Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Submarine Hunter INS Malvan: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন স্টেলথ ‘সাবমেরিন হান্টার’, কতটা ভয়ঙ্কর আইএনএস মালভান?

    Submarine Hunter INS Malvan: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন স্টেলথ ‘সাবমেরিন হান্টার’, কতটা ভয়ঙ্কর আইএনএস মালভান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার শক্তি আরও এক ধাপ বাড়িয়ে বুধবার (২২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীতে কমিশন বা অন্তর্ভুক্ত হল ‘আইএনএস মালভান’ (INS Malvan)। এটি মাহে-ক্লাসের (Mahe-class) অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওাটার ক্র্যাফট (ASW-SWC) সিরিজের দ্বিতীয় স্টেলথ যুদ্ধজাহাজ। শত্রুপক্ষের সাবমেরিন খুঁজে বের করে ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজে রয়েছে ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম, যা আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং-এর উপস্থিতিতে জাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম নৌ-কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাত্সায়নও।

    কেন বিশেষ আইএনএস মালভান?

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ‘সাবমেরিন হান্টার’ আইএনএস মালভান আকারে ছোট হলেও যুদ্ধক্ষমতায় অত্যন্ত শক্তিশালী। উপকূলীয় ও অগভীর জলসীমায় দ্রুত অভিযান চালানো, শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত করা এবং দীর্ঘ সময় নজরদারি চালানোর জন্যই এটি বিশেষভাবে তৈরি। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজটি ‘‘ক্ষিপ্র, নিখুঁত এবং দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের উপযোগী’’, যা অগভীর জলসীমায় ভারতের আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    শত্রুর সাবমেরিনের জন্য কেন ভয়ঙ্কর?

    আইএনএস মালভান-এর প্রধান কাজ অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (ASW)। উপকূলীয় অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত করে দ্রুত আক্রমণ চালানোর জন্য এতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সর বসানো হয়েছে।

    জাহাজের প্রধান অস্ত্রসম্ভার—

    • ● আরবিইউ-৬০০০ (RBU-6000) অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার
    • ● দুই পাশে ৩২৪ মিমি ট্রিপল লাইটওয়েট টর্পিডো টিউব
    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন মাইন বসানোর ব্যবস্থা
    • ● টর্পিডো ডিকয় লঞ্চারসহ ইন্টিগ্রেটেড অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ডিফেন্স স্যুট
    • ● ৩০ মিমি নৌ-কামান
    • ● দুটি ১২.৭ মিমি স্ট্যাবিলাইজড রিমোট-কন্ট্রোলড গান

    এছাড়াও জাহাজটি লো-ইন্টেনসিটি মেরিটাইম অপারেশনস্ বা সংক্ষেপে লিমো (LIMO) এবং মাইন ওয়ারফেয়ার-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম।

    উপকূলীয় যুদ্ধে বিশেষভাবে কার্যকর

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলের অগভীর জলসীমায় শত্রুপক্ষের সাবমেরিন সহজে লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই ধরনের লিটোরাল (Littoral) বা অগভীর অঞ্চলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে ছোট, দ্রুতগামী এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজন হয়। আইএনএস মালভান ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই তৈরি।

    আইএনএস মালভান-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য

    মাহে-ক্লাস যুদ্ধজাহাজে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি স্টেলথ ডিজাইনও ব্যবহার করা হয়েছে।

    প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● দৈর্ঘ্য: প্রায় ৭৮–৮০ মিটার
    • ● ওজন (ডিসপ্লেসমেন্ট): প্রায় ৯০০–১,১০০ টন
    • ● সর্বোচ্চ গতি: ২৫ নট
    • ● অপারেশনাল রেঞ্জ: ১,৮০০ নটিক্যাল মাইল (১৪ নট গতিতে)
    • ● সমুদ্রে টানা থাকার ক্ষমতা: ১৪ দিন
    • ● ইঞ্জিন: তিনটি ৬ মেগাওয়াট মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন
    • ● প্রোপালশন: ওয়াটার জেট/পাম্প-জেট প্রোপালশন, যা ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রয়োগগুলির একটি

    জাহাজটিতে স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এর রেডার, শব্দ এবং ইনফ্রারেড সিগনেচার অনেক কম থাকে। ফলে শত্রুর পক্ষে এটি শনাক্ত করা কঠিন।

