Tag: tmc

tmc

  • Abhishek Banerjee: অভিষেককে দেখেই আছড়ে পড়ল জনরোষ, ‘ভাইপো’কে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম

    Abhishek Banerjee: অভিষেককে দেখেই আছড়ে পড়ল জনরোষ, ‘ভাইপো’কে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) লক্ষ্য করে ছোড়া হল পাথর, জুতো এবং ডিম। তাঁকে ঘুষি এবং লাথি মারার চেষ্টাও করা হয়। দেওয়া হয় ‘চোর, চোর’ স্লোগানও (Sonarpur Visit)। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক শনিবার গিয়েছিলেন সোনারপুর এলাকায়, ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে। সেখানেই তিনি পড়েন বিক্ষোভের মুখে। গত এক মাস আগেও বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ছিলেন তৃণমূলের এই সেকেন্ড ইন-কমান্ড। তৃণমূল-রাজ শেষ হতেই তাঁকে দেখে জনতা উগরে দিল একরাশ ঘৃণা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ২৫ দিন পর এটি ছিল অভিষেকের প্রকাশ্যে আসা। সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দনগর এলাকায় গিয়েছিলেন জনৈক সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে। অভিযোগ, সঞ্জু নির্বাচন-উত্তর হিংসার শিকার।

    অভিষেককে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান (Abhishek Banerjee)

    সরকার পরিবর্তনের আগে পর্যন্ত অভিষেক পেতেন জেড-প্লাস নিরাপত্তা। এদিন গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। এর পর এসইউভি থেকে নেমে তিনি ওঠেন বাইকে। জনরোষের মুখে পড়ে বাইকটিও। পরে একটি হেলমেট পরে, ছেঁড়া জামা গায়ে, নিরাপত্তারক্ষীদের সাহায্যে তিনি ভবানীপুর থেকে আসা কয়েকজন তৃণমূল সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে কর্মকার পরিবারের বাড়ির দিকে হেঁটে যান। এই সময় অভিষেকের ধারে-কাছে দেখা যায়নি সোনারপুরের কোনও তৃণমূল নেতা বা কর্মীকে (Abhishek Banerjee)।স্থানীয় এক মহিলা বলেন, “ও এখানে কেন এসেছে? নিশ্চয়ই টাকা নিতে! ডাক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর সে পানিহাটিতে কেন যায়নি?” উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়লে পুলিশ হেলমেট পরিয়ে এবং নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে করে তাঁকে ওই বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায় (Sonarpur Visit)।

    অভিষেকের অনুযোগ

    অভিষেক বলেন, “ওরা আমায় মেরে ফেলতে চায়। প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমি এই জায়গা বা এই পরিবারকে ছেড়ে যাব না। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, এখানে কোনও সরকারি আধিকারিক উপস্থিত নেই। সব কিছু ভিডিওতে রেকর্ড হয়েছে। আমি রাজ্যপাল এবং হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” সঙ্গে আসা অনুগামীদের সরকারি আধিকারিকদের ফোন করার নির্দেশ দেন অভিষেক। মেসেজ পাঠান হোয়াটসঅ্যাপেও। কেউ সাড়া না দেওয়ায় স্ক্রিনশট তুলে রেখে দেন।

    কী বললেন শমীক

    কর্মকার পরিবারের বাড়ির বাইরে পুরুষ, মহিলা এবং শিশুরা অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। কয়েকজন মহিলার অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের হুমকির কারণে তাঁদের ভিটে ছাড়া হতে হয়েছিল (Abhishek Banerjee)। এক মহিলা বলেন, “আমরা জানতে চাই, উনি আমাদের রক্ষা করেননি কেন? মহিলাদের নিরাপত্তাহীন অবস্থায় কেন ফেলে রাখা হয়েছিল?” বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “স্থানীয় পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “বিজেপি এই ধরনের রাজনীতি করে না। পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের প্রাক্তন মহিলা মোর্চা নেত্রী রূপা গাঙ্গুলি কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, মানুষ তা মনে রেখেছেন (Sonarpur Visit)। বাংলার মানুষ এই হিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন (Abhishek Banerjee)।”

     

  • CID Raid: ‘ভাইপো’র বাড়িতে সিআইডি হানা, সইকাণ্ডে তলব সোমে

    CID Raid: ‘ভাইপো’র বাড়িতে সিআইডি হানা, সইকাণ্ডে তলব সোমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভাইপো’র বাড়িতে সিআইডি হানা (CID Raid)! শনিবার দুপুরে সাংসদ তথা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িতে হানা দেন সিআইডির পাঁচ আধিকারিক। ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা পড়া একটি চিঠি নিয়ে। ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই রয়েছে। সেই সইয়ের সত্যতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ, কয়েকটি সই নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি।

    সিআইডির লক্ষ্য (CID Raid)

    ওই চিঠিতে থাকা সইগুলি আদৌ স্বাক্ষরকারীর কি না, তা যাচাই করাই সিআইডির লক্ষ্য। তাই একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে যান সিআইডির আধিকারিকরা। সেই তালিকায় যেমন রয়েছেন চন্দ্রনাথ সিনহা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যয়, তেমনি রয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেকও। এই মামলারই তদন্তে শনিবার অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা।

    বঙ্গে পট পরিবর্তন

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পট পরিবর্তন হয়েছে বঙ্গে। যিনি ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, বিজেপির সেই শুভেন্দু অধিকারী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর গোহারা হেরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি খুইয়ে আক্ষরিক অর্থেই পথে বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে তো হেরেইছেন, মুখ থুবড়ে পড়েছে তাঁর সাধের তৃণমূলও। মাত্র ৮০টি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে তাঁর দল। বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ নেতা শোভনদেব। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা পড়া একটি চিঠির জেরেই যত কাণ্ড! অভিযোগ, ওই চিঠিতে কয়েকটি সই জাল করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এ সংক্রান্ত প্রথম চিঠিটি বিধানসভায় পাঠিয়েছিলেন অভিষেক। সেই চিঠি ফিরিয়ে দেন বিধানসভার স্পিকার। পরে তাঁর কাছে যায় আরও একটি চিঠি। তার পরেই শুরু হয় ‘জাল সই’ নিয়ে হইচই (CID Raid)।

