Tag: news in bengali

news in bengali

  • Kali Puja 2026: অমাবস্যা পড়ছে কখন? জেনে নিন কালীপুজোর নির্ঘণ্ট ও নিশীথপুজোর সময়

    Kali Puja 2026: অমাবস্যা পড়ছে কখন? জেনে নিন কালীপুজোর নির্ঘণ্ট ও নিশীথপুজোর সময়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারই শ্যামাপুজো (Kali Puja 2026)। উৎসবের প্রস্তুতিতে সেজে উঠছে শহর থেকে শহরতলি। পাড়ায় পাড়ায় তৈরি মণ্ডপ, চলছে প্রতিমা সাজানোর শেষ মুহূর্তের কাজ। তবে পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি অনেকের মনেই রয়েছে একটি প্রশ্ন—এ বছর অমাবস্যা তিথি কখন শুরু হচ্ছে? কলকাতায় নিশীথপুজোর শুভ সময়ই বা কখন? ২০২৬ সালে ৮ নভেম্বর, রবিবার পালিত হবে কালীপুজো। দৃক পঞ্চাঙ্গের কলকাতার সময়সূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে শুরু হচ্ছে অমাবস্যা তিথি। এই তিথি স্থায়ী হবে পরের দিন, অর্থাৎ ৯ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। ফলে রবিবার রাতেই হবে শ্যামাপুজো।

    কালীপুজোর নির্ঘণ্ট একনজরে

    • কালীপুজো: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
    • অমাবস্যা তিথি শুরু: ৮ নভেম্বর, সকাল ১১টা ২৭ মিনিট
    • অমাবস্যা তিথি শেষ: ৯ নভেম্বর, দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট
    • কলকাতায় নিশীথপুজোর সময়: ৮ নভেম্বর, রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট

    নিশীথকাল মানেই কি রাত ১২টা?

    কালীপুজোর সঙ্গে গভীর রাতের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তবে পঞ্জিকা অনুযায়ী নিশীথকাল বলতে ঠিক রাত ১২টাকে বোঝায় না। স্থানীয় সূর্যাস্ত এবং পরের দিনের সূর্যোদয়ের সময়ের হিসাব ধরে রাতের মধ্যভাগ নির্ধারণ করা হয়। সেই কারণেই বিভিন্ন শহরে নিশীথপুজোর সময়ের কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কলকাতার ক্ষেত্রে এ বছর নিশীথপুজোর নির্ধারিত সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত।

    কখন পুজোয় বসবেন?

    বাড়িতে কালীপুজোর আয়োজন হোক কিংবা পাড়ার বারোয়ারি পুজো, সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুরোহিতের পরামর্শ এবং অনুসৃত পঞ্জিকার নিয়ম মেনে চলাই ভাল। বিভিন্ন মন্দিরে নিজস্ব রীতি অনুযায়ী পুজোর সময় নির্ধারিত হতে পারে। তাই মন্দিরের পুজোয় অংশ নিতে চাইলে আগে থেকেই সময় জেনে নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, অমাবস্যা তিথির শুরু ও শেষের সময় এবং নিশীথপুজোর মুহূর্ত এক নয়। আবার কলকাতার সময়সূচি অন্য শহরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই পুজোর প্রস্তুতির আগে নিজের এলাকার পঞ্জিকা ও নির্দিষ্ট পুজোর সময় মিলিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।

  • Deepotsav In Ayodhya: ২১০০ ড্রোনের রামায়ণ প্রদর্শনী! ১০ম দীপোৎসবে ৩০ লক্ষ প্রদীপে আলোকিত অযোধ্যা

    Deepotsav In Ayodhya: ২১০০ ড্রোনের রামায়ণ প্রদর্শনী! ১০ম দীপোৎসবে ৩০ লক্ষ প্রদীপে আলোকিত অযোধ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪ বছরের বনবাস শেষে অযোধ্যায় রামচন্দ্রের প্রত্যাবর্তনের স্মরণে দীপাবলির (Deepotsav In Ayodhya) আবহে সেজে উঠছে রামনগরী। দশম বর্ষের দীপোৎসব উপলক্ষে শনিবার, ৭ নভেম্বর, অযোধ্যায় জ্বালানো হবে ৩০ লক্ষেরও বেশি মাটির প্রদীপ। সরযূ নদীর তীর থেকে রাম কি পৈড়ি-সহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চলেছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আলোর উৎসবকে বর্ণময় করে তুলতে থাকছে ২১০০টি ড্রোনের বিশেষ প্রদর্শনী, রামায়ণের বিভিন্ন দৃশ্যের উপস্থাপনা এবং পাঁচটি দেশের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গত ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এই দীপোৎসব। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এবারের আয়োজনকে বিশেষ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

    দশম বর্ষে দীপোৎসব

    ২০১৭ সালে প্রথম দীপোৎসবে প্রায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার প্রদীপ জ্বালানো হয়েছিল। সেখান থেকে সংখ্যাটা বেড়ে এ বছর পৌঁছেছে ৩০ লক্ষেরও বেশি। অযোধ্যার ৫৬টি ঘাট জুড়ে জ্বলবে এই প্রদীপ। উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৫ সালে ২৬ লক্ষ ১৭ হাজার প্রদীপ জ্বালিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছিল অযোধ্যা। এ বছর সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রদীপ জ্বালানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন অযোধ্যার বিভিন্ন কলেজের প্রায় ৩৫ হাজার পড়ুয়া। রাম কি পৈড়ির ৫৬টি ঘাটে প্রদীপ সাজানো এবং উৎসবের অন্যান্য প্রস্তুতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তাঁরা।

