Tag: news in bengali

news in bengali

  • Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করালেও বাংলায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Shamik challenges Mamata)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদল স্পষ্ট। এসআইআর মামলায় সুপ্রিম নির্দেশের পর সাফ জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court) জানিয়েছে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যাঁদের ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সংবিধানের ১৪২তম অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রয়োগ করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ভোটের ২ দিন আগে ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হলেও দেওয়া যাবে ভোট।

    মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik challenges Mamata)। তাঁর সাফ কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ভোট করাতে চাইছেন সেভাবেই করুন। পুরোনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করুন। তাও চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। তৃণমূল চলে গিয়েছে। তৃণমূল শেষ।” এদিন কমিশনের বিরুদ্ধেও খানিক ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে শমীককে। বলেন, “আমরা এই প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নই। আমাদের ফর্ম ৭ এর শুনানি হয়নি। নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা পুরো শোনেননি। আমাদের অভিযোগ, আমাদের অভিমান কমিশনের বিরুদ্ধে। কিন্তু একটা সাংবিধানিক সংস্থা। আমরা তাঁদের আধিকারিকদের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি আমরা সন্তুষ্ট নই।”

    কী বলল দেশের শীর্ষ আদালত

    অবশেষে বাংলার এসআইআর মামলায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যে লক্ষ লক্ষ ভোটার, যাঁরা ট্রাইবুনালে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, এবং তাঁদের মধ্যে যাঁদের প্রথম দফার ভোট (২৩ এপ্রিল) রয়েছে, এবং ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মধ্যে যাঁদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং যাঁরা যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করবেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম ভোটার লিস্টে উঠবে। তার জন্য সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করতে হবে এবং ২৩ এপ্রিল তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোট হচ্ছে ২৯ এপ্রিল। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত, যাঁদের যাঁদের ভোটার লিস্টে নাম ওঠার জন্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করতে পারবেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। এই ২৭ এপ্রিল অবধি যাঁদের নাম উঠবে, তাঁদের জন্য আলাদা সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করা হবে।

  • Noida Violence: ভুয়ো খবর ছড়ানো হয় পাকিস্তানি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে! নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে হিংসার ঘটনায় নয়া তথ্য

    Noida Violence: ভুয়ো খবর ছড়ানো হয় পাকিস্তানি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে! নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে হিংসার ঘটনায় নয়া তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ডার সাম্প্রতিক শ্রমিক বিক্ষোভ (Noida Violence) ছিল একটি “পরিকল্পিত ও বহুস্তরীয় ষড়যন্ত্র”। এমনই দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের। নয়ডায় যে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, তা ছিল সীমান্তপারের চক্রান্ত। পুলিশের মতে, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত দুটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং জানান, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে বাইরের কিছু শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে হাইজ্যাক করে।

    পাক অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো খবর

    পুলিশ কমিশনার বলেন, “বর্তমানে নয়ডায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। গত দু’দিন ধরে শান্তি বজায় রয়েছে। পুলিশ ফ্ল্যাগ মার্চ ও পিকেটিং করেছে, সব শিল্প ইউনিট খুলেছে এবং শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন।” উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ মেনে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একটি ওয়েজ বোর্ড গঠনের ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন বলে জানান কমিশনার। তবে গত, ১৩ এপ্রিল একদল ব্যক্তি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরেই দুটি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে পুলিশের গুলিতে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়। তদন্তে জানা যায়, এই অ্যাকাউন্টগুলি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

    কীভাবে ছড়ানো হয়েছিল বিক্ষোভ

    পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় তিনজন মূল ষড়যন্ত্রীকে চিহ্নিত করা হয়েছে—রূপেশ রাই, মনীষা চৌহান এবং আদিত্য আনন্দ। এদের মধ্যে রাই ও চৌহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে, আদিত্য আনন্দ পলাতক। পুলিশের দাবি, এই তিনজন শুধু নয়ডায় উপস্থিতই ছিলেন না, বরং শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে ভিড়কে হিংসাত্মক করে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল এই ষড়যন্ত্রের ছক কষা হয়। ৯ ও ১০ এপ্রিল কিউআর কোডের মাধ্যমে মানুষকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ১০ এপ্রিল বিক্ষোভ শুরু হয়, ১১ এপ্রিল রাস্তায় অবরোধ হয় এবং ১৩ এপ্রিল পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ

    পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই স্থানীয় শ্রমিক নন, বরং বাইরের লোক। তদন্তে সহায়তা করছে ইন্টেলিজেন্স বুরো এবং অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়ডার শিল্পাঞ্চল, বিশেষত ফেজ-২ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে হিংসার দিকে ঠেলে দেয়।

  • TCS Nashik Case: ‘দেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়ষন্ত্র, সন্ত্রাসবাদের সামিল’, টিসিএসে কাণ্ডে জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে

    TCS Nashik Case: ‘দেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়ষন্ত্র, সন্ত্রাসবাদের সামিল’, টিসিএসে কাণ্ডে জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের (TCS Nashik Conversion Case) ধর্মান্তর বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছল। বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হল শীর্ষ আদালতে। ওই আবেদনে বলে হয়েছে, বিষয়টি জেনে গোটা দেশ চমকে উঠেছে। এই ধরনের কাজ ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে’র আওতায় পড়ে। ‘অবৈধ ধর্মান্তর’ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিক কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি। এই ঘটনার সরেজমিনে তদন্ত করতে শুক্রবার ঘটনাস্থলে যাচ্ছে জাতীয় মহিলা কমিশনের এক প্রতিনিধি দল। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তারা স্বতঃপ্রণোদিত (suo motu) হয়ে এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে। গঠন করা হয়েছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি।

    নাসিকে জাতীয় মহিলা কমিশনের দল

    নাসিকের (TCS Nashik Conversion Case) এই ঘটনাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে, কমিশন ১৯৯০ সালের জাতীয় মহিলা কমিশন আইনের ৮ নং ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্তের জন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে রয়েছেন বম্বে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সাধনা যাদব, হরিয়ানার প্রাক্তন ডিজিপি বিকে সিনহা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনিকা অরোরা এবং এনসিডব্লিউ-এর সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর লীলাবতী। ওই কমিটির শুক্রবার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার কথা। ওই সংস্থার কর্মী, অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

    শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা

    এই বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে। এই আবেদনটি দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় (Ashwini Kumar Upadhyay) ও তাঁর পক্ষে আইনজীবী অশ্বিনী দুবে। জনস্বার্থ মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, নাসিকের ঘটনাটি (TCS Nashik Case) ব্যতিক্রম নয়। বরং বড়সড় চক্রান্তেরই অংশ। আবেদনকারীর আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতকে জানান, “প্রতারণামূলক ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর” দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, যখন বলপ্রয়োগ বা প্রলোভন ব্যবহার করে সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ধর্মান্তরণ চালানো হয়, তখন তা ভারতের জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তনে একটি “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” হিসেবে গণ্য হয়। বেশ কিছু বিদেশি সংস্থা অর্থ জুগিয়ে করে এদের সাহায্য করছে। আবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যকলাপ দেশের অখণ্ডতাকে বিপন্ন করে। ফলে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত আইনের আওতায় এর বিচার হওয়া উচিত।

    সংবিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গ

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে— এই ধরনের সংগঠিত ধর্মান্তরকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ধারা ১১৩-এর আওতায় আনতে হবে। আবেদনে ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেওয়া হলেও তার সীমাবদ্ধতার কথাও বলা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা মানে এই নয় যে কেউ ইচ্ছামতো কিছু করতে পারবেন। কখনই প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তর সংবিধানসম্মত নয়। জোরপূর্বক ধর্মান্তর মামলার জন্য বিশেষ আদালত গঠনের কথা বলা হয়েছে। দোষীদের জন্য ধারাবাহিক (consecutive) শাস্তির বিধান দিতে হবে। এই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে তার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যকে কঠোর আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে হবে।

    মেয়েদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা

    যৌন নির্যাতন, মানসিক হেনস্তা এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগ রয়েছে আইটি জায়েন্ট টিসিএস-এর নাসিক কেন্দ্রের বেশ কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ এনেছেন টিসিএসের কমপক্ষে ন’জন মহিলা কর্মী। একজন পুরুষ কর্মীও মানসিক নির্যাতন ও ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজনের দাবি, “কোম্পানির চার-পাঁচজন মুসলিম কর্মী এবং কিছু কর্মকর্তা চাকরি, ভালো বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েদের প্রলুব্ধ করেছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, মহিলাদের “নমাজ পড়তে ও রোজা রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল।” গোট ঘটনায় মুখ পুড়েছে ভারত বিখ্যাত তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থার। ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্তে নেমেছে নাসিক পুলিশ।

    দলবদ্ধভাবে কাজ, জানাল নাসিক পুলিশ

    এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ মোট ৯টি এফআইআর দায়ের করেছে। সাতজন পুরুষ ও একজন মহিলা সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও আরও এক মহিলা অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া পুরুষ অভিযুক্তদের নাম হল দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ, আসিফ আফতাব আনসার এবং শাহরুখ শেখ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে তদন্তকারী দল। তাঁরা কীভাবে কাজ করত, সেটা জানার চেষ্টা চলছে। নাসিক পুলিশের কমিশনার সন্দীপ কারনিক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গিয়েছে যে সাতজন পুরুষ এই টিসিএস-এর বিপিও-তে একটি সংগঠিত দলের মতো কাজ করত। তারা মহিলা কর্মীদের টার্গেট করত। তাঁর কথায়, ‘এই সাতজন পুরুষ কর্মী অধিকাংশ মামলায় সহ-অভিযুক্ত, যা থেকে বোঝা যায় তারা দলবদ্ধভাবে কাজ করত।’এই পুরো কারবারের মাথা হিসেবে উঠে এসেছে নিদা খানের নাম। অভিযোগ, নিদা খান নামে ওই এইচ আর ম্যানেজার নতুন জয়েনি মেয়েদের প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অ্যাড করতেন। তারপর তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়িয়ে ধর্মীয় আলোচনায় টেনে আনতেন। এরপর তাঁদের ধর্মান্তরণে প্ররোচনা দিতেন। ৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী টিসিএস-এর একাধিক মহিলা কর্মী যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তরণের অভিযোগে এফআইআর করেছেন।

