Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • US Iran Conflict: ফের বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার! ইরান সফর স্থগিতের পরামর্শ, সতর্কবার্তা তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    US Iran Conflict: ফের বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার! ইরান সফর স্থগিতের পরামর্শ, সতর্কবার্তা তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে ইরান। তাই আপাতত ইরান সফরের পরিকল্পনা স্থগিত রাখাই নিরাপদ। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ইরানের ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আমেরিকার সঙ্গে বাড়তে থাকা সংঘাতের জেরে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত পরামর্শে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে অস্থিরতা ও সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের ইরান সফর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

    ফের বোমাবর্ষণ আমেরিকার

    ইরানে ফের বোমাবর্ষণ শুরু করেছে আমেরিকা। এই নিয়ে টানা ন’দিন তারা ইরানে হামলা চালাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত আমেরিকান সেনার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন। এর আগে ইরানের হামলায় জর্ডনের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। রবিবার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরাকে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে সেই বোমা ফেটে মৃত্যু হয়েছে আরও এক মার্কিন সেনার। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে ১৭ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হল। জখম হয়েছেন ৪২০ জনেরও বেশি। এর পর থেকেই আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই হামলা চলছে, জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড। ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশের একাধিক শহরে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেইনিতে।

    অশান্ত হরমুজ প্রণালী

    সোমবার সকালে একটি বিবৃতি জারি করে পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আমেরিকান সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যাতে কোনও বাণিজ্যিক জাহাজে আর হামলা চালাতে না-পারে, সেই কারণে তাদের ক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে সেখানে নতুন করে আক্রমণ শুরু করা হয়েছে। তবে কোথায় কোথায় বোমা ফেলেছে আমেরিকা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলার বিশদ কোনও বিবরণ মার্কিন সেনাবাহিনী দেয়নি। আমেরিকার হামলার জবাব দিচ্ছে ইরানও। তাদের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী সিরিয়ায় মার্কিন সেনার বিশেষ অভিযানের সদর দফতরে আচমকা হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া, কুয়েতের দু’টি ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানের নিশানায় রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, জর্ডন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি। ইরানে হামলা চালানোর জন্য এই সমস্ত দেশের সেনাঘাঁটিই ব্যবহার করে ওয়াশিংটন।

    দুই তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংসের দাবি

    ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে।

    বাহরিনে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

    ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরিনে মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাসের দাবি, তাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে ইরান বাহরিনের রাজধানী মানামার কিছু জায়গায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। তাই বাহরিনে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ

    ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, যেকোনও উদ্দেশ্যে ইরান ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সফর এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের উপলব্ধ বিমান পরিষেবার মাধ্যমে সাময়িকভাবে দেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। যাঁরা আপাতত ইরানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও সামরিক তৎপরতা চলা এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সব নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসে নাম নথিভুক্ত করার নির্দেশ

    যেসব ভারতীয় এখনও তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের অবিলম্বে তা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশিকা নিয়মিত অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    কেন এই সতর্কতা?

    সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের সেতু, লবণাক্ত জল বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। কুয়েত, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এ ধরনের একাধিক হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এর আগেই ভারত সরকারের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ভারতীয় নাবিকদের হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজে না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে সংঘটিত হামলায় অন্তত ১৪ জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিহত ভারতীয় নাবিক—সংখ্যা ৯। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই ভারত সরকার ও তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

     

     

     

  • High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে (High Court) বড় ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। ইডির ফ্রিজ করা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সোমবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। ফলে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) আপাতত ফ্রিজ অবস্থাতেই থাকবে।

    ৪৪০ কোটি টাকার তিন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

    ইডি (ED) তৃণমূলের যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) ফ্রিজ করেছে, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। এই অর্থ দলীয় সাংগঠনিক কাজ এবং দৈনন্দিন খরচে ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে আদালতের (High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি, ইডির সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদনও জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।

    আগের নির্দেশই বহাল

    ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলির অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশ মেনেই চলতে হবে। ইডির সিদ্ধান্তে এই মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

    স্পেশ্যাল অফিসারের তত্ত্বাবধানে চলবে অ্যাকাউন্ট

    এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। আদালত একজন স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করে জানায়, তাঁর তত্ত্বাবধানেই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালিত হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু’জনের স্বাক্ষর করা চেকে স্পেশ্যাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষর থাকলেই ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তোলা যাবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেশ্যাল অফিসার অ্যাকাউন্টগুলির দায়িত্বে থাকবেন।

    ভেঙে খান-খান তৃণমূল

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে। দলের একাধিক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনাস্থা জানিয়ে পৃথক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আলাদা হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল। পাশাপাশি, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদও এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং নির্বাচনী প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে বিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং সংগঠন নিয়ে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই এই মামলার শুনানি ঘিরে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। সোমবারের নির্দেশে স্পষ্ট, আপাতত ইডির ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে নতুন কোনও নির্দেশ আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

  • India China Border Surveillance: গালওয়ানের পর বড় প্রস্তুতি! লাদাখ থেকে অরুণাচল— চিন-সীমান্ত জুড়ে নজরদারির বিশাল জাল গড়ছে ভারত

