Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

    Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবগঠিত বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কক্ষ। ভোট-পরবর্তী অশান্তি এবং কর্মীদের ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে যদি কোনও তৃণমূল নেতা ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা মামালায় অভিযুক্ত হন তাহলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেমে। পালটা যুক্তিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ওপর দিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করেই তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। ‘হাড়গোড় ভাঙা নয়”, রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই ভাবে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূলকে মনে করিয়েদিলেন দুর্বিষহ সন্ত্রাসের কথা।

    বিরোধী দলনেতার অভিযোগ ও উদ্বেগ (Suvendu Adhikari)

    স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্র বসুর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পর অধিবেশন শুরু হতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। ভয় নয়, ভরসা বিজেপির এই স্লোগান অর্থহীন, সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু তৃণমূল কর্মী বর্তমানে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত। এই ঘরছাড়া কর্মীরা নিরাপদে নিজ নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন সেই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যয় ও শর্তসাপেক্ষ আশ্বাস

    বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রেখে জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘‘কোনও ব্যক্তি যদি প্রকৃতই ঘরছাড়া হয়ে থাকেন, তবে বিরোধী দলনেতা যেন সেই তালিকা ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP)-কে প্রদান করেন। কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি ঘরছাড়া থাকলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার সসম্মানে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে দেবেন। তবে একটি শর্তও রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী কোনও অপরাধমূলক অভিযোগ না থাকে। যদি কোনও অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই আইনের সম্মুখীন হতে হবে। জেলে যেতে হবে।”

    ‘‘সদনে দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না’’

    বিধানসভার প্রথম দিনের অধিবেশনে তৃণমূলের অপকর্মের আয়না দেখালেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। তিনি বলেন, “তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে এতদিনে ১৫০ জন বিজেপি কর্মী খুন হতেন। এটা শুধুমাত্র সরকার গড়ার আর নির্বাচিত হয়ে আসার নির্বাচন ছিল না। এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। আর সেই ধর্মযুদ্ধে যাঁরা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই।” এই প্রসঙ্গে তাপস রায় নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে বলেন, “স্যার, একটা জিনিস করতে হবে। এই সদনে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না। আইন করে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বিল এনে।”

    “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত, পাপমুক্ত, ভয়মুক্ত হয়েছে”

    ২০২৬ সালের বিধান সভা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ভয়মুক্ত হয়েছে।” ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। গতকাল আদালতে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তাপস রায় বলেন, “গতকাল কেউ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। কারও নাম করিনি। সে বলেছিল, হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলব, সে যেন এবার বেরোয়। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ ও তৃণমূলই করবে।”

    ‘‘বেহায়া না হলে…ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে’’

    বিধানসভায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তাপস রায় (Tapas Roy) তৃণমূলকে নির্লজ্জ এবং বেহায়া বলেছেন। যারা ক্ষমতায় আসার আগে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় তাঁদের মুখে এই কথা কি শোভা পায়। তাপস রায় বলেন, “নির্লজ্জ, বেহায়া না হলে আজকে ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে। এর আগে একটাও রক্তপাতহীন, লাশহীন নির্বাচন হয়েছে? রক্তের উপর দিয়ে ভি সাইন দেখিয়েছে। স্যার, আজকে দেড়শোর উপর লাশ আপনাকে গুনতে হত বিজেপির। যদি এরা ক্ষমতায় ফিরে আসত। বাড়ি জ্বালিয়ে দিত। আর লক্ষ লক্ষ বিজেপি কর্মী সমর্থক বাড়িছাড়া থাকত। আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, আমার নাম থাকে, আমাকে জেলে পাঠাবেন।’’

    ‘‘অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না’’

    উল্লেখ্য একসময় তৃণমূলে ছিলেন তাপস রায়। একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি দলের চরম দুর্নীতি এবং তোষণনীতির কারণে বিজেপিতে যোগদান করেন। এদিকে, ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওসদ সিদ্দিকি বলেন, ‘‘আজ তাপস রায় যা বলেছেন, তা খুব একটা ফেলে দেওয়ার নয়। ২০২১ সালে ভোটের জেতার পর, ৬ মাস এমন দিন পার করেছি, যখন ভেবেছিলাম, আমি ইস্তফা দিয়ে দিই, যাতে আমার ছেলেগুলোর উপর অত্যাচার বন্ধ হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধায়ককের বলতেই দেওয়া হয়নি।’’

    পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান নওশাদ। তাঁর কথায়, “অতীতে আমাদের বক্তব্য শাসকদলের অপছন্দ হওয়ায় অনেক সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হত। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না। সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমাদের যে দাবিগুলি রয়েছে, সেগুলি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। আমরাও অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না।”

  • RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে সাসপেন্ড তিন আইপিএস বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি, অভিষেক গুপ্তা

    RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে সাসপেন্ড তিন আইপিএস বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি, অভিষেক গুপ্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথামতোই আবার খুলল আরজি কর ফাইল (RG Kar Case)। কাজ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আরজি কর কাণ্ডে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড হলেন রাজ্যের তিন আইপিএস অফিসার। শুক্রবার নবান্ন থেকে শুভেন্দু জানান, আরজি করের চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের মামলার ফাইল ফের খোলা হবে। ওই সময়ে বিভিন্ন পদে কর্মরত তিন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট 

