Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় আসছে পেপসি, হরিণঘাটায় হবে ক্যাম্পা কোলা! বাংলায় শিল্পায়নে এক জোড়া বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় আসছে পেপসি, হরিণঘাটায় হবে ক্যাম্পা কোলা! বাংলায় শিল্পায়নে এক জোড়া বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আবহেই পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প বিনিয়োগের একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে নদিয়ার হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার নতুন কারখানা তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। হলদিয়ায় আরও দুটি শিল্পপ্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানা

    হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ অধীনস্থ সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড এই ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রটি তৈরি করেছে। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই কারখানা দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র বলে জানানো হয়েছে।

    শিল্পপ্রকল্পটির উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হলদিয়ায় ইতিমধ্যেই ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই কারখানা চালু হওয়ায় রাসায়নিকের জন্য বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যপূরণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারখানায় সরাসরি প্রায় ৪০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে কাজ পেয়েছেন আরও প্রায় ১,০০০ জন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলা, ২৮ অক্টোবর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় ঘোষণা এসেছে ক্যাম্পা কোলাকে ঘিরে। নদিয়ার হরিণঘাটায় এই পানীয় সংস্থার কারখানা তৈরি করতে চলেছে রিলায়েন্স গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবর, বুধবার প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

    রাজ্যে শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। এর আগে লাক্স কোজি এবং আমূলের মতো সংস্থার কারখানা ঘিরেও রাজ্যে শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

    বিনিয়োগ টানতে শিল্পপতিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছে রাজ্য সরকার। মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মতো শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উঠে এসেছে। নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর হাসপাতাল প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যে নতুন শিল্প ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    হলদিয়ায় পেপসির প্ল্যান্ট, তৈরি হবে চিকিৎসা সরঞ্জামও

    হলদিয়াকে ঘিরে আরও দুটি শিল্পপ্রকল্পের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ একর জমিতে পেপসির উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। অন্যদিকে, প্রায় ৫০ একর জমিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দ্বিতীয় প্রকল্পের সঙ্গে প্রভিস কোম্পানির নাম উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ক্ষেত্রের পরিধি আরও বাড়তে পারে। রাসায়নিক শিল্পের পাশাপাশি পানীয় এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো পৃথক ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়ক শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    এ ছাড়া হলদিয়ায় আইডব্লিউএল এবং আইওসিএলের প্ল্যান্টের জন্যও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই প্রকল্পগুলির বিনিয়োগের অঙ্ক ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

    শ্রমিকদের চিকিৎসায় ৫০ শয্যার ট্রমা সেন্টার

    শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি হলদিয়ার শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবার উন্নয়নেও জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে হলদিয়ায় ৫০ শয্যার একটি ট্রমা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

    শিল্পাঞ্চলে কাজ করার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়াই এই কেন্দ্র তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য। উন্নত জরুরি চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে উঠলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভাতার বদলে দক্ষতা ও স্বনির্ভরতায় জোর

    শিল্পপ্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় যুবক-যুবতীদের শিল্পের উপযোগী করে তুলতে প্রশিক্ষণ এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টের উপর জোর দেন।

    তাঁর বক্তব্য, আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাতা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে আত্মনির্ভর হতে হবে। এটাই আজ আমাদের শপথ হওয়া উচিত।’

    রাজ্যে নতুন শিল্পপ্রকল্প তৈরি হলে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় যুবক-যুবতীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন সংস্থাগুলির কর্মী নিয়োগ সহজ হবে, তেমনই স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

    দীপাবলির আগে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার ইঙ্গিত

    রাজ্যে আরও বিনিয়োগ টানতে নতুন শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিওয়ালির আগেই সেই নীতি ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে নতুন শিল্পনীতির নির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে শিল্পের অভাব ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের বিষয়টি উঠে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির বার্তা দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

    হলদিয়ার ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানা, হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার প্রকল্প এবং হলদিয়ায় প্রস্তাবিত পেপসি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র—সব মিলিয়ে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগগুলির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং স্থানীয় যুবক-যুবতীরা সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারেন, তার উপর।

  • Shah Attacks Rahul: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে চতুর্থ পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুক কংগ্রেস, রাহুলকে নিশানা শাহের

    Shah Attacks Rahul: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে চতুর্থ পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুক কংগ্রেস, রাহুলকে নিশানা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরপর নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য কংগ্রেসকে আত্মসমীক্ষার পরামর্শ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Shah Attacks Rahul)। মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজতে হবে দলের ভিতরেই। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-কে দায়ী করে রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আরও একটি পরাজয়ের জন্য রাহুল গান্ধীকে প্রস্তুত থাকার কটাক্ষও করেন শাহ। রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বললেন, ‘এসআইআর-কে দোষ দিচ্ছেন কেন? আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পরে থেকেই কংগ্রেস হারছে।’ গুজরাটের গান্ধীনগর পুরসভার ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতেই জিতেছে বিজেপি। ৫টি আসন গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। একটিতে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী। তার পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী আর কংগ্রেসকে একযোগে তুলোধনা করেন শাহ।

