Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Sona Pappu-Joy Kamdar Nexus: চার মাসে ৫০০ কোটি টাকা নগদ জমা! সোনা পাপ্পু-জয় কামদারের দুর্নীতির জালে টান ইডির, ২৫টি ভুয়ো সংস্থার সন্ধান

    Sona Pappu-Joy Kamdar Nexus: চার মাসে ৫০০ কোটি টাকা নগদ জমা! সোনা পাপ্পু-জয় কামদারের দুর্নীতির জালে টান ইডির, ২৫টি ভুয়ো সংস্থার সন্ধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে বিল্ডার তথা ব্যবসায়ী জয় কামদারকে (Joy Kamdar) গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) বা ইডি। নির্মাণ সংস্থা ‘সান এন্টারপ্রাইজ’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত সমাজবিরোধী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে। দুজনের এই ‘অশুভ আঁতাত’ এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের আতস কাচের নীচে।

    সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর বিদেশি পিস্তল-রহস্য

    সম্প্রতি, জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ সংক্রাম্ত মামলায় তল্লাশি অভিযানের সময় সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) বাড়িতে উদ্ধার হওয়া বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস খুঁজতে গিয়ে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির হদিস পায় ইডি (ED)। ১ এপ্রিল বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ একটি ৭ এমএম বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে, যার গায়ে ‘মেড ইন ইউএসএ’ লেখা ছিল। তদন্তে জানা যায়, ১৫ জানুয়ারি ওই অস্ত্রটি সোনা পাপ্পুর স্ত্রী সোমা পোদ্দারের নামে কেনা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি কেনা হয়েছিল জয়ের সংস্থা থেকে। তদন্তে উঠে আসে, বেহালার প্রোমোটার জয় কামদারের সংস্থার মাধ্যমেই অস্ত্রটি কেনা হয়েছিল। অশ্বিনী দত্ত রোডে জয়ের অফিস থেকেই এই কেনাবেচা হয় বলে অভিযোগ। যদিও সোমা পোদ্দার দাবি করেছেন, তিনি এই কেনাকাটা বা তাঁর নামে কোনও ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

    সোনা পাপ্পুর স্ত্রী-র নামে সংস্থা, অথচ তিনিই জানেন না!

    পাশাপাশি, সোনা পাপ্পু ও জয়ের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্যও সামনে এসেছে। ইডির তদন্তে আরও জানা যায়, জয়ের সংস্থার সঙ্গে সোনা পাপ্পু ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা একাধিক সংস্থার সঙ্গে বিপুল টাকার লেনদেন হয়েছে। ‘সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড’ নামের সংস্থায় ডিরেক্টর হিসেবে নাম রয়েছে জয়ের। এছাড়া ‘এসপি কনস্ট্রাকশন’ নামে আর একটি সংস্থা সোনা পাপ্পুর নামে রয়েছে। এসব সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। পাশাপাশি, ‘হেভেন ভ্যালি’ নামে সোমা পোদ্দারের সংস্থার সঙ্গেও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে ইডি—যদিও তিনি সবকিছুই অস্বীকার করেছেন।

    ৪ মাসে ৫০০ কোটি নগদ জমা, মোট লেনদেন ১১০০ কোটি!

    তদন্তে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য, জয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ডিজিটাল ডিভাইস থেকে ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি ইডির। ‘ক্যালকাটা গুজরাতি এডুকেশন সোসাইটি’-র অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ কোটি টাকা জয়ের ভুয়ো কোম্পানিতে স্থানান্তরের তথ্যও সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মাত্র চার মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা নগদ জমা হয়েছে জয়ের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে। তাঁর সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২৫টি ভুয়ো সংস্থার খোঁজ মিলেছে। বর্তমানে ইডি জয়ের হেফাজত চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছে। সংস্থার আইনজীবীর কথায়, “তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ মিলেছে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনের সঙ্গেও অভিযুক্তের যোগ রয়েছে।”

    রবিবার দীর্ঘ জেরার পর বিকেল ৫টা নাগাদ জয় কামদারকে গ্রেফতার করে ইডি। কিন্তু গ্রেফতারির পরপরই তিনি অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে প্রথমে সল্টলেকের সেবা হাসপাতাল ও পরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘ফিট সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পর সোমবার দুপুরে তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে জয়কে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

  • Strait of Hormuz: মাইন আতঙ্ক, গুলির হামলা! হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে নতুন নিয়ম

    Strait of Hormuz: মাইন আতঙ্ক, গুলির হামলা! হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে নতুন নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীর কাছে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে, পারস্য উপসাগরে থাকা ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলির জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জাহাজগুলিকে লারক দ্বীপ থেকে দূরে থাকতে এবং শুধুমাত্র নৌবাহিনীর অনুমতি পেলে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)অতিক্রম করতে বলা হয়েছে, যাতে ঝুঁকি কমানো যায়। গত ১৮ এপ্রিল ইরানি গার্ডরা দুটি ভারতীয় জাহাজে গুলি চালায়। এর পর ভারতীয় সেনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করেছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা সমস্ত ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভারতীয় সেনা।

