Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Abhishek Banerjee: বুলডোজার অ্যাকশন শুরু, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আমতলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের কার্যালয়

    Abhishek Banerjee: বুলডোজার অ্যাকশন শুরু, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আমতলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের কার্যালয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর আমতলার অফিসে চলল বুলডোজার। ৫ তলা অফিস বেআইনিভাবে তৈরির অভিযোগ, ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার ওই সাংসদ কার্যালয় চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনাস্থলে রয়েছে দমকল ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও। পাঁচতলা এই কার্যালয়টি ভাঙতে আনা হয়েছে ৩টি বুলডোজার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই জোড়া শুনানির নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। তবে সেই নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় শনিবার বুলডোজার নিয়ে যাওয়া হল বিল্ডিং ভাঙার জন্য।

    বুলডোজার অ্যাকশন

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই কার্যালয়টি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। জেলা প্রশাসনের দাবি, এই কার্যালয়টি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। কোনও নথি ছাড়া এই কার্যালয়টি তৈরি হয়। কার্যালয়ের নির্মাণের কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি অভিষেক। যে কারণে বিল্ডিংটি ভেঙে ফেলা হল। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নামানো হয়েছে পুলিশ ব়্যাফ। বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর শুরু হয় বুলডোজারের অ্যাকশন। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের ৫ তলা কার্যালয়। শনিবার সকালে প্রথমে কার্যালয়ের সামনে থাকা নীল রঙের শেডটি ভেঙে ফেলা হয়। ভবনের সামনে শেড ভাঙার পরে ভেঙে ফেলা হয় দোতলার সামনের দেওয়াল। সেখানে ততক্ষণে জড়ো হন এলাকাবাসীদের অনেকেই। কেউ কেউ ভবনের ভিতরেও ঢুকে পড়েন। তাঁদের ভবনের ভিতর থেকে বার করে দেয় পুলিশ।

    বিপত্তারিণীর দিনে বিপদ দূর!

    এই কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর আগে ১৫ জুলাই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে শুনানির জন্য জোড়া নোটিস পাঠায় প্রশাসন। বহু বিজেপি কর্মীকে দেখা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)আমতলার অফিসের সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে। সেখান থেকে এক বিজেপি কর্মী-সমর্থক বলেন, ‘‘এখান থেকে বিগত দিনে আমাদের এত অত্যাচার করা হয়েছে, আমাদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হত না। মারধর করা হত। এই সেই জায়গা, যেখান থেকে আমাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। আজ বিপত্তারিণীর দিনে বিপদের খনিটাকেই উপড়ে দেওয়া হবে।’’

    বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস

    অপর এক বিজেপি কর্মী-সমর্থক উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘‘এখান থেকে তৈরি হয়েছে শাহজাহান, জাহাঙ্গির। অবৈধ সন্তান তৈরি হয়েছে এখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজত্ব করার জন্য। বাবর থেকে ঔরঙ্গজেবের জন্ম এই অফিস থেকে। যার জন্য় এই সমাজের অবস্থা। আজ আমাদের পশ্চিমবঙ্গ রসাতলে চলে গিয়েছে। সবার আগে দরকার এখান থেকে এটা তুলে ফেলা। এটা অবৈধ। এখান থেকে বসে বসে আমাদের ওপর কী পরিমাণ অত্যাচার করা হয়েছে, আমরা জানি।’’ বিজেপি কর্মীরা অভিষেকের আমতলার সাংসদ কার্যালয়ের সামনে ‘ভারত মাতা কী জয়’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন। ওই সময় বিজেপি কর্মীদের জমায়েত সরিয়ে ফেলতেও দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তারই মাঝে এক বিজেপি কর্মী বলেন, ‘‘এই সেই ঘাঁটি যেখান থেকে অভিষেক পাপী তৈরি করেছিল।’’ প্রসঙ্গত, আমতলায় নিজের কার্যালয় নিয়ে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়লেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় সই জাল করার মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আরও এক মাসের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন।

    কেন কড়া পদক্ষেপ

    ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূলের তরফে কোনও সভা হলে তা এই কার্যালয়ে আয়োজন করা হত। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন গত ৩০ জুন প্রথম নোটিস পাঠিয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আমতলার কার্যালয়ে। সেই নোটিসে কার্যালয় নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও অনুমোদন নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। পরে ৭ জুলাই আরও একটি নোটিস দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের দফতরে হাজির হয়ে বিষয়টি নিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, পরপর দুটি নোটিস পাঠানো হলেও তার কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনের দফতরেও হাজির হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই প্রশাসন আরও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা শাসক, এসডিও, বিডিওও সকলে মিলে এই বিল্ডিংটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, যে জমির ওপর এই কার্যালয়টি নির্মিত হয়েছে, সেটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে কেনা হয়েছিল। সেই জমির নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে বলেও প্রশাসনের তরফে দাবি। এই সমস্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েই নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। পরপর দু’বার নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

    মাঠপুকুর-এর পর আমতলা!

