Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • Paschimbanga Divas: ইতিহাস ‘সংশোধনের’ বার্তা! পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

    Paschimbanga Divas: ইতিহাস ‘সংশোধনের’ বার্তা! পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস (Paschimbanga Divas)। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর মহাসাড়ম্বরে পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। ২০ জুন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে একাধিক সরকারি অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজে বিশেষ কর্মসূচি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) অবদান নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই আবহেই পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্বতন সরকার ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাস এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়নি।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর অবদান

    বিজেপি সরকারে আসার পরেই ২০ জুন নিয়ে যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নয়। বরং বঙ্গ বিজেপি বরাবরই ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করার উপর জোর দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে টানাপোড়েনও চলে আসছিল। তৃণমূল পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য দিবস হিসেবে পালন করে। আর অন্যদিকে, বিজেপির যুক্ত হল, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় (বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি) বাংলা ভাগের পক্ষে ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই দিনই বাংলা ভাগ হয়ে জন্ম হয় পশ্চিমবঙ্গের। এই অংশ জুড়ে যায় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। অন্যদিকে, পূর্ববঙ্গ জুড়ে যায় পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দাবি, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ নামের কোনো রাজ্যের অস্তিত্বই থাকত না।”

    বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের সময়

    একই দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা দেন। তিনি বলেন, বাংলা দেশের সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞানচর্চা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাগেরও ঘোষণা করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু বাংলার হিন্দু-প্রধান অংশের কাছে সুযোগ ছিল ভারতে জুড়ে যাওয়ার। এরজন্য তৎকালীন বঙ্গীয় আইনসভার ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ভোটেই ঠিক হয়, বাংলা ভাগ হয়ে জুড়বে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। বিজেপির দাবি, ওই দিন বাংলা ভাগ না হলে, পশ্চিমবঙ্গ তৈরিই হত না। আর এই প্রদেশ জুড়ে যেত বাংলাদেশের সঙ্গে।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা

    এদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “এবার আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। মানুষ প্রকৃত ইতিহাস জানতে চাইছে।” মন্ত্রী আরও দাবি করেন, দেশভাগের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা না থাকলে পশ্চিমবঙ্গের বৃহৎ অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে পারত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তি প্রসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার উল্লেখ করেন।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ

    রাজ্য সরকারের নির্দেশে ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময় রাজ্যজুড়ে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশভাগের সময়কার ভূমিকা নিয়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে চর্চার মাধ্যমে বিজেপি সরকার বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বয়ানে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চাইছে।

    স্বাধীন মতপ্রকাশের পীঠস্থান

    অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তৎকালীন রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং অনমনীয় মনোভাব যদি সেই সময় না থাকত, তবে আজ হয়তো ভারতের মানচিত্রটাই অন্যরকম হত। আজ বাঙালি হিন্দুরা যে নিজেদের রাজ্যে স্বাধীনভাবে বাস করতে পারছেন, তার কৃতিত্ব যে এই মানুষটিরই প্রাপ্য। একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও মন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তিনিও প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেন যে, দেশভাগের সেই অত্যন্ত জটিল ও অগ্নিগর্ভ সময়ে কলকাতাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার পিছনে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অন্যতম কনিষ্ঠতম প্রাক্তন উপাচার্য ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এক বিরাট ও অনস্বীকার্য ভূমিকা ছিল। ইতিহাসের সেই পাতাগুলি আজ নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের এই পবিত্র পীঠস্থানে কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হবে না। বরং তিনি চান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, তাঁর আদর্শ এবং বাংলার জন্য তাঁর অবদান নিয়ে ডানপন্থী, বামপন্থী কিংবা অন্য যে কোনও রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের মধ্যেই পক্ষে-বিপক্ষে স্বাধীনভাবে আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিতর্ক এবং আলোচনার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য মানুষের সামনে বেরিয়ে আসবে।

  • Infiltration in West Bengal: এসআইআর ও প্রশাসনিক কড়াকড়িতে থমকে অবৈধ অনুপ্রবেশের চক্র! বছরে ৯০০ কোটির ‘ধুর পারাপার’ ব্যবসা কার্যত বন্ধ

