Tag: National Security

National Security

  • Amit Shah: ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা শাহের

    Amit Shah: ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অনির্দিষ্ট কারণের ফলে হওয়া ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ (Demographic Shifts) যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেন শাহ। তিনি এই বিষয়টিকে ভারতের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং আদিবাসী সমাজের সংরক্ষণের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

    কী লিখলেন শাহ? (Amit Shah)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্যানেল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শাহ লিখেছেন, “অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য যে কোনও দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ১৫ অগাস্ট, ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সরকার এখন এই কমিটি গঠন করেছে।”

    কমিটির সদস্য কারা?

    শাহ জানান, এই কমিটির চেয়ারম্যান হবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকর। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব, অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি এবং জনগণনা কমিশনার। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স-গ্রেড ওয়ান বিভাগের যুগ্মসচিব এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে কাজ করবেন।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই কমিটি অবৈধ অভিবাসন এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণের ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটছে, তার একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন করবে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ভিত্তিক অস্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তনের ধরণ বিশ্লেষণ করে এজন্য একটি পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব করবে (Amit Shah)।

    সীমান্তবর্তী গ্রামে নিবিড় নজরদারি

    শাহের এই ঘোষণাটি হয়েছে এমন এক দিনে, যেদিন তিনি রাজস্থানের বিকানের জেলার বিএসএফের সাঞ্চু আউটপোস্ট পরিদর্শন করেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং ড্রোনের মাধ্যমে মাদক পাচারের মতো নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে বিএসএফের কার্যক্ষেত্র বাড়িয়েছে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত (Amit Shah)। তিনি বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের কারণে হওয়া জনবিন্যাস পরিবর্তনের (Demographic Shifts) বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের কার্যকলাপের ওপর নিবিড় নজরদারি চালাতে হবে।”

     

  • Kolkata Pak Spy Case: জুতোর ব্যবসায়ী থেকে আইএসআই-এর গুপ্তচর! এনআইএ-র জালে কলকাতার জাফর, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

    Kolkata Pak Spy Case: জুতোর ব্যবসায়ী থেকে আইএসআই-এর গুপ্তচর! এনআইএ-র জালে কলকাতার জাফর, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে পাক গুপ্তচরবৃত্তির পর্দাফাঁস। খাস কলকাতায় এনআইএ-র জালে গুপ্তচর। গ্রেফতার কলকাতার এন্টালির বাসিন্দা জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভি। কলকাতায় পারিবারিক জুতোর ব্যবসা ছিল জাফরের। দুটো কারখানাও ছিল। সেই জাফরই ব্যবসাপত্র ছেড়ে হয়ে ওঠে পাক গুপ্তচর! কীভাবে? তদন্তে নেমে এনআইএ-এর নামে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কী জানাচ্ছে এনআইএ?

    এনআইএ জানিয়েছে, পাকিস্তানের লাহোরের মডেল টাউনের বাসিন্দা রাবিয়ার সঙ্গে ২০০৫ সালে বিয়ে হয় জাফরের। পারিবারিক পরিচয় সূত্রেই বিয়ে হয় দু’জনের। তার পরে ২০১২ সাল পর্যন্ত এন্টালিতে থাকত জাফর ও রাবিয়া। এর পরে একটি এক পথ দুর্ঘটনার পর জাফরের জুতো ব্যবসায় চরম ক্ষতি হয়। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পর শারীরিক কারণে ব্যবসা চালাতে সমস্যার মুখে পড়ে জাফর। আর্থিক সমস্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ওই সময়ে লাহোরের শ্বশুরবাড়ি থেকে জাফরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় পাকিস্তানে চলে যাওয়ার জন্য। সেই মতো ওই বছরেই প্রথমে স্ত্রী রাবিয়া ও দুই সন্তানকে লাহোরে রাবিয়ার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় জাফর। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যারা বর্তমানে লাহোরের স্কুলেই পড়াশোনা করে। পরে কলকাতার সম্পত্তি বিক্রি করে পর্যটক ভিসা নিয়ে জাফর নিজেও পৌঁছে যায় লাহোরে।

    জাফরকে কাজে লাগায় আইএসআই

    সেই সময়ে জাফর পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নেওয়ারও চেষ্টা করছিল। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগায় পাক গুপ্তচর সংস্থা। আর্থিক টোপ দিয়ে তাকে ভারতের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে লিপ্ত করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, লাহোরেই বিদেশি নথিভুক্তিকরণ দফতরে আওয়াইশ নামে এক পাকিস্তানি আধিকারিকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল জাফরের। জানা যাচ্ছে, ওই পাক আধিকারিকের সূত্র ধরেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। সেই থেকে পাক গুপ্তচর সংস্থার নির্দেশ মতোই চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ভারতে আসতে থাকে জাফর। এ দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ছবি, তথ্য পাক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো শুরু করেন জাফর।

    নিয়মিত পাকিস্তান যাতায়াত শুরু…

    এরপর থেকেই পাকিস্তানে জাফরের নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয়। এমনকি কলকাতা থেকে নিজের বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে দিল্লিতে এবং পরবর্তীতে পঞ্জাবে আস্তানা ছাড়ে জাফর। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ২০২২ সালে পঞ্জাব পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপের হাতে চরবৃত্তির অভিযোগেই গ্রেফতার হয় জাফর এবং তার সঙ্গী বিহারের মধুবনীর মহম্মদ সামসাদ। অমৃতসর স্টেশনের পাশে লেবু জল বিক্রির দোকান ছিল সামসাদের। তাকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্জাবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য জাফর পাচার করছিল বলে অভিযোগ। পঞ্জাবে ঘাঁটি করেই এই কাজকর্ম চালাত জাফর। পরে ওই মামলায় জামিনও পেয়েছিল।

    পহেলগাঁওকাণ্ডেও জড়িত বলে সন্দেহ

    এমনকি, গত বছর পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরে পাকিস্তানি চরচক্রের খোঁজ করতে গিয়ে আবার উঠে আসে জাফরের নাম। পহেলগাঁও হামলার তদন্ত নেমে সিআরপিএফ কর্মী মোতিরাম জাটের নাম উঠে আসে। জঙ্গিহানার পাঁচ দিন আগেও পহেলগাঁওয়ে কর্মরত ছিল মোতিরাম। সেই মোতিরামের সঙ্গে পাক গুপ্তচরচক্রের যোগ পাওয়া গিয়েছিল। ধৃত মোতিরামকে জেরা করতে গিয়েই ফের উঠে আসে জাফরের নাম। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা অফিসারকে ভারতীয় মোবাইল নম্বরের ওটিপি দিয়েছিল, যাতে হোয়্যাটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করা যায়। সেই নম্বর ব্যবহার করে ওই পাকিস্তানি অফিসার মোতিরাম জাট বলে একজনের সঙ্গে কথাবার্তা চালাত। মোতিরামও পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি করত। তার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে বলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

