Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Murshidabad Accident: ‘গাফিলতি মানব না, কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য

    Murshidabad Accident: ‘গাফিলতি মানব না, কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারের বৃষ্টিভেজা সকাল, আর তাতেই নেমে এলো ঘন অন্ধকার। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে লেভেল ক্রসিং খোলা থাকার খেসারত দিতে হলো স্কুলপড়ুয়াদের। ট্রেনের ধাক্কায় খেলনা গাড়ির মতো দুমড়ে-মুচড়ে গেল একটি স্কুলগাড়ি। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় (Murshidabad Accident) ৪ শিশু-সহ এখনও পর্যন্ত মোট ৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহতদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা। মুর্শিদাবাদের ঘটনায় সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘটনার নেপথ্যে থাকা কোনও রকম প্রশাসনিক বা রেলের গাফিলতিকে রেয়াত করা হবে না। স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Murshidabad Accident)?

    প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, স্টেশন সংলগ্ন লেভেল ক্রসিংটি দুর্ঘটনার সময়ে খোলা ছিল। ক্রসিং খোলা দেখেই লাইনের উপর উঠে পড়েছিল স্কুলপড়ুয়া বোঝাই গাড়ি এবং এক সাইকেল আরোহী। ঠিক সেই মুহূর্তেই তীব্র গতিতে ছুটে আসে ট্রেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক বিপর্যয়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ শিশু-সহ মোট ৫ জনের। ইতিমধ্যেই গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেল ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

    দুর্ঘটনার খবর পেয়েই এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর। একই সঙ্গে কর্তব্যে গাফিলতি নিয়েও সুর চড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি লেখেন, “কোনও প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যের পুলিশ ইতিমধ্যেই রেলওয়ের গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। আমি কথা দিচ্ছি, যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা

    দুর্ঘটনার (Murshidabad Accident) খবর পাওয়া মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসার নির্দেশ দেয় নবান্ন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়ভার নিয়েছে রাজ্য। তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ও আহতদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত হাসপাতালে যান মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। আহতের পাশে থাকার আশ্বাস মন্ত্রীর। এছাড়াও সকাল থেকেই ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল চত্বরে রয়েছেন জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপার (SP)।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তদারকি

    মুর্শিদাবাদের ঘটনার (Murshidabad Accident) তদারকিতে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি নিজে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।

    সুরক্ষায় তৎপর প্রশাসন

    এই কঠিন সময়ে কোনও রকম দোষারোপের রাজনীতিতে না গিয়ে, দুর্গত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে রেল ও রাজ্য সরকার। একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের দ্রুত আর্থিক সাহায্য ও নিখরচায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা বিপর্যস্ত পরিবারগুলোকে বড় ভরসা জুগিয়েছে, অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষও দ্রুত তদন্ত শুরু করে সুরক্ষার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে। প্রশাসন ও রেলের এই যৌথ সংবেদনশীলতা এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দুই পক্ষই বদ্ধপরিকর। ঘরের সন্তানকে হারানোর এই ক্ষতি হয়তো পূরণ হওয়ার নয়, তবে সরকার ও রেলের এই সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যতের জন্য কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসই এখন শোকস্তব্ধ এলাকায় সান্ত্বনার আলো দেখাচ্ছে।

  • Hydrogen Train: পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে নয়া বিপ্লব! দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী এর বিশেষত্ব?

    Hydrogen Train: পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে নয়া বিপ্লব! দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী এর বিশেষত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাস তৈরি করল ভারতীয় রেল। বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের (Hydrogen Train) উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাথমিকভাবে হরিয়ানায় ৮৯ কিলোমিটার দূরত্বের জিন্দ-সোনিপত রুটে চলবে দূষণমুক্ত আধুনিক ইকো-ফ্রেন্ডলি প্রযুক্তির এই ট্রেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকে সবুজ পতাকা নেড়ে ওই পরিবেশবান্ধব ট্রেন যাত্রার সূচনা করেন। এর ফলে, হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন পরিচালনাকারী দেশগুলির তালিকায় নাম জুড়ে গেল ভারতের। এদিন জিন্দের একলব্য স্টেডিয়ামে প্রায় ১৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং উদ্বোধনও করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত

    ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন যাত্রার সূচনা করে এনডিএ সরকারের জমানায় নানা উন্নয়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গ তুলে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের সঙ্কট হলেও আমাদের কোনও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়নি। ২০১৪-র আগে হরমুজ সঙ্কট হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যেত!’’ পূর্বতন ইউপিএ সরকারের জমানায় জ্বালানি মজুত ও সরবরাহের বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল— এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেন মোদি।

    হাইড্রোজেন ট্রেনকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র উদাহরণ

    হাইড্রোজেন ট্রেনকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আদর্শ উদাহরণ বলেও চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মোদির দাবি, তাঁর ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশের ৯৯ শতাংশ রেলপথেরই বৈদ্যুতিকরণ হয়েছে। হাইড্রোজেন ট্রেনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার জিন্দের একলব্য স্টেডিয়াম থেকে কুরুক্ষেত্র অঞ্চলে নির্মিত এলিভেটেড রেলওয়ে ট্র্যাক জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। সেই সঙ্গে ১২,৪৭০ কোটি টাকার জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ভিওয়ানির ‘পণ্ডিত নেকি রাম শর্মা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ’ এবং মহেন্দ্রগড়ের কোরিওয়াসে ‘মহর্ষি চ্যবন মেডিক্যাল কলেজ’ এবং ‘রাও তুলারাম হাসপাতাল’ হরিয়ানাবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। ঘটনাচক্রে, আর মাস সাতেক পরেই হরিয়ানার পড়শি রাজ্য পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মোদি শুক্রবার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে শিখ ধর্মের ইতিহাস ও গুরুদের অবদান তুলে ধরার উদ্দেশ্যে নেটমাধ্যমে কুরুক্ষেত্রের ‘শিখ মিউজিয়াম’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

    কী বিশেষত্ব হাইড্রোজেন ট্রেনের?