    এসআইআর-কে দায়ী করার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়

    নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এসআইআর-কে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের প্রতিবাদের মধ্যেই এই মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন শুরু হওয়ার আগেও বিভিন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে। ফলে প্রতিটি নির্বাচনী ব্যর্থতার জন্য এসআইআর-কে দায়ী করার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। অমিত শাহ বলেন, “আমি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতে চাই এবং বিশেষ করে রাহুলজিকে জানাতে চাই, কংগ্রেস গত ৪১ বছরে গুজরাটে একটিও নির্বাচনে জয় পায়নি। ১৯৮৫ সালে শেষবার জিতেছিল তারা। তার পর থেকে গুজরাটে ধারাবাহিক ভাবে পরাজয়ের মুখে পড়েছে কংগ্রেস।” রাহুল গান্ধীকে আত্মসমীক্ষার পরামর্শ দিয়ে শাহের বক্তব্য, গুজরাটে কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণ এসআইআর কি না, তা আগে খতিয়ে দেখা উচিত। নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করার পরিবর্তে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা প্রয়োজন।

    ২০২৯-এর পরাজয় নিয়েও কটাক্ষ

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে শাহ বলেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জন্যও রাহুল গান্ধিকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল বারবার অসত্য প্রচার করছেন। এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ তুলে ধরেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির উপনির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর যুক্তি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হলেও তার আগেও কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। এমনকী ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সময়েও দলটি হেরেছে বলে দাবি করেন তিনি। কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানকে আক্রমণ করে শাহ দলটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক রাজনীতি, গণতন্ত্রবিরোধী এবং সংবিধানবিরোধী আচরণের অভিযোগ তোলেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে কংগ্রেসের উচিত নিজেদের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচনী কৌশলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা।

    গুজরাটের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের দাবি

    গুজরাটের স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকেও নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তিনটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় মোট ১০৪টি আসনের মধ্যে ৯০টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। এই তিনটি সংস্থার মধ্যে রয়েছে দুটি পুরসভা এবং একটি পুরনিগম। গান্ধীনগর পুরনিগমে বিজেপি ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জয় পেয়েছে বলে জানান শাহ। তাঁর আরও দাবি, আগের নির্বাচনের তুলনায় এই পুরনিগমে বিজেপির ভোটের হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। আম আদমি পার্টিকেও কটাক্ষ করেন তিনি। শাহের দাবি, দলটি ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রতিটি আসনেই জামানত হারিয়েছে। গুজরাটের নির্বাচনী ফলাফলকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি রাজ্যের ভোটারদের সমর্থনের প্রতিফলন বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাজস্থানের স্থানীয় নির্বাচনেও বিজেপি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।  মঙ্গলবার গুজরাট পুরভোটে গান্ধীনগর–সহ তিন পুরসভায় বিজেপির জয়জয়কারকে তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তোপ— ‘এটা জনাদেশ, সার–এফেক্ট নয়, আর এটা যত তাড়াতাড়ি কংগ্রেস বুঝবে, ততই ভালো!’

    এসআইআর ঘিরে সংঘাত অব্যাহত

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, অমিত শাহের বক্তব্য, নির্বাচনে ধারাবাহিক পরাজয়ের কারণ খুঁজতে কংগ্রেসকে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান পর্যালোচনা করতে হবে। গুজরাটের নির্বাচনী ফলাফল এবং বিভিন্ন রাজ্যে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের যুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই রাজনৈতিক বাক্‌যুদ্ধ আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের অভিযোগের পাশাপাশি কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিজেপির আক্রমণ—দুই বিষয়ই জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হয়ে উঠেছে।

     

  • India China Relation: লাদাখের মানচিত্রে ভারতের বড় চাল? ২৮টি কৌশলগত স্থান চিহ্নিত করতেই ক্ষুব্ধ চিন

    India China Relation: লাদাখের মানচিত্রে ভারতের বড় চাল? ২৮টি কৌশলগত স্থান চিহ্নিত করতেই ক্ষুব্ধ চিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাদাখকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ফের স্পষ্ট বার্তা দিল নয়াদিল্লি। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের ২৮টি কৌশলগত স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক চাপানউতোর। ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে বেজিং। পাল্টা চিনের আপত্তি খারিজ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, চিনের অস্বীকারে লাদাখের উপর ভারতের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা বদলাবে না। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিন যতই তা অস্বীকার করুক, এই প্রতিষ্ঠিত সত্য বদলানো সম্ভব নয়।”

    লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য উল্লেখ করে জয়সওয়াল জানান, লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হল, সেগুলির সঠিক পরিচিতি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

    নামকরণের তালিকায় রয়েছে পর্বতশৃঙ্গ, হিমবাহ, গিরিপথ, উপত্যকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান। এই তালিকায় গোগরা (Gogra) ও হট স্প্রিংসের (Hot Springs) মতো এলাকাও রয়েছে, যা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি-তে (LAC) ভারত-চিন সামরিক উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

    কেন গোগরা ও হট স্প্রিংস গুরুত্বপূর্ণ?

    ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের পর এই এলাকাগুলি বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করে। গোগরা ও হট স্প্রিংস ছিল দুই দেশের সেনার মুখোমুখি অবস্থানের অন্যতম প্রধান সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। ফলে এই স্থানগুলিকে ভারতের সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বেজিংয়ের আপত্তির অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ২০২০ সালের মে মাসে পূর্ব লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরপর ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা জওয়ান শহিদ হন। চিনের পক্ষেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, যদিও সংঘর্ষে নিহত সেনার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বেজিং দীর্ঘদিন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

    দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার পর ২০২২ সালে সংঘাতপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় সেনা সরানোর প্রক্রিয়া এগোয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও দেখা যায়। তবে সীমান্তে অমীমাংসিত বিষয়গুলি ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

    কী বলছে চিন?

    ভারতের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চিনের বিদেশ মন্ত্রক। মুখপাত্র মাও নিং (Mao Ning) দাবি করেছেন, ভারত একতরফাভাবে যে ‘তথাকথিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ’ প্রতিষ্ঠা করেছে, চিন তাকে কখনও স্বীকৃতি দেয়নি।

    চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাও নিং বলেন, ভারতের এই পদক্ষেপ অবৈধ এবং এর কোনও বৈধতা নেই। তাঁর দাবি, ভারত-চিন সীমান্তের পশ্চিম অংশের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি বরাবরই চিনের অন্তর্ভুক্ত।

    বেজিংয়ের এই বক্তব্যের সঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থানের স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ভারতের বক্তব্য, লাদাখ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সরকারি মানচিত্রে ভৌগোলিক স্থানগুলির নাম অন্তর্ভুক্ত করা প্রশাসনিক ও মানচিত্রগত স্বীকৃতির প্রক্রিয়া। চিনের আপত্তি সেই অবস্থান বদলাতে পারবে না বলেই জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

    কোন কোন স্থানের নাম রয়েছে তালিকায়?

    লাদাখের ২৮টি কৌশলগত স্থানের তালিকায় গোগরা, হট স্প্রিংস ছাড়াও রয়েছে আলিশা গিরি, ব্রাংসা, চাপচিংগাল পাস, কানিষ্ক পিক, কারুন পির পর্বত, কুকসেল, মার্তণ্ড গিরি, পারপিক হিমবাহ, স্কামরি হিমবাহ, শাচমিরিক পাস, শকোর্গা উপত্যকা এবং জোরাওয়ার পিক।

    এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে ডেহরা কম্পাস, দ্রাক কার্পো, জোলমোরি, কুমারায়ণ পয়েন্ট, পাংলুং, রিনচেন জাংপো, সাক্যশ্রী গিরি, গুরু রিনপোচে, শামাল লুংপা, ইয়াংপা নদী, মারপা লোৎসাভা রি, মিলারেপা কাংরি, শিব রি এবং মহেশ্বর রি।

    এই নামগুলির মধ্যে শামাল লুংপা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০-এর দশকে এটি টহলদারি এবং সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিমূলক পথ হিসেবে ব্যবহৃত হত। ফলে তালিকার কয়েকটি স্থানের গুরুত্ব শুধু ভৌগোলিক নয়, ঐতিহাসিক ও সামরিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন করে চাপানউতোর?

    ভারত ও চিনের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একাধিক উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতৃত্বের যোগাযোগ সেই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবিশ্বাসের জায়গা এখনও রয়ে গিয়েছে।

    লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে তাই কেবল নামকরণের প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলে বিষয়টির সম্পূর্ণ তাৎপর্য বোঝা যাবে না। একদিকে রয়েছে ভৌগোলিক পরিচিতি ও প্রশাসনিক নথিভুক্তির প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার উপর সার্বভৌমত্ব নিয়ে ভারত ও চিনের পরস্পরবিরোধী দাবি।

    তবে এই নামকরণের ফলে সীমান্তের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ বা দুই দেশের মধ্যে থাকা ভূখণ্ডগত বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে, এমনটা বলা যায় না। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—লাদাখ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে, চিনও তাদের দাবি থেকে সরে আসেনি। ফলে সরকারি মানচিত্রে ২৮টি স্থানের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেও, সীমান্ত সমস্যার সমাধান নির্ভর করবে দুই দেশের আলোচনা ও বাস্তব পরিস্থিতির উপরই।

  • CJP Leaders Tihar Jail: শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙায় ৫ দিনের জন্য তিহাড় জেলে দুই ‘আরশোলা’ সৌরভ, আশুতোষ

    CJP Leaders Tihar Jail: শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙায় ৫ দিনের জন্য তিহাড় জেলে দুই ‘আরশোলা’ সৌরভ, আশুতোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির জন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের জন্য তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সহযোগী অজিঙ্ক শিন্ডে অবশ্য শান্তির বন্ডে স্বাক্ষর করে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার তিনজনকেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) সামনে পেশ করা হয়।

    দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, তিনজনের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ অমান্য, শান্তির বন্ড ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর সৌরভ ও আশুতোষ এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    তবে সিজেপি-র আইনি দলের প্রধান রত্না সিংহের অভিযোগ, তিনজনকে রাত ৩টের সময় একটি বেসরকারি ভ্যানে করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে তাঁদের আটকে রেখেছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সমর্থন পাওয়া যায়নি।

    কেন বিতর্কের কেন্দ্রে জন্তর মন্তর?

    গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার একটি নির্দেশ জারি করে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেন। এর ফলে জন্তর মন্তর নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

    এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দলের দাবি, রাজধানীর রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে দিলে প্রতিবাদের দৃশ্যমানতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছনো কঠিন হবে।

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এ কথিত অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও সিজেপি-সহ একাধিক সংগঠন প্রতিবাদ করছে। তবে SIR-এ অনিয়মের অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ এই মুহূর্তে সামনে নেই।

    সব মিলিয়ে, দুই নেতার গ্রেফতারি ও বিচারবিভাগীয় হেফাজতকে ঘিরে দিল্লিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে পুলিশের আইনশৃঙ্খলা ও বিধিনিষেধ কার্যকর করার যুক্তি, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে, এখন সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • India UK Trade: ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন গতি, এআই-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি চুক্তি

    India UK Trade: ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন গতি, এআই-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাজ্যের (India UK Trade) মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ। ভারতে আসা ব্রিটিশ বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের নতুন বাণিজ্যিক চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণা, কৃষি, শিক্ষা, উন্নত উৎপাদন শিল্প এবং বিমান পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, এই বাণিজ্যিক উদ্যোগের মধ্যে এআই গবেষণায় ৫ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, বিমান পরিষেবা সংস্থা মেনজিস এভিয়েশন ভারতে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। ১০০টিরও বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব জোনাথন রেনল্ডস, স্কটল্যান্ডের সচিব, পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দফতরের সচিব, উত্তর ইংল্যান্ডের সাতজন মেয়র এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

    পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক, জেটকোর ১৬তম সম্মেলন

    সফর চলাকালীন নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রিটিশ বাণিজ্য সচিব জোনাথন রেনল্ডস। পাশাপাশি, দুই দেশের যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিটি বা জেটকোর (JETCO) ১৬তম বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন তাঁরা। পীযূষ গোয়েল জানান, ভারত ও যুক্তরাজ্যের অভিন্ন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত-যুক্তরাজ্য সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তির (CETA) সুযোগ কার্যকরভাবে কাজে লাগানো, বাণিজ্যিক বাধা দূর করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক আলোচনা, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

    চুক্তির পর প্রায় ১২০০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্যিক উদ্যোগ

    ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমশ গতি পাচ্ছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে প্রায় ১২০০ কোটি পাউন্ড মূল্যের বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় মেটা ফর ডেটা টেকনোলজিস (MFD) যুক্তরাজ্যে এআই গবেষণার জন্য ৫ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেনের বিমান পরিষেবা সংস্থা মেনজিস এভিয়েশন ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৬০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। উন্নত উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তি, বিমান পরিষেবা, শিক্ষা, কৃষি এবং খাদ্য ও পানীয় শিল্পে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    স্কটল্যান্ডের রফতানি ও কর্মসংস্থানেও জোর

    ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলে স্কটল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের খাদ্য ও পানীয় শিল্পের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে এগ্রিকালচার অ্যান্ড হর্টিকালচার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, ব্রিটিশ মিট প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন, ফিভার-ট্রি, কেন্ডামিল, ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়ন, স্যামন স্কটল্যান্ড, স্কচ হুইস্কি অ্যাসোসিয়েশন এবং ওয়াকার্স শর্টব্রেড। স্কটল্যান্ডের সচিব ডগলাস আলেকজান্ডার বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি স্কটল্যান্ডের রফতানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। বিশেষ করে স্যামন মাছ ও হুইস্কি উৎপাদকরা ভারতীয় বাজারে আরও বেশি ব্যবসার সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে স্কটল্যান্ডে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এই চুক্তি সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদী। পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক সচিব অ্যাঞ্জেলা ঈগল জানান, ব্রিটিশ কৃষক এবং খাদ্য ও পানীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে কাজ করে চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলিকে বাস্তব রফতানির সুযোগে পরিণত করার চেষ্টা করছে সরকার। ভারতীয় বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা

    সফরের পরবর্তী পর্যায়ে ব্রিটিশ বাণিজ্য সচিব জোনাথন রেনল্ডস কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে ভারত-যুক্তরাজ্য বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন পরিষদের বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। এ ছাড়া মুম্বইয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্রিটিশ পণ্য ও পরিষেবার প্রদর্শনীমূলক বাণিজ্য মঞ্চেও অংশ নেবেন তিনি।