    সরযূ নদীর তীরে মহাআরতি

    এবারের দীপোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ সরযূ নদীর তীরে মহাআরতি। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ২১৪৭ জন। জনপ্রতিনিধি, কাউন্সিলর এবং সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে আরতির অনুষ্ঠান। আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনও থাকছে এবারের উৎসবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, লাওস এবং থাইল্যান্ডের রামলীলা দল অংশ নেবে অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ২১০০টি ড্রোনের সাহায্যে রাতের আকাশে ফুটিয়ে তোলা হবে রামায়ণের বিভিন্ন পর্ব। ড্রোনের সমন্বিত আলোকসজ্জা ও বিশেষ বিন্যাসে তুলে ধরা হবে মহাকাব্যের নানা দৃশ্য। এ ছাড়াও থাকবে ভাসমান মঞ্চে রামচন্দ্রের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনের কাহিনি। নৃত্য, সঙ্গীত এবং হিন্দি ভাষায় বর্ণনার মাধ্যমে পরিবেশিত হবে সেই বিশেষ অনুষ্ঠান। থাকছে আট মিনিটের লেজার শো, ২০ মিনিটের প্রজেকশন ম্যাপিং এবং সঙ্গীতের তালে আতশবাজির প্রদর্শনী।

    ১৩টি থিমভিত্তিক প্রবেশদ্বার

    শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় তৈরি করা হয়েছে ১৩টি থিমভিত্তিক প্রবেশদ্বার এবং ২০টি সেলফি পয়েন্ট। লতা মঙ্গেশকর চক থেকে রাম কি পৈড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় রামায়ণের নানা ঘটনার আদলে তৈরি হয়েছে বিশেষ ইনস্টলেশন। সাতটি কাণ্ডের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে ২২টি ট্যাবলো। সেখানে থাকবে রামরথ, রাম দরবার এবং পুষ্পক বিমানের প্রতিরূপ। রামকথা পার্কে থাকছে বালির ভাস্কর্য এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় শিল্পকর্ম।

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ২৫০০ শিল্পী

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রায় ২৫০০ শিল্পী। শহরের ১২টি মঞ্চে চলবে অনুষ্ঠান। এর মধ্যে ছ’টি ছোট, চারটি মাঝারি এবং দু’টি বড় মঞ্চ। উত্তরপ্রদেশের ১৬টি জেলার শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যের শিল্পীরাও অংশ নেবেন। কর্নাটকের ডোল্লু কুনিথা, রাজস্থানের ঘুমর, বিহারের ঝিঝিয়া, পিলিভীতের থারু লোকসংস্কৃতি এবং গোরক্ষপুরের বনটাঙ্গিয়া সম্প্রদায়ের পরিবেশনা বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০০০টি শিল্পীদলও এই উৎসবে অংশ নেবে বলে জানা গিয়েছে।

    বিশেষ ড্রোন শোয়ের আয়োজন

    শনিবার মূল অনুষ্ঠান হলেও ৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে দীপোৎসব। ৮ নভেম্বরও থাকছে একাধিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। অন্যদিকে, ৯ নভেম্বর শুধুমাত্র অযোধ্যার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ড্রোন শোয়ের আয়োজন করা হয়েছে। দীপোৎসবে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশে নিযুক্ত ৩৪ জন ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দীপোৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। অযোধ্যার গিয়াসপুর এবং বারাবাঁকির কাজিয়াপুর ও ভাগড় ঝিল এলাকার ২৫ জন মহিলা মৃৎশিল্পীর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার প্রদীপের বরাত দেওয়া হয়েছে। যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। প্রদীপ উৎপাদন বাড়াতে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৯৭ জন মৃৎশিল্পীকে বৈদ্যুতিক কুমোরের চাকা দেওয়া হয়েছে।

    ৩০ লক্ষেরও বেশি প্রদীপে আলোকিত অযোধ্যা

    উত্তরপ্রদেশের পর্যটন, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিষয়ক দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অমৃত অভিজাত জানিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য অযোধ্যার পরিকাঠামো আরও উন্নত করাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, পর্যটন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ যাতায়াত, নির্ভরযোগ্য পরিষেবা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয়তার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সব মিলিয়ে, ধর্মীয় আবেগ, লোকসংস্কৃতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে দশম দীপোৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রস্তুত অযোধ্যা। ৩০ লক্ষেরও বেশি প্রদীপের আলোয় সরযূর তীর হয়ে উঠবে আলোকময়।

  • CJP Protests: বিদেশি অর্থে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ, ‘আরশোলা’ পার্টিকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    CJP Protests: বিদেশি অর্থে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ, ‘আরশোলা’ পার্টিকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়াতে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা এবং ভারতবিরোধী নেটওয়ার্কের কাছ থেকে বেআইনি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিরুদ্ধে (CJP Protests)। অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং স্বয়ং। তাঁর দাবি, বিদেশি অর্থপুষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গোপন রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং ভারতবিরোধী শক্তির মদতে (Pakistan Linked Funding) সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচার চালানো হচ্ছে।

    বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ! (CJP Protests)

    সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র সিং দাবি করেন, ককরোচ জনতা পার্টির কার্যকলাপ বৃহত্তর একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি অর্থপুষ্ট বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গোপন রাষ্ট্রীয় তৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তিরা এবং ভারতবিরোধী শক্তি একযোগে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির চেষ্টা করছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, “তাদের বেআইনি ও অননুমোদিত বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ জোগানো হচ্ছে, যার মধ্যে দেশের ভিতরে ও বাইরে সক্রিয় ভারতবিরোধী সংগঠনও রয়েছে। বিদেশি অর্থপুষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ভারতবিরোধী শক্তিগুলি পরিকল্পিতভাবে এই প্রচার চালাচ্ছে। অভিজিৎ দীপকে আমেরিকাভিত্তিক অনুদানকারীদের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন এবং আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তানি রাজনীতিকদের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন।”

    বিজেপির মুখপাত্র তুহিন এ সিনহাও ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, উৎসবের মরশুমে দেশের রাজধানীতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতেই সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলি পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত করা হয়েছিল।

    বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্য!

