Author: ishika-banerjee

  • Appellate Tribunal: নাম বাদ পড়লে, ভয় নেই! অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল গঠন কমিশনের, জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন

    Appellate Tribunal: নাম বাদ পড়লে, ভয় নেই! অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল গঠন কমিশনের, জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের আগে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল গঠন করল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সুপারিশের ভিত্তিতে এই ট্রাইবুনাল (Appellate Tribunal) গঠন করা হয়েছে। প্রাক্তন বিচারপতিদের রাজ্যের বিভিন্ন জেলার অ্যাপিলেট অথরিটি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই বিচারকরা চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা-ই চূড়ান্ত। সেটা কমিশনও মেনে নেবে। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখতে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কারা কোন বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন

    কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে ১৯ জন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতিকে নিয়ে এই ট্রাইবুনাল (Appellate Tribunal) গঠন করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমও আছেন অ্যাপিলেট অথরিটি হিসেবে। তিনি উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং কলকাতার আবেদন শুনবেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ছাড়াও প্রাক্তন বিচারপতি প্রদীপ্ত রায় রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনায়। পূর্ব মেদিনীপুরের দায়িত্বে প্রাক্তন বিচারপতি তপেন সেন, প্রাক্তন বিচারপতি প্রণব কুমার দেব কোচবিহারে, পূর্ব বর্ধমানে প্রাক্তন বিচারপতি প্রভাত কুমার দে, প্রাক্তন বিচারপতি রঘুনাথ রায় নদিয়া, প্রাক্তন বিচারপতি অশোক কুমার দাস অধিকারী হাওড়া, প্রাক্তন বিচারপতি দীপক সাহা রায় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে, প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে, প্রাক্তন বিচারপতি তৌফিক উদ্দিন দক্ষিণ দিনাজপুরে, প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং বিশ্বজিৎ বসুকে বিধানসভা অনুযায়ী মুর্শিদাবাদে, প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, প্রাক্তন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় হুগলি, প্রাক্তন বিচারপতি মুমতাজ খান পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া, প্রাক্তন বিচারপতি মীর দারা শেকো পশ্চিম বর্ধমান, প্রাক্তন বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে উত্তর দিনাজপুর, প্রাক্তন বিচারপতি মনোজিৎ মণ্ডল বীরভূম এবং প্রাক্তন বিচারপতি সিদ্ধার্থ রায় চৌধুরীকে মালদা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    কারা আবেদন করবেন ট্রাইবুনালে

    পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ফাইনাল ভোটার লিস্ট বেরিয়ে গিয়েছে। সেই তালিকায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন বা অ্যাডজুডিকেশন অবস্থায় ছিল। আর সেই সব ভোটারদের নথি যাচাই করছে জুডিশিয়াল অফিসারের। এই নথি নিষ্পত্তির পর একটা বড় অংশের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে আপিল ট্রাইবুনালে (Appellate Tribunal) আবেদন জানাতে পারবেন। বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ২০ লক্ষ ভোটারের নামের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হবে সোমবার। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পরে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাজের অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হবে। এর পরবর্তী সপ্তাহ থেকে প্রতি শুক্রবার একটি করে তালিকা প্রকাশ করা হবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ঝুলে থাকা ৬০ লক্ষ আবেদনের সবক’টির নিষ্পত্তি ঘটছে।

    কীভাবে আবেদন করবেন

    এখন প্রশ্ন হল, ঠিক কীভাবে ট্রাইবুনালে (Appellate Tribunal) করা যাবে আবেদন? আর সেই বিষয়টাও ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। তাঁদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, অনলাইন ও অফলাইন, দুইভাবেই আবেদন করা যাবে ট্রাইবুনালে। কমিশন জানিয়েছে, অনলাইনে আবেদন করতে চাইলে ECI Net প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে https://ecinet.eci.gov.in-এ গিয়ে আপিল করুন। তাহলেই কাজ হবে। আপনার আবেদন শুনবে ট্রাইবুনাল। আপনি চাইলে অফলাইনেও আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ডিএম, এসডিও ও এডিএম অফিসে গিয়ে করতে হবে আবেদন। তারপর ওই সংশ্লিষ্ট অফিস থেকেই নথি ডিজিটালাইজড করে আপলোড করে দেওয়া হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় শুরু হবে নিষ্পত্তি। সমস্ত আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে আর ট্রাইবুনালের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গে বিশেষ নজর

    অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল (WB Voter List Tribunal) গঠন করে নির্বাচন কমিশন (ECI) বুঝিয়ে দিল এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ভোটপর্ব সবেতেই স্বচ্ছ্বতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর তারা। উত্তরবঙ্গের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে কমিশনের। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সুপারিশে রাজ্যে মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে। ১৯টির মধ্যে ৫টি ট্রাইবুনাল উত্তরবঙ্গে। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ছাড়া কোচবিহারের জন্য পৃথক পৃথক ট্রাইবুনাল থাকছে। অন্য একটি ট্রাইবুনাল কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার আবেদনের নিষ্পত্তি করবে।

  • Assembly Elections 2026: প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ সোমবার! তার পর কবে অতিরিক্ত তালিকা, জানাল কমিশন

    Assembly Elections 2026: প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ সোমবার! তার পর কবে অতিরিক্ত তালিকা, জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট কবে বেরোবে, তা জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। সোমবার (Assembly Elections 2026) বিকেলেই প্রথম দফায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বার করা হবে। কমিশন সূত্রে খবর, বুথভিত্তিক সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary List) পুরো প্রস্তুত না হওয়ায় শুক্রবার তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন। শুক্রবার পর্যন্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের তরফে ৪০ হাজার বুথের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই দুটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বার করবে কমিশন।