    দেশীয় প্রযুক্তির বড় সাফল্য

    আইএনএস মালভানে ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজটির নির্মাণ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), মহীন্দ্রা ডিফেন্স সিস্টেমস এবং লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-সহ একাধিক ভারতীয় সংস্থা। কোচিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত মাহে-ক্লাসের মোট আটটি যুদ্ধজাহাজ ধাপে ধাপে অগাস্ট ২০২৫ থেকে জুন ২০২৮-এর মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    নামের পিছনে রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    ‘মালভান’ নামটি নেওয়া হয়েছে মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক উপকূলীয় শহর মালভান থেকে, যার সঙ্গে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের সমুদ্র প্রতিরক্ষার ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি, ২০০৩ সাল পর্যন্ত নৌবাহিনীতে কর্মরত পুরনো আইএনএস মালভান-এর ঐতিহ্যও এই নতুন যুদ্ধজাহাজ বহন করবে। কমিশনিংয়ের আগে ভারতীয় নৌবাহিনী সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জাহাজটির ক্রেস্টও প্রকাশ করেছে। সেখানে শিবাজির বিখ্যাত ‘বাঘ নখ’ (Bagh Nakha)-কে সাহস, ক্ষিপ্রতা এবং দুর্ধর্ষ মনোভাবের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ক্রেস্টে রয়েছে ‘Silent Claws’ মন্ত্র, আর নৌবাহিনীর বার্তা— ‘Silent. Swift. Lethal.’ ভারতীয় নৌবাহিনীর নতুন এই ‘সাবমেরিন হান্টার’ শুধু একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, স্টেলথ সক্ষমতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ভারতের ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরতারও শক্তিশালী প্রতীক।

  • 7th Pay Commission: আগামী মার্চের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন! মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে নয়া বেতন কাঠামো

    7th Pay Commission: আগামী মার্চের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন! মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে নয়া বেতন কাঠামো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) চালুর চেষ্টা করবে রাজ্য। সেই হিসেবে আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই তা চালু হতে পারে। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on DA)। রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একুশে জুলাইয়েই বড়সড় ঘোষণা রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর। সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেছেন, একলপ্তে ৪২ শতাংশ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ১০ শতাংশ — কোনওটাই দেওয়া হয়নি, হিসেব করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ তৈরি হয়েছে। তা চূড়ান্ত হলে শীঘ্রই কমিশন গঠন করা হবে।

    কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার কাজ আগের সরকার শুরু করেছিল। আমি আরও অনেকটা দিয়ে দিয়েছি। বাকি রয়েছে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের, সেটা আমরা দিয়ে দেব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘২০ শতাংশ ডিএ আগেই বাজেটে ঘোষণা হয়েছে। অক্টোবর মাস, পুজোর মাসেই অগ্রিম বেতন পাবেন। তখনই পেয়ে যাবেন ২০ শতাংশ ডিএ। এসেই গেল‌ সময়। নকিং দ্য ডোর।’’ অর্থাৎ, আগামী অক্টোবর মাসেই, উৎসবের আগে সরকারি কর্মীদের বেতনের সঙ্গে ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ যোগ হবে।

    পুরনো লড়াইয়ের প্রসঙ্গ

    পুরনো লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে অভিরূপ সরকারের কমিটি হয়। আমি ২০১৬-তে মন্ত্রী হই। ২০১৯-এ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী বলছেন কমিশনের রিপোর্ট তৈরি নেই। আমি বলেছিলাম, অর্থমন্ত্রী ভুল বলছেন, কমিশনের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করুন। আমার সামনেই জিজ্ঞাসা করা হয়, আর তখন কমিশনার জানান অর্থমন্ত্রী রিপোর্ট জমা দিতে বারণ করেছেন, কারণ টাকা নেই। আমি বলি, এটা দিয়ে দিন। সেই ২০২০-তে আপনারা ষষ্ঠ পে কমিশন পান। তবে ডিএ তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই হয়, তাতে আমারও একটা ছোটখাটো ভূমিকা ছিল। যাঁরা থার্ড পার্টির মাধ্যমে টাকা পান, তাঁদের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।’

    সরকারি কর্মীদের পাশে রাজ্য সরকার

    পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে বেতন কমিশন এবং ডিএ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। এর ফলে সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ দিনের অন্যতম প্রধান দাবি ডিএ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। সেই ঘোষণার পর ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

    সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বা কাজের পরিধি ও দায়িত্বের খসড়া ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। সেই ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ চূড়ান্ত হলেই দ্রুত সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। এর পর কমিশন তার কাজ শুরু করবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন চালুর চেষ্টা করছে তাঁর সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    কীভাবে নতুন বেতন কাঠামো

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করতে পারে সপ্তম বেতন কমিশন। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) কার্যকর করার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।

    বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় বার্তা

    ডিএ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে সব মিলিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান এখনও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, সেই ব্যবধান একবারে নয়, ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, সেটিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

    বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা

    দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং নতুন বেতন কমিশন গঠনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন। শুভেন্দুর সরকার ক্ষমতায় এসেই কর্মচারীদের সেই ক্ষোভে প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। ডিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের গ্যাপ ধীরে ধীরে মেটাব। আপনারা ভেবেছিলেন হয়তো একলপ্তে ৪২ শতাংশ দিয়ে দেব। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবার ১০ শতাংশের কথাও বলা হচ্ছিল। ৪২ বা ১০ — কোনওটাই দিইনি, হিসেব করে দিয়েছি। আগামী দিনে বাকিটা মেকআপ করে দেব।’ বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দফতরে ভয়ভীতি কাটিয়ে মন খুলে কাজ করুন।’ মঙ্গলবার করুণাময়ীতে বিদ্যুৎ দফতরে এক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই কর্মসূচিতেই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য নয়া কমিশন নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করেছেন তিনি।

  • 21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলের ছোঁয়া ২১-এও। ২১ জুলাই কলকাতায় এবার পরিবর্তনের ছবি। গত ১৫ বছর ধরে ২১ জুলাই এক অঘোষিত ছুটির চেহারা নিয়েছিল। জেলা থেকে কলকাতায় আসত সমর্থক বোঝাই বাস। আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা। মঞ্চে থাকতেন প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রী থেকে তারকারা। আর এবার অন্য ছবি। খণ্ডবিখণ্ড তৃণমূল। তিন শিবির আলাদা করে ২১ জুলাই পালন করেছে। ক্যাথিড্রাল রোডে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সমাবেশ করেছে। মেয়ো রোডে ২১ জুলাই পালন করছে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। শহিদ মিনার চত্বরে ২১ জুলাই পালন করছে কংগ্রেসও। চার দিকে ২১ জুলাই পালন হচ্ছে, অথচ ভিড়-যানজটের সেই চেনা ছবি উধাও।

    কোথায় গেল মমতার ২১-এ জুলাই!

    কলকাতার কোনও রাস্তাতেই এদিন ২১ জুলাইয়ের ভিড় কার্যত ছিল না। ট্রেন, বাস, ট্রাম, মেট্রো- কোথাও চোখে পড়ছে না অতিরিক্ত ভিড়। ২১ জুলাইয়ের সভাস্থল ছাড়া কার্যত কোথাও নেই তৃণমূলের পতাকা। হাওড়া-শিয়ালদা স্টেশনেও অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। হাওড়ার ফেরিঘাটেও ২১ জুলাইয়ের জন্য় আলাদা চাপ নেই । কলকাতা থেকে জেলা, ২১ জুলাইয়ের উন্মাদনা ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোন সভায় যাবেন তা নিয়ে বিভ্রান্ত ছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক।

    রাজনীতির হাতিয়ার ২১ জুলাই!

    ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযান করেছিলেন কংগ্রেসের তৎকালীন যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। মিছিলের উপর গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু কর্মী-সমর্থক আসতেন শহরে। সেই উপলক্ষে কার্যত ভিড়ে থিকথিক করত শহর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হত। কিন্তু, এবার আর সেই চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে না। আসলে সর্বদাই ২১ জুলাইকে হাতিয়ার করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ পরিবারগুলো আখেড়ে কিছুই পায়নি।

    শহিদ পরিবারগুলি উপেক্ষিত

    প্রতি বছর ২১ জুলাই পালন করেচে তৃণমূল কিন্তু প্রায় এক যুগ পরে রাজ্যের বিজেপি সরকার প্রকাশ্যে আনে ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট। ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনটি গঠন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দু’বছর পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে কমিশন তার চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে। কিন্তু ১৯৯৩ সালের ওই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি মমতার সরকার। সোমবার তা বিধানসভায় পেশ করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ করলেন, ‘‘২১ জুলাইয়ের আবেগ ও শহিদদের রক্তকে ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাজনৈতিক আখের গুছিয়েছেন, কিন্তু শহিদ পরিবারগুলি আজ চরম উপেক্ষিত।’’

    দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতার

    ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যেতে চান, তাঁদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘যাদের যাওয়ার, তারা বিজেপিতে যান। বিজেপির পাশবালিশ হয়ে না থেকে সরাসরি বিজেপি করুন।’’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঋতব্রতদের (Ritbrata Banerjee) এক্সপায়ারি ডেট বেঁধে দিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৯ সালই ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের এক্সপায়ারি ডেট। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে, বিড়লা তারামণ্ডলের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কল্যাণের (Kalyan Attacks Ritabrata) স্পষ্ট বার্তা, মমতা ছাড়া তৃণমূল হয় না। কর্মীরাই আগামী দিনে নেতা তৈরি করবে।