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাফ কথা, “মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়েছি। পুলিশ অফিসাররা তিলোত্তমার মা-কে টাকা দিতে গিয়েছিলেন। নির্যাতিতার পরিবারকে এইভাবে টাকা দিতে যাওয়ার অভিযোগে আমরা এই তিনজনকে সাসপেন্ড করছি।” শুভেন্দু আরও বলছেন, “যখন বিভাগীয় তদন্ত হবে তখন যাঁদের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি তাঁদের বক্তব্যও নেব, অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবার যদি চায় তাহলে তাদের বাড়িতে গিয়েও আমাদের অফিসাররা তাদের বক্তব্য নিয়ে আসবে।” এখানেই না থেমে এবার একেবারে সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সবই পরে পরে বের করব। দেখা যাবে তখনকার অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছে। সেই সময়ের কোনও মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নির্দেশ ছিল কিনা সেটা দেখা হবে। সব বের করব।”

    যা হয়েছিল তা হওয়ার কথাই ছিল না

    তিলোত্তমার মা রত্না দেবনাথ বলছেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছিল তা হওয়ার কথাই ছিল না। ও একটা সুরক্ষিত জায়গায় ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই আমি আমার মেয়েটাকে হারিয়ে ফেলেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এত তাড়াতাড়ি আবার ফাইল খোলার জন্য। বিচার খুব তাড়াতাড়ি আসবে। গোটা বিশ্বের মানুষ এর বিচার চায়। সবার চাওয়া কখনও বিফলে যাবে না। বিচার আসবেই।” মেয়ের স্মৃতিচারণা করতে করতে ফের একবার গলা ধরে আসে তাঁর। বলেন, “যেদিন রাত দখল হয়েছিল সেদিন সব জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষ শুধু উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলেছিল। সেদিন টিভিতে আমাকে দেখানো হয়েছিল আমি তখন মেয়ের ছবিটা জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম তোর যে এত শক্তি, যে তুই সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলি।”

    কে কোন দায়িত্বে ছিল 

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অ্যাজ আ হোম মিনিস্টার, আমি চার্জ নেওয়ার পর মাননীয় চিফ সেক্রেটারি এবং মাননীয় হোম সেক্রেটারির কাছে লিখিত চেয়েছিলাম আরজি করের ঘটনা এবং তার পরবর্তী কিছু বিষয় নিয়ে। কীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকরা সেটা হ্যান্ডল করেছিলেন, তা জানতে চেয়েছিলাম। তথ্য অনুসন্ধানের পর আপাতত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিলাম।’’ শুভেন্দুর সংযোজন, ‘‘রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমি ঘোষণা করছি, ওই সময়ে যা ঘটেছিল, তা মিসহ্যান্ডেলিং করা, যথাযথ ভাবে এফআইআর করে পদক্ষেপ করার মতো প্রাথমিক যে বিষয়গুলো ছিল, সেখানে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল দু’জন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে।’’ ২০২৪ সালের অগাস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সময় আইপিএস বিনীত ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার। অভিষেক গুপ্ত ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে। আইপিএস ইন্দিরা তখন কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে দায়িত্বরত ছিলেন।

  • Janata Darbar: মানুষের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী, এরাজ্যে ‘জনতার দরবার’ চালুর ঘোষণা শুভেন্দুর

    Janata Darbar: মানুষের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী, এরাজ্যে ‘জনতার দরবার’ চালুর ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শোনা এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন প্রশাসনিক উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক মডেলকে অনুসরণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হতে চলেছেন। জনমানসে প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে তুলতেই এই ‘জনতার দরবার’-এর (Janata Darbar) পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    জনতার দরবারের উদ্দেশ্য (Janata Darbar)  

    সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন এই ‘জনতার দরবার’ (Janata Darbar)  অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রতিদিন প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলবে এই কর্মসূচি, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন এক বা দুই জন শীর্ষ আধিকারিক। সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শুনে দ্রুত সমাধানের পথ বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য

    • ● সরাসরি জনসংযোগ: কোনও মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সাধারণ নাগরিকরা তাঁদের অভাব-অভিযোগ এবং সমস্যার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে (Suvendu Adhikari)  জানানোর সুযোগ পাবেন।
    • ● দ্রুত সমাধান: প্রতিটি সমস্যার গুরুত্ব বিচার করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • ● প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ও প্রেক্ষাপট

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরাসরি জনসংযোগের ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ থাকলে তবেই সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। এই ‘জনতার দরবার’ কেবল অভিযোগ জানানোর স্থান নয়, বরং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের একটি বিরাট মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।”

    প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তৃণমূল স্তরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে এই ‘সরাসরি যোগাযোগ’ (Janata Darbar)  পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। আধুনিক প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে এই অভিনব উদ্যোগ রাজ্য রাজনীতিতে এবং প্রশাসনিক স্তরে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Crackdown on Helmetless Riders: পথ নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন, কলকাতা জুড়ে হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান

    Crackdown on Helmetless Riders: পথ নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন, কলকাতা জুড়ে হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সরকারের নির্দেশানুসারে পথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুলিশ। হেলমেটবিহীন চালক (Helmetless Riders) এবং যত্রতত্র বেআইনি পার্কিংয়ের (Illegal Parking in Kolkata) বিরুদ্ধে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি ও ধরপাকড়। একই ভাবে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) বলেছেন, “পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। অবৈধ পার্কিং এবং জাল স্লিপের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসন কোনও আপস করবে না।”

    অভিযানের পরিসংখ্যান ও পর্যবেক্ষণ (Illegal Parking in Kolkata)

    শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের এই বিশেষ নজরদারি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। নিয়মভঙ্গকারীদের (Illegal Parking in Kolkata)  বিরুদ্ধে কোনও প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে পুলিশ নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:

    • ● হেলমেটবিহীন চালক: যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম (হেলমেট) না থাকায় মোট ৭৭৫ জন বাইক চালকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইস্ট ট্রাফিক গার্ড এলাকায় সর্বাধিক ৯১ জন আইনভঙ্গকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
    • ● বেআইনি পার্কিং: শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৫২৬টি অবৈধ পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে জরিমানা বা মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাউথ ট্রাফিক গার্ড এলাকায় সর্বোচ্চ ২ শতাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়।
    • ● ভুয়া স্লিপ ও রাজস্ব চুরি রোধ: বিভিন্ন এলাকায় জাল পার্কিং স্লিপ ব্যবহার করে বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পুরমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের অসাধু উপায়ে টাকা তোলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, কারণ এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে না।
    • ● নির্দিষ্ট রেট চার্ট: পার্কিং ফি-র ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা (Rate Chart) তৈরি করা হবে। নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা আইনত দণ্ডনীয় হবে।

    মূল সমস্যা ও নজরদারি

    রাজ্যের পুর নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘‘আজই নোটিস দিচ্ছি। রাস্তার দু’পাশে অবৈধভাবে পার্কিং বন্ধ হবে। যেদিকে পার্কিং করার কথা নয়, সেখানে কোনও গাড়ি থাকবে না। মানুষের সুবিধা হবে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ফেক পার্কিং স্লিপ দিয়ে টাকা তোলা হয়, যে টাকা রাজস্ব দফতরে আসে না। সেই স্লিপ দিয়ে টাকা তোলা যাবে না।’’

    কোথায় কোথায় বিশেষ অভিযান?

    শহরে রাজাবাজার, ফুলবাগান, ইকবালপুর, মমিনপুর, তপসিয়া, ট্যাংরা, তিলজলা, পার্কসার্কাস সহ একাধিক একালায় ট্রাফিক নিয়ম বলে কিছু নেই। হেলমেট ছাড়া বাইক, ফুটপাতে অবৈধ নির্মাণ, পার্কিংয়ের জন্য জনজীবন ব্যাপক ভাবে সঙ্কটের মুখে। বিগত সরকারের আমলে এই এলাকাগুলিতে আইনের শাসন ছিল না। শহরের পরিচয়কে বস্তুি ঘিঞ্জি করে রেখেছিল। এইবার সকল বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকার কঠোর মনোভাবের পরিচয় দিতে শুরু করেছে।

    শহরের বিশেষ এলাকায় বাড়তি নজরদারি

    শহরের  এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে সিগন্যাল অমান্য করা এবং দ্রুতগতিতে বেপরোয়া বাইক চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে রাতের দিকে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। জনসুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবার বিশেষ করে খিদিরপুর থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।নবান্নের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাইক চালক ও আরোহীর হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশ কার্যকর করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এডিজি ট্রাফিককে নিয়মিত রিপোর্ট সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য কেবল দণ্ড প্রদান নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যে (Illegal Parking in Kolkata) নামিয়ে আনা।

    কলকাতা ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী পুরমন্ত্রী

    কলকাতা শহরের রাজপথ থেকে অলিগলি—সর্বত্রই অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের (Illegal Parking in Kolkata) জেরে যানজট এক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ গাড়ির কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্নঘটা এবং ভুয়া স্লিপের মাধ্যমে টাকা তোলার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এবার এই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।

    যানজট নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা

    উল্লেখ্য, গত বছর মাত্র ২ ঘণ্টার জন্য রাস্তার ধারের পার্কিং বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সকাল ৭টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত রাস্তার ধারের পার্কিং বন্ধ করার নির্দেশিকা জারি করেছিল কলকাতা পুরনিগম। আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বর্তমান সরকার (Agnimitra Paul) শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে আরও দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পথে হাঁটছে। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং পুরনিগমের যৌথ উদ্যোগে এই নতুন নিয়ম দ্রুত কার্যকর হতে চলেছে, যার মূল লক্ষ্য হল শহরবাসীকে একটি যানজটমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিষেবা উপহার দেওয়া।

  • CM Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন’, সৌজন্যের আবহে কীসের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু?

