Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Shamik Bhattacharya: “তোমাকে মিস করছি… হে বীর”, অভিষেককে কটাক্ষ শমীকের, ফলতায় সংখ্যালঘুদের আশ্বাস বিজেপির

    Shamik Bhattacharya: “তোমাকে মিস করছি… হে বীর”, অভিষেককে কটাক্ষ শমীকের, ফলতায় সংখ্যালঘুদের আশ্বাস বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গত শনিবার এই কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মনোনীত প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে আয়োজিত একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি শাসকদলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের কড়া সমালোচনা করেন। এর ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ রবিবার, ফলতার মাটিতে দাঁড়িয়ে এক ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করার পাশাপাশি, তাঁকে ফলতায় এসে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সশরীরে প্রচার করার আহ্বান জানান শমীক।

    রাজনৈতিক দাপট আজ অপ্রাসঙ্গিক (Shamik Bhattacharya)

    আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শনিবারের সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি প্রার্থীকে ন্যূনতম এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। রবিবার শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) সেই লক্ষ্যমাত্রাকে আরও প্রসারিত করে সোয়া লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ের দাবি জানান। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক পরিহাসের সুরে তিনি বলেন, “প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পুলিশি বেষ্টনী ব্যতিরেকে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের চিরাচরিত রাজনৈতিক দাপট আজ অপ্রাসঙ্গিক। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক যদি ফলতায় নির্বাচনী প্রচারে আসেন, তবে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মী সমর্থকেরা তাঁকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক সৌজন্য প্রদর্শন করবেন। হে বীর তোমায় মিস করছি, তুমি এসো। যিনি বলেছিলেন ডিজে বাজাবেন, আমি বলছিলাম হারমোনিয়াম, জলতরঙ্গও বাজাতে পারেন। সব বাড়ির মধ্যে। যাঁরা লড়াই  করবেন বলছিলেন, বাড়িতে এখন শ্যাডো প্র্যাক্টিস করছেন। যাঁরা বিশু ছিলেন তাঁরা এখন শিশু হয়ে গেছেন। আর পথ নেই।”

    তৃণমূলের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের

    উল্লেখ্য, বিগত লোকসভা নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তবে শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্যে তৃণমূলের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার কার্য পরিচালনায় শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এক প্রকার অনীহা ও জড়তা নজরে আসছে। বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় বিজেপি কর্মীদের ওপর নানাভাবে রাজনৈতিক হিংসার দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা গিয়েছে। সমস্ত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বিজেপি কর্মীরা যেখানে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন, সেখানে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি আজ অত্যন্ত সীমিত।”

    সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

    উক্ত সমাবেশ থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক বার্তা প্রদান করেন। শমীক (Shamik Bhattacharya) আশ্বস্ত করে বলেন, “সাধারণ সংখ্যালঘু নাগরিকদের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও আদর্শগত বা রাজনৈতিক বিরোধ নেই। দেশকে নিজের মাতৃভূমি হিসেবে গভীর প্রত্যয়ের সাথে গ্রহণ করেন এবং বিজেপি সর্বদা আপনাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজ্যে বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘটেছে এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আইনি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তবে প্রশাসন আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

    দ্রুত এই অঞ্চলে শিল্পায়ন

    ফলতার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে শমীক (Shamik Bhattacharya) ভট্টাচার্য জানান, সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং কোনও প্রকার ভীতি ব্যতিরেকে তাঁরা নিজেদের প্রচার কর্মসূচি ও জনসভা পরিচালনা করতে পারেন; বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও রূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে না। তবে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের পুনরায় রাজনৈতিক ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন তিনি। পরিশেষে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা দূরীকরণের আশ্বাস দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি উল্লেখ করেন, নবগঠিত সরকার দ্রুত এই অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বাস্তবায়ন করবে, যাতে স্থানীয় যুবসমাজকে জীবিকার তাগিদে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে গমন করতে না হয়।

    বিজেপির প্রতিকে টেপ লাগানো হয়েছিল

    উল্লেখ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূলের সর্বভারতীয়  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “যারা আমাদেরকে এসে ধমকাচ্ছে, বাংলার মাটিতে এসে বাঙালিকে চমকাচ্ছে, ‘উল্টা করকে লটকা দেগা’, আমি বলব, সৎ সাহস থাকলে ৪ তারিখ বাংলায় থাকবেন। বেলা ১২টার পর কথা হবে, দেখা হবে। কে কাকে উল্টো করে টাঙায়, বাংলার মানুষ দেখিয়ে দেবে ৪ তারিখ।”

    ফলতায়  এদিন তা নিয়েও বক্তব্য রাখেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “ডায়মন্ড হারবারের কিছু অংশের মানুষকে বোঝানো হয়েছিল, বিরোধী বলে কিছু রাখতে নেই। এখন আমরা বলছি, উত্তরাধিকার কেমন আছ? হয় সোমা ঘোষকে পাঠাচ্ছি লালপার সাদা শাড়ি পড়ে বরণ করবে,  আর নয়তো গ্রিন করিডর করে দিচ্ছি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাড়ি চলে যাও। কী যেন বলে ছিলে, হোদল কুতকুত।”