    India China Border Surveillance: গালওয়ানের পর বড় প্রস্তুতি! লাদাখ থেকে অরুণাচল— চিন-সীমান্ত জুড়ে নজরদারির বিশাল জাল গড়ছে ভারত

    ভারত-চিন সীমান্তে (LAC) শক্তি প্রদর্শনের প্রসঙ্গ উঠলেই সাধারণত সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথাই সামনে আসে। কিন্তু এর আড়ালেই নীরবে গড়ে উঠছে আরও বড় একটি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হিমালয় জুড়ে অত্যাধুনিক সেন্সর, রেডার, সামরিক স্যাটেলাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সীমান্ত সংঘাতে শুধু অস্ত্রের শক্তি নয়, বরং কে আগে শত্রুকে শনাক্ত করতে পারবে, সেটাই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ফলাফল। সেই লক্ষ্যেই ভারত ধাপে ধাপে গড়ে তুলছে একটি বহুস্তরীয় নজরদারি নেটওয়ার্ক।

    গালওয়ান সংঘর্ষের পর বদলে যায় কৌশল

    ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই সীমান্তে নজরদারি ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। একই সময়ে চিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড তিব্বত ও জিনজিয়াং অঞ্চলে নতুন বিমানঘাঁটি, ড্রোন বেস, শক্তিশালী সামরিক বাঙ্কার এবং অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত বাড়ায়। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু টহল বা যুদ্ধবিমানের উপর নির্ভর না করে ‘সেন্সর ডমিন্যান্স’ বা সর্বব্যাপী নজরদারির কৌশল গ্রহণ করেছে। লক্ষ্য একটাই— চিনের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ড্রোন, হেলিকপ্টার কিংবা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তের দিকে এগোনোর আগেই তা শনাক্ত করা।

    হিমালয়ের চ্যালেঞ্জ: পর্বতই সবচেয়ে বড় বাধা

    হিমালয়ের বিশাল পাহাড়, গভীর উপত্যকা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি রেডারের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। পর্বতের আড়ালে নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা বিমান বা ড্রোন অনেক সময় প্রচলিত রেডারের চোখ এড়িয়ে যায়। অর্থাৎ, একটি ব্লাইন্ডস্পট তৈরি হয়। একে বলা হয় ‘রেডার শ্যাডো’। এই সমস্যা কাটাতে ভারত বহুস্তরীয় সেন্সর নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, যেখানে একটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা অন্য ব্যবস্থা পূরণ করবে।

    প্রথম স্তর: মহাকাশ থেকেই নজরদারি

    ভারতের নজরদারি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে সামরিক ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য স্যাটেলাইট—

    • ● কার্টোস্যাট (CARTOSAT) শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটি, রাস্তা ও সামরিক অবকাঠামোর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে।
    • ● রিস্যাট (RISAT) রেডার ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে মেঘ, বৃষ্টি কিংবা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও স্পষ্ট ছবি তুলতে সক্ষম।
    • ● আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট (EOS) সিরিজের স্যাটেলাইট নিয়মিত সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চালায়।
    • ● এমিস্যাট (EMISAT) শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

    আগামী দিনে আরও উন্নত ইলেকট্রনিক ও সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স স্যাটেলাইট যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, বিমানে জ্বালানি ভরার প্রস্তুতি কিংবা সন্দেহজনক সামরিক কার্যকলাপও আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই তথ্য শুধু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সরাসরি ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা সংক্ষেপে আইএসিসিএস (IACCS)-এ পৌঁছবে, ফলে সীমান্তের পরিস্থিতির প্রায় রিয়েল-টাইম ছবি পাবে ভারতীয় সেনা।

    আকাশে ‘চোখ: এইডব্লিউ অ্যান্ড সি ও অ্যাওয়াক্স

    চিনের তিব্বতের উচ্চভূমিতে অবস্থিত বিমানঘাঁটিগুলি তাদের একটি কৌশলগত সুবিধা দেয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত আকাশে মোতায়েন করেছে এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) বিমান।

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রয়েছে—

    • ● নেত্র মার্ক ১ এইডব্লিউ অ্যান্ড সি (Netra Mk1 AEW&C)
    • ● ফ্যালকন অ্যাওয়াক্স (Phalcon AWACS)

    নেত্র মার্ক ১ সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুন মাসে চূড়ান্ত অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স (FOC) অর্জন করেছে। অর্থাৎ, মোতােনের জন্য প্রস্তুত।এছাড়া, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকার নেত্র মার্ক ২ (Netra Mk2) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরিবর্তিত এয়ারবাস এ৩২১ (Airbus A321) বিমানে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মে থাকবে ৩০০ ডিগ্রি কভারেজযুক্ত শক্তিশালী ডরসাল রেডার এবং বিশেষ নোজ অ্যান্টেনা।

    এর প্রধান কাজ হবে—

    • ● স্টেলথ বিমান শনাক্ত করা
    • ● পাহাড়ি উপত্যকার ভিতর নজরদারি চালানো
    • ● স্থলভিত্তিক রেডারের অদেখা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা

    সীমান্তে শক্তিশালী রেডার চেইন

    স্থলভাগে ভারতের নজরদারির ভিত্তি তৈরি করছে মাউন্টেন রেডার নেটওয়ার্ক (Mountain Radar Network)। সম্প্রতি গুলমার্গ এবং নাগাল্যান্ডে বিশেষ মাউন্টেন রেডার স্থাপনের মাধ্যমে পশ্চিম ও পূর্ব—দুই দিকেই নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    • ● গুলমার্গ রেডার লাদাখ ও উত্তর কাশ্মীরের আকাশপথ পর্যবেক্ষণ করে।
    • ● নাগাল্যান্ডের রেডার অরুণাচলমুখী আকাশপথ নজরে রাখে।

    ভবিষ্যতে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশেও একই ধরনের রেডার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    আরূদ্রা ও অশ্বিনী: নজরদারির নতুন ভরসা

    Mountain Radar-এর পাশাপাশি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেডার ব্যবস্থা আরূদ্রা মিডিয়াম পাওয়ার রেডার (Arudhra Medium Power Radar)। আরূদ্রা বা আর্দ্রা হল হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্র এবং এটি ভগবান শিবের একটি অন্যতম পবিত্র নাম।

    এই রেডার—

    • ● একসঙ্গে একাধিক যুদ্ধবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাক করতে পারে।
    • ● সরাসরি আইএসিসিএস-এর সঙ্গে যুক্ত।
    • ● সীমান্তে ওভারল্যাপিং নজরদারি নিশ্চিত করে।

    অন্যদিকে, অশ্বিনী এইএসএ রেডার (Ashwini AESA Radar) অত্যন্ত মোবাইল। সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হলে দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে মোতায়েন করা যায়।

    ড্রোন ও নিচু উচ্চতার হুমকির বিরুদ্ধে বিশেষ নজর

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

    এজন্য ভারত ব্যবহার করছে—

    • ● ভরনী রেডার (Bharani Radar)
    • ● লো-লেভেল লাইটওয়েট রেডার মার্ক-২ (Low-Level Lightweight Radar Mk-II)

    এগুলির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিও যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে পাহাড়ি গিরিপথ দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করা যে কোনও লক্ষ্যবস্তুকে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

    স্টেলথ যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে ‘নিঃশব্দ’ নজরদারি

    সক্রিয় রেডারের পাশাপাশি ভারত গড়ে তুলছে প্যাসিভ সার্ভেল্যান্স নেটওয়ার্ক (Passive Surveillance Network)। এই স্টেশনগুলি কোনও সিগন্যাল পাঠায় না। বরং শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেডার সিগন্যাল ও ইলেকট্রনিক কার্যকলাপ নীরবে পর্যবেক্ষণ করে।এই প্রযুক্তি চিনের জে-২০ (J-20), ভবিষ্যতের জে-৩৫ (J-35) স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং উন্নত ড্রোন শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়া ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি (VHF) ও মাল্টি-ব্যান্ড রেডারের সাহায্যে স্টেলথ বিমানের উপস্থিতির আভাস পেলেই আরও নির্ভুল সেন্সরকে সেই লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করা সম্ভব হবে।

    আইএসিসিএস: পুরো ব্যবস্থার ‘মস্তিষ্ক

    এই বিশাল নজরদারি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হল ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (Integrated Air Command and Control System)। স্যাটেলাইট, রেডার, এইডব্লিউ অ্যান্ড সি বিমান এবং অন্যান্য সেন্সর থেকে আসা সমস্ত তথ্য একত্রিত করে আইএসিসিএস (IACCS) কমান্ডারদের সামনে সীমান্তের একটি একক, লাইভ এবং সমন্বিত ছবি তুলে ধরে।

    এর ফলে—

    • ● দ্রুত হুমকি বিশ্লেষণ সম্ভব হয়।
    • ● মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারসেপ্টর বিমান পাঠানো যায়।
    • ● বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়।

    ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)।

    এআই-ভিত্তিক সিস্টেম—

    • ● সন্দেহজনক উড়ানপথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে।
    • ● অস্বাভাবিক সেনা মোতায়েন চিহ্নিত করবে।
    • ● সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করবে।
    • ● দ্রুততম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেবে।

    ভারতের লক্ষ্য কী?

    চিন তিব্বতের হোতান, লাসা-গংগারসহ একাধিক বিমানঘাঁটিকে শক্তিশালী করে সেখানে স্টেলথ যুদ্ধবিমান, উন্নত ড্রোন এবং আধুনিক অস্ত্র মোতায়েন করছে। এর জবাবে ভারত বিচ্ছিন্ন রেডারের উপর নির্ভর না করে মহাকাশ, আকাশ, স্থল এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম—সব স্তরকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সীমান্ত নিরাপত্তায় এই ‘সেন্সর ওয়েব’ই ভারতের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • FIFA World Cup 2026: তোরেসের শটে দ্বিতীয়বার স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়, চোখের জলে-শূন্য হাতে বিদায় মেসির