    এবার মমতা-কল্যাণ বাদানুবাদ

    তবে নিজের বক্তৃতা শেষ করেই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেমে সটান বাড়ি চলে গেলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা শোনার জন্যও অপেক্ষা করলেন না। কালীঘাটপন্থীদের একটি সূত্র বলছে, নেত্রী সংক্ষেপে বক্তৃতা শেষ করার নির্দেশ দিলেও কানে তোলেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ। প্রায় সাড়ে ২২ মিনিট বক্তৃতা করেছেন। তার জেরে তালিকায় থাকলেও বাদ পড়তে হয়েছে কয়েক জন সাংসদ-বক্তাকে। তা নিয়েই ‘কথা কাটাকাটি’ হয়েছে নেত্রীর সঙ্গে। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান নেত্রীর অনুগত বলে পরিচিত কল্যাণ। পরে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণেই মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। বাদানুবাদের কোনও প্রশ্নই নেই।

    শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক অনুদানের ঘোষণা ঋতব্রতের

    এদিন মেয়ো রোডের সভায় ঋতব্রত বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের স্বীকৃতি দেয়, তা হলে পার্টির এই যে বিপুল টাকা, সেই টাকা থেকে ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারদের প্রতি মাসে আমরা ১০ হাজার টাকা করে দেব।” একই সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সংযোজন, “তৃণমূলের যে টাকা, বছরে তার সুদই হয় ১০০০ কোটি টাকা। সেই টাকা কোথায় গেল?” ঋতব্রতের দাবি, বিজেপির সঙ্গে সেটিং করে সংসদে একের পর এক বিল পাস করাতে তৃণমূল সাহায্য করেছে। ২১ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট কেন এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি, সেই প্রশ্নও তোলেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা)-র কাছে জানতে চাই, দিদি কেন এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না? কী বাধা ছিল? কাদের বাঁচানোর ছিল?”

  • India-UK CETA: ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বড় সুযোগ! শুল্কমুক্ত প্রবেশে টেক্সটাইল রফতানিতে বাড়তে পারে ১.৬ বিলিয়ন ডলার, চাপে পড়বে চিন-বাংলাদেশ?

    India-UK CETA: ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বড় সুযোগ! শুল্কমুক্ত প্রবেশে টেক্সটাইল রফতানিতে বাড়তে পারে ১.৬ বিলিয়ন ডলার, চাপে পড়বে চিন-বাংলাদেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে হওয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (India-UK CETA) কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আশাবাদী দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প। শিল্পমহল এবং অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতীয় বস্ত্রপণ্যের রফতানি (India Textile Exports) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। আগামী কয়েক বছরে অতিরিক্ত ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা। তবে প্রশ্ন একটাই- শুল্ক উঠে যাওয়াই কি ভারতের জন্য যথেষ্ট? না কি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে?

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি (India-UK CETA)?

    এতদিন ব্রিটেনে ভারতীয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক রফতানির (India Textile Exports) ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক দিতে হত। ফলে একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি দামের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ত। এখন সেই শুল্কের বড় অংশ উঠে যাওয়ায় ভারতীয় পণ্য তুলনামূলক কম দামে ব্রিটেনের বাজারে পৌঁছতে পারবে। এর ফলে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে।

    রফতানি কতটা বাড়তে পারে?

    শিল্পমহলের অনুমান, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ব্রিটেনে ভারতের বস্ত্র রফতানিতে (India Textile Exports) প্রায় ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত যোগ হতে পারে। ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৈরি পোশাক, গৃহস্থালির বস্ত্র, সুতি কাপড়, কার্পেট এবং প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্রের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে।

    প্রতিযোগিতায় কী বদলাবে?

    এতদিন বাংলাদেশ শুল্ক- সুবিধা পাওয়ায় ব্রিটেনের বাজারে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে চিনের শক্তি তার বিশাল উৎপাদন ক্ষমতা ও দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা। নতুন চুক্তির ফলে ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, দামের ক্ষেত্রে যে অসুবিধা ছিল, তা অনেকটাই কমে গেল। ফলে ব্রিটিশ ক্রেতাদের কাছে ভারত এখন আরও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব সংস্থা এক দেশের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে, তারা ভারতের দিকে আরও বেশি নজর দিতে পারে।

    কোন কোন রাজ্য সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে?

