Tag: news in bengali

news in bengali

  • Commonwealth Games 2026: জোড়া সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ঐতিহাসিক সাফল্য ভারতের! রুপো জিতলেন নীরজ, ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ

    Commonwealth Games 2026: জোড়া সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ঐতিহাসিক সাফল্য ভারতের! রুপো জিতলেন নীরজ, ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রীতিমতো চমক দিয়ে জুডোতে জোড়া সোনা জয় ভারতের। দেশের প্রথম জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) সেরার মুকুট পরলেন ত্রিপুরার বাঙালি মেয়ে অস্মিতা দে। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপর সোনাটি জেতেন হর্ষ সিং। এছাড়াও এই ইভেন্টে মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে রুপো জিতলেন যামিনী মৌর্য। শুক্রবার সবার নজর অবশ্য ছিল জ্যাভেলিন থ্রোয়ে নীরজ চোপড়ার দিকে। কিন্তু, আশা জাগিয়েও সোনা হাতছাড়া ভারতীয় তারকার। প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলে ৮৫.৮৩ মিটারের থ্রোয়ে রুপো জিতলেন তিনি। এদিন, জ্যাভলিনে ডাবল পোডিয়াম ভাগ করে নিল ভারত। ব্রোঞ্জ জিতে চমক দিলেন ভারতের যশবীর সিং (৮৫.৪১)।

    বাবাকে সোনা উৎসর্গ অস্মিতার

    গ্লাসগোয় জুডোর ম্যাটে এদিন যথার্থ অর্থেই আলো ছড়িয়েছেন ভারতীয়রা। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে অস্মিতা হারালেন কানাডার হিডি কোয়াচকে। নির্ধারিত সময়ের লড়াই ১-১ থাকার পর গোল্ডেন স্কোরে বাজিমাত (২-১) করেন তিনি। পুরস্কার প্রদানের সময় জাতীয় সংগীত বেজে উঠতেই আবেগে চোখ ছলছল করল দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ছোট্ট শহর বিলোনিয়ায় বেড়ে ওঠা জুডোকার। বাবা অর্জুন কুমার ছিলেন সাইকেল মেকানিক। গত ডিসেম্বরেই মারা গিয়েছেন তিনি। গেমসের সোনা তাঁকেই উৎসর্গ করলেন কন্যা। অস্মিতার কথায়, ‘এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। অবশেষে স্বপ্ন সফল। জুডো থেকে দেশকে প্রথম কমনওয়েলথ গেমস সোনা এনে দিতে পেরে আমি ধন্য। মাত্র ৮ মাস আগে বাবাকে হারিয়েছি। এই সাফল্য তাঁকেই উৎসর্গ করছি।’

    সোনার ছেলে হর্ষ সিং

    পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে সোনা জয়ের পথে হর্ষ সিং ১০-০ পয়েন্টে উড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার জোসুয়া কাটজকে। কেরিয়ারে এই প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে খেলতে নেমেছিলেন হর্ষ। আর অভিষেকেই বাজিমাত করলেন। অলিম্পিয়ান জোশুয়া কাটজ়কে এই বিভাগের অন্যতম সেরা এবং সোনা জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় ছক কষে লড়াই করে চমক দিলেন হর্ষ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে দীর্ঘক্ষণ কেউই সে ভাবে সুবিধা পাননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ৪১ সেকেন্ড আগে দুর্দান্ত একটি ওয়াজা-আরি (Waza-ari) মুভে এগিয়ে যান হর্ষ। জুডোয় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরিং টেকনিক। এর পরে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লিড ধরে রেখে সোনার পদক নিশ্চিত করেন তিনি।

    লড়াই করেও রুপোতেই থামলেন যামিনী

    সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন অস্মিতা দে। নজর ছিল আর এক মহিলা জুডোকা যামিনী মৌর্যর দিকেও। ৫৭ কেজি বিভাগের ফাইনালে দারুণ লড়াই করেও ইংল্যান্ডের অ্যাসেলিয়া টোপ্রাকের কাছে হেরে যান তিনি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে ম্যাচ গড়ায় গোল্ডেন স্কোরে। অবশেষে পেনাল্টিতে বাজিমাত করে যামিনীকে হারিয়ে সোনা জেতেন টোপ্রাক। রুপো জেতেন যামিনী।

    দুই ভিন্ন ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট

    ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের অ্যাথলেটিক্সে আরও এক গৌরবময় অধ্যায় যোগ করলেন তেজস্বিন শঙ্কর (Tejaswin Shankar)। শুক্রবার গভীর রাতে (ভারতীয় সময়) পুরুষদের ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি। এর ফলে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে দুই ভিন্ন ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হয়ে উঠলেন তেজস্বিন। এর আগে ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের হাই জাম্পে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। হাই জাম্পার থেকে ডেকাথলিটে রূপান্তরিত হওয়া তেজস্বিন গ্লাসগোতে ১০টি ইভেন্ট মিলিয়ে মোট ৭,৯৭৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। মাত্র ২৪ পয়েন্টের জন্য তিনি ৮,০০০ পয়েন্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। সোনা জিতেছেন গ্রেনাডার ভিক্টর লিন্ডন (৮,০৯৬), আর কানাডার ড্যামিয়ান ওয়ার্নার (৮,০৩৬) জিতেছেন রুপো।

