Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Maoist Encounter: মাথার দাম ১ কোটি ১০ লক্ষ! হিডমার পর ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষনেতা গণেশ

    Maoist Encounter: মাথার দাম ১ কোটি ১০ লক্ষ! হিডমার পর ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষনেতা গণেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাও-দমনে ফের বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। গত মাসেই নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারামারাজুতে নিহত হয়েছিলেন মাওবাদী শীর্ষনেতা মাডবী হিডমা। তার ঠিক এক মাসের মধ্যেই ওড়িশার (Odisha) কন্ধমলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে (Maoist Encounter) নিহত হলেন আরও এক মাওবাদী শীর্ষনেতা গণেশ উইকে। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। এই সংঘর্ষের ২৪ ঘণ্টা আগে মালকানগিরিতে ২২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। নিরাপত্তাবাহিনীর এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এটা আমাদের বাহিনীর জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। মাও নেতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। গণেশের মৃত্যুতে মাওবাদীদের সাংগঠনিক কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে।’’

    রাতভর চলে এনকাউন্টার

    পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ ওড়িশার (Odisha) কন্ধমল জেলার জঙ্গলে মাওবাদীদের (Maoist Encounter) একটি দলকে ঘিরে ফেলে বিএসএফ এবং সিআরএফ জওয়ানরা। এরপর শুরু হয় ধুন্ধুমার গুলির লড়াই। তাতেই মৃত্যু হয় মোট চার জন মাওবাদীর। এই চার জনের একজন হলেন মাও সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য গণেশ উইকে। নিহত বাকি তিন জনের মধ্যে দু’জন মহিলা সদস্য বলে জানা গিয়েছে। তেলেঙ্গানার নলগোন্ডা জেলার চেন্দুর মণ্ডলের পুল্লেমালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন গণেশ উইকে। যদিও মাওবাদী সদস্যদের কাছে গণেশ পাক্কা হনুমন্তু, রাজেশ তিওয়ারি, চামরু এবং রুপা নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, গণেশের মাথার দাম ছিল এক কোটি দশ লক্ষ টাকা। হিডমার মৃত্যুর পর গণেশের খোঁজেও তল্লাশি চলছিল। বুধবার রাতে গোপন সূত্রে কন্ধমলের বেলঘর থানায় খবর আসে ওই জেলার গুম্মার জঙ্গলে একদল মাওবাদী জড়ো হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শীর্ষনেতাও আছেন। সেই খবর পেয়েই রাতে অভিযানে যায় পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর যৌথ দল। রাতভর তল্লাশি অভিযান চলে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। ওডিশার ডিজিপি যোগেশ বাহাদুর খুরানিয়া জানান, প্রথম এনকাউন্টার হয় বেলঘর থানা এলাকার গুম্মার জঙ্গলে। বুধবার রাতে ওই জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন মাওবাদীদের দুই সদস্য। তাঁরা সংগঠনের ছত্তিসগড়ের সদস্য ছিলেন। জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে থ্রিনটথ্রি রাইফেল ও ইনসাস রাইফেল, প্রচুর কার্তুজ। দ্বিতীয় এনকাউন্টার হয় বৃহস্পতিবার ভোররাতে।

    সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা

    ঝিরাম ঘাঁটি হামলার অন্যতম অভিযুক্ত গণেশ প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (ডিকেএসজেডসি)-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও তথাকথিত ‘রেড করিডোর’-এর বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ইউনিটগুলির মধ্যে মূল সেতুবন্ধন ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা সংস্থার মতে, পূর্বঘাটে মাওবাদী (Maoist Encounter) সংগঠন বিস্তারের ‘মস্তিষ্ক’ ছিলেন উইকে। বর্তমানে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির মাত্র তিনজন সদস্য অবশিষ্ট ছিলেন—গণেশ উইকে (ওড়িশা), মল্লারাজি রেড্ডি ওরফে সংঘম (ছত্তীসগঢ়) এবং আনন্দা ওরফে তুফান (ঝাড়খণ্ড)। এই অভিযানের ফলে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার কেন্দ্রের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব হল বলে মনে করছে প্রশাসন। চলতি বছরেই একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মে মাসে সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজ এবং নভেম্বরে কমান্ডার মাডভি হিডমার নিহত হওয়ার পর এবার গণেশ উইকের মৃত্যু সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা।

  • Pakistan’s Gaza Troop: গাজায় সেনা পাঠাবে পাকিস্তান! ইসলামাবাদের প্যালেস্টাইন নীতি প্রশ্নের মুখে

    Pakistan’s Gaza Troop: গাজায় সেনা পাঠাবে পাকিস্তান! ইসলামাবাদের প্যালেস্টাইন নীতি প্রশ্নের মুখে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক “স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স”-এ (ISF) পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা দেশটির ভেতরে ও মুসলিম বিশ্বে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচিত এই পরিকল্পনায় যুদ্ধ থামার পর গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন তদারকির কথা বলা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এর বাস্তব প্রভাব হবে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ ও ইজরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের অনুকূলে গাজাকে “শান্ত” রাখা—যা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্যালেস্টাইন-সমর্থক অবস্থানের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।

    ফের বিশ্বাসভঙ্গ করল পাকিস্তান!

    পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি পাকিস্তানের পাসপোর্টে ইজরায়েলে ভ্রমণ নিষিদ্ধ। পাক সংসদও সম্প্রতি গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে প্যালেস্টাইনের প্রতি “ঐতিহাসিক ও অটল সমর্থন” পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে গোপনে “স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স”-এ (ISF) যোগ দেওয়ার আলোচনা পাকিস্তানের নীতিগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের ভেতরে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইজরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে হামাস নিরস্ত্রীকরণে ভূমিকা রাখা হলে তা শান্তিরক্ষার চেয়ে ইজরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হবে। জনমত পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে প্যালেস্টাইনপন্থী ও ইজরায়েল-বিরোধী হওয়ায় এই উদ্যোগকে “বিশ্বাসভঙ্গ” বলেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