    CM Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন’, সৌজন্যের আবহে কীসের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন, এমনই অভিমত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। আত্মবিশ্বাসী মেজাজ রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু। সরকার বদালতেই বিধানসভার অন্দরে ফিরে এল ‘সৌজন্যের’ ছবি। নতুন মুখ্যমন্ত্ররী জন্য তৃণমূল বিধায়কদের তরফে শুভেচ্ছার বন্যা। একদিকে কাউকে যেমন অধিবেশনের সময় শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেল, তেমনই কেউ আবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে এলেন। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষকে দীর্ঘক্ষণ দেখা গেল তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে গল্প করতে।

    সৌজন্যের ছবি বিধানসভায়

    সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন। সৌজন্য হয়েছে। কিন্তু কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে তা এখনই বলতে চাননি তিনি। শুভেন্দুর এ কথাতেই শুরু হয়ে গিয়েছে জোর চাপানউতোর। শুভেন্দুর এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য থেকেই অনেকে বলতে শুরু করেছেন দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়েই উবে গিয়েছিল সৌজন্যের আবহ। তাঁর অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনেই কী তাহলে স্বাভাবিক ছন্দে কেটেছিল তাল? প্রশ্ন ঘুরছে। সঙ্গে আবার সেই সময় বিধানসভার অন্দরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি! কিন্তু সেই ছবিতে ইতি! বর্তমানে ছবিটা এক্কেবারে আলাদা।

    শুভেন্দুর জন্য মনোহরা আনলেন হুমায়ুন!

    সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সিতাইয়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া শপথগ্রহণের আগে পর্যন্ত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গেই বসেছিলেন। খোদ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন। সুজাপুরের সাবিনা ইয়াসমিনও আবার শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানান। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সৌজন্যে তো আবার অন্য মাত্রাই দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য তিনি মনোহরা নিয়ে এসেছিলেন বলে খবর। সব মিলিয়ে বিধানসভার অন্দরের সৌজন্যপূর্ণ আবহ নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক আঙিনায়।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিই অনুপ্রেরণা, বার্তা শুভেন্দুর

    স্বচ্ছ প্রশাসন ও উন্নয়নের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর গলায় শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা। শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথেই পরিচালিত হবে। মোদিকে ‘বিশ্বনেতা’ সম্বোধন করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের পথপ্রদর্শক। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে তিনি যে নাগরিক সচেতনতা তৈরি করেছেন, আমরা তা এগিয়ে নিয়ে যাব।’’ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং ভিআইপি সংস্কৃতি কালচার বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বিধানসভায় কোনও লুকোছাপা থাকবে না। সরকার পুরোপুরি বিধানসভার প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে।’’ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান মেনে বাড়তি নিরাপত্তার বহর ও গাড়ির সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অতিরিক্ত গাড়ির প্রয়োজন নেই। জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তায় আমরাও শামিল।’’তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘অনেকে বলছেন আমরা স্বাধীনতা পেলাম। এবার প্রকৃত অর্থেই জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য সরকার দেখতে পাবেন সবাই।’’

  • Speaker in Bengal Assembly: শুক্রবার নির্বাচন! দলের স্পিকার পদপ্রার্থী হিসেবে রথীন্দ্রনাথ বসুকে বেছে নিল বিজেপি

    Speaker in Bengal Assembly: শুক্রবার নির্বাচন! দলের স্পিকার পদপ্রার্থী হিসেবে রথীন্দ্রনাথ বসুকে বেছে নিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভার স্পিকার হচ্ছেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু (Rathindra Bose)। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম স্পিকার (Speaker in Bengal Assembly) হচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নাম জানান। এ দিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘রাজ্য সভাপতি-সহ বিধায়ক দলের সকলের সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সভাপতির অনুমোদন নিয়ে আমরা দলের অত্যন্ত বলিষ্ঠ, নিষ্ঠাবান নেতা রথীন্দ্র বসুকে স্পিকার পদের জন্য মনোনীত করেছি। এই পদ চালানোর জন্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও উচ্চ শিক্ষার দরকার। তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। আগামিকাল সকাল ১১টায় স্পিকার নির্বাচন হবে।’

    শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন

    শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার (Speaker in Bengal Assembly) নির্বাচন হবে। বিরোধী দলগুলি এই নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে সংখ্যার নিরিখে স্পিকার নির্বাচনে বিজেপির জয় কার্যত নিশ্চিত। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অষ্টাদশ বিধানসভার অধ্যক্ষ বা স্পিকার পদপ্রার্থী হিসাবে রথীন্দ্র বসুকে মনোনীত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আমার স্থির বিশ্বাস, তিনি (রথীন্দ্র) সর্বসম্মতিক্রমে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মাননীয় অধ্যক্ষ হিসাবে নির্বাচিত হবেন।” বিজেপির স্পিকার পদপ্রার্থী হিসাবে মনোনীত হওয়ার পর রথীন্দ্র বলেন, “দল যা দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করব। প্রয়োজনে বিধানসভার অভিজ্ঞ সদস্যদের পরামর্শ নেব।” বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্য বিজেপি বিধায়কদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন রথীন্দ্র। মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন রাজ্যে সংগঠনের ভরকেন্দ্র উত্তরবঙ্গের কথা মাথায় রেখেই স্পিকার বেছে নিল বিজেপি।

