Tag: news in bengali

news in bengali

  • Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তরাঁয় ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় বক্সার লভলিনা বরগোহাঁই বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ (Glasgow Restaurant) ক্ষমা চেয়ে মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফলে সেটি বন্ধ করা হয়েছে (Incomplete India Map), নাকি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফর (Glasgow Restaurant)

    ঘটনার সূত্রপাত ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফরকে ঘিরে। ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দুর্দান্ত সাফল্যের পর ভারতীয় বক্সিং দল মোট ১০টি পদক—সাতটি সোনা ও তিনটি রুপো—জিতে দেশে গৌরব এনে দেয়। সেই সাফল্য উদ্‌যাপন করতেই দলের সদস্যরা গ্লাসগোর ‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া, দ্য হোম অব কারি’ রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন। উৎসবের সেই আয়োজনই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর দেখা যায়, লভলিনা রেস্তরাঁর ছাপানো একটি ন্যাপকিন হাতে নিয়ে তাতে থাকা ভারতের মানচিত্রের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

    লভলিনার অভিযোগ

    তাঁর অভিযোগ, মানচিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। লভলিনা বলেন, “দয়া করে বিষয়টি অন্যভাবে নেবেন না। এতে আমি কিছুটা কষ্ট পেয়েছি। ভারতের মানচিত্রে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নেই। হ্যাঁ, বাইরেও যে মানচিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে, সেখানেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাদ দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বের একজন মানুষ হিসেবে বিষয়টি আমাদের সত্যিই কষ্ট দেয়। আমি শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম। পরের বার দয়া করে বিষয়টি মনে রাখবেন। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।” অসমের এই বক্সারের বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাদ দেওয়া বা উপেক্ষা করার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যে অভিযোগ রয়েছে, লভলিনার বক্তব্য সেই বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে আসে (Glasgow Restaurant)।

    প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের

    সমালোচনার পর দ্রুত বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চান রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩২ বছর ধরে ভারতীয় সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁরা ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “সবার আগে আমরা ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি। এটি সংশোধনের জন্য আমরা অবিলম্বে পদক্ষেপ করব। আবারও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমরা কাউকে আঘাত করতে চাইনি। বরং ভারতীয় দলের জন্য গর্বের সঙ্গে পরিষেবা দিতে চেয়েছিলাম।” ভারতীয় দলের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানান, বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের আতিথেয়তা করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। বিবৃতিতে বলা হয়, “সঠিক মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তন করা হবে। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় দলের অসাধারণ সাফল্যের পর তাঁদের পরিষেবা দিতে পারা আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। সমস্ত ক্রীড়াবিদ এবং অতিথিরা তাঁদের সন্ধ্যাটি উপভোগ করেছেন। এই স্মৃতি আমাদের কাছে ভারতের সঙ্গে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

    অদৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট

    ক্ষমা চাওয়ার পরেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনলাইনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অ্যাকাউন্টটি কি কর্তৃপক্ষ নিজেই নিষ্ক্রিয় করেছেন, নাকি সম্পূর্ণ মুছে (Incomplete India Map) দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে তাঁরা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হবেন কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয় (Glasgow Restaurant)।

     

  • Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নাশকতার সম্ভাব্য ছক ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও নজরদারির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার এই তদন্তেই হাওড়া থেকে আরও এক যুবক, আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত।

    সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে নাশকতার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দিল্লির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল তার কাছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন ভিআইপি-র নিরাপত্তা, চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরেও নাশকতার আশঙ্কা

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

    অর্পিতার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

    তদন্তে হামিমের পাশাপাশি অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের তরফে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘সেশন’ (Session) এবং ‘এলিমেন্ট এক্স’ (Element X) ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য, তদন্তে নতুন মোড়

    এদিকে, এই মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজকে। আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এসটিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদিত্যের ভূমিকা থাকতে পারে। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে সে হামিমের কাছে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালান। আদিত্যের মা জানান, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করত এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

    মন্ত্রীকে হুমকি ফোনের তদন্ত থেকেই সূত্র

    তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ‘আবিদ জাট’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি শুধু মন্ত্রীকেই নয়, তাঁর ছেলেকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন মন্ত্রী। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, পরে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার এবং সর্বশেষ হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন সম্ভাব্য টার্গেটে

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় থেকেছিল এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটে রেকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোন সময় নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই সঙ্গে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ করত সে।

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা চক্রান্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • Commonwealth Games 2026: ভারতের হাতে কমনওয়েলথের পতাকা, পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ গ্লাসগো অভিযান

    Commonwealth Games 2026: ভারতের হাতে কমনওয়েলথের পতাকা, পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ গ্লাসগো অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর (Commonwealth Games 2026) অভিযান শেষ করল ভারত। রবিবার গভীর রাতে দ্য হাইড্রো স্টেডিয়ামে বসেছিল সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আসর। সেই মঞ্চেই আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হলো কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা। ২০৩০-এ কমনওয়েলথ গেমস হবে গুজরাটের আমেদাবাদে। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন অলিম্পিক পদকজয়ী নীরজ চোপড়া। ছিলেন ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার (IOA) সভাপতি পিটি ঊষা এবং গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভিও। তাঁদের হাতেই কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

