Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Budgam Encounter: বডগামে এনকাউন্টারে খতম দীর্ঘদিনের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ শীর্ষ লস্কর কমান্ডার ‘মুসা’

    Budgam Encounter: বডগামে এনকাউন্টারে খতম দীর্ঘদিনের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ শীর্ষ লস্কর কমান্ডার ‘মুসা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে বড়সড় সাফল্য নিরাপত্তাবাহিনীর। বডগাম জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকায় এনকাউন্টারে খতম হল লস্কর-ই-তৈবার (LeT) এক শীর্ষস্তরের জঙ্গি কমান্ডার। নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, নিহত জঙ্গির নাম সুলেমান শাহ, ওরফে ‘মুসা’। তাকে ‘আসিফ ফৌজি’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন রিপোর্টে। একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার যোগ ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে তার খোঁজ চালাচ্ছিল নিরাপত্তাবাহিনী।

    তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ভারতীয় সেনার চিনার কর্পস তাদের প্রাথমিক বিবৃতিতে নিহত জঙ্গির পরিচয় প্রকাশ করেনি। সেনা জানিয়েছে, বডগামের ইউসমার্গের কোরাগ এলাকায় নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানের সময় সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে এবং জঙ্গিদের চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা গুলি চালায়। পাল্টা গুলির লড়াইয়ে এক জঙ্গি খতম হয়।

    কোরাগ থেকে দুধপাথরি—কীভাবে শুরু হল অভিযান?

    মঙ্গলবার ইউসমার্গের উঁচু এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পাওয়ার পর অভিযান শুরু করে নিরাপত্তাবাহিনী। ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ দল এলাকায় তল্লাশি চালায়। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, কোরাগ এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পেয়ে জওয়ানরা এগিয়ে গেলে জঙ্গিরা গুলি চালায়। এরপরই শুরু হয় তীব্র গুলির লড়াই।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এনকাউন্টারের সময় বডগামের প্রত্যন্ত দুধপাথরি জঙ্গল এলাকায় সুলেমান শাহ ওরফে মুসা নিহত হয়। অভিযান শেষ হওয়ার পরও এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়, কারণ আরও কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল বাহিনী।

    সেপ্টেম্বরের গোড়াতেও হয়েছিল অভিযান, পালিয়ে গিয়েছিল মুসা

    মুসাকে ঘিরে নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতা অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসের গোড়ায় ইউসমার্গের পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানে মুসা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসির নিহত হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এরপর থেকেই মুসা-সহ তার সহযোগীদের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল বলে আধিকারিকদের দাবি।

    প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসির এবং মুসা দু’জনেই পির পঞ্জাল পর্বতশ্রেণির দুর্গম জঙ্গলে সক্রিয় ছিল। নিরাপত্তাবাহিনীর চাপ বাড়ার পর তারা ইউসমার্গের দিকে সরে গিয়েছিল বলে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি। ইয়াসির নিহত হওয়ার পর মুসাকে খুঁজে বের করার অভিযান আরও জোরদার করা হয়।

    পির পঞ্জালের দুই দিকেই হামলার অভিযোগ

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, সুলেমান শাহ ওরফে মুসা শুধু বডগাম বা কাশ্মীর উপত্যকার কোনও একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। পির পঞ্জাল পর্বতশ্রেণির দুই দিকেই একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার যোগ ছিল বলে অভিযোগ।

    ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পুঞ্চ-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলায় তার সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল বলে আধিকারিকদের দাবি। ওই হামলাগুলিতে একাধিক সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছিলেন।

    এছাড়াও নিরাপত্তা সূত্রগুলি মুসার নাম ২০২৩ সালের ডেরা কি গলি হামলা, ২০২৪ সালের গান্ডেরবাল টানেল হামলা এবং ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত করেছে। তবে এই হামলাগুলিতে তার নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে সীমিত রয়েছে।

    পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ

    বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, মুসা ছিল পাকিস্তানি লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত এক সক্রিয় অপারেটিভ। দুর্গম জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার সক্রিয়তার কারণে তাকে ধরতে নিরাপত্তাবাহিনীকে একাধিক অভিযান চালাতে হয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।

    তার মৃত্যুতে জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় লস্কর নেটওয়ার্কের উপর কী প্রভাব পড়ে, তা এখন নজরে রাখার বিষয়। বিশেষ করে পির পঞ্জাল সংলগ্ন জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকাগুলিতে মুসার সহযোগীদের গতিবিধি এবং কোনও নতুন অনুপ্রবেশ বা স্লিপার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে নিরাপত্তা মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    অভিযান এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে

    মুসা নিহত হলেও অভিযানকে শুধুমাত্র একজন জঙ্গির মৃত্যুতেই সীমাবদ্ধ রাখছে না নিরাপত্তাবাহিনী। এনকাউন্টারের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। দুর্গম জঙ্গল এবং পাহাড়ি ভূখণ্ডে আরও কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, অস্ত্র বা গোলাবারুদ মজুত রয়েছে কি না—সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, ইউসমার্গ-কোরাগ-দুধপাথরি অঞ্চলে ধারাবাহিক অভিযানের পর লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত এক জঙ্গির মৃত্যু ঘটল। সেপ্টেম্বরের গোড়ায় ইয়াসিরের মৃত্যুর পর এবার মুসারও মৃত্যু হওয়ায় পির পঞ্জাল অঞ্চলে সক্রিয় ওই জঙ্গি গোষ্ঠীর পরবর্তী গতিবিধির উপর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • West Bengal Dengue: পুজোর মুখে ‘অসুর’ ডেঙ্গি! রাজ্যে আগামী এক মাস হাই রিস্ক, বাড়তি সতর্ক প্রশাসন

    West Bengal Dengue: পুজোর মুখে ‘অসুর’ ডেঙ্গি! রাজ্যে আগামী এক মাস হাই রিস্ক, বাড়তি সতর্ক প্রশাসন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর মাত্র কয়েক দিন! তারপরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। কিন্তু উৎসবের এই মরশুমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। তাই ডেঙ্গির দাপট কমাতে একাধিক দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। দুর্গাপুজোর সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যাতে কম হয়, সে জন্য নেওয়া হচ্ছে বিশেষ পরিকল্পনা।