    প্রথা ভাঙছে বিজেপি

    প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, রথীন্দ্র (Rathindra Bose) পেশায় চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। দীর্ঘ দিন তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। রথীন্দ্র প্রথম বারের বিধায়ক। তৃণমূল আমলে রাজ্য বিধানসভার স্পিকার ছিলেন বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বারও ওই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বাম আমলে বিধানসভার স্পিকার হয়েছিলেন যথাক্রমে সৈয়দ আব্দুল মনসুর হবিবুল্লাহ এবং হাসিম আব্দুল হালিম। সাধারণত স্পিকার হিসাবে আইনজ্ঞ বা পেশায় আইনজীবী কাউকেই মনোনীত করে রাজনৈতিক দলগুলি। সেই হিসাবে এ বার অলিখিত এই প্রথা ভাঙতে চলেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে স্পিকার নির্বাচিত হতে চলেছেন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রথীন্দ্রই।

  • Mamata Banerjee: হাইকোর্টে মমতাকে ‘চোর চোর’ স্লোগান, ‘কৃতকর্মের ফল’ বললেন শমীক, কী প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর?

    Mamata Banerjee: হাইকোর্টে মমতাকে ‘চোর চোর’ স্লোগান, ‘কৃতকর্মের ফল’ বললেন শমীক, কী প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘চোর চোর স্লোগান শুনতে হল মমতাকে! কলকাতা হাইকোর্টের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল বৃহস্পতিবার। ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং বুলডোজার দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এদিন  সশরীরে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।  একেবারে আইনজীবীর কালো গাউন বা শামলা পরে।

    প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিগত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের সময়ে চলা ভোট-পরবর্তী হিংসার সময় মমতা কোথায় ছিলেন এই প্রশ্ন তোলে বিজেপি। সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের আলোয় আসতে এই নাটক বলে তীব্র কটাক্ষ বিজেপির। উল্লেখ্য রাজ্যে বিগত সরকারের সকল দুর্নীতির মাথা স্বয়ং নেত্রী এই অভিযোগ তুলে আইনজীবীদের একাংশ চোর চোর স্লোগান দেয়। কোর্ট চত্বরে মুখ পুড়ল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর।

    এজলাসের ভেতরে বাদানুবাদ ও সওয়াল-জবাব(Mamata Banerjee)

    সকাল ১১টার কিছু আগে হাইকোর্ট (Calcutta High Court) চত্বরে পৌঁছে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আইনজীবীর বেশে হাজির হন প্রধান বিচারপতি পালের এজলাসে। সেখানে সওয়াল করেন তিনি। এদিন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে ছিল তিল ধারণের জায়গা নেই। আইনজীবী রীতঙ্কর দাস এবং শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে ভিড় জমতে শুরু করে। অভিযোগ ছিল, হগ মার্কেট এলাকায় জেসিবি দিয়ে ইমারত ভাঙা হয়েছে এবং ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। পাল্টা কলকাতা হাইকোর্টে অ্যাডিশনাল সলিসেটার জেনারেল অশোক চক্রবর্তী তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগকে বাস্তব ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন।

    ‘‘আদালত যেন নাটকের মঞ্চে পরিণত না হয়’’

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই মামলাগুলোর প্রেক্ষিতে নিজের বক্তব্য পেশ করতে ওঠেন, তখন এজলাসের ভেতরেই উপস্থিত আইনজীবীদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ ওঠে, সওয়াল চলাকালীন এক আইনজীবী তাঁকে উদ্দেশে মন্তব্য করেন যে, আদালত যেন নাটকের মঞ্চে পরিণত না হয়। এই পরিস্থিতিতে উপস্থিত আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রুখে দাঁড়ান এবং কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ে এজলাসের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত থমথমে। তার পরে এজলাস থেকে বেরোনোর সময়েই তৃণমূলনেত্রী যে মামলা লড়তে গিয়েছেন, সে কথা প্রত্যাশিত ভাবেই ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছিল হাইকোর্টের আইনজীবী মহলে। এরপর রাজ্যের ঘটে যাওয়ার একাধিক দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    আদালত চত্বরে ‘চোর চোর’ স্লোগান ও উত্তেজনা

    আসল নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় শুনানি শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যখন আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছিলেন। আইনজীবীদের (Calcutta High Court)  একটি বড় অংশ তাঁকে দেখে ‘চোর চোর’ এবং ‘পিসি চোর, ভাইপো চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই ঘটনায় উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীরা রীতিমতো হিমশিম খান। উত্তেজিত আইনজীবীদের ভিড় সামলাতে গিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আদালতের মূল প্রবেশদ্বারে থাকা মেটাল ডিটেক্টর গেটটি ধাক্কাধাক্কিতে উল্টে যায়।

