Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এক বড় পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। দীর্ঘ ৮ বছর আগে তৃণমূল জমানায় প্রত্যাহার করে নেওয়া সিবিআই (CBI)-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বা সাধারণ সম্মতি পুনরায় বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। এর ফলে রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার তদন্তের গতি কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে ১৯৪৬ সালের ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ (DSPE) আইনের ৬ নম্বর ধারার অধীনে সিবিআই-কে পুনরায় সাধারণ সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

    সাধারণ সম্মতি বা ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বিষয়টি আসলে কী (CBI)?

    সিবিআই মূলত ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ আইনের অধীনে কা জ করে। যেহেতু পুলিশ এবং আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের আওতাভুক্ত বিষয়, তাই কোনও রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে সিবিআই-এর (CBI) জন্য রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হয়। প্রশাসনিক কাজ সহজ করতে রাজ্যগুলো সাধারণত তদন্ত সংস্থাকে একটি ‘ব্লাঙ্কেট পারমিশন’ বা সাধারণ সম্মতি দিয়ে রাখে। কিন্তু ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ফলে গত কয়েক বছরে নতুন কোনও মামলার তদন্ত শুরু করার আগে সিবিআই-কে প্রতিবার রাজ্য সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হতো অথবা আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। এবার থাকে এই নিয়মের বড় পরিবর্তন সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে সিবিআই পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও প্রান্তে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং (CPSU) এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও পূর্ব অনুমতি ছাড়াই সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে একটি বিশেষ শর্তও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা (CBI) সাধারণ সম্মতি ফিরে পেলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে কর্মরত রাজ্য সরকারি আধিকারিক বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে এখনও রাজ্য সরকারের লিখিত আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে।

    ২০১৮ সালে কেন এই সম্মতি কেড়ে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

    ২০১৮ সালের নভেম্বরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই-এর সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করে অভিযোগ করেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআই (CBI) এবং ইডি-র মতো সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। সারদা চিটফান্ড থেকে শুরু করে কয়লা পাচার, গরু পাচার এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের নাম জড়ানোয় তৎকালীন সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে পর্যবেক্ষকদের মত। এর ফলে তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছিল এবং বহু মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

    প্রশাসনিক সংস্কারে অনড় শুভেন্দু সরকার

    ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তৃণমূল জমানার বিভিন্ন অনিয়ম সংশোধনে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

    • নিয়োগ দুর্নীতি: গত মে মাসেই সরকার শিক্ষক নিয়োগ, পুরসভা নিয়োগ এবং সমবায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিবিআই-কে বিশেষ অনুমোদন দিয়েছিল।
    • ২০১৯-এর হিংসার তদন্ত: ২০১৯ সালে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের নামে রেলের যে ৯৩ কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছিল, তার তদন্তের দায়িত্বও সম্প্রতি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
    • তদন্ত কমিশন: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ১৮ই মে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে দুটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

    রাজ্যে পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ বন্ধ করা এবং দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে ফেলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সিবিআই-এর (CBI) সাধারণ সম্মতি পুনরুদ্ধার সেই পথে আরও একটি ইতিবাচক ধাপ।

  • Digha Jagannath Temple: বদলাল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম, কী হল নতুন নাম?

    Digha Jagannath Temple: বদলাল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম, কী হল নতুন নাম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সনাতন সংস্কৃতিকে অপমান করেছে তৃণমূল সরকার। ধাম শব্দটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্দিরে (Digha Jagannath Temple) সনাতনী সংস্কৃতি মেনেই পুজো হবে।” মঙ্গলবার কথাগুলি বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ‘ধাম’ শব্দের ব্যবহার আঘাত করেছে ওড়িশাবাসী ও জগন্নাথদেবের ভক্তদের। এই মর্মে একটি চিঠি নিয়ে এ দিন ওড়িশার প্রতিনিধি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছিলেন পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র। সেই চিঠি হাতে নিয়েই এমন মন্তব্য করেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু ঘোষণা করেন, এবার থেকে দিঘার এই মন্দিরের নাম হবে শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।  নিয়ম মেনে মন্দিরে প্রতিদিনের পুজো, আরতি ও ভজন-কীর্তন সব আগের মতোই চলবে বলেও জানান তিনি।

    ওড়িশার আপত্তি (Digha Jagannath Temple)