    আগামী এক মাস ‘হাই রিস্ক পিরিয়ড’

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গির পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আগামী এক মাসকে ডেঙ্গির জন্য ‘হাই রিস্ক পিরিয়ড’ হিসেবে দেখছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহে রাজ্যে নতুন করে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

    উত্তরবঙ্গের তুলনায় দক্ষিণবঙ্গে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। গত ১৫ দিনে সেখানেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্তের খবর মিলেছে। এরপরেই রয়েছে নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং কলকাতা। এই জেলাগুলিতেও ডেঙ্গি সংক্রমণ যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর।

    প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন দেড়শোর বেশি

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। বর্ষার জেরে এই সময় মশাবাহিত রোগের প্রকোপ সাধারণত বাড়ে। সেই আশঙ্কাই এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রতিদিন গড়ে দেড়শোর বেশি মানুষ নতুন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে কয়েকশো ডেঙ্গি রোগী চিকিৎসাধীন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

    ডেঙ্গি মোকাবিলায় মুখ্যসচিবের বৈঠক

    ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি বৈঠক করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভার শীর্ষকর্তাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক এবং বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক শীর্ষকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ডেঙ্গি প্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে সেখানে মশা নিধনে বাড়তি প্রশাসনিক সক্রিয়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসকে ‘হাই রিস্ক পিরিয়ড’ ধরে প্রশাসনের সব স্তরকে সক্রিয় থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    পুজোর আগে জমা জলে বাড়তি নজর

    নিম্নচাপ এবং লাগাতার বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জমা জলের সমস্যা তৈরি হয়েছে। একাধিক জেলায় জমা জলের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের একাংশের মতে, জমা জল মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

    তাই পুজোর মরশুমে ডেঙ্গির দাপট নিয়ন্ত্রণে জমা জলের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ মহল থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোথায় কোথায় জল জমছে, তার সঠিক তথ্য রাখতে হবে। সেই অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    পঞ্চায়েত ও পুরসভাকে বাড়তি সক্রিয়তার নির্দেশ

    নবান্নে সম্প্রতি প্রশাসনের শীর্ষ মহলের বৈঠকে মুখ্যসচিব পঞ্চায়েত এবং পুরসভার কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকার কোথায় জল জমেছে, সে সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত মশার লার্ভা নষ্ট করার কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

    নর্দমা পরিষ্কারের পাশাপাশি নিয়মিত মশানিধন স্প্রে, রাসায়নিক তরল ও পাউডার রাস্তা এবং নর্দমার পাশে প্রয়োগ করার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। এলাকাভিত্তিক এই কাজগুলি ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তার উপরেও নজরদারি করতে বলা হয়েছে। এজন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    জমা জলের ‘আতুরঘর’ ভাঙাই বড় চ্যালেঞ্জ

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জমা জলের সমস্যা কমাতে পারলে রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা তুলনামূলক সহজ হবে। কারণ, জমা জলেই মশার সহজে বংশবিস্তার হয়। তাই মশার ‘আতুরঘর’ চিহ্নিত করে তা নষ্ট করাই এখন অন্যতম বড় লক্ষ্য। তবে বর্ষার মরশুম শেষ হয়ে গেলেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

    গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেও ডেঙ্গির প্রকোপ মারাত্মক আকার নিয়েছে। তাই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রুখতে আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    স্কুলগুলিতেও বাড়তি নজর

    প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য দফতরের পাশাপাশি পুর ও পঞ্চায়েত দফতরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ চলছে। শিক্ষা দফতরের সঙ্গেও সমন্বয় করে ডেঙ্গি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    কারণ, ডেঙ্গির প্রকোপে শিশুদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। স্কুল থেকেও শিশুদের মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই পুজোর আগে স্কুলগুলিতে মশার দাপট কমানোর দিকেও বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, উৎসবের মরশুমে ডেঙ্গির প্রকোপ যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা।

  • Nandigram By-Election: নন্দীগ্রামে বড় ধাক্কা কংগ্রেসের, বিজেপির হাসিরানি রথের প্রার্থীপদ বাতিলের আবেদন খারিজ হাইকোর্টে

    Nandigram By-Election: নন্দীগ্রামে বড় ধাক্কা কংগ্রেসের, বিজেপির হাসিরানি রথের প্রার্থীপদ বাতিলের আবেদন খারিজ হাইকোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেল জাতীয় কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের (Nandigram by Election) বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের প্রার্থীপদ বাতিল করার দাবি জানিয়ে কংগ্রেস যেই আবেদন জানিয়েছিল, সেটা খারিজ করে করে দিল হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মঙ্গলবার কংগ্রেসের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। যার ফলে হাসিরানি রথের নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা রইল না। শুক্রবার এই মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছিল আদালত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক নিহত চন্দ্রনাথ করের মা হলেন হাসিরানি রথ। তিনিই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন। আর তাঁরই নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য নিয়ে আপত্তি রয়েছে কংগ্রেসের।

    হাসিরানি রথের মনোনয়নে আপত্তি

    হাসিরানির নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ ছিল যে, নির্বাচন কমিশনের কাছে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে হাসিরানি যে মাধ্যমিকের শংসাপত্র জমা দিয়েছেন, তাতে ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাশের কথা বলা আছে। অথচ, প্রার্থী জানিয়েছেন, তাঁর বয়স ৬০ বছরের বেশি। সেই হিসেবে ১৯৬৬ সাল নাগাদ তাঁর জন্ম। কী ভাবে জন্মের আগেই মাধ্যমিক পাশ করে ফেললেন তিনি, তা নিয়ে কটাক্ষ করে কংগ্রেস। তা নিয়েই হাইকোর্টে মামলা করেছিল তারা। কংগ্রেসের দাবি, হয় হাসিরানি রথ নিজের বয়স ভুল বলছেন। অথবা তিনি মাধ্যমিক পাসের যেই সার্টিফিকেট দিয়েছেন, সেটা জাল। আর সেই কারণেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করা হয়েছিল।

