Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Siliguri Corridor: মাটির নিচে রেল, বাঙ্কার, নতুন হাইওয়ে: শিলিগুড়ি করিডরকে দুর্ভেদ্য করতে ভারতের সাত স্তরের মাস্টারপ্ল্যান

    Siliguri Corridor: মাটির নিচে রেল, বাঙ্কার, নতুন হাইওয়ে: শিলিগুড়ি করিডরকে দুর্ভেদ্য করতে ভারতের সাত স্তরের মাস্টারপ্ল্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলপথের যোগসূত্র শিলিগুড়ি করিডর। এই সংকীর্ণ পথটিকে আরও মজবুত করতে বহুস্তরীয় কৌশলগত পরিকাঠামো গড়ে তুলছে কেন্দ্র। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ভারত-বিরোধী মনোভাব ও নিরাপত্তা অস্থিরতা এবং চিনের আগ্রাসী সামরিক তৎপরতার মধ্যে এই উদ্যোগ বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামো, অতিরিক্ত রেললাইন, বিকল্প হাইওয়ে, সীমান্ত সড়ক ও নতুন সেনা স্থাপনা— সব মিলিয়ে ‘চিকেন নেক’ বলে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ‘‘ফর্টেস’’ বা দুর্গে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। মূল লক্ষ্য একটাই: কোনও একটি রুট বন্ধ হয়ে গেলেও যেন উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ অচল না হয়।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর?

    • ● সবচেয়ে সংকীর্ণ জায়গায় করিডরের প্রস্থ মাত্র ২২ কিলোমিটার
    • ● নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তের খুব কাছে, পাশেই চিনের চুম্বি উপত্যকা
    • ● রেললাইন, হাইওয়ে, সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক রুট ঘনীভূত থাকায় একটি রুটে বিঘ্ন ঘটলেই বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে

    তাই এখন একটি রাস্তা, রেলপথ বা স্থাপনার ওপর নির্ভর না করে একাধিক সমান্তরাল রুট ও সুরক্ষিত স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলেই তৈরি হচ্ছে সাত স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো।

    সাত স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো

    ১. ভূগর্ভে গোলাবারুদ ও সামরিক সম্পদের সুরক্ষা

    বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯৭ কোটি টাকার সেনা পরিকাঠামো প্যাকেজে রয়েছে:

    • ● ১২টি ভূগর্ভস্থ আর্মি ও এয়ার ডিফেন্স গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র
    • ● ১টি ভূগর্ভস্থ লং রেঞ্জ গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র
    • ● ২১টি ওভারগ্রাউন্ড লং রেঞ্জ ভূপৃষ্ঠস্থ ফায়ারিং পজিশন
    • ● ১২টি বোমা আশ্রয়কেন্দ্র (বাঙ্কার)
    • ● দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টোরেজ স্পেস

    করিডরে জায়গা কম বলে মাটির নিচের স্থাপনা একইসঙ্গে সুরক্ষিত ও জায়গা-সাশ্রয়ী।

    ২. সুরক্ষিত কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক

    সংকটকালেও সামরিক সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগ যাতে বজায় থাকে, সেটাই এই স্তরের উদ্দেশ্য। এর জন্য তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে:

    • ● ৫টি ভূগর্ভস্থ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার
    • ● ৬টি ভূগর্ভস্থ কমিউনিকেশন সেন্টার
    • ● আরও কয়েকটি ভূগর্ভস্থ লং রেঞ্জ গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র

    আকাশপথে হামলা, ড্রোন বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতেও অপারেশনাল ধারাবাহিকতা রক্ষাই লক্ষ্য।

    ৩. ছ’লেনের রেলপথ: করিডরের নিচে ‘দ্বিতীয় লাইফলাইন’

    এই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভূগর্ভস্থ রেলপথ।

    • ● ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই কৌশলগত করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা চলছে, যাতে থাকছে ভূগর্ভস্থ ট্র্যাক ও বিদ্যমান রেল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ
    • ● রুট: টিন মাইল হাট (দুমদুমি) থেকে রাঙ্গাপানি হয়ে বাগডোগরা
    • ● ট্র্যাক থাকবে মাটির ২০ থেকে ২৪ মিটার নিচে
    • ● প্রকল্পটি ‘স্পেশাল রেলওয়ে প্রজেক্ট’ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিভুক্ত। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দুমদুমি (টিন মাইল হাট)–রাঙ্গাপানি–বাগডোগরা অংশের দৈর্ঘ্য ৩৫.৭৬ কিলোমিটার
    • ● বর্তমান ডাবল লাইনকে চার লাইনে উন্নীত করার পাশাপাশি যোগ হবে দুটি ভূগর্ভস্থ লাইন, অর্থাৎ মোট ছ’টি লাইন (চারটি ওপরে, দুটি নিচে)

    ওপরের কোনও অংশ জটিলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে বিঘ্নিত হলে সুরক্ষিত বিকল্প রেলপথ কাজে লাগবে। এতে সামরিক রসদ চলাচলও নির্বিঘ্ন থাকবে।

    ৪. হাইওয়ের জাল: এক রুটের ওপর নির্ভরতা কমানো

    • ● প্রস্তাবিত গোরক্ষপুর–শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) তৈরির কাজ চলছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সংসদে এ কথা জানায় কেন্দ্র
    • ● শিলিগুড়ির সঙ্গে গুয়াহাটি ও শিলং সংযোগকারী বড় হাইওয়ে উদ্যোগেরও ঘোষণা হয়েছে

    একাধিক হাইওয়ে ও সেতু থাকলে সাধারণ ট্রাফিক, লজিস্টিক্স, জরুরি চলাচল ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ ভাগ হয়ে যেতে পারবে।

    ৫. সিকিমমুখী এনএইচ-১০ ও পার্শ্ববর্তী সংযোগ সড়ক

    • ● সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত এনএইচ-১০ উন্নয়নের পরিকল্পনা
    • ● প্রধান হাইওয়েগুলির মধ্যে অতিরিক্ত সংযোগ সড়ক, যাতে সিকিম সেক্টরে যাওয়ার বিকল্প পথ মেলে

    শিলিগুড়ি শুধু উত্তর-পূর্বের প্রবেশদ্বার নয়, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্রও। ভারী যান চলার মতো বিকল্প রাস্তা তাই সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পাঠানোয় বাড়তি নমনীয়তা দেবে।

    ৬. সীমান্ত সড়কে নিরাপত্তার জাল

    • ● ইন্দো-নেপাল বর্ডার রোড কর্মসূচির আওতায় ফতেপুর–গালগালিয়া সড়ক (৭৯.৫ কিলোমিটার)
    • ● ইন্দো-নেপাল সীমান্তে আরও সড়কের প্রস্তাব, যা টহলদারি ও সংযোগ বাড়াবে
    • ● ভুটান সীমান্ত বরাবর সংযোগ উন্নয়নেরও পরিকল্পনা

    দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পৌঁছতে পারবে, সীমান্ত-পারের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে প্রতিক্রিয়াও দ্রুততর হবে।

    ৭. ভারত-ভুটান-চিন ত্রিসংযোগস্থল ঘিরে কৌশলগত সংযোগ

    সিকিম ও ভুটান সীমান্তের সংবেদনশীল পথে দ্রুত পৌঁছনো ও সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত সামরিক স্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিলিগুড়ি করিডর সিকিম-ভুটান-চিন ত্রিসংযোগের কাছেই, আর চুম্বি উপত্যকা ভারত ও ভুটান সীমান্তের নিকটে। তাই শিলিগুড়ির সুরক্ষাকে বিচ্ছিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, সিকিম, ভুটান ও পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ একই সূত্রে বাঁধা।

    কেন এই ‘রেজিলিয়েন্স’ কৌশল?