  • Women’s Reservation Law: মহিলা বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নারী সংরক্ষণ আইন, ২০২৩ কার্যকর করল কেন্দ্র

    Women’s Reservation Law: মহিলা বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নারী সংরক্ষণ আইন, ২০২৩ কার্যকর করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ভারতের রাজনীতিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী আইন কার্যকর করল মোদি সরকার (Modi Government)। এর মাধ্যমে, বহু প্রতীক্ষিত মহিলা সংরক্ষণ আইন, ২০২৩ (Women’s Reservation Law) অবশেষে কার্যকর হল। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই এই আইন কার্যকর হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

    কী বলছে আইন (Women’s Reservation Law)?

    এই আইন অনুযায়ী—

    • ● লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে
    • ● তফশিলি জাতি (SC) ও তফশিলি উপজাতি (ST)-এর জন্য সংরক্ষিত আসনের মধ্যেও একই হারে মহিলাদের জন্য কোটা থাকবে
    • ● ভবিষ্যতে জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই সংরক্ষণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে
      কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে—

    • ● দেশের আইনসভায় মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে
    • ● নীতি নির্ধারণে নারীদের মতামত ও নেতৃত্ব আরও গুরুত্ব পাবে
    • ● রাজনৈতিক ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতার দিকে বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে

    গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেই রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল এই নারী সংরক্ষণ আইন। তবে তখনই এটি কার্যকর হয়নি। আইনের ধারা ১(২)-এ উল্লেখ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করা পর্যন্ত আইন কার্যকর হবে না। সেই অনুযায়ী, এবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার দিন ঘোষণা করল। এই বিজ্ঞপ্তি এমন এক সময়ে জারি হয়েছে, যখন সংসদে নতুন করে সংবিধান সংশোধনী নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পেশ করেছে, যেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রে জনগণনার পরবর্তী সীমা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন)-এর সঙ্গে যে শর্ত যুক্ত ছিল, তা পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছে। তবে, এখন পাশ হলেও, তা ২০২৯ সালে কার্যকর হওয়ার কথা।

    নতুন প্রস্তাবে কী কী পরিবর্তন?

    ২০২৩ সালের আইনে বলা হয়েছিল, পরবর্তী জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হওয়ার পরেই নারী সংরক্ষণ কার্যকর হবে। অর্থাৎ, সেই প্রক্রিয়া শেষ না হলে সংরক্ষণ চালু করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে এই শর্ত শিথিল করে ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হলেই দ্রুত সংরক্ষণ চালুর পথ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, বিরোধী দলগুলি নারী সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, পুরনো জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটবে না।

    শুক্রবার লোকসভায় ভোটাভুটি

    আজ, শুক্রবার লোকসভায় এই সংশোধনী বিলটি ভোটাভুটির জন্য তোলা হওয়ার কথা। যেহেতু এটি সংবিধান সংশোধনী বিল, তাই পাশ করাতে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে। পাশ হলে, তা ২০২৯ সালে কার্যকর হবে। এই প্রেক্ষাপটে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর হওয়া এবং লোকসভা আসন বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের নতুন পদক্ষেপ, দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপ ভারতের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে এবং আগামী দিনে নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

  • Income Tax Raid: ইডির পর এবার আয়কর হানা দেবাশিস কুমারের বাড়ি, দফতরে, ভোটের মুখে বিপাকে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী

    Income Tax Raid: ইডির পর এবার আয়কর হানা দেবাশিস কুমারের বাড়ি, দফতরে, ভোটের মুখে বিপাকে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate) পর এবার আয়কর দফতর। ভোটের মুখে আরও বিপাকে দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমার (TMC MLA Debasish Kumar)। শুক্রবার ভোরেই দক্ষিণ কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে শাসক দলের বিদায়ী বিধায়ক তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র-ইন-কাউন্সিল (MMIC) সদস্য দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে একযোগে এই তল্লাশি চালায় আয়কর দফতর (Income Tax Raid)।

    ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় রাসবিহারীতে ভোটগ্রহণ

    জানা গিয়েছে, আয়কর দফতরের দুটি দল কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)-এর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে সকাল প্রায় ৬টা থেকে ৬টা ৩০-এর মধ্যে হাজির হয় মনোহরপুকুর রোডে অবস্থিত কুমারের বাসভবন এবং তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্প অফিসে। এরপরই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। দেবাশিস কুমার বর্তমানে রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ওই কেন্দ্র থেকেই পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় রাসবিহারীতে ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। এই কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছে বিজেপি, যাঁর নাম স্বপন দাশগুপ্ত। এদিকে, তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেবাশিস কুমারের বাড়ির সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল সমর্থকরা সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।