    বক্সিং রিংয়ে তেরঙা ঝড়

    বক্সিং রিংয়েও বইল তেরঙা ঝড়। এই ইভেন্ট থেকে সবচেয়ে পদক জিততে চলেছে ভারত। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ১০ জন বক্সার সেমি-ফাইনালে পৌঁছে আগেই তা নিশ্চিত করেছিলেন। শুক্রবার তাঁদের প্রত্যেকেই ফাইনালে জায়গা পাকা করলেন। দুরন্ত পারফরম্যান্সে সোনা জয়ের আশা উজ্জ্বল করলেন লভলিনা বড়গোঁহাই, অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল, প্রীতি পাওয়ার, জাসমিন লাম্বোরিয়া, অরুন্ধতী চৌধুরি, জাদুমনি সিং, সাক্ষী চৌধুরি, প্রিয়া গাংহাস, শচীন সিওয়াচ ও নরেন্দ্র বেরওয়াল। আর ফাইনালে হারলেও নিদেনপক্ষে রুপো নিশ্চিত তাঁদের। এদিকে, পুরুষদের ১১০ কেজি ভারোত্তোলনে অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ ভুলতে পারছেন না লাভপ্রীত সিং। দুরন্ত পারফরম্যান্স করেও রুপোতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় নেভি জওয়ানকে। স্ন্যাচ এবং ক্লিন-জার্ক মিলিয়ে লাভপ্রীত তোলেন ৩৮৮ কেজি ওজন।

    জ্যাভলিনে জয়যাত্রা

    নীরজের কমনওয়েলথ যাত্রা বরাবরই বিশেষ। ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমস (Gold Coast Commonwealth Games)-এ ৮৬.৪৭ মিটার থ্রো করে তিনি সোনা জিতে এই ইভেন্টে প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির গড়েছিলেন। যদিও ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমস (Birmingham Commonwealth Games)-এ চোটের কারণে অংশ নিতে পারেননি। ২০২৬ সালে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে সোনা না এলেও রুপোর পদক জিতে আবারও প্রমাণ করলেন, বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম এখনও নীরজ চোপড়াই। আর যশবীরের ব্রোঞ্জ ভারতের ভবিষ্যৎ জ্যাভলিন শক্তির দিকেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল। এই ফলাফলের মাধ্যমে কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের জ্যাভলিনে নতুন ইতিহাস গড়ল ভারত। প্রথমবার একই আসরে দুই ভারতীয় অ্যাথলিট পদক জিতে দেশের অ্যাথলেটিক্সে নতুন মাইলফলক তৈরি করলেন।

    পদক তালিকায় কোথায় ভারত

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক জয়ের রথ দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পুরুষদের জ্যাভেলিন থ্রোতে নীরজ চোপড়ার রুপো এবং যশ বীর সিংয়ের ব্রোঞ্জ জয়ের পর ভারতের মোট পদক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩। ভারতের ঝুলিতে এখন ৫টি সোনা, ১২টি রুপো এবং ৬টি ব্রোঞ্জ রয়েছে। এই সাফল্যের সুবাদে পদক তালিকায় ভারত দশম স্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

  • Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় ফের লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেল্লাম (Kellam) গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিরা দুই পরিযায়ী শ্রমিককে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত দু’জনই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ছদ্ম সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

    কী ঘটেছিল কুলগামের জঙ্গি হামলায়?

    পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থলে একাধিক অ-স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছিলেন। জঙ্গিরা প্রথমে শ্রমিকদের পরিচয় জানতে চায়। এরপর দুই হিন্দু শ্রমিককে অন্যদের থেকে আলাদা করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। নিহতদের নাম দীপক ও ভূপেন্দ্র। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই দীপকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ভূপেন্দ্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। দু’জনেই ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    দায় স্বীকার টিআরএফ-এর, নজরে লস্কর যোগও

    হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই এর দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। এই সংগঠনটি লস্কর-ই-তইবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৫ সালের পাহেলগাম জঙ্গি হামলার সঙ্গেও তাদের নাম জড়িয়েছিল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই হামলায় এক স্থানীয় এবং এক বিদেশি জঙ্গির জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে মহম্মদ লতিফ, যে গত বছর লস্কর-ই-তৈবা বা টিআরএফ-এ যোগ দিয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এখনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি দেয়নি।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় অভিযান

    হামলার পরপরই সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে কেল্লাম গ্রাম ঘিরে ফেলে। শুরু হয় ব্যাপক কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গিদের খোঁজ চলছে। গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল জানান, তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক নলিন প্রভাত-সহ শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জঙ্গিদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

    অমরনাথ যাত্রার মাঝেই বাড়ছে উদ্বেগ

    এই হামলার পর উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। এর আগে অনন্তনাগ জেলায় এক পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৩,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকার ৬৭০টি অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর কোম্পানি মোতায়েন করেছে।

    পাহেলগাম হামলার পর আবার টিআরএফ-এর সক্রিয়তা

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলিকে দায়ী করেছিল ভারত। পরবর্তীতে ভারত অপারেশন সিঁদুর চালায় এবং দুই দেশের মধ্যে কয়েকদিন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক কুলগাম হামলাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ।

    শোকপ্রকাশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনাকে “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ন্যাশনাল কনফারেন্স তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, “এই মানুষগুলো স্রেফ নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে এসেছেন। কোনো সভ্য সমাজে এই বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দাবির সত্ত্বেও এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্তম্ভিত করে।” ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তাঁর অভিযোগ, উপত্যকার শান্তি নষ্ট করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কারা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, বিজেপি নেতা রবীন্দর রায়না, আপনি পার্টির সভাপতি আলতাফ বুখারি এবং পিপলস্ কনফারেন্স-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে।

    অতীতেও পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা

    কুলগামে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর কুলগামের ওয়ানপোহ এলাকায় বিহারের দুই শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীনগরে পঞ্জাবের দুই অ-স্থানীয় শ্রমিক জঙ্গি হামলায় নিহত হন।

  • Nepal: নেপালে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, নিহত ৩, একাধিক জেলায় কারফিউ

    Nepal: নেপালে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, নিহত ৩, একাধিক জেলায় কারফিউ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের (Nepal) সুনসারি জেলায় শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার (Communal Clashes) আঁচ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে মধেশ প্রদেশের বিভিন্ন জেলায়। সংঘর্ষ ও হিংসার পৃথক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা ও ধনুষা জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। পারসা জেলার বীরগঞ্জের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। পরিস্থিতির যাতে আরও অবনতি না হয়, তাই বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপালি সেনা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