    নৌবাহিনীর নির্দেশ পেলে তবে যাত্রা

    ইরান ও আমেরিাকর মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যেই ১১টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরিয়েছে। শেষ ট্যাঙ্কার ‘দেশ গরিমা’ ১৮ এপ্রিল পার হয়। একই দিনে ‘জগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের দুটি জাহাজ ইরানি গার্ডদের গুলির মুখে পড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। হরমুজ পার হওয়ার পর ‘দেশ গরিমা’ এখন আরব সাগর-এ ভারতীয় নৌবাহিনীর সুরক্ষায় রয়েছে এবং ২২ এপ্রিল মুম্বই পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে পারস্য উপসাগরে ১৪টি ভারতীয় জাহাজ প্রণালী পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতীয় সেনা তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এগোতে বারণ করেছে। পাশাপাশি, পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি এলাকায় ভারতীয় নৌবাহিনীর ৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যারা হরমুজ পার হওয়ার পর ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    লারক দ্বীপ-এর গুরুত্ব

    লারক দ্বীপ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে অবস্থিত এবং এটি ইরানের তেল পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে এই অঞ্চলে কড়া নজরদারি চালানো হয়—রাডার ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়। লারক দ্বীপ হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে অবস্থিত এবং প্রণালীর প্রায় ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত অংশ জুড়ে বিস্তৃত। ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার আগে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহণ এই পথ দিয়েই হতো। এলাকায় একাধিক ইরানি ঘাঁটি রয়েছে, যেখান থেকে দ্রুতগতির ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালানো সম্ভব। বর্তমানে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে হরমুজ ও লারক দ্বীপের মাঝের রুট ব্যবহার করা হলেও, ওমান উপকূলের কাছাকাছি দক্ষিণ দিকের পুরনো পথটি মাইন থাকার আশঙ্কায় এড়িয়ে চলা হচ্ছে। ভারতীয় জাহাজগুলিকে লারক দ্বীপের কাছাকাছি যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজের হরমুজ প্রণালী পার হওয়া এখন অনিশ্চিত।

  • Sona Pappu-Joy Kamdar Nexus: সোনা পাপ্পু ও সান গ্রুপের জয় কামদারের মধ্যে হাজার কোটি টাকার লেনদেন! ইডির তলব ডিসিপি শান্তনুকে

    Sona Pappu-Joy Kamdar Nexus: সোনা পাপ্পু ও সান গ্রুপের জয় কামদারের মধ্যে হাজার কোটি টাকার লেনদেন! ইডির তলব ডিসিপি শান্তনুকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার সকালে বেহালার বাড়ি থেকে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) ঘনিষ্ঠ জয় কামদারকে (Joy Kamdar) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। যদিও তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং একের পর এক আর্থিক লেনদেনের তথ্য উঠে আসছে তদন্তকারীদের হাতে। পাশাপাশি জয় ও সোনা পাপ্পুর নতুন সংস্থার খোঁজও মিলেছে।

    জয় কামদার-সোনা পাপ্পুর মধ্যে কোটি কোটি টাকার লেনদেন!

    ইডির হাতে উঠে এসেছে সোনা পাপ্পু ও জয়ের একাধিক সংস্থার মধ্যে কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য। ধৃত ব্যবসায়ীর সংস্থার সঙ্গে প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেন করেছে সোনা পাপ্পু। ইডি আদালতে জানিয়েছে, জয়ের নামে ‘সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, আরেকটি কোম্পানির খোঁজ মিলেছে এস পি কনস্ট্রাকশন নামে, যার মালিকানা রয়েছে সোনা পাপ্পুর নামে। ইডির দাবি, সেই কোম্পানির অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে জানা যাচ্ছে, সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর সংস্থার প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। শুধু তাই নয়। ইডির আরও দাবি, ‘ক্যালকাটা গুজরাটি এডুকেশন সোসাইটি’ নামে একটি ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে জয় কামদার প্রায় ৪০ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছেন। পাশাপাশি, ‘চিরাস এন্টারপ্রাইজ’ নামে আরও একটি ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার। কামদারের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। অন্যদিকে, সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামেও একটি সংস্থার সন্ধান মিলেছে। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি দাবি করেন, তাঁর নামে কোনও কোম্পানি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

    কেন ইডির নজরে জয় কামদার?

    জয় কামদার মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল এবং সেই সময় বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হয়, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সম্প্রতি কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু সূত্র পায় ইডি। সেই সূত্র ধরেই সামনে আসে জয়ের নাম। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সোনা পাপ্পু মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জয় কামদারকে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। এরপরই রবিবার সকালে বেহালায় তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    আরজি করে ভর্তি জয় কামদার

    গ্রেফতারের পর ব্যাঙ্কশাল আদালতে নিয়ে আসার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন জয় কামদার। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার জেরেই জয় অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা যাচ্ছে। আদালতে পেশ করতে না পারায় ইডির তরফে এদিন ব্যাঙ্কশাল আদালতে ধৃত ব্যবসায়ীর জেল হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। পরে সুস্থ হলে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় ইডি। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীনও জয়ের ওপর নজরদারির জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে মোতায়েন করার আবেদন জানানো হয় আদালতে। এদিকে, সোনা পাপ্পুর সূত্র ধরে রবিবার বেহালার পাশাপাশি বালিগঞ্জেও অভিযান চালায় ইডি।