    বেআইনি জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় অভিযান

    প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, একটি বেআইনি জমি দখল সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগে একই মামলায় একাধিকবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) দেবাশিস কুমারকে তলব করেছিল। গত ১, ৩ এবং ৯ এপ্রিল সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় এবং তিনি প্রতিবারই হাজিরা দেন। তদন্তকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে, ব্যবসায়ী অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেবাশিস কুমারের কোনও আর্থিক লেনদেন ছিল কি না। উল্লেখ্য, ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।

    শহরের অন্য প্রান্তে সক্রিয় ইডি

    একদিকে যেমন দেবাশিস কুমারের বাড়ি-দফতরে আয়কর তল্লাশি চলছে, ঠিক একই সময়ে শহরের অন্য প্রান্তে চলছে ইডি অভিযান। শুক্রবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে ইডির একাধিক দল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এরপর তারা নির্দিষ্ট একটি নির্মাণকারী সংস্থার একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায়। সূত্রের খবর, আর্থিক তছরুপের মামলাকে কেন্দ্র করেই এই অভিযান। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং দফতরে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তখন ইডি দাবি করেছিল, ভোটের আগে বেআইনি আর্থিক লেনদেন রুখতে এবং জমি সংক্রান্ত লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই তল্লাশি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার ফের ওই নির্মাণকারী সংস্থার দফতর-সহ একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে ইডি, সূত্র মারফত এমনটাই জানা গিয়েছে।

  • WB Migrant Workers: ট্রেনে টিকিটের জন্য হাহাকার, বঙ্গ-ভোটে মত দিতে ঘরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

    WB Migrant Workers: ট্রেনে টিকিটের জন্য হাহাকার, বঙ্গ-ভোটে মত দিতে ঘরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমাদের ট্রেনের টিকিট সম্ভবত কনফার্ম হবে না। ওয়েটিং লিস্টও খুব বড়। কিন্তু আমি একটা জিনিস জানি, আমরা কালই বেরিয়ে পড়ব। চাকরি চলে গেলেও আমার কিছু যায় আসে না।” নাগাড়ে কথাগুলি বলে গেলেন পোদ্দা। পূর্ব দিল্লির দাল্লুপুরায় গৃহকর্মীর কাজ করেন তিনি। পোদ্দা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তিনি এবং তাঁর পরিবারের আরও আট সদস্য বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তাঁদের গ্রামে যাবেন ভোট দিতে। তাঁর মতে, তাঁর মতো শত শত মানুষ বাংলায় নিজেদের ভিটেয় ফিরে যাচ্ছেন স্রেফ ভোট দিতে। ভোট না দিলে পাছে নাগরিকত্ব হারাতে হয়, তাই এবার (SIR) ভোট দিতে মরিয়া তাঁরা।

    ভোট দিতে কাজ খোয়াতেও রাজি পরিযায়ী শ্রমিকরা (WB Migrant Workers)

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হবে দু’দফায় —২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফার নির্বাচন মাত্র এক সপ্তাহ দূরে থাকায়, গৃহকর্মী, আয়া, রাঁধুনি এবং অন্যান্য শ্রমিক-সহ বহু পরিযায়ী শ্রমিক দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন শহর এবং শিল্পাঞ্চল থেকে বাংলায় ফেরার জন্য হুড়োহুড়ি করছেন। পোদ্দা বলেন, “দিল্লিতে যেখানে আমি থাকি, সেখানে আমাদের মতো অনেকেই বাড়ি ফিরছে। তারা ভয় পাচ্ছে, এবার ভোট না দিলে তাদের নাম কেটে দেওয়া হবে এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবে না। কেউ কেউ তো আবার নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কাও করছেন।” দিল্লির পোদ্দার মতোই কাজের সূত্রে বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন মুর্শিদা খাতুন। তিনি আয়ার কাজ করেন। তিনিও ভোট দিতেই ফিরছেন বাংলায়। মুর্শিদার মালকিন (SIR) আকাঙ্খা। তিনি বলেন, “উনি (মুর্শিদা) একদম স্পষ্টভাবে বলেছিলেন কেন যাচ্ছেন। তাঁর ভয় ছিল, এবার ভোট না দিলে হয়তো আর কখনও সুযোগ পাবেন না। তিনি আরও ভয় পাচ্ছিলেন এই ভেবে যে, ভোট না দিলে তাঁকে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে (WB Migrant Workers)।”

    নাগরিকত্ব হারানোর ভয়

    গৃহকর্মী এবং আয়াদের মতোই, দেশের বিভিন্ন মহানগর ও শিল্পাঞ্চলের বহু শ্রমিকও যেন-তেন প্রকারে বাংলায় ফিরে ভোট দিতে চাইছেন।কিছু পরিযায়ী শ্রমিক তাঁদের বার্ষিক বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে ভোটের সময়সূচি মিলিয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার ফিরছেন যাতে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকে, আশঙ্কা এড়ানো যায় নাগরিকত্ব হারানোরও। যদিও এই ভয়গুলির বাস্তব কোনও ভিত্তিই নেই, তবুও তাঁরা মনে করছেন এটাই ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়ানোর সুযোগ। মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারের কিছু শ্রমিক, যাঁরা ট্রেনের টিকিট পাচ্ছেন না, তাঁরা প্রায় ১৯০০-২৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বাসে।