    Infiltration in West Bengal: এসআইআর ও প্রশাসনিক কড়াকড়িতে থমকে অবৈধ অনুপ্রবেশের চক্র! বছরে ৯০০ কোটির ‘ধুর পারাপার’ ব্যবসা কার্যত বন্ধ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ অনুপ্রবেশের বিশাল চক্র কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে  এই চক্র একেবারেই কাজ করতে পারছে না। সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় এই নেটওয়ার্কের কার্যপদ্ধতি এবং তার আর্থিক বিস্তার পুরোপুরিভাবে ব্যহত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা থেকে শুরু করে সুন্দরবন পর্যন্ত সোনাই ও ইছামতী নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে ছিল অসংখ্য ‘ঘাট’, যেগুলির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করানো হতো মানুষকে। স্থানীয় ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হতো ‘ধুর পারাপার’। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই কাজ এখন প্রায় বন্ধ।

    কীভাবে চলত অনুপ্রবেশের চক্র?

    সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের দিকের দালালরা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গতিবিধি নজরে রেখে অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তের কাছে জড়ো করত। অন্যদিকে ভারতের অংশে থাকা ‘লাইনম্যান’রা ধান ও পাটখেতের আড়ালে থেকে বিএসএফের টহল পর্যবেক্ষণ করত। নিরাপদ সংকেত মিললেই ‘ঘাট পার্টি’ অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত পার করিয়ে আনত। যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হতো সীমান্তের দুই দেশের সিম কার্ড। আর্থিক লেনদেন চলত মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অ্যাপ বিকাশ (bKash)-এর মাধ্যমে।

    বছরে ৮০০-৯০০ কোটি টাকার কারবার!

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে ভারতে প্রবেশের জন্য প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি টাকা দিতে হতো। এর মধ্যে ভারতীয় দালালদের ভাগে আসত প্রায় ৩ হাজার টাকা, যা বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। অনুপ্রবেশকারীদের পরে শিয়ালদহ বা হাওড়ার মতো বড় পরিবহণ কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল গাইডদের ওপর। শুধু হাকিমপুর সীমান্ত এলাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ জনের অবৈধ প্রবেশ ঘটত বলে দাবি করা হয়েছে। এক একটি ঘাট থেকে মাসে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা আয় হতো। হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১,০০০টি ঐতিহাসিক পারাপার-পয়েন্টকে কেন্দ্র করে এই অবৈধ ব্যবসার মাসিক আয় ছিল ৭০-৮০ কোটি টাকা। বার্ষিক হিসেবে যার পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা।

    জাল নথি তৈরির অভিযোগ

    এই চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়া। কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও ব্লকস্তরের কর্মীরা ভুয়ো জন্মসনদ, ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড তৈরিতে সহায়তা করতেন। স্বরূপনগরের এক প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে এমনই এক জালিয়াতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নকল জন্মসনদকে পুরনো দেখানোর জন্য বিশেষ কৌশলে কাগজে দাগ তৈরি করে এবং চালের বস্তার মধ্যে রেখে কৃত্রিমভাবে ‘পুরনো’ করে তুলেছিলেন। ফলে নথিটি প্রথমদিকে যাচাই প্রক্রিয়াতেও ধরা পড়েনি।

    কড়া নজরদারিতে ভেঙে পড়েছে চক্র?

    ভোটার তালিকা সংশোধন, নথি যাচাই এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় এই সিন্ডিকেট এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সীমান্তের একাধিক চেকপোস্টে আত্মসমর্পণের ঘটনাও বেড়েছে বলে। পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার “ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট” (শনাক্তকরণ, বাতিল ও বহিষ্কার) নীতি গ্রহণ করে একটি কঠোর অভিযান শুরু করেছে। এই উদ্যোগের ফলে উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদার মতো জেলাগুলোতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এবং অনেক অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে যেতে শুরু করেছে।

    রাজ্য সরকারের নতুন পদক্ষেপ

    রাজ্যে পালাবদলের পরে অনুপ্রবেশ রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের তরফে বিএসএফ-কে ১৪২.৭৯ একর জমি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

