Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেস (Connaught Place) এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন দুষ্কৃতীরা পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি এবং পুলিশকর্মীদের জ্যাকেট ও হেলমেট ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িত ছিল। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    রণক্ষেত্র রাজধানী

    ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। দিল্লি পুলিশের দাবি, কনট প্লেসের আউটার সার্কেলের রিগ্যাল সিনেমা সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, একাধিক আইপিএস অফিসার-সহ অন্তত ১১৮ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ৬০ জন আন্দোলনকারীও। ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত পুলিশকর্মীদের মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা (MLC) এখনও চলছে।

    সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    ঘটনার তদন্তে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের ভিডিও বিশ্লেষণ করছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০টি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের দাবি, অনেক দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বা কাপড় বেঁধে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ব্যারিকেড ভাঙচুর ও হামলায় অংশ নিয়েছিল। আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড হামলা করেন, পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১৫-২০টি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ। শাংগ্রি-লা হোটেলের কাছে এক মহিলা হেড কনস্টেবল মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চার থেকে পাঁচটি সেলাই করতে হয়েছে। রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ-সহ দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা।

    দিল্লি পুলিশের বিবৃতি

    দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভকারীরা “উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক এবং হিংসাত্মক আচরণ” করেছে। পুলিশের বারবার সতর্কবার্তা এবং আইনানুগ নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। পুলিশ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের উপর ভরসা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে।

    ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে উত্তেজনা

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে ককরোচ পার্টি-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ মিছিল যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জ করে। এর পাল্টা বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযান

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশও। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান ক্লাব, প্যাটেল চৌক, শাস্ত্রী ভবন, আরবিআই ভবন এবং সংসদ মার্গ এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    নিরাপত্তা জোরদার

    ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত এখনও চলছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাস

    এরই মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের তরফে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌরভ দাস জানিয়েছেন, নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা দলের দাবিগুলি লিখিত ভাবে তুলে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরভ দাস জানান, জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি নাড্ডার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ ভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

     

     

     

  • Nabanna: মাসে এবার দেড় হাজার টাকা! ভাতা বাড়ছে প্রবীণ, বিধবা ও দিব্যাঙ্গদের, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Nabanna: মাসে এবার দেড় হাজার টাকা! ভাতা বাড়ছে প্রবীণ, বিধবা ও দিব্যাঙ্গদের, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সামাজিক সুরক্ষার নতুন অধ্যায়। প্রবীণ, বিধবা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের (দিব্যাঙ্গ) জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ একধাক্কায় ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার কথা ঘোষণা রাজ্য সরকারের (Nabanna)। অর্থ দফতরের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই এই কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সরকারি নির্দেশিকা

    বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নের (Nabanna) তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তাঁর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এবং একটি বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করেন। একই দিনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে একটি সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক পেনশন প্রকল্পের আওতায় থাকা উপভোক্তাদের মাসিক আর্থিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হল। রাজ্য অর্থ দফতরের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই এই জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পথে হাঁটল সরকার।

    প্রধান ৩টি স্কিমেই বর্ধিত টাকা

    বার্ধক্য ভাতা (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বার্ধক্য পেনশন স্কিম), বিধবা ভাতা (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বিধবা পেনশন স্কিম), প্রতিবন্ধী ভাতা (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় প্রতিবন্ধী পেনশন স্কিম)

    • কবে থেকে কার্যকর? অগাস্ট মাস থেকেই এই বর্ধিত হার চালু হতে চলেছে।
    • টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে? ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাবে। এর ফলে কোনও দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা থাকবে না।
    • খরচ সামলানো হবে কীভাবে? ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের বাজেটে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বরাদ্দ খাত থেকেই এই বাড়তি খরচ বহন করা হবে।

    কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

    সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানান, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে গভীর আশা, ভরসা ও বিশ্বাস রেখে এক রাষ্ট্রবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্য পূরণেই আজ এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাই-বোনেদের সামাজিক সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক করে তুলবে।

    সরকারের বক্তব্য

    মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মাত্র এক হাজার টাকায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে উঠছিল। প্রান্তিক মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করতেই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম- সব এলাকার যোগ্য মানুষ যাতে সময়মতো টাকা পান, তার জন্য সমস্ত জেলার জেলাশাসক এবং সুডা (SUDA)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • PM Modi Congratulates Burnham: যুক্তরাজ্যের নয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা মোদির, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

    PM Modi Congratulates Burnham: যুক্তরাজ্যের নয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা মোদির, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউনাইটেড কিংডম-এর সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন অ্যান্ডি বার্নহাম (Andy Burnham)। যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Congratulates Burnham)। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ এক বার্তায় তিনি বলেন, ভারত ও ব্রিটেনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। এই প্রথমবার কোনও ক্যাথোলিক ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলেন, যা ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত কয়েক বছর ধরে ব্রিটেনের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছেন।

    মোদির শুভেচ্ছা বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী বার্নহামকে শুভেচ্ছা বার্তায় মোদি লেখেন, ‘‘ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে আন্তরিক অভিনন্দন। ভারত ও ব্রিটেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী দুই দেশ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা বিস্তৃত। চলতি মাসে সিইটিএ (CETA) কার্যকর হওয়ায় এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারত-ব্রিটেনের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Comprehensive Strategic Partnership) আরও গভীর করতে এবং ‘ভিশন ২০৩৫’-এর যৌথ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি।’’

