Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Independence Day 2026: স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা তুলছেন? জেনে নিন তেরঙা ব্যবহারের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি

    Independence Day 2026: স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা তুলছেন? জেনে নিন তেরঙা ব্যবহারের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের আবহ। শহর থেকে গ্রাম, আবাসন থেকে ক্লাব, সরকারি দফতর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সর্বত্রই জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দেশাত্মবোধক গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা দিবস। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির হাত ধরে গত কয়েক বছর ধরে বাড়ি বাড়িও পৌঁছেছে জাতীয় পতাকার আবেগ।

    তবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুধু উৎসবের বিষয় নয়। দেশের জাতীয় পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম ও মর্যাদাবিধি। Flag Code of India এবং জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট মান সংক্রান্ত নির্দেশিকায় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধি রয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসে তেরঙা উত্তোলনের আগে জেনে রাখা জরুরি—কী করা যায় এবং কোন কাজগুলি জাতীয় পতাকার মর্যাদার পরিপন্থী।

    বাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলতে পারবেন?

    হ্যাঁ। সাধারণ নাগরিক নিজের বাড়ি, অফিস, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থলেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন। সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নিয়ম মেনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা যায়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় তার মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়টি সর্বাগ্রে রাখতে হবে। পতাকা যেন কোনওভাবেই মাটিতে না পড়ে বা মেঝেতে স্পর্শ না করে, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।

    জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন

    • ১. তেরঙার সঠিক দিক বজায় রাখতে হবে
      জাতীয় পতাকা কখনও উল্টো করে উত্তোলন করা যাবে না। অনুভূমিকভাবে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে গেরুয়া রং থাকবে উপরে, সাদা মাঝখানে এবং সবুজ নীচে।
    • ২. পতাকার মর্যাদা সর্বোচ্চ
      জাতীয় পতাকা দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও গৌরবের প্রতীক। তাই পতাকা উত্তোলন বা প্রদর্শনের সময় যথাযথ সম্মান বজায় রাখা আবশ্যিক।
    • ৩. পতাকা যেন মাটিতে না লাগে
      জাতীয় পতাকা কখনও মাটিতে, মেঝেতে বা জলে পড়ে থাকা অবস্থায় রাখা যাবে না। উত্তোলন, নামানো এবং সংরক্ষণের সময়ও পতাকার যাতে কোনও অসম্মান না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
    • ৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব
      স্কুল-কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও দেশাত্মবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসূচি পালন করা হয়। শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠের মতো কর্মসূচিও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের অংশ হতে পারে।
    • ৫. পতাকা যেন অন্য কোনও পতাকার তুলনায় নিচে না থাকে
      জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তার অবস্থান ও মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। অন্য কোনও পতাকা বা প্রতীকের তুলনায় তেরঙাকে অসম্মানজনক অবস্থানে রাখা যাবে না।

    জাতীয় পতাকা দিয়ে পোশাক বা টেবিল ক্লথ? একেবারেই নয়

    জাতীয় পতাকাকে পোশাক, ইউনিফর্মের অংশ, টেবিল ক্লথ, রুমাল বা সাজসজ্জার সাধারণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে তেরঙাকে কোনও ফেস্টুন বা এমন কোনও অলঙ্করণে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে জাতীয় পতাকার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।জাতীয় পতাকার ওপর কোনও লেখা, স্লোগান, ছবি বা নকশা আঁকা বা ছাপানোও করা যাবে না।

    পতাকার উপরে ফুল-মালা বা অন্য বস্তু রাখা যাবে না

    জাতীয় পতাকার উপরে ফুল, মালা কিংবা অন্য কোনও বস্তু রাখা যাবে না। পতাকাকে এমন কোনও কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়, যাতে সেটি অন্য কোনও বস্তু বহন করার মাধ্যম হয়ে যায়।

    ছেঁড়া বা নষ্ট পতাকা ব্যবহার নয়

    স্বাধীনতা দিবসের আবেগে অনেক বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু সেই পতাকা ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা আগে দেখে নেওয়া জরুরি। ছেঁড়া, নোংরা বা ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা উচিত নয়।

    ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়া জাতীয় পতাকাকেও যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে হবে।

    জাতীয় পতাকার সঙ্গে কোনও ধরনের অসম্মান নয়

    তেরঙার উপর পা দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে ফেলে রাখা, মেঝেতে টেনে নিয়ে যাওয়া কিংবা অন্য কোনওভাবে অবমাননা করা সম্পূর্ণ অনুচিত। স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের মধ্যেও জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাধীনতা দিবসের উৎসব হোক, কিন্তু মর্যাদা বজায় রেখেই

    জাতীয় পতাকা শুধু তিনটি রঙের কাপড় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগ এবং ভারতীয়দের জাতীয় পরিচয়। তাই ১৫ অগাস্ট বাড়ির ছাদে, স্কুলে, ক্লাবে কিংবা কর্মস্থলে তেরঙা উত্তোলনের সময় উৎসবের পাশাপাশি তার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও প্রত্যেক নাগরিকের। মনে রাখুন—স্বাধীনতা দিবসে তেরঙা উত্তোলন যেমন গর্বের, তেমনই সেই তেরঙার সম্মান রক্ষা করাও প্রত্যেক ভারতীয়র দায়িত্ব।

  • Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনাকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বানিয়েছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

    Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনাকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বানিয়েছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতিকে উপহাস করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যে ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা ‘অস‌ংযত ও অশালীন’ বলে অভিযোগ করল বিজেপি (BJP Attacks Rahul)। এমন ভাষার ব্যবহার তাঁর পদমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। এই প্রসঙ্গে রাহুলের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, ‘‘মনে হয় এবার অন্তত ওঁর সাবালকের মতো আচরণ করা উচিত।’’