    পৃথক সংঘর্ষে নিহত তিন (Nepal)

    সিরাহা জেলায় বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের সময় ১৭ বছর বয়সি গণেশ যাদবের মৃত্যু হয়েছে। সে অওরাহী রুরাল পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিল। গোলবাজারে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল সে। পরে মৃত্যু হয় তার। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর ঘাড়ে গুলি লেগেছিল। ধনুষা জেলার ধনুষাধাম পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বছর উনিশের সুভাষ ঠাকুরও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁর পিঠে গুলি লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ধরানের বিপি কৈরালা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে সংঘর্ষের সময় আহত বা নিহত ব্যক্তিদের শরীরে যে গুলি লেগেছে, সেগুলি নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী নাকি নেপালি সেনার অস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। ফলে নিহত ও আহতদের ঘটনায় গুলি কোথা থেকে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    কারফিউ অমান্য করে গোলবাজারে ফের উত্তেজনা

    সিরাহার গোলবাজারে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুর ২টা থেকে সেখানে কারফিউ কার্যকর হওয়ার পরও বিক্ষোভকারীদের একাংশ তা অমান্য করে রাস্তায় নেমে আসে (Communal Clashes)। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজনার সূত্রপাত। কাসাহা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পূর্ব-পশ্চিম হাইওয়ে অবরোধ করেন। পরে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা গোলবাজারের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একাধিক দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কয়েকটি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এবি মলও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুপুরের দিকে আরও একটি দল শহরে এসে পৌঁছয়। ওই দলের সদস্যদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় দু’ডজন মোটরসাইকেল এবং কয়েকটি অটোরিকশায় করে তারা শহরে আসে বলে দাবি স্থানীয়দের (Nepal)। এর পর গোলবাজারের দুই প্রান্তে পরস্পরবিরোধী দুই গোষ্ঠী অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাকর্মীরা লাঠিচার্জ করেন এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের ২১টি সেল ছোড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন কারফিউ জারি করে এবং নেপালি সেনা মোতায়েন করা হয়। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি দল ফের হাইওয়ের দিকে অগ্রসর হয়। প্রশাসনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে জনতা এগিয়ে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা গুলি চালান বলে জানান আধিকারিকরা। এরপর পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে। পরে এক ডজনেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয় অথবা আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    নিরাপত্তাবাহিনীকে সংযত থাকার নির্দেশ

    পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিরাপত্তাবাহিনীকে আনুপাতিক ও প্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে নেপাল পুলিশের সদর দফতর। উত্তজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রথমে কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের মতো পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লাহান এলাকায়ও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুলিও ছোড়ে। সেখানেও কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    জনকপুরে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ

    মধেশ প্রদেশের রাজধানী ও প্রশাসনিক কেন্দ্র জনকপুরেও বৃহস্পতিবার সকালে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন বাজার বন্ধ করে দেয় এবং একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রামানন্দ চক এবং বজরং চক-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে জনকপুরধাম উপ-মহানগরীর সব ওয়ার্ড এবং সংলগ্ন এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় উত্তরে লক্ষ্মীনিয়া থেকে দক্ষিণে নাগরাইন পর্যন্ত এলাকা রয়েছে। পূর্ব দিকে বেলৌনি সড়ক করিডর থেকে পশ্চিমে সিনুরজোদা এবং দুধমতী সেতু এলাকা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। কারফিউ কার্যকর করার সময় প্রয়োজন হলে নেপালি সেনাকে সরাসরি গুলি চালানোর অনুমতিও দিয়েছে প্রশাসন। তবে সেনা সদস্যদের শুধুমাত্র পরিস্থিতি সামাল দিতে যতটুকু শক্তি প্রয়োজন, ততটুকুই ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার এবং পায়ে হেঁটে টহল দেওয়ার জন্য সদস্য মোতায়েন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    পারসায়ও কঠোর বিধিনিষেধ

    পারসা জেলায়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বীরগঞ্জের সংবেদনশীল কিছু এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে (Communal Clashes)। এই আদেশ অনুযায়ী, পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত, বিক্ষোভ, মিছিল এবং অন্যান্য ধরনের প্রকাশ্য সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কেউ এই বিধিনিষেধ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এদিকে, সুনসারি জেলায় মঙ্গলবার রাতে কারফিউ জারির পর বৃহস্পতিবারও তা বহাল ছিল। জেলার ১০টি স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিটকে কারফিউয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। টানা তৃতীয় দিন সেখানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রয়েছে (Nepal)।

    পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    সুনসারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা অল্প সময়ের মধ্যে মধেশ প্রদেশের একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে। একাধিক এলাকায় একই সময়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে আপাতত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গোলবাজার, লাহান এবং জনকপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউ ও অন্যান্য বিধিনিষেধ জারি করা হলেও, সেসব অমান্য করে বিক্ষোভ দেখানো অব্যাহত থাকার ঘটনায় প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সংঘর্ষে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় গুলির উৎস এবং দায় নির্ধারণ করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    চেষ্টা চলছে উত্তেজনা কমানোর

    নিহত ও আহতদের ঘটনায় নিরাপত্তাবাহিনীর গুলির ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের তদন্তে এই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন নেপালবাসী। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টাও চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মধেশ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনী সংঘর্ষ ঠেকাতে একদিকে যেমন কঠোর পদক্ষেপ (Communal Clashes) নিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, সেদিকেও নজর রাখছে (Nepal)।

     