    ব্রিটেনের নয়া নেতা

    এর আগে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, দলের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রাক্তন মেয়র বার্নহ্যাম, কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। লন্ডনের ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (TUC) সদর দফতরে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারপার্সন তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, বার্নহ্যাম ৩৭৯ জন লেবার সাংসদের সমর্থন পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় মনোনয়নের সীমা অতিক্রম করা একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় দলীয় সদস্যদের ভোটাভুটি ছাড়াই তাঁকে নেতা ঘোষণা করা হয়।

    সমগ্র ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করব

    মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সম্প্রতি সংসদে ফিরে আসেন বার্নহ্যাম। এরপর ২২ জুন কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা করেন। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার কথা জানান। নেতৃত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, গত কয়েক দশকে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ হয়েছে এবং আবাসন, জল, বিদ্যুৎ ও পরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার বেসরকারিকরণের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে দেশের বহু প্রাক্তন শিল্পাঞ্চল পুনর্গঠনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—সমগ্র ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করব।’’ মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ের পর লেবার পার্টির সাংসদদের মধ্যে বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন আরও বৃদ্ধি পায়, যার ফলেই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের নেতৃত্ব এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতি

    নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণেই ব্রিটিশ আমজনতার উদ্দেশ্যে পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্নহাম। তাঁর দেওয়া সেই ৫টি মূল অঙ্গীকার হল- দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা, আদর্শগত ভিত্তি, আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাস বলছে, গত এক দশকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ছয়জন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন এবং চলে গেছেন। কিয়ের স্টার্মারের পূর্বসূরিদের তালিকায় ছিলেন ঋষি সুনক, লিজ ট্রাস, বরিস জনসন, টেরেসা মে এবং ডেভিড ক্যামেরন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই পাঁচজনই ছিলেন লেবার পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা। টানা রাজনৈতিক টালমাটালের পর কিয়ের স্টার্মারের হাত ধরে লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলেও তিনি বেশিদিন টিকতে পারেননি। এবার কনজারভেটিভদের হারিয়ে আসা লেবার পার্টির অন্দরে ও দেশের শাসনভার সামলাতে অ্যান্ডি বার্নহাম কতটা সফল হন এবং ব্রিটেনকে কতটা রাজনৈতিক স্থায়িত্ব দিতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

    বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ

    ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গত ১০ বছর ধরে চলছে প্রধানমন্ত্রীদের যাওয়া আসা। স্বাভাবিক হিসাবে ১০ বছরে ২জন প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত। কিন্তু গ্রেট ব্রিটেনের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা বহু বেশি। গত ১০ বছরে ষষ্ঠ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সোমবার নির্বাচিত হলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। প্রথামাফিক তাঁকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। ক্ষমতায় এসেই রাজনীতিতে আস্থা ফেরাতে অর্থনৈতিক শক্তি ফেরাতে প্রচেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দেশের জন্য কী রূপরেখা তৈরি করতে চান তিনি, কী ভাবনা রয়েছে, তা এদিন বক্তব্যে তুলে ধরেন। ইতিহাস অনুসারে বার্নহাম ইউকে-র ৫৯ তম প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বাকিংহাম প্যালেসে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কিং চার্লস।

    কিং অফ দ্য নর্থ নামে পরিচিত

    ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহল তাঁকে ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ নামে চেনে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপাতত তাঁকেই ভোট দিয়ে বেছে নিয়েছে লেবার পার্টি। রাজার আমন্ত্রণ পেয়ে এবার ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা ঢেলে সাজাতে হবে তাঁকে। নতুন দায়িত্ব পেয়েই নতুন ব্রিটেন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন অ্যান্ডি। জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জন্যও তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। আপাতত ৬ সপ্তাহের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কুর্সি সুরক্ষিত। সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনে হাউস অফ কমন্সের অধিবেশন হবে, সেখানে এমপিদের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে অ্যান্ডিকে।

  • School Bullying: হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সন্তানের আচরণ! স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে না তো? চিনে নিন লক্ষণগুলি

    School Bullying: হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সন্তানের আচরণ! স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে না তো? চিনে নিন লক্ষণগুলি

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য অবসর পেলেও খেলাধুলাতেই বিশ্রাম খুঁজে পেত! বাড়িতে অতিথি এলে, তার কাছ ছাড়তেই ছাড়তো না। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা, সময় কাটানো ছিলো খুবই পছন্দের। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেল তার প্রকৃতি! পরিবারের একরত্তির হঠাৎ আচরণ বদলে চিন্তিত অভিভাবকেরা। পড়াশোনার প্রতি অনীহা, অতিরিক্ত জেদ তৈরি হলো! বকাবকির জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলো। এমন অবস্থার মুখোমুখি বহু বাবা-মা হচ্ছেন। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন, সেটাও বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান করতে না পারার জন্য সন্তানের জীবনে নানান জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম সচেতনতা জরুরি। কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে।

    কী বলছে আন্তর্জাতিক গবেষণা?

