Tag: pakistan

pakistan

  • Pakistan: জিডিপি বাড়েনি, বেড়েছে গাধা, পাক অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্ট দেখে হাসির রোল

    Pakistan: জিডিপি বাড়েনি, বেড়েছে গাধা, পাক অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্ট দেখে হাসির রোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লক্ষ্যপূরণ হয়নি জিডিপি বৃদ্ধির। তবে তাতে কী! দেশটার নাম যে পাকিস্তান (Pakistan)! অতএব, ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা প্রশাসনের। গাধার সংখ্যা বৃদ্ধি দিয়েই জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যপূরণ করতে না পারার ব্যর্থতা ঢেকেছে ইসলামাবাদ।

    পাক অর্থনৈতিক সমীক্ষার রিপোর্ট (Pakistan)

    বিষয়টি তাহলে খুলেই বলা যাক। ২০২৩-২৪ আর্থিক বর্ষের জন্য পাকিস্তান যে জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩.৫ শতাংশ। যদিও বৃদ্ধির হার ২.৩৮ শতাংশ। বুধবার পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রকাশ করেন সে দেশের অর্থমন্ত্রী মহম্মদ ঔরঙ্গজেব। এই সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের (Pakistan) শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত মাত্রায় বৃদ্ধি হয়নি বলেই পূরণ হয়নি জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা। এই সমীক্ষায়ই তুলে ধরা হয়েছে, পাকিস্তানে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গাধার সংখ্যা।

    পাক অর্থনীতিতে গাধার ভূমিকা

    পাকিস্তানের অর্থনীতিতে গাধা-সহ গবাদি পশুর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সে দেশের ৮০ লাখেরও বেশি গ্রামীণ পরিবার পশু পালনের সঙ্গে যুক্ত। প্রাণিসম্পদই গ্রামীণ পাকিস্তানের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় গাধার সংখ্যা ১.৭২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫৯ লাখ। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে বর্তমানে গোরু রয়েছে ৫ কোটি ৭৫ লাখ, মহিষের সংখ্যা ৪ কোটি ৬৩ লাখ, ভেড়া রয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ, আর ছাগলের সংখ্যা ৮ কোটি ৭০ লাখ। এসব গবাদি পশুর পাশাপাশি বেড়েছে উটের সংখ্যাও। পাকিস্তানে কাঁটাভোজী এই প্রাণী রয়েছে ১২ লাখ। গত বছর এই সংখ্যাটাই ছিল ১১ লাখ।

    আর পড়ুন: জি৭ সম্মেলনে আমন্ত্রণ, বৃহস্পতিতে ইটালি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    পাকিস্তানের জিডিপিতে ১৪.৬৩ শতাংশ অবদান এই প্রাণিসম্পদ ক্ষেত্রের। ঔরঙ্গজেব জানান, অন্যান্য সব ক্ষেত্রকে ছাপিয়ে গিয়েছে কৃষিক্ষেত্রের বৃদ্ধি, বৃদ্ধির হার ৬.২৫ শতাংশ। তাঁর দাবি, গত উনিশ বছরে কৃষি খাতে এত শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি। পাকিস্তানের মূল্যবৃদ্ধির হার অবশ্য কমেছে। এই হার নেমে এসেছে ১১.৮ শতাংশ। অর্থনীতির হাঁড়ির হাল। এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সম্পদ বিক্রির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমীক্ষায়। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী বলেন, “পাক সরকার লোকসানে থাকা সরকারি সংস্থাগুলি বিক্রি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” পাকিস্তান এয়ারলাইন্সকেও বেসরকারিকরণ করা হবেও বলেও জানান (Pakistan) তিনি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • T20 World Cup 2024: স্নায়ু-যুদ্ধে জয়ী ভারত, বুমরার বিষাক্ত বোলিংয়ে ৬ রানে হার পাকিস্তানের

    T20 World Cup 2024: স্নায়ু-যুদ্ধে জয়ী ভারত, বুমরার বিষাক্ত বোলিংয়ে ৬ রানে হার পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কোর বোর্ডে কম রানের পুঁজি নিয়েও স্নায়ুচাপ ধরে রেখে পাকিস্তানকে ৬ রানে হারাল ভারত। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এখনও পর্যন্ত (T20 World Cup 2024) সেরা ম্যাচ। টানটান উত্তেজনা। ভারতের ১১৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫ ওভারে পাকিস্তানের রান ছিল ৮৩-৪। অর্থাৎ পাঁচ ওভারে দরকার ৩৭ রান। আর সম্ভব না, ম্যাচটা পাকিস্তানের পকেটে! ভারতীয় সময় অনুযায়ী ঘড়িতে রাত সাড়ে ১২টা। সপ্তাহের প্রথম দিন স্কুল-অফিসের চিন্তা করে অনেকেই তখন শুয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সেটাও পারল না পাকিস্তান। সৌজন্যে ডেথ ওভারে ভারতের বোলিং। ১৬ থেকে ২০ ওভারে ভারত (India vs Pakistan) দেয় যথাক্রমে ২, ৫, ৯, ৩ এবং ১১ রান। অর্থাৎ শেষ ওভার বাদে পাকিস্তান কোনও ওভারে ১০ রানও তুলতে পারেনি। ক্রিকেট যে টিম-গেম বড় ম্যাচে চাপ সামলে তা ফের একবার প্রমাণ করে দিল রোহিত এন্ড কোং।

    ব্যাটিংয়ে ভরাডুবি

    রবিবার খেলা শুরু হয় দেরিতে। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পর শুরু হয় ম্যাচ। টসে জিতে ভারতকে (India vs Pakistan) ব্যাট করতে পাঠান পাক অধিনায়ক বাবর আজম। তাঁর সিদ্ধান্তে কোনও ভুল ছিল না। প্রথম ওভার হওয়ার পরেই আবার বৃষ্টি নামে। কিছু ক্ষণ বন্ধ ছিল খেলা। কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই আউট হয়ে যান বিরাট কোহলি (৩ বলে ৪ রান)। বল পিচে পড়ার পর একটু থমকে আসছিল। বিরাট বুঝতে পারেননি। আগে ব্যাট চালিয়ে দেন। তাতেই নাসিম শাহের বলে আউট হয়ে যান বিরাট। পরের ওভারেই আউট হয়ে যান রোহিত (১২ বলে ১৩ রান)। তাঁর উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। রোহিতের ক্ষেত্রেও বল থমকে এসেছিল। আগে ব্যাট চালিয়ে ফেলেছিলেন ভারত অধিনায়ক। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে ভারত। অক্ষর ১৮ বলে ২০ রান, ঋষভ পন্থ ৩১ বলে ৪২ রান করেন। এছাড়া বাকিদের শুধু যাওয়া-আসার পালা। পুরো ২০ ওভার ব্যাটও করতে পারেনি ভারত। এই প্রথম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতকে অল-আউট করল পাকিস্তান। ১১৯ রানেই থেমে যায় রোহিতদের ইনিংস। 