  • Suvendu Attacks Mamata: ‘পাথর পাচারে বাজেয়াপ্ত ৯০ কোটির ওপর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এটা অসম্ভব’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Mamata: ‘পাথর পাচারে বাজেয়াপ্ত ৯০ কোটির ওপর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এটা অসম্ভব’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনিক প্রধান যখন চোখ-কান বন্ধ করে থাকেন, তখনই দুর্নীতি একেবারে গোড়য় গেঁথে যায়। আগের সরকারের সময় রাজ্যে তাই হয়েছিল। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata)। বীরভূমের পাথর ও বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান এবং বিপুল ধনসম্পদ উদ্ধারের খতিয়ান তুলে ধরে নবান্ন থেকে একগুচ্ছ বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন তিনি। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, টুলু মণ্ডলের নামে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিলাসবহুল গাড়ি, জমি, সোনা-রুপো-সহ একাধিক সম্পত্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, তদন্তে এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও উদ্ধার করেছেন তিনটি টাকা গোনার মেশিন, একটি কম্পিউটার ও সিপিইউ এবং দুটি পেনড্রাইভ। পরিবহণ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিপুল সম্পদেরও হদিস মিলেছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার এবং বিএমডব্লিউ, অডি-সহ মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গত ১৫ বছরে কেবল একটি জেলা থেকেই রাজ্য সরকারের বিপুল রাজস্বের ঘাটতি চোখে পড়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা বা প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় পাচার চক্র বছরের পর বছর চলা অসম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “বিগত সরকারের আমলে পাথর খাত থেকে মাসে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত। আর আমাদের সরকারের সময়ে কঠোর নজরদারির ফলে কেবল গত এক মাসেই ৮৩ কোটি টাকার রেভিনিউ সংগ্রহ হয়েছে। নদীর পাড়ে তৃণমূল নেতারা যে বালি ডাম্প করে রেখেছিল, আমরা এসে তা খোলা নিলাম (Auction) করাই। সেই বালি নিলাম করেই রাজ্য সরকারের ভাণ্ডারে নতুন করে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা এসেছে।”

    রাজ্য পুলিশ দক্ষ

    সাধারণত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) বা সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে এই ধরনের বিশাল ক্র্যাক ডাউন করতে দেখা যায়। তবে রাজ্য পুলিশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ রাজ্যের পুলিশও যে কতটা দক্ষ, তা এই অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। এই পাচারের টাকা বিদেশেও পাঠানো হয়েছে। অনেকেই চিকিৎসার দোহাই দিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।” শুভেন্দু আশাপ্রকাশ করেন যে, দুর্নীতির পথ বন্ধ হওয়ায় চলতি অর্থবর্ষ শেষে রাজ্য সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ আরও ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

  • Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনের (Spain) উত্তর আফ্রিকীয় ভূখণ্ড সেউতায় বৃহস্পতিবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কার্যত হতচকিত করে দিয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লেন হাজার হাজার অভিবাসী (Morocco Migrants)। সাম্প্রতিক বছরে এটি স্পেনের এই ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় অভিবাসী অনুপ্রবেশগুলির একটি। ২০২১ সালের অভিবাসন সঙ্কটের পর এমন বড় আকারের প্রবেশ আর দেখা যায়নি। স্পেনের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি। তবে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের হিসেব অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অভিবাসী সেউতায় ঢুকে পড়েন। অনেকেই সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছন। অন্যরা মরক্কো থেকে সেউতাকে আলাদা করা সীমান্তের বেড়া ভেঙে প্রবেশ করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে প্রবেশে পুলিশ কার্যত চাপে পড়ে যায়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত ঘিরে নতুন করে অভিবাসন-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” (Spain)

    পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে সেউতার আঞ্চলিক সরকার মাদ্রিদকে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানায়। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্মীদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ার পর অভিবাসীরা তারাজাল বাঁধের দিক দিয়ে ব্যাপক হারে সমুদ্রপথে প্রবেশ করতে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিবাসীরা ফোলানো টিউব ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করে বাঁধ ঘুরে সাঁতরে সেউতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অন্য একটি দল সীমান্তের বেড়ার একটি ফটক জোর করে খুলে সেউতার ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রবেশের সময়  কয়েকজনকে “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” বলে স্লোগান দিতেও শোনা যায়। এই পরিস্থিতি ২০২১ সালের মে মাসের নজিরবিহীন অভিবাসন সঙ্কটের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সেই সময় কয়েক দিনের মধ্যে মরক্কো ও সাহারা-দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন (Spain)। সেউতা এবং কাছাকাছি অবস্থিত স্পেনের আর একটি ভূখণ্ড মেলিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে পৌঁছনোর আশায় থাকা অভিবাসীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

    জরুরি অবস্থা জারির দাবি সেউতার

    অভিবাসীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেউতার নেতা হুয়ান হেসুস ভিভাস মাদ্রিদ সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা জারি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন, নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে সাময়িকভাবে মরক্কোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি। তবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কোনও পরিকল্পনা নেই (Morocco Migrants)। পরে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, বর্তমান সঙ্কটের তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভিভাসের সঙ্গে কথা বলার পর সানচেজ বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় সব সম্পদ কাজে লাগাচ্ছি, মরক্কো ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “এখন দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার সময়।” তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়টি তিনি খোলসা করেননি (Spain)। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, মরক্কো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। মন্ত্রকের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে হাজার হাজার অবৈধ সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা ইতিমধ্যেই ঠেকানো হয়েছে। অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করেছে এমন ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর কথাও জানিয়েছে মন্ত্রক। একই সঙ্গে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলি অভিবাসীদের ব্যবহার করছে (Morocco Migrants) বলেও অভিযোগ।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়েও প্রশ্ন

    বৃহস্পতিবারের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সঙ্গে সম্প্রতি দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন কয়েকজন আধিকারিক। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছনোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের বিশেষ সীমান্ত-প্রত্যাখ্যান বিধির আওতায় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেমতো যখন খুশি ফেরত পাঠাতে পারবে না। রায়ে অভিবাসীদের স্পেনে থাকার অধিকার দেওয়া হয়নি। তবে আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে উৎসাহিত করতে পারে। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে লোকজন আসছিল, কিন্তু আজ তা বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গিয়েছে (Spain)।” এই রায় বিশেষভাবে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এমনকি তারা স্থলসীমান্ত এড়িয়ে বেড়ার চারপাশ দিয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছলেও তা প্রযোজ্য হবে।এদিকে স্পেনে আগে থেকেই বসবাসকারী প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীর অবস্থান নিয়মিত করার একটি সরকারি কর্মসূচিও দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই কর্মসূচি কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই যারা স্পেনে বসবাস করছেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। তবে সমালোচকদের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করলেও, শেষ পর্যন্ত বৈধ বসবাসের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

