Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Income Tax Raid: ইডির পর এবার আয়কর হানা দেবাশিস কুমারের বাড়ি, দফতরে, ভোটের মুখে বিপাকে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী

    Income Tax Raid: ইডির পর এবার আয়কর হানা দেবাশিস কুমারের বাড়ি, দফতরে, ভোটের মুখে বিপাকে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate) পর এবার আয়কর দফতর। ভোটের মুখে আরও বিপাকে দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমার (TMC MLA Debasish Kumar)। শুক্রবার ভোরেই দক্ষিণ কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে শাসক দলের বিদায়ী বিধায়ক তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র-ইন-কাউন্সিল (MMIC) সদস্য দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে একযোগে এই তল্লাশি চালায় আয়কর দফতর (Income Tax Raid)।

    ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় রাসবিহারীতে ভোটগ্রহণ

    জানা গিয়েছে, আয়কর দফতরের দুটি দল কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)-এর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে সকাল প্রায় ৬টা থেকে ৬টা ৩০-এর মধ্যে হাজির হয় মনোহরপুকুর রোডে অবস্থিত কুমারের বাসভবন এবং তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্প অফিসে। এরপরই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। দেবাশিস কুমার বর্তমানে রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ওই কেন্দ্র থেকেই পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় রাসবিহারীতে ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। এই কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছে বিজেপি, যাঁর নাম স্বপন দাশগুপ্ত। এদিকে, তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেবাশিস কুমারের বাড়ির সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল সমর্থকরা সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।

    বেআইনি জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় অভিযান

    প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, একটি বেআইনি জমি দখল সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগে একই মামলায় একাধিকবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) দেবাশিস কুমারকে তলব করেছিল। গত ১, ৩ এবং ৯ এপ্রিল সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় এবং তিনি প্রতিবারই হাজিরা দেন। তদন্তকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে, ব্যবসায়ী অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেবাশিস কুমারের কোনও আর্থিক লেনদেন ছিল কি না। উল্লেখ্য, ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।

    শহরের অন্য প্রান্তে সক্রিয় ইডি

    একদিকে যেমন দেবাশিস কুমারের বাড়ি-দফতরে আয়কর তল্লাশি চলছে, ঠিক একই সময়ে শহরের অন্য প্রান্তে চলছে ইডি অভিযান। শুক্রবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে ইডির একাধিক দল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এরপর তারা নির্দিষ্ট একটি নির্মাণকারী সংস্থার একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায়। সূত্রের খবর, আর্থিক তছরুপের মামলাকে কেন্দ্র করেই এই অভিযান। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং দফতরে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তখন ইডি দাবি করেছিল, ভোটের আগে বেআইনি আর্থিক লেনদেন রুখতে এবং জমি সংক্রান্ত লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই তল্লাশি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার ফের ওই নির্মাণকারী সংস্থার দফতর-সহ একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে ইডি, সূত্র মারফত এমনটাই জানা গিয়েছে।

  • Dementia Surge in India: ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ! বলছে নয়া গবেষণা, কোন পথে সমাধান?

    Dementia Surge in India: ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ! বলছে নয়া গবেষণা, কোন পথে সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাজারের খুচরো পয়সার হিসাবে মাঝেমধ্যে গোলমাল হয়ে যায়। আবার কখনও খুব পরিচিত মানুষের নাম-পদবী মনে পড়ে না। এমন নানান ছোটো ছোটো স্মৃতি বিভ্রাট অনেক সময়েই বড় বিপদের ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার সমস্যা। এই সমস্যা শুধুই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা নয়। বরং, চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া হল মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যা। মস্তিষ্ক আর সক্রিয় থাকতে পারছে না। দেশ জুড়ে এই সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়ার দাপট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ভিটামিনের অভাব!

    কোন ভিটামিনের অভাবে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে?

    চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এই ভিটামিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে, স্নায়ু সক্রিয় রাখতেও এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি-১২ ঘাটতি ডিমেনসিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ সরাসরি মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর কার্যক্ষমতার উপরে প্রভাব ফেলে। তাই এই ভিটামিনের অভাব ঘটলে মস্তিষ্কের শক্তি কমে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর ক্ষমতা কমলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া কোনো স্বাভাবিক বার্ধক্যের লক্ষণ নয়। বরং চল্লিশোর্ধ্ব যে কোনও মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। এতে সুস্থ জীবন যাপন ব্যহত হয়। তাই পুষ্টির দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। মস্তিষ্ক এবং স্নায়ু যাতে সক্রিয় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমবে।

    কীভাবে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ চাহিদা পূরণ করতে হলে খাবারে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। খাবার থেকেই শরীর সহজে এই ভিটামিন সংগ্রহ করতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন বি-১২ চাহিদা মেটাতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিমের কুসুমে ভিটামিন বি-১২ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। দিনে অন্তত একটা থেকে দুটো ডিম খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি-১২ সহজেই সংগ্রহ করতে পারে। ডিমের মতোই সামুদ্রিক মাছ এবং মাংস ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ বয়স চল্লিশ পেরলেই নিয়মিত পাতে মাছ বা মাংস থাকা জরুরি। দিনে হোক বা রাতের খাবারে মাছ বা মাংসের একটি পদ‌ থাকলে শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশপাশি ভিটামিন বি-১২ জোগান হয়। দুধ, পনির জাতীয় খাবারেও ভিটামিন বি-১২ থাকে। তাই পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিরামিষাশীদের ভিটামিন বি-১২ সহজ উৎস হলো দুধ এবং পনির। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের চিজ থেকেও ভিটামিন বি-১২ পাওয়া যায়।