    • সরাসরি বিএসএফের হাতে হস্তান্তর: আটক অবৈধ বাংলাদেশিদের আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশকে (RPF) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • হোল্ডিং সেন্টার: অবৈধ বিদেশিদের যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়ার আগে রাখার জন্য বিভিন্ন জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” বা আটককেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
    • সীমান্ত কাঁটাতার: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অনুপ্রবেশ চক্র রুখতে রাজ্য সরকার বিএসএফের হাতে দ্রুত জমি হস্তান্তর করছে।  ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ- এর যতটা জমি প্রয়োজন, ততটাই স্থানান্তর করা হবে, বলে জানিয়েছে শুভেন্দু সরকার। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্তের সুরক্ষার্থে তৎপর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। এর আগে বহুবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর মুখে পূর্বের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, অভিযোগ শোনা গিয়েছে সীমান্তে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে।
    • সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা: সীমান্ত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাসাম্প্রতিক অভিযানে হাজার হাজার সন্দেহভাজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কোচবিহারের কুচলিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তে বিএসএফের সতর্ক নজরদারির কারণে একাধিক বড় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

  • Jahangir Khan Wife Arrested: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই বড় পদক্ষেপ, ফলতা-কাণ্ডে পাকড়াও জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

    Jahangir Khan Wife Arrested: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই বড় পদক্ষেপ, ফলতা-কাণ্ডে পাকড়াও জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় থানায় হামলা ও ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-কে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতি করল পুলিশ। শনিবার সকালে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী সারিনা বিবি ওরফে রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে ফলতা থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, থানায় হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত করার ঘটনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে রেজিনা এলাকা ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পালানোর জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থাও করেছিলেন। সেই খবরের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    জাহাঙ্গিরকে ছাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত?

    তদন্তকারীদের দাবি, গত মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া জাহাঙ্গির খানকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় নিয়ে গিয়ে তদন্ত চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে তৃণমূল নেতার মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভে সামিল হন। পুলিশের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। বরং জাহাঙ্গিরকে থানার হেফাজত থেকে ছিনিয়ে আনার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগের দিন এলাকায় একটি বৈঠক করেন রেজিনা বিবি। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, জাহাঙ্গিরের সমর্থকরা থানার কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হবেন এবং সুযোগ বুঝে একযোগে থানার উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে মুক্ত করার চেষ্টা করবেন।

    বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষ: নেতৃত্বে রেজিনা বিবি

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ফলতার শতল কলসা এলাকায় বেআইনি জমায়েতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষের সময় এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বহু বিক্ষোভকারী পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ রক্ষা পেতে নিকটবর্তী পুকুরে ঝাঁপ দেন বলেও জানা যায়। ঘটনার দিনই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা এবং হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে অন্তত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন রেজিনা বিবি। তিনি এলাকার বাসিন্দা এবং বহিরাগতদের উস্কানি দিয়ে বেআইনিভাবে জমায়েত সংগঠিত করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর জোরদার অভিযান

    এই ঘটনার পর বুধবার ফলতায় এক জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া চলবে না। গুন্ডামি, সন্ত্রাস বা জঙ্গিপনার মতো কার্যকলাপ সরকার বরদাস্ত করবে না বলেও তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন, থানায় হামলার ঘটনায় যাঁদের ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। তাঁর এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনের আওতায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়।

    দেশদ্রোহ-সহ একাধিক ধারায় মামলা

    ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গির খান-সহ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে। তার মধ্যে দেশদ্রোহ-সংক্রান্ত ধারাও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। শুক্রবার পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শনিবার রেজিনা বিবির গ্রেফতারের মাধ্যমে তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল বলে মনে করছে প্রশাসন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, থানায় হামলার ঘটনায় আর কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এর নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না। ফলতা-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা যেমন তীব্র হয়েছে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টিও এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

  • Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টিভেজা শুক্রের সকাল থেকেই শুরু হল ৩ দিন ব্যাপী যোগ দিবসের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। এদিন কলকাতা পুরসভা থেকে ‘দৌড় সে ধ্যান’ ম্যারাথনের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাইটার্স বিল্ডিং পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পথে অনুষ্ঠিত হল এই ম্যারাথন। হাঁটালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আয়ুশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী, রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সহ অন্যরা। দৌড় শেষে হল প্রাণায়ম। যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগচর্চার সূচনা হয়েছিল, তাকে তার যথাযথ মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।

    কী কী চমক যোগ দিবস উপলক্ষে?

