Tag: National Security

National Security

  • Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও রাজনৈতিক নেতার স্মৃতিকথা তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে। সেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং সমকালীন ঘটনাবলী সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যা থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেই বই প্রকাশে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু কোনও বইয়ে প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক সংগঠন (Congress), ভারত-চিন সীমান্ত কিংবা ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনও দাবি থাকলে বিষয়টি শুধুমাত্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন সামনে আসে তথ্য, প্রমাণ এবং প্রকাশকের দায়িত্বের প্রশ্ন। এই বিতর্কের কেন্দ্রেই রয়েছে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi Book Row) প্রস্তাবিত স্মৃতিকথা “বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ”। বইটির আন্তর্জাতিক সংস্করণ আগামী ১০ নভেম্বর, ২০২৬ প্রকাশিত হওয়ার কথা। পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউসের আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে বইটিকে ৫৪৪ পৃষ্ঠার একটি স্মৃতিকথা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক (Sonia Gandhi Book Row)

    ভারতে বইটির প্রকাশনা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া এবং সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের কথিত অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সোনিয়া সেই পরিবর্তনগুলি মেনে নেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর পরেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ওঠে, একই বই বিদেশে প্রকাশিত হলেও ভারতে কেন প্রকাশিত হচ্ছে না। দলের কয়েকজন নেতা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তোলেন। কিন্তু বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে প্রকাশকের বক্তব্যের পর।

    পেঙ্গুইনের বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    ২৮ অগাস্ট পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রকাশ্যে জানায় যে ভারতে “বিলংগিং” বইটির প্রকাশক তারা নয়। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানায়, সোনিয়া সম্পাদকীয় পরিবর্তন মেনে না নেওয়ায় তারা বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত বদল করেছে—এমন দাবি পুরো পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না। প্রকাশকের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য যাচাই করা এবং লেখকদের সম্পাদকীয় পরামর্শ দেওয়া প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। সংশ্লিষ্ট আলোচনার সময় বইটি প্রকাশ করার বিষয়ে তারা আগ্রহী ছিল বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গোপন আলোচনার বিষয়ে তারা আর কোনও মন্তব্য করতে চায়নি (Congress)। এই বক্তব্যের পর বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে এসেছে—প্রকাশক নিজেই যখন সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করছে না, তখন সরাসরি মোদি সরকারের সঙ্গে বই প্রকাশ না হওয়ার সিদ্ধান্তকে যুক্ত করার ভিত্তি কী?

    প্রশ্ন শুধু সোনিয়ার বই নিয়ে নয়

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ কি কোনও লেখক যে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার বা সেনাবাহিনী সম্পর্কে যে কোনও দাবি করতে পারবেন এবং প্রকাশককে তা তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করতে হবে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার প্রয়োজনই বা কোথায়? বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলিতে সম্পাদকীয় পর্যালোচনা, তথ্য যাচাই এবং আইনি পর্যালোচনা প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কোনও বইয়ে জীবিত ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগ, সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর মন্তব্য, সামরিক অভিযান সংক্রান্ত তথ্য অথবা কোনও দেশের সীমান্ত নিয়ে দাবি থাকলে সেই দাবির ভিত্তি খতিয়ে দেখা স্বাভাবিক। লেখকের লেখার অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনও প্রকাশককে নির্দিষ্ট আকারে সেই লেখা প্রকাশ করতে বাধ্য করা যায় না।

    ভারত-চিন সীমান্তের প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়

    সোনিয়ার বইকে ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটি ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্তে চিনের কার্যকলাপ, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা, ভারতীয় ভূখণ্ডের অবস্থান এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ সাধারণ রাজনৈতিক মন্তব্যের বিষয় নয়। এই বিষয়গুলির সঙ্গে সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও স্মৃতিকথায় যদি বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে চিন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল, কোনও সরকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারেনি, অথবা কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তাহলে পাঠকের জানার অধিকার রয়েছে—এগুলি কি লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন, নাকি যাচাই করা তথ্য? এখানেই প্রকাশকের দায়িত্ব শুরু হয়। তথ্য চাওয়া সেন্সরশিপ নয়। বরং বহু ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করাই প্রকাশকের দায়িত্ব। কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি লেখেন, কোনও নির্দিষ্ট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কথা বলেছিলেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে। কিন্তু একই বইয়ে কোনও সামরিক ঘটনা, সীমান্ত বিরোধ বা সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে তুলে ধরা হলে সেই দাবির প্রকৃতি বদলে যায় (Sonia Gandhi Book Row)। তখন প্রশ্ন উঠবেই—এর উৎস কী? কোনও নথি রয়েছে কি? অন্যান্য সূত্র কী বলছে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি? সরকারি নথি বা জনসমক্ষে থাকা তথ্য দিয়ে দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায় কি? এই প্রশ্নগুলি করা লেখকের কণ্ঠরোধ করা নয়, বরং পাঠকের জানার অধিকার রক্ষা করা (Congress)।