    ভারতে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ কি বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতে ডিমেনশিয়া জনস্বাস্থ্য সমস্যার আকার নিচ্ছে। ভারতের প্রায় ৮৮ লাখ মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ আরও বাড়বে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটির বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হবেন। যা ভারতের সামাজিক জীবনেও বড় প্রভাব ফেলবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া আক্রান্তের মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিক জীবন‌ যাপন সম্পূর্ণ ব্যহত হয়। কার্যশক্তি হারিয়ে যায়। সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন কঠিন হয়ে ওঠে। তাই ডিমেনশিয়ার দাপট বাড়লে তা সামগ্রিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত খাবারের তালিকায় নজর দেওয়া জরুরি। বাড়ির তৈরি কম তেল মশলার প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের একাধিক উপকার হবে। এমনকি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর ক্ষমতা ও বজায় থাকবে। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করলে তবেই মস্তিষ্কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Women’s Reservation Bill: ‘বিলের বিরোধিতা করলে মূল্য চোকাতে হবে’ নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Women’s Reservation Bill: ‘বিলের বিরোধিতা করলে মূল্য চোকাতে হবে’ নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, একটি উন্নত ভারত (Viksit Bharat) শুধুমাত্র পরিকাঠামো বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর কথায়, “আমরা এমন একটি ভারত গড়তে চাই যেখানে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্র বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের ৫০% নারী জনগোষ্ঠী নীতি নির্ধারণে সক্রিয় অংশীদার হবে এটি আমাদের সৌভাগ্য যে আজ আমরা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য একটি নতুন দিশা নির্ধারণ করতে পারি।”

    বিরোধীদের তুলোধোনা

    মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill) নিয়ে বিরোধীদের তুলোধোনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। ২০২৩-এই লোকসভায় (Lok Sabha Debate) মহিলাদের আসন সংরক্ষণ নিয়ে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। বৃহস্পতিবার বিলের সংশোধনী নিয়ে আলোচনায় বিরোধীদের কটাক্ষ করে মোদী বললেন, ‘বিলের বিরোধিতা করলে মূল্য চোকাতে হবে।’ শুধু তাই নয়, এই বিলের বিরোধিতার ফলে তিনি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন বলেও বিরোধীদের খোঁচা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে লোকসভার বিশেষ অধিবেশন। আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাস করানোই মূল উদ্দেশ্য। ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশের সময়েই বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার পরে ওই আসনের ৩৩ শতাংশ থাকবে মহিলাদের জন্য।

    লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের বোনেদের উপর আস্থা রাখুন। লোকসভায় তাঁদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করুন।” তিনি স্বীকার করেন যে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করতে দেরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “২৫-৩০ বছর আগে এই প্রয়োজন অনুভূত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দেরি করেছি।” পাশাপাশি তিনি ভারতীয় গণতন্ত্রকে “Mother of Democracy” আখ্যা দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। রাজনৈতিক মতভেদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, আলোচনার সময় একটি দল ছাড়া অন্য কোনো দল নীতিগতভাবে বিরোধিতা করেনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যে দলগুলো নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছে, দেশের মহিলারা তাদের ক্ষমা করেননি।” তবে নির্দিষ্ট কোনও দলের নাম করেননি তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা সকলের সাফল্যের ফল। এটা গোটা দেশের সাফল্য। এটা কোনও একটি দলের জয় নয়।” মহিলা সংরক্ষণ বিলে রাজনীতির রং লাগানোর প্রয়োজন নেই বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।

    ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ দ্রুত কার্যকর

    গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে নারীদের নেতৃত্ব বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গত কয়েক দশকে লক্ষ লক্ষ নারী নেতৃত্বে উঠে এসেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।” সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন (১৬–১৮ এপ্রিল) ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে ডাকা হয়েছে। নিজেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি থেকে উঠে আসা নেতা বলে পরিচয় দিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আমি একজন ওবিসি। কিন্তু দেশের সবাইকে নিয়ে চলায় বিশ্বাসী।’ এই বিলের বিরোধিতা করায় বিরোধীদের ‘ক্ষতি’ হলেও তাঁর রাজনৈতিক সুবিধা হতে পারে বলে হাসি মুখে জানান মোদী। তাঁর কথায়, ‘আপনারা এই বিলের বিরোধিতা করলে আমার কিছুটা রাজনৈতিক লাভ হতে পারে। তবে, সবাই যদি একমত হন, গোটা দেশ লাভবান হবে।’

     

     

     

     

     

  • Amir Hamza Shot: লাহোরে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ আততায়ীর গুলিতে ঝাঁঝরা লস্করের সহ প্রতিষ্ঠাতা হামজা

    Amir Hamza Shot: লাহোরে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ আততায়ীর গুলিতে ঝাঁঝরা লস্করের সহ প্রতিষ্ঠাতা হামজা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে গুলিবিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা (Amir Hamza Shot in Lahore)। অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। লাহোরে একটি খবরের চ্যানেলের দফতরের বাইরে গুলিবিদ্ধ হয় হামজা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আততায়ীদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। লাহোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে হামজাকে। হাফিজ সইদের সঙ্গে মিলে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠা করে হামজা। একাধিক নাশকতায় নাম জড়িয়েছে তার। ভারতে জঙ্গি হামলাতেও তার সংযোগ পাওয়া যায়।

    কে এই আমির হামজা?

    ভারতের কাছে আমির হামজা (Amir Hamza)এক পরিচিত নাম। ১৯৮৭ সালে হাফিজ সইদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সে লস্কর-ই-তৈবা তৈরি করেছিল। ভারতের উপর একাধিক হামলার নেপথ্যেও এই হামজা। এই কুখ্যাত জঙ্গির রয়েছে আফগান যোগও। আশির দশকে আফগান মুজাহিদিনদের দলে লড়াই করেছিল হামজা। ১৯৭৯ সালে আফগান যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপে হাতেখড়ি হয় তার। পরে পাকিস্তানে ফিরে এসে সন্ত্রাসবাদে মগজ ধোলাইয়ের কাজ শুরু করে। সে লস্করের প্রকাশনা ‘মাজাল্লা আল-দাওয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিল। ২০০২ সালে চরমপন্থী ভাবধারা ছড়িয়ে দিতে ‘কাফিলা দাওয়াত অর শাহাদাত’ নামে একটি বইও লিখেছিল সে। আমেরিকার ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় হামজার নাম রয়েছে। লস্করের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থেকে তহবিল সংগ্রহ এবং নতুন জঙ্গি নিয়োগের ক্ষেত্রে সে ছিল মাস্টারমাইন্ড। ২০১২ সালে আমেরিকা হামজাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাকে বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    নতুন জঙ্গি গোষ্ঠী ও কাশ্মীর যোগ

    ২০১৮ সালে যখন পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ে, তখন লোকদেখানো হিসেবে লস্কর ও তার শাখা সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়। সেই সময় লস্কর থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে আমির হামজা ‘জইশ-ই-মনকাফা’ (Jaish-e-Manqafa) নামে একটি নতুন দল গড়ে তোলে। অভিযোগ, এই দলের মাধ্যমে সে কাশ্মীর উপত্যকায় নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, লস্করের মূল নেতৃত্বের সঙ্গে হামজার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং সে অবাধে পাকিস্তানে ঘুরে বেড়াত।