    নথিপত্র খতিয়ে দেখছে সিআইডি

    কেবল সই যাচাই-ই নয়, বেশ কিছু নথিপত্রও খতিয়ে দেখছেন সিআইডির আধিকারিকরা। কোন পরিস্থিতিতে ওই চিঠিতে সই করা হয়েছিল, যিনি সই করেছিলেন, তিনি আদৌ স্বাক্ষর করেছিলেন কিনা, সইটি সত্যি সত্যিই তাঁর নিজের করা কি না – এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন বলেও খবর (Abhishek Banerjee)। এদিন অবশ্য সিআইডির আধিকারিকদের খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে অভিষেকের বাড়ি থেকে। কারণ বাড়িতে তাঁর দেখা মেলেনি। তাঁর বাড়ির এক কর্মী জানান, অভিষেক বাড়িতে নেই। তাঁর স্ত্রী, সন্তানরাও নেই। কোথায় গিয়েছেন, তিনি বলতে পারবেন না। সব শুনে তদন্তকারীরা অভিষেকের বাড়ি ১৮৮এ শান্তিনিকেতনের ঠিকানায় একটি নোটিশ লটকে দিয়ে যান। এরই খানিক পরে কালীঘাট রোডের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক। বলেন, আমি ওই বাড়িতে থাকি না। আমার সঙ্গে দেখা করতে হলে, এই বাড়িতে আসতে হবে (CID Raid)।

    অভিষেকের হাতে নোটিশ

    তৃণমূল নেতার এহেন ‘বার্তা’ পেয়েই অভিষেকের কালীঘাট রোডের বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। সেখানে তাঁরা সরাসরি ‘ভাতিজা’র হাতেই তুলে দেন নোটিশ। জানা গিয়েছে, সোমবারই তলব করা হয়েছে তৃণমূলের এই নেতাকে। পরে অভিষেক বলেন, “যাঁরা মামলার তদন্ত করছেন, সেই অফিসাররা জানেন না সাত বছর ধরে আমি ওই বাড়িতে থাকি না৷ হয়তো ওঁদের কাছে ভুল তথ্য ছিল৷ আমিও বুঝি ওঁদের চাকরি করতে হয়৷ এখনও নোটিশ পড়িনি৷ নোটিশ পড়ার পর আমার আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করব৷ তার পর যদি মনে হয় এবং আমায় যদি হাজিরা দিতে বলা (Abhishek Banerjee) হয়, তাহলে নিশ্চয়ই হাজিরা দেব৷ আমিও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেব৷ সেই অধিকার আমারও আছে (CID Raid)৷”

     

  • DA News: বকেয়া ডিএ মেটানোর ‘সঙ্কল্প’ পূরণ শুরু বঙ্গের বিজেপি সরকারের, প্রথমে কারা পাচ্ছেন জানেন?

    DA News: বকেয়া ডিএ মেটানোর ‘সঙ্কল্প’ পূরণ শুরু বঙ্গের বিজেপি সরকারের, প্রথমে কারা পাচ্ছেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘সঙ্কল্পপত্রে’ (বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারের এমনই নাম) দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ এক এক (DA Arrears Credited) করে শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। এবার পূরণ হচ্ছে বকেয়া ডিএ মেটানোর ‘সঙ্কল্প’ও। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA News) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিল নবান্ন। শুক্রবার থেকেই যোগ্য প্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমাও পড়তে শুরু করেছে।

    কারা পাবেন বকেয়া ডিএ (DA News)

    নবান্ন সূত্রে খবর, আপাতত এই সুবিধা সব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী পাবেন না। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র তাঁদেরই দেওয়া হচ্ছে টাকা। আপাতত এই টাকা পাবেন না এই সময়সীমার আগে-পরে অবসর নেওয়া সরকারি কর্মীরা। ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে সরকারি কর্মীদের সংগঠনগুলির। সেই বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে কর্মীরা। কারণ, যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁরা কবে থেকে বকেয়া ডিএ পাবেন, সেই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হতে পারে ওই বৈঠকেই। প্রসঙ্গত, ডিএ নিয়ে মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে, বুধবার শুনানির সময় তা জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত। রাজ্য সরকারের তরফে কিছুটা সময় চাওয়া হয়। বাকি সংগঠনগুলিও জানায়, মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের দিন ঠিক করেছেন। তাই এই মামলায় আরও সময় প্রয়োজন। সব পক্ষের সওয়াল শোনার পর শুনানি পিছিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফের হবে শুনানি। তার আগে রাজ্যকে ডিএ মামলার স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মেলা অভিযোগ

    বকেয়া ডিএ নিয়ে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মেলা অভিযোগ ছিল। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সরকারি কর্মচারীরা। কলকাতা হাইকোর্ট ঘুরে সেই মামলা গিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে। অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ দেওয়া হয়নি। রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেব্রুয়ারি মাসে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে বিচার চলছে সেই (DA News) মামলার।

    কর্মচারী সংগঠনের বক্তব্য

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী হয় মমতার সরকার। ক্ষমতায় আসে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পদ্ম সরকার। তার পরেই শুরু হয় বকেয়া ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া। একাধিক কর্মচারী সংগঠনের দাবি, ঠিক কত শতাংশ হারে ডিএ দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট সরকারি নির্দেশিকা এখনও পর্যন্ত জারি করা হয়নি। তাই কীসের ভিত্তিতে ডিএ (DA Arrears Credited) দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তার। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “শুনছি, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া টাকা অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। যদিও আমরা শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অন্য গ্রান্ট-ইন এইডের কর্মীরা এখনও এক টাকাও পাইনি!’’ সিপিএম সমর্থিত কর্মচারী সংগঠনের কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিত গুপ্ত চৌধুরী বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই (DA News)।”

     

  • Chandannagar Municipal Corporation: মেয়র সহ ৩০ কাউন্সিলরের ইস্তফা! ভেঙে গেল তৃণমূল পরিচালিত চন্দননগর পুরনিগম