    এই চুক্তির (India-UK CETA) ইতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে- তামিলনাড়ু, গুজরাট, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের পাটশিল্প এবং কিছু তৈরি পোশাক রফতানিকারক সংস্থাও পরোক্ষভাবে সুবিধা পেতে পারে।

    লাভ হতে পারে আরও অনেক ক্ষেত্রে

    এই চুক্তির (India-UK CETA) ফলে উপকৃত হতে পারে- চামড়া শিল্প, রত্ন ও গয়না শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা ক্ষেত্রও। অর্থাৎ, এটি শুধু একটি শিল্প নয়, দেশের সামগ্রিক রফতানির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    তবে কি সব সমস্যার সমাধান?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারেই নয়। শুধু শুল্ক কমে গেলেই রফতানি বাড়বে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ভারতের সামনে এখনও রয়েছে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ। উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের উপর জোর দিতে হবে।

    সুযোগের পাশাপাশি কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ

    নতুন বাণিজ্য চুক্তির (India-UK CETA) ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অবস্থান নিঃসন্দেহে আরও শক্তিশালী হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে হলে শুধু শুল্ক-সুবিধা যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন বাড়ানো, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ এবং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর আরও জোর দিতে হবে। এই ক্ষেত্রগুলিতে উন্নতি করতে পারলে ভারত ব্রিটেনের বাজারে নিজের অংশীদারিত্ব আরও বাড়াতে সক্ষম হবে এবং বিশ্ব বস্ত্র বাণিজ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

    ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি

    ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (India-UK CETA) ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাজ্য সফরের সময় লন্ডনে স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের সামনে একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিঃসন্দেহে রফতানি বাড়াতে সাহায্য করবে এবং ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সুযোগের পূর্ণ সুফল পেতে হলে উৎপাদন, গুণমান, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ, চুক্তি সুযোগ এনে দিয়েছে, এখন সেই সুযোগকে সাফল্যে বদলে দেওয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • NSA Ajit Doval: লোকমান্য তিলক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তার ‘কৌশলী’ অজিত ডোভাল

    NSA Ajit Doval: লোকমান্য তিলক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তার ‘কৌশলী’ অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সন্ত্রাস দমন থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা, কূটনৈতিক আলোচনা থেকে স্পর্শকাতর অভিযানে তাঁর ভূমিকা বারবার উঠে এসেছে আলোচনায়। সেই দীর্ঘ কর্মজীবন ও জাতীয় নিরাপত্তায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ লোকমান্য তিলক পুরস্কারে (Lokmanya Tilak Award) সম্মানিত হচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। আগামী ১ আগস্ট পুনেতে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং সুনেত্রা পওয়ার।

    লোকমান্য তিলক পুরস্কার

    জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে লোকমান্য তিলক স্মারক ট্রাস্ট। ১ অগাস্ট, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পুনেতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মান প্রদান করা হবে। ১৯৮৩ সালে লোকমান্য তিলক স্মারক ট্রাস্ট এই জাতীয় সম্মান চালু করে। স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের স্মৃতির উদ্দেশে প্রতি বছর ১ অগাস্ট, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হয়- একটি স্মারক, একটি সম্মানপত্র ও এক লক্ষ টাকা নগদ অর্থ। সমাজবাদী নেতা এস. এম. যোশি ছিলেন এই পুরস্কারের প্রথম প্রাপক।

    কেন এই সম্মান পাচ্ছেন অজিত ডোভাল (Ajit Doval)?

    অজিত ডোভাল (Ajit Doval) ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি। কর্মজীবনে তিনি মিজোরাম, সিকিম, পঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামাবাদ এবং লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসে একাধিক কূটনৈতিক দায়িত্বও সামলেছেন। ভারত-চিন সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। ডোকলাম অচলাবস্থা মেটাতে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।

    পুরস্কার প্রাপকরা

    এই সম্মানে (Lokmanya Tilak Award) ভূষিত হয়েছেন দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- নরেন্দ্র মোদি, অটল বিহারী বাজপেয়ী, মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধী, প্রণব মুখোপাধ্যায়, শরদ পাওয়ার, নিতিন গড়করি, এন. আর. নারায়ণ মূর্তি, সুধা মূর্তি-সহ আরও অনেকে।

