা উৎসব বিঘ্নহীন করতে মোতায়েন ১২ হাজার পুলিশ, ভক্তদের নিরাপত্তায় উড়বে ড্রোনও

    Puri Rath Yatra: পুরীর রথযাত্রা উৎসব বিঘ্নহীন করতে মোতায়েন ১২ হাজার পুলিশ, ভক্তদের নিরাপত্তায় উড়বে ড্রোনও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ জুলাই শুরু হচ্ছে পুরীর রথযাত্রা উৎসব। এই উপলক্ষে প্রতি বছর লাখ লাখ ভক্ত সমাগম ঘটে ওড়িশার এই শহরে। বিশ্বখ্যাত পুরীর রথযাত্রাকে (Puri Rath Yatra) ঘিরে এবার আরও কড়া প্রশাসন। রথযাত্রা উৎসব নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরী জুড়ে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জল, স্থল এবং আকাশ-তিন ক্ষেত্রেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয় তৈরি করছে ওড়িশা পুলিশ।

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ড্রোন প্রযুক্তি (Rath Yatra Security)

    ওড়িশা পুলিশের ডিজিপি (DGP) ওয়াই বি খুরানিয়ার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকে ভক্তদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আকাশপথে কড়া নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হবে ড্রোন। অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রোনের উড়ান রুখতে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে অ্যান্টি-ড্রোন (anti-drone)  প্রযুক্তির সাহায্যও। সমুদ্রে ও উপকূলীয় এলাকায় কড়া নজরদারির জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy), কোস্ট গার্ড এবং ওড়িশা মেরিন পুলিশ একযোগে কাজ করবে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য জাহাজে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) মোতায়েন থাকবে। রথে রশিতে টান পড়ার সময় ভক্তদের হুড়োহুড়ি (stampede) এড়াতে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ব্যারিকেড ও সুশৃঙ্খল দেবদর্শনের ব্যবস্থা।

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা

    মেলা প্রাঙ্গণের পাশাপাশি গোটা পুরী শহরকে সুরক্ষিত রাখতে প্রায় ১২,০০০ পুলিশ কর্মী দিনরাত ডিউটি করবেন। ওড়িশা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF, BSF) এবং আরপিএফও। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় হাই অ্যালার্টে থাকবে বেশ কিছু বিশেষ দল, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল (Bomb Disposal Squad), স্নিফার ডগ বা কে-৯ স্কোয়াড (Sniffer Dogs / K-9 Squad), এনএসজি (NSG) প্রশিক্ষিত বিশেষ কমান্ডো বাহিনী (SOG), এবং স্পেশাল টেকনিক্যাল ইউনিট (STU)।

    অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা

    উৎসবে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পকেটমার, ছিনতাইকারী বা ট্রেনের ভেতরে দুষ্কর্ম করা দুষ্কৃতীরা যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেজন্যও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত ও দাগী অপরাধীদের ছবি বড় বড় পাবলিক প্লেস, রেল স্টেশন ও থানায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও আরপিএফ (RPF) তাদের সহজেই শনাক্ত করতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে পুরী শহরের সমস্ত হোটেল, লজ, ধর্মশালা, মঠ এবং বাস স্ট্যান্ডগুলিতে নিয়মিত তল্লাশি ও চেকিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব (Puri Rath Yatra) যাতে শান্তিপূর্ণ এবং বিঘ্নহীনভাবে শেষ হয়, তাই সবরকম প্রস্তুতি সেরে রেখেছে ওড়িশা প্রশাসন।

  • FIR Against Abhishek: ‘সেবাশ্রয়’ নাকি সর্বনাশের আখড়া? অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের তৃতীয় এফআইআর

    FIR Against Abhishek: ‘সেবাশ্রয়’ নাকি সর্বনাশের আখড়া? অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের তৃতীয় এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজ্ঞাপনের চোখা চমক বনাম বাস্তবের করুণ ছবি! বিনামূল্যে চিকিৎসারই পুরস্কার? সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার বদলে আস্ত পা-টাই খোয়ালেন অসহায় মহিলা। প্রশ্নের মুখে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’। সেবাশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যেই এবার আরও চাপ বাড়ল তৃণমূলের এই নেতার। পা খুইয়ে রবীন্দ্রনগর থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR Against Abhishek) দায়ের দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার আক্রার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসের। ‘সেবাশ্রয়ে’র অনিয়ম ও গাফিলতি নিয়ে সাংসদের বিরুদ্ধে এটি তৃতীয় এফআইআর (FIR Against Abhishek)। পাশাপাশি, অভিষেকের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধেও দায়ের হয়েছে এফআইআর (FIR)।

    ‘সেবাশ্রয়ে’র ভুল ওষুধেই মর্মান্তিক পরিণতি?

    রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘সেবাশ্রয়ে’র বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ সামনে আসছে। হাতুড়ে কিংবা মেডিক্যাল পড়ুয়াদের দিয়ে চিকিৎসা থেকে করানো থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) ওষুধ বিলি করার মতো মারাত্মক সব অভিযোগ রয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। মালতীর ঘটনাই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ঘটনার সূত্রপাত মাস দু’য়েক আগেই। হাঁটুর তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে এলাকার একটি ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে গিয়েছিলেন মালতী। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কিছু ওষুধ দেন। অভিযোগ, সেই ওষুধ খাওয়ার পর থেকেই তাঁর পায়ের অবস্থার চরম অবনতি হয়, যন্ত্রণা আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে।

    বিনামূল্যে চিকিৎসার নামে মোটা টাকা দাবি!

    শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে মালতি বাধ্য হন অন্য একটি সেবাশ্রয় ক্যাম্পে। অভিযোগ, সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা চান। তাহলে, সাংসদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ক্যাম্পেনিংয়ের কী হল? অভিযোগ, টাকা দিতে না চাওয়ায় মালতীকে সরকারি হাসপাতালে রেফার করে দেন ওই ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের কর্তারা। এরপর মালতি ছুটেছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। প্রথমে এমআর বাঙুর (M.R. Bangur), পরে সেখান থেকে চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল ও শেষে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। সেখানেই মালতীর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, সংক্রমণ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়া আটকাতে ডান পা-টি কেটে বাদ দেওয়া (Amputation) ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।

    বাদ পড়ল পা, তাও মুখে কুলুপ ‘সেবাশ্রয়’

    মালতির করুণ পরিণতির পর বহুবার অভিষেক ও সেবাশ্রয় ক্যাম্পের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, তাঁরা বিষয়টি পাত্তাই দিতে চাননি বলে অভিযোগ। অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের উপস্থিতিতে পুলিশের দ্বারস্থ হন অসহায় মালতির পরিবার।

    স্বাস্থ্যভবনের ভূমিকা

    এদিকে ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে। নড়েচড়ে বসেছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। ভুক্তভোগী মহিলা ও তাঁর পরিবারকে সমস্ত নথিপত্র-সহ সোমবার সকাল ১১টায় সরাসরি স্বাস্থ্যভবনে (Swasthya Bhawan) ডেকে পাঠানো হয়েছে। এবার তাঁদের মুখেই পুরো অভিযোগ শুনবেন স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।

    চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ধুমধাম করে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু বাস্তবে একের পর এক ক্যাম্পে অনিয়ম, চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। খোদ সাংসদ এবং তাঁর পিএর নামে এফআইআর দায়ের হওয়ায় এই প্রকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন খাদের কিনারে। রাজ্যে পালাবদলের পর যেভাবে একের পর এক মামলায় জর্জরিত হচ্ছেন অভিষেক, তাতে তাঁর চাপ যে আরও কয়েকগুণ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

LinkedIn
Share