    এসআইআর

    ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ করতে চালু হয়েছে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই বেড়েছে এই ধরনের প্রবণতা। অনেকেই বলছেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যে পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা এখন ভোট দেওয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তৃণমূল নেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে বেরিয়ে বলেছেন, “ইসি, বিজেপি এবং কেন্দ্র সংবিধান মানছে না। তারা ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। আজ ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে, কাল এনআরসি এনে নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তার জেরেই বাংলায় ফিরতে হুড়োহুড়ি করছেন নিজ ভূমে পরবাসীরা (WB Migrant Workers)।

    বাড়ি ফেরার জন্য হুড়োহুড়ি

    নির্বাচনের আগে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং ‘বহিরাগত’ ইস্যু বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। বিজেপি সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অস্বাভাবিক ভোটার বৃদ্ধিকে অবৈধ অভিবাসনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে, যার জেরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ের পরিবেশ। এই রাজনৈতিক বার্তাগুলি বাংলার বাইরে কাজ করা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাই বেড়েছে বাড়ি ফেরার জন্য হুড়োহুড়ি। এর প্রভাব পড়ছে দিল্লি এনসিআর, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন শহরের পরিবারগুলিতে, যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, বড় শহরগুলির পেশাগত কাঠামো কতটা নির্ভরশীল অসংগঠিত শ্রমিকদের ওপর (SIR)। পোদ্দা বলেন, “যদি কিছুই না হয় (টিকিট কনফার্ম), তাহলে আমরা গাদাগাদি করে সাধারণ বগিতে করেই দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে যাব।” তিনি বলেন, “অনেকে ভয় পাচ্ছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পের সুবিধাও হারাতে হতে পারে (WB Migrant Workers)।”

    বাংলায় কাজ নেই, তাই পাড়ি ভিন রাজ্যে!

    উত্তরপ্রদেশের খুরজার সিরামিক শিল্পে কাজ করেন রাহুল। তিনি বলেন, “আমার কোনও উপায় নেই। আমাকে প্রায় ২০ দিনের জন্য কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হবে।” তিনিও বলেন, “ভোট না দিলে নাম কাটা যেতে পারে, প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে নাগরিকত্বও।” এই কারণেই খুরজার বহু সিরামিক কারখানা প্রায় ২০ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এদিকে, দিল্লি, গুরগাঁও, নয়ডা, জয়পুর-সহ বিভিন্ন শহরে গৃহকর্মীর অভাব দেখা দিয়েছে। অনলাইন পরিষেবাগুলিতেও স্লট মিলছে না। মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এখানকার প্রায় ৬০ শতাংশ কারিগর ইতিমধ্যেই ফিরে গিয়েছেন, আরও অনেকেই যাবেন। বস্তুত, এই গৃহকর্মী ও শ্রমিকদের কাছে এই নির্বাচন শুধুমাত্র ভোট নয়—এটি তাঁদের অস্তিত্বের স্বীকৃতি। তাঁরা মনে করছেন, ভোট না দিলে সামাজিক সুরক্ষা ও নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই তাঁরা রুজি-রোজগার এবং দীর্ঘ পথযাত্রার ঝুঁকি নিয়েও ভোট দিতে ফিরে যাচ্ছেন নিজেদের গাঁয়ে। তাঁদের এই ‘দেশে’ ফেরা থেকেই স্পষ্ট, বাংলায় কাজ নেই। পেটের দায়ে তা-ই তাঁদের পাড়ি দিতে হয় ভিন রাজ্যে (sir)।

     

  • Dementia Surge in India: ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ! বলছে নয়া গবেষণা, কোন পথে সমাধান?

    Dementia Surge in India: ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ! বলছে নয়া গবেষণা, কোন পথে সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাজারের খুচরো পয়সার হিসাবে মাঝেমধ্যে গোলমাল হয়ে যায়। আবার কখনও খুব পরিচিত মানুষের নাম-পদবী মনে পড়ে না। এমন নানান ছোটো ছোটো স্মৃতি বিভ্রাট অনেক সময়েই বড় বিপদের ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার সমস্যা। এই সমস্যা শুধুই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা নয়। বরং, চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া হল মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যা। মস্তিষ্ক আর সক্রিয় থাকতে পারছে না। দেশ জুড়ে এই সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়ার দাপট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ভিটামিনের অভাব!

    কোন ভিটামিনের অভাবে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে?

    চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এই ভিটামিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে, স্নায়ু সক্রিয় রাখতেও এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি-১২ ঘাটতি ডিমেনসিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ সরাসরি মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর কার্যক্ষমতার উপরে প্রভাব ফেলে। তাই এই ভিটামিনের অভাব ঘটলে মস্তিষ্কের শক্তি কমে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর ক্ষমতা কমলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া কোনো স্বাভাবিক বার্ধক্যের লক্ষণ নয়। বরং চল্লিশোর্ধ্ব যে কোনও মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। এতে সুস্থ জীবন যাপন ব্যহত হয়। তাই পুষ্টির দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। মস্তিষ্ক এবং স্নায়ু যাতে সক্রিয় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমবে।

    কীভাবে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ চাহিদা পূরণ করতে হলে খাবারে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। খাবার থেকেই শরীর সহজে এই ভিটামিন সংগ্রহ করতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন বি-১২ চাহিদা মেটাতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিমের কুসুমে ভিটামিন বি-১২ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। দিনে অন্তত একটা থেকে দুটো ডিম খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি-১২ সহজেই সংগ্রহ করতে পারে। ডিমের মতোই সামুদ্রিক মাছ এবং মাংস ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ বয়স চল্লিশ পেরলেই নিয়মিত পাতে মাছ বা মাংস থাকা জরুরি। দিনে হোক বা রাতের খাবারে মাছ বা মাংসের একটি পদ‌ থাকলে শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশপাশি ভিটামিন বি-১২ জোগান হয়। দুধ, পনির জাতীয় খাবারেও ভিটামিন বি-১২ থাকে। তাই পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিরামিষাশীদের ভিটামিন বি-১২ সহজ উৎস হলো দুধ এবং পনির। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের চিজ থেকেও ভিটামিন বি-১২ পাওয়া যায়।

    ভারতে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ কি বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতে ডিমেনশিয়া জনস্বাস্থ্য সমস্যার আকার নিচ্ছে। ভারতের প্রায় ৮৮ লাখ মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ আরও বাড়বে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটির বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হবেন। যা ভারতের সামাজিক জীবনেও বড় প্রভাব ফেলবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া আক্রান্তের মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিক জীবন‌ যাপন সম্পূর্ণ ব্যহত হয়। কার্যশক্তি হারিয়ে যায়। সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন কঠিন হয়ে ওঠে। তাই ডিমেনশিয়ার দাপট বাড়লে তা সামগ্রিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত খাবারের তালিকায় নজর দেওয়া জরুরি। বাড়ির তৈরি কম তেল মশলার প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের একাধিক উপকার হবে। এমনকি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর ক্ষমতা ও বজায় থাকবে। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করলে তবেই মস্তিষ্কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Ramakrishna 625: “বঙ্কিম ছেলেটি কেমন? এখানে যদি আসতে না পারে, তুমি না হয় তারে সব বলবে—চৈতন্য হবে”

    Ramakrishna 625: “বঙ্কিম ছেলেটি কেমন? এখানে যদি আসতে না পারে, তুমি না হয় তারে সব বলবে—চৈতন্য হবে”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৭শে অক্টোবর
    শ্যামপুকুর বাটীতে নরেন্দ্র, মণি প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    অসুখ কেন? নরেন্দ্রের প্রতি সন্ন্যাসের উপদেশ

    ঠাকুর শ্যামপুকুরের (Ramakrishna) বাটীতে নরেন্দ্র প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। বেলা দশটা। আজ ২৭থে অক্টোবর, ১৮৮৫, মঙ্গলবার, আশ্বিন কৃষ্ণা চতুর্থী, ১২ই কার্তিক।

    ঠাকুর নরেন্দ্র, মণি প্রভৃতির সহিত কথা কহিতেছেন।

    নরেন্দ্র — ডাক্তার কাল কি করে গেল।

    একজন ভক্ত — সুতোয় মাছ গিঁথেছিল, ছিঁড়ে গেল (Kathamrita)।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — বঁড়শি বেঁধা আছে — মরে ভেসে উঠবে।

    নরেন্দ্র একটু বাহিরে গেলেন, আবার আসিবেন। ঠাকুর মণির সহিত পূর্ণ সম্বন্ধে কথা কহিতেছেন —

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— তোমায় বলছি — এ-সব জীবের শুনতে নাই — প্রকৃতিভাবে পুরুষকে (ঈশ্বরকে) আলিঙ্গন, চুম্বন করতে ইচ্ছা হয়।

    মণি — নানারকম খেলা — আপনার রোগ পর্যন্ত খেলার মধ্যে। এই রোগ হয়েছে বলে এখানে নূতন নূতন ভক্ত আসছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — ভূপতি বলে, রোগ না হলে শুধু বাড়িভাড়া করলে লোকে কি বলত — আচ্ছা, ডাক্তারের কি হল?

    মণি — এদিকে দাস্য মানা আছে — ‘আমি দাস, তুমি প্রভু।’ আবার বলে — মানুষ-উপমা আনো কেন!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— দেখলে! আজ কি আর তুমি তার কাছে যাবে?