    লোকমান্য তিলকের চার আদর্শ

    ট্রাস্টের সভাপতি রোহিত তিলক জানিয়েছেন, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের চারটি মূল আদর্শ (স্বরাজ, স্বদেশি, জাতীয় শিক্ষা, বিদেশি পণ্য বর্জন) আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অজিত ডোভালের ভূমিকা ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেই অবদানের স্বীকৃতিতেই এ বছর দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লোকমান্য তিলক পুরস্কারে (Lokmanya Tilak Award) সম্মানিত হতে চলেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

  • MEA: রুশ হামলায় বলি ৪ ভারতীয় নাবিক, মস্কোর দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ দিল্লির

    MEA: রুশ হামলায় বলি ৪ ভারতীয় নাবিক, মস্কোর দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনে বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চার ভারতীয় নাবিক। এই ঘটনায় এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ ভারতের। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভ-কে তলব (India Summons Russian Envoy) করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। একই সঙ্গে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছে ভারত।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    ১৯ জুলাই, ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ MV Golden Leo। জাহাজটি ইউক্রেনের উপকূল ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়ার ছোড়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। হামলার পরেই জাহাজে আগুন ধরে যায়। জাহাজে মোট ছিলেন ১৭ জন নাবিক। তাঁদের মধ্যে ৫ জন ছিলেন ভারতীয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। অপর এক ভারতীয় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    কী বলেছে বিদেশ মন্ত্রক?

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারত এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো, নিরীহ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো উচিত বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।

    রাশিয়ার কাছে কী দাবি ভারতের?

    ঘটনার জেরে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভ-কে তলব (India Summons Russian Envoy)। চার ভারতীয়র মৃত্যুর ঘটনায় কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ নয়াদিল্লির। হামলার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছে ভারত।

    ভারতীয় দূতাবাসের ভূমিকা

    আহত ভারতীয় নাবিকের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি নজরে রাখছে ইউক্রেনের ভারতীয় দূতাবাস। পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র সরকারও ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।

    যুদ্ধের আবহেই নতুন উত্তেজনা

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন কৃষিপণ্য বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরীহ নাবিকদের প্রাণহানি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

  • UPI Payment: ইন্টারনেট ছাড়াই ইউপিআই পেমেন্ট! কীভাবে, কত টাকা পর্যন্ত হবে লেনদেন?

    UPI Payment: ইন্টারনেট ছাড়াই ইউপিআই পেমেন্ট! কীভাবে, কত টাকা পর্যন্ত হবে লেনদেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফোনে নেট নেই! মেট্রোয় রয়েছেন চিন্তা নেই যে কোনও জায়গায় যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট নেই, সেখানেও সহজেই টাকা পাঠানো বা কোনও পেমেন্ট করা যাবে ইউপিআই-এর মাধ্যমে (UPI Payment)। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) একটি নতুন এনএফসি (Near Field Communication)-ভিত্তিক ইউপিআই পেমেন্ট এই প্রযুক্তি নিয়ে আসতে চলেছে, বলে জানা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থা ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর একটি বড় ঘাটতি পূরণ করবে। যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, সেখানেও ইউপিআই পরিষেবা পৌঁছে দেবে।

    কীভাবে সম্ভব?

    বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পিছনে থাকছে নিয়ার-ফিল্ড কমিউনিকেশন (NFC) প্রযুক্তি। এটি একটি কম রেঞ্জের ওয়্যারলেস টেকনোলজি। কাছাকাছি দূরত্বে ব্লুটুথের চেয়ে দ্রুত এবং আরও সুরক্ষিতভাবে কাজ করে। তবে এভাবে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকাই পেমেন্ট করা যাবে। গ্রাহকদের প্রথমে অনলাইনে ইউপিআই লাইট (UPI Lite) নামক একটি অন-ডিভাইস ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা লোড করতে হবে। এরপর তাঁরা ইউপিআই পিন প্রবেশ ছাড়াই, ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়াই সেই ব্যালেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। মনে করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থা ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর একটি বড় ঘাটতি পূরণ করবে। যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, সেখানেও ইউপিআই পরিষেবা পৌঁছে দেবে।

    অফলাইন ডিজিটাল পেমেন্ট

    অফলাইন ডিজিটাল পেমেন্ট যদিও একেবারে নতুন কিছু নয়। *99# এবং UPI 123Pay এর মতো পরিষেবা আছে। তাতে ইন্টারনেট কানেকশান ছাড়াই, ইউএসএসডি কোড বা সাধারণ ফোন কলের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায়। কিন্তু তা বেশ জটিল ব্যাপার। পার্থক্যটা এখানেই। এই প্রচলিত অফলাইন পদ্ধতিগুলিতেও কোনও না কোনও নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হয়। যেমন ধরুন ইউএসএসডি কোডের জন্য জিএসএম সিগন্যাল অথবা ভয়েস কলের জন্য ফোন লাইন। নতুন এনএফসি-বেসড ইউপিআই ফিচারের জন্য হয়তো সেটারও প্রয়োজন হবে না। আপনার ডিভাইসে এনএফসি সাপোর্ট করলেই, কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই কম রেঞ্জের ওয়্যারলেস কানেকশানের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যেতে পারে।

    কোথায় কাজে আসতে পারে?