    সাফল্যের নেপথ্যে সরকার

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারত ১৩ সোনা, ১৭ রুপো এবং ৯ ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯ পদক জিতে নজর কেড়েছে। বক্সিং, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স এবং জুডো—একাধিক ইভেন্টে পদক জিতে ভারতের ঝুলিতে এল রেকর্ড সাফল্য। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য দেশের ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই সাফল্য শুধুমাত্র ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফল নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা সুসংগঠিত হাই-পারফরম্যান্স ক্রীড়া পরিকাঠামো, যেখানে কেন্দ্র সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রক, স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI), টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (TOPS), জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন (NSF) এবং ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (IOA) একসঙ্গে কাজ করেছে।

    পদকজয়ীদের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্ট করে পদকজয়ী সমস্ত ভারতীয় ক্রীড়াবিদকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর শুভেচ্ছা তালিকায় রয়েছেন বক্সার প্রীতি পাওয়ার, জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী, প্রিয়া ঘানঘাস, অরুন্ধতী চৌধুরী, সচিন সিওয়াচ, অঙ্কুশ পাংঘাল, লাভলিনা বরগোহাইন, জাদুমণি সিং ও নরেন্দ্র বেরওয়াল। পাশাপাশি প্যারা অ্যাথলিট সোমন রানা ও শুভম জুয়াল, ট্রিপল জাম্পার প্রবীণ চিত্রাভেল ও সেলভা প্রভু থিরুমারণ, জুডোকা উন্নতি শর্মা এবং দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়বিদ গুলবীর সিংকেও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।

    পদক প্রাপকদের প্রেরণা প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্স-এ পৃথক পোস্ট করে প্রত্যেক পদকজয়ীকে শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ করে ভারতের বক্সারদের ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ গেমস সোনা জয়ী সোমন রানার পারফরম্যান্সকে তিনি “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্যারা অ্যাথলেট ও ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের পদকজয়ীদেরও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

    বিশ্বমানের প্রশিক্ষণেই তৈরি সাফল্যের ভিত

    গ্লাসগো যাওয়ার আগে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশ্বমানের কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিওথেরাপি, পুষ্টিবিদ এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করেছিল ক্রীড়া মন্ত্রক। সাই-টপস প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য পদকজয়ীদের ব্যক্তিগত সহায়তা, বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ সাপোর্ট স্টাফের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানে লড়াই করার মতো প্রস্তুতি নিয়েই গ্লাসগোয় পৌঁছেছিলেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা।

    বক্সিংয়ে ভারতের সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে বক্সিংয়ে। ৭টি সোনা ও ৩টি রুপো জিতে পদক তালিকার শীর্ষে উঠে ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় বক্সিং দল। এর আগে কমনওয়েলথ গেমসে এত বড় সাফল্য কখনও আসেনি।

    ভারতের হয়ে সোনা জিতেছেন—

    প্রীতি পাওয়ার (মহিলা ৫৪ কেজি)
    জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া (মহিলা ৫৭ কেজি)
    সাক্ষী চৌধুরী (মহিলা ৫১ কেজি)
    প্রিয়া ঘানঘাস (মহিলা ৬০ কেজি)
    অরুন্ধতী চৌধুরী (মহিলা ৭০ কেজি)
    সচিন সিওয়াচ (পুরুষ ৬০ কেজি)
    অঙ্কুশ পাংঘাল (পুরুষ ৮০ কেজি)

    রুপো জিতেছেন—

    লাভলিনা বরগোহাইন (মহিলা ৭৫ কেজি)
    জাদুমণি সিং (পুরুষ ৫৫ কেজি)
    নরেন্দ্র বেরওয়াল (পুরুষ ৯০ কেজির বেশি)
    রোমাঞ্চকর জয় সচিনের, দুরন্ত অঙ্কুশ

    পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে ইংল্যান্ডের ডিমেজি শিট্টুকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের সপ্তম সোনা নিশ্চিত করেন অঙ্কুশ পাংঘাল।

    দিনের অন্যতম সেরা লড়াই উপহার দেন সচিন সিওয়াচ। নামিবিয়ার ট্রাইঅ্যাগেইন মর্নিং এনডেভেলোর বিরুদ্ধে প্রথম দিকে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।

    অরুন্ধতী চৌধুরী ইংল্যান্ডের শ্যান্টেল রিডকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন। একইভাবে প্রীতি পাওয়ার কানাডার স্কারলেট সাভানাহ ডেলগাডোকে ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত করেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে এবং সাক্ষী চৌধুরী ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে একই ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন। প্রিয়া ঘানঘাসও ফাইনালে কানাডার মেরি-ব্যাথুল আল-আহমাদিয়েহকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের সোনার ঝুলি আরও ভারী করেন।

    অন্যদিকে, লাভলিনা বরগোহাইন ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার এমা-সু গ্রিনট্রির কাছে ১-৪ ব্যবধানে হেরে রুপো পান। জাদুমণি সিং ও নরেন্দ্র বেরওয়ালও ফাইনালে পরাজিত হয়ে রুপো জেতেন।

    প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ইতিহাস, অ্যাথলেটিক্সেও একাধিক পদক

    পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে সোমন রানা সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন। এই ইভেন্টে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনাজয়ী তিনি। একই ইভেন্টে শুভম জুয়াল রুপো জিতে ভারতের সাফল্য আরও বাড়ান। অ্যাথলেটিক্সে পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো এবং সেলভা প্রভু থিরুমারণ ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের জন্য ঐতিহাসিক ডাবল পডিয়াম নিশ্চিত করেন। পুরুষদের ৫,০০০ মিটারে গুলবীর সিং ব্রোঞ্জ জিতে এই ইভেন্টে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ পদকজয়ী হন।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন

    কমনওয়েলথ-এর মঞ্চেও বেজে উঠল ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর। রবিবার গেমসের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের শুরুতে নিজেদের সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরে স্কটল্যান্ড। সেখান থেকে ধীরে ধীরে মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ভারত। একসঙ্গে গলা মেলান দুই দেশের সঙ্গীতশিল্পীরা। ভারতের অনুষ্ঠানে ছিল মোট তিনটি পর্ব। প্রথম পর্বে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন করা হয়। অভিনেত্রী মানুষী চিল্লারের সঙ্গে ভারতের নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার বৈচিত্র্য তুলে ধরেন শতাধিক নৃত্যশিল্পী। দেখানো হয় আমেদাবাদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও।

  • Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের পশ্চিমবঙ্গে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। এবার মালদা শহরের মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা। একই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২০ গ্রাম সোনা, একটি ল্যাপটপ এবং পরে অন্য একটি গুদামঘর থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। গোটা ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদা থানা এলাকার মঙ্গলবাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। তদন্তকারীরা ফ্ল্যাটে ঢুকতেই চোখে পড়ে থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। বিপুল পরিমাণ নগদের কারণে টাকা গোনার জন্য তিনটি মেশিন আনা হয়। সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে নোট গণনার কাজ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ জানায়, মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    একই রাতে গুদামেও অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ

    ফ্ল্যাটে তল্লাশির পাশাপাশি মালদার খইহট্টা এলাকার একটি গুদামঘরেও অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। ভোর প্রায় ৪টে পর্যন্ত সেখানে তল্লাশি চলে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই নিষিদ্ধ সিরাপ পাচার চক্রের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদের যোগ থাকতে পারে। যদিও অর্থের উৎস এবং পাচারচক্রের সঙ্গে ধৃতদের নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিন জন গ্রেফতার, কারা তারা?

    এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে পিন্টু সরকার, গোপাল চাকি এবং সুশান্ত হালদার নামে তিন জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, তিন জনেরই বাড়ি মালদা থানা এলাকায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অর্থের উৎস, নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের নেটওয়ার্ক এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

    কীভাবে মিলল এই ফ্ল্যাটের খোঁজ?

    তদন্তকারীদের দাবি, এই অভিযানের সূত্রপাত গত মাসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মেহেন্দ্রীপাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধারের ঘটনার পর। সেই সময় প্রায় ১,৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চার জনকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেই মালদার মঙ্গলবাড়ির এই ফ্ল্যাটের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এরপর তাঁদের সঙ্গে নিয়েই রবিবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

    কার ফ্ল্যাট থেকে মিলল টাকা?

    পুলিশের দাবি, যে আবাসনে অভিযান চালানো হয়েছে, তার মালিক দিলীপ সাহা। ভবনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন ধৃত পিন্টু সরকার। তদন্তে জানা গিয়েছে, পিন্টুর একটি ওষুধের ব্যবসা রয়েছে। তবে সেই ব্যবসার আড়ালে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে। এছাড়াও তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস সম্পর্কে ধৃতরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সেই কারণেই আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক নথি এবং ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বীরভূমের ঘটনার পর ফের চাঞ্চল্য

    কয়েক দিন আগেই বীরভূমে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই মালদায় আবার কোটি টাকার নগদ উদ্ধার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে অবৈধ অর্থের উৎস এবং আন্তঃজেলা পাচারচক্রের বিস্তার নিয়ে।

    তদন্তে একাধিক দিক

    রাজ্যে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার ফেনসিডিল-সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়েছে এবং পাচারের অভিযোগে বহুজন গ্রেফতার হয়েছে। তবে কাশির সিরাপ পাচারের তদন্তে সূত্র ধরে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, পাচারের রুট, সম্ভাব্য সহযোগী এবং উদ্ধার হওয়া নগদের প্রকৃত উৎস—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। তার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবন যাপনের ধরন। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগের দাপট। আন্তর্জাতিক একাধিক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা বিশ্বের মোট ফুসফুসের রোগে আক্রান্তের ১২ শতাংশ ভারতীয়। ভারতের সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত। ভারতে ফুসফুসের রোগ অন্যতম প্রধান অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে। আর ফুসফুসের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জীবন যাপনের ধরন। এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

    কী বলছে নয়া তথ্য?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ধূমপানের মতো অভ্যাস। তবে, ধূমপান ছাড়াও এমন একাধিক অভ্যাস রয়েছে, যা নিঃশব্দে ফুসফুসের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু অধিকাংশের মধ্যেই সে সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। প্রত্যেক বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত রোগীদের একটা বড় অংশ, এমন আছেন, যারা কখনোই ধূমপান করেননি। কিন্তু তাঁরা ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, হাঁপানি এমনকি ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। প্রত্যেক দিনের জীবন যাপনের ধরন ফুসফুসের রোগের কারণ‌ হয়ে উঠছে!

    কোন অভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?