    সম্প্রতি স্কুল পড়ুয়াদের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে স্কুল পড়ুয়াদের নিগ্রহের ঘটনা বাড়ছে। শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের পাশপাশি, তারা নানান রকমের মৌখিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। তাদের ভবিষ্যতে একাধিক সমস্যার কারণ হচ্ছে, শৈশবের এই মানসিক যন্ত্রণা। শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ দ্রুত পাওয়া গেলেও, মানসিক নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া মুশকিল হয়। আর সেখানেই জটিলতা বাড়ছে! তবে কয়েকটি দিকে নজর দিলে এই সমস্যা কিছুটা আয়ত্ত করা যেতে পারে বলেই জানাচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তান বুলিং-য়ের শিকার হচ্ছে কি না?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে কয়েকটি আচরণগত পরিবর্তনে নজর দিলেই সমস্যা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে জানা সহজ হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রত্যেক বাচ্চার যেমন কিছু আলাদা প্রকৃতি থাকে, আবার কিছু কিছু পছন্দ এক রকম হয়। হঠাৎ এমন কিছু স্বভাব পরিবর্তনে নজর দিলেই সমস্যা রয়েছে কিনা আন্দাজ করা যেতে পারে।

    সন্তান হঠাৎ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে!

    সাধারণত শিশুরা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে। কিন্তু কোনো স্কুল পড়ুয়া যদি একদম মেলামেশা করতে পছন্দ না করে, তার যদি কোনও বন্ধু না থাকে, খুব গুটিয়ে থাকে তাহলে সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে সে নিজের সমস্যা ভাগ করে নিতে পারছে না। আবার হয়তো বন্ধুমহলেই সে মানসিক ভাবে নিগ্রহের শিকার হচ্ছে, তাই তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে চাইছে না। বন্ধুদের কথায় সে নিগ্রহের শিকার হলে, তার মধ্যে একাকিত্বের সমস্যা বাড়বে। তাই সন্তানের বন্ধু না থাকলে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগে অনীহা!

    পরিবারে অতিথি আসলে কিংবা কোথাও নেমতন্ন থাকলে, সাধারণত শিশুরা উচ্ছ্বসিত থাকে। অধিকাংশ সময়েই তারা অতিথির সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করে। কিন্তু হঠাৎ যদি সন্তান সম্পূর্ণ নিজেকে গুটিয়ে রাখে, কোনো কারণ ছাড়াই সে নিজের ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছে না, মেলামেশা করতে চাইছে না। আবার কোথাও নেমতন্ন থাকলেও যেতে নারাজ, তাহলে বুঝতে হবে, তার সামাজিক যোগাযোগের উপরে অনীহা তৈরি হয়েছে। যা একেবারেই স্বাভাবিক নয়। তাই সেই আচরণে গুরুত্বপূর্ণ দিয়ে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা জরুরি।

    অতিরিক্ত জেদ ও খিটখিটে মেজাজ!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের যেকোনো বিষয়ে অতিরিক্ত জেদ ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিলে বাড়তি‌ নজরদারি প্রয়োজন। অনেক সময়েই খুব সামান্য বিষয়, যেমন খাবার খাওয়া, ঘুম থেকে ওঠা নিয়েও সন্তান অতিরিক্ত জেদ করতে থাকে। পরিবারের সকলের সঙ্গেই খিটখিটে মেজাজে কথা বলে। এই আচরণে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    পড়াশোনা ও স্কুল যাওয়ার প্রতি অনীহা!

    পড়াশোনার প্রতি অতিরিক্ত অনীহা তৈরি এবং স্কুলের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হলে, অভিভাবকদের উচিত সেদিকে নজর দেওয়া। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, লাগাতার বুলিং-য়ের শিকার হলে সেই জায়গার প্রতি ভয় তৈরি হয়। সেখান থেকেই অনীহার জন্ম হয়। সন্তান যদি হঠাৎ স্কুল যেতে না চায়, কিংবা পড়াশোনার প্রতি একেবারেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেখানে মানসিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে কিনা, সেটা যাচাই করা জরুরি।

    কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সচেতনতা এবং সতর্কতাকে হাতিয়ার করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতে পারে। অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে, তবেই বড় সঙ্কট আটকানো সহজ হবে। মনোরোগ চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত কিছুটা সময় সন্তানের সঙ্গে গল্প করে কাটাতে হবে। পরিবারের একজনের সঙ্গে যেকোনো সমস্যার কথা সে প্রকাশ করতে পারে, এই বিশ্বাস শিশুর মনে থাকা জরুরি। যাতে সে যেকোনো সমস্যা সহজেই বলতে পারে। প্রথম থেকেই যেকোনো সমস্যা ভাগ করে নিতে পারলে সমাধান সহজ হয়। বন্ধুরা কী বললো, স্কুলে কী হলো, খেলার মাঠে কেমন সময় কাটলো, এই সবকিছুই ভাগ করে নিতে পারলে বড় বিপদ আটকানো যাবে। প্রথম থেকেই সমস্যা সম্পর্কে বোঝা যাবে। সেই মতো পরিস্থিতি সামলানোর পথ ও খোঁজা সহজ হবে। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই ব্যস্ত আধুনিক জীবনে সন্তান একাকিত্বে ভোগে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বড্ড কম থাকে। ফলে তারা কোনো রকম সমস্যার মুখোমুখি হলেও কীভাবে সেটা সমাধান করবে, বুঝতে পারে না। অধিকাংশ সময়েই পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Human Trafficking In Bengal: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএ-র জালে রাজ্যের ৭