    তবে ৪ মে ফলাফল ঘোষনার পর তৃণমূলের যে ভরাডুবি হয়েছে তার জেরে বড় নেতাদের আনাগোনা কমে গিয়েছে । এই কেন্দ্রে ব্যাপক ছাপ্পা এবং বিজেপির প্রতীকে টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের কাছে নালিশ যেতেই ২১ মে ফের আরেকবার ভোট গ্রহণ হবে।

  • Chaos at Park Circus: ভিড়ে মিশে বহিরাগতরা, আগাম ইন্টেলিজেন্স ছিল, কীভাবে পার্ক সার্কাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করল কলকাতা পুলিশ?

    Chaos at Park Circus: ভিড়ে মিশে বহিরাগতরা, আগাম ইন্টেলিজেন্স ছিল, কীভাবে পার্ক সার্কাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করল কলকাতা পুলিশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার প্রতিবাদে অশান্ত পার্ক সার্কাস (Chaos at Park Circus) সেভেন পয়েন্ট। বেআইনি জমায়েত, রাস্তা অবরোধের চেষ্টা। রবিবার অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ইটবৃষ্টি করে। পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় জখম হয়েছেন একাধিক পুলিশকর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়ি ও একটি বাসও। পুলিশ সূত্রে খবর, তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দাদের নামে এই জমায়েত হলেও সেখানে বাইরের লোকও উপস্থিত ছিল।

    কীভাবে চলে হামলা

    পুলিশের দাবি, জমায়েতের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এগিয়ে গেলে আচমকাই তাদের লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ঘটনার জেরে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পুলিশবাহিনী। কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও (Central Forces) ঘটনাস্থলে নামানো হয়েছে বলে খবর। ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি অসীম বিশ্বাস জানান, অবৈধ জমায়েত হয়েছিল। রাস্তা অবরোধের চেষ্টা চলছিল। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশের উপর হামলা করা হয়। পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পাশেই থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বাসেও বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ।

    কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনল পুলিশ

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপ্রকার বাধ্য হয়েই লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ৩ জন আহত হন। ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ পুলিশের। গ্রেফতার করা হয়েছে ২০ জনকে। ধৃতদের মধ্যে একজন ফেসবুক লাইভ করে আজ জমায়েতের ডাক দিয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে। তিনি আরও জানান, গোটা ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলায় জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন পুলিশকর্তা। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি অশেষ বিশ্বাস এই ঘটনার তাব্র নিন্দা করেন। ঘটনাস্থলে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

    কেন অশান্ত পার্ক সার্কাস

    গত ১২ মে তিলজলা থানা এলাকার জিজে খান রোডের একটি চারতলা বাড়ির দোতলায় থাকা কারখানায় আগুন লাগে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্তে প্রাথমিক ভাবে ওই ঘটনায় বেআইনি বাড়ি, বেআইনি কারখানার মতো বিষয় সামনে এসেছে। আগুন লাগার ঘটনার পরেই তিলজলার ওই বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভাঙা শুরু হয়। তবে তার উপর কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, পার্ক সার্কাসে রবিবার দুপুরে বিক্ষোভের মূল কারণ তিলজলায় বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙা। পুলিশের একাংশের দাবি, শনিবার রাতেই পার্ক সার্কাসে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা হয়, তবে সেই সময়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া গিয়েছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভ দেখানোর ডাক দেওয়া হয়। এ দিন দুপুর ২টো নাগাদ প্রায় ৪০০ জনের একটি জমায়েত দেখা যায় পার্ক সার্কাস সাত মাথার মোড়ে। ওই বিক্ষোভ ও অবরোধের জেরে ঘণ্টা খানেক রাস্তা বন্ধ ছিল। রবিবার হওয়া সত্ত্বেও ব্যস্ত ওই তল্লাটে স্বভাবতই যানজট হয়

    বাইরের লোকও মিশেছিল দাবি পুলিশের

    তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহারের প্রতিবাদে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টে উপস্থিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের বক্তব্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের এই অবৈধ জমায়েতে বাইরের লোকও মিশে ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইন্টেলিজেন্সের তথ্য পেয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল পুলিশ। সেজন্য বড় ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলে জানালেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি অশেষ বিশ্বাস। তিনি বলেন, “অবৈধ জমায়েত হয়েছিল। রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করছিল। পুলিশ হঠাতে গিয়েছিল। তখন পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।” ডেপুটি কমিশনার (সাউথ–ইস্ট ডিভিশন বা এসইডি) সৈকত ঘোষ জানান, এ দিনের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, বেনিয়াপুকুর থানার ওসি এবং কয়েক জন পুলিশকর্মী, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাসচালক ও সাধারণ মানুষ— সব মিলিয়ে জনা দশেক আহত হয়েছেন।