    সানচেজ সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

    সেউতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় সানচেজ সরকার অভিবাসীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে উদার নীতি গ্রহণ করেছে। রক্ষণশীল বিরোধী দলের নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “সেউতার পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। সরকার বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না… কারণ আমরা জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখোমুখি (Spain)।” এদিকে, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মী জাকারিয়া জাররুকি জানিয়েছেন, সেউতায় পৌঁছনোর আশায় মরক্কোর সীমান্তবর্তী শহর ফনিদেকে এখনও বহু মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন কথা বলছি, তখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই রয়েছে (Morocco Migrants)।” অভিবাসীদের একটি অংশ এখনও সেউতায় পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় স্পেনের কর্তৃপক্ষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একই সঙ্গে নতুন করে সীমান্ত পারাপার ঠেকানো (Spain)।

     

  • Terrorist Hamid Mondal Arrest: গেঞ্জি কারখানা থেকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি! সাধারণ দর্জির ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হামিদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় কতটা গভীর?

    Terrorist Hamid Mondal Arrest: গেঞ্জি কারখানা থেকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি! সাধারণ দর্জির ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হামিদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় কতটা গভীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ঘিরে বড়সড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের কাছে পাঠানোর অভিযোগে ধৃত হামিদ মণ্ডলকে জেরা করে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। তদন্তকারী সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এসটিএফ-এর ডিজি, সিআইএসএফ-এর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিও এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও কোনও ফাঁক ছিল কি না, ভবিষ্যতে কীভাবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হবে— সেই বিষয়েই মূলত আলোচনা হবে।

    হামিদকে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়

    বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হামিদ মণ্ডলকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের একটি দল ইতিমধ্যেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু বর্ধমান নয়, হাওড়াকেও ব্যবহার করা হচ্ছিল এই গোটা অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, হামিদ একা কাজ করছিল না। এই চক্রের সঙ্গে আরও অন্তত চারজন যুক্ত থাকতে পারে। তাদের পরিচয়, অবস্থান এবং ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের তথ্য পাঠানোর অভিযোগ

    তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, হামিদ নিয়মিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, সম্ভাব্য অবস্থান এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে কাশ্মীরে থাকা সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছে পাঠাত। এই তথ্যের বিনিময়ে সে নিয়মিত অর্থও পেত বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। ধৃতের মোবাইল ফোন থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি সংক্রান্ত একাধিক তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সেই কারণেই তদন্তকারীরা সম্ভাব্য হামলার ষড়যন্ত্রের দিকটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন।

    ছাপোষা জীবনের আড়ালে সক্রিয় নেটওয়ার্ক

    তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আরও বিস্ময়কর। বাইরে থেকে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিদের ভূমিকা ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাওড়ার পিলখানায় তার পরিবারের বসবাস। বাবা গেঞ্জির কারখানায় কাজ করতেন এবং হামিদও দীর্ঘদিন সেই কারখানাতেই কাজ করেছে। স্থানীয়ভাবে সে দর্জির কাজও করত বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। পিলখানা এলাকায় উচ্ছেদের নোটিস পাওয়ার পর সে বর্ধমানে চলে আসে। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং-এ থাকছিল সে। এই সময়েই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সেই সময় থেকেই কি নতুন করে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল।

    পূর্ব ভারতে নেটওয়ার্ক বিস্তারের দায়িত্ব?

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিদের দায়িত্ব ছিল পূর্ব ভারতে সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক বিস্তার করা। শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, নতুন সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করা, সংগঠনের সদস্যদের আশ্রয় ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া— একাধিক দায়িত্ব সামলাত সে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। গোয়েন্দাদের মতে, তার সাধারণ চেহারা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনই ছিল সবচেয়ে বড় আড়াল। সেই কারণেই দীর্ঘদিন সন্দেহের বাইরে থাকতে পেরেছিল সে।

    শুধু বাংলা নয়, উত্তর-পূর্বেও সক্রিয় একই নেটওয়ার্ক

    এই তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। গত এক সপ্তাহের মধ্যে অসমেও একই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে সেখানকার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। অসমে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি এবং একাধিক সন্দেহজনক নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্ক সদস্য সংগ্রহ, অনলাইনে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ, রেইকি, গুপ্তচরবৃত্তি, স্লিপার সেল গঠন, অস্ত্র সংগ্রহ এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তার মতো একাধিক কাজের সঙ্গে যুক্ত।

    পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ

    তদন্তে উঠে এসেছে, এই নেটওয়ার্ক পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করত। গোয়েন্দাদের মতে, আইএসআই-সমর্থিত এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সদস্য সংগ্রহ ও অপারেশন পরিচালনার চেষ্টা চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়া— বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম— ব্যবহার করে নতুন সদস্য নিয়োগ, ভয়েস নোটের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো এবং সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র ও মাদক পাচারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

    সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত হামিদ কুখ্যাত জঙ্গি সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সদস্য। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, টার্গেটেড কিলিং, অস্ত্র পাচার এবং উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধীরে ধীরে এই নেটওয়ার্ক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে কি না, এখন সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে সাম্প্রতিক গ্রেফতারির ঘটনাকে একই সূত্রে মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা

    মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই প্রশাসন দ্রুত নড়েচড়ে বসেছে। নিরাপত্তা বলয়ের প্রতিটি স্তর নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ধৃত হামিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সহযোগীদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার সম্পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি। হামিদের ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এগোচ্ছে প্রশাসন।

  • New Syllabus: ক্লাস ওয়ান থেকেই পুরো বদলে যাবে সিলেবাস, পোশাকে বাদ বিশ্ব-বাংলা লোগো জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