    Human Trafficking In Bengal: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএ-র জালে রাজ্যের ৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ (Human Trafficking In Bengal) করিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে একটি বড় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তদন্তকারীদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং বাগদা সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র অবৈধ অনুপ্রবেশের কাজ চালিয়ে আসছিল। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মণ্ডল-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সদস্য। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্তের অরক্ষিত অংশ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করানো হতো।

    কীভাবে চলত অবৈধ অনুপ্রবেশ

    তদন্তে উঠে এসেছে, সীমান্ত (Indo-Bangladesh Border) পার হওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে সড়কপথে হাওড়া স্টেশনে নিয়ে আসা হতো। সেখান থেকে ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করে তাদের দিল্লি, মুম্বই, পুণে, সুরাট, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এনআইএ-র প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই চক্র শুধুমাত্র অবৈধ অনুপ্রবেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তারা এমন একটি সুসংগঠিত ট্রানজিট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, যার মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়েই দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ত অনুপ্রবেশকারীরা। গোটা চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং বিদেশি যোগসাজশ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    তদন্তকারী সংস্থার মতে, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের অরক্ষিত অংশ দিয়ে সহজে অনুপ্রবেশের অভিযোগ সামনে আসায় সম্পূর্ণ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে এনআইএ। অনুপ্রবেশ ঠেকানো মোদি সরকারের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগেই এই কথা বারবার বলে এসেছেন বিজেপির নেতারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেলন, সরকার ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট এই নীতির মাধ্যমে খুঁজে খুঁজে এক একজন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-কে দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। উপদ্রুত এলাকায় ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং-এর কথা বলেছেন। প্রয়োজনে আরও আধুনিক যন্ত্র আনার কথাও হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ

    এই ঘটনাকে ঘিরে ফের আলোচনায় এসেছে পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিষয়টি। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-র দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি না পাওয়ায় অনেক এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে ছিল। রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রায় ১,০২৫ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকা সফরেরও কথা রয়েছে, যেখানে বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ৮৬৪ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গে। যার একটা বড় অংশ উত্তরবঙ্গের।

    প্রভাবশালী যোগাযোগ

    তবে তদন্তকারী মহলের একাংশের মতে, এত বড় মানবপাচার ও অনুপ্রবেশ চক্র কোনও প্রভাবশালী যোগাযোগ ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ফলে এই চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারির রাশ (India Bangladesh Border Security) আরও শক্ত করতে ইতিমধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের চেনা ছক সম্পূর্ণ বানচাল করতে এক অভিনব ও কঠোর যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে যাতে কোনওভাবেই অনুপ্রবেশ না ঘটতে পারে, তার জন্য নিশ্ছিদ্র ব্লু-প্রিন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে (Bengal Border Infiltration Plan)। সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম এলাকাগুলিতে নজরদারি দ্বিগুণ করা, সীমান্তে যে কোনও ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ করা, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় আরও মজবুত করা এবং সবচেয়ে বড় কথা, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যে কোনও গোপন বা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও বেশি গতিশীল ও মসৃণ করার উপর জোড় দেওয়া হয়েছে।

  • WB Panchayat Recruitment: বদলে যাচ্ছে পঞ্চায়েতে নিয়োগের নিয়ম! ১১ হাজার শূন্যপদ নিয়ে বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

    WB Panchayat Recruitment: বদলে যাচ্ছে পঞ্চায়েতে নিয়োগের নিয়ম! ১১ হাজার শূন্যপদ নিয়ে বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্মীর অভাব! তাই থমকে পঞ্চায়েতের কাজ? এবার হবে সব সমস্যার সমাধান। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং রাজ্যবাসীর পরিষেবা ত্বরান্বিত করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরে ১১ হাজার কর্মচারী নিয়োগ (WB Panchayat Recruitment) করা হবে। বড় ঘোষণা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)। সোমবার বিধানসভার বাদল অধিবেশন শুরুর দিন বিধানসভায় নিজের কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, কর্মীর অভাবে পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর।

    নিয়োগ পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন

    এত দিন পর্যন্ত পঞ্চায়েত আইনের অধীনে জেলা স্তর থেকে পৃথকভাবে পঞ্চায়েতের কর্মী নিয়োগ সম্পন্ন হত। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতি আনতে বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার বদলে কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়োগের (WB Panchayat Recruitment) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার পিএসসির মাধ্যমে পঞ্চায়েতে নিয়োগের কথাও ঘোষণা করলেন তিনি। তবে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের হাতে নিয়োগের দায়িত্ব তুলে দিতে হলে রাজ্যকে পঞ্চায়েত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। রাজ্য সরকার দ্রুত আইন সংশোধন করে এই দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পিএসসি-র হাতে সঁপে দিতে প্রস্তুত।

    কী বললেন দিলীপ ঘোষ?