    Chandannagar Municipal Corporation: মেয়র সহ ৩০ কাউন্সিলরের ইস্তফা! ভেঙে গেল তৃণমূল পরিচালিত চন্দননগর পুরনিগম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ধস তৃণমূলে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং এবং তাঁর হাতে গড়া দল তৃণমূল (TMC Councillors Resign)। তার পরে পরেই বর্ষায় পদ্মার ভাঙনের মতো ধসে পড়ছে ‘ঘাসফুল নদী’র পাড়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন ক্রমেই প্রকট হচ্ছে।  এবার পদত্যাগ করলেন চন্দননগর পুরসভার মেয়র-সহ ৩০ জন কাউন্সিলর (Chandannagar Municipal Corporation)। স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে গিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার বোর্ড। চন্দননগর বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। তিনি মুখ থুবড়ে পড়তেই প্রকাশ্যে চলে আসে বোর্ডের টালমাটাল দশার ছবি। তার পরেই একযোগে পদত্যাগ করেন মেয়র-সহ ২৪ জন কাউন্সিলর।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া (Chandannagar Municipal Corporation)

    চন্দননগর পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৩। এর মধ্যে ৩১ জনই তৃণমূলের কাউন্সিলর। শুক্রবার সকালে এঁদের মধ্যে ৬ জন পদত্যাগ করেন। পরে রাতে ইস্তফা দেন মেয়র-সহ ২৪ জন। এর আগেই পুরসভার ডেপুটি মেয়র ও কাউন্সিলর মুন্না আগরওয়াল পদত্যাগ করেছেন। তার জেরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল চন্দননগর পুরসভার বোর্ড। চন্দননগরের বিধায়ক বিজেপির দীপাঞ্জন গুহ বলেন, “তৃণমূলের যাঁরা ভেতরে থেকেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের মধ্যেই কোথাও না কোথাও ভাবনা এসেছে, যে এই দলটা আর করা যায় না…। মানুষ যে সঙ্গে নেই, সেটা তাঁরা ভেবে নিয়েছেন। সেই জন্যই হয়তো তাঁরা পদত্যাগ করছেন।”

    গ্রেফতার ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান 

    বৃহস্পতিবার হুগলির তৃণমূল পরিচালিত ভদ্রেশ্বর পুরসভায় চেয়ারম্যান-সহ ৮ কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছিলেন। তার পরের দিনই ওই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফিরোজ চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ফিরোজের বিরুদ্ধে, এলাকায় অশান্তি করা, পুরসভায় ঝামেলা করার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল (Chandannagar Municipal Corporation)। বেশ কিছু নথিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুরসভা সূত্রে খবর। এনিয়ে ভদ্রেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পুরসভারই এক্সিকিউটিভ অফিসার। তার পরেই ফিরোজকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে করা হয় গ্রেফতার।

    পাকড়াও নদিয়া পুরসভার চেয়ারম্যানও 

    গ্রেফতার করা হয়েছে নদিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূলেরই বিমানকৃষ্ণ সাহাকেও। তাঁর বাড়ির ঠিক পাশের একটি ক্লাব থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর ত্রিপল-সহ ত্রাণ সামগ্রী। শুক্রবারই আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিমানকৃষ্ণকে লক্ষ্য করে জুতো এবং জলের বোতল ছোড়েন স্থানীয়রা (TMC Councillors Resign)। বিজেপির দাবি, নবদ্বীপ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর লোকজন তল্লাশি চালিয়ে ক্লাবঘর থেকে প্রচুর পরিমাণে ত্রিপল ও ত্রাণের শাড়ি উদ্ধার করেছে। তার পরেই চেয়ারম্যানকে নিয়ে যায় পুলিশ (Chandannagar Municipal Corporation)।

     

  • TMC Inner Clash: কল্যাণের মুখে ‘কু-কথা’র ফুলঝুরি! লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির, দুই তৃণমূলী সাংসদের লড়াই প্রকাশ্যে

    TMC Inner Clash: কল্যাণের মুখে ‘কু-কথা’র ফুলঝুরি! লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির, দুই তৃণমূলী সাংসদের লড়াই প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দল এবং দলনেত্রী গোহারা হেরে গিয়ে গর্তে সেঁধিয়েছেন! ভয়াল ঘূর্ণিঝড় যেমন শক্তি খুইয়ে ডাঙায় আছড়ে পড়ে, ঠিক তেমনি মিউ মিউ করতে করতে ঘরে ঢুকে গিয়েছেন ‘ভাতিজা’ও! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর যে ‘বিক্রম’ দেখা গিয়েছিল প্রচার (Kalyan Banerjee) মঞ্চে, নায়কোচিত ভঙ্গিতে হেঁটে হেঁটে তাঁর সেই সব ‘উসকানিমূলক’ (অভিযোগ) ভাষণ এবং প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মন্তব্য (যা নিয়ে এফআইআর দায়ের হয়েছে) যা শুনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের হাততালিতে ফেটে পড়েছিল সভামঞ্চ, যেসব ‘বক্তিমে’ দিয়ে তৃণমূলে তিনি নিজেকে আক্ষরিক অর্থেই ‘লার্জার দ্যান পার্টি’ ইমেজ তুলে (Kakoli Ghosh Dastidar) ধরেছিলেন, নির্বাচনে দলের পাশাপাশি ‘পিসিমণি’ও হেরে যেতে, সেই তিনিই মিইয়ে গিয়েছেন, সস্তা দরে কেনা মুড়ির মতো! ‘বুয়া-ভাতিজা’র প্রবল প্রতাপের জেরে দলের অন্দরে যাঁরা এতদিন ট্যাঁ-ফোঁ করতে পারতেন না, নির্বাচন-উত্তর কালে তাঁরাই ‘খেলছেন’ চালিয়ে।

    স্পিকারকে চিঠি কাকলির (Kakoli Ghosh Dastidar)