    গত ২২ মে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন–চালিত ট্রেনে যাত্রী পরিবহণের অনুমোদন দিয়েছিল ভারতীয় রেল বোর্ড। জানানো হয়েছিল, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন–চালিত ব্রডগেজ ট্রেন হতে চলেছে। হয়েছিল ট্রায়াল রানও। এ বার যাত্রী নিয়ে ট্র্যাকে ছুটবে রেল। হাইড্রোজেনকে বিশ্বের অন্যতম ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ হিসেবে ধরা হয়। তাই ইকো-ফ্রেন্ডলি পরিবহণের দুনিয়ায় নতুন দিশা খুলে যেতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। হাইড্রোজেন থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ। তা দিয়েই ছুটবে এই ট্রেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয় না। বেরয় শুধু জলীয় বাষ্প। কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য বললেই চলে। এই কারণেই বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে ফসিল ফুয়েলের জায়গায় ধীরে ধীরে জায়গা নিচ্ছে হাইড্রোজেন জ্বালানি। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও চিনের মতো দেশে ট্রেন-বাস চলছে হাইড্রোজেনে। এ বার এই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ভারতের নাম। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। রেল বোর্ডের তরফে এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘Hydrogen for Heritage’।

    হাইড্রোজেন ট্রেনে নীল রঙের নকশা

    ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের নীল রঙটি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন যাত্রীবাহী ট্রেনটি (যা ২০১৮ সাল থেকে জার্মানিতে চলছে) উজ্জ্বল নীল রঙের। কানাডা, জাপান এবং চীনে চলাচলকারী হাইড্রোজেন ট্রেনগুলোও নীল রঙের। আসলে, হাইড্রোজেন ট্রেন জলের (H₂O) সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সাধারণ ট্রেন ডিজেল বা বিদ্যুতে চলে, কিন্তু হাইড্রোজেন ট্রেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে কাজ করে। এর জন্য ট্রেনের বিশেষ ট্যাঙ্কে হাইড্রোজেন গ্যাস ভরা হয়। ফুয়েল সেলে হাইড্রোজেন + অক্সিজেন বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এবং শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। এতে কোনও ধোঁয়া বা দূষণ হয় না, এবং একে সবুজ বা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি বলা হয়। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলে যখন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত হয়, তখন শুধু জল (H₂O) উৎপন্ন হয়। নীল রঙকে জল, আকাশ এবং পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপানের হাইবারি ট্রেনটিও নীল রঙের এবং এতে জলের নকশা রয়েছে। জার্মানির হাইড্রোজেন ট্রেন, কোরাডিয়া আইলিন্ট, সেটিও উজ্জ্বল নীল রঙের। ফলস্বরূপ, ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনটিও নীল রঙের হবে।

    কোন কোন রুটে চলবে?

    হরিয়ানার জিন্দ (Jind) থেকে সোনিপত (Sonipat) পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে চলবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। পথে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা এবং বারওয়াসনি হল্ট-সহ একাধিক স্টেশনে থামবে। ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, এই রুটে সফল যাত্রার পরে কালকা-শিমলা রুটেও চালু হতে পারে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন।

    কত হবে ট্রেনের গতি?

    ভারতীয় রেল জানিয়েছে, ২৪০০ কিলোওয়াটের ইঞ্জিন নিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিমি বেগে ছুটতে পারবে এই ট্রেন। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। জিন্দে হাইড্রোজেল রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি ভরা হবে। তবে শুধু গতি নয়, ট্রেনের ডিজ়াইন ও পরিষেবাতেও রয়েছে চমক। থাকছে দু’টি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রিবাহী কোচ। ২,৬০০ জন যাত্রী নিয়ে মোট ১০টি কোচ ছুটবে। প্রতিটি পাওয়ার কারে থাকছে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণের বিশেষ সিলিন্ডার। পাওয়ার কারগুলি ১,২০০ কিলোওয়াট (প্রায় ১,৬০০ হর্সপাওয়ার) শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।

  • Amit Shah WB Visit: চিকেনস নেক ও সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ জোর! ৩ দিনের মেগা সফরে বাংলায় অমিত শাহ

    Amit Shah WB Visit: চিকেনস নেক ও সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ জোর! ৩ দিনের মেগা সফরে বাংলায় অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের কৌশলগত ও ভৌগলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ (Chickens Neck Security)। এবার ‘চিকেনস নেক’-এর সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah WB Visit)। তিন দিনের মেগা সফরে বাংলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৮ ও ১৯ জুলাই- ঠাসা প্রশাসনিক ও কৌশলগত কর্মসূচি রয়েছে শাহের। বঙ্গে নতুন সরকার তৈরি হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত সুরক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক মহল।

    ‘চিকেনস নেক’ (Chickens Neck Security) বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা

    ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি করিডর, জলপাইগুড়ি ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ছাড়াও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা, সুশাসন এবং একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনা ও শিলান্যাস করবেন অমিত শাহ।

    উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও জমি জট

    শিলিগুড়ি সংলগ্ন দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া এবং রাজগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক অংশে কাঁটাতারের বেড়াহীন উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। জমি জটিলতা, মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা ও স্থানীয় আপত্তির কারণে দীর্ঘদিন কাজ আটকে থাকলেও, বঙ্গে সরকার বদলের পর দ্রুত জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সফরসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে এই কাজের বর্তমান অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নতুন ওয়াচ টাওয়ার ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়াতে জাতীয় সড়কসহ স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলিতে বিশেষ আধুনিক ক্যামেরা বসানোর কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করেছে পুলিশ। উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা ও শিলিগুড়ি মহকুমা ও দার্জিলিং জেলা আদালতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির আইনি অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজ নিতে পারেন শাহ।

    ‘চিকেনস নেক’-এর সুরক্ষা ও জুম্মাগছ সীমান্ত পরিদর্শন

    উত্তরবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষাকে পাখির চোখ অমিত শাহের। রাজ্য সফরের (Amit Shah WB Visit) দ্বিতীয় দিন, শনিবার সকালেই পরিদর্শন করবেন জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জুম্মাগছ ও বিএসএফ-এর ১৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকি (BOP)। উল্লেখ্য, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই জুম্মাগছ এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে এই এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক রয়েছে শিলিগুড়ি করিডরের সার্বিক সুরক্ষা নিয়েও। বিএসএফ-এর পরিকাঠামো উন্নয়ন বৈঠকের পাশাপাশি, একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন শাহের। জুম্মাগছ এলাকায় বিএসএফ-সংক্রান্ত একাধিক নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন তিনি।

    সুশাসন ও নতুন তিন ফৌজদারি আইনের পর্যালোচনা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠকও। শনিবারই উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে দেশে কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন—’ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS), ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (BNSS) এবং ‘ভারতীয় সাক্ষ্য আইন’ (BSA)- রাজ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেও পর্যালোচনা বৈঠক করবেন শাহ। একইসঙ্গে রাজ্যের জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা নিয়েও একটি বিশেষ বৈঠকের সম্ভাবনা।

    কলকাতার সূচি (Amit Shah Kolkata Visit)

    ১৯ জুলাই, সফরের (Amit Shah WB Visit) শেষ দিনে কলকাতায় আসবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রবিবার সকালে কলকাতায় রাজ্যের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে নবনির্মিত ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’ (Museum of Words)-এর প্রথম পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