    গত ২৪ মে ইএম বাইপাসের ধারের মাঠপুকুর এলাকায় দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোডের উপরে থাকা তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল ট্যাংরা থানার পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে একটি বাড়ির সামনের অংশ দখল করে প্রথমে ‘মাঠপুকুর ব্যায়াম সমিতি’ নামে ক্লাব তৈরি হয়। পরে সেটিই তৃণমূলের কার্যালয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মদ-জুয়ার আসর ও নানা অসামাজিক কাজ চলত বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসীরা। এবার স্থানীয় লোকেদের অভিযোগে ভেঙা ফেলা হল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর আমতলার কার্যালয়।

  • PM Modi On Vikram-1 Launch: ‘ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়’, বিক্রম-১-এর সাফল্যে স্কাইরুটকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi On Vikram-1 Launch: ‘ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়’, বিক্রম-১-এর সাফল্যে স্কাইরুটকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তা আরও একবার প্রমাণিত হল। ভারতের প্রথম বেসরকারি কক্ষপথগামী রকেট ‘বিক্রম-১’-এর সফল উৎক্ষেপণের পর এমনই অভিমত ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi On Vikram-1 Launch)। ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রা ইতিহাস গড়ল। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেস-এর ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) শনিবার যাত্রা শুরু করল। এটি শুধু সংস্থাটির জন্যই নয়, গোটা দেশের জন্যও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণে সক্ষম বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ভারত। এরপরই হায়দরাবাদভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ স্কাইরুট (Skyroot’s Vikram-1) অ্যারোস্পেস-কে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি এই সাফল্যকে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের জন্য এক অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন।

    ‘বিক্রম-১’ -এর সফল উৎক্ষেপণ

    মহাকাশে পাড়ি দিল দেশের প্রথম অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’। শনিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সেটির উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রাথমিক ভাবে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিক্রম-১ লঞ্চ করার কথা ছিল। কিন্তু তার ঠিক ৫ মিনিট আগেই তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। ঠিক কী কারণে শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট নয়। তার পরে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রকেটটি শেষপর্যন্ত মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক ড. বিক্রম সারাভাই-এর নামে এই রকেটের নামকরণ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা

    শনিবার উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পবন চন্দনা, ভারত ডাকাসহ পুরো স্কাইরুট দলকে অভিনন্দন। তোমাদের এই সাফল্য দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দেবে। উৎক্ষেপণের পুরো অনুষ্ঠান আমি দেখেছি। তোমাদের দলের অধিকাংশ সদস্যের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে—এটাই ভারতের নতুন শক্তি।” মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, বেসরকারি সংস্থার জন্য মহাকাশ খাত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সময় নানা সংশয় ও আপত্তি উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যখন মহাকাশ খাতকে বেসরকারি সংস্থার জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তাব আসে, তখন অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আজ আমার দলকেও স্বীকার করতে হবে যে ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়।”

    ভারতের মহাকাশ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

    বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ভারত প্রথমবারের মতো একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কক্ষপথে রকেট পাঠানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করল। এর ফলে স্কাইরুট বিশ্বের সেই সীমিত সংখ্যক সংস্থার তালিকায় স্থান করে নিল, যারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে কক্ষপথগামী রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করার আগে আরও এক বা দুটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পরিচালনা করা হবে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, বিক্রম-১ টেস্ট ফ্লাইট-১-এর পেলোডগুলির মধ্যে রয়েছে একটি অত্যন্ত বিশেষ স্মারক—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের হাতে লেখা একটি পোস্টকার্ড, যাতে লেখা রয়েছে “বন্দে মাতরম”। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্মারকটি ‘মিশন আগমন’-এর অংশ। স্কাইরুটের ভাষায়, “মিশন আগমন হলো এমন এক উদযাপন, যা অসংখ্য মানুষের হাত ধরে মহাকাশে পৌঁছেছে এবং যার গর্ব ভাগ করে নিচ্ছে গোটা দেশ।”

    ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানে বড় পদক্ষেপ

    স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি বিক্রম-১ একটি ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণকারী কক্ষপথগামী রকেট। এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ক্ষুদ্র উপগ্রহ উৎক্ষেপণ বাজারে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘মিশন আগমন’ নামে পরিচিত এই উৎক্ষেপণটি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (SDSC-SHAR)-এর প্রথম উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে সম্পন্ন হয়। পরীক্ষামূলক এই অভিযানে দেশি ও বিদেশি গ্রাহকদের একাধিক পেলোড বহন করা হয়েছে।

    ‘প্রথম চেষ্টাতেই কক্ষপথে পৌঁছানো অবিশ্বাস্য’

    সফল উৎক্ষেপণের পর স্কাইরুটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পবন চন্দনা বলেন, “এটি শুধু স্কাইরুটের জন্য নয়, ভারতের এবং বিশ্ব মহাকাশ শিল্পের জন্যও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রথম প্রচেষ্টাতেই আমরা কক্ষপথে পৌঁছাতে পারব, তা আমি ভাবিনি।” তিনি আরও জানান, “বিশ্বের অনেক দেশ ও সংস্থাকে উৎক্ষেপণের অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন পেতে কোনও বিলম্ব হয়নি।”

    ইসরোর সাম্রাজ্যে বিক্রম-১-এর থাবা!