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ২০২৫ সালে ঘটা করে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাট করেছিলেন তৎকালীন রাজ্য সরকারের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্দির না বলে সেটিকে উল্লেখ করা হয় ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে। এরপর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। নাম নিয়ে আপত্তি তোলে ওড়িশার রাজনৈতিক মহল এবং পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েতরা। তাঁদের দাবি ছিল, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পরম্পরা অনুযায়ী ‘জগন্নাথ ধাম’ অভিধাটি একমাত্র প্রযোজ্য পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ক্ষেত্রেই। এই ইস্যুতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়ে চিঠিও পাঠিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত অনুরোধপত্রটি এদিন শুভেন্দুর (Digha Jagannath Temple) হাতে তুলে দেন পুরীর সাংসদ।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    এরপর মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনা করে রাজ্য সরকার দিঘার মন্দিরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মতো ঘোষণাও করা হয়। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দুর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সম্বিত এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। সরকার অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, নাম বদল হলেও মন্দিরের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নিয়মিত পুজোয় কোনও বদল হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ধাম শব্দটি নিয়ে বিতর্ক ছিল। তাই সরানো হয়েছে। দিঘার মন্দির শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এটাই হিডকোর টেন্ডারে রয়েছে। স্থাপত্যটি মন্দির নামেই পরিচিত হবে। সনাতন সংস্কৃতির রীতি নীতি মেনেই দিঘার মন্দিরে পুজোও হবে (Suvendu Adhikari)।” প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ওড়িশা সরকারের দীর্ঘদিনের দাবিকে সম্মান জানিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Digha Jagannath Temple)।

     

  • Suvendu Adhikari: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আমরাই রূপায়ণ করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আমরাই রূপায়ণ করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) আমরাই বাস্তবায়ন করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখাও তুলে ধরেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে ফের সুশাসনের পথে ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। আমরা সামগ্রিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছি। এতদিন রাজ্যের থানাগুলি কার্যত পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল, আর পঞ্চায়েত অফিসগুলি হয়ে উঠেছিল কাটমানি সংগ্রহের কেন্দ্র। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন চলবে, শাসকের আইন নয়।” তিনি জানান, অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে প্রশাসনিক বৈঠক। বৈঠকে ৩৩ জন বিজেপি বিধায়ক, ২ জন বিরোধী দলের বিধায়ক এবং মেদিনীপুর জেলার চার সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক কথা বলেছেন ঘাটালের সাংসদ দেব। আমি স্পষ্ট জানিয়েছি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবার আমরাই রূপায়ণ করব।” মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, ‘‘একজন বিরোধী সাংসদ তো আজ বলেই ফেললেন যে, ‘আপনি আমাদের মন খুলে কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছেন।’ বিরোধীদের যাঁরাই আজকে ছিলেন, তাঁরা সবাই স্রেফ উন্নয়নের কথাই বলেছেন।’’

    বিদ্রোহ চারিদিকে…

    এদিনের বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব। উপস্থিত হয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের তৃণমূল সাংসদ -অভিনেত্রী জুন মালিয়া ও কেশপুরের বিধায়িকা শিউলি সাহা। তবে, রুপোলি পর্দার নায়ক-নায়িকার উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে রাজনীতির কারবারিদের। কারণ, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। পদ্মময় বাংলায় সরকার গড়েছে বিজেপি, যে সরকারের চালকের আসনে রয়েছেন গৈরিক নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘাসফুল পার্টি মুখ থুবড়ে পড়তেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলে। এই বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জিতেছেন ঘাসফুল প্রতীকে। উল্লেখ্য, বাম পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ঋতব্রত যোগ দেন তৃণমূলের। দ্রুত হয়ে ওঠেন মমতার স্নেহভাজন। দলের পাশাপাশি স্বয়ং দলনেত্রী গাড্ডায় পড়তেই ছত্রখান হয়ে গিয়েছেন কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়ার মূল কারিগর মমতার দলের বিধায়করা। বিধায়কদের সিংহভাগই ঋতব্রতর শিবিরে। রাজ্যের পাশাপাশি তৃণমূলের এই বিদ্রোহের আঁচ লেগেছে দিল্লিতেও। সেখানেও জোট বাঁধার সলতে পাকাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রীর হাতে গড়া দলের টিকিটে জয়ী হওয়া সাংসদদের সিংহভাগ। জল্পনা, এই শিবিরেই রয়েছেন দেব। তাঁর গায়ে সেঁটে গিয়েছে ‘বিদ্রোহী’ তকমা। এহেন ‘বিদ্রোহী’ই এদিন হাজির ছিলেন কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনার আবহে আয়োজিত এই বৈঠক ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা।