    সিনহার কথায়, “গত এক মাস ধরে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরি করা। উৎসবের মরশুমে দেশের রাজধানীতে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা চলেছে। এর পিছনে যে অসৎ উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পিত অভিসন্ধি ছিল, তা স্পষ্ট।”

    এর আগে নিষিদ্ধ খালিস্তানপন্থী সংগঠন শিখস ফর জাস্টিসের প্রধান গুরপতবন্ত সিং পান্নুন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ আন্দোলনে ১০ লাখ মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন বলে খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধকৌশলের অংশ হিসেবেই এই আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছিল বলে (CJP Protests) জানা গিয়েছে।

    এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে আইনি পদক্ষেপও শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। তাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।

    পুলিশি পদক্ষেপ

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন সংগঠনের সদস্যরা। সেই (Pakistan Linked Funding) বিক্ষোভের জেরেই পুলিশের এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

    এর আগে অক্টোবর মাসেও সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। পরে ৫০ হাজার টাকা করে মুচলেকা দিয়ে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে পুলিশের অভিযোগ, মুক্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে প্রবেশ করে (CJP Protests) মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেন।

     

  • Ladakh Rail: লাদাখে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন! উচ্চতা ১৭,২৪৪ ফুট, চিনের রেকর্ড ভাঙার পথে ভারত

    Ladakh Rail: লাদাখে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন! উচ্চতা ১৭,২৪৪ ফুট, চিনের রেকর্ড ভাঙার পথে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে রেল যোগাযোগের নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে ভারত। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লাদাখে (Ladakh Rail) তৈরি হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা হবে প্রায় ১৭,২৪৪ ফুট বা ৫,২৫৬ মিটার। এর ফলে চিনের তিব্বতে অবস্থিত বিশ্বের বর্তমান সর্বোচ্চ রেলস্টেশন (World’s Highest Railway Station) তাংগুলার রেকর্ড ভেঙে যাবে। লাদাখ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে আরও একবার জায়গা করে নেবে ভারতীয় রেল। কেন্দ্রীয় আধিকারিক সূত্রে খবর, বিলাসপুর-মানালি-লে রেলপথ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    আনুমানিক খরচ প্রায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকা

    প্রস্তাবিত এই রেলপথ (Ladakh Rail) হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর থেকে শুরু হয়ে মানালি, সিসু, দারচা, কেলং, সারচু, পাং, রুমসে, উপশি এবং খারু হয়ে পৌঁছবে লেহতে। মোট ৪৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা ও নির্মাণ সংক্রান্ত রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি হয়ে গিয়েছে। সমীক্ষার কাজও শেষ। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, এই প্রকল্পে খরচ হতে পারে প্রায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

    বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন!

    এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ টাংলাং লা গিরিপথের নীচে প্রস্তাবিত রেলস্টেশন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,২৫৬ মিটার উচ্চতায় তৈরি হলে এটিই হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন (World’s Highest Railway Station)। বর্তমানে এই রেকর্ড রয়েছে চিনের তিব্বতে অবস্থিত তাংগুলা রেলস্টেশনের দখলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ৫,০৬৮ মিটার। অর্থাৎ, চিনের সেই রেকর্ডের থেকেও প্রায় ১৮৮ মিটার বেশি উচ্চতায় রেলস্টেশন তৈরি করতে চলেছে ভারত।

    রেলপথের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পাহাড়ের ভিতরে

    ভারতের অন্যতম উচ্চতম মোটরযান চলাচলের উপযোগী গিরিপথ টাংলাং লা লে-মানালি জাতীয় সড়কের উপর অবস্থিত। তবে সেখানে রেলপথ তৈরি করা মোটেই সহজ কাজ নয়। বরং ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং পাহাড়ের গঠন নির্মাণকাজকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে। প্রস্তাবিত রেলপথের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার অংশ সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, মোট রেলপথের অর্ধেকেরও বেশি অংশ থাকবে পাহাড়ের ভিতরে।

    ভারতীয় রেলের অন্যতম কঠিন প্রকল্প

    হিমালয়ের কঠিন ভূপ্রকৃতি, পাহাড়ের ভিতরের শিলাস্তরের অনিশ্চয়তা, খাড়া ঢাল এবং প্রচণ্ড ঠান্ডার সঙ্গে মোকাবিলা করেই এগোতে হবে নির্মাণকাজ। ফলে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি ভারতীয় রেলের অন্যতম কঠিন প্রকল্প হতে চলেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ

    শুধু পর্যটন নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও এই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। লাদাখ ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী অঞ্চল। বর্তমানে দেশের অন্যান্য অংশ থেকে লেহতে পৌঁছনোর প্রধান মাধ্যম সড়ক ও বিমানপথ। শীতকালে তুষারপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মানালি-লে সড়কপথে যাতায়াত অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রেল যোগাযোগ চালু হলে যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী, নির্মাণের উপকরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হবে। কমবে পরিবহণের খরচ। উপকৃত হবেন হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা। পর্যটনের প্রসার, স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই রেলপথের ভূমিকা

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলপথের মাধ্যমে দ্রুত ও বৃহৎ পরিমাণে সেনা, অস্ত্র, জ্বালানি এবং ভারী সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে লাদাখের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। এমনকী রেলপথের কয়েকটি স্টেশনে সামরিক প্রয়োজনে বিশেষ লুপ লাইন তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এখনও এই প্রকল্পের নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। কবে কাজ শুরু হবে বা কবে শেষ হবে, তা-ও নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

    রেল যোগাযোগে গত এক দশকে বড় পরিবর্তন

    লাদাখের এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের পাশাপাশি গত এক দশকে দেশের রেল পরিকাঠামো সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি কেন্দ্রের। ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে ৩৪,৪২৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন চালু হয়েছে। তুলনায় ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে নতুন রেললাইন চালু হয়েছিল ৭,৫৯৯ কিলোমিটার। অর্থাৎ, আগের পাঁচ বছরের তুলনায় নতুন রেললাইন সম্প্রসারণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেলপথ এবং মিজোরামের বাইরাবি-সাইরাং রেলপথের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্গম এলাকাও দেশের রেল মানচিত্রে যুক্ত হয়েছে। একসময় ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে যে সমস্ত অঞ্চলে রেল যোগাযোগ পৌঁছনো কঠিন ছিল, সেখানে এখন ট্রেন চলাচলের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    রেললাইনের সংস্কার ও পুনর্নবীকরণ

    ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৫৪,৬০০ কিলোমিটার রেললাইনের সংস্কার ও পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৮৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রেলপথে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে ট্রেন চালানোর পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ৩১,৪৪৫ কিলোমিটার। ফলে ট্রেন চলাচলের গতি ও দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

    বন্দে ভারত, দেশে প্রথম সেমি হাইস্পিড ট্রেন 

    ২০১৯ সালে দেশে প্রথম সেমি হাইস্পিড ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু করে কেন্দ্র। দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদনের উপর জোর দিয়ে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় তৈরি এই ট্রেন ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে বন্দে ভারত পরিষেবা। যাত্রীদের জন্য দ্রুত ও উন্নতমানের রেল পরিষেবার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    উত্তর-পূর্ব রেল মানচিত্রে নতুন সংযোজন

    উত্তর-পূর্ব ভারতেও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। মিজোরামের সাইরাং পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হওয়া তার অন্যতম উদাহরণ। অন্যদিকে, সিকিমও শীঘ্রই দেশের রেল মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে সেভক-রংপো রেলপথের মাধ্যমে। কাশ্মীর উপত্যকাকেও দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করা হয়েছে। ভারত ও ভুটানের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    রেলপথের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ বিদ্যুতায়ন

    রেল পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে আরও একটি বড় পদক্ষেপ হল রেলপথের বিদ্যুতায়ন। বর্তমানে দেশের ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ বিদ্যুতায়িত। ২০১৪ সালের আগে এই হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। এর ফলে ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমেছে। বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিচালনায় খরচও তুলনামূলকভাবে কম। কেন্দ্রের দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রেলের বিদ্যুতায়নের ফলে প্রায় ১৮০ কোটি গ্যালন ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে। ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিচালনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কম খরচ হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে বছরে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

    পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর

    পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (ডিএফসি)। পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের শেষ তিনটি অংশ গত সেপ্টেম্বরে দেশকে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০৬ সালে তৎকালীন মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল। জমি অধিগ্রহণ, চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্মাণের নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল কাজ। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য, রেলপথের বিদ্যুতায়ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বিদেশ থেকে তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতেও সাহায্য করেছে।

    চেনাব সেতুর পর লাদাখে নতুন রেকর্ডের অপেক্ষা

    ইতিমধ্যেই বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল আর্চ ব্রিজের মালিক ভারত। জম্মু-কাশ্মীরে চেনাব নদীর উপর নির্মিত চেনাব রেল সেতু নদীর জলস্তর থেকে প্রায় ১,১৭৮ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। উচ্চতার নিরিখে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের থেকেও প্রায় ৩৫ মিটার উঁচু এই সেতু। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সেতুর উদ্বোধন করেন। এবার বিলাসপুর-মানালি-লে রেলপথ (Ladakh Rail) বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশনের (World’s Highest Railway Station) রেকর্ডও ভারতের দখলে আসবে। তবে তার আগে রয়েছে কঠিন নির্মাণ চ্যালেঞ্জ, বিপুল আর্থিক বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের প্রশ্ন। সব বাধা অতিক্রম করে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় রেলের ইতিহাসে তা নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

  • Anti Indian Rhetoric: ভারত-বিদ্বেষের খেসারত! ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের সমর্থন হারাচ্ছে ট্রাম্প শিবির, দাবি ডেমোক্র্যাট নেতার

    Anti Indian Rhetoric: ভারত-বিদ্বেষের খেসারত! ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের সমর্থন হারাচ্ছে ট্রাম্প শিবির, দাবি ডেমোক্র্যাট নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ বা ‘আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রিপাবলিকানদের একাংশের ভারতবিরোধী প্রচার নির্বাচনে তাঁদের জন্য বুমেরাং হয়ে উঠেছে বলে দাবি করলেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর বক্তব্য (Anti Indian Rhetoric), ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে বৈষম্য ও বিদ্বেষের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। তার প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনী রাজনীতিতে (MAGA)।

    এক সাক্ষাৎকারে কৃষ্ণমূর্তি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য সতর্কবার্তা। বিশেষ করে যাঁরা ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রেখেছেন, তাঁদের এই ফল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

    টেক্সাসের রেলপথ কমিশনার পদের নির্বাচনের প্রসঙ্গ (Anti Indian Rhetoric)

    নিজের বক্তব্যের সমর্থনে টেক্সাসের রেলপথ কমিশনার পদের নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ওই নির্বাচনে ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত বো ফ্রেঞ্চের পরাজয়কে ভোটারদের প্রতিবাদের উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর কথায়, “সাম্প্রতিক সময়ে আমরা সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভারতবিদ্বেষী ব্যক্তিকে দেখেছি। তিনি টেক্সাসের রেলপথ কমিশনার পদে নির্বাচনে লড়েছিলেন। কিন্তু জন রোজেনথালের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “জন রোজেনথাল নিঃসন্দেহে একজন ভালো প্রার্থী ছিলেন। তবে আমার বিশ্বাস, বো ফ্রেঞ্চের বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের ক্ষোভও তাঁর জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।”

    বিদ্বেষের মূল্য চোকাতে হতে পারে

    কৃষ্ণমূর্তির মতে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ালে তার রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হতে পারে রিপাবলিকান প্রার্থীদের। এই ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “দয়া করে এই পথে এগোবেন না। নইলে নির্বাচনে আপনাদেরও এর ফল ভোগ করতে হবে।”

    তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানেই বৈষম্য ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরব থাকবেন। তবে নির্বাচনের ফলের এই ব্যাখ্যা যে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন, তা-ও স্পষ্ট। ভারতবিরোধী প্রচারই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ, এমন কোনও প্রমাণিত তথ্য তিনি তুলে ধরেননি।

    ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটাররা?