    কংগ্রেসের যুক্তি এবং তার দুর্বল জায়গা

    কংগ্রেসের নেতারা গোটা ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। অশোক গেহলট, কমল নাথ-সহ দলের একাধিক নেতার প্রশ্ন, বিদেশে বইটি প্রকাশিত হতে পারলে ভারতে প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা কোথায় এবং কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না। অবশ্যই এটি গুরুতর অভিযোগ। কিন্তু গুরুতর অভিযোগের জন্যও প্রয়োজন জোরালো প্রমাণ। যদি কেন্দ্রীয় সরকার পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে বইয়ের কোনও অংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি প্রকাশ করা উচিত। কোনও সরকারি আধিকারিক প্রকাশকের উপর চাপ দিয়ে থাকলে তার প্রমাণও সামনে আনা উচিত। কোনও মন্ত্রক বইটি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকলে সেই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসা উচিত। বর্তমানে প্রকাশকের যে বক্তব্য সামনে এসেছে, তাতে এমন কোনও সরকারি নির্দেশের উল্লেখ নেই। বরং সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রকাশক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া এবং তথ্য যাচাইকেই প্রকাশনার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তাই এই পর্যায়ে “মোদি সরকার বইটি আটকে দিয়েছে”—এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়, বরং রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা যায়।

    লেখকের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের স্বাধীনতা

    এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে কি প্রকাশকের স্বাধীনতাকে উপেক্ষা করা যায় (Sonia Gandhi Book Row)? সোনিয়ার নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই কোনও পাণ্ডুলিপিতে তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলে মনে হলে প্রকাশকের লেখককে প্রশ্ন করার অধিকারও রয়েছে। লেখক কোনও পরিবর্তন গ্রহণ করতে না চাইলে সেটিও তাঁর অধিকার। একইভাবে, সেই আকারে বই প্রকাশ করতে প্রকাশক অনিচ্ছুক হলে সেটিও প্রকাশকের অধিকার। গণতন্ত্র উভয় পক্ষের স্বাধীনতার কথা বলে। এক পক্ষের স্বাধীনতা যখন অন্য পক্ষের উপর বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়, তখনই ব্যবস্থাটি অসুস্থ হয়ে ওঠে।

    পেঙ্গুইনের আগের বিতর্কও কি প্রাসঙ্গিক?

    পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার নাম এর আগেও বিতর্কিত প্রকাশনা সংক্রান্ত ঘটনায় উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে ২০১৩ সালের মুজফফরনগর দাঙ্গার উপর ভিত্তি করে জো সাকোর গ্রাফিক প্রতিবেদন “দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট” ভারতে বিতরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল সংস্থাটি। সাকোর দাবি ছিল, বইয়ে ব্যবহৃত কয়েকটি উদ্ধৃতি নিয়ে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া পরিবর্তন চেয়েছিল। অতএব, সোনিয়ার বইকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। তবে “মোদিকে প্রশ্ন করা” এবং “মোদিকে দোষারোপ করা”—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সরকারকে প্রশ্ন করা বিরোধী দলের অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করাও গণতান্ত্রিক অধিকার। ভারত-চিন নীতি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়াও সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু কোনও প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশকের সিদ্ধান্তকে সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় (Congress)। প্রশ্ন করা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা গণতন্ত্রের মানকে দুর্বল করে।

    সরকার বদলালেও কি তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলাবে?

    কংগ্রেস যদি মনে করে বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাহলে তাদের সেই দাবির প্রমাণ সামনে আনা উচিত। কিন্তু প্রমাণ না থাকলে প্রতিটি সম্পাদকীয় মতপার্থক্যকে মোদি সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরলে রাজনৈতিক বিতর্কের গভীরতা কমে যায়। আগামী দিনে সরকার বদলালে কি এই মানদণ্ডও বদলে যাবে? এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তার আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল। ভবিষ্যতে অন্য কোনও দল ক্ষমতায় আসতে পারে। তাহলে কি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকাশনার স্বাধীনতার মানদণ্ডও বদলে যাবে? উত্তর হওয়া উচিত—না। আজ বিজেপি সরকারের সঙ্গে যুক্ত কোনও নেতাকে নিয়ে প্রকাশিত বইয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তথ্য যাচাই প্রয়োজন। আগামীকাল যদি কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকে এবং কোনও কংগ্রেস নেতাকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগসম্বলিত বই প্রকাশিত হয়, তাহলেও তথ্য যাচাই প্রয়োজন হবে। এটাই গণতান্ত্রিক নীতি। রাজনৈতিক দল বদলায়। সরকার বদলায়। প্রধানমন্ত্রী বদলায়। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলানো উচিত নয় (Sonia Gandhi Book Row)।

