Tag: National Security

National Security

  • Chicken Neck Security: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বড় পদক্ষেপ! চিকেনস নেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মহানন্দা নদীপথেও কড়া নজরদারি

    Chicken Neck Security: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বড় পদক্ষেপ! চিকেনস নেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মহানন্দা নদীপথেও কড়া নজরদারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ি এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং কৌশলগত ঝুঁকি মোকাবিলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ফুলবাড়ির জুমাগছে সরেজমিন পরিদর্শন

    শুক্রবার রাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। শনিবার সকালে অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যৌথভাবে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের স্পর্শকাতর গ্রাম জুমাগছ পরিদর্শন করেন। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মহানন্দা নদীর উন্মুক্ত অংশ এবং অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য রুটগুলি খতিয়ে দেখা হয়।

    রাজ্যে ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট, উত্তরবঙ্গে বাড়ছে নজরদারি

    উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রাজ্যে ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আউটপোস্ট উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারে তৈরি হবে। প্রশাসনের মতে, নতুন এই পরিকাঠামো চালু হলে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ-এর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

    স্মার্ট ফেন্সিং ও থার্মাল নজরদারিতে জোর

    বৈঠকে সীমান্তে আধুনিক ত্রিস্তরীয় স্মার্ট ফেন্সিং দ্রুত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহানন্দা নদীর যেসব অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন এবং উন্মুক্ত রয়েছে, সেখানে ভার্চুয়াল স্মার্ট ফেন্সিং, উন্নত থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, জলপথ ব্যবহার করে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশের সুযোগ রাখা হবে না।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ জুমাগছ?

    প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ফুলবাড়ি থেকে নারায়ণজোত পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা গত এক সপ্তাহ ধরে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে। জুমাগছ থেকে রাবভিটার দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মহানন্দা নদীর বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত অংশ, যেখানে বর্ষাকালে নদীপথ ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা থেকেই যায়।

    বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প ও চিনা উপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা

    নিরাপত্তা মহলের নজরে রয়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে চলা বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পও। সীমান্তের ওপারে ওই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চিনা ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি কর্মীদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডর ও উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ছয় জেলার প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের ডাকা হয়। বিএসএফ উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজির উপস্থিতিতে সীমান্তে জমি-সংক্রান্ত জট দ্রুত মিটিয়ে ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করার রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    শিলিগুড়ি করিডর কেন ভারতের ‘লাইফলাইন’?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সংযোগ। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ধরনের আপসের প্রশ্নই নেই। নতুন বর্ডার আউটপোস্ট, ত্রিস্তরীয় স্মার্ট ফেন্সিং, ভার্চুয়াল নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্তকে আরও অভেদ্য করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্তের ওপারে দ্রুত বদলে যাওয়া কৌশলগত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের এই পরিকাঠামোগত ও নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং অনথিভুক্ত (Financial Times) বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন জন্ম দিয়েছে নয়া বিতর্কের। প্রতিবেদনে (Bangladesh Pushback Policy) ভারতের পদক্ষেপের সমালোচনা করা হলেও, পাল্টা মতামতে প্রশ্ন উঠেছে—নিজেদের নাগরিকদের পরিচয় যাচাই ও গ্রহণে বাংলাদেশ দেরি করলে ভারতের সামনে বিকল্প পথ কী? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদপত্রটির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

    প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক (Financial Times)

    বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কয়েকজন কর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে কিছু মানুষকে সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ পৌঁছে দিচ্ছেন। এক আধিকারিক বলেন, “ওরা (ভারত) অন্ধকার নামার অপেক্ষা করে, তারপর সীমান্তের গেট খুলে মানুষকে ঠেলে দেয়।” আর এক কর্তার দাবি, “সেখানে নারী এবং শিশুরাও থাকে। অনেক সময় তারা মাঝখানে আটকে পড়ে।” সংবাদপত্রটির আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী ‘জিরো লাইনে’ বহু মানুষ আটকে থাকার অভিযোগও তুলেছে বাংলাদেশ। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, প্রতিবেদনে অনুপ্রবেশের আইনি ও নিরাপত্তাজনিত দিকের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা ও অনথিভুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদে’র সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার

    প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিনিধির বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ মুসলিম পরিবারকে বাংলাদেশে ফেলে আসছে অথবা সীমান্তে আটকে রাখছে। মুসলিমদের প্রতি এই বৈরিতা বন্ধ হওয়া উচিত।” প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যও (Financial Times)। তাঁর দাবি, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এবং আরও প্রায় ১,৮০০ জনের বিরুদ্ধে একই প্রক্রিয়া চলছে।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অবস্থানও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ রোধ এবং বিদেশি ট্রাইব্যুনালে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। সরকারি জমি ও বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়টিও তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে (Bangladesh Pushback Policy)।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, অতীতে গৌহাটি হাইকোর্ট অনুপ্রবেশকে অসমের জনবিন্যাসের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, বিদেশি হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তিদের ভারত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ইস্যুতে ভারতের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশটির বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকেও সতর্ক করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে (Financial Times)। এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত ইতিমধ্যেই ২,৬৮০টিরও বেশি ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ পাঠিয়েছে। তবে বহু ক্ষেত্রে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই যাচাই প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে।

    আলোচনার ফোকাস পয়েন্ট

    এক প্রবীণ ভারতীয় আধিকারিকের  বক্তব্যও প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “বহিষ্কারের জন্য গন্তব্য দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে সেই সহযোগিতা প্রায় কখনওই পাওয়া যায় না।” তাঁর আরও দাবি, “সেই কারণেই আমাদের সামনে অন্য কোনও উপায় ছিল না।” এই ঘটনাকে ঘিরে (Bangladesh Pushback Policy) আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়ই এখন উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে (Financial Times)।

     

  • West Bengal Cabinet: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বড় সিদ্ধান্ত! কাঁটাতার বসানোর কাজে কেন্দ্রকে ৫৪ একর জমি দিল রাজ্য

    West Bengal Cabinet: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বড় সিদ্ধান্ত! কাঁটাতার বসানোর কাজে কেন্দ্রকে ৫৪ একর জমি দিল রাজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, নতুন সীমান্ত চৌকি গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলিকে ৫৪.২৪ একর সরকারি খাস জমি স্থায়ীভাবে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবে অনুমোদন

    বৃহস্পতিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, জমিগুলি মূলত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-র প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করা হবে।

    ৬ জেলায় জমি হস্তান্তর

    সরকারি সূত্রের খবর, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক সীমান্তবর্তী জেলায় এই জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা। যেসব এলাকায় এখনও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ হয়নি অথবা নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) তৈরির প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে এই জমি কাজে লাগানো হবে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হস্তান্তরিত জমিতে নতুন সীমান্ত চৌকি নির্মাণের পাশাপাশি অসম্পূর্ণ কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শেষ করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল ও যাতায়াত আরও সহজ করতে নতুন রাস্তা তৈরির কাজও করা হবে।

    জমি-জটে আটকে কাঁটাতারের কাজ

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন অংশে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ থমকে ছিল। এই ইস্যুতে অতীতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধও সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত না মেলায় সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে দ্রুত সীমান্ত বেড়া সম্পূর্ণ করার ওপর বরাবরই জোর দিয়ে এসেছে কেন্দ্র।

    বিএসএফ ও এসএসবি-র সুবিধা

    সাম্প্রতিক প্রশাসনিক উদ্যোগের ফলে সেই অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের গতি বাড়বে, পাশাপাশি বিএসএফ ও এসএসবি-র কাজ পরিচালনাও আরও সহজ হবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, জমি সংক্রান্ত জটিলতা দূর হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।

  • Canadian CSIS: কনিষ্কে বিস্ফোরক বসিয়েছিল কানাডাভিত্তিক খালিস্তানপন্থী জঙ্গিরা, কবুল করল কানাডা

    Canadian CSIS: কনিষ্কে বিস্ফোরক বসিয়েছিল কানাডাভিত্তিক খালিস্তানপন্থী জঙ্গিরা, কবুল করল কানাডা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (Canadian CSIS) প্রথমবারের মতো কবুল করল যে, ১৯৮৫ সালের ২৩ জুন এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২ (কনিষ্ক)-এ বিস্ফোরক বসিয়েছিল কানাডাভিত্তিক খালিস্তানপন্থী (Khalistani) জঙ্গিরা। হামলার ৪০তম বর্ষপূর্তিতে জারি করা এক স্মারক বার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, সেদিন বিমানটিতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ৩২৯ জন যাত্রী সবাই নিহত হন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন কানাডার নাগরিক। এটি এখনও পর্যন্ত কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা।

    ভারতের দাবিতে মান্যতা (Canadian CSIS) 

