Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • Suvendu in North Bengal: ‘ঘুরতে নয়, কাজ করতে আসব’, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে আশ্বাস শুভেন্দুর

    Suvendu in North Bengal: ‘ঘুরতে নয়, কাজ করতে আসব’, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে আশ্বাস শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ভেদাভেদ মুছে দিতে প্রতি মাসেই উত্তরবঙ্গে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in North Bengal)। প্রতি সপ্তাহে উত্তরকন্যায় বসবেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। অবহেলিত থাকবে না পাহাড়-ডুয়ার্স। ঢেলে সাজানো হবে, উন্নয়নের জোয়ার আসবে। দুর্নীতি দূর করতে খোলা হবে জিটিএ ফাইল। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বুধবার প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে (North Bengal Visit) এসে আশ্বাসবাণী শোনালেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এই সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অলিন্দে ছিল টানটান উত্তেজনা। শিলিগুড়ির প্রশাসনিক সভা থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সেরে আজ বিকেলেই তাঁর কলকাতায় ফিরছেন শুভেন্দু।

    খোলা হবে জিটিএ-ফাইল

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে শিলিগুড়িতে নেমেই বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-এ কীভাবে কাজ হয়েছে? কতটা কাজ হয়েছে? সেইসব ফাইল এবার খোলা হবে। সেই কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ দুর্নীতি হয়েছে বলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। সেসব ধামাচাপা পড়ে যায় বলে বিজেপির তরফে অভিযোগ। এবার বিজেপি সরকার কাজ শুরুর পরেই জিটিএ দুর্নীতির তদন্ত শুরু হবে। ফাইল খোলা হবে।উত্তরবঙ্গে নেমেই পাহাড়ে ‘সাফাই অভিযানে’র হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর।

    প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে

    উত্তরবঙ্গের মাটিতে পা দিয়েই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে বিজেপির দেওয়া প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করবে তাঁর সরকার। এদিন একপাশে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং অন্যপাশে নবনিযুক্ত উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে সঙ্গে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, “২০০৯ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের মানুষ দু’হাত উজাড় করে বিজেপির পাশে থেকেছেন। তাই এবার আমাদের ঋণ শোধ করার পালা। সরকারে আসার পর ভোটের আগে দেওয়া আমাদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি আমরা পূরণ করবই।”

    মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বাগডোগরায় বিপুল জমায়েত

    বুধবার সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরের বাইরে এবং রাস্তার দু’পাশে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন হাজার হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। বিমানবন্দর থেকে বাইরে বেরিয়েই উত্তরবঙ্গের মানুষের ভালবাসায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী হাতজোড় করে সকলকে নমস্কার ও কৃতজ্ঞতা জানান। লোকসভা থেকে শুরু করে বিধানসভা— বছরের পর বছর ধরে বিজেপিকে বিপুল ভোটে জেতানোর জন্য উত্তরবঙ্গবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, “এবার থেকে প্রতি মাসে আমি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা উত্তরবঙ্গে আসব। তবে আমরা এখানে কোনও পাহাড়ি হাওয়া খেতে বা ঘুরতে আসব না, স্রেফ কাজ করতে আসব। আর প্রতি সপ্তাহে আমাদের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উত্তরকন্যায় বসবেন।”

    ‘উত্তরকন্যায়’ প্রশাসনিক বৈঠক

    বিমানবন্দর থেকে সোজা শিলিগুড়ির স্যাটেলাইট টাউনশিপে অবস্থিত রাজ্য সরকারের মিনি সচিবালয় ‘উত্তরকন্যায়’ পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উত্তরের পাঁচ জেলার বিধায়ক, আইজিপি, পুলিশ সুপার এবং প্রশাসনের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে এক প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, সামনেই বর্ষাকাল কড়া নাড়ছে, তাই এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় উত্তরবঙ্গের চিরাচরিত সমস্যা – বন্যা, পাহাড়ি ধস, হড়পা বান এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান , উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক প্রতি সপ্তাহে একদিন উত্তরকন্যায় সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষদের সঙ্গে দেখা করবেন। ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত তিনি উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের কর্মসূচির প্রতিটি কাজের খতিয়ান করবেন। আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বেলা ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রত্যেক সাংসদ, বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    চা বলয়ের শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা

    এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চা বলয়ের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি ও চিকিৎসা পরিষেবার সমস্যা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্যে সরকার বদল হতেই উত্তরবঙ্গের বেআইনি নির্মাণ, সরকারি জমি দখল এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালি ও পাথর পাচারকারী মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে

    উন্নয়ন ছাড়াও শুভেন্দুর মুখে শোনা যায় উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার কথাও। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকারের অনমনীয় নীতি বজায় থাকবে। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে কোনও ভাবেই তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি সহ্য করা হবে না। যাঁরা ভাবছেন পুরনো কায়দায় পার পেয়ে যাবেন, তাঁরা ভুল ভাবছেন। আইন আইনের পথেই চলবে।’’

    উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি

    উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। লোকসভা হোক বা বিধানসভা— গত এক দশক ধরে এই উত্তরবঙ্গে ভাল ফল করছে বিজেপি। উল্লেখ্য, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছে ৪০টি। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে জিতেছিল বিজেপি। সে বার বিজেপির টিকিটে ওই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন যশবন্ত সিং। ২০১৪ সালেই দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র ধরে রেখেছিল বিজেপি। সে বছর ওই কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া। ২০১৯ সাল থেকে টানা ওই কেন্দ্রে জিতছেন রাজু বিস্তা। উত্তরকন্যায় পৌঁছনোর আগে এদিন শিলিগুড়িতে বিজেপির জেলা পার্টি অফিসে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে যাওয়ার আগে রাস্তায় মাঝেমধ্যেই থমকেছে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। গাড়ি থেকে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি। ছোট শিশুকে কোলে নিতেও দেখা যায়। জনজোয়ারে ভেসে মুখ্যমন্ত্রী এদিন শিলিগুড়ির বিজেপি কার্যালয়ে যান। উন্নয়নের পাশাপাশি বিজেপি কর্মীরা আরও বেশি করে সংগঠনের কাজ করবেন। সেই বার্তাও এদিন শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছেন।

     

     

     

     

  • OBC Quota Row: ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূল সরকারের নীতি বাতিলে সিলমোহর শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    OBC Quota Row: ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূল সরকারের নীতি বাতিলে সিলমোহর শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাতিল করে দেওয়া হল ওবিসি সংরক্ষণ (OBC Quota Row) নিয়ে রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের নীতি। নজিরবিহীন এই পদক্ষেপ করল বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভা। ওবিসি সংরক্ষণ কমিয়ে করা হল ৭ শতাংশ (TMC Govt Policy)। আগে ওবিসি ‘এ’ ক্যাটেগরিতে ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সুযোগ মিলত। ওবিসি ‘বি’ ক্যাটেগরিতে ছিল ৭ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ২০১০-সালের আগের সংরক্ষণ নীতিই বহাল রাখল রাজ্য সরকার। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু জাতি তাদের নায্য অধিকার ফিরে পাবে। ৭ শতাংশ সংরক্ষণের জন্য অনগ্রসর হিসেবে ৬৬টি জাতির তালিকাও প্রকাশ করেছে রাজ্যে বিজেপি পরিচালিত প্রথম সরকার।

    ওবিসি সংরক্ষণের হার (OBC Quota Row)

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে একলপ্তে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্তও নেয় রাজ্যের নয়া মন্ত্রিসভা। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য থাকা ওবিসি সংরক্ষণ আপাতত বাতিল করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে এই মন্ত্রিসভা। জানা গিয়েছে, কেবল তফশিলি জাতি এবং উপজাতির বাইরে থাকা প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু সম্প্রদায়ই পাবেন নয়া সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুবিধা। সরকারি চাকরি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে অবিলম্বে কার্যকর হতে চলেছে এই নয়া নিয়ম। মঙ্গলবারই এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। রাজ্যপালের নির্দেশে প্রকাশ করা হয়েছে সেই তালিকাও।

    ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুযোগ!

    বাম রাজত্বের শেষ পর্বে এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের প্রথম দিকে ২০১০-এর মার্চ থেকে ২০১২-র মে মাসের মধ্যে রাজ্যে ৭৭টি সম্প্রদায়ের নাম তোলা হয়েছিল ওবিসির তালিকায়। বাম জমানায় ৪২টি মুসলিম সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত হয়েছিল। এদের ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে মামলা দায়ের হয় (OBC Quota Row)। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে তুষ্টিকরণে রাজনীতি করতে গিয়ে আরও ৩৫টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় জায়গা দেয়। ২০২৩ সালে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ওবিসি সংরক্ষণ আইন জারি করে এই ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওই তালিকায় নিয়ে আসে। ফলে সব মিলিয়ে মোট ওবিসি সম্প্রদায়ের সংখ্যা পৌঁছয় ১৭৯-এ।