    ‘বিক্রম-১’ সফল হলে নতুন ইতিহাস তৈরি করবে ভারত। এর ফলে ভারত প্রথমবার কোনও বেসরকারি সংস্থার তৈরি রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাবে। এতদিন শুধুমাত্র সরকারি সংস্থা ইসরো মহাকাশে রকেট পাঠাত। কিন্তু এ বার সেই ধারায় বদল আসতে চলেছে। তবে এই অভিযানে নানা ভাবে সহযোগিতা করেছে ইসরো (ISRO)। সাততলা ভবনের সমান উচ্চতার বিক্রম-১ রকেটটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত লো আর্থ অরবিট (Low Earth Orbit)-এর উদ্দেশে যাত্রা করল। আমেরিকা ও চিনের পর ভারতই হল বিশ্বের তৃতীয় দেশ, যেখানে কোনও বেসরকারি সংস্থা কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণ সম্ভব হল। স্কাইরুটের দাবি, তারা এমন একটি পরিষেবা চালু করতে চায়, যাকে তারা ‘মহাকাশে ক্যাব সার্ভিস’ বলে অভিহিত করছে। অর্থাৎ, ঠিক যেমন সহজে একটি ক্যাব বুক করা যায়, তেমনই ভবিষ্যতে সংস্থাগুলি একটি রকেট ভাড়া করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে উপগ্রহ স্থাপন করতে বা মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছতে পারবে।

  • Ladakh: ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, ১,০০০ মিটার গভীর কূপ, লাদাখে তৈরি হল দেশের প্রথম জিওথার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

    Ladakh: ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, ১,০০০ মিটার গভীর কূপ, লাদাখে তৈরি হল দেশের প্রথম জিওথার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল লাদাখের (Ladakh) পুগা উপত্যকায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১,০০০ মিটার নিচে দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর ভূ-তাপীয় (Geothermal) কূপ সফলভাবে কমিশন করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ওএনজিসি এনার্জি সেন্টার (ONGC Energy Centre), যা ভারতের প্রথম ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জিওথার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই গভীর কূপের উদ্বোধন করেন। বিশ্বের অন্যতম প্রতিকূল ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিবেশে এই ড্রিলিং সম্পন্ন হওয়ায় একে প্রকৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পথে সাফল্য!

    পুগা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ ভূ-তাপীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ এবং ভূ-তাপীয় কার্যকলাপের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে বহু আগে থেকেই। নতুন এই কূপগুলির মাধ্যমে এবার পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ খুলে গেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর ও বায়ুশক্তির মতো আবহাওয়া-নির্ভর নয় জিওথার্মাল শক্তি। ফলে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন মোটেও সহজ ছিল না। ১৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় অক্সিজেনের স্বল্পতা, তীব্র শীত, দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা এবং কঠিন পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যেও ওএনজিসি এনার্জি সেন্টার (ONGC Energy Centre) সফলভাবে দেশের গভীরতম ভূ-তাপীয় কূপ খনন করেছে। এই দুটি কূপ থেকেই ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

    ভূ-তাপীয় শক্তির ক্ষেত্রেও দেশের অগ্রণী রাজ্য লাদাখ!

    প্রকল্পটি একসময় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে থমকে গিয়েছিল। লাদাখ প্রশাসন, লাদাখ অটোনোমাস হিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (LAHDC), লে এবং ওএনজিসি এনার্জি সেন্টার (ONGC Energy Centre)-এর মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের (MoU) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি. কে. সাক্সেনার উদ্যোগে চলতি বছরের জুন মাসে চুক্তির মেয়াদ আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়। এরপরই দ্রুত কাজ শেষ করে দুটি কূপ কমিশন করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে লাদাখ শুধু সৌরশক্তির কেন্দ্র হিসেবেই নয়, ভূ-তাপীয় শক্তির ক্ষেত্রেও দেশের অগ্রণী রাজ্যে পরিণত হবে। পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে ভারতের অন্যান্য সম্ভাবনাময় ভূ-তাপীয় অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথও সুগম করবে।

  • Sir Garfield Sobers: প্রয়াত গ্যারি সোবার্স! ছ’বলে ছ’ছক্কা মারা বিশ্বের প্রথম ব্যাটারের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রিকেট মহল

    Sir Garfield Sobers: প্রয়াত গ্যারি সোবার্স! ছ’বলে ছ’ছক্কা মারা বিশ্বের প্রথম ব্যাটারের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রিকেট মহল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেটের বাইশ গজে নক্ষত্রপতন। শুক্রবার বার্বাডোজে নিজের বাড়িতে প্রয়াত হলেন সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার স্যর গ্যারফিল্ড সোবার্স (Garry Sobers)। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। সোবার্স আজীবন স্মৃতিতে থাকবেন ১৯৬৮ সালে গড়া তাঁর একটি কীর্তির জন্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটার হিসেবে এক ওভারে ছ’টি ছয় মেরেছিলেন তিনি। তবে গোটা জীবনে এ রকম কীর্তি আরও অনেক রয়েছে। সোবার্স রেখে গেলেন একরাশ স্মৃতি, যার অনেক কিছুই এখনকার প্রজন্ম জানে না। টেস্ট ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করেছেন। পাশাপাশি বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিন ও রিস্ট স্পিনও করতেন। সঙ্গে ফিল্ডার হিসাবেও ছিলেন দুর্ধর্ষ। তাঁর ক্লোজ ইন ফিল্ডিং সকলের প্রশংসা আদায় করে নিয়েছিল।