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের মধ্যে হিন্দুবিদ্বেষ এবং এশীয়বিরোধী মনোভাব বাড়ার কারণে তাঁদের ভোটদানের প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে কৃষ্ণমূর্তি বলেন, “আমি নিশ্চিতভাবে জানি না।” তবে তাঁর পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের মধ্যে নিজেদের সম্প্রদায়কে ঘিরে বিরূপ মনোভাব ও বৈষম্যের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।

    কৃষ্ণমূর্তির অনুমান, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের হার কমে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তা ফের বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। তাঁর কথায়, “আমার ধারণা, এই পরিস্থিতি তাঁদের ভোটদানের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।” তবে এই পরিসংখ্যানগুলি কৃষ্ণমূর্তির ব্যক্তিগত অনুমান। এগুলির সমর্থনে কোনও পরিসংখ্যান (Anti Indian Rhetoric) তিনি পেশ করেননি।

    ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী কৃষ্ণমূর্তি

    ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শিবিরের সমালোচনা করলেও, ওয়াশিংটনে ভারতের প্রতি দ্বিদলীয় সমর্থন এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মনে করেন কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর কথায়, “আমি মনে করি, ভারতের প্রতি আমেরিকায় এখনও দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যেই যথেষ্ট জোরালো সমর্থন রয়েছে।”

    তবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীদের প্রতি বিরূপ আচরণ, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

    সাক্ষাৎকারে ইলিনয়ের অরোরা শহরের একটি হিন্দু মন্দিরে গণহত্যার চেষ্টার প্রসঙ্গও তোলেন কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর দাবি, অস্ত্রধারী এক হামলাকারী মন্দিরে পৌঁছনোর সময় তিনি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    সবশেষে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের আরও বেশি করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান (MAGA) তিনি। তাঁর মতে, বৈষম্য ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে জাতীয় আইনসভা পর্যন্ত সর্বস্তরে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো জরুরি। তবেই (Anti Indian Rhetoric) তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুত করা সম্ভব হবে বলেই মনে করেন কৃষ্ণমূর্তি।

     

  • Turkish Parliament: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে সেনা পাঠাতে হবে আঙ্কারাকে? সৌদি-পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে উত্তাল তুরস্কের সংসদ

    Turkish Parliament: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে সেনা পাঠাতে হবে আঙ্কারাকে? সৌদি-পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে উত্তাল তুরস্কের সংসদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনও যুদ্ধ বাঁধলে তাতে তুরস্কের সেনাবাহিনীকে অংশ নিতে হতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (Turkish Parliament) সংসদের অনুমোদন ঘিরেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তুরস্কের বিরোধী সাংসদদের আশঙ্কা, এই চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জন্য আঙ্কারার উপর চাপ তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের তরুণদের অন্য দেশের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার লড়াইয়ে বলি না করার জন্য প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে সতর্ক করেছেন (Pakistan) বিরোধী নেতারা।

    যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Turkish Parliament)

    গত ৭ অগাস্ট সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ১৬টি ধারাসংবলিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ৫ নভেম্বর তুরস্কের সংসদে এই চুক্তির অনুমোদনের পক্ষে ভোট পড়ে ২৭৯টি, বিপক্ষে ১১৯টি। মোট ৫৯২ সদস্যের সংসদে ভোটদানে অংশ নেন ৩৯৮ জন সাংসদ। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং তাদের সহযোগী ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি এই চুক্তিকে সমর্থন করে। তবে বিরোধী সাংসদদের একাংশের প্রশ্ন, পাকিস্তান ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে কোনও সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তুরস্কের কী ধরনের দায়িত্ব তৈরি হবে?

    কুর্দিপন্থী পিপলস ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির নেতা গুলিস্তান কিলিচ কোচাইগিত সংসদে চুক্তির অনুমোদনের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, অন্য দেশের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য তুরস্কের তরুণদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।

    চুক্তির শর্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কোকায়েলির সাংসদ লুৎফু তুর্ককানও। তাঁর আশঙ্কা, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশনীতি এবং সামরিক দায়িত্বের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত তৈরি হলে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তুরস্কের উপর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

    ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে জড়ানোর আশঙ্কা বিরোধীদের

    চুক্তির পারস্পরিক সহায়তার শর্ত নিয়েই বিরোধীদের মূল উদ্বেগ। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তান আক্রান্ত হলে তুরস্ককে কী ধরনের সহায়তা দিতে হবে, তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী সাংসদরা।

    তুর্ককানের প্রশ্ন, আগামী দশ বছরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, বিভিন্ন দেশের সরকার ও জোটের পরিবর্তন এবং পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের ওঠানামার মতো বিষয়গুলি বিবেচনা না করে তুরস্ক কেন দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হবে?

    চুক্তির আরও একটি শর্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। ওই শর্ত অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১০ বছর কোনও সদস্য দেশ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। তুর্ককানের মতে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলে গেলে এমন চুক্তি তুরস্কের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হয়ে উঠতে পারে। অথচ সেই পরিস্থিতিতেও দেশকে পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে বাধ্য হতে হবে।

    তবে চুক্তিতে ভারতকে সরাসরি কোনও শত্রুরাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। একইভাবে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলেই তুরস্ককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে যোগ দিতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতার কথাও স্পষ্টভাবে বলা নেই। বিরোধীদের আশঙ্কা, যৌথ প্রতিরক্ষার বিস্তৃত শর্তের কারণে সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তুরস্কের উপর চাপ তৈরি হতে পারে।

    চুক্তিতে কী কী শর্ত রয়েছে?

    চুক্তির প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলির কোনও একটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের উপর হুমকি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে অন্য (Turkish Parliament) সদস্য দেশগুলি।

    দ্বিতীয় ধারায় আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনও সদস্য দেশ অন্য কোনও দেশ বা দেশগুলির গোষ্ঠীর সশস্ত্র আক্রমণ কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে বাকি সদস্য দেশগুলিকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা করতে হবে।

    এ ছাড়াও চুক্তিতে একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— গোয়েন্দা তথ্যের আদানপ্রদান, সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া, সামরিক রসদ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন ও আদানপ্রদান এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ সহযোগিতা।

    তবে কোনও পরিস্থিতিতে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের নিজস্ব সম্পদ, সামরিক সক্ষমতা এবং সামর্থ্য বিবেচনায় রাখা হবে।

    অর্থাৎ, এই চুক্তির লক্ষ্য শুধু যুদ্ধকালীন পারস্পরিক সহায়তা নয়। বরং তিন দেশের মধ্যে নিয়মিত সামরিক যোগাযোগ, সমন্বয় এবং সহযোগিতার পরিসর আরও বাড়ানো। কোনও সম্ভাব্য হুমকি সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতে পরিণত হওয়ার আগেই যাতে তিন দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে, সেই ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে।

    সংসদের অনুমোদন ছাড়া কি তুরস্ক সেনা পাঠাতে পারবে?