    পাকিস্তানে সক্রিয় অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা

    পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালার বাসিন্দা হামজা ২০০০ সালের আশপাশে ভারতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে যে হামলা হয়, তাতে তার হাত ছিল। এর আগে, ২০২৫ সালেও হামজার উপর হামলা হয়। সেবার বাড়িতেই তার উপর হামলা হয় বলে জানা যায়। লস্করের আবু সইফুল্লার মৃত্যুর পর পরই ওই ঘটনা ঘটে। সইফুল্লাকেও গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে আবার ‘আননোন গানম্যানের’ প্রসঙ্গ উঠে আসছে। প্রশ্ন পাকিস্তানে আর সেটা হলে আবার খারাপ অবস্থা হবে পাকিস্তানের জঙ্গিদের। আবার কি পাকিস্তানের চিন্তা বাড়িয়ে অ্যাক্টিভ হল ‘আননোন গানম্যান’? আর সেটা যদি সত্যি হয়, তাহলে কিন্তু ইসলামাবাদের কপালে আরও দুঃখ আছে। এর আগেও এই ‘আননোন গানম্যান’ অনেক জঙ্গিকে নিকেশ করেছে। এখন আবার সেই ট্রেন্ড চালু হতে পারে।

    কীভাবে হামজার উপর হামলা

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লাহোরে একটি নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা হামজাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। আমির হামজার ওপর এই হামলা পাকিস্তানের মাটিতে লস্কর নেতৃত্বের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক ভারত-বিরোধী জঙ্গি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু বা হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামজার ওপর এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। বর্তমানে হাসপাতাল চত্বর ঘিরে রেখেছে পাক সুরক্ষা বাহিনী। হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার হামলার শিকার হয়েছে হামজা। গত বছর মে মাসে লাহোরে তার বাসভবনের বাইরে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা কুখ্যাত জঙ্গিকে গুলি করে। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ওই জঙ্গির নিরাপত্তা জোরদার করে বলে জানা যায়।

    ভয় পাচ্ছে পাকিস্তান! কারা চালাল গুলি? 

    পাকিস্তানে গত দুবছরে অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীর হাতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত বারো জন জেহাদি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এরা প্রত্যেকেই ছিল ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে। এই ঘটনায় প্রশ্ন তুলে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে। সেখানে বলা হয়, মোসাদের ধাঁচে ২০১৯ সাল থেকে মোট ২০ জঙ্গিকে নিকেশ করেছে ‘র’। তবে এই অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে সাম্প্রতিক কালে বিগত কয়েক মাসে পাকিস্তানে একের পর এক লস্কর, জইশ বা খলিস্তানি জঙ্গিদের ওপর একই কায়দায় হামলা হয়েছে। প্রতিবারই নাম জড়িয়েছে সেই রহস্যময় ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ঘাতকদের। হামজার ওপর এই হামলা কি সেই ধারাবাহিতাকারই অঙ্গ? নাকি কোনও অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব? তা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য।

  • TCS Nashik Controversy: “সন্তান চাইলে স্ত্রীকে পাঠাও”! টিসিএস নাসিক কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ কর্মীর, বন্ধ হল বিপিও ইউনিট

    TCS Nashik Controversy: “সন্তান চাইলে স্ত্রীকে পাঠাও”! টিসিএস নাসিক কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ কর্মীর, বন্ধ হল বিপিও ইউনিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (Tata Consultancy Services) বা টিসিএস-এর নাসিকের বিপিও ইউনিটে যৌন হেনস্থা এবং জোর করে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে শোরগোল। একাধিক মহিলা কর্মীর অভিযোগের পর এবার এক পুরুষ কর্মীও সামনে এসে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ওই কর্মী অভিযোগ করেন, তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে জোর করে নামাজ পড়তে বাধ্য করতেন, কালমা পাঠ করাতেন এবং মাথায় ফেজ টুপি পরতে বাধ্য করতেন। তিনি আরও দাবি করেন, এক অভিযুক্ত তাঁকে কুরুচিকরভাবে বলেন— “সন্তান চাইলে স্ত্রীকে পাঠাও।” অভিনব কায়দায় মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস-এর মধ্যে এই ধর্মান্তর চক্রের হদিশ পায় পুলিশ।

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    ওই কর্মীর অভিযোগ, ২০২২ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর উপর মানসিক ও ধর্মীয় চাপ তৈরি করা হয়। টিম লিডার তৌসিফ আখতার ও সহকর্মী দানিশ শেখ তাঁর উপর অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দিতেন এবং ধর্মীয় আচরণে বাধ্য করতেন বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, এর আগে ২৩ বছর বয়সি এক মহিলা কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এফআইআরে দানিশ শেখের বিরুদ্ধে জোর করে চুম্বনের চেষ্টা ও বিয়ের চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্মান্তরের চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে।

    গোপনে তদন্তে মহিলা পুলিশ

    ঘটনার তদন্তে পুলিশ আন্ডারকভার মহিলা অফিসার মোতায়েন করে। টিসিএসের এই অফিসে ছদ্মবেশে মহিলা কন্সটেবলদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। গোপন অপারেশন চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, এটি নিছক হয়রানির ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র বেরিয়ে এসেছে। যে কারণে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

    ঘটনার সূত্রপাত

    পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একজন রাজনৈতিক কর্মী নাসিক পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, কোম্পানিতে কর্মরত এক হিন্দু মহিলা রমজান মাসে রোজা রাখছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের সন্দেহ হয়। তারা একটি গোপন অভিযান শুরু করে। এই অভিযানটি ধীরে ধীরে একটি বিস্ফোরক রহস্য উন্মোচন করে। পুলিশ সাফাইকর্মীর ছদ্মবেশে মহিলা কনস্টেবলদের কোম্পানির ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়। এরা ক্যাম্পাসের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেন, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে কিছু টিম লিডার তাদের পদের অপব্যবহার করছিলেন। তদন্তে জানা যায়, কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছিল। তাদের মানসিক ও শারীরিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছিল।

    ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপের অভিযোগ

    অভিযোগকারী পুরুষ কর্মী জানান, তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং নিয়মিত রুদ্রাক্ষ মালা পরেন। এই কারণেই তাঁকে বারবার বিদ্রূপ করা হত। হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে কটূক্তি করা হতো বলেও অভিযোগ। তিনি আরও দাবি করেন, একাধিকবার তাঁকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে জোর করে আমিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি নিরামিষভোজী হওয়ায় আপত্তি জানালে তাঁকে অপমান করা হয়। ২০২৩ সালের ইদের দিনে তাঁকে এক সহকর্মীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোর করে টুপি পরিয়ে নামাজ পড়ানো হয় এবং সেই ছবি অফিসের গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী বলেন, তাঁর নিঃসন্তান জীবন নিয়ে তাঁকে নিয়মিত অপমান করা হত। স্ত্রীকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করা হতো, যা মানসিকভাবে তাঁকে ভেঙে দেয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারার হুমকি দেওয়া হয়। অফিসে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে চাকরি থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি তাঁর অসুস্থ বাবাকে নিয়েও ধর্মান্তরের প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি।

    বিদেশি সংযোগ

    তদন্ত চলাকালীন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে মালয়েশিয়ায় সন্দেহভাজন ধর্মপ্রচারক ইরমানের নামও প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ ওঠে, ভিডিও কলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এর থেকেই বোঝা যায়, মামলাটি শুধু স্থানীয় নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন এই বিদেশি সংযোগও খতিয়ে দেখছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) অনুসারে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই সংখ্যা ছিল ৯, কিন্তু তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকে এগিয়ে এসেছেন। এখনও পর্যন্ত আটজন মহিলা কর্মী ও একজন পুরুষ কর্মী মোট নয়টি এফআইআর দায়ের করেছেন। এই সমস্ত অভিযোগে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ এবং ধর্মীয় জবরদস্তির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এই ঘটনাগুলো ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলেছিল। এর থেকেই স্পষ্ট যে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এক দীর্ঘস্থায়ী ধারা ছিল।

    এফআইআর-এ কী বলা হয়েছে

    প্রথম এফআইআর-এ দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার এবং নিদা খানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তারা হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক মহিলার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। দ্বিতীয় এফআইআর-এ রাজা মেমন এবং শাহরুখ কুরেশির বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ এফআইআর-এও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শাফি শেখ ও তৌসিফ আখতারের বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীদের পিছু নেওয়া, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। পঞ্চম এফআইআর-এ অভিযোগ করা হয়েছে, কর্মীদের নামাজ পড়তে ও মাংস খেতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতেও বাধ্য করা হয়েছিল।

    এফআইআর-এ কাদের নাম

    ষষ্ঠ ও সপ্তম এফআইআর-এও অভিযুক্তদের দ্বারা হয়রানি, পিছু ধাওয়া এবং অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় একাধিক ব্যক্তি এই নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করছিল। অষ্টম ও নবম এফআইআর-এও ক্রমাগত হয়রানি, বিয়ের জন্য চাপ এবং মানসিক চাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেন, অভিযুক্তরা তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাত এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করত। এতে অনেক কর্মচারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, শফি শেখ, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, আসিফ আনসারি, অশ্বিনী চেইনানি এবং নিদা খান। পুলিশ অশ্বিনী চেইনানিকে আটক করেছে, তবে নিদা খান এখনও পলাতক। তাকে খুঁজে বের করার জন্য অভিযান চলছে।

    সাময়িক বন্ধ টিসিএস নাসিকের বিপিও ইউনিট

    তদন্তকারী সংস্থাগুলি বর্তমানে এই মামলায় বিদেশি অর্থ দেওয়া, ব্যাঙ্কে লেনদেন, কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল প্রমাণের ওপর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের হয়রানি বা জবরদস্তির কোনও স্থান নেই, বলে জানিয়েছে টিসিএস কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনা সামনে আসার পর টিসিএস নাসিকের বিপিও ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্মীদের ওয়ার্ক-ফ্রম-হোমে পাঠানো হয়েছে।

  • Assembly Elections 2026: ভবানীপুর ও ডায়মন্ড হারবারে টহল দিচ্ছে ‘মার্কসম্যান’! ভোটমুখী বাংলায় কাশ্মীর থেকে এল বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    Assembly Elections 2026: ভবানীপুর ও ডায়মন্ড হারবারে টহল দিচ্ছে ‘মার্কসম্যান’! ভোটমুখী বাংলায় কাশ্মীর থেকে এল বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Assembly Elections 2026)। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে অশান্তি ঠেকাতে এবার জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বুলেটনিরোধক গাড়ি নিয়ে এল নির্বাচন কমিশন। বুধবার ডায়মন্ড হারবার ও ভবানীপুরের রুট মার্চেও এই গাড়ি দেখা গিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় সীমান্তবর্তী বসিরহাট, বাগদা, দেগঙ্গা ও আমডাঙ্গা এলাকায় এই যান মোতায়েন করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের সময় কোথাও গুলি চললে বা পাথর ছো়ড়া হলে এই গাড়ি ব্যবহার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনও ব্যক্তি (ভিআইপি) অশান্তির মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আটকে পড়লেও এই গাড়ি তাঁকে উদ্ধার করতে কাজে লাগানো হবে। কোনও এলাকায় জমায়েত বেশি হলে এই গাড়ি থেকে ধোঁয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ভবানীপুরে এই গাড়ির টহলদারি দেখতে রাস্তার পাশে রীতিমতো ভিড় জমে যায়।

    কী এই বুলেটপ্রুফ ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি

    কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটে রাজ্যে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর। ডায়মন্ড হারবারে নামানো হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি। ‘মার্কসম্যান’ (Marksman From Kashmir) মূলত একটি লাইট আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার, যা সেনা, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশের জন্য তৈরি। শক্তিশালী বুলেটপ্রুফ সুরক্ষা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বি-৬ স্তরের ব্যালিস্টিক প্রোটেকশন থাকায় ৭.৬২ মিমি পর্যন্ত গুলির আঘাত প্রতিরোধ করতে সক্ষম এই গাড়ি। এমনকি গ্রেনেড বিস্ফোরণের ধাক্কা থেকেও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এর তলার অংশ।

