Tag: National Security

National Security

  • Kashmir: শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর ও জিন্নাহ-ভাবনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    Kashmir: শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর ও জিন্নাহ-ভাবনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা, কাশ্মীরের (Kashmir) রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মহম্মদ আলি জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের বিভিন্ন পোস্ট, শেয়ার করা সংবাদ প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের ভিত্তিতে (Sharjeel Imam) তাঁর মতাদর্শ, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। তবে পোস্টগুলির ব্যাখ্যা, সেগুলির প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অবস্থান আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    কে এই শরজিল ইমাম? (Kashmir)

    শরজিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্র, গবেষক এবং রাজনৈতিক কর্মী। ২০১৯-২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-বিরোধী আন্দোলনের সময় জাতীয় স্তরে পরিচিতি পান তিনি। ওই আন্দোলনের সময় তাঁর কয়েকটি বক্তব্য, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ অবরোধের প্রসঙ্গে করা মন্তব্য, বিতর্কের জন্ম দেয়।

    ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরেরই ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলাতেও তাঁর নাম জড়ায়। ওই হিংসাত্মক ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

    ভারতীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টে শরজিল দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিমদের প্রসঙ্গে ‘আমরা ভারতকে বেছে নিয়েছিলাম’—এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, ‘হামনে হিন্দোস্তান কো চুনা থা’ বা ‘আমরা হিন্দুস্তানকে বেছে নিয়েছিলাম’—এই বক্তব্যকে মুসলিমদের অপমান করার জন্য হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

    ইমামের যুক্তি ছিল, দেশভাগের সময় বহু পরিবার হিংসা, অনিশ্চয়তা এবং বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কার মধ্যে পড়েছিল। ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাধীনভাবে একটি দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ সবার ছিল না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সম্পত্তি এবং ঐতিহাসিক শিকড়ের মতো বিষয়গুলিও সহজে সীমান্তের অন্য পারে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না।

    পোস্টে তিনি লেখেন, “ইসকো ‘দেশ’ কি মোহব্বত কহনা ঝুঠ হ্যায়, অউর উন মুসলমানোঁ কি তৌহিন হ্যায়।” অর্থাৎ, একে দেশের প্রতি ভালোবাসা বলা মিথ্যা এবং ওই মুসলিমদের অপমান করার শামিল।

    এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশভাগ-পরবর্তী মুসলিমদের জাতীয় পরিচয় ও দেশপ্রেমের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান তিনি।

    কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা

    ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের একটি পোস্টে ইমাম লেখেন, “কাশ্মীর বন্ধের এক মাস এবং কাশ্মীরে এক মাসের ভারতীয় অবরোধ।”

    ২০১৯ সালের অগাস্টে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করে এবং রাজ্যটিকে জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠিত করে। ওই সময় নিরাপত্তা বিধিনিষেধ এবং যোগাযোগের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল মানুষের চলাচল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে।

    ইমামের পোস্টে ‘অবরোধ’ শব্দটির ব্যবহার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই শব্দের মাধ্যমে তিনি কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও বলপ্রয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন। সমালোচকদের মতে, এমন ভাষ্য কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের মতো অন্যান্য বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব না-ও দিতে পারে।

    ‘জিন্নাহর প্রশ্ন আজও প্রাসঙ্গিক’

    ২০১৮ সালের ১৩ মে একটি পোস্টে মহম্মদ আলি জিন্নাহকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেন ইমাম। সেখানে তিনি লেখেন, “জিন্নাহর উত্থাপিত প্রশ্নগুলি আজও প্রাসঙ্গিক।”

    তিনি আরও লেখেন, “প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি লক্ষ লক্ষ মুসলিমের সংগ্রামই বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের অর্থ নির্ধারণ করবে।”

    একই পোস্টে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) থেকে জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোর বিরোধিতা করে তিনি লেখেন, “বরং এমন আরও হাজার হাজার ছবি আমাদের প্রয়োজন (Sharjeel Imam)। ”

    জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ভারতের ইতিহাসে বিতর্কিত। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পর্বে সাংবিধানিক রাজনীতি ও হিন্দু-মুসলিম সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মুসলিম লিগের পাকিস্তান দাবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। দেশভাগের পরিণতিতে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, হিংসা এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। তাই বর্তমান ভারতের রাজনীতিতে জিন্নাহর কোন রাজনৈতিক ভাবনাকে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন ইমাম, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে (Kashmir)।

    ‘ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের মিথ’

    ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারির একটি ফেসবুক পোস্টে ইমাম জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনকে সামনে রেখে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তিনি জানান, জিন্নাহ পেপার্স পড়ার পর তাঁর মনে হয়েছে, জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য এক সংখ্যালঘু নেতার লড়াই। ইমাম লেখেন, “৭০ বছর পর ভারতের মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা জিন্নাহ কী বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন।”

    তিনি আরও লেখেন, “ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের মিথ বুঝতে হলে জিন্নাহকে গুরুত্ব দিয়ে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।”

    এই বক্তব্যে শুধু জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করার বিষয়টি নেই, বরং কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি মুসলিমদের জন্য বাস্তব রাজনৈতিক সমতা নিশ্চিত করতে পেরেছিল কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

    ‘ভারতীয় সংবিধানে মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত’, বিতর্ক

    ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইমাম টিআরটি ওয়ার্ল্ডে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেন। তার সঙ্গে তিনি লেখেন, “ভারতীয় সংবিধানে মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।” সেটি পড়ে শেয়ার করার আহ্বানও জানান তিনি।

    ভারতীয় সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের চোখে সমতা এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই মুসলিম-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নাগরিকেরা নিজেদের ধর্ম পালন ও জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকার ভোগ করেন।

    সংবিধান বা সরকারি নীতির সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে সংবিধানকেই সামগ্রিকভাবে মুসলিমবিরোধী বলে চিহ্নিত করা একটি বিস্তৃত অভিযোগ। এই ধরনের দাবি মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধান, তার প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ‘ধর্মনিরপেক্ষতা, দহর-পরস্তি’

    ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টে ইমাম কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ধারণার সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গযুক্ত শব্দ ব্যবহার করেন।

    তাঁর তালিকায় ছিল জাতীয়তাবাদ: ওয়াতান-পরস্তি, মূর্তিপূজা: বুত-পরস্তি, ধর্মনিরপেক্ষতা: দহর-পরস্তি বা জামানা-পরস্তি, বর্ণবাদ ও জাতপাতবাদ: নসল-পরস্তি, উদারবাদ: নফস-পরস্তি, মানবতাবাদ: ইনসান-পরস্তি

    এখানে ‘পরস্তি’ শব্দটি কোনও কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য বা উপাসনার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, উদারবাদ এবং মানবতাবাদের মতো ধারণাগুলিকে ধর্মীয় পরিভাষার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

    তবে ধর্মনিরপেক্ষতা ও উদারবাদের মতো রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নির্ধারণের একাধিক পদ্ধতিকে বোঝাতে পারে। একইভাবে উদারবাদ ব্যক্তিস্বাধীনতা, অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নিয়ে বিভিন্ন মতের সমষ্টি।

    এই পোস্ট থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাজনৈতিক নীতির সম্পর্ক নিয়ে ইমামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠে। ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের নাগরিকদের সমান অধিকার বজায় রেখে ধর্মীয় আদর্শ অনুসরণ করা সম্ভব কি না, তা-ও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ইসলামের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য

    ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বরের একটি স্ক্রিনশটে পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদ-পরবর্তী রাজনৈতিক চিন্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বক্তব্য দেখা যায়।