    দুরন্ত কাম ব্যাক ভারতের

    টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে (T20 World Cup 2024) না হলেও নিউ ইয়র্কের নাসাউ ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পিচে এই রান যে লড়াই করার মতো তা জানতেন বুমরা-সিরাজরা। সেই মতো শুরুও করলেন। কিন্তু যশপ্রীত বুমরার প্রথম ওভারে ক্যাচ ফেললেন দুবে। এবার ভাবনা শুরু। তাহলে কি সত্যিই পরাজয়! কিন্তু অন্য কৌশল তৈরি করছিলেন বুমরা। তাঁকে যোগ্য সহায়তা করে গেলেন হার্দিক, সিরাজ। ব্যাটারদের বধ্যভূমি নিউ ইয়র্কের পিচে আগুনে বোলিং করলেন বুমরা। পরিকল্পনার অভাবেই ডুবতে হল পাকিস্তানকে।  কম রানের লক্ষ্য হওয়ার পরেও কেউ ইনিংস ধরার চেষ্টা করলেন না। বুমরা নিলেন তিন উইকেট। হার্দিক নিলেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নিলেন অর্শদীপ সিং এবং অক্ষর প্যাটেল। উইকেট নেওয়ার সঙ্গে রানও আটকে রাখলেন ভারতীয় বোলারেরা।

    কম রানের পুঁজি নিয়ে পাকিস্তানের (India vs Pakistan) মতো দলের বিপক্ষে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে গেলেন রোহিত। সুন্দরভাবে বোলারদের ব্যবহার করলেন। দলের সেরা বোলারকে রেখে দিলেন ১৯ তম ওভারের জন্য। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওভার এটি। ১৯ তম ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নিলেন বুমরা। তখনই ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • T20 World Cup: পিচ নিয়ে চিন্তা! পাকিস্তানকে হারিয়েই সুপার এইট নিশ্চিত করতে চায় ভারত

    T20 World Cup: পিচ নিয়ে চিন্তা! পাকিস্তানকে হারিয়েই সুপার এইট নিশ্চিত করতে চায় ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই নিউ ইয়র্কের বাইশগজে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান (India vs Pakistan)। পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে হোক এই ম্যাচ নিয়ে উন্মাদনা সবচেয়ে বেশি থাকে। মাঠে হোক বা টিভির সামনে প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটানোর লড়াই চলে। তাড়িয়ে তাড়িয়ে এই ম্যাচ উপভোগ করেন দর্শকরা। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2024) অভিযান শুরু করেছে ভারত। অন্যদিকে শুরুর ম্যাচেই হার মানতে হয়েছে পাকিস্তানকে। তাও আবার প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা আমেরিকার কাছে। তাই রবিবার কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকেই নামবে রোহিত এন্ড কোং।

    অতীত রেকর্ড

    ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব সব সময়েই বেশি। আমেরিকার কাছে হারার পর পাকিস্তানের (India vs Pakistan) ক্রিকেটারেরা আরও বেশি তেতে থাকবেন। তবে, বিশ্বকাপের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের পরিসংখ্যান ভাল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2024) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের দুরন্ত রেকর্ড রয়েছে ভারতের। ৭টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। তার মধ্যে ভারত জিতেছে ৬টিতে। শুধু ২০২১-এ ১০ উইকেটে হারতে হয়েছিল বিরাটদের। আর সেই ম্যাচে পুনরাবৃত্তি চান না রোহিতরা।

    বিরাট-রোহিত ওপেনিং জুটি

    চলতি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2024) প্রথম ম্যাচে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা ওপেন করেছেন। অনুমান, ভারত-পাক ম্যাচেও এই জুটিই ওপেন করবে। ফলে ভারতের সেরা দুই ক্রিকেটারের হাতেই থাকবে দলকে ভাল শুরু দেওয়ার দায়িত্ব। আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন বিরাট। রোহিত প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভাল খেলেছেন। ওপেন করতে নামায় এক দিকে যেমন তাঁরা পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে পারবেন, অন্য দিকে সবচেয়ে বেশি বল খেলারও সুযোগ পাবেন। এই ওপেনিং জুটি ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দিতে পারে। আবার এই জুটি দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে যাবে টিম ইন্ডিয়া। তরুণরা ভারত-পাকিস্তানের মতো বড় ম্যাচে কীভাবে সেই চাপ সামলাবে বলা যায় না।

    পেস সহায়ক পিচ

    নিউ ইয়র্কের পিচে পেসারেরা সাহায্য পাচ্ছেন। ভারতীয় পেসারেরা প্রস্তুতি ম্যাচ ও আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভাল খেলেছেন। বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ, মহম্মদ সিরাজ, যশপ্রীত বুমরা তিনজনেই ভাল ফর্মে রয়েছেন। হার্দিক ও ঋষভ পন্থও দুরন্ত শুরু করেছে।  তবে নিউ ইয়র্কের অসমান ও বাউন্স পিচ নিয়ে চিন্তায় আছে দুই দলই। রবিবার ৩০ হাজার দর্শক থাকবেন মাঠে। কিন্তু টি-টোয়েন্টির আনন্দ যে তাঁরা কতটা পাবেন তা ঠিক কবে নাসাউ কাউন্টির পিচই। 