    ভারতের সিমকার্ড, ওটিপি পাঠিয়ে দিত আইএসআইকে

    তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জাফর ভারতের বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর দফতর, সেনা ছাউনি এবং জওয়ানদের গতিবিধির ছবি ও ভিডিও তুলে সরাসরি আইএসআই-এর কাছে পাঠাত। এখানেই শেষ নয়, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেনামে ভারতীয় সিম কার্ড তুলে তার ওটিপি (OTP) পাঠাত পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে। পাক গুপ্তচররা সেই ভারতীয় নম্বরগুলি ব্যবহার করে সুন্দরী মেয়েদের নাম ও ছবি দিয়ে ফেক হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত। এরপর সেই প্রোফাইল থেকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের টার্গেট করে চলত ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলার খেলা, যার মূল পান্ডা ছিল এই জাফর।

    জারি হয়েছিল লুক-আউট নোটিস

    সূত্রের খবর, তার পর থেকেই জাফরের খোঁজ চালাচ্ছিলেন গোয়েন্দারা। তার বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছিল লুক-আউট নোটিস। এমনকী ‘ঘোষিত অপরাধী’-র তকমাও দেওয়া হয়েছিল জাফরের নামে। প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর পর কলকাতার উপকণ্ঠেই হদিস মেলে জাফরের। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই তাঁকে দিল্লি নিয়ে গিয়েছেন। চরবৃত্তির অভিযোগও ওই ধৃত কলকাতাতেও কোনও নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রিয়াজের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক চক্রের খোঁজ…

    এই চক্রের জাল যে শুধু কলকাতা বা রাজস্থানেই সীমাবদ্ধ নয়, তা নিয়ে প্রায় নিশ্চিত এনআইএ। এই আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তির আন্তর্জাতিক র‍্যাকেটের পেছনে আর কারা জড়িয়ে রয়েছে, দেশের কোন কোন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এদের স্লিপার সেল— সেই সমস্ত রাঘব-বোয়ালদের খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জোর কদমে তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা। এই আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তি নেটওয়ার্ক এবং এর পেছনে থাকা বৃহত্তর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মূল উৎপাটন করতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বর্তমানে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের শিকড় কতটা গভীরে, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

  • Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী শহর সান দিয়োগো এবং তিজুয়ানা এবং লরেডো ও ন্যুভো লরেডোয় ‘স্প্যাংলিশ’ (বা টেক্স-মেক্স স্প্যানিশ) নামে এক মিশ্র ভাষার বিকাশ ঘটেছিল। টেলিভিশন, অভিবাসন ও সীমান্তের দুই পাশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ প্রভাব ফেলেছিল এই ভাষার ওপর। এখন, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এবং কয়েক দশক পরে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও (Indo Bangladesh Border) সীমান্ত-পার প্রভাবের এক আলাদা গল্প দেখা যাচ্ছে। যদিও এটি খানিক আলাদা ধরনের। এখানে প্রতিক্রিয়াশীল প্রভাব কাজ করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, ঘটনাপ্রবাহ অন্যভাবে ঘটেছে।

    অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ইস্যু ছিল অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ। বিজেপির অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসা (Indo Bangladesh Border) অনুপ্রবেশকারীরা, যাদের অধিকাংশই মুসলিম, রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে এই সমস্যা উপেক্ষা করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় শুধু সংগঠনের বিস্তার বা মতাদর্শের স্বীকৃতি নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও।” তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গটিও তোলেন। বঙ্গবাসী যখন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হচ্ছিলেন, তখন সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিও তাঁরা লক্ষ্য করছিলেন। তাঁরা দেখেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে কীভাবে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর হয়েছে এবং ইসলামপন্থীরা ধর্মনিন্দার মিথ্যে অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করেছে নিরীহ মানুষকে।

    জামাতের জয়ের প্রভাব

    ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি (Jamaat Rise) পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া একাধিক আসনে জয়ী হয়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অন্তত ১৭টি আসনে জামাতের জয় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপির পক্ষে ভোট একত্রিত করতে সাহায্য করেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজেপি অন্তত ২৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই আসনগুলি বাংলাদেশের সেই ১৭টি জামাত-জয়ী আসন লাগোয়া। জামাত-ই-ইসলামির নেতা সফিকুর রহমানের দলকে নিষিদ্ধ করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। যদিও মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের অগাস্টে ক্ষমতায় এসেই তুলে নেয় সেই নিষেধাজ্ঞা।

    জামাতের উত্থান

    ছাব্বিশের নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ থাকায় বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে জামাত (Jamaat Rise)। বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেলেও, জামাত-নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের জোট ৭৭টি কেন্দ্রে জয়ী হয়। জামাতের ইতিহাসে সেরা ফল এটি। এই ৭৭টি আসনের মধ্যে ১৭টি এসেছিল রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলি (Indo Bangladesh Border) থেকে। রংপুর বিভাগে, যা ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’ লাগোয়া, জামাতের ব্যাপক উত্থান দেখা যায়। এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিবাদ 

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার খবর পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি পেট্রাপোল সীমান্তে গিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানান এবং কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনেও বিক্ষোভ দেখান। একই সঙ্গে বিজেপি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়েও সোচ্চার হন (Jamaat Rise)। এই বিষয়গুলি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কাছেও গুরুত্ব পেতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী (Indo Bangladesh Border) বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের সীমান্তবর্তী একাধিক আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে ।

    জামাতের আসনগুলির উল্টোদিকে বিজেপির প্রাচীর!

    বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনের উল্টো দিকে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ-সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে বিজেপির জয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্যাটার্ন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৬টি আসনে বিজেপির জয় এসেছে মোট নয়টি জেলা থেকে, যেগুলির ঠিক ওপারেই বাংলাদেশে জামাতের জয়ী আসনগুলি অবস্থিত। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলায় কেমন ফল করেছে বিজেপি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করলে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন (Indo Bangladesh Border) এলাকায় বিজেপি জিতেছে বাগদা (SC), বনগাঁ উত্তর (SC) এবং হিঙ্গলগঞ্জ (SC)-এর মতো আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক বিপরীতে রয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-১ থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসন, যেখানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জামাত জয়ী হয়েছিল।

    মালদা-মুর্শিদাবাদ-দিনাজপুর

    এরপর কিছুটা উত্তরে মুসলিম-অধ্যুষিত মালদা জেলায় বিজেপি জিতেছে ইংলিশ বাজার এবং বৈষ্ণবনগর আসন, যেগুলির সীমান্তের ওপারেও রয়েছে জামাত-জয়ী বাংলাদেশি কেন্দ্র। আরও উত্তরে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপি দখল করেছে কুশমণ্ডি (SC), বালুরঘাট, তপন (ST), গঙ্গারামপুর (SC) এবং হবিবপুর (ST) আসন। এই কেন্দ্রগুলির (Indo Bangladesh Border)  ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং মেহেরপুরের মতো বাংলাদেশি আসন, যেখানে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে জামাত জিতেছিল। উত্তর দিনাজপুর, যা আরেকটি মুসলিম-প্রধান জেলা, সেখানেও বিজেপি জিতেছে করণদিঘি, হেমতাবাদ (SC) এবং হরিপুর আসন। এই কেন্দ্রগুলির ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা এবং যশোরের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনগুলি।

    শিলিগুড়ি করিডর ও ডুয়ার্স

    শিলিগুড়ি করিডরের দিকে এগোলে, বিজেপির শিলিগুড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া (ST) আসনগুলি বাংলাদেশের নীলফামারী-১ আসনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। জলপাইগুড়ি জেলায় বিজেপি জিতেছে ময়নাগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি (SC) আসন, যেগুলিও সরাসরি সীমান্ত লাগোয়া এবং বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) কেন্দ্রগুলির মুখোমুখি। সবশেষে ডুয়ার্স অঞ্চলের কোচবিহার জেলায় বিজেপি দখল করেছে সিতাই (SC), শীতলকুচি (SC) এবং মেখলিগঞ্জ (SC) আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা, যেখানে জামাত ও তাদের মিত্ররা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চারটি আসনে জয় পেয়েছিল।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যা ঘটেছে, তার প্রভাব পড়েছে এপারের ভোটে?

    যদিও হলফ করে বলা যায় না যে বাংলাদেশে জামাতের উত্থান (Jamaat Rise) সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল সাফল্যের একটি কারণ, তবে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট একটি সমান্তরাল প্রবণতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি, পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ, সীমান্ত নিরাপত্তা (Indo Bangladesh Border) এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্ন—এই সব কিছু মিলেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটারদের আচরণে প্রভাব ফেলেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এই পরিসংখ্যান দেখিয়েই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা সম্ভবত বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ করার আশায় বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন, যা তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবে প্রত্যক্ষ করেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির (Indo Bangladesh Border)  নির্বাচনী ফলাফল দুই দেশের জনবিন্যাস থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, পরিচয়-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বয়ানের প্রভাবের ফল হতে পারে। এই সমস্ত উপাদানই পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে যা ঘটতে দেখেছেন বাঙালিরা, তার প্রভাবও তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্তে পড়েছে।

  • Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি-বিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে (Modi Govt) পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশকে। এমতাবস্থায় বিরোধী দল (Rahul Gandhi) কংগ্রেস এক অভ্যন্তরীণ দ্বিধার সম্মুখীন। রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, নিরন্তর তা-ই ভেবে চলেছেন শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেসের মাথারা।

    কংগ্রেসে ফাটল (Rahul Gandhi)

    ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং দেশে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি এই দ্বন্দ্বকে ফের একবার সামনে নিয়ে এসেছে। এই মুহূর্তটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে শুধু কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা নয়, বরং দলের অভ্যন্তর থেকেই উঠে আসা তীব্র মতপার্থক্য। এই বিভেদের কেন্দ্রে রয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতির কড়া সমালোচনা করেন। তবে এই সমালোচনার জবাব শুধু শাসকদলই দেয়নি, কংগ্রেসেরই বহু প্রবীণ নেতাও এর বিরোধিতা করেছেন।

    রাহুলের বেফাঁস মন্তব্য

    রাহুল মোদি সরকারের বিদেশনীতিকে “সমঝোতাপূর্ণ” এবং “ক্ষতিগ্রস্ত” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এহেন মন্তব্যটি করেন ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষিতে। তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, দাবি তুলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনির হত্যার ঘটনার নিন্দে করার। তবে এই অবস্থান দলের ভেতরেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রবীণ নেতা শশী থারুর সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, “ভারতের অবস্থান একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনীতির উদাহরণ।” তাঁর বক্তব্যে কূটনীতির একটি সূক্ষ্ম ও বাস্তববাদী বোঝাপড়া ফুটে ওঠে, যেখানে বৈশ্বিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করাটা ভীষণভাবে জরুরি (Rahul Gandhi)।

    দ্বিধা বিভক্ত কংগ্রেস

    এই মতপার্থক্য শুধু কথার লড়াই নয়, এটি কংগ্রেসের ভেতরে দুটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত—একটি রাজনৈতিক বিরোধিতার ভিত্তি, অন্যটি কৌশলগত বাস্তববাদ (Modi Govt)। থারুর একা নন। প্রবীণ নেতা আনন্দ শর্মা সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে “পরিপক্ব ও দক্ষ” বলে প্রশংসা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক সঙ্কটকালে জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিদেশনীতি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। কংগ্রেস নেতা মনীশ তেওয়ারিও বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সামলাতে সরকার সম্ভবত সঠিক কাজই করছে।” বস্তুত, এটি বিরোধী শিবিরের এক নেতার বিরল স্বীকারোক্তি।

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন দেখা গিয়েছে। এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের ক্ষেত্রে কমল নাথ ঘাটতির দাবি নাকচ করে দেন, যা দলের বৃহত্তর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, “সঙ্কটের একটি ধারণা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এতে আদতে উপকৃত হচ্ছে বিজেপি। কারণ এটি শাসক বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিচ্ছি।” রাহুলের দলের এই বিরোধিতা নতুন কিছু নয়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে চালু হওয়া অপারেশন সিঁদুরের পরেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল (Rahul Gandhi)। রাহুল সরকারের “রাজনৈতিক সদিচ্ছা” নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, কংগ্রেসেরই থারুর এবং তেওয়ারি প্রকাশ্যে অভিযানকে সমর্থন করেন, প্রশংসা করেন সেনাবাহিনীর। তাঁদের এই অবস্থানকে দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে (Modi Govt)।

    থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি

    সরকার যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গঠন করে, সেখানে থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি কংগ্রেস নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। থারুরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকায় একটি প্রতিনিধিদলের প্রধান করা হলে এই অস্বস্তি আরও প্রকট হয় (Rahul Gandhi)। সংসদে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিতর্কেও থারুর এবং তেওয়ারিকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়াও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাত আবারও এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন সামনে নিয়ে এসেছে। ভারতের পরিমিত ও কৌশলী কূটনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। আনন্দ জানান, এই নীতি ভারতকে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করেছে। তিনি পারস্য (আধুনিক ইরান)-এর সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। (Rahul Gandhi)

    এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্য

    কমল নাথের এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্যও দেখায় যে দলের সব নেতা কেন্দ্রীয় অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। এই পরিস্থিতিতে দলে রাহুলের নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে। এটি আর কোনও বিচ্ছিন্ন মতভেদ নয়, বরং এমন একটি প্রবণতা, যেখানে অভিজ্ঞ নেতারা তাঁর অবস্থানের সঙ্গে নিঃশর্তভাবে একমত হতে অনিচ্ছুক, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে। থারুর, আনন্দ, কমল নাথ ও তেওয়ারির মতো অভিজ্ঞ নেতাদের প্রকাশ্য মতবিরোধ কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ঐকমত্যের কঙ্কালসার চেহারাটাই তুলে ধরে (Modi Govt)।ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে কংগ্রেস যেন নিজেদের নেতৃত্বকেই যাচাই করছে। এতে দলের সমালোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।

    বড় চ্যালেঞ্জ

    রাজনৈতিক যোগাযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে এই অসঙ্গতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি বিরোধী দলের শক্তি আসে সুসংহত ও পরিষ্কার বার্তা থেকে। কিন্তু যখন দলের প্রবীণ নেতারা ভিন্ন বা পরিমিত মতামত দেন, তখন দলের অবস্থান বিভক্ত হয়ে যায়। কংগ্রেসের এই সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন। সেটি হল, জাতীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ না করে কীভাবে সরকারের সমালোচনা করা যায় (Rahul Gandhi)? থারুর ও শর্মার মতো নেতারা দ্বিদলীয় (bipartisan) দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে, যেখানে ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, রাহুলের অবস্থান বেশি আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক একটি কৌশলের প্রতিফলন, যা কখনও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হতে পারে। কংগ্রেসের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার—নেহরুর নিরপেক্ষ আন্দোলন থেকে নরসিমা রাওয়ের অর্থনৈতিক সংস্কার—এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস

    বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, দল কি তার কৌশলগত ঐতিহ্যকে আধুনিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারবে? অপারেশন সিঁদুর থেকে ইরানের সংঘাত—সব মিলিয়ে কংগ্রেস এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে এক সন্ধিক্ষণে (Modi Govt)। একদিকে আক্রমণাত্মক বিরোধিতা, অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের সংযত ও বাস্তববাদী অবস্থানের ঘূর্ণিপাকেই ঘুরপাক খাচ্ছে কংগ্রেস (Rahul Gandhi)। এই মতপার্থক্য যদি গঠনমূলক আলোচনার রূপ নেয়, তবে তা ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু যদি এটি গভীর বিভাজনে পরিণত হয়, তবে তা কংগ্রেস ও ভারতের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বর্তমান সময়ে যখন ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় রাজনীতি ক্রমশ জড়িয়ে যাচ্ছে, তখন সুসংহত ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান উপস্থাপন করার ক্ষমতাই নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা।

     

  • India-Russia Relations: রাশিয়ার গোপন তথ্যে বাজিমাত! ভারতবিরোধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বিদেশিদের ধরতে সফল এনআইএ

    India-Russia Relations: রাশিয়ার গোপন তথ্যে বাজিমাত! ভারতবিরোধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বিদেশিদের ধরতে সফল এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার (India-Russia Relations) গোপন তথ্যের উপর ভিত্তি করেই মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এনআইএ ছয় ইউক্রেনীয় এবং একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। এনআইএ (NIA Arrest Foreigners) গত তিন মাস ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে আসছিল। অবশেষে রাশিয়ার শেয়ার করা তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ দিল্লি, লখনউ এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনা ফের ভারত-রাশিয়া দৃঢ় সম্পর্কের প্রমাণ দিল।

    রাশিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যেই বাজিমাত

    এনআইএ সূত্রে খবর, রাশিয়ার গোয়েন্দারা এই বিদেশিদের নিয়ে গোপন তথ্য পাঠিয়েছিল ভারতকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিদেশিদের ধরে এনআইএ। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকেই ভারত হয়ে মায়ানমারে যাওয়া আসা করছে মার্কিন ভাড়াটে ম্যাথু ভ্যানডাইক। এনআইএ-র প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে প্রায় তিন মাস ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়েছে এনআইএ-র দল। পরে ভারতের তিনটি শহর থেকে ধরা হয়েছিল ভ্যানডাইক, ম্যাক্সিম হোনচারুক, পেট্রো হুবরা, সুকমানোভস্কি ইভান, স্টেফানকিভ মারিয়ান, স্লিভিয়াক তারাস এবং কামিনস্কি ভিক্টরকে। মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইককে গ্রেফতার করা হয়েছিল কলকাতা থেকে।

    ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগ অভিযুক্তদের!

    মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার কজন আবার ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন আইরিশ সাংবাদিক চেয় বাওয়েস। তিনি দাবি করেন, ধৃত মারিয়ান স্টেফানকিভ ইউক্রেনের ইন্টেলিজেন্স সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও নাৎসি সংগঠন ‘রাইট সেক্টরের’ সঙ্গেও মারিয়ান যুক্ত ছিল বলে দাবি করেন বাওয়েস। এদিকে ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ ভাদিম রবিনোভিচ আবার দাবি করেছেন, এই মারিয়ান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট আরাটা ভলান্টিয়ারের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও ‘কোলো চস্তি’ নামে একটি এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা এই মারিয়ান। ভারতে ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের অধিকাংশই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন প্রাক্তন সাংসদ রবিনোভিচ। ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ দাবি করেন, মারিয়ান এবং তার সংগঠন একটা সময় ইউক্রেনে পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

    ভুল করে সীমান্ত পার করা যায়?