    আমূল ডেয়ারির (Amul) শিলান্যাস

    এদিনই কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে আমূল ডেয়ারির (Amul) মেগা প্রজেক্টের শিলান্যাস করবেন অমিত শাহ। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা এই প্ল্যান্টটি হতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম দই প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট (Curd Processing Plant)। এর মাধ্যমে রাজ্যে নতুন লগ্নির পরিবেশ নিয়ে শিল্পপতিদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বড় কোনও বার্তা দিতে পারেন বলেও মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

    বিজেপির পাখির চোখ বাংলা

    বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বুঝিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গ দিল্লির বিশেষ অগ্রাধিকারের তালিকায়। গত ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। সে সময় শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির ভিত্তি স্থাপন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ও সীমান্ত সুরক্ষার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এক সৌজন্য সাক্ষাতেও গিয়েছিলেন অমিত শাহ। যেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। আর এবার চিকেনস নেকের (Chickens Neck Security) নিরাপত্তা পর্যালোচনা। সবমিলিয়ে রাজ্যের হাল ফেরাতে ডবল ইঞ্জিন সরকার কোনওকিছুতেই যে খামতি রাখতে নারাজ, তা বলাই বাহুল্য।

  • US Iran War: রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য, ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তি? মার্কিন হামলায় কাঁপল ইরান, পাল্টা নিশানায় কুয়েত-বাহরাইন-কাতারের মার্কিন ঘাঁটি

    US Iran War: রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য, ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তি? মার্কিন হামলায় কাঁপল ইরান, পাল্টা নিশানায় কুয়েত-বাহরাইন-কাতারের মার্কিন ঘাঁটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ছড়াচ্ছে আগুন। জর্ডান থেকে ওমান, কাঁপল একাধিক দেশ। সুইৎজারল্যান্ড বৈঠকের পরেই ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে নতুন করে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। ক্রমশ চরম আকার নিচ্ছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত। ষষ্ঠ রাতেও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন সামরিক বাহিনীর। মার্কিন হামলার পাল্টা হিসেবে বাহরাইন, কাতার, ওমান, কুয়েত, জর্ডান এবং সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। হামলা-পাল্টা (US Iran War) হামলায় পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য।

    হামলায় (US Iran War) এখনও পর্যন্ত নিহত

    গত ২২ জুন, সুইৎজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সূত্র অনুযায়ী, তারপর থেকেই মার্কিন হামলায় ইরানে (US Iran War) এখনও পর্যন্ত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতের হামলায় নিহত ৮ জন।

    ইরানে কোথায় কোথায় হামলা আমেরিকার?

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইরানের উপর সর্বশেষ বড় মাপের হামলাটি চালানো হয়। আমেরিকা নির্দিষ্ট জায়গার নাম না জানালেও ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটির অন্তত ৬টি সেতু, একটি রেল স্টেশনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের যে সেতুগুলি ধ্বংস হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, বান্দার আব্বাস থেকে খেমির ও লারা সংযোগকারী গারিভেহ সেতু। লাতিদান গ্রামের কাছের একটি সেতু। কাহুরেস্তান-লার রুটের দুটি সেতু। বন্দর আব্বাস ও খেমির সংযোগকারী একটি নির্মাণাধীন সেতু ও খেমির জেলার মারু গ্রামের একটি সেতু। এছাড়াও বিদ্যুৎ লাইনে আঘাতের জেরে বান্দার আব্বাস ও তার আশেপাশের গ্রামগুলো পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। তবে বর্তমানে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।

    ইরানের পাল্টায় কাঁপল কোন কোন দেশ?

    শুক্রবার সকালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (IRGC) আমেরিকার বিরুদ্ধে ১৩তম পাল্টা হামলা (US Iran War) চালায়। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে:

    • কাতার: শুক্রবার ভোরে কাতারে পরপর দুটি সতর্কতা জারি করা হয়। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো কাতারের আকাশেই ধ্বংস করে দেয় তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে দোহার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর তার ভাঙা টুকরো (Shrapnel) গায়ে পড়ে এক শিশু আহত হয়েছে।

    • বাহরাইন: এদিন সকালে বাহরাইনেও বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    • ওমান: ওমানের ঘানিম অঞ্চলে মার্কিন এয়ার কন্ট্রোল রেডার এবং হরমুজ প্রণালীতে একটি মেরিটাইম রেডার ধ্বংস করার দাবি ইরানের। এছাড়াও ওমানের খাসাব থেকে ৩৫ কিমি দূরে একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র।

    • কুয়েত: কুয়েতের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ইরানের হামলায় আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রেডার, অস্ত্রাগার এবং দুটি হিমার্স (HIMARS) মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস হয়।

    • জর্ডান ও সিরিয়া: জর্ডানের সেনাবাহিনী তাদের আকাশে তিনটি ইরানি মিসাইল গুলি করে নামিয়েছে। যদিও এতে কোনও হতাহতের খবর নেই। অন্যদিকে, সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ড সেন্টারেও হামলা ইরানের।

    আমেরিকা ও ইরানের নেতারা কী বলছেন?

    ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সরাসরি আমেরিকাকে দোষারোপ করেছেন। তাঁর দাবি, ‘‘হরমুজ প্রণালী আর কোনওদিন আগের অবস্থায় ফিরবে না।’’ অন্যদিকে, এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিস্ফোরক দাবি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের (JD Vance)। ইজরায়েল সরকারের কিছু সদস্য আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যাতে আমেরিকা ইরানের সঙ্গে কোনও শান্তি চুক্তি না করে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। দাবি ভ্যান্সের।

    কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে গত ২২ জুন সুইৎজারল্যান্ডে উভয়পক্ষ ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা পর্বে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই মুহুর্মুহু হামলা ও পাল্টা হামলার (US Iran War) জেরে সেই শান্তি প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি খাদের কিনারায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আর কেবল ওয়াশিংটন ও তেহরানের দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ক্রমশ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শান্তি চুক্তির আশা ম্লান হয়ে আসায় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চরম উদ্বেগ। এখন দেখার, আলোচনার টেবিল ফের কার্যকর হয়, নাকি ধ্বংসের এই চাকা আরও ঘূর্ণায়মান রূপ নেয়।

  • Parliament Monsoon Session: সংসদের বাদল অধিবেশনে আসছে ৫টি নতুন বিল, কর ও বিচার ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের উদ্যোগ