    ফেরা যাক খবরে। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাজকর্ম নিয়ে যখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, তখন আরও একটি খবর নজর কেড়েছে রাজ্যবাসীর। সেটি হল তৃণমূলের অন্দরে শুরু হওয়া মুষলপর্ব। দলের বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মীরা যেমন একদিকে তোপ দাগতে শুরু করেছেন নেত্রী এবং তাঁর স্তাবকদের তাক করে, তেমনি কল্যাণ-কাকলির দ্বন্দ্বও (Kalyan vs Kakoli) হেডলাইন হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের। তবে এবার শ্রীরামপুরের সাংসদ তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন দলেরই সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। কল্যাণের বিরুদ্ধে মৌখিক হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চেয়ে বুধবার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বারাসতের ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী সাংসদ কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)।

    কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগ

    বারাসতের সাংসদের অভিযোগ, কল্যাণ লোকসভার ভেতরে তাঁকে বার বার মৌখিকভাবে হেনস্থা করেছেন। কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগও তুলেছেন কাকলি। স্পিকারকে লেখা চিঠিতে তাঁর দাবি, লোকসভার মহিলা সদস্যদের প্রতি কল্যাণের নারীবিদ্বেষী মনোভাবও স্পষ্ট। তাই কল্যাণের শাস্তি পাওয়া উচিত বলেই মনে করেন কাকলি। কাকলি লিখেছেন, “আপনার কাছ থেকে লোকসভার সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফর্ম্যাল অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চাইছি। লোকসভার ভেতরে আমায় বারবার মৌখিকভাবে অপমান করেছেন কল্যাণ। এই ধরনের নারীবিদ্বেষী আচরণ শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, বহু মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধেও হয়েছে। এর (Kalyan Banerjee) উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”

    কাকলির চাঁদমারি

    রবিবারই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী পদে ইস্তফা দেন কাকলি। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য এক অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা-সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন আর সে পদে থাকার মানে হয় না।’’ নাম না-করলেও, তৃণমূলেরই নেতাদের একটা বড় অংশই মনে করেন কাকলির চাঁদমারি কল্যাণই।

    কী বললেন কল্যাণ

    শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “আমি কোনও চিঠি পাইনি। স্পিকার যদি এই বিষয়ে কোনও ব্যাখা চান, তাহলে উত্তর দিয়ে দেব। এটা স্রেফ নিজের বাজারদর বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই নয়।” তাঁর প্রশ্ন, “চিঠিতে আজকের তারিখ অর্থাৎ ২৮ মে-র উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, আজ তো ছুটি! তাহলে কীভাবে তিনি (কাকলি) অভিযোগ করলেন?” কল্যাণ বলেন, “অভিযোগ থাকলে আগে কেন জানানো হয়নি। এতদিন পর কেন জানানো হচ্ছে? আসলে এই অভিযোগ মিথ্যে। তাছাড়া, এটা আফটারশক (Kakoli Ghosh Dastidar)।” কাকলির অভিযোগ প্রসঙ্গে বুধবারই কল্যাণ বলেছিলেন, ‘‘২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওঁর (কাকলির) আবার কীসের এত কথা? নারদকাণ্ডে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি। উনি নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের জন্মদাত্রী কে? সকলেই জানেন। সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।’’ কল্যাণের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করারও অভিযোগ তুলেছেন বারাসতের সাংসদ। যদিও কল্যাণের পাল্টা অভিযোগ, কাকলির মুখেই ছোটে কু-কথার ফুলঝুরি। এই একই অভিযোগ তুলে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)।

    প্রশ্ন যেখানে

    রাজনৈতিক মহলের মতে, রীতি অনুযায়ী, দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তা প্রথমে জানাতে হয় দলীয় নেতৃত্বের কাছে। সেই অর্থে, কাকলির উচিত ছিল খাতায়-কলমে সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো। সেটা না করে কেন তিনি সটান স্পিকারকে চিঠি লিখে বসলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (Kalyan Banerjee)।

    আকচাআকচির ‘কহানি’

    যাঁরা দিল্লির রাজনীতির হাঁড়ির খবরাখবর রাখেন, তাঁদেরই কয়েকজন জানান, দল আলাদা হলেও স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কল্যাণের সম্পর্ক বরাবরই ভাল। এই পরিস্থিতিতে কাকলির চিঠির প্রেক্ষিতে কল্যাণের বিরুদ্ধে স্পিকার কী স্টেপ নেন, সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলি-কল্যাণের এই দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। রাজ্যে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখনই প্রকাশ্যে চলে এসেছিল তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘনিষ্ঠ এই দুই নেতানেত্রীর আকচাআকচির ‘কহানি’। নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে এবং বিরোধীরা এই লড়াইকে হাতিয়ার করতে পারে ভেবে তৃণমূল নেত্রী এতদিন বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলেন। দল মুখ থুবড়ে পড়তেই, বল্গাহীন ঘাসফুলের সৈনিকরা। এখন দেখার, এমন আগুনে-পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন তৃণমূল নেত্রী (Kakoli Ghosh Dastidar)।

     

  • Abhishek Banerjee: ভোটের সময় ‘গুজরাটি গ্যাং’, রাষ্ট্র-বিরোধী মন্তব্যের জের, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

    Abhishek Banerjee: ভোটের সময় ‘গুজরাটি গ্যাং’, রাষ্ট্র-বিরোধী মন্তব্যের জের, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বুয়া’র পর এবার ‘ভাতিজা’কেও কাঠগড়ায় তোলার প্রস্তুতি শুরু! তৃণমূল সুপ্রিমো (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আগেই দায়ের হয়েছিল এফআইআর, এবার মামলা দায়ের হল তাঁরই ভাইপো তথা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধেও। তাঁর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হল একদা তৃণমূলের খাসতালুক ভবানীপুরে। ভবানীপুর থানায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সম্পাদক অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন অর্ণবকান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। বুধবারই মমতার নামে শিলিগুড়িতে এফআইআর দায়ের করেছিলেন এই আইনজীবী। এফআইআর দায়ের হয়েছিল অভিষেকের বিরুদ্ধেও। তবে উসকানিমূলক মন্তব্য করায় এবার মামলা দায়ের হল তাঁরই পাড়ায়, ভবানীপুর থানায়।

    ‘গুজরাটি গ্যাং’ মন্তব্য (Abhishek Banerjee)