    দীর্ঘমেয়াদে বছরে ২৫৫০ কোটি পাউন্ড বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা

    ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মাথায় এই প্রতিনিধিদলের সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২৫৫০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, চুক্তির সুফল বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগ, রফতানি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। এখন মূল লক্ষ্য, চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হওয়া সম্ভাবনাগুলিকে বাস্তব বাণিজ্যিক সাফল্যে রূপান্তরিত করা।

  • Durga Puja Health Tips: দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ৪ সংক্রমণ! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    Durga Puja Health Tips: দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ৪ সংক্রমণ! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উৎসবের মেজাজ। উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতা থেকে জেলা, সর্বত্র দূর্গা পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কিন্তু তারমাঝেই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আনন্দের এই তাল কাটাতে পারে সংক্রামক রোগ! তাই সামান্য অসচেতনতাও বড় বিপদ ঘটাতে পারে। বিশেষত, শিশু স্বাস্থ্যে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সন্তানের স্বাস্থ্যে সামান্য অবহেলাও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    কোন সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা?

    ঋতু পরিবর্তনের সময়ে ভাইরাসঘটিত অসুখের দাপট!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে ভাইরাস ঘটিত অসুখের দাপট সবচেয়ে বেশি থাকে। বর্ষার মরশুম সবে শেষ হয়েছে। তবে আবহাওয়া শুষ্ক। সূর্যের তাপে দিনের বেলা বেশ গরম ভাব রয়েছে। কিন্তু রাত বাড়লে কিংবা ভোরের দিকে আবহাওয়া অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। এর ফলে আবহাওয়ার তারতম্য দেখা দিচ্ছে। তাপমাত্রার এই রকমফেরের জেরে বাতাসে একাধিক ভাইরাসের দাপট বাড়ছে। এর জেরে ভাইরাস ঘটিত অসুখের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে।

    ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে!

    দুর্গাপুজো মানেই ভিড়! একসঙ্গে অনেকে মিলে আনন্দ উদযাপন। কিন্তু ভিড় থেকেই একাধিক সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা ও থাকে।‌ বিশেষত শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিড় এলাকায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে রোগ সংক্রামিত হতে পারে। বিশেষত ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষত যেসব শিশুরা হাঁপানি বা অন্যকোনো শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের বাড়তি সাবধানতা জরুরি।

    ডায়রিয়া বা পেটের সংক্রমণ!

    উৎসবের দিনগুলোতে সকলেই কমবেশি অন্যরকম খাওয়া দাওয়া করেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাই এই সময়ে পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই রঙিন জলের সরবত, লাগাতার ঠান্ডা পানীয় খেতে পছন্দ করে। শিশুদের এই ধরনের খাবারে বাড়তি আকর্ষণ থাকে। ফলে, তাদের জন্য বিপদ বেড়ে যায়। অনেক সময়েই সরবতের জল পরিশ্রুত থাকে না। তাই ডায়রিয়ার মতো পেটের অসুখের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    মশাবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উৎসবের দিনগুলোতেও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কোনো ভাবেই অবহেলা করা যাবে না। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা দশ হাজারের কাছাকাছি। তার সঙ্গে ম্যালেরিয়া সহ একাধিক মশাবাহিত রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাই শিশুদের বাড়তি যত্ন জরুরি। উৎসবের দিনগুলোতেও যেন শিশুদের এই ধরনের সংক্রমণ না হয়, তার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করতে হবে।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধের পরিকল্পনা করবেন?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে বাড়তি নজর রাখলেই একাধিক বিপদ আটকানো সহজ হয়। বিশেষত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তবে অযথা আতঙ্ক নয়। সচেতনতা এবং সতর্কতাই সমস্ত বিপদ আটকাতে সাহায্য করে।

    বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ারা আগে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ানো!

    দুর্গাপুজো মানেই এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল প্রতিমা দর্শন। তবে, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে সন্তানকে পেট ভরে খাইয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের খাবার এড়িয়ে চললে একাধিক রোগ মোকাবিলা সহজ হয়। ভারি খাবার খেয়ে বাইরে গেলে, লাগাতার স্ন্যাক্স বা ভাজা জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছে কমে। এর ফলে শরীরে ক্ষতিকারক তেল মশলা কম যাবে, পুষ্টির ঘাটতি হবে না। হজমের সমস্যা ও পেটের অসুখের ঝুঁকি কমবে।

    সঙ্গে পানীয় জল রাখা আবশ্যিক!

    শিশুকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় জল রাখতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় বাইরে থাকলে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। কারণ সূর্যের তাপে যথেষ্ট গরম লাগছে, ঘাম হচ্ছে। আবহাওয়া শুষ্ক। শরীরে জলের ঘাটতি হলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার অপরিশ্রুত জল খেলে ডায়রিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। লিভারের নানান সংক্রামক রোগ হতে পারে। তাই সব সময় পানীয় জল সঙ্গে রাখতে হবে। যাতে শিশু পরিশ্রুত জল খেতে পারে।

    ভিড় এলাকায় মাস্ক ব্যবহার জরুরি!