    এই পরিকল্পনার মূল ভাবনা একটি বিশাল দুর্গ গড়া নয়, বরং এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে কোনও একটি রাস্তা, রেললাইন, সেতু বা সামরিক স্থাপনা দুর্বলতম বিন্দু হয়ে উঠবে না।

    • ● একটি হাইওয়ে বন্ধ হলে অন্য রুট দিয়ে যান চলবে
    • ● ওপরের রেলপথ বিঘ্নিত হলে ভূগর্ভস্থ লাইন বিকল্প হবে
    • ● ভূপৃষ্ঠের সামরিক স্থাপনা হুমকির মুখে পড়লেও ভূগর্ভস্থ কমান্ড, যোগাযোগ ও গোলাবারুদ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাবে

    সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট: একাধিক স্তরের সুরক্ষা ও একাধিক পথ থাকলে চোকপয়েন্টকে ‘চোক’ করা অনেক কঠিন।

  • Lionel Messi Farewell Match: মেসি যুগের অবসান! গোল করলেন-করালেন, শেষ যুদ্ধেও বিজয়ী ফুটবলের রাজপুত্র

    Lionel Messi Farewell Match: মেসি যুগের অবসান! গোল করলেন-করালেন, শেষ যুদ্ধেও বিজয়ী ফুটবলের রাজপুত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষ বাঁশি বাজতেই মেসিকে (Lionel Messi Farewell Match) ঘিরে ধরলেন সতীর্থরা। রেফারি ও প্রতিপক্ষের ফুটবলাররাও এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা জানালেন। এরই মাঝে মেসির সঙ্গে সেলফি তোলার আবদারও এল কয়েকজনের কাছ থেকে। আবেগঘন মুহূর্তে শেষ হল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচটা যে শুধুই আর পাঁচটা ফুটবল ম্যাচের মতো হত না, তা স্পষ্ট ছিল আগে থেকেই। আর এদিন বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম সেজেছিল আর্জেন্তিনার মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বিদায় জানাতে। বেনিনের বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলি ম্যাচে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামলেন আর্জেন্তিনার লিও মেসি। আর সেই আবেগঘন রাতে চোখের জল, গোল এবং সতীর্থদের ভালোবাসায় পূর্ণ হলো মেসির বিদায়।

    মনুমেন্টালে বিশেষ আয়োজন

    এদিন ভোরে ম্যাচ শুরুর আগেই মনুমেন্টালে ছিল বিশেষ আয়োজন। মাঠে তুলে ধরা হয় বিশাল ১০ নম্বরের জার্সি আর তাতে লেখা গ্রাসিয়াস। পাশাপাশি গ্যালারি ভরে গিয়েছিল আকাশি ও সাদা রঙে। উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রাক্তন তারকা দি মারিয়াও এবং ফ্রান্সের প্রাক্তন তারকা ডেভিড ত্রেজেগেকেও। এদিন তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরোকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন লিও। ঠিক তখনই গোটা স্টেডিয়াম যেন আবেগে ভেসে যায়। জাতীয় সংগীত চলাকালীন চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। পাশাপাশি আবেগে ভেসে যায় কোচ লিওনেল স্কালোনিও। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আরও এক বিদায়ী তারকা নিকোলাস ওতামেন্দি।

    মেসি-স্কালোনি মায়া

    আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগেই হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে রাজকীয় বিদায়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেই মতো মঙ্গলবার (ভারতীয় সময় বুধবার ভোররাতে) বেনিনের বিরুদ্ধে শেষবারের জন্য নীল-সাদা জার্সিতে মাঠে নামেন মেসি। ম্যাচ শেষে মেসিকে বুকে টেনে নেন কোচ লায়োনেল স্কালোনি। সেসময় দু’জনের চোখই ছলছলে। আসলে গত কয়েক বছর এই জুটির হাত ধরেই একের পর এক সাফল্যের পথে হেঁটেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাই মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আবেগাপ্লুত কোচ স্কালোনিও। মেসির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ ও জোড়া কোপা আমেরিকা জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্তিনা। মার্কিন মুলুকে দল ফাইনালে পৌঁছালেও খেতাবি লড়াইয়ে স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। এরপরই বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন লিও। তারই জেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন বাঁ পায়ের জাদুকর।

    মেসির পায়ে বল গর্জে উঠল মনুমেন্টাল

    খেলা শুরু হওয়ার পর মেসির পায়ে বল এলেই গর্জে ওঠে মনুমেন্টাল। সপ্তম মিনিটে বক্সের বাইরে সতীর্থের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে গোলের উদ্দেশ্যে শট নেন লিও। তবে বেনিনের গোলরক্ষক তা আটকে দেন। এরপর দশম মিনিটে ফের বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় মেসিকে। আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম। গ্যালারির প্রত্যেক দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন। বেঞ্চে থাকা দুই দলের কোচ ও ফুটবলাররাও উঠে দাঁড়িয়ে মেসিকে সম্মান জানিয়ে হাততালি দিতে থাকেন। ১০ নম্বর জার্সিধারী মেসিও সেই আবেগঘন মুহূর্ত উপভোগ করলেন। গ্যালারির দর্শকদের দিকে হাত নেড়ে তাঁদের অভিবাদন গ্রহণ করলেন তিনি। প্রথমার্ধে একাধিকবার আক্রমণে উঠে এলেও গোল পায়নি আর্জেন্টিনা। হাফটাইমের পর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও ভালোভাবে নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা। মেসির বাড়ানো ক্রস থেকেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এই ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে ওতামেন্দির শেষ ম্যাচ। এরপর আর্জেন্তিনার দ্বিতীয় গোলটি আসে নিকো পাজের পা থেকে। ডান দিক থেকে ভিতরে ঢুকে দুরন্ত বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

    বিদায়ী ম্য়াচে গোল লিওনেল মেসির

    অবশেষে আসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৬৯ মিনিটে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। এরপর বল বসিয়ে এগিয়ে লিও। তারপর নিখুঁত শটে ডানদিকের উপরের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার বাকি খেলোয়াড়রা ছুটে এসে ঘিরে ধরেন অধিনায়ককে। বিদায়ের এই ম্যাচে নিজের নামের আরও একটি গোল যোগ করলেন মেসি। লিওনেল মেসির ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল। মনুমেন্টালে উপস্থিত সমর্থকেরা যে আজ মেসির জন্য এসেছেন, এই মুহূর্তে তাঁদের আবেগ যেন সার্থক আতশবাজি, গান, চোখের জল আর মেসি- মেসি ধ্বনিতে শেষ হয় এক ঐতিহাসিক ম্যাচ। নীল-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের যাত্রার শেষ অধ্যায়ে মেসি রেখে গেলেন গোলের স্মৃতি।

    নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে কী বললেন মেসি

    ম্যাচ শেষের পর ড্রোন শো এবং সংগীতানুষ্ঠানের পর ফ্যান ও টিমমেটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন লিওনেল মেসি। তিনি বলেন, “আমার ইচ্ছে করছে সারা জীবন খেলা চালিয়ে যেতে, কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। গত বিশ্বকাপটা ছিল অসাধারণ। আমরা স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি ছিলাম, খুবই কাছাকাছি। আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়েছি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের জন্য প্রচণ্ড চাপের ছিল। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরি হয়েছিল। আবেগগত এবং শারীরিক দিক থেকে আমরা আমাদের শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমরা সারাজীবন ধরে লড়াই করেছি। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে আমি এবং আমার সকল সতীর্থ এই জার্সির জন্য সবসময় নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।” মেসির কথায়, “সারাদেশে ঘুরে ঘুরে খেলার এই ব্যাপারটা আমি খুব মিস করব। আমরা যেখানেই গিয়েছি, প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। এই সবকিছুর জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এটা হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন। কিন্তু, আমি এই প্রজন্মের সমর্থনে তোমাদের পাশে থাকব। আমরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকব। যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, তখন আমরা অন্য সবার চেয়ে শক্তিশালী। এমন কিছু লোক আছে যারা জাতীয় দলের সাফল্য দেখতে চায় না। আমাদের তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা একটি অসাধারণ দল ছিলাম, আর সে কারণেই আমরা যা জিতেছি তা জিতেছি।” মনুমেন্টালের গ্যালারি থেকে মহাতারকার জন্য তখন একটাই বার্তা, গ্রাসিয়াস লিও।

  • US House Honour Indian Pilot: ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলটকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

    US House Honour Indian Pilot: ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলটকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পিছন থেকে আসছিল একের পর এক আঘাত। প্রথমে ভেবেছিলেন, বিমানের বড় কোনও ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পর পর আঘাত আসতেই বুঝতে পারেন, বিমানে কিছু হয়নি। ককপিটে তাঁর সঙ্গে যিনি আছেন, তিনি কিছু করছেন। এর পর সহকারী পাইলটকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন ফ্লাইদুবায়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার। কিন্তু মাথায় আঘাতের কারণে তাঁর চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। ফলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। মনে মনে আওড়াচ্ছিলেন হনুমান চল্লিশা। হঠাতই সঞ্জীবনী মন্ত্রে তাঁর মাথায় কাজ করে উপস্থিত বুদ্ধি। কোনওরকমে খুলে দেন ককপিটের দরজা। বেঁচে যায় ১৭৪ জন বিমানযাত্রীর জীবন। ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন স্মিত। এবার, ভারতীয় পাইলটকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানাতে উদ্যোগী হল মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস।

    মার্কিন কংগ্রেসে সাহসিকতার পুরস্কার

    স্মিতের সাহসিকতার পাশাপাশি ফ্লাইটের ক্রু ও যাত্রীদের ভূমিকাকেও স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসে। গত ৫ অক্টোবর কংগ্রেসম্যান জোশ গটহাইমার এইচ রেস ১৬১২ নামে প্রস্তাবটি হাউসে উত্থাপন করেন। এতে মাইকেল ম্যাককল এবং ডন বেকন সহ-প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন। ৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রস্তাবটি হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও তা পূর্ণাঙ্গ হাউসে পাস হয়নি। প্রস্তাবটির শিরোনাম— ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এবং ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩-এর ক্রু ও যাত্রীদের সম্মান জানানো এবং বিমানটিতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো (Honouring Captain Smit Machchhar and the crew and passengers of Flydubai Flight 1073)।

    মাঝ আকাশে ককপিটে সন্ত্রাসী হামলা

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়ে যায় ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩। বিমানে ছিলেন প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে ২৭ জন শিশু এবং চারজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। উড়ানের মাঝপথে বিমানের ফার্স্ট অফিসার বা সহকারী পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের ওপর জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারায়। পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় এবং বিমানটি একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার প্রতিরোধ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তাঁর এই পদক্ষেপই পরিস্থিতি বদলে দেয়। বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলটরা ককপিটে ঢুকতে পারেন এবং কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে মাটিতে নামতে সক্ষম হন।

    ‘অসাধারণ সাহসিকতার’ প্রশংসা

    মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত প্রস্তাবে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নিজের জীবন বিপন্ন করে তিনি বিমানে থাকা প্রত্যেক মানুষের জীবন রক্ষায় “অসাধারণ সাহসিকতা” দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদেরও প্রশংসা করা হয়েছে। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ককপিট সুরক্ষিত করা এবং বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়েছিল।

    ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে চিহ্নিত

    ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন প্রস্তাবে। ৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে যে ফার্স্ট অফিসার বিমানটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানানো হয়। তবে হামলার উদ্দেশ্য, ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন হাউসের প্রস্তাবে ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর এই হামলাকে গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের দাবি

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের জন্য সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের এই প্রস্তাব। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুতর আহত অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি

    ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার আরও কিছু বিবরণ সামনে আসে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি বুঝতে পারেন, ককপিটের দরজা খুলতে পারলে অন্যরা সেখানে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নিজেকে সামলে দরজার কাছে পৌঁছন এবং সেটি খুলতে সক্ষম হন। তাঁর এই সিদ্ধান্তই অন্যদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিমানটি ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। হাসপাতালের শয্যা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলার সময় মচ্ছার সেই মুহূর্তের কথা জানান। আহত অবস্থাতেও কীভাবে নিজেকে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার কাছে পৌঁছনোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন মচ্ছার সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর সাহসিকতার জন্য ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকেও প্রশংসা এসেছে।

    আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে ভারতীয় পাইলট

    ফ্লাইট ১০৭৩-এর ঘটনা শুধু একজন পাইলটের ব্যক্তিগত সাহসিকতার গল্প নয়। এটি আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। একজন ভারতীয় ক্যাপ্টেন, অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং সাধারণ যাত্রীরা একসঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি রুখে দেন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত হাউসে পাস হলে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসের স্বীকৃতি পাবে। তবে সেই স্বীকৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার হাল ছাড়েননি। তিনি ককপিটের দরজা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। আর সেই কয়েক মুহূর্তের সাহসই ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচানোর পথ খুলে দিয়েছিল।

  • India vs Uruguay: অনিরুদ্ধ থাপার অবিশ্বাস্য গোল কাজে লাগল না, উরুগুয়ের কাছে ৬-১ গোলে হার ভারতের

    India vs Uruguay: অনিরুদ্ধ থাপার অবিশ্বাস্য গোল কাজে লাগল না, উরুগুয়ের কাছে ৬-১ গোলে হার ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি খেলতে নামে ভারতীয় ফুটবল দল (Indian Football Team)। উরুগুয়ে যে ভাল খেলবে, তা আগে থেকেই সকলের ধারণা ছিল। কিন্তু, টিম ইন্ডিয়া এদিন যেভাবে লড়াই করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। চেষ্টার কোনও কমতি ছিল না। ৯০ মিনিট মাঠে নিজেদের নিংড়ে দিলেন মনবীর, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপারা। কিন্তু দিনের শেষে ভারত এবং উরুগুয়ের মধ্যে দক্ষতার ফারাক যে আকাশ-পাতাল। সেই ফারাক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মঙ্গলবারের যুবভারতী। পানামা ম্যাচে ড্র এবং ব্রাজিল ম্যাচের লড়াকু ফলাফল ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের উরুগুয়ে ম্যাচে ভালো ফলের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবের রুক্ষ্ম মাটিতে আছড়ে পড়ল। অনিরুদ্ধ থাপা ইতিহাস গড়ে একটি গোল করলেন বটে। কিন্তু শেষমেশ ফোরল্যানের দলের বিরুদ্ধে ১-৬ গোলে হারল ব্লু টাইগার্স।

    শুরুতেই গোল উরুগুয়ের

    উরুগুয়ের (India vs Uruguay) হয়ে প্রথম গোল করেন ডারউইন নুনিয়েজ। অন্য়দিকে, ভারতের হয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান অনিরুদ্ধ থাপা। এদিন জলপানের বিরতির ঠিক পরই কলকাতার আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করে। ফিফার নিয়ম অনুসারে, এই কারণেই খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিন খেলা শুরুতেই। পরমবীরের ভুল ট্যাকলে পেনাল্টি উপহার পায় উরুগুয়ে। ম্যাচের ১১ মিনিটে পেনাল্টি স্পট থেকে শট নেওয়ার আগে দৌড়ে সামান্য থমকে যান নুনিয়েজ। এরপর গুরপ্রীতকে ভুল দিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি!