    অর্ণবও ভবানীপুরেরই বাসিন্দা। তিনি জানান, ২ মে এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক লিখেছিলেন, “১০ বার জন্মালেও আপনাদের ‘বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং’ আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলের ছিটেফোঁটাও ক্ষতি করতে পারবে না।” অভিষেকের এই মন্তব্যের জেরেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে ভবানীপুর থানায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে নানা সময় বুয়া-ভাতিজা উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। এর আগে উসকানিমূলক মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের মোট ৬টি ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সমাজসেবী রাজীব সরকার।

    অভিযোগকারীর বক্তব্য

    অর্ণবের দাবি, অভিষেক ওই পোস্টে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকর (Abhishek Banerjee)। এফআইআরে বলা হয়েছে, একজন সাংসদ হিসেবে সংবিধানের সার্বভৌমত্ব ও দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার শপথ নেওয়ার পরেও, অভিষেক সমগ্র গুজরাটি সম্প্রদায়কে একটি ‘গ্যাং’ বা অপরাধী চক্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি সম্প্রদায়কে অপমান করে না, বরং দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপরেও আঘাত হানে। গুজরাটি সমাজ দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্পোন্নয়ন এবং সমাজসেবামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সেই সম্প্রদায়কে কটাক্ষ করা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ (TMC)।

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য নয়

    অভিযোগপত্রে এও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক মতভেদ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের অংশ হলেও, কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাকে অপমান করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিকটবর্তী একটি সংবেদনশীল লোকসভা কেন্দ্রের (ডায়মন্ড হারবার) সাংসদের এমন মন্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

    রাষ্ট্রকেও চ্যালেঞ্জ অভিষেকের!

    অর্ণবের আশঙ্কা, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল যদি উল্টোটা হত এবং তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরত তাহলে এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে বসবাসকারী গুজরাটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে পারত (Abhishek Banerjee)। তাই এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, ওই পোস্টে অভিষেক কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তথাকথিত (TMC) ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ রোখার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তাই পুলিশের কাছে তৃণমূল সম্পাদকের ওই পোস্টের যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অর্ণব (Abhishek Banerjee)।

     

  • Annapurna Bhandar Yojana: “‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না”, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Annapurna Bhandar Yojana: “‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না”, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Bhandar Yojana) নিয়ে অবসান যাবতীয় জল্পনার। ১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফর্মপূরণের (Form) কাজ। চলবে তিন মাস। এই প্রকল্পে আর্থিক অনুদান পেতে হলে ফর্ম পূরণ করতে হবে উপভোক্তাদের। বুধবার নবান্ন থেকে ফর্ম প্রকাশ করে রাজ্যে এই প্রকল্প সূচনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবেই আবেদন করা যাবে। তৃণমূলের আমলে যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, তাঁদের সকলকেই এই ফর্মপূরণ করতে হবে। যতদিন না অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত উপভোক্তারা লক্ষ্মীর ভান্ডারের আর্থিক সুবিধা পাবেন। কেউ যে বঞ্চিত হবেন না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী।

    ফর্মের খুঁটিনাটি (Annapurna Bhandar Yojana)

    জানা গিয়েছে, বিডিও অফিস এবং পুরসভায় ফর্ম মিলবে। আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই সব তথ্য যাচাই করা হবে। মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে আধিকারিকরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। যাঁরা আধারের কাজ করেন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা এই কাজ করবেন। যাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। সাহায্য করবেন বিধায়করাও। এই প্রকল্পে সুবিধা পাবেন কেবলমাত্র উপযুক্ত প্রাপকরাই। যে ফর্ম দেওয়া হচ্ছে, সেখানে উপভোক্তার পরিবার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হবে। ওই পরিবারকে আরও একাধিক সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা দিতেই এই তথ্য চাওয়া হবে (Annapurna Bhandar Yojana)। ১৫, ১৬, ১৭ জুন ‘জনকল্যাণ শিবির’ হবে। সেখানেও ফর্ম পূরণে সাহায্য করা হবে। বর্তমানে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ পান ২ কোটি ২০ লাখ মহিলা। এসআইআরের পরে মৃত, ভুয়ো, স্থানান্তরিত এমন কমবেশি ৩০ লাখ উপভোক্তার নাম বাদ যাবে। আবার, নতুন আবেদনও জমা পড়বে।

    উপযুক্তদেরই টাকা দেওয়া হবে

    ধীরে ধীরে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে’র উপভোক্তাদের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় নথিভুক্ত করা হবে। তাই কাউকে তাড়াহুড়ো করে আবেদন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যতদিন না কোনও উপভোক্তা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন, ততদিন তিনি লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবেন (Form)।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম তালিকা ভেরিফায়েড। কিন্তু অনেক অভিযোগ এসেছে। ভুয়ো প্রাপক, অ-ভারতীয়দের বাদ দেওয়া হবেই। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপযুক্তদের টাকা দেওয়া হবে। এই স্কিম তাঁদেরই (Annapurna Bhandar Yojana)।”

    অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন যাঁরা

    তিনি বলেন, “অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে এই ফর্ম পূরণ করতে হবে। অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলারা পাবেন ৩ হাজার করে টাকা। আয়কর দিলে প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। সিএএ (CAA)-তে আবেদনকারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সরকারি, আধা সরকারি চাকরি করলেও এই সুবিধা পাবেন না। ভারতীয় ছাড়া কাউকে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা নয়।” তিনি বলেন, “এসআইআরে ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। আধারযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতিমাসে টাকা ঢুকবে। অন্নপূর্ণা যোজনায় পরিচ্ছন্ন তালিকা হবে। ফর্ম পূরণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের ডিটেলসও নেওয়া হবে, যাতে কোনও অভিযোগ না ওঠে। যাঁরা প্রকৃতই পাওয়ার যোগ্য তাঁরা যেন পান, সেটা দেখতে হবে (Annapurna Bhandar Yojana)।”

     

  • TMC Inner Clash: তৃণমূলের পদ ছাড়লেন কাকলি, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা পুরসভার আরও দুই কাউন্সিলরও

