Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Exclusive Breastfeeding: শুধু শিশুই নয়, মায়েরও বড় সুরক্ষা! প্রথম ছ’মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ কেন জরুরি?

    Exclusive Breastfeeding: শুধু শিশুই নয়, মায়েরও বড় সুরক্ষা! প্রথম ছ’মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ কেন জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্তান জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুই মায়ের দুধ! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পরামর্শ পৃথিবী জুড়ে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতে এই সচেতনতায় বেশ কিছুটা ঘাটতি দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর জন্মের পরের মুহূর্ত থেকে পরবর্তী ছ’মাস স্তন্যপান না করালে, পরবর্তী জীবনে একাধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতে সম্প্রতি এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগের। অগাস্ট মাসে স্তন্যপান নিয়ে সচেতনতা কর্মশালা পালন হয়। এ বছরে তাই সুস্থ ও মজবুত আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে স্তন্যপান করানো কতখানি জরুরি, সে নিয়েই লাগাতার সচেতনতা শিবির এবং কর্মশালার আয়োজন করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট? কেন উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা?

    সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহুরে ভারতীয়দের একাংশ, সন্তান জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র স্তন্যপান করান না। গত পাঁচ বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মাফিক জন্মের প্রথম ছ’মাস শুধুই স্তন্যপান করা শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এর প্রভাব আগামী কয়েক বছরে গভীর ভাবে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে স্তন্যপান নিয়ে সচেতনতার হার এখনো পর্যাপ্ত নয়। আবার অনেকক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে মায়ের পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা। তাঁরা, জানাচ্ছেন, জন্মের পরে মধু বা মিছরির জল নয়, শিশুকে প্রথমেই স্তন্যপান করানো প্রয়োজন। সদ্যোজাতের শরীরে প্রথমেই, মায়ের প্রথম দুধের পৌঁছলে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয়। কিন্তু এখনো অনেকক্ষেত্রে শিশুকে প্রথমে মধু, মিছরির জল দেওয়া হয়। সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে!

    মাতৃত্বকালীন ছুটির অভাব বড় চ্যালেঞ্জ!

    তবে, জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস টানা স্তন্যপান করানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মায়ের ছুটির অভাব। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নতুন মায়ের ছুটি নিয়ে নানান জটিলতা তৈরি করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয় না।‌ এর ফলে মা বাধ্য হয়ে কর্মজীবনে ফিরে যান। কিন্তু সন্তান জন্মের পরের ছ’মাস মায়ের সদ্যোজাতের সঙ্গে কাটানো‌ জরুরি। এই সময়ে শিশু সম্পূর্ণ স্তন্যপান করবে। জল বা অন্য কোনো খাবার খাবে না। তাতেই তার শরীরে একাধিক উপকার হবে। ভারতের আইন মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার দিয়েছে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, সেই ছুটি মঞ্জুর করা হয় না। ফলে মা কাজের জায়গায় যেতে বাধ্য হন। অনেক সময়েই মা একসঙ্গে সারাদিনের দুধ পাম্প করে রেখে যেতে পারেন না। ফলে শিশু প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ পায় না। শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ না পেলে আগামী প্রজন্ম একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগবে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাই উদ্বেগ বাড়ছে!

    কেন আগামী মজবুত করতে স্তন্যপান জরুরি?

    চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পৃথিবী জুড়ে চলবে প্রচার কর্মসূচি! যার মূল কথা হলো, আগামী প্রজন্মকে সুস্থ ও মজবুত গড়ে তুলতে স্তন্যপান জরুরি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, শিশুর শরীরে সম্পূর্ণ পুষ্টি এবং অ্যান্টিবডি গড়ে তুলতে স্তন্যপান সবচেয়ে জরুরি। শিশুকে ঠিকমতো স্তন্যপান করালে তবেই ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া সহ একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
    শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে স্তন্যপানের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। মায়ের দুধে এমন একাধিক উপাদান থাকে, যা শিশুর মস্তিষ্কের‌‌ বিকাশে বিশেষ সাহায্য করে। তাই আগামী দিনে শিশুর সুন্দর জীবনের জন্য স্তন্যপান অত্যন্ত জরুরি। মা ও শিশুর সম্পর্ক গভীর করতেও স্তন্যপান জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন্যপান করালে মা ও শিশুর মানসিক সম্পর্ক গভীর ও দৃঢ় হয়। তাই স্তন্যপান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্তানকে স্তন্যপান করালে মায়ের স্বাস্থ্য লাভ কতখানি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশু জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খেলে দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয়। তেমনি, মায়ের শরীরেও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার চাবিকাঠি স্তন্যপান করানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন্যপান করালে শুধু শিশুর শরীর সুস্থ থাকে এমন নয়, মায়ের শরীর ও ভালো থাকে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানকে পর্যাপ্ত স্তন্যপান করালে মায়ের আগামী দিনে স্তন ক্যান্সার এবং ডিম্বাশয়, জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। স্তন্যপান করালে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে, এই সমস্ত অঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত স্তন্যপান করালে মায়ের প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ সহজেই বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু মায়ের প্রসব পরবর্তী কালে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকমতো স্তন্যপান করালে সেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। প্রসব পরবর্তী কালে মায়ের মানসিক অবসাদ হয়। সেই অবসাদ কমাতে স্তন্যপান সাহায্য করে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মায়ের শরীরে নানান হরমোনের পরিবর্তন হয়। ফলে, মানসিক অবসাদ‌ তৈরি হয়। সেই অবসাদ কাটাতে বাড়তি সাহায্য করে স্তন্যপান। তবে, সন্তানকে স্তন্যপান করানোর সময়ে মায়ের যত্ন জরুরি। মায়ের নিয়মিত পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি।‌ মায়ের পর্যাপ্ত জল খাওয়া দরকার। পাশপাশি মায়ের প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম। সেই দিকে পরিবারের খেয়াল রাখার দায়িত্ব রয়েছে। নতুন মা এবং সন্তানের যত্ন যাতে ঠিকমতো হয়, আগামী প্রজন্ম যাতে সুস্থ ও মজবুত হতে পারে, সে নিয়ে সব মহলে সচেতনতা জরুরি।

  • POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK Unrest)-এ পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মঙ্গলবারও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের আবহ অব্যাহত রয়েছে। যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র অভিযোগ, বাগ জেলায় চলমান বিক্ষোভ দমাতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। একই সঙ্গে মুজাফফরাবাদ জেলার মাকরি এলাকায় সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি

    সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) রাষ্ট্রসংঘ (UN), রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (OHCHR), আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে পিওকে-র একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। JAAC-এর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছেন। এদিকে, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

    আগেও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সেনা। সাধুনাটি জেলায় জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নিরস্ত্র জমায়েতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিন জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। রাওয়ালকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনালের সামনে গুলিবর্ষণেও মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) ইসলামাবাদের সেনার ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভারতও। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘নয়াদিল্লি আশা করে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘটিত নির্যাতন ও অনাচারের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। সেখানে কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং অবৈধ ভাবে দখলে থাকা এলাকাগুলিতে প্রশাসনিক নিপীড়নের সরাসরি পরিণতি এই স্বতঃস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ।’’ ভারতের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অভিযোগগুলোর সমাধান করার পরিবর্তে পাকিস্তানি রাষ্ট্র চরম দমনপীড়নের পথ নিয়েছে এবং নিরস্ত্র অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। যার ফলে ধারাবাহিক ভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

    ১২টি সংরক্ষিত আসন-ই ইসলামাবাদের চাবিকাঠি

    দীর্ঘ দিন ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা পাক সেনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছেন। তাতে নতুন মাত্রা এনেছে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে স্থানান্তরিত সংরক্ষিত ১২টি আসন। সেই আসনগুলিই এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের যৌথমঞ্চ, জেএএসি ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং সেখানকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে হাতিয়ার করছে। ১৯৪৭ এবং তার পর ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে বহু মানুষ পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে জম্মু, পুঞ্চ এবং রাজৌরি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। এই মানুষদের পাকিস্তানে ‘উদ্বাস্তু’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে এই উদ্বাস্তুদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি আসন কাশ্মীর উপত্যকা এবং ৬টি আসন জম্মু থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত। ওই উদ্বাস্তুরা যেহেতু পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে বসতি স্থাপন করেছেন, তাই সংরক্ষিত আসনগুলির নির্বাচন পিওকে-র বাইরে হয়ে থাকে।

    কীভাবে ভুল পথে অধিকৃত কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামাবাদ

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে আসনগুলির যোগসূত্র রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তু প্রতিনিধিদের দেখিয়ে ইসলামাবাদ বলতে চায়, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। জেএএসি-র, এই উদ্বাস্তু আসনগুলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। অভিযোগ, ওই আসনগুলি থেকে সাজানো নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইসলামাবাদ। জেএএসি-র নেতা সর্দার আমান খান সম্প্রতি পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসেরও বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীই মূলত ওই স্থানান্তরিত কাশ্মীরিদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাস রফতানি ও অস্ত্র সরবরাহ করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি নির্যাতন প্রতিরোধে হস্তক্ষেপের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে শুরু হয়েছে আন্দোলনে নতুন পর্যায়। তাতে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাক সেনার বিরুদ্ধে।

    উদ্বেগ প্রকাশ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি পাকিস্তান সরকারের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির আরও অভিযোগ, পিওকে-র কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে ঘটনাগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখারও আহ্বান জানিয়েছে। পিওকে-তে পরিস্থিতি ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহল নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।

  • Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস (Dallas Gita Event) শহরে অনুষ্ঠিত হল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পারায়ণ অনুষ্ঠান। অবধূত দত্ত পীঠমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি-র (Sri Ganapathy Sachchidananda Swamiji) নেতৃত্বে কিউটেক্স (CUTEX) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্ত, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বামীজির যুক্তরাষ্ট্রে আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৮টি দেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল—হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী স্মৃতি থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০টি শ্লোক একযোগে আবৃত্তি করেন। পুরো অডিটোরিয়াম ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের আবহে মুখর হয়ে ওঠে।

    সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার

    ডালাসে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার’। এই আদর্শকে সামনে রেখেই বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়। শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি বলেন, “ঈশ্বর ভারতকে আশীর্বাদ করুন, আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন এবং সমগ্র বিশ্বকে আশীর্বাদ করুন।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের দায়িত্ব দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করা। অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়। স্বামীজি জানান, এই গীতা পারায়ণ প্রতিটি পরিবারের শান্তি, সমাজের কল্যাণ এবং বিশ্বের সমৃদ্ধি ও শান্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর আহ্বান, শান্তি, সমৃদ্ধি, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