    কী এই বুলেটপ্রুফ ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি

    জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বাংলায় আনা হয়েছে ওই গাড়ি, যার মাথায় মেশিন গান বসানোর জায়গাও রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি ব্যবহৃত হয়। এই গাড়ি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। সম্পূর্ণ রূপে বুলেটপ্রুফ গাড়িটি। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিও প্রতিরোধ করতে পারে। রাস্তার নীচে পোঁতা বিস্ফোরক থেকে যাত্রীদের রক্ষা করতে বিশেষ ভাবে তৈরি গাড়িটি। ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি চালাতে সক্ষম। চারপাশ পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে ভিশন পোর্ট, ফায়ারিং স্লট। চড়াই-উতরাই পেরোতে সক্ষম গাড়িটি। গাড়িতে একসঙ্গে সাত-আটজন সওয়ার থেকে অভিযান চালাতে পারেন।

    কোথায় কোথায় নামল ওই বিশেষ গাড়ি

    বুধবার, বাহিনীর বিশেষ এই গাড়ির টহলদারি ভবানীপুর থানা থেকে শুরু হয়েছিল। তা পদ্মপুকুর, চক্রবেড়িয়া, শরৎ বোস রোড হয়ে হাজরায় গিয়ে শেষ হয়। খাকি রঙের চারচাকা গাড়িটি আদ্যোপান্ত বুলেটনিরোধক। মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় আধা সামরিক বাহিনী বা সিআরপিএফ এই ধরনের গাড়ি ব্যবহার করে থাকে। এই গাড়িগুলির নম্বরপ্লেটও জম্মু ও কাশ্মীরেরই। ভবানীপুরের পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় ওই ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি নিয়ে এরিয়া ডমিনেশনের কাজ শুরু করেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। মূলত সন্ত্রাস অধ্যুষিত এলাকা, দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা এবং ভিআইপি-দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে ওই গাড়ি ব্যবহার করে ভারতীয় সরকার। এদিন গাড়ির পিছনে দুই জওয়ান ছিলেন। একজন রাইফেল নিয়ে ছিলেন উপরে। গাড়িটি গ্রেনেড হামলা সহ্য করতে পারে। কোনও ক্ষতি হয় না গাড়ির। একে-৪৭ থেকে গুলি চালালেও কিছু হয় না। গাড়ির ভিতরে বসে গুলি চালাতে পারেন জওয়ানরা। উপরে মেশিনগান বসানোর জায়গাও রয়েছে। গাড়ির ভিতর থেকেই নজরদারি চালানো যায়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, হাই রিস্ক বা স্পর্শকাতর বুথগুলিতে ওই গাড়ি ব্য়বহার করা হবে। পাশাপাশি, মোতায়েন থাকবে সশস্ত্র বাহিনী। এদিন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিভিন্ন জায়গা এরিয়া ডমিনেশনে বেরোতে দেখা যায় সিআরপিএফ জওয়ানদের।

    শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোটের স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    অনেক আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে তারা রুট মার্চ করছে। সঙ্গে রয়েছে পুলিশও। ভবানীপুরে বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ থেকে মাইকে প্রচার চালানো হয়। নির্ভয়ে সকলকে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানায় বাহিনী। বলা হয়, ‘‘আপনারা সকলে সকাল সকাল ভোট দিন। নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলি মেনে চলুন। ভবানীপুর থানা, সিআরপিএফ এবং কমিশন সবসময় আপনাদের সঙ্গে আছে। যে কোনও সমস্যায় বা প্রয়োজনে থানায় ফোন করুন। আমরা কেবল একটি ফোনকলের দূরত্বে রয়েছি। আমরা সবরকম ভাবে সাহায্য করব।’’ কমিশন আগেই জানিয়েছে, যে কোনও মূল্যে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করা হবে। কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। তার জন্য এর আগে একাধিক তৎপরতা চোখে পড়েছে। এ বার কাশ্মীর থেকে বুলেটনিরোধক গাড়িও পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হল। খাস কলকাতায় সেই গাড়ি টহলদারি শুরু করে দিয়েছে। ভোটারদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে গাড়ি থেকে।

    কোথায় কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে আগামী ৪ মে। তার আগে জেলায় জেলায় প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।প্রথম দফার ভোটে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, দার্জিলিংয়ে মোতায়েন থাকবে ৬১ কোম্পানি বাহিনী, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে ৪৪ কোম্পানি, কালিম্পংয়ে ২১ কোম্পানি, জলপাইগুড়িতে ৯২ কোম্পানি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে যথাক্রমে ৭৭ ও ১৪৬ কোম্পানি বাহিনী, ইসলামপুর ও রায়গঞ্জ পুলিশ জেলায় ৬১ ও ৭১ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী, মালদায় ১৭২ কোম্পানি বাহিনী, জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদে ৩১৬ কোম্পানি,পূর্ব ও পশ্চিম, ২ মেদিনীপুরে ৪৪৪ কোম্পানি, ঝাড়গ্রামে ৭৪ কোম্পানি, বাঁকুড়ায় ১৯৩ কোম্পানি, পুরুলিয়ায় ১৫১ কোম্পানি, বীরভূমে ১৭৬ কোম্পান, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় মোতায়েন থাকবে ১২৫ কোম্পানি বাহিনী।

  • Samrat Choudhary: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সম্রাট, সম্পৃক্ত বিহারের স্বপ্ন সফল করার অঙ্গীকার বিজেপির

    Samrat Choudhary: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সম্রাট, সম্পৃক্ত বিহারের স্বপ্ন সফল করার অঙ্গীকার বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সম্রাট চৌধুরি (Samrat Choudhary)। বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ পাটনার রাজভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান সে রাজ্যের রাজ্যপাল সৈয়দ আটা হাসনাইন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিহারের শাসকজোটের দুই বৃহত্তম শরিক বিজেপি এবং জেডিইউ-র নেতারা। প্রসঙ্গত, এই প্রথম বিহারে বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলেন। অতীত হয়ে গেল নীতীশ কুমার জমানা। বাংলার প্রতিবেশী রাজ্যের ২৪তম মুখ্যমন্ত্রী হলেন সম্রাট। সকাল ১১টায় এক সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন সম্রাট চৌধুরী। অন্যদিকে, নতুন সরকারে জেডিইউ কোটা থেকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিজেন্দ্র যাদব ও বিজয় চৌধুরী।