    New Syllabus: ক্লাস ওয়ান থেকেই পুরো বদলে যাবে সিলেবাস, পোশাকে বাদ বিশ্ব-বাংলা লোগো জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যমিক নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি (New Syllabus) কার্যকর করার সঙ্গে সঙ্গেই এবার সিলেবাস পরিবর্তনের কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে পুরো সিলেবাস আমুল বদলে যাবে বলে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মন্ত্রী। ইতিমধ্যে সিলেবাস কাম কারিকুলাম কমিটি গড়েছে রাজ্য। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই বদল করা হবে সিলেবাসে। ২০২৭-এর শিক্ষাবর্ষেই পড়ুয়ারা পরিমার্জিত সিলেবাস পাবে। অর্থাৎ, পাঠ্যবইয়ে বদল আসবে। আর ২০২৮ থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি পুরোপুরি কার্যকর হলে সেই নীতিকে সামনে রেখে প্রথম শ্রেণি থেকে পুরো বদলে যাবে সিলেবাস। ফের বদলাবে বই।

    বর্তমানের উপযোগী সিলেবাস

    দীপক বর্মণ বলেন, “আজকের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য যে সিলেবাস প্রয়োজন, সেটা করা হবে। মাঝে মাঝেই এভাবে রিভিউ কমিটি তৈরি করা হয়ে থাকে, সেরকমই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির প্রথম পরিকল্পনা, ২০২৭-এ যে বই বেরবে, সেগুলি রিভিউ করা হবে। ২০২৮-এ শিক্ষানীতি অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে। কমিটি যা সুপারিশ করবে, সেই অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে।” দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই ওই কমিটি সিলেবাস তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    নীল-সাদা রং নয়, বাদ বিশ্ব বাংলা লোগো

    স্কুলের ক্ষেত্রে একাধিক বদল ইতিমধ্যেই এনেছে রাজ্য সরকার। স্কুল ইউনিফর্ম থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব বাংলা লোগো। অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন করার কথাও আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। নীল নয়, প্রতিটি স্কুল নিজের মতো রঙ পছন্দ করতে পারবে। ২০১৮-য় স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলে নীল-সাদা রং করার জন্যে সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। তৎকালীন স্কুলশিক্ষা সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালের পাঠানো নির্দেশে বলা হয়েছিল, সরকারি নিয়মে যে রঙের কথা বলা আছে, সেটাই করতে হবে। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তৃণমূল সরকারের আমলে নীল-সাদাই ছিল সরকারি রং। সেজন্য অর্থ সরকারই দিয়েছে। ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু স্কুল অবশ্য সেই পথে এখনও হাঁটেনি।

    স্কুল-ছুট রুখতে পদক্ষেপ

    পাশাপাশি স্কুল-ছুট রুখতে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং’ (এনআইওওএস)-এর সঙ্গে মউ সই হয়েছে সরকারের। এক রাজ্য থেকে অন্যত্র কোনও পরিবার বা পড়ুয়া স্থানান্তিরত হলে যাতে তার পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই মউ সই হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরেও যাতে এমন সেন্টার খোলা যায়, সেই চেষ্টাও হবে বলে জানিয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর।

     

     

     

     

  • Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ছ’বছর পরে ভারতে আসতে পারেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে (BRICS Summit) যোগ দিতে আসতে পারেন তিনি। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনা। সফর চূড়ান্ত হলে ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর এটাই হবে জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ওই সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছিল।

    জিনপিংয়ের ভারত সফর (Xi Jinping)

    ২০১৩ সাল থেকে চিনের প্রেসিডেন্টে পদে রয়েছেন জিনপিং। এর আগে তিনবার ভারত সফরে এসেছেন তিনি। তাঁর শেষ ভারত সফর হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে। এর কয়েক মাস পরেই এলওসি (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আনে। জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চিন সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেখানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর বৈঠকও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে। এরপর সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ

    বিশেষ প্রতিনিধিদের আসন্ন বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর কাঠামোর অধীনে নতুন বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী এবং একটি কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে ভারত ও চিন সম্মত হওয়ার পর এই প্রথম বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে চলেছে। এই আলোচনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি ও কূটনৈতিক স্তরে অগ্রগতি ঘটানোর পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের গতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষই যৌথভাবে কাজ করছে। এলওসি বরাবর অমীমাংসিত সমস্যাগুলির সমাধানের পাশাপাশি কৌশলগত আস্থা পুনর্গঠন, নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা এড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোই এই কূটনৈতিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য।

    গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম

    জিনপিংয়ের সফর চূড়ান্ত হলে ব্রিকস সম্মেলনের বাইরেও এর তাৎপর্য থাকবে। প্রায় ছ’বছর পর ভারতে তাঁর উপস্থিতি এবং গলওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম সফর হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়বে। সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের (Xi Jinping) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে তামাম বিশ্বের। সম্ভাব্য বৈঠকে সীমান্ত বিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই সম্ভাব্য বৈঠকের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর বেড়ে চলা অস্থিরতার মধ্যে ভারত ও চিন উভয়কেই নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে (BRICS Summit)। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লি বা বেজিং (Xi Jinping)—কোনও পক্ষেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে সরকারিভাবে ঘোষণা করার সময় পর্যন্ত।

     

  • NIA Police Station: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক যুগ পর! নিউটাউনে এনআইএ-র নিজস্ব থানা, এক্তিয়ারে গোটা বাংলা