    কী বললেন দেব

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে বিভিন্ন দলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং (Ghatal MP) মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মিলছে আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত (Suvendu Adhikari)। এদিকে, এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘাটালের সাংসদ তৃণমূলের দেব জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে কাজ শেষ হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই মর্মে তাঁকে কথাও দিয়েছেন। দেব বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মাটি কাটা শুরু হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। কাজটা শুরু হয়েছিল। আমার কোথাও যেন বিশ্বাস, সেই কাজটা শেষ হবে আমাদের এখনকার যিনি মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর হাত ধরে। উনি আমায় কথা দিয়েছেন। সাংসদের থেকে বড় কথা, আমি একজন জনপ্রতিনিধি। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় কষ্ট বন্যা। সেই বন্যার সবচেয়ে বড় সমাধান ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। ২০১৪ সাল থেকে লড়াই চলছিল। ২০২৪ সালে আমি যখন দাঁড়াব না, দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কথা দিয়েছিলেন। কথা দিয়ে কথাও রেখেছেন। অর্থবর্ষে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিল (Suvendu Adhikari)।” তিনি বলেন, “এবারে ম্যানডেটটা একদম অন্য রকম এসেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন (Ghatal MP)। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওঁর সঙ্গে কথা বলেছি। আজ প্রশাসনিক বৈঠকে এসেছি এবং উনি সকলের সামনে বলেছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এই সরকার শেষ করবে, যা শুরু হয়েছিল আগের সরকারের হাত ধরে।”

    ‘সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি’

    নয়া মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে তৃণমূলের এই সাংসদ বলেন, ‘‘আমায় তোমরা সাংসদ হিসেবে দেখছ ২০১৪ সাল থেকে। আমি সারা জীবনই সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি। আজ তো নতুন নয়! আজ লোকে যদি বলে দেব পাল্টে গিয়েছে! দেব পাল্টায়নি। দেব সব সময় একটাই রাজনীতি করেছে, মানুষকে এক রাখার রাজনীতি, মানুষকে ভালোবাসা দেওয়ার রাজনীতি করেছে এবং যিনিই হোন না কেন, যে দলেরই হোন না কেন, আমি সব সময় সম্মান দিয়েছি। আজ পর্যন্ত মঞ্চ থেকে কাউকে আক্রমণ, অপমান করিনি। আমি ভালোবাসার রাজনীতি করে এসেছি। সেই রাজনীতিই আজও করছি। নতুন কিছু নয়। আমায় যখন একজন জয় শ্রীরাম বলেছিল, আমি তাঁকে আলিঙ্গন করেছিলাম। এমন কোনও কাজ করিনি, যাতে দলের নাম খারাপ হয়। আমায় ভোট দিয়ে কারও মনে হয়েছে, ভুল লোককে ভোট দিয়েছি, এমন কাজ করিনি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমায় (Ghatal MP) যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের হকের জন্য লড়াই করছি। আজ একটাই প্রতিশ্রুতি নেওয়ার জন্য এসেছিলাম। শুভেন্দুদা (মুখ্যমন্ত্রী) বলেওছেন, এবারের বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হবে (Suvendu Adhikari)।’’

     

  • Task Force: রাজ্যে রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করল নবান্ন

    Task Force: রাজ্যে রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করল নবান্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে থমকে থাকা ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির কাজে গতি আনতে এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স (Task Force) গঠন করল রাজ্য সরকার। নবগঠিত এই টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান বা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালকে। মুখ্যসচিব ছাড়া এই কমিটিতে আরও ১৯ জন উচ্চপদস্থ সদস্য রয়েছেন। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কলকাতা সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (State Government) রেলের সমস্ত প্রকল্পে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মূলত সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়িত করতেই নবান্নর এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।

    টাস্ক ফোর্সের মূল দায়িত্ব ও কার্যাবলি (Task Force)

    • নিয়মিত পর্যালোচনা: রাজ্যে প্রস্তাবিত ও নির্মাণাধীন রেল প্রকল্পগুলির কাজ কতদূর এগোল, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
    • জটিলতা নিরসন: জমি অধিগ্রহণ, বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা রাস্তা নির্মাণ সংক্রান্ত যেসব সমস্যার কারণে প্রকল্পগুলি থমকে রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
    • সমন্বয় সাধন: রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কাজের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রশাসনিক অনুমতি মেলার প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করা হবে।