    কেন খারিজ কংগ্রেসের আবেদন

    সাধারণত কোনও প্রার্থী হলফনামা জমা দিলে তার তথ্য স্ক্রুটিনিতে দেখেন রিটার্নিং অফিসার। এ ক্ষেত্রে কমিশনের বক্তব্য হল, ওই স্ক্রুটিনির সময় কেউ আপত্তি তুললে তা বৈধ। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার পর মামলাকারীর এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার আর এক্তিয়ার নেই। জনস্বার্থ মামলা হলে এই প্রশ্ন তোলা যেত। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় যেহেতু কোনও আপত্তি আসেনি, তাই পরে আর কোনও পদক্ষেপ করা যায় না। মাধ্যমিকের শংসাপত্র জাল কি না, তা প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের জোরালো কারণ হতে পারে না বলেও কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন। হাসিরানির আইনজীবী জয়দীপ কর শুক্রবারের শুনানিতে আদালতে জানান, যে সময় হলফনামার তথ্যের ভিত্তিতে আপত্তি জানানোর কথা ছিল, সেই সময় তা করা হয়নি। এখন আদালত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে পারে না। তা ছাড়া, এটি ইচ্ছাকৃত কোনও ভুল নয়। তাই হাসিরানিকে সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন আইনজীবী। শুক্রবার বিচারপতি রাও সব পক্ষের বক্তব্যই শোনেন। শুনানি শেষে রায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। মঙ্গলবার কংগ্রেসের করা মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার কথা জানান বিচারপতি।

  • Social Media Accounts Rule: ১৮ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নয়? নাবালকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রকে বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    Social Media Accounts Rule: ১৮ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নয়? নাবালকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রকে বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক ক্লিকেই অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলছে বাচ্চারা (Minors Social Media Account)। কিন্তু ভারতীয় আইন অনুযায়ী এটি কতটা সঙ্গত? ১৮ বছরের কম বয়সিরা (Social Media Age Limit) কি আদৌ কোনও ডিজিটাল চুক্তিতে সই করতে পারে? এই নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সের কম বয়সি অর্থাৎ নাবালকরা কোনও আইনি চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে না (Child Online Safety)। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার আইনি শর্তাবলী মেনে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য বিধিবদ্ধ আইনি নিয়মের আওতায় আনা যায় কি না, তা কেন্দ্রকে খতিয়ে দেখতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা-র বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানি হয়। জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্স (Just Rights for Children Alliance বা JRCA)-এর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত এই পর্যবেক্ষণ করে।

    কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    শুনানিকালে বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কেন্দ্রের আইনজীবী অর্থাৎ ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিষয়টি আপনাদের গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ যেকোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলেই ডিজিটাল ‘টার্মস অফ সার্ভিস’ বা ব্যবহারের শর্তাবলী মেনে নিতে হয়, যা মূলত একটি আইনি চুক্তি বা কন্ট্রাক্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।” এরপরই ১৮৭২ সালের ঐতিহাসিক ‘ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্ট’-এর (ভারতীয় চুক্তি আইন) প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বাগচী বলেন, “এই আইনের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও ১২ বা ১৫ বছরের নাবালক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আইনি চুক্তি সই করতে পারে না। নাবালকদের সঙ্গে করা এই ধরনের যেকোনও চুক্তি বা চুক্তিপত্র শুরু থেকেই সম্পূর্ণ বেআইনি ও বাতিল বলে গণ্য হয় (void ab initio)।” ফলে একজন নাবালক একা কী করে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এই চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে, প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের।

    শুধু নির্দেশিকা নয়, প্রয়োজন আইনি কাঠামো

    বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, নাবালকদের সুরক্ষা শুধুমাত্র নির্দেশিকা বা গাইডলাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এই সুরক্ষাগুলিকে সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টারমিডিয়ারিদের নিয়ন্ত্রণকারী আইনি কাঠামোর আওতায় আনা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে বলেন আদালত। ভারতে পরিষেবা পরিচালনা করা সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছে বেঞ্চ। বিশেষ করে শিশু ও নাবালকদের সংক্রান্ত আইনি বিধানগুলি মেনে চলার বিষয়টির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ১৮ বছরের আইনি সীমা নিয়ে প্রশ্ন

    মামলাকারীদের মূল যুক্তির একটি হল, ভারতীয় আইনে ১৮ বছরের কম বয়সি ব্যক্তিরা স্বাধীনভাবে অনেক ধরনের আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি করতে পারেন না। অথচ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে সম্মতি দিতে হয়। তাহলে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও শিশু কীভাবে স্বাধীনভাবে এমন অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালনা করতে পারে—সেই প্রশ্নই তুলেছে জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্স। জেআরসিএ-র হয়ে সিনিয়র আইনজীবী এইচ এস ফুলকা আদালতে জানান, ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন কাঠামো সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তাঁর যুক্তি, নাবালকদের চুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান ভারতীয় আইনেই প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে।

    অভিভাবকের সম্মতির প্রস্তাব

    কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তিনি ডিজিটাল পার্সোনাল ডাটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট ২০২৩ (Digital Personal Data Protection Act, 2023)-এর কথাও উল্লেখ করেন। নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি (parental consent)-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও শিশু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট তৈরি করলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিগত সম্পর্কটি বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

    আইটি অ্যাক্টের ৭৯ নম্বর ধারাও আলোচনায়

    শুনানিতে ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট (Information Technology Act)-এর ৭৯ নম্বর ধারা নিয়েও আলোচনা হয়। এই ধারা অনলাইন ইন্টারমিডিয়ারিদের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে, নাবালকদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আদালতের সাম্প্রতিক শুনানির অর্থ এই নয় যে ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য গোটা দেশে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বরং কেন্দ্রকে এমন একটি বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, যা ভারতীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাবালকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

    শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক উদ্বেগ

    জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্সের (JRCA) আবেদনে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— অনলাইন গ্রুমিং, যৌন শোষণ, শিশু পাচার, সেক্সটরশন বা অনলাইনে যৌন হয়রানির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল, আচরণগত প্রোফাইলিং, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, সাইবারবুলিং, বয়সের অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শ। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ১৩ বছর বয়স থেকেই অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে ভারতের নাবালকদের সম্পর্কিত আইনি কাঠামোর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিও মামলাকারীরা আদালতের নজরে এনেছেন।