    পাক রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াও নেতিবাচক। ইরান, তুরস্ক ও কাতারসহ কয়েকটি প্রভাবশালী মুসলিম দেশের নীতিনির্ধারকেরা পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানকে মুসলিম বিশ্বের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। দেশীয় রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র। ইসলামি দলগুলো সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি) যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনাকে “প্যালেস্টাইনকে অধীনস্থ করার ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করে প্রতিবাদে নেমেছে। সরকারি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মুখে সংঘর্ষের খবরও আসে; পরবর্তীতে ব্যাপক ধরপাকড়, গ্রেফতার ও নানা নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী সংসদে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে যে কোনো সমঝোতা প্যালেস্টাইনের অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে বলে সতর্ক করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সংসদীয় আলোচনা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।

    রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট

    সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। সমালোচকরা দাবি করছেন, অর্থনৈতিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সুবিধার বিনিময়ে এই পরিকল্পনায় এগোনোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে সেনা মোতায়েনের জন্য অর্থনৈতিক দরকষাকষির অভিযোগও তোলা হয়েছে, যদিও এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। আরও বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণ-সহজীকরণ বা নতুন তহবিলের আশ্বাস এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি একটি শান্তিরক্ষামূলক অবদান। তবে বিরোধীদের চোখে, এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের প্যালেস্টাইন নীতিকে দুর্বল করবে, অভ্যন্তরীণ ঐক্যে ফাটল ধরাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গাজায় সেনা পাঠানোর প্রশ্নটি এখন পাকিস্তানের জন্য এক বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

  • Tarique Rahman: ১৭ বছর পর দেশে খালেদার পুত্র তারেক রহমান, জানেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব

    Tarique Rahman: ১৭ বছর পর দেশে খালেদার পুত্র তারেক রহমান, জানেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান (Tarique Rahman)। দীর্ঘদিন লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করে নিতে জড়ো হয়েছেন হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক। বিমানবন্দর সড়ক থেকে বনানী পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে পদযাত্রা করেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক ও নির্ধারণী মুহূর্ত।”

    ২০০৮–২০২৫: নির্বাসনের জীবন

    ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে দেশ ছাড়ার পর থেকে তারেক রহমান (Tarique Rahman) লন্ডনে ছিলেন। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং বিদেশ থেকেই দল পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে ‘হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি পিআর ও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশে মানি লন্ডারিংসহ একাধিক মামলা ছিল, এমনকি শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর সব মামলা থেকে তিনি খালাস পান, ফলে তাঁর দেশে ফেরার আইনি বাধা দূর হয়।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাবর্তনের সময়

    তারেক রহমানের (Tarique Rahman) দেশে ফেরা এমন এক সময়ে হলো, যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদায় নিয়েছেন এবং নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তবে, ইউনূসের আমলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (IRI) ডিসেম্বরের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান—যিনি তারেক জিয়া নামেও পরিচিত—বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং তাঁকে দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ব্যক্তিগত কারণও বড় ভূমিকা

    দলীয় সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের (Tarique Rahman) দেশে ফেরার পেছনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি তার মায়ের শারীরিক অসুস্থতাও বড় কারণ। বেগম খালেদা জিয়া কয়েক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থ। শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলন থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এনসিপির মুখপাত্র খান মুহাম্মদ মুরসালিন বলেন, “চাপ ও হুমকির মুখে তারেক রহমানকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল। তার প্রত্যাবর্তন প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের পথে আমরা তাঁর সঙ্গে থাকব।”

  • Atal Bihari Vajpayee: ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র, বিশ্বাস, আচরণ! জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভারতীয় রাজনীতির এক অবিচল নক্ষত্রকে

    Atal Bihari Vajpayee: ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র, বিশ্বাস, আচরণ! জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভারতীয় রাজনীতির এক অবিচল নক্ষত্রকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতরত্ন অটল বিহারি বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) ছিলেন ভারতীয় রাজনীতির এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যাঁর পরিচয় ক্ষমতা বা পদে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আদর্শ, মানবিকতা ও দেশভক্তির দ্বারা গড়ে উঠেছিল। তাঁর নামের মতোই ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র—দৃঢ় বিশ্বাস, শালীন আচরণ এবং সহমর্মিতায় ভরপুর এক রাষ্ট্রনায়ক। রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও বিরোধীরাও তাঁকে সম্মান করতেন। প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। আস্থা ভোটের আগে লোকসভায় এক অবিস্মরণীয় ভাষণ দিলেন অটলজি। অথবা, তাঁর কাব্যচর্চাকে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের তৎকালীন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী বললেন, শুধু কবিতা লিখলে দেশ চলে না। একটুও মেজাজ না হারিয়ে ততোধিক তীক্ষ্ণ শ্লেষে তিনি বললেন, ঠিকই, শুধু কবিতা লিখলে দেশ চলে না, লিখে রাখা ভাষণ জনসভায় গিয়ে পড়লে দেশ দৌড়য়। তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এমন নানা মুহূর্তের কথা দেশবাসীর মুখে মুখে আজও ঘোরে।

    জন্ম-বড় হওয়া, রাজনীতিতে যোগ

    ১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর গ্বালিয়রে জন্ম অটল বিহারী বাজপেয়ীর (Atal Bihari Vajpayee)৷ অটল বিহারীর পৈত্রিক গ্রাম যদিও ছিল উত্তর প্রদেশের আগ্রা জেলার বটেশ্বরে। সেখান থেকে মধ্য়প্রদেশে গিয়ে বসবাস শুরু করেন অটল বিহারীর ঠাকুরদা শ্যামলাল বাজপেয়ী। তাঁর মা কৃষ্ণা দেবী, বাবা কৃষ্ণবিহারী বাজপেয়ী৷ বাবা ছিলেন কবি, পেশায় স্কুলশিক্ষক৷ কবিতায় হাতেখড়ি বাবার কাছেই৷ গ্বালিয়রের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক হন। পরে কানপুরের ডিএভি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তরে উত্তীর্ণ হন প্রথম শ্রেণিতে। ইংরেজি, হিন্দি, সংস্কৃত— বেশ তরুণ বয়সেই তিনটি ভাষায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন বাজপেয়ী। রাজনীতি বোধ হয় ছিল তাঁর মজ্জায়। ছাত্রাবস্থাতেই ‘আর্যসমাজ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। বাবাসাহেব আপ্তে-র অনুপ্রেরণায় ১৯৩৯ সালে যোগ দেন আরএসএসে। কয়েক বছরের মধ্যেই হয়ে ওঠেন সঙ্ঘের প্রচারক।