    সেখানে বলা হয়েছে, “পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদকে পরিত্যাগ করার মধ্য দিয়ে যে ভবিষ্যৎ শুরু হবে, তা আগে থেকে নির্ধারিত বা তৈরি করা নয়; বরং তা গড়ে তুলতে হবে।”

    এর পরেই বলা হয়েছে, “সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইসলামের উপযুক্ত ভূমিকা থাকবে।”

    বক্তব্যটিতে অন্যান্য মতাদর্শের সঙ্গে ইসলামের সংঘাত ও বিরোধিতার পরিসর নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এই অংশ থেকে একা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ইমাম একটি ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন, নাকি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিন্তায় ইসলামের অবদান নিয়ে আলোচনা করছিলেন। বিষয়টি নির্ধারণের জন্য মূল লেখার পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও তাঁর অন্যান্য বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন (Kashmir)।

    গর্বাচেভকে খোমেইনির চিঠি শেয়ার

    ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর ইমাম সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভকে আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেইনির ১৯৮৯ সালের চিঠির অংশবিশেষ শেয়ার করেন বলে স্ক্রিনশটে দেখা যায়।

    সেখানে বলা হয়েছিল, “আজকের বিশ্বে কমিউনিজম বলে আর কিছুই নেই।” একই সঙ্গে, গর্বাচেভকে ‘পশ্চিমের কারাগার এবং মহাশয়তানে’র ফাঁদে না পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে উদ্ধৃতিতে উল্লেখ রয়েছে।

    ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে খোমেইনির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে ধর্মীয় কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চিঠিটিতে কমিউনিজমের সমালোচনার পাশাপাশি পশ্চিমী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মডেল গ্রহণের বিরুদ্ধেও সতর্কতা ছিল (Sharjeel Imam)।

    ইমামের এই পোস্টকে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে তাঁর শেয়ার করা পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে পড়া যেতে পারে। তবে একটি ঐতিহাসিক চিঠি শেয়ার করাই তার সমস্ত বক্তব্য বা রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

    ‘সিয়াচেন সমাধানের পথে ভারতীয় সেনা বাধা’

    ২০১১ সালের ২ জুন ইমাম পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন-এর একটি শিরোনাম শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। শিরোনামটি ছিল, “সিয়াচেন সমস্যার সমাধানের পথে ভারতীয় সেনাবাহিনী বাধা।”

    সিয়াচেন হিমবাহ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সংবেদনশীল সামরিক ও কৌশলগত এলাকা। এই শিরোনামে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বিরোধ নিষ্পত্তির পথে বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

    ইমাম কেন এই শিরোনামটি শেয়ার করেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। তবে কোনও সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করার কারণ নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট পোস্টের পূর্ণ বক্তব্য এবং তৎকালীন প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। শুধু একটি শিরোনাম শেয়ার করার ভিত্তিতে তাঁর জাতীয় আনুগত্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    কাশ্মীরের খবর পরিবেশন নিয়ে অভিযোগ

    ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ ইমাম একটি প্রবন্ধ শেয়ার করে লেখেন, “কাশ্মীর সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের অসততা নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ পড়া, মন্তব্য করা এবং শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি”।

    সংবাদমাধ্যমের খবর পরিবেশনে পক্ষপাত, অতিরঞ্জন, সরকারি সূত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, তথ্য বাদ দেওয়া কিংবা উসকানিমূলক ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক। তবে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্দিষ্ট প্রতিবেদন, ভুল তথ্য বা বাদ পড়া তথ্যের প্রমাণ প্রয়োজন (Kashmir)।

    এই পোস্টের মাধ্যমে ইমাম কাশ্মীর নিয়ে মূলধারার সংবাদ পরিবেশনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্ন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগের যথার্থতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করা জরুরি।

    ‘হিন্দুত্ববাদীর কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়’

    ২০১২ সালের ২৯ জুন ইমাম “হিন্দুত্ববাদীর কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়” শিরোনামের একটি লিঙ্ক শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

    শিরোনামটি হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী কোনও ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধিতা প্রকাশ করে। তাঁর অন্যান্য পোস্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হিন্দুত্বের রাজনীতি, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি এবং ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

    তবে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরোধিতা করা এবং বিকল্প হিসেবে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে থাকা এক বিষয় নয়। তাঁর প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলির পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ‘ভারতকে হিন্দু সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হবে’

    ২০১১ সালের ২৮ অগাস্ট ইমাম দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত “ভারতকে হিন্দু সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হবে” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন বলে স্ক্রিনশটে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনের লেখক হিসেবে কপিল কোমিরেড্ডির নাম দেওয়া হয়েছে।

    ‘হিন্দু সন্ত্রাস’ শব্দবন্ধটি ভারতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় বিতর্কিত। সমালোচকদের মতে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করলে একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায় সম্পর্কে সাধারণীকরণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

    অন্যদিকে, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সন্ত্রাসবাদ ও হিংসার অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা জরুরি। ইসলামি চরমপন্থা-প্রণোদিত সন্ত্রাসবাদ যেমন নথিভুক্ত বাস্তবতা, তেমনই অন্য মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও পৃথকভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

    ইমাম কেন এই শিরোনামটি শেয়ার করেছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় ও সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, তা নির্ধারণের জন্য মূল প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পোস্টের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু যাচাই করা প্রয়োজন (Kashmir)।

    আল জাজিরার প্রতিবেদন শেয়ার

    ২০১১ সালের ১১ অগাস্ট ইমাম আল জাজিরা ইংলিশের “কাশ্মীরে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধ — কাশ্মীর: বিস্মৃত সংঘাত” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

    প্রতিবেদনটির শিরোনামে কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধের ভাষায় তুলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কাশ্মীরকে ‘ভারতীয় অবরোধে’র মধ্যে থাকা অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করা তাঁর পোস্টের সঙ্গে এই বিষয়টির তুলনা করা হয়েছে।

    কাশ্মীর নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় অবস্থান, স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং মানবাধিকার—সব ক’টি বিষয়ই জটিল ও বহুমাত্রিক। কোনও নির্দিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করার মাধ্যমে ইমাম ঠিক কোন রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন, তা নির্ধারণ করতে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন।

    হায়দরাবাদের সংযুক্তি ও সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য

    ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরের একটি পোস্টে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকার প্রশংসা করে করা একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান ইমাম।

    তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘কাজ করেছে’ বলতে যদি কিছু বোঝানো হয়, তবে তার অর্থ এই-ও যে রাষ্ট্র ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে হায়দরাবাদের নিরস্ত্র কৃষক ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিল।

    ১৯৪৮ সালে হায়দরাবাদকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করার সময় সামরিক অভিযান ও তার পরিণতি নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। ইমামের মন্তব্যে সেই প্রক্রিয়ায় বলপ্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাবের বিষয়টি সামনে আসে।

    হায়দরাবাদের সংযুক্তিকে কেবল রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হবে, নাকি সেই সময়ের সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতিও বিবেচনা করা হবে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রশ্ন। তবে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করতে ঐতিহাসিক নথি, অভিযানের প্রেক্ষাপট এবং নাগরিকদের উপর তার প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

    ‘মোদির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি বাড়ছে’

    ২০১১ সালের ১৯ জুনের একটি স্ক্রিনশটে ইমামের শেয়ার করা এশিয়ান এজ-এর একটি শিরোনাম দেখা যায়: “মোদির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।”

    এই পোস্টটি নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেকার। পরবর্তী সময়ে হিন্দুত্বের রাজনীতি এবং কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনার সঙ্গে এই পোস্টকে মিলিয়ে ইমামের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে হতাহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরা

    ২০১১ সালের ১৪ জুলাই ইমাম পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর এবং ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির দাবি-সংবলিত পরিসংখ্যান শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনি ‘২০০১ সাল থেকে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলাগুলির তালিকা’ শিরোনামের একটি উইকিপিডিয়া পাতার লিঙ্কও দিয়েছিলেন।

    পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ বহু বছর ধরে নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে ওই পোস্টে ব্যবহৃত পরিসংখ্যানের উৎস, সময়সীমা এবং হিসাবের পদ্ধতি যাচাই করা প্রয়োজন।

    এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের শিকার মানুষের দুর্দশা তুলে ধরলেও ইমাম একইভাবে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে সরব হয়েছিলেন কি না।

    ২০০১ সালের সংসদ হামলা থেকে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা—ভারতেও সন্ত্রাসবাদী হিংসার কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতিই যথাযথ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

    তাই মূল প্রশ্নটি হল, ইমামের পোস্টে সন্ত্রাসবাদের মানবিক মূল্য নিয়ে আলোচনা কতটা সামগ্রিক ছিল এবং বিভিন্ন দেশের ভুক্তভোগীদের প্রতি তাঁর বক্তব্যে কোনও বাছাই করা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কি না (Sharjeel Imam)।

    ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারের বিতর্ক

    ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের একটি রোমান উর্দু পোস্টে ইমাম লেখেন যে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং উৎসবের পরে ফ্যাসিবাদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লবী সংগ্রাম’ আবার শুরু হবে।

    তিনি লেখেন, “পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিপ্লবী সংগ্রাম, ইনশাআল্লাহ, পুজোর পরে আবার শুরু করা হবে।”

    পোস্টের পরবর্তী অংশে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-এর কয়েকজন সহকর্মী পুজোর সময়ে হিন্দু ধর্মীয় আচারে অংশ নেন—এমন প্রসঙ্গ তুলে ব্যঙ্গ করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ‘বুত-পরস্তি’ বা মূর্তিপূজার মতো ধর্মীয় শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে (Kashmir)।

    এই ভাষার ব্যবহারকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, অন্য ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান দাবি করার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাচারকে ব্যঙ্গ করা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধর্মতাত্ত্বিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মতভেদ প্রকাশ এবং অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে উপহাস করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

    হিন্দুদের পুজো করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই মুসলিমদের ইসলাম পালন করার অধিকারও রয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতি সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

    জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে বিতর্ক

    ২০১৮ সালের ১৩ মে জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে করা পোস্টে ইমাম লিখেছিলেন, “

    এএমইউ থেকে জিন্নাহর ছবি সরানো উচিত নয়; বরং এমন আরও হাজার হাজার ছবি প্রয়োজন।”

    ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর প্রতিকৃতি থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জিন্নাহ ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের প্রধান নেতাদের একজন। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের দাবি এবং তার পরিণতি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন ও দেশভাগে তাঁর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করা এক বিষয়; তাঁর প্রতিকৃতি স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের দাবি অন্য বিষয়। ইমামের বক্তব্যে জিন্নাহকে সমসাময়িক মুসলিম রাজনীতির জন্য আদর্শ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তবে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে গবেষণা বা তাঁর ছবি রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করলেই কোনও ব্যক্তির সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে তাঁর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

    জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও বর্তমান মুসলিম রাজনীতি

    জিন্নাহকে নিয়ে ইমামের ২০১৮ সালের মে মাসের পোস্টের পাশাপাশি ওই বছরের জানুয়ারির বক্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। জানুয়ারির পোস্টে তিনি জিন্নাহর রাজনৈতিক প্রশ্নগুলিকে সমসাময়িক সংখ্যালঘু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। মে মাসে তিনি এএমইউতে জিন্নাহর প্রতিকৃতি রাখার পক্ষে আরও জোরালো অবস্থান নেন।

    দেশভাগের ইতিহাসে জিন্নাহর ভূমিকা, পাকিস্তান আন্দোলনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং দেশভাগের পরিণতি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ইমামের বক্তব্য নিয়ে মূল প্রশ্ন হল, তিনি জিন্নাহকে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে বিশ্লেষণের আহ্বান জানাচ্ছেন, নাকি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বর্তমান ভারতের মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।

    এই দুই অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে হলে শুধু প্রতিকৃতি নিয়ে মন্তব্য নয়, জিন্নাহর রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে ইমামের সামগ্রিক অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

    ‘কংগ্রেস পশ্চাৎমুখী হিন্দু গোষ্ঠী’

    ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বরের একটি পোস্টে ইমাম কংগ্রেসকে “একটি পশ্চাৎপদ হিন্দু গোষ্ঠী” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, কংগ্রেস একটি পশ্চাৎমুখী হিন্দু গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করতে পারে।

    তিনি আরও লেখেন, “১৯৪৭ সালের পর মৌলানা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন।”

    পোস্টে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এক মুসলিম নেতার রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনা বিজেপির শাহনওয়াজ হুসেনের সঙ্গে করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাস্তবে সম্প্রদায়ের স্বার্থ কতটা পূরণ করতে পেরেছে, সেই প্রশ্ন তোলা হয়।

    কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘু স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবি করে এসেছে। আবার বিরোধী দলগুলি প্রায়ই দলটির বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ তোলে। ইমামের মন্তব্য এই প্রচলিত রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে একটি ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে।

    তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসে মুসলিম নেতাদের উপস্থিতি থাকলেই মুসলিমদের রাজনৈতিক স্বার্থ যথাযথভাবে পূরণ হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    এই মন্তব্য দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা ও কাশ্মীর নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক

    শরজিল ইমামের নামে প্রচারিত এই পোস্টগুলিতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, জিন্নাহর উত্তরাধিকার, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক পরিসরে ইসলামের ভূমিকা—বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

    সমালোচনামূলক বিশ্লেষণটির দাবি, পোস্টগুলির মধ্যে এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে, যা ভারতীয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান ও জাতীয় পরিচয়ের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। বিশেষত কাশ্মীরকে ‘ভারতীয় অবরোধে’র মধ্যে থাকা অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সমালোচনা করা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম শেয়ার এবং জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে (Kashmir)।

    তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও বক্তব্য, সংবাদ শিরোনাম বা ঐতিহাসিক দলিল শেয়ার করার অর্থ সব ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রতিটি অংশকে সমর্থন করা নয়। একইভাবে কোনও রাজনৈতিক মতের সমালোচনা করা এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগও পৃথক বিষয়। অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রমাণ এবং চূড়ান্ত রায়কে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    শিলিগুড়ি করিডর অবরোধের প্রসঙ্গে ইমামের বক্তব্যও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে এই করিডর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ওই পথ অবরোধের আহ্বানকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, ইমামের রাজনৈতিক বক্তব্যের মূল্যায়নে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর প্রকাশিত বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ, সেই বক্তব্যের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলির অবস্থান। জাতীয় নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই জরুরি।

     

  • Kerala Police: এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার, কেরলে চলছে নথিবিহীন বাংলাদেশিদের ধরপাকড়

    Kerala Police: এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার, কেরলে চলছে নথিবিহীন বাংলাদেশিদের ধরপাকড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের কান্নুর জেলার উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত এঝিমালা ভারতীয় নৌ অ্যাকাডেমির ভিতর থেকে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলা অভিযানে নতুন করে নজর পড়েছে (Kerala Police)। ৩২ বছরের বিপ্লব সোরেন নামে ওই ব্যক্তি প্রায় এক বছর ধরে নৌ অ্যাকাডেমির ধোপাখানায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে (Bangladeshi National) কাজ করছিলেন। অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় গোপন করতে তিনি আধার কার্ড এবং পুলিশের ছাড়পত্র ব্যবহার করেছিলেন।