    সমতা ফেরালেন অনিরুদ্ধ থাপা

    দুর্দান্ত কামব্যাক ভারতীয় ফুটবল দলের ২২ মিনিট মাঠের মাঝখানে বল দখলে নেন রায়ান উইলিয়ামস। সামনে দৌড়ে যাওয়ার জন্য বেশ কিছুটা জায়গাও ছিল তাঁর। সতীর্থদের পাস দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিজেই শট নেন উইলিয়ামস। তবে সেই শট বাঁচিয়ে দেন উরুগুয়ের গোলকিপার কারদোজো। কিন্তু বলটি মুঠোয় ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ঠিক সেখানেই ওত পেতে ছিলেন থাপা। ফিরতি বল পেয়ে জালে জড়িয়ে দেন অনিরুদ্ধ থাপা। এই গোলের ফলে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোল করা দ্বিতীয় ভারতীয় ফুটবলার হলেন অনিরুদ্ধ থাপা। ১৯৮২ সালে ইডেন উদ্যানে নেহরু গোল্ড কাপের ম্যাচে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ভারতীয় হিসেবে গোল করেছিলেন মানস ভট্টাচার্য।

    বজ্রপাতে বেসামাল রক্ষণ

    এরপর বজ্রপাতের জন্য আধঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়েছিল খেলা। সেটাই সম্ভবত কাল হল ভারতের। ওই আধ ঘণ্টার বিরতির পর আচমকা ভারতের রক্ষণ যেন নড়বড়ে হয়ে যায়। অবশ্য সেটার নেপথ্যে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ৩ ম্যাচ খেলার ক্লান্তি এবং কোচ খালিদ জামিলের তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও কাজ করেছে। বিজয় ভার্গেস যিনি আগের দু’ম্যাচে আনোয়ারের পাশে স্তম্ভের মতো রক্ষণ সামলেছেন তাঁকে এদিন বিশ্রাম দেন খালিদ। সেটাই কাল হয়। ভারতের নড়বড়ে রক্ষণের সুযোগ নিতে ছাড়েনি উরুগুয়ে। ২৮ মিনিটে প্রথমে গোল করে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরাউও। প্রথমার্ধে ভারত পিছিয়ে ছিল ২-১ গোলে।

    দ্বিতীয়ার্ধে অন্য উরুগুয়ে

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই যেন অন্য উরুগুয়েকে দেখা যায়। একের পর এক গোলে ব্যবধান বাড়াতে থাকে ফোরল্যানের দল। ভারত যখনই আক্রমণে গিয়েছে প্রতিআক্রমণে বিপদ তৈরি করেছে উরুগুয়ে, ক্লান্তি আর গতির অভাবে সেই আক্রমণ রুখতে পারেননি আকাশ মিশ্ররা। ৫৩ মিনিটে জালাজার, ৫৯ মিনিটে আরাউওর দ্বিতীয় গোল, ৭১ মিনিটে সানব্রিয়া এবং ৮৬ মিনিটে আগুয়ের গোল করেন। এর মাঝে দলে একাধিক বদল এনেও রক্ষণের ফাঁকফোঁকর বন্ধ করতে পারেননি খালিদ জামিল। দিনের শেষে খেলার ফল ১-৬।

     

  • Harmanpreet Kaur: ক্রিকেট থেকে এখনই অবসর নয়! জাতীয় দলের সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব ছাড়লেন হরমনপ্রীত কৌর

    Harmanpreet Kaur: ক্রিকেট থেকে এখনই অবসর নয়! জাতীয় দলের সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব ছাড়লেন হরমনপ্রীত কৌর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের (India Women’s Cricket Team) সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন হরমনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur)। মঙ্গলবার হঠাৎই বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সমাজমাধ‍্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেতে পারেন স্মৃতি মান্ধানা। হরমন জানিয়েছেন, দেশের হয়ে সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাবেন। নেতৃত্ব ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত একেবারেই সহজ ছিল না বলে স্বীকার করেছেন তারকা ব্যাটার। তাঁর মতে, এই যাত্রাপথে বহু স্মৃতি, আবেগ এবং ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে।

    ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে স্মরণীয় সময়

    হরমনপ্রীতের অধিনায়কত্বে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট অন্যতম স্মরণীয় সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২২ ও ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে সোনা জয়। নিজের সিদ্ধান্তের ঘোষণা করে হরমনপ্রীত লিখেছেন, “আজ আমি সব ফরম্যাটেই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। এটি মোটেই সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং এমন কিছু মুহূর্ত যা জীবনের বাকি সময়টা আমার সঙ্গে থেকে যাবে। এই দল এবং ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জন্য আমার যা দেওয়ার ছিল, তার সবটাই আমি দিয়েছি। আমার রক্ত, ঘাম, সময় এবং বহু বার নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও স্বপ্নকেও ত্যাগ করেছি। এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে যখন আমাকে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, নিজের উন্নতি এবং নিজের চাওয়া-পাওয়াকে পাশে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। কারণ, আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি যে দলের স্বার্থই সবার আগে।”

    অধিনায়ক হিসেবে কঠিন সিদ্ধান্ত

    অধিনায়ক হিসেবে আমাকে কঠিন অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এমন কিছু সিদ্ধান্ত যা সব সময় সকলে বুঝতে পারেনি, যা নেওয়া সহজ ছিল না এবং যার জন্য অনেক সময় ব্যক্তিগত খেসারতও দিতে হয়েছে। তবে আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের পিছনে একটিই উদ্দেশ্য ছিল— এই দলকে আরও উন্নত করা এবং অন্যান্য ক্রিকেটারেরা যাতে নিজেকে তুলে ধরার, নিজের উপর বিশ্বাস রাখার ও নিজের সেরাটা মেলে ধরার সুযোগ পায়, সেটা দেখা। আমি সব রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। আমি চরম হতাশার মুহূর্ত দেখেছি। হৃদয়ভঙ্গের যন্ত্রণা, সমালোচনা, সংশয় এবং এমন দিনও দেখেছি যখন কোনও কিছুই আমাদের পক্ষে যাচ্ছিল না। আবার একই সঙ্গে আমি সাফল্যের শীর্ষও স্পর্শ করেছি। সেই জয়, উদযাপন, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব এবং এমন কিছু মুহূর্ত যা প্রতিটি ত্যাগকে সার্থক করে তুলেছিল।”