    অপরদিকে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করেছে, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে ‘ভুল’ করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও, আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত? রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

    ভ্যানের মতো ভাড়াটে সৈন্য ভয়ঙ্কর!

    ধৃতদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইকক। ভ্যানের নামে খোলা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটিতে তার পরিচয় ‘মিডিয়া ব্যক্তিত্ব’। ইউক্রেনে বাস করে বলে লেখা রয়েছে। সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্টে বিভিন্ন দেশে সরকার বদলের গোপন অভিযানে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে সে। ভেনেজুয়েলার উল্লেখও রয়েছে। ভ্যান লেখে, ‘ভেনিজুয়েলা, বর্মা (মায়ানমার), ইরান এবং অন্য স্বৈরাচারী শাসকদের বলব, আমরা আসছি। রাশিয়া, তোমাদের উৎখাত করতেও আসছি আমরা’। কয়েক মাস আগে করা একটি পোস্টে ভ্য়ান জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছে সে। ইলন মাস্কের ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা স্টারলিঙ্ক ব্য়বহারের উল্লেখও ছিল। ইরাকে যুদ্ধেও অংশ নেয় সে। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সেখানেই ছিল সে। মোটরসাইকেলে চেপে উত্তর আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়া চষে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে ভ্যানের। লিবিয়ায় বিদ্রোহী যোদ্ধাদের দলে যোগ দেয় সে। সেখানে ছ’মাস জেলও খেটেছে। ২০১১ সালে যুদ্ধ শেষ হলে, জেল পালিয়ে আমেরিকায় ফিরে যেতে সফল হয়। এর পর সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে শুরু হলে, তথ্য়চিত্র বানানোর অজুহাতে সেখানেও পৌঁছে যায় ভ্য়ান। আইএসআইএস-এর হাতে সেখানে দুই সাংবাদিক বন্ধু জেমস ফোলি এবং স্টিভেন সটলঅফকে হারায় ভ্যান। তাতেই পরিকল্পনা বদলে ফেলে সে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংগঠনও তৈরি করে ভ্য়ান, যারা ভিন্ন ভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে পরামর্শ দিত। ভ্যানডাইক দাবি করে, তার সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সরকারের কোনও যোগ নেই। তবে উল্লেখ্য বিষয়, সব ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার যেদিকে ঝুঁকে থাকে, ম্যাথু ভ্যানডাইকও সেই পক্ষের হয়েই ‘কাজ’ করে।

    ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক

     এনআইএ অভিযোগ করেছে, ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল এই বিদেশিরা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাশিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে ধৃত ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিক একটি বড় দলের অংশ, যাদের মোট সংখ্যা প্রায় ১৪। এখন বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে—তারা এখনও মিয়ানমারে আছে নাকি অন্য কোথাও পালিয়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা ইউরোপ থেকে বড় পরিমাণ ড্রোন মায়ানমারে পাচার করতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এদিকে, ভারতে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, এই তদন্তে তাদের দেশ সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তারা চান প্রক্রিয়াটি যেন “নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ” হয়। তবে মার্কিন দূতাবাস এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

  • US Mercenary in India: কলকাতায় মার্কিন ‘জঙ্গি প্রশিক্ষক’ ধরা পড়তেই চর্চায় শেখ হাসিনার ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ সতর্কবার্তা

    US Mercenary in India: কলকাতায় মার্কিন ‘জঙ্গি প্রশিক্ষক’ ধরা পড়তেই চর্চায় শেখ হাসিনার ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ সতর্কবার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগে এক মার্কিন ভাড়াটে সেনাসহ (US Mercenary in India) ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেফতারের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) পুরনো এক সতর্কবার্তা। ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে তিনি দাবি করেছিলেন, এক “শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি” তথা এক বিদেশি শক্তি বাংলাদেশ ও মায়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে একটি “খ্রিস্টান রাষ্ট্র” গঠনের পরিকল্পনা করছে। যার কেন্দ্র হতে পারে বঙ্গোপসাগর। তখন এই মন্তব্যকে অনেকেই রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ—বিশেষ করে বিদেশি যোদ্ধাদের উপস্থিতি—কিছু বিশ্লেষকের মতে সেই বক্তব্যকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

    বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস

    পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি। সেই আবহে ভারতে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। আমেরিকার বাসিন্দা, এক ভাড়াটে যোদ্ধাকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। গ্রেফতার করা হয়েছে ইউক্রেনের ছয় নাগরিককেও। মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে ঢোকার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। মায়ানমারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে তারা যুদ্ধের কলা-কৌশল শেখাতে, অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতে যাচ্ছিল বলে জানা যাচ্ছে। বিগত কয়েক মাস ধরে নজরদারি চালিয়ে ওই সাতজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে বলে খবর। ধৃতদের মধ্যে আমেরিকার নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যান ডাইক (Matthew VanDyke), ইউক্রেনের নারিক হারবা পেত্রো, স্লাইভিয়াক টারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্টেফানকিভ মারিয়ান, হানচারুক মাকসিম এবং কামিনস্কি ভিক্টর বলে শনাক্ত করা গিয়েছে। ধৃতদের ডিজিটাল গতিবিধি পরখ করে দেখছে এনআইএ ধৃতদের নেটওয়র্কে অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে।

    ভ্য়ানের গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

    তদন্তে নেমে বেশ কিছু অডিও রেকর্ডিং হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেখানে বিভিন্ন দেশে বিদ্রোহী সংগঠনগুলিকে সমর্থন জোগানোর কথা স্বীকার করতে শোনা গিয়েছে আমেরিকার নাগরিক ভাড়াটে সেনা ভ্যানকে। তার দাবি, বিদেশি যোদ্ধাদের বিদ্রোহে লিপ্ত করা তার উদ্দেশ্য় নয়। বরং স্থানীয় মানুষজনকে বিদ্রোহের আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করাই লক্ষ্য তার। ভেনেজুয়েলা, মায়ানমার এবং ইরানে বিদ্রোহের আগুন জ্বালাতে ভাড়াটে সৈনিকদের আহ্বানও জানায় সে। ভ্য়ানের গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উত্তর-পূর্ব ভারতে সশস্ত্র উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির যে বাড়বাড়ন্ত, তাতে তার সংযোগ পাওয়া গিয়েছে। উগ্রপন্থীদেরও সে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে ভ্য়ানের গ্রেফতারি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। ভ্যান চরবৃত্তিতে লিপ্ত ছিল কি না, তথ্য পাচার করছিল কি না, ভারতবিরোধী, নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলিকে মদত জোগাচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হাসিনার সতর্কবার্তার যোগসূত্র