    কলকাতা পুলিশের ডিসিকে তলব ইডির

    একই দিনে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। শেষ খবর, শান্তনুকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুধু তা-ই নয়, পুলিশ আধিকারিকের দুই পুত্রকেও তলব করা হয়েছে। সোনা পাপ্পু এবং বেহালার প্রোমোটার জয় কামদারের সঙ্গে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনুর ‘যোগসূত্র’-এর ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করেছে ইডি। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে কাঁকুলিয়া রোডে গুলিচালনার ঘটনায় সোনা পাপ্পুর নাম জড়ায়। সেই ঘটনায় তাঁর কয়েকজন সহযোগী গ্রেফতার হলেও মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু এখনও অধরা।

  • KKR: হাড়ে চিড় নিয়েই খেলছেন! অবশেষে জয়ের পর কেকেআরের ড্রেসিংরুমে কান্নাকাটি কেন, জানালেন বরুণ

    KKR: হাড়ে চিড় নিয়েই খেলছেন! অবশেষে জয়ের পর কেকেআরের ড্রেসিংরুমে কান্নাকাটি কেন, জানালেন বরুণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েও চোখে জল আসেনি, কিন্তু চলতি আইপিএলে প্রথম জয় কাঁদিয়ে দিল রিঙ্কু-বরুণদের। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় চলতি আইপিএলে অবশেষে জয় পেয়ে ম্যাচের সেরা বরুণ চক্রবর্তী বললেন, ‘‘২০২৪-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে আমি ড্রেসিংরুমে কাউকে খুব একটা কাঁদতে দেখিনি। কিন্তু আজ জয়ের পরে অনেকের চোখেই জল দেখলাম। চোটের জন্য মরসুমের শুরু থেকে একের পর এক ক্রিকেটার ছিটকে গিয়েছে। সেই দলকে ছন্দে ফেরানো সহজ নয়। এমনই একটি জয় আমাদের প্রয়োজন ছিল। আশা করি, এই জায়গা থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’’

    কাঁদলেন রিঙ্কু

    টানা ব্যর্থ। অবশেষে ২ পয়েন্ট এল ঝুলিতে। কেকেআর যেন কিছুটা অক্সিজেন পেল এই জয়ের পর। তবে এতগুলো ম্যাচের পর একটা জয় যেন আবেগের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দিল। ছ’টা ম্যাচের মধ্যে পাঁচটায় হার। একটামাত্র পয়েন্ট এসেছিল, সেটাও বৃষ্টির দৌলতে! সাত নম্বর ম্যাচের পর জয় এল। তার পরই কেকেআর ড্রেসিংরুমে অনেকেই কাঁদলেন। ২৫ কোটির গ্রিন রান পাচ্ছিলেন না। একটা ম্যাচে বড় রান করলেন। তার পর আবার সেই এক পরিস্থিতি। ক্যাপ্টেন রাহানেকে নিয়ে সব থেকে বেশি সমস্যায় নাইটরা। মিডল অর্ডার দলকে ভরসা দিতে পারছে না। রাজস্থানের বিরুদ্ধেও ১৫৫ রান করতে গিয়েও কেকেআরের কালঘাম ছুটল। রাজস্থানের বিরুদ্ধে ম্যাচের নায়ক রিঙ্কু। সেই রিঙ্কু সিং অঝোরে কাঁদলেন এদিন। অফ ফর্ম চলছে। রান পাচ্ছিলেন না। রবিবার সেই রিঙ্কুই জেতালেন। তার পর আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি।

    রেকর্ড বুকে বরুণ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই খারাপ ফর্ম চলছিল। আইপিএলের শুরু থেকে খুব একটা ভাল খেলতে পারছিলেন না। উইকেট পেলেও প্রচুর রান দিচ্ছিলেন। রাজস্থানের বিরুদ্ধে অবশেষে প্রত্যাবর্তন হল ‘আসল’ বরুণ চক্রবর্তীর। রানও কম দিলেন। তুলে নিয়েছেন তিনটি উইকেটও। ম্যাচের পর বরুণ জানালেন, হাড়ে চিড় নিয়েই তিনি আইপিএলে খেলছেন। তাঁর মতে, এখনও ট্রফি জিততে পারে কেকেআর। এ দিন দ্বিতীয় দ্রুততম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০টি উইকেট নিলেন বরুণ। ১৫১টি ইনিংসে ২০০তম উইকেট পেয়েছিলেন অর্শদীপ সিং। বরুণ পেলেন ১৫৫তম ইনিংসে। কুলদীপ যাদব (১৬০), জয়দেব উনাদকাট (১৬২) এবং মহম্মদ শামি (১৬৫) রয়েছেন বরুণের পরে। রবিবার ম্যাচের সেরাও হন বরুণ। তিনি বলেন, “পিচ খুব একটা আলাদা ছিল না। আইপিএলে যেমন পিচ হয় তেমনই হয়েছে। আজ একটু মন্থর গতির ছিল, যা আমরা কাজে লাগিয়েছি। প্রথম কয়েকটা ম্যাচে আমি চোট পেয়েছিলাম। দুটো হাড়ে চিড় ধরেছিল। এখনও বাঁ হাতে চিড় দুটো রয়েছে। সেটা সামলেই খেলার চেষ্টা করছি। কাজটা কঠিন, তবু চেষ্টা তো করতেই হবে।” সাফল্যের নেপথ্যে গোটা কোচিং স্টাফকে কৃতিত্ব দিয়েছেন বরুণ।