    দলের সঙ্গেই থাকব

    নেতৃত্ব ছাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে (International Cricket) এখনই বিদায় জানাচ্ছেন না। হরমন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন। বলেন, “আজ যখন আমি অধিনায়কত্ব ছাড়ছি, আমার হৃদয় আবেগে ভরা, তবে মনে এক পরম শান্তি রয়েছে। আমি মন থেকে বিশ্বাস করি যে, আমার দল এখন অত্যন্ত নিরাপদ ও ভাল জায়গায় রয়েছে। এটা এমন এক দল, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিভা, মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস এবং এমন এক ভবিষ্যৎ যা দেখতে পাওয়ার ও যার অংশ হওয়ার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে আছি। আমার মনে হয় আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। এই দলকে আমার যা দেওয়ার ছিল, তার সবটাই আমি দিয়েছি। আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করেছি এবং ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব। এখন আমার জন্য নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় এসে গিয়েছে। অধিনায়কত্ব হয়তো আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি আমার ভালবাসা কোনও দিন শেষ হবে না। প্রত‍্যেক সতীর্থ, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, ম্যানেজমেন্ট, বিসিসিআই, আমার পরিবার এবং সেই সমস্ত ভক্তদের অনেক ধন্যবাদ যাঁরা আমার ভাল-খারাপ সব সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। রক্ত। ঘাম। ত্যাগ। গর্ব। আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। এখন আমি কেবল খেলার প্রতি ভালবাসার খাতিরে আবারও মাঠে নামতে প্রস্তুত। অধিনায়ক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে যাত্রা অব্যাহত থাকবে।”

  • New Airports in West Bengal: উড়ান প্রকল্পে রাজ্যে আরও চার নতুন বিমানবন্দর, কেন্দ্রকে কলকাতা-লন্ডন সরাসরি বিমানের অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রীর

    New Airports in West Bengal: উড়ান প্রকল্পে রাজ্যে আরও চার নতুন বিমানবন্দর, কেন্দ্রকে কলকাতা-লন্ডন সরাসরি বিমানের অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পে চারটি নতুন বিমানবন্দর (New Airports in West Bengal) তৈরি করতে উদ্যোগী হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার নবান্ন সভাঘরে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক, এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং রাজ্যের পরিবহণ দফতরের মধ্যে এই মর্মে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী কিনজারাপ্পু রামমোহন নায়ডু জানান, দু’বছরের মধ্যে এই চার এয়ারপোর্ট — পুরুলিয়ার ছড়রা, বালুরঘাট এবং বায়ুসেনার অধীনে কলাইকুন্ডা ও হাসিমারা থেকে প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট যাতায়াত শুরু হবে। নায়ডুর কাছে কলকাতা–লন্ডন এবং ইউরোপের অন্যান্য শহরে সরাসরি উড়ান চালুর অনুরোধ জানান শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    রাজ্যের চার প্রান্তে চার বন্দর

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে এ রাজ্যে এয়ারপোর্টের সংখ্যা বাড়েনি। নতুন সরকার আসার পরে দ্রুত গতিতে সেই কাজ এগোচ্ছে। শুভেন্দু জানান, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডায় রানওয়ে আছে। সেখান থেকে বায়ুসেনার বিমান নিয়মিত ওঠানামা করে। মুখ্যমন্ত্রী জানান ওখান থেকে বোয়িং এবং এয়ারবাস-এর বিমান স্বচ্ছন্দে ওঠানামা করতে পারে। শুধু টার্মিনাল বিল্ডিং এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির জন্য হাসিমারা ও কলাইকুন্ডায় ২৫ এবং ৩৭ একর জমি হস্তান্তর করেছে রাজ্য। সেনা প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছে। বালুরঘাটে এখন ছোট বিমান ওঠানামা করতে পারে। সেখানে পরিকাঠামো বাড়ানো হবে। পুরুলিয়ায় ছড়রায় শূন্য থেকে নতুন বিমানবন্দর তৈরি হবে।

    সাধারণের জন্য সরাসরি লন্ডন

    একটা সময়ে কলকাতা থেকে ইউরোপের একাধিক শহরে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ছিল। রাজ্যের বক্তব্য, কলকাতাকে পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানো প্রয়োজন। কলকাতা থেকে সরাসরি ইউরোপের অন্যান্য শহরেরও ফ্লাইট নেই। কলকাতা থেকে ডোমেস্টিক ফ্লাইটের সংখ্যাও কম। এদিন শুভেন্দু রামমোহন নায়ডুর হাতে একটি আবেদনপত্র তুলে দিয়ে লন্ডন এবং ইউরোপে সরাসরি ফ্লাইট চালুর আবেদন জানান। নায়ডু বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ মতো ইউরোপে ডাইরেক্ট ফ্লাইটের জন্য বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে অনুরোধ করব।’

    কলকাতার দ্বিতীয় এয়ারপোর্ট

    কলকাতা থেকে প্রধানত ডোমেস্টিক সেক্টরে নিয়মিত যাত্রী বাড়ছে। বর্তমান টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতা আর কয়েক বছরের মধ্যে নিঃশেষিত হওয়ার কথা। প্রয়োজন শহরের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে দ্বিতীয় বিকল্প বিমানবন্দর। শুভেন্দু সোমবার বলেন, ‘আগের বিমানমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে জমি চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি জানিয়েছিলেন জমি দেওয়া যাবে না। আমরা কল্যাণীতে জমি চিহ্নিত করেছি। সেই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি, মাটি পরীক্ষা-সহ সবরকম কাজ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই সেই জমি তৈরি হয়ে যাবে।’ কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির জন্য প্রায় ২০০০ একর জমি চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী জানান, বাংলায় একাধিক বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য রাজ্যকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। বিমানবন্দরের জমি নিয়ে জটিলতা কাটাতে ও পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যের সঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন তিনি। মন্ত্রী জানান, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে বিমানবন্দর উন্নয়নের কাজ হবে। রানওয়ে সংস্কার, টার্মিনাল বিল্ডিংয়ে নজর দেওয়া হবে। বিমানবন্দরের প্রযুক্তিগত দিক দেখবে কেন্দ্রীয় সরকার।

    উড়ান-২ প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ

    উড়ান (উড়ে দেশ কা আম নাগরিক)– ২.০ প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ। বালুরঘাট, হাসিমারা–সহ রাজ্যের ছোট বিমানবন্দর থেকে এই প্রকল্পে ফ্লাইট চালালে ভর্তুকি দেবে কেন্দ্র। আশা করা হচ্ছে, ওই প্রকল্পের সুবিধে নিয়ে রাজ্যের ছোট বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ফ্লাইট চালাবে। ২০১৬ সালে চালু হয় কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্প। লক্ষ্য ছিল দেশের ছোট শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে বিমানযাত্রা নিয়ে আসা। পশ্চিমবঙ্গও এই প্রকল্পের আওতায় একাধিক বিমানবন্দর তৈরিতে উদ্যোগী হয়। হাসিমারা ও কলাইকুন্ডায় বিমানবন্দর তৈরির জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আগে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েন ছিল। বর্তমান সরকারের দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের পরে ওই দুই জায়গায় প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জমির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বালুরঘাট ও পুরুলিয়াতেও জমির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলিতে উড়ান প্রকল্পের আওতায় ৭২ আসনের বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলির গুরুত্ব

