Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Suvendu Adhikari: পাক-জঙ্গিদের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী! শুভেন্দুর নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    Suvendu Adhikari: পাক-জঙ্গিদের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী! শুভেন্দুর নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গিদের টার্গেটে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর গতিবিধির উপর নজর রেখেছে সন্ত্রাসীরা। বর্ধমান থেকে সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে জেরা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাঁথির বাড়ি থেকে সেই বুলেটপ্রুফ গাড়িতেই কলকাতার রবিবার উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু। শুভেন্দু অধিকারী সাধারণত প্রতি সপ্তাহান্তে কলকাতা থেকে নিজের কাঁথির বাড়িতে যান। আবার রবিবার ফিরে আসেন। তাঁর যাওয়ার রাস্তাই ১৬ নং জাতীয় সড়ক। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ির পাশাপাশি গোটা রুটে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    কেন বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গি হামিমকে বেঙ্গল এসটিএফ গ্রেফতার করার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তবে শুভেন্দু অধিকারী এতদিন যে গাড়িটি ব্যবহার করতেন, তা বুলেটপ্রুফ ছিল না। হামিম ধরা পড়ার পর জানা যায়, পাকিস্তান থেকে হ্যান্ডলাররা মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির তথ্য চেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও আনগার্ডেড মুভমেন্ট থাকলে, জানাতে বলা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গতকাল রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার করা উচিত। জ্যামার থাকা দরকার। পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়িতে যাতায়াত করা উচিত। এসটিএফ সেইমতোই ভাবনা চিন্তা করল।

    সাধারণের জন্য ব্রতী মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রীর ভাই তথা এগরার বিজেপি বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলার মানুষ শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে রয়েছেন। আর পরিবারের একজন হিসেবে আমাদের, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, এসটিএফ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর আস্থা রয়েছে। নিশ্চিতভাবে বাংলার প্রত্যেকটি মানুষ সুরক্ষিত থাকবেন।” হামিমকে ধরার জন্য রাজ্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পছন্দ করেন। বারবার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এতে কি তাঁরা উদ্বিগ্ন? এই নিয়ে দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, “গতকাল যেভাবে বাড়ি এসেছিলেন, আজও সেভাবে গিয়েছেন। তাঁর নিরাপত্তায় বাড়তি কিছু কি লক্ষ্য করেছেন আপনারা? তিনি চান, সাধারণ মানুষের একজন প্রতিনিধি হিসেবে উন্নয়ন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। তার জন্য যদি প্রাণ দিতে হয়, তার জন্য আমরা তৈরি রয়েছি।”

  • Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নাশকতার সম্ভাব্য ছক ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও নজরদারির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার এই তদন্তেই হাওড়া থেকে আরও এক যুবক, আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত।

    সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে নাশকতার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দিল্লির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল তার কাছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন ভিআইপি-র নিরাপত্তা, চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরেও নাশকতার আশঙ্কা

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

    অর্পিতার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

    তদন্তে হামিমের পাশাপাশি অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের তরফে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘সেশন’ (Session) এবং ‘এলিমেন্ট এক্স’ (Element X) ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য, তদন্তে নতুন মোড়

    এদিকে, এই মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজকে। আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এসটিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদিত্যের ভূমিকা থাকতে পারে। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে সে হামিমের কাছে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালান। আদিত্যের মা জানান, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করত এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

    মন্ত্রীকে হুমকি ফোনের তদন্ত থেকেই সূত্র

    তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ‘আবিদ জাট’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি শুধু মন্ত্রীকেই নয়, তাঁর ছেলেকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন মন্ত্রী। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, পরে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার এবং সর্বশেষ হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন সম্ভাব্য টার্গেটে

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় থেকেছিল এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটে রেকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোন সময় নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই সঙ্গে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ করত সে।

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা চক্রান্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • Commonwealth Games 2026: ভারতের হাতে কমনওয়েলথের পতাকা, পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ গ্লাসগো অভিযান

    Commonwealth Games 2026: ভারতের হাতে কমনওয়েলথের পতাকা, পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ গ্লাসগো অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর (Commonwealth Games 2026) অভিযান শেষ করল ভারত। রবিবার গভীর রাতে দ্য হাইড্রো স্টেডিয়ামে বসেছিল সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আসর। সেই মঞ্চেই আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হলো কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা। ২০৩০-এ কমনওয়েলথ গেমস হবে গুজরাটের আমেদাবাদে। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন অলিম্পিক পদকজয়ী নীরজ চোপড়া। ছিলেন ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার (IOA) সভাপতি পিটি ঊষা এবং গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভিও। তাঁদের হাতেই কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

    সাফল্যের নেপথ্যে সরকার

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারত ১৩ সোনা, ১৭ রুপো এবং ৯ ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯ পদক জিতে নজর কেড়েছে। বক্সিং, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স এবং জুডো—একাধিক ইভেন্টে পদক জিতে ভারতের ঝুলিতে এল রেকর্ড সাফল্য। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য দেশের ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই সাফল্য শুধুমাত্র ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফল নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা সুসংগঠিত হাই-পারফরম্যান্স ক্রীড়া পরিকাঠামো, যেখানে কেন্দ্র সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রক, স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI), টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (TOPS), জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন (NSF) এবং ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (IOA) একসঙ্গে কাজ করেছে।

