Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোটে জিতে তৃণমূল সরকারকে টান মেরে কুর্সি থেকে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।  সপ্তাহখানেকের কিছু বেশি সময় ধরে বাংলায় রাজও করতে শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পদ্ম-দল। ঝমাঝম (Bengal Re-industrialisation Roadmap) শব্দ করে এগিয়ে চলেছে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। পালাবদলের সরকার যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে নানা ক্ষেত্রে, ঠিক তখনই নয়াদিল্লি নীরবে (Jobs Investment) এমন এক দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে, যা পূর্ব- ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগগুলির একটি হতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ

    আধিকারিকদের মতে, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রক এবং নীতি আয়োগকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। স্বাধীনতার আগে যে রাজ্যটি উপমহাদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল, সাতের দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে কমে যায় তার শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্ব। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক অশোক লাহিড়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হননি। অথচ ২০২১ সালে বালুরঘাট থেকে তিনি জয়ী হয়েছিলেন বিরাট ব্যবধানে। এই অশোকই নিতে চলেছেন নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আধিকারিকরা জানান, উৎপাদন শিল্পের পুনরুজ্জীবন, লজিস্টিক ব্যবস্থা, নগর পরিকাঠামো, নদীপথ বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ‘পুনঃশিল্পায়ন রোডম্যাপে’র প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কী বলছে বিজেপি?

    শিল্পপতি তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, “একটা ভুল ধারণা আছে যে বাংলার মানুষ শুধুই চাকরির পেছনে ছোটে। কিন্তু অনেকে ভুলে যান, এটাই স্যার আরএন মুখার্জির মার্টিন অ্যান্ড বার্ন, স্যার পিসি রায়ের বেঙ্গল কেমিক্যালস এবং ঘনশ্যাম দাস বিড়লার মতো উদ্যোক্তাদের ভূমি। আমরা সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। কলকাতা আমাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির স্বাভাবিক কেন্দ্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার।” স্বাধীনতার সময় (Bengal Re-industrialisation Roadmap) জিডিপির নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ছিল দেশের দ্বিতীয় ধনী রাজ্য। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে, যার অর্থনীতি ২২১ বিলিয়ন মার্কিন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। একসময় কলকাতা ছিল ভারতের বাণিজ্যিক পুঁজিবাদের সদর দফতর—পাটকল, ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা, চা নিলাম কেন্দ্র, ব্যস্ত নদীবন্দর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ব-ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করত।

    ধসে পড়ে শিল্পের ভিত্তি

    কিন্তু পরবর্তী কালে অতিবামপন্থী নকশালপন্থী আন্দোলন, কড়া শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলা থেকে পুঁজি সরে যেতে শুরু করে অন্যত্র। যার জেরে ধসে পড়ে ক্রমক্ষীয়মান শিল্পের ভিত্তি। অবনতি দেখা দেয় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। বাজোরিয়া বলেন, “অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরে যখন পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য দ্রুত শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করছিল, তখন বাংলা বড় মাপের উৎপাদন শিল্পে লগ্নি টানতে ব্যর্থ হয়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের মতো ঘটনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সব সরকারই শিল্প সম্প্রসারণের বদলে কল্যাণমূলক রাজনীতির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে (Jobs Investment), অবশ্য দু’টি ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল ছিল (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। প্রথমত, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাত—সল্টলেক ও নিউটাউনের আইটি হাবে বহু নতুন সংস্থা আসে। পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা, কম ভাড়া এবং উন্নত সামাজিক পরিবেশের কারণে কলকাতা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পখাত।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    ভারতীয় বিদেশ বাণিজ্য সংস্থার (IIFT) প্রাক্তন ডাব্লুটিও (WTO) চেয়ার অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ধর বলেন, “এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৮-১০ শতাংশ। এর উন্নয়ন হলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং বাংলার বাইরে কাজের জন্য মানুষের যাতায়াত কমবে। উদ্যানপালন, নতুন ধরনের চা, ব্যান্ডেলের প্রসেসড চিজের মতো পণ্য রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।” এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, প্রস্তাবিত নকশা কয়েকটি প্রধান খাতে জোর দেবে। প্রথমত, লজিস্টিক ও সংযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানকে এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি বলে অনুমান। কলকাতা এবং হলদিয়াকে কেন্দ্র করে বন্দর-সংযুক্ত পরিকাঠামো, মালবাহী করিডর এবং বহুমুখী পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।দ্বিতীয়ত, উৎপাদন শিল্পের ক্লাস্টার গড়ে তোলা। ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক শিল্প, ফাউন্ড্রি, বস্ত্রশিল্প এবং ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলি পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল এবং কর-ভিত্তিক উৎসাহ দানের কথা ভাবা হচ্ছে (Jobs Investment)। কিছু নীতিনির্ধারক পূর্ব-ভারতের খনিজ সম্পদ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স করিডরের পক্ষেও সওয়াল করছেন (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। তৃতীয়ত, শক্তি ও ভারী শিল্প। কয়লা ও লৌহ আকরিক সমৃদ্ধ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়া, বন্দরের সুবিধা এবং বঙ্গোপসাগরীয় জ্বালানি রুটের কাছে অবস্থান—এসবকে শক্তিনির্ভর শিল্প ও ডাউনস্ট্রিম শিল্পের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বোপরি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হবে, বিশেষ করে সেই তরুণ বাঙালিদের জন্য যারা কাজের খোঁজে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে চলে যাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