    বৈঠকের সময়সূচি

    প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে অন্তত একবার মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে এই টাস্ক ফোর্সের (Task Force) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে মাসে একাধিকবারও বৈঠক হতে পারে। এ ছাড়া, কাজের গতি বজায় রাখতে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ প্রতি সপ্তাহে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নের বৈঠকের পর মুখ্যসচিব (State Government) জানিয়েছিলেন যে, প্রশাসনিক অনুমতির অভাবে রাজ্যে রেলের প্রায় ৭০টি প্রকল্প থমকে ছিল। রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এই টাস্ক ফোর্স (Task Force) গঠনের ফলে সেই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনেকটাই ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে গিয়েছেন ৫০ লক্ষ মহিলা! অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে গিয়েছেন ৫০ লক্ষ মহিলা! অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উপচে পড়েছে অন্নপূর্ণা ভান্ডার। এই যোজনায় (Annapurna Yojana) মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে ঢোকা শুরু হয়ে গিয়েছে। রবিবার পর্যন্ত ৫০ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন, বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। রাজ্যের সব যোগ্য উপভোক্তা এই প্রকল্পে টাকা পাবেন বলেও জানান তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনায় ফর্ম পূরণ আগামী ৩ মাস চলবে। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শুভেন্দু এদিন বলেন, এত দুর্নীতি হয়েছে যে ব্রিগেড ময়দানকে জেল বানাতে হবে।

    সরকারের টাকা জলে ফেলা যায় না

    এদিন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকাল পর্যন্ত ৫০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে এই যোজনায় ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য। ফর্মে প্রথমে সমালোচনা হয়েছিল ২-৩ দিন। পরে সবাই বুঝেছেন, সরকারের টাকা এভাবে জলে ফেলা যায় না।”

    পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা

    এরপরই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “আগের সরকার ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে লক্ষ্মীর ভান্ডার দিত। তার মধ্যে ২৭ লক্ষের নাম ভোটার তালিকায় নেই। কেবল মাত্র সিএএ-তে অ্যাপ্লাই করেছেন, ১ লক্ষ ২১ হাজার এখনও অবধি। ১৯ হাজার সার্টিফিকেট পেয়েছেন। ১ লক্ষ ২ হাজার ,সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন। আমরা তাঁদেরও আমাদের দিক থেকে, কেন্দ্রীয় সরকারকে সাথে নিয়ে ক্লিয়ার করব।”

    পুরুষরাও লক্ষ্মী!

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুনলে অবাক হবেন, ৩ লক্ষ পুরুষ লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ব্লকে সাড়ে ৪ হাজার পুরুষ পাওয়া গিয়েছে। কৃষ্ণনগর ২-র একটা অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছে ২৭৩ জন। ভাবলে অবাক হবেন, বিধবা ভাতাও পুরুষ পেয়েছে। আপনি যেখানেই হাত দেবেন, সেখান থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। এ তো ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে জেল বানাতে হবে।”

    স্বচ্ছতার সঙ্গে ডেটা ব্যাঙ্ক

    শুভেন্দুর কথায়, “কী ভয়ঙ্কর দুর্নীতি। হিসেব করে দেখুন, ৩০ লক্ষের টাকা বছরে কত হাজার কোটি টাকা হয়। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে যা করছি, এর সুফল আগামী ৫০ বছর এই রাজ্যের সরকার পাবে। আমরা ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করে নিয়েছি।” তৃণমূলের শাসনকালে একের পর এক বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। এই নিয়ে এদিন শুভেন্দু বলেন, “আমাদের ৩১৫ জন কর্মী আত্মবলিদান দিয়েছেন। ওই বিজেপি কর্মীদের পরিবারের একজন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। এমাসেই চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।”

    লক্ষ লক্ষ মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা

    অন্নপূর্ণা যোজনা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সুবিধাভোগীরা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের (DBT) মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পাবেন। বুধবার সেই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩০০০ টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। কিন্তু যাদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই ঢোকেনি, তারা আগামী ৭ দিনে এই টাকা পাবেন, বলে খবর।

    অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের স্ট্যাটাস চেক

    অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কত টাকা ঢুকবে তা জানতে স্ট্যাটাস চেক করতে https://www.govtschemes.in/west-bengal-annapurna-bhandar-scheme এই লিঙ্কে ক্লিক করে নিজের রাজ্য (State) বেছে নিন। স্ক্রল করে Annapurna Bhandar Scheme Official Portal Link অপশনে ক্লিক করুন। https://socialsecurity.wb.gov.in/login পেজটি আসবে। এবার Track Application Status-এ ক্লিক করুন। নিজের নাম নথিভুক্ত আছে কিনা এবং জুন মাসে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে কিনা উভয়ই এখান থেকে চেক করা যাবে। Track Application Status-এ ক্লিক করলে Search Using অপশন পাবেন। এখানে Select-এ নিজেদের ফোন নম্বর বা আধার নম্বর কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের যে কোনও একটি অপশনে ক্লিক করবেন। এরপর Enter Value-তে সেই নম্বরটি দেবেন। এরপর ক্যাপচা সঠিকভাবে দিয়ে Search করুন। এতেই বুঝতে পারবেন নিজের অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস, এমনকি কত টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে সেটাও।

    অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও চেক

    অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও চেক করতে পারবেন এই যোজনার স্ট্যাটাস। এক্ষেত্রে আপনাকে বা পরিবারের কাউকে স্থানীয় ব্লক অফিস বা পুরসভা অফিসে গিয়ে আবেদন গ্রহণের রসিদ দেখিয়ে তথ্য জেনে নিতে হবে। এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য হতে আবেদনকারীদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারী অবশ্যই মহিলা হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বয়স অবশ্যই ২৫-৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আয়করদাতা হওয়া যাবে না। স্থায়ী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী অথবা রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার, পঞ্চায়েত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা, পৌরসভা বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন বা পেনশন গ্রহণকারী হওয়া যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের কোনও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা অশিক্ষক পদে নিযুক্ত থাকা যাবে না। অন্নপূর্ণা ভান্ডার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, বাসস্থানের প্রমাণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট/পাসবুক, পাসপোর্ট আকারের ছবি। নির্বিঘ্নে পেমেন্ট পাওয়ার জন্য আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় এবং আপডেট রাখাও জরুরি।

     

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও কত, জানালেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও কত, জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া রাজ্য সরকার। নতুন সরকার তৈরির পর থেকে ইতিমধ্যেই ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে (Illegal Immigrants) বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে সদ্য তৈরি হোল্ডিং সেন্টার থেকে এখন আরও ৮৩৬ জনকে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর তোরজোড় চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মতে রাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে সরকার চিন্তিত। যেভাবেই হোক এই সমস্যা দূর করতে বদ্ধ পরিকর তাঁরা। শুভেন্দু জানিয়েছেন, যেই সব মানুষ সিএএ-এর আওতায় আসেন না, তাঁদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। তাদের বাংলাদেশ পাঠানো হবে।

    সামান্তে কাঁটাতার

    সরকার গঠনের পরই ইতিমধ্যে সীমান্তের ১০০ কিমিতে কাঁটাতার বসানোর জমি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ৫৫৬ কিমির মধ্যে ১০০ কিমি জমি দেওয়া হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে সবটাই দেওয়া হবে। শুভেন্দুর মতে, সারা দেশে আইন মানা হয়। কিন্তু আগের তৃণমূল সরকার রাজ্যে আইন মেনে চলত না। তাই তাঁর সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বের করতে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়,‘‘৪৮০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে সীমান্তের জেলাগুলির হোল্ডিং ক্যাম্প থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত নিয়ম মেনে ঢাকায় পাঠানো হবে।’’ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারতের সব রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বাংলাদেশের সবথেকে লম্বা বর্ডার রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ২,২১৭ কিমি বাংলাদেশ বর্ডার। আর এই বিরাট সীমান্তের মধ্যে অনেক জায়গাতেই কাঁটাতার নেই। সেখান থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশ হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    উত্তরবঙ্গের চিকেন নেক করিডরই প্রায়োরিটি

    শুভেন্দু জানান, বিএসএফ-কে জমি দেওয়া খুবই জরুরি। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই জমি দিতে হবে। এটাই তাঁর নতুন সরকারের অগ্রাধিকার বলে দাবি করেছেন তিনি। বিজেপির স্পেশাল ট্রেনিং ক্যাম্পে এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘‘সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর জন্য ৫৫৬ কিমি জমি প্রয়োজন ছিল। তার মধ্যে ১০০ কিমি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের চিকেন নেক করিডরই প্রায়োরিটি।’’ মাথায় রাখতে হবে, চিকেন নেক করিডর বা শিলিগুড়ি করিডর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এটি মোটামুটি ২০ থেকে ২২ কিমি চওড়া এবং ৬০ কিমি লম্বা একটা জায়গা। এই জায়গাটি গোটা দেশকে উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে জুড়ে রাখে। তাই এই জায়গাটা ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই এই জায়গার নিরাপত্তায় কোনও প্রকারের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় নতুন শুভেন্দু সরকার।

  • Suvendu Adhikari: সিএএ মামলার পুরনো ফাইল খুলে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর, কীভাবে আদায় করা হবে ক্ষতিপূরণ, জানেন?