    ফের শুনানি কবে

    এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবার কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফের শুনানিতে ওঠে। এদিন বেঞ্চ নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রকে বলেছে শীর্ষ আদালাত। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মামলাটি ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে পারে।

     

     

     

     

     

  • Neeru Dhanda Shooting Gold: এশিয়ান গেমসে ইতিহাস নীরু ধান্ডার, ট্র্যাপে প্রথম ভারতীয় শুটার হিসেবে সোনা, ভাঙলেন এশিয়ান রেকর্ড

    Neeru Dhanda Shooting Gold: এশিয়ান গেমসে ইতিহাস নীরু ধান্ডার, ট্র্যাপে প্রথম ভারতীয় শুটার হিসেবে সোনা, ভাঙলেন এশিয়ান রেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের শুটিংয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন নীরু ধান্ডা। মঙ্গলবার এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ট্র্যাপ ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতে দেশের প্রথম শুটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পথে মহাদেশীয় রেকর্ডও ভেঙেছেন ভারতীয় এই শুটার। এদিনের সাফল্যে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার পদকের সংখ্যা বেড়ে হল ৫।

    বৃষ্টিভেজা ফাইনালে নীরুর দাপট

    মহিলাদের ট্র্যাপ ব্যক্তিগত ইভেন্টের যোগ্যতা পর্ব থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন নীরু। ফাইনালের আট প্রতিযোগীর মধ্যে তিনিই শেষ পর্যন্ত ২৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন। বৃষ্টির কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলেও ফাইনালে নিজের স্নায়ুর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন ভারতীয় শুটার।

    ফাইনালের প্রথম সিরিজেই পাঁচটির মধ্যে পাঁচটি টার্গেট ভেঙে শুরু করেন নীরু। দ্বিতীয় সিরিজে একটি টার্গেট মিস করলেও দ্রুত ছন্দে ফিরে আসেন। তৃতীয় সিরিজে ফের নিখুঁত পারফরম্যান্স করে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেন তিনি। চতুর্থ সিরিজ শেষে ২০টি শটের মধ্যে ১৯টি টার্গেট হিট করে সোনার দৌড়ে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেন।

    ২৫টি শটের পর নীরুর স্কোর ছিল ২৩, চিনের সুন ইউনং-এর ২১ এবং কুয়েতের হাজর আবদুলমালিকেরও ২১। এরপর শেষ ধাপে অসাধারণ সংযম দেখিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন নীরু। সুন ইউনং এবং হাজর ২১ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে পরবর্তী দুই স্থান দখল করেন। কাতারের রে বাসিল ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হন।

    যোগ্যতা পর্বেও শীর্ষে ছিলেন নীরু

    নীরুর সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শুধু ফাইনাল নয়, যোগ্যতা পর্বেও তিনি শীর্ষে ছিলেন। কাতারের রে বাসিলের সঙ্গে সমান স্কোরে যোগ্যতা পর্ব শেষ করেছিলেন তিনি। ফলে ফাইনালে টাই হলে নীরুর হাতে ছিল গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। ফাইনালে সেই সুবিধাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন ভারতীয় শুটার। শেষ পর্যন্ত ২৬ পয়েন্ট নিয়ে সোনার পদক নিশ্চিত করে ভারতীয় শুটিংয়ের ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করে ফেলেন তিনি।

    একই দিনে দলগত ইভেন্টেও রুপো

    নীরুর মঙ্গলবারের সাফল্য অবশ্য শুধু ব্যক্তিগত সোনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগেই মহিলাদের ট্র্যাপ দলগত ইভেন্টে নীরু ধান্ডা, আশিমা আহলাওয়াত এবং মনীষা কীর জুটি রুপোর পদক জিতেছিল। তিন ভারতীয় শুটারের সম্মিলিত স্কোর ছিল ৩২৮। ৩৪৬ স্কোর করে চিন সোনা এবং ৩২৫ স্কোর নিয়ে কুয়েত ব্রোঞ্জ জেতে। দলগত ইভেন্টে ভারতের হয়ে নীরুই ছিলেন সেরা পারফর্মার—১২৫টির মধ্যে ১১৮টি টার্গেট হিট করেন তিনি। অর্থাৎ, একই দিনে দলগত ইভেন্টে রুপো এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা—দুটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন নীরু।

    দুর্দান্ত এক বছরের পর এশিয়ান গেমসে সোনা

    নীরু ধান্ডার এই এশিয়ান গেমস সাফল্য তাঁর দুর্দান্ত ২০২৬ সালেরই ধারাবাহিকতা। জুলাইয়ে ইতালির লোনাতোয় মহিলাদের ট্র্যাপ ইভেন্টে নিজের প্রথম আইএসএসএফ বিশ্বকাপ সোনা জিতেছিলেন তিনি। এর আগে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এই ভারতীয় শুটার। ভারতীয় সেনার মার্কসম্যানশিপ ইউনিট-এর সদস্য নীরু বর্তমানে নায়েব সুবেদার পদে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক সাফল্যের ফলে ভারতীয় শটগান শুটিংয়েও তাঁর গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে।

    পারিবারিক অনুপ্রেরণায় শুটিং শুরু

    নীরুর শুটিং কেরিয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পারিবারিক অনুপ্রেরণাও। তাঁর মামাতো ভাই লক্ষয় শেওরান ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ট্র্যাপ ইভেন্টে রুপোর পদক জিতেছিলেন। তাঁকে দেখেই শুটিংয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল নীরুর। এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চেই লক্ষয়ের এক ধাপ এগিয়ে গেলেন নীরু। কাজিন যেখানে রুপো জিতেছিলেন, সেখানে নীরু ব্যক্তিগত ট্র্যাপ ইভেন্টে জিতে নিলেন সোনা।

    ভারতের পদক তালিকায় ৪৭

    নীরু ধান্ডার ব্যক্তিগত সোনা ভারতের এশিয়ান গেমস পদক তালিকাতেও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তাঁর সোনার ফলে ভারতের মোট পদকসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৭—এর মধ্যে রয়েছে ৫টি সোনা, ২১টি রুপো এবং ২১টি ব্রোঞ্জ।

    বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাইফেল ও পিস্তল বিভাগের তুলনায় ভারতীয় শুটিংয়ে শটগান বিভাগ থেকে ঐতিহাসিকভাবে বড় প্রতিযোগিতায় তুলনামূলক কম পদক এসেছে। সেই জায়গায় ট্র্যাপ ইভেন্টে নীরুর এই সাফল্য ভারতীয় শটগান শুটিংয়ের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    নীরু ধান্ডার সোনা তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত পদক নয়। এটি ভারতীয় মহিলা শুটিংয়ের নতুন মাইলফলক এবং এশিয়ান গেমসের ট্র্যাপ ইভেন্টে দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

  • NIA Raid West Bengal: বাংলায় স্লিপার সেল তৈরির ছক! বাংলাদেশি জঙ্গি মডিউলের খোঁজে রাজ্যের ৫ জায়গায় হানা এনআইএ-র

    NIA Raid West Bengal: বাংলায় স্লিপার সেল তৈরির ছক! বাংলাদেশি জঙ্গি মডিউলের খোঁজে রাজ্যের ৫ জায়গায় হানা এনআইএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার মাটিতে নিষিদ্ধ বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেল তৈরির চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার ভোর থেকে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় অভিযান চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দক্ষিণ দিনাজপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ অন্তত পাঁচটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।

    কী বলছে এনআইএ সূত্র?

    এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমে দায়ের হওয়া একটি জঙ্গিযোগের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য যোগসূত্রের সন্ধান মেলে। সম্প্রতি অসমে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তার সঙ্গে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর যোগ থাকার তথ্য সামনে আসে। তার ল্যাপটপ ও অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করেও বাংলায় সংগঠনের কার্যকলাপ সম্পর্কে বেশ কিছু সূত্র পাওয়া যায় বলে খবর।

    তদন্তকারীদের দাবি, সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি এবং তাদের সংগঠনের দিকে টেনে আনার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রাজ্যের কয়েকটি সম্ভাব্য মডিউল ও স্লিপার সেলের সন্ধানে মঙ্গলবারের অভিযান বলে সূত্রের খবর।

    হরিরামপুর, মঙ্গলকোট, ডায়মন্ড হারবারে অভিযান

    • ● দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের বংশীহারী ব্লকের মুন্ডেহের গ্রামে এনআইএ-র একটি দল অভিযান চালায়। সেখানে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে।
    • ● পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামেও তল্লাশি চালানো হয়। সূত্রের খবর, সেখান থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
    • ● দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার এলাকাতেও এনআইএ-র একটি দল পৌঁছে অভিযান শুরু করেছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের অন্তত পাঁচটি জায়গায় মঙ্গলবার একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।

    তল্লাশিতে এখনও পর্যন্ত কী কী নথি বা ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার হয়েছে, কিংবা কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

    অসমের তদন্তেই মিলেছিল বাংলার যোগ

    এই অভিযানের সূত্র রয়েছে অসমে ‘ইমাম মাহমুদুর কাফিলা’ নামে একটি সংগঠনকে ঘিরে হওয়া তদন্তে। তদন্তকারীদের দাবি, সংগঠনটি জেএমবি-র ছায়া সংগঠন হিসেবে কাজ করে। চলতি বছরের গোড়ায় অসম পুলিশের হাতে সংগঠনটির একাধিক সদস্য গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্তে অসমের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরাতেও তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে থাকার তথ্য সামনে আসে।

    ওই তদন্তেই শাদ রাডি নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে আসে বলে সূত্রের খবর। অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে মুর্শিদাবাদে আত্মীয়দের সাহায্যে সে ঘাঁটি তৈরি করেছিল। ভারতীয় পরিচয় তৈরির জন্য ভোটার তালিকাতেও নাম তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    এই মামলায় গুয়াহাটির বিশেষ এনআইএ আদালতে ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে আরও কয়েকটি সম্ভাব্য স্লিপার সেলের তথ্য পাওয়া যায় বলে তদন্তকারীদের দাবি। মঙ্গলবারের অভিযান সেই তথ্য যাচাইয়ের অংশ বলে সূত্রের খবর।

    ভুয়ো নথি থেকে নতুন সদস্য সংগ্রহ, নজরে একাধিক দিক

    তদন্তকারীদের সন্দেহ, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলির কয়েকটি মডিউল পশ্চিমবঙ্গে স্থানীয় যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করেছে। ভুয়ো নথি তৈরি করে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

    জেএমবি-র পাশাপাশি আনসারুল্লা বাংলা টিম (ABT)-এর মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে যোগাযোগ তৈরি, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের পরিকাঠামো তৈরির চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই দিকগুলি তদন্ত করছেন গোয়েন্দারা।

    এর আগেও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স এবং এনআইএ-র অভিযানে এই ধরনের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে আগের তদন্তে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে অসমের মামলায় উঠে আসা নতুন সূত্র মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও তদন্তের আওতায়

    এনআইএ-র তদন্তে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের দাবি, ওই সময় জেল থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েকজন জেএমবি সদস্য ফের সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে। তাদের কেউ পশ্চিমবঙ্গে থাকা পুরনো যোগাযোগ ব্যবহার করে স্লিপার সেল সক্রিয় করার চেষ্টা করেছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

    চলতি মাসের শুরুতে এনআইএ-র কলকাতা শাখা বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মামলার তদন্তভার নেয়। ওই মামলাগুলিতেও একাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    ফলে অসমের মামলায় পাওয়া তথ্য, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং কলকাতা শাখার হাতে থাকা তদন্ত—এই তিনটি সূত্রের ভিত্তিতেই বাংলায় সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিস্তার খতিয়ে দেখছে এনআইএ। মঙ্গলবারের একযোগে তল্লাশি সেই তদন্তেরই পরবর্তী ধাপ বলে জানা যাচ্ছে।

  • ED in Indranil Sen’s House: প্রতি বছর কোটি টাকার কারবার! দুর্গাপুজোয় ৫০-৬০ কোটির দুর্নীতি, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি

    ED in Indranil Sen’s House: প্রতি বছর কোটি টাকার কারবার! দুর্গাপুজোয় ৫০-৬০ কোটির দুর্নীতি, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen) ও তাঁর স্ত্রীর সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঙিয়ে পুজো (Durga Puja)পরিক্রমার ভুয়ো পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরেছেন বাংলার এই গায়ক। সেই অভিযোগের তদন্তেই মঙ্গলবার সাতসকালে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে পৌঁছে গেল ইডি (ED Raid)। সূত্রের খবর, তাঁর কসবার বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তকারীরা। শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িই নয়, এ দিন ভোর থেকে একইসঙ্গে তাঁর সংস্থার অফিস-সহ শহরের একাধিক জায়গায় চলছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযান। জানা গিয়েছে, ইন্দ্রনীলের হুগলির ফার্ম হাউসেও পৌঁছে গিয়েছে ইডির দল।

    শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইডির দল

    মঙ্গলবার ভোরে শহরের ১০টি ঠিকানায় হানা দেয় ইডির (ED Raid in Kolkata) একাধিক দল। তার মধ্যে রয়েছে তৃণমূল আমলের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়ি, হিন্দুস্তান পার্কে তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি এবং হাইল্যান্ড পার্কের এক ইভেন্ট ম্যানেজারের বাড়ি। প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় জওয়ানরা। তবে তিনি এই মুহূর্তে বাড়িতে আছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগ, মাস-আর্ট নামক সংস্থার নামে বাজার থেকে বিরাট অঙ্কের টাকা তোলেন ইন্দ্রনীল সেন। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, গত তিন বছর ধরে এই টিকিট বিক্রির মাধ্যমে তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

    প্রি-পূজা ও প্রিভিউ শোয়ের টিকিট বিক্রি চড়া দামে

    ইডির দাবি, বাংলার দুর্গাপুজো ২০২১ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরই শুরু হয়েছিল অন্য এক খেলা। সেই বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম অপব্যবহার করে প্রি-পূজা ও প্রিভিউ শোয়ের চড়া দামের টিকিট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ইউনেস্কোর হেরিটেজ পাওয়ার ঠিক এক বছর পরেই (২০২২ নাগাদ) একটি বিশেষ সংস্থা গড়ে তোলা হয়। যার নাম দেওয়া হয়, ‘মাস আর্ট’ (Mass Art)। এর নেপথ্যে ছিলেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। সংস্থাটির কাজ ছিল দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার আগেই দর্শনার্থীদের বিশেষ ‘প্রি-পূজা টিকিট’ বিক্রি করা। কলকাতার নামজাদা প্রায় ২৪টি পুজোকে বেছে নিয়ে একটি মিউজিয়াম বা প্রদর্শনীতে তাদের থিম ও শিল্পকর্ম দেখানো হত। সংস্থাটি দাবি করত, এই উদ্যোগ ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    ইউনেস্কো যুক্ত ছিল না কখনওই

    অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কো কোনওদিনই পুজোর এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ বা প্রদর্শনীর সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো আন্তর্জাতিক তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে বিপুল দামে এই টিকিট বিক্রি করা হত। তদন্তে উঠে আসে এই পাসগুলি পাওয়ার জন্য ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার জন, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার জন এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার জন নাম রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। ২০২২ সালে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নেতৃত্বে ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে এই সংস্থাটি গড়ে ওঠে। যে পুজোগুলোকে এই প্রদর্শনীতে বাছা হত, নিয়ম করে কেবল তারাই বড় বড় স্পনসর এবং পুরস্কার পেত। টিকিট বিক্রি ও স্পনসরশিপের বিপুল কোটি টাকার সামান্য একটু অংশ পেত পুজো ক্লাবগুলো, আর সিংহভাগ টাকাই চলে যেত ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর পকেটে। ইডির দাবি, সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছে।

    কোটি কোটি টাকার কারবার

    এতদিন ভীতি ও প্রভাবশালী চাপের কারণে মুখ খুলতে না পারলেও, এবার আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান অভিযোগকারী। চলতি বছরের জুন মাসে বউবাজার থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। মঙ্গলবার তার ভিত্তিতে ইডি তল্লাশি শুরু করল। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে পুজোর পাস নিয়ে ইডির এই তদন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোনওরকম অনুমতি ছাড়াই ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীলের সংস্থার বিরুদ্ধে। কলকাতার প্রায় চব্বিশটি বাছাই করা পুজোমণ্ডপের প্রিভিউ শো দেখানোর নামে যে পাস বিক্রি করা হতো তার একেকটির মূল্য ১৭৪৯ টাকা থেকে শুরু করে ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইউনেস্কো ওই মণ্ডপগুলি নির্বাচন করেছে বলে দাবি করা হলেও তার কোনও সত্যতা মেলেনি।

    কীভাবে টাকার লেনদেন হত

    যদিও এই সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর হয়েছিল। তবে দুর্নীতির অঙ্ক বিপুল হওয়ায় ইসিআইআর করে তদন্ত শুরু করে ইডি। প্রাক্তন মন্ত্রীর সংস্থার নামে যদি টাকা তোলা হয়, তবে তা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে টাকার লেনদেন হত, এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এদিন শহরের একাধিক ঠিকানায় হানা দেয় তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে খবর, সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সেখানেও ইডি আধিকারিকরাও হানা দিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই, আর্থিক দুর্নীতির উৎসে পৌঁছনো।

  • Modi’s Canada Visit: ১০ বছর পর কানাডা সফরে মোদি? ডিসেম্বরেই কি চূড়ান্ত হতে পারে ভারত-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি?