    অর্থনীতিবিদরা অবশ্য সতর্ক করে দিচ্ছেন এই বলে যে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সংবেদনশীলতা, পুরনো শিল্প পরিকাঠামো, দুর্বল পুর-অর্থনীতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। নির্বাচনী ফলের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা বাড়লেও, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নীতিগত স্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। অধ্যাপক ধর বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে পুনঃশিল্পায়ন মানে শুধু কারখানা খুলে দেওয়া নয়। এজন্য বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত অভিযোজন, আর্থিক গভীরতা এবং নিয়ন্ত্রক বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্প-রাজ্যগুলির সঙ্গে (Jobs Investment) প্রতিযোগিতা করতে হবে।”

     

  • NEET UG 2026: প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব এনটিএর চেয়ারম্যানকে

    NEET UG 2026: প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব এনটিএর চেয়ারম্যানকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জিজ্ঞাসাবাদ ও পর্যালোচনা বৈঠকের জন্য তলব করা হল এনটিএর (NTA) চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার জোশী এবং শিক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের। ২১ মে ওই বৈঠকে তাঁদের হাজির থাকতে বলেছে সংসদের পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন (NEET UG 2026) এডুকেশন, উইমেন, চিলড্রেন, ইয়ুথ অ্যান্ড স্পোর্টস। জানা গিয়েছে, দ্বিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় প্যানেল পূর্ববর্তী জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার বিতর্কের পর গঠিত কে রাধাকৃষ্ণণ (K Radhakrishnan) কমিটির সুপারিশ করা সংস্কারগুলির বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করবে। শিক্ষামন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত জোশীকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিতর্ক-সংক্রান্ত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষা সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতেই তলব করা হয়েছে তাঁকে।

    বৈঠকে গুরুত্ব কোন কোন বিষয়ে (NEET UG 2026)

    ওই বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে এনটিএর জবাবদিহি ব্যবস্থা, পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার ওপর জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রস্তাবিত সংস্কার। ৩ মে নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা নিয়েছিল এনটিএ (NTA)। নাম নথিভুক্ত করেছিলেন প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষার পরপরই অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিতর্কের জেরে পরীক্ষা বাতিল করে দেয় এনটিএ। পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ঘোষণা করেন, ওই পরীক্ষাটি ফের নেওয়া হবে ২১ জুন। তিনি এও জানান, আগামী বছর থেকে নিট পরীক্ষা হবে কম্পিউটার-ভিত্তিক পদ্ধতিতে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা যাতে বাড়ে এবং অসদুপায়ের সম্ভাবনা কমে, তাই এই ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, নিট বিতর্ক ছাড়াও কমিটি শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI)  ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করবে। বৈঠকে অংশ নেবেন আইআইটি মাদ্রাজ-সহ আরও কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

    কারা থাকবেন বৈঠকে

    আর একটি বৈঠকে কমিটি আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনোরিটি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউটের আধিকারিকদের সঙ্গে সংরক্ষণ নীতি, শিক্ষকের শূন্যপদ এবং ন্যাশনাল এডুকেশন পলিশি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। এছাড়াও শিক্ষক প্রশিক্ষণ সংস্কার, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশনের কার্যকারিতা এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্কিত সুপারিশগুলিও পর্যালোচনা করা হবে (NEET UG 2026)। নিট ইউজি ২০২৬ বিতর্কের জেরে লাখ লাখ শিক্ষার্থী প্রভাবিত হওয়ায়, সংসদীয় পর্যালোচনায় এনটিএর কার্যক্রম কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে চলেছে। আগামী দিনের আলোচনা ও সংস্কার প্রস্তাবগুলি ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা (NTA), স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে (NEET UG 2026)।

     

  • PM Modi: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে। এটি (Terrorism) দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিফলন।” সোমবার কথাগুলি বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি জানান, ভারত ও নরওয়ে উভয়েই নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেই কঠিন সময়ে নরওয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল, যা প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয়।” প্রধানমন্ত্রী জানান, সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়—এই বিশ্বাস দুই দেশেরই।

    বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন (PM Modi)

    তিনি বলেন, “আমরা একমত যে সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।” প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়া-সহ সংঘাতপীড়িত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে ভারত ও নরওয়ে। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির দিকে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, উদীয়মান আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ভারত ও নরওয়ের অভিমত হল, গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার হওয়া উচিত।”

    সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন

    সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে শেকড় থেকে নির্মূল করা তাঁদের যৌথ অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে শেকড় থেকে নির্মূল করা আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি।” সুইডেন সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী দু’দিনের সফরে নরওয়েতে পৌঁছন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্টোরে এবং নরওয়ের প্রবীণ নেতারা। প্রসঙ্গত, এই (PM Modi) সফরটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নরওয়ে সফর এবং চার দশকেরও বেশি সময় পরে এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই নর্ডিক দেশ সফর।দুই রাষ্ট্রনেতা ১৯ মে অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় নর্ডিক-ইন্ডিয়া সামিটেও যৌথভাবে অংশ নেবেন। এই সম্মেলনে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির নেতারা অংশ নেবেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, সুইডেন এবং নরওয়ের প্রধানরা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী রাজা হেরাল্ড ফাইভ (Harald V) এবং রানি সনজার (Sonja) সঙ্গেও (Terrorism) সাক্ষাৎ করবেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত-নরওয়ে ব্যবসা ও গবেষণা (PM Modi) সম্মেলনেও ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

     

  • PM Modi: নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত ‘আফসলাইডাইক’ বাঁধে প্রধানমন্ত্রী মোদি, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ডাচ মডেল কেন প্রয়োজন ভারতের, জানেন?