    স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ

    দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও যোগ দিয়েছিলেন অটল বিহারী ((Atal Bihari Vajpayee)৷ ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন৷ জেল খেটেছিলেন ২৩ দিন। ১৯৫১ সালে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় অটল যোগ দেন ভারতীয় জনসঙ্ঘে৷ দলের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রিয়পাত্রও হয়ে ওঠেন শীঘ্রই৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্ধ ভক্ত ছিলেন অটলবিহারী। কাশ্মীরে যেতে বিশেষ অনুমতি পত্রকে বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতায় ১৯৫৩ সালে আমরণ অনশনে বসেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। একই সঙ্গে অনশনে বসেছিলেন অটল বিহারীও। এই আন্দোলন চলাকালীনই শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু হলে ভেঙে পড়েন অটল বিহারী। ১৯৫৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর থেকে বাজপেয়ী প্রথম বার লোকসভায় নির্বাচিত হন৷ ১৯৬৮ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘের সর্বভারতীয় সভাপতি হন।

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে প্রথম হিন্দিতে ভাষণ

    হিন্দিতে তাঁর দক্ষতার জন্য সংসদে বার বার প্রশংসিত হয়েছে বাজপেয়ীর বক্তৃতা। এমনকী, অটল বিহারী একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। প্রথম ব্যক্তি হিসাবে বাজপেয়ীই রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে হিন্দিতে ভাষণ দেন। হিন্দির প্রসারে সব সময় সক্রিয় ছিলেন তিনি। উত্তর প্রদেশের সঙ্গে আত্মার যোগাযোগ থাকলেও গোটা দেশে সমান জনপ্রিয় ছিলেন অটল বিহারী। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি গোটা জীবনে চারটি আলাদা রাজ্য থেকে ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন। উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট থেকে সাংসদ ছিলেন তিনি।

    বিজেপির প্রথম সভাপতি

    ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার অবসান। ইন্দিরা-বিরোধী ঐক্য জোরদার করতে চরণ সিং-এর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় লোক দল এবং মোরারজি দেশাইদের কংগ্রেস (ও) এবং বাজপেয়ী-আডবাণীদের জনসঙ্ঘ মিশে যায়, তৈরি হয় জনতা পার্টি। নির্বাচনে ভরাডুবি হয় কংগ্রেসের। মোরারজি দেশাইয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশে প্রথম অকংগ্রেসি মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) সে মন্ত্রিসভায় বিদেশমন্ত্রী হন। নানান মতাদর্শের ‘জগাখিচুড়ি’ জনতা পার্টি অবশ্য বেশি দিন ঐক্যবদ্ধ থাকেনি। ১৯৮০ সালে সাবেক জনসঙ্ঘীরা বেরিয়ে যান জনতা পার্টি থেকে। তৈরি হয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যার প্রথম সভাপতি হন বাজপেয়ী।

    প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী

    ১৯৯৬ সালে লোকসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। দেশের দশম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন অটলবিহারী৷ কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না দলের। ম্যাজিক ফিগার জোগাড়ও করতে পারেননি বাজপেয়ী। ১৩ দিনে পতন ঘটে বাজপেয়ী সরকারের। কিন্তু ইস্তফা দেওয়ার আগে যে ভাষণ অটল দিয়েছিলেন লোকসভায়, তা সংসদে প্রধানমন্ত্রীদের দেওয়া স্মরণীয় ভাষণগুলোর অন্যতম হয়ে রয়ে গিয়েছে। বাজপেয়ী সরকার টেকেনি ঠিকই। কিন্তু কংগ্রেস সমর্থন নিয়ে তৈরি হওয়া সংযুক্ত মোর্চা সরকারও বছর দু’য়েকের বেশি টিকতে পারেনি। ফলে ১৯৯৮ সালে ফের নির্বাচনের মুখোমুখি হয় দেশ। আরও বেশি আসন নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। ফের সরকার গঠন করে এনডিএ। কিন্তু সে বারও পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকতে পারেননি বাজপেয়ী। তেরো মাসে সরকার পড়ে যায়। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনের রায়ও ছিল বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের পক্ষেই। তৃতীয় বার সুযোগ পেয়ে প্রথম অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়েন বাজপেয়ী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় কার্যকালে অটলবিহারী বাজপেয়ী অনেকগুলি ক্ষেত্রে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। দেশের আর্থিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছিল। রাজকোষ দ্রুত ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। দেশ জুড়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন গতি পেয়েছিল।

    তাঁর মুখচ্ছবি সহাস্য

    এক টালমাটাল সন্ধিক্ষণে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন— এক দিকে জোট রাজনীতির উত্থান, অন্য দিকে দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় বদল আনার প্রক্রিয়া। কিন্তু হাজার ঝড়ঝাপ্টা সামলেও অধিকাংশ অবকাশে তাঁর মুখচ্ছবি সহাস্য। আর সর্বোপরি ছিল তাঁর অসামান্য বাগ্মিতা এবং পাণ্ডিত্য। ২৪টি দল নিয়ে গঠিত এনডিএ সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সমন্বয় ও সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর সময়েই জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ও গোল্ডেন কোয়াড্রিল্যাটারালের মাধ্যমে দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসে।

    অসাধারণ কূটনীতিক

    রাজনীতির মতো, কূটনীতিতেও ভারসাম্যের পরিচয় দিতে চেয়েছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে বড়সড় পদক্ষেপ করেছিল ভারত। তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সঙ্গে নিয়ে ভারত-পাক বাসযাত্রার সূচনা করেছিলেন বাজপেয়ী। বলেছিলেন, ‘‘বন্ধু বদলানো যায়৷ কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না।’’ কিন্তু কার্গিলে পাক অনুপ্রবেশ ও দখলদারির খবর পেয়েই সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিতে দ্বিধা করেননি তিনি। অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে পোখরানে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায় ভারত। তাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় নয়াদিল্লিকে। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে ভারতের অভূতপূর্ব সুসম্পর্কের দরজাটাও খুলে দিয়ে যান অটলবিহারী বাজপেয়ী-ই। তাঁর আমলেই ভারত সফরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন। ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা হয়ে যায় ক্লিন্টনের সেই ভারত সফরেই।

    ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    জনসংঘ ও পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টিকে আদর্শিক শক্তি জোগানো এই নেতা সংসদীয় গণতন্ত্রে শালীনতা ও যুক্তিবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সংসদে তাঁর বক্তৃতা ছিল যুক্তি, রসবোধ ও সৌজন্যের অনবদ্য মিশ্রণ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাজপেয়ী লোকসভায় ১০ বার এবং রাজ্যসভায় ২ বার নির্বাচিত হন। জাতীয় স্বার্থকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি হয় যখন প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিংহ রাও বিরোধী দলের নেতা হয়েও অটল বিহারি বাজপেয়ীকে জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। কাশ্মীর ও মানবাধিকার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর সংযত অথচ দৃঢ় বক্তব্য ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। মতাদর্শগত দিক থেকে বাজপেয়ীর চেয়ে অনেকটা দূরত্বে অবস্থান করা মনমোহন সিং বলেছিলেন, ‘‘অটল বিহারী বাজপেয়ী হলেন ভারতীয় রাজনীতির ভীষ্ম।’’ দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট নয়াদিল্লির এইমসে তাঁর মৃত্যু হয়। ‘সদৈব অটল’ নামে তাঁর স্মৃতিসৌধ আজও তাঁর অবিচল আদর্শের প্রতীক।

     

     

     

     

  • Calcutta High Court: রাজ্যের মনোভাবে চরম অসন্তোষ! চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: রাজ্যের মনোভাবে চরম অসন্তোষ! চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মনোভাবে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। চিংড়িঘাটা মেট্রোর অসমাপ্ত কাজ নিয়ে বড় নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন, মেট্রো রেলের (Metro Rail) বকেয়া কাজ আগামী ১৫ ফেব্রিয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। ৬ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্য এবং ট্রাফিক পুলিশকে নিয়ে জানাতে হবে কবে কবে রাস্তা বন্ধ করে কাজ করতে হবে। মমতা সরকার ফের আরেকবার কোর্টে ভর্ৎসনা হয়েছে।

    নির্দেশ দেওয়া শর্তেও কাজ হচ্ছে না (Calcutta High Court)

    চিংড়িঘাটায় মেট্রো রেলের (Metro Rail) কাজ নিয়ে জট কাটাতে ৪ সেপ্টেম্বর সবপক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু সকলে ঐক্যমত হলেও শেষ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর আবার ১৭ ডিসেম্বর ফের আরেকবার সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হলেও কাজের কোনও গতিপ্রকৃতি এগোয়নি। ফলে তাই মঙ্গলবার হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি বলেন, “এখন উৎসবের মরসুম শুরু হবে, এটা কোনও প্রকার অজুহাত নয়। ভারতবর্ষ উৎসবের দেশ। মেট্রোরেলের কাজের সঙ্গে বৃহত্তর সমাজের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজ্যের যুক্তিকে কখনও গ্রহণ করা যায় না। বার বার নির্দেশ দেওয়া শর্তেও কোনও ভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমরা এবার নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছি।”

    কাজ বন্ধ রাখা যায় না

    রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, “ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ফেসটিভ সিজন শুরু হয়ে যাচ্ছে। চলবে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত। এরপর আসবে গঙ্গাসাগর মেলা। ফলে চিংড়িঘাটাতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করলে সর্বত্র ট্রাফিক নিয়ে সমস্যা হবে। আশেপাশে প্রচুর হাসপাতাল রয়েছে, রাস্তায় প্রচুর অ্যাম্বুল্যান্স যাতায়েত করে।” হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি বলেন, “আমাদের দেশে এক উৎসব শেষ হলে আরেকটা আসে, অজুহাত দিয়ে এই ভাবে কাজ বন্ধ রাখা যায় না। আমরা রাজ্য এবং ট্রাফিক পুলিশকে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিচ্ছি। ৬ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে জানাতে হবে, যাতে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজটা সম্পন্ন করা যায়।”

  • Indian Economy: বিশ্ব মন্দার মধ্যেও ভারতের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে, দাবি কেয়ারএজ রিপোর্টে

    Indian Economy: বিশ্ব মন্দার মধ্যেও ভারতের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে, দাবি কেয়ারএজ রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাড়লেও আগামী অর্থবছরগুলোতে ভারতের অর্থনৈতিক (Indian Economy) প্রবৃদ্ধি বড় অর্থনীতিগুলির তুলনায় ভালো থাকবে বলে জানিয়েছে কেয়ারএজ (CareEdge)। বুধবার প্রকাশিত সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্থবর্ষ ২০২৬ ও ২০২৭-এ ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৭.৫ শতাংশ ও ৭ শতাংশে স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির পিছনে চাহিদা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিই প্রধান চালিকা শক্তি বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বব্যাপী যেখানে আগামী পাঁচ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩.১ শতাংশে নামতে পারে, সেখানে ভারতের এই পারফরম্যান্স স্পষ্টভাবেই ব্যতিক্রমী।

    কেন্দ্রের নীতির ফলেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে জোরালো অগ্রগতির ফলে চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হয়েছে। উন্নত চাহিদা পরিস্থিতি ও জিএসটি হ্রাসও এতে সহায়ক হয়েছে। ভারত সরকারের নানা জনকল্যাণমূলক নীতি দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতিকে (Indian Economy) শক্তিশালী করেছে বলে মত নানা মহলে। কেয়ারএজ (CareEdge) রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধির পক্ষে একাধিক অনুকূল বিষয় কাজ করছে—ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি, তুলনামূলকভাবে কম সুদের হার এবং গৃহস্থালির উপর করের চাপ কমা। এই কারণগুলো বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে এবং ২০২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ভোগ ও বিনিয়োগের গতি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

