India UK Trade: ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন গতি, এআই-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি চুক্তি

india uk trade mission both announces £1bn worth deal in ai, agriculture, education

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাজ্যের (India UK Trade) মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ। ভারতে আসা ব্রিটিশ বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের নতুন বাণিজ্যিক চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণা, কৃষি, শিক্ষা, উন্নত উৎপাদন শিল্প এবং বিমান পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, এই বাণিজ্যিক উদ্যোগের মধ্যে এআই গবেষণায় ৫ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, বিমান পরিষেবা সংস্থা মেনজিস এভিয়েশন ভারতে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। ১০০টিরও বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব জোনাথন রেনল্ডস, স্কটল্যান্ডের সচিব, পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দফতরের সচিব, উত্তর ইংল্যান্ডের সাতজন মেয়র এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক, জেটকোর ১৬তম সম্মেলন

সফর চলাকালীন নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রিটিশ বাণিজ্য সচিব জোনাথন রেনল্ডস। পাশাপাশি, দুই দেশের যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিটি বা জেটকোর (JETCO) ১৬তম বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন তাঁরা। পীযূষ গোয়েল জানান, ভারত ও যুক্তরাজ্যের অভিন্ন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত-যুক্তরাজ্য সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তির (CETA) সুযোগ কার্যকরভাবে কাজে লাগানো, বাণিজ্যিক বাধা দূর করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক আলোচনা, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

চুক্তির পর প্রায় ১২০০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্যিক উদ্যোগ

ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমশ গতি পাচ্ছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে প্রায় ১২০০ কোটি পাউন্ড মূল্যের বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় মেটা ফর ডেটা টেকনোলজিস (MFD) যুক্তরাজ্যে এআই গবেষণার জন্য ৫ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেনের বিমান পরিষেবা সংস্থা মেনজিস এভিয়েশন ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৬০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। উন্নত উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তি, বিমান পরিষেবা, শিক্ষা, কৃষি এবং খাদ্য ও পানীয় শিল্পে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্কটল্যান্ডের রফতানি ও কর্মসংস্থানেও জোর

ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলে স্কটল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের খাদ্য ও পানীয় শিল্পের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে এগ্রিকালচার অ্যান্ড হর্টিকালচার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, ব্রিটিশ মিট প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন, ফিভার-ট্রি, কেন্ডামিল, ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়ন, স্যামন স্কটল্যান্ড, স্কচ হুইস্কি অ্যাসোসিয়েশন এবং ওয়াকার্স শর্টব্রেড। স্কটল্যান্ডের সচিব ডগলাস আলেকজান্ডার বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি স্কটল্যান্ডের রফতানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। বিশেষ করে স্যামন মাছ ও হুইস্কি উৎপাদকরা ভারতীয় বাজারে আরও বেশি ব্যবসার সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে স্কটল্যান্ডে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এই চুক্তি সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদী। পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক সচিব অ্যাঞ্জেলা ঈগল জানান, ব্রিটিশ কৃষক এবং খাদ্য ও পানীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে কাজ করে চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলিকে বাস্তব রফতানির সুযোগে পরিণত করার চেষ্টা করছে সরকার। ভারতীয় বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা

সফরের পরবর্তী পর্যায়ে ব্রিটিশ বাণিজ্য সচিব জোনাথন রেনল্ডস কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে ভারত-যুক্তরাজ্য বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন পরিষদের বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। এ ছাড়া মুম্বইয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্রিটিশ পণ্য ও পরিষেবার প্রদর্শনীমূলক বাণিজ্য মঞ্চেও অংশ নেবেন তিনি।

দীর্ঘমেয়াদে বছরে ২৫৫০ কোটি পাউন্ড বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা

ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মাথায় এই প্রতিনিধিদলের সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২৫৫০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, চুক্তির সুফল বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগ, রফতানি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। এখন মূল লক্ষ্য, চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হওয়া সম্ভাবনাগুলিকে বাস্তব বাণিজ্যিক সাফল্যে রূপান্তরিত করা।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share