    Parliament Monsoon Session: সংসদের বাদল অধিবেশনে আসছে ৫টি নতুন বিল, কর ও বিচার ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদ অধিবেশন নিয়ে টানটান উত্তেজনা। আসন্ন বাদল অধিবেশনে (Parliament Monsoon Session) গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস নিয়ে চরম তৎপরতা শুরু শাসক শিবিরে। অন্যদিকে, বিল নিয়ে অবস্থানের ইস্যুতে আরও ভাঙ্গনের মুখে ইন্ডিয়া জোট (INDIA Alliance)। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু সংসদের বাদল অধিবেশন। লোকসভার সচিবালয়ের জারি করা বুলেটিনে জানানো হয়েছে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ, আলোচনা ও পাশ করানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। শিক্ষা, কর ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, এমএসএমই (MSME) খাত, জাতীয় প্রশাসন ও বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মোট সাতটি বিল সংসদে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিল বিবেচনা ও পাসের জন্য, এবং পাঁচটি নতুন বিল উত্থাপনের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক আইন প্রণয়ন সূচি। অধিবেশন চলাকালীন প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বিল আনা হতে পারে।

    বাদল অধিবেশনে সংসদে কোন সাতটি বিল

    বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল ২০২৬ (FCRA): মূলত বেসরকারি এনজিও-গুলির সম্পদ এবং তাদের সাহায্যের নামে আসা বিদেশি অনুদানের উপরে নজরদারি আরও কড়া করতেই এই বিলের উদ্দেশ্য৷ গত মার্চ মাসেও বিলটি লোকসভায় পেশ করা হয়৷ প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, স্বেচ্ছায় সমর্পণ বা নবীকরণ না হলে, তাদের বিদেশি অনুদান ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ সরকার-নির্ধারিত একটি ‘অথরিটির অধীনে ন্যস্ত হবে।

    বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল ২০২৫: এই বিলটি আগেই যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল৷ তাদের রিপোর্ট জমা পড়লেই এই বিলটি সংসদে পেশ হতে পারে৷  এই বিলের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউজিসি, এআইসিটিই এবং এনসিটিু-এর পরিবর্তে একটি একক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠন করা হবে। জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো নিয়মকানুন সহজ করা, অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাসনব্যবস্থা আরও কার্যকর করা। যৌথ সংসদীয় কমিটির (JPC) রিপোর্ট জমা পড়ার পর বিলটি আলোচনায় আসতে পারে।

    সংসদে আসছে ৫টি নতুন বিল

    • ১. ইনকাম ট্যাক্স (সংশোধনী) বিল ২০২৬

    এই বিলের লক্ষ্য ভারতের সার্বভৌম ঋণ বাজারকে আরও শক্তিশালী করা, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যও রয়েছে।

    • ২. সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতিদের সংখ্যা সংক্রান্ত) সংশোধনী বিল ২০২৬

    সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব আনা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে ৩৭-এ নিয়ে যাওয়ার জন্য এই বিল আনা হচ্ছে ৷ এর মাধ্যমে বিচারাধীন মামলার চাপ কমানো এবং সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই সরকারের লক্ষ্য।

    • ৩. জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণ (সংশোধনী) বিল ২০২৬

    জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণের প্রক্রিয়ায় জোর দিতে আরও কড়া আইন আনতে চায় কেন্দ্র৷ যাতে জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়ায় দেরি না হয় এবং হলেও কড়া জরিমানা গুনতে হয়৷ এই লক্ষ্যেই জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণ (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পেশ করা হবে৷ জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও কার্যকর করতে এই সংশোধনী বিল আনা হচ্ছে।

    • ৪. জাতীয় সম্মানের অবমাননা (সংশোধনী) বিল ২০২৬

    ১৯৭১ সালের আইন সংশোধন করে সংবিধান, জাতীয় পতাকা, জাতীয় প্রতীক বা জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির বিধান আনতে চায় কেন্দ্র। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ব্যবস্থাও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    • ৫. এমএসএমই ডেভেলপমেন্ট (সংশোধনী) বিল, ২০২৬

    ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাকে আরও উৎসাহ দিতে রাজ্য সরকারগুলির হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার লক্ষ্য পেশ করা হবে এই বিল৷ ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME)-গুলিকে সময়মতো অর্থপ্রদান নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা আনা হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিকে এমএসএমই কাউন্সিল গঠনে আরও নমনীয়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যাতে ব্যবসায়িক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়।

    আর্থিক বিষয়েও আলোচনা

    আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের অতিরিক্ত ব্যয়ের (Demands for Excess Grants) অনুমোদন সংক্রান্ত আর্থিক বিষয়ও উত্থাপিত হবে।

    শৃঙ্খলাতেও থাকবে কড়া নজর

    অধিবেশন শুরুর আগেই সাংসদদের জন্য কড়া আচরণবিধিও জারি করেছে লোকসভার সচিবালয়। প্ল্যাকার্ড, বিক্ষোভ, সংসদ চত্বরে ধরনা, আগ্নেয়াস্ত্র বহন, ধর্মীয় আচার পালন, এমনকি এআই-নির্মিত ছবি বা অবমাননাকর পোস্টার ও স্লোগান ব্যবহার থেকেও সদস্যদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদের গেটের সামনে কোনও ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট— অধিবেশনে আইন পাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলাতেও থাকবে কড়া নজর।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

    আজ, ১৭ জুলাই এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সূত্রের খবর, নিট (NEET), ইথানল, রাম মন্দির-সহ একাধিক ইস্যুতে বিরোধী আক্রমণের মুখে এনডিএ শরিক দলের সাংসদের প্রতিরোধের এক সুর নিশ্চিত করতেই বৈঠক। একই সঙ্গে আলোচনা হবে একাধিক বিলের স্ট্র্যাটেজি নিয়েও। সংসদে অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। ইন্ডিয়া জোট ছেড়েছে ডিএমকে, আম আদমি পার্টি। এবার বর্ষীয়ান শরদ পাওয়ার হাত ছাড়লে বিরোধী বৃত্তে আরও একা হবে কংগ্রেস।

  • Rail Accident: লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় স্কুলগাড়িতে ধাক্কা ট্রেনের! মৃত তিন পড়ুয়াসহ ৪, ‘মত্ত’ গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনা? তদন্তে রেল

    Rail Accident: লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় স্কুলগাড়িতে ধাক্কা ট্রেনের! মৃত তিন পড়ুয়াসহ ৪, ‘মত্ত’ গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনা? তদন্তে রেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাতসকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মুর্শিদাবাদে (Murshidabad)। রেলগেট খোলা থাকায় লেভেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় (Rail Accident) পিষে গেল স্কুলগাড়ি। আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখার কর্ণসুবর্ণ স্টেশন এবং গোবিন্দপুর রেলগেটের মাঝে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ডাউন লাইনে আসা একটি লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিন স্কুলপড়ুয়া-সহ মোট চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আরও চার পড়ুয়া এবং গাড়ির চালক। মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা। সিগন্যালের সমস্যা নেই, গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) বড় দুর্ঘটনা? তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ রেলের। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা রেলের।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Rail Accident)?