    FIFA World Cup 2026: তোরেসের শটে দ্বিতীয়বার স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়, চোখের জলে-শূন্য হাতে বিদায় মেসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামায়ণ-মহাভারত থেকে ইলিয়াড-ওডিসি যে কোনও মহাকাব্যের শেষটা যেন ট্র্যাজেডি দিয়েই বোনা থাকে। চোখের জলেই নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে ওঠেন ম্যাকবেথ বা জুলিয়াস সিজার। সেরকমই মেসি-মহাক্যাবের শেষটাও হল চোখের জলেই। হয়তো গত বারের সুখের স্মৃতি নিয়ে বিদায় নিতে পারতেন তিনি। কিন্তু নিজেকে আরও এক বার চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলেই আমেরিকায় বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু পারলেন না। বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায় সুখের হল না মেসির জন্য। যুব বিশ্বকাপে ভারতে খেলে যাওয়া ফেরান তোরেসের গোলে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ৮৩ হাজার দর্শক। ৭০ শতাংশই আর্জেন্টিনার। তাদের সামনে স্পেন বার বার আক্রমণ করেও আর্জেন্টিনাকে গোল দিতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ছিল গোল শূন্য। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১৬ মিনিটের মাথায় নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে ফেরান তোরেসের শট। জয়সূচক গোল। ওই একটি গোলেই টানা দু’বার বিশ্বকাপ হাতে তোলা হল না লিয়োনেল মেসির। রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে গেল আর্জেন্টিনা।

    সবচেয়ে খারাপ ম্যাচ খেলল আর্জেন্টিনা!

    এ বারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে খারাপ ম্যাচ খেলল আর্জেন্টিনা। বস্তুত, তারা এতটাই খারাপ খেলেছে যে কী করে এই দল ফাইনালে উঠেছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। ১২০ মিনিটের ফুটবলে স্পেনের গোল লক্ষ্য করে একটিও শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। মেসিকে গোটা মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁকে বল পাস করতেই পারেননি সতীর্থেরা। শেষের দিকে তেড়েফুঁড়ে বেশ কয়েক বার আক্রমণ করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১০ জনের দলের পক্ষে সম্ভব ছিল না ওই জায়গা থেকে ম্যাচে ফেরা। বরং একাধিক সুযোগ নষ্ট না করলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান আরও বেশি হতে পারত। এদিন স্পেনের গতির কাছে বারবার পরাস্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা।

    যোগ্য দল হিসেবে জয়ী স্পেন

    বিশ্বকাপ তিনটি নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে এদিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা স্রেফ রক্ষণই করে গেল। স্পেনকে আরও বেশি খেলার সুযোগ করে দিল। আর্জেন্টিনা নিজেদের রক্ষণের ফাঁসে এতটাই ফেঁসে গেল যে স্পেনের কাজ আরও সহজ হয়ে গেল। ফাইনালের পরিসংখ্যান দেখলে আর্জেন্টিনার হতশ্রী দশা আরও স্পষ্ট হবে। স্পেনের ২০টি শটের বদলে আর্জেন্টিনা নিয়েছে মাত্র তিনটি শট। তিনটিই এসেছে শেষের তিন-চার মিনিটে। বল পজেশন স্পেনের ৬৮ শতাংশ, আর্জেন্টিনার ৩২ শতাংশয়। মোট পাস, নিখুঁত পাস, কর্নার— সব বিষয়েই আর্জেন্টিনার থেকে অনেক যোজন এগিয়ে ছিল স্পেন। তাই বিশ্বকাপ যে তারা যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকার কথাই নয়।

    পুরস্কার শূন্য মেসির ঝুলি

    ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারলেও সোনার বল জিতেছিলেন লিয়োনেল মেসি। প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার হয়েছিলেন। কিন্তু এ বার আমেরিকা থেকে খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে। একটিও পুরস্কার পেলেন না মেসি।

    কিলিয়ান এমবাপে (সোনার বুট): চলতি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই সোনার বুট প্রায় পাকা করে নিয়েছিলেন এমবাপে। এ বার ১০টি গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি করেছেন চারটি অ্যাসিস্ট। তাঁর সবচেয়ে কাছে থাকা মেসি আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

    রদ্রি (সোনার বল): এ বার বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হয়েছেন রদ্রি। ফাইনালে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে সেই পুরস্কার নিয়েছেন স্পেনের অধিনায়ক। মিডফিল্ডারেরা সাধারণত এই পুরস্কার খুব বেশি পান না। কিন্তু এ বার রদ্রি গোটা প্রতিযোগিতায় স্পেনকে খেলিয়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সফল পাস দিয়েছেন। রদ্রি ছিলেন বলেই এক সুন্দর ফুটবল খেলেছে স্পেন। তাই রদ্রি যোগ্য হিসাবেই এই পুরস্কার জিতেছেন।

    উনাই সিমন (সোনার গ্লাভস): এই পুরস্কারও আগে থেকেই প্রায় পাকা ছিল। গোটা বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল খেয়েছেন স্পেনের গোলরক্ষক সিমন। তা ছাড়া তাঁকে এক বারও পরাস্ত করতে পারেননি কোনও ফুটবলার। গোটা প্রতিযোগিতায় একটি গোল খাওয়া গোলরক্ষকের হাতেই যে সোনার গ্লাভস উঠবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

    পাউ কুবারসি (সেরা উদীয়মান তারকা): মাত্র ১৯ বছরের এই ফুটবলার স্পেনের রক্ষণ সামলেছেন। তিনি ছিলেন বলে সিমনকেও কম কষ্ট করতে হয়েছে। পাশাপাশি আক্রমণেও বল বাড়িয়েছে কুবারসি। এত অল্প বয়সে যে পরিণত মানসিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তার জন্য বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান তারকা হয়েছেন তিনি।