    শুভেন্দুর সরকারের ফরমান

    ক্ষমতায় এসেই তৃণমূল সরকারের আমলে যত ওবিসি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি ফের যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছিল শুভেন্দুর সরকার। সোমবারের বৈঠকে সেই তালিকা যাচাই এবং উপ-শ্রেণিবিভাগের তালিকা বাতিল করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় ক্যাবিনেট। তার পর মঙ্গলবারই জারি করা হয় বিজ্ঞপ্তি। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ৬৬টি সম্প্রদায়কে রেখে বাকি ১১৩টি সম্প্রদায়কে ওই তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিল। আদালতের যুক্তি ছিল, ধর্মের ভিত্তিতে এই সম্প্রদায়গুলিকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ২০১০ থেকে বিলি হওয়া ৫ লাখের মতো ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়ে যায়। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল পরিচালিত (TMC Govt Policy) রাজ্য সরকার। সেই মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলেই অসমর্থিত সূত্রের খবর (OBC Quota Row)।

  • Suvendu Vs Mamata: এ কী অবস্থা! বেশ কিছু বুথে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’, সবিস্তার হিসেব দিল কমিশন

    Suvendu Vs Mamata: এ কী অবস্থা! বেশ কিছু বুথে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’, সবিস্তার হিসেব দিল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ঘরের মেয়ে’কেই চাইল না খোদ ভবানীপুরবাসী। এ কী অবস্থা জননেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)? ভবানীপুরের একাধিক বুথে নাকি ৫০টির-ও কম ভোট পেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এই কেন্দ্রে তাঁর নিকটতম বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Vs Mamata) কাছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা পরাজিত হয়েছেন ১৫,১০৫ ভোটে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়ে এই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। আর পাঁচ বছরের মধ্যেই পালা বদল!

    কোথায় ৫০টিও ভোট পাননি মমতা!

    ভবানীপুর বিধানসভায় বুথের সংখ্যা ছিল ২৬৭টি। প্রতি বুথে ভোটদাতার সংখ্যা ছিল মোটামুটি ৪০০ থেকে ৭০০। সেখানে এমন অনেক বুথ রয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একশো ভোটও পাননি। কমিশনের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১১ নম্বর বুথে তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭০টি ভোট। ওই বুথে বিজেপি-র শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পেয়েছেন ১০৬টি ভোট। কিন্তু এমন বেশ কিছু বুথ রয়েছে যেখানে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’! যেমন ১৪ নম্বর বুথ। সেখানে ৪৩টি ভোট পেয়েছেন তিনি। ১৬ নম্বর বুথে ৪২, ২০ নম্বর বুথে ৪১, ২৪ নম্বর বুথে ৪৫, ৭৭ নম্বর বুথে ৪০, ৮৯ নম্বর বুথে ৪১, ১০৫ নম্বর বুথে ৩১টি ভোট পেয়েছেন মমতা। ২২৭ নম্বর বুথে মাত্র ১২টি ভোট পেয়েছেন মমতা।

    মমতা-শুভেন্দু বিরাট ফারাক

    নির্বাচন কমিশন যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে সব মিলিয়ে মমতা ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ২৮টি বুথে। উল্টো দিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ৩৯টি বুথে। সার্বিক ভাবে শুভেন্দু অধিকারী ২০৭টি বুথে লিড পেয়েছেন। সেই জায়গায় মমতা মাত্র ৬০টি বুথে লিড পান। সার্বিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন মোট ৭৩,১৯৭টি ভোট। শতাংশের বিচারে ৫৩.০২। উল্টোদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,৮১২টি ভোট। অর্থাৎ, ৪২.১৯%। এই বিরাট ফারাকই পার্থক্য গড়ে দেয়।

  • RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণের সুরক্ষায় ঘটনাস্থল অবিলম্বে সিল করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণের সুরক্ষায় ঘটনাস্থল অবিলম্বে সিল করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Case) সংঘটিত নৃশংস অপরাধের তদন্তে প্রমাণকে সুরক্ষিত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, প্রমাণের সপক্ষে থাকা সমস্ত উপাদান যেন কোনোভাবেই নষ্ট বা বিকৃত না হতে পারে, তার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে (CBI) অবিলম্বে ঘটনাস্থল সম্পূর্ণভাবে সিল (Seal) করতে হবে।