    পিচ নিয়ে চিন্তা

    চলতি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2024) আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ হয়েছিল নিউ ইয়র্কে। সেই ম্যাচে অসমান বাউন্স দেখা গিয়েছিল। কোনও বল উঠছিল বুকের উচ্চতায়, কোনও বল আবার খুব নিচু হয়ে যাচ্ছিল। পিচে যে গন্ডগোল রয়েছে তা আয়োজকেরা মেনে নিয়েছেন। পিচে ঘাস রয়েছে। সেই সঙ্গে ফাটলও রয়েছে। এই ফাটল মেরামত করার চেষ্টা করছেন আয়োজকেরা। ফাটলের কারণেই অসমান বাউন্স তৈরি হচ্ছিল। পিচের উপর রোলার চালানো হচ্ছে। তাতে পিচ আগের থেকে অনেক পাটা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবারের ম্যাচের (India vs Pakistan) আগে নিউ ইয়র্কের পিচে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে। মেরামতের চেষ্টায় আয়োজকেরা। কিন্তু তা কতটা ফলপ্রসূ হবে তা বল না গড়ালে বোঝা দায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • T20 World Cup 2024: দলে এক ঝাঁক ভারতীয় বংশোদ্ভূত! সুপার ওভারে আমেরিকার কাছে হার পাকিস্তানের 

    T20 World Cup 2024: দলে এক ঝাঁক ভারতীয় বংশোদ্ভূত! সুপার ওভারে আমেরিকার কাছে হার পাকিস্তানের 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের কাছেও হার মানল পাকিস্তান (USA vs Pakistan)। অধিনায়ক থেকে শুরু করে ম্যাচের সেরা বোলার মার্কিন দলে এক ঝাঁক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2024) প্রথম ম্যাচে মূলত তাঁদের কাছেই পরাজয় স্বীকার করল বাবররা। এই ম্যাচের নিষ্পত্তি হল সুপার ওভারে। ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপে প্রথম অঘটনের সাক্ষী থাকল গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। এই জয়ের পর এ গ্রুপের শীর্ষে পৌঁছে গেল আমেরিকা। দুটো ম্যাচের মধ্যে দুটোতেই তারা জয়লাভ করেছে। ঝুলিতে রয়েছে ৪ পয়েন্ট। বৃহস্পতিবার, প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে বাবর আজমের দল করে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান। টস জিতে ফিল্ডিং নেন আমেরিকার অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল। জবাবে আমেরিকাও করে ৩ উইকেট ১৫৯ রান। খেলার নিষ্পত্তি হয় সুপার ওভারে। সেখানে আমেরিকা প্রথমে ব্যাট করে তোলে ১৮ রান। জবাবে ১৩ রান করে ৫ রানে হেরে যায় পাকিস্তান

    অধিনায়ক ভারতীয় বংশদ্ভূত 

    ২০০৭ সালে টি২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2024) ভারত বনাম পাকিস্তান (USA vs Pakistan) ম্যাচ গিয়েছিল সুপার ওভারে, সেই ম্যাচে ভারতের অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতেও ছিলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচেও তাঁদের অধিনায়ক ভারতীয় বংশদ্ভূত মোনাঙ্ক প্যাটেল, কাকতালীয়ভাবে তিনিও উইকেটরক্ষক ব্যাটারই। ফলে দুই ক্ষেত্রেই সুপার ওভারে পাকিস্তান হারল ভারতীয় উইকেটরক্ষক এবং অধিনায়কদের বিরুদ্ধে। দলের জয়ে এই ম্যাচে বড় অবদান রাখলেন ভারতীয় বংশদ্ভূত অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল। তিনি করেন ৩৮ বলে ৫০ রান। মহেন্দ্র সিং ধোনির পর মোনাঙ্কেরও নামের পাশেও লেখা থাকল টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে সুপার ওভারে হারানোর নজির। বল হাতে এই ম্যাচে আমেরিকার হয়ে নজর কাড়লেন সৌরভ নেত্রভালকর। তিনিও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। সুপার ওভারে মূলত একাই সৌরভ পাকিস্তানের জয়ের আশায় জল ঢেলে দেন।

    কঠিন জায়গায় পাকিস্তান

    প্রথম ম্যাচে হেরে গিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2024) সফর কঠিন করে ফেলল পাকিস্তান। আগামী ৯ জুন ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচ জিততে হবে বাবরদের। হেরে গেলে বিদায় ঘণ্টা প্রায় নিশ্চিত। পরিস্থিতি এই মূহূর্তে যা, পাকিস্তানকে পরের তিনটি ম্যাচেই জিততে হবে। কারণ কানাডাকে আগেই হারিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানকেও (USA vs Pakistan) এবারে হারাল তাঁরা। তাঁদের পরের দুই ম্যাচ আয়ারল্যান্ড এবং ভারতের বিপক্ষে। ফলে তাঁর মধ্যে একটি জিতলেই তাঁদের পরের রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেট দল একটা ম্যাচ জিতে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রোহিতরা। আগামী ৯ জুন ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে পাকিস্তান। অন্যদিকে আমেরিকা আগামী ১২ তারিখ ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে।

    এই হারের পর হতাশ পাক অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, “আমরা ব্যাট করার সময় প্রথম ৬ ওভার কাজে লাগাতে পারিনি। পরপর উইকেট হারিয়ে আমরা বিপাকে পড়ে যাই। এরপর প্রথম ৬ ওভার আমরা ভালো বলও করতে পারিনি। শেষেরদিকে আমরা কিছুটা হলেও কামব্যাক করতে পেরেছি। কিন্তু, ফিনিশ করতে পারলাম না। আশা করি, আগামী ম্যাচগুলোয় ভালো পারফরম্যান্স করতে পারব। এই পরাজয় হজম করা খুব কঠিন।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Nishant Agarwal: পাকিস্তানের গুপ্তচর! ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের তরুণ ইঞ্জিনিয়ার নিশান্তের যাবজ্জীবন

    Nishant Agarwal: পাকিস্তানের গুপ্তচর! ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের তরুণ ইঞ্জিনিয়ার নিশান্তের যাবজ্জীবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতের অন্যতম সেরা সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার (Ex-Brahmos Engineer) নিশান্ত অগরওয়ালকে (Nishant Agarwal) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। অভিযোগ, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে চরবৃত্তি করেছেন তিনি। সোমবার নাগপুরের জেলা আদালত নিশান্ত আগরওয়ালকে এই সাজা দেয়। পাশাপাশি, তাঁকে সরকারি গোপনীয়তা আইনে ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

    কী অভিযোগ

    ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস প্রাইভেট লিমিডেটের মেধাবী কর্মী তথা কৃতি বিজ্ঞানী (Ex-Brahmos Engineer) ছিলেন নিশান্ত (Nishant Agarwal)। নাগপুরের ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস প্রাইভেট লিমিডেটের প্রযুক্তি সংক্রান্ত গবেষণার অন্যতম বিজ্ঞানী ছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেখানে চার বছর কাজ করার সময় গুপ্তচর বৃত্তিতে জরিয়ে পড়েন নিশান্ত। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। নেহা শর্মা এবং পূজা রঞ্জন নামে দুটি ফেসবুক প্রোফাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নিশান্ত। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, দুটিই ছিল ফেক প্রোফাইল। পিছনে ছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দারা। ইসলামাবাদ থেকে আইএসআই এজেন্টরাই ওই প্রোফাইল দুটি চালাত। 

    আরও পড়ুন: এনডিএ জোট এগিয়ে ২৯২ আসনে, দিল্লির মসনদে ফের মোদি?