    হৃদয়ে থাকবেন চিরকাল

    ১৯৫৩-এ ১৬ বছর বয়সে বার্বাডোজের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের (Sir Garfield Sobers)। তিনি এতটাই প্রতিভাবান ছিলেন যে দ্রুত দেশের হয়ে খেলার জন্য তাঁর ডাক পড়ে। পরের বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অভিষেক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন সোবার্স। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে। ৫৭.৭৮ ব্য়াটিং গড়ে ৮০৩২ রান করেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে ৩৪.০৩ বোলিং গড়ে নিয়েছিলেন ২৩৫ উইকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফর্ম্যাটে ভাল খেলার স্বীকৃতি হিসেবে যে পুরস্কার দেয় আইসিসি, সেই স্মারকেরও নামকরণ করা হয়েছিল তাঁরই নামে -স্যর গ্যারফিল্ড সোবার্স অ্যাওয়ার্ড। তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, ‘দারুণ একটা ইনিংস শেষ হল। স্যর গ্যারফিল্ড সোবার্স আমাদের হৃদয়ে থাকবেন, আজ, চিরকাল।’

    বিশ্ব ক্রিকেটের আইকন

    ১৯৫৮-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম শতরান করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন। সেই সময়ে সেটিই ছিল টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এর পর ১৯৯৪-এ সেটি ভাঙেন ব্রায়ান লারা। সোবার্স ১৯৭৪-এ ৩৮ বছর বয়সে অবসর নিয়েছিলেন। অনেকেই মনে করেন, যে মাপের ক্রিকেটার ছিলেন তাতে অবসর একটু আগেভাগেই নিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁর অবসরের পর ‘উইসডেন’ লিখেছিল, “সোবার্স মানসিক এবং শারীরিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। যে ক্রিকেট তাঁর জীবনের সমান ছিল, সেই ক্রিকেট সম্পর্কেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। হাঁটুরও চরম ক্ষতি হয়েছিল। নিজের প্রতিভার শিকার হয়েছিলেন সোবার্স। কারণ তিনি অনেক কিছু করতে পারতেন। তাই বার বার সেই কাজ করতেই ডাকা হয়। অনেক ক্রিকেটারের চেয়ে বেশি খেটেছেন তিনি।” তাঁর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও। ভারতের শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময় বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের সঙ্গে দেখা করতে মাঠে গিয়েছিলেন সোবার্স। সেই ছবি পোস্ট করে বিসিসিআই লিখেছে, “স্যর গ্যারফিল্ড সোবার্সের মৃত্যুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড মর্মাহত। বিশ্ব ক্রিকেটের আইকন, সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। অবিশ্বাস্য কীর্তির মালিক। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে অপরিসীম অবদান, এমন একটা ছাপ রেখে গেলেন যে, চিরকাল তা অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। ওঁর পরিবার, বন্ধুবর্গ ও বিশ্ব ক্রিকেটের সকলকে সমবেদনা জানাই। ওঁর আত্মা শান্তি পাক।”

  • Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি দখল, আর্থিক তছরূপ এবং বেআইনি নির্মাণ ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ১০০ পাতার এই অভিযোগপত্র শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের ইডির বিশেষ আদালতে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ১৮ মে গ্রেফতারের প্রায় দুই মাসের মধ্যেই এই চার্জশিট দাখিল করা হল।

    ইডির অভিযোগ, সোনা পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে কসবা ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রবীণ ও অসহায় জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কিনে নিত। পরে সেই জমিতে বেআইনি নির্মাণ করে বিপুল আর্থিক লাভ করা হতো। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এই পুরো চক্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং মাসল পাওয়ার ব্যবহার ছিল নিয়মিত কৌশল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোনা পাপ্পু। এই মামলায় প্রায় ২০০ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

    চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই চক্র পরিচালনায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মদত ছিল। তদন্তে সোনা পাপ্পু, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং অপর অভিযুক্ত জয় কামদারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে বলে ইডি জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জয় কামদারের সহযোগিতায় সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে অস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয় এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হয়েছিল। পরে ইডির তল্লাশিতে সেই পিস্তল উদ্ধার হয়। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, অস্ত্র কেনার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই রবীন্দ্র সরোবরের কাকুলিয়া রোড এলাকায় সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই সোনা পাপ্পু আত্মগোপনে চলে যায়।

    ইডির অভিযোগ, পলাতক থাকার সময় একাধিকবার তলব করা হলেও সোনা পাপ্পু তদন্তে সহযোগিতা করেননি। পরে তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। চলতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জেরার সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে। এরপরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