    প্রতি শুক্রবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ২৭ লাখ ৩০ হাজার অভিযোগের নিস্পত্তি হয়েছে। রাজ্যের সাত হাজারের বেশি বুথ থেকে নিষ্পত্তি হওয়া নামের তালিকা কমিশনের কাছে পৌঁছেছে। তবে সম্পূর্ণ তালিকা এখনও পাওয়া যায়নি। বাকি বুথ থেকে তালিকা কমিশনে আসার পরেই প্রথম অতিরিক্ত তালিকাটি প্রকাশ করা যাবে। সোমবার বিকেলের পর শুক্রবার ফের তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। তার পরে প্রতি শুক্রবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তবে তা ছিল অসম্পূর্ণ। ওই তালিকায় ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম ‘যোগ্য’ হিসাবে রয়েছে। ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার রয়েছেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন।

    ইদের পরেই তালিকা প্রকাশ

    হাইকোর্ট নিযুক্ত ৭০০-র বেশি বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বানানোর কাজ করছেন। সিইও দফতর সূত্র জানা গিয়েছে, এই গতিতে চললে ভোটের আগে সমস্ত বিবেচনাধীন ভোটারের নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল, দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে হবে। শুক্রবারই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট দিন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। ইদের সময় তালিকা প্রকাশে মত নেই বিচারকদের। তাঁদের আশঙ্কা, ইদের সময় তালিকা বেরোলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে তাঁদের। গতকালই দুই দফায় ডিজি ও স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। সিইও ও বিশেষ পর্যবেক্ষকের সঙ্গেও বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে, বৈঠকে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সামনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। ইদের সময় তালিকা প্রকাশে মত ছিল না বিচারকদের। পরবর্তীতে ইদ মেটার পরই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • Weather Update: রাত থেকে বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া! শহরে পারদ নামল ছ’ডিগ্রি, কতদিন চলবে নিমনচাপ?

    Weather Update: রাত থেকে বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া! শহরে পারদ নামল ছ’ডিগ্রি, কতদিন চলবে নিমনচাপ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বসন্তের মাঝেই বৃষ্টির ছোঁয়া। রাতভর বৃষ্টি হল কলকাতায়। শনিবার সকাল থেকেও আকাশের মুখ ভার। রোদ ওঠেনি। উল্টে ঝিরঝির বৃষ্টি হয়ে চলেছে। কয়েকদিন এমন আবহাওয়া (Rain in Bengal) থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় বৃষ্টি চলবে। কোথাও কোথাও দেখা দিতে পারে শিলাবৃষ্টি। সঙ্গে উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রও আপাতত দু’দিন উত্তাল থাকবে। ঘূর্ণাবর্তের কারণেই শনিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আলিপুর (Weather Update)।

    দক্ষিণবঙ্গে ধারাপাত

    শনিবার দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি রয়েছে। বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের কিছু অঞ্চলে আজ ঝড়ো হাওয়ার গতি আরও বেশি হতে পারে- ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত। সেই সঙ্গে থাকতে পারে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও। কলকাতা ও বাকি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে (West Bengal Today) দমকা হাওয়ার গতি ৫০-৬০ কিমির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে বলে পূর্বাভাস। রবিবারও বৃষ্টি (Rain Forecast) চলবে দক্ষিণবঙ্গে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রবিবার হালকা বৃষ্টিপাত (Weather Update) দেখা যেতে পারে।

    রাজ্য জুড়েই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি

    হাওয়া অফিস (Weather Update) জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং সংলগ্ন দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশের উপর এবং ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সেখান থেকে একটি অক্ষরেখা মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ হয়ে নাগাল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। তা গিয়েছে ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণ অসমের উপর দিয়ে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অক্ষরেখাটির উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তাই রাজ্য জুড়েই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে।

    ঠান্ডা হাওয়ার দাপট

    ঝড়বৃষ্টির (Rain Forecast) কারণে এক ধাক্কায় কলকাতার পারদ নেমে গিয়েছে ছ’ডিগ্রি। শুক্রবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সকালে তা হয়েছে ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়েও যা ৪.৪ ডিগ্রি কম। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দু’দিন পারদ নামার পর ফের তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি বাড়বে তাপমাত্রা। উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগ চলছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। মালদা, উত্তর দিনাজপুর-সহ উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা। আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি চলবে।

  • IPL 2026: মাঠে নামতে তৈরি পাথিরানা! আইপিএল শুরুর আগে স্বস্তি নাইটদের শিবিরে, হর্ষিতের বিকল্প খুঁজছে কেকেআর

    IPL 2026: মাঠে নামতে তৈরি পাথিরানা! আইপিএল শুরুর আগে স্বস্তি নাইটদের শিবিরে, হর্ষিতের বিকল্প খুঁজছে কেকেআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হবে আইপিএল (IPL 2026)। তার আগে স্বস্তি শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) শিবিরে। বোলিং আক্রমণ নিয়ে চিন্তা অনেকটাই কমল অভিষেক নায়ারদের। শ্রীলঙ্কার জোরে বোলার মাথিশা পাথিরানা চোট সারিয়ে মাঠে নামার জন্য তৈরি। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাঁকে ফিট ঘোষণা করেছে। তবে দেশের তারকা ক্রিকেটার হর্ষিত রানাকে চোটের জন্য পুরো আইপিএল থেকেই বাদ যেতে হচ্ছ। টি-২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন। অস্ত্রোপচার করা হয়েছে হর্ষিত রানার হাঁটুতে। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সিতে অন্তত প্রথম চার ম্যাচ খেলতে পারবেন না তিনি। এমনকী, গোটা আইপিএল থেকেই তাঁর ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সুস্থ পাথিরানা, কবে যোগ দেবেন!