    PM Modi: নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত ‘আফসলাইডাইক’ বাঁধে প্রধানমন্ত্রী মোদি, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ডাচ মডেল কেন প্রয়োজন ভারতের, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত ‘আফসলাইডাইক’ বাঁধ পরিদর্শনে (Netherlands Afsluitdijk Dam) গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর চার দেশীয় ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেতেনের (Rob Jetten) সঙ্গে তিনি এই সুবিশাল জলকপাট ও বাঁধ এলাকাটি ঘুরে দেখেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ দ্বিপাক্ষিক সৌজন্য সফর মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই পরিদর্শনের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।

    জল ব্যবস্থাপনায় পথপ্রদর্শক নেদারল্যান্ডস (PM Modi)

    পরিদর্শন শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) ডাচ প্রযুক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, “জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডস এক যুগান্তকারী কাজ (Netherlands Afsluitdijk Dam) করেছে। সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের এই অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। আজ সকালে আফসলাইডাইক বাঁধটি পরিদর্শন করে এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছি। এই পরিদর্শনে আমার সঙ্গী হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী রব জেতেনকে ধন্যবাদ। সেচকাজ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ জলপথের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে আমরা ভারতে এই ধরণের আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    প্রকৌশল এবং উদ্ভাবনের এক অনন্য প্রতীক!

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও এই সফরকে ভারত-ডাচ অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের এক অনন্য প্রতীক! নেদারল্যান্ডসের চমৎকার জল ব্যবস্থাপনা, বন্যা প্রতিরোধ ও মিষ্টি জল সংরক্ষণের প্রতীক এই আফসলাইডাইক বাঁধ। এই সফরটি গুজরাটের উচ্চাভিলাষী ‘কল্পসর প্রকল্প’-এর (Kalpasar Project) ক্ষেত্রে ডাচ (Netherlands Afsluitdijk Dam) দক্ষতার প্রাসঙ্গিকতাকে তুলে ধরেছে।”

    ভারতের জলশক্তি মন্ত্রক এবং ডাচ পরিকাঠামো মন্ত্রকের মধ্যে  প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য একটি সম্মতিপত্রও (Letter of Intent) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    কী এই আফসলাইডাইক বাঁধ?

    নেদারল্যান্ডসের সমুদ্রের জলের সঙ্গে লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল এই আফসলাইডাইক বাঁধ। প্রায় ৮০ বছর আগে তৈরি হওয়া এই ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধটি উত্তর সাগরকে (North Sea) মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং ‘আইসেলমির’ (IJsselmeer) নামক একটি বিশাল মিষ্টি জলের হ্রদ তৈরি করেছে। এটি মূলত সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এবং ভয়াবহ বন্যা থেকে নিম্নভূমি অঞ্চলের নেদারল্যান্ডসকে রক্ষা করে।

    ৮০০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়

    বর্তমানে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে এই প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক করে “আফসলাইডাইক ২.০” রূপ দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই নকশাটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে এটি আগামী ১০,০০০ বছরে একবার আসতে পারে এমন প্রলয়ঙ্কারী ঝড়কেও অনায়াসে রুখে দিতে পারে। এতে আধুনিক স্লুইস গেট, উন্নত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মাছের চলাচলের করিডোর এবং জোয়ার-ভাটা ও সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।

    ভারতের ‘কল্পসর প্রকল্প’ ও ডাচ মডেলের প্রয়োজনীয়তা

    ভারতের কেন এই ডাচ মডেল (Netherlands Afsluitdijk Dam) প্রয়োজন, তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে গুজরাটের খাম্বাত উপসাগরে প্রস্তাবিত ‘কল্পসর প্রকল্প’-এর মধ্যে। গত কয়েক দশক ধরে সমীক্ষার স্তরে থাকা এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল সমুদ্রের বুকে একটি বাঁধ তৈরি করে বিশ্বের বৃহত্তম মিষ্টি জলের জলাধার তৈরি করা।

    ডাচদের মতোই ভারতও খাম্বাত উপসাগরে বাঁধ দিয়ে জোয়ার-ভাটার শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেচের জল পৌঁছানো এবং জলপথ ও সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে চায়। হাইড্রোলিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জলবিজ্ঞান প্রযুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের শতাব্দী প্রাচীন জ্ঞান এবং ভারতের বিশাল কর্মযজ্ঞের মেলবন্ধন ঘটলে খাম্বাত উপসাগরের এই অবাস্তব মনে হওয়া প্রকল্পটিকেও বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও মিষ্টি জলের সংকটের মাঝে প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) এই সফর ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকাঠামো ও জল সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল।

  • Conversion Row: খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করায় চাকরি খোয়ালেন মিশনারি স্কুলের হিন্দু মহিলা কর্মীরা?