    সেনাবাহিনী নিয়ে কে কী লিখতে পারেন, প্রশ্নটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    চিন এবং ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত অংশের কথা সামনে আসায় জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বিতর্ককে দেখা প্রয়োজন। ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সীমান্তে সেনাবাহিনীর অভিযান, সিদ্ধান্ত এবং মোতায়েন নিয়ে গুরুতর কোনও দাবি জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্মৃতিকথার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী সম্পর্কিত কোনও বক্তব্য যাচাই না করেই গ্রহণ করা সমীচীন নাও হতে পারে। এখানে উদ্দেশ্য কোনও সরকারকে রক্ষা করা হওয়া উচিত নয়। কোনও সরকার সীমান্তে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক প্রশ্ন থাকা উচিত। সেনাবাহিনীর কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। চিন কোনও পদক্ষেপ নিয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা দরকার। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে খণ্ডন করা উচিত।দেশপ্রেমের অর্থ সরকারের বলা প্রতিটি কথাকে সঠিক বলে মেনে নেওয়া নয়। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের নামে কোনও যাচাই না-করা দাবিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও দেশপ্রেম নয়। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের মূল প্রশ্ন তাই শুধু সোনিয়ার বই প্রকাশিত হবে কি না, তা (Congress) নয়। প্রশ্ন হল—গণতন্ত্রে লেখকের স্বাধীনতা, প্রকাশকের স্বাধীনতা এবং পাঠকের সত্য জানার অধিকার—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনই সংবেদনশীল দাবির ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রমাণের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না (Sonia Gandhi Book Row)।

     

  • Amit Shah:  শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদারে সব সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ শাহের

    Amit Shah:  শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদারে সব সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এই কৌশলগত অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার উপস্থিতি (National Security) বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার করিডরটির নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি আরও নির্দেশ দেন, শিলিগুড়ি করিডরকে সব ধরনের দখলদারি থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

    শিলিগুড়ি করিডর প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড। এটি ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই করিডরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

    দক্ষিণ ও পশ্চিমে বাংলাদেশ, উত্তরে তিব্বত তথা চিনের অবস্থানের মাঝে রয়েছে এই করিডরটি। একই সঙ্গে এটি নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে শিলিগুড়ি করিডরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    বৈঠকে শাহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে শিলিগুড়ি করিডরে অসামরিক প্রতিরক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনীর পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা পর্যালোচনা (Amit Shah)

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের সময়ই শাহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের কার্যকলাপ, জনসংখ্যার পরিবর্তন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলি বৈঠকে উঠে আসে।

    বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক, সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সশস্ত্র সীমা বল এবং রেল সুরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশের মহানির্দেশকও।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সব সংস্থাকে করিডরে তাদের প্রতিষ্ঠান ও পরিকাঠামোর সংখ্যা বাড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন।”

    করিডরের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তাও পর্যালোচনা করেন তিনি। সেগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি করিডরকে দখলদারি থেকে মুক্ত রাখার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, “শিলিগুড়ি করিডরে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।”

    বৈঠকে বহু সংস্থার সমন্বিত কাঠামোর অধীনে শিলিগুড়ি করিডরের জন্য গঠিত বিশেষ মনোযোগী গোষ্ঠী এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার জন্য তাদের সুপারিশ তুলে ধরে।

    এ ছাড়াও করিডরের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সীমান্ত নিরাপত্তায় চার স্তম্ভের সমন্বিত কৌশল

    বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তায় চার স্তম্ভের সমন্বিত কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রচলিত সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Amit Shah)।

    এই চার স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সশস্ত্র সীমা বলের মতো সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী; অবৈধ অনুপ্রবেশ, স্থানীয় গতিবিধি ও অপরাধী চক্রের ওপর নজর রাখা রাজ্য পুলিশের মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা; অসামরিক প্রশাসন এবং স্থানীয় জনসমাজ।

    শাহ নির্দেশ দেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি স্তম্ভকেই সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এই সমন্বিত কৌশল পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

    শিলিগুড়ি করিডরের পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলির গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যে সমস্ত কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    উত্তরবঙ্গে আরও বেশি সৈনিক বিদ্যালয় খোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্যও রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেন শাহ। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে জাতীয় ক্যাডেট বাহিনীর সিনিয়র ক্যাডেটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগী হতে বলেন তিনি।