    ইডির দাবি, জমি দখল, প্রতারণা, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চলছিল। তদন্ত এখনও চলছে। ইতিমধ্যেই সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলার তদন্তও চলছে।

  • Bipadtarini Puja 2026: বিপদ থেকে রক্ষা, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি! আজ বিপত্তারিণী ব্রত, জানুন ব্রতের মাহাত্ম্য

    Bipadtarini Puja 2026: বিপদ থেকে রক্ষা, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি! আজ বিপত্তারিণী ব্রত, জানুন ব্রতের মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১৮ জুলাই শনিবার, বিপত্তারিণী পুজো। প্রত্যেক বছর আষাঢ় মাসে রথযাত্রা এবং উল্টোরথের মধ্যে যে শনি এবং মঙ্গলবার পড়ে সেই দুই দিনেই পালিত হয় বিপত্তারিণী ব্রত উত্‍সব। কথিত আছে, এই ব্রত পালন করার সময় দেবীর চরণে উৎসর্গকৃত ‘লাল তাগা’ বা লাল সুতো হাতে বাঁধা থাকলে বিপদ ধারকাছেও ঘেঁষতে পারবে না। এবছর, আজ এবং ২১ জুলাই, মঙ্গলবার পালিত হবে বিপত্তারিণী ব্রত।

    যিনি বিপদকে তারণ করেন তিনিই বিপত্তারিণী

    দেবাদিদেব মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী, আদি শক্তি হলেন দেবী দুর্গা। অন্যান্য দেবী তাঁরই অবতার বা ভিন্ন রূপ। দেবী দুর্গার ১০৮ রূপের মধ্যে এক রূপ, দেবী বিপত্তারিণী। সঠিক অর্থে বিশ্লেষণ করলে ‘বিপত্তারিণী’ বা ‘সঙ্কটনাশিনী’ দেবীর নাম নয়, উপাধি। যিনি বিপদ তারণ করেন, তিনিই বিপত্তারিণী। আবার সব রকমের সঙ্কটকে বিনাশ করেন, তাই তিনিই সঙ্কটনাশিনী। আসলে, মহামায়ার আলাদা করে কোনও নাম হয় কি? ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ ইনিই। আবার ‘দশমহাবিদ্যা’ও তাঁরই রূপের প্রকাশ।

    স্বামী-সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় বিপত্তারিণী

    বাংলায় ঘরে ঘরে বিবাহিত মহিলারা স্বামী-সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় মা বিপত্তারিণী পুজো করেন। গ্রামাঞ্চলে বিপত্তারিণী পুজো চারদিন ধরে চলে। প্রথম দিনে দেবীর আরাধনা করা হয়। মহিলারা গঙ্গা বা কোনও নদীতে স্নান করে দণ্ডী কাটেন। তারপর দুই রাত্রি ধরে রাতে বাংলা লোকগান, ভজন ও কীর্তন চলে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়। বিপত্তারিণী পুজো উপলক্ষে মেয়েরা উপবাস করেন। কিন্তু জানেন কি এই পুজোর মাহাত্ম্য? দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে একাধিক বৃত্তান্ত রয়েছে। দেবীর বিপত্তারিণী রূপ নিয়ে ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’ কাহিনীটি বেশ জনপ্রিয়—

    ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’ কী বলা হয়েছে?

    কথিত আছে, শুম্ভ-নিশুম্ভ, অসুর ভ্রাতৃদ্বয়ের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে দেবগণ একবার মহামায়ার স্তব করছেন, এমন সময় শিবজায়া পার্বতী সেখানে হাজির হয়ে শুধালেন, “তোমরা কার স্তব করছ গো?” যাঁর স্তব, তিনি স্বয়ংই এ প্রশ্ন করছেন। কিন্তু দেবতারা তাঁকে চিনতে পারলেন না। তখন পার্বতী নিজের স্বরূপ দেখিয়ে বললেন, “তোমরা আমারই স্তব করছ।” এর পরবর্তীতে দেবী শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করেন। দেবতাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন। সেই থেকে বিপত্তারিণী পুজোর উৎস।

    দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে একাধিক বৃত্তান্ত

    এই পুজোর একটি কাহিনি রয়েছে। ব্রতকথা অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশের এক রানির এক নিম্নবর্ণের সখী ছিলেন। তিনি জাতে মুচি। এই মহিলা নিয়মিত গোমাংস খেতেন। রানিও একদিন কৌতূহলী হয়ে গোমাংস খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। প্রথমে তিনি নিমরাজি হন। পরে তিনি রানির আদেশ রক্ষার্থ গোমাংস আনেন। অন্তঃপুরে গোমাংস প্রবেশ করেছে— এই খবর রাজার কাছে পৌঁছে যায়। তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে রানিকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন। রানি গোমাংস তাঁর বস্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে রেখে বিপত্তারিণী মা দুর্গাকে স্মরণ করতে থাকেন। রানিকে তল্লাশি করে রাজা দেখতে পান তাঁর বস্ত্র আড়ালে গোমাংস নয়, রয়েছে একটি লাল জবা ফুল। লাল জবা কালী পুজোর অন্যতম উপকরণ। মায়ের এই পুষ্প দেখে রাজা তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। রানিকে ক্ষমা করে দেন। মা বিপত্তারিণী দুর্গার কৃপায় রানির বিপদ কেটে গেল। এরপর থেকে রানি নিষ্ঠা-সহকারে বিপত্তারিণীর ব্রত করতে থাকলেন। সেই থেকেই বিপত্তরিণীর পুজো প্রচলিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ব্রত পালনে কী কী লাগে?