    বিশ্ববাজারে মন্দা, দেশের অভ্যন্তরে স্থিতি

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিক গড়ের নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চিনের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় তিন শতাংশ কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে কেয়ারএজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই ভারতের অনুকূলে রয়েছে। ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতি ২০২৬ অর্থবর্ষে গড়ে ২.১ শতাংশে থাকতে পারে, যার প্রধান কারণ খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে দামের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ। তবে ২০২৬ সালে নিম্ন ভিত্তি থাকার ফলে পরের বছর মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বেড়ে গড়ে প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যের কাছাকাছি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যেসব বৈশ্বিক কারণ এতদিন মুদ্রাস্ফীতি দমনে সহায়ক ছিল, সেগুলি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। পণ্যের দাম স্থিতিশীল হতে পারে এবং রুপির মৌলিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবমূল্যায়নের ফলে আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতির চাপ ফের বাড়তে পারে। তবে ভালো বর্ষা, নিয়ন্ত্রিত পণ্যমূল্য ও জিএসটি সংস্কার মুদ্রাস্ফীতির পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    আরবিআইয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ

    ২০২৫ সালের শেষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক সুদ কমানোর চক্র শেষ করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নীতিগত রেপো রেট মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৬.৫ শতাংশ থেকে ৫.২৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা প্রবৃদ্ধিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন, জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ৮.২ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি এবং অক্টোবর মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার মাত্র ০.২৫ শতাংশে নেমে আসার প্রেক্ষিতে। আগামী বছরে আরবিআইয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ হবে—মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখা। রিপোর্ট অনুযায়ী, আর একটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানোর সুযোগ থাকলেও বড়সড় শিথিলতার পথে হাঁটার সম্ভাবনা কম। সীমিত হারে সুদ কমিয়ে তারপর বিরতি নেওয়াই সম্ভাব্য কৌশল, যাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ডলার-রুপির তুলনা

    এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডলারের বিপরীতে রুপির উপর চাপ বেড়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রবাহ দুর্বল থাকা এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বিলম্বিত হওয়া নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব এর কারণ। এর জেরে আরবিআই বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ কিছুটা কমিয়ে রুপিকে ধীরে ধীরে মৌলিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে দিচ্ছে, যদিও অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে প্রয়োজনে হস্তক্ষেপের বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। বাস্তব কার্যকর বিনিময় হার (REER) অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষে রুপি প্রায় ৩ শতাংশ অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। ফলে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের ঝুঁকি সীমিত বলে মনে করছে কেয়ারএজ। যুক্তরাষ্ট্রে সুদ কমার সম্ভাবনা, দুর্বল ডলার ও নিয়ন্ত্রিত চলতি হিসাব ঘাটতি রুপির উপর চাপ কমাতে পারে। পাশাপাশি, ব্লুমবার্গ গ্লোবাল অ্যাগ্রিগেট সূচকে ভারতের অন্তর্ভুক্তির ফলে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৭ অর্থবর্ষে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৮৯–৯০ টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

  • ISRO: ৬০০০ কেজির কৃত্রিম উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ! নতুন রেকর্ড গড়ল ইসরো, অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

    ISRO: ৬০০০ কেজির কৃত্রিম উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ! নতুন রেকর্ড গড়ল ইসরো, অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়দিনের আগে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরোর (ISRO) মুকুটে যুক্ত হল নয়া পালক। ভারতের ‘বাহুবলী’ রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি দিল মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহ। বুধবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সফল ভাবে উৎক্ষেপণ করা হল মার্কিন সংস্থা এএসটি স্পেসমোবাইল-এর তৈরি অত্যাধুনিক কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট ‘ব্লু বার্ড ৬’। প্রায় ৬০০০ কেজি ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতের এলভিএম৩-এম৬ রকেট। ৬,১০০ কেজি ওজনের এই উপগ্রহটি এখনও পর্যন্ত ভারতীয় মাটি থেকে উৎক্ষেপিত সবচেয়ে ভারী বিদেশি উপগ্রহ।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    এদিন রকেট উৎক্ষেপণের পরই এক্স হ্যান্ডলে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, ‘মহাকাশে ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি… এলভিএম৩-এম৬-এর সফল উৎক্ষেপণ, এর মাধ্যমে ভারতের মাটি থেকে উৎক্ষেপিত সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ আমেরিকার ব্লুবার্ড ব্লক-২-কে তার নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভারতের মহাকাশ যাত্রায় এক গর্বের মাইলফলক। আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টার আরও একটি প্রতিফলন। আমাদের পরিশ্রমী মহাকাশ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের অভিনন্দন।’

    শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উৎক্ষেপণ

    অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে এই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়। বুধবার সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে কৃত্রিম উপগ্রহটি সমেত উৎক্ষেপণের কথা ছিল এলভিএম৩-এম৬ রকেটের। কিন্তু মহাকাশের বর্জ্য কিংবা অন্যান্য স্যাটেলাইটের গতিপথের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে শেষ মুহূর্তে উৎক্ষেপণের সময় ৯০ সেকেন্ড পিছিয়ে দেয় ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। শেষমেশ ৮টা ৫৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে ‘বাহুবলী’ রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয় উপগ্রহটি। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, উৎক্ষেপণের প্রায় ১৫ মিনিট পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা ব্লু বার্ড ৬-এর। তার পর প্রায় ৫২০ কিলোমিটার উচ্চতায় তার নির্ধারিত কক্ষপথে গিয়ে থিতু হবে সে।

    বাণিজ্যিক চুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

    এই মিশনটি সম্পন্ন হয়েছে ইসরোর বাণিজ্যিক শাখা নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড (NSIL) এবং মার্কিন সংস্থা এএসটি স্পেসমোবাইল (AST SpaceMobile)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায়। ৪৩.৫ মিটার উচ্চতার এলভিএম৩ (LVM3) রকেটটি ইসরোর সবচেয়ে শক্তিশালী উৎক্ষেপণ যান। এই রকেটে রয়েছে তিনটি ধাপ, যার মধ্যে উপরের ধাপটি ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তির। ক্রায়োজেনিক স্টেজটি তৈরি করেছে ইসরোর লিকুইড প্রপালশন সিস্টেমস সেন্টার, আর উৎক্ষেপণের সময় প্রয়োজনীয় বিপুল শক্তি জুগিয়েছে দুটি বিশাল এস-২০০ সলিড স্ট্র্যাপ-অন বুস্টার, যা তৈরি করেছে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার, তিরুবনন্তপুরম।