    NIA Police Station: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক যুগ পর! নিউটাউনে এনআইএ-র নিজস্ব থানা, এক্তিয়ারে গোটা বাংলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ২০১৪। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর রাজ্যে প্রথম তদন্ত শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই ঘটনার এক যুগ পর পশ্চিমবঙ্গে থানা পেল এনআইএ। সপ্তাহখানেক আগেই ক্যাবিনেট বৈঠকে থানা (NIA Police Station) তৈরির ছাড়পত্র মেলে। এবার তৈরি হল এনআইএ থানা। এবার থেকে আর রাজ্যের অন্য কোনও সাধারণ বা স্থানীয় থানার পরিকাঠামোর উপর তাদের নির্ভর করতে হবে না। নবান্নের তরফে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে । বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউটাউনের এনবিসিসি স্কোয়ারে এনআইএ-র নিজস্ব থানা কাজ শুরু করবে।

    এনআইএ-র থানার ভৌগোলিক পরিধি

    সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এনআইএ-র থানার ভৌগোলিক পরিধি। রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই একটি মাত্র থানার এক্তিয়ারেই থাকবে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ। অর্থাৎ, রাজ্যের যেকোনও প্রান্তে ঘটে যাওয়া অপরাধের তদন্তের প্রয়োজনে এই নির্দিষ্ট থানাতেই এফআইআর দায়ের বা মামলা রুজু করতে পারবে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। নতুন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) বা ২০২৩ সালের ৪৬ নম্বর আইনের অধীনে রাজ্য সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই আইনের ২(১)(ইউ) ধারায় রাজ্য সরকারকে যেকোনও স্থানকে থানা হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই রাজ্যপাল এই থানার অনুমোদন দিয়েছেন। রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। নবান্নের জারি করা এই বিজ্ঞপ্তির নম্বর হল ১৯৭৫-পিএল/পিবি/৪পি-০২/২০২৬।

    কোথায় হয়েছে এনআইয়ের থানা

    সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের এনআইএ আইনের অধীনে থাকা নির্দিষ্ট অপরাধগুলির তদন্তের জন্যই মূলত এই থানা কাজ করবে। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া থ্রি-তে অবস্থিত এনবিসিসি স্কোয়ারের ১৬ তলায় এই থানার আনুষ্ঠানিক ঠিকানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে থানার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি পুলিশ স্টেশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল’। তার ঠিক পাশেই এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা হিসেবে ‘সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য থানার মতোই এই থানাতেও ওসি, সাব ইন্সপেক্টর, কনস্টেবলের মতো পোস্ট থাকে। এ রাজ্যে কোনও ঘটনায় এনআইএ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা থাকলে, তা তদন্ত করা হবে এই থানা থেকে। রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গে বেলডাঙার অশান্তির মামলা, মালদহের মোথাবাড়ি-কাণ্ড থেকে শুরু করে একাধিক মামলার তদন্ত করছে এনআইএ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের মামলাতেও একাধিকবার তদন্তভার নিয়েছে এনআইএ। সম্প্রতি রাজ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে থানা তৈরির বিষয়টিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্প্রতি অমিত শাহও রাজ্য সফরে এসে এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

    এনআইয়ের নিজস্ব থানার সুবিধা

    তৃণমূল সরকারের আমলেই থানা খুলতে চেয়েছিল এনআইএ। তবে বিভিন্ন সমস্যায় সেই থানা খোলা যায়নি বলে দাবি। তবে ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা উন্নতিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই তিনমাসের মধ্যে ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় রাজ্যে খোলা হবে এনআইএ থানা। সেই সিদ্ধান্তের পরই খুলে গেল থানা। এতদিন রাজ্যে এনআইএ-র নিজস্ব কোনও পূর্ণাঙ্গ থানা ছিল না। ফলে তদন্তের প্রয়োজনে তাদের নানা আইনি এবং পদ্ধতিগত জটিলতার মুখে পড়তে হত। কোথাও তল্লাশি চালানো, কাউকে গ্রেফতার করা বা ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় থানাগুলির উপর নির্ভর করতে হত। অনেক ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়াতেও অহেতুক সময় নষ্ট হত বলে অভিযোগ ছিল। নতুন এই থানা চালু হওয়ার ফলে সেই পরিকাঠামোগত সমস্যা আর থাকবে না। এখন থেকে সরাসরি নিজেদের থানাতেই অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন এনআইএ আধিকারিকরা।

    তৈরি হবে এনআইএ আদালত-ও

    শুধু থানা নয় এনআইএ আদালতও তৈরি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সেই কাজ হবে বলে জানা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই আদালত তৈরি হবে। কোথায় হবে আদালত, তা ঠিক করবে কলকাতা হাইকোর্ট। এই আদালতে শুধুমাত্র এনআইএ মামলাগুলিরই শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে মামলাগুলির আরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে দেশজুড়ে এনআইএ-এর মামলাগুলোর জন‍্য সুনির্দিষ্ট ও পৃথক আদালত গঠন করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে এই আদালত তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিচারভবনে মুখ্য বিচারকের এজলাসের উপর এনআইএ-এর আদালতের দায়িত্ব দিয়েছে রেখেছে হাইকোর্ট। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলায় তাদের মামলার সংখ্যাও অনেকটা বেড়েছে। এবার পৃথক থানা তৈরি হয়ে গেল। এবার আদালত গঠন হলে মামলার কাজ দ্রুত এগোনো সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এনআইএ সাধারণত সন্ত্রাসবাদ, দেশদ্রোহিতা, জালনোট কারবার বা বিস্ফোরক আইনের মতো গুরুতর এবং আন্তঃরাজ্য অপরাধের তদন্ত করে থাকে। নিজস্ব থানা না থাকায় অনেক সময় ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়া বা লকআপে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হত। এখন নিউটাউনের এই ঠিকানাই হবে রাজ্যে এনআইএ-র মূল কন্ট্রোল রুম। এখান থেকেই গোটা রাজ্যের যেকোনও প্রান্তের মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন তদন্তের কাজে গতি আসবে, তেমনই জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলাগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখাও অনেক বেশি সহজ হবে।

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত এআই ভিডিও ঘিরে মামলা, মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের নামে এফআইআর