    কীভাবে টার্গেট নিশান্ত

    পুলিশ সূত্রে খবর, অনলাইনে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সেই বিষয়ে উদাসীন ছিলেন নিশান্ত (Nishant Agarwal)। এর ফলেই তিনি আইএসআই-এর সহজ টার্গেট হন। ২০১৮ সালে উত্তরপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখা গ্রেফতার করে তাঁকে। নাগপুর দায়রা আদালতে বিচারক এম ভি দেশপাণ্ডে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে সোমবার দোষী সাব্যস্ত করে নিশান্ত আগরওয়ালকে। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (Ex-Brahmos Engineer) সেরা তরুণ বিজ্ঞানীর পুরস্কার জিতেছিলেন নিশান্ত। তিনি এই কাজ করতে পারেন, তা তাঁর সহকর্মীরা ভাবতেই পারছেন না। সোমবার অতিরিক্ত দায়রা বিচারক এমভি দেশপাণ্ডে জানিয়েছেন, ফৌজদারি বিধির ২৩৫ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে নিশান্তকে। এ ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি আইনেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাঁকে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • T-20 World Cup 2024: স্টেডিয়ামে থাকছে স্নাইপার, জঙ্গি হুমকির জেরে ভারত-পাক ম্যাচে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা

    T-20 World Cup 2024: স্টেডিয়ামে থাকছে স্নাইপার, জঙ্গি হুমকির জেরে ভারত-পাক ম্যাচে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে বাইশ গজে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়া মানেই উত্তেজনা তুঙ্গে। একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার পালা। সঙ্গে সাট্টা বাজার আর সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা। বাদ পড়েনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। ৯ জুন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T-20 World Cup 2024) মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান (India vs Pakistan)। সেই ম্যাচে নাশকতার হুমকি দিয়েছে আইএসআইএস। ঘনিয়েছে দুশ্চিন্তার কালো ছায়া। যদিও কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ম্যাচের আশ্বাস দিলেন নাসাউ কাউন্টির এক্সিকিউটিভ ব্রুস ব্লেকম্যান।

    কড়া নিরাপত্তার আশ্বাস

    সোমবার নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচে দেখা গেল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ হল নাসাউ কাউন্টিতে। জানা গিয়েছে, স্টেডিয়ামকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় স্নাইপার বসানো হয়েছে। যেখানে টেলস্কোপিক রাইফেল নিয়ে পাহারায় থাকবে পুলিশ। এ ছাড়া কাজে লাগানো হবে সোয়াট (এসডব্লিউএটি)-ইউনিটকেও। যে ইউনিটকে জঙ্গিহানা থামানোর ক্ষেত্রে খুবই পারদর্শী মনে করা হয়। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T-20 World Cup 2024) নাসাউ কাউন্টিতে আটটা ম্যাচ হবে। যার মধ্যে রয়েছে ভারত বনাম পাকিস্তান দ্বৈরথও। যে ম্যাচ ঘিরে এর আগে হুমকি দিয়েছিল আইএসআইএস-খোরাসান। যার পরে নিউ ইয়র্ক পুলিশ নিরাপত্তা আরও জোরদার করে। যার প্রভাব ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই দেখা গিয়েছে।

    আরও পড়ুন: “কোচ হিসেবে প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি, তবে আর নয়”, স্পষ্ট বার্তা দ্রাবিড়ের

    ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে বার্তা

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T-20 World Cup 2024) ভারত-পাকিস্তান (India vs Pakistan) ম্যাচে হতে পারে বড়সড় হামলা। লোন উলফ হামলায় প্রাণ হারাতে পারে বহু মানুষ। এ বিষয়ে মুখ খুললেন নাসাউ কাউন্টির এক্সিকিউটিভ ব্রুস ব্লেকম্যান। তিনি বলেন, “আমরা বহুদিন ধরেই এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ থেকে এফবিআই সকলের সঙ্গেই আমরা যোগাযোগ রাখছি। নিরাপত্তার সব দিকেই কড়াকড়ি থাকবে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কিংবা ডাক্তার-নার্স সবই সবসময় উপস্থিত থাকছে। এটুকু নিশ্চিত করতে পারি, ওদিনের ম্যাচ নিরাপদ আর দারুণ উপভোগ্য হবে।” শুধু মাঠ ঘিরেই নয়, নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে চারটে ড্রপ-ইন পিচ ঘিরেও। নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপের ম্যাচ হচ্ছে ড্রপ-ইন পিচে। অর্থাৎ, অন্য জায়গায় তৈরি করা পিচ নিয়ে আসা হচ্ছে মাঠে। এ রকম চারটে পিচ বানানো হয়েছে বিশ্বকাপের জন্য। সেই চারটে পিচ ঘিরেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যাতে পিচের ক্ষতি কেউ করতে না পারে। নিউ ইয়র্ক পুলিশের নার্কোটিক্স ডিভিশনের বেশ কয়েক জন অফিসারকে পিচ পাহারার কাজে লাগানো হয়েছে বলে খবর।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীর বিদেশি ভূখণ্ড, আদালতে কবুল পাক সরকারের

    POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীর বিদেশি ভূখণ্ড, আদালতে কবুল পাক সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কাশ্মীরের (POK) যে অংশ থেকে কাশ্মীরি কবি ও সাংবাদিক আহমেদ ফারহাদ শাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তা কাশ্মীরের অংশ নয়, বিদেশি ভূখণ্ড।” শুক্রবার ইসলামাবাদ আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় এ কথা কবুল করে নিলেন পাক সরকারের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল।

    ভারতের দাবি (POK)