    ভিড় এলাকায় যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার জরুরি। বিশেষত শিশুদের মাস্ক পরানোর অভ্যাস থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত অসুখ কিংবা ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মাস্কের ব্যবহার খুবই কার্যকরী। এতে হাঁচি কাশি হলেও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    হাত পরিষ্কারে বাড়তি নজর!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাত পরিষ্কার করার দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। বাইরে থেকে ফেরার পরে, খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে কিংবা শৌচালয় থেকে বেরনোর পরে সন্তানের হাত পরিষ্কার কিনা সেদিকে নজর রাখতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করাতে হবে। এতে নানান জীবাণু বাহিত অসুখের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।

    চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়তি পরিকল্পনা!

    শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি কী কী করণীয় সে সম্পর্কে অভিভাবকদের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। তাই সন্তানকে নিয়মিত যে চিকিৎসক দেখেন, তার পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই পুজোর দিনগুলোতে চিকিৎসককে সব সময় পাওয়া যায় না। তাই আগাম কী ধরনের সতর্কতা ও পরিকল্পনা জরুরি সে সম্পর্কে কথা বলে রাখতে হবে। তাহলে জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Protest Against Muhammad Yunus: “আপনি সন্ত্রাসবাদী, এখানে কেন এসেছেন?” নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিক্ষোভের মুখে ইউনূস

    Protest Against Muhammad Yunus: “আপনি সন্ত্রাসবাদী, এখানে কেন এসেছেন?” নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিক্ষোভের মুখে ইউনূস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। বাংলাদেশি প্রবাসীদের একাংশ তাঁকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে আক্রমণ করে। তাঁদের অভিযোগ, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ইউনূসকে লক্ষ্য করে এক বিক্ষোভকারী চিৎকার করে বলছেন, “আপনি সন্ত্রাসবাদী, এখানে কেন এসেছেন? আপনি আমার দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন!” অন্য এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন।” বিক্ষোভকারীদের কয়েক জনের অভিযোগ, তাঁর আমলে বহু বাংলাদেশি পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইউনূসকে ‘ফিরে যান’ স্লোগান দেন।

    ইউনূসের ১৮ মাসের শাসন নিয়ে প্রশ্ন

    বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের বিমানে নিউইয়র্কে পৌঁছন ইউনূস। বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৮-এ পৌঁছনোর পরই একদল বাংলাদেশি প্রবাসী তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। ভিডিওয় তাঁকে হুইলচেয়ারে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূসের প্রায় ১৮ মাসের মেয়াদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, যথেচ্ছ গ্রেফতার, সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা এবং আইনজীবী, রাজনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মীদের দীর্ঘদিন আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে। ডেইলি সান-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ওই সময়ে কত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কত জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং কত জনের বিচার হয়েছে, তার প্রকাশ্য নথির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সংস্কার করা। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, বাস্তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে অনির্বাচিত নাগরিক সমাজের ব্যক্তিত্ব, একটি প্রভাবশালী ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ এবং বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব বেড়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক জবাবদিহি যথেষ্ট ছিল না।

    রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনৈতিক ব্যবহার

    অন্তর্বর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা আরেকটি বড় অভিযোগ হল, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে। ডেইলি সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমালোচকদের একাংশের দাবি, ওই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রশাসনের কিছু অংশ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসনের প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে ওই সময়ে পৃষ্ঠপোষকতা, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি এবং দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। সব মিলিয়ে, নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ইউনূসকে ঘিরে এই বিক্ষোভ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকলাপ ও তার উত্তরাধিকার নিয়ে চলতে থাকা রাজনৈতিক বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে এসেছে।

  • Real Madrid vs Barcelona: নভেম্বরে কলকাতায় এল ক্লাসিকো! রিয়াল বনাম বার্সার ম্যাচ দেখতে পারে শহরবাসী

    Real Madrid vs Barcelona: নভেম্বরে কলকাতায় এল ক্লাসিকো! রিয়াল বনাম বার্সার ম্যাচ দেখতে পারে শহরবাসী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শারোদৎসবের আগেই ফুটবল উৎসবে মেতেছিল কলকাতা। গিয়েছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোরা। ভারতের সঙ্গে ফিফা ফ্রেন্ডলিতে ম্যাচ খেলেছেন ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দলের সদস্যরা। এরপরেই আবার চমক। শোনা যাচ্ছে, ফুটবলবিশ্বে অন্যতম সেরা দুই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার (Real Madrid vs Barcelona) কিংবদন্তি ফুটবলারদের লড়াই দেখতে চলেছে তিলোত্তমা।