    পদকজয়ীদের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্ট করে পদকজয়ী সমস্ত ভারতীয় ক্রীড়াবিদকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর শুভেচ্ছা তালিকায় রয়েছেন বক্সার প্রীতি পাওয়ার, জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী, প্রিয়া ঘানঘাস, অরুন্ধতী চৌধুরী, সচিন সিওয়াচ, অঙ্কুশ পাংঘাল, লাভলিনা বরগোহাইন, জাদুমণি সিং ও নরেন্দ্র বেরওয়াল। পাশাপাশি প্যারা অ্যাথলিট সোমন রানা ও শুভম জুয়াল, ট্রিপল জাম্পার প্রবীণ চিত্রাভেল ও সেলভা প্রভু থিরুমারণ, জুডোকা উন্নতি শর্মা এবং দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়বিদ গুলবীর সিংকেও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।

    পদক প্রাপকদের প্রেরণা প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্স-এ পৃথক পোস্ট করে প্রত্যেক পদকজয়ীকে শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ করে ভারতের বক্সারদের ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ গেমস সোনা জয়ী সোমন রানার পারফরম্যান্সকে তিনি “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্যারা অ্যাথলেট ও ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের পদকজয়ীদেরও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

    বিশ্বমানের প্রশিক্ষণেই তৈরি সাফল্যের ভিত

    গ্লাসগো যাওয়ার আগে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশ্বমানের কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিওথেরাপি, পুষ্টিবিদ এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করেছিল ক্রীড়া মন্ত্রক। সাই-টপস প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য পদকজয়ীদের ব্যক্তিগত সহায়তা, বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ সাপোর্ট স্টাফের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানে লড়াই করার মতো প্রস্তুতি নিয়েই গ্লাসগোয় পৌঁছেছিলেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা।

    বক্সিংয়ে ভারতের সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে বক্সিংয়ে। ৭টি সোনা ও ৩টি রুপো জিতে পদক তালিকার শীর্ষে উঠে ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় বক্সিং দল। এর আগে কমনওয়েলথ গেমসে এত বড় সাফল্য কখনও আসেনি।

    ভারতের হয়ে সোনা জিতেছেন—

    প্রীতি পাওয়ার (মহিলা ৫৪ কেজি)
    জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া (মহিলা ৫৭ কেজি)
    সাক্ষী চৌধুরী (মহিলা ৫১ কেজি)
    প্রিয়া ঘানঘাস (মহিলা ৬০ কেজি)
    অরুন্ধতী চৌধুরী (মহিলা ৭০ কেজি)
    সচিন সিওয়াচ (পুরুষ ৬০ কেজি)
    অঙ্কুশ পাংঘাল (পুরুষ ৮০ কেজি)

    রুপো জিতেছেন—

    লাভলিনা বরগোহাইন (মহিলা ৭৫ কেজি)
    জাদুমণি সিং (পুরুষ ৫৫ কেজি)
    নরেন্দ্র বেরওয়াল (পুরুষ ৯০ কেজির বেশি)
    রোমাঞ্চকর জয় সচিনের, দুরন্ত অঙ্কুশ

    পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে ইংল্যান্ডের ডিমেজি শিট্টুকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের সপ্তম সোনা নিশ্চিত করেন অঙ্কুশ পাংঘাল।

    দিনের অন্যতম সেরা লড়াই উপহার দেন সচিন সিওয়াচ। নামিবিয়ার ট্রাইঅ্যাগেইন মর্নিং এনডেভেলোর বিরুদ্ধে প্রথম দিকে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।

    অরুন্ধতী চৌধুরী ইংল্যান্ডের শ্যান্টেল রিডকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন। একইভাবে প্রীতি পাওয়ার কানাডার স্কারলেট সাভানাহ ডেলগাডোকে ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত করেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে এবং সাক্ষী চৌধুরী ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে একই ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন। প্রিয়া ঘানঘাসও ফাইনালে কানাডার মেরি-ব্যাথুল আল-আহমাদিয়েহকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের সোনার ঝুলি আরও ভারী করেন।

    অন্যদিকে, লাভলিনা বরগোহাইন ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার এমা-সু গ্রিনট্রির কাছে ১-৪ ব্যবধানে হেরে রুপো পান। জাদুমণি সিং ও নরেন্দ্র বেরওয়ালও ফাইনালে পরাজিত হয়ে রুপো জেতেন।

    প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ইতিহাস, অ্যাথলেটিক্সেও একাধিক পদক

    পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে সোমন রানা সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন। এই ইভেন্টে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনাজয়ী তিনি। একই ইভেন্টে শুভম জুয়াল রুপো জিতে ভারতের সাফল্য আরও বাড়ান। অ্যাথলেটিক্সে পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো এবং সেলভা প্রভু থিরুমারণ ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের জন্য ঐতিহাসিক ডাবল পডিয়াম নিশ্চিত করেন। পুরুষদের ৫,০০০ মিটারে গুলবীর সিং ব্রোঞ্জ জিতে এই ইভেন্টে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ পদকজয়ী হন।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন

    কমনওয়েলথ-এর মঞ্চেও বেজে উঠল ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর। রবিবার গেমসের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের শুরুতে নিজেদের সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরে স্কটল্যান্ড। সেখান থেকে ধীরে ধীরে মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ভারত। একসঙ্গে গলা মেলান দুই দেশের সঙ্গীতশিল্পীরা। ভারতের অনুষ্ঠানে ছিল মোট তিনটি পর্ব। প্রথম পর্বে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন করা হয়। অভিনেত্রী মানুষী চিল্লারের সঙ্গে ভারতের নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার বৈচিত্র্য তুলে ধরেন শতাধিক নৃত্যশিল্পী। দেখানো হয় আমেদাবাদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও।

  • Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের পশ্চিমবঙ্গে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। এবার মালদা শহরের মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা। একই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২০ গ্রাম সোনা, একটি ল্যাপটপ এবং পরে অন্য একটি গুদামঘর থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। গোটা ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদা থানা এলাকার মঙ্গলবাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। তদন্তকারীরা ফ্ল্যাটে ঢুকতেই চোখে পড়ে থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। বিপুল পরিমাণ নগদের কারণে টাকা গোনার জন্য তিনটি মেশিন আনা হয়। সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে নোট গণনার কাজ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ জানায়, মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    একই রাতে গুদামেও অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ

    ফ্ল্যাটে তল্লাশির পাশাপাশি মালদার খইহট্টা এলাকার একটি গুদামঘরেও অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। ভোর প্রায় ৪টে পর্যন্ত সেখানে তল্লাশি চলে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই নিষিদ্ধ সিরাপ পাচার চক্রের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদের যোগ থাকতে পারে। যদিও অর্থের উৎস এবং পাচারচক্রের সঙ্গে ধৃতদের নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিন জন গ্রেফতার, কারা তারা?

    এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে পিন্টু সরকার, গোপাল চাকি এবং সুশান্ত হালদার নামে তিন জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, তিন জনেরই বাড়ি মালদা থানা এলাকায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অর্থের উৎস, নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের নেটওয়ার্ক এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

    কীভাবে মিলল এই ফ্ল্যাটের খোঁজ?

    তদন্তকারীদের দাবি, এই অভিযানের সূত্রপাত গত মাসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মেহেন্দ্রীপাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধারের ঘটনার পর। সেই সময় প্রায় ১,৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চার জনকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেই মালদার মঙ্গলবাড়ির এই ফ্ল্যাটের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এরপর তাঁদের সঙ্গে নিয়েই রবিবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

    কার ফ্ল্যাট থেকে মিলল টাকা?

    পুলিশের দাবি, যে আবাসনে অভিযান চালানো হয়েছে, তার মালিক দিলীপ সাহা। ভবনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন ধৃত পিন্টু সরকার। তদন্তে জানা গিয়েছে, পিন্টুর একটি ওষুধের ব্যবসা রয়েছে। তবে সেই ব্যবসার আড়ালে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে। এছাড়াও তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস সম্পর্কে ধৃতরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সেই কারণেই আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক নথি এবং ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বীরভূমের ঘটনার পর ফের চাঞ্চল্য

    কয়েক দিন আগেই বীরভূমে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই মালদায় আবার কোটি টাকার নগদ উদ্ধার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে অবৈধ অর্থের উৎস এবং আন্তঃজেলা পাচারচক্রের বিস্তার নিয়ে।

    তদন্তে একাধিক দিক

    রাজ্যে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার ফেনসিডিল-সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়েছে এবং পাচারের অভিযোগে বহুজন গ্রেফতার হয়েছে। তবে কাশির সিরাপ পাচারের তদন্তে সূত্র ধরে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, পাচারের রুট, সম্ভাব্য সহযোগী এবং উদ্ধার হওয়া নগদের প্রকৃত উৎস—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। তার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবন যাপনের ধরন। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগের দাপট। আন্তর্জাতিক একাধিক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা বিশ্বের মোট ফুসফুসের রোগে আক্রান্তের ১২ শতাংশ ভারতীয়। ভারতের সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত। ভারতে ফুসফুসের রোগ অন্যতম প্রধান অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে। আর ফুসফুসের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জীবন যাপনের ধরন। এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

    কী বলছে নয়া তথ্য?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ধূমপানের মতো অভ্যাস। তবে, ধূমপান ছাড়াও এমন একাধিক অভ্যাস রয়েছে, যা নিঃশব্দে ফুসফুসের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু অধিকাংশের মধ্যেই সে সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। প্রত্যেক বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত রোগীদের একটা বড় অংশ, এমন আছেন, যারা কখনোই ধূমপান করেননি। কিন্তু তাঁরা ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, হাঁপানি এমনকি ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। প্রত্যেক দিনের জীবন যাপনের ধরন ফুসফুসের রোগের কারণ‌ হয়ে উঠছে!