    আদালত চত্বর ‘শুদ্ধ’ করার ডাক

    উপস্থিত আইনজীবীদের অনেকেই মোবাইলে এই ঘটনার ভিডিও করতে থাকেন। ক্ষুব্ধ এক আইনজীবী মন্তব্য করেন, “যিনি একসময় বিচারপতিদের সম্মান জানাতেন না, আজ তিনি নিজেই আদালতে আশ্রয় নিতে এসেছেন। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।” এমনকি আদালত চত্বর ‘শুদ্ধ’ করার ডাক দিয়ে কেউ কেউ গোবর ও গঙ্গাজল ব্যবহারের দাবিও তোলেন। মোবাইল করে আইনজীবীরাই মমতার ছবি তুলতে থাকেন। গোটা পরিস্থিতির ভিডিও করতে থাকেন। আরও এক আইনজীবী বলেন, “হাইকোর্টকে আজকে গোবর, গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করতে হবে। বিচারপতিদের সবচেয়ে বেশি অপমান করেছে তৃণমূল।”

    প্রাক্তনকে নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিতর্ক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমানে তাঁর মূল ফোকাস রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ এবং উন্নয়নমূলক দায়িত্ব পালনের উপরেই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “এই বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আমাদের সামনে রাজ্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে, তাই সেই দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর উপর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি পরিষেবা এবং রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিকে সমানভাবে নজর রাখতে হচ্ছে। সেই কারণেই বিতর্কিত বা রাজনৈতিক মন্তব্যে জড়াতে তিনি আগ্রহী নন। তাঁর কথায়, “এখন আমার অনেক দায়িত্ব। রাজ্যের সব দিকেই নজর দিতে হচ্ছে। তাই এ ধরনের বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই, আর আমি ব্যক্তিগতভাবেও এসব নিয়ে ভাবতে রাজি নই।”

    ‘‘এই অবস্থার জন্য দায়ী তৃণমূলই’’, বলল বিজেপি

    কোর্টে (Calcutta High Court)  মমতার (Mamata Banerjee)  এই নাটক দেখে এই ঘটনাকে তীব্র তোপ দেগে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিজেপি আছে বলেই তৃণমূলের কর্মীরা এখনও বেঁচে আছেন, আমাদের কর্মীরাও তৃণমূলের ভাষা জানেন। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে জয়ের পরেও ৩ জন বিজেপি কর্মীকে হত্যা করেছে তৃণমূল। বাকি সব জায়গায় তৃণমূল বনাম তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলে হত্যা হয়েছে।” শমীক জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এ ধরনের আচরণ বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ নয়। উনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং একজন মহিলা। তাঁকে দেখে রাস্তায় মানুষ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেবে— এমন পরিস্থিতি বিজেপি তৈরি করে না। এই অবস্থার জন্য দায়ী তৃণমূলই।’’

    ‘‘কৃতকর্মের ফল একসময় ফিরে আসেই’’: শমীক

    তিনি আরও বলেন, ‘‘মানুষের কৃতকর্মের ফল একসময় ফিরে আসেই। যদিও আমরা চাই না এ ধরনের ঘটনা ঘটুক। বিজেপি সবসময় সুস্থ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশের পক্ষেই রয়েছে। তৃণমূল অতীতে যা করেছে, বর্তমানের এই প্রতিক্রিয়া তারই ফল।’’ মমতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়েও শমীক দাবি করেন, এই বিক্ষোভ সম্পূর্ণ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁরাও তৃণমূলের; আবার যাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তাঁরাও তৃণমূলেরই অংশ। এখানে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। আসলে এটা তৃণমূলের ভিতরে সুবিধাভোগী এবং বঞ্চিত গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব। এতদিন যারা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বঞ্চিতরাই এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে।’’

  • Vande Mataram in Schools: সোমবার থেকে রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Vande Mataram in Schools: সোমবার থেকে রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে এবার বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-র পাশাপাশি রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ার নির্দেশ আসতে চলেছে। স্কুল শুরুর আগে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবেই গাওয়া হবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই জাতীয় গান। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন, “সব বিদ্যালয়ে আগামী সোমবার থেকে প্রার্থনা সঙ্গীত হচ্ছে বন্দেমাতরম। নবান্নে (Nabanna) গিয়েই এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করব।”

    আগামী সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতরের তরফে এই সংক্রান্ত বার্তা রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলার স্কুল পরিদর্শক ও শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও নতুন নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে আগামী সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বর্তমানে গরমের ছুটির কারণে অধিকাংশ স্কুল বন্ধ থাকলেও, প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক লক্ষ্মনা গোলে জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপ মারফত নির্দেশ এসেছে। খুব দ্রুত লিখিত নির্দেশিকাও পৌঁছে যাবে স্কুলগুলিতে।

    নির্দেশ মানা হচ্ছে কিনা, সেই রিপোর্ট জমা করতে হবে

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধু ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করাই নয়, স্কুলে এই নির্দেশ মানা হচ্ছে কি না, সেই রিপোর্টও শিক্ষা দফতরে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, প্রার্থনার সময় রাষ্ট্রগীত গাওয়া হয়েছে কি না, তার নজরদারিও থাকবে প্রশাসনের। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই শিক্ষা মহল এবং অভিভাবকদের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এতদিন অধিকাংশ স্কুলে প্রার্থনার সময় জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়া হত। অনেক স্কুলে আবার জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি নিজস্ব প্রার্থনা সঙ্গীতও ছিল। এর আগে পূর্বতন সরকারের আমলে বাধ্যতামূলকভাবে রাজ্য সঙ্গীত ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার জাতীয় সঙ্গীতের পর রাষ্ট্র গান ‘বন্দেমাতরম’ গান গাওয়া হবে।