    মার্কিন মুলুকে নিয়মিত গীতাপাঠ

    আমেরিকায় গীতাপাঠ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি ভারতীয় প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের একটি বড় অংশ। টেক্সাসের ডালাসে, শিকাগো বা মিশিগানের মতো শহরে শয়ে শয়ে মানুষের একসঙ্গে গীতা আবৃত্তির মতো বড় ইভেন্ট নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় স্বামীজির আশীর্বাদ এবং সর্বজনীন শান্তির মন্ত্র ‘লোকাঃ সমস্তাঃ সুখিনো ভবন্তু’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। যার অর্থ—“সমস্ত বিশ্বের সকল প্রাণী সুখী, সুস্থ ও শান্তিতে থাকুক।”

  • DRDO AI Swarm Drone: যুদ্ধের চেহারা বদলে দেবে ৫০ ড্রোনের ‘ঝাঁক’! এমএসএমই-দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘এআই সোয়ার্ম ড্রোন’ বানাচ্ছে ডিআরডিও

    DRDO AI Swarm Drone: যুদ্ধের চেহারা বদলে দেবে ৫০ ড্রোনের ‘ঝাঁক’! এমএসএমই-দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘এআই সোয়ার্ম ড্রোন’ বানাচ্ছে ডিআরডিও

    সুশান্ত দাস

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার (Atmanirbhar Bharat) পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। আধুনিক যুদ্ধের দ্রুত বদলে যাওয়া চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ বার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সোয়ার্ম ড্রোন (Swarm Drone) তৈরির জন্য দেশীয় বেসরকারি সংস্থা, বিশেষ করে স্টার্ট-আপ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME)-গুলিকে আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও (DRDO)। এই প্রকল্প সফল হলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যেমন বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, তেমনই দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এমএসএমই-দের জন্য ডিআরডিও-র নতুন প্রকল্প

    ডিআরডিও এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে ‘ডেভেলপমেন্ট অফ ক্লোজ ফর্মেশন ফ্লাইং অফ মাল্টিপল ড্রোনস্’ । এটি সংস্থার প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিল (TDF) প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত হবে। টিডিএফ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল দেশীয় এমএসএমই ও স্টার্টআপগুলিকে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তৃণমূল স্তরের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্রমশ আকাশপথকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। সেই কারণে স্বল্প খরচে, এআই-নির্ভর এবং সমন্বিতভাবে পরিচালিত সোয়ার্ম ড্রোন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কী এই সোয়ার্ম ড্রোন?

    সোয়ার্ম ড্রোন হল একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা একাধিক মানববিহীন বিমান (UAV)-এর একটি নেটওয়ার্ক। ডিআরডিও-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ‘মাস্টার’ ড্রোন এবং প্রায় ৫০টি ‘স্লেভ’ ড্রোন মিলিয়ে একটি সোয়ার্ম তৈরি হবে। এই ড্রোনগুলি একে অপরের থেকে মাত্র অর্ধ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে উড়তে পারবে এবং রিয়েল-টাইমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে। মাস্টার ড্রোনটি মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এটি স্থলভিত্তিক কন্ট্রোল স্টেশন থেকে নির্দেশ গ্রহণ করে বাকি ড্রোনগুলিকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করবে। ফলে পুরো ড্রোন নেটওয়ার্কটি একযোগে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ বা আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তি?

    একটি মাত্র ড্রোনকে শত্রুপক্ষ সহজেই শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে চলা ৫০টি ড্রোনের একটি সোয়ার্মকে থামানো অনেক বেশি কঠিন। কোনও একটি ড্রোন ধ্বংস হলেও বাকি ড্রোনগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করে মিশন চালিয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তিই সোয়ার্ম ড্রোনকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর করে তুলেছে।

    কী কী করতে পারবে ডিআরডিও-র সোয়ার্ম ড্রোন?

    এই সোয়ার্ম ড্রোনগুলির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল—

    • ● প্রায় ৫,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।
    • ● পাহাড়ি এলাকা ও দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।
    • ● প্রবল বাতাসেও স্থিতিশীলভাবে উড়তে সক্ষম।
    • ● প্রতিটি ড্রোনে ক্যামেরা, নজরদারি ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম বহন করা যাবে।
    • ● একসঙ্গে ১০০-রও বেশি শত্রু ড্রোন শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পারবে।
    • ● প্রচলিত রেডারের নজর এড়িয়ে রেকি, আর্টিলারি সংশোধন, কামিকাজে হামলা এবং সমন্বিত সোয়ার্ম আক্রমণ চালাতে সক্ষম।
    • ● মাত্র ৫০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে নিজেদের অবস্থানের ত্রুটি সংশোধন করতে পারবে।
    • ● ৭০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য থাকায় সাইবার নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

    ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও বড় অস্ত্র

    সোয়ার্ম ড্রোনের আর একটি বড় সুবিধা হল, একসঙ্গে উড়তে গিয়ে এগুলি কার্যত ‘ভার্চুয়াল অ্যান্টেনা’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে শক্তিশালী রেডিও সিগন্যাল তৈরি করে শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত করা বা জ্যাম করার মতো কাজও করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও এই প্রযুক্তির গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কম খরচে বেশি কার্যকর

    ভারী ও ব্যয়বহুল সামরিক প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে তুলনামূলক কম খরচে বহু ড্রোন ব্যবহার করে একই সঙ্গে নজরদারি, বিভ্রান্তিমূলক অভিযান (Decoy Mission), নির্ভুল হামলা (Precision Strike) এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এই সোয়ার্ম ড্রোনে ‘সফট কিল’ এবং ‘হার্ড কিল’— উভয় ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ডিআরডিও-র এই উদ্যোগ শুধু নতুন প্রজন্মের যুদ্ধ প্রযুক্তি তৈরির দিকেই নয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় এমএসএমই-দের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে, তেমনই তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ। আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর স্বল্প ব্যয়ের সোয়ার্ম ড্রোনই আগামী দিনে ভারতের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