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত এআই ভিডিও ঘিরে মামলা, মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের নামে এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)-এর সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) বিকৃত ভিডিও।ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাস-সহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর (Meta) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিডিওগুলির উৎস কোথায়, কারা সেগুলি তৈরি করেছে এবং কীভাবে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, মেটার নিজস্ব নজরদারি ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওই ভিডিওগুলির প্রচার ঠেকাতে কতটা কার্যকর ছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।ঘটনাটি এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হয়ে যাওয়ার পৃথক ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মেটার টানাপোড়েন চলছে। ওই পোস্ট পরে ফের দেখা যায়। মেটা ঘটনাটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল বলে ব্যাখ্যা করলেও, কেন্দ্র সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়, এবং সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    কে এই অরুণ শ্রীনিবাস? (PM Modi)

    অরুণ শ্রীনিবাস বর্তমানে ভারতে মেটার পরিচালক এবং প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ১ জুলাই তিনি এই দায়িত্ব নেন। তার আগে তিনি ভারতে মেটার বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিচালক ও প্রধান ছিলেন। মেটার পক্ষ থেকেই ২০২৫ সালের জুনে তাঁর নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মেটায় যোগ দেওয়ার আগে শ্রীনিবাস হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, রিবক এবং ওলার মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন (PM Modi)। মেটার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুরু হয় ২০২০ সালে। প্রথমে তিনি ভারতে সংস্থাটির গ্লোবাল বিজনেস গ্রুপের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২২ সালে তাঁকে ভারতে বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিচালক ও প্রধান করা হয়। নতুন দায়িত্বে তিনি ভারতে মেটার ব্যবসা, উদ্ভাবন ও আয়সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পান। কলকাতার ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বিপণনে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা করেছেন শ্রীনিবাস। তার আগে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হন। প্রায় তিন দশকের বিক্রয় ও বিপণন-অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    কেন মামলা দায়ের?

    পুলিশ সূত্রে খবর, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এআই ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই দুই সোশ্যাল মিডিয়াই মেটার মালিকানাধীন। তদন্তকারীরা প্রথমে জানতে চাইছেন, ভিডিওগুলি কোথা থেকে তৈরি বা প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে কীভাবে সেগুলি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। শুধু ভিডিও নির্মাতাদের ভূমিকা নয়, যারা ওই ভিডিও আপলোড, ফের প্রকাশ বা ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের ভূমিকাও তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেটার নিজস্ব বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওই ধরনের বিকৃত ভিডিও শনাক্ত করে দ্রুত সরাতে পেরেছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্তে পুলিশ এখনও পৌঁছয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়ও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন (Meta)।

    মেটা কী বলেছে?

    এফআইআর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, মেটার এক প্রতিনিধি তদন্তকারীদের সামনে হাজির হয়ে সংস্থার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং আইন মেনে চলার বিষয়টি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেছেন।হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ পুলিশের পক্ষ থেকে মেটার প্রতিনিধিদের ডেকে এআই ব্যবহার করে তৈরি প্রতারণামূলক বিষয়বস্তু, ভুয়ো বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য বিকৃত বিষয়বস্তু শনাক্ত ও সরানোর পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি সূত্রের। তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট নিয়ে আলাদা চাপের মুখে মেটা

    শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরটি প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনার থেকে আলাদা। তবে দু’টি ঘটনাই মেটার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও পোস্ট ফেসবুকে সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে যায়। ভিডিওটিতে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল। পরে সেটি পুনরুদ্ধার করা হয়। মেটার তরফে ঘটনাটিকে এআই-নির্ভর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং দুঃখপ্রকাশ করা হয় সংস্থার তরফে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ওই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট বলে মনে করেনি। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণণ বলেন, “তারা ক্ষমা চেয়েছে এবং স্বীকার করেছে যে যা ঘটেছে তা ভুল ছিল—এটি ভালো। কিন্তু আমরা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নই… এটি যথেষ্ট নয় এবং আমরা আরও বিস্তারিত তথ্য চাইছি (PM Modi)।” এর পরেই মেটার শীর্ষ কর্তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ফলে একদিকে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট  সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে তাঁর কৃত্রিমভাবে তৈরি বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ—দু’টি ঘটনাই ভারতে মেটার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কেন বাড়ছে নজরদারি?

    ভারতে বড় সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর সরকারি নজরদারি সম্প্রতি আরও বেড়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন, পরিচয় জাল করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের দ্রুত বিস্তার নিয়ে সরকারের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এর পাশাপাশি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সক্রিয় হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলির ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—কোন বিষয়বস্তু দ্রুত শনাক্ত করা হবে, কোনটি সরানো হবে এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Meta)। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে এফআইআর শুধু একটি নির্দিষ্ট ভিডিওকে ঘিরে তদন্ত নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া -নির্ভর বিকৃত বিষয়বস্তুর দায় কার—সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায় কতটা?

    এআইয়ের সাহায্যে তৈরি ভিডিও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হওয়ায় সাধারণ ইউজারদের পক্ষে আসল ও নকল ভিডিও আলাদা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের নামে বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণেই তদন্তে শুধু ভিডিওটি কে তৈরি করেছে, তা জানাই যথেষ্ট নয়। সেটি কোন মাধ্যমে প্রথম ছড়াল, কত দ্রুত ছড়াল, কারা তা ফের প্রকাশ করল এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম সেটি শনাক্ত করতে বা সরাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছিল—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। হায়দরাবাদ পুলিশের বর্তমান তদন্ত সেই বৃহত্তর প্রশ্নগুলিই সামনে নিয়ে আসছে। তবে তদন্ত যেহেতু এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তাই শ্রীনিবাস বা অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এই মামলা ভারতে এআই-নির্ভর ভুয়ো বিষয়বস্তু এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র ও মেটার মধ্যে যে ব্যাখ্যা-পর্ব চলছে, তার সঙ্গে এই (Meta) নতুন তদন্ত যুক্ত হওয়ায় ভারতের ডিজিটাল পরিসরে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

LinkedIn
Share