    গোর্খা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অমিত শাহের

    শিলিগুড়িতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গোর্খা সাংসদ, বিধায়ক এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। দীর্ঘদিনের দাবি ও গোর্খা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উদ্বেগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ন্যায়সঙ্গত, মর্যাদাপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য বাস্তবসম্মত পথরেখা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকের পর শাহ জানান, গোর্খা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং প্রকৃত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরির বিষয়েও কথা হয়েছে।

    তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার এই বিষয়গুলির সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে গোর্খা সম্প্রদায়ের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হবে (Amit Shah)।”

    শাহ এও বলেন, সরকার এমন একটি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে, যা গোর্খা সম্প্রদায়ের প্রত্যাশাকে সম্মান করবে, তাদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখবে এবং আরও ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।”

    গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে (National Security)।

    গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আশা

    বিজেপি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানান, বৈঠকের ফলে গোর্খাল্যান্ড সমস্যার ইতিবাচক সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “গোর্খাল্যান্ড সমস্যা নিয়ে আমরা যে সমাধান চাইছি, তা খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে। একটি কমিটি গঠন করা হবে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে আমাদের মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজের নেতৃত্বেই ওই কমিটি কাজ করবে।”

    শ্রিংলা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিলিগুড়ি করিডরে একশো শতাংশ নিরাপত্তা থাকবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।”

    বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানান, বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে উদ্বেগ এবং উত্তরবঙ্গকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিভিন্ন প্রচেষ্টার বিষয়টিও (Amit Shah) উঠে আসে এদিনের আলোচনায় (National Security)।

     

  • Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নাশকতার সম্ভাব্য ছক ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও নজরদারির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার এই তদন্তেই হাওড়া থেকে আরও এক যুবক, আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত।

    সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে নাশকতার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দিল্লির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল তার কাছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন ভিআইপি-র নিরাপত্তা, চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরেও নাশকতার আশঙ্কা

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

    অর্পিতার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

    তদন্তে হামিমের পাশাপাশি অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের তরফে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘সেশন’ (Session) এবং ‘এলিমেন্ট এক্স’ (Element X) ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য, তদন্তে নতুন মোড়

    এদিকে, এই মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজকে। আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এসটিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদিত্যের ভূমিকা থাকতে পারে। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে সে হামিমের কাছে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালান। আদিত্যের মা জানান, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করত এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

    মন্ত্রীকে হুমকি ফোনের তদন্ত থেকেই সূত্র

    তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ‘আবিদ জাট’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি শুধু মন্ত্রীকেই নয়, তাঁর ছেলেকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন মন্ত্রী। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, পরে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার এবং সর্বশেষ হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন সম্ভাব্য টার্গেটে

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় থেকেছিল এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটে রেকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোন সময় নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই সঙ্গে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ করত সে।

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা চক্রান্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের বছর বাইশের এক তরুণীকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। ধৃতের নাম অর্পিতা সরকার। এসটিএফের দাবি, সোশাল মিডিয়ায় পরিচয়ের সূত্রে প্রেমিক মহম্মদ হামিম মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। পরে হামিমের মাধ্যমেই পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের হ্যান্ডলারদের সংস্পর্শে এসে নাশকতার ছকের শরিক হয়ে ওঠেন অর্পিতা।

    ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার (Jharkhand Arrest) অর্পিতা

    প্রায় চার বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় হামিম ও অর্পিতার। শনিবার ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand Arrest) সাহেবগঞ্জ জেলার বরহারওয়া এলাকা থেকে অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়। তার একদিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে ধরা পড়েছিল তাঁর প্রেমিক হামিম। এসটিএফের (STF) অভিযোগ, হামিম পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। সেই কাজে অর্পিতাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছিল। হামিমের মাধ্যমেই অর্পিতা ওই চক্রে যুক্ত হয় এবং পরে সরাসরি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশ মতো কাজ করতে শুরু করে।

    ডিজিটাল তথ্য থেকেই সূত্র!

    এসটিএফ (STF) সূত্রে খবর, হামিম ও অর্পিতার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে হওয়া কথোপকথন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হন অর্পিতা। তদন্তকারীদের নজরে তাঁর মোবাইল, সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং এনক্রিপ্টেড চ্যাট।

    ‘হানি ট্র্যাপে’র অভিযোগ

    এসটিএফের (STF) আইজি গৌরব শর্মার দাবি, হামিমের নির্দেশে অর্পিতা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীর ছেলেকে টার্গেট করা হয়েছিল। বিদেশ থেকে কোনও অর্থ এসেছে কি না? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর?