    চুক্তি অনুমোদিত হলেও এর অর্থ এই নয় যে, অন্য কোনও সদস্য দেশ যুদ্ধে জড়ালেই তুরস্ক সরকার নিজের সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনী পাঠাতে পারবে।

    তুরস্কের সংবিধানের ৯২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণভাবে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিদেশে মোতায়েন করার জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে পাকিস্তানের সমর্থনে তুরস্ক সেনা পাঠাতে চাইলে সরকারকে সংসদে পৃথক প্রস্তাব পেশ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।

    তুরস্কের সরকারি মহলের বক্তব্য, দেশ কখন যুদ্ধে অংশ নেবে, সেই সিদ্ধান্ত অন্য কোনও রাষ্ট্র নিতে পারে না। সংসদের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে। ফলে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে যোগ দেওয়া নয়।

    তবে বিরোধীদের যুক্তি, সরাসরি সেনা পাঠানোর বাধ্যবাধকতা না থাকলেও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতির কারণে আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে আঙ্কারার উপর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে (Turkish Parliament) পারে।

    চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই!

    চুক্তির মেয়াদ ও তা থেকে বেরিয়ে আসার শর্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১০ বছর কোনও সদস্য দেশ একতরফাভাবে তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না।

    প্রথম ১০ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনও দেশ চুক্তি থেকে সরে আসতে চাইলে বাকি দুই সদস্য দেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে লিখিতভাবে জানাতে হবে। অন্তত তিন মাস আগে এই বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে।

    তুর্ককানের প্রশ্ন, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সামরিক জোট কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার বদলে গেলে তুরস্কের হাতে কতটা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে? বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে এই চুক্তি আঙ্কারাকে কঠিন কূটনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড় করাতে পারে বলেই তাঁর আশঙ্কা।

    সব মিলিয়ে, পাকিস্তান (Pakistan) ও সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্কের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও চুক্তিতে ভারতকে প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি এবং তুরস্কের সেনা মোতায়েনের জন্য সংসদীয় অনুমোদন বাধ্যতামূলক, তবুও ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের (Turkish Parliament) প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Mohammed Shami: সাদা জার্সিকে বিদায়, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর মহম্মদ শামির

    Mohammed Shami: সাদা জার্সিকে বিদায়, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর মহম্মদ শামির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। শুক্রবার রাতে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন ভারতের এই জোরে বোলার। দীপাবলির আগে ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন পোস্টে শামি লিখেছেন, “আমি সাদা জার্সি থেকে বিদায় নিচ্ছি। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত স্মৃতিগুলো রয়ে যাবে। যখন আমি প্রথম ভারতের টেস্ট জার্সি পরেছিলাম, তখন আমার একটাই স্বপ্ন ছিল— দেশের জন্য কিছু করা। তারপর থেকে প্রতিটা উইকেট, প্রতিটা লড়াই, প্রতিটা চোট এবং প্রতিটা প্রত্যাবর্তন আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে।” নিজের পোস্টে শামি লিখেছেন, “আমি সাদা জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছি, কিন্তু তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলিকে কখনও নয়।”

    অবসরের সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না

    অবসরের সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, তা-ও স্পষ্ট হয়েছে শামির (Shami Retirement) বার্তায়। লিখেছেন, “আজ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।” এই দীর্ঘ যাত্রায় যাঁরা পাশে থেকেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় পেসার। ভালো সময়ের পাশাপাশি কঠিন সময়েও যাঁরা তাঁর উপর আস্থা রেখেছেন, সেই ক্রিকেটপ্রেমীদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার ২০২৩ সালে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন। সেটি ছিল সে বারের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনাল। ২০১৩ সালে ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শামির। প্রথম টেস্টেই ৯টি উইকেট নিয়েছিলেন। মোট ছ’বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ২০১৮ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৬ রানে ৬ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং। ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্টে ২২৯টি উইকেট রয়েছে শামির।

    বিসিসিআই ও সিএবি-কে ধন্যবাদ

    ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং এই রাজ্যের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সিএবি-কে ধন্যবাদ জানিয়ে শামি লেখেন, “আমার উপর বিশ্বাস রাখা, আমাকে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া এবং আমার ক্রিকেট যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিসিসিআই এবং সিএবি-কে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থন এবং বিশ্বাস সব সময় আমার হৃদয়ে বিশেষ হয়ে থাকবে।” বাংলার এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তাঁর রাজ্যের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। যদিও জানা যাচ্ছে, শামি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে দেড় বছর আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি পাঁচ দিনের ক্রিকেটের ধকল আর নিতে পারছেন না। নির্বাচকেরাও জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁকে আর টেস্ট ক্রিকেটের জন‍্য বিবেচনা করা হচ্ছে না। চলতি রঞ্জি ট্রফিতে শামি তিন ম্যাচে ১৪টি উইকেট নিয়েছেন। এর আগে দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের হয়ে তিন ম্যাচে সাতটি উইকেট নিয়েছিলেন। শামি আধুনিক যুগের ভারতের অন্যতম সেরা এবং সফল ফাস্ট বোলার। নিখুঁত, সোজা সিম পজিশনে বলের পর বল করে গিয়েছেন শামি। যে কোনও পিচ থেকে মুভমেন্ট আদায় করার ক্ষমতা ছিল তাঁর। প্রায় এক দশক ধরে ভারতের পেস আক্রমণের মূল স্তম্ভ ছিলেন।