    TMC Inner Clash: তৃণমূলের পদ ছাড়লেন কাকলি, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা পুরসভার আরও দুই কাউন্সিলরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতা খোয়াতেই টলোমলো হয়ে গিয়েছিল তৃণমূল নেত্রীর আসন (TMC Inner Clash)। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে রোজকার যে ভিড়টা দেখা যেত, সেই চেনা ছবিটাও তো দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আর দেখা যাচ্ছে না। রাজ্যে বিপুল জনাদেশ নিয়ে (Calcutta Municipal Corporation) বিজেপি নবান্নের কুর্সিতে বসতেই তৃণমূল নেত্রীর পাশ থেকে সরে গিয়েছে স্তাবকের দল। আক্ষরিক অর্থেই একা মমতা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছেন ‘নকল বুঁদি গড়’ রক্ষা করতে। তবে তিনি সেই ‘গড়’ কতদিন আগলে রাখতে পারবেন, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কারণ, ছাব্বিশের নির্বাচনে দল খাদে পড়ে যেতেই তৃণমূল নেত্রীর পাশ থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন এক এক করে বহু প্রবীণ নেতাও।

    পদ ছাড়লেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি (TMC Inner Clash)

    এই যেমন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তৃণমূলের টিকিটে জিতে সংসদে গিয়েছেন কাকলি। ইদানিং তিনিই শুরু করেছেন বেসুরো গাইতে। দিন তিনেক আগে কাকলি ছেড়েছিলেন জেলা সভাপতির পদ। এবার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলীয় নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন কাকলি। কারণ, কাকলির ‘বিলম্বিত বোধদয়’! শুধু তা-ই নয়, তৃণমূল জমানায় রাজ্যে হওয়া একের পর এক কেলেঙ্কারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নাম না করে কাকলি আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলেরই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাকলিকে তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে কল্যাণকে। তার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাকলি লেখেন, “’৭৬ থেকে পরিচয়, ‘৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।”

    কাকলির বিলম্বিত বোধদয়!

    তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে কাকলি লিখেছেন, ‘দুর্নীতি থেকে আরজিকরকাণ্ড তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।’ বুধবার তিনি লেখেন, “আমার বিবেক আজ গভীরভাবে আলোড়িত। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।’ কাকলি জানান (TMC Inner Clash), ২০২৪ সালে আরজিকর মেডিকেল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ’ সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। তার অভিঘাত তিনি অনুভব করেছেন। তৃণমূলের সাংসদ লিখেছেন, ‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা-সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন আর সে পদে থাকার মানে হয় না।”

    কাকলির নিশানায় আইপ্যাক

    ওই চিঠিতেই কাকলি চাঁদমারি করেছেন আইপ্যাককে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এই সংস্থাই ছিল তৃণমূলের পরামর্শদাতা। তিনি জানান, আইপ্যাক নিয়ে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। সেগুলিও তাঁকে বিচলিত করেছে (Calcutta Municipal Corporation)। কাকলি লিখেছেন, “যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না বলেই আমি মনে করি।” তৃণমূলের এই প্রবীণ নেত্রী জানান, তিনি তৃণমূলের সাধারণ কর্মী। কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেননি। দল, গণতন্ত্র এবং মানুষের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিলেন তিনি।

    পদ ছাড়লেন সুশান্ত-অরূপ

    এদিকে, মঙ্গলবারই কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করতে। তৃণমূল সুপ্রিম সেই নির্দেশের পর ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি, গুরুত্বপূর্ণ পদে ইস্তফা দিলেন কলকাতা পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর – সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী। বুধবার ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দেন সুশান্ত। আর মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির পদে ইস্তফা দেন অরূপ চক্রবর্তী (TMC Inner Clash)। সুশান্ত এবং অরূপ যথাক্রমে ১০৮ এবং ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

    বিজেপিকে ধন্যবাদ সুশান্তর

    সুশান্ত বলেন, “মানুষ যাঁদের ক্ষমতায় এনেছেন, তাঁদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। দলের যেসব মন্ত্রী জেড প্লাস, ওয়াই প্লাস সিকিউরিটি নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, গত কয়েকদিনে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এঁদের জন্যই মমতার ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারতাম না। বিজেপিকে ধন্যবাদ। ওদের জন্য আমাদের দলের অনেককে ঘরে ফেরাতে পেরেছি। বাকিদের ফিরিয়ে আনলে আমাদের দায়িত্ব শেষ।” তিনি বলেন, “২০২০ সালে আমার ওপর আক্রমণ হয়। ২০২৪ সালেও ফের আক্রমণ হয়। অবাক করা ব্যাপার হল, আমার সরকার ঠিক করে তদন্তটাও করেনি। অদ্ভুতভাবে মূল দুষ্কৃতীর জামিন হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবীর ব্যবস্থা করে বাকি অভিযুক্তদের আটকে রেখেছি। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, এই তদন্তটা দেখতে (Calcutta Municipal Corporation)।”

    কেষ্টু-বিষ্টুরা কোথায়?, প্রশ্ন অরূপের

    অরূপ বলেন, “মমতাদি-অভিষেক ছাড়া বাকি নেতৃত্ব কই? বাকি কেষ্টু-বিষ্টুরা কোথায়? যাঁদের কনভয়ের আগে চার-পাঁচটা করে গাড়ি থাকত? জনাদেশ আমাদের বিপক্ষে গিয়েছে। এটা আমাদের মানতে হবে। হার স্বীকার করতে হবে। ছাব্বিশের হার না মানা মানে বাকি সব জয় মিথ্যে হয়ে যায়। গণতন্ত্রে মানুষের রায়কে মান্যতা দিতেই হবে।” তিনি বলেন, “কেউ ক্ষমতায় সারাজীবন থাকে না। সিপিএম ভেবেছিল থাকবে, নেই। এখন আমরা নেই। মমতার বাড়িতে রবীন্দ্র-জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যেসব সেলিব্রিটি ছিলেন, তাঁরা কোথায় (TMC Inner Clash)?” এদিন দুপুরে পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন সুশান্ত-অরূপ। পরে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘরে গিয়েও।