    রাহুলকে পরিণত হতে বার্তা

    দিল্লিতে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নতুন মঞ্চ ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর প্রথম জাতীয় সম্মেলনে রাহুল দাবি করেছিলেন, মোদি সরকারের একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্তে দেশের আমজনতার আক্রোশ ক্রমশ বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘‘আমজনতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না!’’ সেই সঙ্গে মোদি সরকারের বিদেশনীতিরও কড়া সমালোচনা করেন রাহুল। তাঁর মতে, আরএসএস এবং বিজেপির বর্তমান কর্তারা হলেন ‘একদল ভাঁড়’। প্রহ্লাদ শুক্রবার অভিযোগ করেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে আদতে ভারতের জনগণকে অপমান করেছেন রাহুল।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘রাহুল গান্ধী, আপনি কবে পরিণত হবেন? ভারত চালানোর জন্য পরিণত নেতৃত্ব প্রয়োজন, অপেশাদার নাট্যাভিনয় নয়। গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে ‘ভাঁড়’ বলা প্রমাণ করে যে আপনি সীমা লঙ্ঘন করছেন।’’

    ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো আচরণ রাহুলের

    রাহুল ছাড়াও কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ টেনে মোদির বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, বিদেশনীতি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগত ইঙ্গিত ও রসিকতার আশ্রয় নিয়েছেন। বিজেপির দাবি, সরকারের বিদেশনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কূটনীতি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন তোলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই সমালোচনা তথ্য, নীতি ও কূটনৈতিক ফলাফলের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা মঞ্চস্থ করা রাজনৈতিক রসিকতার মাধ্যমে নয়। বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তাঁর আচরণ তাঁকে ‘লোকসভার বিরোধী দলনেতার চেয়ে ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো’ বেশি তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ‘লকার-রুম টক’ এবং ‘সস্তা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য’-এর আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের মানুষ এমন একজন বিরোধী দলনেতা প্রত্যাশা করেন যিনি সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা বজায় রাখবেন।

    ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ কেন

    বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালাও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক আর কতটা নীচে নামতে পারে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং তাঁকে কঠোরভাবে আক্রমণ করাও বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু একজন মহিলা বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে টেনে এনে ব্যক্তিগত রসিকতা করা কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা রসবোধের পরিচয় নয়। বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে বিরোধীরা যতটা আগ্রাসী সমালোচনা করতে চান, করতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ দিয়ে সেই রাজনৈতিক বক্তব্যের শক্তি বাড়ে না, বরং মূল ইস্যু থেকে আলোচনা সরে যায়।

    কার্যকর রাজনৈতিক বার্তার অভাব

    এখানেই ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’ নামের অনুষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘রচনাত্মক বিরোধিতা’র অর্থ হওয়া উচিত বেকারত্ব, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশনীতি এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে সরকারকে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর কাছে সেই রাজনৈতিক মঞ্চ এবং সাংবিধানিক সুযোগ দুটোই রয়েছে। তাই তাঁর সমালোচনা ব্যক্তিগত কটাক্ষের পরিবর্তে নীতি, তথ্য ও সরকারের বাস্তব ফলাফলের উপর কেন্দ্রীভূত হলে তা আরও কার্যকর রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Bastar: বদলাচ্ছে বস্তার! বন্দুক হাতে জঙ্গল থেকে ফ্যাশন শো-এর মঞ্চে, প্রাক্তন মহিলা নকশালদের নয়া জীবনের বার্তা

    Bastar: বদলাচ্ছে বস্তার! বন্দুক হাতে জঙ্গল থেকে ফ্যাশন শো-এর মঞ্চে, প্রাক্তন মহিলা নকশালদের নয়া জীবনের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বস্তারের জঙ্গলে হাতে অস্ত্র নিয়ে ঘুরতেন। আজ সেই মহিলারাই আত্মসমর্পণের পর পা রাখলেন ফ্যাশন র‍্যাম্পে। জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে আয়োজিত একটি আদিবাসী ফ্যাশন শো-তে অংশ নিলেন বস্তারের ওই একদল মহিলা। ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাকে তাঁদের আত্মবিশ্বাসী র‍্যাম্প ওয়াক দর্শকদের নজর কাড়ে। তাঁদের হাঁটার সময় দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। কারও কারও র‍্যাম্পে কিছুক্ষণ থেমে পোশাক প্রদর্শন করতে দেখা যায়। পরে ঘুরে আবার মঞ্চের দিকে ফিরে এসে হাসিমুখে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন তাঁরা।

    জঙ্গল থেকে ফ্যাশন র‍্যাম্পে

    সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদা নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ওই মহিলারা রঙিন ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাকে র‍্যাম্পে হাঁটছেন। তাঁদের চলাফেরায় ছিল আত্মবিশ্বাস ও স্বচ্ছন্দতা। তবে তাঁদের কাছে এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন শো ছিল না। বরং এটি ছিল তাঁদের জীবনের আমূল পরিবর্তনের একটি প্রতীক। একসময় নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বস্তারের জঙ্গলে সশস্ত্র জীবন কাটানো এই মহিলারা আত্মসমর্পণের পর ধীরে ধীরে মূলস্রোতের সমাজে ফিরে এসেছেন।