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় চোট পেয়েছিলেন পাথিরানা। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান তিনি। তার পর থেকে মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর আইপিএল খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছিল আশঙ্কা। তবে সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সচিব বান্দুলা দিশানায়েকে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘পাথিরানার রিহ্যাব সম্পূর্ণ। ও এখন সম্পূর্ণ ফিট। আইপিএল খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ওঁকে। বাকিটা ওঁর ফ্র্যাঞ্চাইজি সিদ্ধান্ত নেবে। ম্যাচ খেলার মতো জায়গায় রয়েছে মনে করলে, ওঁকে খেলাতেই পারে। আমরা শুধু বলতে পারি, এই মুহূর্তে পাথিরানা ফিট এবং আইপিএল খেলতে কোনও সমস্যা নেই।’’ পাথিরানা কবে কেকেআর শিবিরে যোগ দেবেন, তা জানা যায়নি। আইপিএলে কেকেআরের প্রথম ম্যাচ ২৯ মার্চ মুম্বইয়ে। তার আগে ২৫ মার্চ অজিঙ্ক রাহানেরা মুম্বই চলে যাবেন। মনে করা হচ্ছে, পাথিরানা সেখানেই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। আইপিএলের গত নিলামে ২৩ বছরের পাথিরানাকে ১৮ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিলেন কেকেআর কর্তৃপক্ষ।

    হর্ষিতের জায়গায় কে?

    আইপিএল মরশুম শুরুর আগে নাইটদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হল হর্ষিত রানার না থাকা। যা খবর, তাতে গোটা মরশুমেই হর্ষিতকে পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পরিবর্ত হিসাবে কয়েকজনের নাম ভেসে আসছে। যদিও কেকেআর এখনই কোনও পরিবর্ত চাইবে না। কিছুদিন অপেক্ষা করা হবে। নিতান্তই যদি হর্ষিতের না খেলাটা নিশ্চিত হয়ে যায় তাহলে পরিবর্তের কথা ভাবা হবে। তবে সরকারিভাবে নাম ঘোষণা না করলেও কয়েক জন পেসারকে পরিবর্ত হিসাবে ভেবে রাখছে নাইটরা। সিমারজিৎ সিং, নভদীপ সাইনির মতো জনা কয়েক পরিচিত পেসারকে ইতিমধ্যেই ট্রায়ালে ডাকা হয়েছে। যা শোনা গেল, আরও কিছুদিন পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে আরও কয়েকজনকে দেখে নেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেন্সে আচমকা হাজির দুই ফাস্টবোলার। নভদীপ সাইনি ও আকাশ মাধওয়াল। ইডেন গার্ডেন্সের এল ব্লকের সামনে যে দুই নেটে বুধবার থেকে প্র্যাক্টিস সেশন চালাচ্ছে কলকাতা নাইট রাইডার্স, সেখানে দুজনই বল করলেন। সঙ্গে বোলিং করলেন সিমারজিৎ সিংও। গত আইপিএলে যিনি চেন্নাই সুপার কিংসে খেলেছেন। তিন বোলারকেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে জরিপ করে নিচ্ছিলেন অভিষেক নায়ার, শেন ওয়াটসন, ডোয়েন ব্রাভোরা।

  • Indian diplomacy: রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা

    Indian diplomacy: রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার দিনভর কূটনৈতিক (Indian diplomacy) আলোচনায় অংশ নেয় দিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে ফোনালাপ করেন, পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও উপসাগরীয় দেশ ও ইজরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার মূল বিষয় ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা, অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপ

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপে মোদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত উত্তেজনা হ্রাস করে আলোচনার পথে ফেরার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। দুই নেতাই একমত হয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ (Diplomatic Engagement) চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি, তবেই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব। যুদ্ধপরিস্থিতিতে ইরান, ইজরায়েল, কুয়েত, ওমান-সহ বিভিন্ন দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    দ্রুত শান্তি ফেরানোর আহ্বান

    জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয়ের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং অঞ্চলে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানান। বুধবার কুয়েতের (Kuwait) যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ (Sheikh Sabah Al-Khaled Al-Hamad Al-Mubarak Al-Sabah)-এর সঙ্গেও ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি (Security Situation) এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা (Regional Stability) বজায় রাখার প্রশ্ন।

    গভীরভাবে উদ্বেগজনক

    এছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও কথোপকথনে মোদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এক্সে (X, formerly Twitter) পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নিজে জানান, “পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আমি অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।” আলোচনায় উঠে আসে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) নিরাপত্তার বিষয়টিও। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর (Energy Corridor) হিসেবে পরিচিত এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল (Oil Supply) নিয়ে যাতায়াত করে একাধিক জাহাজ। মোদি স্পষ্ট বলেন, “এই প্রণালী দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল (Safe Navigation) নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” কারণ, এখানে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের (Energy Crisis) আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

    সংলাপ ও কূটনীতিই শ্রেয়

    ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গেও ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী মোদি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ওমানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারতের নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে ওমানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের পক্ষেও মত দেন। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian Community) নিরাপত্তা ও কল্যাণে (Safety and Wellbeing) সেখানকার নেতৃত্বের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি।

    বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে আলোচনা

    আরব দুনিয়ার সংঘাত (Middle East tension) গড়িয়েছে ২১তম দিনে। এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (India FM Jaishankar) ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিদেওন সা’আর-র ( Israeli Foreign Minister Gideon Sa’ar) সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Pronali) এর প্রভাব নিয়ে দু’পক্ষ মতবিনিময় করেছেন বলে খবর সূত্রের। জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই ইরান, ইজরায়েল এবং গালফ অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ইজরায়েলি বিদেশমন্ত্রী সাআর জানিয়েছেন, হরমুজ সঙ্কটে ইরানের নৌ অবরোধ পুরো বিশ্বের উপর প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “এটি কোনও আমেরিকান বা ইজরায়েলি সমস্যা নয়, এটি বিশ্ব শৃঙ্খলা ও অর্থনীতির জন্য গুরুতর সমস্যা। এখনই সমাধান না হলে এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে।” অন্যদিকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী রীম আল হাশিমির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি ইউএই-তে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেন।

    কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের

    সব মিলিয়ে, অশান্ত পশ্চিম এশিয়া নিয়ে এই কূটনৈতিক তৎপরতা (Indian diplomacy)ভারতের সক্রিয় ভূমিকারই প্রতিফলন—যেখানে একদিকে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের আবহে (War Situation) কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয় থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত শান্তি, সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিথিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য বদ্ধপরিকর দিল্লি।

  • India-Russia Relations: রাশিয়ার গোপন তথ্যে বাজিমাত! ভারতবিরোধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বিদেশিদের ধরতে সফল এনআইএ

    India-Russia Relations: রাশিয়ার গোপন তথ্যে বাজিমাত! ভারতবিরোধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বিদেশিদের ধরতে সফল এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার (India-Russia Relations) গোপন তথ্যের উপর ভিত্তি করেই মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এনআইএ ছয় ইউক্রেনীয় এবং একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। এনআইএ (NIA Arrest Foreigners) গত তিন মাস ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে আসছিল। অবশেষে রাশিয়ার শেয়ার করা তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ দিল্লি, লখনউ এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনা ফের ভারত-রাশিয়া দৃঢ় সম্পর্কের প্রমাণ দিল।

    রাশিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যেই বাজিমাত

    এনআইএ সূত্রে খবর, রাশিয়ার গোয়েন্দারা এই বিদেশিদের নিয়ে গোপন তথ্য পাঠিয়েছিল ভারতকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিদেশিদের ধরে এনআইএ। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকেই ভারত হয়ে মায়ানমারে যাওয়া আসা করছে মার্কিন ভাড়াটে ম্যাথু ভ্যানডাইক। এনআইএ-র প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে প্রায় তিন মাস ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়েছে এনআইএ-র দল। পরে ভারতের তিনটি শহর থেকে ধরা হয়েছিল ভ্যানডাইক, ম্যাক্সিম হোনচারুক, পেট্রো হুবরা, সুকমানোভস্কি ইভান, স্টেফানকিভ মারিয়ান, স্লিভিয়াক তারাস এবং কামিনস্কি ভিক্টরকে। মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইককে গ্রেফতার করা হয়েছিল কলকাতা থেকে।

    ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগ অভিযুক্তদের!

    মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার কজন আবার ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন আইরিশ সাংবাদিক চেয় বাওয়েস। তিনি দাবি করেন, ধৃত মারিয়ান স্টেফানকিভ ইউক্রেনের ইন্টেলিজেন্স সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও নাৎসি সংগঠন ‘রাইট সেক্টরের’ সঙ্গেও মারিয়ান যুক্ত ছিল বলে দাবি করেন বাওয়েস। এদিকে ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ ভাদিম রবিনোভিচ আবার দাবি করেছেন, এই মারিয়ান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট আরাটা ভলান্টিয়ারের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও ‘কোলো চস্তি’ নামে একটি এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা এই মারিয়ান। ভারতে ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের অধিকাংশই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন প্রাক্তন সাংসদ রবিনোভিচ। ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ দাবি করেন, মারিয়ান এবং তার সংগঠন একটা সময় ইউক্রেনে পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

    ভুল করে সীমান্ত পার করা যায়?

    অপরদিকে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করেছে, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে ‘ভুল’ করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও, আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত? রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

    ভ্যানের মতো ভাড়াটে সৈন্য ভয়ঙ্কর!

    ধৃতদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইকক। ভ্যানের নামে খোলা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটিতে তার পরিচয় ‘মিডিয়া ব্যক্তিত্ব’। ইউক্রেনে বাস করে বলে লেখা রয়েছে। সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্টে বিভিন্ন দেশে সরকার বদলের গোপন অভিযানে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে সে। ভেনেজুয়েলার উল্লেখও রয়েছে। ভ্যান লেখে, ‘ভেনিজুয়েলা, বর্মা (মায়ানমার), ইরান এবং অন্য স্বৈরাচারী শাসকদের বলব, আমরা আসছি। রাশিয়া, তোমাদের উৎখাত করতেও আসছি আমরা’। কয়েক মাস আগে করা একটি পোস্টে ভ্য়ান জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছে সে। ইলন মাস্কের ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা স্টারলিঙ্ক ব্য়বহারের উল্লেখও ছিল। ইরাকে যুদ্ধেও অংশ নেয় সে। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সেখানেই ছিল সে। মোটরসাইকেলে চেপে উত্তর আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়া চষে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে ভ্যানের। লিবিয়ায় বিদ্রোহী যোদ্ধাদের দলে যোগ দেয় সে। সেখানে ছ’মাস জেলও খেটেছে। ২০১১ সালে যুদ্ধ শেষ হলে, জেল পালিয়ে আমেরিকায় ফিরে যেতে সফল হয়। এর পর সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে শুরু হলে, তথ্য়চিত্র বানানোর অজুহাতে সেখানেও পৌঁছে যায় ভ্য়ান। আইএসআইএস-এর হাতে সেখানে দুই সাংবাদিক বন্ধু জেমস ফোলি এবং স্টিভেন সটলঅফকে হারায় ভ্যান। তাতেই পরিকল্পনা বদলে ফেলে সে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংগঠনও তৈরি করে ভ্য়ান, যারা ভিন্ন ভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে পরামর্শ দিত। ভ্যানডাইক দাবি করে, তার সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সরকারের কোনও যোগ নেই। তবে উল্লেখ্য বিষয়, সব ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার যেদিকে ঝুঁকে থাকে, ম্যাথু ভ্যানডাইকও সেই পক্ষের হয়েই ‘কাজ’ করে।

    ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক

     এনআইএ অভিযোগ করেছে, ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল এই বিদেশিরা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাশিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে ধৃত ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিক একটি বড় দলের অংশ, যাদের মোট সংখ্যা প্রায় ১৪। এখন বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে—তারা এখনও মিয়ানমারে আছে নাকি অন্য কোথাও পালিয়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা ইউরোপ থেকে বড় পরিমাণ ড্রোন মায়ানমারে পাচার করতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এদিকে, ভারতে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, এই তদন্তে তাদের দেশ সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তারা চান প্রক্রিয়াটি যেন “নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ” হয়। তবে মার্কিন দূতাবাস এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

  • US Mercenary in India: কলকাতায় মার্কিন ‘জঙ্গি প্রশিক্ষক’ ধরা পড়তেই চর্চায় শেখ হাসিনার ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ সতর্কবার্তা

    US Mercenary in India: কলকাতায় মার্কিন ‘জঙ্গি প্রশিক্ষক’ ধরা পড়তেই চর্চায় শেখ হাসিনার ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ সতর্কবার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগে এক মার্কিন ভাড়াটে সেনাসহ (US Mercenary in India) ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেফতারের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) পুরনো এক সতর্কবার্তা। ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে তিনি দাবি করেছিলেন, এক “শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি” তথা এক বিদেশি শক্তি বাংলাদেশ ও মায়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে একটি “খ্রিস্টান রাষ্ট্র” গঠনের পরিকল্পনা করছে। যার কেন্দ্র হতে পারে বঙ্গোপসাগর। তখন এই মন্তব্যকে অনেকেই রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ—বিশেষ করে বিদেশি যোদ্ধাদের উপস্থিতি—কিছু বিশ্লেষকের মতে সেই বক্তব্যকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

    বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস

    পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি। সেই আবহে ভারতে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। আমেরিকার বাসিন্দা, এক ভাড়াটে যোদ্ধাকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। গ্রেফতার করা হয়েছে ইউক্রেনের ছয় নাগরিককেও। মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে ঢোকার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। মায়ানমারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে তারা যুদ্ধের কলা-কৌশল শেখাতে, অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতে যাচ্ছিল বলে জানা যাচ্ছে। বিগত কয়েক মাস ধরে নজরদারি চালিয়ে ওই সাতজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে বলে খবর। ধৃতদের মধ্যে আমেরিকার নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যান ডাইক (Matthew VanDyke), ইউক্রেনের নারিক হারবা পেত্রো, স্লাইভিয়াক টারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্টেফানকিভ মারিয়ান, হানচারুক মাকসিম এবং কামিনস্কি ভিক্টর বলে শনাক্ত করা গিয়েছে। ধৃতদের ডিজিটাল গতিবিধি পরখ করে দেখছে এনআইএ ধৃতদের নেটওয়র্কে অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে।

    ভ্য়ানের গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

    তদন্তে নেমে বেশ কিছু অডিও রেকর্ডিং হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেখানে বিভিন্ন দেশে বিদ্রোহী সংগঠনগুলিকে সমর্থন জোগানোর কথা স্বীকার করতে শোনা গিয়েছে আমেরিকার নাগরিক ভাড়াটে সেনা ভ্যানকে। তার দাবি, বিদেশি যোদ্ধাদের বিদ্রোহে লিপ্ত করা তার উদ্দেশ্য় নয়। বরং স্থানীয় মানুষজনকে বিদ্রোহের আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করাই লক্ষ্য তার। ভেনেজুয়েলা, মায়ানমার এবং ইরানে বিদ্রোহের আগুন জ্বালাতে ভাড়াটে সৈনিকদের আহ্বানও জানায় সে। ভ্য়ানের গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উত্তর-পূর্ব ভারতে সশস্ত্র উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির যে বাড়বাড়ন্ত, তাতে তার সংযোগ পাওয়া গিয়েছে। উগ্রপন্থীদেরও সে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে ভ্য়ানের গ্রেফতারি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। ভ্যান চরবৃত্তিতে লিপ্ত ছিল কি না, তথ্য পাচার করছিল কি না, ভারতবিরোধী, নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলিকে মদত জোগাচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হাসিনার সতর্কবার্তার যোগসূত্র

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই গ্রেফতারির সঙ্গে শেখ হাসিনার সেই সতর্কবার্তার সম্ভাব্য যোগ থাকতে পারে। তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে ক্ষমতায় ফেরাতে সাহায্যের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি বিদেশি ঘাঁটি তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। হাসিনা তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভেঙে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, একটি শক্তিশালী দেশ বঙ্গোপসাগরে ঘাঁটি বানাতে চায়। তিনি তা হতে দিচ্ছেন না বলেই তাঁর সরকারের সামনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁকে ভোটের আগে এই ঘাঁটি বানানোর অনুমতি দেওয়ার বদলে, সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে, অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। তবে, কোনও বিশেষ দেশের নাম করেননি হাসিনা।

    খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র

    হাসিনা দাবি করেন, ইন্দোনেশিয়ার ভেঙে যেমন পূর্ব তিমুর তৈরি করা হয়েছিল, সেই রকমই বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটা অংশ নিয়ে একটা খ্রিস্টান দেশ তৈরির চক্রান্ত চলছে। হাসিনা বলেন, “ভারত মহাসগাগরের এই শান্তিপূর্ণ জায়গাটার উপর তাদের নজর। এখানে বেস বানিয়ে তারা কোথায় হামলা করতে চায়? আমার যুদ্ধ ঘরে-বাইরে, সব জায়গায়। পূর্ব তিমুরের মত বাংলাদেশের একটি অংশ নিয়ে, তারপর চট্টগ্রাম, মায়ানমার মিলে এখানে একটা খ্রিষ্টান দেশ বানাবে। বঙ্গোপসাগরে একটা ঘাঁটি করবে।” প্রাচীনকাল থেকেই বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে আসছে। শেখ হাসিনা কোনও দেশের নাম না করলেও, তাঁর ইঙ্গিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে, সেটা স্পষ্ট ছিল। ভ্যান-এর গ্রেফতারি তাঁর সেই কথাকে ফের আলোচনায় নিয়ে এল।

    ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ: ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মায়ানমারে চলমান সংঘর্ষে বহু আন্তর্জাতিক স্বার্থ জড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পক্ষ নিচ্ছে—এমন অভিযোগ নতুন নয়।

    ভারতের উত্তর-পূর্ব: উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক কৌশলগত করিডর। মিজোরাম এবং সংলগ্ন অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সংযোগস্থল, পাশাপাশি চীনের প্রভাব বলয়ের কাছাকাছি। বিদেশি যোদ্ধাদের উপস্থিতি, মায়ানমারের অস্থিরতা ভারতের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ক্রমশ একটি সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে।

    ‘প্রক্সি ওয়ার’ তত্ত্ব: বিশেষজ্ঞ মহলের র মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি একটি বৃহত্তর ‘প্রক্সি ওয়ার’-এর ইঙ্গিত হতে পারে, যেখানে বড় শক্তিগুলি সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে।

    মিজোরাম হয়ে মায়ানমার—নতুন করিডর?

    মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা আগেই জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধফেরত যোদ্ধারা মিজোরাম হয়ে মায়ানমারের চিন প্রদেশে যাচ্ছে এবং বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ২০০০ বিদেশি আইজলে এলেও তাদের বেশিরভাগকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি—যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলি মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। যদিও “খ্রিস্টান রাষ্ট্র” তৈরির অভিযোগ নিয়ে এখনো কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি, তবুও ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে কৌতূহল ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে মার্কিন ভাড়াটে যোদ্ধা ম্যাথিউ ভ্যানডাইক-এর গ্রেফতারি।

     

     

     

     

     

  • WB Elections 2026: কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক! বাংলার অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের উপরেই ভিনরাজ্যে ভোটের দায়িত্ব

    WB Elections 2026: কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক! বাংলার অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের উপরেই ভিনরাজ্যে ভোটের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে যে একাধিক আইএএস ও আইপিএস অফিসারকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার তাঁদেরই বেশকয়েকজনকে নির্বাচনী (WB Elections 2026) দায়িত্ব সামলাতে ভিনরাজ্যে পাঠানো হল৷ কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে নতুন দায়িত্বস্থলে যোগ দিতে হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। এঁদের প্রত্যেককেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা এবং নির্বাচনী বিধি কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর।

    তামিলনাড়ুতে ভোটের কাজে পাঠানো হল

    আসন্ন বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) নির্বাচন কমিশন (ECI Gyanesh Kumar) পুরনো সব ছক ভেঙে দেওয়ার পথে হাঁটছে। প্রশাসনিক রদবদল যে দিকে এগোচ্ছে তাতে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে একাধিক রদবদল হয়েছে। শুরুটা হয়েছিল মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে দিয়ে। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয় দুষ্মন্ত নারিয়াল। এর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয় সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। পুলিশের শীর্ষ স্তরেও একাধিক রদবদল হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি, রাজ্যের এডিজি আইনশৃঙ্খলা-সহ পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তাকেও সরানো হয়েছে ভোটের আগে।

    নবান্নর পোস্টিং খারিজ করে আইএএস-দের ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক 

    বুধবার অর্ধেকের বেশি জেলার ডিএম বদল করেছিল কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের নতুন পোস্টিং দিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু সেই পোস্টিংয়ের পর কমিশন ৬ জন আইএএস অফিসারকে বাইরের রাজ্যে অবজার্ভার হিসেবে পাঠিয়ে দিল। এর আগে আইপিএস-দের ক্ষেত্রে যা হয়েছিল, আইএএস বা ডিইও-দের ক্ষেত্রেও তাই হল। মোট তিন দফায় তামিলনাড়ু যেতে হবে এই আধিকারিকদের। প্রথম দফায় শুক্রবারের মধ্যে, থাকতে হবে অন্তত এক সপ্তাহ, দ্বিতীয় দফায় যেতে হবে ৩০ মার্চ, থাকতে হবে ভোট শেষ হ‌ওয়া পর্যন্ত, তৃতীয় দফায় যেতে হবে কাউন্টিংয়ের দু-দিন আগে।

    রয়েছেন রাজ্য সরকারের দুই সচিবও

    ওই ছ’জন আইএএস অফিসারের মধ্যে রাজ্য সরকারের দু’জন সচিবও রয়েছেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ ব্যাচের আইএএস প্রীতি গোয়েল, ২০১৪ ব্যাচের সিয়াদ এন, ২০১০ ব্যাচের অরবিন্দকুমার মিনা, ২০০৯ ব্যাচের রানি এ আয়েশা, ২০০৬ ব্যাচের পি উলাগানাথন, ২০১৩ সালে আইএএস শামা পরভিনকে তামিলানাড়ুতে পাঠিয়েছে কমিশন। এই ছ’জনকেই তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় ভোট পর্যবেক্ষকের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইএএস উলাগানাথন এবং শামা রাজ্য সরকারের সচিব। উলাগানাথন পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ দফতরের সচিব। পাশাপাশি, তিনি তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ ইলেক্ট্রনিক্স টেস্টিং এবং স্ট্যান্ডার্ড বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। শামা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সচিব। পাশাপাশি, জিটিএর প্রিন্সিপ্যাল সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে তাঁর কাঁধে।

    রাজ্যের অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের হাতে ভিনরাজ্যের দায়িত্ব!