     

     

     

     

     

  • Amit Shah Attacks Rahul: ‘সত্যি আলোচনা চান, মোদিকে চিঠি লিখুন’, রাহুলকে পাল্টা বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

    Amit Shah Attacks Rahul: ‘সত্যি আলোচনা চান, মোদিকে চিঠি লিখুন’, রাহুলকে পাল্টা বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (SIR) নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে (Amit Shah Attacks Rahul) সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই ইস্যুতে আলোচনার জন্য কেন্দ্র সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হরিয়ানার কর্নালে বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির জনসভা থেকে এই বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অযৌক্তিক জটিলতা

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই প্রসঙ্গ টেনেই অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন রাহুল। সত্যিই যদি আলোচনা করতে চান, তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি লিখুন। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনার ব্যবস্থা করতে কেন্দ্র প্রস্তুত। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে বিরোধীদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শাহ।

    সংসদ অচল করার অভিযোগ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে

    এদিনের সভা থেকে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করতেও ছাড়েননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে বারবার অধিবেশনের কাজে বাধা তৈরি করছে কংগ্রেস। সংসদ অচল করে দেওয়াই তাদের রাজনৈতিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অমিত শাহ বলেন, “দেশের মানুষ পরপর তৃতীয়বার নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের পরাজয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে।” কেন বিজেপি এই কর্মসূচি করছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সংসদের কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।

    ভিয়েতনাম সফর নিয়ে রাহুলকে প্রশ্ন শাহের

    শুধু সংসদ বা এসআইআর নয়, রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অমিত শাহ। বিশেষ করে ভিয়েতনাম সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে ফিরেছেন। তাঁর বিদেশ সফর সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। শাহের কথায়, বিরোধী দলনেতার মতো সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির জনসাধারণের কাছে জবাবদিহি করা উচিত। জনজীবনে কোনও দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকলে নিজের আচরণ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রাহুলের চ্যালেঞ্জের জবাব

    সম্প্রতি সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করেই প্রধানমন্ত্রী পদে এসেছেন মোদি। এমনকী, প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক ব্যবস্থাও বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণ ও সমর্থনে চলছে বলে দাবি করেন তিনি। বিদেশি সমাজমাধ্যমও মোদিকে সমর্থন করছে বলে অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতা। এর পরেই প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানান রাহুল। তাঁর বক্তব্য, যে কোনও জায়গায়, যে কোনও সময়ে এই বিতর্ক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, সাহস থাকলে আলোচনায় আসুন। তাঁর দাবি, তাঁর জানা বিভিন্ন তথ্য সামনে আসার ভয়েই প্রধানমন্ত্রী এই বিতর্ক এড়িয়ে যাবেন। রাহুলের সেই চ্যালেঞ্জের জবাবে এবার সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনার প্রস্তাব দিলেন অমিত শাহ। ফলে এসআইআর ইস্যুতে বিজেপি ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংঘাত এবার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ঘিরে নতুন মাত্রা পেল।

  • US Midterm Election: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প, মত বিশেষজ্ঞদের

    US Midterm Election: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প, মত বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Election) রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের প্রভাব পড়তে পারে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে। নির্বাচনী ধাক্কার পর ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে উদ্যোগী হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া, চিন ও ইরানের ক্ষেত্রে বিদেশনীতি সংক্রান্ত চাপ সৃষ্টির কৌশল প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব প্রমাণ করতে চাইবেন ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যেই ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি তাঁর কাছে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    আমেরিকার বাণিজ্যনীতির মূল অভিমুখে পরিবর্তন

    মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে মার্কিন ভোটাররা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রদেশের গভর্নর পদেও জয় পেয়েছে বিরোধী দল। টেক্সাস, জর্জিয়া ও আইওয়ার মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও পরাজয়ের মুখে পড়েছে ট্রাম্পের দল। অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, নির্বাচনের ফলাফল আমেরিকার বাণিজ্যনীতির মূল অভিমুখে বড় পরিবর্তন আনবে না। কারণ, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলই অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ, দেশীয় উৎপাদন এবং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার পক্ষে। তাঁর কথায়, রাশিয়া, চিন ও ইরানের ক্ষেত্রে বিদেশনীতি সংক্রান্ত প্রভাব খাটানোর প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় ট্রাম্পের এখন দ্রুত সাফল্য প্রয়োজন। সেই কারণে ভারতের উপর বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার চাপ বাড়তে পারে। আমেরিকার কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন সংস্থাগুলির জন্য একাধিক ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারেন বলে মনে করছেন তিনি।

    ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার জন্য আমেরিকার বাজার

    অন্যদিকে, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (FIEO)-এর সভাপতি এস সি রালহানের বক্তব্য, ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার জন্য আমেরিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। আগামী কয়েক মাসে মার্কিন শুল্কনীতি এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেটাই ভারতীয় রফতানিকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির (MSME) জন্য স্থিতিশীল বাণিজ্যিক পরিবেশ প্রয়োজন। তবেই তারা নির্ভরযোগ্যভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ এবং আগাম রফতানির পরিকল্পনা করতে পারবে। জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কিরিত ভানসালিও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে সে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, হিরে ও গয়না রফতানির ক্ষেত্রে আমেরিকা ভারতের অন্যতম প্রধান বাজার। তাই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক আলোচনা প্রয়োজন।

    ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

    ভানসালির আশা, মার্কিন কংগ্রেসের গঠন পরিবর্তনের ফলে বাণিজ্যনীতি নিয়ে আলোচনা ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু প্রভাব পড়লেও প্রস্তাবিত ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তাঁর বক্তব্য, এর আগে যে শুল্কগুলি আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলি কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন করে নয়, বরং প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কার্যকর হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ভারতীয় রফতানিকারীরা দ্রুত এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কমবে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়বে এবং দুই দেশের রত্ন ও গয়না শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। উল্লেখ্য, ভারত ও আমেরিকা ইতিমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায়ের জন্য একটি কাঠামো চূড়ান্ত করেছে। তবে আমেরিকার পরিবর্তিত শুল্ক পরিস্থিতির কারণে চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় ভারতীয় পণ্যের উপর কম শুল্ক আরোপের দাবি জানাচ্ছে নয়াদিল্লি। ফলে নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের।