    আত্মসমর্পণের পর নতুন জীবনের সন্ধান

    বস্তারে আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন নকশালদের পুনর্বাসন ও জীবিকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁদের স্বনির্ভর করে তুলতে জীবিকামূলক প্রকল্প, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। র‍্যাম্পে তাঁদের উপস্থিতিও সেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক ছবি তুলে ধরেছে। অস্ত্রের জীবন ছেড়ে সমাজের সামনে নিজেদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ছত্তিশগড় সরকার বস্তারে নকশাল হিংসার অবসান এবং উন্নয়নের উপর জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই সম্প্রতি দাবি করেছেন, কয়েক দশকের নকশাল সমস্যার পর বস্তার এখন নকশালমুক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। এএনআই-কে সাই বলেন, “৪০-৫০ বছর পর আমাদের বস্তার অঞ্চল অবশেষে নকশালমুক্ত হয়েছে। এখন উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই আবহে প্রাক্তন মহিলা নকশালদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক নিয়ে র‍্যাম্পে হাঁটার দৃশ্য বস্তারের পরিবর্তিত বাস্তবতার একটি মানবিক ছবি তুলে ধরেছে।জঙ্গল থেকে র‍্যাম্পে তাঁদের এই যাত্রা শুধু পোশাক বা ফ্যাশনের গল্প নয়—এটি আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসন, আত্মনির্ভরতা এবং মূলস্রোতের সমাজে ফিরে আসার এক প্রতীকী কাহিনি।

  • Partition Horrors Remembrance Day: ‘‘মানুষ শূন্য থেকে নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তুলেছিল’’ দেশভাগের ‘বিভীষিকা’কে স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর

    Partition Horrors Remembrance Day: ‘‘মানুষ শূন্য থেকে নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তুলেছিল’’ দেশভাগের ‘বিভীষিকা’কে স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে শুক্রবার দেশভাগের কথা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে মনে করে শুক্রবার ‘পার্টিশন হররস রিমেমব্রেন্স ডে’ (Partition Horrors Remembrance Day) বা দেশভাগের ভয়াবহতা স্মরণ দিবস উপলক্ষে দেশভাগের শিকার মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Partition)। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ বহু মানুষের জীবন ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল, পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করেছিল এবং অসীম দুর্ভোগের কারণ হয়েছিল। সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের সময় ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও সাধারণ মানুষ অসীম সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন। ঘরবাড়ি, সম্পদ ও প্রিয়জন হারিয়েও তাঁরা নতুন করে জীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

    দেশভাগের ভয়ঙ্কর স্মৃতিচারণা প্রধানমন্ত্রীর

    দেশভাগের পরবর্তী দাঙ্গা ও ব্যাপক হিংসাত্মক ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণে মোদি সরকার ২০২॥ সাল থেকে ১৪ অগাস্ট দিনটিকে ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ (Partition Horrors Remembrance Day) হিসেবে পালন করে আসছে। এদিন এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আজ আমরা ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ পালন করছি। দেশভাগের ফলে যাঁরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাঁদের সকলের সাহসিকতাকে আমরা স্মরণ করছি। ইতিহাসের সেই মুহূর্তটি বহু মানুষের জীবন ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল, বহু পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি ও প্রিয়জনদের হারিয়েছিল এবং অকথ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল মানুষকে।”

    দেশে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যকে সুদৃঢ় করার আহ্বান

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সেই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষ শূন্য থেকে নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তুলেছিল ৷ প্রতিকূলতাকে সাফল্যে পরিণত করেছিল ৷ দেশের অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য অবদানও রেখেছেন তাঁরা।” তাঁর মতে, সেইসব মানুষদের জীবনগাথা সকলকে অদম্য মানসিক শক্তির কথা মনে করিয়ে দেয় । মোদি বলেন, “এই দিনটি যেন আমাদের দেশে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে ৷ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, দেশভাগের স্মৃতি আমাদের মানুষের অসীম মানসিক শক্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। এই দিনটি দেশে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার সংকল্পকে গভীর করুক এবং একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার প্রেরণা দিক।

    গভীর বেদনা ও স্মৃতির প্রতীক

    ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে ভারত। স্বাধীনতার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের পাশাপাশি দেশভাগের যন্ত্রণা ভারতীয় ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে। দেশভাগের ফলে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক হিংসা, প্রাণহানি ও উদ্বাস্তু সংকট দেখা দেয়। ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণ-অভিবাসনের ঘটনা ছিল ১৯৪৭-এর দেশভাগ। প্রায় ২ কোটি মানুষ এর ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক হিসাব থেকে জানা যায়। লক্ষ লক্ষ পরিবারকে তাঁদের পূর্বপুরুষের ভিটে, গ্রাম, শহর ও সম্পত্তি ছেড়ে অজানা জায়গায় নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়েছিল। দেশভাগের সেই ভয়াবহ অধ্যায় আজও ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে গভীর বেদনা ও স্মৃতির প্রতীক। তবে সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে উদ্বাস্তু মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম ও সাফল্যও দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

  • CAG Report of Kejriwal Govt: অব্যবহৃত অর্থ থেকে অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি, কেজরিওয়াল সরকারের আমল নিয়ে ক্যাগ রিপোর্টে একাধিক প্রশ্ন

    CAG Report of Kejriwal Govt: অব্যবহৃত অর্থ থেকে অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি, কেজরিওয়াল সরকারের আমল নিয়ে ক্যাগ রিপোর্টে একাধিক প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টি (AAP) সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে ২০২৪-২৫ সালের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর রিপোর্ট। সম্প্রতি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বিধানসভায় রিপোর্টটি পেশ করেন। রিপোর্টে একদিকে যেমন দিল্লির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি কমার বিষয়টি উঠে এসেছে, অন্যদিকে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ অব্যবহৃত থাকা, মূলধনী ব্যয় কমে যাওয়া এবং ভর্তুকির উপর নির্ভরতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    দেশের তুলনায় পিছিয়ে দিল্লির অর্থনৈতিক বৃদ্ধি

    ক্যাগ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির তুলনায় দিল্লির মাথাপিছু আঞ্চলিক আয়-এর বৃদ্ধির হার কম ছিল। ২০১৫-২৫ সময়ে দিল্লির মাথাপিছু জিএসডিপি-এর বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার (CAGR) ছিল ৬.৩৯ শতাংশ। একই সময়ে দেশের মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.১৪ শতাংশ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দিল্লি দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ ও পরিকাঠামো তৈরিকে যথেষ্ট অগ্রাধিকার দেয়নি। এর ফলে ভবিষ্যতে রাজধানীর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপর প্রভাব পড়তে পারে।