    ‘বাহুবলী’র সাফল্য

    ইসরোর (ISRO) চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, ভারতের মাটি থেকে এর আগে এত ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ হয়নি। তাই ৪৩.৫ মিটার উঁচু এলভিএম৩-এম৬ রকেটটিকেই এই কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়। ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ বহনে সক্ষম এই রকেটকে ইসরোর বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘বাহুবলী’। ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ বহনে সক্ষম এলভিএম৩ রকেটগুলির মধ্যে এটি ষষ্ঠ সংস্করণ। ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, ব্লুবার্ড ব্লক-২ (BlueBird Block-2) বিশ্বজুড়ে উচ্চগতির মোবাইল সংযোগ প্রদান করতে সক্ষম। এটি ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্ক, ভয়েস কল, ভিডিও কল, মেসেজিং, ডেটা ট্রান্সফার এবং মিডিয়া স্ট্রিমিং-এ সাহায্য করবে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ২২০০ বর্গমিটারের অ্যারে অ্যান্টেনা। পুরনো কৃত্রিম উপগ্রহগুলির তুলনায় তাই ১০ গুণ বেশি তথ্য মজুত করার ক্ষমতা রয়েছে। এর আগে গত নভেম্বরে এলভিএম৩-এম৫ রকেট চেপে মহাকাশে পাড়ি দেয় ইসরোর সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ সিএমএস-০৩। এবার সেই রকেট পেল নয়া সাফল্য। একই সঙ্গে মহাকাশে এগিয়ে চলল আত্মনির্ভর ভারত।

  • Bhopal: কাঠ থেকে সন্ত্রাস! এক পাচার চক্রের সন্ধানে নেমে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য, ফাঁস হলো বিশাল নেটওয়ার্ক

    Bhopal: কাঠ থেকে সন্ত্রাস! এক পাচার চক্রের সন্ধানে নেমে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য, ফাঁস হলো বিশাল নেটওয়ার্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাঠ পাচারের অর্থ দিয়ে চলত সন্ত্রাস (Terror-Funding Network)। কেনা হত অবৈধ অস্ত্র। মধ্যপ্রদেশের (Bhopal) আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে অবৈধ কাঠ পাচারের একটি সাধারণ মামলার তদন্তে উঠে এল এমনই ভয়ঙ্কর তথ্য। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED), ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA), রাজ্য এটিএস এবং একাধিক রাজ্যের বন দফতর এই জেলায় কাঠ পাচারের তদন্তে নেমেছে। দেখা গিয়েছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বন লুণ্ঠনের অর্থ সন্ত্রাসে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও।

    ২০০ কোটি টাকার খৈর কাঠ সাম্রাজ্য

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, গুজরাটের গোধরার বাসিন্দা মোহন তাহির গত তিন বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার খৈর (কাঠা) কাঠ অবৈধভাবে কেটে পাচার করেছেন। বাজারমূল্য অনুযায়ী, খৈরের ব্যাপক ব্যবহার (কাঠা উৎপাদনে) বিবেচনায় এই অঙ্ক ৭০০ কোটি টাকাতেও পৌঁছতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, আলিরাজপুরের মালওয়াই গ্রামে ব্যক্তিগত জমিতে ‘শালিমার এন্টারপ্রাইজেস’-এর নামে একটি গোপন কাঠের ডিপো চালাতেন তাহির। ডিপোর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন আরিফ (আলিফ) আলি মাকরানি, যাঁকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে গুজরাটে একটি ট্রাক অবৈধ খৈর কাঠসহ আটক হওয়ার পর এই চক্রের হদিশ মেলে। জেরায় চালক জানায়, কাঠটি আলিরাজপুরের একটি ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে সুরাটের মাণ্ডভি ফরেস্ট ডিভিশনের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান চালিয়ে আলিরাজপুরের ডিপোটি সিল করে তদন্তকারী অফিসাররা।

    বৈধ ব্যবসার আড়ালে চোরাচালান

    বন দফতর পরে জানায়, ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ১,৬০০ ঘনমিটার বা ২,০০০ মেট্রিক টনের বেশি খৈর কাঠ উদ্ধার হয়েছে, যা বৈধ ব্যবসার আড়ালে মজুত করা ছিল। মাণ্ডভি (সুরাট) বন বিভাগের আধিকারিক এইচ আর যাদব বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমরা মামলা দায়ের করি। আলিরাজপুরের শালিমার এন্টারপ্রাইজেসে যাওয়ার পথে একটি ট্রাক আটক করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, এই চক্র গুজরাট, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা হয়ে হরিয়ানা ও দিল্লি পর্যন্ত সক্রিয় ছিল এবং প্রায় দুই বছর ধরে চলছিল।”

    কাঠ থেকে সন্ত্রাস: তদন্তের ভয়াবহ মোড়

    তদন্ত আরও ভয়ঙ্কর মোড় নেয়, যখন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি আলিরাজপুর ডিপোর সঙ্গে উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খুঁজে পায়। রাজ্য এটিএস-এর এক শীর্ষ কর্তা জানান, “আলিরাজপুরের ডিপো ও খৈর কাঠের মজুতের সঙ্গে আইএসআইএস-প্রভাবিত পদঘা মডিউলের যোগ মিলেছে। অবৈধ কাঠ ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ডিপো পরিচালনাকারীদের সঙ্গে সাকিব নাচানের যোগসূত্রও সামনে এসেছে।” ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর, ইডি মহারাষ্ট্র, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, গুজরাট, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে মোট ৪০টি জায়গায় অভিযান চালায়। পিএমএলএ আইনের আওতায় চালানো এই অভিযানে উদ্ধার হয় ৯.৭০ কোটি টাকা নগদ, ৬.৬ কোটি টাকার সোনা ও গয়না, ২৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয় এবং হাওয়ালা নথি, ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়। মেলে উগ্রপন্থার সঙ্গে জড়িত নানা নথিও। ইডি জানিয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল যে হাওয়ালা, অবৈধ গবাদি পশু পাচার এবং খৈর কাঠ ব্যবসা থেকে আয় করা অর্থ চরমপন্থী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ইডি অভিযানে চিহ্নিত অভিযুক্ত সচিন ফাকলে ও খলিল উসমান মুল্লার নাম আলিরাজপুর খৈর কাঠ মামলাতেও রয়েছে, যা সন্ত্রাস-অর্থায়নের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। এনআইএ-র দাবি অবৈধ কাঠ পাচারের টাকা জঙ্গি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহে ব্যবহৃত হতো।