    জনাদেশ মাথা পেতে নিয়ে ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। তিনি পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন (Calcutta Municipal Corporation)। ঘাসফুল শিবির সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলের ভরাডুবির জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেবলীনা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলনেত্রী স্বয়ং গোহারা হারতেই আর ‘রিস্ক’ নেননি তিনি (TMC Inner Clash)।

     

  • Mamata Banerjee: হিন্দু ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য! এবার খোদ মমতার বিরুদ্ধেই দায়ের হল মামলা

    Mamata Banerjee: হিন্দু ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য! এবার খোদ মমতার বিরুদ্ধেই দায়ের হল মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নের গদি খোয়াতেই তৃণমূলের একের পর এক নেতার দিকে ধেয়ে আসছে বহুবিধ বাণ। দলের ছোট-বড় নেতার বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগ। এবার টান পড়ল দলের মাথায়! আজ্ঞে হ্যাঁ। এফআইআর দায়ের হল (Controversial Remarks) তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে। টানা ১৫ বছর নবান্নের ঠান্ডা ঘরে ছিলেন মমতা। অভিযোগ, এই পর্বে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক মঞ্চ হাজির হয়ে তিনি করেছেন একাধিক ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য। তার জেরেই দায়ের হল মামলা। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন পড়েছে, ঠিক তখনই বোমা ফাটালেন তৃণমূলেরই এক শীর্ষ নেতা। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের জেরে প্রকাশ্যে চলে এসেছে তৃণমূলের অন্দরে লুকোনো পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুন।

    বিতর্কিত মন্তব্য মমতার (Mamata Banerjee)

    জানা গিয়েছে, রেড রোড এবং কলকাতার ধর্না মঞ্চে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সেই অভিযোগ তুলেই শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পদ্ম-কর্মী তথা পেশায় আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি দুটি ঘটনা নিয়ে এফআইআর করেছি। একটি হল রেড রোড থেকে উনি বলেছেন, আমি এই গন্দা ধর্ম মানি না। কোন গন্দা ধর্ম উনি মানেন না? যে ধর্মকে গোটা বিশ্ব আইডিয়োলজি হিসাবে দেখে? যে ধর্মকে নিয়ে হাজারো মুনি-ঋষি চর্চা করেছেন যুগ-যুগান্তর ধরে? উনি সেই ধর্ম মানেন না?” রিঙ্কি বলেন, “আমার দ্বিতীয় অভিযোগ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে উনি বলেছিলেন আমি আছি বলেই একটা বিশেষ সম্প্রদায় তোমাদের ১২টা বাজিয়ে দিচ্ছে না। কোন কমিউনিটি ঘিরে ধরছে না? কাদের ঘিরে ধরছে না? উনি তো মুসলমান-হিন্দু উভয় সম্প্রদায়েরই মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন? তাহলে একটা সম্প্রদায়কে খুশি করতে গিয়ে কেন আর একটি সম্প্রদায়কে হুমকি দিয়েছিলেন? একজন হিন্দু ভোটার হয়ে আমি ভয় পেয়েছি। আমি ওঁর এই মন্তব্য সমর্থন করি না। তাই অভিযোগ দায়ের করেছি।”

    আইনজীবী-অভিযোগকারিণীর বক্তব্য

    আইনজীবী-অভিযোগকারিণী বলেন, “২০২৫ সালে ঈদের ওই ঘটনার পর আমি শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকরা আমার অভিযোগ নিতে (Mamata Banerjee) অস্বীকার করেন। তাঁরা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। কটু কথা বলে থানা থেকে (Controversial Remarks) বের করে দেওয়া হয় আমায়।” রাজ্যে পালাবদলের পর শেষমেশ শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পেরেছেন তিনি। রিঙ্কি জানান, আইনত যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তার অপেক্ষায়ই রয়েছেন তিনি।

    কোন কোন ধারায় মামলা

    জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ধারাগুলি হল, ৩৫১ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন), ৩৫২ (শান্তি ভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে অপমান বা প্ররোচিত করা), ৩৫৩ (জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা, ঘৃণা বা গুজব ছড়ানো), ৩৫৪ (কোনও ব্যক্তিকে ঈশ্বর বা ঐশ্বরিক শক্তির শাস্তির ভয় দেখিয়ে বা অপছন্দের পাত্র বানানোর হুমকি দিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও কাজ করতে বাধ্য করা), ৩৫৬ (ফৌজদারি মানহানি), এবং ২৯৯ (যদি কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত বা বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে এমন কোনও কাজ, কথা, লেখা, চিহ্ন বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমের ব্যবহার করে—যার লক্ষ্য কোনও একটি (Mamata Banerjee) বিশেষ গোষ্ঠীর ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করা এবং তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া)।

    তৃণমূলে শুরু কাদা ছোড়াছুড়ি

    এদিকে, হাতি (পড়ুন, তৃণমূল) গাড্ডায় পড়তেই, শুরু (Controversial Remarks) হয়ে গিয়েছে লাথালাথি। বিধানসভা নির্বাচনে ‘বুয়া’র সাধের দল মুখ থুবড়ে পড়তেই শুরু হয়ে গিয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা পেশায় আইনজীবী অত্রি শর্মা দলের মুখপাত্র। তিনি সরাসরি মমতার বিরোধিতা না করলেও, পরোক্ষভাবে তাঁর ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। অত্রি বলেন, “ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য করা একেবারেই উচিত হয়নি। আমরা যাঁরা সেই সময় থেকে আজও দলে নিষ্ঠার সঙ্গে রয়েছি, তাঁরাও কিন্তু মন থেকে এই বিষয়টি সমর্থন করতে পারিনি। তবে ভারতীয় সংবিধানে সবারই আইনি পথে অভিযোগ জানানোর পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে জেলাস্তরের এক শীর্ষ নেতার এমন মন্তব্য থেকে এটা (Mamata Banerjee) স্পষ্ট যে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ধিকি ধিকি করে জ্বলছিল অসন্তোষের আগুন। তৃণমূলের পদস্খলন হওয়ার পর সেই ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিই উগরোতে শুরু করেছে আগুনে লাভা।