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন শাহবাজ শরিফ। তাঁর সরকারের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের এহেন স্বীকারোক্তিতে যারপরনাই উল্লসিত ভারত। কারণ ভারত বরাবরই দাবি করে আসছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। জোর করে দখল করে রেখেছে পাকিস্তান। এদিন শরিফ সরকারের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের এহেন স্বীকারোক্তিতে আদতে ভারতের দাবিই মান্যতা পেল বলে ধারণা কূটনৈতিক মহলের।

    পাক আদালতের প্রশ্ন

    ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীন হয় ভারত (POK)। তখনও রাজন্যশাসিত রাজ্য ছিল জম্মু-কাশ্মীর। রাজা হরি সিংহ। স্বাধীনতা লাভের পর জম্মু-কাশ্মীরের একাংশ জোর করে দখল করে নিয়েছিল পাকিস্তান। পরে কাশ্মীরের ভারতভুক্তিতে সায় দেন হরি সিংহ। এর পরেই পাক সেনার দখল করা ভূখণ্ডের একটা অংশ দখলমুক্ত করে ভারতীয় সেনা। পাকিস্তানের দখলে থেকে যায় বাকি অংশটা। এই অংশই ভারতে পাক অধিকৃত কাশ্মীর নামে পরিচিত। এই অংশেই বাস করেন স্বাধীনতাপন্থী সাংবাদিক তথা কবি ফারহাদ।

    গ্রেফতারির পর ফারহাদকে আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ দেয় ইসালামাবাদ হাইকোর্ট। সেখানেই সরকারের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, পাক অধিকৃত কাশ্মীর যেহেতু বিদেশি ভূখণ্ড, তাই ফারহাদকে হাজির করানো যাবে না ইসালামাবাদ হাইকোর্টে। এর পরেই মোক্ষম প্রশ্নটি ছুড়ে দেয় আদালত, “যদি সেটি বিদেশি ভূখণ্ডই হবে তবে কোন অধিকারে সেখানে প্রবেশ করে শিবির তৈরি করে পাক সেনা ও রেঞ্জার্স বাহিনী? কোন অধিকারে গ্রেফতার করে বিদেশি নাগরিককে?”

    আর পড়ুন: সন্দেশখালিতে ভোট লুট করল তৃণমূল! ভাঙচুর করা হল বাইক, রক্ত ঝরল বিজেপি নেতা-কর্মীর

    গত ১৪ মে রাওয়ালপিণ্ডি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান ফারহাদ। তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরের দিন ইসলামাবাদ হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন ফারহাদের স্ত্রী উরুজ জাইনাব। বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল মনসুর উসমা আওয়া ফারহাদের গ্রেফতারির খবর জানান। তিনি এও জানান, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পুলিশের হেফজতেই রয়েছেন ওই সাংবাদিক (POK)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • OIC: ক্রমশই কি প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে ‘অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন’?

    OIC: ক্রমশই কি প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে ‘অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন’ (OIC) যা আগে পরিচিত ছিল ‘অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কনফারেন্স’ নামে, এই সংগঠন দাবি করে যে, তারাই মুসলিম দেশগুলির কন্ঠস্বর এবং যে, তারাই বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার কাজ করে থাকে। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ মিলিয়ে ৫৭টি দেশ এই সংস্থার সদস্য হিসেবে রয়েছে। বিগত কয়েক দশক ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা, আভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, সন্ত্রাসবাদ – আরবসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশকেই গ্রাস করেছে। একটি রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সংঘাত ও সন্ত্রাস সংক্রান্ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটে শুধুমাত্র ‘অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন’ (OIC)- এর সদস্য দেশগুলিতে।

    ওআইসির (OIC) উৎপত্তি, বিবর্তন ও যাত্রা

    তুর্কি অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পরেই তার বিকল্প ভাবা শুরু করেন কয়েকজন। উদ্দেশ্য ছিল, অটোমানদের রেখে যাওয়া আদর্শ সারা বিশ্ব জুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিন্ন চেতনার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে। প্রথমে বহু মুসলিম দেশ অংশগ্রহণ করে ১৯২৬ সালের মে মাসে মিশরের কায়রোতে। সেখানে গঠিত হয় ‘মুসলিম বিশ্ব কংগ্রেস’ নামের একটি নতুন সংস্থা, মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। কিন্তু পরবর্তীকাল থেকেই দেখা যায় গঠনের পর থেকেই এর উদ্দেশ্য কখনও সফল হয়নি। কারণ বেশিরভাগ মুসলিম দেশগুলির মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসতে থাকে এবং অনেক দেশই মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার দাবিদার হয়ে ওঠে। যার মধ্যে পাকিস্তানও ছিল। মুসলিম বিশ্বের নেতাদের নিয়ে পাকিস্তান দুটি সম্মেলন করে। একটি ১৯৪৯ সালে, অপরটি ১৯৫১ সালে। প্রতিটি বৈঠকেই প্যালেস্তাইন মুসলিম বিশ্বে শিক্ষার প্রসারের জন্য তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেয়। এমন প্যান-ইসলামিক সত্ত্বার সর্বদাই বিরোধ করে তুরস্ক। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথাতেও ফুটে ওঠে বিরোধের সুর। প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্দি বলেছিলেন, “মুসলিম ঐক্য হল, শূন্যের সংগ্রহ, যা শূন্যই তৈরি করে।” যদিও প্যান ইসলামিক সত্ত্বাকে বজায় রাখার জন্য সর্বদাই গলা ফাটিয়েছে প্যালেস্তাইন। ১৯৬৯ সালের ২১ অগাস্ট জেরুসালেম শহরের আল আকসা মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর ঠিক চারদিন পরে কায়রোতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলভুক্ত দেশগুলির বিদেশ মন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু সেখানে আরব দেশের নেতারা বলেন, আল-আকসা মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা একটি বিরাট ইস্যু এবং এর জন্য প্রয়োজন রয়েছে সমস্ত মুসলিম বিশ্ব নেতাদের সম্মেলনের। এই ভাবেই  ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অপর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত (OIC) হয় রাবাতে। যেখানে ২৫টি মুসলিম দেশ অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে ১০ জন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। কিন্তু এখানেও দেখা যায় মিশর, আলজেরিয়ার মতো দেশগুলি রাবাত বৈঠকে অংশগ্রহণ করলেও ইরাক, সিরিয়ার মতো দেশগুলি তা বয়কট করে। অর্থাৎ এখানেও এক ধরনের মতবিরোধ সামনে আসে এবং প্রশ্নের মুখে পড়ে সারা বিশ্বব্যাপী মুসলিম ঐক্য।