  • PM Modi Video Row: ‘‘ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে’’, মোদির ভিডিও-বিতর্কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

    PM Modi Video Row: ‘‘ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে’’, মোদির ভিডিও-বিতর্কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও (PM Modi Video Row) মুছে ফেলার ঘটনায় সরাসরি মার্ক জুকেরবার্গের ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় প্যানেল। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ওই প্যানেলের মাথায় রয়েছেন। মেটা এ ঘটনায় আগেই ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু প্যানেলের বক্তব্য, সংস্থার তরফে শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না। কী ভাবে এটা ঘটল, তার জন্য কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে, জানাতে হবে। ক্ষমা চাইতে হবে মেটা-র মালিক স্বয়ং মার্ক জুকেরবার্গকে। জেন-জি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য করে বানানো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাইরাল সেলফি ভিডিও হঠাৎ করেই ফেসবুক থেকে গায়েব হয়ে যায়। এই নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়।

    শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু কেন?

    সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর কমিটি প্রধান নিশীকান্ত দুবের সাফ কথা, এমন ঘটনায় ‘মেটা’র ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, এই ঘটনার দায় নিতে হবে তাদের। সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও প্রয়োজন। সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সোমবার গুগল, মেটা ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলির প্রতিনিধি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও ‘মেইটি’ শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু কেন রয়েছে? এই সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মেটার কর্তাদের।

    ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা

    এমন ঘটনায় মেটার ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, বলে দাবি করে নিশিকান্ত জানান, গত বছরের (২০২৫) জানুয়ারিতে জুকেরবার্গ দাবি করেছিলেন, কোভিডের পরে বিভিন্ন দেশের দেওয়া সরকারি তথ্যের উপরে মানুষ আস্থা হারিয়েছে। তাঁর আরও দাবি ছিল, সেই কারণেই ২০২৪-এ যে সব দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে অনেক ক্ষমতাসীন সরকারই ভোটে ধাক্কা খেয়েছে। এই প্রসঙ্গে ভারতের নামও নিয়েছিলেন তিনি। সেই নিয়ে বিপুল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ক্ষমাও চেয়েছিল মেটা। এ দিন সেই প্রসঙ্গও টেনে নিশিকান্ত বলেন, ‘‘জুকেরবার্গ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন।’’ নিশিকান্ত জানিয়ে দেন, জুকেরবার্গকেই ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘জুকেরবার্গ ক্ষমা না চাইলে মেটার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় যে আইনি সুরক্ষা (Safe Harbour Protection) রয়েছে, তা তুলে নেওয়া উচিত।’’

    মেটাকে ‘সেফ হারবার’ নয়

    তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স-এর মতো সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোনও ব্যবহারকারী বেআইনি বা আপত্তিকর কিছু পোস্ট করলে, শুধুমাত্র সেই পোস্টের জন্য প্ল্যাটফর্মকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়ী করা যায় না। এই আইনি সুরক্ষাকেই বলা হয় ‘সেফ হারবার’। ফলে, মেটার এই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হলে, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত বা বেআইনি কনটেন্টের জন্য মেটাকেও সরাসরি আইনি জবাবদিহি করতে হতে পারে।

    ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা অপরাধ’

    প্রসঙ্গত, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে গত একমাস ধরে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছে সিজেপি। এর আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। এরমধ্যেই গত ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ৩ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এটা লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।’’ তিনি জানান, দোষীদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সাড়ে ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর এক বছর যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই প্রয়াস নিমেষেই রেকর্ড গড়ে ফেলে। ইনস্টাগ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটির ভিউ সংখ্যা ৩০৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়, যা এক নতুন বিশ্বরেকর্ড! এই আবহে সেই ভিডিও পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা গুরুতর অপরাধ, বলে দাবি করে সংসদীয় প্যানেল।

    প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে ফেলার দায় কে নেবে!

    বৈঠকে বিজেপির এক প্রবীণ সাংসদ মেটার কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার দায় কে নেবে! সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে বিজেপি সাংসদ মেটা কর্তাদের প্রশ্ন করেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও ডিলিট করা হল কেন? ফেসবুক অন্য আপত্তিকর কনটেন্ট যেখানে সরায় না, সেক্ষেত্রে ওই ভিডিওটিই কেন সরানো হল প্ল্যাটফর্ম থেকে? এর দায় কে নেবে?” মেটার তরফে জানানো হয়, ওই ভুলের জন্য ইতিমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা। ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজেপি সাংসদ দাবি করেন, শুধু দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইলেই হল না। দায় নিতে হবে। করতে হবে আইনি পদক্ষেপ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও এভাবে সরানো গেলে, সাধারণ নেটিজেনদের সুরক্ষা কোথায়, জানতে চান ওই বিজেপি সাংসদ।

    মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও প্রশ্ন

    মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলগুলির কনটেন্টের ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৩ কোটি হলেও, কোনও রাজনৈতিক দল বা নথিভুক্ত সংগঠন নয়— এমন সংস্থাগুলির ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৭ কোটি। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টির মতো দলগুলির মোট ভিউয়ারশিপ ২.৩ থেকে ২.৪ কোটির মধ্যে। কিন্তু রাজনৈতিক দল বা এনজিও নয়, এমন অ্যাকাউন্টের ভিউয়ারশিপ ২.৭ কোটি।’’ নিশিকান্তের অভিযোগ, নতুন বা অচেনা অ্যাকাউন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতির কারণেই এমন হচ্ছে। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে তৈরি একটি সংরক্ষণ বিরোধী ফোরামের ভিউয়ারশিপও প্রায় ৭০ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে।