    ইন্টেলিজেন্সের তথ্য ছিল, বড় কিছু হয়নি

    পুলিশের উপর হামলাকারীদের ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এর পিছনে কারা রয়েছে, আমরা খতিয়ে দেখছি। আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাইরে থেকেও লোক এসেছিল। আমরা সব খতিয়ে দেখছি। কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা কাউকে ছাড়ব না। কড়া পদক্ষেপ করা হবে। আমাদের ৩ পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। আমাদের কাছে ইন্টেলিজেন্সের তথ্য ছিল। আমরা তৈরি ছিলাম। সেজন্য বড় কিছু হয়নি।” বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশের উপর হামলা হলে লাঠিচার্জ হবেই। জেন্ডার দেখা হবে না।” রাজ্যের শাসকদল বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র দেবজিত সরকার বলেন, ‘সংবিধান স্বীকৃত আইনের কোনও বিরোধিতা করা যাবে না। সকলকে সংবিধান ও দেশের আইন মেনে চলতে হবে। না–মানলে পুলিশ পদক্ষেপ নেবে। রাজ্য সরকারের পুলিশ পদক্ষেপ করায় তাদের অভিনন্দন।’

  • PM Modi Sweden Visit: বিশ্বকবির ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ উপহার বিনিময় মোদি-ক্রিস্টারসনের, সামনে এল ১০০ বছরের ইতিহাস

    PM Modi Sweden Visit: বিশ্বকবির ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ উপহার বিনিময় মোদি-ক্রিস্টারসনের, সামনে এল ১০০ বছরের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সুইডেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে বিশেষ উপহার বিনিময় করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন। রবিবার সুইডেনে পৌঁছনোর পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এই প্রতীকী উপহার বিনিময় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ এ বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক সুইডেন সফরের শতবর্ষও উদযাপিত হচ্ছে।

    কী উপহার পেলেন নরেন্দ্র মোদি?

    সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উপহার দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে লেখা দুটি এপিগ্রামের (সংক্ষিপ্ত কাব্যপংক্তি) প্রতিলিপি। এর সঙ্গে ছিল একটি ব্যাখ্যামূলক নোট এবং ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় সফরের সময় তোলা একটি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এই মূল নথিগুলি সম্প্রতি সুইডিশ ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলি রবীন্দ্রনাথের ১৯২১ এবং ১৯২৬ সালের সুইডেন সফরের সময় রচিত।

    কী উপহার দিলেন নরেন্দ্র মোদি?

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনাবলীর একটি বিশেষ সংকলন। সঙ্গে ছিল শান্তিনিকেতনের শিল্পীদের হাতে তৈরি একটি কারুকার্যখচিত ব্যাগ, যার নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে সেইসব মোটিফ যা রবীন্দ্রনাথ নিজে স্থানীয় কারিগরদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে বেছে নিয়েছিলেন।

    কবিগুরুর সুইডেন সফর…

    সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যাগটি রবীন্দ্রনাথের সেই দর্শনের প্রতীক, যেখানে শিল্পকে শুধুমাত্র গ্যালারির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, বুদ্ধিবৃত্তিক শিল্পচর্চা এবং ব্যবহারিক জীবনের মধ্যে সেতুবন্ধনই ছিল তাঁর ভাবনার মূল ভিত্তি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যক্তিগত কারণে সুইডেনে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তীতে ১৯২১ সালে সুইডেন সফরকালে তাঁকে রাজা পঞ্চম গুস্তাভ অভ্যর্থনা জানান। সেই সফরই ভারত-সুইডেন সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

    উপহার বিনিময়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুইডেন সফর কূটনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দিনের সফরে তিনি সুইডেনের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানগুলির অন্যতম ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার, ডিগ্রি কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’-এ ভূষিত হন। ভারত-সুইডেন সম্পর্ক উন্নয়নে অসামান্য অবদান এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদল-স্তরের বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উদীয়মান প্রযুক্তি, স্টার্টআপ, গ্রিন ট্রানজিশন এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। ২০২৫ সালে ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৭.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে দুই পক্ষই আশাবাদী।

    রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে ভারত-সুইডেন সাংস্কৃতিক কূটনীতি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্র করে এই সাংস্কৃতিক কূটনীতি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন নয়, বরং ভারত-সুইডেন সম্পর্ককে মানবিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিতেও আরও শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। মোদির এই সফর প্রমাণ করল, কূটনীতির ভাষা শুধু বাণিজ্য বা প্রতিরক্ষা নয়—সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সাহিত্যও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

  • Chandranath Rath Murder: ‘বিচার হবে’, চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে কান্নাভেজা চোখে কথা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Chandranath Rath Murder: ‘বিচার হবে’, চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে কান্নাভেজা চোখে কথা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রতিটি অন্যায়ের ‘বিচার হবে’। খুন হওয়া আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath Murder) বাড়িতে গিয়ে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সদ্য নির্বাচনের ফলাফল জানা গিয়েছে তখন। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে বিজেপি। তখনও সিদ্ধান্ত হয়নি যে, শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটানা। মধ্যমগ্রামের কাছে রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে, নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। ভয়ঙ্কর সেই রাতের পর ১১ দিন অতিবাহিত। রবিবার, চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে তাঁর বাড়ি গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে ভিজল তাঁর চোখও।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা আছে