    এদিন প্রাণায়াম শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যোগ দিবস পালন শুরু হয়ে গেল। ২ কিলোমিটার ম্যারাথন শুধু কলকাতায় নয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হচ্ছে। নৌকায় যোগা, ড্রোন শো সহ একাধিক চমক রয়েছে। কলকাতা পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডে নানাবিধ অনুষ্ঠান হবে।” শুক্রবার শহরের ১১টি জায়গায় ম্যারাথন হয়েছে। ২০ তারিখ হবে যোগ কার্নিভ্যাল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যোগ দিবস পালন সারা পৃথিবীতে একটি সমাদৃত ও সময়োপযোগী কার্যক্রম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বিশ্বের ১৭৫টির বেশি দেশ যোগ দিবস পালনের মাহাত্ম্যকে গ্রহণ করেছে।

    যোগদিবসে বিশেষ ড্রোন শো

    শনিবার, ২০ জুন মূলত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ ও পালিত হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় সাড়ে পাঁচটার পরে গঙ্গাবক্ষে একটি অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে যোগব্যায়ামের বিষয়ে একটি দৃশ্যের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার আকাশে উড়বে ৩ হাজার ড্রোন। মিলেনিয়াম পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট থেকে এই ড্রোন শো দেখা যাবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলকাতার ৪৫টা আলাদা জায়গায় এলসিডি স্ক্রিন লাগানো হচ্ছে। যেখানে যোগ দিবসের সমস্ত অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হবে। ড্রোন শো-ও রয়েছে সেই তালিকায়।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ

    আগামী রবিবার, ২১ জুন বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেড রোডে যোগাসন করবেন ৩৫ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। মূল মঞ্চের সামনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কলকাতা পুর এলাকা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ মানুষ এই যোগ উৎসবে যোগ দেবেন বলে আশা করছে প্রশাসন। গোটা রাজ্যে ১০ লক্ষ মানুষ যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করবেন, বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। ৪৫ মিনিট যোগাসন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন রেড রোডে হবে যোগ প্রদর্শনী। ২১ তারিখ শহরের মোট ৪২টি পার্কে যোগাসন করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

    কেন রেড রোডে অনুষ্ঠান

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিটি হবে কলকাতার রেড রোডে। বর্ষাকাল এবং শহরের বিভিন্ন মাঠের কর্দমাক্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।  ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২১ জুন রেড রোডেই অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ফলে রাজপথে আপাতত এই অনুষ্ঠানে কোনও বাধা রইল না। রেড রোড বন্ধ রাখার সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলা হয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। কোনও ধরনের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত। তবে জনস্বার্থে পুলিশকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ওই দিন নিটের পরীক্ষা রয়েছে। যোগ দিবসের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা পড়তে হবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কারণ যোগ দিবসের পুরো অনুষ্ঠান সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগের সূচনা হয়েছিল, তাকে আবার তার পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

    নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত

    ২১ জুন রেড রোডের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। এর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থাকবেন। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিন ধরেই জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। কর্মসূচি ঘিরে রেড রোডে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং বৃহৎ পরিসরে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    যোগে নজির গড়বে রাজ্য

    রাজ্য প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই এই যোগ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদ্‌যাপনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের আশা, তিন দিনের এই কর্মসূচি এবং বিশেষ করে ২১ জুনের মূল কর্মসূচি সফল হলে যোগ দিবস উদ্‌যাপনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একটি নতুন আন্তর্জাতিক নজির গড়তে সক্ষম হবে।  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এই প্রথম ১২তম যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি ভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গ এই অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই কার্যক্রম সফল হবে।’

  • Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতিদমন থেকে অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন, বেআইনি দখল উচ্ছেদ থেকে নারী নিরাপত্তা— রাজ্যে নতুন সরকারের গত দেড় মাসের প্রায় প্রতিটি উদ্যোগই মানুষের স্বার্থে। নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের সূচনায় এমনই দাবি করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি (Governor R N Ravi)। রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হল বৃহস্পতিবার। রীতি মেনে অধিবেশনে প্রারম্ভিক ভাষণ পাঠ করলেন রাজ্যপাল। তাঁর ৩৬ মিনিটের ভাষণে বার বার প্রতিধ্বনিত হল ভয় কাটিয়ে ভরসায় ফেরার বার্তা।

    উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে রাজ্য

    বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রারম্ভিক ভাষণের শুরুতেই আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ দিবস (২০ জুন)-এর জন্য রাজ্যবাসীকে আগাম শুভেচ্ছা জানান রাজ্যপাল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গত দেড় দশকে এই প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গবাসী নতুন সরকারের পক্ষে স্পষ্ট জনমত দিয়েছে। রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভয় এবং হতাশার যে বাতাবরণ ছিল, তাকে স্পষ্ট ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রাজ্যবাসী।” রাজ্যের নতুন সরকার ইতিমধ্যে যে উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে, সে কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। ভাষণে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন করবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ এবং দায়িত্বের বিষয়ে আমার সরকার অবগত।” তিনি আশ্বস্ত করেন রাজ্যে সকলের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করবে নতুন সরকার। রাজ্যের প্রত্যেক সাধারণ মানুষ যাতে সম্মানের সঙ্গে স্বাধীন ভাবে দৈনন্দিন জীবন কাটাতে পারেন, তা-ও নতুন সরকার নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদী তিনি।

    আইনের শাসন ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য

    রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে স্পষ্ট জানান, নতুন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্য থেকে সিন্ডিকেট সংস্কৃতি, তোলবাজি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা। রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার বেশ কিছু অংশে জনবিন্যাসের পরিবর্তন (Demographic Changes) একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    নারী নির্যাতনে ‘জিরো টলারেন্স’

    নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল রবি মানব পাচার ও অপরাধমূলক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ভাষণে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে রাজ্যপাল অভিযোগ করেন, আগের জমানায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানিয়েও ন্যায়বিচার পাননি। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়নকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে থমকে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রাজ্যের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই সমস্ত থমকে থাকা মেট্রো ও পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

    রাজ্যে নয়া শিল্প সম্ভাবনা

    রাজ্যে আগামিদিনে শিল্প সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। জানান, নতুন সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে। সিঙ্গুরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তুলে ধরেন জলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বন্দর উন্নয়নে নতুন সরকারের উদ্যোগের কথাও। অতীতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির দিকে পরোক্ষ ইঙ্গিত করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এবার থেকে সরকারি শূন্যপদগুলিতে স্বচ্ছ ও ত্রুটিহীন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করা হবে।

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: ফলতাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ফলতাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কেউ যদি মনে করেন আইন হাতে তুলে নেবেন, তা হবে না। ফলতাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় (Falta Assembly) তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে হওয়া নজিরবিহীন হিংসার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কঠোর বার্তা, কোনও গুন্ডামি, জঙ্গিপনা চলতে দেওয়া হবে না।

    রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশ

    মঙ্গলবার ফলতার ধৃত তৃণমূল নেতা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান এক দল লোকজন। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে তাঁরা থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তবে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার ফলতায় জলকল্যাণ শিবিরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেখান থেকেই তিনি মঙ্গলবারের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘টিভিতে দেখলাম এখানে কিছু লোক এক জন মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ এবং আধাসেনাকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল।’’ এই ধরনের গুন্ডামি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি। তার পরই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘‘এসপি-কে বলে গেলাম, ভিডিয়োতে যত জনকে দেখা গিয়েছে, কেউ যেন বাড়িতে না থাকে। তাঁদের সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’’ শুধু তা-ই নয়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (বিএনএস) রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য

    ফলতাবাসীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, যত বড় মাফিয়া বা ডন হোক না কেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার তাদের সবক শেখানোর কাজ করবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।’’ এই সরকার কাউকে ছাড়বে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা হামলা করেছেন, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে চড়ানো হবে। এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যাতে কোনও দিন কোনও পুলিশ, সরকারি কর্মী এবং আধাসেনাকে আক্রমণ করতে না পারেন।’’ বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ফলতায় হওয়া একাধিক আর্থিক দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,‘‘গত আমফান ঘূর্ণিঝড়ের সময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি বাড়ির মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাও এরা চুরি করেছে। চোরদের সেই সম্পূর্ণ তালিকা আমার হাতে চলে এসেছে, খুব শীঘ্রই তার আইনি ব্যবস্থা হবে।’’ এখানেই শেষ নয়, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি অভিযোগ করেন যে, এই প্রকল্পের নামে ৬০ হাজার টাকা করে প্রায় ৮,০০০ ইউনিটের টাকা কারা তুলে নিজেদের পকেটে পুরেছেন, তা ফলতার সব মানুষ ভাল করেই জানেন। নতুন সরকার এই সমস্ত টাকা চুরির হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

  • State Budget: বাজেটের আগে দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, বাড়ছে ‘চমক’ জল্পনা!