  • Lashkar-e-Taiba Claims: ‘ধুরন্ধর’ স্টাইল! ‘‘পাকিস্তানে থেকেই ৩০ সদস্যকে হত্যা ভারতীয় এজেন্টদের’’, বড় স্বীকারোক্তি লস্কর নেতার

    Lashkar-e-Taiba Claims: ‘ধুরন্ধর’ স্টাইল! ‘‘পাকিস্তানে থেকেই ৩০ সদস্যকে হত্যা ভারতীয় এজেন্টদের’’, বড় স্বীকারোক্তি লস্কর নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার টানটান অ্যাকশন দৃশ্য! পাকিস্তানের বুকে ‘অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ’-দের (unknown gunmen model) একের পর এক সফল নিশানা। সিনেমার মতো বাস্তবেও এখন লস্কর-ই-তৈবার ( Lashkar-e-Taiba) সাজানো বাগান তছনছ। গত তিন-চার বছরে পাকিস্তানের (Pakistan) অভ্যন্তরেই খতম ৩০-এর বেশি জঙ্গি, অবশেষে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এই বড়সড় হারের কথা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হল খোদ লস্কর-ঘনিষ্ঠ এক নেতা! তাঁদের কথায়, দলের মধ্যে ভারতের এজেন্ট ছদ্মবেশে থেকেই অধিকাংশকে হত্যা করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথাকথিত ‘অজানা বন্দুকধারী’ (unknown gunman model) কৌশল।

    পাক-অধিকৃত কাশ্মীরও নিরাপদ নয়!

    সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে, লস্কর-ঘনিষ্ঠ নেতা রিজওয়ান হানিফ দাবি করেন, পাকিস্তানের পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মুজাফ্ফরাবাদ এবং রাওয়ালাকোট-সহ একাধিক এলাকায় সংগঠনের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মে মাসে তৈরি ওই ভিডিওতে হানিফ বলেন, “গত তিন থেকে চার বছরে ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্টদের হাতে আমাদের ৩০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে।” হানিফ আরও দাবি করেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরেও (PoK) তাদের সদস্যরা নিরাপদে বসবাস করতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

    ভাইরাল ভিডিও-য় বিরল স্বীকারোক্তি

    বিশ্লেষকদের মতে, লস্কর-ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে সংগঠনের এত বড় ক্ষয়ক্ষতির প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি অত্যন্ত বিরল। গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জঙ্গি নেতা ও সদস্য রহস্যজনকভাবে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হন। এসব ঘটনার জন্য পাকিস্তান একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও, নয়াদিল্লি সেই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে। নিজের বক্তব্যে রিজওয়ান হানিফ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্যও করেন। তিনি দাবি করেন, লস্করের সদস্যদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল তাদের ধর্মীয় পরিচয়। পাশাপাশি তিনি হিন্দু ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখেন।

    কী এই লস্কর-ই-তৈবা?

    লস্কর-ই-তৈবা ১৯৮০-র দশকের শেষ দিকে পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন (Hafiz Muhammad Saeed), জাফর ইকবাল (Jaffar Iqbal) এবং আবদুল্লা আজ (Abdullah Azzam)। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় গঠিত এই সংগঠন পরবর্তীতে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে জঙ্গি কার্যকলাপে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউনাইটেড নেশন এবং বিশ্বের একাধিক দেশ লস্কর-ই-তৈবাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারত-সহ একাধিক পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তানের আইএসআই (Inter-Services Intelligence)-এর কাছ থেকে এই সংগঠন বিভিন্ন সময়ে মদত পেয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে। ২০০৮ সালে মুম্বই জঙ্গি হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই হামলা জড়িত ছিল লস্কর। ওই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্যরাই খুন হয়েছেন ও হচ্ছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে। আল-কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে, ভারতে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ নিষেধাজ্ঞা চাপায় লস্করের উপরে।

    ‘টার্গেট কিলিং’

    সাধারণত দলের সদস্যদের খতম হওয়ার কথা স্বীকার করে না জঙ্গি সংগঠনগুলি। ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সময়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালিয়ে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারত। ওই অভিযানে লস্কর-ই-তৈবা-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের অনেক সদস্যকে নিকেশ করা হয় বলেও জানিয়েছিল ভারতীয় সেনা। তবে এই দাবি উড়িয়ে দেয় লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba)। তবে এ বার অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী পাকিস্তানের ভেতরেই সংগঠনটির প্রায় ৩০ সদস্যকে হত্যা করেছে বলে ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেছেন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত এক শীর্ষ জঙ্গি নেতা । একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী এই ‘টার্গেট কিলিং’ করেছে বলেও দাবি করেন হানিফ।