    প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলির ফলে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে কলকাতা ও দেশের অন্যান্য প্রান্তের যোগাযোগ সহজ হবে। শিল্প, পর্যটন এবং বাণিজ্যের প্রসারেও এই বিমানবন্দরগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে নবান্ন। নবান্নের আধিকারিকদের একাংশের মতে, শুধু যাত্রী পরিষেবা নয়, নতুন বিমানবন্দরগুলি পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার দরজা খুলবে। কৃষিজাত পণ্য, চা, ফুল, হস্তশিল্প এবং শিল্পপণ্যের দ্রুত পরিবহণে আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতা ও দেশের অন্যান্য বাণিজ্যকেন্দ্রের যোগাযোগ বাড়লে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। পর্যটনের ক্ষেত্রেও হাসিমারা, পুরুলিয়ার মতো এলাকার গুরুত্ব রয়েছে। ফলে উড়ান প্রকল্পের এই পর্বকে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই দেখছে প্রশাসন।

  • Pakistan Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ! অসম পুলিশের হাতে ধৃত দু’জন, কোয়েম্বাটোরে গ্রেফতার নৌসেনা কর্মী

    Pakistan Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ! অসম পুলিশের হাতে ধৃত দু’জন, কোয়েম্বাটোরে গ্রেফতার নৌসেনা কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে সক্রিয় হানি-ট্র্যাপ। সীমান্তের ওপার থেকে এই চক্র কাজ চালায়। দেশের নিরাপত্তায় প্রশ্ন তৈরির চেষ্টা করে। পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিহারের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাকর্মী। অবসরের পরও তিনি চুক্তিভিত্তিকভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক মহিলা অপারেটিভের কাছে ভারতীয় নৌবাহিনীর গোপন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য পাচারের অভিযোগে এক কর্মরত নৌসেনা সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ। শনিবার কোয়েম্বাটোরের রেড ফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত উচ্চ-নিরাপত্তার আইএনএস অগ্রণী ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (CI) সেলের একটি বিশেষ দল।

    এনআইএ-এর ইনপুটের ভিত্তিতে তদন্ত

    পুলিশ সূত্রে খবর, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অসম পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে ৩১ বছর বয়সি অভিষেক কুমার সিং-এর বাড়ি বিহারের মোতিহারিতে। অভিযোগ, তিনি গুয়াহাটিতে বসবাস করে ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানে থাকা তাঁর হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাচ্ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু সন্দেহজনক নথি ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্ত ৩৯ বছর বয়সি রীতেশ কুমার সিং। তিনি বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা। গুয়াহাটির সাতগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক অপারেটিভের নির্দেশে রীতেশ কাজ করছিলেন এবং অভিষেককেও বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছিলেন।

    অভিষেকের সূত্র ধরেই জালে রীতেশ

    প্রথমে অভিষেকের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি অসমে বসে ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কাছে পাঠাচ্ছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গজরাজ কোর এবং অসম পুলিশ যৌথভাবে রীতেশের কথিত কার্যকলাপ নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছিল। এরই মধ্যে শনিবার ও রবিবারের মধ্যবর্তী রাতে অভিষেককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, পাকিস্তান-সম্পর্কিত কিছু নথি এবং অন্যান্য সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তদন্তভার আরও এগিয়ে নিয়ে যায় অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তের সূত্র ধরে রীতেশের সন্ধান পাওয়া যায় এবং তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। অভিষেকের মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কতদিন ধরে তিনি এই ধরনের কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন এবং পাকিস্তানে থাকা ঠিক কার কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, এনআইএ-এর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অসম পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তী তদন্তের জন্য তাঁদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে দু’জনকেই কথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে নিশানা করা হয়েছিল। সেই পদ্ধতিতে তাঁদের কাছ থেকে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। অভিষেকের গ্রেফতারের খবর সামনে আসতেই বিহারের মোতিহারি পুলিশও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মোতিহারির পুলিশ সুপার স্বর্ণ প্রভাত জানিয়েছেন, অভিষেক সম্পর্কে পুলিশের কাছে তথ্য এসেছে। জেলার ঠিক কোন থানা এলাকায় তাঁর বাড়ি, তা যাচাই করা হচ্ছে। অসম পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মোতিহারি পুলিশও তথ্য সংগ্রহ করছে। তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় পরিচয় সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় নিশ্চিতভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মোতিহারি পুলিশ সুপার।

    হানিট্র্যাপে পশ্চিমবঙ্গ-যোগ

    অন্যদিকে, অন্ধ্র পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নৌসেনা সদস্যের নাম প্রদীপ মুখার্জি (৩১)। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন ন্যাভাল কমান্ডের অধীনে নাবিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সূত্রের খবর, গত এক সপ্তাহ ধরে কোয়েম্বাটোরের আইএনএস অগ্রণী (INS Agrani)-তে একটি ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশ নিতে গিয়েছিলেন প্রদীপ। এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা তথ্য পাচার

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপের। ওই মহিলা নিজেকে সাধারণ পরিচিত হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক অপারেটিভ বলে সন্দেহ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মহিলা ধীরে ধীরে প্রদীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য দিতে প্ররোচিত করেন। অভিযোগ, প্রদীপ বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটি-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওই মহিলার কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ নজরে আসার পর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর নৌবাহিনীর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কোয়েম্বাটোরের আইএনএস অগ্রণী (INS Agrani) ক্যাম্পাসে অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকেই প্রদীপকে গ্রেফতার করা হয়। কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল মূলত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এবং সীমান্তপারের গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তদন্ত করে থাকে। ধৃত নৌসেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Paschim Banga: সব ভাষাতেই এক নাম! রাজ্যের ইতিহাস ও আবেগের মিশ্রণে নাম হবে একটাই – ‘পশ্চিমবঙ্গ’, জানালেন শমীক

    Paschim Banga: সব ভাষাতেই এক নাম! রাজ্যের ইতিহাস ও আবেগের মিশ্রণে নাম হবে একটাই – ‘পশ্চিমবঙ্গ’, জানালেন শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নাম বদলে ‘বাংলা’ করতে চেয়েছিল তৃণমূল সরকার। বিলও পাস করিয়েছিল বিধানসভায়। কিন্তু কেন্দ্রের অনুমোদন মেলেনি। তৃণমূলের চাওয়ায় যে তাদের আপত্তি আছে, ক্ষমতায় আসার আগে জানিয়ে দিয়েছিল বিজেপি (BJP)। তারা রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ (Paschim Banga) রাখার পক্ষপাতী। বাংলাতে তো বটেই, ইংরেজিতেও। বিধানসভার পরের অধিবেশনেই এই মর্মে বিল (West Bengal Assembly Bill) আসতে চলেছে, সোমবার জানিয়ে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে দলের রাজ্যসভার সাংসদ শমীক স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এখন থেকে আর কোনও ওয়েস্ট বেঙ্গল, কোনও বাংলা বা কোনও পশ্চিম বাংলা নয় (West Bengal Name Change)। এবার থেকে সব ভাষাতেই কেবল ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম হবে।”

    ইংরেজিতেও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে ‘পশ্চিমবঙ্গ’