    রবিবার চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে তাঁর দেশের বাড়ি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে। সন্ধ্যায় চণ্ডীপুর এলাকায় চন্দ্রনাথের বাড়িতে পৌঁছন শুভেন্দু। আপ্তসহায়কের ছবিতে মালা দিয়ে তিনি কথা বলেন চন্দ্রনাথের মা-সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন পুত্রহারা হাসিরানি রথ। মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার পর চন্দ্রনাথের মা বলেন, ‘‘উনি যে আমার বাড়িতে এসেছেন, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য। আমার ছেলেকে মনে রেখেছেন উনি। অনেকেই পদ পাওয়ার পর সব ভুলে যান। কিন্তু উনি এসে কান্নাকাটি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আমাদের পাশে আছেন। দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেবেন উনি। মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা আছে। আশা রাখছি, ছেলের খুনের বিচার হবে।’’

    দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

    চন্দ্রনাথের খুনের তদন্তে রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করে। সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে দু’জন এবং বক্সার থেকে এক ‘শার্প শুটার’কে গ্রেফতার করে আনে তারা। কিন্তু মূল চক্রী কে, কার ষড়যন্ত্রে এই খুন, তা এখনও জানা যায়নি। আপাতত এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে। হাসি জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন চন্দ্রনাথকে তিনি নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু সে কথায় আমল দেননি তাঁর পুত্র। মহিলার কথায়, ‘‘হয়তো ভবানীপুরের হার মেনে নিতে পারেনি মাননীয়া। সে জন্য আমার ছেলেকে খুন হতে হল। যাঁরা আমার ছেলেকে মেরেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হোক। মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমাদের আস্থা আছে। উনিও দোষীদের কঠোর শাস্তি চেয়েছেন। আমরা বিচার চেয়েছি। সিবিআইয়ের তদন্ত এগোলে সবটা জানতে পারব।’’

  • Modi 31st International Award: ৩১তম আন্তর্জাতিক সম্মান মোদির ঝুলিতে, সুইডেনের ঐতিহাসিক ‘পোলার স্টার’ সম্মান হাতে প্রধানমন্ত্রী

    Modi 31st International Award: ৩১তম আন্তর্জাতিক সম্মান মোদির ঝুলিতে, সুইডেনের ঐতিহাসিক ‘পোলার স্টার’ সম্মান হাতে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সুইডেন কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সুইডেনের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার, কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’ প্রদান করল সুইডেন সরকার। সোমবার সুইডেন সফরে গোথেনবার্গে পৌঁছনোর পর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মান তুলে দেন সুইডেনের ক্রাউন প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়া। এই পুরস্কার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রনেতৃত্ব এবং বিশ্বব্যাপী সহযোগিতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। সুইডেনের পাঁচ দেশের সফরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এই সম্মান প্রাপ্তি ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা এবং কৌশলগত গুরুত্বকে নতুন মাত্রা দিল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

    কী এই ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার’?

    ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার’ (Kungliga Nordstjärneorden) সুইডেনের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্মাননা, যা ১৭৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত নাগরিক সেবা, বিজ্ঞান, সাহিত্য, জনকল্যাণ এবং আন্তর্জাতিক সদ্ভাব বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এর ‘কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’ গ্রেডটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্তরগুলির মধ্যে অন্যতম। সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধান, শীর্ষ কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের এই সম্মান দেওয়া হয়।

    সম্মান গ্রহণ করে কী বললেন মোদি?

    সম্মান গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই সম্মান শুধু আমার ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, এটি ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মান। আমি এই পুরস্কার ভারত ও সুইডেনের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্যের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।” তিনি আরও বলেন, সুইডেনের এই সম্মান দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং আধুনিক কৌশলগত অংশীদারিত্বেরই প্রতিফলন। মোদির কথায়, “ভারত ও সুইডেন শুধু অর্থনৈতিক অংশীদার নয়, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।”

    মোদির ৩১তম আন্তর্জাতিক সম্মান

    বিদেশি সরকারের তরফে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সম্মানের সংখ্যা এবার দাঁড়াল একত্রিশে। গত কয়েক বছরে বিশ্বের একাধিক দেশ মোদিকে তাদের সর্বোচ্চ বা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক সম্মান ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রভাব, কৌশলগত অবস্থান এবং মোদি সরকারের সক্রিয় কূটনৈতিক নীতির প্রতিফলন। বিশেষ করে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, গ্লোবাল সাউথ-এর স্বার্থরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের পক্ষে ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মান?

    সুইডিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত-সুইডেন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার-এ পৌঁছেছে।

    দুই দেশের সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
    • ● সবুজ শক্তি ও দুষণমুক্ত জ্বালানি প্রযুক্তি
    • ● কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)
    • ● উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম
    • ● টেকসই নগর উন্নয়ন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করতে সুইডেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে নর্ডিক অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ।

    ভারত-সুইডেন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

    প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, উদ্ভাবন, সবুজ প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে শুধু একটি সম্মাননা নয়, এই সফরকে ভারত-সুইডেন সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুইডেনের এই সম্মান বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান অবস্থান এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার আরেকটি প্রতীক হয়ে থাকল।

  • Govt Job Age Limit: কথামতো কাজ নতুন সরকারের! চাকরির পরীক্ষায় বৃদ্ধি পেল বয়সের ঊর্ধ্বসীমা, বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নের

    Govt Job Age Limit: কথামতো কাজ নতুন সরকারের! চাকরির পরীক্ষায় বৃদ্ধি পেল বয়সের ঊর্ধ্বসীমা, বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল সরকারের নিয়োগ দুর্নীতির জেরে রাজ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ সরকারি চাকরির পরীক্ষা। শিক্ষিত, মেধাবী, যোগ্য প্রার্থীদের বয়সও বেড়ে গিয়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখেই রাজ্যে পালাবদলের পর বৃদ্ধি করা হল সরকারি চাকরিতে (Govt Job Age Limit) আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা। ঘোষণা আগেই করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এ বার সরকারি বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়ে গেল নবান্ন থেকে। গ্রুপ এ, গ্রুপ বি, গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাকরির আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে যারা সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাঁদের মুখে হাসি ফুটল।

    বিজ্ঞপ্তিতে কী জানানো হল

    রাজ্যের অর্থ দফতরের অডিট শাখার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রুপ এ চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে এ-ও বলা হয়েছে, গ্রুপ এ-র কোনও চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা আগে থেকেই ৪১ বছরের বেশি থাকলে, তাতে কোনও বদল হবে না। গ্রুপ বি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে ৪৪ বছর করা হয়েছে। গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি পেয়ে হচ্ছে ৪৫ বছর। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১১ মে থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। ২০১৫ সালের পরে পশ্চিমবঙ্গে কোনও নিয়োগ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতীর চাকরির আবেদনের জন্য বয়ঃসীমা পেরিয়ে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিভিন্ন পদে কত বয়সের ঊর্ধ্বসীমা

    সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রুপ ‘এ’ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট পদ বা পরিষেবায় আগে থেকেই যদি ৪১ বছরের বেশি বয়সসীমা কার্যকর থাকে, তাহলে সেই উচ্চতর সীমা অপরিবর্তিত থাকবে। গ্রুপ ‘বি’ পদে নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা করা হয়েছে ৪৪ বছর। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘সি’ এবং গ্রুপ ‘ডি’ পদে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪৫ বছর নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন নিয়মিত নিয়োগ না হওয়ার কারণে রাজ্যের বহু যোগ্য যুবক-যুবতী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগই পাননি। তাঁদের বয়স বেড়ে গিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের সামনে ফের একবার নতুন করে আশার আলো জেগে উঠল। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থানের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। কথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

  • PM Modi: নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত ‘আফসলাইডাইক’ বাঁধে প্রধানমন্ত্রী মোদি, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ডাচ মডেল কেন প্রয়োজন ভারতের, জানেন?

    PM Modi: নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত ‘আফসলাইডাইক’ বাঁধে প্রধানমন্ত্রী মোদি, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ডাচ মডেল কেন প্রয়োজন ভারতের, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত ‘আফসলাইডাইক’ বাঁধ পরিদর্শনে (Netherlands Afsluitdijk Dam) গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর চার দেশীয় ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেতেনের (Rob Jetten) সঙ্গে তিনি এই সুবিশাল জলকপাট ও বাঁধ এলাকাটি ঘুরে দেখেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ দ্বিপাক্ষিক সৌজন্য সফর মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই পরিদর্শনের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।

    জল ব্যবস্থাপনায় পথপ্রদর্শক নেদারল্যান্ডস (PM Modi)

    পরিদর্শন শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) ডাচ প্রযুক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, “জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডস এক যুগান্তকারী কাজ (Netherlands Afsluitdijk Dam) করেছে। সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের এই অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। আজ সকালে আফসলাইডাইক বাঁধটি পরিদর্শন করে এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছি। এই পরিদর্শনে আমার সঙ্গী হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী রব জেতেনকে ধন্যবাদ। সেচকাজ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ জলপথের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে আমরা ভারতে এই ধরণের আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    প্রকৌশল এবং উদ্ভাবনের এক অনন্য প্রতীক!

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও এই সফরকে ভারত-ডাচ অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের এক অনন্য প্রতীক! নেদারল্যান্ডসের চমৎকার জল ব্যবস্থাপনা, বন্যা প্রতিরোধ ও মিষ্টি জল সংরক্ষণের প্রতীক এই আফসলাইডাইক বাঁধ। এই সফরটি গুজরাটের উচ্চাভিলাষী ‘কল্পসর প্রকল্প’-এর (Kalpasar Project) ক্ষেত্রে ডাচ (Netherlands Afsluitdijk Dam) দক্ষতার প্রাসঙ্গিকতাকে তুলে ধরেছে।”

    ভারতের জলশক্তি মন্ত্রক এবং ডাচ পরিকাঠামো মন্ত্রকের মধ্যে  প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য একটি সম্মতিপত্রও (Letter of Intent) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    কী এই আফসলাইডাইক বাঁধ?