  • Iran-US War: উত্তপ্ত হরমুজ! মার্কিন জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, আটক ইরানি জাহাজ নিয়ে সংঘাত তীব্র

    Iran-US War: উত্তপ্ত হরমুজ! মার্কিন জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, আটক ইরানি জাহাজ নিয়ে সংঘাত তীব্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী। জাহাজ বাজেয়াপ্ত করার পরেই বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান (Iran)। রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে বলেছিল, ‘এটা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন। উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’ তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকার (America) রণতরীতে ড্রোন হামলা চালাল ইরানের সেনা। এই ঘটনায় সংঘর্ষ বিরতি (Iran-US War) ভেঙে পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia in War) ফের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। চিন থেকে ইরানগামী একটি পণ্যবাহী জাহাজ গুলি চালিয়ে মার্কিন সেনা দখল করে নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে (US Seizes Iranian Cargo Ship)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সামাজিক মাধ্যমে জাহাজটি আটকের কথা নিশ্চিত করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান সাফ জানিয়েছে বদলা তারা নেবেই। ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালী পার করার সময় হামলার শিকার হয়েছে দুটি ভারতীয় জাহাজও (Indian-Flagged Vessels Attacked)।

    ইরানের পাল্টা

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। ইরান দাবি করেছে, ওমান সাগর এলাকায় মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা হয়েছে মার্কিন বাহিনীর ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো ও সেটি আটক করার ঘটনার পাল্টা হিসেবে। তবে হামলার পরিমাণ, কয়টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বা মার্কিন জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না—এই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম শুধু দাবি করেছে, গুলি চালিয়ে একটি বাণিজ্যিক জাহাজের দখল নিয়েছে আমেরিকান সেনা। তার পাল্টা হিসেবে ড্রোন হামলা করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস।

    ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলা

    রবিবার মাঝরাতে ‘টৌস্কা’ (TOUSKA) নামে একটি কার্গো জাহাজ আটক করে আমেরিকান সেনা। ইরানের দাবি, জাহাজটি চিন থেকে ইরানের দিকে যাচ্ছিল। হরমুজ প্রণালীর কাছে ওমান উপসাগরে তার উপরে হামলা চালানো হয়। প্রথমে গুলি করে জাহাজের ইঞ্জিন রুমে ফুটো করে দেয় আমেরিকান সেনা। তার পরে পুরো জাহাজের দখল নেয় তারা। এই ঘটনা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জলজ্যান্ত উদাহরণ বলে দাবি করে ইরানের সামরিক কম্যান্ডের এক মুখপাত্র বলেন, ‘জলদস্যুর মতো আচরণ করেছে আমেরিকা। এটা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের উদাহরণ।’ আমেরিকান সেনার গুলিতে জাহাজটির নেভিগেশন সিস্টেম বিকল হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি ইরানের। ফলে তারা থামতে বাধ্য হয়। ওই মুখপাত্রের কথায়, ‘এর পরেই আমেরিকান সেনা জাহাজে উঠে পড়ে। আমরা এর উপযুক্ত জবাব দেব।’

    মার্কিন অভিযানে ইরানি জাহাজ আটক

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ অমান্য করে জাহাজটি হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করেছিল। ইরানের পতাকা লাগানো জাহাজটি বান্দার আব্বাস বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় মার্কিন সেনারা সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং নিয়ন্ত্রণে নেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাহাজের ভেতরে কী ধরণের পণ্য রয়েছে তা বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাহাজ দখলের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রভাব পড়েছে কূটনৈতিক টেবিলে

    এই ঘটনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কূটনৈতিক টেবিলে। ইরানের সাথে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে পৌঁছেছিল। কিন্তু তেহরান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই পরিস্থিতিতে কোনো আলোচনায় বসবে না। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদসংস্থার দাবি, ওয়াশিংটন এমন কিছু অবাস্তব দাবি করছে যা ইরানের পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব।

    যুদ্ধবিরতি ভাঙছে

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি শর্ত না মানে, তবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো—যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। এর জবাবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলির বিদ্যুৎ ও জল পরিশোধন কেন্দ্রেও পাল্টা আঘাত হানা হবে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে এখনও দুই দিন বাকি ছিল। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই মেয়াদ থাকার কথা থাকলেও তার আগেই রণংদেহি মেজাজে দুই দেশ। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহম্মদরেজা আরেফ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “ইরানের তেল রফতানিতে বাধা দিয়ে অন্য কেউ নিরাপদে থাকবে, এমনটা ভাবা উচিত নয়। হয় সবার জন্য তেলের বাজার উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে সকলকে মূল্য দিতে হবে।”

    ভারতীয় জাহাজ লক্ষ্য করেও গুলি

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচে অশান্ত হরমুজ প্রণালীও। আমেরিকা শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তুলে ফের হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালী পার করার সময় হামলার শিকার হয়েছে দুটি ভারতীয় জাহাজও (Indian-Flagged Vessels Attacked)। অভিযোগ, ইরানের নৌবাহিনী ভারতীয় জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই নিয়ে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালিকে তলব করে বিদেশমন্ত্রক। ভারতীয় জাহাদের উপর হামলার বিরোধিতা করে ইরানকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। জাহাজের উপর এই হামলা ওমানের কাছে ঘটেছে। ব্রিটেন দাবি করে, ইরানের নৌবাহিনী ভারতীয় জাহাজে গুলিবর্ষণ করে। তবে জাহাজ দুটির কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনায় কেউ হতাহতও হননি। তবে ফিরে যেতে হয় জাহাজ দুটিকে।