    Conversion Row: খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করায় চাকরি খোয়ালেন মিশনারি স্কুলের হিন্দু মহিলা কর্মীরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে জোরাজুরি করছিল। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের সেন্ট অ্যালয়সিয়াস স্কুলের কয়েকজন হিন্দু মহিলা কর্মীর অভিযোগ (Conversion Row), ধর্ম পরিবর্তন করতে অস্বীকার করায় তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে (Madhya Pradesh)। জবলপুরের ওই ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনার। পুলিশের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে একটি হিন্দু সংগঠন। সদ্য চাকরি খোয়ানো হিন্দু মহিলারা স্থানীয় থানায় স্কুলের ফাদার সোমি জ্যাকব এবং কয়েকজন প্রবীণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, দু’দিন আগে তাঁদের একটি চার্চের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য জোরাজুরি করা হয়। রাজি না হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় তাঁদের।

    ধর্মান্তরিত হতে জোরাজুরি (Conversion Row)

    অভিযোগকারীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চাকরি রাখতে হলে তাঁদের ধর্মান্তরিত হতে হবে। নিয়মিত অংশ নিতে হবে চার্চের প্রার্থনায়। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন দীপা পটেলও। তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে ওই স্কুলে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ধর্ম পরিবর্তন করতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে অপমান করা হয়, মারধর করা হয়, এবং পরে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। দীপা বলেন, “আমি ঘটনাটি ফাদারকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোনও সাহায্য পাইনি।” তিনি জানান, তিনি বিধবা। তাঁর ছোট ছোট দুই সন্তান রয়েছে। আচমকা চাকরি চলে যাওয়ায় তিনি এখন ভয়ঙ্কর আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পথে নামেন হিন্দু ধর্ম সেনার সদস্যরা। পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা (Conversion Row)।

    টার্গেট মহিলারা 

    সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, মিশনারি স্কুলগুলি দরিদ্র ও কর্মজীবী মহিলাদের আর্থিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে তাঁদের টার্গেট করছে। তাঁদের দাবি, কয়েকজন শিক্ষক ও মহিলা কর্মীকে নিজেদের ধর্ম ছেড়ে হয় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে, নয়তো চাকরি ছাড়তে বলা হয়েছে। হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নীরজ রাজপুত। তিনি বলেন, “পাঁচ-ছ’জন হিন্দু মহিলা কর্মীর ওপর চার্চে যাওয়া এবং খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ বহু বছর ধরে স্কুলে কাজ করলেও, তাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে। যদিও ধর্ম বদলাতে না চেয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “স্কুলের প্রিন্সিপাল ও পরিচালন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে, বড় ধরনের আন্দোলন করা হবে।”

    পুলিশের বক্তব্য

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সূর্যকান্ত শর্মা জানান, দীপা পটেল, অমন আগরওয়াল এবং স্কুলের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তাঁদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। অস্বীকার করায় চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে (Madhya Pradesh)। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Conversion Row)।

     

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর নেদারল্যান্ডস সফরে স্বাক্ষরিত হল ফ্রন্ট-এন্ড সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন প্ল্যান্ট নির্মাণের চুক্তি

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর নেদারল্যান্ডস সফরে স্বাক্ষরিত হল ফ্রন্ট-এন্ড সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন প্ল্যান্ট নির্মাণের চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সেমিকন্ডাক্টর খাতে উচ্চাকাঙ্খা পূরণে ১৬ মে নেওয়া হল বিরাট পদক্ষেপ। এদিনই টাটা ইলেকট্রনিক্স (Tata Electronics) এবং এএসএমএল (ASML) গুজরাটে দেশের প্রথম ফ্রন্ট-এন্ড সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন প্ল্যান্ট নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে (Gujarat)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেদারল্যান্ডস সফরে স্বাক্ষরিত হয়েছে এই চুক্তি।

    কী বলছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক (PM Modi)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেট্টেনের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয় চুক্তি। এই অংশীদারিত্ব গুজরাটের ঢোলেরায় টাটা ইলেকট্রনিক্সের পরিকল্পিত ৩০০-মিলিমিটার সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন ইউনিটকে সাহায্য করবে। এজন্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কোম্পানিগুলির তরফে জানানো হয়েছে, এএসএমএলের সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রপাতি প্রযুক্তি এই প্ল্যান্টে ব্যবহৃত হবে। এখানে অটোমোবাইল, মোবাইল ডিভাইস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রের জন্য চিপ তৈরি করা হবে। এএসএমএলের এক্সিকিউটিভ খ্রিস্টোফি ফুকেট (Christophe Fouquet) বলেন, “ভারতের দ্রুত প্রসারমান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে অনেক আকর্ষণীয় সুযোগ রয়েছে।” তিনি জানান, তাদের (ডাচ) এই কোম্পানি ভারতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ব্যবস্থা

    ভারত ইতিমধ্যেই দেশের নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বর্তমানে দেশে আটটি সেমিকন্ডাক্টর-সম্পর্কিত প্রকল্প চলছে। এর মধ্যে গুজরাটে টাটা ইলেকট্রনিক্সের আর একটি ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্পও রয়েছে। চলতি ইউরোপ সফরে প্রধানমন্ত্রী নেদারল্যান্ডসের রাজা উইলেম আলেকজান্ডার (Willem-Alexander) এবং রানি (ম্যাক্সিমা)-র (Máxima) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দ্য হেগের রাজপ্রাসাদে। আলোচনায় ভারত-নেদারল্যান্ডস সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ও উঠে এসেছিল, বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ফিনটেক এবং ব্লু ইকোনমির ক্ষেত্রে। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ডাচ কোম্পানিগুলিকে সেমিকন্ডাক্টর, নবীকরণযোগ্য শক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রে ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। উভয় পক্ষ ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার পক্ষেও সম্মত হয়েছে (PM Modi)।

    ভারত-নেদারল্যান্ডস সহযোগিতার প্রতিফলন?