    ঘট, আম্র পল্লব, শীষ সহ ডাব, একটি নৈবেদ্য, ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো (সঙ্গে ১ত টি দূর্বা বাঁধা), ১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি দূর্বা, ১৩টি পান ও ১৩টি সুপুরি।

    এই পুজোয় তেরো সংখ্যার তাৎপর্য

    এই পুজোর একটা বিশেষ নিয়ম হল সবকিছু ১৩টা করে উৎসর্গ করতে হয় দেবীকে। ব্রতর আচার হিসেবে সব কিছু দিতে হয় তেরোটি করে। যেমন— তেরোটি নৈবেদ্য সাজাতে হয়। ব্রত পালনে লাগে তেরো রকম ফুল, তেরো রকম ফল, তেরোটি পান, তেরোটি সুপুরি, তেরোটি এলাচ। এছাড়া, বিপত্তারিণী ব্রতপালনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে হাতে বাঁধতে হয় লাল ডুরি বা ডোর বা তাগা। এই ডোর তৈরির ক্ষেত্রেও তেরো সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। তেরো গাছা লাল সুতোর সঙ্গে তেরোটি দূর্বা রেখে তেরোটি গিঁট বেঁধে তৈরি হয় এই পবিত্র তাগা বা ডোর। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে তাঁকে কোনও বিপদ স্পর্শ করতে পরে না৷

    লাল রঙের তাগা কেন বাঁধা হয়

    বিপত্তারিণীর পুজো শেষে হাতে লাল তাগা বাঁধার চল রয়েছে। মেয়েরা এই তাগা বাঁ হাতে পরেন আর ছেলেরা ডান হাতে পরেন। সেই তাগাতেও ১৩টি গিঁট বাঁধা হয়। সেই ১৩টি গিঁটে দেবী দুর্গার ১৩টি রূপে বিরাজ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ১৩টি গিঁট ছাড়াও তাতে ১৩টি দূর্বাঘাস বাঁধা হয়। এই তাগা অনেকে সারা বছর ধরে পরে থাকেন, অনেকে আবার তিন দিন পরার পর নদী বা পুকুরের জলে ভাসিয়ে দেন। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে বিপদ কোনও দিন আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

    খাবারেও ১৩ সংখ্যা আবশ্যিক

    বিপত্তারিণী পুজোর শেষে সকলেই হাতে ওই ডোর বেঁধে দেওয়া হয়৷ মেয়েরা বাম হাতে ও ছেলেরা ডান হাতে এটি পরেন৷ এটি শুধু ব্রত পালন যিনি করছেন তিনিই যে বাঁধেন তা নয়, পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাঁধেন বিপন্মুক্তির জন্য৷ ব্রতপালনের পর খাবার যা খেতে হয়, সেখানেও ১৩ সংখ্যা রাখা আবশ্যিক৷ মায়েরা প্রসাদ হিসেবে খান, তেরোটি লুচি বা পরটা সঙ্গে তেরো রকমের ফল। চাল-চিঁড়ে-মুড়ি এসব খাওয়া যায় না৷ ফল বা ময়দার রান্না যাই খাওয়া হোক না কেন সেটা ১৩ সংখ্যায় গ্রহণ করার কথাই ব্রতে বলা হয়৷ তবে যদি সেটা না হয় তাহলে পুজো মিটে যাওয়ার পর বিজোড় সংখ্যাতেও খাদ্যগ্রহণ করা যায়৷

    বিশ্বাস করা হয়, বিপত্তারিণী পুজো (Bipadtarini Puja) করলে শুধু বিপদই নয় অর্থ সঙ্কট থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। এবং ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ হয়। তবে, বিপত্তারিণী পুজোর বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে, যা নিয়ম নিষ্ঠা করে পালন করতে হয়। তবে না জেনে এই বিপত্তারিণী পুজো করলেই হতে পারে চরম বিপদ।

  • Suvendu in Bankura: “আপনার হাতে অনেক সময়, এসে দেখে যাবেন” বাঁকুড়ায় স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে মমতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Suvendu in Bankura: “আপনার হাতে অনেক সময়, এসে দেখে যাবেন” বাঁকুড়ায় স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে মমতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্যাম স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটলে ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পের উদ্বোধনে শুক্রবার বাঁকুড়ায় গিয়ে এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ফের রাজ্যের বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার শিল্পকে চূড়ান্ত অবহেলা করেছে। তারা কিছুই করে যায়নি শিল্পের জন্য। এমনকী রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেজিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এসেছে বলেই বিমুখ শিল্পপতিরা বাংলায় ফিরছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার বিজেপি সরকার না এলে শ্যাম স্টিল ওড়িশায় চলে যেত। বাংলার মানুষ বেঁচে গিয়েছে। তৃণমূল গিয়েছে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গিয়েছে। বাংলায় বন্ধ হয়েছে গুন্ডা ট্যাক্স। বাংলায় ফিরছেন বিমুখ শিল্পপতিরা।”

    কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে

    বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা এলাকার জমি সব বৃষ্টিনির্ভর ও একফসলি। সেখানেই মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্যাম স্টিলের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান আগেই হয়েছে। এখন কোম্পানির কর্তৃপক্ষ কারখানার সম্প্রসারণ করতে চলেছেন। কোম্পানি সূত্রে খবর, কোম্পানির ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টকে আরও বৃহৎ ও অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন তো বাড়বেই, সেই সঙ্গে বাঁকুড়া জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এই প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখানে বিনিয়োগের জন্য এসেছি। প্রচুর মানুষের কাজ হবে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম— এই সব জায়গায় শিল্প না আনতে পারলে, এখানকার উন্নয়ন হবে না। অনুসারী শিল্পের প্রসারও ঘটবে না। এখানকার প্রত্যেকটা গ্রাম থেকে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে বাইরের রাজ্যে চলে গিয়েছেন কাজের জন্য। তারাও ফিরে আসবেন না। এখন যেটা হচ্ছে, সেটা বাংলার পক্ষে ভালো উদ্যোগ।’

    মমতাকে খোঁচা শুভেন্দুর

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেজিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনার হাতে অনেক সময় আছে। প্ল্যান্টের ভিতর এসে দেখে যাবেন। এতদিন কথায় কথায় বিশেষ করে মাড়োয়াড়ি, গুজরাতিদের বহিরাগত বলতেন। বলতেন উত্তর প্রদেশ করতে দেব না। আমি অভিভূত, প্ল্যান্টে মন্দির তো আছেই, নন্দী মহারাজ তো আছেই, গো শালা তো আছেই, সঙ্গে নেতাজি, রবীন্দ্রনাথের মূর্তিও রয়েছে। আপনি এসে দেখে যাবেন। সরকারি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেব।” এদিন তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, দশকের পর দশক ধরে বাংলা বঞ্চনার শিকার। আগের সরকার শিল্পকে অবহেলা করেছে। বর্তমান সরকার শিল্প আনতে চায়। এই সরকারের সঙ্গে শিল্পপতিদের সম্পর্ক প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক নয়। বাংলার যে শিল্পায়নের কথা বলছি আমরা, তার তো পার্টনার শিল্পপতিরা। এত দিন যে বিজ়নেস সামিট হয়েছে, সে সব বোগাস। ও সব ঢক্কানিনাদ। আমি শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে দেখলাম, আমিই তো স্টার্ট আপ মন্ত্রী। আমার পূর্বসূরিরা কিছুই রেখে যাননি, কিছুই করে যাননি। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’

    কারাখানা বন্ধ করলেই কড়া পদক্ষেপ

    কারখানায় তালা বন্ধ করলেই হাজতবাস। কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইন শৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। এজন্য গুন্ডা দমন আইন আনা হয়েছে। কারখানার গেটে তালা লাগালে গ্রেফতার হবে। কারখানা ভেঙে দিলে তিনগুণ আদায় করব। কারখানায় ভাঙচুর করলেই অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব।”

    শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান

    শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “৩৪ বছর বামেদের আমলে গুলি করে জমি নিয়েছে। তৃণমূল গত ১৫ বছরে বলেছে আমরা জমি দিতে পারব না, শিল্পপতিরা নিজেরা জমি কিনে নিক। আমরা জমি কিনে শিল্পপতিদের দেব। রাজ্য সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। পঞ্চায়েত পুরসভায় অনুমতি নিতে হলে আগে শুনতে হত আমাদের একটু দেখুন। ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ করলে কোনও পঞ্চায়েত, পুরসভায় আপনাদের যেতে হবে না। এবং প্রথম ২ বছর জল, বিদ্যুৎ সব দেব। ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে কেউ আসবে না। সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। এই সরকার পরিকাঠামোর জন্য এয়ারপোর্ট, রেল, সি-পোর্ট সব করে দেবে।”

  • BLA Attacks Pak Military Convoy: পাক সেনা কনভয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি জওয়ান! দাবি বিএলএ-র

    BLA Attacks Pak Military Convoy: পাক সেনা কনভয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি জওয়ান! দাবি বিএলএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশ আবারও যুদ্ধক্ষেত্র পরিস্থিতি। মাস্তুং জেলায় সেনা কনভয়ে অতর্কিত হামলা বালোচ লিবারেশন আর্মির (BLA Claims Attacks on Pakistani Military Convoy)। হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা জওয়ান। হামলাটির নেপথ্যে ছিল বিএলএ-এর বিশেষ কমান্ডো ইউনিট। অবশ্য এই হামলার খবরকে ভুয়ো ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাক সেনা।

    কীভাবে হামলা (BLA Claims Attacks on Pakistani Military Convoy)?