    বুধবার রাতে নির্দেশিকা প্রকাশ করে রাজ্যের ১৫ জন আইপিএস অফিসারকে তামিলনাড়ু এবং কেরলে ভোটের কাজে পাঠানোর কথা জানিয়েছিল কমিশন। পরে এঁদের মধ্যে পাঁচজনের বদলিতে স্থগিতাদেশ দেয় কমিশন। তবে রাজ্যের বাকি অপসারিত ১০ জন আইপিএস আধিকারিকের জন্য পুরনো নির্দেশই বহাল থাকে। অর্থাৎ, তাঁদের কেরল এবং তামিলনাড়ুতে যেতে হচ্ছে। বুধবার রাজ্যের দুই সচিব প্রিয়ঙ্কা শিঙ্গলা এবং পি মোহনগান্ধীকে ভিন্‌রাজ্যে ভোটের কাজে পাঠানো হয়। প্রিয়ঙ্কা বিপর্যয় মোকাবিলা এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সিনিয়র বিশেষ সচিব। মোহনগান্ধী শিল্প, বাণিজ্য এবং উদ্যোগ বিভাগের সচিব তথা পশ্চিমবঙ্গ খনিজ উন্নয়ন এবং বাণিজ্য কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

    ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক আরও ৬ আইপিএস

    মঙ্গলবার পূর্ত দফতরের সচিব অন্তরা আচার্য এবং খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের প্রধান সচিব পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকিকে অন্য রাজ্যের পর্যবেক্ষক করে পাঠানোর কথা জানায় কমিশন। তার আগে রাজ্যের অপসারিত স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে অন্য রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, আগে স্থগিতাদেশ দেওয়া ৫ সহ ৬ আইপিএসকে বৃহস্পতিবার ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক করে কমিশন। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াক্কার রাজাকে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধৃতিমান সরকারকে কেরলে, সন্দীপ কাররাকে নাগাল্যান্ডের উপনির্বাচনে এবং আমনদীপকে তামিলনাড়ুতে পাঠানো হয়েছে।

    কেন ভিনরাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

    কমিশনের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি। রবিবার বাংলার বিধানসভা ভোট ঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিক পদে বিস্তর বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, সিপি, ডিজি, ডিআইজি, ডিএম থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ একাধিক আধিকারিককে বদলে দিয়েছে তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (ECI Gyanesh Kumar) একাধিক চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে কোনও লাভই হয়নি। উল্টে দেখা গেল, চিঠি বা সোশ্যাল পোস্টের পর রাতারাতি আরও বদল করেছে কমিশন।

    সহিংসতা কমার আশা

    পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘিরে বার বার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য প্রাণহানি হয়েছে। শান্তিপূর্ণ, ভয়হীন ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ গণতন্ত্রের এই উৎসবে নির্ভয়ে অংশ নিতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশন যেভাবে এবার সক্রিয় হয়েছে এবং যে সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গবাসী একটি হিংসামুক্ত নির্বাচন (WB Elections 2026) দেখতে পাবেন বলে আশা করা যায়। তবে এই প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ সাফল্য কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে না, বরং নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরের সরকারি আধিকারিক, পুলিশ প্রশাসন এবং সর্বোপরি সাধারণ নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা ও সৎ ইচ্ছা থাকলে তবেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের বিগত নির্বাচনগুলিতে ব্যাপক রিগিং, দুর্নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি একটি সাধারণ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। এটা সাধারণ ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেয়। প্রশাসনকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতেই হয়তো নির্বাচন কমিশন এবার এত বিপুল সংখ্যায় উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের রদবদলের পদক্ষেপ করছে।

  • Suvendu Adhikari: তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা কত, তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ! কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা কত, তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ! কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তিনি। মনোনয়ন জমা দেবেন। কিন্তু তার আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। মূলত পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিজেপি নেতা।

    সঠিক তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ

    শুভেন্দুর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে মোট কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই সঠিক তথ্য পুলিশ তাঁকে দিচ্ছে না। এদিকে, একজন প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট হলফনামা অর্থাৎ ২৬ নম্বর ফর্ম জমা করতে হয়। সেখানে প্রার্থীকে তাঁর ব্যক্তিগত সমস্ত সঠিক তথ্য উল্লেখ করতে হয়। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অপরাধমূলক রেকর্ড, আর্থিক অবস্থা, পেশা ও আয়ের উৎস, সরকারি বকেয়া সবই বিস্তারিত জানাতে হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার নির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছে না, ফলে এই হলফনামা পূরণে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধী দলনেতার একাধিক ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনো নতুন এফআইআর করা যাবে না।

    আইনি দিকটিও সুরক্ষিত রাখতে চান শুভেন্দু

    তবে পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত সেই সুরক্ষাকবচ তুলে নেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এ ধরনের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। যদিও একই সঙ্গে আদালত শুভেন্দুকে বড় স্বস্তি দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫টি মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়, যা আদালতের মতে ভিত্তিহীন বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। এরই মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় তাঁর কনভয়ে হামলার ঘটনায় নতুন করে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল হাইকোর্ট। এই পরিস্থিতিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শুভেন্দু। এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই তিনি জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের ময়দানে নামার পাশাপাশি আইনি দিকটিও সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন তিনি।