    নেদারল্যান্ডসের সমুদ্রের জলের সঙ্গে লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল এই আফসলাইডাইক বাঁধ। প্রায় ৮০ বছর আগে তৈরি হওয়া এই ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধটি উত্তর সাগরকে (North Sea) মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং ‘আইসেলমির’ (IJsselmeer) নামক একটি বিশাল মিষ্টি জলের হ্রদ তৈরি করেছে। এটি মূলত সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এবং ভয়াবহ বন্যা থেকে নিম্নভূমি অঞ্চলের নেদারল্যান্ডসকে রক্ষা করে।

    ৮০০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়

    বর্তমানে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে এই প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক করে “আফসলাইডাইক ২.০” রূপ দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই নকশাটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে এটি আগামী ১০,০০০ বছরে একবার আসতে পারে এমন প্রলয়ঙ্কারী ঝড়কেও অনায়াসে রুখে দিতে পারে। এতে আধুনিক স্লুইস গেট, উন্নত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মাছের চলাচলের করিডোর এবং জোয়ার-ভাটা ও সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।

    ভারতের ‘কল্পসর প্রকল্প’ ও ডাচ মডেলের প্রয়োজনীয়তা

    ভারতের কেন এই ডাচ মডেল (Netherlands Afsluitdijk Dam) প্রয়োজন, তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে গুজরাটের খাম্বাত উপসাগরে প্রস্তাবিত ‘কল্পসর প্রকল্প’-এর মধ্যে। গত কয়েক দশক ধরে সমীক্ষার স্তরে থাকা এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল সমুদ্রের বুকে একটি বাঁধ তৈরি করে বিশ্বের বৃহত্তম মিষ্টি জলের জলাধার তৈরি করা।

    ডাচদের মতোই ভারতও খাম্বাত উপসাগরে বাঁধ দিয়ে জোয়ার-ভাটার শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেচের জল পৌঁছানো এবং জলপথ ও সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে চায়। হাইড্রোলিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জলবিজ্ঞান প্রযুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের শতাব্দী প্রাচীন জ্ঞান এবং ভারতের বিশাল কর্মযজ্ঞের মেলবন্ধন ঘটলে খাম্বাত উপসাগরের এই অবাস্তব মনে হওয়া প্রকল্পটিকেও বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও মিষ্টি জলের সংকটের মাঝে প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) এই সফর ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকাঠামো ও জল সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল।

  • Ashwini Vaishnaw: রেলযাত্রীদের জন্য সুখবর! পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩টি নতুন রেল প্রকল্পের অনুমোদন কেন্দ্রের, চলবে জয়পুরগামী নতুন এক্সপ্রেস

    Ashwini Vaishnaw: রেলযাত্রীদের জন্য সুখবর! পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩টি নতুন রেল প্রকল্পের অনুমোদন কেন্দ্রের, চলবে জয়পুরগামী নতুন এক্সপ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেলযাত্রী (Indian Railway) এবং রাজ্যের রেল পরিকাঠামোর জন্য বড় সুখবর। পশ্চিমবঙ্গের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন রেল প্রকল্প ও পরিষেবার অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) এই অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

    রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর পরিকাঠামো ক্ষেত্রে রেল মন্ত্রকের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এই প্রকল্পগুলি বড় ভূমিকা নেবে। নতুন অনুমোদিত ৩টি প্রধান রেল প্রকল্পগুলি হোল…

    ১. কলকাতা- জয়পুর নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন (Ashwini Vaishnaw)

    কলকাতা ও রাজস্থানের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার্থে রেল মন্ত্রক একটি নতুন দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছে। ১৮০৬১/১৮০৬২ সাঁতরাগাছি-খাতিপুরা এক্সপ্রেস খড়গপুর হয়ে কলকাতার সাঁতরাগাছি এবং জয়পুরের খাতিপুরা স্টেশনের (Indian Railway) মধ্যে চলাচল করবে। এই নতুন ট্রেনটি চালু হলে পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা এবং পারিবারিক কারণে দুই রাজ্যের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে এবং বর্তমান ট্রেনগুলির ওপর চাপ কমবে।

    ২. নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি লাইনের ডবলিং (দ্বৈতকরণ)

    উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডোর নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে প্রায় ৭.১৫ কিলোমিটার রেল লাইনের ডবলিং বা দ্বৈতকরণের কাজ অনুমোদন পেয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লাইনে ডবল ট্র্যাকিংয়ের কাজ সম্পন্ন হলে ট্রেনের (Indian Railway) গতি বাড়বে, যানজট ও বিলম্ব কমবে এবং রেলের পরিচালন ক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