    নতুন সরকারকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস

    হিন্দি বলয়ের রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, উত্তরাখণ্ড এবং হরিয়ানায়াতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী ছিলই। এবার সেই তালিকায় জুড়ল বিহারের নাম। সম্রাট চৌধুরীই যে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, মঙ্গলবার সেকথা জানান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অন্যতম নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ চৌহান। মঙ্গলবারই সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়েন নীতীশ কুমার। যিনি বর্তমান সংসদে রাজ্যসভার সদস্য। বিহারের দীর্ঘতম সময়ের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন, “এখন থেকে নতুন সরকার বিহারের কাজ দেখভাল করবে। নতুন সরকার আমার পূর্ণ সমর্থন এবং পরামর্শ পাবে।”

    সম্পৃক্ত বিহারের স্বপ্ন সফল হবে

    মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েই নীতীশ কুমার প্রসঙ্গে সম্রাট চৌধুরী বলেন, “শ্রদ্ধেয় নীতীশ কুমার জি শিখিয়েছেন কী ভাবে সরকার চালাতে হয়। কী ভাবে বিহারে সুশাসন বজায় রাখতে হবে তাও শিখিয়ে গিয়েছেন নীতীশ কুমার।” একইসঙ্গে সম্রাট চৌধুরীর দাবি, “আমি বিহারবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, বিহারের সমৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য আমরা একজোট হয়ে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি যে বিকশিত ভারতের স্বপ্ন দেখেছেন, নীতীশ কুমার যে সম্পৃক্ত বিহারের স্বপ্ন দেখিয়েছেন সেই স্বপ সফল করার পথে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”

    সম্রাট চৌধুরীর রাজনৈতিক পথ

    গত দু’বছর ধরে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সম্রাট চৌধুরী। মাত্র ৯ বছর আগে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তিনি। দ্রুত দলের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৬৮ সালে জন্ম নেওয়া চৌধুরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবা শকুনি চৌধুরী তারাপুর কেন্দ্র থেকে ছয়বারের বিধায়ক ছিলেন এবং মা পার্বতী দেবী ১৯৯৮ সালে একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। ১৯৯০ সালে রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরু হয় সম্রাটের। তিনি লালু প্রসাদের আরজেডি, নীতীশের জেডিইউ শিবির ঘুরে ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। এর পরেই রকেট গতিতে উত্থান হয় সম্রাটের। ২০২৪ সালে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হওয়া। খবর ছিল, এবার তাঁকেই বিহারের মসনদে বসাতে চলেছে বিজেপি। বাস্তবেও তেমনটাই ঘটল। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত পাটলিপুত্রে কোনও বিজেপি নেতা মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেননি। গেরুয়া শিবিরের সেই অধরা স্বপ্ন পূরণ করলেন সম্রাট। বিহারের রাজনীতিতে একটি বড় অংশ জুড়ে আছে জাতপাত। সম্রাট চৌধুরী কুশওয়াহা (কৈরি) সম্প্রদায়ের মানুষ। নীতীশ কুমারের কুর্মি ও সম্রাট চৌধুরীর কুশওয়ায়া ভোটব্যাঙ্ক একজোট হলে বিহারে রাজনীতি এক অন্য গল্প লিখবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • TCS Nashik: নাসিকে টিসিএসে এইচআর এজিএম গ্রেফতার, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ৭৮টি ইমেল ও চ্যাট

    TCS Nashik: নাসিকে টিসিএসে এইচআর এজিএম গ্রেফতার, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ৭৮টি ইমেল ও চ্যাট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস-এর বিপিও ইউনিটে এক বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আটজন মহিলা কর্মী যৌন হেনস্থা, মানসিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ সামনে আনায় পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ইতিমধ্যে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং মোট সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থার এক সিনিয়র এইচআর ম্যানেজার অশ্বিনী, যিনি পস (Prevention of Sexual Harassment) কমিটির সদস্যও ছিলেন। ফলে সংস্থার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

    অভিযোগের মূল দিক

    অভিযোগকারী কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের উপর মানসিক ও যৌন নির্যাতন চলছিল। বারবার অভিযোগ জানানোর পরও এইচআর বিভাগ নাকি কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি, ফলে নির্যাতন অব্যাহত ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে চলা ঘটনাগুলির সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৯টি এফআইআর খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ চাপা দেওয়া বা ভুলভাবে পরিচালনার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

    ধর্মীয় চাপের অভিযোগ

    মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরীশ মহাজন দাবি করেছেন, ভুক্তভোগীদের নামাজ পড়তে বাধ্য করা, গরুর মাংস খেতে চাপ দেওয়া এবং ধর্মান্তরের চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পরে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করার একটি বড় চক্র থাকতে পারে।

    ৭৮টি ইমেল ও চ্যাট তদন্তের কেন্দ্রে

    সরকারি কৌঁসুলি কিরণ বেন্ধভারের বক্তব্য অনুযায়ী, সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইমেল আদান-প্রদান এখন তদন্তের মূল বিষয়। পুলিশ ইতিমধ্যে ৭৮টি ইমেল ও চ্যাট রেকর্ড জব্দ করেছে। এছাড়া অভিযুক্তদের ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। অফিসের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের তথ্যও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অভিযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা বা চাপা দেওয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আন্ডারকভার অপারেশন

    তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গোপন অভিযান চালায়। মহিলা কনস্টেবলদের হাউসকিপিং স্টাফ সেজে অফিসে রাখা হয়। এই অভিযানে হেনস্থা ও ধর্মীয় চাপের প্রমাণ মেলে বলে দাবি তদন্তকারীদের। অভিযুক্তদের মধ্যে ড্যানিশ শেখ নামে এক কর্মীর বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা, ধর্ষণ এবং ধর্মীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৌসিফ আত্তারের ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া ছবির ভিত্তিতে আরও অভিযোগ সামনে আসে। টিসিএস (Tata Consultancy Services) জানিয়েছে, সংস্থা “যেকোনও ধরনের হেনস্থা বা জোরজবরদস্তির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি” মেনে চলে। সমস্ত অভিযুক্ত কর্মীকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়েছে।

  • PM Modi: ‘‘বুথ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়’’ ভোটের আগে বুথকর্মীদের ভোকাল টনিক মোদির