    পা-এ বলই পেলেন না মেসি

    কেরিয়ারে বিশ্বকাপে প্রচুর ভাল ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে তার কিছু দেখা গিয়েছে। কিন্তু রবিবারের পারফরম্যান্স তার লক্ষ লক্ষ মাইলের মধ্যেও আসবে না। এই ম্যাচে তিনি কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেননি। দলকে কোনও ভাবে সাহায্য করতে পারেননি। দলের বিপদের সময়ের একার হাতে উদ্ধার করতে পারেননি। বহু ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে উতরে দিয়েছেন। কিন্তু এই বয়সে তাঁকে অবিশ্বাস্য কিছু করতে হলে পায়ে বল তো পেতে হবে। সেটাই তো সতীর্থেরা দিতে পারলেন না। প্রথম ২০ মিনিটে মাত্র দু’বার বল পায়ে ঠেকিয়েছিলেন মেসি। গোটা প্রথমার্ধে তাঁর পায়ে বল এসেছে বার চারেক। ৩৯ বছর বয়সে স্বাভাবিক ভাবেই তিনি বেশি দৌড়তে পারবেন না। কিন্তু তাঁর পায়ে বল পৌঁছে দেওয়ার প্রাথমিক কাজটুকুও করতে পারেননি এনজো ফের্নান্দেজ, দি পলেরা।

    অস্তমিত নীল-সাদা

    আকাশের রং নীল-সাদা। লামিনে ইয়ামাল সেদিকেই চেয়ে। ১৮ বছরের তরুণকে ঘিরে কুকুরেয়া, পোরো, রড্রি, পেড্রি এবং বাকিরা। বিড়বিড় করছেন স্প্যানিশ ফুটবলের রাজপুত্ররা। হয়তো ফুটবল দেবতাকে লা রোহার কৃতজ্ঞতা। ততক্ষণে ভালোবাসার অত্যাচারে তিনি বন্দি। স্পেনের লাল-হলুদ পতাকা ঢেকে দিচ্ছে ইয়ামালকে। মহাজাগতিক ফ্রেমে লেপ্টে স্পর্ধা, আবেগ, আদর। পরাস্ত আর্জেন্টিনা। বিশ্বজয়ী স্পেন। ২০১০ সালে স্প্যানিশ ফুটবলের ধ্বজা উড়িয়েছিলেন জাভি, ইনিয়েস্তারা। ফের ২০২৬। স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়। লা রোহার দ্বিতীয়বার কাপ জয়ে নায়ক কে? ফুয়েন্তে ব্রিগেডে সবাই সেরা। তিকি-তাকার মায়াজালে অস্তমিত নীল-সাদা। কাঁদছেন আরেকজনও। লিও মেসি। বিদায়বেলায় চোখের কোন চিকচিকে। তাঁকে ঘিরেই ডে পল, মার্তিনেজ, রোমেরো, নিকো গঞ্জালেজরা।

    কাঁদল সারা বিশ্বের মেসি-প্রেমীরা

    চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জিতে কেঁদেছিলেন। স্বপ্ন পূরণের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। প্রথম বার বিশ্বজয়ের আনন্দে চোখের জল বেরিয়েছিল। কিন্তু এ বার অনেক পরিণত তিনি। ট্রফির স্বাদ পেয়ে গিয়েছেন। সেই জন্যই হয়তো শুরুতে নির্লিপ্ত দেখাচ্ছিল মেসিকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর কিছু ক্ষণ মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোমরে হাত দিয়ে চার দিকে তাকাচ্ছিলেন। তার পর হাত, পা ছড়িয়ে মাঠেই বসে পড়লেন লিয়ো। এগিয়ে এলেন লামিন ইয়ামাল। ফাইনালের আগে যে দু’জনের লড়াইয়ের কথা হচ্ছিল। এই ম্যাচে মেসিকে ছাপিয়ে গিয়েছেন ইয়ামাল। কিন্তু শেষ বেলায় মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেন তিনি। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে ঘুরলেন। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন। তার পর পুরস্কার মঞ্চের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। মেসিকে দেখে মনে হচ্ছিল, যত তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফিরতে পারবেন তত ভাল। মাঠে থাকতেও আর ইচ্ছা করছিল না তাঁর। কিন্তু তখনই মেসির নামে জয়ধ্বনি উঠল মাঠে। সমর্থকেরা তাঁদের প্রিয় তারকাকে ধন্যবাদ জানালেন। সেই জয়ধ্বনি শুনে আর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না মেসি। কেঁদে ফেললেন। কাঁদল সারা বিশ্বের মেসি-প্রেমীরা। চোখের জলেই নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে ওঠেন ম্যাকবেথ, জুলিয়াস সিজার। মেসি-তো মহানায়কই, তাই বিদায়টাও চোখের জলেই।

  • Amit Shah At WB: সীমান্তে কড়া বার্তা, কলকাতায় মেগা বৈঠক! নিরাপত্তা-উন্নয়ন-বিনিয়োগে বাংলাকে শাহি বার্তা

    Amit Shah At WB: সীমান্তে কড়া বার্তা, কলকাতায় মেগা বৈঠক! নিরাপত্তা-উন্নয়ন-বিনিয়োগে বাংলাকে শাহি বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের কৌশলগত সীমান্ত এলাকা ‘চিকেনস নেক’ পরিদর্শন থেকে কলকাতার প্রশাসনিক বৈঠক, দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক জাদুঘর ‘শব্দলোকে’র উদ্বোধন থেকে নতুন শিল্প প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর—তিন দিনের বঙ্গ সফরে (Amit Shah At WB) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সমন্বয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিল্প বিনিয়োগ—এই চারটি বিষয়ই তাঁর সফরের মূল বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে।