    কোন অভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?

    ল্যাপটপের সামনে ৮-১০ ঘণ্টা 

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাজের ধরন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কর্মজগতে বড় পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ দিনের ৮-১০ ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাটায়। দীর্ঘসময় ল্যাপটপের সামনে একটানা বসে থাকতে হয়‌। আর দীর্ঘ সময় এই বসে থাকাই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক মতো হয় না। হৃদপিন্ড এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও তাই কমে। এগুলো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে, যে কোনও ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

    শরীর চর্চায় ঘাটতি বাড়ায় ঝুঁকি

    শরীর চর্চায় ঘাটতি ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কাজের সময় এতটাই বেশি এবং অনেককেই রাত জেগে কাজ করতে হয়। এর ফলে দিনের বেলায় শরীর চর্চা করার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এতে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকে। ফুসফুস এবং মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। ফলে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। কিন্তু যোগাভ্যাসে অনীহা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জটিলতা তৈরি করছে‌।

    কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহারও কারণ

    ফুসফুসের সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে অন্যতম কারণ অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহার। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের দূষণ নিয়ে আলোচনা হলেও, ঘরের ভিতরের দূষণ নিয়ে একেবারেই সচেতনতা তৈরি হয়নি। এর ফলে, বিপদ বাড়ছে। লাগাতার মশানাশক ওষুধের ধোঁয়া কিংবা অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ঘরে ব্যবহারের ফলে ফুসফুসের ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া অনেকেই কাঠে রান্না করেন। আবার শহরাঞ্চলে গ্যাসে রান্না করলেও কেউ কেউ জানলা বন্ধ করে রান্না করেন, এর ফলে ধোঁয়া হয়। এগুলো ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এই ধরনের অভ্যাস এ দেশে ফুসফুসের রোগের বোঝা বাড়াচ্ছে।

    কিছু নির্দিষ্ট পেশায় ঝুঁকি বেশি

    এর পাশপাশি কিছু নির্দিষ্ট পেশায় কর্মরত মানুষদের কাজের জন্য ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়লা খনি কিংবা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত মানুষদের ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ, লাগাতার ধুলো ও দূষিত ধোঁয়া ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। তাই ফুসফুসের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, পেশাগত ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কতখানি মানা হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

    ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে এই বিপুল সংখ্যক ফুসফুসের রোগের বোঝা, জনস্বাস্থ্যের বড় বিপর্যয় হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা জরুরি। সব মহলে সতর্কতা না বাড়লে, বিপদ কমবে না। তাই দিনভর একজায়গায় বসে কাজ থাকলেও, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা করা জরুরি। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে আবার শরীরের একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতাও ঠিকমতো চলবে।

    নিয়মিত যোগাভ্যাস

    ব্যস্ততা সত্ত্বেও যোগাভ্যাস রপ্ত করতে হবে। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁর জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ বিনোদনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক ঘণ্টা সময় কাটান। কিন্তু দিনে তিরিশ মিনিট যোগাভ্যাসের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন না। ফলে, একাধিক শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু সচেতনতার মাধ্যমে এই মানসিকতা বদল প্রয়োজন। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের অন্যান্য কাজের মতোই যোগাভ্যাসকে নিয়মিত অভ্যাসে রপ্ত করতে হবে। তাহলেই নানান জটিলতা কমবে।
    তবে ধূমপান ফুসফুসের বিপদ সবচেয়ে বাড়িয়ে তোলে। ধূমপান বর্জন করতেই হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • India at CWG 26: গ্লাসগোয় ভারতের দাপট! বক্সিংয়ে জোড়া সোনা প্রীতি, জেসমিনের, অ্যাথলেটিক্সে চিত্রাভেল, সেলভার রুপো-ব্রোঞ্জ

    India at CWG 26: গ্লাসগোয় ভারতের দাপট! বক্সিংয়ে জোড়া সোনা প্রীতি, জেসমিনের, অ্যাথলেটিক্সে চিত্রাভেল, সেলভার রুপো-ব্রোঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় বক্সারদের দুরন্ত সাফল্য অব্যাহত। শনিবার (১ আগস্ট) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে সোনার পদক জিতলেন ভারতের প্রীতি পাওয়ার। ফাইনালে তিনি কানাডার স্কারলেট সাভানা ডেলগাডো-কে ৫-০ ব্যবধানে সর্বসম্মত রায়ে হারিয়ে ভারতের ঝুলিতে ষষ্ঠ সোনা তুলে দেন।এর কিছুক্ষণ পরেই মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশ-কে পরাজিত করে দেশের সপ্তম সোনার পদক নিশ্চিত করেন। একই দিনে অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের সাফল্য আসে। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো এবং সেলভা প্রভু থিরুমারণ ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের পদকসংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেন।

    ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র প্রীতি

    ২২ বছর বয়সি প্রীতি পাওয়ার গোটা ফাইনালেই ছিলেন সম্পূর্ণ প্রভাবশালী। পাঁচ বিচারকই তিনটি রাউন্ডেই তাঁকে এগিয়ে রাখেন। প্রথম রাউন্ডে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় রাউন্ডেও একই ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। শেষ রাউন্ডেও আত্মবিশ্বাস, নিখুঁত আক্রমণ এবং দুর্দান্ত রক্ষণ বজায় রেখে আরও একটি ৫-০ স্কোর আদায় করেন প্রীতি। তীক্ষ্ণ কম্বিনেশন, দ্রুত ফুটওয়ার্ক এবং কার্যকর কাউন্টার-পাঞ্চিংয়ের সামনে ডেলগাডো কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। পুরো লড়াই জুড়েই ভারতীয় বক্সারের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।

    দুরন্ত ফর্মের ধারাবাহিকতা

    ২০২৬ সালটি প্রীতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকছে। এর আগেই তিনি ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাপ এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ-এর শিরোপা জিতেছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই গ্লাসগোয় নেমে টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে সোনা জয় করলেন তিনি। সেমিফাইনালেও প্রীতি ৫-০ ব্যবধানে জাম্বিয়ার ক্যাথরিন মওয়াপে-কে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। সেই জয়ের ফলে ভারতের অন্তত রুপো নিশ্চিত হয়েছিল। পরে ফাইনালে একতরফা জয় তুলে নিয়ে সেই পদককে সোনায় রূপান্তরিত করেন তিনি। অন্যদিকে, কানাডার ডেলগাডো সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের লরেন ম্যাকি-কে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিলেন।

    জেসমিন ল্যাম্বোরিয়ার হাতেও সোনা

    মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হারিয়ে ভারতের সপ্তম সোনার পদক জেতেন। লড়াইটি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত জেসমিনই এগিয়ে থাকেন। ফল ঘোষণার পর দুই বক্সার একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়ে জেসমিন নিজেই ওয়ালশের হাত তুলে দর্শকদের অভিনন্দন গ্রহণের আহ্বান জানান।

    ট্রিপল জাম্পে রুপো ও ব্রোঞ্জ

    অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের ঝুলিতে এল আরও দুটি পদক। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল ১৬.৫৮ মিটার লাফিয়ে রুপোর পদক জেতেন। তিনি এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জয়ের সাফল্যের পর কমনওয়েলথ গেমসে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। অন্যদিকে, সেলভা প্রভু থিরুমারণ ১৬.৫২ মিটার লাফিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য পদক। এই ইভেন্টে ১৬.৭২ মিটার লাফিয়ে সোনার পদক জেতেন জামাইকার জর্ডান স্কট।

  • Hamim Mondal Case: এসটিএফের জালে জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা! ‘হানিট্র্যাপ’ করে চলত রাজনৈতিক নেতাদের তথ্য সংগ্রহ?

    Hamim Mondal Case: এসটিএফের জালে জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা! ‘হানিট্র্যাপ’ করে চলত রাজনৈতিক নেতাদের তথ্য সংগ্রহ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-যোগের সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলকে জেরা করে বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। হামিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারীরা। অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁসিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হতেন অর্পিতা। তদন্তকারীদের দাবি, এই তথ্যের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য হামলার ছক তৈরি করা হত।

    হামিমকে জেরা করেই সামনে আসে অর্পিতার নাম

    শুক্রবার বর্ধমানের রেনেসাঁ কমপ্লেক্স থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। আদালত তাকে ১৪ দিনের STF হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। এসটিএফ সূত্রের দাবি, জেরার সময় হামিমের কাছ থেকেই অর্পিতা সরকারের নাম উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার রাতেই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে অভিযান চালিয়ে অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতে পেশ করা হবে।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে চলত তথ্য সংগ্রহ?

    তদন্তকারীদের দাবি, অর্পিতাকে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হত। তাঁর কাজ ছিল বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, প্রশাসনিক আধিকারিক, আমলা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা। অভিযোগ, সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হত। এসটিএফ-এর হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, হামিমের নির্দেশেই এই যোগাযোগ তৈরি করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটসহ একাধিক ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামিমের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে চাইছেন। একই সঙ্গে জানতে চাইছেন, গোটা নেটওয়ার্কে তাঁর প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল এবং আর কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত।

    বাংলার রাজনৈতিক নেতাদের নিশানায় রাখার অভিযোগ

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামিমকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিজেপি ও আরএসএস নেতার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর। সেই উদ্দেশ্যে একটি নেটওয়ার্কও গড়ে তোলা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে হামিম সেই পরিকল্পনায় কতটা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল এবং সেই তথ্য কীভাবে বিদেশি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছত, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করার অভিযোগ

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। হামিমের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি এসটিএফ-এর। এমনকি, শুভেন্দু অধিকারী নিউটাউনের ফ্ল্যাটে যে রাস্তায় যাতায়াত করতেন, সেই রুটে হামিম রেকিও করেছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আন্তর্জাতিক যোগ মিলেছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। এসটিএফ তদন্ত করছে। ধৃতের মোবাইল-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    জিম থেকেই ধরা পড়ে হামিম