    কলকাতায় এল ক্লাসিকো

    নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ২৫ নভেম্বর কলকাতায় এল ক্লাসিকো (El-Classico) হতে পারে। খেলবে স্প্যানিশ তথা ইউরোপীয় ফুটবলের দুই মহাশক্তিধর ক্লাব রিয়াল এবং বার্সা। সন্দেহ নেই কলকাতার ফুটবল প্রেমীদের কাছে এটা বড় খবর। তবে, যেটা জানা যাচ্ছে, এই দুই ক্লাবের বর্তমান তারকা ফুটবলাররা শহরে না-ও আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে এই দুই দলের প্রাক্তন ফুটবলাররা মাঠে নামবেন। এই ম্যাচে টিকিটের দাম যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সেই দিকটা দেখা হচ্ছে এবার। কারণ, সম্প্রতি ভারত-ব্রাজিলের যে ম্যাচ কলকাতায় হয়েছিল, তার টিকিটের দাম দুর্মূল্য হওয়ায় অনেকেই দেখতে যেতে পারেননি। এদিকে, কারা এই দুই দলকে কলকাতায় আনছে, টিকিটের বন্দোবস্ত কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজ্য সরকারের শীর্ষ সূত্রে খবর, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এই ম্যাচ হবে। তার পরেই আবার পুরসভা ভোট হওয়ার কথা। ওই পর্বে আইএসএল-এরও ম্যাচ চলবে। তার মধ্যেই শহরে আসবে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, ইয়ামেলদের দল।

    রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই বিশেষ ম্যাচ

    গত বছর ডিসেম্বরে লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে বিপর্যয়ের ছবি দেখেছিল যুবভারতী। যাতে সরাসরি জড়িয়ে গিয়েছিল তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল। তর পর অবশ্য পালাবদলের পরে ভারতের সঙ্গে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে। এবার এল ক্লাসিকোর অপেক্ষা। সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই এই ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ম্যাচ নিয়ে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে সরকারের তরফ থেকে। অতীতে এভাবেই কলকাতায় খেলে গিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখের লেজেন্ডস দল। ২০০৮ সালে অলিভার কানের বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে কলকাতায় মোহন বাগানের বিরুদ্ধে খেলেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। এমনকি এর পরেও এসেছিল বায়ার্ন।

  • IMF India GDP Forecast: বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছুটবে ভারত! ২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭%

    IMF India GDP Forecast: বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছুটবে ভারত! ২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭%

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (IMF)। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করল সংস্থাটি। শুধু চলতি অর্থবর্ষ নয়, ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষেও ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতা, পরিষেবা ক্ষেত্রে শক্তিশালী কার্যকলাপ এবং অর্থনীতির ধারাবাহিক গতি এই আশাবাদের মূল কারণ।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.১ শতাংশে উন্নীত করেছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। এবার আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের ইতিবাচক মনোভাবকেই তুলে ধরল।

    কেন ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল আইএমএফ?

    আইএমএফ-এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি আউটলুক (World Economic Outlook) রিপোর্টের সাম্প্রতিক আপডেটে বলা হয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় ভারতের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ধারাবাহিক বৃদ্ধি অর্থনীতিকে গতি জুগিয়েছে।

    সংস্থাটির মতে, ভারতের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—

    • ● বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার: দেশের বিপুল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান বাজার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে সহায়তা করছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তি: পরিষেবা ক্ষেত্রে স্থিতিশীল কার্যকলাপ জিডিপি বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।
    • ● অনুকূল জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি: কর্মক্ষম জনসংখ্যার সম্ভাবনা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির বৃদ্ধিকে সমর্থন করতে পারে।
    • ● কাঠামোগত সংস্কার: ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংস্কার দেশের উৎপাদনশীলতা ও বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে।

    আইএমএফ-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সমস্ত উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে ভারত এমন একটি অর্থনীতি হিসেবে উঠে আসছে, যার বৃদ্ধির গতি আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

    বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত?

    ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধির তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয় বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে। ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির পূর্বাভাস আইএমএফ সামান্য বাড়িয়ে ৩.১ শতাংশ করেছে। জুলাইয়ের পূর্বাভাস ছিল ৩ শতাংশ। ২০২৭ সালের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ৩.৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    অর্থাৎ, বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার যেখানে ৩ শতাংশের আশপাশে, সেখানে ভারতের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেশটির তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরছে। এই কারণেই বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধিতে ভারতের ভূমিকা আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও বৃদ্ধির আশা

    বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    আইএমএফ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তির উপর ভর করে ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল থেকেছে।

    তবে তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যয় বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ ও উৎপাদন খরচের উপর চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ইতিবাচক পূর্বাভাসের পাশাপাশি জ্বালানির দামের গতিপ্রকৃতিও নজরে রাখতে হবে।

    ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলার হতে পারে অপরিশোধিত তেলের দাম

    আইএমএফ-এর অনুমান অনুযায়ী, ব্রেন্ট, দুবাই ফতেহ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—এই তিন ধরনের অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলার হতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় তা প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।

    ২০২৭ সালে অবশ্য তেলের গড় দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৩৯ ডলারে নেমে আসতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।

    ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চস্তরে থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের মূল্যবৃদ্ধি, চলতি খাতের ভারসাম্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে।

    জার্মানি ও ব্রিটেনের বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়াল আইএমএফ