    এঝিমালার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার ঠিক এক দিন আগে কান্নুর পুলিশ জেলায় বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই থাকা ও কাজ করার অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করেছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কান্নুর রেলস্টেশনের কাছে একটি স্পা থেকে সালিনা আক্তারকে আটক করার মধ্যে দিয়ে ওই অভিযান শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও চার মহিলার সন্ধান পায় পুলিশ। তাঁরা হলেন নাজমা আখতার, কে তসলিমা, কে মইনা এবং নাসরিন বিবি। পুলিশের দাবি, তাঁরা ভাড়া বাড়িতে থাকতেন এবং স্পা ও ম্যাসেজ সেন্টারে কাজ করতেন।

    তদন্তকারীদের হাতে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র, যার মধ্যে আধার কার্ডও রয়েছে, উদ্ধার হয়েছে। পরিচয়পত্র তৈরি, যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা এবং কাজের সুযোগ করে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ, গুয়াহাটি, মুম্বই, কর্নাটক এবং কেরলের মধ্যে যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন জাল পরিচয়পত্রের জন্য একটি আন্তঃরাজ্য জালিয়াতি চক্রকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    জুন থেকেই শুরু ধরপাকড় (Kerala Police)

    কেরলে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়েছিল জুন মাসে। ৮ জুন কোল্লাম জেলার কুলশেখরপুরম থেকে মুমতাজ বেগম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করে দেওয়ার একটি চক্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে (Kerala Police)।

    তদন্তে তাঁর নামে কেরলের ঠিকানা-সহ রেশন কার্ডের সন্ধান পাওয়া যায় বলে সেই সময়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। কয়েকটি অক্ষয় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও তদন্তকারীরা নজর দিয়েছিলেন। ওই সময়ের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে কেরল পুলিশ ও সন্ত্রাসদমন শাখা মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল এবং কীভাবে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের কেরলে এনে বিভিন্ন এলাকায় বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল ও ভারতীয় নথি দেওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।

    এরপর ২৪ জুন কোল্লামের একটি ইসলামি মাদ্রাসা থেকে ১৯ বছরের মোশিউর খান ওরফে আমান খানকে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। অভিযোগ, বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা প্রবেশের নথি ছাড়াই তিনি করুণাগাপল্লির পুথেনথেরুভু মুসলিম জামাত মসজিদের অধীন শরিয়াতুল ইসলাম মাদ্রাসায় থাকছিলেন ও পড়াশোনা করছিলেন। তাঁর কাছ থেকে জাল আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং ভোটার পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁকে আশ্রয় দেওয়া, মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া এবং স্থানীয় নথি সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসে।

    ২৫ জুন কেরল পুলিশ, বিশেষ শাখা, সন্ত্রাসদমন শাখা এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে কোচির কাছে ত্রিপুনিথুরার এরুর এলাকায় দুটি ভাড়া বাড়ি থেকে আরও ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের নাম মেইদি হাসান, মহম্মদ আসিম, তারেক, সোখির, মহম্মদ সোহেল এবং মহম্মদ মিজান। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁরা পুরনো লোহালক্কড় ও বাতিল সামগ্রী সংগ্রহের কাজ করতেন। তাঁদের কাছে ভারতে থাকার প্রয়োজনীয় নথি বা বৈধ অনুমতি ছিল না বলে অভিযোগ।

    জুলাইতেও অব্যাহত অভিযান

    ১ জুলাই কোঝিকোড় থেকে তিন বাংলাদেশি নাগরিক—মহম্মদ উলা, মহম্মদ মাফদি হাসান এবং মহম্মদ হাসান আলি—গ্রেফতার হন বলে রিপোর্টে জানানো হয়। অভিযোগ, বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই তাঁরা ভারতে ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে জাল পরিচয়পত্র, মুঠোফোনের সিম কার্ড এবং স্থানীয় যোগাযোগের সূত্র নিয়ে তদন্ত করা হয় বলে জানা যায়।

    এরপর ২৯ জুলাই নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোঝিকোড়ের মাভুরের কায়ালম বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিক, মহম্মদ হাসানকে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। অভিযানে বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ও মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর এক সহযোগী পালিয়ে যায় বলেও তদন্তকারীদের দাবি।

    এই গ্রেফতারিগুলিকে রাজ্যজুড়ে চলা একটি অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কেরল পুলিশ ও সন্ত্রাসদমন শাখার সাম্প্রতিক অভিযানে ৬০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    একই ধরনের নথি ও যোগাযোগের সূত্র

    এখন পর্যন্ত সামনে আসা ঘটনাগুলিতে কয়েকটি মিল খুঁজে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। জাল আধার ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয়পত্র, ভাড়া বাড়িতে থাকা, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কাজ পাওয়া, স্থানীয় যোগাযোগ এবং নথি জোগাড় করে দেওয়ার কথিত চক্র—এই বৈশিষ্ট্যগুলি একাধিক মামলায় উঠে এসেছে।

    ফলে বিভিন্ন জেলা ও পেশায় নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের যাতায়াত ও বসবাসে সহায়তা করার জন্য কোনও সংগঠিত ব্যবস্থা বা নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের পরিধি ও প্রকৃতি এখনও তদন্তাধীন।

    কোচিন শিপইয়ার্ডের ঘটনাতেও নিরাপত্তা প্রশ্ন

    এর মধ্যে কেরলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরও একটি পৃথক ঘটনা সামনে আসে। ১২ জুন কোচিন শিপইয়ার্ডে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য থাকা একটি জাহাজের ভিতরের দেওয়ালে ধারালো কোনও বস্তু দিয়ে “আমি পাকিস্তানকে ভালোবাসি” লেখা পাওয়া যায়। ঘটনাটি সামনে আসার পর কোচি সিটি পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে।

    যে অংশে জাহাজটি রাখা হয়েছিল, সেখানে নজরদারি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। জাহাজে কারা প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের নথি এবং কর্মীদের উপস্থিতির রেকর্ডও পরীক্ষা করা হয়। তবে তদন্তকারীরা ওই ঘটনাকে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রেফতারের সঙ্গে যুক্ত করেননি।

    নজরে এবার কান্নুর

    কোল্লাম, কোচি, কোঝিকোড় এবং কান্নুর—একাধিক জেলায় চলা অভিযানের পর বিষয়টি কোনও একটি এলাকা বা নির্দিষ্ট পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি থেকে স্পষ্ট। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পুরনো লোহালক্কড় সংগ্রহের কর্মী, ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা, মাদ্রাসার ছাত্র, স্পা ও ম্যাসেজ সেন্টারের কর্মী এবং সর্বশেষ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীও রয়েছেন।

    এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমির ঘটনায় এখন তদন্তের মূল প্রশ্নগুলির মধ্যে রয়েছে—বিপ্লব সোরেন কীভাবে জাল নথি সংগ্রহ করলেন, কে তাঁকে চাকরি পেতে সহায়তা করেছিল এবং কীভাবে প্রায় এক বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে তাঁর কর্মরত থাকা শনাক্ত হয়নি। তাঁর ভারতে অবস্থানের সময়কাল এবং এই ঘটনায় বৃহত্তর কোনও নিরাপত্তাজনিত যোগসূত্র রয়েছে (Bangladeshi National) কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    কান্নুরে সাম্প্রতিক গ্রেফতারের পর একই ধরনের প্রতিষ্ঠানে আরও কোনও নথিবিহীন বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ নজরদারি (Kerala Police) ও নথি পরীক্ষা আরও জোরদার করেছে বলেও খবর।

     

  • Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও রাজনৈতিক নেতার স্মৃতিকথা তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে। সেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং সমকালীন ঘটনাবলী সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যা থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেই বই প্রকাশে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু কোনও বইয়ে প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক সংগঠন (Congress), ভারত-চিন সীমান্ত কিংবা ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনও দাবি থাকলে বিষয়টি শুধুমাত্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন সামনে আসে তথ্য, প্রমাণ এবং প্রকাশকের দায়িত্বের প্রশ্ন। এই বিতর্কের কেন্দ্রেই রয়েছে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi Book Row) প্রস্তাবিত স্মৃতিকথা “বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ”। বইটির আন্তর্জাতিক সংস্করণ আগামী ১০ নভেম্বর, ২০২৬ প্রকাশিত হওয়ার কথা। পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউসের আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে বইটিকে ৫৪৪ পৃষ্ঠার একটি স্মৃতিকথা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক (Sonia Gandhi Book Row)

    ভারতে বইটির প্রকাশনা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া এবং সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের কথিত অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সোনিয়া সেই পরিবর্তনগুলি মেনে নেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর পরেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ওঠে, একই বই বিদেশে প্রকাশিত হলেও ভারতে কেন প্রকাশিত হচ্ছে না। দলের কয়েকজন নেতা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তোলেন। কিন্তু বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে প্রকাশকের বক্তব্যের পর।

    পেঙ্গুইনের বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    ২৮ অগাস্ট পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রকাশ্যে জানায় যে ভারতে “বিলংগিং” বইটির প্রকাশক তারা নয়। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানায়, সোনিয়া সম্পাদকীয় পরিবর্তন মেনে না নেওয়ায় তারা বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত বদল করেছে—এমন দাবি পুরো পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না। প্রকাশকের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য যাচাই করা এবং লেখকদের সম্পাদকীয় পরামর্শ দেওয়া প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। সংশ্লিষ্ট আলোচনার সময় বইটি প্রকাশ করার বিষয়ে তারা আগ্রহী ছিল বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গোপন আলোচনার বিষয়ে তারা আর কোনও মন্তব্য করতে চায়নি (Congress)। এই বক্তব্যের পর বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে এসেছে—প্রকাশক নিজেই যখন সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করছে না, তখন সরাসরি মোদি সরকারের সঙ্গে বই প্রকাশ না হওয়ার সিদ্ধান্তকে যুক্ত করার ভিত্তি কী?

    প্রশ্ন শুধু সোনিয়ার বই নিয়ে নয়

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ কি কোনও লেখক যে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার বা সেনাবাহিনী সম্পর্কে যে কোনও দাবি করতে পারবেন এবং প্রকাশককে তা তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করতে হবে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার প্রয়োজনই বা কোথায়? বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলিতে সম্পাদকীয় পর্যালোচনা, তথ্য যাচাই এবং আইনি পর্যালোচনা প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কোনও বইয়ে জীবিত ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগ, সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর মন্তব্য, সামরিক অভিযান সংক্রান্ত তথ্য অথবা কোনও দেশের সীমান্ত নিয়ে দাবি থাকলে সেই দাবির ভিত্তি খতিয়ে দেখা স্বাভাবিক। লেখকের লেখার অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনও প্রকাশককে নির্দিষ্ট আকারে সেই লেখা প্রকাশ করতে বাধ্য করা যায় না।

    ভারত-চিন সীমান্তের প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়

    সোনিয়ার বইকে ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটি ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্তে চিনের কার্যকলাপ, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা, ভারতীয় ভূখণ্ডের অবস্থান এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ সাধারণ রাজনৈতিক মন্তব্যের বিষয় নয়। এই বিষয়গুলির সঙ্গে সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও স্মৃতিকথায় যদি বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে চিন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল, কোনও সরকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারেনি, অথবা কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তাহলে পাঠকের জানার অধিকার রয়েছে—এগুলি কি লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন, নাকি যাচাই করা তথ্য? এখানেই প্রকাশকের দায়িত্ব শুরু হয়। তথ্য চাওয়া সেন্সরশিপ নয়। বরং বহু ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করাই প্রকাশকের দায়িত্ব। কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি লেখেন, কোনও নির্দিষ্ট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কথা বলেছিলেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে। কিন্তু একই বইয়ে কোনও সামরিক ঘটনা, সীমান্ত বিরোধ বা সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে তুলে ধরা হলে সেই দাবির প্রকৃতি বদলে যায় (Sonia Gandhi Book Row)। তখন প্রশ্ন উঠবেই—এর উৎস কী? কোনও নথি রয়েছে কি? অন্যান্য সূত্র কী বলছে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি? সরকারি নথি বা জনসমক্ষে থাকা তথ্য দিয়ে দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায় কি? এই প্রশ্নগুলি করা লেখকের কণ্ঠরোধ করা নয়, বরং পাঠকের জানার অধিকার রক্ষা করা (Congress)।

    কংগ্রেসের যুক্তি এবং তার দুর্বল জায়গা

    কংগ্রেসের নেতারা গোটা ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। অশোক গেহলট, কমল নাথ-সহ দলের একাধিক নেতার প্রশ্ন, বিদেশে বইটি প্রকাশিত হতে পারলে ভারতে প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা কোথায় এবং কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না। অবশ্যই এটি গুরুতর অভিযোগ। কিন্তু গুরুতর অভিযোগের জন্যও প্রয়োজন জোরালো প্রমাণ। যদি কেন্দ্রীয় সরকার পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে বইয়ের কোনও অংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি প্রকাশ করা উচিত। কোনও সরকারি আধিকারিক প্রকাশকের উপর চাপ দিয়ে থাকলে তার প্রমাণও সামনে আনা উচিত। কোনও মন্ত্রক বইটি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকলে সেই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসা উচিত। বর্তমানে প্রকাশকের যে বক্তব্য সামনে এসেছে, তাতে এমন কোনও সরকারি নির্দেশের উল্লেখ নেই। বরং সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রকাশক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া এবং তথ্য যাচাইকেই প্রকাশনার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তাই এই পর্যায়ে “মোদি সরকার বইটি আটকে দিয়েছে”—এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়, বরং রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা যায়।

    লেখকের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের স্বাধীনতা

    এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে কি প্রকাশকের স্বাধীনতাকে উপেক্ষা করা যায় (Sonia Gandhi Book Row)? সোনিয়ার নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই কোনও পাণ্ডুলিপিতে তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলে মনে হলে প্রকাশকের লেখককে প্রশ্ন করার অধিকারও রয়েছে। লেখক কোনও পরিবর্তন গ্রহণ করতে না চাইলে সেটিও তাঁর অধিকার। একইভাবে, সেই আকারে বই প্রকাশ করতে প্রকাশক অনিচ্ছুক হলে সেটিও প্রকাশকের অধিকার। গণতন্ত্র উভয় পক্ষের স্বাধীনতার কথা বলে। এক পক্ষের স্বাধীনতা যখন অন্য পক্ষের উপর বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়, তখনই ব্যবস্থাটি অসুস্থ হয়ে ওঠে।

    পেঙ্গুইনের আগের বিতর্কও কি প্রাসঙ্গিক?

    পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার নাম এর আগেও বিতর্কিত প্রকাশনা সংক্রান্ত ঘটনায় উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে ২০১৩ সালের মুজফফরনগর দাঙ্গার উপর ভিত্তি করে জো সাকোর গ্রাফিক প্রতিবেদন “দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট” ভারতে বিতরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল সংস্থাটি। সাকোর দাবি ছিল, বইয়ে ব্যবহৃত কয়েকটি উদ্ধৃতি নিয়ে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া পরিবর্তন চেয়েছিল। অতএব, সোনিয়ার বইকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। তবে “মোদিকে প্রশ্ন করা” এবং “মোদিকে দোষারোপ করা”—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সরকারকে প্রশ্ন করা বিরোধী দলের অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করাও গণতান্ত্রিক অধিকার। ভারত-চিন নীতি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়াও সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু কোনও প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশকের সিদ্ধান্তকে সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় (Congress)। প্রশ্ন করা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা গণতন্ত্রের মানকে দুর্বল করে।

    সরকার বদলালেও কি তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলাবে?