    ‘‘জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ’’

    শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (এবিআরএসএম)-এর নেতা অসীম দাস বলেন, “সাম্প্রদায়িকতার অজুহাতে এতদিন এই রাষ্ট্রগীতকে স্কুলে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ‘বন্দেমাতরম’ আমাদের জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। স্কুলে এটি চালু হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ।” আলিপুরদুয়ার জেলার স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) লক্ষ্মণা গোলে বলেন, ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের একটা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিয়ে বিষয়টি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।” ওই আধিকারিকের কথায়, এরপরেই ওই নির্দেশিকা বিভিন্ন স্কুল শিক্ষকদের গ্রুপে পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত লিখিত অর্ডার হাতে আসবে। এরপরেই সমস্ত স্কুলগুলিতে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

    ‘‘বিকৃত ইতিহাস বদলের এটাই সঠিক সময়’’

    রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “বিকৃত ইতিহাস বদলের এটাই সঠিক সময়। নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।” রাজ্যের নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকছে, নবান্ন থেকে জারি হওয়া চূড়ান্ত নির্দেশিকায় জাতীয় সঙ্গীত, রাষ্ট্রগীত এবং স্কুলগুলির নিজস্ব প্রার্থনা সঙ্গীত নিয়ে কী স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

  • West Bengal Govt Rules: ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হল সিবিআই, ইডি-কে! যেখানে-সেখানে পশুহত্যা নয়, মোয়াজ্জেম ভাতা নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

    West Bengal Govt Rules: ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হল সিবিআই, ইডি-কে! যেখানে-সেখানে পশুহত্যা নয়, মোয়াজ্জেম ভাতা নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাইকোর্টের রায় মেনে পশুহত্যা নিয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা জানাল রাজ্য সরকার। সরকারি নির্দেশিকায় প্রকাশ্যে পশুহত্যা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। বুধবার বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পাঁচ মন্ত্রীর দফতর বণ্টনের পর বৈঠক করেছিলেন তিনি। এবার সব দফতরের সচিবদের নিয়ে বৈঠক করলেন শুভেন্দু। বুধবার সেই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা দফতরে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেছেন। পশুহত্যা নিয়ে সরব হয়েছেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন এবার থেকে রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্য সরকারের কোনও অনুমোদন নিতে হবে না কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। দুর্নীতি হঠাতে কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    পশুহত্যা নিয়ে কী কী শর্ত দিল রাজ্য

    গরু, মহিষ, বলদ ও বাছুর বলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সার্টিফিকেট থাকতে হবে। পশুহত্যার আগে পুরসভার চেয়ারম্যান/পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কেউ সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকার করলে, ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। প্রকাশ্য জায়গায় বা রাস্তার ধারে পশুহত্যা নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানায় পশুবলি করা যাবে। নিয়ম ভেঙে পশুহত্যা করলে আইন অনুযায়ী, ৬ মাস পর্যন্ত জেল অথবা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দুটোই হতে পারে। এই নির্দেশিকায় একটি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে আদালত রায় দিয়েছিল। নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায় রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট খুললেই দেখা যাবে।

    শিক্ষা-স্বাস্থ্য-তথ্য-সংস্কৃতি দফতর নিয়ে সিদ্ধান্ত

    এখনও মন্ত্রী ঠিক না হলেও শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে। আগামী সোমবার থেকেই স্নাতক স্তরের ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে স্কুলের ছুটি আরও ১৪ দিন বাড়ানো হয়েছে। স্কুল খুলবে আগামী ১ জুন। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে সাংস্কৃতিক জগতের বিধায়কদের। এই তালিকায় রয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য দফতরের কাজে যুক্ত থাকবেন চিকিৎসক-বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল খাঁ। আগামী দু’দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দফতরে গিয়ে সচিবদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করবেন।

    মোয়াজ্জেম ভাতা অনলাইনে

    মোয়াজ্জেম ভাতা এবার থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনে দেওয়া হবে। সেই পরিষেবা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকেই। বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। ক্ষুদ্র শিল্প দফতরে কেন্দ্রীয় প্রকল্প সংক্রান্ত প্রায় ২৫ লক্ষ আবেদন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জল জীবন মিশনে “কল আছে, জল নেই” পরিস্থিতি আর বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনের নির্দেশিকা মেনে টেন্ডার ও দরপত্র প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    দুর্নীতি হঠাতে কড়া সিদ্ধান্ত

    এবার থেকে রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্য সরকারের কোনও অনুমোদন নিতে হবে না কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। দুর্নীতি হঠাতে কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কার্যত ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হল সিবিআই, ইডি-র মতো তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে শিক্ষা থেকে পুরসভায় নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি সামনে এসেছে। গ্রেফতার হয়েছেন একের পর এক হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি আমলা। কিন্তু বারবার সেই কাজে বাধা দিয়েছে তৎকালীন রাজ্য সরকার।