    সোমবারের সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানান, ইংরেজিতেও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ই লেখা হবে। সম্প্রতি কেরল রাজ্যের নাম বদলে ‘কেরলম’ করার বিল যখন রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য আসে, তখনও শমীক সংসদের কক্ষে দাঁড়িয়ে সব ভাষাতেই রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার দাবি তুলেছিলেন। প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজ থেকে শুরু করে ইংরেজি নথিপত্র- সর্বত্রই লেখা হবে একই নাম।

    নামের পেছনে ইতিহাস ও আবেগ

    রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার পেছনে ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং শহীদদের ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমরা যারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসছি, তাদের নির্দিষ্ট একটা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অতীত রয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গলের বদলে শুধু ‘বাংলা’ করলে সেদিন দেশভাগের সময়ে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, যারা রক্তস্নান করেছিলেন, তাঁদের সেই অপরিসীম অবদান বিস্মৃত হয়ে যাব। পশ্চিমবঙ্গের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে এই নামের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই ঐতিহ্যবাহী নামই যাতে স্থায়ী হয়, তার জন্যই আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিল আনা হচ্ছে।” আইনি নিয়ম অনুযায়ী যেকোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করাতে হয়, সেই প্রক্রিয়াই শুরু করতে চলেছে দল।

    নাম বদলে প্রশাসনিক জটিলতা

    প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা নতুন নয়। দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারি বৈঠকে ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে (Alphabetical Order) রাজ্যগুলোর নাম ডাকা হয়। ফলে ‘West Bengal’-এর ডাক আসে একেবারে শেষের দিকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষ বক্তা হিসেবে বলতে গিয়ে নির্ধারিত সময় অনেকটাই কমে যায়। তাই বাম জমানাতেই ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই বিধানসভায় প্রথম প্রস্তাব আসে সব ভাষাতে রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার। তবে আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলা’ নামটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।

    তিনটি ভাষায় তিনটি নাম

    ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় মেয়াদে সরকারে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ফের তৎপরতা বাড়ে। সেবছর ২ অগস্ট রাজ্য মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া প্রস্তাবে বাংলা ভাষায় ‘বাংলা’, ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ – এই তিনটি নাম রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু বামেদের আপত্তি এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সেই চেষ্টা বাতিল হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, তিনটি নয়, রাজ্যের নাম হতে হবে একটিই। এরপর ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই বিধানসভায় নতুন করে প্রস্তাব পাস করিয়ে কেবল ‘বাংলা’ নামটি চূড়ান্ত করে কেন্দ্রকে পাঠানো হয়। প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সাযুজ্যের কারণে এই নামে অনেকে আপত্তি জানালেও বিধানসভায় এ বার সর্বসম্মতিতেই গৃহীত হয় প্রস্তাব। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করলেও বিষয়টি এগোয়নি।

    রাজ্যের নাম বদলের প্রক্রিয়া

    কোনও রাজ্যের নাম বদলের ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ আছে । প্রথমত, নাম বদল সংক্রান্ত বিল সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভায় পাশ করিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠাতে হয় । সেখান থেকে বিল যায় রাষ্ট্রপতির কাছে । বিল নিয়ে চর্চার পর তিনি যদি মনে করেন কোনও অংশ স্পষ্ট নয় বা তাঁর যদি অতিরিক্ত প্রশ্ন থাকে তবে সে ব্যাপারে তিনি ওই রাজ্যের বিধানসভার কাছে জানতে চাইতে পারেন । উত্তরে সন্তুষ্ট হলে রাষ্ট্রপতির থেকে বিল যাবে সংসদে । লোকসভা বা রাজ্য়সভায় বিল পেশ করে সেটিকে পাশ করাতে হবে । এরপর শেষ ধাপ । সংসদ থেকে বিল যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে । তিনি চূড়ান্ত মান্যতা দিলে তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নাম পাল্টে যাবে ।

    কেন নাম পশ্চিমবঙ্গ

    ভারতের পূর্ব দিকে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম “পশ্চিমবঙ্গ” রাখার মূল কারণ হলো ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক দেশভাগ এবং অবিভক্ত বাংলার ভৌগোলিক বিভাজন। বাংলা একটি একক ও বৃহৎ অঞ্চল ছিল, যার মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলা প্রদেশটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। পূর্ববঙ্গ (যা পরে পূর্ব পাকিস্তান এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ হয়)। অন্যদিকে, বাংলার পশ্চিম দিকের অংশটি ভারতের সঙ্গে থেকে যায়। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। অর্থাৎ, এটি ভারতের পূর্ব দিকে অবস্থিত হলেও মূলত ঐতিহাসিক ‘বঙ্গ’ ভূমির সাপেক্ষে পশ্চিম অংশ বোঝাতেই এই নাম ব্যবহৃত হয়।

    ভারতীয় সংবিধানে নাম বদল নিয়ে সমস্যা

    ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের নাম বদলাতে হলে বিধানসভার পাস হওয়া প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, রেল, ডাক বিভাগ ও গোয়েন্দা দফতরের অনুমোদন শেষে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবে পেশ করতে হয়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরেই তা আইনি রূপ পায়। সম্প্রতি রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, সংসদে নাম বদল সংক্রান্ত কোনও বিল পেশ হয়নি। রাজ্যের পাল্টে যাওয়া প্রেক্ষাপটে আড়াই দশক পরে নামবদলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত আকার নেয় কি না, সেটাই এবার দেখার।

     

     

     

     

  • West Bengal Dengue: পুজোর আনন্দে ডেঙ্গির থাবা! ৪ দিনে ১৩০০ আক্রান্ত, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি হলুদ সতর্কতা

    West Bengal Dengue: পুজোর আনন্দে ডেঙ্গির থাবা! ৪ দিনে ১৩০০ আক্রান্ত, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি হলুদ সতর্কতা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাতে আর মাত্র কয়েক দিন। আর তারপরেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব শুরু! কিন্তু দুর্গাপুজোর মুখে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। উৎসবমুখর পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গির আতঙ্ক কিছুতেই কমছে না। বরং পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে‌। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজ চলছে। তবে উৎসবের মরশুমেও সাধারণ মানুষকে সচেতন এবং সতর্ক থাকতে হবে। তবেই বড় বিপদ আটকানো যাবে‌।

    কেন উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন?

    রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথমে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজারের কাছাকাছি। গত চার দিনে নতুন করে ১৩০০ মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গি সংক্রমণ বেড়েছিল। প্রশাসনের শীর্ষ মহলে সে নিয়ে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে আগাম সতর্কতা ছিল, আগামী কয়েক সপ্তাহ বিপদ বাড়তে পারে। কার্যত সেই আশঙ্কাই সত্যি হচ্ছে।

    কোন কোন জেলায় বাড়তি উদ্বেগ?

    স্বাস্থ্য ভবন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ। গত কয়েক দিনে এই জেলা থেকেই সবচেয়ে বেশি নতুন করে ডেঙ্গি সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তারপরেই রয়েছে কলকাতা। চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত কলকাতায় ২৮০০-র বেশি মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরে তালিকায় রয়েছে নদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া। এই জেলাগুলোতেও ডেঙ্গি উদ্বেগজনক হারে ক্রমশ বাড়ছে।

    কেন ডেঙ্গির পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার পরেই ডেঙ্গির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হয়। বর্ষা কমার পরেই জমা জলে মশা সহজেই বংশবিস্তার করে। তার জেরেই মশাবাহিত রোগের দাপট ক্রমশ বাড়ে।
    প্রত্যেক বছর সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসে দেশ জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা যায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে এ বছর গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গির প্রকোপ কম। স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর এই সময়ে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজারের কাছাকাছি। যদিও স্বাস্থ্য দফতর রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ আবহাওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষা কমার পরেই বাড়ির আশপাশের জায়গা, ছাদ কিংবা বাগানের টবে জল জমে থাকে। ফলে পরিষ্কার জমা জলে সহজেই ডেঙ্গির ভাইরাস বহনকারী মশা জন্মায়। তাই ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে।

    ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেন হলুদ সতর্কতা?