    অর্ধেকেরও বেশি কমেছে মূলধনী ব্যয়

    দিল্লির পরিকাঠামোগত উন্নয়নে মূলধনী ব্যয়ের পতনকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে ক্যাগ। ২০২১-২২ সালে দিল্লিতে মূলধনী প্রকল্পে খরচ হয়েছিল ₹৮,৩১১ কোটি। ২০২৪-২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ₹৩,৬৯৫ কোটি। শুধু সড়ক পরিবহণ পরিকাঠামোতেই ব্যয় এক বছরে ₹১,৪৪৮ কোটি থেকে কমে ₹৩৯০ কোটি হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে মোট ব্যয়ের মাত্র ৬.৫৩ শতাংশ মূলধনী খাতে খরচ হয়েছে। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ₹৬,৮৫৫ কোটি।

    বরাদ্দের প্রায় ২৩ শতাংশই খরচ হয়নি

    রিপোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হল, ২০২৪-২৫ সালে দিল্লি সরকারের জন্য মোট ₹৮০,৭৯৮.৮১ কোটি বাজেট বরাদ্দ করা হলেও খরচ হয়েছে মাত্র ₹৬১,৯১১.১৯ কোটি।অর্থাৎ ₹১৮,৮৮৭.৬২ কোটি খরচ হয়নি। এর মধ্যে ₹১১,২৬৩.৩৪ কোটি ফেরত দেওয়া হয় এবং আরও ₹৭,৬২৪.২৮ কোটি মার্চ ২০২৫-এর শেষে ল্যাপ্স করে যায়। ক্যাগ-এর হিসাবে, বিধানসভা যে অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছিল তার ২৩.৩৮ শতাংশ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব তৈরি করা দুর্বল বাজেট পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। এমনকি অর্থবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হলেও মূল বাজেটের বরাদ্দের সমপরিমাণ ব্যয়ও সরকার করতে পারেনি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এক খাত থেকে অন্য খাতে অর্থ সরিয়েও হয়নি পূর্ণ ব্যয়

    বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ অর্থ এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে সরানো হয়েছিল। কিন্তু সেই পুনর্বিন্যাসের পরও পুরো অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। ক্যাগ জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে ছয়টি অনুদানের অধীনে ১৬টি উপ-খাতে মোট ₹১,৪৪৫.৭২ কোটি অর্থ অব্যবহৃত থেকে যায়। এর মধ্যে ₹৮৮৯.১০ কোটি ছিল পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সরানো অর্থ। রিপোর্টের মতে, এই ঘটনাও বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।

    ভর্তুকিতে বাড়ছে ব্যয়

    অন্যদিকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও মূলধনী খাতে ব্যয় কমলেও ভর্তুকির ক্ষেত্রে দিল্লি সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ক্যাগ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে দিল্লির মোট রাজস্ব ব্যয়ের ১০.১৮ শতাংশ ভর্তুকিতে খরচ হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ভর্তুকির অংশ ছিল সবচেয়ে বেশি—মোট ভর্তুকি ব্যয়ের প্রায় ৬৭ থেকে ৭৩ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ সালে ভর্তুকি ব্যয় ₹২৫০ কোটি বা ৫.১৭ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ভর্তুকিতে ₹৩৬১ কোটি, নগরোন্নয়ন ও জল ভর্তুকিতে ₹২২ কোটি এবং শিক্ষা ভর্তুকিতে ₹৩৮ কোটি বৃদ্ধি হয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়ে সতর্কতা

    ক্যাগ সতর্ক করেছে, ভর্তুকিতে অতিরিক্ত ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে দিল্লির আর্থিক স্থায়িত্বের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য অর্থের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রিপোর্টে রাজস্ব বাড়ানো, ব্যয়ের উপর আরও নিয়ন্ত্রণ, কাঠামোগত সংস্কার এবং সময়মতো হিসাব ও রিপোর্টিংয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে আরও বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ করার পরামর্শও দিয়েছে ক্যাগ। সব মিলিয়ে, ক্যাগ-এর এই রিপোর্ট দিল্লির প্রাক্তন আপ সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাজেট পরিকল্পনা এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত থাকা এবং মূলধনী ব্যয় কমে যাওয়ার বিষয়টি রাজধানীর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

  • Tunnel Accident in Chamoli: উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে টানেলে আচমকা কাদা-জল ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত ৭, এখনও আটকে বেশ কয়েকজন শ্রমিক

    Tunnel Accident in Chamoli: উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে টানেলে আচমকা কাদা-জল ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত ৭, এখনও আটকে বেশ কয়েকজন শ্রমিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে আচমকা বালি, পাথর ও জল ঢুকে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে (Uttarakhand Tunnel Accident)। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই। প্রশাসন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার জেলার পিপলকোটিতে টিএইচডিসি (Tehri Hydro Development Corporation Ltd)-র একটি নির্মাণাধীন টানেলে আচমকাই প্রবাল বেগে ধ্বংসাবশেষ ও জল ঢুকতে শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে অন্তত ২৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। জলের তীব্র স্রোতে অনেকেই টানেলের বাইরে ছিটকে পড়েন। স্টেট ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (SDMA) জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৮ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও ৩ জন শ্রমিক টানেলের ভেতরে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    শুক্রবার সকালেও চলছে উদ্ধার অভিযান