    ‘অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজ’ ও টার্গেটে থাকা জঙ্গি 

    সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ হন ভারতে একের পর এক হামলার নেপথ্যে থাকা লস্করের দ্বিতীয় নেতা আমির হামজা, হাফিজ সইদের পর যার নাম উঠে আসে। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর বুকে আইআইএসসির অন্দরে হামলার ঘটনার নেপথ্যেও হামজার হাত ছিল। যে হামলা চালিয়েছিল লস্কর ই তৈবা। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে, ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে ওয়ান্টেড লস্করের শীর্ষ কমান্ডার জিয়া-উর-রহমান ওরফে নাদিম অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়। তাকে ২০২৪ সালের ৯ই জুনের রিয়াসি বাস হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মনে করা হত, যে হামলায় সন্ত্রাসীরা নয়জন তীর্থযাত্রীকে হত্যা এবং ৪১ জন আহত হন। হাফিজ সাইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুফতি কায়সার ফারুকও করাচিতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয় পাকিস্তানের মাটিতে। ২০১০ সালে ভারতের হেফাজতে ছিল শাহিদ লাতিফ। পরে তার ঠাঁই হয় পাকিস্তানে। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটি হামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী, জইশ-ই-মহম্মদ (জেএম) জঙ্গি শাহিদ লতিফ শিয়ালকোটের দাসকা এলাকার একটি মসজিদের ভেতরে নিহত হয়। ২০২২ সালের মার্চ মাসে, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি ৮১৪-এর অন্যতম ছিনতাইকারী জহুর মিস্ত্রি করাচির আখতার কলোনিতে দুই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীর গুলিতে নিহত হয়। যে জাহুরকে পাকিস্তানি মিডিয়া, ‘ব্যবসায়ী’ হিসেবে দাবি করে।

    ভারতীয় গোয়েন্দাদের বক্তব্য

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটি দেখেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। যে ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখা গিয়েছে তিনি ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় আছেন বলেও জানিয়েছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। ওই লস্কর সদস্যদের খতম করার পিছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আছে বলে দাবি করেছেন হানিফ। তবে তার এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। এরই পাশাপাশি,  ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তিকর এবং বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন হানিফ বলেও জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একের পর এক শীর্ষ ক্যাডারের মৃ‌ত্যুতে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে লস্কর বাহিনী। তাই ধর্মীয় অনুভূতিকে উস্কে দিয়ে নতুন করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ ও মৌলবাদ ছড়ানোর কৌশলকেই অস্ত্র করতে চাইছে লস্কর-ই-তৈবা।

  • UTI in Children: স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ইউটিআই! কোন খাবারে বাড়ছে ঝুঁকি, কোন ৪ ঘরোয়া উপায়ে মিলবে সুরক্ষা?

    UTI in Children: স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ইউটিআই! কোন খাবারে বাড়ছে ঝুঁকি, কোন ৪ ঘরোয়া উপায়ে মিলবে সুরক্ষা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে প্রত্যেক বছর কয়েক কোটি মানুষ ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে (সংক্ষেপে ইউটিআই)  আক্রান্ত হন। মূত্রনালীর সংক্রমণের জেরে ভোগান্তি বাড়ে। অনেকেই বছর একাধিকবার এই সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক তথ্য জানাচ্ছে, কম বয়সি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই ভোগান্তি বাড়ছে। শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায়, উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজন ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হলে ছ’মাস অন্তর আবার সেই সংক্রমণ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বারবার সংক্রমণ ফিরে আসছে। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

    কেন পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে এই ভোগান্তি?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি কারণে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম বয়সি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এখন নরম পানীয় খাওয়ার প্রবণতা বেশি। অতিরিক্ত পরিমাণে নরম পানীয় খেলে এই ধরণের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। পাশপাশি, অতিরিক্ত মশলাদার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ মশলাদার খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তবে সবচেয়ে বিপদ বাড়ায় চিনি এবং চকলেট। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিনি শরীরের একাধিক ক্ষতি করে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ চিনি এবং চকলেট খেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভারতীয় শিশুদের অতিরিক্ত পরিমাণ মিষ্টি খাওয়ায় প্রবণতা রয়েছে। আর সেই অভ্যাস ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    রোগ রুখতে কোন ঘরোয়া উপাদানে ভরসা বিশেষজ্ঞদের?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি ঘরোয়া উপাদানে ভরসা করা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি অভ্যাসে নজর দেওয়া এবং কিছু খাবার নিয়মিত খেলে এই ধরণের সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে।

    নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস!

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই শিশুর জল খাওয়ার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।‌ শিশুর জন্মের ছ’মাস পর থেকেই সে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাচ্ছে কিনা, সেই পরিমাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার। শরীরে জলের ঘাটতি হলেই একাধিক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তার মধ্যে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন অন্যতম। তাই এই রোগের ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। একজন স্কুল পড়ুয়ার নিয়মিত ৪ থেকে ৬ লিটার জল খাওয়া প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা।

    ভাতের পাতে টক দই জরুরি!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন কমাতে টক দই জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে। যা অন্ত্র, মূত্রনালী ও একাধিক অঙ্গের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে তোলে। ফলে, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকিও কমে। তাই তাঁদের পরামর্শ, স্কুল থেকে ফিরে খাওয়ার শেষ পাতে নিয়মিত টক দই দেওয়া জরুরি। সন্তান নিয়মিত টক দই খেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি কমবে।

    ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল!

    কমলালেবু, পেয়ারা, আমলকি কিংবা কিউই যেকোনো একটি ফল নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন সি ঘাটতি হলে চলবে না। নিয়মিত তাই যেকোনো একটা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেতে হবে। ছোটো থেকেই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হবে। ফলে, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

    পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর!