    মূল অভিযুক্ত পলাতক

    আদালতের নির্দেশে ডিপো ডি-সিল করার সময় গুজরাটের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি ড. মহেন্দ্র সিং কচ্ছাওয়া জানান, “ডিপোর মালিক মোহন তাহির পলাতক। ইমিগ্রেশন রেকর্ড অনুযায়ী তিনি হজ করতে দেশ ছেড়েছেন এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ফেরেননি। অবৈধ খৈর কাঠ ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ডিপো ম্যানেজারের সঙ্গে যুক্ত হাওয়ালা লেনদেনের তথ্য ইডি-কে দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রায় ৪ কোটি টাকার লেনদেনের হদিশ মিলেছে।

    একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন

    তদন্তকারীরা জানান, ২০২১ সালের পর মধ্যপ্রদেশে খৈরকে সংরক্ষিত প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, ফলে পরিবহণ ও মজুতের নিয়ম শিথিল হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে—গুজরাটে কাটা খৈর কাঠ কেন আলিরাজপুরে এনে মজুত করা হলো? শাল ও সেগুনের জন্য পরিচিত একটি ডিপোতে কেন শুধুই খৈর কাঠ ছিল? বন দপ্তরের কেউ কি জড়িত ছিলেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরবতা পালন করা হয়েছিল? ড. কচ্ছাওয়া স্পষ্ট করে বলেন, “যদি কোনো বন কর্মকর্তা জড়িত থাকেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একাধিক সংস্থা—বন দফতর, পুলিশ, এটিএস, ইডি ও এনআইএ—তদন্তে নেমেছে। আলিরাজপুরের খৈর কাঠ কেলেঙ্কারি এখন আর শুধু অবৈধ লগিংয়ের মামলা নয়; এটি হয়ে উঠেছে এমন এক ভয়াবহ প্রশ্ন, যেখানে বন লুণ্ঠনের অর্থ সন্ত্রাসে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, এবং বছরের পর বছর ধরে কীভাবে একটি ২০০ কোটি টাকার ছায়া অর্থনীতি নীরবতার সুযোগে বেড়ে উঠল—তার উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

  • Samserganj Verdict: মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা! তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামসেরগঞ্জে বাবা–ছেলে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন

    Samserganj Verdict: মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা! তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামসেরগঞ্জে বাবা–ছেলে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়াকফ হিংসার মাঝে পড়ে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জাফরাবাদে বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ডে সাজা ঘোষণা করল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। দোষী ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি মৃত চন্দন দাস ও হরগোবিন্দ দাসের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। নতুন ফৌজদারি আইনের অধীনে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশে এটি দ্বিতীয় দোষী সাব্যস্তের নজির। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য এই সাজায় (Samserganj Verdict) অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মন্তব্য, ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    নিহতদের পরিবারের পাশে বিজেপি

    সামশেরগঞ্জের (Shamsergunj) ঘটনা নিয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত যে রায় শুনিয়েছে তাতে যেমন খুশি নন হরগোবিন্দ দাস (Hargovinda Das) ও চন্দন দাসের (Chandan Das) পরিবার, তেমনই অখুশি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানান, এই রায়ের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) যাবেন। পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি এও বলেন, তাঁদের জন্যই সর্বোচ্চ সাজা হয়নি দোষীদের। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী ও চন্দন দাসের মা পারুল দাস। তাঁদের বক্তব্য, বাড়িতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও পুলিশ (WBP) আধিকারিকরা বলে এসেছিলেন যে ফাঁসি হবে, কিন্তু হল না। তাঁরা ফাঁসি ছাড়া কিছু চাইছেন না। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শুভেন্দুর বক্তব্য, পুলিশের সিট (SIT) সবাইকে একই দোষে দোষী দেখিয়েছিল। আসলে লক্ষ্য একটাই – এদের বাড়ির ভাতের বদলে জেলের ভাত খাওয়ানো। এদের বাঁচিয়ে রাখা। বিরোধী দলনেতা এই ইস্যুতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে পরিবার উচ্চ আদালতে গেলে তাঁরা সর্বোচ্চ আইনি সাহায্য করবেন। দরকারে কলকাতা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করা হবে।

    কীভাবে ঘটেছিল নির্মম ঘটনা

    ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল ৭২ বছরের হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ৪০ বছরের ছেলে চন্দন দাসকে তাঁদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে উত্তেজিত জনতা জাফরাবাদ এলাকায় হত্যা করে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে খুন, দাঙ্গা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, লুটপাট ও মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হলেন— দিলদার নাদাব, আসমাউল নাদাব ওরফে কালু নাদাব, এনজামুল হক, জিয়াউল হক, ফেকারুল শেখ, আজফারুল শেখ ওরফে বিলাই, মনিরুল শেখ, একবাল শেখ, নুরুল শেখ, সাবা করিম, হাজরত শেখ, হাজরত আলি, আকবর আলি ওরফে একবার শেখ এবং ইউসুফ শেখ। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, “এই মামলাটি রাজ্যের অন্যতম দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের মামলা। ২৫ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) প্রায় এক হাজার পাতার চার্জশিট জমা দেয়।”