    শুক্রবার সকালেও সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা তিনজন শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। জেলা শাসক গৌরব কুমার জানিয়েছেন, চামোলি জেলার মায়াপুর-পিপলকোটি এলাকায় তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (THDC)-র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ বিপর্যয় ঘটে। নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (HCC)। আচমকাই বিপুল পরিমাণ জল, বালি, পাথর ও কাদা সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকে পড়ে। সেই সময়ে শিফটে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। মুহূর্তের মধ্যে সুড়ঙ্গের একাংশ কার্যত মরণফাঁদ হয়ে ওঠে। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। এনডিআরএফ (NDRF) এবং এসডিআরএফ (SDRF)-এর দলগুলি পলি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক লাখপত বুটোলা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানান, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা এবং সম্পূর্ণ প্রশাসনিক টিম উদ্ধার কাজে নিয়োজিতদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারিতে উদ্ধারকাজ

    ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি নিজেই প্রবীণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি আহত শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে তাঁদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। এছাড়া, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের কথা জানিয়ে ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি, কারণ ওই দুই রাজ্যের বাসিন্দারাও এতে প্রভাবিত হয়েছেন। আটকে থাকা শ্রমিকের কাছে পৌঁছতে জল সরানোর পাশাপাশি ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভিতরে পৌঁছতে অস্থায়ী ড্রাম-বোটও ব্যবহার করেছে। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে।

    কী কারণে বিপর্যয়

    চামোলি জেলায় গত কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টি চলছিল। এর আগেও নীতি উপত্যকা এলাকায় নদীর জল বেড়ে একটি সেতু ভেসে গিয়েছিল। পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির ফলে মাটি আলগা হয়ে যাওয়াকে এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের জেরে সুড়ঙ্গের উপরের অংশে একটি গহ্বর তৈরি হয়েছিল। সেই ফাঁক দিয়েই হঠাৎ বিপুল পরিমাণ জল ও ধ্বংসাবশেষ ২ কিলোমিটার দীর্ঘ টেল রেস টানেলে ঢুকে পড়ে। প্রবল জলস্রোতের ধাক্কায় অনেক শ্রমিক সুড়ঙ্গের মুখের দিকে ভেসে এলেও কয়েকজন ভিতরে আটকে পড়েন।

  • Vande Mataram: ঐতিহাসিক! প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম্’ দিয়ে শুরু লোকসভার কার্যক্রম, জাতীয় গানের পরই শেষ অধিবেশন

    Vande Mataram: ঐতিহাসিক! প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম্’ দিয়ে শুরু লোকসভার কার্যক্রম, জাতীয় গানের পরই শেষ অধিবেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সাক্ষী থাকল ভারতের সংসদ। বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার প্রথম ‘বন্দে মাতরম্’ গান (Vande Mataram in Lok Sabha) পরিবেশনের মাধ্যমে লোকসভার কার্যক্রম শুরু হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী-সহ লোকসভার প্রায় পূর্ণাঙ্গ উপস্থিতির মধ্যেই জাতীয় গান পরিবেশিত হয়। ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছয়টি স্তবক পরিবেশনের পর লোকসভার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি (sine die) করে দেওয়া হয়। একইভাবে জাতীয় গানের পর এদিনই রাজ্যসভার কার্যক্রমও শেষ হয়। তবে ঐতিহাসিক সূচনার মধ্যেও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি। ২০ জুলাই অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিক ইস্যুতে বারবার অচল হয়েছে সংসদের কাজ। শেষ দিনেও বিরোধীরা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

    ‘বন্দে মাতরম্’-কে আইনি সুরক্ষা

    সংসদে এই প্রথম অধিবেশনের শেষ দিন ছয়টি স্তবক ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হল। কয়েক দিন আগে এই জাতীয় স্তোত্রকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্মতি দিয়েছেন। এক্ষেত্রে গানের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও প্রোটোকল নিয়েও কেন্দ্র আগে নির্দেশিকা জারি করেছিল। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া আটকানো বা ব্যাহত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ‘বন্দে মাতরম্’ জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে তুলনীয় আইনি সুরক্ষা পেল। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকলও জারি করেছিল। ২৮ জানুয়ারির নির্দেশিকায় রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের ভাষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে গানটির ছয়টি স্তবক পরিবেশনের কথা বলা হয়।

    রাজনৈতিক টানাপড়েনে ভরা

    শেষ দিনের সূচনাটা যতটা তাৎপর্যপূর্ণ, অধিবেশনের শেষটা ততটাই রাজনৈতিক টানাপড়েনে ভরা। সকাল থেকেই বিরোধী সাংসদদের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এ বার তাঁর স্বাভাবিক বিদায়ী ভাষণও দেননি। অধিবেশনে সংসদের কাজকর্ম এবং উৎপাদনশীলতার হিসেব তুলে ধরার রীতিও তাই এ বার দেখা গেল না। ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনের অধিকাংশ দিনই বারবার থমকে গিয়েছে। দিল্লিতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা আলোচনার দাবি জানিয়ে সরব ছিলেন। সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের এই টানাপড়েনে সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তুত, বিরোধীরা অপ্রস্তুত

    বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি। ছাত্রদের ইস্যুতে আলোচনার জন্য বিরোধীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সময় বরাদ্দের জন্য তিনি স্পিকারকে অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু শেষ দিনেও সেই আলোচনার পথ মসৃণ হল না। সংসদ চত্বরের মকর দ্বারে এ দিন বিজেপি এবং বিরোধীদের পৃথক কর্মসূচি দেখা যায়। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলে বিজেপি। অন্য দিকে নিজেদের দাবিতে সরব থাকে বিরোধী দলগুলি। ওঠে দলিত প্রসঙ্গ। ফলে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেই শেষ হয় বাদল অধিবেশন। গোটা বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গিয়েছে লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন। শাহের বিবৃতির দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছিল বিরোধী দলগুলি। এই আবহে বুধবার শাহ বলেন, “আমি সংসদীয় মন্ত্রী হিসাবে গোড়া থেকেই আলোচনা শুরুর জন্য বিরোধীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বিরোধীরা পালাচ্ছেন। তাঁরা আসলে আলোচনা চান না।’’ শাহের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাহুল বলেন, “ছাত্রদের উপর কে গুলি চালাল? পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে ছাত্রদের মারার নির্দেশ কে দিল? যদি অমিত শাহ এই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। আমরা তাঁর বক্তৃতা শুনতে আগ্রহী নই।”