    প্রসঙ্গত, এই চুক্তি ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রতিফলন। বর্তমানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চিন প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হচ্ছে। ডাচ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলি নতুন বাজার ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের দিকে ঝুঁকছে। আর ভারত চাইছে বিরাট বিনিয়োগ ও নীতিগত প্রণোদনার মাধ্যমে নিজেকে একটি বড় উৎপাদন ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। এই সেমিকন্ডাক্টর চুক্তিটি প্রধানমন্ত্রীর ১৫ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা পাঁচ-দেশীয় কূটনৈতিক সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে (Gujarat)। নেদারল্যান্ডসে পৌঁছানোর আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর করেন (PM Modi)।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, দেখে নিন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, দেখে নিন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। ১০ থেকে ১৬ মে, ২০২৬ – এই সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা একবার দেখে নেওয়া যাক।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    বেয়ারেলি থেকে একটি চমকপ্রদ ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে। বছর বারোর এক হিন্দু নাবালিকাকে জনৈক জিশান যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। এর পরেই ওই নাবালিকা আত্মহত্যা করে। ঘটনাটি প্রথমে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (TCS) অফিসকে ঘিরে ধর্মান্তর ও হয়রানির মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত নিদা খানকে মহারাষ্ট্র পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি কয়েকদিন ধরে পুলিশের চোখ এড়িয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন।

    কলস যাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

    পূর্ব চম্পারণ জেলার মোতিহারির ভিন্দার গ্রামে একটি কলস যাত্রা চলাকালীন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশি ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন করে গ্রেফতারি এবং উসকানিমূলক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তাই ঘটনাটি স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলার বিষয় হওয়ার পাশাপাশি বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক উত্তেজনারও কারণ হয়ে উঠেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, হিন্দুদের শোভাযাত্রা একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা ও ডিজে বাজানো নিয়ে আপত্তি ওঠে। তার জেরেই পাথর ছোড়া ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শুরু হয় হিংসা। দেওরিয়ায় এক মুসলিম যুবক আশিক আনসারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘লাভ জেহাদ’ মামলায়। এক হিন্দু কিশোরী বৃন্দাবনের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, পুলিশ পকসো আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশের ছবি

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চলছেই। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যেই চলছে এই আক্রমণ (Roundup Week)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবকে হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশছাড়া করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। মানিকগঞ্জ জেলায় ৩৫ বছর বয়সী মাছ ব্যবসায়ী কৃষ্ণ রাজবংশীর কাছে বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ৪০,০০০ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)। নিহত ব্যক্তি মানিকগঞ্জ পুরসভার বান্দুটিয়া মহিষবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বিভিন্ন জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মাঝে মাঝে বাজারে ট্রাক থেকে মাছ নামানোর কাজও করতেন।

    হিন্দু পরিবারকে আক্রমণ

    দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট জেলার একটি সংখ্যালঘু পরিবারের অভিযোগ, একটি সশস্ত্র দল তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে মারধর করেছে। বাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি লুটপাটও চালায়। উদ্দেশ্য ছিল, বিতর্কিত জমি দখল করা। ভুক্তভোগীদের মতে, ৫০-৬০ জন ইসলামপন্থীর একটি দল এই হামলা চালায়, যাদের নেতৃত্বে ছিল  স্থানীয় প্রভাবশালী সোবাহান হাওলাদার, তার ছেলে মিরাজ ও আবদুল্লাহ এবং তার ভাই সারওয়ার ও দেলোয়ার। হামলাকারীরা দা, হাতুড়ি, কোদাল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জমির মালিকানা নিয়ে রবিন ঢালি ও সোবাহান হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি বিরোধের সঙ্গে এই হামলার সম্পর্ক রয়েছে বলে অনুমান।

    প্রসঙ্গত, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষের জের। এসবই ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত রয়েছে বলে দাবি। ইসলামিক দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব রয়েছে, যা হিন্দু-বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। এই সূক্ষ্ম, দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় নজরে আসে না, যদি না কেউ প্রচলিত আইন ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি এর একটি উদাহরণ। আপাতভাবে এটি দূষণ-সংক্রান্ত মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞার পেছনে যৌক্তিকতার অভাব লক্ষ্য (Hindus Under Attack) করলে দ্বিচারিতা (Roundup Week) স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

     

  • Bhojshala Verdict: ভোজশালা রায়, ধার জেলার সেই ঐতিহাসিক সরস্বতী মূর্তি কীভাবে পৌঁছাল লন্ডনে? ফেরতের দাবি