    স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে ছোটো থেকেই পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশেষত মেয়েদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে বিশেষ পাঠ দেওয়া জরুরি। কারণ মহিলারাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে ভোগেন। তাই শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতার দিকে যেমন নজর দিতে হবে, তেমনি ভিজে কাপড়ে দীর্ঘ সময় থাকা যাবে না।‌ সুতির পরিচ্ছন্ন অন্তর্বাস পরার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার পাঠ জানা জরুরি।‌তাছাড়া, মল ও মূত্র ত্যাগের পরে পর্যাপ্ত জল দিয়ে ঠিকমতো পরিষ্কার করার অভ্যাস থাকাও জরুরি। তবেই একাধিক সংক্রমণ আটকানো সহজ হবে।

  • Sheikh Hasina: দেশ ছাড়ার দু’বছর পর বুধবার প্রকাশ্যে আসছেন হাসিনা! দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক

    Sheikh Hasina: দেশ ছাড়ার দু’বছর পর বুধবার প্রকাশ্যে আসছেন হাসিনা! দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ছাড়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চলেছেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশে ফেরার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন। এবার দিল্লির গোপন বাসভবন ছেড়ে প্রকাশ্যে আসছেন মুজিব কন্যা। আগামী বুধবার দিল্লির দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেটস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সেই সম্মেলনের পুরোটাই ভার্চুয়াল মাধ্যমে হবে। সূত্রের খবর, ৫ আগস্ট ক্লাবের স্যার মার্ক টুলি অডিটোরিয়ামে সন্ধে ৬টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এই সাংবাদিক সম্মেলন হবে। সেখানে হাসিনা তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে কথা বলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    দেশ ছাড়ার পর প্রথম গণমাধ্যমের সামনে

    ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসেন। সেই সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ভারতে আসার পর শেখ হাসিনা লিখিত ও ই-মেইল সাক্ষাৎকার এবং দলীয় ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে এটিই হবে তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ। এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও তৎকালীন সাংসদ সাকিব আল হাসান, প্রাক্তন কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক আবু ওবায়দা আরিন এবং মানবাধিকারকর্মী মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক ও শাহ মো.বখতিয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এফসিসি দক্ষিণ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ।

    বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা

    শেখ হাসিনা এর আগে একাধিকবার জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে। যদিও ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনার বক্তব্য, দেশে ফিরে তিনি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এসব মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ব্রিকস সম্মেলন-এর আগে কী ইঙ্গিত

    আগামী সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, এই আমন্ত্রণ তারা খতিয়ে দেখছে। কয়েকদিন আগে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিকে বলা হয়, হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জল্পনা চলছিল, ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ করলে তারেক দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আসবেন। হাসিনার আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে, দেশে ফেরার আগে এই সাংবাদিক সম্মেলন। এর ফলে জল্পনা তুঙ্গে যে, সব পক্ষের ‘ব্যাক চ্যানেল’ আলোচনার পর ঠিক হয়েছে, ভারত হাসিনাকে ফেরত পাঠাচ্ছে, এই বার্তা না দিয়ে হাসিনাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরছেন—এই বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

    দেশে ফিরলেই গ্রেফতার!

    অন্যদিকে, বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হতে পারে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই তাঁকে ভারতে থেকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদনও করেছে। এই পরিস্থিতিতে ৫ আগস্টের ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

  • Nigeria: নাইজেরিয়ায় এক সপ্তাহে ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত! বেনুয়ে ও কাদুনায় নতুন করে হিংসায় উদ্বেগ

    Nigeria: নাইজেরিয়ায় এক সপ্তাহে ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত! বেনুয়ে ও কাদুনায় নতুন করে হিংসায় উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাইজেরিয়ার ( Nigeria Terror) মধ্যাঞ্চলে ফের রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ও বাসিন্দাদের দাবি, গত ২৪ থেকে ২৯ জুলাই-এর মধ্যে বেনুয়ে ও কাদুনা রাজ্যে ধারাবাহিক হামলায় ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা এসব হামলার জন্য ফুলানি সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ট্রুথ নাইজেরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই বেনুয়ে রাজ্যে অন্তত ৬১ জন খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন। যদিও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সেনা ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক ক্ষেত্রে হামলা প্রতিরোধ বা দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনা

    ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনায় বিগত কয়েক বছর ধরেই জর্জরিত আফ্রিকার অন্যতম এই দরিদ্র দেশটি। যে অঞ্চলগুলিতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী, সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় পাশাপাশি বসাবস করেন বলেই জানা গিয়েছে। স্থানীয় মুসলিম পশুপালক ফুলানি গোষ্ঠী এবং খ্রিস্টান কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে বিবাদ। সূত্রের খবর, শরিয়তি আইন স্থাপনের জন্য খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর উপরে ভয়ানক হামলা চালানো হচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম মানুষজনের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে গ্রামবাসীদের। সন্ত্রাসের রেশ এখনও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘরবাড়ি জ্বালানোর পাশাপাশি নির্বিচারে চলেছে গুলি।

    ওতুকপোতে ভোরের হামলায় বহু নিহত

    সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটে ২৮ জুলাই ভোরে বেনুয়ে রাজ্যের ওতুকপো কাউন্টির এফেই-উতিকপি গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০ জন সশস্ত্র হামলাকারী ২৫টিরও বেশি মোটরসাইকেলে করে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলার সময় তারা ধর্মীয় স্লোগান দিচ্ছিল বলেও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ওচে আদাহ জানান, হামলায় অন্তত ১৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরদিন এমিচি ও নওয়াবা ওজু এলাকাতেও হামলা চালিয়ে আরও তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর আগে ২৭ জুলাই ইপোম গ্রামেও একজন নিহত হন। গত দুই সপ্তাহে একই অঞ্চলে আরও অন্তত ১৬ জন খ্রিস্টান নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    বেনুয়ে রাজ্যের আইনসভার সদস্য মাইকেল অডু বলেন, “এই ধরনের হামলা আমাদের এলাকায় বারবার ঘটছে। মানুষ প্রতিনিয়ত স্বজন হারাচ্ছে এবং আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।” ওতুকপো কাউন্টির চেয়ারম্যান ম্যাক্সওয়েল ওগিরি অভিযোগ করেন, এলাকায় সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো যায়নি। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই হামলার আগাম তথ্য থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    কৃষক ও গ্রামবাসীরাও হামলার শিকার