    ১২টি বিল পাশের দাবি সরকারের

    বাদল অধিবেশনের বড় অংশই অচলাবস্থার কারণে নষ্ট হলেও সরকারের দাবি, এই সময়ের মধ্যে সংসদে মোট ১২টি বিল পাশ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভকেই সংসদের কাজ ব্যাহত হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা বা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও অনীহা ছিল না। তবে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদ ও হট্টগোলের কারণে সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে। শেষ দিনেও সেই রাজনৈতিক অচলাবস্থার কোনও ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরব হন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাহুল গান্ধী যথাযথভাবে আলোচনায় অংশ নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপির অন্যান্য নেতারাও সংসদে বিরোধীদের আচরণ নিয়ে সরব হন। পাশাপাশি পাঞ্জাব ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তাঁরা। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে সংসদে পর্যাপ্ত আলোচনা ও সরকারের জবাব পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

     

     

     

  • Air India Pilot: মাদক পরীক্ষায় পাইলটের রিপোর্ট পজিটিভ! মাঝআকাশে বিপত্তির ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

    Air India Pilot: মাদক পরীক্ষায় পাইলটের রিপোর্ট পজিটিভ! মাঝআকাশে বিপত্তির ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India Pilot) একটি বিমানে মাঝআকাশে একাধিক বিপত্তির ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। ঘটনার পরে বিমানের দায়িত্বে থাকা (Marijuana) পাইলটের মাদক পরীক্ষার নিশ্চিতকরণ পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী এবং চার কেবিন কর্মীও আহত হয়েছেন বলে খবর। এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৩৭৯ বিমানটি গত মঙ্গলবার ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড়েছিল। ওড়িশার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটিতে একাধিক সতর্কবার্তা দেখা দেয়। বিমানের তিনটি জলচাপ-নির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, দরজা এবং উল্লম্ব নিয়ন্ত্রণ পাখনা সংক্রান্ত সতর্কবার্তাও পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে আসে। ঘটনার পর কেন্দ্র এয়ার ইন্ডিয়াকে পরিচালনগত নজরদারি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সংস্থাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ঘটনার তদন্তে যার বা যাদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র (Air India Pilot)।

    উদ্বেগ বাড়ছে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে

    ওই ঘটনায় ২০ জন যাত্রী এবং চারজন কেবিন কর্মী আহত হন। বিমানটি দিল্লিতে অবতরণের পর আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে ঘটনার দিন অন্তত ১৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে খবর।ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ গত বছরের জুনে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “গত জুনের আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। সেই ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। তার মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়াকে ঘিরে এমন একটি ঘটনা ঘটল।” ওই আধিকারিক আরও জানান, এআই ২৩৭৯-এর ঘটনা সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তদন্তের পর যাঁদের দোষ প্রমাণিত হবে, তাঁদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

    পাইলটের মাদক পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি

    ঘটনার পর আরও গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। ফুকেট-দিল্লি বিমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইলটের প্রথম মাদক পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্দেহ হওয়ার পর নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায়ই গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়ে (Air India Pilot)। তদন্তকারীদের কাছে পাইলট দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, ওই ওষুধ খাওয়ার ফলেই মাদক পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে (Marijuana)। তবে তাঁর এই দাবি এবং পরীক্ষার ফল—দুই বিষয়ই এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। এদিকে বিমানের কেবিন কর্মীরাও পাইলটের আচরণ নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, বিমানটি হঠাৎ উচ্চতা খোয়ানোর পেছনে একাধিক বিরল প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, নাকি পাইলটের আচরণের কোনও ভূমিকা ছিল, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। ঘটনার সময় বিমানটি সাময়িকভাবে এমন অবস্থায় চলে গিয়েছিল, যেখানে বিমানের ভিতরে যাঁরা সিটবেল্ট পরেননি, তাঁদের কেউ কেউ আহত হন। কো-পাইলটকে পরিস্থিতি সামলে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে নামাতে হয় (Air India Pilot)।

    মাদক পরীক্ষা আরও কড়া করার নির্দেশ

    ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল দফতরকে বিমান চলাচলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মাদক পরীক্ষা সংক্রান্ত বর্তমান নিয়ম আরও কঠোর করার নির্দেশ দেয় (Air India Pilot)। বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষার আওতায় আরও বেশি সংখ্যক বিমানকর্মীকে আনার পাশাপাশি নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণের অভিযোগে ধরা পড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও কঠোর করার কথাও বলা হয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতিমধ্যেই বিমানকর্মীদের মাদক গ্রহণ সংক্রান্ত পরীক্ষার নিয়ম পর্যালোচনা করছে। কেন্দ্র এয়ার ইন্ডিয়াকেও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সংস্থার পরিচালন ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়াতে হবে এবং বিমানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন (Marijuana) নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনাটি নিয়ে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থাও প্রযুক্তিগত, পরিচালনগত, চিকিৎসা এবং মানবিক—সব দিক খতিয়ে দেখছে (Air India Pilot)।

    এ কী কাণ্ড!