    বিএলএ-এর দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, কোয়েটা-করাচি মহাসড়কের খাদকোচা (Khadkocha) এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। বিএলএ-এর দাবি, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জওয়ানদের বহনকারী বাসের একটি বড় বহরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় বালোচ সেনার বিশেষ এলিট ফোর্স ‘ফাতাহ স্কোয়াড’। প্রাথমিক হামলার পর ঘটনাস্থলে যখন অতিরিক্ত পাকিস্তানি সেনা (Reinforcements) উদ্ধারকাজের জন্য পৌঁছয়, তখন তাদের উপরও দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।

    ক্ষয়ক্ষতি

    বিএলএ-এর দাবি, হামলায় সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি বাস সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা ৪৫ ছাড়িয়ে গেছে। অভিযানের তীব্রতা বিবেচনা করে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি ও হাসপাতালের তৎপরতা

    হামলার পর থেকেই ওই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও থমথমে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাস্তুঙের স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে জরুরি অবস্থা (Emergency Alert) জারি করা হয়েছে। সমস্ত ডাক্তার ও চিকিৎসা কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আহত সেনাদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। তবে বিএলএ-এর এই দাবিগুলো স্বাধীন কোনও সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    কেন অশান্ত বালোচিস্তান (Balochistan)?

    বালোচিস্তানে (Balochistan) এই ধরনের সংঘাত নতুন কিছু নয়। দশকের পর দশক ধরে এখানে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ চলছে। এর মূল কারণগুলো হল, বালোচিস্তান পাকিস্তানের আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট। এখানকার বালোচ জাতিগোষ্ঠী সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর বালোচিস্তানের কালাত রাজ্য স্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জোরপূর্বক এই অঞ্চলটি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করে। বালোচদের অভিযোগ, তখন থেকেই তাদের উপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে এবং তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করা হচ্ছে। নিজেদের অধিকার আদায় ও স্বাধীনতার দাবিতে বিএলএ-সহ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার এই লড়াই আর কতদূর এগোয়?

  • Murshidabad Accident: ‘গাফিলতি মানব না, কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য

    Murshidabad Accident: ‘গাফিলতি মানব না, কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারের বৃষ্টিভেজা সকাল, আর তাতেই নেমে এলো ঘন অন্ধকার। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে লেভেল ক্রসিং খোলা থাকার খেসারত দিতে হলো স্কুলপড়ুয়াদের। ট্রেনের ধাক্কায় খেলনা গাড়ির মতো দুমড়ে-মুচড়ে গেল একটি স্কুলগাড়ি। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় (Murshidabad Accident) ৪ শিশু-সহ এখনও পর্যন্ত মোট ৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহতদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা। মুর্শিদাবাদের ঘটনায় সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘটনার নেপথ্যে থাকা কোনও রকম প্রশাসনিক বা রেলের গাফিলতিকে রেয়াত করা হবে না। স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Murshidabad Accident)?

    প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, স্টেশন সংলগ্ন লেভেল ক্রসিংটি দুর্ঘটনার সময়ে খোলা ছিল। ক্রসিং খোলা দেখেই লাইনের উপর উঠে পড়েছিল স্কুলপড়ুয়া বোঝাই গাড়ি এবং এক সাইকেল আরোহী। ঠিক সেই মুহূর্তেই তীব্র গতিতে ছুটে আসে ট্রেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক বিপর্যয়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ শিশু-সহ মোট ৫ জনের। ইতিমধ্যেই গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেল ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

    দুর্ঘটনার খবর পেয়েই এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর। একই সঙ্গে কর্তব্যে গাফিলতি নিয়েও সুর চড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি লেখেন, “কোনও প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যের পুলিশ ইতিমধ্যেই রেলওয়ের গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। আমি কথা দিচ্ছি, যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা

    দুর্ঘটনার (Murshidabad Accident) খবর পাওয়া মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসার নির্দেশ দেয় নবান্ন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়ভার নিয়েছে রাজ্য। তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ও আহতদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত হাসপাতালে যান মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। আহতের পাশে থাকার আশ্বাস মন্ত্রীর। এছাড়াও সকাল থেকেই ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল চত্বরে রয়েছেন জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপার (SP)।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তদারকি

    মুর্শিদাবাদের ঘটনার (Murshidabad Accident) তদারকিতে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি নিজে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।

    সুরক্ষায় তৎপর প্রশাসন

    এই কঠিন সময়ে কোনও রকম দোষারোপের রাজনীতিতে না গিয়ে, দুর্গত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে রেল ও রাজ্য সরকার। একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের দ্রুত আর্থিক সাহায্য ও নিখরচায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা বিপর্যস্ত পরিবারগুলোকে বড় ভরসা জুগিয়েছে, অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষও দ্রুত তদন্ত শুরু করে সুরক্ষার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে। প্রশাসন ও রেলের এই যৌথ সংবেদনশীলতা এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দুই পক্ষই বদ্ধপরিকর। ঘরের সন্তানকে হারানোর এই ক্ষতি হয়তো পূরণ হওয়ার নয়, তবে সরকার ও রেলের এই সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যতের জন্য কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসই এখন শোকস্তব্ধ এলাকায় সান্ত্বনার আলো দেখাচ্ছে।

LinkedIn
Share