    বারবার বিতর্কের মধ্যেও থেকেছে ওআইসি 

    পরবর্তীকালে, ১৯৭২ সালে জেড্ডায় ওআইসির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বেশ কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়। ইসলামিক শিক্ষা প্রচার, আন্তর্জাতিক ইসলামিক সংবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা প্রভৃতি বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন কমিটিও গঠন করা হয় যার নেতৃত্বে রাখা হয় মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের। বিগত পাঁচ দশক ধরে ওআইসি এমন ৫৬টি বিদেশ মন্ত্রকের পর্যায়ের বৈঠক করেছে। ১৪টি শীর্ষ সম্মেলনে করেছে। এর পাশাপাশি অসংখ্য জরুরি বৈঠক হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও এর বেশিরভাগ সদস্য দেশই আন্তর্জাতিক ইসলামিক নীতি সম্পর্কে ব্যাপক অজ্ঞ। বারবার বিতর্কের মধ্যেও থেকেছে ওআইসি (OIC)। যেমন ১৯৮১ সালেই ওআইসি তৃতীয় ইসলামিক সম্মেলনে লেবাননের প্রেসিডেন্টকে বয়কট করে। কারণ তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান। তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কারণ এক্ষেত্রে ওআইসি-র যুক্তি ছিল যে একজন অমুসলিম মক্কায় কখনও প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু যদিও ওআইসি সর্বদা নিজেদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ বলেই জাহির করে এসেছে। আবার যখন ওআইসি দেশ হিসেবে ভারতের সদস্য হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে আসে তখন প্রতিবেশী পাকিস্তান বিরোধিতা করে যে ভারতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলমান নেই, তাই একে সদস্যপদ দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, ১৯৭৪ সালে উগান্ডা একটি খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে ওআইসি সদস্য করা হয়। ওআইসির সংবিধানে বলা হয়েছে যে যারা ইসলামিক দেশ, তারাই এর সদস্য হবে। কিন্তু তুর্কি ঘোষিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তবুও একে সদস্য করা হয়েছে। আলজেরিয়ার ক্ষেত্রে একই কথা খাটে। তাই যখন ওআইসির নাম পরিবর্তন করা হচ্ছিল, তখন অনেকেই এটাকে ‘অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক স্টেটস’ বা ‘অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কান্ট্রিস’ হিসাবে নামকরণ রাখার কথা বলেন। কিন্তু এর সমস্ত সদস্য মুসলিম রাষ্ট্র নয় বলে ভিতর থেকেই বাধা আসে।

    সুস্পষ্ট বিভাজন রয়েছে সদস্য দেশগুলির মধ্যে

    ওআইসির ভিতরে আরব অঞ্চলের দেশগুলি এবং যারা আরব অঞ্চলের বাইরে পড়ে, সেই দেশগুলির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন রয়েছে। আভ্যন্তরীণ বিবাদ, রাজনৈতিক বিবাদ, মতাদর্শগত বিবাদে ওআইসি জন্মের পর থেকেই ভুগছে। ১৯৮৪ সালে ওআইসিতে মিশর প্রত্যাবর্তন করে এবং মিশরের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ দেখা যায় সদস্য সাতটি দেশের। সাম্প্রতিক অতীতে ২০১৬ সালে ওআইসির বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে, প্রথমবারের মতো ইয়েমেন ও সিরিয়ার মতো দেশগুলি ইরানের বিরুদ্ধে এবং সৌদি আরবের পক্ষে খোলাখুলি ভাবে সমর্থন জানায়। ২০১৯ সালে হুথিদের সমর্থন করার জন্য ইরানের নিন্দা করে ওআইসি (OIC)। হুথি হল একটি ইরান কেন্দ্রিক জঙ্গি সংগঠন। এরপর ইরান বলে, কতকগুলি দেশ ইরানের নিন্দা করেছে, এটা ওআইসির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নয়।

    ওআইসি ও ভারত

    ওআইসি-র সদস্য হিসেবে পাকিস্তান সর্বদাই কাশ্মীর ইস্যুতে অন্যান্য দেশের সাহায্য চেয়েছে। ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ওআইসির একটি জরুরি বৈঠক ডাকে। সেখানে কাশ্মীর ইস্যুতে রাষ্ট্রসঙ্ঘ যেন হস্তক্ষেপ করে সেরকম একটি প্রস্তাব পাশ করানো হয়। কাশ্মীর সংক্রান্ত একটি গ্রুপও তৈরি করা হয়। যার মধ্যে পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, নাইজিরিয়ার প্রতিনিধিরা ছিলেন। মোদি জমানায়, ২০১৯ সালে আবুধাবিতে ওআইসির ৪৬তম বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারতকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে ভারতের প্রবেশ ঠেকাতে পাকিস্তান অনেক বিরোধ করে। তা সত্ত্বেও এই বৈঠকে ভারতকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়। ২০০৬ সালে সৌদি আরবের রাজা আবদুল্লা নিজেই বলেছিলেন যে, রাশিয়ার মতো ভারতের ওআইসি-তে পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকা উচিত। ২০১৯ সালের ওআইসির বিদেশ মন্ত্রকের বৈঠকে তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী প্রয়াত সুষমা স্বরাজের উপস্থিতি সেখানে পাকিস্তানের প্রভাবকে যথেষ্ট হ্রাস করেছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এরই মধ্যে বারবার ওআইসির প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুতে সর্বদাই ওআইসিকে কাজে লাগাতে চেয়েছে। তবে ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপ সাধনের পরে ওআইসির (OIC) তরফ থেকে খুবই সংক্ষিপ্ত এবং হালকা বিবৃতি দেওয়া হয়। তখনই বোঝা যায় যে এদের প্রাসঙ্গিকতা ও ক্ষমতা, ঠিক কতটা!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Nawaz Sharif: লাহোর চুক্তি ভঙ্গ হয়েছিল, ‘দোষ’ কবুল পাকিস্তানের

