Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

suvendu Adhikari and tapos roy news suvendu sets a condition for shobhandeb regarding the issue of displaced party workers anyone whose name appears on the list of accused persons involved in the post-2021 election violence will inevitably face imprisonment; a stern warning issued

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবগঠিত বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কক্ষ। ভোট-পরবর্তী অশান্তি এবং কর্মীদের ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে যদি কোনও তৃণমূল নেতা ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা মামালায় অভিযুক্ত হন তাহলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেমে। পালটা যুক্তিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ওপর দিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করেই তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। ‘হাড়গোড় ভাঙা নয়”, রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই ভাবে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূলকে মনে করিয়েদিলেন দুর্বিষহ সন্ত্রাসের কথা।

বিরোধী দলনেতার অভিযোগ ও উদ্বেগ (Suvendu Adhikari)

স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্র বসুর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পর অধিবেশন শুরু হতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। ভয় নয়, ভরসা বিজেপির এই স্লোগান অর্থহীন, সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু তৃণমূল কর্মী বর্তমানে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত। এই ঘরছাড়া কর্মীরা নিরাপদে নিজ নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন সেই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যয় ও শর্তসাপেক্ষ আশ্বাস

বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রেখে জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘‘কোনও ব্যক্তি যদি প্রকৃতই ঘরছাড়া হয়ে থাকেন, তবে বিরোধী দলনেতা যেন সেই তালিকা ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP)-কে প্রদান করেন। কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি ঘরছাড়া থাকলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার সসম্মানে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে দেবেন। তবে একটি শর্তও রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী কোনও অপরাধমূলক অভিযোগ না থাকে। যদি কোনও অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই আইনের সম্মুখীন হতে হবে। জেলে যেতে হবে।”

‘‘সদনে দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না’’

বিধানসভার প্রথম দিনের অধিবেশনে তৃণমূলের অপকর্মের আয়না দেখালেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। তিনি বলেন, “তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে এতদিনে ১৫০ জন বিজেপি কর্মী খুন হতেন। এটা শুধুমাত্র সরকার গড়ার আর নির্বাচিত হয়ে আসার নির্বাচন ছিল না। এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। আর সেই ধর্মযুদ্ধে যাঁরা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই।” এই প্রসঙ্গে তাপস রায় নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে বলেন, “স্যার, একটা জিনিস করতে হবে। এই সদনে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না। আইন করে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বিল এনে।”

“পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত, পাপমুক্ত, ভয়মুক্ত হয়েছে”

২০২৬ সালের বিধান সভা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ভয়মুক্ত হয়েছে।” ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। গতকাল আদালতে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তাপস রায় বলেন, “গতকাল কেউ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। কারও নাম করিনি। সে বলেছিল, হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলব, সে যেন এবার বেরোয়। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ ও তৃণমূলই করবে।”

‘‘বেহায়া না হলে…ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে’’

বিধানসভায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তাপস রায় (Tapas Roy) তৃণমূলকে নির্লজ্জ এবং বেহায়া বলেছেন। যারা ক্ষমতায় আসার আগে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় তাঁদের মুখে এই কথা কি শোভা পায়। তাপস রায় বলেন, “নির্লজ্জ, বেহায়া না হলে আজকে ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে। এর আগে একটাও রক্তপাতহীন, লাশহীন নির্বাচন হয়েছে? রক্তের উপর দিয়ে ভি সাইন দেখিয়েছে। স্যার, আজকে দেড়শোর উপর লাশ আপনাকে গুনতে হত বিজেপির। যদি এরা ক্ষমতায় ফিরে আসত। বাড়ি জ্বালিয়ে দিত। আর লক্ষ লক্ষ বিজেপি কর্মী সমর্থক বাড়িছাড়া থাকত। আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, আমার নাম থাকে, আমাকে জেলে পাঠাবেন।’’

‘‘অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না’’

উল্লেখ্য একসময় তৃণমূলে ছিলেন তাপস রায়। একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি দলের চরম দুর্নীতি এবং তোষণনীতির কারণে বিজেপিতে যোগদান করেন। এদিকে, ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওসদ সিদ্দিকি বলেন, ‘‘আজ তাপস রায় যা বলেছেন, তা খুব একটা ফেলে দেওয়ার নয়। ২০২১ সালে ভোটের জেতার পর, ৬ মাস এমন দিন পার করেছি, যখন ভেবেছিলাম, আমি ইস্তফা দিয়ে দিই, যাতে আমার ছেলেগুলোর উপর অত্যাচার বন্ধ হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধায়ককের বলতেই দেওয়া হয়নি।’’

পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান নওশাদ। তাঁর কথায়, “অতীতে আমাদের বক্তব্য শাসকদলের অপছন্দ হওয়ায় অনেক সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হত। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না। সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমাদের যে দাবিগুলি রয়েছে, সেগুলি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। আমরাও অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না।”

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share