    স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার ঠিক আগেই আপ লাইন ধরে হাওড়াগামী নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যায়। সেই সময় নিয়ম মেনেই গেট ফেলা ছিল। কিন্তু ট্রেনটি পার হওয়ার পরই কর্তব্যরত গেটম্যান রেলগেটটি তুলে দেন। সেইসময় নির্দিধায় রেল লাইন পেরোচ্ছিল একটি স্কুলগাড়ি। আর তখনই আচমকাই লাইনে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। লাইনের উপর গাড়িটি চলে আসায় চালক আর গাড়ি সরানোর সুযোগ পাননি। সরাসরি স্কুলভ্যান ও এক সাইকেল আরোহীকে সজোরে ধাক্কা মারে লোকাল ট্রেনটি (Rail Accident)। কার্যত দুমড়েমুচড়ে যায় পড়ুয়াভর্তি স্কুলভ্যান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন পড়ুয়া এবং এক স্থানীয় বাসিন্দার। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িতে ছিল মোট ১০ জন পড়ুয়া। এই ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় আরও চার পড়ুয়া এবং গাড়ির চালককে উদ্ধার করে বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন পাঁচ জনের মধ্যে দু’জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা।

    কাঠগড়ায় গেটম্যান: মদ্যপ থাকার অভিযোগ

    দুর্ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ট্রেনের সময়সূচি জানা থাকা সত্ত্বেও গেটম্যানের চরম অসতর্কতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এই দুর্ঘটন। এমনকী পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই গেটম্যান মত্ত অবস্থায় ছিলেন। ইতিমধ্যেই তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেলের তরফে লেভেল ক্রসিং দুর্ঘটনার দায়ে সংশ্লিষ্ট গেটম্যান এবং সুপারভাইজারকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ডও করা হয়েছে।

    রেলের অবস্থান- উচ্চপর্যায়ের তদন্ত

    পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে সিগন্যালের কোনও সমস্যা ছিল না। ট্রেন সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই আসছিল। যেহেতু এটি একটি ম্যানুয়ালি অপারেটেড ‘ইন্টারলকিং গেট’, তাই দুর্ঘটনার সময় গেটম্যানের ভূমিকা কী ছিল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রেল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। পূর্ব রেলের নির্দেশে ঘটনাস্থলে এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য গঠন রেলের একটি মেডিক্যাল টিমও।

    শোকপ্রকাশ বিধায়কের

    মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে স্কুলগাড়িতে ট্রেনের ধাক্কার ঘটনায় (Rail Accident) তীব্র ক্ষোভ ও শোকপ্রকাশ বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্রের। তিনি বলেন, “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। এতগুলো স্কুল পড়ুয়ার এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঠিক কী কারণে? কার গাফিলতিতে এতগুলো তরতাজা প্রাণ চলে গেল? তা রেল কর্তৃপক্ষের অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা উচিত।”

    অধীর-রেলমন্ত্রী ফোনে কথা

    প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে যান বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সরাসরি রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অধীর। এরপর ঘটনাস্থল থেকেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি জানান। এক লহমায় কয়েকটি পরিবারের সাজানো সংসার আর বুকভরা স্বপ্ন চুরমার। ভোরের আলো ফুটতেই যে তরতাজা হাসিমুখগুলো কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাদের নিথর দেহ আর রক্তভেজা বইখাতাগুলো পড়ে রইল রেললাইনের ধারে। চারপাশে কান্নার রোল আর স্বজনহারা মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের আকাশ-বাতাস। কোনও সান্ত্বনা, কোনও ক্ষতিপূরণই যে আর এই শূন্য কোলগুলিকে ভরিয়ে তুলতে পারবে না- সেই চরম ও নির্মম বাস্তবকে সঙ্গী করেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা।

  • RBI Gold Reserves: ডলার ছেড়ে সোনার পথে ভারত! ৬ বছরে সর্বনিম্ন মার্কিন ট্রেজারি, বড় কৌশলগত বদল আরবিআই-এর

    RBI Gold Reserves: ডলার ছেড়ে সোনার পথে ভারত! ৬ বছরে সর্বনিম্ন মার্কিন ট্রেজারি, বড় কৌশলগত বদল আরবিআই-এর

    সুশান্ত দাস

    ভারত কি ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমাচ্ছে? কেন এক বছরে ২২.৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হল মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ? আবার কেনই বা বিদেশে রাখা শত শত টন সোনা দেশে ফিরিয়ে আনছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)? প্রথম নজরে এই ঘটনাগুলি আলাদা মনে হলেও, অর্থনীতিবিদদের মতে এগুলি আসলে একই কৌশলের অংশ। বিশ্বের দ্রুত বদলে যাওয়া ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ঝুঁকিমুক্ত করে তোলাই এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    কী ঘটেছে?

    ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভারতের মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংসের পরিমাণ ২৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২২.৫ শতাংশ কমেছে মার্কিন সরকারি বন্ডে ভারতের বিনিয়োগ। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে ভারতের সোনার রিজার্ভ ৬৫৮ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে প্রায় ৮৮১ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে ৩৮০ টনেরও বেশি সোনা বিদেশের ভল্ট থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।এই দুটি পদক্ষেপকে একসঙ্গে দেখলেই ভারতের নতুন রিজার্ভ কৌশল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    কেন মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ কমাচ্ছে ভারত?

    এই প্রশ্নের সহজ উত্তর— ঝুঁকি কমানো। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ট্রেজারি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কারণ, মার্কিন অর্থনীতি এবং ডলারের উপর আন্তর্জাতিক আস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বদলেছে।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা দেশগুলির অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ হওয়ার নজির এবং বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতা দেখিয়ে দিয়েছে, কোনও একটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই কারণেই এখন অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক একই ঝুড়িতে সব ডিম না রেখে বিভিন্ন ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতি নিচ্ছে।

    কেন সোনা এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

    সোনা এমন একটি সম্পদ, যার মূল্য কোনও একক দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতির উপর নির্ভরশীল নয়। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রার অস্থিরতার সময়ও সোনা সাধারণত তার গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখে। তাই একে ‘সেফ হেভেন অ্যাসেট’ বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির কাছে সোনা শুধু একটি বিনিয়োগ নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রয়োজনে এটি সহজেই নগদে রূপান্তর করা যায় এবং কোনও বিদেশি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর এর অস্তিত্ব নির্ভর করে না।

    বিদেশে সোনা রেখে ঝুঁকি কোথায়?