  • Indian Navy: হরমুজের সামনে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় টহল যুদ্ধজাহাজের

    Indian Navy: হরমুজের সামনে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় টহল যুদ্ধজাহাজের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধ-জর্জরিত পশ্চিম এশিয়া। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাত-এর প্রেক্ষিতে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। এই আবহে ভারত সরকার দেশের জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) আরও যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, গালফ অফ ওমান অঞ্চলে বর্তমানে থাকা তিনটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে আরও কয়েকটি জাহাজ যোগ করা হবে। এতে করে প্রণালীর পূর্ব দিকে মোট যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ছয় থেকে সাতটিতে পৌঁছাতে পারে।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ

    এই সপ্তাহের শুরুতেই একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ বন্দর থেকে রওনা হওয়া। এটি ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে ভারতের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছে দেয়। এর আগে, “শিবালিক” এবং “নন্দা দেবী” নামের দুইটি এলপিজি বাহক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রায় ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ প্রণালীর পশ্চিমে আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে হয়, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতীয় নৌবাহিনীর অপারেশন সঙ্কল্প

    এই অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর উপস্থিতি অপারেশন সঙ্কল্প (Operation Sankalp)-এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা ২০১৯ সাল থেকে চালু রয়েছে। এর লক্ষ্য ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে আস্থা বজায় রাখা। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের অক্টোবর থেকে গাল্ফ অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনী নিয়মিত জলদস্যু বিরোধী টহল চালিয়ে যাচ্ছে, যা সমুদ্রপথে ভারতের বাণিজ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    ভারতের বন্দরে পৌঁছেছে তৃতীয় জাহাজ

    কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বিরাট সাফল্য পেয়েছে ভারত। গত তিনদিনে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের বন্দরে পৌঁছেছে তৃতীয় জাহাজ। সোমবার এবং মঙ্গলবার এলপিজি বোঝাই জাহাজ এসে পৌঁছেছিল ভারতে। জানা গিয়েছে, বুধবার আশি হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি অশোধিত তেল নিয়ে গুজরাটে পৌঁছে গিয়েছে ভারতের জাহাজ ‘‘জাগ লড়কি’’। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে বিপুল পরিমাণ তেল নিয়ে এসেছে জাহাজটি। গত শনিবার আমিরশাহীর ফুজাইরা বন্দর থেকে তেল বোঝাই করা হচ্ছিল ভারতীয় জাহাজটিতে। সেসময়েই বন্দরটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। হামলা সামলে তেল বোঝাই জাহাজ আমিরশাহীর বন্দর ছাড়ে রবিবার। কিন্তু হরমুজ প্রণালী পেরনোর সময়ে সাময়িক ভাবে আটকে পড়ে জাহাজটি। অবশেষে হরমুজ পেরিয়ে ভারতের মুন্দ্রা বন্দরে এসেছে জাগ লড়কি। অন্তত ৮০ হাজার ৮৮৬ মেট্রিক টন অশোধিত তেল রয়েছে এই জাহাজে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ জাহাজটি নিরাপদে মুন্দ্রায় এসে পৌঁছেছে।

    হরমুজ প্রণালীতে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    পশ্চিম এশিয়ার উপকণ্ঠে হরমুজ প্রণালীতে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা। এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও। তবে নৌবাহিনীকে কী ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা কোন জাহাজ পাহারা দিচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু খোলসা করতে চাননি। হরমুজের পশ্চিম প্রান্তে আটকে থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজের অবস্থা ব্যাখ্যা করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক। দেশে এলপিজি মজুত এবং জোগানের পরিস্থিতিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বুধবার কেন্দ্রের জাহাজ মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে যৌথ ভাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সেখানেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নিজ নিজ মন্ত্রকের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন প্রতিনিধিরা।

    ২২টি জাহাজে ৬১১ জন ভারতীয়

    ইরানে আটকে থাকা ভারতীয় ছাত্রদের সাহায্যে তৎপর হয়েছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। আর্মেনিয়া বা আজারবাইজানের সীমান্ত পেরিয়ে স্থলপথে ওই দেশ ছাড়তে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। দূতাবাস এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকাও জারি করেছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিন্‌হা। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম প্রান্তে আটকে থাকা ২২টি জাহাজে ৬১১ জন ভারতীয় আছেন। তাঁরা সকলে সুরক্ষিত। নতুন করে কোনও ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম এশিয়া থেকে জলপথে ২৫ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরানো হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে এসেছে ১২৫টি ফোন এবং ৪৫০টি ইমেল।

     দেশে এলপিজি-র জোগান নিয়ে উদ্বেগ

    পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের কারণে দেশে এলপিজি-র জোগান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখনও গ্যাসের ডিলারদের অফিসের সামনে লম্বা লাইন পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিশেষ সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘এলপিজি পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। যদিও অনলাইন বুকিং পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ৯৩ শতাংশ বুকিং এখন অনলাইনে হচ্ছে। কিন্তু অনেক ডিলারের কাছে এখনও লম্বা লাইন পড়ছে। গ্রাহকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, বুকিংয়ের পর একটু অপেক্ষা করুন। সিলিন্ডার ঠিক পৌঁছে যাবে।’’ যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও দেশে পেট্রল বা ডিজেলের দাম বাড়েনি, জানিয়েছেন সুজাতা। বিমান চলাচলের জন্যেও পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। জ্বালানির ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অবস্থান— আগে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো হবে এবং তার পর বাইরে পাঠানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হবে।

LinkedIn
Share