    ল্যাপটপের সামনে ৮-১০ ঘণ্টা 

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাজের ধরন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কর্মজগতে বড় পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ দিনের ৮-১০ ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাটায়। দীর্ঘসময় ল্যাপটপের সামনে একটানা বসে থাকতে হয়‌। আর দীর্ঘ সময় এই বসে থাকাই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক মতো হয় না। হৃদপিন্ড এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও তাই কমে। এগুলো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে, যে কোনও ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

    শরীর চর্চায় ঘাটতি বাড়ায় ঝুঁকি

    শরীর চর্চায় ঘাটতি ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কাজের সময় এতটাই বেশি এবং অনেককেই রাত জেগে কাজ করতে হয়। এর ফলে দিনের বেলায় শরীর চর্চা করার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এতে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকে। ফুসফুস এবং মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। ফলে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। কিন্তু যোগাভ্যাসে অনীহা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জটিলতা তৈরি করছে‌।

    কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহারও কারণ

    ফুসফুসের সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে অন্যতম কারণ অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহার। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের দূষণ নিয়ে আলোচনা হলেও, ঘরের ভিতরের দূষণ নিয়ে একেবারেই সচেতনতা তৈরি হয়নি। এর ফলে, বিপদ বাড়ছে। লাগাতার মশানাশক ওষুধের ধোঁয়া কিংবা অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ঘরে ব্যবহারের ফলে ফুসফুসের ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া অনেকেই কাঠে রান্না করেন। আবার শহরাঞ্চলে গ্যাসে রান্না করলেও কেউ কেউ জানলা বন্ধ করে রান্না করেন, এর ফলে ধোঁয়া হয়। এগুলো ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এই ধরনের অভ্যাস এ দেশে ফুসফুসের রোগের বোঝা বাড়াচ্ছে।

    কিছু নির্দিষ্ট পেশায় ঝুঁকি বেশি

    এর পাশপাশি কিছু নির্দিষ্ট পেশায় কর্মরত মানুষদের কাজের জন্য ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়লা খনি কিংবা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত মানুষদের ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ, লাগাতার ধুলো ও দূষিত ধোঁয়া ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। তাই ফুসফুসের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, পেশাগত ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কতখানি মানা হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

    ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে এই বিপুল সংখ্যক ফুসফুসের রোগের বোঝা, জনস্বাস্থ্যের বড় বিপর্যয় হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা জরুরি। সব মহলে সতর্কতা না বাড়লে, বিপদ কমবে না। তাই দিনভর একজায়গায় বসে কাজ থাকলেও, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা করা জরুরি। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে আবার শরীরের একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতাও ঠিকমতো চলবে।

    নিয়মিত যোগাভ্যাস

    ব্যস্ততা সত্ত্বেও যোগাভ্যাস রপ্ত করতে হবে। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁর জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ বিনোদনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক ঘণ্টা সময় কাটান। কিন্তু দিনে তিরিশ মিনিট যোগাভ্যাসের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন না। ফলে, একাধিক শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু সচেতনতার মাধ্যমে এই মানসিকতা বদল প্রয়োজন। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের অন্যান্য কাজের মতোই যোগাভ্যাসকে নিয়মিত অভ্যাসে রপ্ত করতে হবে। তাহলেই নানান জটিলতা কমবে।
    তবে ধূমপান ফুসফুসের বিপদ সবচেয়ে বাড়িয়ে তোলে। ধূমপান বর্জন করতেই হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • PM Modi: ‘মাদকমুক্ত যুবসমাজই বিকশিত ভারতের ভিত্তি’, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ‘মাদকমুক্ত যুবসমাজই বিকশিত ভারতের ভিত্তি’, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পথে দেশের যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ হতে হবে। তাদের সব ধরনের মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকাও অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রবিবার ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নেশামুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযান’-এর সূচনা করে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী এই দেশব্যাপী প্রচারের লক্ষ্য শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার, সমাজ এবং সমগ্র দেশের কল্যাণ নিশ্চিত করা (Viksit Bharat)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ যে অভিযান আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জন্য; সর্বোপরি এটি দেশের জন্য। এই আন্দোলনের নামই—বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযানের অধীনে ‘মাদকমুক্ত যুব’ উদ্যোগ—এর সংকল্পকে স্পষ্ট করে দেয়।” তিনি আরও বলেন, “দেশ যখন বিকশিত ভারত হয়ে ওঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে, তখন আমাদের যুবসমাজের শরীর ও মন সুস্থ থাকা, আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ থাকা এবং মাদকের মতো প্রাণঘাতী অভ্যাস থেকে চিরতরে মুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য। আমাদের সংকল্প নিতে হবে, যাতে যুবসমাজ মাদক ও মাদকাসক্তির বিপদ সম্পর্কে সচেতন হয়, সতর্ক থাকে এবং এই ধ্বংসাত্মক অভ্যাস থেকে দূরে থাকে।”

    সম্মিলিত উদ্যোগেই সামাজিক পরিবর্তন (PM Modi)

    সামাজিক প্রচারাভিযানকে সফল করার ক্ষেত্রে সম্মিলিত অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, একা কোনও কঠিন কাজ করতে গেলে অনেক সময় হতাশা, ক্লান্তি এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই কাজই যখন গণআন্দোলনের রূপ নেয়, তখন মানুষের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও শক্তির সঞ্চার হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছু কাজ রয়েছে, যা একা করতে গেলে কখনও কখনও হতাশা, ক্লান্তি এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার অনীহা তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই কাজ যখন একটি সম্মিলিত অভিযানে পরিণত হয় এবং লাখ লাখ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেন, তখন যাঁরা একা সেই কাজটি করতে পারতেন না, তাঁরাও নতুন শক্তি ও উদ্দীপনায় ভরে ওঠেন।” তিনি এও বলেন, “আজ সেই শক্তিতেই পরিচালিত এই অভিযান প্রতিটি তরুণ হৃদয়কে স্পর্শ করছে।”