    তদন্তকারীদের দাবি, হামিম নিজেকে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির ওপর নজর রাখারও অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে। এসটিএফের (STF) দাবি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে হামিমকে পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে সম্প্রতি হওয়া ছাত্র বিক্ষোভে একটি দল নিয়ে গিয়ে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনাও করেছিল। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    বড় নেটওয়ার্কের জাল?

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, হামিম একটি বড় ISI-সমর্থিত নেটওয়ার্কের অংশ। লক্ষ্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ আধিকারিক এবং ভিআইপিদের ওপর নজরদারি চালানো। হামিমকে কয়েক মাস আগে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেয় বলে অভিযোগ। অর্পিতা ছিলেন তাঁর প্রথম দিকের সহযোগীদের একজন।

    একাধিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার

    STF জানিয়েছে, যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, এলিমেন্ট এক্স এবং সেশনের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করা হত। তদন্তে চারটি পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলের নাম উঠে এসেছে- আবির জাট৩৩৩, উজাইর, রানা এবং হামাদ। পুলিশের দাবি, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কট্টরপন্থী প্রচার চালিয়ে যুবকদের মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা করা হত। কথপোকথনের সময় ব্রিটেন ও মেক্সিকোর সিম কার্ডও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

    ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজত

    তদন্তকারীরা অর্পিতার কলেজ জীবনে কলকাতায় তাঁর মামারবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। সেই সময় হামিমের সঙ্গে তাঁর সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ হত কি না, তাও জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারির পর অর্পিতাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে এবং আগামী দিনে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও রয়েছে।

  • Narendra Modi: মোদির ডাকে সংসদে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, উপস্থিত ডোভাল-রাজনাথ-জয়শঙ্কর-নির্মলা

    Narendra Modi: মোদির ডাকে সংসদে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, উপস্থিত ডোভাল-রাজনাথ-জয়শঙ্কর-নির্মলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেই বসে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির বৈঠক (CCS Meeting)। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক শীর্ষ মন্ত্রী।

    কারা ছিলেন বৈঠকে?

    প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, পীযূষ গয়াল, হরদীপ সিং পুরী, সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পি. কে. মিশ্রও বৈঠকে যোগ দেন।

    কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠক?

    এই বৈঠক ঘিরে জল্পনা বাড়িয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি। একদিকে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক তরজা, অন্যদিকে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি- দু’দিকেই নজর রয়েছে কেন্দ্রের। ফলে এই সময়ের CCS বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    কী এই সিসিএস মিটিং?

    ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS Meeting) হল কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সীমান্ত পরিস্থিতি, কৌশলগত সিদ্ধান্ত, বিদেশনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কমিটিতেই পর্যালোচনা করা হয়। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও সাধারণত এই কমিটির মাধ্যমেই নেওয়া হয়।

    কী নিয়ে আলোচনা?

    সরকারিভাবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। অর্থমন্ত্রী ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর উপস্থিতি থেকে মনে করা হচ্ছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    এখন নজর কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপে

    বৈঠক শেষে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র যে নিবিড় নজর রাখছে, তা স্পষ্ট। আগামী কয়েকদিনে সরকারের তরফে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।

  • Assam STF: অসমে পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, এসটিএফের জালে ৩ সন্দেহভাজন

    Assam STF: অসমে পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, এসটিএফের জালে ৩ সন্দেহভাজন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমে সক্রিয় হয়ে ওঠা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (Assam STF)। পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্ক ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’ (Shahzad Bhatti Network)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই জঙ্গি-অপরাধচক্রটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)-এর নির্দেশে কাজ করত এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতা, জঙ্গি কার্যকলাপ ও স্লিপার সেল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে যাচ্ছিল।

    একযোগে তিন জেলায় অভিযান

    অসম পুলিশের এসটিএফ (Assam STF) জানিয়েছে, ২৪ জুলাই ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটা জেলায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে যোগ দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশও। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ধুবড়ি জেলার বেপারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আক্রামূল ইসলাম (২৬), চিরাং জেলার পানবাড়ির ধুপিরি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান (২২), এবং বরপেটা জেলার কালগাছিয়ার দাবান্দিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হুসেনকে (৫৪)।

    কী কী কাজে যুক্ত ছিল এই নেটওয়ার্ক (Shahzad Bhatti Network)?