    শুক্রবার সকালে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন রেনেসাঁ হাউজিং কমপ্লেক্সের জিম থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে পূর্ব বর্ধমান জেলার কুসুমগ্রামের বাসিন্দা। তবে তার পরিবারের শিকড় মন্তেশ্বর থানার দীর্ঘনগর গ্রামেও রয়েছে। হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় বসবাস করতেন। কয়েক মাস আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বর্ধমানের রেনেসাঁ কমপ্লেক্সের রোহিনী টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। গ্রেফতারের পর তদন্তকারীরা সেখানে পৌঁছে দেখেন ফ্ল্যাটে তালা ঝুলছে। প্রতিবেশীদের দাবি, হামিমের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের কথা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। তাঁদের বক্তব্য, আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা কখনও চোখে পড়েনি।

    হাওড়ায় চাকরির আড়ালে চলছিল নাশকতার প্রস্তুতি?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিম হাওড়ার পিলখানার একটি রেডিমেড পোশাক কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করত। কিন্তু এসটিএফ-এর দাবি, এই চাকরির আড়ালেই সে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল নিউটাউনেও।তদন্তকারীরা এখন হামিম ও অর্পিতার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে গোটা নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগ এবং আরও কোনও সহযোগী এই চক্রে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে হামিম ও অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে STF। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আগামী কয়েক দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Commonwealth Games 2026: জোড়া সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ঐতিহাসিক সাফল্য ভারতের! রুপো জিতলেন নীরজ, ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ

    Commonwealth Games 2026: জোড়া সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ঐতিহাসিক সাফল্য ভারতের! রুপো জিতলেন নীরজ, ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রীতিমতো চমক দিয়ে জুডোতে জোড়া সোনা জয় ভারতের। দেশের প্রথম জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) সেরার মুকুট পরলেন ত্রিপুরার বাঙালি মেয়ে অস্মিতা দে। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপর সোনাটি জেতেন হর্ষ সিং। এছাড়াও এই ইভেন্টে মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে রুপো জিতলেন যামিনী মৌর্য। শুক্রবার সবার নজর অবশ্য ছিল জ্যাভেলিন থ্রোয়ে নীরজ চোপড়ার দিকে। কিন্তু, আশা জাগিয়েও সোনা হাতছাড়া ভারতীয় তারকার। প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলে ৮৫.৮৩ মিটারের থ্রোয়ে রুপো জিতলেন তিনি। এদিন, জ্যাভলিনে ডাবল পোডিয়াম ভাগ করে নিল ভারত। ব্রোঞ্জ জিতে চমক দিলেন ভারতের যশবীর সিং (৮৫.৪১)।

    বাবাকে সোনা উৎসর্গ অস্মিতার

    গ্লাসগোয় জুডোর ম্যাটে এদিন যথার্থ অর্থেই আলো ছড়িয়েছেন ভারতীয়রা। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে অস্মিতা হারালেন কানাডার হিডি কোয়াচকে। নির্ধারিত সময়ের লড়াই ১-১ থাকার পর গোল্ডেন স্কোরে বাজিমাত (২-১) করেন তিনি। পুরস্কার প্রদানের সময় জাতীয় সংগীত বেজে উঠতেই আবেগে চোখ ছলছল করল দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ছোট্ট শহর বিলোনিয়ায় বেড়ে ওঠা জুডোকার। বাবা অর্জুন কুমার ছিলেন সাইকেল মেকানিক। গত ডিসেম্বরেই মারা গিয়েছেন তিনি। গেমসের সোনা তাঁকেই উৎসর্গ করলেন কন্যা। অস্মিতার কথায়, ‘এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। অবশেষে স্বপ্ন সফল। জুডো থেকে দেশকে প্রথম কমনওয়েলথ গেমস সোনা এনে দিতে পেরে আমি ধন্য। মাত্র ৮ মাস আগে বাবাকে হারিয়েছি। এই সাফল্য তাঁকেই উৎসর্গ করছি।’

    সোনার ছেলে হর্ষ সিং

    পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে সোনা জয়ের পথে হর্ষ সিং ১০-০ পয়েন্টে উড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার জোসুয়া কাটজকে। কেরিয়ারে এই প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে খেলতে নেমেছিলেন হর্ষ। আর অভিষেকেই বাজিমাত করলেন। অলিম্পিয়ান জোশুয়া কাটজ়কে এই বিভাগের অন্যতম সেরা এবং সোনা জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় ছক কষে লড়াই করে চমক দিলেন হর্ষ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে দীর্ঘক্ষণ কেউই সে ভাবে সুবিধা পাননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ৪১ সেকেন্ড আগে দুর্দান্ত একটি ওয়াজা-আরি (Waza-ari) মুভে এগিয়ে যান হর্ষ। জুডোয় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরিং টেকনিক। এর পরে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লিড ধরে রেখে সোনার পদক নিশ্চিত করেন তিনি।