    এই প্রযুক্তিটি এমন সব জায়গায় কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যা রয়েছে। যেমন- বিমান, ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন, গ্রামীণ এলাকা এবং বড় বড় ভবন যেখানে সেলুলার নেটওয়ার্কের ওপর অত্যধিক চাপ থাকে। এই ধরনের পরিবেশে প্রচলিত ইউপিআই লেনদেন প্রায়শই ব্যর্থ হয়, কারণ সেগুলোর ক্ষেত্রে পেমেন্টকারী এবং মার্চেন্ট – উভয়কেই অনলাইনে থাকার প্রয়োজন হয়। আপাতত, এনপিসিআই -এর পক্ষ থেকে এই নতুন ফিচারের নির্দেশিকা বা গাইডলাইন নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অফলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার জন্য আরবিআই-এর বর্তমান নির্দেশিকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন সীমা নির্ধারিত রয়েছে।

  • India Gets First Dengue Vaccine: ভারতে প্রথম ডেঙ্গির টিকার অনুমোদন, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! কারা নিতে পারবেন?

    India Gets First Dengue Vaccine: ভারতে প্রথম ডেঙ্গির টিকার অনুমোদন, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! কারা নিতে পারবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের। প্রথমবারের মতো দেশে ডেঙ্গির টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ (QDENGA)-কে অনুমোদন দিল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DCGI)। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস-এর তৈরি এই টিকা ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সি ব্যক্তিদের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ডেঙ্গির বাড়তে থাকা প্রকোপের মধ্যে এই অনুমোদন জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতে প্রতি বছর বর্ষা এলেই বাড়তে থাকে ডেঙ্গির প্রকোপ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত মোট মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতের বাসিন্দা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গির কারণে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। এতদিন পর্যন্ত ভারতে ডেঙ্গির কোনও অনুমোদিত টিকা ছিল না। ফলে মশা নিয়ন্ত্রণ, জমা জল পরিষ্কার রাখা এবং সচেতনতাই ছিল সংক্রমণ রুখতে প্রধান ভরসা। সেই জায়গায় কিউডেঙ্গার অনুমোদনকে ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী এই কিউডেঙ্গা (QDENGA)?

    কিউডেঙ্গা (QDENGA) একটি টেট্রাভ্যালেন্ট ডেঙ্গির টিকা। অর্থাৎ এটি ডেঙ্গি ভাইরাসের চারটি ধরন- ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪ সবকটির বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে পারে। এই টিকার আরও একটি বড় সুবিধা হল, টিকা নেওয়ার আগে কোনও ব্যক্তির আগে ডেঙ্গি হয়েছিল কি না? তার পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না।

    কারা তৈরি করেছে?

    কিউডেঙ্গা (QDENGA) তৈরি করেছে জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে আসার পর থেকে এই টিকা ৪৩টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে। সংস্থার দাবি, ইতিমধ্যেই ৩ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ একাধিক দেশে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভারতও।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কী মত?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ (WHO) কিউডেঙ্গাকে প্রি-কোয়ালিফায়েড ভ্যাকসিন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যেসব দেশে ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি বা নিয়মিত সংক্রমণ দেখা যায়, সেখানে এই টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে ‘হু’। কিউডেঙ্গার মান, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়েছে। এরপর ২০১৯ সালের নিউ ড্রাগস অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস রুলস অনুযায়ী টিকাটির ব্যবহারে অনুমোদন দেয় ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিসিজিআই (DCGI)।

    ট্রায়ালে কী ফল মিলেছে?

    টাকেডার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ২৮ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফেজ-৩ ‘টাইডস (DEN-301)’ ট্রায়ালটি আটটি দেশে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের উপর চালানো হয়। ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গিয়েছে- দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর ডেঙ্গি সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকারিতা ছিল ৮০.২ শতাংশ। টিকা নেওয়ার ১৮ মাস পর ডেঙ্গির কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কার্যকারিতা ছিল ৯০.৪ শতাংশ।

    কীভাবে দেওয়া হবে টিকা?