    কলকাতায় হাইভোল্টেজ প্রশাসনিক বৈঠক

    কলকাতায় পৌঁছনোর পর আলিপুরের ‘সৌজন্য’য় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন শাহ (Amit Shah)। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), সিবিআই, এনআইএ, সিআরপিএফ, বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ, সংগঠিত অপরাধ দমন, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হলে তবেই শিল্প ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিস্থিতি গড়ে উঠবে- এই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    উদ্বোধন ‘শব্দলোকে’র

    বৈঠক শেষে শাহ (Amit Shah) পৌঁছন কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরির বেলভেডিয়ার হাউসে। সেখানেই উদ্বোধন হয় দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’ বা ‘শব্দলোকে’র প্রথম পর্যায়। এই জাদুঘরে ভারতের ২২টি ভাষার বিবর্তন ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। ন’টি গ্যালারিতে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, তাম্রলিপি, মৌখিক ঐতিহ্য, মুদ্রিত বই এবং আধুনিক ডিজিটাল ভাষা প্রযুক্তির ইতিহাস প্রদর্শিত হচ্ছে। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৪১ কোটি টাকা।

    নিউটাউনে আমুল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর

    কলকাতার কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে আমূলের নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। এই প্রকল্প চালু হলে দুগ্ধ শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, কৃষক ও পশুপালকদের আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে। কোল্ড-চেন পরিকাঠামো ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিকাশেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে শিল্পমহল। রবিবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মনোজ অগারওয়াল-সহ অন্যান্যরা।

    উল্লেখ্য, কলকাতার কর্মসূচির আগে উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ এলাকা পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ রোধ, চোরাচালান বন্ধ এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন শাহ (Amit Shah)। উত্তরবঙ্গ সফরে শিলিগুড়িতে দলীয় সাংসদ, বিধায়ক ও কোর কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে সংগঠন মজবুত করতেও বৈঠক করেছিলেন তিনি।

    সফরের তাৎপর্য

    শাহের (Amit Shah) এই বঙ্গ সফরে নিরাপত্তা, প্রশাসন, সংস্কৃতি ও শিল্প- সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে কড়া নজরদারি থেকে শুরু করে ভাষার ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগের বার্তা- সব মিলিয়ে এই সফরকে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বিত রূপরেখা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

  • Ram Mandir CEO: রাম মন্দিরের সিইও পদে ২,৩৫৭ আবেদন! দৌড়ে প্রাক্তন আইএএস-আইপিএস, সেনা আধিকারিক থেকে সিএ-রা-ও 

    Ram Mandir CEO: রাম মন্দিরের সিইও পদে ২,৩৫৭ আবেদন! দৌড়ে প্রাক্তন আইএএস-আইপিএস, সেনা আধিকারিক থেকে সিএ-রা-ও 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক (Ram Mandir CEO) পদে নিয়োগের জন্য জমা পড়েছে ২,৩৫৭টি আবেদনপত্র। আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস, আইপিএস আধিকারিক, সেনার প্রাক্তন কর্মী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) এবং সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। ১৮ জুলাই ছিল আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এবার শুরু হয়েছে আবেদনপত্র যাচাইয়ের কাজ। যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নিতে তৈরি হয়েছে তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি।

    কারা রয়েছেন কমিটিতে?

    মন্দিরের প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক (Ram Mandir CEO) নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিন সদস্যের কমিটিকে। কমিটিতে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী ও সুরেশ হাওয়ারে। এই কমিটি আবেদনগুলি খতিয়ে দেখবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রার্থীর সততা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে জ্ঞানও যাচাই করা হবে।

    কীভাবে হবে নিয়োগ (Ram Mandir CEO)?

    প্রথম ধাপে আবেদনপত্র বাছাই করা হবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের ডাকা হবে সাক্ষাৎকারে। সেখান থেকে তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে ট্রাস্টের কাছে পাঠাবে নির্বাচন কমিটি। শেষ পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে একজনকে সিইও হিসেবে নিয়োগ করা হবে। জানা গিয়েছে, আবেদনপত্র যাচাইয়ের জন্য একজন সিনিয়র সচিব পর্যায়ের আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সিইও-র হাতে থাকবে বড় দায়িত্ব

    নতুন সিইও-র দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক কাজ দেখাই নয়, রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) পুরো ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করা। তাঁকে ট্রাস্ট, সরকারি দফতর, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন কমিটির মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে- মন্দিরের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা, ভক্তদের পরিষেবা উন্নত করা, নিরাপত্তা ও কর্মী ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা।

    যোগ্যতা 

    ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিইও পদের জন্য প্রার্থীর বয়স হতে হবে ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। থাকতে হবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রি এবং বড় প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর বা সংস্থায় অন্তত ২০ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। প্রশাসন, অর্থ, হিসাবরক্ষণ, মানবসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং জনসংযোগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মন্দির বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    ২২ জুলাই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    সিইও নিয়োগের পাশাপাশি ট্রাস্টের বিভিন্ন কমিটিতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিষয়ে আলোচনা করতে ২২ জুলাই ট্রাস্টের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