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা

    আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগে দুই দফা হামলা প্রতিহত করেছিলেন নিহতরা। তবে তৃতীয়বার হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফিরে এসে তাঁদের হত্যা করে। পরিবারের সদস্যরা আদালতে ঘটনার বিবরণ দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। পরিবারের দাবি, পুলিশের জন্যই দোষীদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়নি। তাদের যাবজ্জীবন হয়েছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ সময়মতো পৌঁছালে প্রাণহানি এড়ানো যেত। নিহত চন্দন দাসের মা পারুল দাস জানান, হামলার কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তিনি আরও বলেন, টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্য দেখে তিনি হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। এসআইটি-র চার্জশিট অনুযায়ী, এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    মুখ্যমন্ত্রীর অনৈতিক দাবি

    ঘটনার সময় রাজ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় এই অশান্তির পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির দায়িত্ব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন এবং বলেন, এই ধরনের রাজনীতি সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। যদিও বিচারচলাকালীন দেখা যায়, গত ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে এই ওয়াকফ হিংসার প্রতিবাদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক না থাকলেও প্রাণ গিয়েছিল স্থানীয় দাস পরিবারের বাবা-ছেলের। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যাওয়ায় বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুন করা হয়। এতে আগুনে নতুন করে ঘি পড়ে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিট গড়া হয় জেলা পুলিশের তরফে। একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকে অভিযুক্তরা। শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে চলে শুনানি। ২২ তারিখ, সোমবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জঙ্গিপুর আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(২), ৩১০(২), ৩৩১(৫), ১৯১(৩), ১২৫(২), ১২৬(২) , ৩৩২( এ) এবং ৩(৫) ধারায় মঙ্গলবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করলেন বিচারক।

    রাজ্যে নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে

    মুর্শিদাবাদের এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের রায়ে দোষীদের অপরাধ প্রমাণিত হলেও, ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দায় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রায়ের পর বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা রাজ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওয়াকফ সংশোধনী আইন সংক্রান্ত আন্দোলনের সরাসরি যোগ পাওয়া যায়নি।

  • Kisan Diwas: ডিজিটাল পেমেন্ট, ফসল বিমা ও পেনশন—ভারতীয় কৃষকদের জন্য নতুন যুগ

    Kisan Diwas: ডিজিটাল পেমেন্ট, ফসল বিমা ও পেনশন—ভারতীয় কৃষকদের জন্য নতুন যুগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ২৩ ডিসেম্বর দেশজুড়ে পালিত হয় কিষাণ দিবস বা জাতীয় কৃষক দিবস। এই দিনটি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী চরণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী হিসেবে চিহ্নিত, যিনি আজীবন কৃষকস্বার্থের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। কিষাণ দিবস উপলক্ষে দেশ শ্রদ্ধা জানায় সেই কৃষকদের—যাঁরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির মূল ভরকেন্দ্র। ২০১৪ সালের পর থেকে কৃষক কল্যাণ ও কৃষি উন্নয়ন নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতির কেন্দ্রে রয়েছে। আর্থিক সহায়তা, ঝুঁকি সুরক্ষা, সহজ ঋণপ্রাপ্তি, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সামাজিক নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজকে আরও লাভজনক, নিরাপদ ও টেকসই করার চেষ্টা চলছে।

    সরাসরি আয় সহায়তা: পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি

    কৃষকদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হল প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকরা বছরে ৬,০০০ টাকা পান, যা তিনটি কিস্তিতে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এই অর্থ কৃষিজ উপকরণ কেনা থেকে শুরু করে পারিবারিক প্রয়োজনে কাজে আসে, ফলে উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন ১১ কোটিরও বেশি কৃষক এবং মোট বিতরণ করা হয়েছে ৩.২৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পিএম-কিষাণের ২১তম কিস্তি প্রদান করা হয়, যার মধ্যে শুধু হরিয়ানাতেই ৩১৬ কোটি টাকা পৌঁছেছে ১৫.৮ লক্ষের বেশি কৃষকের কাছে।

    কৃষি সুরক্ষা: প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা

    প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ঝুঁকি থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY)। এই প্রকল্পে খরিফ ফসলের জন্য কৃষকদের মাত্র ২ শতাংশ এবং রবি ফসলের জন্য ১.৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হয়, বাকি অংশ বহন করে সরকার। ২০২৫ সালে উত্তরাখণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্যে হাজার হাজার কৃষক এই বিমা প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। শুধু উত্তরাখণ্ডেই ২৮,০০০-এর বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৬২ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

    আত্মনির্ভরতার পথে নতুন উদ্যোগ

    ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদি কৃষকদের আত্মনির্ভরতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দুটি নতুন উদ্যোগের সূচনা করেন—পিএম ধান-ধান্য কৃষি যোজনা এবং ডাল স্বনির্ভরতা মিশন। প্রায় ৩৫,৪৪০ কোটি টাকার এই সম্মিলিত প্রকল্প ১০০টি জেলায় সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। উদ্দেশ্য একটাই—কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি স্বাস্থ্যের উন্নতি।

    সহজ ঋণ: কিষাণ ক্রেডিট কার্ড

    বীজ, সার, যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের জন্য মূলধনের প্রয়োজন মেটাতে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) প্রকল্প কৃষকদের সহজ ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা দেয়। ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে কার্যকর কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ৭.৭৫ কোটিরও বেশি। পাশাপাশি সুদের ভর্তুকি কৃষকদের বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাচ্ছে। আজীবন কৃষিকাজের পর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে পিএম কিষাণ মানধন যোজনা। এটি একটি স্বেচ্ছামূলক পেনশন প্রকল্প, যার মাধ্যমে ৬০ বছর বয়সের পর কৃষকরা মাসিক পেনশন পান।

    প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির পথে

    আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সরকার কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, ফসল ফলন পূর্বাভাস প্রযুক্তি (YES-TECH) এবং উন্নত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কৃষকদের সময়োপযোগী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই কিষাণ দিবসে মোদি সরকারের কৃষিনীতি এক নতুন ভারতের ছবি তুলে ধরছে—যেখানে ডিজিটাল লেনদেন কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেয়, বিমা প্রকল্প প্রাকৃতিক ঝুঁকি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের উর্বর মাঠ থেকে শুরু করে উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি কৃষিজমি—সর্বত্রই সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। মোদি সরকারের সহায়তায় অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও আত্মনির্ভর কৃষিই শক্তিশালী ভারতের ভিত্তি।

LinkedIn
Share