    এদিন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা এক লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রথম ও অন্যতম বড় ধাপ হিসেবেই পঞ্চায়েতের এই ১১ হাজার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।”

    মন্ত্রীর কড়া বার্তা

    উল্লেখ্য, রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই অধিকাংশ পঞ্চায়েতে এক অদ্ভুত প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের প্রধান ও নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন বা পদত্যাগ করেছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রে সই মিলছে না এবং উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রয়েছে। এর আগেও এই বিষয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি অবিলম্বে জনপ্রতিনিধিদের কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে, দায়িত্বে অবহেলা করলে তার ফল ভালো হবে না। এবার সেই অচলাবস্থা কাটাতে একদিকে যেমন উধাও হওয়া প্রধানদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামো সচল করতে দ্রুত ১১ হাজার পদে নতুন রক্ত আনার পথ প্রশস্ত করলেন মন্ত্রী।

  • International Biology Olympiad 2026: বিশ্বমঞ্চে ভারতের তরুণদের দাপট, আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ১ সোনা ও ৩ রুপো জয়, শুভেচ্ছা মোদির

    International Biology Olympiad 2026: বিশ্বমঞ্চে ভারতের তরুণদের দাপট, আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ১ সোনা ও ৩ রুপো জয়, শুভেচ্ছা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানের মঞ্চে আরও এক গর্বের মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। লিথুয়ানিয়ায় অনুষ্ঠিত ৩৭তম আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াড (International Chemistry Olympiad 2026)-এ অসাধারণ পারফরম্যান্সে পদক জয় দেশের চার প্রতিনিধির। বিশ্বের সেরা তরুণ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে ভারতীয় দলটি ১টি স্বর্ণপদক এবং ৩টি রৌপ্যপদক অর্জন করেছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    বিজয়ীদের তালিকা ও সাফল্য

    লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় ভারতের চার মেধাবী শিক্ষার্থী তাঁদের পারদর্শিতা প্রমাণ করেছেন। স্বর্ণপদক পেয়েছেন ভাব্য গুণওয়াল। রুপোর পদক গিয়েছে সৌমিল মাইতি, নিশীত কালানি ও আনমোল কুমারের ঝুলিতে। হাইস্কুল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াড (International Chemistry Olympiad 2026) বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা হিসেবে গণ্য হয়। এখানে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক- উভয় পরীক্ষাতেই কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষার্থীদের।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    এই ঐতিহাসিক জয়ে আনন্দ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)। তরুণ বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “এই সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের। এটি দেশের আরও বহু শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে উৎসাহিত করবে।” প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীরা জীববিজ্ঞানের একাধিক জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ শাখায় নিজেদের গভীর জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মলিকিউলার বায়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি (Molecular Biology and Biochemistry), অ্যানিম্যাল ফিজিওলজি (Animal Physiology), অ্যানিম্যাল মরফোলজি অ্যান্ড সিস্টেমেটিক্স (Animal Morphology and Systematics), প্ল্যান্ট কম্পিউটেশনাল বায়োলজি (Plant Computational Biology)।

    ভারতের কৃতিত্ব

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্বজুড়ে দেশের তরুণ বিজ্ঞান প্রতিভার ক্রমবর্ধমান ক্ষমতারই প্রতিফলন। ৩৭ তম আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে চার-এ-চার পদক জয় ভারতের বিজ্ঞান চর্চার ঝুলিতে আরও একটি নতুন ও উজ্জ্বল পালক যুক্ত করল।

  • Bengali Language: সরকারি কাজে এবার বাধ্যতামূলক বাংলা ভাষা! অমিত শাহের চিঠির পর বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর

    Bengali Language: সরকারি কাজে এবার বাধ্যতামূলক বাংলা ভাষা! অমিত শাহের চিঠির পর বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নয়, এবার সরকারি কাজে বাংলা ভাষা (Bengali Language)! মাতৃভাষার মর্যাদা বাড়াতে এবং প্রশাসনিক কাজে তার প্রয়োগ বাড়াতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি দফতরে প্রশাসনিক কাজের প্রধান ভাষা হবে বাংলা (BengaliLanguage)। সরকারি ফাইল, নোটিস, আদেশ, দফতরের চিঠিপত্র থেকে শুরু করে পুলিশের কাছে FIR দায়ের- সব ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রের সঙ্গে সরকারি চিঠিপত্র বাংলায় পাঠানো হবে, তবে প্রয়োজনে হিন্দিতেও যোগাযোগ করা যাবে।

    রবিবারের ঘোষণার পর সোমবার বড় সিদ্ধান্ত

    রবিবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ভারতীয় ভাষা বিষয়ক দেশের প্রথম শব্দ জাদুঘর ‘শব্দলোক’ (Museum of Words)-এর উদ্বোধনে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছিলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা ও প্রশাসনিক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, সোমবার সকাল ১১টায় বিধানসভায় সেই চিঠি পড়ে শোনাবেন। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই এদিন অধিবেশনের শুরুতে চিঠির মূল বক্তব্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই তিনি ঘোষণা করেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা (Bengali Language) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

    কোন কোন ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক?

    রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে-

    • ● ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয় এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে ফাইল পরিচালনা, নোটিস, সরকারি আদেশ ও অফিসিয়াল চিঠিপত্র বাংলায় করা হবে।
    • ● আবেদনপত্র, শংসাপত্র, নাগরিক পরিষেবা, ডিজিটাল প্রশাসন, সরকারি পোর্টাল, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, প্রশিক্ষণ সামগ্রী, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমেও বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
    • ● পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত পরিষেবায় FIR, অভিযোগ নথিভুক্তকরণ, নাগরিক তথ্য এবং জনসচেতনতামূলক বার্তাও বাংলায় দেওয়া যাবে।
    • ● ভারত সরকারের সঙ্গে সরকারি চিঠিপত্রের ক্ষেত্রেও ইংরেজির পরিবর্তে বাংলাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রয়োজনে হিন্দিতেও চিঠিপত্র আদানপ্রদান করা যাবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘‘গতকাল অমিত শাহ আমাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাতে সরকারি কাজকর্মে বাংলা ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক হবে। আমরা বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক কার্যকর করলাম। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এই সময়কালে অনুবাদক রাখব। ভারত সরকার ও অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে যে চিঠিপত্র করা হবে, তা বাংলা ভাষাতেই (Bengali Language) করব। উত্তরও দেব। রাজ্যে সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাতৃভাষাকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী যে উপদেশ দিয়েছেন, তা গ্রহণ করলাম।’’

    চিঠিতে কী লিখেছিলেন শাহ?

    মুখ্যমন্ত্রীর পড়ে শোনানো চিঠিতে অমিত শাহ উল্লেখ করেন, প্রশাসন, শিক্ষা এবং জনজীবনে ভারতীয় ভাষাগুলির যথাযথ স্থান নিশ্চিত করা উচিত। মানুষের নিজের ভাষায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং জনমুখী হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে বাংলা ভাষাকে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে আরও বেশি করে প্রয়োগ এবং উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    বাংলা ভাষার ভূয়সী প্রশংসা শাহের

    অন্যদিকে, রবিবার ন্যাশনাল লাইব্রেরির অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা (Bengali Language) ও সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ ভাষাকে তৈরি করেনি, ভাষাই মানুষকে তৈরি করেছে। কোনও দেশের সংস্কৃতি ভাষা ছাড়া পূর্ণতা পায় না। ভাষাই একটি জাতির ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বাহক। বাংলা পাঁচ দশক এগিয়ে থেকে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’’ বাংলা সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঋষি অরবিন্দ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘আজ বাংলা আবার সোনার বাংলা হয়েছে। ভাষার মাধ্যমেই একটি দেশের সংস্কৃতিকে বোঝা যায়। শব্দ ও ভাষা ছাড়া সংস্কৃতি অসম্পূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের যে উদ্যোগ চলছে, এই শব্দ জাদুঘর সেই প্রচেষ্টাকেই আরও শক্তিশালী করবে।’’

    বাংলা ভাষার ঐতিহ্য ও মাধুর্য

    মায়ের মুখে শোনা প্রথম সুর, হৃদয়ে গাঁথা আজীবনের অনুভূতি। বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, আবেগ, আত্মপরিচয় ও শিকড়ের সবচেয়ে মধুর ঠিকানা। রবীন্দ্রনাথের গান, নজরুলের কবিতা, জীবনানন্দের প্রকৃতিপ্রেম- বাংলার প্রতিটি শব্দে মিশে আছে ইতিহাস, সাহিত্য আর অনুভূতির গভীরতা। প্রায় এক হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করা বাংলা ভাষার (Bengali Language) প্রাচীনতম সাহিত্য নিদর্শন ‘চর্যাপদ’। তবে এই ভাষার ইতিহাস শুধু সাহিত্যচর্চার নয়, আত্মত্যাগেরও। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন ভাষাসৈনিকরা। সেই ত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করে। যা ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। আজ ৩০ কোটিরও বেশি মানুষের মুখের ভাষা বাংলা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও বহুল ব্যবহৃত ভাষা। এটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বাঙালির গর্ব, ঐতিহ্য, আত্মপরিচয় এবং ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক।

    ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদার পর আরও এক পদক্ষেপ

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষা (Classical Language)-র মর্যাদা দিয়েছে। সেই ঐতিহাসিক স্বীকৃতির পর এবার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সরকারের মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজ হবে এবং মাতৃভাষার মর্যাদাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বাংলা ভাষার ব্যবহার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

  • FIFA World Cup 2026: মঞ্চ ছাড়লেন না ট্রাম্প! স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে উল্লাসে মাতলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ইন্টারনেটে বিদ্রুপের ঝড়

    FIFA World Cup 2026: মঞ্চ ছাড়লেন না ট্রাম্প! স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে উল্লাসে মাতলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ইন্টারনেটে বিদ্রুপের ঝড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে (MetLife Stadium) বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের (Spain) শিরোপা জয়ের আনন্দের মধ্যেই তৈরি হল এক অস্বস্তিকর মুহূর্ত। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে স্পেন অধিনায়ক রদ্রির (Rodri) হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পরও মঞ্চ ছাড়তে দেরি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। স্পেনের সঙ্গেই উল্লাস করলেন ট্রাম্প। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষ পর্যন্ত ফিফা (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে (Gianni Infantino) হস্তক্ষেপ করতে হয়। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