    তদন্তকারীদের (Assam STF) দাবি, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক শুধু জঙ্গি নিয়োগই নয়, অনলাইনে উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেকি, অস্ত্র সংগ্রহ, লজিস্টিক সহায়তা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্লিপার সেল গড়ে তোলার কাজও করছিল। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলাররা এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।

    একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

    এসটিএফের (Assam STF) দাবি, এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল একাধিক উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে। তাদের মধ্যে রয়েছে- খালিস্তান আর্মড ফোর্স, পঞ্জাব সার্বভৌমত্ব অ্যালায়েন্স, খালিস্তান লিবারেশন আর্মি, শের-ই-পাঞ্জাব ব্রিগেড, ইউনাইটেড শিখ ব্রাদারহুড, শিখ টাইগার্স অফ খালিস্তান,  তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান (টিটিএইচ)। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৪ মে পঞ্জাব পুলিশের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে হওয়া হত্যাকাণ্ডের দায়ও তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান স্বীকার করেছিল।

    অসমে কীভাবে সামনে এল এই চক্র?

    অসমে এই নেটওয়ার্কের (Shahzad Bhatti Network) কার্যকলাপ প্রথম সামনে আসে নলবাড়ি জেলার একটি তদন্তে। ওই তদন্তে গত ২২ মে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তদন্তের সূত্র ধরেই আরও তথ্য হাতে আসে এবং শেষ পর্যন্ত তিন জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কী কী উদ্ধার হয়েছে?

    ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে  ৫টি মোবাইল ফোন, ৭টি সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই ও ডেবিট কার্ড। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহজনক নথিও উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই সমস্ত সামগ্রী খতিয়ে দেখে নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

    নাশকতার পরিকল্পনা!

    অসম পুলিশের এসটিএফ (Assam STF)-এর পুলিশ সুপার প্রণব কুমার পেগু জানিয়েছেন, “গোয়েন্দা সূত্রে নির্দিষ্ট তথ্য মিলেছিল যে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত এই নেটওয়ার্ক দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। প্রথমে পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে স্লিপার সেল গড়ে তোলার পর চলতি বছরে অসম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতেও এই নেটওয়ার্ক নিজেদের কার্যকলাপ বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    পুলিশের দাবি, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে তদন্ত শেষ নয়। বরং উত্তর-পূর্ব ভারতে এই নেটওয়ার্কের আরও সদস্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত জঙ্গি ও অপরাধচক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অসম পুলিশ।

  • US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-নেপাল (India-Nepal Border) সীমান্তে যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। উত্তরপ্রদেশের রূপাইডিহা (Rupaidiha) সীমান্ত এলাকা থেকে এক মার্কিন নাগরিক-সহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ওয়ারিস পাঞ্জাব দে’ (Waris Punjab De)-র এক সদস্যও রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    যৌথ অভিযানে বড়সড় সাফল্য

    গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (SSB) এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ বাহিনী রূপাইডিহা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা বৈধ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এড়িয়ে গোপনে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। সেই সময় একটি গাড়ি আটক করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কারা ধরা পড়েছে?

    ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিক্রমজিৎ সিং, যিনি খালিস্তানপন্থী সংগঠন ওয়ারিস পাঞ্জাব দে-র সদস্য বলে তদন্তকারীদের দাবি। এছাড়া ধরা পড়েছেন মার্কিন নাগরিক মনবীর সিং ধিলোঁ, যাঁর আদি বাড়ি পঞ্জাবের মোগা জেলায়। এ ছাড়া অভিযানে আরও তিন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের নাম—

    • ● সুরেশ কুমার পাঠক
    • ● দিলীপ উপাধ্যায়
    • ● রাহুল কুমার (গাড়ির চালক)

    তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই তিনজন সীমান্ত পারাপারের জন্য লজিস্টিক ও স্থানীয় সহায়তা দিচ্ছিলেন।

    কীভাবে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা?

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা বীরগঞ্জ-রূপাইডিহা (Birgunj-Rupaidiha) করিডর ব্যবহার করে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা করেছিল। ভারত-নেপাল ১৯৫০ সালের শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের নাগরিকদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই খোলা সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে চোরাচালান, মানবপাচার এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি।

    মার্কিন নাগরিক ধরা পড়ায় বাড়ল কূটনৈতিক গুরুত্ব

    ঘটনায় এক মার্কিন নাগরিকের উপস্থিতি বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ব্রিটেনে বসবাসকারী কিছু খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ, প্রচার এবং সংগঠন বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে খালিস্তানপন্থী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন-কে কেন্দ্র করে ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও বেড়েছে। সেই আবহেই এই গ্রেফতারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

    নেপাল করিডর নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ

    ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, নেপাল বহুদিন ধরেই বিভিন্ন জঙ্গি ও শত্রুভাবাপন্ন নেটওয়ার্কের জন্য একটি সম্ভাব্য ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাঠমান্ডুতে তুলনামূলক সহজ প্রবেশের সুযোগ এবং ভারত-নেপালের ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সংগঠন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির ধারণা।