    Suvendu Adhikari: সিএএ মামলার পুরনো ফাইল খুলে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর, কীভাবে আদায় করা হবে ক্ষতিপূরণ, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৯ সালে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের (CAA Protest Investigation) সময় ভাঙচুর করা হয়েছিল রেলের সম্পত্তি, আগুন লাগানো হয়েছিল ট্রেনে। ঘটনায় ফের তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে পুরনো মামলার ফাইল আবার খোলার নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    রেলমন্ত্রীর কাছে পদক্ষেপ করার অনুরোধ (Suvendu Adhikari)

    সূত্রের খবর, নবান্নে রেলের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বৈঠকের সময় রেলমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন শুভেন্দু। ২০১৯ সালে মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকায় সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় ট্রেনে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল রেলের। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হয়েছিল রেল পরিষেবা। বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল এবং ঘুরপথে চালিয়ে সামাল দেওয়া হয়েছিল পরিস্থিতি। জানা গিয়েছে, ভবানীপুরে আরপিএফের একটি বিশেষ অফিস গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বসেই পুরনো নথি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলবে। তদন্তে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহযোগিতা দেওয়ার জন্য রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও পুলিশের শীর্ষ কর্তাদেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

    ক্ষতিপূরণ আদায়

    আইন অনুযায়ী, রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা বা ভাঙচুর করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের অপরাধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশ, ক্ষতিগ্রস্ত রেল সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ অভিযুক্তদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে। কেউ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করলে, আইন অনুযায়ী তার সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করতে হবে (CAA Protest Investigation)। উল্লেখ্য, এই বিষয়ে সরকারি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি আদালতে। তাই নেওয়া হয়নি ব্যবস্থাও। এবার সেই ফাইল ফের খুলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোমর কষে নেমেছে রাজ্যের পালাবদলের সরকার (Suvendu Adhikari)।

     

  • Delhi-Siliguri Bullet Train: দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বাংলার জন্য বুলেট ট্রেনের বড় পরিকল্পনা জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

    Delhi-Siliguri Bullet Train: দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বাংলার জন্য বুলেট ট্রেনের বড় পরিকল্পনা জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম রাজ্য সফরে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে রেলমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এবার কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে, যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের রেল ও পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। রেলমন্ত্রী বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলায় নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। বাংলাকে এবং দেশকে বাঁচানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ। এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ফলে উন্নয়নের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।”

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের বার্তা

    নবান্নের বৈঠকে মূলত রেল প্রকল্প, মেট্রো সম্প্রসারণ, ফ্রেট করিডর, রেল নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, কেন্দ্রীয় সরকার এখন পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে রাখা হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই বাধা দূর হয়েছে এবং কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

    মেট্রো প্রকল্প নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

    সাংবাদিক বৈঠকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর অভিযোগ, কলকাতার মেট্রো রেল সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন রেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকার বারবার বাধা সৃষ্টি করেছে। রেলমন্ত্রীর কথায়, “কলকাতার মানুষ যাতে আধুনিক মেট্রো পরিষেবা না পান, তার জন্য বিগত সরকার বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। হাইকোর্টের রায় পছন্দ না হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র রেলের উন্নয়নমূলক কাজ আটকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।” তিনি আরও বলেন, “ইউপিএ সরকারের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রেল খাতে বার্ষিক বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ মোদী সরকারের আমলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রেকর্ড ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি বাংলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ।”

    কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণে নজির

    কলকাতা মেট্রো নিয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে রেলমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতের তুলনায় বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে মেট্রো প্রকল্প শুরু হওয়ার পর পরবর্তী ৪২ বছরে মাত্র ২৮ কিলোমিটার মেট্রো রেলপথ নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আরও ৪৫ কিলোমিটার নতুন মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছে। তিনি বলেন, “কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেওয়া হবে। আগামী কয়েক বছরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উন্নত মেট্রো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে।”

    দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বুলেট ট্রেনের বড় ঘোষণা

    দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল দিল্লি-শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন করিডর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা।
    অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য দেশের পূর্বাঞ্চলকে অত্যাধুনিক দ্রুতগতির রেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। সেই লক্ষ্যেই দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি উচ্চগতির বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। (এনজেপি থেকে নয়াদিল্লি বুলেট ট্রেনের প্রকল্পের সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়েছিল মাধ্যম।) প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, ট্রেনটি দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করে লখনউ, বারাণসী এবং পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী দিল্লি থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে পৌঁছনো সম্ভব হবে। রেলমন্ত্রীর মতে, এই প্রকল্প শুধু যাত্রী পরিবহণেই বিপ্লব আনবে না, বরং উত্তরবঙ্গের পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রেও বিরাট পরিবর্তন ঘটাবে।