    যুদ্ধের কারণে বিভ্রান্তি

    এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বিদেশমন্ত্রক। মহম্মদ ফাতালির সঙ্গে বৈঠক করেন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি। গুলি চালানোর তীব্র প্রতিবাদ করেন। ভারতমুখী জাহাজকে নিরাপদে পাঠানোর বার্তা দেন। দুই ভারতীয় জাহাজে প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল ইরাকি তেল রয়েছে। সূত্রের খবর, ইরান জানিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীতে। ইরানের বিভিন্ন বাহিনী ও ইউনিট একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করতে না পারায় এমনটা ঘটছে। এই যুদ্ধের সময় এর আগে আমেরিকাও ভুলবশত নিজেদের জাহাজ কিংবা তার সহযোগীদের উপর গুলি চালিয়েছে।

  • I-PAC ED Probe: গ্রেফতার এক কর্তা, তলব আরও একজনকে— ইডির নজরে আইপ্যাক, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

    I-PAC ED Probe: গ্রেফতার এক কর্তা, তলব আরও একজনকে— ইডির নজরে আইপ্যাক, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের ঠিক আগে বিরাট চাপে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)। এক শীর্ষ কর্তাকে গ্রেফতারের পর সংস্থার আরও এক শীর্ষ কর্তা ঋষি রাজ সিং-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। হাওয়ালা লেনদেন ঘিরে অর্থ পাচারের অভিযোগে আজ, সোমবার ২০ এপ্রিল, দিল্লিতে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। সেখানে ‘অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন’ (PMLA)-এর আওতায় তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ইডি হেফাজতে সংস্থার অন্যতম কর্তা ভিনেশ চান্ডেল

    ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক একাধিক রাজনৈতিক দলের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে আসছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস (পশ্চিমবঙ্গ) এবং ডিএমকে (তামিলনাড়ু)-সহ বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে যুক্ত এই সংস্থা। আইপ্যাকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন ঋষি রাজ সিং, ভিনেশ চান্ডেল এবং প্রতীক জৈন। এর মধ্যে ভিনেশ চান্ডেলকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে ইডি। এর আগে, প্রতীক জৈনের ভাই ও স্ত্রীকেও ডাকা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংস্থা থেকে পাওয়া অর্থের হাওয়ালা লেনদেনের অভিযোগে এই তদন্ত চলছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২ এপ্রিল বেঙ্গালুরুতে ঋষি রাজ সিং-এর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে ১৩ এপ্রিল দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় ভিনেশ চান্ডেলকে, যিনি বর্তমানে ইডি হেফাজতে রয়েছেন।

    মামলার সূত্রপাত দিল্লি পুলিশের একটি এফআইআর থেকে

    এই মামলার সূত্রপাত দিল্লি পুলিশের একটি এফআইআর থেকে। সেখানে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, হিসাবপত্রে কারচুপি এবং সংস্থার পরিচালকদের মাধ্যমে ‘হিসাব-বহির্ভূত’ তহবিল লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইডির দাবি, সংস্থাটি হিসাবভুক্ত ও অঘোষিত তহবিল গ্রহণ, জামানত ছাড়াই ঋণ নেওয়া, ভুয়ো বিল ও ইনভয়েস তৈরি, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং হাওয়ালা চ্যানেলে নগদ লেনদেনের মতো একাধিক অনিয়মে জড়িত। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৫০ কোটি টাকার অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে আইপ্যাক। এই মামলার সঙ্গে কয়লা দুর্নীতি তদন্তেরও সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি।

    কলকাতায় প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আই-প্যাকের দফতরে তল্লাশি ইডির

    এর আগে, ৮ জানুয়ারি কয়লা দুর্নীতি মামলায় প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং কলকাতায় আই-প্যাকের দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু নথি সরিয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর দাবি ছিল, ইডি আসলে নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনার জেরে ইডি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে এবং সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, রবিবার পশ্চিমবঙ্গে আইপ্যাক-এর কাজ ২০ দিনের জন্য বন্ধের খবর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়। তবে, তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তৃণমূল।

  • PM Modi in Jhargram: “বিনা পয়সায় খাব না”, ঝাড়গ্রামে মোদির অন্য রূপ, শিশুদের সঙ্গে ঝালমুড়ি ভাগ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi in Jhargram: “বিনা পয়সায় খাব না”, ঝাড়গ্রামে মোদির অন্য রূপ, শিশুদের সঙ্গে ঝালমুড়ি ভাগ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এর আগে তাঁকে দেখা গিয়েছিল চায়ের দোকানে। এবার প্রচারের ফাঁকে ঝালমুড়ির দোকানে ঢুকে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মাত্র ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খোশমেজাজে খেতেও দেখা গেল তাঁকে। দোকান থেকে ঝালমুড়ি নিয়ে শুধু নিজেই খাননি, আশপাশে থাকা শিশুদেরও ভাগ করে দেন। কিছু সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে গল্পগুজব করে কাটান। তাঁকে সামনে পেয়ে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায়, বিশেষ করে স্থানীয় মহিলাদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি খেয়ে মোদি (PM Modi in Jhargram) যে খুশি, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান—একদিনে চারটি জনসভার মাঝেই এই ছোট্ট বিরতি ছিল তাঁর জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত।

    আপনার ঝালমুড়ি খাওয়ান!