    কোয়ান্ডে কাউন্টির আবাজি এলাকায় ২৭ জুলাই খামারে কাজ করার সময় তেরেহেম্বা নামে এক খ্রিস্টান নারী নিহত হন বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ইগবা তের্না জানান, তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। অন্যদিকে ওহিমিনি কাউন্টির আগাদাগবা ও ওচোবো এলাকায় ২৪ ও ২৫ জুলাই দুই দফা হামলায় একজন পথচারী ও দুজন স্থানীয় প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক নিহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার পরও প্রায় ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    কাদুনায় রাতের হামলায় ৩০ জন নিহতের দাবি

    একই সময়ে কাদুনা রাজ্যের কৌরু এলাকায় ২৬ জুলাই রাতে আরেকটি বড় হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারিডন গ্রামের ওপর হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে। আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়। গ্রামের প্রধানের সচিব ডোগন রানা জানান, এক পরিবারে এক রাতেই পাঁচ শিশু নিহত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিকটবর্তী নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলের খুব কাছে অবস্থান করলেও দীর্ঘ সময় হামলা চলার পরও কার্যকর হস্তক্ষেপ করেনি।

    প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

    কাদুনা রাজ্যের গভর্নর উবা সানি হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পার্শ্ববর্তী প্লেটো রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনুয়ে, কাদুনা, প্লেটো ও তারাবা রাজ্যে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে হামলাগুলোর উদ্দেশ্য, দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

    নাইজেরিয়া জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব

    ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, প্রায় দুই দশক ধরে নাইজেরিয়া জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে মূলত দু’টি জঙ্গি গোষ্ঠী। একটি হলো বোকো হারাম। নাইজেরিয়ায় ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অপহরণ, হামলা, আত্মঘাতী বিস্ফোরণের মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আর একটি সংগঠন হলো ইসলামিক স্টেট অফ ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স। এরা এক সময়ে বোকো হারামেরই অংশ ছিল। ২০১৬ সালে আলাদা হয়ে যায়। এদেরও ইসলামিক শাসন কায়েম করাই লক্ষ্য। তবে ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স সাধারণ মানুষের বদলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপরেই বেশি হামলা চালায়।

  • Fake Military Uniform Racket: সেনার পোশাক পরে অশান্তি ঘটানোর ছক! নকল আর্মি-ড্রেস তৈরির চক্র ভাঙল সেনা ও রাজস্থান পুলিশ

    Fake Military Uniform Racket: সেনার পোশাক পরে অশান্তি ঘটানোর ছক! নকল আর্মি-ড্রেস তৈরির চক্র ভাঙল সেনা ও রাজস্থান পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেনার পোশাক পরে অশান্তি ঘটানোর ছক বানচাল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখা এবং রাজস্থান পুলিশের যৌথ অভিযানে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলায় নকল সেনা পোশাকের কাপড় সরবরাহকারী একটি চক্রের হদিস মিলেছে। অভিযানে বিভিন্ন দোকান থেকে প্রায় ১,০০০ মিটার অননুমোদিত আর্মি-প্যাটার্ন কমব্যাট কাপড় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের নকশা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত কমব্যাট ইউনিফর্মের সঙ্গে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। তদন্তকারীদের মতে, এই কাপড় ব্যবহার করে ভুয়ো সেনা পোশাক তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারত।

    শ্রীগঙ্গানগরের একাধিক দোকানে অভিযান

    গত ৩০ জুলাই সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থান পুলিশ শ্রীগঙ্গানগরের একাধিক দোকানে তল্লাশি চালায়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নতুন ধরনের কমব্যাট কাপড় উদ্ধার হয়, যা বিক্রি বা ব্যবহারের জন্য কোনও সরকারি অনুমোদন ছিল না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের নকশা সেনাবাহিনীর যুদ্ধকালীন পোশাকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারণ এই ধরনের কাপড়ের অবৈধ ব্যবহার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

    বেরেলির অভিযানের সূত্র ধরেই তদন্ত

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত জুন মাসে উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে নকল সেনা কমব্যাট কাপড় বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনার তদন্ত থেকেই এই চক্রের সূত্র মেলে। সেই তদন্তে সরবরাহ শৃঙ্খল অনুসরণ করে শ্রীগঙ্গানগরের একটি উৎপাদন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিট গোপন তদন্ত চালিয়ে একটি স্থানীয় সংস্থাকে এই জাল নেটওয়ার্কের অন্যতম মূল কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে। অভিযোগ, ওই সংস্থা শ্রীগঙ্গানগর শহর ছাড়াও লালগড় জাট্টান, সুরতগড় এবং আশপাশের বাজারে নকল আর্মি-প্যাটার্ন কাপড় সরবরাহ করছিল।

    বড় নেটওয়ার্কের খোঁজে তদন্ত

    নিরাপত্তা সংস্থার মতে, সেনাবাহিনীর পোশাকের অনুরূপ কাপড় অবৈধভাবে বাজারে ছড়িয়ে পড়লে অসাধু ব্যক্তিরা সেনা সদস্য সেজে প্রতারণা বা অন্য অপরাধমূলক কাজে তা ব্যবহার করতে পারে। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া সেনাবাহিনীর কমব্যাট ইউনিফর্মের নকশার কাপড় রাখা, বিক্রি বা ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই জাল সরবরাহ চক্র রাজস্থানের বাইরে অন্য রাজ্যেও সক্রিয় ছিল কি না। উৎপাদন কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিতরণ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তর খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং আগামী দিনে আরও অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।

LinkedIn
Share