    সিএসআইএস জানিয়েছে, হামলার সময় সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার এক বছরেরও কম সময় পেরিয়েছিল এবং এই মর্মান্তিক ঘটনা তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। গত চার দশক ধরে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও মতাদর্শগত হিংসা থেকে কানাডাবাসীকে সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতিও জানিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এতদিন কানাডা সরকার বা সরকারি স্মরণবার্তায় খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হত না। তবে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিল, এটি ছিল খালিস্তানি জঙ্গিদের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। সম্প্রতি কানাডার গোয়েন্দা সংস্থার বার্তায় সেই অবস্থানেই কার্যত সিলমোহর পড়ল।

    খালিস্তানপন্থী উগ্রপন্থীই বড় হুমকি

    এদিকে, সাম্প্রতিক এক নিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে কানাডাভিত্তিক খালিস্তানপন্থী উগ্রপন্থী সংগঠনগুলিকেও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সংগঠন কানাডার মাটি ব্যবহার করে সহিংস জঙ্গি কার্যকলাপের প্রচার, অর্থ সংগ্রহ এবং হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে (Canadian CSIS)। খালিস্তান ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-কানাডা সম্পর্কের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। বিশেষ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে এই বিরোধ তীব্র হয়, যখন তিনি খালিস্তানপন্থী জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগে’র কথা বলেছিলেন। তবে তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির পর কানাডার অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে (Khalistani)। উল্লেখ্য, বাব্বর খালসা জঙ্গি সংগঠনকে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২ বিস্ফোরণের জন্য দায়ী করা হয় এবং ২০০৫ সালে ২৩ জুনকে কানাডা জাতীয় সন্ত্রাসবাদে নিহতদের স্মরণ দিবস হিসেবে পালন করার কথা ঘোষণা করে (Canadian CSIS)।

     

  • Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র পরবর্তী ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেলেন প্রবীণ আইপিএস অফিসার মহেশ দীক্ষিত। বর্তমানে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে কর্মরত দীক্ষিত বিদায়ী ডিরেক্টর তপন কুমার ডেকা-র স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি (ACC) তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?

    কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের (DoPT) জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহেশ দীক্ষিতকে পরিষেবার মেয়াদ বাড়িয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে দুই বছরের জন্য, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন। সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, এফআর ৫৬(ডি) এবং অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) রুলস, ১৯৫৮-এর রুল ১৬(১এ)-এর বিধান অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি আইবি-র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। বর্তমান আইবি প্রধান তপন কুমার ডেকার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবেই দীক্ষিতের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    কে এই মহেশ দীক্ষিত?

    মহেশ দীক্ষিত ১৯৯৩ ব্যাচের ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS)-র কর্মকর্তা। তিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের অফিসার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিশেষ বিষয় হল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পেশায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি চিকিৎসক (Medical Doctor) হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে আইপিএস হন।

    দীর্ঘ গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা

    তিন দশকেরও বেশি কর্মজীবনে মহেশ দীক্ষিত সন্ত্রাসবাদ দমন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল দায়িত্ব সামলেছেন। নিরাপত্তা মহলে তাঁকে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। আইবির সদর দফতরে স্পেশাল ডিরেক্টর হওয়ার আগে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (SIB)-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।

    অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    মহেশ দীক্ষিতের কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সময়কার দায়িত্ব। সেই সময় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য অশান্তি মোকাবিলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময় গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাঁর অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

    জি-২০ বৈঠকের নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন

    ২০২৩ সালে শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত জি-২০ ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান। সেই সম্মেলনকে ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছিলেন মহেশ দীক্ষিত।

    গত বছর হয়েছিলেন আইবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী

    ২০২৫ সালে মহেশ দীক্ষিতকে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে উন্নীত করা হয়। এই পদটি সংস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই থেকেই তিনি আইবির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এবার সংস্থার সর্বোচ্চ পদে বসে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার হুমকি, আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

    কেন এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?

    ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সাইবার অপরাধ, উগ্রপন্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব এই সংস্থার উপরেই বর্তায়। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা কার্যক্রমে দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মহেশ দীক্ষিতকে আইবির নতুন ডিরেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

  • Bowbazar Blast: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ রশিদের আগাম মুক্তির আবেদন করেছিল মমতার সরকার?