    ৩. শালবনী-আদ্রা তৃতীয় লাইনের সমীক্ষা

    দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে শালবনী থেকে আদ্রা পর্যন্ত ১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত তৃতীয় রেল লাইনের ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’ (FLS)-র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সমীক্ষার পর একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (DPR) তৈরি করা হবে। খনিজ ও শিল্পসমৃদ্ধ এই অঞ্চলে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেনের মসৃণ চলাচলের জন্য এই তৃতীয় লাইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

    ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

    রেলমন্ত্রী (Ashwini Vaishnaw) জানিয়েছেন ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো (Indian Railway) উন্নয়নের জন্য রেকর্ড ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তার পাশাপাশি চলতি মাসেই রাজ্যে রেলের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও ৮৯৫.৩০ কোটি টাকার একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল ভারতীয় রেল।

    রেল মন্ত্রকের আধিকারিকদের মতে, এই নতুন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের ব্যস্ততম রেল রুটগুলির জট কেটে যাবে, যাত্রীদের ভ্রমণের সময় কমবে এবং সার্বিকভাবে রাজ্যের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

  • Demolition: হাওড়া স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার’ দাওয়াইয়ের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

    Demolition: হাওড়া স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার’ দাওয়াইয়ের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার সন্ধ্যায় বিশাল পুলিশবাহিনীর উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর কর্তৃপক্ষ হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন (Howrah Railway Station) সংলগ্ন এলাকায় চালায় উচ্ছেদ অভিযান। এলাকার বেশ কিছু অবৈধ দখল ও বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দিতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালীন কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তায়। পুরসভার আধিকারিকরা বুলডোজার (Demolition) ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত কাঠামো ভেঙে দেন।

    আইনের গন্ডির মধ্যে থেকে কাজ করুন (Demolition)

    হাওড়ার এই ঘটনার  প্রেক্ষিতে রবিবার সকালে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যজুড়ে সব ধরণের বেআইনি নির্মাণ ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খড়গপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “দেশজুড়েই এবার বুলডোজার চলবে। যেখানেই বেআইনি নির্মাণ দেখা যাবে, সেখানেই বুলডোজার নামানো হবে। বাংলায় ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার প্রথম দিন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। যারা এই ধরণের বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাছে আমার অনুরোধ—আইনের গন্ডির মধ্যে থেকে কাজ করুন। সরকার আপনাদের সব রকম সহযোগিতা করবে। তবে সরকারি জমি দখল করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতার তিলজলা এলাকায় একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দু’জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর এলাকার একাধিক বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তার পরেই সেখানে চালানো হয়েছিল উচ্ছেদ অভিযান। তার রেশ ধরেই হাওড়ায় (Howrah Railway Station) চালানো হল এই অভিযান। ইতিমধ্যেই শিয়ালদা স্টেশন চত্বরও হকার মুক্ত করা হয়েছে।

    ‘আমরা তাড়াহুড়ো করছি না’

    রাজ্যের আর এক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল উচ্ছেদ অভিযানের সাফাই গেয়ে জানান, প্রশাসন সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, “যদি কোনও বেআইনি নির্মাণ থাকে, তবে আমরা প্রথমে নোটিশ পাঠাব এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখতে চাইব। বৈধ কোনও কাগজ না থাকলে আমরা নির্মাণের অনুমতি দেব না। তবে আমরা কোনও তাড়াহুড়ো করছি না, বাসিন্দাদের নথিপত্র দেখানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে।”

    আগের সরকার ব্যর্থ ছিল

    হাওড়ার (Howrah Railway Station) এই উচ্ছেদ অভিযান সমর্থন করেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষও। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে তিলজলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সাধারণ বাসিন্দারা প্রশাসনের এই আকস্মিক সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, উচ্ছেদ বা ভাঙচুর শুরু করার আগে বাড়িঘর থেকে নিজেদের জরুরি নথিপত্র ও আসবাবপত্র বের করে নেওয়ার জন্য প্রশাসন যেন তাঁদের আরও কিছুটা সময় দেয়।

  • Bhojshala Verdict: ভোজশালা রায়, ধার জেলার সেই ঐতিহাসিক সরস্বতী মূর্তি কীভাবে পৌঁছাল লন্ডনে? ফেরতের দাবি

    Bhojshala Verdict: ভোজশালা রায়, ধার জেলার সেই ঐতিহাসিক সরস্বতী মূর্তি কীভাবে পৌঁছাল লন্ডনে? ফেরতের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি ঐতিহাসিক রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আদালত ধার জেলার বিতর্কিত ‘ভোজশালা’ (Bhojshala Verdict) চত্বরটিকে হিন্দু দেবী সরস্বতীর মন্দির (Saraswati Murti) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই রায়ের পর পরই ব্রিটিশ আমলে ভারত থেকে চুরি যাওয়া বাগদেবীর সরস্বতী মূল মূর্তিটি লন্ডন থেকে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হয়েছে। হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি, এই রায় ঐতিহাসিক। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি ও মন্দির উদ্ধারের পর ইন্দোর হাইকোর্টের ভোজশালা সংক্রান্ত এই রায় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজা ভোজের আমল ও গৌরবময় ইতিহাস (Bhojshala Verdict)