    মণি — খপর দিতে যদি হয়, তবে যাব।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বঙ্কিম ছেলেটি কেমন? এখানে যদি আসতে না পারে, তুমি না হয় তারে সব বলবে। — চৈতন্য হবে।

    আগে সংসারের গোছগাছ, না ঈশ্বর? কেশব ও নরেন্দ্রকে ইঙ্গিত

    নরেন্দ্র আসিয়া কাছে বসিলেন (Kathamrita)। নরেন্দ্রের পিতার পরলোকপ্রাপ্তি হওয়াতে বড়ই ব্যতিব্যস্ত হইয়াছেন। মা ও ভাই এরা আছেন, তাহাদের ভরণপোষণ করিতে হইবে। নরেন্দ্র আইন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হইতেছেন। মধ্যে বিদ্যাসাগরের বউবাজারের স্কুলে কয়েক মাস শিক্ষকতা করিয়াছিলেন। বাটীর একটা ব্যবস্থা করিয়া দিয়া নিশ্চিন্ত হইবেন — এই চেষ্টা কেবল করিতেছেন।

    ঠাকুর সমস্তই অবগত আছেন — নরেন্দ্রকে একদৃষ্টে সস্নেহে দেখিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারকে) — আচ্ছা, কেশব সেনকে বললাম, — যদৃচ্ছালাভ। যে বড় ঘরের ছেলে, তার খাবার জন্য ভাবনা হয় না — সে মাসে মাসে মুসোহারা পায়। তবে নরেন্দ্রের অত উঁচু ঘর, তবু হয় না কেন? ভগবানে মন সব সমর্পণ করলে তিনি তো সব জোগাড় করে দিবেন!

  • India GDP Ranking: বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি ভারত, বলছে আইএমএফ

    India GDP Ranking: বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি ভারত, বলছে আইএমএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অল্প সময়ের জন্য বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছিল ভারত। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের (IMF) ২০২৫–২৬ সালের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী ফের ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে ভারত। যদিও (India GDP Ranking) দেশটি এখনও বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি। তবে এই অবস্থান পতনের পেছনে বড় কোনও অর্থনৈতিক কারণ নেই, এটি মূলত পরিসংখ্যানগত।

    আইএমএফের হিসেব (India GDP Ranking)

    আইএমএফের এপ্রিল ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক আউটলুক (World Economic Outlook) অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ৩.৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাপানের ৪.৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে ভারতের জিডিপি ছিল ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ব্রিটেনের ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি ছিল। তাহলে ভারতের অবস্থান কমল কেন? যদিও ভারতের জিডিপি টাকার হিসেবে ২০২৪ সালে ছিল ৩১৮ ট্রিলিয়ন। ২০২৫ সালে এটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৬.৫ ট্রিলিয়নে। ডলারের নিরিখে হিসেব করলে তাকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়।

    অবমূল্যায়নের পূর্বাভাসও রয়েছে

    এই পতন ঘটেছে যদিও টাকার হিসেবে নামমাত্র বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৯ শতাংশ। পার্থক্যটি মূলত জিডিপি গণনার পদ্ধতিতে।আইএমএফ দেশগুলির জিডিপি ডলারের ভিত্তিতে র‍্যাঙ্ক (India GDP Ranking)করে। অর্থাৎ স্থানীয় মুদ্রার জিডিপিকে ডলারের বিনিময় হারের ভিত্তিতে রূপান্তর করা হয়। এই সময়ে টাকার মান ২০২৪ সালে প্রতি ডলারে ৮৪.৬ থেকে ২০২৫ সালে ৮৮.৫-এ নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আরও অবমূল্যায়নের পূর্বাভাসও রয়েছে। পরিসংখ্যান মন্ত্রক ২০২২–২৩ থেকে ২০২৩–২৪ পর্যন্ত চার বছরে নামমাত্র জিডিপি ২.৮ শতাংশ থেকে ৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে সংশোধন করেছে, যা অর্থনীতির আকারকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখিয়েছে (IMF)।

    আইএমএফের পূর্বাভাস

    বিনিময় হার পরিবর্তনের ফলে র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত হয়েছে। সম্প্রতি টাকা দুর্বল অবস্থায় ছিল, ডলারের মূল্যমানের প্রেক্ষিতে লেনদেন হয়েছে ৯৪–৯৫ টাকার মধ্যে। পরে ৯৩.৩৯-এ স্থিতিশীল হয়েছে। এর কারণ হল পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি। বিদেশি পুঁজির বহিঃপ্রবাহ এবং হেজিং খরচ বৃদ্ধিও টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাউন্ড তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় ব্রিটেন তার অবস্থান ধরে রেখেছে (India GDP Ranking)। আইএমএফের (IMF) পূর্বাভাস, এই অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। ২০২৬ সালে ভারত ষষ্ঠ স্থানে থাকবে (প্রায় ৪.১৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা ব্রিটেনের ৪.২৬ মার্কিন ডলার ট্রিলিয়নের নীচে। তবে ২০২৭ সালে ভারত আবার চতুর্থ স্থানে উঠবে (৪.৫৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), টপকে যাবে ব্রিটেনকে।