    Bowbazar Blast: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ রশিদের আগাম মুক্তির আবেদন করেছিল মমতার সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের কলকাতার বউবাজার বিস্ফোরণ (Bowbazar Blast) মামলায় দোষী সাব্যস্ত মহম্মদ রশিদ খানের মুক্তির নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি সুপ্রিম কোর্টের। দিল্লি হাইকোর্ট গত ৫ জুন রশিদের সাজা মকুব করে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে সেই নির্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবার ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় রশিদ খানকে মুক্তি দিলে রাজ্য সরকারের আপিল কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। তাই পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জেলেই থাকবেন। আগামী ২৮ জুলাই হবে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

    কে এই রশিদ খান?

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি, রশিদ খান ছিলেন ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বউবাজার বিস্ফোরণের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তদন্তে উঠে আসে, বাবরি মসজিদ ভাঙার পর দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আবহে কলকাতায় হিন্দুদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, মুসলিম যুবকদের দিয়ে বোমা তৈরি করিয়ে কলকাতায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই বোমা তৈরির গোপন কারখানায় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৬৯ জনের মৃত্যু হয় এবং জখম হন অন্তত ৪৬ জন। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় মধ্য কলকাতার একাধিক বহুতল।

    সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের যুক্তি

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে যুক্তি দেন, এত বড় মাপের বিস্ফোরণ এবং ব্যাপক প্রাণহানির মামলায় শুধুমাত্র ‘সংশোধনমূলক বিচারব্যবস্থা’র ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও জানান, রাজ্যের সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের অকালমুক্তির বিরোধিতা করেছিল। এদিকে, রশিদের আইনজীবী এমআর শামশাদ জানান, তার মক্কেল ৩৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি। বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৭৭। তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং জেলে তাঁর আচরণও ছিল অত্যন্ত ভালো। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য মন্তব্য করে, রশিদ খান সাধারণ কোনও অভিযুক্ত নন, বরং গোটা ষড়যন্ত্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’। আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, তাঁর অপরাধের চরিত্র ছিল ‘প্রায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সমতুল’।

    কেন মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট?

    গত ৫ জুন বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণার একক বেঞ্চ রশিদের আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়। দিল্লি হাইকোর্ট স্বীকার করেছিল, বউবাজার বিস্ফোরণ সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল, এবং এটি কোনও ব্যক্তিগত অপরাধ ছিল না। আদালতের মতে, অবশ্য অপরাধের গুরুত্বই একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না যার কারণে কোনও বন্দিকে রিমিশন থেকে বঞ্চিত করা হবে (Rashid Khan)।আদালত উল্লেখ করে, রশিদ খানের বিরুদ্ধে জেলের ভেতরে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার রেকর্ড নেই। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপারিন্টেনডেন্টের দেওয়া চরিত্রগত শংসাপত্রে তাঁর আচরণকে ‘অত্যন্ত ভালো’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি ৯৩ দিন প্যারোলে বাইরে থেকেও নির্ধারিত সময়ে জেলে ফিরে এসেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি (Bowbazar Blast)।

    স্বাস্থ্যগত কারণও বিবেচনায়

    দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়, রশিদ খান ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থায়ী বিপাকীয় রোগ, প্রস্টেটের সমস্যা, ছানি-সহ একাধিক বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত। আদালতের মতে, এত দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর তাঁর পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাই ৩৩ বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রাখার আর কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

    রশিদের মুক্তির সুপারিশ করেছিল মমতার সরকার!

    রশিদের মুক্তি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০০৭ সালেই তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাঁর অকালমুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। ২০১৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ডও তাঁর মুক্তির সুপারিশ করে। সেই সময় বোর্ড বন্দির বয়স, স্বাস্থ্য, জেলের আচরণ, পুনর্বাসনের সম্ভাবনা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং পুনরায় অপরাধ করার ঝুঁকি-সহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করেছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টে চলা ভি শ্রীহরণ মামলার কারণে রাজ্য সরকার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারেনি। কারণ তখন কেন্দ্রীয় আইনে দণ্ডিত বন্দিদের রিমিশন (সাজা মকুব) দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল (Bowbazar Blast)।

    কেন বদলে গেল মমতা সরকারের অবস্থান?

    ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড ফের রশিদের রিমিশনের আবেদন খারিজ করে দেয়। কলকাতা পুলিশের আপত্তির ভিত্তিতে বোর্ড জানায়, অপরাধের গুরুত্ব, সামাজিক প্রভাব এবং বিস্ফোরণে রশিদের ভূমিকাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে নেতিবাচক সুপারিশ পাঠায়। কেন্দ্রও জাতীয় নিরাপত্তা এবং টাডা আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে (Rashid Khan)। তবে দিল্লি হাইকোর্ট পরে পর্যবেক্ষণে জানায়, ২০১৫ সালে মুক্তির সুপারিশ করার পর রশিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনও নেতিবাচক তথ্য বা অসদাচরণের অভিযোগ ওঠেনি। ফলে পরবর্তী সিদ্ধান্তকে আদালত ‘পরিবর্তিত অবস্থান’ বলে উল্লেখ করে।

    বউবাজার বিস্ফোরণ

    ১৯৯৩ সালের ১৬ মার্চের রাত। মধ্য কলকাতার বউবাজার এলাকার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের একটি ভবনে আচমকা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথমে একে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, পরে তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরক তৈরির একটি গোপন কারখানার অস্তিত্ব (Bowbazar Blast)।তদন্তকারীদের দাবি, রশিদের নির্দেশেই তাঁর সহযোগী মহম্মদ খালিদ নাইট্রোগ্লিসারিন-সহ বিভিন্ন রাসায়নিক সংগ্রহ করতেন। সেই উপকরণ দিয়ে বোমা ও গ্রেনেড তৈরি করা হচ্ছিল। রশিদ পরিচালিত অবৈধ সাট্টার আড্ডাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হত। গভীর রাত পর্যন্ত চলা কার্যকলাপের সুযোগে বিস্ফোরক আনা-নেওয়া এবং বোমা তৈরির কাজ চলত। অভিযোগ, এগুলি ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসমূলক হামলায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। কিন্তু বিস্ফোরক মজুত এবং বোমা তৈরির সময় অসাবধানতাবশত পুরো কারখানাটিই উড়ে যায় (Rashid Khan)।

    হতাহত, ধ্বংস একাধিক ভবন

    বিস্ফোরণের অভিঘাতে কেঁপে ওঠে গোটা তল্লাট। দুটি বহুতল ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে, নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি বাড়ি। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ঘটনায় ৬৯ জনের মৃত্যু হয়, জখম হন অন্তত ৪৬ জন। উদ্ধারকাজে নেমেছিল পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সরু রাস্তা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান হয়ে পড়েছিল অত্যন্ত কঠিন (Bowbazar Blast)।

    বোমা কারখানা

    ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ, তার, রাসায়নিক উপাদান এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো করে। পরে মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, বিস্ফোরক আইন এবং টাডা (TADA)-এর একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়।প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, রশিদ খান প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে তিনি মুসলিম সহযোগীদের মাধ্যমে কলকাতার হিন্দুদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে চান। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আদালতে তুলে ধরা হয়। শেষমেশ ২০০১ সালে বিশেষ টাডা আদালত রশিদ ও তাঁর সহযোগীদের দোষী সাব্যস্ত করে। পরবর্তী কালে সুপ্রিম কোর্টও সেই সাজাই বহাল রাখে।

    অতঃকিম?

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন হল, ৬৯ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে বিবেচিত এবং বিস্ফোরণ চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত একজন টাডা দণ্ডিতকে ৩৩ বছরের কারাবাসের পর রিমিশন দেওয়া কতটা আইনসঙ্গত এবং যুক্তিযুক্ত। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কারাগারেই থাকবেন (Rashid Khan) রশিদ। আগামী ২৮ জুলাইয়ের শুনানির দিকে নজর থাকবে আইনজ্ঞ, রাজনৈতিক মহল এবং বউবাজার বিস্ফোরণের নিহতদের পরিবারগুলির (Bowbazar Blast)।

     

  • Amit Shah: “হেডগেওয়ারের ‘নেশন ফার্স্ট’ দর্শন আজও ভারতের অগ্রগতির ভিত্তি”, বললেন শাহ

    Amit Shah: “হেডগেওয়ারের ‘নেশন ফার্স্ট’ দর্শন আজও ভারতের অগ্রগতির ভিত্তি”, বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএসের (RSS) প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বালিরাম হেডগেওয়ারের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “হেডগেওয়ারের (Amit Shah) ‘নেশন ফার্স্ট’, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং আত্মবিশ্বাস ও স্বদেশি ভাবনায় গড়ে ওঠা সংগঠিত সমাজের ধারণা আজও ভারতের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।” এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা পরম পূজ্য ড. হেডগেওয়ারজির মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।”

    হেডগেওয়ারের অবদান (Amit Shah)