    দান চুরিকাণ্ডের পর বাড়ছে সংস্কারের গতি

    রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) প্রণামীর টাকা চুরি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয় এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। তদন্তে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ৭৯.৮৫ লক্ষ টাকা উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এরপর থেকেই মন্দির পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিইও নিয়োগ সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।

  • Panama Foreign Minister visit India: ভারত সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে হাই-প্রোফাইল বৈঠক নয়াদিল্লিতে

    Panama Foreign Minister visit India: ভারত সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে হাই-প্রোফাইল বৈঠক নয়াদিল্লিতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে ভারতে পানামার বিদেশমন্ত্রী (Panama Foreign Minister visit India) হাভিয়ের এদুয়ার্দো মার্তিনেজ-আচা ভাসকুয়েজ (Javier Eduardo Martinez-Acha Vasquez)। রবিবার ভোরে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী মিরেয়া পারিস দে মার্তিনেজ আচা-ও। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, ভারত ও পানামার মধ্যে অংশীদারিত্ব অত্যন্ত দৃঢ়, যা অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক স্বার্থ এবং শুভেচ্ছার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই সফর দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে (India-Panama Relationship) এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কী কী কর্মসূচি রয়েছে পানামার বিদেশমন্ত্রীর?

    বিদেশমন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, পাঁচ দিনের এই সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী (Panama Foreign Minister visit India) একাধিক হাই-প্রোফাইল বৈঠক করবেন।

    ২০ জুলাই (সোমবার): বিকেলে নয়া সংসদ ভবনে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিই হবে এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন হাভিয়ের মার্তিনেজ-আচা ভাসকুয়েজ। সেখানে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এবং যৌথ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

    ২১ জুলাই (মঙ্গলবার): এই দিনে দিল্লিতে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সরকারি কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে পানামার বিদেশমন্ত্রীর।

    ২২ জুলাই (বুধবার): ট্রান্সপোর্ট ভবনে ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন পানামার বিদেশমন্ত্রী। সমুদ্র বাণিজ্য এবং লজিস্টিকস ক্ষেত্রে দুই দেশের কাজের পরিধি বাড়াতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

    ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার): পাঁচ দিনের সফর শেষ করে দুপুর ১২:৩৫ নাগাদ দিল্লির বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

    এই বছরের শুরুতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF 2026) সাইডলাইনে ভারতের পক্ষ থেকে পানামার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি (Clean Energy) এবং টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। বর্তমান সফরটি সেই আলোচনার সূত্র ধরেই দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে (India-Panama Relationship) আরও গতিশীল করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • PV Sindhu: ফিনিক্সের মতো ঘুরে দাঁড়ালেন সিন্ধু! ইয়ামাগুচিকে হারিয়ে দীর্ঘ ট্রফির খরা ঘুচল ভারতের শাটলারের

    PV Sindhu: ফিনিক্সের মতো ঘুরে দাঁড়ালেন সিন্ধু! ইয়ামাগুচিকে হারিয়ে দীর্ঘ ট্রফির খরা ঘুচল ভারতের শাটলারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের জন্য এক সোনালী রবিবার! সমস্ত সংশয়, সমালোচনা আর চোট-আঘাতের কালো মেঘ সরিয়ে ফের একবার বিশ্বমঞ্চে জ্বলে উঠলেন ভারতের সোনার মেয়ে পিভি সিন্ধু (PV Sindhu)। টোকিওর মেট্রোপলিটন জিমনেসিয়ামে আয়োজিত জাপান ওপেন ২০২৬ (Japan Open 2026)-এর ফাইনালে স্বাগতিক দেশের ফেভারিট তারকা আকানে ইয়ামাগুচিকে স্ট্রেট গেমে উড়িয়ে দিলেন তিনি। খেলার ফল সিন্ধুর পক্ষে ২১-১৭, ২১-১৭। এই ঐতিহাসিক জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম ভারতীয় শাটলার হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ জাপান ওপেন (Japan Open 2026) জয়ের রেকর্ড গড়লেন ৩১ বছর বয়সী সিন্ধু। এটি তাঁর কেরিয়ারের প্রথম ‘সুপার ৭৫০’ খেতাবও বটে।

    কোর্টে চেনা আগ্রাসন ও ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস

    গত কয়েক বছর ধরে সিন্ধুর (PV Sindhu) ফর্ম এবং চোট নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। ২০২৪ সালের সৈয়দ মোদি ইন্টারন্যাশনালের পর আর কোনও বড় ট্রফি আসেনি তাঁর ঝুলিতে। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী সিন্ধুর সেরা সময় বুঝি শেষ। কিন্তু ফাইনালে সিন্ধু বুঝিয়ে দিলেন-  “ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।”

    প্রথম গেম: ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিশ্বের ৩ নম্বর তারকা ইয়ামাগুচির বিরুদ্ধে সিন্ধু তাঁর চেনা আগ্রাসী মেজাজে ধরা দেন। জোরালো ক্রস-কোর্ট ড্রপ এবং নিখুঁত স্ম্যাশের সংমিশ্রণে ইয়ামাগুচির রিদম ভেঙে দেন তিনি। স্কোর যখন সমান-সমান, ঠিক তখনই স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে ২১-১৭ ব্যবধানে প্রথম গেম পকেটে পুরে নেন ভারতীয় তারকা।