    চিকিৎসক পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং এই বর্বরোচিত ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তকে নিশ্চিত করতে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ ও কঠোর নির্দেশনাসমূহ (RG Kar Case)

    কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মামলার শুনানির সময় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে।

    ঘটনাস্থল সংরক্ষণ

    আরজি করে (RG Kar Case) যে নির্দিষ্ট সেমিনার রুম বা প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। তদন্তের স্বার্থে সিবিআই আধিকারিকরা ছাড়া আর কেউ যেন সেই চত্বরে প্রবেশ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাকেই।

    তথ্যপ্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা নিরসন

    ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে হাসপাতালের (RG Kar Case) পরিকাঠামো পরিবর্তন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিল, আদালতের (Calcutta High Court) এই কঠোর নির্দেশের ফলে তার ওপর আইনি সিলমোহর পড়ল। আদালত সাফ জানিয়েছে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, তা দেখাই এখন প্রথম কাজ।

    তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন (Status Report) আদালতে জমা দেওয়ার জন্য সিবিআই-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও প্রাসঙ্গিকতা

    আর জি করের (RG Kar Case) এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) এই প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ এবং সিবিআই-কে ঘটনাস্থল সুরক্ষার কড়া নির্দেশ আইনি প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই আইনি পদক্ষেপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

  • Suvendu Adhikari: নয়া মুখ্যমন্ত্রীর রোড-শোয়ে ব্যাপক ভিড়, ফলতায় স্বজন হারানোদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: নয়া মুখ্যমন্ত্রীর রোড-শোয়ে ব্যাপক ভিড়, ফলতায় স্বজন হারানোদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কথা’ রাখলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ফলতায় (Falta Roadshow) পুনর্নির্বাচনের শেষদিন মঙ্গলবারের প্রচারে অংশ নিলেন তিনি। দিন দুই আগেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ফের ফলতায় আসবেন। করবেন প্রতিটি পঞ্চায়েত ছুঁয়ে একটি বড় পদযাত্রা। সেই মতো এদিন তিনি এলেন, করলেন রোড-শো-ও। এদিনের এই দীর্ঘ পদযাত্রার মাঝে ফলতার জন্য বিশেষ প্যাকেজও ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

    মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রা (Suvendu Adhikari)

    এদিন পদযাত্রা শুরু হয় ফলতার বঙ্গনগর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের হাসিমনগর সংলগ্ন কালীতলা মাঠ থেকে। রাজনৈতিক দিক থেকে এই জায়গাটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, ২৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের পর এই হাসিমনগরেই ভোট দিতে না-পারার অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ। তাই পুনর্নির্বাচনের আবহে সেই এলাকা থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রা শুরু করাকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। এদিন ফলতায় পৌঁছে প্রথমেই স্থানীয় একটি মন্দিরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই একটি হুডখোলা গাড়িতে চড়ে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে শুরু করেন রোড-শো।

    নয়া মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। এদিনের সভায় রাজনৈতিক ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একুশের নির্বাচনের পর বহু বিজেপি কর্মী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। বহু পরিবার তাদের আপনজনকে হারিয়েছে। আমরা তাদের পাশে রয়েছি। নিহত ৩২১ জন কর্মীর পরিবারের একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।” ফলতা এবং ডায়মন্ড হারবার এলাকায় অতীতে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হওয়া বিজেপি কর্মীদের পুনর্বাসনের বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা বিগত দিনে আক্রান্ত হয়েছেন, মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা যাঁদের ব্যবসা বা জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ আর্থিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফলতায় যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বা (Falta Roadshow) রুজি-রোজগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নতুন সরকারে কেউ আতঙ্কে থাকবে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হবে (Suvendu Adhikari)।”

     

  • Abhishek Banerjee: অভিষেকের সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরসভার নজরে, ২১টি বাড়ির নকশা তলব করে নোটিস, অবৈধ নির্মাণ থাকলেই ভাঙা হবে!