    Bhojshala Verdict: ভোজশালা রায়, ধার জেলার সেই ঐতিহাসিক সরস্বতী মূর্তি কীভাবে পৌঁছাল লন্ডনে? ফেরতের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি ঐতিহাসিক রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আদালত ধার জেলার বিতর্কিত ‘ভোজশালা’ (Bhojshala Verdict) চত্বরটিকে হিন্দু দেবী সরস্বতীর মন্দির (Saraswati Murti) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই রায়ের পর পরই ব্রিটিশ আমলে ভারত থেকে চুরি যাওয়া বাগদেবীর সরস্বতী মূল মূর্তিটি লন্ডন থেকে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হয়েছে। হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি, এই রায় ঐতিহাসিক। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি ও মন্দির উদ্ধারের পর ইন্দোর হাইকোর্টের ভোজশালা সংক্রান্ত এই রায় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজা ভোজের আমল ও গৌরবময় ইতিহাস (Bhojshala Verdict)

    ভোজশালার (Bhojshala Verdict) ইতিহাস একাদশ শতকের। পরমার রাজবংশের বিখ্যাত রাজা ভোজ ধারে সংস্কৃত শিক্ষার একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী, এটি ব্যাকরণ, দর্শন ও সাহিত্যের এক বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ ছিল, যেখানে জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর (Saraswati Murti) আরাধনা হত নিয়মিত। এই বিদ্যাপীঠের প্রধান উপাস্য দেবী হিসেবে একটি অনন্য সরস্বতী মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল, যা পরমার আমলের ভাস্কর্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

    আক্রমণ ও ধ্বংসের ইতিহাস

    শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মধ্য ভারতে বিভিন্ন ইসলামিক আগ্রাসনের সময় ভোজশালা (Bhojshala Verdict) চত্বরটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৩০৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি এই জায়গায় হামলা চালান, হত্যা করেন হাজার হাজার হিন্দু পণ্ডিত ও শিক্ষার্থীকে। পরবর্তী কালে ১৪০১ খ্রিস্টাব্দে দিলওয়ার খান এবং ১৫১৪ খ্রিস্টাব্দে মেহমুদ শাহ এই মন্দিরের অংশবিশেষ ধ্বংস করে সেটিকে দরগা ও মসজিদে রূপান্তর করার চেষ্টা করেন। তবে সেখানকার খোদাই করা স্তম্ভ ও শিলালিপি আজও প্রমাণ করে, এটি আদতেই একটি প্রাচীন হিন্দু শিক্ষাকেন্দ্র ও মন্দির ছিল। এই ভাঙচুরের পর মূল সরস্বতী মূর্তিটি দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে ছিল।

    ব্রিটিশ আমলে উদ্ধার ও লন্ডনে পাচার

    উনিশ শতকে ব্রিটিশ রাজত্বে মূর্তিটির ইতিহাসের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। ১৮৭৫ সালে ধার অঞ্চলে খননকার্য চালানোর সময় ব্রিটিশ অফিসার উইলিয়াম কিনক্লেড এই নান্দনিক মূর্তিটি উদ্ধার করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক মানসিকতার অংশ হিসেবে, ভারতের বহু অমূল্য সম্পদের মতোই এই মূর্তিটিকেও সম্মতি ছাড়াই দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮৮৬ থেকে ১৮৯১ সালের মধ্যে মূর্তিটি ইংল্যান্ডে পাচার করা হয়। বর্তমানে এটি লন্ডনের বিখ্যাত ‘ব্রিটিশ মিউজিয়াম’-এ মধ্যযুগীয় ভারতীয় ভাস্কর্যের নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। পাশ্চাত্যের কাছে এটি কেবল একটি প্রাচীন শিল্পসামগ্রী হলেও, ভারতীয়দের কাছে এটি একটি জীবন্ত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক।

    হাইকোর্টের রায় ও ভারতের আইনি অবস্থান

    সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ ২০০৩ সালের ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের (ASI) একটি আদেশ বাতিল করেছে। এখন থেকে ওই চত্বরে মুসলমানদের শুক্রবারের নামাজ পড়ার অনুমতি রদ করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা এবং বিচারপতি আলোক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভোজশালা (Bhojshala Verdict)  মূলত রাজা ভোজের তৈরি করা একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং এটি একটি সরস্বতী মন্দির (Saraswati Murti)।

    এই রায়ের পর আদালত উল্লেখ করেছে যে, কেন্দ্র সরকার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লন্ডন থেকে এই পবিত্র মূর্তিটি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এই পর্যবেক্ষণ ভারতের ‘#BringBackOurGods’ (আমাদের ঈশ্বরদের ফিরিয়ে দাও) আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।

    মূর্তি প্রত্যর্পণের জোরালো দাবি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বর্তমান ভারত সরকার বিগত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতের বহু প্রাচীন ও চুরি যাওয়া ঐতিহ্যবাহী মূর্তি ফিরিয়ে এনেছে। ইউনেস্কোর (UNESCO) হিসেব অনুযায়ী, ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ভারত থেকে প্রায় ৫০,০০০ প্রাচীন মূর্তি ও শিল্পকর্ম পাচার হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই ধরণের প্রাচীন সামগ্রীর বেআইনি চোরাচালান দমনেও ভারত এখন বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারে এই সরস্বতী মূর্তিটি ফিরিয়ে আনার পক্ষে ভারতের দাবি অত্যন্ত জোরালো। কারণ প্রথমত, এর ঐতিহাসিক উৎস সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত। দ্বিতীয়ত, ভারতের আদালত এটিকে একটি মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবং তৃতীয়ত, এটি ঔপনিবেশিক শোষণের মাধ্যমে বেআইনিভাবে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভোজশালার (Bhojshala Verdict) এই আইনি জয় কেবল একটি ঐতিহাসিক সত্যকেই প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং লন্ডনে বন্দি থাকা মা সরস্বতীর মূর্তিকে (Saraswati Murti) স্বদেশে ফিরিয়ে আনার পথও প্রশস্ত করল কয়েক দশক পর।