    জানা গিয়েছে, ডিজিসিএ (বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদফতর) ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া গুরুতর নিরাপত্তাজনিত ঘটনার তদন্ত করছে। অভিযোগ, বিমান যখন উড়ছিল, তখন পাইলট-ইন-কমান্ড ককপিট ছেড়ে যাত্রী কেবিনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ধূমপান করার চেষ্টা করেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পাইলট যাত্রী কেবিনে গিয়ে একটি আপৎকালীন বেরনোর দরজার কাছে গিয়ে মেঝেতে বসে পড়েন এবং কেবিন ক্রু সদস্যদের কাছে একটি লাইটার চান। অভিযোগ, কেবিন ক্রুরা তাঁকে ককপিটে ফিরে যেতে বলেন। এনিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

  • Red Fort Blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় আল-কায়েদার! এনআইএ-র দাবিই স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে

    Red Fort Blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় আল-কায়েদার! এনআইএ-র দাবিই স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে (Red Fort Blast) আল কায়েদা-যোগের অভিযোগ তুলল রাষ্ট্রপুঞ্জ। এই কথা আগেই উল্লেখ করেছিল ভারত। এ বার সেই একই কথা বলল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী দল। সম্প্রতি প্রকাশিত তাদের দ্বিবার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লায় হামলার সঙ্গে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর যোগ রয়েছে।

    আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা-ই দায়ী

    গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রাস্তা থেকে ৪০ ফুট নীচে থাকা মেট্রো স্টেশনও কেঁপে উঠেছিল। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন আরও অনেকে। তদন্তে উঠে আসে ফরিদাবাদের ‘চিকিৎসক মডিউল’-এর তথ্য। তবে গত বছরের নভেম্বরের ওই বিস্ফোরণের জন্য আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস)-কেই দায়ী করল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। অভিযোগ, এই জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশেও তাদের শাখা (সেল) বিস্তারের চেষ্টা করছিল।

    এনআইএ-র দাবিই সত্য!

    গত মে মাসে ওই বিস্ফোরণ কাণ্ডে চার্জশিট জমা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) জানিয়েছে, হামলার মূল অভিযুক্ত ছিলেন উমর উন-নবি, যিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বিস্ফোরণের সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে এনআইএ এই ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে বলা হয়, আনসার-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ) নামে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখার এক সহযোগী সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে। এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টেও উঠে এল দিল্লির গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ। চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাকশনস মনিটরিং টিম’ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে হামলার নেপথ্যে ছিল আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখাই।

    দক্ষিণ এশিয়ায় আল কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের আশঙ্কা

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আল কায়েদা ধীরে ধীরে একটি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত সংগঠন থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়ানো সেলের মাধ্যমে তারা লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আল কায়েদার নেতৃত্বের একটি অংশ আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের কাছে আফগানিস্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি তালিবান ও আল কায়েদার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত হতে পারে। বাংলাদেশকেও আল কায়েদা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে বলে রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র নিয়েও সতর্কতা

    গত বছরের নভেম্বরে গুজরাতের আমেদাবাদ থেকেও তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক। ওই জঙ্গিরা প্রাণঘাতী রাসায়নিক ‘রাইসিন’ তৈরির চেষ্টা করছিলেন। এই রাসায়নিক জৈব অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। ওই ঘটনার তদন্তেও জঙ্গিদের ‘আইএস’ যোগের কথা উঠে এসেছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টেও তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থার উদ্বেগ, আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) অনেক দিন ধরেই রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত বাধার কারণে তারা এখনও সেই অস্ত্র তৈরি করে উঠতে পারেনি। এ প্রসঙ্গেই গুজরাতে ধৃত জঙ্গিদের কথা উল্লেখ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের দাবি, আইএসআইএল (দায়েশ)-এর একটি শাখাই ওই তিন ধৃতকে ‘রাইসিন’ তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিল।

    ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে নজরদারির সুপারিশ

    সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের ক্ষেত্রেও নতুন প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে। আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করতে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় একটি পৃথক ‘ডিজিটাল কারেন্সি অ্যাড্রেস’ সংক্রান্ত তথ্য রাখার সুপারিশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষক দল। একই সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। প্রকৃত অর্থদাতা বা আল্টিমেট বেনেফিসিয়াল ওনার শনাক্ত করার জন্য ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর সুপারিশ কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার বৃদ্ধি

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও তাদের সমর্থকদের দ্বারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। পর্যবেক্ষক দলের তথ্যমতে, বোমা তৈরি এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য এসব সংগঠনের সদস্যরা চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-সহ বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স’ (আইএসআইএল-কে বা ISIL-K) বিভিন্ন ভাষায় দ্রুত প্রচারমূলক বার্তা অনুবাদ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে এআই ব্যবহার করছে, যার ফলে তারা আরও ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে পারছে। লালকেল্লা বিস্ফোরণ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্ট প্রকাশের পর তদন্তে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (AQIS) ও তার সহযোগী সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • Amit Shah: সংসদ চলতে দিন, ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব শাহের

    Amit Shah: সংসদ চলতে দিন, ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাত্র বিক্ষোভ এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে চলতে থাকা সরকার ও বিরোধীদের সংঘাতের মধ্যেই আলোচনার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা প্রস্তাব করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বুধবার বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, সংসদের কাজ স্বাভাবিক হতে দেওয়া হোক এবং ছাত্র বিক্ষোভ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হোক। সেই আলোচনায় সাংসদদের বক্তব্য শোনার পর তিনি নিজেই বিস্তারিত জবাব দেবেন (Student Protests)। বিরোধী দলগুলি বেশ কিছু দিন ধরেই দাবি করে আসছে, দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। বিশেষ করে পুলিশের বলপ্রয়োগের অনুমতি কে দিয়েছিল এবং অভিযানের সময় গুলি ছোড়ার অভিযোগের সত্যতা কী—এই প্রশ্নগুলির জবাব চাইছেন বিরোধীরা। এই দাবিতে বারবার সংসদের অধিবেশন অচল হয়েছে। এদিকে, সরকারের বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই আলোচনা করতে হবে। সরাসরি আলাদা বিবৃতি দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি সংসদের সামনে তোলা উচিত বলে মত কেন্দ্রের।