    লড়াই করেও রুপোতেই থামলেন যামিনী

    সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন অস্মিতা দে। নজর ছিল আর এক মহিলা জুডোকা যামিনী মৌর্যর দিকেও। ৫৭ কেজি বিভাগের ফাইনালে দারুণ লড়াই করেও ইংল্যান্ডের অ্যাসেলিয়া টোপ্রাকের কাছে হেরে যান তিনি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে ম্যাচ গড়ায় গোল্ডেন স্কোরে। অবশেষে পেনাল্টিতে বাজিমাত করে যামিনীকে হারিয়ে সোনা জেতেন টোপ্রাক। রুপো জেতেন যামিনী।

    দুই ভিন্ন ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট

    ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের অ্যাথলেটিক্সে আরও এক গৌরবময় অধ্যায় যোগ করলেন তেজস্বিন শঙ্কর (Tejaswin Shankar)। শুক্রবার গভীর রাতে (ভারতীয় সময়) পুরুষদের ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি। এর ফলে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে দুই ভিন্ন ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হয়ে উঠলেন তেজস্বিন। এর আগে ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের হাই জাম্পে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। হাই জাম্পার থেকে ডেকাথলিটে রূপান্তরিত হওয়া তেজস্বিন গ্লাসগোতে ১০টি ইভেন্ট মিলিয়ে মোট ৭,৯৭৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। মাত্র ২৪ পয়েন্টের জন্য তিনি ৮,০০০ পয়েন্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। সোনা জিতেছেন গ্রেনাডার ভিক্টর লিন্ডন (৮,০৯৬), আর কানাডার ড্যামিয়ান ওয়ার্নার (৮,০৩৬) জিতেছেন রুপো।

    বক্সিং রিংয়ে তেরঙা ঝড়

    বক্সিং রিংয়েও বইল তেরঙা ঝড়। এই ইভেন্ট থেকে সবচেয়ে পদক জিততে চলেছে ভারত। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ১০ জন বক্সার সেমি-ফাইনালে পৌঁছে আগেই তা নিশ্চিত করেছিলেন। শুক্রবার তাঁদের প্রত্যেকেই ফাইনালে জায়গা পাকা করলেন। দুরন্ত পারফরম্যান্সে সোনা জয়ের আশা উজ্জ্বল করলেন লভলিনা বড়গোঁহাই, অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল, প্রীতি পাওয়ার, জাসমিন লাম্বোরিয়া, অরুন্ধতী চৌধুরি, জাদুমনি সিং, সাক্ষী চৌধুরি, প্রিয়া গাংহাস, শচীন সিওয়াচ ও নরেন্দ্র বেরওয়াল। আর ফাইনালে হারলেও নিদেনপক্ষে রুপো নিশ্চিত তাঁদের। এদিকে, পুরুষদের ১১০ কেজি ভারোত্তোলনে অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ ভুলতে পারছেন না লাভপ্রীত সিং। দুরন্ত পারফরম্যান্স করেও রুপোতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় নেভি জওয়ানকে। স্ন্যাচ এবং ক্লিন-জার্ক মিলিয়ে লাভপ্রীত তোলেন ৩৮৮ কেজি ওজন।

    জ্যাভলিনে জয়যাত্রা

    নীরজের কমনওয়েলথ যাত্রা বরাবরই বিশেষ। ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমস (Gold Coast Commonwealth Games)-এ ৮৬.৪৭ মিটার থ্রো করে তিনি সোনা জিতে এই ইভেন্টে প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির গড়েছিলেন। যদিও ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমস (Birmingham Commonwealth Games)-এ চোটের কারণে অংশ নিতে পারেননি। ২০২৬ সালে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে সোনা না এলেও রুপোর পদক জিতে আবারও প্রমাণ করলেন, বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম এখনও নীরজ চোপড়াই। আর যশবীরের ব্রোঞ্জ ভারতের ভবিষ্যৎ জ্যাভলিন শক্তির দিকেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল। এই ফলাফলের মাধ্যমে কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের জ্যাভলিনে নতুন ইতিহাস গড়ল ভারত। প্রথমবার একই আসরে দুই ভারতীয় অ্যাথলিট পদক জিতে দেশের অ্যাথলেটিক্সে নতুন মাইলফলক তৈরি করলেন।

    পদক তালিকায় কোথায় ভারত

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক জয়ের রথ দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পুরুষদের জ্যাভেলিন থ্রোতে নীরজ চোপড়ার রুপো এবং যশ বীর সিংয়ের ব্রোঞ্জ জয়ের পর ভারতের মোট পদক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩। ভারতের ঝুলিতে এখন ৫টি সোনা, ১২টি রুপো এবং ৬টি ব্রোঞ্জ রয়েছে। এই সাফল্যের সুবাদে পদক তালিকায় ভারত দশম স্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

  • Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় ফের লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেল্লাম (Kellam) গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিরা দুই পরিযায়ী শ্রমিককে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত দু’জনই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ছদ্ম সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

    কী ঘটেছিল কুলগামের জঙ্গি হামলায়?

    পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থলে একাধিক অ-স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছিলেন। জঙ্গিরা প্রথমে শ্রমিকদের পরিচয় জানতে চায়। এরপর দুই হিন্দু শ্রমিককে অন্যদের থেকে আলাদা করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। নিহতদের নাম দীপক ও ভূপেন্দ্র। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই দীপকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ভূপেন্দ্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। দু’জনেই ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    দায় স্বীকার টিআরএফ-এর, নজরে লস্কর যোগও

    হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই এর দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। এই সংগঠনটি লস্কর-ই-তইবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৫ সালের পাহেলগাম জঙ্গি হামলার সঙ্গেও তাদের নাম জড়িয়েছিল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই হামলায় এক স্থানীয় এবং এক বিদেশি জঙ্গির জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে মহম্মদ লতিফ, যে গত বছর লস্কর-ই-তৈবা বা টিআরএফ-এ যোগ দিয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এখনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি দেয়নি।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় অভিযান

    হামলার পরপরই সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে কেল্লাম গ্রাম ঘিরে ফেলে। শুরু হয় ব্যাপক কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গিদের খোঁজ চলছে। গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল জানান, তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক নলিন প্রভাত-সহ শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জঙ্গিদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

    অমরনাথ যাত্রার মাঝেই বাড়ছে উদ্বেগ

    এই হামলার পর উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। এর আগে অনন্তনাগ জেলায় এক পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৩,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকার ৬৭০টি অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর কোম্পানি মোতায়েন করেছে।

    পাহেলগাম হামলার পর আবার টিআরএফ-এর সক্রিয়তা

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলিকে দায়ী করেছিল ভারত। পরবর্তীতে ভারত অপারেশন সিঁদুর চালায় এবং দুই দেশের মধ্যে কয়েকদিন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক কুলগাম হামলাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ।

    শোকপ্রকাশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনাকে “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ন্যাশনাল কনফারেন্স তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, “এই মানুষগুলো স্রেফ নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে এসেছেন। কোনো সভ্য সমাজে এই বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দাবির সত্ত্বেও এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্তম্ভিত করে।” ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তাঁর অভিযোগ, উপত্যকার শান্তি নষ্ট করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কারা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, বিজেপি নেতা রবীন্দর রায়না, আপনি পার্টির সভাপতি আলতাফ বুখারি এবং পিপলস্ কনফারেন্স-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে।

    অতীতেও পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা

    কুলগামে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর কুলগামের ওয়ানপোহ এলাকায় বিহারের দুই শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীনগরে পঞ্জাবের দুই অ-স্থানীয় শ্রমিক জঙ্গি হামলায় নিহত হন।

  • Suvendu Attacks Mamata: ‘পাথর পাচারে বাজেয়াপ্ত ৯০ কোটির ওপর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এটা অসম্ভব’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Mamata: ‘পাথর পাচারে বাজেয়াপ্ত ৯০ কোটির ওপর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এটা অসম্ভব’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনিক প্রধান যখন চোখ-কান বন্ধ করে থাকেন, তখনই দুর্নীতি একেবারে গোড়য় গেঁথে যায়। আগের সরকারের সময় রাজ্যে তাই হয়েছিল। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata)। বীরভূমের পাথর ও বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান এবং বিপুল ধনসম্পদ উদ্ধারের খতিয়ান তুলে ধরে নবান্ন থেকে একগুচ্ছ বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন তিনি। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, টুলু মণ্ডলের নামে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিলাসবহুল গাড়ি, জমি, সোনা-রুপো-সহ একাধিক সম্পত্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, তদন্তে এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও উদ্ধার করেছেন তিনটি টাকা গোনার মেশিন, একটি কম্পিউটার ও সিপিইউ এবং দুটি পেনড্রাইভ। পরিবহণ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিপুল সম্পদেরও হদিস মিলেছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার এবং বিএমডব্লিউ, অডি-সহ মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গত ১৫ বছরে কেবল একটি জেলা থেকেই রাজ্য সরকারের বিপুল রাজস্বের ঘাটতি চোখে পড়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা বা প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় পাচার চক্র বছরের পর বছর চলা অসম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “বিগত সরকারের আমলে পাথর খাত থেকে মাসে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত। আর আমাদের সরকারের সময়ে কঠোর নজরদারির ফলে কেবল গত এক মাসেই ৮৩ কোটি টাকার রেভিনিউ সংগ্রহ হয়েছে। নদীর পাড়ে তৃণমূল নেতারা যে বালি ডাম্প করে রেখেছিল, আমরা এসে তা খোলা নিলাম (Auction) করাই। সেই বালি নিলাম করেই রাজ্য সরকারের ভাণ্ডারে নতুন করে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা এসেছে।”

    রাজ্য পুলিশ দক্ষ

    সাধারণত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) বা সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে এই ধরনের বিশাল ক্র্যাক ডাউন করতে দেখা যায়। তবে রাজ্য পুলিশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ রাজ্যের পুলিশও যে কতটা দক্ষ, তা এই অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। এই পাচারের টাকা বিদেশেও পাঠানো হয়েছে। অনেকেই চিকিৎসার দোহাই দিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।” শুভেন্দু আশাপ্রকাশ করেন যে, দুর্নীতির পথ বন্ধ হওয়ায় চলতি অর্থবর্ষ শেষে রাজ্য সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ আরও ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

LinkedIn
Share