  • Odisha Tribals: ওড়িশায় ধর্মান্তকরণের চেষ্টা! আদিবাসী সংস্কৃতি-ঐতিহ্যে বহিরাগতদের থাবার অভিযোগ

    Odisha Tribals: ওড়িশায় ধর্মান্তকরণের চেষ্টা! আদিবাসী সংস্কৃতি-ঐতিহ্যে বহিরাগতদের থাবার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার আদিবাসী (Odisha Tribals) অধ্যুষিত মালকানগিরি জেলায় ধর্মান্তকরণের (Religious Conversion) প্রক্রিয়া এবং তার ফলে স্থানীয় প্রাচীন সংস্কৃতির ওপর আঘাতের অভিযোগকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজেদের আদিম রীতিনীতি, সামাজিক ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি রক্ষার দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন এই দুর্গম এলাকার আদিবাসী গ্রামবাসীরা।

    খ্রিস্টান মিশনারি গোষ্ঠীর একাধিপত্য (Odisha Tribals)

    ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশা-ছত্তিশগড় সীমান্তের কাছে কালিমেল্লা ব্লকের মাঙ্গিপালি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খ্রিস্টান মিশনারি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুক্ত কিছু সংগঠনের ধর্মীয় কার্যকলাপ দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে গ্রামে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের (Religious Conversion) নিজস্ব পরিচয়, ঐতিহ্য ও প্রথা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি গ্রামের প্রতিনিধিরা মহকুমা শাসকের (Sub-Collector) দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। দাবি জানান, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের। প্রাক্তন বিধায়ক মুকুন্দ সোধি এবং প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান দেবা মাদকামির মতো স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে পল্লবী খাড়ার (Odisha Tribals) হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

    আদিবাসী সংস্কৃতি অবমাননার অভিযোগ  (Odisha Tribals)

    গ্রামবাসীদের (Odisha Tribals) সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঙ্গিপালি গ্রামে প্রায় ২৫০টি পরিবারের বাস, মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ১,০০০। এদের মধ্যে সিংহভাগই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, আগে মাত্র কয়েকটি পরিবার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলেও, বর্তমানে গ্রামের আরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ভিন্ন ভাষী মানুষ গ্রামে এসে নিয়মিত প্রার্থনা সভা ও ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন করছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এই ধরনের অনুষ্ঠানে আদিবাসীদের (Religious Conversion)  ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস, রীতিনীতি এবং পূজাপদ্ধতি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই ধরণের কার্যকলাপ চলতে থাকলে দীর্ঘদিনের আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

    প্রশাসনের কাছে আইনি পদক্ষেপের দাবি

    গ্রামবাসীরা (Odisha Tribals) প্রশাসনকে জানিয়েছেন, গ্রামে ঠিক কতজন মানুষ ধর্মান্তরিত হয়েছেন, তার একটি সরকারি তদন্ত বা যাচাইকরণ করা হোক। পাশাপাশি, তাঁদের নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাতে কোনও ধরণের বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করার অনুরোধও জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মালকানগিরি একটি তফশিলি এলাকা (Scheduled Area)। সাংবিধানিক নিয়ম এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই অঞ্চলের আদিবাসী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষিত। তাই এই অঞ্চলের সামাজিক সম্প্রীতি ও আদিবাসী পরিচয় রক্ষায় প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

    আইন প্রয়োগের দাবি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) জাতীয় সম্পাদক সুধাংশু পট্টনায়েক বলেন, “খ্রিস্টান মিশনারি দলগুলি বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে আদিবাসী সমাজকে তাদের পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটি কেবল আদিবাসী ঐতিহ্যের জন্যই নয়, দেশের সুরক্ষার জন্যও এক গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

    তিনি বলেন, “রাজ্যে ধর্মান্তকরণ (Odisha Tribals) বিরোধী আইন থাকা সত্ত্বেও তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। আর সেই কারণেই বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ওড়িশা সরকারের উচিত এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা এবং অবৈধ ধর্মান্তকরণের (Religious Conversion) সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।”

  • NEET Paper Leak: নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তদন্তের কেন্দ্রে এনটিএর প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল

    NEET Paper Leak: নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তদন্তের কেন্দ্রে এনটিএর প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় আরও একজনকে গ্রেফতারের পর এবার তদন্তের কেন্দ্রে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল। সিবিআইয়ের এক আধিকারিক (CBI Probe) সংবাদ মাধ্যমে জানান (NEET Paper Leak), প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী পুরো কমিটি এবং এনটিএর শীর্ষ আধিকারিকদের তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও কয়েকজন গ্রেফতার হতে পারেন। প্রসঙ্গত, শনিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে পুণের উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা মণীষা গুরুনাথ মান্ধারেকে। অভিযোগ, মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রশ্ন ফাঁস করেছিলেন তিনি।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের জাল (NEET Paper Leak)