    ২৪ ঘণ্টা ধরে আলোচনার প্রস্তাব (Amit Shah)

    এই পরিস্থিতিতেই শাহ বুধবার সংসদে আলোচনার জন্য কার্যত এক দিনের সময় দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত আলোচনা চালানো যেতে পারে। পুরো আলোচনা পর্বে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন এবং সাংসদদের বক্তব্য শোনার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টেয় বিস্তারিত জবাব দেবেন। শাহ বলেন, “আলোচনা শুরু করা যাক। আমি সভায় থাকব এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টেয় বিস্তারিত জবাব দেব।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আলোচনার আগে পৃথক কোনও বিবৃতি দেওয়ার দাবি তিনি মানতে রাজি নন। তাঁর যুক্তি, সংসদের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেই নিয়ম মেনেই আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “সংসদে আলোচনার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমি শুধু একটি বিবৃতি দিতে পারি না। আগে আলোচনা হোক, তারপর আমি বিস্তারিত জবাব দেব।” শাহের বক্তব্য, বিরোধী সাংসদরা যে প্রশ্নগুলি তুলতে চান, তার প্রত্যেকটির উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত। তবে তার আগে সংসদের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। তাঁর মতে, সংসদ অচল রেখে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় (Amit Shah)।

    ‘পলাতক’ তকমা নিয়েও জবাব

    সংসদে না আসা এবং বিরোধীদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে শাহের বিরুদ্ধে। বিরোধী সদস্যদের একাংশ তাঁকে ‘পলাতক’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। সেই অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, তিনি নিয়মিত সংসদে আসছেন এবং নিজের দফতরে উপস্থিত থাকছেন। কিন্তু বিরোধীরা সংসদের কাজ চলতে না দেওয়ায় তিনি সভাকক্ষে যেতে পারছেন না (Student Protests)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রতিদিনই আমার কক্ষে থাকি। আমি সভার ভিতরে যাই না। কারণ বিরোধীরা সংসদ চলতে দিচ্ছে না।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন বিরোধীরা ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা দাবি আরও জোরদার করেছেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, আন্দোলনরত ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বলপ্রয়োগের নির্দেশ কে দিয়েছিলেন? সেই নির্দেশের ভিত্তি কী ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যবহৃত পদ্ধতি কতটা আইনসঙ্গত ছিল?

    ‘সরকারের লুকোনোর কিছু নেই’, দাবি শাহের

    নিজের প্রস্তাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাহ জানান, সরকার দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করতেও প্রস্তুত। সাংসদরা যে সব বিষয় তুলবেন, সেগুলির জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত আমরা সব ধরনের আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আমি নিজে সভায় বসব, প্রত্যেকের কথা শুনব এবং সব প্রশ্নের উত্তর দেব। সরকারের লুকোনোর কিছু নেই। আপনারা কেন আলোচনা চাননি, সেটাও আমি আলোচনা করব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকার সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।” তিনি এও বলেন, “শুধু সংসদ চলতে দিন। আজ বিভিন্ন মাধ্যমে আমি বিরোধীদের বলতে চাই, দুপুর ২টোর মধ্যে সভাধ্যক্ষকে একটি চিঠি দিন। আমরা দুপুর ৩টে থেকে আলোচনা শুরু করব এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টের মধ্যে আমি সব প্রশ্নের উত্তর দেব। সংসদে আলোচনার জন্য নিয়ম ও পদ্ধতি নির্ধারিত রয়েছে। এখন কেউ যদি আমাকে শুধু একটি বিবৃতি দিতে বলে, এত গুরুতর বিষয়ে তা কীভাবে সম্ভব?” শাহের এই প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, সরকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে প্রস্তুত। যদিও বিরোধীরা সেই প্রস্তাব কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা স্পষ্ট নয়।

    দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরেই মূল বিরোধ

    সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০ জুলাই দিল্লিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ এবং তার পর পুলিশের পদক্ষেপ। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, আন্দোলনরত ছাত্রদের দমন করতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে (Amit Shah)। বিরোধী দলগুলির নেতৃত্বে থাকা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক নেতা দাবি করেছেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অনুমোদন কে দিয়েছিল, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে স্পষ্ট করতে হবে। বিশেষ করে অভিযানের সময় গুলি ছোড়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Student Protests)। বিরোধীদের অভিযোগ, ছাত্রদের প্রতিবাদ দমনে পুলিশ যে পদ্ধতি নিয়েছে, তা নিয়ে সরকারের কাছ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য, সংসদে এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ চলবে।

    সংসদের বাইরে বিরোধীদের বিক্ষোভ

    বুধবার সংসদের বাইরে বিরোধী নেতারাও বিক্ষোভ দেখান। সেখানে শাহের জবাব চেয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। “অমিত শাহ জবাব দাও”—এই স্লোগানে সরব হন বিরোধী দলের নেতা ও সাংসদরা। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল, ছাত্রদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি জবাব দিতে হবে। শুধু দিল্লি নয়, অন্যান্য রাজ্যেও ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রফাঁস, ছাত্রদের প্রতিবাদ এবং তার পর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সংসদেও।

    সরকার-বিরোধী সংঘাত মেটাবে কি আলোচনা?

    একদিকে বিরোধীরা চাইছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বক্তব্য দিয়ে পুলিশের পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিন। অন্যদিকে শাহের বক্তব্য, সংসদের নিয়ম মেনে আলোচনা হলেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব। ফলে মূল বিরোধ এখন আর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, বরং আলোচনাটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় হবে, তা নিয়ে (Amit Shah)। শাহের ২৪ ঘণ্টার আলোচনার প্রস্তাব তাই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিরোধীরা সংসদের কাজ চালু করতে দিলে তিনি দীর্ঘ আলোচনা শুনতে এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের সংসদ অচল না করে নিয়ম মেনে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন (Student Protests)।

LinkedIn
Share