    শুধু ভারত নয়, কয়েকটি উন্নত অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে আইএমএফ। ২০২৬ সালে জার্মানির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস জুলাইয়ের ০.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে। ব্রিটেনের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১.৩ শতাংশ হয়েছে।

    সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে উন্নত অর্থনীতিগুলির বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.১ শতাংশ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির সামগ্রিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হয়েছে। জুলাইয়ে এই গোষ্ঠীর জন্য ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধির অনুমান করা হলেও, বর্তমানে তা কমিয়ে ৩.৭ শতাংশ করা হয়েছে।

    চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের বৃদ্ধির গতি নিয়ে সংশয়

    উদীয়মান অর্থনীতিগুলির সামগ্রিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমার অন্যতম কারণ চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ধীরগতির বৃদ্ধি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সংকোচনের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও অন্যান্য বড় উদীয়মান অর্থনীতির দুর্বল সম্ভাবনা সামগ্রিক গোষ্ঠীর বৃদ্ধির উপর চাপ তৈরি করছে।

    অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ

    আইএমএফ-এর আগেও এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB), অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) এবং দুই আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা  এসঅ্যান্ডপি  (S&P) ও ফিচ্ (Fitch) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ৭ শতাংশের আশপাশে রেখেছে বা বাড়িয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের শক্তিশালী গতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতাকে এই মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

    ভারতের অর্থনীতির সামনে কী বার্তা?

    আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। অভ্যন্তরীণ বাজার, পরিষেবা ক্ষেত্র এবং কাঠামোগত সংস্কারের উপর নির্ভর করে বৃদ্ধির গতি ধরে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় ভারতের সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার যথেষ্ট বেশি। তবে এই পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে দেখা উচিত নয়।

    আন্তর্জাতিক সংঘাত, অপরিশোধিত তেলের দাম, বিশ্ববাণিজ্যের পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, আইএমএফ-এর নতুন পূর্বাভাসে স্পষ্ট—বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারত আপাতত তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই সম্ভাবনা বাস্তব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে কতটা প্রতিফলিত হয়।

  • Rahul Gandhi’s Petition: ভুলে ভরা…! সুপ্রিম কোর্টে করা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪টি ত্রুটি, বকেয়া ২২০ টাকা কোর্ট ফি-ও

    Rahul Gandhi’s Petition: ভুলে ভরা…! সুপ্রিম কোর্টে করা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪টি ত্রুটি, বকেয়া ২২০ টাকা কোর্ট ফি-ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতাদের দায়ের করা যৌথ আবেদনে ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত করল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি। এর মধ্যে রয়েছে ২২০ টাকা কোর্ট ফি কম জমা দেওয়া, নয়জন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র না থাকা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট ফটোকপি। সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন বিরোধী ‘ইন্ডি’-জোটের একাধিক নেতা ও সমর্থক। সেই সময়ই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতে আবেদন জমা দেয় বিরোধী নেতাদের আইনজীবী দল।

    কী কী ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে?

    সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রির তরফে আবেদনে একাধিক নথিগত ও পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকজন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় ‘ভকালতনামা’ বা আইনজীবী নিয়োগের অনুমতিপত্র না থাকা, মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের স্পষ্ট প্রতিলিপি জমা দেওয়ার নির্দেশ এবং কয়েকটি নথির রঙিন কপি জমা না দেওয়া। এ ছাড়াও আবেদনের কয়েকটি অংশের অক্ষর অত্যন্ত ছোট হওয়া, অস্পষ্ট বা ঝাপসা লেখা, কিছু পৃষ্ঠা অনুপস্থিত থাকা, আঞ্চলিক ভাষায় লেখা পৃষ্ঠা সংক্রান্ত সমস্যা এবং পৃষ্ঠার নম্বরের অসঙ্গতির মতো ত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে। এই আবেদনে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তেজস্বী প্রসাদ যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউত, ডি রাজা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাঝি, এম এ বেবি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের নেতা ই টি মহম্মদ বশির-সহ একাধিক বিরোধী নেতা আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন। আবেদনে প্রতিপক্ষ হিসেবে নাম রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর। রেজিস্ট্রির চিহ্নিত ত্রুটিগুলি সংশোধন করার পরেই আবেদনটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে।

    আবেদনে কী কী দাবি জানিয়েছে ‘ইন্ডি’ জোট?

    আবেদনকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— এসআইআর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও তথ্য আদালতে পেশ করার নির্দেশ। এসআইআর সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলির সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখা। অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ আবেদনকারীদের অভিযোগ ও সমস্যার প্রতিকার। গোটা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিটি গঠন-সহ অন্যান্য পদক্ষেপ। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম ঘটেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা বিচারাধীন বিষয়।

    প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন খারিজ

    সোমবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে বিরোধী নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, কথিত ‘ভোট চুরি’ বন্ধ করা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া। কিন্তু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি সাক্ষাতের অনুরোধ গ্রহণ করেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

LinkedIn
Share