    Modi’s Canada Visit: ১০ বছর পর কানাডা সফরে মোদি? ডিসেম্বরেই কি চূড়ান্ত হতে পারে ভারত-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ এক দশক পর ফের কানাডা সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi’s Canada Visit)। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তাঁর কানাডা সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ভারত ও কানাডার (India Canada Relation) মধ্যে প্রস্তাবিত কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (CEPA)-এর আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। দুই দেশের লক্ষ্য, এই বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়া। মোদি-র সম্ভাব্য কানাডা সফর এবং আগামী ৫ অক্টোবর পরবর্তী দফার বাণিজ্য আলোচনা—দুই দেশই কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর ভারত-কানাডা সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রপুঞ্জে জয়শঙ্কর-আনন্দ বৈঠক

    শনিবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকের পর জয়শঙ্কর সমাজমাধ্যমে জানান, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি লেখেন, কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে দেখা করা সবসময়ই আনন্দের। দুই দেশের সম্পর্ককে “আরও উচ্চতায়” নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে কানাডার বিদেশমন্ত্রীও ভারতের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কানাডা বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বৈচিত্র্যময় করার দিকে নজর দিচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যও রয়েছে কানাডার। এই লক্ষ্যে ইন্দো-প্যাসিফিক, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে অটোয়া। সেই তালিকায় ভারত ও চিনের মতো বড় অর্থনীতির দেশও রয়েছে বলে জানান আনন্দ।

    ডিসেম্বরেই কানাডা যেতে পারেন মোদি

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর আগে জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বর নাগাদ প্রধানমন্ত্রী মোদির কানাডা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কার্নি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা “ভাল গতিতে” এগোচ্ছে। কার্নির কথায়, ভারত-কানাডা সম্পর্ক মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর জি-২০-তে ভারত ও কানাডা চলতি বছর জি২০ সম্মেলনের মধ্যে সেপা-র আলোচনা শেষ করার দিকে এগোনোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন কার্নি। মোদি ডিসেম্বর মাসে কানাডা গেলে, সেটি হবে ২০১৫ সালের পর তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক কানাডা সফর।

    ৫ অক্টোবর থেকে ফের বাণিজ্য আলোচনা

    সেপা নিয়ে ভারত ও কানাডার মধ্যে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী মনিন্দর সিধু একাধিক বৈঠক করেছেন। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। দুই দেশের লক্ষ্য, সেপা (CEPA)-র মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। তবে এখনও চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো, পরিষেবা, বিনিয়োগ কিংবা নিয়ন্ত্রক সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতাতেও জোর

    বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগও ভারত-কানাডা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কানাডার পেনশন ফান্ডগুলি ইতিমধ্যেই ভারতের পরিকাঠামো, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক আবাসন ক্ষেত্রে বড় আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে। সেপা চূড়ান্ত হলে এই বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ-শৃঙ্খলের উপর নির্ভরতা কমানো এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দেশ একটি নতুন দ্বিপাক্ষিক কৌশলও গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র।

    ২০২৩-এর কূটনৈতিক সংঘাতের পর ফের সম্পর্ক স্বাভাবিকের পথে

    ২০২৩ সালে ভারত-কানাডা সম্পর্কের বড় অবনতি হয়। তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতীয় সরকারি এজেন্টদের সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগের তদন্তের কথা বলেছিলেন। ভারত সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে এবং একে অপরের কূটনীতিকদের বহিষ্কার ও কূটনৈতিক উপস্থিতি কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মার্চে মার্ক কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। জুন ২০২৫-এ কার্নি ও মোদি দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ফেরাতে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। এরপর দুই দেশের হাইকমিশনাররা ফের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়।

    নজর ৫ অক্টোবরের বৈঠকে

    ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন বড় পরীক্ষা ৫ অক্টোবরের সেপা আলোচনা। বাণিজ্য চুক্তির বাকি মতপার্থক্যগুলি কতটা দ্রুত মেটানো যায়, তার উপরই নির্ভর করবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ। ডিসেম্বরে মোদির সম্ভাব্য কানাডা সফর সেই আলোচনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা দিতে পারে। তবে সফরের আগে সেপা-র বাকি বিষয়গুলিতে ঐকমত্য তৈরি হবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • Heart Attack Warning Signs: বুকে ব্যথা নেই, তবু হতে পারে হার্ট অ্যাটাক! এই ৭ সাধারণ উপসর্গ একেবারেই অবহেলা নয়

    Heart Attack Warning Signs: বুকে ব্যথা নেই, তবু হতে পারে হার্ট অ্যাটাক! এই ৭ সাধারণ উপসর্গ একেবারেই অবহেলা নয়

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    প্রতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আকস্মিক মৃত্যু চিকিৎসার সময়ও দিচ্ছে না। বয়সের সীমারেখায় আর বিপদ আটকে থাকছে না। বরং, কম বয়সিদের মধ্যেও উদ্বেগজনক ভাবে মৃত্যু বাড়ছে। তাই ভারতে হৃদরোগ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ সময়েই হৃদরোগ সম্পর্কে অসচেতনতা চরম পরিণতির কারণ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র বুকে ব্যথাই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার একমাত্র উপসর্গ নয়। কিন্তু অধিকাংশ ভারতীয়দের হৃদরোগের উপসর্গ সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট নেই। ফলে, একাধিক সমস্যাকে হজমের অসুবিধা ভেবে অবহেলা করা হয়। প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করানো হয় না। তাই বড় বিপদ ঘটে।

    কোন সাধারণ উপসর্গ বিপদজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র বুকে ব্যথা বা বুকে খিঁচ ধরাই হৃদরোগের একমাত্র উপসর্গ নয়। হৃদরোগের একাধিক উপসর্গ থাকে। যেগুলো খুব সাধারণ সমস্যা মনে হলেও, একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কয়েক মিনিট হাঁটাচলার পরে বা সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই অস্বস্তি বোধ করা কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে হৃদরোগের ঝুঁকি থাকতে পারে।
    সামান্য পরিশ্রমের কাজ করলেও অসম্ভব ক্লান্ত হয়ে যাওয়া কিংবা বুকের ভিতরে অস্বস্তি বোধ করা এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গ আসলে হৃদরোগের কারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
    বারবার বমি হওয়া কিংবা দিনভর বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং দূর্বল অনুভব করাও হৃদরোগের অন্যতম ঝুঁকি বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই বারবার বমি করা কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গকে শুধুমাত্র হজমের সমস্যা ভাবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হজমের ওষুধ খেয়ে নেন। যা আসলে হৃদরোগের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময়েই চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায় না।
    বুকে ব্যথা না হলেও কাঁধ, পিঠ এবং মুখের চোয়ালে হঠাৎ অস্বাভাবিক যন্ত্রণা এবং শ্বাসকষ্ট হৃদরোগের অন্যতম উপসর্গ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পেশির টান ধরা বলে ইচ্ছেমতো পেন কিলার খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। তবেই সময় মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে‌।