    বিতর্কের কেন্দ্রে ট্রাম্প

    খেলার শুরুতে ভিআইপি বক্সে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বসেছিলেন সস্ত্রীক ট্রাম্প। তাঁকে দেখা মাত্র গ্যালারি জুড়ে বিদ্রুপ শুরু হয়। শিস্‌ দেন দর্শকদের একাংশ। ট্রাম্প অবশ্য বিশেষ পাত্তা দেননি। খোশগল্পে মেতেছিলেন তিনি। একটা সময় দেখা যায়, বিশ্বকাপের ট্রফি তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি তা কিছু ক্ষণ কোলে রেখে সামনে রেখে দেন। খেলা শেষে ইনফান্তিনোর সঙ্গেই মাঠে এলেন ট্রাম্প। উঠলেন মঞ্চে। ট্রাম্প মাঠে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আবার বিদ্রুপ শুরু হল। তার মাঝেই ফুটবলারদের গলায় মেডেল পরিয়ে দিলেন ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো। শেষে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দিলেন ট্রাম্প। তার পরেই শুরু নাটক। প্রথমে ফুটবলারদের মধ্যেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ফিফার কয়েক জন কর্তা তাঁকে সরতে বলেন, যাতে স্পেনের ফুটবলারেরা উল্লাস করতে পারেন। ট্রাম্প একটু সরলেন বটে, কিন্তু নামলেন না।

    ট্রাম্পই বিশ্বকাপ জিতলেন!

    এই ঘটনা অবশ্য প্রথম নয়। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপের সময়েও একই কাজ করেছিলেন ট্রাম্প। চ্যাম্পিয়ন দল চেলসির সঙ্গে উল্লাস শুরু করেছিলেন। সেই সময় চেলসির অধিনায়ক রিসি জেমস প্রায় ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্পকে। এ বার অবশ্য স্পেন তেমন কিছু করেনি। ভিডিওতে দেখা যায়, রদ্রি প্রথমে ইঙ্গিত করে ট্রাম্পকে সরে যেতে বলেন। তবে তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। স্পেনের ফুটবলাররা যখন ট্রফি নিয়ে উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনও ট্রাম্প ক্যামেরার ফ্রেমে ছিলেন। ফলে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন স্প্যানিশ ফুটবলাররা। ট্রাম্প মঞ্চ ছাড়তে দেরি করায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁকে ট্রাম্পের হাত ধরে মঞ্চের এক পাশে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে সেখানেও তিনি পুরোপুরি সরে যাননি। বরং স্পেনের ফুটবলারদের একেবারে পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পও উল্লাসে মাতলেন। ভাবখানা এমন, যেন তিনিই বিশ্বকাপ জিতেছেন।

    সোশাল মিডিয়ায় কটাক্ষের বন্যা

    ঘটনাটি সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে মজা করেছেন, আবার কেউ তীব্র সমালোচনা করেছেন। একজন লেখেন, ‘‘ফটোশপ তো এখন অনেক উন্নত, তাই সমস্যা হবে না!” আরেকজনের মন্তব্য, “সবকিছুতেই নিজেকে কেন্দ্রবিন্দু বানাতে চান।’’ আরও এক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের কল্পিত প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘‘স্পেনে সবাই আমাকে এত ভালোবাসছিল যে ছবির জন্য থেকে যেতে বলছিল!’’ অন্যদিকে, এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, ‘‘ট্রাম্প গোটা বিশ্বের কাছে লজ্জার কারণ হয়ে উঠেছেন।’’ তবে সবাই সমালোচনা করেননি। একজন লেখেন, ‘‘এটাই ট্রাম্পের স্টাইল, যেন গোটা শহরটাই তাঁর।” আরেকজন বলেন, “এটাই আমেরিকান স্বভাব, সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চায়।’’ এক ব্যবহারকারী গত বছরের চেলসির ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন, ‘‘চেলসি ট্রফি জেতার পরও তিনি এমনভাবেই দলের সদস্যের মতো মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন।’’

  • Shrabani Mela 2026: ‘জয় বাবা তারকনাথ’! শ্রাবণী মেলায় তারকেশ্বরজুড়ে নিরাপত্তা বলয়, প্রস্তুত বিকল্প রাস্তা

    Shrabani Mela 2026: ‘জয় বাবা তারকনাথ’! শ্রাবণী মেলায় তারকেশ্বরজুড়ে নিরাপত্তা বলয়, প্রস্তুত বিকল্প রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাখো ভক্তের ঢল ও ৩৭ কিমি হাঁটা পথ- শ্রাবণী মেলায় (Shrabani Mela 2026) বাবা তারকনাথের পুজোয় সেজে উঠছে তারকেশ্বর (Tarakeswar)। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যে নজিরবিহীন প্রশাসনিক উদ্যোগ। শ্রাবণ মাসে বাবা তারকনাথের মাথায় জল ঢালতে প্রতি বছর লাখো লাখো ভক্তের সমাগম হয়। এ বছর প্রায় এক কোটি পুণ্যার্থীর ভিড় হতে পারে- এই লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্প্রতি হরিপাল বিডিও অফিসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা শ্রীরামপুরের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং এবং পুলিশ কমিশনার সুনীল যাদব। বৈঠক শেষে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশিকা মেনে মেলা প্রাঙ্গণ ও যাত্রাপথের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হচ্ছে।