    দ্বিতীয় গেম: প্রথম গেম জয়ের আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গেমে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন সিন্ধু  (PV Sindhu)। ইয়ামাগুচিকে কোনও সুযোগ না দিয়েই নেটের খেলায় দুর্দান্ত ডিফেন্সের নমুনা দেখান। ঘরের মাঠের দর্শকদের সমর্থনে ইয়ামাগুচি ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করলেও, ২০১৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সেই অপ্রতিরোধ্য সিন্ধুর ছায়া দেখা গেল রবিবারের টোকিওতে। মাথা ঠান্ডা রেখে ২১-১৭ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম ও ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি। ২০১৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর এটিই সিন্ধুর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ জয়। এই জয় যেন বিশ্ব ব্যাডমিন্টনকে এক হুঙ্কার দিয়ে জানিয়ে দিল-সিন্ধু ফুরিয়ে যাননি, তিনি ফিরে এসেছেন রাজার মতোই।

    ভারতীয় ক্রীড়াজগতের নতুন রূপকথা

    সিন্ধুর (PV Sindhu) এই জয় কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি সামগ্রিকভাবে ভারতীয় খেলাধুলার এক বিশাল জয়। বিশ্বমঞ্চে ভারতের তেরঙা উড়িয়ে যেভাবে তিনি ইতিহাস লিখলেন, তা কোটি কোটি ভারতীয়কে গর্বিত করেছে। ক্রিকেটপ্রেমী এই দেশে ব্যাডমিন্টনকে যেভাবে সিন্ধু ও তাঁর সমসাময়িকরা জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছেন, এই জয় সেই ধারাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন শুধুই সিন্ধুর বন্দনা, চারিদিকে ভারতের এই জয়জয়কার প্রমাণ করে দেয় যে বৈশ্বিক ক্রীড়া মানচিত্রে ভারত এখন পরাশক্তি।

    পিভি সিন্ধুর (PV Sindhu) গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস

    ভারতের হায়দরাবাদে ১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া পুসারলা ভেঙ্কট সিন্ধু (পিভি সিন্ধু) আজ ভারতীয় খেলাধুলার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর বাবা-মা দুজনেই জাতীয় স্তরের ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন, তবে সিন্ধু বেছে নেন ব্যাডমিন্টনকে। কিংবদন্তি পুলেল্লা গোপীচাঁদের অ্যাকাডেমিতে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা পাকা করেন তিনি। তিনি ভারতের প্রথম মহিলা ক্রীড়াবিদ যিনি অলিম্পিকে দুটি ব্যক্তিগত পদক জিতেছেন। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে রৌপ্য পদক এবং ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জয়। ২০১৯ সালে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েন। এই প্রতিযোগিতায় তাঁর মোট ৫টি পদক রয়েছে (১টি সোনা, ২টি রুপো, ২টি ব্রোঞ্জ)। ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে একক প্রতিযোগিতায় সোনা জয় এবং এশিয়ান গেমসে একাধিক পদক রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভারতের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান ‘খেলরত্ন’, এছাড়া ‘পদ্মশ্রী’ এবং ‘পদ্মভূষণে’র মতো অসামরিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। চোট আঘাতের ধাক্কা কাটিয়ে ৩১ বছর বয়সে এসেও যেভাবে তিনি তরুণ তুর্কীদের হারিয়ে ট্রফি জিতছেন, তা আগামী প্রজন্মের ভারতীয় অ্যাথলিটদের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

  • US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত ইরান-আমেরিকা সংঘাত (US-Iran War)। ক্রমশ জোরালো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। জর্ডনে ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় খেপে ছিল ওয়াশিংটন। তারই জেরে শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিমান হামলা চালাল আমেরিকা। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতেই এই অতর্কিত হামলা বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি।

    প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ওয়াশিংটন (US-Iran War)

    গত শুক্রবার জর্ডনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন, চারজন গুরুতর জখম হন। একজন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এর ঠিক পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তি’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। ফলস্বরূপ, রবিবারের এই ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলা।

    অকেজো শান্তি চুক্তি, প্রচ্ছন্ন হুমকি মোজতবা খামেনেইর!

    আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে ‘ক্ষমার অযোগ্য শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, মাত্র এক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটিও ইরান বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা চুক্তি ভঙ্গ করায় ইরান আর কোনও শর্ত মানতে বাধ্য নয়।

    ইরাক- কুয়েতেও যুদ্ধের আঁচ

    আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাতের (US-Iran War) রেশ আছড়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। ইরাকের ইরবিল অঞ্চলে কুর্দিশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। অন্যদিকে, কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল শোধন প্ল্যান্ট (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) এবং তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর ফলে কুয়েতে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কুয়েত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং জর্ডন ও সৌদি আরবও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।

    বিপাকে বিশ্ব অর্থনীতি

    হরমুজ প্রণালী (Hormuz) দিয়ে সারা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই প্রণালীর দখল নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের (US-Iran War) ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা। অসামরিক পরিকাঠামো এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলির জোট (GCC) ইরানকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে দায়ী করেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন এক সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে চলেছে, যা পুরো বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

LinkedIn
Share