    স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, রাজ্যে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ডেঙ্গির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শীতে ডেঙ্গির প্রকোপ কমে। কিন্তু তারপরেও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। কারণ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গি নিধনের সবচেয়ে ভালো সময় শীতকাল। এলাকা পরিষ্কার, জমা জল যাতে না থাকে, তার পাকাপাকি বন্দোবস্ত করা, লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি চালানো, জারি থাকলে আগামী বছরে বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমান ভাবেই ডেঙ্গির প্রকোপ আটকানোর কাজ চলবে। যাতে প্রশাসনিক সক্রিয়তায় কোনও ত্রুটি না থাকে, তাই হলুদ সতর্কতা জারি থাকছে।
    পাশপাশি, গত কয়েক বছরের সংক্রমণের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শীতেও এই রাজ্যে ডেঙ্গি সংক্রমণ জারি থাকে। কলকাতা ও তার আশপাশের জেলাগুলোতে ডেঙ্গি আক্রান্তের তথ্য পাওয়া যায়। তাই শীতেও যাতে ডেঙ্গি শক্তি বাড়াতে না পারে, তাই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।

    পুজোয় ডেঙ্গির দাপট রুখতে কী বার্তা?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, দুর্গাপুজোর সময় ডেঙ্গির বিপদ রুখতে জনসচেতনতা জরুরি।‌ ডেঙ্গি রুখতে এলাকা পরিষ্কারে বাড়তি নজর জরুরি। বিশেষত নিজের বাড়ির ছাদ, বাগান কিংবা নর্দমায় যাতে জল না জমে থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
    ডেঙ্গি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সব সময় সহযোগিতা করতে হবে। কারণ, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ডেঙ্গি সংক্রান্ত স্পষ্ট তথ্য না থাকলে ডেঙ্গি আটকানো মু্শকিল। তাই এলাকার কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে সেই তথ্য স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পাশপাশি কোনও জায়গায় জল জমে থাকলে, অপরিচ্ছন্ন থাকলেও প্রশাসনকে জানাতে হবে।
    জ্বর হলেই খেয়ালখুশি মতো ওষুধ খাওয়া নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জ্বর হলেই নিয়মিত সেটা পর্যবেক্ষণ করা দরকার। জ্বরের সঙ্গে বমি, গায়ে লাল দাগ বা তীব্র মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা করাতে হবে। কারণ, তাহলেই সংক্রমণ ঠেকানো সহজ হবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অযথা আতঙ্ক নয়। তবে উৎসবের দিনগুলোতে আনন্দ করার পাশপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতাকে কখনোই অবহেলা করা যাবে না।

  • Jaishankar on US: ‘আরও একাকী শক্তি’ হয়ে উঠেছে আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

    Jaishankar on US: ‘আরও একাকী শক্তি’ হয়ে উঠেছে আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদল আসছে। একদিকে আমেরিকার অবস্থানে ‘বড় পরিবর্তন’, অন্যদিকে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব—এই দুই প্রবণতাই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলছে বলে মন্তব্য করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আমেরিকা তার বর্তমান অবস্থান ‘নিজের পছন্দেই’। তারা বেছে নিয়েছে তাদের নীতি। এর ফলে দেশটি “ইচ্ছাকৃতভাবে আরও একাকী শক্তি” হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটন-বেজিং প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতাকে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

    চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব

    চিনের অর্থনৈতিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সঙ্গে চিন যুক্ত। এই বিশাল অর্থনৈতিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রভাবেও পরিণত হচ্ছে। তাঁর মতে, চিনের উত্থান এবং আমেরিকার নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মধ্যম ও উদীয়মান শক্তিগুলির কাছেও নিজেদের স্বার্থকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

    ‘এক শক্তির ওপর নির্ভরতা নয়’

    জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের মধ্যম ও উদীয়মান শক্তিগুলি এখন নিজেদের আরও বেশি স্বনির্ভর করে তুলতে চাইছে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই দেশগুলি ঝুঁকি কমাতে এবং বিভিন্ন উৎস ও অংশীদারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে। কোনও একটি বড় শক্তি বা জোটের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্বার্থ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রবণতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সব বিষয়ে একই মত থাকা জরুরি নয়। বরং কোনও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে “যথেষ্ট মাত্রায় অভিন্নতা” থাকলেই দুই বা একাধিক দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

    কোয়াড, ব্রিকস থেকে আন্তর্জাতিক করিডর

    এই ধরনের বহুমুখী সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে জয়শঙ্কর কোয়াড ও ব্রিকসের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর এবং নর্দার্ন সি রুটের মতো যোগাযোগ প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো সংক্রান্ত জোটের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট অভিন্ন লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে এই ধরনের সহযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন কাঠামোর জন্ম দিচ্ছে, যেখানে একটি দেশ একই সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে পারে।

    রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান

    রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান জয়শঙ্কর। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমের দেশগুলির একাংশ ভারতের মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং রুশ তেল কেনা নিয়ে সমালোচনা করলেও, ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদেশনীতি তার নিজস্ব ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। রাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, ১৯৫০-এর দশক থেকে ভারত বিভিন্ন সময়ে সোভিয়েত সমর্থন পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ ভালো ইতিহাস বা খারাপ ইতিহাস—কোনওটাই ভুলে যায় না।” ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিম বিশ্বের একটি বড় অংশ যখন পাকিস্তানের সামরিক শাসনকে সমর্থন করেছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভারত-সমর্থনের কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। জয়শঙ্করের দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের অভিজ্ঞতা “ইতিবাচক এবং ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক”। তবে সময়ের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ধরন যে বদলেছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেন।

    রুশ তেল নিয়ে বিতর্ক

    ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকেই রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ নিয়ে আপত্তি জানালেও নয়াদিল্লির অবস্থান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারত একই সঙ্গে একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতিতে জোর দিয়ে আসছে। জয়শঙ্করও বলেন, ভারতের সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।

    ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থান

    ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারত এখনও আলোচনা, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পক্ষে বলে পুনরায় জানান জয়শঙ্কর।তিনি বলেন, ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছে এবং কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল, খাদ্যশস্য সরবরাহ, জ্বালানি রফতানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ওপর হামলার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।

    ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার বার্তা

    জয়শঙ্করের বক্তব্যে ভারতের বিদেশনীতির মূল দিকটি আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে—কোনও একটি শক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে জোটবদ্ধ না হয়ে নিজের স্বার্থ অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। আমেরিকা ও চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যেও ভারত যেমন কোয়াডের অংশ, তেমনই ব্রিকসের সদস্য এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়শঙ্করের বক্তব্যের মূল বার্তা হল—বর্তমান বিশ্বে দেশগুলিকে আর একটিমাত্র শক্তি বা জোট বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নির্দিষ্ট বিষয়ে স্বার্থের মিল থাকলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে সহযোগিতা করাই ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।

     

     

     

LinkedIn
Share