    PM Modi: ‘‘বুথ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়’’ ভোটের আগে বুথকর্মীদের ভোকাল টনিক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুথ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, আর গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে দেশ এগিয়ে যায়।’মেরা বুথ, সবসে মজবুত’ কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বুথের কর্মীদের এই কথাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুথকর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রায় ১ ঘণ্টা কথা বলেন মোদি (PM Modi)। কর্মীদের পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান তিনি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বাংলা সফরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।

    বুথে বুথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে

    হাতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরেই বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগে বুথস্তরে আলাদা করে নজর বিজেপির। আগের ভোটগুলি দেখলেও দেখা যাবে বরাবরই নির্বাচনের আগে বুথস্তরে সবথেকে বেশি জোর দিয়েছে পদ্ম শিবির। এবারও তার অন্যথা হল না। এবার বাংলার বুথ কর্মীদের সঙ্গে কথা বললেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলছেন, বুথে বুথে গিয়ে মানুষকে বোঝান। যেখানে যেখানে বিজেপির সরকার আছে সেখানে কোনও সিন্ডিকেট রাজ নেই। কর্মীদের এই বার্তাও দেন মোদি। বুথ স্তরে কর্মীদের উদ্দেশ্যে মোদির সাফ কথা, বাংলায় ভয়ের পরিবেশ রয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা থেকে দুর্নীতি যত খারাপ জিনিস হয় সব বাংলায় চরম সীমায় রয়েছে। সব এতে অতিষ্ট। মহিলা ও যুবদের মধ্যে প্রভাব সর্বাধিক। তাঁদের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনারা তৃণমূল স্তরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের এরকমই ক্ষোভ দেখতে পান। মানুষকে বোঝাতে হবে নির্মম সরকার থাকলে কোনও উন্নয়ন হবে না। বুথে বুথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে।

    বাংলার সঙ্গে এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক

    এদিন মোদি জানান, বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর কণ্ঠে ছিল আবেগ, আর সেই আবেগের মধ্যেই ছিল বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক বাংলার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে তিনি মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত শক্তি, উৎসাহ এবং পরিবর্তনের ইচ্ছা অনুভব করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এই শক্তির ভিত্তি হল বুথ স্তরের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং মানুষের অটুট বিশ্বাস।’মেরা বুথ, সবসে মজবুত’ শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়, বরং গণতন্ত্রকে তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী করার এক বাস্তব আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেন মোদি।

    সাধারণ মানুষ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের চাপে ভুগছেন

    কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, শ্রমিকরা শোষণের শিকার হচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের চাপে ভুগছেন। তিনি এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের যেসব রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে সেখানে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। বাংলার মানুষও সেই পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। সেই শক্তি বাংলার মানুষের মধ্যে রয়েছে। যুব সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলার বহু যুবক আজ নিজের রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অত্যন্ত কষ্টের। তিনি আশ্বাস দেন, এমন এক পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা হবে যেখানে যুবকদের স্বপ্ন পূরণ হবে নিজের মাটিতেই।

    ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’

    ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ২০২১-এর ‘ভুল’ করতে চাইছে না বিজেপি। ‘আমার বুথ, সবচেয়ে মজবুত’ ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’ কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। বুথস্তরে শক্তির মূল্যায়ন করা হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডল ধরে। বুথে বুথে শক্তি বাড়ানোর যে ব্লু প্রিন্ট বিজেপি তৈরি করেছে, তাতে কমিটিতে কারা থাকবেন, কত জন থাকবেন এবং কার কী কাজ হবে তা-ও সবিস্তার বলা রয়েছে। ১১ জনের বুথ কমিটি গড়ার পাশাপাশি নির্দেশ প্রতিটি কমিটিতে ২০ জন সদস্য থাকা চাই। যাঁরা ওই বুথের ভোটার তালিকার এক একটি পাতার দায়িত্বে থাকবেন। তাঁদের বলা হবে পৃষ্ঠা প্রমুখ। এঁরা ওই পাতায় নাম থাকা পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন ও দলের হয়ে কথা বলবেন। গড়ে পাঁচটি করে বুথ নিয়ে একটি করে শক্তিকেন্দ্র বানিয়ে তারও এক জন প্রধান থাকবেন। সকলে মিলে এলাকার ভোটারদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন। কোনও বুথ এলাকায় তফসিলি জাতি, জনজাতি সম্প্রদায়ের বসবাস হলে তাঁদেরও বুথ কমিটিতে রাখতে হবে।

    বিধানসভায় জেতার অঙ্ক

    প্রধানমন্ত্রী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বুথ স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে হবে, উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে ছিল কৌশল, দিকনির্দেশনা এবং এক প্রবল অনুপ্রেরণা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সাধারণ মানুষের কাছে কোন কোন বিষয় নিয়ে যাবেন বুথ স্তরের কর্মীরা তাও একবার পরিষ্কার করে দিলেন স্বয়ং মোদি। কারণ, বুথে বুথে এগিয়ে থাকতে পারলেই সংশ্লিষ্ট বিধানসভায় জেতার অঙ্কটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

     

  • Poila Baisakh: হারিয়ে যাচ্ছে হালখাতা! বড়দের প্রণাম-মিষ্টিমুখ-মাছভাত ছেড়ে দিনের শেষে রেস্তরাঁ, নবরূপে নববর্ষ

    Poila Baisakh: হারিয়ে যাচ্ছে হালখাতা! বড়দের প্রণাম-মিষ্টিমুখ-মাছভাত ছেড়ে দিনের শেষে রেস্তরাঁ, নবরূপে নববর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা নববর্ষের (Poila Baisakh) সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা প্রাচীন ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক রীতি ‘হালখাতা’। বাংলার ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রথম দিনটাকে হালখাতা হিসেবে পালন করে থাকেন। তার সঙ্গে দোকানে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো ও ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। বাঙালির ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এই হালখাতা। সময়ের স্রোতে এখন অনেকটাই ম্লান এই উৎসব। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে কাগজের খাতার প্রয়োজনীয়তা কমেছে। ডিজিটালের ছোঁয়ায় পয়লা বৈশাখের সেই হালখাতার উৎসব ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার পথে। এখন হালখাতা উৎসব যেন পরিণত হয়েছে নিয়ম রক্ষার উৎসবে। দোকানগুলোতে আর নেই সেই আলোকসজ্জা। হালখাতার কার্ড ছাপানোয় নেই সেই তড়িঘড়ি।