    কংগ্রেস যদি মনে করে বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাহলে তাদের সেই দাবির প্রমাণ সামনে আনা উচিত। কিন্তু প্রমাণ না থাকলে প্রতিটি সম্পাদকীয় মতপার্থক্যকে মোদি সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরলে রাজনৈতিক বিতর্কের গভীরতা কমে যায়। আগামী দিনে সরকার বদলালে কি এই মানদণ্ডও বদলে যাবে? এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তার আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল। ভবিষ্যতে অন্য কোনও দল ক্ষমতায় আসতে পারে। তাহলে কি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকাশনার স্বাধীনতার মানদণ্ডও বদলে যাবে? উত্তর হওয়া উচিত—না। আজ বিজেপি সরকারের সঙ্গে যুক্ত কোনও নেতাকে নিয়ে প্রকাশিত বইয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তথ্য যাচাই প্রয়োজন। আগামীকাল যদি কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকে এবং কোনও কংগ্রেস নেতাকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগসম্বলিত বই প্রকাশিত হয়, তাহলেও তথ্য যাচাই প্রয়োজন হবে। এটাই গণতান্ত্রিক নীতি। রাজনৈতিক দল বদলায়। সরকার বদলায়। প্রধানমন্ত্রী বদলায়। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলানো উচিত নয় (Sonia Gandhi Book Row)।

    সেনাবাহিনী নিয়ে কে কী লিখতে পারেন, প্রশ্নটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    চিন এবং ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত অংশের কথা সামনে আসায় জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বিতর্ককে দেখা প্রয়োজন। ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সীমান্তে সেনাবাহিনীর অভিযান, সিদ্ধান্ত এবং মোতায়েন নিয়ে গুরুতর কোনও দাবি জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্মৃতিকথার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী সম্পর্কিত কোনও বক্তব্য যাচাই না করেই গ্রহণ করা সমীচীন নাও হতে পারে। এখানে উদ্দেশ্য কোনও সরকারকে রক্ষা করা হওয়া উচিত নয়। কোনও সরকার সীমান্তে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক প্রশ্ন থাকা উচিত। সেনাবাহিনীর কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। চিন কোনও পদক্ষেপ নিয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা দরকার। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে খণ্ডন করা উচিত।দেশপ্রেমের অর্থ সরকারের বলা প্রতিটি কথাকে সঠিক বলে মেনে নেওয়া নয়। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের নামে কোনও যাচাই না-করা দাবিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও দেশপ্রেম নয়। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের মূল প্রশ্ন তাই শুধু সোনিয়ার বই প্রকাশিত হবে কি না, তা (Congress) নয়। প্রশ্ন হল—গণতন্ত্রে লেখকের স্বাধীনতা, প্রকাশকের স্বাধীনতা এবং পাঠকের সত্য জানার অধিকার—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনই সংবেদনশীল দাবির ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রমাণের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না (Sonia Gandhi Book Row)।

     

  • Amit Shah:  শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদারে সব সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ শাহের

    Amit Shah:  শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদারে সব সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এই কৌশলগত অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার উপস্থিতি (National Security) বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার করিডরটির নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি আরও নির্দেশ দেন, শিলিগুড়ি করিডরকে সব ধরনের দখলদারি থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

    শিলিগুড়ি করিডর প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড। এটি ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই করিডরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

    দক্ষিণ ও পশ্চিমে বাংলাদেশ, উত্তরে তিব্বত তথা চিনের অবস্থানের মাঝে রয়েছে এই করিডরটি। একই সঙ্গে এটি নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে শিলিগুড়ি করিডরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    বৈঠকে শাহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে শিলিগুড়ি করিডরে অসামরিক প্রতিরক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনীর পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা পর্যালোচনা (Amit Shah)

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের সময়ই শাহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের কার্যকলাপ, জনসংখ্যার পরিবর্তন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলি বৈঠকে উঠে আসে।

    বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক, সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সশস্ত্র সীমা বল এবং রেল সুরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশের মহানির্দেশকও।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সব সংস্থাকে করিডরে তাদের প্রতিষ্ঠান ও পরিকাঠামোর সংখ্যা বাড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন।”

    করিডরের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তাও পর্যালোচনা করেন তিনি। সেগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি করিডরকে দখলদারি থেকে মুক্ত রাখার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, “শিলিগুড়ি করিডরে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।”

    বৈঠকে বহু সংস্থার সমন্বিত কাঠামোর অধীনে শিলিগুড়ি করিডরের জন্য গঠিত বিশেষ মনোযোগী গোষ্ঠী এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার জন্য তাদের সুপারিশ তুলে ধরে।

    এ ছাড়াও করিডরের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সীমান্ত নিরাপত্তায় চার স্তম্ভের সমন্বিত কৌশল

    বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তায় চার স্তম্ভের সমন্বিত কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রচলিত সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Amit Shah)।

    এই চার স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সশস্ত্র সীমা বলের মতো সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী; অবৈধ অনুপ্রবেশ, স্থানীয় গতিবিধি ও অপরাধী চক্রের ওপর নজর রাখা রাজ্য পুলিশের মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা; অসামরিক প্রশাসন এবং স্থানীয় জনসমাজ।

    শাহ নির্দেশ দেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি স্তম্ভকেই সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এই সমন্বিত কৌশল পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

    শিলিগুড়ি করিডরের পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলির গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যে সমস্ত কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    উত্তরবঙ্গে আরও বেশি সৈনিক বিদ্যালয় খোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্যও রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেন শাহ। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে জাতীয় ক্যাডেট বাহিনীর সিনিয়র ক্যাডেটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগী হতে বলেন তিনি।

    গোর্খা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অমিত শাহের

    শিলিগুড়িতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গোর্খা সাংসদ, বিধায়ক এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। দীর্ঘদিনের দাবি ও গোর্খা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উদ্বেগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ন্যায়সঙ্গত, মর্যাদাপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য বাস্তবসম্মত পথরেখা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকের পর শাহ জানান, গোর্খা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং প্রকৃত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরির বিষয়েও কথা হয়েছে।

    তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার এই বিষয়গুলির সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে গোর্খা সম্প্রদায়ের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হবে (Amit Shah)।”

    শাহ এও বলেন, সরকার এমন একটি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে, যা গোর্খা সম্প্রদায়ের প্রত্যাশাকে সম্মান করবে, তাদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখবে এবং আরও ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।”

    গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে (National Security)।

    গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আশা

    বিজেপি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানান, বৈঠকের ফলে গোর্খাল্যান্ড সমস্যার ইতিবাচক সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “গোর্খাল্যান্ড সমস্যা নিয়ে আমরা যে সমাধান চাইছি, তা খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে। একটি কমিটি গঠন করা হবে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে আমাদের মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজের নেতৃত্বেই ওই কমিটি কাজ করবে।”

    শ্রিংলা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিলিগুড়ি করিডরে একশো শতাংশ নিরাপত্তা থাকবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।”

    বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানান, বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে উদ্বেগ এবং উত্তরবঙ্গকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিভিন্ন প্রচেষ্টার বিষয়টিও (Amit Shah) উঠে আসে এদিনের আলোচনায় (National Security)।

     

  • Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নাশকতার সম্ভাব্য ছক ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও নজরদারির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার এই তদন্তেই হাওড়া থেকে আরও এক যুবক, আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত।

    সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে নাশকতার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দিল্লির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল তার কাছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন ভিআইপি-র নিরাপত্তা, চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরেও নাশকতার আশঙ্কা

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

    অর্পিতার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

    তদন্তে হামিমের পাশাপাশি অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের তরফে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘সেশন’ (Session) এবং ‘এলিমেন্ট এক্স’ (Element X) ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য, তদন্তে নতুন মোড়

    এদিকে, এই মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজকে। আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এসটিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদিত্যের ভূমিকা থাকতে পারে। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে সে হামিমের কাছে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালান। আদিত্যের মা জানান, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করত এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

    মন্ত্রীকে হুমকি ফোনের তদন্ত থেকেই সূত্র

    তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ‘আবিদ জাট’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি শুধু মন্ত্রীকেই নয়, তাঁর ছেলেকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন মন্ত্রী। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, পরে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার এবং সর্বশেষ হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন সম্ভাব্য টার্গেটে

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় থেকেছিল এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটে রেকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোন সময় নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই সঙ্গে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ করত সে।

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা চক্রান্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের বছর বাইশের এক তরুণীকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। ধৃতের নাম অর্পিতা সরকার। এসটিএফের দাবি, সোশাল মিডিয়ায় পরিচয়ের সূত্রে প্রেমিক মহম্মদ হামিম মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। পরে হামিমের মাধ্যমেই পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের হ্যান্ডলারদের সংস্পর্শে এসে নাশকতার ছকের শরিক হয়ে ওঠেন অর্পিতা।

    ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার (Jharkhand Arrest) অর্পিতা

    প্রায় চার বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় হামিম ও অর্পিতার। শনিবার ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand Arrest) সাহেবগঞ্জ জেলার বরহারওয়া এলাকা থেকে অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়। তার একদিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে ধরা পড়েছিল তাঁর প্রেমিক হামিম। এসটিএফের (STF) অভিযোগ, হামিম পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। সেই কাজে অর্পিতাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছিল। হামিমের মাধ্যমেই অর্পিতা ওই চক্রে যুক্ত হয় এবং পরে সরাসরি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশ মতো কাজ করতে শুরু করে।

    ডিজিটাল তথ্য থেকেই সূত্র!

    এসটিএফ (STF) সূত্রে খবর, হামিম ও অর্পিতার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে হওয়া কথোপকথন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হন অর্পিতা। তদন্তকারীদের নজরে তাঁর মোবাইল, সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং এনক্রিপ্টেড চ্যাট।

    ‘হানি ট্র্যাপে’র অভিযোগ

    এসটিএফের (STF) আইজি গৌরব শর্মার দাবি, হামিমের নির্দেশে অর্পিতা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীর ছেলেকে টার্গেট করা হয়েছিল। বিদেশ থেকে কোনও অর্থ এসেছে কি না? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর?

    তদন্তকারীদের দাবি, হামিম নিজেকে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির ওপর নজর রাখারও অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে। এসটিএফের (STF) দাবি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে হামিমকে পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে সম্প্রতি হওয়া ছাত্র বিক্ষোভে একটি দল নিয়ে গিয়ে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনাও করেছিল। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    বড় নেটওয়ার্কের জাল?

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, হামিম একটি বড় ISI-সমর্থিত নেটওয়ার্কের অংশ। লক্ষ্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ আধিকারিক এবং ভিআইপিদের ওপর নজরদারি চালানো। হামিমকে কয়েক মাস আগে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেয় বলে অভিযোগ। অর্পিতা ছিলেন তাঁর প্রথম দিকের সহযোগীদের একজন।

    একাধিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার

    STF জানিয়েছে, যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, এলিমেন্ট এক্স এবং সেশনের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করা হত। তদন্তে চারটি পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলের নাম উঠে এসেছে- আবির জাট৩৩৩, উজাইর, রানা এবং হামাদ। পুলিশের দাবি, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কট্টরপন্থী প্রচার চালিয়ে যুবকদের মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা করা হত। কথপোকথনের সময় ব্রিটেন ও মেক্সিকোর সিম কার্ডও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

    ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজত

    তদন্তকারীরা অর্পিতার কলেজ জীবনে কলকাতায় তাঁর মামারবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। সেই সময় হামিমের সঙ্গে তাঁর সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ হত কি না, তাও জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারির পর অর্পিতাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে এবং আগামী দিনে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও রয়েছে।

  • Narendra Modi: মোদির ডাকে সংসদে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, উপস্থিত ডোভাল-রাজনাথ-জয়শঙ্কর-নির্মলা

    Narendra Modi: মোদির ডাকে সংসদে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, উপস্থিত ডোভাল-রাজনাথ-জয়শঙ্কর-নির্মলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেই বসে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির বৈঠক (CCS Meeting)। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক শীর্ষ মন্ত্রী।

    কারা ছিলেন বৈঠকে?

    প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, পীযূষ গয়াল, হরদীপ সিং পুরী, সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পি. কে. মিশ্রও বৈঠকে যোগ দেন।

    কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠক?

    এই বৈঠক ঘিরে জল্পনা বাড়িয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি। একদিকে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক তরজা, অন্যদিকে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি- দু’দিকেই নজর রয়েছে কেন্দ্রের। ফলে এই সময়ের CCS বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    কী এই সিসিএস মিটিং?

    ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS Meeting) হল কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সীমান্ত পরিস্থিতি, কৌশলগত সিদ্ধান্ত, বিদেশনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কমিটিতেই পর্যালোচনা করা হয়। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও সাধারণত এই কমিটির মাধ্যমেই নেওয়া হয়।

    কী নিয়ে আলোচনা?

    সরকারিভাবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। অর্থমন্ত্রী ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর উপস্থিতি থেকে মনে করা হচ্ছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    এখন নজর কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপে

    বৈঠক শেষে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র যে নিবিড় নজর রাখছে, তা স্পষ্ট। আগামী কয়েকদিনে সরকারের তরফে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।

  • Assam STF: অসমে পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, এসটিএফের জালে ৩ সন্দেহভাজন

    Assam STF: অসমে পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, এসটিএফের জালে ৩ সন্দেহভাজন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমে সক্রিয় হয়ে ওঠা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (Assam STF)। পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্ক ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’ (Shahzad Bhatti Network)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই জঙ্গি-অপরাধচক্রটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)-এর নির্দেশে কাজ করত এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতা, জঙ্গি কার্যকলাপ ও স্লিপার সেল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে যাচ্ছিল।

    একযোগে তিন জেলায় অভিযান

    অসম পুলিশের এসটিএফ (Assam STF) জানিয়েছে, ২৪ জুলাই ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটা জেলায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে যোগ দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশও। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ধুবড়ি জেলার বেপারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আক্রামূল ইসলাম (২৬), চিরাং জেলার পানবাড়ির ধুপিরি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান (২২), এবং বরপেটা জেলার কালগাছিয়ার দাবান্দিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হুসেনকে (৫৪)।

    কী কী কাজে যুক্ত ছিল এই নেটওয়ার্ক (Shahzad Bhatti Network)?

    তদন্তকারীদের (Assam STF) দাবি, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক শুধু জঙ্গি নিয়োগই নয়, অনলাইনে উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেকি, অস্ত্র সংগ্রহ, লজিস্টিক সহায়তা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্লিপার সেল গড়ে তোলার কাজও করছিল। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলাররা এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।

    একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

    এসটিএফের (Assam STF) দাবি, এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল একাধিক উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে। তাদের মধ্যে রয়েছে- খালিস্তান আর্মড ফোর্স, পঞ্জাব সার্বভৌমত্ব অ্যালায়েন্স, খালিস্তান লিবারেশন আর্মি, শের-ই-পাঞ্জাব ব্রিগেড, ইউনাইটেড শিখ ব্রাদারহুড, শিখ টাইগার্স অফ খালিস্তান,  তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান (টিটিএইচ)। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৪ মে পঞ্জাব পুলিশের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে হওয়া হত্যাকাণ্ডের দায়ও তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান স্বীকার করেছিল।

    অসমে কীভাবে সামনে এল এই চক্র?