    কাশী থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছিল অভিযান

    প্রধানমন্ত্রী জানান, গত বছর কাশী থেকে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে এই অভিযান শুরু হয়েছিল। বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষের কল্যাণে ১২৫টিরও বেশি আধ্যাত্মিক সংগঠন এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে (Viksit Bharat)।তিনি বলেন, “গত বছর এই অভিযান পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হয়েছিল। আজ আমাদের কোটি কোটি সহনাগরিকের কল্যাণে ১২৫টিরও বেশি আধ্যাত্মিক সংগঠন আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাই আমাদের সকলকে সংকল্প নিতে হবে, যাতে যুবসমাজ মাদকাসক্তি ও মাদকের বিপদ সম্পর্কে বুঝতে পারে, সর্বদা সচেতন থাকে এবং এগুলি থেকে দূরে থাকে।”

    ১০০ সপ্তাহ ধরে চলবে দেশব্যাপী জনঅংশগ্রহণের অভিযান

    ‘নেশামুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযানে’র লক্ষ্য হল তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করা এবং নিজেদের এলাকার ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের দূত হিসেবে গড়ে তোলা (PM Modi)। এই অভিযানের সূচনার মাধ্যমে মাদকবিরোধী ১০০ সপ্তাহের দেশব্যাপী জনঅংশগ্রহণ কর্মসূচি শুরু হল। এর আওতায় প্রতি রবিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। অভিযানের অংশ হিসেবে ক্রীড়া অনুষ্ঠান, পদযাত্রা, ধ্যানের অধিবেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সচেতনতামূলক প্রচার, পথনাটিকা, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে (Viksit Bharat)।

    এক মঞ্চে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন

    মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিত আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী, শিল্পক্ষেত্রের সংগঠন এবং আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে একটি অভিন্ন মঞ্চে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।দেশের ১০ হাজারেরও বেশি জায়গা থেকে যুবসমাজ এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ভারত সরকারের ‘মাই ভারত’-এর স্বেচ্ছাসেবক, জাতীয় সেবা প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবক, যুব ক্লাব, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের যুব শাখার সদস্যরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন এই কর্মসূচিতে (PM Modi)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত ও বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত ও বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলার ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে (Hindus Under Attack)। হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অপবিত্র করা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—বিভিন্ন ধরনের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে সাপ্তাহিক এক প্রতিবেদনে (Roundup Week)। ২৬ জুলাই থেকে ১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বহু অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর পেছনে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ, ধর্মীয় মতাদর্শ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতে একাধিক ঘটনা নিয়ে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ছাত্রদের একটি বিক্ষোভ চলাকালীন জেলে থাকা ইসলামপন্থী উগ্রপন্থী উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের প্রশংসাসূচক লেখা-সহ উসকানিমূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলার বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের আড়ালে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিবিসির ভারতীয় সংবাদকর্মী গীতা পাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতের হিন্দু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মহাকুম্ভকে “দৃশ্য প্রদর্শনী”, রামমন্দিরকে “ধ্বংস করা মসজিদ” এবং “জয় শ্রী রাম”-কে “হত্যার স্লোগান” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    অবৈধ ধর্মান্তর

    উত্তরপ্রদেশে অবৈধ খ্রিস্টান ধর্মান্তর কার্যকলাপের অভিযোগে একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। লখনউয়ের মোহনলালগঞ্জ এলাকা থেকে পরিচালিত ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত যাজক ড্যানিয়েল এবং তাঁর স্ত্রীও রয়েছেন। তামিলনাড়ু থেকে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল এবং প্রলোভন ও সংগঠিত প্রার্থনাসভার মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষকে ধর্মান্তরের জন্য নিশানা করা হত বলে দাবি পুলিশের। শিক্ষা সংস্কার এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন-উত্তর সময়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের রূপ নেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তির বক্তব্য ছিল হিন্দু-বিরোধী এবং মুসলিমপন্থী। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য আন্দোলনের মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    হিন্দু ধর্ম অবমাননা!

    দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বলে সন্দেহ করা ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। উপ-পুলিশ কমিশনার রোহিত রাজবীর সিংয়ের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, বিকৃত ছবি এবং এডিটেড সরকারি বিবৃতি ব্যবহার করে জনমত বিভ্রান্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য একটি আন্তঃসীমান্ত অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্ম অবমাননা করার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবেদকরা। বিজেপির সমালোচনার আড়ালে তিনি ধারাবাহিকভাবে হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রধান বিচারপতির সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অভিজিৎ দীপকেকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হিন্দু ধর্মকে অপমান করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    হিন্দু ‘সেজে’ বিপাকে মনোয়ার আনসারি

    ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ জেলার বারহেটের বাসিন্দা মনোয়ার আনসারির বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে রাঙ্গার এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে প্রলোভিত করার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির মায়ের দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে মনোহর বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাঁকে জেলে পাঠিয়েছে। আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে মেয়েটির বয়ানও (Roundup Week)। এক হিন্দু কিশোরীকে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ভয়াবহ এক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। শোয়েব, সালমান এবং আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। হোটেল থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় বেরিয়ে আসার সময় জনৈক হিমাংশু পটেল, দেবেন্দ্র পটেল এবং নির্দোষ রাঠোর তাঁর ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন বলে (Hindus Under Attack) অভিযোগ। শারীরিক ও মানসিক আঘাতে জর্জরিত নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী শেষমেশ আত্মহত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ

    জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে লোকসভায় আলোচনার সময় আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা ভি কামাকোটিকে উদ্দেশ করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি “গোমূত্র” শব্দ ব্যবহার করে কটাক্ষ করেছেন। উত্তরপ্রদেশের মিরাটে এক তরুণীকে ভুয়ো পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের মা ও মাসির হুমকির পর ওই তরুণী বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত আরমান, তাঁর মা ও মাসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কর্নাটকে হিন্দু জনজাগৃতি সমিতির গুরু পূর্ণিমা মহোৎসব নিয়ে এসডিপিআই নেতা আশরাফের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বান্টওয়াল থানায় অভিযোগ দায়ের করে তিনি আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং গুরু পূর্ণিমার অনুষ্ঠানকে “দেশ-বিরোধী” বলে অভিহিত করেন। ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও ভক্তরা।

    হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ও বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনটির দাবি, অধিকাংশ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। আইন, সরকারি নীতি এবং সামাজিক আচরণের দীর্ঘমেয়াদি ধারা বিশ্লেষণ করলে এর উপস্থিতি বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, বৃহত্তর পরিসরে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির (Roundup Week) মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে।প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের ওপর আক্রমণ ও বৈষম্যের ঘটনাগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে (Hindus Under Attack) বৃহত্তর মানবাধিকার সঙ্কটের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

     

  • FIR: রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে সংসদে অভিনয়, পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলা

    FIR: রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে সংসদে অভিনয়, পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারাণসীর কোতয়ালি থানায় পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। কাশীর পাতালপুরী মঠের জগৎগুরু বালক দাস দেবাচার্য-সহ কয়েকজন সাধুর অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা হয়েছে (Pappu Yadav)। অভিযোগ, গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সংসদ চত্বরে বিরোধী সাংসদদের অংশগ্রহণে রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে একটি হিন্দুবিদ্বেষী ব্যঙ্গাত্মক অভিনয় করা হয়।

    প্রণামী চুরির অভিনয় (FIR)

    ঘটনাটি ৩১ জুলাই ২০২৬, চলতি বাদল অধিবেশনের সময়ের। অভিযোগ, অযোধ্যার রাম মন্দিরে সংগৃহীত অনুদানে কথিত অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের প্রতিবাদে ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা সংসদের মকর দ্বারের কাছে বিক্ষোভ দেখান। সেই বিক্ষোভের অংশ হিসেবেই পাপ্পুকে গেরুয়া পোশাকে, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা এবং পুরোহিতের সাজে দেখা যায়। তাঁর পাশে রাখা ছিল অনুদানের বাক্স, হাতে ছিল ভগবান রামের ছবি। অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ বিরোধী নেতারা অভিনয়ের অংশ হিসেবে ওই অনুদানের বাক্সে টাকা দেন। এরপর পাপ্পু যাদব সেই টাকা নিজের পকেটে ঢোকান এবং অনুদানের বাক্স নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এর মাধ্যমে অযোধ্যার রাম মন্দিরে কথিত “প্রণামী চুরি”-র অভিযোগকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়।

    ভগবান রামের অপমান

    অযোধ্যা-সহ ফৈজাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদও ওই অভিনয়ে অংশ নেন। তিনি পাপ্পুর কলার ধরে তাঁকে “চোর পুরোহিত” বলে অভিহিত করে শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষোভে “চাঁদা চোর, গদি ছোড়” এবং “অমিত শাহ ইস্তফা দাও”-এর মতো স্লোগানও দেওয়া হয়। মন্দিরের অনুদান নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়টিও বিক্ষোভে তুলে ধরা হয়। এই অভিনয়কে ঘিরে বারাণসীর সাধু-সন্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গেরুয়া পোশাক ব্যবহার করে মন্দিরের পুরোহিতকে চোর হিসেবে দেখানোর ঘটনাকে তাঁরা সনাতন ধর্ম, সাধু সমাজ এবং ভগবান রামের অপমান বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাংসদদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন (FIR) তাঁরা। কাশী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার গৌরব বনসল জানিয়েছেন, কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সাধু-সন্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাপ্পুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংসদ চত্বরে হওয়া ওই বিক্ষোভের যে ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলিও তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অভিযোগ দায়ের দিল্লিতেও

    এদিকে, দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরী থানায়ও  পাপ্পু, রাহুল, ডিম্পল যাদব, অবধেশ প্রসাদ-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন সমাজকর্মী সূর্য মৈথিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, জুতো পরে প্রতীকী অনুদানের বাক্সে টাকা রাখা এবং পরে সেই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিনয় ধর্মীয় প্রতীকগুলির প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। বিশেষ করে রামলালার ছবিকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের আগে আইনি মতামত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে। এদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, তাঁদের বিক্ষোভের উদ্দেশ্য কোনও ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করা নয়। রাম মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় কথিত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। পাপ্পুও পরে দাবি করেন, তাঁর অভিনয়ের লক্ষ্য ছিল ধর্মের নামে হওয়া চুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। এই জাতীয় বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা করেছেন (Pappu Yadav) বিজেপি নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, এই অভিনয়ের মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে (FIR) সনাতন ধর্ম ও গেরুয়া রঙকে।

     

  • ABVP: কেরলে এবিভিপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শুরু, শিক্ষা থেকে জাতীয় স্বার্থ আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

    ABVP: কেরলে এবিভিপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শুরু, শিক্ষা থেকে জাতীয় স্বার্থ আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের এর্নাকুলামে ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) দু’দিনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক। বৈঠকের উদ্বোধন করেন এবিভিপির (ABVP) জাতীয় সভাপতি অধ্যাপক রঘুরাজ কিশোর তিওয়ারি, জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি এবং জাতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিস চৌহান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবিভিপির প্রবীণ পদাধিকারী ও প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। কেরলের ঐতিহ্যবাহী পঞ্চবাদ্য বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা এবং প্রাণবন্ত পুলিকলি লোকনৃত্যের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের স্বাগত জানানো হয়।

    আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (ABVP)

    কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে শিক্ষা, প্রযুক্তি, পরিবেশ, সেবামূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা, শিল্পকলা, সাংগঠনিক বিষয় এবং সমসাময়িক জাতীয় পরিস্থিতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ২০২৬ সালের সরকারি পরীক্ষা (অসাধু পদ্ধতি প্রতিরোধ) সংশোধনী আইনে ভারতের রাষ্ট্রপতির সম্মতিকে স্বাগত জানানো হয়। এবিভিপির পক্ষ থেকে একে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (Pharmacy Commission Bill)। এছাড়াও ২০২৬ সালের জাতীয় ফার্মেসি কমিশন বিল নিয়েও আলোচনা হয়। এই বিলের বিষয়ে এবিভিপি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত সুপারিশ জমা দিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে গুণমানভিত্তিক, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক এবং কর্মসংস্থানমুখী ফার্মেসি শিক্ষার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। পাশাপাশি (ABVP) প্রস্তাবিত কমিশনে শিক্ষাক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।

    জাতীয় সভাপতির বক্তব্য

    বৈঠকে এবিভিপির জাতীয় সভাপতি অধ্যাপক তিওয়ারি বলেন, “জগদগুরু আদি শঙ্করাচার্যের জন্মভূমি এবং সামাজিক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত কেরলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া এবিভিপির কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কেরলের এবিভিপি কর্মীরা জাতীয় স্বার্থ এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। এই বৈঠক সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিশা ও কর্মপরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করবে।” তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে এবিভিপি (ABVP) সব সময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সমস্যার অর্থবহ সমাধান প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে দেশবিরোধী বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের শক্তিকে সব সময় দেশ গঠনের কাজে পরিচালিত করতে হবে। আগামী দু’দিনে শিক্ষা, সাংগঠনিক অগ্রাধিকার, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, সদস্যপদ সম্প্রসারণ, জাতীয় কর্মসূচি এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর আগামী কয়েক মাসের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।”

    কী বলছেন জাতীয় সাধারণ সম্পাদক?

    এবিভিপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এবিভিপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান সংলাপ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। হিংসা, ভাঙচুর বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মসূচির মাধ্যমে নয়।” তিনি বলেন, “পরীক্ষায় অনিয়মের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি এবিভিপি ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে এসেছে। পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীরা। তাই পরীক্ষা-চক্রের সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতির চক্র নির্মূল করতে কঠোর আইন, কার্যকর শাস্তি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি অত্যন্ত জরুরি।” রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০২৬ সালের সরকারি পরীক্ষা (অসাধু পদ্ধতি প্রতিরোধ) সংশোধনী আইনে রাষ্ট্রপতির সম্মতি এই লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে সংগঠিত পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভারতের (ABVP) পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে (Pharmacy Commission Bill)।”

    জাতীয় ফার্মেসি কমিশন বিল

    জাতীয় ফার্মেসি কমিশন বিল প্রসঙ্গে সোলাঙ্কি বলেন, “ফার্মেসি শিক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রে এই বিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আইনটিকে আরও কার্যকর, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক এবং গুণমাননির্ভর করে তুলতে এবিভিপি বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছে। আমরা আশাবাদী, এই সুপারিশগুলি যথাযথ গুরুত্ব পাবে এবং এর ফলে আরও শক্তিশালী ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী ফার্মেসি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।” তিনি এও বলেন, “২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে এবিভিপি (ABVP) মানসম্মত শিক্ষা, স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।”

     

  • Taslima Nasreen: ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, ফিরল ২০০৭-এর সেই বিতর্কিত স্মৃতি

    Taslima Nasreen: ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, ফিরল ২০০৭-এর সেই বিতর্কিত স্মৃতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩৪ বছরের বাম সূর্য অস্ত গিয়েছে। পাটে বসেছে ১৫ বছরের তৃণমূল-ভাস্করও। চলতি বছরই রাজ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রথম বিজেপি সরকারের। তার পরেই এক এক করে খুলে পড়ছে বাম এবং তৃণমূল সরকারের মুখোশ (Taslima Nasreen)। স্রেফ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে হাতিয়ার করেই কেউ ৩৪, কেউ আবার দিব্যি আরাম-আয়েশ করে ১৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছে মহাকরণ এবং তারই পোর্টেবল সংস্করণ নবান্নে (Left Front Govt)। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দাবার বোড়ে করে আদতে আখের গুছিয়ে গিয়েছেন বাম এবং তৃণমূলের ভোট কারবারিরা।

    পদ্ম জমানায় কলকাতায় ‘মুক্তমনা’ তসলিমা (Taslima Nasreen)  