    কলেজগুলির পরিচালন সমিতি ভেঙে দিল রাজ্য সরকার

    রাজ্যের সব সরকারী এবং সরকারী সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলি পরিচালন সমিতি ভেঙে দিয়েছে রাজ্য সরকার। উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে গতকাল এই মর্মে নির্দেশিকা জারি হয়েছে। নতুন সরকার, অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্নিয়োগ ও চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। সেই অনুযায়ী কলেজগুলির পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত। এরফলে পরিচালন সমিতির সভাপতি ও অন্যান্য মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ বাতিল হয়ে গেল। উল্লেখ্য, গত এক দশকে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে পরিচালন সমিতিতে শাসক দলের নেতাদের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠছিল। স্বচ্ছতা ফেরাতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে।

    রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য নির্দেশিকা

    আসি যাই মাইনে পাই কালচারে ইতি! রাজ্য সরকারি কর্মীদের (Government Employees) জন্য কড়াকড়ি শুরু করল রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। মমতা জমানার অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যের কর্মসংস্কৃতিতে আমূল বদল আনতে চলছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মীদের জন্য জারি হয়েছে কড়া নির্দেশিকা। এবার থেকে সরকারি কর্মীদের প্রত্যেক কাজের দিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে অবশ্যই অফিসে উপস্থিত হতে হবে। ছুটির সময় নিয়েও কড়াকড়ি। বলা হয়েছে কাজ শেষ করে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে কোনও অবস্থাতেই অফিস ছাড়া যাবে না। ক্ষমতায় এসেই সরকারি পরিষেবাকে গতিশীল করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। এতদিন সরকার চলেছে দলের নির্দেশে, কিন্তু এবার থেকে মানুষের প্রয়োজনে চলবে সরকার।

  • Suvendu Adhikari: বিজয় শোভাযাত্রা শুভেন্দুর, রাস্তার ধারে জনতার ঢল! ভবানীপুর রাখলেন নন্দীগ্রাম ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: বিজয় শোভাযাত্রা শুভেন্দুর, রাস্তার ধারে জনতার ঢল! ভবানীপুর রাখলেন নন্দীগ্রাম ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ছাড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান শুভেন্দু। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই বুধবার শপথ নিলেন তিনি। বিকেলে ভবানীপুরেই রোড শো করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে দেখার জন্য রাস্তার দু’ধারে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ভবানীপুরের রাস্তায় পুষ্পবৃষ্টিতে তাঁকে স্বাগত জানান সাধারণ জনতা। বুধবার বিকেলে চেতলা লক গেট এলাকা থেকে শুরু হয় শুভেন্দুর বিজয় শোভাযাত্রা। শেষ হয় হাজরা মোড়ে। ভবানীপুরের ৭৩, ৭৪ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড প্রদক্ষিণ করেন তিনি।

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচন নন্দীগ্রামে

    এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে রাজনৈতিকভাবে বড় চমক দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক পদে ফেরেন মমতা এবং তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার পুরোনো আসন ভবানীপুর থেকেও লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ নেন শুভেন্দু এবং দুই কেন্দ্রেই জয়লাভ করেন। এবারে নন্দীগ্রামে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূলের পবিত্র কর। শুভেন্দু ভবানীপুর আসন ছেড়ে দেওয়ায় ওই আসনে আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে।

    ভবানীপুরে ভোটারদের ধন্যবাদ শুভেন্দুর

    ভবানীপুর জয়ের পরে এ বার সেখানকার ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে রোড শো-ও করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে সুসজ্জিত গাড়িতে করে রোড শো করেন তিনি। এ বারের নির্বাচনে শুরুর থেকেই গোটা রাজ্যের নজর ছিল ভবানীপুরে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন শুভেন্দু। জয়ের বিষয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। শেষে ১৫,১০৫ ভোটে মমতাকে পরাস্ত করে শেষ হাসি হাসেন শুভেন্দুই। বিজেপি সূত্রে খবর, ভবানীপুরে জয়ের পরই এই রোড শো করার কথা স্থির করে ফেলেছিলেন শুভেন্দু।

    কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমালেন শুভেন্দু

    এদিন শপথ গ্রহণের আগেই বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পথ অনুসরণ করে নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, এদিন বিধানসভায় বিধায়ক পদে শপথ নিতে বিজেপি বিধায়কদের অনেকেই বাসে করে আসেন। ভবিষ্যতে মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এর আগে বুধবার সকালে বিধানসভায় গিয়েছিলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ আগেই হয়ে গিয়েছিল। বুধবার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে বিধায়ক পদে শপথবাক্য পাঠ করান। প্রথামাফিক মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভা চত্বরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। বিআর অম্বেডকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন শুভেন্দু। তার পর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ঘরে যান তিনি। সেখানে পুজো দেন। শুভেন্দুর পর শপথ নেন রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরা। তার পর অন্য বিধায়কদের শপথগ্রহণ শুরু হয়।

     

     

     

     

LinkedIn
Share