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই গ্রেফতারির সঙ্গে শেখ হাসিনার সেই সতর্কবার্তার সম্ভাব্য যোগ থাকতে পারে। তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে ক্ষমতায় ফেরাতে সাহায্যের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি বিদেশি ঘাঁটি তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। হাসিনা তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভেঙে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, একটি শক্তিশালী দেশ বঙ্গোপসাগরে ঘাঁটি বানাতে চায়। তিনি তা হতে দিচ্ছেন না বলেই তাঁর সরকারের সামনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁকে ভোটের আগে এই ঘাঁটি বানানোর অনুমতি দেওয়ার বদলে, সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে, অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। তবে, কোনও বিশেষ দেশের নাম করেননি হাসিনা।

    খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র

    হাসিনা দাবি করেন, ইন্দোনেশিয়ার ভেঙে যেমন পূর্ব তিমুর তৈরি করা হয়েছিল, সেই রকমই বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটা অংশ নিয়ে একটা খ্রিস্টান দেশ তৈরির চক্রান্ত চলছে। হাসিনা বলেন, “ভারত মহাসগাগরের এই শান্তিপূর্ণ জায়গাটার উপর তাদের নজর। এখানে বেস বানিয়ে তারা কোথায় হামলা করতে চায়? আমার যুদ্ধ ঘরে-বাইরে, সব জায়গায়। পূর্ব তিমুরের মত বাংলাদেশের একটি অংশ নিয়ে, তারপর চট্টগ্রাম, মায়ানমার মিলে এখানে একটা খ্রিষ্টান দেশ বানাবে। বঙ্গোপসাগরে একটা ঘাঁটি করবে।” প্রাচীনকাল থেকেই বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে আসছে। শেখ হাসিনা কোনও দেশের নাম না করলেও, তাঁর ইঙ্গিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে, সেটা স্পষ্ট ছিল। ভ্যান-এর গ্রেফতারি তাঁর সেই কথাকে ফের আলোচনায় নিয়ে এল।

    ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ: ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মায়ানমারে চলমান সংঘর্ষে বহু আন্তর্জাতিক স্বার্থ জড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পক্ষ নিচ্ছে—এমন অভিযোগ নতুন নয়।

    ভারতের উত্তর-পূর্ব: উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক কৌশলগত করিডর। মিজোরাম এবং সংলগ্ন অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সংযোগস্থল, পাশাপাশি চীনের প্রভাব বলয়ের কাছাকাছি। বিদেশি যোদ্ধাদের উপস্থিতি, মায়ানমারের অস্থিরতা ভারতের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ক্রমশ একটি সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে।

    ‘প্রক্সি ওয়ার’ তত্ত্ব: বিশেষজ্ঞ মহলের র মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি একটি বৃহত্তর ‘প্রক্সি ওয়ার’-এর ইঙ্গিত হতে পারে, যেখানে বড় শক্তিগুলি সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে।

    মিজোরাম হয়ে মায়ানমার—নতুন করিডর?

    মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা আগেই জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধফেরত যোদ্ধারা মিজোরাম হয়ে মায়ানমারের চিন প্রদেশে যাচ্ছে এবং বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ২০০০ বিদেশি আইজলে এলেও তাদের বেশিরভাগকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি—যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলি মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। যদিও “খ্রিস্টান রাষ্ট্র” তৈরির অভিযোগ নিয়ে এখনো কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি, তবুও ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে কৌতূহল ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে মার্কিন ভাড়াটে যোদ্ধা ম্যাথিউ ভ্যানডাইক-এর গ্রেফতারি।

     

     

     

     

     

  • UAE: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ ভারতীয়-সহ ৩৫জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ ইউএইর

    UAE: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ ভারতীয়-সহ ৩৫জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ ইউএইর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর বা জাল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ জন ভারতীয়-সহ (Indians) মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন-ইজরায়েলি বাহিনী ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর  শুরু (UAE) হয় এই যুদ্ধ। ইউএইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিকৃত ভিডিও এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়েছে, যা বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের দ্রুত বিচার করা হবে। এই পদক্ষেপ করা হয়েছে দু’টি ধাপে। সর্বশেষ তালিকায় বিভিন্ন দেশের ২৫ জন রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৭ জন ভারতীয়। এর আগে শনিবার ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয়।

    ইউএইর অভিযোগ (UAE)

    ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামস জানান, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তৈরি ভুয়ো তথ্য ও কৃত্রিম কনটেন্ট ছড়ানো রুখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সে দেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়ামের (WAM) উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তদন্তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছে। এর মধ্যে ছিল বর্তমান ঘটনাবলীর আসল ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা, আই ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা, এবং সামরিক আগ্রাসনে জড়িত একটি রাষ্ট্রের প্রশংসা করে প্রচার করা।

    প্রথম দলের ১০

    জানা গিয়েছে, প্রথম দলের ১০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ছিলেন ৫ জন ভারতীয়, ১ জন পাকিস্তানি, ১ জন নেপালি, ২ জন ফিলিপিনো এবং ১ জন মিশরীয়। তাঁরা দেশের আকাশসীমায় মিসাইল চলাচল ও প্রতিরোধের আসল ভিডিও প্রচার করেছিল। এসব ঘটনা দেখার জন্য জড়ো হওয়া মানুষের ভিডিও করে তাতে এমন মন্তব্য ও শব্দপ্রভাব যোগ করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় দেশে সক্রিয় হামলা চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এতে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল এবং দেশ বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারত (UAE)। দ্বিতীয় দলে ৭ জন ছিলেন। এঁদের মধ্যে ৫ জন ভারতীয়, ১ জন নেপালি এবং ১ জন বাংলাদেশি (Indians)।

    এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও

    তাঁরা এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও বা দেশের বাইরের ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করে দাবি করেছিলেন যে এগুলি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ঘটেছে। এসব ভিডিওয় বিস্ফোরণ ও মিসাইল হামলার কৃত্রিম দৃশ্য দেখানো হয়েছিল এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সেখানে জাতীয় পতাকা বা নির্দিষ্ট তারিখ যুক্ত করা হয়েছিল। আর তৃতীয় দলে ৬ জন ছিলেন। এঁর মধ্যে ৫ জন ভারতীয় এবং ১ জন পাকিস্তানি। অভিযোগ, তাঁরা ইরানের প্রশংসা করে কনটেন্ট প্রকাশ করেছেন, যেখানে সেই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ডকে সাফল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ

    সরকারের বক্তব্য, এতে শত্রুপক্ষের প্রচারকে শক্তিশালী করা হয়েছে, ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ। এছাড়া আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ওয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সরকারি কৌঁসুলির দফতর তাঁদের আটক করে রাখার নির্দেশ দেয় (Indians)। অ্যাটর্নি জেনারেল আল শামস বলেন, “তাঁরা এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়েছিল, যেখানে ইউএইয়ের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা বা বড় অগ্নিকাণ্ড দেখানো হয়েছিল (UAE)। ইউএই আইনে এই ধরনের অপরাধের শাস্তি হল, কমপক্ষে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্তত ১,০০,০০০ দিরহাম জরিমানা। তিনি বলেন, “এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা দুর্বল করা।”

    নিরাপত্তা হুমকির মিথ্যে ধারণা

    কিছু ভিডিওতে শিশুদের আবেগকে ব্যবহার করে নিরাপত্তা হুমকির মিথ্যে ধারণাও তৈরি করা হয়েছে। কিছু ভিডিওয় আবার দেশের সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বা বিদেশের ঘটনাকে ইউএইয়ের ঘটনা হিসেবে দেখানো হয়েছে। রবিবার সকালে উপসাগরীয় দেশগুলি, যার মধ্যে ইউএইও রয়েছে, নতুন করে হামলার খবর জানায়। এর একদিন আগে ইরান ইউএইয়ের তিনটি বড় বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছিল এবং প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন সম্পদের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছিল (Indians)। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউএইয়ের বন্দর, ডক ও ঘাঁটি ব্যবহার করে খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এই দ্বীপেই রয়েছে ইরানের প্রধান তেল রফতানি টার্মিনাল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দেয়নি ইরান (UAE)। এদিকে, যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি আশা করেন মিত্র দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।

     

  • Foreign Students: ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতে পড়তে আসা বিদেশিদের সম্পূর্ণ তথ্য পোর্টালে তুলতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে নির্দেশ কেন্দ্রের

    Foreign Students: ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতে পড়তে আসা বিদেশিদের সম্পূর্ণ তথ্য পোর্টালে তুলতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বিদেশিদের সঠিক নথিভুক্তি নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে ভারতে পড়াশোনা করতে আসা সকল বিদেশি শিক্ষার্থীর (Foreign Students) জন্য সরকার নির্ধারিত একটি পোর্টালে তাদের সম্পূর্ণ তথ্য (Full Information) নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক হবে।

    ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য (Foreign Students)

    মিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিয়ম সরকারি ও বেসরকারি, উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সরকারের মতে, অতীতে বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে ছাত্র ভিসায় আগত বিদেশিদের সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছিল না। যেমন, তারা কোন কলেজে পড়ছে, তাদের ভিসার মেয়াদ কখন শেষ হচ্ছে, অথবা তারা আদৌ পড়াশোনা করছে কি না, এই সব মৌলিক তথ্যের ঘাটতি ছিল। এই শূন্যতা দূর করতেই জারি করা হয়েছে নয়া নির্দেশিকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে জারি করা এই নির্দেশ অনুযায়ী, সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের তথ্য আপলোড করতে হবে। এই তথ্য একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাগ করা হবে (নতুন নির্দেশিকা), যাতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি তাৎক্ষণিক আপডেট দেখতে পারে।

    ফরেন স্টুডেন্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম

    প্রতিষ্ঠানগুলিকে শিক্ষার্থীর নাম, উৎপত্তি দেশ, পাসপোর্ট নম্বর, ভিসার বৈধতা, কোর্সের বিবরণ এবং ভারতে তার আবাসিক ঠিকানার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া, কোনও শিক্ষার্থী মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিলে বা দীর্ঘ সময় ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে সেই তথ্যও জানাতে হবে (Foreign Students)। বিদেশি শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণের জন্য সরকার “ফরেন স্টুডেন্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম(FSIS)” নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে এবং প্রতিটি নতুন ভর্তি সম্পর্কে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য আপডেট করতে হবে। এই সিস্টেমটি সরাসরি অভিবাসন দফতরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, ফলে ভিসা-সংক্রান্ত কোনওরকম অসঙ্গতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গাফিলতি করলে তাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে জরিমানা, আইনি পদক্ষেপ এবং স্বীকৃতি বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থাও (Full Information) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Foreign Students)।

     

  • Mamata Banerjee: “মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন”, তোপ ভূপেন্দ্রর  

    Mamata Banerjee: “মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন”, তোপ ভূপেন্দ্রর  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee) একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন এবং লড়াই করেন।” বুধবার কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন।”

    ভূপেন্দ্রর নিশানায় মমতা (Mamata Banerjee)

    কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন এবং লড়াই করেন। ২০ লাখ মানুষ ষষ্ঠ বেতন কমিশনের জন্য লড়াই করছেন, অথচ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাচ্ছেন।” তিনি বলেন, “এসআইআর বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করতে গিয়েছেন, কিন্তু ডিএর ক্ষেত্রে নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি হেরে গিয়েছেন। তাই তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি নিজের কর্মচারীদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।” কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক অনুপ্রবেশের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে এবং বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করছেন।” তোষণমূলক রাজনীতির জন্যও মন্ত্রী রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।

    মন্ত্রী দাবি

    মন্ত্রীর দাবি (Mamata Banerjee), পশ্চিমবঙ্গে মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তাই মানুষ অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক খুন ও হিংসার ঘটনা এখানে সর্বাধিক। এখানে রাজনৈতিক তোষণও সর্বাধিক।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে বরাদ্দ অর্থ রাজ্য সরকার সঠিকভাবে ব্যবহার করছে না এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রের ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্প অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে চালু করা হয়েছিল। প্রতিটি রাজ্যে একটি কমিটি গঠনের কথা ছিল। কিন্তু গত চার বছরে বাংলায় তা করা হয়নি। চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বহু বিধান ছিল। অসম সরকার কমিটি গঠন করে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে।”