    অনেক দেশ ঐতিহাসিক কারণে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে তাদের সোনা সংরক্ষণ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলি দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংঘাত বা নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতিতে বিদেশে রাখা সম্পদের উপর প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যেতে পারে। এই কারণেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ধীরে ধীরে দেশের ভল্টে সোনা ফিরিয়ে আনছে। এতে ভারতের সম্পদের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তা ব্যবহারের স্বাধীনতাও নিশ্চিত হচ্ছে।

    শুধু ভারত নয়, বিশ্বও একই পথে…

    ভারতের পাশাপাশি, চিন গত এক বছরে তাদের মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংস ৭৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৬৫১.১ বিলিয়ন ডলারে এনেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আগামী বছরেও সোনার রিজার্ভ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ এটি কোনও একক দেশের সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় একটি বড় প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

    তাহলে কি ডলারের যুগ শেষ?

    এর মানে একেবারেই নয় যে, ডলারের যুগ শেষ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তেল লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখনও মার্কিন ডলারই রয়েছে। ভারতও এখনও ১৮১ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি ধরে রেখেছে। অর্থাৎ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডলার ছেড়ে দিচ্ছে না; বরং ডলারের পাশাপাশি সোনা ও অন্যান্য সম্পদের ভারসাম্য বাড়াচ্ছে। এটিকে ডি-রিস্কিং বলা যায়, ডি-ডলারাইজেশন নয়।

    ভারতের জন্য এর অর্থ কী?

    এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেতে পারে—

    • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
    • আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক সংকটের ঝুঁকি কিছুটা কমবে।
    • মূল্যস্ফীতির সময় রিজার্ভের স্থিতিশীলতা বাড়বে।
    • বিদেশে রাখা সম্পদের উপর নির্ভরতা কমবে।
    • দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা আরও নমনীয় হবে।

    আগামী দিনে কী নজরে রাখবেন?

    এখন নজর থাকবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরবর্তী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংক্রান্ত তথ্যের দিকে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতি—বিশেষ করে চিন, জাপান, ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং ব্রিকস (BRICS) দেশগুলিও একই পথে এগোয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়, তাহলে আগামী দশকে বিশ্বের বৈদেশিক রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও মার্কিন ডলারের আধিপত্য রাতারাতি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি এখন আর একটিমাত্র সম্পদের উপর নির্ভর করে থাকতে চাইছে না।

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কৌশল কী?

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে শুধু মার্কিন ট্রেজারি বিক্রি বা সোনা কেনার ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। এটি এমন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, যার মূল লক্ষ্য ‘নিরাপত্তা, বৈচিত্র্য এবং সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ’। অর্থাৎ ভবিষ্যতের অনিশ্চিত বিশ্বে ভারতের বৈদেশিক রিজার্ভকে এমনভাবে সাজানো, যাতে কোনও একটি দেশের নীতি, নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধাক্কা দিতে না পারে। এই কারণেই অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ কেবল রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন নয়, বরং আগামী দশকের বৈশ্বিক আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত প্রস্তুতি।

  • Vikram-1 Launch: ইতিহাস গড়ার পথে স্কাইরুট! ১৮ জুলাই মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

    Vikram-1 Launch: ইতিহাস গড়ার পথে স্কাইরুট! ১৮ জুলাই মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। দেশের প্রথম বেসরকারি সংস্থার তৈরি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) উৎক্ষেপণ হবে ১৮ জুলাই, শনিবার, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace) তাদের প্রথম অরবিটাল মিশন ‘আগমন’ (Mission Aagaman)-এর উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের (SDSC-SHAR) প্রথম লঞ্চ প্যাড থেকে এই উৎক্ষেপণ হবে। ইতিমধ্যেই ইন স্পেস (IN-SPACe)-এর অনুমোদন মিলেছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রমাণ

    ২০১৮ সালে প্রাক্তন ইসরো বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা ও নাগা ভারত দাকা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২২ সালে সংস্থাটি বিক্রম-এস (Vikram-S) সাবঅরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। এবার বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই রকেটটি হায়দরাবাদ থেকে বিভিন্ন অংশে শ্রীহরিকোটায় এনে জোড়া লাগিয়ে উৎক্ষেপণ মঞ্চে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রথম কোনও ভারতীয় বেসরকারি সংস্থার নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদিত অরবিটাল রকেট শ্রীহরিকোটার লঞ্চ প্যাডে স্থাপিত হল।

    কী এই ‘বিক্রম-১’?

    হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের (Skyroot Aerospace) তৈরি চার-ধাপের রকেট ‘বিক্রম–১’-এর (Vikram-I) নাম দেওয়া হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাই-এর (Vikram Sarabhai) নামে। প্রায় ২০ মিটার লম্বা ও ১.৭ মিটার ব্যাসের এই রকেটটি মূলত ছোট স্যাটেলাইট দ্রুত ও কম খরচে বিভিন্ন কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে। রকেটের ২০ থেকে ২৪ মিটার উচ্চতার কার্বন-কম্পোজিট কাঠামো একদিকে ওজন হালকা করেছে, অন্যদিকে বাড়িয়েছে শক্তি ও স্থায়িত্ব। সংস্থার দাবি, পুরো রকেটটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমবেত করে যে কোনও লঞ্চসাইট (Launchsite) থেকে উৎক্ষেপণ সম্ভব। প্রথম তিনটি ধাপে কঠিন জ্বালানির মোটর এবং চূড়ান্ত ধাপে হাইপারগলিক তরল জ্বালানির ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা কক্ষপথে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, রকেটটিতে ব্যবহৃত ৩ডি-প্রিন্টেড ইঞ্জিনগুলি আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ হালকা এবং উৎপাদন-সময়ে ৮০ শতাংশ সাশ্রয় করে।

    ক্ষমতা কত?

    বিক্রম–১ (Vikram-I) সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোগ্রাম পে-লোড নিম্ন কক্ষপথে (Low Earth Orbit) এবং ২৬০ কিলোগ্রাম সান-সিঙ্ক্রোনাস অরবিটে তুলতে সক্ষম। নির্দিষ্ট মিশন অনুযায়ী এই ক্ষমতা বদলে যেতে পারে। সে কারণে একাধিক স্যাটেলাইট একসঙ্গে বহন করা বা আলাদা কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব।প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানে রকেটটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় এবং ৬০ ডিগ্রি ইনক্লিনেশন-এ কক্ষপথে প্রবেশ করবে। বিক্রম-১-এর প্রথম তিনটি ধাপে ব্যবহার করা হয়েছে সলিড ফুয়েল ইঞ্জিন, আর সর্বোচ্চ ধাপে রয়েছে লিকুইড-ফুয়েল ‘অরবিট অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল’, যা একাধিকবার পুনরায় চালু করা যায়। ফলে ভবিষ্যতে একাধিক উপগ্রহকে ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে নির্ভুলভাবে স্থাপন করা সম্ভব হবে।