    ভোজশালার (Bhojshala Verdict) ইতিহাস একাদশ শতকের। পরমার রাজবংশের বিখ্যাত রাজা ভোজ ধারে সংস্কৃত শিক্ষার একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী, এটি ব্যাকরণ, দর্শন ও সাহিত্যের এক বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ ছিল, যেখানে জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর (Saraswati Murti) আরাধনা হত নিয়মিত। এই বিদ্যাপীঠের প্রধান উপাস্য দেবী হিসেবে একটি অনন্য সরস্বতী মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল, যা পরমার আমলের ভাস্কর্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

    আক্রমণ ও ধ্বংসের ইতিহাস

    শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মধ্য ভারতে বিভিন্ন ইসলামিক আগ্রাসনের সময় ভোজশালা (Bhojshala Verdict) চত্বরটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৩০৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি এই জায়গায় হামলা চালান, হত্যা করেন হাজার হাজার হিন্দু পণ্ডিত ও শিক্ষার্থীকে। পরবর্তী কালে ১৪০১ খ্রিস্টাব্দে দিলওয়ার খান এবং ১৫১৪ খ্রিস্টাব্দে মেহমুদ শাহ এই মন্দিরের অংশবিশেষ ধ্বংস করে সেটিকে দরগা ও মসজিদে রূপান্তর করার চেষ্টা করেন। তবে সেখানকার খোদাই করা স্তম্ভ ও শিলালিপি আজও প্রমাণ করে, এটি আদতেই একটি প্রাচীন হিন্দু শিক্ষাকেন্দ্র ও মন্দির ছিল। এই ভাঙচুরের পর মূল সরস্বতী মূর্তিটি দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে ছিল।

    ব্রিটিশ আমলে উদ্ধার ও লন্ডনে পাচার

    উনিশ শতকে ব্রিটিশ রাজত্বে মূর্তিটির ইতিহাসের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। ১৮৭৫ সালে ধার অঞ্চলে খননকার্য চালানোর সময় ব্রিটিশ অফিসার উইলিয়াম কিনক্লেড এই নান্দনিক মূর্তিটি উদ্ধার করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক মানসিকতার অংশ হিসেবে, ভারতের বহু অমূল্য সম্পদের মতোই এই মূর্তিটিকেও সম্মতি ছাড়াই দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮৮৬ থেকে ১৮৯১ সালের মধ্যে মূর্তিটি ইংল্যান্ডে পাচার করা হয়। বর্তমানে এটি লন্ডনের বিখ্যাত ‘ব্রিটিশ মিউজিয়াম’-এ মধ্যযুগীয় ভারতীয় ভাস্কর্যের নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। পাশ্চাত্যের কাছে এটি কেবল একটি প্রাচীন শিল্পসামগ্রী হলেও, ভারতীয়দের কাছে এটি একটি জীবন্ত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক।

    হাইকোর্টের রায় ও ভারতের আইনি অবস্থান

    সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ ২০০৩ সালের ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের (ASI) একটি আদেশ বাতিল করেছে। এখন থেকে ওই চত্বরে মুসলমানদের শুক্রবারের নামাজ পড়ার অনুমতি রদ করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা এবং বিচারপতি আলোক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভোজশালা (Bhojshala Verdict)  মূলত রাজা ভোজের তৈরি করা একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং এটি একটি সরস্বতী মন্দির (Saraswati Murti)।

    এই রায়ের পর আদালত উল্লেখ করেছে যে, কেন্দ্র সরকার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লন্ডন থেকে এই পবিত্র মূর্তিটি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এই পর্যবেক্ষণ ভারতের ‘#BringBackOurGods’ (আমাদের ঈশ্বরদের ফিরিয়ে দাও) আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।

    মূর্তি প্রত্যর্পণের জোরালো দাবি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বর্তমান ভারত সরকার বিগত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতের বহু প্রাচীন ও চুরি যাওয়া ঐতিহ্যবাহী মূর্তি ফিরিয়ে এনেছে। ইউনেস্কোর (UNESCO) হিসেব অনুযায়ী, ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ভারত থেকে প্রায় ৫০,০০০ প্রাচীন মূর্তি ও শিল্পকর্ম পাচার হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই ধরণের প্রাচীন সামগ্রীর বেআইনি চোরাচালান দমনেও ভারত এখন বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারে এই সরস্বতী মূর্তিটি ফিরিয়ে আনার পক্ষে ভারতের দাবি অত্যন্ত জোরালো। কারণ প্রথমত, এর ঐতিহাসিক উৎস সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত। দ্বিতীয়ত, ভারতের আদালত এটিকে একটি মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবং তৃতীয়ত, এটি ঔপনিবেশিক শোষণের মাধ্যমে বেআইনিভাবে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভোজশালার (Bhojshala Verdict) এই আইনি জয় কেবল একটি ঐতিহাসিক সত্যকেই প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং লন্ডনে বন্দি থাকা মা সরস্বতীর মূর্তিকে (Saraswati Murti) স্বদেশে ফিরিয়ে আনার পথও প্রশস্ত করল কয়েক দশক পর।

LinkedIn
Share