    রবিবার একটি ভিডিওতেও দেখা যায়, ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে ঝালুড়ির দোকানে ঢুকে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Jhargram) । তিনি বলেন, “ভাই, আমায় আপনার ঝালমুড়ি খাওয়ান।” দাম জিজ্ঞেস করলে দোকানদার জানান ১০ ও ২০ টাকার অপশন আছে। তখন তিনি নিজেই ১০ টাকার নোট এগিয়ে দেন। দোকানদার নিতে না চাইলে তিনি স্পষ্ট করে দেন—বিনা পয়সায় খাবেন না। ঝালমুড়ি মাখার সময় পেঁয়াজ খাবেন কিনা জানতে চাইলে হাস্যরসের সুরে উত্তর দেন, “হ্যাঁ, পেঁয়াজ খাই, শুধু মাথা খাই না।” এদিকে পিছন থেকে সমর্থকদের ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শোনা যায়। ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে সভা শেষে ফেরার পথে কলেজ মোড়ের একটি দোকানের এই ছবি সবাইকে চমকে দেয়। দোকানদার বিক্রম সাউ জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাম, পরিবার ও আয় সম্পর্কে জানতে চান এবং ঝালমুড়ি খেয়ে প্রশংসাও করেন।

    প্রতিটি সভাতেই তৃণমূলকে নিশানা

    পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে রবিবার একদিনে চারটি সভা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বাঁকুড়ার বড়জোড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার প্রতিটি সভাতেই তৃণমূলকে নিশানা করে মোদি (PM Modi in Jhargram) জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল মহিলাদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ, এবং আসন্ন নির্বাচনে মহিলারাই এর জবাব দেবেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ৷ তারা মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা চায় না ৷ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মহিলারা তৃণমূলকে যথোপযুক্ত শাস্তি দেবে ৷”

  • India-UK Trade Deal: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মে মাসে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ বিকিকিনি

    India-UK Trade Deal: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মে মাসে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ বিকিকিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আগামী মে মাসে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল। তিনি জানান, গত বছরের জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত এই বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (CETA)-র অধীনে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানি পণ্যে ব্রিটিশ বাজারে (India-UK Trade Deal) শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার মিলবে। এর বদলে ভারত ব্রিটিশ কিছু পণ্যের উপর, যেমন গাড়ি ও হুইস্কি, শুল্ক কমাবে। আগরওয়াল বলেন, “আমরা আশা করছি মে মাসের মধ্যেই এই চুক্তি কার্যকর হবে। নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি, কারণ যুক্তরাজ্যের পক্ষেও কিছু আলোচনা বাকি রয়েছে।”

    চুক্তির ফলে ভারতের লাভ

    দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বেশ কিছু কৃষিজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য আমদানির জন্য কোনও শুল্ক লাগবে না। নতুন চুক্তি অনুসারে, হলুদ, গোলমরিচ, এলাচের মতো কৃষিপণ্য এবং আমের শাঁস, আচার, ডালের মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যগুলি ব্রিটিশ বাজারে বিনা শুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি ভারতীয় মৎস্যজীবীরাও উপকৃত হবেন। ভারতের চিংড়ি, টুনা মাছ-সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য বিনা শুল্কে ব্রিটেনের বাজারে আমদানি করা যাবে। এই চুক্তির ফলে ভারত থেকে রফতানি হওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্যই ব্রিটেনের বাজারে বিনাশুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে। তবে স্থানীয়দের স্বার্থের কথা ভেবে আপেল, চিজ, দুগ্ধজাত পণ্য চুক্তির আওতায় আনেনি ভারত। এগুলি আমদানির ক্ষেত্রে কর ছাড় থাকছে না।

    ব্রিটেনের লাভ

    অন্য দিকে ব্রিটেন থেকে ভারতে রফতানি করা বিভিন্ন পণ্যের উপর দফায় দফায় শুল্ক কমিয়ে আনা হবে। এতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে ব্রিটেনের খাদ্য এবং পানীয় প্রস্তুতকারী ক্ষেত্র। এর মধ্যে রয়েছে রয়েছে ব্রিটেনের স্কচ হুইস্কি। বর্তমানে ব্রিটেনের স্কচ হুইস্কির উপর ভারতীয় বাজারে ১৫০ শতাংশ হারে শুল্ক নেওয়া হয়। নতুন চুক্তিতে এই শুল্ক প্রথম ধাপে কমিয়ে ৭৫ শতাংশ করা হবে। তার পরে এক দশকের মধ্যে শুল্ক আরও কমিয়ে ৪০ শতাংশ করে দেওয়া হবে।ব্রিটেন থেকে আমদানি করা স্কচ হুইস্কির এবং জিনের পাশাপাশি জাগুয়ার, ল্যান্ডরোভারের মতো গাড়ি, মেডিক্যাল যন্ত্র, প্রসাধনী, চকোলেট, নরম পানীয়ও সস্তা হবে। ব্রিটেন থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিন গাড়ির উপর বর্তমানে ১১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সেটি কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে নতুন চুক্তিতে। ফলে বৈদ্যুতিন গাড়ির দামও কমতে পারে ভারতে।