    ‘বিক্রম–১’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ

    বিক্রম–১ (Vikram-I)-এর এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের মূল লক্ষ্য হল রকেটের প্রপালশন সিস্টেম, স্টেজ সেপারেশন, গাইডেন্স, ন্যাভিগেশন ও কন্ট্রোল সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করা। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে দ্রুত ও নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উড়ান-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহও এই মিশনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এই অভিযান সফল হলে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসই হবে ভারতের প্রথম বেসরকারি সংস্থা, যারা নিজস্ব অরবিটাল রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করবে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, যাতে উৎক্ষেপণের সময় কোনও সমস্যা না হয়।

    ‘বিক্রম–১’-এর নানান কাজ

    বিক্রম-১ রকেটে একাধিক পেলোড বা বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘মিশন এমব্রেস’ নামে একটি বিশেষ প্রযুক্তি। এটি তৈরি করেছে হায়দরাবাদের আর একটি মহাকাশ সংস্থা কসমোসার্ভ স্পেস। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো অকেজো উপগ্রহ এবং মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস নিরাপদে ধরার ব্যবস্থা তৈরি করা। এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের নরম ও নমনীয় রোবোটিক বাহু। এই বাহুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো উপগ্রহকে আলতোভাবে ধরে ভবিষ্যতে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি পরীক্ষা করবে। বর্তমানে মহাকাশে হাজার হাজার অকেজো উপগ্রহ ও ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এগুলি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান এবং সক্রিয় উপগ্রহগুলির জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠেছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। কসমোসার্ভের এই উদ্যোগ সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী

    মিশনে একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিক পেলোডও রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্কাইরুটের স্কোপ (SCOPE) উপগ্রহ, জার্মানির ডিসিইউ-বেড (DCUBED)-এর প্রযুক্তি প্রদর্শনী, গ্রাহা স্পেস (Grahaa Space)-এর সোলারাস এস-৩ (SOLARAS S3), এবং কসমোসার্ভ স্পেস (Cosmoserve Space)-এর মহাকাশের আবর্জনা সংগ্রহের জন্য তৈরি এমব্রেস (Embrace) রোবোটিক বাহু। এছাড়াও প্রতীকী পেলোড হিসেবে থাকছে বেঙ্গালুরুতে তৈরি ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের শিল্পকর্ম ‘Cosmic Bloom’ এবং শিল্পী অজয় কুমার ম্যাট্টেওয়াডার তৈরি ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষুদ্র রকেট, যা ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের পথিকৃৎ বিক্রম সারাভাই, সি. ভি. রমন এবং ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালাম-কে উৎসর্গ করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ

    ছোট স্যাটেলাইটের বাজার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে, আর ভারতীয় মহাকাশ শিল্প ২০৩০ সালে ৭৭ বিলিয়ন ডলারের আকারে পৌঁছবে বলে অনুমান। সেই বাজারে নিজেদের জায়গা পাকা করতেই স্কাইরুটের এই নতুন উদ্যোগ। শ্রীহরিকোটা থেকে এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি দেখার জন্য এসডিএসসি-এসএইচএআর (SDSC-SHAR)-এর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্যও নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে এই মিশনকে ইতিমধ্যেই এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফল হলে ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে ভারতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

  • Railway Land Encroachment: রেলের ১,০৬৮ হেক্টর জমি জবর-দখলে! আরটিআই-তে বেরল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    Railway Land Encroachment: রেলের ১,০৬৮ হেক্টর জমি জবর-দখলে! আরটিআই-তে বেরল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি সমস্যায় জর্জরিত ভারতীয় রেল। পশ্চিমবঙ্গে রেলের জমি (Rail Land Encroachment) পুনরুদ্ধার নিয়ে টানাপড়েন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতেই দেশজুড়ে রেলের বিপুল সম্পত্তি বেদখল হয়ে থাকার খতিয়ান সামনে এল। তথ্যের অধিকার আইনের (RTI) আওতায় রেল বোর্ডের দেওয়া সাম্প্রতিক এক জবাবে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাস (২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ) পর্যন্ত দেশজুড়ে রেলের প্রায় ১০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি বেআইনিভাবে দখল হয়ে রয়েছে (এক হেক্টর প্রায় আড়াই একরের সমান)। দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি সম্পদের মধ্যে ভারতীয় রেলের জমি অন্যতম। কিন্তু সেই জমির বড় অংশই বছরের পর বছর বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে দেশের জনগণের একাংশ। তার জেরে পরিষেবা সম্প্রসারণ ক্ষেত্রে ব্যাপক অসুবিধার মুখে পড়েছে এশিয়ার বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক।

    ৪২টি নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সমান

    সম্প্রতি তথ্যের অধিকার (RTI) আইনে পাওয়া রেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতীয় রেলের ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি অবৈধ ভাবে জবরদখলকারীদের হাতে রয়েছে। রেলওয়ের বেদখল হওয়া এই জমি প্রায় ৪২টি নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সমান। গুজরাটের মোতেরায় ‘নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম’ দর্শকাসনের দিক থেকে এই মুহূর্তে পৃথিবীর বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম। প্রায় ২৫.৫ হেক্টর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই ক্রীড়াক্ষেত্র। রেলের বেদখল হয়ে থাকা এই জমিতে (Railway Land Encroachment) অনায়াসেই এমন ৪২টি আস্ত মোদি স্টেডিয়াম তৈরি করে ফেলা সম্ভব!

    কতগুলো ফুটবল মাঠের পরিমাণ জমি

    এছাড়াও ১,৪৯৬টি ফিফা-মানের ফুটবল মাঠ এঁটে যাবে এই জমিতে। রিপোর্টে উল্লেখ, শেষ পাঁচ বছরে রেলের জমি অবৈধ ভাবে দখলের প্রবণতা আরও বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে আগের থেকে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে জবরদখল। ফলে রেলের জমির সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

    বিগত পাঁচ বছরে রেলের জমি দখলের ছবি—

    • ২০২০-২১ অর্থবর্ষ: রেলের ৮১০.৩১ হেক্টর জমি অন্যের দখলে ছিল।
    • ২০২১-২২ অর্থবর্ষ: সামান্য কমে বেদখল জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮২.৮১ হেক্টরে।
    • ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ: গ্রাফ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৮০০ হেক্টরের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।
    • ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ: মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দখলদারির হার বেনজিরভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রায় ২৬৮ হেক্টর জমি নতুন করে বেদখল হওয়ায় মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৭৮.৫৫ হেক্টরে।
    • ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ: গত মার্চ মাস পর্যন্ত জবরদখল হয়ে থাকা জমির পরিমাণ সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ১০৬৮.৫৪ হেক্টরে।

    রেলের মোট জমির পরিমাণ কত?