    অসমে এই নেটওয়ার্কের (Shahzad Bhatti Network) কার্যকলাপ প্রথম সামনে আসে নলবাড়ি জেলার একটি তদন্তে। ওই তদন্তে গত ২২ মে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তদন্তের সূত্র ধরেই আরও তথ্য হাতে আসে এবং শেষ পর্যন্ত তিন জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কী কী উদ্ধার হয়েছে?

    ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে  ৫টি মোবাইল ফোন, ৭টি সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই ও ডেবিট কার্ড। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহজনক নথিও উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই সমস্ত সামগ্রী খতিয়ে দেখে নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

    নাশকতার পরিকল্পনা!

    অসম পুলিশের এসটিএফ (Assam STF)-এর পুলিশ সুপার প্রণব কুমার পেগু জানিয়েছেন, “গোয়েন্দা সূত্রে নির্দিষ্ট তথ্য মিলেছিল যে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত এই নেটওয়ার্ক দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। প্রথমে পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে স্লিপার সেল গড়ে তোলার পর চলতি বছরে অসম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতেও এই নেটওয়ার্ক নিজেদের কার্যকলাপ বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    পুলিশের দাবি, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে তদন্ত শেষ নয়। বরং উত্তর-পূর্ব ভারতে এই নেটওয়ার্কের আরও সদস্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত জঙ্গি ও অপরাধচক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অসম পুলিশ।

  • US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-নেপাল (India-Nepal Border) সীমান্তে যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। উত্তরপ্রদেশের রূপাইডিহা (Rupaidiha) সীমান্ত এলাকা থেকে এক মার্কিন নাগরিক-সহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ওয়ারিস পাঞ্জাব দে’ (Waris Punjab De)-র এক সদস্যও রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    যৌথ অভিযানে বড়সড় সাফল্য

    গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (SSB) এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ বাহিনী রূপাইডিহা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা বৈধ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এড়িয়ে গোপনে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। সেই সময় একটি গাড়ি আটক করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কারা ধরা পড়েছে?

    ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিক্রমজিৎ সিং, যিনি খালিস্তানপন্থী সংগঠন ওয়ারিস পাঞ্জাব দে-র সদস্য বলে তদন্তকারীদের দাবি। এছাড়া ধরা পড়েছেন মার্কিন নাগরিক মনবীর সিং ধিলোঁ, যাঁর আদি বাড়ি পঞ্জাবের মোগা জেলায়। এ ছাড়া অভিযানে আরও তিন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের নাম—

    • ● সুরেশ কুমার পাঠক
    • ● দিলীপ উপাধ্যায়
    • ● রাহুল কুমার (গাড়ির চালক)

    তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই তিনজন সীমান্ত পারাপারের জন্য লজিস্টিক ও স্থানীয় সহায়তা দিচ্ছিলেন।

    কীভাবে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা?

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা বীরগঞ্জ-রূপাইডিহা (Birgunj-Rupaidiha) করিডর ব্যবহার করে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা করেছিল। ভারত-নেপাল ১৯৫০ সালের শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের নাগরিকদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই খোলা সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে চোরাচালান, মানবপাচার এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি।

    মার্কিন নাগরিক ধরা পড়ায় বাড়ল কূটনৈতিক গুরুত্ব

    ঘটনায় এক মার্কিন নাগরিকের উপস্থিতি বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ব্রিটেনে বসবাসকারী কিছু খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ, প্রচার এবং সংগঠন বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে খালিস্তানপন্থী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন-কে কেন্দ্র করে ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও বেড়েছে। সেই আবহেই এই গ্রেফতারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

    নেপাল করিডর নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ

    ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, নেপাল বহুদিন ধরেই বিভিন্ন জঙ্গি ও শত্রুভাবাপন্ন নেটওয়ার্কের জন্য একটি সম্ভাব্য ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাঠমান্ডুতে তুলনামূলক সহজ প্রবেশের সুযোগ এবং ভারত-নেপালের ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সংগঠন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির ধারণা।

    এনআইএ-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

    ধৃত পাঁচজনকে নিরাপত্তার কড়া নজরদারিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে নেমেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

    তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—

    • ● অভিযুক্তদের ডিজিটাল যোগাযোগের নেটওয়ার্ক
    • ● অর্থের উৎস ও লেনদেনের পথ
    • ● ভারতে সম্ভাব্য যোগাযোগকারী ও সহযোগীদের পরিচয়
    • ● অনুপ্রবেশের মূল উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য টার্গেট

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, এই ঘটনায় সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে সক্রিয় খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • NSA Ajit Doval: লোকমান্য তিলক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তার ‘কৌশলী’ অজিত ডোভাল

    NSA Ajit Doval: লোকমান্য তিলক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তার ‘কৌশলী’ অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সন্ত্রাস দমন থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা, কূটনৈতিক আলোচনা থেকে স্পর্শকাতর অভিযানে তাঁর ভূমিকা বারবার উঠে এসেছে আলোচনায়। সেই দীর্ঘ কর্মজীবন ও জাতীয় নিরাপত্তায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ লোকমান্য তিলক পুরস্কারে (Lokmanya Tilak Award) সম্মানিত হচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। আগামী ১ আগস্ট পুনেতে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং সুনেত্রা পওয়ার।

    লোকমান্য তিলক পুরস্কার

    জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে লোকমান্য তিলক স্মারক ট্রাস্ট। ১ অগাস্ট, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পুনেতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মান প্রদান করা হবে। ১৯৮৩ সালে লোকমান্য তিলক স্মারক ট্রাস্ট এই জাতীয় সম্মান চালু করে। স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের স্মৃতির উদ্দেশে প্রতি বছর ১ অগাস্ট, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হয়- একটি স্মারক, একটি সম্মানপত্র ও এক লক্ষ টাকা নগদ অর্থ। সমাজবাদী নেতা এস. এম. যোশি ছিলেন এই পুরস্কারের প্রথম প্রাপক।

    কেন এই সম্মান পাচ্ছেন অজিত ডোভাল (Ajit Doval)?

    অজিত ডোভাল (Ajit Doval) ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি। কর্মজীবনে তিনি মিজোরাম, সিকিম, পঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামাবাদ এবং লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসে একাধিক কূটনৈতিক দায়িত্বও সামলেছেন। ভারত-চিন সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। ডোকলাম অচলাবস্থা মেটাতে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।

    পুরস্কার প্রাপকরা

    এই সম্মানে (Lokmanya Tilak Award) ভূষিত হয়েছেন দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- নরেন্দ্র মোদি, অটল বিহারী বাজপেয়ী, মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধী, প্রণব মুখোপাধ্যায়, শরদ পাওয়ার, নিতিন গড়করি, এন. আর. নারায়ণ মূর্তি, সুধা মূর্তি-সহ আরও অনেকে।

    লোকমান্য তিলকের চার আদর্শ

    ট্রাস্টের সভাপতি রোহিত তিলক জানিয়েছেন, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের চারটি মূল আদর্শ (স্বরাজ, স্বদেশি, জাতীয় শিক্ষা, বিদেশি পণ্য বর্জন) আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অজিত ডোভালের ভূমিকা ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেই অবদানের স্বীকৃতিতেই এ বছর দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লোকমান্য তিলক পুরস্কারে (Lokmanya Tilak Award) সম্মানিত হতে চলেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

LinkedIn
Share