    State Budget: বাজেটের আগে দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, বাড়ছে ‘চমক’ জল্পনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এই প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি সরকার। ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ পেশ (State Budget) করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সরকার। এই নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়ে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন ‘মেলা-খেলা’র মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিপুল পরিমাণ জনমত নিয়ে নবান্নের কুর্সিতে বসে ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার (Swapan Dasgupta)।

    পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে শুভেন্দু সরকার (State Budget)

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে এই সরকারই। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার থেকে। ২২ জুন বিধানসভায় বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগে বুধবার সকালে আচমকাই দিল্লি উড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর এই ঝটিকা দিল্লি সফরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

    গুরুত্বপূর্ণ দুই বৈঠক

    সূত্রের খবর, দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। প্রথমে তিনি নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, কেন্দ্রীয় অনুদান এবং আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। পরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গেও বৈঠক করেন স্বপন। রাজ্যের আর্থিক পুনর্গঠন, কেন্দ্রীয় করের বকেয়া অংশ, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অতিরিক্ত আর্থিক সাহায্য এবং নয়া সরকারের জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নয়া সরকারের প্রথম বাজেটে একাধিক বড় চমক থাকবে। সেই মন্তব্যের পর বাজেট ঘোষণার মাত্র কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রীর দিল্লি উড়ে যাওয়া উসকে দিয়েছে জল্পনার আগুন।

    রাজ্যের হাঁড়ির হাল

    চৌত্রিশ বছরের বাম রাজত্ব এবং তার পরের টানা পনেরো বছর তৃণমূল শাসনে রাজ্যের হাঁড়ির হাল হয়েছে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের। তৃণমূল জমানায় পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতি এবং রাজ্যের প্রাক্তন প্রশাসনিক প্রধান মমতার খয়রাতির রাজনীতির জেরে আক্ষরিক অর্থেই মাজা ভেঙে গিয়েছে বঙ্গের অর্থনীতির। একের পর এক নির্বাচনে ভোট ‘কিনতে’ও বিস্তর খরচ হয়েছে বলেও অভিযোগ। আরও অভিযোগ, হরির লুটের বাতাসার মতো করে ‘করে-কম্মে’ খেয়েছেন রাজ্যের তৎকালীন শাসক দলের ছোট-বড়-মাঝারি নেতারা। বস্তুত, তৃণমূলের আমলে রাজ্যের আহামরি কোনও উন্নতি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের ওপর রাজ্যবাসী ছিলেন অসন্তুষ্ট। সেই অসন্তোষের আগুনে ধামা চাপা দিতেই প্রথম দিকে মেলা-খেলায় মেতে যায় সরকার।

    তৃণমূল সরকারের সস্তার রাজনীতি!

    রাজ্যে বড় কোনও শিল্প না হওয়ায়, হাজার হাজার মানুষ ‘জন’ খাটতে পাড়ি দিয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। শাসক দলের মেলা-খেলার রাজনীতির বিরুদ্ধে বিরোধীরা সোচ্চার হতেই, বন্ধ হয়ে যায় সেই ‘কালচার’। শুরু হয় খয়রাতির রাজনীতি। নানা রকম ‘শ্রী’-যুক্ত প্রকল্প চালু করে রাজ্যবাসীর দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয় কর্মসংস্থানের হা-পিত্যেশ দশার দিক থেকে। তাতেও বিশেষ চিড়ে না ভেজায়, শুরু হয় তোষণের রাজনীতি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দেওয়া হতে থাকে হাত উপুড় করে। পায়ের নীচের মাটি আরও আলগা হয়ে যাচ্ছে (State Budget) টের পেয়ে মমতার সরকার চালু করে ক্লাবগুলিকে পুজো উপলক্ষে অনুদান দেওয়ার নয়া প্রথা। তার পরেও অবশ্য শেষ রক্ষে হয়নি। পদ্ম-ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে মমতার সাধের দল তৃণমূল। ওই ঝড়েই উড়ে গিয়ে দলনেত্রী স্বয়ং পড়েছেন কালীঘাটে, আদি গঙ্গার পাড়ে।

    জনমুখী বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি!