    ভারতে কি হৃদরোগে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারতে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। যা ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একাধিক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর তালিকায় প্রথমেই থাকছে হৃদরোগ। হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর সংখ্যা প্রত্যেক বছর বাড়ছে।
    ন্যাশনাল রেসপিরেটিভ ডেথ স্টাডি-র এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশের বয়স ৩০-৫০ বছরের মধ্যে।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হৃদরোগ সম্পর্কে অসচেতনতা এবং উপসর্গকে অবহেলা করার ফলেই মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে হৃদরোগ, দেশ জুড়ে অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে উঠেছে।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগের দাপট বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর নেপথ্যেও থাকছে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে বুকে ব্যথা, অস্বস্তির মতো একাধিক হৃদরোগের উপসর্গ বোঝা যায় না। ফলে, হার্ট অ্যাটাক এবং তারপরে মৃত্যু ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
    ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ তামাক সেবন। চিকিৎসকের জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই ভারতীয়দের মধ্যে ধূমপানে আসক্তি দেখা যায়। অনেকেই নানান রকমের তামাকজাত দ্রব্য সেবন করেন। এরফলে হৃদরোগ দেখা দিচ্ছে।
    শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া হৃদরোগের বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম বয়সি শহুরে ভারতীয়দের কাজের পদ্ধতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। দীর্ঘসময় তাঁরা বসে কাজ করেন। এর ফলে শরীরে অতিরিক্ত ওজন বাড়ছে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট‌ হচ্ছে। এগুলো হৃদরোগের বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
    ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ খাদ্যাভ্যাস বলেও মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ভারতীয় অতিরিক্ত নুন খাওয়ায় অভ্যস্ত। তাছাড়া অতিরিক্ত তেল এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়াই ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসে দেখা দিচ্ছে। এরফলে বিপদ বাড়ছে। ক্ষতিকারক রাসায়নিক এবং অতিরিক্ত তেল শরীরে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই ভারতীয়দের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Ahmedabad: ডিজেলের বিকল্প এলএনজি, ভারতে প্রথম এলএনজি-চালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু গুজরাটে

    Ahmedabad: ডিজেলের বিকল্প এলএনজি, ভারতে প্রথম এলএনজি-চালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু গুজরাটে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় রেলের জ্বালানি ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়। দেশের প্রথম এলএনজি (LNG) চালিত ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হল গুজরাটের সবরমতী থেকে। রবিবার ট্রেনটির উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল। রেল পরিষেবায় প্রচলিত ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এই ট্রেনে ব্যবহার করা হয়েছে ডিজেল-প্লাস-এলএনজি ডুয়াল-ফুয়েল প্রযুক্তি। সবরমতী ইন্টিগ্রেটেড কোচিং ডিপোর দুটি ১,৪০০ হর্সপাওয়ারের ড্রাইভিং পাওয়ার কার (DPC)-কে এই প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী একই ইঞ্জিনে ডিজেলের পাশাপাশি এলএনজিও ব্যবহার করা যাবে।

    প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা

    প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই ওই দুটি রূপান্তরিত ডিপিসি-তে ২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি ফিল্ড ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। রেলের পরীক্ষামূলক তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় মোট ডিজেল ব্যবহারের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এলএনজি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। রেলের হিসেব অনুযায়ী, এলএনজি ব্যবহারের ফলে জ্বালানি খরচ কমার পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং পার্টিকুলেট ম্যাটারের মতো দূষণকারী নির্গমনও কমতে পারে। পূর্ববর্তী রেল মূল্যায়নে অনুমান করা হয়েছিল, একটি ডিপিসি থেকে বছরে প্রায় ১১.৯ লক্ষ টাকা এবং আট-কোচের একটি রেক থেকে প্রায় ২৩.৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।

    ডুয়াল-ফুয়েল প্রযুক্তির সুবিধা

    ডুয়াল-ফুয়েল প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হল এর নমনীয়তা। জ্বালানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে এলএনজি ও ডিজেলের মধ্যে পরিবর্তন করতে পারবে। একইসঙ্গে প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের শক্তি ও কার্যক্ষমতা বজায় রেখেই ডিজেলের আংশিক বিকল্প হিসেবে এলএনজি ব্যবহার করা যাবে। প্রতিটি রূপান্তরিত ডিপিসি-তে প্রায় ২,২০০ লিটারের এলএনজি ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। এতে প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ কেজি ব্যবহারযোগ্য এলএনজি ধারণ করা যায়। একবার সম্পূর্ণ এলএনজি ভরলে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ট্রেন চালানো সম্ভব বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে ঘন ঘন জ্বালানি ভরার প্রয়োজনও কমবে।

    একাধিক রেল প্রকল্পের উদ্বোধন

    অমিত শাহের আমেদাবাদ সফরের সময় একাধিক রেল প্রকল্পের উদ্বোধন ও সূচনার অংশ হিসেবেই এই এলএনজি-চালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। গোটা প্যাকেজে রেল নিরাপত্তা, সিগন্যালিং, লাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মালবাহী পরিকাঠামো-সহ মোট ১,৫৪২ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্প রয়েছে। এর আগে সাবরমতীতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াগ-১২ লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ শেড উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। একইসঙ্গে একটি ওয়াগ-১২ বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভেরও উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে আমেদাবাদ-পালনপুর এবং আমেদাবাদ-সামাখিয়ালি রেলপথে দেশীয় ‘কবচ’ ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। পাশাপাশি দুটি রেলপথে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু এবং সাবরমতী-সরখেজ অংশে ডাবলিংয়ের কাজেরও সূচনা করা হয়েছে। রেলের ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পথে এলএনজি-চালিত এই ট্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি খরচ ও পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ট্রেনের কর্মক্ষমতা বজায় রেখে নির্গমন কমানো যায় কি না, আগামী দিনে তার কার্যকারিতাই নজরে থাকবে।

LinkedIn
Share