    সংসদে রেল মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত ভারতীয় রেলের মোট জমির (Railway Land Encroachment) পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর। তার মধ্যে ১,০৬৮ হেক্টর, অর্থাৎ মোট জমির মাত্র ০.২১ শতাংশ অবৈধ দখলের আওতায় রয়েছে। যদিও শতাংশের হিসেবে এই সংখ্যা কম, বাস্তবে জমির পরিমাণ অত্যন্ত বড়। ২০২১-২২ সালে জবরদখলের প্রবণতা সামান্য কমলেও, পরের দুই বছরে দখলের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। বিশেষ করে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এক বছরে প্রায় ২৬৮ হেক্টর জমি নতুন করে জবরদখল হয়ে যায়, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪-২৫ সালে বেদখলের প্রবণতা সামান্য হ্রাস পেলেও সামগ্রিক রিপোর্ট উদ্বেগজনক।

    মাত্র পাঁচ বছরের হিসেব

    প্রসঙ্গত, আরটিআই-তে আবেদনকারী গত ২৫ বছরের জমি দখলের তথ্য চেয়েছিলেন। কিন্তু রেল বোর্ড জানিয়েছে, তারা মাত্র পাঁচ বছরের তথ্য সংরক্ষণ করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। এ ছাড়াও, কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি রেল জমি দখল হয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্যও রেল বোর্ডের কাছে নির্দিষ্ট ভাবে নেই। বোর্ড জানিয়েছে, রাজ্য বা জ়োনভিত্তিক তথ্য সংশ্লিষ্ট জ়োনাল রেলের পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ, সারা দেশের জমি দখলের কোনও কেন্দ্রীয় ডেটাবেস বর্তমানে রেল বোর্ডের কাছে নেই।

    উদ্ধারের গুরুদায়িত্ব ও অন্তহীন চ্যালেঞ্জ

    জমি (Railway Land Encroachment) হারানোর এই দ্রুত হারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তা পুনরুদ্ধারের কাজ রেলের কাছে এখন মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। লোকালয় গড়ে ওঠা, আইনি জটিলতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণের কারণে বেদখল জমি উদ্ধার করা রীতিমতো দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ বছরে মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর জমি উদ্ধার করতে পারার পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, হারিয়ে যাওয়া রেলভূমি ফিরে পাওয়ার লড়াই কতটা কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি। রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন রেললাইন, মালবাহী করিডর, স্টেশন পুনর্নির্মাণ এবং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য বিপুল জমির প্রয়োজন। সেই পরিস্থিতিতে রেলের নিজস্ব জমির উপর অবৈধ দখলদারি ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে, পুরোনো তথ্যের অভাব এবং রাজ্যভিত্তিক কেন্দ্রীয় রেকর্ড না থাকায় সমস্যার গভীরে ঢুকে প্রকৃত চিত্র মূল্যায়নকে কঠিন করে তুলছে।

  • Manish Gupta Quits TMC: তৃণমূল ও রাজনীতি ছাড়ছেন মণীশ গুপ্ত, একুশে জুলাইয়ের আগেই ফের বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে

    Manish Gupta Quits TMC: তৃণমূল ও রাজনীতি ছাড়ছেন মণীশ গুপ্ত, একুশে জুলাইয়ের আগেই ফের বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত। একদা যে দলনেত্রীর এক ডাকে গোটা বাংলা কেঁপে উঠত, আজ তাঁরই পায়ের তলার মাটি ক্রমশ আলগা হচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগেই সেই ফাঁটল আরও চওড়া হল। এবার দল এবং সক্রিয় রাজনীতি- উভয় ক্ষেত্র থেকেই চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী তথা দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের চেয়ারম্যান মণীশ গুপ্ত। বৃহস্পতিবারই তিনি তাঁর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র (Manish Gupta Quits TMC) পাঠিয়ে দেবেন।

    কেন এই সিদ্ধান্ত (Manish Gupta Quits TMC)?

    রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার নেপথ্যে ক্ষোভ এবং বয়স- উভয় কারণকেই দায়ী করেছেন প্রাক্তন এই আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ক্ষোভপ্রকাশ করে মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) বলেছেন, ‘‘তৃণমূলে আমাকে গত পাঁচ বছর ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। দল আমাকে সেভাবে ব্যবহার করেনি। একে আক্ষেপ বলবো না, তবে এই ধরনের অনেক কারণ তো রয়েছেই। একই সঙ্গে বয়সও একটা বড় বিষয়। ৮৫ বছর বয়স হল, আর রাজনীতি করব না বলে ঠিক করেছি।’’ তবে, তিনি এও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনও রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হতে চান না। সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় জীবন কাটাতেই মনস্থির করেছেন মণীশ (Manish Gupta)।

    মণীশ গুপ্তের রাজনৈতিক সফর

    মণীশ গুপ্তের রাজনীতি ছাড়ার বিষযটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যখন মহাকরণ অভিযানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে যুব কংগ্রেসের আন্দোলন চলছিল এবং পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী মারা যান, তখন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ছিলেন এই মণীশ গুপ্তই। সেই সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলিচালনার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর, মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) নাটকীয়ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। দল তাঁকে বিধায়ক করার পাশাপাশি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর (বিদ্যুৎ দপ্তর) দায়িত্বও দেয়, যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক মহলে কম চর্চা হয়নি। সেই ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগেই এবার তৃণমূলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তিনি।

    বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা

    তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক দক্ষতার দরাজ প্রশংসাও করেছেন মণীশ গুপ্ত। তাঁর মতে, বাংলার উন্নয়নে বর্তমান সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীর মতো দক্ষ প্রশাসক পেয়েছে বাংলা। তিনি যেভাবে কাজ করছেন, তাতে বাংলার উন্নয়ন কেউ আটকাতে পারবে না। একের পর এক নিয়ম অত্যন্ত দক্ষ হাতে সামলাচ্ছেন তিনি।’’

    সঙ্কটে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)?

    কিন্তু মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) একা নন, বিগত কয়েক বছরে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন যেভাবে ধিকিধিকি জ্বলেছে, তাতে একের পর এক শীর্ষ স্তরের নেতা মমতার (Mamata Banerjee) হাত ছেড়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। একে তো একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ, তার উপর দলের অন্দরে এই ভাঙনের হিড়িক। যে দল একদা একমুখী আবেগে চলত, তা আজ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের ঠিক মুখে যখন দলনেত্রী মমতার মঞ্চ থেকে নতুন বার্তা দেওয়ার কথা, ঠিক তখনই মণীশ গুপ্তের (Manish Gupta)  মতো প্রবীণ নেতার বিদায় দলটির বুনিয়াদকেই নাড়িয়ে দিল। প্রশ্ন একটাই- দলের এই রক্তক্ষরণ থামাতে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নতুন কোনও রণকৌশল নেবেন? নাকি সময়ের নিয়মে এভাবেই খালি হতে থাকবে ঘাসফুল শিবির? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।

LinkedIn
Share