    এমতাবস্থায় রাজ্য শাসনের গুরু দায়িত্ব বঙ্গবাসী তুলে দেন বিজেপির হাতে। প্রত্যাশিতভাবেই বিরাট বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রাজ্যের আর্থিক (Swapan Dasgupta) অবস্থা। বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা সামলেও, জনমুখী বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পদ্ম সরকার। তাই বাজেটের আগে কেন্দ্রের শীর্ষ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এদিকে, বুধবার ফলতার এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২২ তারিখ বাজেট আছে। সেখানেও বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে। আরও কিছু নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে।” যদিও এখনই খোলসা করে কিছু জানাতে চাননি (State Budget) তিনি।

    প্রসঙ্গত, রাজ্যের বাজেট অধিবেশন চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। পরে ৬ জুলাই সকাল ১১টায় ফের বিধানসভা বসবে। সেটা বাদল অধিবেশন। তাই জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে বলেই আশা। তাই ২২ জুন, বাজেট ঘোষণার দিন বিজেপির ‘রাম-বাক্স’ থেকে বেরনো (Swapan Dasgupta) সান্টাক্লজ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া রাজ্যবাসীর জন্য কোন কোন উপহার আনেন, এখন তাই দেখার (State Budget)!

     

  • Jan Kalyan Shibir: উপচে পড়া ভিড়, আরও একদিন বাড়ানো হল জনকল্যাণ শিবিরের মেয়াদ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Jan Kalyan Shibir: উপচে পড়া ভিড়, আরও একদিন বাড়ানো হল জনকল্যাণ শিবিরের মেয়াদ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবিরে (Jan Kalyan Shibir) সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তাই শিবিরের মেয়াদ আরও একদিন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার ফলতা থেকে তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এদিনই শিবিরের শেষ দিন ছিল। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবারও রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির চালু থাকবে।

    মেয়াদ বাড়ল জনকল্যাণ শিবিরের (Jan Kalyan Shibir)

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই শিবিরের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা এক জায়গা থেকেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, সরকারের লক্ষ্য হল সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পদ্ধতিতে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অনেক জায়গায় সময়ের অভাবে পর্যাপ্ত শিবির করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ লাইন পড়ছে এবং প্রচুর মানুষ পরিষেবা নিতে শিবিরে ভিড় করছেন। সেই কারণেই শিবিরের মেয়াদ একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শিবিরে ৫৪টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জনকল্যাণ শিবিরে মোট ৫৪টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার তথা সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় এসে দেশের যে কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি (Suvendu Adhikari) জানান, গ্রামীণ এলাকার স্বল্প আয়ের পরিবারগুলি এই প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ১০০ ইউনিটে ৩০ হাজার টাকা, ২০০ ইউনিটে ৬০ হাজার টাকা এবং ৩০০ ইউনিটে ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাবেন। এজন্য জনকল্যাণ শিবিরে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।

    লক্ষ্মীর ভান্ডার পেয়েছে অ-লক্ষ্মীরাও!

    অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ব্লকে প্রায় সাড়ে চার হাজার পুরুষ এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে ১৭৩ জন পুরুষ বেআইনিভাবে ওই প্রকল্পের টাকা তুলেছেন। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং সিআইডি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গত ৩ জুন অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ২৮ লাখ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫ লাখ মহিলা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের তথ্য যাচাই করে পোর্টালে আপলোডও করা হয়েছে (Jan Kalyan Shibir)। আগামী ২২ জুন প্রথম রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ করবে পদ্ম সরকার। সে প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “যুবসমাজ, সরকারি কর্মী, শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী এবং কৃষকদের জন্য একাধিক নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

    ফলতার জন্য বিশেষ ঘোষণা

    এদিকে, ফলতায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ফলতাকে আদর্শ বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে এসইজেডে শিল্পতালুক গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলতা গ্রামীণ হাসপাতালকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। মহিলা কলেজ, দমকল কেন্দ্র তৈরির অনুমোদন, ফলতা থানাকে আরও শক্তিশালী করা এবং মহিলাদের জন্য (Suvendu Adhikari) পৃথক হেল্পডেস্ক চালুর পাশাপাশি অতিরিক্ত মহিলা পুলিশকর্মী নিয়োগের কথাও ঘোষণা করেন (Jan Kalyan Shibir) পদ্ম সরকারের প্রধান শুভেন্দু অধিকারী।

     

  • Suvendu Adhikari: প্রথম পাহাড় সফরেই গুচ্ছের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ, আর কী?