    ভারতের বাণিজ্য চুক্তি সমূহ

    এছাড়াও তিনি জানান, ওমান-এর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি আগামী ১ জুনের মধ্যে কার্যকর হতে পারে। গত ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও চামড়াজাত দ্রব্যসহ ভারতের ৯৮ শতাংশ রফতানি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে ভারত ওমানের খেজুর, মার্বেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে। আগরওয়াল আরও বলেন, নিউজিল্যান্ড-এর সঙ্গে ভারতের এফটিএ আগামী ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই চুক্তির লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ভারতীয় পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, আগামী ১৫ বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি চলতি বছরেই সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। সরকারের লক্ষ্য, এই চুক্তি আগামী অর্থবছরের শেষের আগেই কার্যকর করা। অন্যদিকে কানাডা-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। মে মাসে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান বাণিজ্য সচিব।

  • Delhi Terror Plot: খেলনা গাড়িতে বোমা! দিল্লি পুলিশের জালে ৪ জঙ্গি, রাজধানীতে হামলার ছক বানচাল

    Delhi Terror Plot: খেলনা গাড়িতে বোমা! দিল্লি পুলিশের জালে ৪ জঙ্গি, রাজধানীতে হামলার ছক বানচাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিকে লক্ষ্য করে এক বড় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা (Delhi terror plot) বানচাল করে দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা ও বিহার থেকে চার ‘র‌্যাডিক্যালাইজড’ যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) এবং খেলনা গাড়িতে বোমা লাগিয়ে হামলা চালানোর সরঞ্জাম। পুলিশের অভিযোগ, তারা সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিল, অনলাইন এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও লোককে নিয়োগের চেষ্টা করছিল এবং দিল্লিতে বড় ধরনের হামলার ছক কষছিল।

    বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ

    ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ও মহারাষ্ট্র এটিএস-এর যৌথ অভিযানে মুম্বইয়ের কুর্লা ও খাদাভলি এলাকা থেকে দুজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তদন্তের সূত্র ধরে ওড়িশা ও বিহার থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। আটক চারজনের মধ্যে দুজনের নাম মোসাব আহদাম ওরফে কালাম কল্যাণ এবং মোহাম্মদ হামাদ কোল্লারা। তারা জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম) এবং আইএসআইএস-এর প্রভাবিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অনলাইনে ‘মিশন খিলাফত’ ও ‘সোলজার্স অফ জিহাদ’-এর মতো গ্রুপের মাধ্যমে তারা র‌্যাডিক্যালাইজড হয়েছে। টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে জানা গিয়েছে।

    জঙ্গিদের লক্ষ্যে ছিল রাম মন্দির, সংসদ ভবন

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা খেলনা গাড়ির ভিতরে আইইডি লুকিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট এড়িয়ে ভিড়াক্রান্ত এলাকায় পৌঁছে হামলা চালানো। তারা দিল্লির সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিল এবং আইইডি তৈরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে সংবেদনশীল নথি, ডিজিটাল চ্যাট, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ এবং একাধিক আইইডি। পুলিশের দাবি, ভুবনেশ্বরের শেখ ইমরান এমন কিছু অনলাইন গ্রুপ তৈরি করেছিল যেখানে “জিহাদ”, “খিলাফত” এবং সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে রাম মন্দির, সংসদ ভবন ও সামরিক স্থাপনা নিয়ে আলোচনা হত। অন্যদিকে, সোহেল একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালিয়ে যুবকদের উসকানি দিত এবং অর্থ সংগ্রহ করত। এছাড়াও, এক অভিযুক্ত দিল্লির লালকেল্লা-সহ কয়েকটি সংবেদনশীল স্থানে গিয়ে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে এই জঙ্গিদের ধরতে অভিযান চালায় স্পেশাল সেল।

    খেলনা গাড়ির মতো সাধারণ জিনিসে বিস্ফোরক

    এই গ্রেফতার দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, “অনলাইন র‌্যাডিক্যালাইজেশন এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। যুবকরা সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ ধরনের ছক কষছে। খেলনা গাড়ির মতো সাধারণ জিনিসকে অস্ত্র বানানোর চেষ্টা দেখে বোঝা যায়, জঙ্গিরা নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে।” তদন্তে আরও বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • TCS Nashik Case: ‘চুপ থাকো, নইলে বিপদ’! যৌন হেনস্থা থেকে জোর করে ধর্মান্তর, নাসিকের টিসিএস নিয়ে জাতীয় স্তরে তদন্ত

    TCS Nashik Case: ‘চুপ থাকো, নইলে বিপদ’! যৌন হেনস্থা থেকে জোর করে ধর্মান্তর, নাসিকের টিসিএস নিয়ে জাতীয় স্তরে তদন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস (Tata Consultancy Services)-এর বিপিও ইউনিট ঘিরে বিতর্কিত ‘ধর্মান্তর’ ও যৌন হেনস্তা মামলায় নতুন মোড়। মামলার (TCS Nashik Case) অন্যতম অভিযুক্ত নিদা খান গত এক সপ্তাহ ধরে পলাতক। পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালালেও এখনও তার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিদা খানের স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তেমন কোনো তথ্য মেলেনি। স্বামী দাবি করেছেন, তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছেন। তবে পুলিশ ওই বাড়িতে পৌঁছে সেটি তালাবন্ধ অবস্থায় পায়। তদন্তকারীদের ধারণা, গ্রেফতার এড়াতে নিদা খান প্রায় দু’মাস আগে মুম্ব্রা এলাকায় সরে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনটি পৃথক পুলিশ দল তাকে খুঁজছে, যার একটি দল মুম্ব্রায় সক্রিয়।