    মণীষা ছিলেন এনটিএর নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ। কাজ করতেন প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী কমিটিতে। তদন্তকারীদের মতে, এর ফলে তিনি বোটানি ও জুলজি বিভাগের গোপনে রাখা প্রশ্নপত্র দেখার অধিকার পান। এর একদিন আগেই তদন্তকারী সংস্থা অবসরপ্রাপ্ত রসায়নের অধ্যাপক পিভি কুলকার্নিকে গ্রেফতার করে। তাঁকে তদন্তকারীরা এই কেলেঙ্কারির ‘মূল চক্রী’ বলে উল্লেখ করেন। অন্য এক আধিকারিক বলেন, “প্রশ্নফাঁসের তদন্তে এই প্রথম আমরা এনটিএর ভেতর থেকেই ফাঁসের উৎস খুঁজে পেয়েছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে মেসেজিং গ্রুপে পিডিএফ আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত পরীক্ষার্থী এর সুবিধা পেয়ে থাকতে পারে। আমরা তাদের সবাইকে চিহ্নিত করব। তবে প্রথমে আমরা প্রশ্নফাঁসের উৎস ও তাদের সহযোগীদের খুঁজছি (NEET Paper Leak)।”

    বিশেষ কোচিং ক্লাস করিয়েছিলেন মান্ধারে!

    সিবিআইয়ের মতে, এপ্রিল মাসে মান্ধারে তাঁর পুণের বাড়িতে কিছু নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে বিশেষ কোচিং ক্লাস করাচ্ছিলেন। সেখানে তিনি বোটানি ও জুলজির প্রশ্ন বলে দিতেন, যেগুলির অনেকটাই পরে ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় এসেছিল (CBI Probe)।তদন্তকারীরা জানান, ছাত্রছাত্রীদের তাঁর কাছে নিয়ে আসতেন সহ-অভিযুক্ত মণীষা ওয়াঘমারে। তিনি পুণের একটি বিউটি পার্লারের মালিক। এই সপ্তাহের শুরুতেই গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা জানিয়েছে, “ক্লাস চলাকালীন মান্ধারে বোটানি ও জুলজির বিভিন্ন প্রশ্ন ব্যাখ্যা করতেন। ছাত্রছাত্রীদের সেগুলি খাতায় লিখে রাখতে ও বইয়ে চিহ্নিত করে রাখতে বলতেন। এই প্রশ্নগুলির অধিকাংশই নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যায় (NEET Paper Leak)।”

    প্রমাণ লোপাট করতে প্রশ্নপত্র নষ্ট!

    আধিকারিকরা জানান, তদন্তে এনটিএর ভেতর থেকে বের হওয়া প্রশ্নফাঁসের দু’টি আলাদা সেটের সন্ধান মিলেছে—একটি হাতে লেখা, অন্যটি টাইপ করা। তদন্তকারীদের দাবি, কুলকার্নি রসায়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন, আর মান্ধারে করেছিলেন জীববিজ্ঞানের অংশ। অভিযোগ, কুলকার্নিও তাঁর পুণের বাড়িতে বিশেষ ক্লাস নিতেন। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্ন, বিকল্প উত্তর এবং সঠিক উত্তর লিখে নিতেন, যেগুলি পরে আসল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ‘হুবহু মিলে যায়’। শনিবার সিবিআই কুলকার্নি ও ওয়াঘমারেকে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ বিশেষ আদালতে হাজির করে, আবেদন জানায় ১৪ দিনের হেফাজতের। সংস্থা তাঁদের ‘সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য’ বলে দাবি করে। আদালত দু’জনকে ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠায়। সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ৩ মে-র পরীক্ষার পর প্রমাণ লোপাট করতে প্রশ্নপত্র নষ্ট করে দেয়। তদন্তকারীরা এও খতিয়ে দেখছেন, কুলকার্নি ও মান্ধারের আগেও কেউ কোনও প্রশ্নপত্রফাঁসকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না।

    মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ছড়িয়েছিল প্রশ্ন

    তদন্তে জানা গিয়েছে, কীভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, ৫০০-৬০০টি প্রশ্ন সম্বলিত একটি পিডিএফ টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছিল। নাসিকের শুভম খৈরনার এই প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেন গুরগাঁওয়ের যশ যাদবের কাছে। যশ সেটি জয়পুরের মাঙ্গিলাল বিওয়াল ওরফে মাঙ্গিলাল খাটিকের কাছে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, প্রায় ১৫০টি প্রশ্ন ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলবে (NEET Paper Leak)। গত ২৪ ঘণ্টায় ছ’টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, মোবাইল ফোন এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

    ৫ রাজ্য থেকে গ্রেফতার

    এখন পর্যন্ত পাঁচটি রাজ্য থেকে সব মিলিয়ে মোট ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন পুণের মান্ধারে, কুলকার্নি ও ওয়াঘমারে, আহিল্যানগরের ধনঞ্জয় লোকহান্ডা,  নাসিকের খৈরনার, জয়পুরের মাঙ্গিলাল বিওয়াল, বিকাশ বিওয়াল ও দীনেশ বিওয়াল, এবং গুরগাঁওয়ের যশ। সিবিআই জানিয়েছে, “এই মামলায় পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ এবং পেশাদার তদন্তে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” প্রতি বছর ২২ লাখেরও বেশি ছাত্রছাত্রী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির (CBI Probe) প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি দেন। প্রশ্নফাঁসের পর ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ২১ জুন ফের (NEET Paper Leak) পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছে সরকার।

     

LinkedIn
Share