  • Nithya Raman: লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন

    Nithya Raman: লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন (Nithya Raman)। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়ে শহরের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হওয়ার নজির গড়লেন কেরলে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক। তাঁর কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন বিদায়ী মেয়র ক্যারেন বাস। পাশাপাশি নতুন মেয়রের (Los Angeles Mayor) হাতে দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তরের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

    রাজনৈতিক জীবনে উত্থান

    লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন নিত্যা (Nithya Raman)। ২০২০ সালে প্রথমবার কাউন্সিলের নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। ২০২৪ সালে ফের নির্বাচিত হন। এবার সরাসরি মেয়র পদে জয়ী হয়ে আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের প্রশাসনিক দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিত্যা লেখেন, “লস অ্যাঞ্জেলেস, (Los Angeles Mayor) আপনাদের পরবর্তী মেয়র হতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত।”

    কত ভোটের ব্যবধানে জয়ী

    লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সর্বশেষ নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত গণনা হওয়া ভোটের মধ্যে নিত্যা পেয়েছেন ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ৭৭২টি ভোট। যা মোট গণনা হওয়া ভোটের ৫২.৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, ক্যারেন বাস পেয়েছেন ৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৫১৯টি ভোট, অর্থাৎ ৪৭.৩০ শতাংশ। ফলে ৪৭ হাজার ২৫৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন নিত্যা। এর আগে দিনের প্রথম দিকে তাঁর ব্যবধান ছিল ৩৪ হাজার ৬৫৪ ভোট। যদিও মঙ্গলবারের নির্বাচনে পড়া সমস্ত ব্যালটের গণনা এখনও শেষ হয়নি। তাই এই পরিসংখ্যান আপাতত অস্থায়ী।

    পরাজয় স্বীকার করে নেন ক্যারেন বাস

    নিত্যার সঙ্গে কথা বলার পরেই পরাজয় স্বীকার করে নেন ক্যারেন বাস। এক্স-এ তিনি লেখেন, কাউন্সিল সদস্য নিত্যা রমনকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। বিদায়ী মেয়র তাঁর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান এবং শহরের মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান। অন্যদিকে, নিত্যাও ক্যারেন বাসের সঙ্গে কথা বলে তাঁর নেতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের জনসেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    কেরলে জন্ম নিত্যা রমনের

    নিত্যার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসের আবাসন সমস্যা, গৃহহীন মানুষের দুর্দশা এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে রাস্তার আলো রক্ষণাবেক্ষণ, রাস্তার গর্ত মেরামত এবং পুলিশি ব্যবস্থায় সংস্কারের মতো বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। কেরলে জন্ম নিত্যা রমনের। মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় পাড়ি দেন তিনি। পড়াশোনা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে নগর পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসেন।

    প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি

    রাজনীতিতে আসার আগে গৃহহীন মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন নিত্যা। পাশাপাশি গৃহহীনদের সহায়তায় কাজ করা ‘সেলাহ নেবারহুড হোমলেস কোয়ালিশন’ নামে একটি সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। ২০২০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে প্রথম এশীয়-আমেরিকান মহিলা এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হওয়ার নজির গড়েছিলেন নিত্যা। চার বছর পর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পরে এবার মেয়র পদে জয়। কেরল থেকে আমেরিকা, আর সেখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রশাসনের শীর্ষ পদ—নিত্যা রমনের রাজনৈতিক যাত্রায় যুক্ত হল এক নতুন অধ্যায়।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতাদের জয়জয়কার

    নিত্যা রমনের জয়ের ফলে আমেরিকার দুটি বৃহত্তম শহরের শাসনভার এখন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতাদের হাতে। অন্য শহরটি হল নিউইয়র্ক। গত বছর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জোহরান মামদানি। তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের প্রবল প্রচার সত্ত্বেও নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের কাছে হতাশাজনক হলেও ভারতীয়দের পক্ষে অন্য ভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নিত্যা এবং মামদানি দু’জনেই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার প্রার্থী। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ, সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস হাতছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই নির্বাচনে নজর কেড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকরা। কেউ চিকিৎসক, কেউ আইনজীবী, কেউ বা আবার প্রশাসনিক কর্তা। আমেরিকার মাটিতে জন্ম কিংবা বেড়ে ওঠা হলেও তাঁদের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারতে। সেই তালিকাতেই নতুন নাম নিত‌্যার।

    নির্বাচনে বাজিমাত অরুণার

    শুধু নিত্যাই নয়, মার্কিন মুলুকে নির্বাচনে বাজিমাত করা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলাদের মধ্যে রয়েছেন অরুণা মিলারও। ১৯৬৪ সালের ৬ নভেম্বর তিনি হায়দরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন আমেরিকায়। মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা। ১৯৮৯ সালে অরুণা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি সরকারি চাকরি করেন। পরবর্তীকালে রাজনীতিতে যোগ দেন অরুণা। ২০১০ সালে মেরিল্যান্ড হাউস অফ ডেলিগেটসে দায়িত্ব পান তিনি। ২০২২ সালে প্রথমবার অরুণা মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হন (ডেমোক্র্যাটি শিবির)। এই নির্বাচনে ফের জয় পেলেন তিনি।

    নতুন মুখ ছিলেন পিয়া ডান্ডিয়া

    এছাড়াও আমেরিকার এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন মুখ ছিলেন পিয়া ডান্ডিয়া। ফ্লোরিডার ২২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৫১.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। এই জয়ের ফলে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন পেশায় শিক্ষাবিদ পিয়া। এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর জন্ম ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে। তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শিক্ষক হিসাবে। পরে নিউ ইয়র্কের হারলেমে একটি হাইস্কুলের অধ্যক্ষ হন পিয়া।

LinkedIn
Share