    রাজ্যে পালাবদলের পর সরকার গড়েছে বিজেপি। এই পদ্ম জমানায়ই বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছেন ‘মুক্তমনা’রা। ২০০৭ সালে বাম জমানায় প্রবল আন্দোলনের জেরে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। ‘দ্বিখণ্ডিত’র জননী বড় দুঃখে ছেড়েছিলেন তাঁর ‘সেকেন্ড হোম’ কলকাতা। ১৯ বছর পর সেই তিনিই ফিরলেন আবারও কলকাতায়। যখন শহর ছেড়েছিলেন, চাক্ষুষ করেছিলেন মৌলবাদীদের দাপাদাপি। আর যখন ফিরলেন, তখন দেখলেন আক্ষরিক অর্থেই একটু একটু করে গড়ে উঠছে সোনার বাংলা। প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে তসলিমা নিজেই বলেছেন, এই শহরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর। তাঁর প্রত্যাবর্তনের আবহে ফের আলোচনায় এসেছে—কেন ২০০৭ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হয়েছিল, কীভাবে কলকাতার রাজপথে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের ভূমিকা কী ছিল।

     ‘লজ্জা’ থেকে নির্বাসন, শুরুটা বাংলাদেশে

    তসলিমার নির্বাসনের ইতিহাস অবশ্য কলকাতায় শুরু হয়নি। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার আগে থেকেই তাঁর লেখা নিয়ে মৌলবাদী সংগঠনগুলির তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছিল। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রেক্ষাপট উঠে আসে তাঁর বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘লজ্জা’-য়। বইটি প্রকাশের পর তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিম। পরবর্তী সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থেকেছেন। কিন্তু মাতৃভাষা ও বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি।

    কলকাতায় আশ্রয়, তারপর নতুন সংঘাত

    ২০০৪ সালে ভারতে থাকার অনুমতি পাওয়ার পর কলকাতায় আসেন তসলিমা। শহরের সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিল। কলকাতাকেই তিনি নিজের নতুন ঠিকানা হিসেবে দেখতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর লেখা ও বক্তব্যকে ঘিরে বিরোধ থামেনি। ২০০৩ সালে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করেছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। পরে কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে বইটি নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে (Taslima Nasreen)।

    কলকাতার রাজপথে অশান্তি

    ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর তসলিমাকে ঘিরে কলকাতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি ফোরামের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা তসলিমার ভারতে থাকার অনুমতি বাতিল এবং তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলে। বিক্ষোভ দ্রুত হিংসার রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি, যানবাহনে আগুন এবং পথ অবরোধে স্তব্ধ হয়ে যায় কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা (Left Front Govt)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত সেনা নামাতে হয়। সে দিন প্রায় ৪০ জন আহত হন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন পুলিশকর্মী। বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছিল। অর্থাৎ, তসলিমাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিক্ষোভ শুধু একটি সাহিত্যিক বা ধর্মীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, বামফ্রন্ট সরকার মৌলবাদী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বদলে তসলিমাকেই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁদের যুক্তি, একজন লেখিকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার বদলে সরকার বিক্ষোভকারীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। অগত্যা বাংলা ছাড়তে হয় তসলিমাকে।

    নিরাপদ আশ্রয় থেকে জয়পুরে, দিল্লিতে

    কলকাতার নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে তসলিমাকে চলে যেতে হয় জয়পুরে। সেখানেও প্রতিবাদ-আন্দোলন শুরু হয় বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকাকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লিতেও তাঁর চলাফেরায় ছিল নানা বিধিনিষেধের বেড়ি। ২০০৮ সালে পরিস্থিতির চাপে তিনি সাময়িকভাবে ভারত ছেড়ে সুইডেনে চলে যান। পরে আবার ভারতে ফিরে এসে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন (Taslima Nasreen)।

    বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    ২০০৭ সালের ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভূমিকা আজও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। সমালোচকদের বক্তব্য, নিজেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এবং মুক্তচিন্তার সমর্থক হিসেবে তুলে ধরা এক মুখ্যমন্ত্রীর সরকারের কাছ থেকে আরও দৃঢ় অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল। তাঁদের প্রশ্ন—রাজপথে হিংসা ছড়ানো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে কেন একজন লেখিকাকেই শেষ পর্যন্ত রাজ্য ছাড়তে হল?

    তুষ্টিকরণের রাজনীতি

    ২০০৭ সালের ঘটনার পর থেকেই বামেদের বিরুদ্ধে ‘তোষণের রাজনীতি’র অভিযোগ উঠেছে (Left Front Govt)। সমালোচকদের বক্তব্য, মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও, সরকার সেদিন শেষ পর্যন্ত মৌলবাদী চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। পরবর্তী সময়ে তসলিমা নাসরিনকে ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। বিজেপির সমর্থকেরা দাবি করেন, মৌলবাদী হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করে তসলিমাকে ভারতে থাকার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে তসলিমার ভারতে থাকা মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রশাসনিক বিষয়। একে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত ও সময়কাল আলাদা করে বিচার করা প্রয়োজন (Taslima Nasreen)।

    ১৯ বছর পর ফের কলকাতায়

    দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে কলকাতায় ফিরেছেন তসলিমা। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন অনুরাগীরা। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই কলকাতায় প্রত্যাবর্তন হয় তাঁর। বিমানবন্দরে পা দিয়েই তসলিমা জানান, কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনও গভীর। তিনি বলেন, এই প্রত্যাবর্তন তাঁর কাছে আবেগের। এমনকি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকলে কলকাতায় আরও বেশি সময় থাকার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একজন নির্বাসিত লেখিকার শহরে ফেরার ঘটনা নয়। ২০০৭ সালের সেই রাত, রাজপথের হিংসা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় মৌলবাদ, প্রশাসনের ভূমিকা (Left Front Govt) এবং অবশ্যই তোষণ-তুষ্টিকরণের রাজনীতি—সব কিছুই আবারও জাগরুক বঙ্গবাসীর স্মৃতিতে (Taslima Nasreen)।

     

LinkedIn
Share