    কীভাবে শুরু এই মামলা

    ঘটনার সূত্রপাত হয় এক ২৩ বছর বয়সি মহিলা বিপিও কর্মীর অভিযোগে। তিনি তার সহকর্মী দানিশ শেখের বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ তোলেন। এরপর নাসিক পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে। যার মধ্যে রয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক (ধারা ৬৯), যৌন হেনস্তা (ধারা ৭৫), ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত (ধারা ২৯৯)। টাটা সন্স-এর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন (N Chandrasekaran) এই ঘটনাকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক” বলে উল্লেখ করেছেন। সংস্থার পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সিওও আর্থি সুব্রামনিয়ান। এছাড়া নজরদারি কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন কেকি মিস্ত্রি।

    নিদা-কে নিয়ে বিভ্রান্তি

    এই মামলার (TCS Nashik Case) মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে নিদা খান-এর নাম। নিদা খান, অভিযুক্ত দানিশ শেখের বোন। তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রথমে শোনা গিয়েছিল নিদা খান এইচআর প্রধান, কিন্তু পরে সূত্র মারফত জানা যায় তিনি আদতে একজন টেলিকলার বা সাধারণ কর্মী। নিদার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে একটি চক্রের হয়ে ‘কর্পোরেট জিহাদ’ চালাত। নিদা নাকি সংস্থার মহিলা কর্মীদের জোর করে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা করত। এমনকী হিন্দু কর্মীদের আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ। জবরদস্তি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ।

    ‘চুপ থাকো নইলে বিপদ’

    তদন্তের চেয়েও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে টিসিএস-এর নাসিক ইউনিটের এইচআর (HR) বিভাগের ভূমিকা নিয়ে। নির্যাতিতা তরুণীর অভিযোগ, তিনি যখন অভ্যন্তরীণ কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে যান, তখন তাঁকে সাহায্য করার বদলে ‘মুখ বন্ধ’ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অভিযোগ করলে কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন ওই তরুণী। এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে, প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা করতে গিয়েই কি অপরাধীকে আড়াল করা হয়েছে? যদিও টিসিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতিতে বিশ্বাসী এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    টাটার দাবি

    টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) নাসিক শাখার বিপিও-তে যৌন হেনস্থা কেলেঙ্কারিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন। তবে টাটার তরফ থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, পুলিশ যে সব ঘটনার তদন্ত করছে, সেই সংক্রান্ত ঘটনার বিষয়ে কোনও অভিযোগ তারা পায়নি। টিসিএস-এর সিইও ও এমডি কে কৃতিবাসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রাথমিক ভাবে সিস্টেম এবং রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, এথিকস বা পশ (POSH) চ্যানেলে এই ধরনের কোনও অভিযোগই দায়ের করা হয়নি। এদিকে টিসিএসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত নিদা খানকে গত ৯ এপ্রিল সাসপেন্ড করা হয়েছে। এবং নিদা খান একজন প্রোসেস অ্যাসিয়েট ছিল। সে এইআচর ম্যানেজার ছিল না এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ ছিল না। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, টিসিএস-এর প্রেসিডেন্ট ও সিওও আরথি সুব্রামানিয়ানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। এবং এর জন্য স্বাধীন পরামর্শদাতা হিসেবে ডেলয়েট এবং স্বনামধন্য আইন সংস্থা ট্রাইলিগালের বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করা হয়েছে।’

    তদন্তকারীদের নজরে

    নাসিক পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এখন আপাতত ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। টিসিএস-এর ওই ইউনিটের বেশ কয়েকজন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের কঠোর সাজা তো হবেই, পাশাপাশি অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনার পর যে ৬টি দিক নিয়ে তদন্তকারীরা কাজ করছেন তা হল—

    • আইনের প্রয়োগ: কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সুরক্ষা আইন (POSH Act) কি টিসিএস-এর মতো বড় সংস্থায় কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ?
    • অভ্যন্তরীণ তদন্তে গাফিলতি: প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর কেন তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?
    • ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ: অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণীর কল রেকর্ড এবং চ্যাট হিস্ট্রি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
    • মানসিক হেনস্থা: কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত পরিবেশ (Toxic Culture) তৈরি করার দায় কার?
    • প্রমাণ লোপাট: সিসিটিভি ফুটেজ বা গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলার কোনও চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জাতীয় স্তরে নজরদারি

    টিসিএস-এর (TCS Nashik Case) মতো সংস্থা, যেখানে কাজ করার জন্য লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন দেখে, সেখানে এই ধরনের ঘটনা সামগ্রিক ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা তৈরি করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস (Devendra Fadnavis) এই ঘটনাকে “গুরুতর” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যদি তদন্তে “কর্পোরেট জিহাদ”-এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিডব্লিউ (National Commission for Women) ইতিমধ্যেই চার সদস্যের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি এনএইচআরসি (National Human Rights Commission) মহারাষ্ট্র পুলিশ, শ্রম দফতর টিসিএস কর্তৃপক্ষকে নোটিস জারি করে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।

LinkedIn
Share