    অর্থনীতিবিদদের অভিমত

    অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৮ সালে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে (৫.০৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বনাম ৪.৭৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। ২০৩১ সালের মধ্যে ভারত দৃঢ়ভাবে তৃতীয় স্থানে পৌঁছতে পারে (৬.৭৯  ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), সেই সময় জাপান থাকবে ৫.১৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে এই ব্যবধান খুবই কম (ব্রিটেনের ক্ষেত্রে প্রায় ১১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাপানের ক্ষেত্রে মাত্র ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), ফলে ফল অনেকটাই নির্ভর করবে প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রার ওঠানামার ওপর।
    তবে র‍্যাঙ্কিংয়ে পরিবর্তন হলেও, আইএমএফের মতে, ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবেই থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ৬.১৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে এবং তৃতীয় স্থানে (IMF) থাকা জার্মানির সঙ্গে ব্যবধান কমবে (India GDP Ranking)।

    জিডিপির বেস ইয়ারে পরিবর্তন

    জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকবে (৩৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২৭.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে জিডিপির বেস ইয়ার ২০১১–১২ থেকে ২০২২–২৩-এ পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে নতুন হিসেব অনুযায়ী অর্থনীতির আকার আগের তুলনায় ছোট দেখা যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ’২৬ অর্থবর্ষের জিডিপি পুরানো সিরিজে ৩৫৭ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে নতুন সিরিজে ৩৪৫.৫ ট্রিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে। আইএমএফও তাদের পূর্বাভাস কমিয়েছে, ২০২৭ সালের জিডিপি অনুমান ৪.৯৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ৪.৫৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার করা হয়েছে।

     

  • Women’s Reservation Bill: ‘বিলের বিরোধিতা করলে মূল্য চোকাতে হবে’ নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Women’s Reservation Bill: ‘বিলের বিরোধিতা করলে মূল্য চোকাতে হবে’ নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, একটি উন্নত ভারত (Viksit Bharat) শুধুমাত্র পরিকাঠামো বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর কথায়, “আমরা এমন একটি ভারত গড়তে চাই যেখানে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্র বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের ৫০% নারী জনগোষ্ঠী নীতি নির্ধারণে সক্রিয় অংশীদার হবে এটি আমাদের সৌভাগ্য যে আজ আমরা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য একটি নতুন দিশা নির্ধারণ করতে পারি।”

    বিরোধীদের তুলোধোনা

    মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill) নিয়ে বিরোধীদের তুলোধোনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। ২০২৩-এই লোকসভায় (Lok Sabha Debate) মহিলাদের আসন সংরক্ষণ নিয়ে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। বৃহস্পতিবার বিলের সংশোধনী নিয়ে আলোচনায় বিরোধীদের কটাক্ষ করে মোদী বললেন, ‘বিলের বিরোধিতা করলে মূল্য চোকাতে হবে।’ শুধু তাই নয়, এই বিলের বিরোধিতার ফলে তিনি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন বলেও বিরোধীদের খোঁচা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে লোকসভার বিশেষ অধিবেশন। আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাস করানোই মূল উদ্দেশ্য। ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশের সময়েই বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার পরে ওই আসনের ৩৩ শতাংশ থাকবে মহিলাদের জন্য।

    লোকসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের বোনেদের উপর আস্থা রাখুন। লোকসভায় তাঁদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করুন।” তিনি স্বীকার করেন যে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করতে দেরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “২৫-৩০ বছর আগে এই প্রয়োজন অনুভূত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দেরি করেছি।” পাশাপাশি তিনি ভারতীয় গণতন্ত্রকে “Mother of Democracy” আখ্যা দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। রাজনৈতিক মতভেদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, আলোচনার সময় একটি দল ছাড়া অন্য কোনো দল নীতিগতভাবে বিরোধিতা করেনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যে দলগুলো নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছে, দেশের মহিলারা তাদের ক্ষমা করেননি।” তবে নির্দিষ্ট কোনও দলের নাম করেননি তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা সকলের সাফল্যের ফল। এটা গোটা দেশের সাফল্য। এটা কোনও একটি দলের জয় নয়।” মহিলা সংরক্ষণ বিলে রাজনীতির রং লাগানোর প্রয়োজন নেই বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।

    ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ দ্রুত কার্যকর

    গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে নারীদের নেতৃত্ব বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গত কয়েক দশকে লক্ষ লক্ষ নারী নেতৃত্বে উঠে এসেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।” সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন (১৬–১৮ এপ্রিল) ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে ডাকা হয়েছে। নিজেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি থেকে উঠে আসা নেতা বলে পরিচয় দিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আমি একজন ওবিসি। কিন্তু দেশের সবাইকে নিয়ে চলায় বিশ্বাসী।’ এই বিলের বিরোধিতা করায় বিরোধীদের ‘ক্ষতি’ হলেও তাঁর রাজনৈতিক সুবিধা হতে পারে বলে হাসি মুখে জানান মোদী। তাঁর কথায়, ‘আপনারা এই বিলের বিরোধিতা করলে আমার কিছুটা রাজনৈতিক লাভ হতে পারে। তবে, সবাই যদি একমত হন, গোটা দেশ লাভবান হবে।’

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share