    Suvendu Adhikari: প্রথম পাহাড় সফরেই গুচ্ছের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবারই প্রথম পাহাড় সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এটাই ছিল তাঁর প্রথম দার্জিলিং সফর। কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ যোগ দিয়ে পাহাড়বাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা (Suvendu Adhikari)

    এদিন পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সর্বদলীয় এই অভ্যর্থনায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়বাসী এবার প্রকৃত অর্থেই ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের যে সব প্রকল্প আটকে ছিল, সেগুলি এবার দ্রুত বাস্তবায়িত হবে (Tourism Politics)। রাজনৈতিকভাবে দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং— তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র এবং দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে তাঁর সরকার যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

    উন্নয়নের রোডম্যাপ

    এদিন, পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। জোর দেওয়া হবে পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণেও। তিনি এও জানান, রাজ্যের সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসবেন। ‘জিআরএমজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে পাহাড়ে। যুব সমাজের খেলাধুলোর উন্নয়নের জন্য ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণাও করেন শুভেন্দু। বিদ্যুৎ বিলের সরকারি ভর্তুকি আগের মতোই বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।

    আগের সরকারকে নিশানা

    তৃণমূল পরিচালিত পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের আমলে শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধই ছিল না, জিটিএতেও ব্যাপক নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে।” তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হবে, এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে প্রচুর পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হবে। কার্শিয়ঙের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে পদ্ম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকার পাহাড়কে গুরুত্ব দিত না। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে শুধু পর্যটক হিসেবে আসতেন, উন্নয়নের জন্য কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেননি।” তিনি বলেন, “আমি পর্যটক হয়ে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের মানুষের কাছে সরকারের সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

    শহিদ সেনানীদের অবদান স্মরণ

    এদিনের সভা থেকে দেশ রক্ষায় পাহাড়ের বীর জওয়ান ও শহিদ সেনানীদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “দেশের সঙ্কটের সময় পাহাড়ের মানুষ সবসময় দেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল মনে রাখবে।” প্রসঙ্গত, কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে প্রশাসনের ১৯টি দফতরের বিভিন্ন জনমুখী পরিষেবা নিয়ে বর্তমানে ‘জনকল্যাণ শিবির’ চলছে (Tourism Politics)। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শিবির পরিদর্শন করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। খতিয়ে দেখেন বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার কাজকর্ম (Suvendu Adhikari)।

  • Prasun Mukherjee: কাটতে চলেছে বঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী শিল্পপতির বৈঠকের পর বাড়ছে আশা

    Prasun Mukherjee: কাটতে চলেছে বঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী শিল্পপতির বৈঠকের পর বাড়ছে আশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং শিল্পপতি প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের (Prasun Mukherjee) সৌজন্যমূলক বৈঠক ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা। সোমবার এই বৈঠক হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সম্ভাব্য শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি (Prasun Mukherjee)

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রধান শুভেন্দু শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বহুজাতিক সংস্থা ‘ইউনিভার্সাল সাকসেস এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডে’র  চেয়ারম্যান প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিনিয়োগ ঘোষণার খবর সামনে না এলেও, এই বৈঠককে ঘিরে ভবিষ্যতে বড় শিল্প প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে জানান, প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ অত্যন্ত আনন্দদায়ক ছিল। তিনি নবান্নে এসেছিলেন সৌজন্যমূলক বৈঠক করতে। মুখ্যমন্ত্রীর আশা, ভবিষ্যতে দু’পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রবৃদ্ধি ও কৌশলগত উন্নয়নের নয়া দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

    তিনি এও জানান, এই ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত মহলে প্রসূন-শুভেন্দুর এই বৈঠক নিয়ে চড়ছে আগ্রহের পারদ। এদিকে, রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলেছে। সম্প্রতি গুজরাটের দুগ্ধ সমবায় সংস্থা আমূল হাওড়ার সাঁকরাইলে বড় লগ্নির কথা ঘোষণা করেছে। সেখানে দেশের অন্যতম বৃহৎ দই উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সংস্থাটি উত্তরবঙ্গেও ব্যবসা সম্প্রসারণের রূপরেখা তৈরি করছে (Prasun Mukherjee)।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    এহেন পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাঙালি শিল্পপতি প্রসূনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠককে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য শিল্প সহযোগিতার সূচনা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই (Suvendu Adhikari) বৈঠকের ফলশ্রুতিতে অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যে নয়া বিনিয়োগ, শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের কতটা সুযোগ সৃষ্টি হয়, এখন সেটাই দেখার (Prasun Mukherjee)।

     

LinkedIn
Share