    এনআইএ-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

    ধৃত পাঁচজনকে নিরাপত্তার কড়া নজরদারিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে নেমেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

    তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—

    • ● অভিযুক্তদের ডিজিটাল যোগাযোগের নেটওয়ার্ক
    • ● অর্থের উৎস ও লেনদেনের পথ
    • ● ভারতে সম্ভাব্য যোগাযোগকারী ও সহযোগীদের পরিচয়
    • ● অনুপ্রবেশের মূল উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য টার্গেট

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, এই ঘটনায় সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে সক্রিয় খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • NSA Ajit Doval: লোকমান্য তিলক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তার ‘কৌশলী’ অজিত ডোভাল

    NSA Ajit Doval: লোকমান্য তিলক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তার ‘কৌশলী’ অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সন্ত্রাস দমন থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা, কূটনৈতিক আলোচনা থেকে স্পর্শকাতর অভিযানে তাঁর ভূমিকা বারবার উঠে এসেছে আলোচনায়। সেই দীর্ঘ কর্মজীবন ও জাতীয় নিরাপত্তায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ লোকমান্য তিলক পুরস্কারে (Lokmanya Tilak Award) সম্মানিত হচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। আগামী ১ আগস্ট পুনেতে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং সুনেত্রা পওয়ার।

    লোকমান্য তিলক পুরস্কার

    জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে লোকমান্য তিলক স্মারক ট্রাস্ট। ১ অগাস্ট, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পুনেতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মান প্রদান করা হবে। ১৯৮৩ সালে লোকমান্য তিলক স্মারক ট্রাস্ট এই জাতীয় সম্মান চালু করে। স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের স্মৃতির উদ্দেশে প্রতি বছর ১ অগাস্ট, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হয়- একটি স্মারক, একটি সম্মানপত্র ও এক লক্ষ টাকা নগদ অর্থ। সমাজবাদী নেতা এস. এম. যোশি ছিলেন এই পুরস্কারের প্রথম প্রাপক।

    কেন এই সম্মান পাচ্ছেন অজিত ডোভাল (Ajit Doval)?

    অজিত ডোভাল (Ajit Doval) ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি। কর্মজীবনে তিনি মিজোরাম, সিকিম, পঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামাবাদ এবং লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসে একাধিক কূটনৈতিক দায়িত্বও সামলেছেন। ভারত-চিন সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। ডোকলাম অচলাবস্থা মেটাতে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।

    পুরস্কার প্রাপকরা

    এই সম্মানে (Lokmanya Tilak Award) ভূষিত হয়েছেন দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- নরেন্দ্র মোদি, অটল বিহারী বাজপেয়ী, মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধী, প্রণব মুখোপাধ্যায়, শরদ পাওয়ার, নিতিন গড়করি, এন. আর. নারায়ণ মূর্তি, সুধা মূর্তি-সহ আরও অনেকে।

    লোকমান্য তিলকের চার আদর্শ

    ট্রাস্টের সভাপতি রোহিত তিলক জানিয়েছেন, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের চারটি মূল আদর্শ (স্বরাজ, স্বদেশি, জাতীয় শিক্ষা, বিদেশি পণ্য বর্জন) আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অজিত ডোভালের ভূমিকা ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেই অবদানের স্বীকৃতিতেই এ বছর দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লোকমান্য তিলক পুরস্কারে (Lokmanya Tilak Award) সম্মানিত হতে চলেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

  • Chicken Neck Security: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বড় পদক্ষেপ! চিকেনস নেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মহানন্দা নদীপথেও কড়া নজরদারি

    Chicken Neck Security: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বড় পদক্ষেপ! চিকেনস নেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মহানন্দা নদীপথেও কড়া নজরদারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ি এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং কৌশলগত ঝুঁকি মোকাবিলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ফুলবাড়ির জুমাগছে সরেজমিন পরিদর্শন

    শুক্রবার রাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। শনিবার সকালে অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যৌথভাবে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের স্পর্শকাতর গ্রাম জুমাগছ পরিদর্শন করেন। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মহানন্দা নদীর উন্মুক্ত অংশ এবং অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য রুটগুলি খতিয়ে দেখা হয়।

    রাজ্যে ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট, উত্তরবঙ্গে বাড়ছে নজরদারি

    উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রাজ্যে ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আউটপোস্ট উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারে তৈরি হবে। প্রশাসনের মতে, নতুন এই পরিকাঠামো চালু হলে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ-এর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

    স্মার্ট ফেন্সিং ও থার্মাল নজরদারিতে জোর

    বৈঠকে সীমান্তে আধুনিক ত্রিস্তরীয় স্মার্ট ফেন্সিং দ্রুত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহানন্দা নদীর যেসব অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন এবং উন্মুক্ত রয়েছে, সেখানে ভার্চুয়াল স্মার্ট ফেন্সিং, উন্নত থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, জলপথ ব্যবহার করে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশের সুযোগ রাখা হবে না।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ জুমাগছ?