    Abhishek Banerjee: অভিষেকের সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরসভার নজরে, ২১টি বাড়ির নকশা তলব করে নোটিস, অবৈধ নির্মাণ থাকলেই ভাঙা হবে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্থাবর সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরনিগমের (KMC) আইনগত নজরদারির আওতায় এসেছে। তাঁর মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট ২১টি সম্পত্তির (21 Properties Plans) অনুমোদিত নকশা বা ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। মূল নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ থাকলে নিজেথেকেই ভাঙতে হবে, নয়তো প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    উল্লেখ্য, এর মাত্র দু’দিন আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জনসমক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল সম্পত্তির একটি খতিয়ান তুলে ধরেছিলেন। তার পরপরই কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না।

    ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নথি দেওয়ার নির্দেশ (Abhishek Banerjee)

    লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর সম্পত্তি ও পুরনিগমের আইনি ধারা অনুযায়ী বৈধ কিনা সেই মর্মে নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পারিবারিক সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত সম্পত্তিগুলির বৈধতা যাচাই করাই পুরনিগমের মূল লক্ষ্য। কলকাতা পুরনিগমের ৯ নম্বর বোরো অফিসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবকটি ঠিকানায় (21 Properties Plans) নোটিস পাঠানো হয়েছে।

    পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা পুরসংস্থার বিল্ডিং আইনের ৪০১ ধারা (Section 401) মোতাবেক এই নোটিস জারি করা হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পত্তিগুলির বৈধ কাগজপত্র ও নকশা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত নথি জোগাড় করতে না পারলে, নিয়মানুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করা হতে পারে।

    তথ্য আগেই এসে গিয়েছিল শুভেন্দুর হাতে

    গত রবিবার ফলতার এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছিলেন, ‘‘কলকাতা পুরনিগম থেকে আমি নির্দিষ্ট তালিকা আনিয়েছি। কলকাতায় এবং আমতলায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ২৪টি বিলাসবহুল (21 Properties Plans) সম্পত্তি ও প্রাসাদোপম কার্যালয় রয়েছে।’’ পুরনিগমের অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, যেসব সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি ভবন এবং কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল আবাসন রয়েছে। তবে সুরক্ষার স্বার্থে পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার পুর প্রশাসন

    প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে উল্লেখ্য, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Abhishek Banerjee) সংস্থাটি ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির (CBI ও ED) নজরদারিতে রয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রাক্কালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সংস্থার ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেও পরবর্তী সময়ে তিনি এর সিইও (CEO) হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তাঁর বাবা, মা এবং স্ত্রী এই সংস্থার ডিরেক্টর পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

    রাজ্যের বিগত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন এই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার স্বয়ং কলকাতা পুরনিগম এই সম্পত্তিগুলির নির্মাণগত বৈধতা খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

    নিজেস্ব নিয়মে নোটিশ জারি করেছে

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সম্পত্তি এবং পারিবারিক সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর কার্যালয়গুলিতে কলকাতা পুরনিগমের (KMC) নোটিস পাঠানো নিয়ে মুখ খুলেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। পুরসভার এই আকস্মিক আইনি পদক্ষেপের দায় সম্পূর্ণভাবে নিজের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে তিনি স্পষ্ট বলেন, “এই নোটিস জারির বিষয়ে পৌর প্রশাসনের শীর্ষ স্তর বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব অবগত ছিল না। কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগ আইন ও নিয়মের নিজস্ব পরিধির মধ্যে থেকে এই নোটিস জারি করেছে। এটি কোনও রাজনৈতিক নির্দেশ বা মেয়রের দফতর থেকে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়।” ফিরহাদ আরও জানান, পুরসভার ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে পাঠানো এই নোটিসের বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলে উল্লেখ করেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কোনও ভবনের নকশা বা নির্মাণে অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ যে রুটিন নোটিস পাঠায়, এটিও তেমনই একটি পদক্ষেপ।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভেতরের সমীকরণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Abhishek Banerjee) প্রকাশ্য বিবৃতির পরদিনই কলকাতা পুরনিগমের মতো একটি তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড যেভাবে সক্রিয় হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১টি সম্পত্তির নকশা তলব করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    এই পরিস্থিতিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের “কিছুই না জানার” এই বয়ান অত্যন্ত সুকৌশলী। একদিকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পুর প্রশাসন সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে দলের অন্দরে এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে (21 Properties Plans) কেন্দ্র করে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না তৈরি হয়, সেই কারণেই তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াটি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে এই আইনি নোটিসকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন পুরসভার অন্দরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিমের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পরেই এলাকা ছেড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী (TMC) জাহাঙ্গির খান। জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) গা ঢাকা দেওয়ার আগেই বড়সড় কোনও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কর্পূরের মতো উবে গিয়েছেন তাঁর মাথায় যাঁর আশীর্বাদী হাত ছিল, তৃণমূলের সেই ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বা ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়া (কমান্ডার) বন্দ্যোপাধ্যায় রাতারাতি ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়ায় প্রমাদ গুণতে শুরু করেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। গ্রেফতারির আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে থাকা জাহাঙ্গির মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে ঘোষণা করেন, ‘‘আমি এই ভোটে লড়ছি না।’’ তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক কিংবা ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা জানাননি ফলতার ‘বাদশা’।