    Nawaz Sharif: লাহোর চুক্তি ভঙ্গ হয়েছিল, ‘দোষ’ কবুল পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ ‘দোষ’ কবুল করল পাকিস্তান। তারা স্বীকার করল, ১৯৯৯ সালে স্বাক্ষরিত লাহোর চুক্তি ভঙ্গ করেছে তারা। চুক্তি ভঙ্গের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ (Nawaz Sharif)। প্রসঙ্গত, লাহোর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিজেপির অটলবিহারী বাজপেয়ী। কার্গিলে পাক অনু্প্রবেশ যে ভুল ছিল, তা-ও কবুল করেন শরিফ। বলেন, “এটা আমাদের ভুল ছিল।”

    কী বললেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী? (Nawaz Sharif)

    দলীয় এক সভায় পাকিস্তানের প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৯৮ সালের ২৮ মে পাকিস্তান পাঁচটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল। এরপর বাজপেয়ী সাহেব এখানে এসে আমাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু আমরা সেই চুক্তি লঙ্ঘন করেছি।…এটা আমাদের ভুল ছিল।” তিনি বলেন, “এই চুক্তির পরে পরেই পাকিস্তান কার্গিলে অনুপ্রবেশ করে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। পাক সেনার অনুপ্রবেশের কারণেই হয়েছিল কার্গিল যুদ্ধ।” উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাপ্রধান পারভেজ মোশারফ তার বাহিনীকে জম্মু-কাশ্মীরের কার্গিল জেলায় অনুপ্রবেশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শরিফ (Nawaz Sharif)। কার্গিল যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল ভারত। 

    বিল ক্লিন্টনের প্রস্তাব

    প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার ২৬তম বার্ষিকী উদযাপনের দিন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো থেকে আমাদের বিরত রাখতে পাকিস্তানকে পাঁচশো মার্কিন বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম।” তিনি বলেন, “যদি আমার আসনে ইমরানের (প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান) মতো লোক থাকত, তাহলে তারা ক্লিন্টনের প্রস্তাব মেনে নিত।”

    আর পড়ুন: নির্বাচনী প্রচার শেষ, তিনদিনের জন্য কন্যাকুমারীতে ধ্যানে বসবেন প্রধানমন্ত্রী

    ১৯৯৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভারত ও পাকিস্তান শান্তি-নিরাপত্তা ও মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের স্বার্থে স্বাক্ষর করেছিল লাহোর চুক্তি। সেই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন নওয়াজ শরিফ। এই চুক্তির কিছুদিনের পরেই কার্গিলে অনুপ্রবেশ করে পাক সেনা।

    পড়শি দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেষ্টার কম কসুর করেননি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী। লাহোর বাসযাত্রার সূচনা করেছিলেন তিনিই। সেই বাস লাহোরে পৌঁছলে বাজপেয়ী আলিঙ্গন করেছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে। বাজপেয়ীর এই বন্ধুত্বের বার্তাকে সেদিন মর্যাদা দেয়নি পাকিস্তান। সেই ভুলের ‘রজত জয়ন্তী’তেই ভুল কবুল প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর (Nawaz Sharif)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • POJK: ভারতভুক্তির দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে, নেপথ্যে কোন কারণ?

    POJK: ভারতভুক্তির দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে, নেপথ্যে কোন কারণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অশান্ত পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর। পাক সেনার অত্যাচারে জেরবার এই এলাকার বাসিন্দারা চান মুক্তি। তবে স্বতন্ত্র কোনও দেশ কিংবা স্বায়ত্ত্ব শাসন তাঁরা চান না। তাঁরা চান এই অঞ্চলকে জুড়ে দেওয়া হোক ভারতের সঙ্গে। ভারতভুক্তিই এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রধান দাবি। যে দাবিতে পাক অধিকৃত এই অঞ্চলে জ্বলছে অশান্তির আগুন। যে আগুন নেভানোর ছলে আন্দোলনকারীদের দমন করতে কোমর কষে নেমে পড়েছে পাক সেনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখ খুলে দিয়েছে মোদি সরকারের জমানায় জম্মু-কাশ্মীরের চোখ ধাঁধানো উন্নয়ন। ভারতের অংশে যেখানে বয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের জোয়ার, সেখানে পাক অধিকৃত অংশের সর্বাঙ্গে স্পষ্ট অনুন্নয়নের ছাপ।

    ভারতভুক্তির দাবি (POJK)

    প্রত্যাশিতভাবেই তাঁরা দাবি তুলেছেন আজাদির, আরও স্পষ্ট করে বললে ভারতভুক্তির। ২০১৯ সালের ১৪ অগাস্ট জম্মু-কাশ্মীরে রদ হয় ৩৭০ ধারা। তার পর থেকে ভূস্বর্গে আক্ষরিক অর্থেই নেমে এসেছে কাঙ্খিত শান্তি। বুক ভরে তাজা শ্বাস নিচ্ছেন কাশ্মীরের মানুষ। এর ঠিক উল্টো ছবি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। তাই ২০২৩ সাল থেকে ভারতভুক্তির দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন পকেটে। এহেন পরিস্থিতিতে হাত গুটিয়ে বসে নেই পাক সেনা। আন্দোলনকারীদের ডাণ্ডা মেরে ঠান্ডা করতে মাঠে নেমে পড়েছে তারা। তাদের মারে জখম হয়েছেন গিলগিট-বাল্টিস্তানের পর্যটনমন্ত্রীও। তার পরেও ভারতভুক্তির দাবি থেকে একচুলও সরেননি এই এলাকার মানুষ। ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি ‘পাকিস্তানি সেনা মুর্দাবাদ’ স্লোগানও দিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলন দমন করতে গুলিও ছুড়েছে পাক সেনা। বেশ কয়েকজন জখম হওয়ার পাশাপাশি নিহত হয়েছেন জাকির হুসেন, গাজি আনওয়ার এবং আশিক মির।

    আর পড়ুন: নদিয়ায় হরিনাম বন্ধে ফতোয়া বাংলাদেশের! বিএসএফের উদ্যোগে হচ্ছে নাম সংকীর্তন

    ধ্বংস করছে পাকিস্তান

    সেই ১৯৯০ সাল থেকে পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দারা মনে করেন তাঁরা জম্মু-কাশ্মীরের নাগরিক, পাকিস্তান তাঁদের শোষণ করছে। তাই জীবন বাজি রেখেই তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন চিনা-পাকিস্তানিদের শোষণ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে (POJK)। এর খেসারতও দিয়ে হয়েছে তাঁদের কাউকে কাউকে। নওয়াজ নাজি, বাবা জান, আবদুল হামিদ খান এবং আরও অনেককে জেলে পচিয়ে মারছে পাক সরকার। এঁদের দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তার পরেও পুরোপুরি নেভানো যায়নি স্থানীয়দের বুকে জমে থাকা ক্ষোভের আগুন। পাক রাজনীতির টালমাটাল দশা আর তার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির হাঁড়ির হালের কারণেই তাঁরা আরও বেশি করে ঝুঁকছেন ভারতের দিকে। তাই জোরালো হচ্ছে ভারতভুক্তি দাবি।