    কিউডেঙ্গার দুটি ডোজে দেওয়া হবে। প্রতিটি ডোজের পরিমাণ ০.৫ মিলিলিটার। প্রথম ডোজ নেওয়ার তিন মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।

    ভারতে কবে পাওয়া যাবে?

    অনুমোদন মিললেও এখনই বাজারে পাওয়া যাবে না কিউডেঙ্গা। টাকেডা জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ভারতের বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে টিকাটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১০ কোটি ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি।

    শুধু টিকা নয়, সচেতনতাও জরুরি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউডেঙ্গা ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হলেও এটি কোনও একমাত্র সমাধান নয়। টিকাকরণের পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধ, জমা জল পরিষ্কার রাখা, মশারি বা রিপেলেন্ট ব্যবহার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও সমান জরুরি। তবে ভারতের মতো ডেঙ্গি-প্রবণ দেশে এই প্রথম অনুমোদিত টিকা ভবিষ্যতে সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে বলেই আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।

  • ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই  রাজ্যে বড়সড় অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-সহ মোট ৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ (Government Scheme Scam) করা হয়েছে। সেই মামলার তদন্তেই এই অভিযান। ইডি সূত্রের খবর, দীর্ঘদিনের তদন্তে পাওয়া একাধিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই এদিনের তল্লাশি অভিযান।

    কেন ইডি অভিযান (ED Raid)?

    একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রকল্পে দ্রুত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলত (Government Scheme Scam)। ইডির প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ- বেশি টাকা দিলে দ্রুত ও বেশি সুবিধা মিলবে বলেও প্রলোভন দেখানো হত। এইভাবে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে ইডি। সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? কোথায় গিয়েছে? তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ১৬৪ কোটি টাকার প্রতারণা!

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে টাকা তোলা হয়েছে। প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। প্রায় ১৯ হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি। মোটা অঙ্কের সুদের লোভ দেখিয়েও বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। একটি এফইআরের ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সামনে আসায় অর্থ পাচারের দিকটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ইডি (ED Raid)।

    কারা তদন্তের নজরে?

    তদন্তে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বনগাঁর দুই বাসিন্দা অভিজিৎ ও রাহুল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে- অভিজিৎ গত মাসেই কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। রাহুলের খোঁজ এখনও মেলেনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত? তাও জানার চেষ্টা চলছে।

    রাজনৈতিক আবহে বাড়ল জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবারই ২১ জুলাই। এই দিন রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ইডির এই অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি সম্পূর্ণ তদন্তের সূত্র ধরেই চালানো নিয়মিত অভিযান (ED Raid) এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

  • Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেস (Connaught Place) এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন দুষ্কৃতীরা পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি এবং পুলিশকর্মীদের জ্যাকেট ও হেলমেট ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িত ছিল। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    রণক্ষেত্র রাজধানী

    ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। দিল্লি পুলিশের দাবি, কনট প্লেসের আউটার সার্কেলের রিগ্যাল সিনেমা সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, একাধিক আইপিএস অফিসার-সহ অন্তত ১১৮ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ৬০ জন আন্দোলনকারীও। ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত পুলিশকর্মীদের মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা (MLC) এখনও চলছে।

    সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    ঘটনার তদন্তে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের ভিডিও বিশ্লেষণ করছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০টি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের দাবি, অনেক দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বা কাপড় বেঁধে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ব্যারিকেড ভাঙচুর ও হামলায় অংশ নিয়েছিল। আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড হামলা করেন, পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১৫-২০টি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ। শাংগ্রি-লা হোটেলের কাছে এক মহিলা হেড কনস্টেবল মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চার থেকে পাঁচটি সেলাই করতে হয়েছে। রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ-সহ দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা।

    দিল্লি পুলিশের বিবৃতি

    দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভকারীরা “উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক এবং হিংসাত্মক আচরণ” করেছে। পুলিশের বারবার সতর্কবার্তা এবং আইনানুগ নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। পুলিশ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের উপর ভরসা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে।

    ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে উত্তেজনা

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে ককরোচ পার্টি-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ মিছিল যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জ করে। এর পাল্টা বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযান

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশও। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান ক্লাব, প্যাটেল চৌক, শাস্ত্রী ভবন, আরবিআই ভবন এবং সংসদ মার্গ এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    নিরাপত্তা জোরদার

    ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত এখনও চলছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাস

    এরই মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের তরফে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌরভ দাস জানিয়েছেন, নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা দলের দাবিগুলি লিখিত ভাবে তুলে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরভ দাস জানান, জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি নাড্ডার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ ভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

     

     

     

LinkedIn
Share