    ‘ভাতিজা’র আইনি ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা

    ‘বুয়া’র পাশাপাশি তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড তথা ‘ভাতিজা’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় উসকানিমূলক এবং উগ্রপন্থীদের মতো মন্তব্য করার অভিযোগে বিধাননগর সাইবার থানায় তাঁর বিরুদ্ধেও দায়ের হয়েছিল এফআইআর। সেই মন্তব্যের জন্য আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে ‘ভাইপো’কে। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতা হয়ে তিনি কীভাবে প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমন হুমকি দিতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। সব (Controversial Remarks) মিলিয়ে নির্বাচনে হারের ঘা পুরোপুরি শুকোবার আগেই, তৃণমূলের (Mamata Banerjee) যে মাথাব্যথা শুরু হয়ে গিয়েছে, তা বলাই বহুল্য।

     

  • Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের হাল ধরেছেন পদ্ম-নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনি বসেছেন সপ্তাহ দুয়েক হল। এর মধ্যেই নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’ (রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁকে এই সম্বোধনই করেন) শুভেন্দু নবান্নে ফিরিয়ে এনেছেন বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি (Bengal Bureaucratic Culture)। শুভেন্দু যে চেয়ারে বসেছেন, টানা ১৫ বছর ধরে তাতে বসেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রাক্তন সতীর্থ তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মা-মাটি-মানুষের দলের নেত্রী মমতা নবান্নেও ‘কলতলার কালচার’ শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ। সরকারি বিভিন্ন বৈঠকে তিনি আমলাদেরও ‘আপনি’র পরিবর্তে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করতেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এহেন সম্বোধন শুনতে অভ্যস্ত না হলেও, শুনতে শুনতে সয়ে নিয়েছিলেন আইএএস-আইপিএস পরীক্ষা দিয়ে পাশ করা আধিকারিকরা। রাজ্যে বিজেপি জমানা শুরু হতেই বাংলার হারানো সংস্কৃতি ফেরালেন শুভেন্দু।

    নৈশভোজের আসরেও বদলের বার্তা (Suvendu Adhikari)

    ফেরা যাক খবরে। সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক নৈশভোজের। আলিপুরের ‘সৌজন্য অডিটোরিয়ামে’ হওয়া এই ভোজসভাকে অনেকেই সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না। প্রশাসনিক মহলের পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতমুখী প্রশাসনিক পরিবেশের পর নয়া বিজেপি সরকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আমলাতন্ত্রের সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাইছে। কয়েকজন আধিকারিকের মতে, এহেন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল আমলাদের এই বলে আশ্বস্ত করা যে, শুভেন্দুর প্রশাসন আরও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, সমন্বয় এবং কম প্রকাশ্য সংঘাতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে (Suvendu Adhikari)।

    ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’-র ফারাক

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক শৈলীর সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলির অন্যতম হল সরকারি আধিকারিকদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে তাঁর ভাষা ব্যবহার। নবান্ন সূত্রে খবর, নয়া মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের পরামর্শ দিয়েছেন এই বলে যে, সরকারি বৈঠকে যাতে আমলাদের ক্যাজুয়ালি সম্বোধন না করা হয়, বজায় রাখা হয় প্রশাসনিক মর্যাদা এবং প্রোটোকল (Bengal Bureaucratic Culture)। নয়া রাজ্য সরকারের এই ‘সাংস্কৃতিক’ পরিবর্তনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আমলাদের। কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রশাসনিক বৈঠকে প্রায়ই আধিকারিকদের ‘তুমি’ বলেই সম্বোধন করতেন (Suvendu Adhikari)। পদ্ম-জমানায় ইতি পড়েছে এই সংস্কৃতিতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সিনিয়র আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘আপনি’ ব্যবহার করছেন। ইংরেজিতে অবশ্য ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’ সম্বোধন করতে ‘ইউ’ ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলার সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এদের ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

    আধিকারিকদের বিব্রত করত আগের সরকার

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কম ভীতিপ্রদ এবং আরও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ (Bengal Bureaucratic Culture)। মমতার রাজত্বে আধিকারিকদের ট্যাঁ-ফোঁ করার অধিকার ছিল না বলেই অভিযোগ। তিনি নিজেকে  ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন, যিনি দুর্নীতি, প্রশাসনিক গাফিলতি ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি আধিকারিকদের প্রশ্ন করতেন (Suvendu Adhikari)। তাঁর অনেক প্রশাসনিক বৈঠক টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হত। সেখানে প্রায়ই জেলাশাসক, পুলিশ আধিকারিক এবং আমলাদের প্রকাশ্যে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে দেখা যেত।

    আধিকারিকদের প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা

    সব চেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির একটি ঘটেছিল ২০২২ সালে, পুরুলিয়ার এক প্রশাসনিক বৈঠকে। সেখানে মমতা প্রকাশ্যে জেলাশাসক রাহুল মজুমদারকে ইটভাটা রাজস্ব সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আপনি জেলাটা কীভাবে চালাচ্ছেন?” বিষয়টি তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এই ধরনের ঘটনা তাঁর সরকারের সময় একাধিকবার ঘটেছে। ২০১৭ সালে উত্তর ২৪ পরগনার একটি প্রশাসনিক বৈঠকে টিটাগড় থানার তৎকালীন আইসিকে একটি জাহাজ নির্মাণ ইউনিটের দখলদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেছিলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দুর আশ্বাস

    মমতার স্তাবকদের মতে, এই ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল জবাবদিহি নিশ্চিত করার শক্ত অবস্থান (Suvendu Adhikari)। তবে সমালোচকদের দাবি, প্রকাশ্যে বারবার ভর্ৎসনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আধিকারিকদের দাবি, শুভেন্দু আমলাদের এই মর্মে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে তাঁরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন (Bengal Bureaucratic Culture)। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দফতরগুলির মধ্যে মসৃণ সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন, বিশেষ করে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণের কথা ঘোষণা করার পরে।

    তাই এই নৈশভোজকে এখন অনেকেই একটি প্রতীকী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ধরনের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা করার বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি সরকার। তাদের দাবি, এই সংস্কৃতি প্রকাশ্য সংঘাতের পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেবে (Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share