    ডানকুনি-সুরাট ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর

    শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ইস্ট-ওয়েস্ট ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরির কথাও ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই করিডর চালু হলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহণ সম্ভব হবে। পরিবহণ ব্যয় কমবে, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ডানকুনি পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক্স হাব। নতুন করিডর কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও রফতানি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গতি আসতে পারে।

    রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়

    বিশ্লেষকদের মতে, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর এই বৈঠক শুধুমাত্র প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণেরও প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের অভিযোগে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত মিলেছে এই বৈঠক থেকে। রেলমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য একই লক্ষ্যে কাজ করলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনও বাধা থাকবে না।

    নতুন বাংলার রেল রোডম্যাপ

    বুলেট ট্রেন, মেট্রো সম্প্রসারণ, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর, অমৃত ভারত স্টেশন এবং শত শত ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক উচ্চাভিলাষী রেল রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। আগামী দিনে এই ঘোষণাগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলার পরিকাঠামো উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সাফল্য। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ও লজিস্টিক্স কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

  • Ashwini Suvendu Nabanna Meet: বাংলায় রেলের ‘মেগা বুস্ট’! ১০২ অমৃত ভারত স্টেশন, ৫৩৮ ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, ৬১ রেল প্রকল্পে গতি, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা

    Ashwini Suvendu Nabanna Meet: বাংলায় রেলের ‘মেগা বুস্ট’! ১০২ অমৃত ভারত স্টেশন, ৫৩৮ ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, ৬১ রেল প্রকল্পে গতি, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দেড় দশক ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বারবার ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে রেল, সড়ক, শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নানা প্রকল্পে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং রাজনৈতিক কারণে আপত্তির জেরে রাজ্যের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও রেলবোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ‘ডাবল ইঞ্জিন উন্নয়নের সূচনা’ হিসেবে তুলে ধরছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

    নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও দাবি তুলে ধরলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল কেন্দ্রীয় সরকারের বিপুল বিনিয়োগ, নতুন রেল প্রকল্প, অমৃত ভারত স্টেশন নির্মাণ এবং জমি সংক্রান্ত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি। রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শুভেন্দুর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার কখনও পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেনি। বরং জমি, অনুমোদন ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে বহু প্রকল্প বছরের পর বছর আটকে ছিল। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উন্নয়নমূলক সহযোগিতার নতুন পরিবেশ তৈরি হলে বাংলায় রেল অবকাঠামোয় নজিরবিহীন বিনিয়োগ, নতুন রেললাইন, অমৃত ভারত স্টেশন, ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

    নবান্নে রেলমন্ত্রী-রেলবোর্ডের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    শনিবার নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের নেতৃত্বে রেল মন্ত্রক ও রেলবোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বিধায়ক এবং প্রশাসনিক কর্তারা। বৈঠকের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেলমন্ত্রীকে কালী মূর্তি উপহার দেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পশ্চিমবঙ্গে চলমান ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, জমি অধিগ্রহণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং রেল সংযোগ সম্প্রসারণ।

    ‘আগের সরকারের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন ১১ কোটি মানুষ’

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আগের সরকারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ১১ কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কখনও রেলের কাজে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেননি।” তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের রেল উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

    ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজ

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, রেলমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি স্টেশনকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পরিবহণ কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। তিনি জানান, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল অবকাঠামো উন্নয়নমূলক কাজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে নতুন রেললাইন, স্টেশন উন্নয়ন, সেতু, আন্ডারপাস এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    রেল বাজেটে বিপুল বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

    শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল খাতে বরাদ্দ ছিল ৪,৩৮০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সেই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪,২০৫ কোটিতে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের রেল অবকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    ৪০টির বেশি প্রকল্পে এনওসি দেওয়া হয়েছে

    রাজ্যে বিভিন্ন রেল প্রকল্পের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘদিন জমি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইতিমধ্যেই ৪০টিরও বেশি রেল প্রকল্পে প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জেলাশাসকদের নির্দেশ দেব যাতে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া যায়। বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায় রেল পৌঁছে দিতে যা যা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতা করা হবে।”

    ৬১টি প্রকল্পে গতি, ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস

    বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলমান ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। রেলপথ ও সড়কপথের মধ্যে নিরাপদ সংযোগ গড়ে তুলতে এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে নতুন এলাকা

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় নতুন রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে এখনও রেল সংযোগ থেকে বঞ্চিত বা সীমিত পরিষেবা পাওয়া বহু অঞ্চল সরাসরি রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে। পর্যটন, শিল্প, কৃষিপণ্য পরিবহণ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে এই প্রকল্পগুলির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    উন্নয়নের বার্তা কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের

    নবান্নের বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক বছরে বড়সড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন, ৬১টি প্রকল্প, ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস এবং ১ লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগের মতো ঘোষণাগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়লে পশ্চিমবঙ্গের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নতুন গতি পাবে। আর সেই কারণেই নবান্নের এই বৈঠককে শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং বাংলার উন্নয়ন রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় তার উপর।

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি, পৃথক জাহাজ দফতর! জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি, পৃথক জাহাজ দফতর! জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। বৈঠকে সঙ্গে ছিলেন জাহাজ মন্ত্রকের অন্যান্য আধিকারিকরাও। জানা গিয়েছে, রাজ্যের নতুন বন্দরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক। এ ছাড়াও রাজ্যের বর্তমান বন্দরগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয় এই বৈঠকে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য সর্বাগ্রে প্রস্তুত ডাবল ইঞ্জিন সরকার, নবান্নে বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী।

    ৪৪টি নতুন জেটি

    শুভেন্দু জানিয়েছেন, ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি করা হবে। তার অনুমোদন এত দিন ঝুলে ছিল। তবে সম্প্রতি ৪১টি জেটির জন্য সরকার অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হবে। কপিল মুনির আশ্রম এবং সাগর দ্বীপ নিয়ে সার্বিক ভাবে রাজ্য সরকারের যা অনুরোধ ছিল, কেন্দ্র তা মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরের মেলায় রূপান্তরিত করতে কেন্দ্রের সব রকম সহযোগিতা পাওয়া যাবে। বলাগড়েও বন্দর যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজ এবং ভাঙন রোধের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। রাজ্যে পৃথক জাহাজ দফতর তৈরি করতে চায় শুভেন্দুর সরকার। কেন্দ্রের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যোগ্য আধিকারিকদের এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।

    মমতা সরকারের অপরিকল্পিত ভাবনা

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০২২ সালে আদানি গোষ্ঠীকে লেটার অফ ইন্টেন্ট দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপর দু বছরের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কাজ না শুরু হওয়ায় রাজ্য সরকার টেন্ডার বাতিলের চিন্তাভাবনা শুরু করে। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তত্‍কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদানি গোষ্ঠীকে দেওয়া লেটার অফ ইন্টেন্ট বাতিল করা হয়। যার নির্যাস, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প (Tajpur Deep Sea Port) বিশবাঁও জলে। ২০২৩ সালের বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করবে রাজ্য সরকার। টেন্ডার মূল্য প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা। এরপর তাজপুর নিয়ে আরও কোনও আলোচনাই হয়নি। রাজ্যের প্রস্তাবিত ওই প্রকল্প নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয় বুধবার অর্থাত্‍ ৩ জুন আদানি পোর্টের এমডি করণ আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মিটিংয়ের পর।

    কেন দাঁড়ায়নি প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কথায়,‘‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে মুল্যায়ন করতে গিয়ে দেখেছি, সরকারের হাতে কোনও জমিই ছিল না। আমি তখন বিরোধী দলনেতা হিসেবেও বারবার বলেছিলাম, তাজপুর বন্দরের প্রকল্প কখনও দাঁড়াবে না, যতদিন না রেল, জাতীয় সড়ক যোগাযোগ ও ওয়্যারহাউসের জন্য কয়েক হাজার একর জমি না পাওয়া যায়। ফাইনালি সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে আমাদের আধিকারিকরা যা মূল্যায়ন করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, ওখানে পোর্ট সম্ভবই নয়। কারণ রাজ্য সরকারের হাতে কোনও জায়গাই নেই। কিন্তু মানুষকে আমরা আশাহত করছি না, আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি, তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়, যেখানে নুনের পুরনো ফ্যাক্টরি ছিল, সেখানে ১৭০০ একর জমি রাজ্য সরকারের হাতে রয়েছে। আমরা এবার এই জমি নিয়েই এগোবো। ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেভিনিউ শেয়ারিংয়েও আমরা রাজি আছি।’’

    ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) আরও জানান, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা। শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি রপ্তানি ব্যবসার জন্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প সাগরমালা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পূর্বতন সরকার ‘অনিচ্ছা এবং অপদার্থতার’ জন্য এই প্রকল্পের অংশ হয়নি। তার ফলে সাগরমালা ১ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। এবার কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে বাংলা সাগরমালা ২-এর অধীনে এল। তার ফলে রাজ্যে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাংলায় হবে বলেই আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।

     

     

     

     

LinkedIn
Share