    হেডগেওয়ারের অবদানের কথা স্মরণ করে শাহ বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি জাতি গঠন ও সামাজিক ঐক্যের লক্ষ্য নিয়ে তিনি আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।” তাঁর মতে, হেডগেওয়ার ‘নেশন ফার্স্ট’ এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের আদর্শ দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধশালী ও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্র গঠনের। শাহ বলেন, “হেডগেওয়ার এমন একটি সংগঠিত সমাজের কল্পনা করেছিলেন, যা অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যমুক্ত হবে এবং আত্মবিশ্বাস ও স্বনির্ভরতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ থাকবে। তাঁর সেই স্বদেশি-ভিত্তিক চিন্তাধারাই বর্তমানে ভারতের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে”।

    কী বললেন শাহ?

    হেডগেওয়ারের জীবন ও আদর্শের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “দেশমাতৃকার প্রতি অসীম ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও আত্মনিবেদনের এক অক্ষয় উৎস হল তাঁর জীবন (Amit Shah)।” এদিকে, এদিনই মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার ইচলকরঞ্জিতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা এবং গ্রামীণ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, “এক সময় ভারতে একটি গুলিও তৈরি হত (RSS) না। আজ আমরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছি, এবং আত্মনির্ভর ভারতের শক্তি নিয়ে বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।” তিনি জানান, মোদি সরকারের আমলে আধুনিক এবং আরও শক্তিশালী করে তোলা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে (Amit Shah)।

     

  • Hindus Under Attack: রাশ টানা যায়নি হিন্দু নির্যাতন, লাভ জেহাদে, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: রাশ টানা যায়নি হিন্দু নির্যাতন, লাভ জেহাদে, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ। ভারত তো বটেই, বিশ্বের বহু অঞ্চলেও এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ৩১ মে থেকে ৬ জুন, ২০২৬ – পর্যন্ত পর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার জলছবি।

    বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকে, বিশেষত বেঙ্গালুরু ও রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহলের দাবি, এই রাজ্যে ২০ লাখেরও বেশি নথিভুক্তহীন অভিবাসী অবৈধভাবে বসবাস করছে। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য, অবৈধ বসতি গঠন এবং অনুপ্রবেশকারী চক্রের নেপথ্যে যে রাজনৈতিক মদত রয়েছে, সেই অভিযোগকেই মান্যতা দেয়। এর জেরে শুরু হয়ে নতুন করে বিতর্ক। চলতি বছর বকরি ইদ উপলক্ষে নমাজ আদায়, সংযম ও আইন মেনে ধর্মীয় আচার পালনের প্রত্যাশা থাকলেও, দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা, হিংসা এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। বহু হিন্দু সংগঠন ও নাগরিকের দাবি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বারবার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

    ছাত্রীকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ

    ইডির টিটিআই (TTI) সংক্রান্ত তদন্তের পর ভারতে পরিচালিত বিদেশি চার্চ-সমর্থিত ধর্মান্তর কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তে টিটিআইয়ের আর্থিক কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চার্চ, মিশনারি সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক ছাত্রীকে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে বিয়ে করার এবং পরে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয় গোপন করেছিল। পরিচয় দিয়েছিল হিন্দু বলে। প্রেমের সেই ফাঁদে পায় দেয় ওই ছাত্রী। তার পরেই খসে পড়ে অভিযুক্তের মুখোশ। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (Hindus Under Attack)।

    বকরি ইদে হিংসা

    তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেজি অরুণরাজ কবি-সন্ত তিরুভাল্লুভরকে গেরুয়া পোশাকে চিত্রিত করার বিরোধিতা করেছেন (Roundup Week)। একটি অনুষ্ঠানে তিরুভাল্লুভরের গেরুয়া বস্ত্রপরিহিত প্রতিকৃতি প্রদর্শনের পর তিনি জানান, ‘তিরুক্কুরাল’ সমগ্র মানবজাতির নৈতিক ও আদর্শগত মূল্যবোধের প্রতীক। তাই এঁকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা উচিত নয়। উত্তরপ্রদেশের বালরামপুরে বকরি ইদের দিন ধনরাজ মৌর্য নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন মুসলমান যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আসিফ, সাজিদ, মাজিদ এবং সলিম-সহ কয়েকজনের মারের চোটে গুরুতর জখম হাসপাতালে ভর্তি হন ধনরাজ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মারা যান তিনি। আসিফদের হাতে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)।

    ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে চাপ

    উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন জেলার বিকাশনগরে এক মহিলাকে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে ধর্ষণ এবং (Roundup Week) পরে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে চাপ দেওয়ার অভিযোগে দানিশ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তেলঙ্গানার নারায়ণপেটে এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কয়েকটি সংগঠন ঘটনাটিকে ‘লাভ জেহাদে’র পরিণতি বলে দাবি করলেও, পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। লাভ জেহাদের অভিযোগের সত্যতাও নিশ্চিত হয়নি। তবে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে ফাসিউদ্দিন নামে বছর আঠারোর এক সদ্য যুবককে (Hindus Under Attack)।

    পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণের দাবি

    কাঞ্চিপুরমের বরদরাজা পেরুমল মন্দিরে বৈকাসি ব্রহ্মোৎসব উপলক্ষে নির্ধারিত ইয়ালি বাহন শোভাযাত্রা বাতিল হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে, হিন্দু রিলিজিয়াস অ্যান্ড চ্যারিটেবল এনডাওমেন্টস (HR&CE) বিভাগের আধিকারিকরা মন্ত্রীর নির্দেশেই শতাব্দীপ্রাচীন এই শোভাযাত্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কের। উইপ্রো টেকনোলজিসের পুনে অফিসের এক প্রাক্তন কর্মী কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, ধর্মীয় বৈষম্য এবং জবরদস্তিমূলক আচরণের অভিযোগ এনে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন। পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। অভিযোগে তিনি ‘কর্পোরেট জেহাদে’র প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন (Roundup Week)। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (Hindus Under Attack)।

    হিন্দুবিরোধী মনোভাবের জন্ম

    অনেকের মতে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অধিকাংশ বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে কাজ করে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে উৎসারিত হিন্দুবিরোধী মনোভাব। তাঁদের দাবি, ইসলামি রাষ্ট্রগুলিতে হিন্দুবিরোধী বৈষম্য তুলনামূলকভাবে দৃশ্যমান হলেও, ভারত-সহ কিছু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দুবিরোধী প্রবণতা রয়েছে, যা হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষ ও বৈষম্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে থাকা এমন সব সূক্ষ্ম বৈষম্য অবশ্য সহজে চোখে পড়ে না। তবে প্রচলিত আইন, নীতিমালা ও বিভিন্ন ঘটনার ধারা বিশ্লেষণ করলে এই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গের উল্লেখ করা যায়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি বাহ্যিকভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, অন্যান্য উৎসবের ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি অনুসরণ (Roundup Week)এবং নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় এতে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • ISI Terror Plot: পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার ৯ জঙ্গি

    ISI Terror Plot: পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার ৯ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানভিত্তিক একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ন’জন জঙ্গিকে (ISI Terror Plot) গ্রেফতার করল দিল্লি (Delhi) পুলিশের স্পেশাল সেল। তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই এবং মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিছু এলিমেন্টের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁরা জানান, অভিযুক্তরা দিল্লি, মুম্বই এবং দেশের অন্যান্য বড় শহরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।

    কলকাঠি নাড়া হচ্ছিল সীমান্তের ওপার থেকে (ISI Terror Plot)

    তদন্তকারীদের দাবি, এই গোষ্ঠী সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত করা। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ সেলের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্র ও বিস্ফোরক। উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে উন্নতমানের পিস্তল, গ্রেনেড এবং জঙ্গি কার্যকলাপ চালাতে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস।

    পাক-সমর্থিত অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা পাক-সমর্থিত অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে নির্দেশনা পাচ্ছিল। আধিকারিকদের সন্দেহ, এই চক্রটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল (ISI Terror Plot)। সূত্রের খবর, ধৃতরা দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও পাঞ্জাব-সহ বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা। এদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশিও রয়েছে।  তবে পুলিশ এখনও তাদের পরিচয় এবং তারা কোন দেশের নাগরিক, তা জানায়নি (Delhi)। তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের সঙ্গে মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্ভাব্য সম্পর্কও খতিয়ে দেখছেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অনুমান, এই নেটওয়ার্কটি লজিস্টিক সহায়তা, অর্থায়ন এবং গোষ্ঠীর সদস্যদের চলাচলের জন্য অপরাধ চক্রের সাহায্য নিতে পারে।