    বিশেষ দিনের সূচি

    জুলাই ও অগাস্ট মাসজুড়ে শ্রাবণী মেলাকে (Shrabani Mela 2026) ছ’টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। ১৪-২০ জুলাই, ২৪-২৭ জুলাই, ৩১ জুলাই-৩ অগাস্ট, ৭-১০ অগাস্ট, ১৪-১৭ অগাস্ট এবং ২২-২৩ অগাস্ট। শনি, রবি ও সোমবার সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। তাই এই দিনগুলিতে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ছোট গলির আনাজ বিক্রেতাদের সকাল ৯টা পর্যন্ত বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের উদ্যোগে তৈরি করা হবে জলসত্র। এখানে ঠান্ডা গরম দু’রকম জলেরই ব্যবস্থা থাকবে।

    যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প রুট

    মেলা উপলক্ষে উক্ত দিনগুলিতে শ্বেতপুর মোড়, দিল্লি রোড, দীর্ঘাঙ্গী মোড় থেকে ১২ নম্বর রুট, বিঘাটি মোড়, পিয়ারাপুর, চাঁপসরা, বৈদ্যবাটি- তারকেশ্বর রোড, চন্দননগর হাসপাতাল মোড় থেকে বৈদ্যবাটি চৌমাথায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাশাপাশি ডালহৌসি জুটমিল, মঞ্জুশ্রী, রিষড়া মৈত্রীপথ ও বাঘখাল পর্যন্ত নো-এন্ট্রি থাকবে। চন্দননগর, ভদ্রেশ্বর, শ্রীরামপুর, রিষড়া এবং উত্তরপাড়া থানা সীমানার প্রধান সড়কগুলিতে অটো, টোটো, ই-রিকশা ও ইঞ্জিন ভ্যান সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

    বিকল্প রাস্তার নির্দেশিকা

    • চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বর এলাকা: পালপাড়া রোড, বিঘাটি মোড় এবং দিল্লি রোড হয়ে দর্জি মোড় দিয়ে যাতায়াত করা যাবে।
    • শ্রীরামপুর ও রিষড়া এলাকা: অমূল্যকানন, প্রভাসনগর, বটতলা মোড়, জিতেন লাহিড়ী রোড ও ৪ নম্বর রেলগেটের রাস্তা ব্যবহার করা যাবে।
    • উত্তরপাড়া এলাকা: বিশালাক্ষ্মী মোড়, রেললাইনের ধার, সুধীর ঘাট ও ধারসা মোড় দিয়ে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো

    নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গার জল তুলে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তারকেশ্বর মন্দিরে যান ভক্তরা। দীর্ঘ এই যাত্রাপথকে সুগম করতে প্রশাসন একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    • স্বাস্থ্যসেবা- ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স: শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর (Tarakeswar) পর্যন্ত প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ মজুত থাকবে। দ্রুত চিকিৎসার জন্য মণিকমল হাসপাতালেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গঙ্গায় স্নান ও জল তোলার নিরাপত্তার জন্য ১৪টি ঘাটে নজরদারি চলবে এবং যেকোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকছে ‘ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স’।
    • পানীয় জল ও পরিচ্ছন্নতা: পঞ্চায়েতগুলির উদ্যোগে সমগ্র যাত্রাপথে আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফ থেকে ঠান্ডা ও গরম পানীয় জলের সুব্যবস্থা (জলসত্র) থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ১৫০ মিটার অন্তর প্রায় শতাধিক অস্থায়ী ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে।
    • সহায়তা ও নজরদারি: প্রতিটি মোড়ে কড়া পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি উঁচুতে ওয়াশ টাওয়ার থেকে নজর রাখবে পুলিশ ও কমিশনারেট। পথচলতি পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য বিতরণ করা হবে বিশেষ ‘গাইড ম্যাপ’, যাতে পানীয় জল, শৌচালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট চিহ্নিত থাকবে। রেলগেটে দুর্ঘটনা এড়াতে জিআরপি ও অতিরিক্ত পুলিশকর্মী রাখা হচ্ছে। সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ট্রেন চালাবে পূর্ব রেলও।

    ঐতিহ্যের তারকেশ্বর

    কলিকাতা থেকে মাত্র ৫৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাচীন এই শৈবতীর্থ। হাওড়া থেকে দেড় ঘণ্টার ট্রেনযাত্রায় পৌঁছানো যায় তারকেশ্বর (Tarakeswar) স্টেশনে। আটচালা স্থাপত্যের ঐতিহ্যমণ্ডিত এই মন্দিরে গর্ভগৃহে বিরাজ করছেন স্বয়ং বাবা তারকনাথ। মন্দিরের পশ্চিমে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘দুধ পুকুর’ বা শিবগঙ্গা। ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রাবণ মাসে বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গার জল এনে শ্রাবণে বাবা তারকনাথকে স্নান করালে সকল মনোবাসনা পূর্ণ হয়। প্রশাসনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রাবণী মেলাকে (Shrabani Mela 2026) এবার এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।”

LinkedIn
Share