    এমএসএমই গ্রোথ ফান্ড প্রস্তাব

    যাদব বলেন, “সুরাট–ডানকুনি ফ্রেট করিডর পরিবহন ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি–বারাণসী করিডর এবং দুর্গাপুরে উন্নয়ন সামগ্রিক লজিস্টিক দক্ষতা বাড়াবে।” তিনি জানান, ১০,০০০ কোটি টাকার এমএসএমই গ্রোথ ফান্ড প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের দুর্বল প্রশাসনের কারণে বাংলা সবসময় বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তালিকাভুক্ত ৬,৮০০টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং এমএসএমই ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রক একাই পশ্চিমবঙ্গকে (Mamata Banerjee) ১.১০ লাখ কোটি টাকা দিয়েছে, তবুও তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল সরকার দুর্বল প্রশাসনের প্রতীক।

    মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রুটি

    তিনি বলেন, “মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রুটি রয়েছে এবং তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত শংসাপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি, প্রধানমন্ত্রী পোষণ যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, এবং কেন্দ্র নির্ধারিত ‘দিশা’ বৈঠকগুলি রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়নি।” মন্ত্রী বলেন, “আয়ুষ্মান ভারত এবং পিএম-কিষানের মতো প্রকল্প পূর্ণমাত্রায় চালু হতে দেওয়া হয়নি। রাজ্য কম মূলধনী ব্যয়ে চলছে এবং আয় না বাড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিচ্ছে, ফলে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে। এটি শুধু তৃণমূলের শেষ বাজেট নয়, বিদায়ী দলিল।” তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলা সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও জগদীশচন্দ্র বসুর মতো মহান বিজ্ঞানীদের ভূমি, তবুও বিজ্ঞান শিক্ষায় বরাদ্দ করা হয়নি, কিন্তু মাদ্রাসায় ৫,৭১৩.৬১ কোটি টাকা (Mamata Banerjee) বরাদ্দ করা হয়েছে।” উত্তরবঙ্গে ৩ কোটি জনসংখ্যার জন্য মাত্র ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে (Mamata Banerjee)। মন্ত্রী বলেন, “বস্ত্রশিল্পে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের এই খাতে উন্নয়নের কোনও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই (Mamata Banerjee)।”

     

  • Delhi Police: কীভাবে প্রকাশের আগেই প্রকাশ্যে জেনারেল নারভানের বই? তদন্ত শুরু দিল্লি পুলিশের

    Delhi Police: কীভাবে প্রকাশের আগেই প্রকাশ্যে জেনারেল নারভানের বই? তদন্ত শুরু দিল্লি পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগেই প্রকাশ্যে চলে আসে ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’র একটি কপি (Unpublished Memoir)। অনুমোদন ছাড়াই ছড়িয়ে পড়ে ওই কপি। বইটি ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের স্মৃতিকথা (Delhi Police)। এই অভিযোগে ৯ ফেব্রুয়ারি মামলা রুজু করে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, আইনি অনুমোদন ছাড়াই বইটির অপ্রকাশিত সংস্করণ অনলাইনে এবং কয়েকটি নির্বাচিত প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।

    অভিযোগ দায়ের পুলিশের (Delhi Police)

    পুলিশ সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং সংবাদ ফোরামে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়। ওইসব তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাধ্যতামূলক অনুমোদন না থাকলেও বইটির প্রি-প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তের সময় তদন্তকারীরা কয়েকটি ওয়েবসাইটে একই শিরোনামের একটি টাইপসেট পাণ্ডুলিপির পিডিএফ সংস্করণ খুঁজে পান। নথিটি পেঙ্গুইন রানডম হাউস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড কর্তৃক প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে। তারাই এই স্মৃতিকথার তালিকাভুক্ত প্রকাশক। পুলিশ লক্ষ্য করেছে, কিছু অনলাইন বিপণন প্ল্যাটফর্মে বইটির চূড়ান্ত প্রচ্ছদ প্রদর্শিত হচ্ছিল, যা থেকে ইঙ্গিত মিলছিল যে বইটি কেনার জন্য উপলব্ধ, যদিও সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও প্রকাশিত হয়নি (Delhi Police)। অপ্রকাশিত প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত একটি স্মৃতিকথা ঘিরে এই সম্ভাব্য গোপনীয়তা লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, স্পেশাল সেলে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তথ্য ফাঁসের উৎস চিহ্নিত করা এবং অনুমোদনহীন প্রচারের পরিসর নির্ধারণ করতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

    ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’

    ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’তে জেনারেল নারাভানের প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনের বিবরণ রয়েছে। এতে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থেকে শুরু করে চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ যাত্রাপথের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মৃতিকথাটিতে তাঁর সামরিক জীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে চিনের সবচেয়ে গুরুতর সামরিক অচলাবস্থার কথাও (Unpublished Memoir)। এই স্মৃতিকথাকে ঘিরে বিতর্ক সংসদের বাজেট-পরবর্তী অধিবেশনে আরও তীব্র হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন লোকসভায় কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী একটি ম্যাগাজিনের নিবন্ধ থেকে অংশবিশেষ পাঠ করেন, যা নাকি জেনারেল নারাভানের অপ্রকাশিত বইয়ের ওপর ভিত্তি করে লেখা (Delhi Police)।

    বিজেপির তীব্র আপত্তি

    রাহুলের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত হলেও, বিজেপি নেতৃত্ব তীব্র আপত্তি জানায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের অভিযোগ, জনসমক্ষে প্রকাশ না পাওয়া একটি বইয়ের বিষয়বস্তু সংসদে উল্লেখ করেছেন রাহুল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও সংসদীয় বিতর্কে অপ্রকাশিত প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় (Unpublished Memoir)।” প্রাথমিক গন্ডগোলের কয়েক দিনের মধ্যেই রাহুল সংসদে ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’র একটি মুদ্রিত কপি হাতে নিয়ে ফের হাজির হন। তিনি জানান, বইটি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চান। সংসদ ভবন চত্বরে বই হাতে রাহুল গান্ধীর ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে (Delhi Police)। তবে এই পর্যায়ে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক স্তরেই রয়েছে (Unpublished Memoir)।

LinkedIn
Share