    প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ফুলবাড়ি থেকে নারায়ণজোত পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা গত এক সপ্তাহ ধরে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে। জুমাগছ থেকে রাবভিটার দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মহানন্দা নদীর বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত অংশ, যেখানে বর্ষাকালে নদীপথ ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা থেকেই যায়।

    বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প ও চিনা উপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা

    নিরাপত্তা মহলের নজরে রয়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে চলা বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পও। সীমান্তের ওপারে ওই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চিনা ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি কর্মীদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডর ও উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ছয় জেলার প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের ডাকা হয়। বিএসএফ উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজির উপস্থিতিতে সীমান্তে জমি-সংক্রান্ত জট দ্রুত মিটিয়ে ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করার রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    শিলিগুড়ি করিডর কেন ভারতের ‘লাইফলাইন?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সংযোগ। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ধরনের আপসের প্রশ্নই নেই। নতুন বর্ডার আউটপোস্ট, ত্রিস্তরীয় স্মার্ট ফেন্সিং, ভার্চুয়াল নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্তকে আরও অভেদ্য করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্তের ওপারে দ্রুত বদলে যাওয়া কৌশলগত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের এই পরিকাঠামোগত ও নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং অনথিভুক্ত (Financial Times) বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন জন্ম দিয়েছে নয়া বিতর্কের। প্রতিবেদনে (Bangladesh Pushback Policy) ভারতের পদক্ষেপের সমালোচনা করা হলেও, পাল্টা মতামতে প্রশ্ন উঠেছে—নিজেদের নাগরিকদের পরিচয় যাচাই ও গ্রহণে বাংলাদেশ দেরি করলে ভারতের সামনে বিকল্প পথ কী? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদপত্রটির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

    প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক (Financial Times)

    বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কয়েকজন কর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে কিছু মানুষকে সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ পৌঁছে দিচ্ছেন। এক আধিকারিক বলেন, “ওরা (ভারত) অন্ধকার নামার অপেক্ষা করে, তারপর সীমান্তের গেট খুলে মানুষকে ঠেলে দেয়।” আর এক কর্তার দাবি, “সেখানে নারী এবং শিশুরাও থাকে। অনেক সময় তারা মাঝখানে আটকে পড়ে।” সংবাদপত্রটির আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী ‘জিরো লাইনে’ বহু মানুষ আটকে থাকার অভিযোগও তুলেছে বাংলাদেশ। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, প্রতিবেদনে অনুপ্রবেশের আইনি ও নিরাপত্তাজনিত দিকের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা ও অনথিভুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদে’র সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার

    প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিনিধির বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ মুসলিম পরিবারকে বাংলাদেশে ফেলে আসছে অথবা সীমান্তে আটকে রাখছে। মুসলিমদের প্রতি এই বৈরিতা বন্ধ হওয়া উচিত।” প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যও (Financial Times)। তাঁর দাবি, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এবং আরও প্রায় ১,৮০০ জনের বিরুদ্ধে একই প্রক্রিয়া চলছে।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অবস্থানও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ রোধ এবং বিদেশি ট্রাইব্যুনালে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। সরকারি জমি ও বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়টিও তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে (Bangladesh Pushback Policy)।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, অতীতে গৌহাটি হাইকোর্ট অনুপ্রবেশকে অসমের জনবিন্যাসের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, বিদেশি হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তিদের ভারত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ইস্যুতে ভারতের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশটির বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকেও সতর্ক করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে (Financial Times)। এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত ইতিমধ্যেই ২,৬৮০টিরও বেশি ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ পাঠিয়েছে। তবে বহু ক্ষেত্রে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই যাচাই প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে।

    আলোচনার ফোকাস পয়েন্ট

    এক প্রবীণ ভারতীয় আধিকারিকের  বক্তব্যও প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “বহিষ্কারের জন্য গন্তব্য দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে সেই সহযোগিতা প্রায় কখনওই পাওয়া যায় না।” তাঁর আরও দাবি, “সেই কারণেই আমাদের সামনে অন্য কোনও উপায় ছিল না।” এই ঘটনাকে ঘিরে (Bangladesh Pushback Policy) আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়ই এখন উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে (Financial Times)।

     

LinkedIn
Share