    বিজেপির কাছে গোহারা (TMC)

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিজেপির কাছে গোহারা হেরে গিয়ে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঙ্গা নিতে গিয়ে কার্যত মুখ পুড়িয়েছেন তৃণমূল অ্যান্ড কোং-এর (অন্তত, লোকে তো তাই বলে) কর্ণধার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে মুখ লুকিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা। অবশ্য, এর মধ্যে একদিন সহানুভূতি কুড়োতে এবং অবশ্যই জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আইনজীবীর সাজ-পোশাক পরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন মমতা। সেখানে নিজের কানে ‘চোর-চোর’ স্লোগান শুনে (এই প্রথম নয়, আগেও শুনেছেন, তবে এত জোরালোভাবে নয়), সেই যে কালীঘাটের বাড়িতে সেঁধিয়েছেন, তার পর থেকে আর তাঁকে দেখা যায়নি টিভি কিংবা সংবাদপত্র মায় হ্যান্ডবিলেও। এই যখন স্বয়ং দলনেত্রীর দশা, তখন আর কোন ভরসায় ফলতার নির্বাচনী ময়দানে খেলতে নামেন জাহাঙ্গির! অগত্যা তিনিও মুখ লুকোলেন।

    জাহাঙ্গিরের বোধোদয়!

    ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) বলেন, ‘‘ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন (TMC) পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গির এবং তাঁর দল তৃণমূলের বোতাম জ্বলজ্বল করবে। তৃণমূলের রাজত্বে কেউটে জাহাঙ্গির প্রথমবার নির্বাচনের সময় কোনও ইভিএমে টেপ আটকে দিয়েছিলেন পদ্ম-প্রতীকের পাশে, কোথাও আবার বিজেপি প্রার্থীর বোতামে লাগিয়ে দিয়েছিলেন আতর। ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা জানতেই এই ‘ডায়মন্ড হারবার দাওয়াই’ অ্যাপ্লাই করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’

    রাজ্যে পালাবদলের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সেই জাহাঙ্গিরই বদলে গিয়ে ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’ হয়ে গিয়েছেন! মঙ্গলবারই ফলতায় রোড-শো করেন ‘সিংহম’ মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন তিনি। সেই সময় প্রচারে না বেরিয়ে বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভালো থাকুক (TMC)। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’’ গলার কাছে দলা পাকানো কান্নাটা আটকে কোনওক্রমে ধরা গলায় তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’ জাহাঙ্গিরের এহেন ভোল বদলে যারপরনাই বিস্মিত ফলতায় তৃণমূলের ‘দুধেল গাই’রাও।

    প্রসঙ্গত, পুনর্নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই হাতকড়া পড়েছে জাহাঙ্গিরের ভায়রাভাইয়ের হাতে (Jahangir Khan)। গ্রেফতার হয়েছেন ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, জাহাঙ্গির ভেবেছেন এবার হয়তো তাঁর পালা। তাই লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পগার পার হয়েছেন ‘ঐতিহাসিক’ চরিত্র জাহাঙ্গির (TMC)।

    বেচারা! কারা যেন জাহাঙ্গিরকে গাছে তুলে মইটা কেড়ে নিল!

     

  • CM Suvendu Adhikari: মেধাবৃত্তির পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি নিয়ন্ত্রণে নজর মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু? ফি নিয়ন্ত্রণে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: মেধাবৃত্তির পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি নিয়ন্ত্রণে নজর মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু? ফি নিয়ন্ত্রণে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং মেধার মূল্যায়নে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কৃতী শিক্ষার্থীদের এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বলেন, “রাজ্যে বিদ্যমান সমস্ত ধরনের ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবগঠিত মন্ত্রিসভা। এই খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। রাজ্যের কোনও মেধা যেন বাইরে না যায়।”

    ফি পদ্ধতিতে লাগাম টানার আহ্বান (CM Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির (Private School) লাগামহীন ফি বৃদ্ধি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি বেশ কিছু কড়া কিন্তু ইতিবাচক বার্তা দেন। শুভেন্দু বলেন, “বর্ণ, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে পুনরায় চালু করা হচ্ছে স্থগিত হয়ে থাকা বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ যোজনা। আধুনিক শিক্ষার আলো থেকে কোনও শিক্ষার্থীই যেন কেবল আর্থিক অনটনের কারণে বঞ্চিত না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