    স্ক্যানারে চক্রের নেটওয়ার্ক

    স্পেশাল সেল বর্তমানে অর্থের উৎস ও প্রবাহ, যোগাযোগের রেকর্ড এবং এই চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই চক্রের আরও কেউ সক্রিয় রয়েছে কি না। অভিযুক্তরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলির রেকি করেছে কি না (ISI Terror Plot)। তদন্তকারীরা এই অভিযানকে সম্ভাব্য একটি জঙ্গি ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য বলে বর্ণনা করেছেন। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নেটওয়ার্কটির ব্যাপ্তি এবং সীমান্তপারের যোগাযোগের যে অভিযোগ উঠেছে, তার মাত্রা মূল্যায়ন করে চলেছে (Delhi)। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধারকরা সামগ্রী বিশ্লেষণ করে পুলিশ আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (ISI Terror Plot)।

     

  • Amit Shah: সীমান্তে কড়া অ্যাকশন অমিত শাহের, ১৫ কিমির মধ্যে সব অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ

    Amit Shah: সীমান্তে কড়া অ্যাকশন অমিত শাহের, ১৫ কিমির মধ্যে সব অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি সীমান্ত জেলায় বেআইনি আর্থিক লেনদেন, জাল আধার চক্র, মাদক পাচার, অনুপ্রবেশ এবং ভুয়ো সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাজস্থানের বিকানেরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে এই নির্দেশ দেন অমিত শাহ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক, পাঁচ সীমান্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা। এই পাঁচ জেলা হল বিকানের, জয়সলমের, বারমের, শ্রীগঙ্গানগর এবং ফলোদি।

    ১৫ কিমি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ

    বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বেআইনিভাবে তৈরি হওয়া সমস্ত নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এই ধরনের সমস্ত অবৈধ কাঠামো চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ নির্মাণ অনেক সময় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং জঙ্গি কার্যকলাপের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই এই ধরনের নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ব্যাঙ্ক লেনদেন ও ভুয়ো সংস্থার উপর কড়া নজর

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসকদের আরও বেশি ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় সমস্ত ব্যাঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বৈধতা খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির অর্থের উৎস যাচাই, ভুয়ো সংস্থা বা শেল কোম্পানি শনাক্ত করা, মিউল অ্যাকাউন্টের সন্ধান এবং জাল আধার কার্ড চক্র ধরতে হবে প্রশাসনকে। আধিকারিকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনেক সময় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান চালানো হয়। সেই কারণেই আর্থিক নজরদারিকে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা হচ্ছে।

    মাদক পাচার ও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

    বৈঠকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিকে মাদক পাচার ও অপরাধ চক্রের উৎস, নেটওয়ার্ক এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান নয়, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ ফের মাথাচাড়া না দেয়, সেই লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তৈরির উপর জোর দিয়েছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘সীমান্ত সুরক্ষা শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ নয়, এর সঙ্গে সাধারণ মানুষ, প্রশাসন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও একযোগে কাজ করতে হবে। সেই কারণে প্রতিটি সীমান্ত জেলার জন্য ‘৩৬০ ডিগ্রি সিকিউরিটি কভার’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

    বিএসএফ, এনসিবি ও কর দফতরের যৌথ সমন্বয়ের উপর জোর

    অমিত শাহ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিএসএফ, সিবিডিটি, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, জমি দখল, জঙ্গি অর্থায়ন এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ কৌশল গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম-২ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ

    সীমান্তবর্তী গ্রামের উন্নয়নেও জোর দিয়েছে কেন্দ্র। বৈঠকে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম-২’ দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য সীমান্ত গ্রামের পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, অর্থনৈতিক অপরাধ রোধ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। শাহ নির্দেশ দেন, সীমান্ত গ্রামের প্রতিটি পরিবার যাতে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ‘স্যাচুরেশন’ নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

    সাইবার অপরাধ রুখতে ‘১৯৩০’ হেল্পলাইনের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ

    সাইবার অপরাধ মোকাবিলাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ দেন, জাতীয় সাইবার প্রতারণা হেল্পলাইন ‘১৯৩০’-এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধ রুখতে এই ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে।

    দু’মাস পর ফের পর্যালোচনা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, আগামী দু’মাস পর এই সমস্ত নির্দেশের অগ্রগতি নিয়ে ফের পর্যালোচনা বৈঠক করা হবে। তাই প্রতিটি জেলাকে ফলপ্রসূ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন অমিত শাহ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা রাজস্থানের মরু অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচার, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্র এবার আরও কড়া নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ করছে।

LinkedIn
Share