    ডিজিটালে বাঁধা জীবন

    দোকান সাজিয়ে খরিদ্দারকে আপ্যায়ন করার দিন শেষ। ক্রেডিট কার্ড, অনলাইন শপিং, অনলাইনে পেমেন্ট করার ধাক্কায় হালখাতার পলেস্তারা খসছে দিনকে দিন। পুরনো বছরের বকেয়া শোধ করাতে আর খে্রোর খাতা খোলার দরকার নেই, ধারকর্যের হিসেবটা মনে করাতে এসে গিয়েছে ‘স্মার্ট পেমেন্ট রিমাইন্ডার’। এখনকার সময়ের ডিজিটাল হালখাতা বলা যেতে পারে। এআই অ্যাপ স্বয়ংক্রিয় ভাবে গ্রাহকদের ধার শোধ করার বার্তা পাঠায় হোয়াট্‌সঅ্যাপ বা এসএমএসে। পয়লা বৈশাখে গণেশ পুজোর পর প্রথম টাকা নেওয়া এখন ই-ওয়ালেটে হয়। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন সরাসরি ব্যাঙ্কে জমা হয় এবং ডিজিটাল লেজারে তার হিসেব সংরক্ষিত হয়ে থাকে। ভুল হওয়ার বা গড়মিলের কোনও জায়গাই নেই।

    বাড়িতে নয়, স্বাদ বদল রেস্তরাঁয়

    একটা সময় পয়লা বৈশাখ মানেই ছিল দিনের শুরুতে নতুন জামা পরে পরিবারের বড়দের প্রণাম করা, দুপুরে বাড়িতে ঘরোয়া ভাবেই খাওয়াদাওয়ার বিশেষ আয়োজন আর সন্ধ্যাবেলা বাড়িতে ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজনের জমায়েত। এখন বাঙালির কাছে পয়লা বৈশাখ মানে সারাদিনের কাজকর্ম সেরে কোনও এক বাঙালি রেস্তরাঁয় খেতে যাওয়া। বড়দের প্রণাম করাটাও এখন ফোনে ফোনেই সেরে ফেলা হয়। তাই বাংলা নববর্ষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে হালখাতা। তবে আগের থেকে এখনকার দিনে হালখাতার উদযাপন অনেকটাই কমে এসেছে। আগে অনেক দোকানী হালখাতা উপলক্ষ্যে রীতিমত নিমন্ত্রণ পত্র ছাপিয়ে উত্‍সবের আয়োজন করতেন। এখন বিভিন্ন অ্যাপ ও অনলাইন শপিং-এর কারণে হালখাতার সেই আগেকার দিনের জৌলুস কমে এসেছে। কম্পিউটারেই ব্যবসার হিসেব রাখেন বেশিরভাগ দোকানীরা। তাই খাতার ব্যবহারও কমে গিয়েছে অনেকটাই।

    ধর্মীয় রীতি এখনও এক

    সময়ের চাকায় বদল এলেও উৎসব আছে। রয়েছে মঙ্গলময় ভাবনা। নববর্ষের প্রথম দিনে দোকান পরিষ্কার করে, ফুল দিয়ে সাজিয়ে, লক্ষ্মী গণশের পুজো করা হয়ে থাকে। তার সঙ্গে থাকে ক্রেতাদের জন্য সামান্য হলেও মিষ্টিমুখের আয়োজন ও একটা বাংলা ক্যালেন্ডার। নতুন বছরে নতুন যে খাতায় ব্যবসার হিসেব রাখা হবে, সেই খাতাটি কোনও মন্দিরে নিয়ে গিয়ে পুজো করিয়ে আনার প্রথা আছে। খাতার প্রথম পাতায় সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ব এঁকে দেন পুরোহিতরা। কালীঘাট মন্দিরে এদিন ভিড় উপচে পড়ে ব্যবসায়ীদের। হিন্দুধর্মে স্বস্তিক চিহ্ন বিশেষ মঙ্গল বার্তা বহন করে। তাই যে কোনও পুজো বা শুভ অনুষ্ঠানে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক এঁকে দেওয়া হয়।

    পাড়ার মোড়ে  প্রভাতফেরি কোথায়

    ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ২০২৬ সাল। আজ পয়লা বৈশাখ। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের শ্রেষ্ঠ উৎসব। তবে উৎসবের মেজাজ এক থাকলেও, যান্ত্রিকতা আর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে পালনের ধরন। ফিরে তাকালে দেখা যায়, বিশ শতকের শেষার্ধ বা একুশ শতকের শুরুর সেই সাবেকিয়ানা আর আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের বৈশাখের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আগেকার দিনে পয়লা বৈশাখ মানেই ছিল সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে নতুন জামা পরে গুরুজনদের প্রণাম করা। পাড়ার মোড়ে মোড়ে তখন চলত প্রভাতফেরি। শান্তিনিকেতনী ঘরানায় গান-কবিতায় বরণ করে নেওয়া হতো নতুন বছরকে। বৈশাখের আগের মাস জুড়ে চলত ‘চৈত্র সেল’। আর পয়লা বৈশাখে গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র বসত মেলা। নাগরদোলা, মাটির পুতুল আর জিলিপির গন্ধে ম ম করত মেলার মাঠ।

    নববর্ষে সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ

    ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে চিত্রটা অনেকটাই আধুনিক। এখন আর নিমন্ত্রণ পত্রের বদলে হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ডিজিটাল কার্ড’ পাঠাতেই মানুষ বেশি অভ্যস্ত। তবুও বাঙালির আবেগে খুব একটা ভাটা পড়েনি। কেনাকাটার ধরণ বদলেছে। চৈত্র সেলের ভিড় এখন অনেকটাই স্থানান্তরিত হয়েছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে।  এখন মানুষ সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি ভিডিও কলে প্রবাসী পরিজনদের সাথে উৎসবে সামিল হয়। পাড়ার সেই জলসা আজ হয়তো কম দেখা যায়, কিন্তু তার জায়গা করে নিয়েছে বর্ণাঢ্য মেগা ইভেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ। রূপ বদলালেও নস্টালজিয়া রয়েছে। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো হলেও, নববর্ষের আলাদা গুরুত্ব আছে। বর্তমানে এই বিশেষ দিন উপলক্ষে সেজে ওঠে সমস্ত শপিং মল থেকে শহরের রাস্তাঘাট। সকলে রাগ-অভিমান, দুঃখ -কষ্ট ভুলে গা ভাসান উৎসবের আনন্দে।

     

LinkedIn
Share