    বেতন কাঠামোয় সরকারি নিয়ন্ত্রণ

    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সেমিস্টার ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের ঊর্ধ্বগতির প্রতি ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “অর্থনৈতিক দিক থেকে আপনারা যেভাবে শিক্ষার্থীদের থেকে ফি নিচ্ছেন, সেখানে সরকারের একটি সুস্থ নিয়ন্ত্রণ থাকা অত্যন্ত আবশ্যক। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে (Private School) এমন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানাই। সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা যাতে বিপাকে না পড়ে এবং সরকারকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় সেই দিক মাথায় রেখে বিবেচনা করবেন।”

    মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা

    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সহজ প্রবণতার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “দয়া করে শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান ও সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করুন। যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন সর্বভারতীয় বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হচ্ছে, তখন এক অস্বাস্থ্যকর অসমতার সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার (Private School) মানোন্নয়নে দুই মাধ্যমের মধ্যেই একটি সুস্থ ও গৌরবময় প্রতিযোগিতা থাকা বাঞ্ছনীয়।”

    সরকারি ও সামাজিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি উৎসাহ প্রদান

    মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) তাঁর ভাষণে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত শিক্ষা ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। শুভেন্দু বলেন, “আজকের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই হলো সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করা, যারা নিষ্ঠার সঙ্গে জনকল্যাণে শিক্ষাদান করে চলেছে।” আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের (Private School) উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, বৃত্তিসংক্রান্ত যেকোনও সহায়তার জন্য তারা যেন সরাসরি শিক্ষা দফতর বা মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (CMO) সঙ্গে যোগাযোগ করে।

  • Post Poll Violence: নতুন করে ৪৫৮টি জিডি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের! ২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Post Poll Violence: নতুন করে ৪৫৮টি জিডি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের! ২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা (Post Poll Violence) একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ওই সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত রাজনৈতিক আক্রমণ, ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনাগুলি জাতীয় স্তরে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল। সম্প্রতি রাজ্য প্রশাসনের (BJP Bengal) উচ্চপর্যায়ের এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত পাঁচ বছরের পুরোনো হিংসার মামলাগুলিকে নতুন করে আইনি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

    ইতিমধ্যেই সাড়ে চারশোরও বেশি পুরনো মামলার (BJP Bengal) নতুন করে ওপেন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের জমানায় যে সমস্ত মামলার ‘চূড়ান্ত রিপোর্ট’ জমা পড়ে ফাইল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেইসব ক্লোজড ফাইলও নতুন করে খোলা হচ্ছে। বিগত দিনগুলিতে যেসব ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল কিংবা চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশের মাধ্যমে আইনি নথিপত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসন সেগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    প্রশাসনিক নির্দেশিকা ও আইনগত সক্রিয়তা (Post Poll Violence)

    রাজ্য পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (ADG, Law and Order) পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হল, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence) শিকার হওয়া নাগরিকদের অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্মূল্যায়ন (Review) নিশ্চিত করা। প্রশাসনের (BJP Bengal) এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে রাজ্য জুড়ে পুলিশি তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পূর্ববর্তী বহু মামলার নথিপত্র আরেকবার নতুন করে খোলা হয়েছে।

    কঠোর আইনি পদেক্ষেপ

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার অধীনে ইতিমধ্যে ব্যাপক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে:

    তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট (Final Report) পুনর্বিবেচনা

    বিগত সময়ে যেসব মামলায় (Post Poll Violence) পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত রিপোর্ট বা ‘ক্লোজার রিপোর্ট’ জমা দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল, তেমন অন্তত ৫৯টি স্পর্শকাতর মামলার ফাইল পুনরায় খোলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কোনও রকম খামতি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নতুন অনুসন্ধান ও এফআইআর (FIR) দায়ের

    পূর্ববর্তী অভিযোগ এবং নতুন করে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যে ৪৫৮টি নতুন প্রাথমিক অনুসন্ধান (Enquiry) শুরু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের করে অপরাধীদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

    নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের গ্রেফতার

    এই নতুন আইনি সক্রিয়তার অংশ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, বিশেষত দুর্গাপুর, বর্ধমান, মাথাভাঙ্গা এবং হুগলি অঞ্চল থেকে একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসায় উস্কানি, নারী নির্যাতন এবং তোলাবাজির (Extortion) মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

    তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা

    এবারের তদন্ত প্রক্রিয়াগুলিকে (Post Poll Violence) সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং স্বচ্ছ রাখার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ কমিশনারদের (CP) ব্যক্তিগতভাবে এই মামলাগুলির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট পেশ করার পর বিচারপ্রক্রিয়া যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার জন্য নিয়মিত আইনি সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অপরাধমূলক সিন্ডিকেট বা চক্রগুলির গতিবিধি ও তাদের আর্থিক উৎসের সন্ধান করতে বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২রা মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল (Post Poll Violence) প্রকাশের পরপরই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম রূপ ধারণ করে। শাসকদল বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের হতাহত করে এক তরফা আক্রমণ করে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং ঘরছাড়া হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। তৎকালীন সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে খুন ও ধর্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI) হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল। কয়েক ধাপে ৫৭ জনের বেশি খুন করা হয়েছিল। বর্তমান রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগটি বিগত দিনে স্থানীয় পুলিশের এক্তিয়ারে থাকা সাধারণ ও মাঝারি স্তরের অপরাধের মামলাগুলির ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার একটি বড় প্রয়াস।

    আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় (Post Poll Violence)

    গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় (BJP Bengal) যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা আইনের শাসনের পরিপন্থী। ২০২১ সালের নির্বাচন-উত্তর সহিংসতার মামলাগুলি পুনরায় খোলার মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন এটিই স্পষ্ট করতে চাইছে যে, অপরাধের তীব্রতা বা সময়কাল যাই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সুদীর্ঘ পাঁচ বছর পর এই আইনি সক্রিয়তা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মনে ন্যায়বিচারের আশা জাগিয়েছে, তেমনই এটি রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি দূরগামী ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • Suvendu Adhikari: “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা”, বললেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা”, বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে রাজ্যের প্রায় সব সভায় বিজেপির ‘সঙ্কল্প-বার্তা’ ছিল, ক্ষমতায় এলে রুখে দেওয়া হবে বাংলাদেশিদের বঙ্গে অনুপ্রবেশ। পশ্চিমবঙ্গবাসী হাত উপুড় করে ভোট দেওয়ায় এ রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পদ্ম-রাজ। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার পরেই শুরু করে দিয়েছেন ‘অ্যাকশন’। সেই শুভেন্দুই এবার আক্রমণ শানালেন বাংলাদেশের জামাত-ই-ইসলামিকে (Jamaat)।

    ‘বাংলাদেশে যাও’ (Suvendu Adhikari) 

    তিনি বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, কংগ্রেস তো টেনশনে আছেই। তার চেয়েও বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা। দেখুন ভাই, আমি ভয় পাই না। তাই ওই সব চেষ্টা করেও লাভ নেই। বিজেপি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সব পালন করব। আমার কাছে দেশ আগে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপর তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার তাড়িয়ে দেওয়ার পালা।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্ডারকে সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেওয়া, অনুপ্রবেশকারীদের হটাও… যাও যেখান থেকে এসেছিলে, সেই রাস্তা দিয়ে ফেরত যাও। বাংলাদেশে যাও।”

    পুলিশের ওপর হামলা চালানো নিয়েও বার্তা

    মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে রাজ্যে পালাবদলের সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে শুরু হওয়া পুরোহিত-ইমাম-মোয়াজ্জেমদের মাসিক ভাতা (Suvendu Adhikari)। শুধু অনুপ্রবেশকারী নয়, পুলিশের ওপর হামলা চালানো নিয়েও বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু। রবিবার পার্ক সার্কাসে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শ্রীনগরেও পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে। কলকাতায়ও বন্ধ হবে। যদি মনে করেন, আগের সরকার আছে, আগের মতো পুলিশ ফোর্সকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেওয়া হবে, তাহলে ভুল করছেন। গুন্ডামি, অসামাজিক কাজকর্মে অনুমতি দেব না। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে বলে দিলাম, পুলিশের গায়ে হাত পড়লে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এজন্য যতদূর যেতে হয়, যাব (Jamaat)। শুধু গ্রেফতারি নয়, শাস্তি দেওয়া পর্যন্ত মনিটরিং করবে সরকার (Suvendu Adhikari)।”

LinkedIn
Share