    দখলদারির রাজত্ব

    ১৯৪৭ সালে রাজন্য-শাসিত রাজ্যগুলিকে হয় পাকিস্তান নয় ভারতের সঙ্গে যোগ দিতে বলা হয়। তখন কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে জুড়ে দেন। এরই একটা অংশ আগেই দখল করে নিয়েছিল পাকিস্তান, উপজাতির ছদ্মবেশে। সেই অংশই পাক অধিকৃত কাশ্মীর।

    আরএসএসের ভূমিকা

    হরি সিং যখন ভারত না পাকিস্তান কোন দিকে যাবেন তা নিয়ে দোটানায়, তখনই আরএসএসের তৎকালীন সরসঙ্ঘচালক গুরুজি সাক্ষাৎ করেন কাশ্মীরের মহারাজের সঙ্গে। এর পরেই ভারতের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হরি সিং। সে খবর (POJK) পেয়েই কাশ্মীরে উড়ে যান ভিপি মেনন। ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরের ভারতভুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মহারাজা। এর ঠিক দু’মাসের মাথায়ই মঙ্গলা, আলিবেগ, মিরপুর, ভীমবের, দেবা এবং বাটালা অঞ্চল, রাজৌরি ও নৌসেরা, ঝাঁগার এবং কোটলির পুরো অঞ্চলটা দখল করে নেয় পাকিস্তান। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় ভারতের এই অংশগুলোও। গিলগিট-বাল্টিস্তানের রাশও হরি সিং ভারতের হাতে তুলে দেন। যদিও সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে তখনও ছিলেন গিলগিট স্কাউটরা। এঁদের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর ডব্লিউ ব্রাউন। তিনি মুসলমান কিছু অফিসার ও জম্মু-কাশ্মীরের সৈন্যদের নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত করেন। এর পরেই তাঁরা পৌঁছে যান গিলগিটে, আশ্রয় নেন রাজ্যপাল ঘনসারা সিংয়ের বাসভবনে। পরে তাঁকে বাধ্য করেন সারেন্ডার করতে। সৈন্যদের মধ্যে যাঁরা শিখ এবং হিন্দু ছিলেন, তাঁদের হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের নির্দেশে যুদ্ধ বিরতি হয় ১৯৪৮ সালে। ততক্ষণে গিলগিট-বাল্টিস্তানের রাশ জোর করে দখল করে নিয়েছে পাকিস্তান (POJK)।

    জনসংখ্যার বদল

    বস্তুত তার পর থেকেই ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে দমন পীড়ন। পাক প্রশাসনের মূল লক্ষ্যই হল, এই অঞ্চলের জনসংখ্যা ধ্বংস করা, লুটে নেওয়া মাটির নীচে সঞ্চিত প্রাকৃতিক সম্পদ। এলাকার জনসংখ্যার হার বদল করতে পাঞ্জাব এবং নর্থ-ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স থেকে সুন্নি মুসলমানদের এনে এখানে বসতি স্থাপন করতে দেওয়া হয়। পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের বাসিন্দারা কলোনি জীবন যাপন করেন। পণ্ডিতরা যাকে ‘বিশ্বের শেষ কলোনি’ আখ্যা দিয়েছেন। মিরপুর মুজফ্ফরাবাদ কিংবা গিলগিট-বাল্টিস্তানের লোকজনের প্রতিবাদের অধিকারেও লাগাম পরানো হয়েছে। তাই এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মুখ বুঝে সহ্য করতে হয় অপহরণ, খুন-জখম-রাহাজানি। পাক সেনা জোর করে জমি দখল করে নিলেও টুঁ শব্দটি করার জো নেই এই এলাকার বাসিন্দাদের। পাক শাসকরা কৌশলে ধ্বংস করছে এই এলাকার ভাষা, লিপি, জঙ্গল, উৎসব। বাসিন্দাদের তাঁদের মূল থেকেও উপড়ে ফেলার নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছে পাক সেনা। অথচ এই এলাকাটি যেন পাকিস্তানের সোনার ডিম দেওয়া সেই হাঁস। বিদেশ থেকে যাঁরা পাকিস্তানে বেড়াতে আসেন, তাঁদের প্রায় ৭০ শতাংশই আসেন গিলগিট-বাল্টিস্তানে। তাই রোজগার হয় কাঁড়ি কাঁড়ি বিদেশি মুদ্রা। মিরপুর-মুজফফরাবাদ অঞ্চলে মাটির নীচে রয়েছে দামী ধাতু-পাথর। আর গিলগিট-বাল্টিস্তানের পেটে লুকানো রয়েছে ১ হাজার ৪৮০টি সোনার খনি। এসব থেকে রোজগার হলেও, এলাকায় উন্নয়ন থেকে যায় অধরা।

    অবহেলায় শারদা পীঠ

    প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ১৭ মাইল দূরে রয়েছে শারদা পীঠ। জ্ঞানের দেবী শারদার মন্দির রয়েছে এখানেই। সনাতনীদের কাছে এক সময় যে জায়গা ছিল তীর্থক্ষেত্র, যে মন্দিরে নিত্য বাজত ঘণ্টা, নৈসর্গিক পরিবেশে অবস্থিত মন্দিরের ধূপ-দীপের গন্ধে যেখানে তৈরি হত স্বর্গীয় পরিবেশ, সেখানে আজ শুধুই শ্মশানের স্তব্ধতা। দাঁড়িয়ে রয়েছে ভগ্নপ্রায় এক মন্দিরের কাঠামো। বিগ্রহ? কে জানে কোথায়!

    ভারত বরাবর দাবি করে আসছে অখণ্ড জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অংশ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বহুবার বলেছেন এই অঞ্চলের দখল পেতে আমরা জীবন বলি দিতেও প্রস্তুত (POJK)।

    ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও আমাদের ভূস্বর্গ…পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাতাসে ভাসছে এমনই আর্তি।   

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

LinkedIn
Share